Search

Sunday, October 2, 2022

এক Attention Seeker পিনাকি ভট্টা...

পিনাকিকে নিয়ে লেখা ক্রমশ শব্দের অপচয় মনে হচ্ছে কারণ মনোযোগ আকর্ষণ করতে গিয়ে কেউ নাঙ্গাপাঙ্গা হলে তো সমস্যা। কিন্তু তাকে নিয়ে লেখাটাও তো আরেক সমস্যা! পূর্বের এক লেখায় [] শিক্ষককে নিয়ে লিখতে গিয়ে কাপড়ের সঙ্গে পিনাকীর চামড়াও খসে পড়ার কারণে  'হলুদাভ পদার্থ' উম্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। ওয়াক...!
এই ভিডিওতে পিনাকী যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, যে শিরোনাম দিয়েছেন তা কেবল অশালীন, অভব্যই না অমার্জিত অপরাধও বটে। মোনালিসাকে নিয়ে অসাধারণ এক তথ্যচিত্র বানোনো এই মানুষটা এমন ইতর হয় কেমন করে এ এক বিস্ময়। এ যে কী পরিমাণ ইতর এটা দেখাতে গিয়ে আমি নিজে গায়ে আতর না ইতর-ইতর গন্ধ পাচ্ছি। এখানেই সম্ভবত পিনাকির জয় অন্যের পরাজয়! 
পিনাকী যে প্রসঙ্গ টেনে হা বিতং করে 'দুমড়ে' (দৌড়ে) এসে বাথরুম চেপে হলেও ভিডিওটা শেষ করেছেন তা হচ্ছে, সুলতানা কামাল বলেছেন, 'এ পরিস্থিতির জন্য ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃত্ব একা দায়ী নয়। '
মূল বক্তব্য এখানে:
এ পরিস্থিতির জন্য ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃত্ব একা দায়ী নয়। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগকে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, সেই ছাত্রলীগকে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব—সবারই এখানে দায়বদ্ধতা আছে। কেউই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেনি। বরং সবাই এই জবাবদিহিহীন অনাচারকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, কেউই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছে না। (প্রথম আলো, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২)
'হড়বড়ে পিনাকী' সুলতানা কামালের পুরো বক্তব্যটা পড়ার তকলীফ করেননি বা মর্ম বোঝেননি। আরেকটা আপত্তির বিষয় হচ্ছে, সুলতানা কামাল বিএনপির সময়কার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন:
ছাত্র নেতৃত্বের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ঘটছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশ্রয়ে। এর আগে বিএনপি যখন সরকারে ছিল, তখন তারা তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এখনো সেই আমলের ছাত্রদল নেতাদের অত্যাচারের কাহিনি মনে হলে ভীতসন্ত্রস্ত হতে হয়। (প্রথম আলো, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২)

ওহে, পিনাকী, সুলতানা কামালের ভাষায় অতিশোয়ক্তি থাকতে পারে কিন্তু বিএনপির সময়ে ছাত্রদলের পোলাপানরা যে একেবারে জায়নামাজে পড়ে থাকত এমন কিন্তু না। বিএনপির এক দুঁদে নেতা গায়ের জোরে রাত কাটাতেন এটা কেবল বাতাসে ভাসে না!

অন্যত্র সুলতানা কামাল বলেছেন:

...ইডেন কলেজে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, নারীবিদ্বেষী শক্তিগুলোকে নারীশিক্ষা, নারীর অগ্রযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দেওয়া হলো।

পিনাকির মাথায় আলো-বাতাস লাগাবার কারণে চুল ফেলে দেয়াটাই সমীচীন। এর কী জানা আছে ইডেন কলেেজর নাম শুনলেই এখন অনেকে সরু চোখে তাকায়! এই ঘটনার রেশ থেকে যাবে দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছর...। এটা এমন এক বাস্তবতা যে চাইলেই ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না। এই সুযোগটা এই অস্ত্রটা আমরা অবলীলায় 'বিশিষ্ট মূর্খদের' হাতে তুলে দিয়েছি। এর দায় আমাদের।

সুলতানা কামালের যে-কোনও অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করাটা দোষের কিছু না। এমনিতেও আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী নামের প্রাণগুলো নিয়ে আমাদের এই প্রজন্মের খুব একটা আশাভরসা নাই। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী নামের প্রাণীগুলোর প্রাণের (মতান্তরে মেরুদন্ড) বড় সংকট বলেই সম্ভবত এরা দেশের কোনও সংকট দেখতে পান না। দলাদলি করে-করে এদের গ্রে-মেটার এবং ইয়েলো-মেটার জড়াজড়ি হয়ে যায়। 'ইয়েলো-মেটারের চশমা চোখে বেচারা এরা তখন কোন সমস্যা দেখতে পান না। নিয়ম করে কিছু বুলি আওড়াবেন। চেতনা-নারী শিক্ষা ব্লা,ব্লা,ব্লা। যায় যদি যাক প্রাণ বুলির হবে জয়গান।

কেবল বুদ্ধিজীবীই না বুদ্ধির বস্তা মাথায় নিয়ে বসে থাকা লোকজনদেরও একই সমস্যা। এদের কাছে কোথাও কোন সমস্যা নেই। এই যে দেখুন ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে:

এই যে তিনি মাথা দুলিয়ে-দুলিয়ে ছাপার অক্ষরে শান্তিনিকেতনি ভাব ধরে বলে গেলেন এই মুগ্ধতার রেশ আমার কেমন করে কাটে! মনে হচ্ছে মাত্র তিনি মঙ্গল গ্রহ থেকে এসে নেমেছেন।
অথচ ইনি  হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর মা!


এত কান্ড হয়ে যাচ্ছে আর তিনি পড়ে আছেন মঙ্গলগ্রহের ভাষা নিয়ে। আমি ধরে নিচ্ছি এই ভদ্রমহিলার কোন কন্যা নেই। আমি এ-ও ধরে নিচ্ছি বাই এনি চান্স, কন্যা থাকলে সে ইডেনে পড়ে না। পড়ে উন্নত দেশের কোন কলেজে। আবারও ধরে নিচ্ছি, হয়তো ইডেনেই পড়ে। তো, আমাদের মঙ্গলগ্রহের আম্মাজান কী তখনও তার মেয়ের জানাবার অপেক্ষায় মঙ্গলের শাটল ধরেই ঝুলে থাকতেন?

সমস্যা কোথায়? সমস্যা অনেকখানি বোঝা যাবে এটা পড়লে। এই 'মংগল-আম্মাজান' দ্য ডেইলি স্টার বাংলার [] সঙ্গে একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন:

এখন বোঝা গেছে সমস্যাটা কোথায়? মাথায়...!

মাথার প্রসঙ্গ বাদ দেন। কথা হচ্ছিল পিনাকীকে নিয়ে। লাইম লাইটে থাকার জন্য  কিছু কূট-কৌশল আছে। যেমন কেউ নাঙ্গাপাঙ্গা হয়ে গেল আবার কেউ 'মাসিহা' দেবদূত হওয়ার ভাব ধরে ফেলল। যেমন পিনাকি এখন টু দ্য পয়েন্টে দেখিয়ে দেয় কাদের-কাদের ইসলাম-ফোবিয়া আছে। সোজা বাংলায়, পিনাকি এখন 'বড় ইসলামের লুক-বড় ভালু লুক'! কেউ একটু কষ্ট করে পিনাকীর কমেন্ট সেকশনে গিয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন, আমাদের হাজার-হাজার ভাইয়ারা পিনাকীকে ইসলামের পীর মেনে বসে আছেন। আরেক পীর ইলিয়াস!


ওরে, পিনাকী নামের পীর সাহেবের খড়ম না-চেটে রফিক উল্লাহ  আফসারী নামের এই ধর্মীয় শিক্ষকের পা ধুয়ে পানি খান।

লিংক:

১. একজন জুতাবাবা এবং একজন 'দানব-পিনাকী'!

২. ‘মেয়েদের ভুল’ এবং ‘কাউন্সেলিংয়ে’ সমাধান দেখছেন ইডেন অধ্যক্ষ | The Daily Star Bangla 

No comments: