Thursday, October 31, 2019

আমাদের সাকিব এবং...।




লেখক: Anupam Shaikat Shanto
"সাকিব আল হাসানকে নিয়ে করা রিপোর্টগুলো দেখলাম। ১৮ মাসের সাম্ভাব্য সাজার কথা অনেকেই হেডলাইন করেছেন! হেডলাইনে না-থাকলেও নিউজগুলোর ভেতরেই আছে সাকিব ভারতীয় জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু যে কারণেই হোক আইসিসির এন্টি-করাপশন ইউনিটকে জানাননি। জুয়াড়িদের প্রস্তাব প্রত্যাখানের পরেও কেবল না-জানানোর অপরাধের শাস্তি ১৮ মাস হতে পারে কি না এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছিলো বিধায়, আইসিসির কোডটা একটু ঘাটার চেষ্টা করলাম।

এই কোডের নাম হচ্ছেঃ Anti-Corruption Code for Participants সেখানে মোট ১১টা আর্টিকেলের মধ্যে ২ নাম্বার আর্টিকেলে (ARTICLE 2: OFFENCES UNDER THE ANTI-CORRUPTIONCODE) বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং ৬ নাম্বার আর্টিকেলে (ARTICLE 6: SANCTIONS) কোন অপরাধের জন্যে কি শাস্তি (অর্থাৎ কত বছরের জন্যে খেলা থেকে নির্বাসনে পাঠানো হবে) সেটি বর্ণিত হয়েছে।
আর্টিকেল-২ এ দুর্নীতি বিরোধী কোড অনুযায়ী যাবতীয় অপরাধকে চারটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছেঃ
২.১: দুর্নীতি
২.২: বাজি
২.৩: অভ্যন্তরীন তথ্যের অপব্যবহার
২.৪: সাধারণ অপরাধ

এই সাধারণ অপরাধ ক্যাটাগরির ২.৪.২ থেকে ২.৪.৬ পর্যন্ত অপরাধগুলো হচ্ছে- আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে কোনরূপ বিলম্ব বাদে জানানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। সাকিবের যে অপরাধ সেটি পড়ে ২.৪.৪ এ: 'দুর্নীতি দমন কোড অনুযায়ী দুর্নীতির অপরাধে যুক্ত করার মত যেকোন আহবান বা আমন্ত্রণ কোনরকম অপ্রয়োজীয় বিলম্ব ছাড়াই দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া" (Failing to disclose to the ACU (without unnecessary delay) full details of any approaches or invitations received by the Participant to engage in Corrupt Conduct under the Anti-Corruption Code)।

সুতরাং, সাকিব যদি আসলেই এরকম কোন ফোনকল পেয়ে থাকে ও সেটি জানাতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে এই অপরাধের অপরাধী। এবারে দেখি এই অপরাধের জন্যে শাস্তির মাত্রা কি? আর্টিকেল ৬-এ একটি তালিকা দেয়া আছে কোন অপরাধের জন্যে কি পরিমাণ সাজা দেয়া হতে পারে তার। এই সাজাগুলোর সবই আছে একটা রেঞ্জ হিসেবে, অর্থাৎ সর্বনিম্ন সাজা থেকে সর্বোচ্চ সাজা কি হতে পারে সে হিসেবে দেয়া আছে। প্রথম ক্যাটেগরির অপরাধ হচ্ছে, সরাসরি দুর্নীতিতে যুক্ত থাকা। ফলে তার সাজাও সর্বোচ্চ। মিনিমাম ৫ বছর থেকে ম্যাক্সিমাম আজীবন নিষিদ্ধ। দুই নাম্বার ক্যাটেগরির অপরাধ হচ্ছে বাজি। এখানে নিম্নতম সাজা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। ৩য় ক্যাটেগরির অপরাধের মধ্যে (অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার) দুটো সাব ক্যাটেগরি আছে। প্রথম সাব-ক্যাটেগরির সাজা ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আর ২য় সাব ক্যাটেগরির সাজা হচ্ছে ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা। একইভাবে ৪র্থ লেভেলের অপরাধের ক্ষেত্রেও (সাধারণ অপরাধ) দুটি সাব-ক্যাটেগরি আছে; প্রথম সাব-ক্যাটেগরির (অপরাধ ২.৪.১ থেকে অপরাধ ২.৪.৬) সাজা ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আর ২য় সাব-ক্যাটেগরির (অপরাধ ২.৪.৭ থেকে অপরাধ ২.৪.৯) সাজা হচ্ছে শূন্য থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা।

এই যে সাজার রেঞ্জ দেয়া হয়েছে, কোন ক্ষেত্রে সাজা বাড়বে আর কোন ক্ষেত্রে সাজা কমবে সেটি ৬.১ নাম্বার ধারায় (যথাক্রমে ৬.১.১ ও ৬.১.২ ধারায়) বলা হয়েছে। সাজার পরিমাণ বাড়বে যদি:
৬.১.১.১ অপরাধবোধের অভাব (ওই রিপোর্টেই জানা যাচ্ছে সাকিব ভুল স্বীকার করেছে নএবং ক্ষমাও প্রার্থণা করেছে)
৬.১.১.২ পূর্বতন রেকর্ড (সাকিব ১০ বছর আগেও একবার এরকম প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং সাথে-সাথে দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানিয়ে ছিলেন। একাধিকবার এরকম প্রলোভনের মুখে পড়েছেন কিন্তু কোনবারই টলেননি!)
৬.১.১.৩ ব্যক্তিগত ভাবে লাভের অংশ গ্রহণ করেছে প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, গ্রহণকৃত অর্থের পরিমাণ (এটা মূলত আগের ক্যাটেগরির অপরাধগুলোর জন্যে প্রযোজ্য)

৬.১.১.৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাবলিক ইন্টারেস্ট কিংবা/এবং কমার্সিয়াল ভ্যালু ক্ষতি করলে (এটিও মূলত আগের ক্যাটেগরির অপরাধের জন্যে)

৬.১.১.৫ ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করলে (ঐ)

৬.১.১.৬ তার বা অন্য কারোর ওয়েলফেয়ার ব্যহত হলে (ঐ)

৬.১.১.৭ একাধিক জন একত্রে অপরাধটি করলে (সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে সাকিব একাই এই ফোনকল পেয়েছিলেন ফলে একাধিক জন মিলে প্রস্তাব গোপন করার প্রশ্ন নেই)
৬.১.১.৮ অন্য কোন অপরাধের অংশ হিসেবে এই অপরাধের সংশ্লিষ্টতা (সাকিবের অন্য কোন অপরাধের কথাও জানা যায়নি)

অর্থাৎ, সাকিবের অপরাধের মাত্রা (৬ মাস থেকে ৫ বছর) বাড়ার মত কোনকিছু পাওয়া যাচ্ছে না। এবারে দেখা যাক কি কি কারণে সাজার পরিমাণ কমতে পারেঃ
৬.১.২.১ ভুল স্বীকার (হ্যাঁ, সাকিব করেছে)

৬.১.২.২ পূর্বের রেকর্ড (হ্যাঁ, সাকিব এর আগে এরকম প্রস্তাবে সাড়া দেননি এবং সাথে সাথেই জানিয়ে ছিলেন)

৬.১.২.৩ অল্প বয়স/ অভিজ্ঞতার ঘাটতি (এটি সাকিবের ক্ষেত্রে নেগেটিভ! তিনি ২২ বছর বয়সে যে ভূমিকা নিতে পেরেছিলেন সেই ঘটনার ১০ বছর পরে একই ভূমিকা নিতে পারেননি। যাই হোক, এর জন্যে সাজার পরিমাণ বাড়বে-সেটি বলা হয়নি)

৬.১.২.৪ থার্ড পার্টির মাধ্যমে বা অন্য কোনভাবে জানার আগেই অপরাধ জানিয়ে দেয়া (কিভাবে দুর্নীতি দমন ইউনিট জানতে পারলো সেটি জানি না; কিন্তু সাকিব নিজে থেকে জানায়নি, সো এই পয়েন্টটাও কাজে লাগছে না)

৬.১.২.৫ অভিযুক্ত কর্তৃক দুর্নীতি দমন ইউনিটকে তদন্তে সহায়তা (হ্যাঁ, সাকিব করেছেন)

৬.১.২.৬ যেখানে অপরাধ আন্তর্জাতিক ম্যাচের কমার্সিয়াল ভ্যালু বা পাবলিক ইন্টারেস্টকে ক্ষতি করেনি (প্রযোজ্য না)
৬.১.২.৭ যেখানে অপরাধ ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি (ঐ)
৬.১.২.৮ যদি পার্টিসিপেন্ট আইসিসি, জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন, কোন অপরাধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ডিসিপ্লিনারি বডিকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে (আগের ঘটনায় জানিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তাছাড়া ক্যাপ্টেন হিসেবেও দলের ও দলের সদস্যদের ক্লিন ইমেজের কৃতিত্বও সাকিব পেতে পারেন)
৬.১.২.৯ পার্টিসিপেন্ট যদি অন্য অপরাধে অলরেডি সাজা পেয়ে থাকে (প্রযোজ্য না)
৬.১.২.১০ দুর্নীতি দমন ইউনিট তাদের বিবেচনায় যদি এমন কিছু পায় যার জন্যে সাজা কমানো উচিৎ মনে করে (দুর্নীতি দমন ইউনিটের বিবেচনা)

ফলে, এই সমস্ত ফ্যাক্টর আমলে নিলে সাকিবের সাজা কোন মতেই বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা খুবই কম দেখি। এখন প্রশ্নটি হচ্ছে, আমাদের মিডিয়াগুলো কিভাবে এরকম সাম্ভাব্য সাজার কথা জানতে পারলো? এমন সাজার কথা আইসিসি/ এন্টি-করাপশন ইউনিট প্রকাশ করার আগে মিডিয়া, বিসিবি কিংবা এমনকি সাকিবের পক্ষেও কি জানা সম্ভব? এই প্রশ্নটি বস্তুত শুধু সাজার ব্যাপারে নয়, এরকম তদন্ত যে হচ্ছে বা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট যে সাজা দিতে যাচ্ছে, এটা মিডিয়া তো দূরের কথা সাকিব বাদে অন্য কারোর পক্ষে কি জানা সম্ভব? Anti-Corruption Code for Participants এর ৮ নাম্বার আর্টিকেলটি হচ্ছে জনগণের সামনে প্রকাশ এবং গোপনীয়ত (ARTICLE 8: PUBLIC DISCLOSURE AND CONFIDENTIALITY)। সেখানে ৮.১ ধারায় বলা হয়েছে: বিশেষ কোন পরিস্থিতি বাদে আইসিসি কিংবা কোন জাতীয় ফেডারেশন তদন্তাধীন কিংবা অভিযুক্ত কাউকে পাবলিকলি আইডেন্টিফাই করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না দুর্নীতি দমন ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে সাজা প্রদানের ঘোষণা দিচ্ছে!
এই যে বিশেষ পরিস্থিতির কথা যেটি বলা হচ্ছে, সেটিও নির্ধারণ করবে আইসিসি। আইসিসি যদি মনে করে খেলাটির ইন্টিগ্রিটি বা পার্টিসিপেন্টের ইন্টিগ্রিটি নষ্ট হচ্ছে এরকম ক্ষেত্র হচ্ছে- বিশেষ পরিস্থিতি (একটা উদাহরণও দেয়া আছে- যেখানে যথেষ্ট ক্ষতিকর ও অসত্য মিডিয়া স্পেকুলেশনের পরিস্থিতি)। অর্থাৎ আইসিসি বা বোর্ড তখনই কথা বলতে পারবে যখন পার্টিসিপেন্ট তথা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অসত্য- ক্ষতিকর মিডিয়া স্পেকুলেশন ছড়ানো হয়, তখন। পার্টিসিপেন্ট তথা অভিযুক্ত সেই খেলোয়াড়ের ইন্টিগ্রিটি রক্ষার উদ্দেশ্যেই বোর্ড কেবল মুখ খুলতে পারে। এছাড়া দুর্নীতি দমন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক সাজা প্রদানের ঘোষণার আগে জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন বা বোর্ডের বা আইসিসির কিছু বলার এখতিয়ার নেই।

ফলে, দেখা যাচ্ছে, গত দুদিনে আমাদের বিসিবি সভাপতি বেশ কবারই এই কোডের ৮.১ নাম্বার ধারাটি ভায়োলেট করেছেন। আফসোস এই যে, আইসিসি বা দেশের বোর্ড যদি এইসব ধারা অগ্রাহ্য করে সেক্ষেত্রে কোন সাজার কথা এই কোডে লেখা নাই। ফলে, তিনি হয়তো পার পেয়ে যাবেন কিন্তু আমাদের বোর্ড সভাপতি আইসিসির কোড বিরোধী কাজ করেছেন এতে কোন সন্দেহ নাই। এখন আবার আগের প্রশ্নে যাওয়া যাক! মিডিয়াই এই ঘটনা জানলো কিভাবে? দুর্নীতি দমন ইউনিট সাকিব বাদে এমনকি বোর্ডকেও জানায়নি, এটা কোড অনুযায়ীই তারা করতে পারে না। মিডিয়াকে জানানোর তো প্রশ্নই উঠে না! তাহলে, এই ঘটনা প্রকাশের একটাই উৎস থাকতে পারে, সেটি হচ্ছে সাকিব। এখন সাকিব কি এটা মিডিয়াকে জানিয়েছেন? সম্ভব? একটি মিডিয়ায় দেখলাম, সাকিব কয়েকদিন আগে নিজে বোর্ড সভাপতিকে এ বিষয় অবহিত করেছেন! তাহলে কি বিসিবি সভাপতি বা তার অনুগত কোন বিসিবি কর্মকর্তা এই বিষয়টিকে মিডিয়ায় জানিয়ে দিয়েছে?

সাকিবের ঘনিষ্ঠ একজনের সূত্রের বরাত দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টও চোখে এলো দুই বছর আগে সাকিব যখন এরকম ফোনকল পেয়েছিলেন তখনই সাকিব বিসিবি সভাপতিকে জানিয়েছিলেন, সভাপতি নাকি এনিয়ে সাকিবকে চিন্তা না করে খেলায় মনোযোগ দিতে বলেছিলো! সাকিবও ওই টুর্নামেন্টে মনোযোগ দেয় ও পরে ভুলেও যায়! এই সময়ে এসে সাকিবের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ডের ভেতর থেকেই সভাপতির কোন অনুগত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন ইউনিটকে এই ঘটনা অবহিত করেছে; ফলে এ বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে। এবং সাথে সাথে তারাই (অনুগত বিসিবি কর্মকর্তারাই) এ বিষয়ে মিডিয়ায় তথ্য ফাঁস করেছে।
জানি না, আসল সত্য কি! তবে, এতটুকু নিশ্চিত আজকের বোর্ড সভাপতির নেতৃত্বে আমাদের বিসিবি এবং আমাদের মিডিয়ার একটা অংশ সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে।


সর্বশেষ: আইসিসির ওয়েব-সাইটে সাকিবের বিরুদ্ধে তিনটি চার্জের ভিত্তিতে তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সাজা দেয়ার কথা প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের জিম্বাবুয়ে- শ্রীলংকা- বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় ১ম দফা ও ২য় দফা প্রস্তাব পেয়েছিলো এবং একই বছরে আইপিএল এ হায়দারাবাদ সানরাইজ ও কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচের আগে আরেকবার প্রস্তাব পেয়েছিলো। কোনবারই সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ঠিকই, কিন্তু কোনবারই দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানায়নি। ফলে, নিম্নতম সাজাই তিনগুণ হয়ে দুই বছর হয়েছে। এর মধ্যে এক বছরের সাজা সাসপেণ্ডেড অর্থাৎ ভুল স্বীকার ও সাজার ব্যাপারে একমত হয়ে আকু'র শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে আকু'কে সহযোগিতা করতে চাওয়ায় এই সাসপেণ্ডেড সাজা সাকিবকে ভোগ করতে হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সাকিব ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবে। এই সাজার প্রেক্ষিতে কিছু কথা:

১. সাকিব যেহেতু অপরাধ করেছে, সেহেতু সাজা তার প্রাপ্য যদিও আমি মনে করি, জুয়াড়ির প্রস্তাব গ্রহণ না-করে ফিরিয়ে দেয়াটা বড় ব্যাপার। সে তুলনায় আকু'কে না জানানোটা ছোট ভুল। এরকম ভুলের জন্যে প্রতীকি সাজা হওয়া উচিৎ ছিল। ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা অপরাধের তুলনায় অনেক বড় সাজা। এরকম ক্ষেত্রে তিন অপরাধের সাজা কিউমেলেটিভলি এড করার বা তিনগুণ সাজা প্রদানের কোন যৌক্তিকতা নেই!

২. অন্য সব স্পেকুলেশন বাদ দিলেও বিসিবি সভাপতির আচরণ, সংবাদ সম্মেলনের কথাবার্তা, সাকিবকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন সবকিছুই প্রচণ্ড ঘৃণ্য! দেশের ক্রিকেটের সেরা সম্পদের তথা আমাদের ক্রিকেটেরই এরকম দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে অভিভাবক হিসেবে পাশে না দাঁড়িয়ে বোর্ড সভাপতি সাকিবকে কালারড করার চেষ্টা করেছেন। আইসিসির কোড বরখেলাপও করেছেন।

৩. আইসিসির এরকম সাজার পেছনে ভারতের ভূমিকার ব্যাপারেও স্পেকুলেশন অনেকে করছে দেখলাম। ভারত সিরিজের আগ দিয়ে এরকম সাজা প্রদান। জুয়াড়ি ভারতীয়। আইপিএল ভারতীয়। এটি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে আইসিসিও ভারতীয়! এইসবই স্পেকুলেশন! আসল সত্য আমরা সম্ভবত কোনদিনই জানতে পারবো না!"

No comments: