Search

Friday, January 18, 2019

নায়ক-নায়িকাগণ।

আমরা আগে এমনই ছিলাম (ভদ্রতা করে অসভ্য লিখছি না কারণ এই কাতারে আমিও পড়ি) তবে এতটা ছিলাম না! আগে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতাম না এ সত্য তবে বাড়ি-দোকানের একপাশে ফেলে রাখতাম।
হালের নতুন এই চল হয়েছে

Wednesday, January 2, 2019

আমাদের স্যার।

আপাতত দৃষ্টিতে এটা কোনও ক্রেস্টের দোকান বলে ভ্রম হলেও এই পদকগুলো

Sunday, August 12, 2018

শুয়ে আছেন এখানে, দুর্দান্ত এক অভিমানে।

আমাদের সব গেছে বানের জলে ভেসে। গেছে ছিনতাই হয়ে। মুক্তিযুদ্ধের আবেগও! নইলে কী আর ১৯৭১ সালের অনেক পরে জন্ম নিয়েও দিব্যি একালের মুক্তিযোদ্ধারা ঘুরে বেড়ায়। একজন বীর বিক্রম শহীদ সিরাজের মত অগ্নিপুরুষেরা থেকে যান এই প্রজন্মের অনেকটা চোখের আড়ালে। কিন্তু আমাদের মধ্যে থেকে থেকে কেউ-কেউ ঠিকই মাটি খুঁড়ে-খুঁড়ে এঁদেরকে নিয়ে আসেন ঠিক আমাদের চোখের সামনে।

Thursday, August 9, 2018

একজন শহিদুল আলমের নগ্ন পা!

আমি যখন প্রথমে খবরটা শুনি তখন আমি নিশ্চিত শহীদুল আলমকে সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে গেছে। কারণ ওই ভবনের আশেপাশের লোকজনের বক্তব্য এবং সম্মেলনে শহীদুল আলমের স্ত্রী বলেছিলেন:
“…ওই লোকগুলো বাসায় ঢুকেই সিসি ক্যামেরায় স্কচটেপ মেরে দেন, ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের ডিভিআর বক্সও নিয়ে যায় তারা"।

Thursday, August 2, 2018

ঘুরে দাঁড়ায়, বাংলাদেশ।

আমরা যারা নিরাপদ দূরত্বে থাকি তারা সম্প্রতি সড়কে খুন হওয়া নিথর দেহ দেখে দু-কলম লিখে দায় সারি [১], [২] কিন্তু ছোট-ছোট বাচ্চারা রাস্তায় নেমে পড়েছে। তাদের দাবী বড় কিছু না এরা সরকারের কাছে সমুদ্রও চায়নি, স্যাটেলাইটও না কেবল ন্যায় চেয়েছে আর নিরাপদ সড়ক চেয়েছে। ব্যস, এই!

পুলিশ এদের গাল দিয়েছে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েছে

Tuesday, July 31, 2018

চলমান দানব এক!

কুমিল্লার চান্দিনায় আজকেও ট্রাক চাপায় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে।
এটা একটা সংখ্যা মাত্র, এই দেশের জন্য! কিন্তু তার বাবা-মার জন্য এটা কেবল একটা সংখ্যা না। সন্তানের নিথর দেহ সামনে নিয়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দলা পাকায়, গলায় এসে। বোধবুদ্ধি হারিয়ে যায়। নইলে সন্তানহারা বেকুব বাবা কেন বারবার বলবেন, তার মেয়ের লাশ নামাবার সময়, ‘আরে কী করো-কী করো, আস্তে নামাও না মাইয়াডা দুক্কু পায় না বুঝি’

Monday, July 30, 2018

খুনের মিছিল!

এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বাস মালিক এবং এদের পেছনের ‘দাঁতাল-দাতলাগুলোকে’ আইনের আওতায় না-আনা হবে। ড্রাইভার-হেলপারকে ধরা না-ধরা সমান। 
কোন পান্ডা কোন বাস মালিক কেমন করে বাসগুলো চালাচ্ছে একটু পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলালে অনেকটা আঁচ করা যাবে। আমার হাতে এখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২০ এপ্রিল ২০১৮ সালের একটা রিপোর্ট- ‘বেপরোয়া পরিবহনের মালিক কারা’।

Saturday, July 28, 2018

‘লন্ডভন্ড’-‘ভন্ডভন্ড’।

আমাদের ভ্যালুজগুলো আর থাকছে না। গায়ের কাপড়গুলো একে করে খসে পড়ছে। ছাত্র-শিক্ষকদের পিতা-পুত্রের যে সম্পর্ক এই সব এখন কেবল কেতাবেই আছে সম্ভবত। আমাদের পিতারা যখন আপিস, চাষের মাঠে তখন এই শিক্ষকরাই আমাদেরকে আঙ্গুল ধরে-ধরে পাঠশালায় শিখিয়েছেন।

সবই সিস্টেম!

আমি বারবার যেটা বলে আসছি সেটা হচ্ছে, ‘আমরা এমনই’! আমরা একেকজন চলমান জম্বি। ঘুরছি-ফিরছি, খাচ্ছি-দাচ্ছি, চকচকে পোশাকে এবং চামড়ায় গলিত শবটাকে ঢেকে রাখছি। ফরমালিনে চুবানো দেহটা থেকে তরল পদার্থটা সরে গেলেই ভক করে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে।

Wednesday, July 25, 2018

সুখীমানব!

আমার এখানে কেউ বেড়াতে এলে আমি খুব আগ্রহ করে এঁর কাছে নিয়ে যেতাম এটা বলে, আসেন, আপনাকে একজন সুখী মানুষ দেখাই। কেউ কাঁধ ঝাঁকাতেন তো কেউ ঠোঁট বাঁকাতেন। তাদের এই তচ্ছিল্য আমি গায়ে মাখতাম না। আমি আমার মত করে ব্যাখ্যা করতাম।

এই মানুষটাকে অনেক দিন ধরে স্টেশনে দেখি ওভারব্রিজের নীচে।

Monday, July 23, 2018

ভারসাম্যহীন!

এদের নিয়ে দু-লাইন লেখাও মস্ত বেওকুফি।

Wednesday, July 18, 2018

বনবন করে ঘোরে সাইকেলের চাকা, ফুটবলও।

Elias Escribano নামের ছেলেটা ২ বছর ধরে বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে [১]। ইতিমধ্যে তার ৩৩টা দেশ ঘোরা শেষ। কিন্তু দেশ ঘোরার আকন্ঠ তৃষ্ণা এর এখনও শেষ হয়নি। মধ্যে কেবল ব্যাংককে অল্প সময়ের জন্য ওর বাবা-মার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওদিন ওর জন্মদিন ছিল।

বাংলাদেশে থাকতে

Tuesday, July 17, 2018

বড় হতে চাইনি...।

অল্প কথায় অসাধারণ এক লেখা লিখেছেন কুঙ্গ থাঙ:
"কখনও বড় হতে চাইনি৷ বড়রা খেলাধুলা করে না, ছবি আঁকে না, সিগারেটের বাক্স জমায় না, পুরানো বোতল দিয়ে কটকটি কেনে না, প্রজাপতির ঝিলমিল ডানার পেছনে ছুটে না, গাছে উঠে না, নদীতীরে দৌড়ঝাঁপ করে না- কেবল টাকা-পয়সার হিসাব, জমিজমা, বাজার সদাই আর ঝগড়াঝাঁটি ৷

Monday, July 16, 2018

ন্যানো কাপ!

এটাকে মাঠ বলা চলে না, বড় জোর উঠোন। এখানে নাকি এই স্কুলের মেয়েরা ফুটবল খেলে। হেড টিচার আমাকে এটা বলার পর আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর হওয়ার কথা, ধুর, কীসব আউলা-ঝাউলা কথা বলেন! কিন্তু এটা বলা হলো না কারণ এই স্কুলের হেড টিচার একজন কামেল মানুষ।

ধন্যবাদ, মতি ভাইয়া!

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল- আমাদের মেয়েদের বিজয়ের ছবি দেখে ভাল লাগছে। জাগো বাংলাদেশ!
অবশেষে, প্রথম পাতায় মেয়েরা জায়গা পেল এই জন্য আমি মতিউর রহমান বাচ্চু, আমাদের মতি ভাইয়াকে ধন্যবাদ জানাই।

গতকালকের পত্রিকায়ও

Thursday, July 12, 2018

ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!

এক ইতরকে অন্য একজন পাদুকাঘাত করার পর সেই ইতর বলছে, আরেকটা দিয়া দেখ…। ইতিমধ্যে সেই ইতরকে দু-দশ চপেটাঘাত-পাদুকাঘাত করার পরও তার সেই একই রা, আরেকটা দিয়া দেখ মার্ডার হয়া যাইবি কিন্তু। পরে একজন সেই ইতরকে জিজ্ঞেস করল, মিয়া ঘটনা কী! তোমারে এত্তোগুলা জুতা মারল আর তুমি বা…! সেই ইতরের সাফ উত্তর, জুতায় তো আর গু

Wednesday, July 11, 2018

রোগী কে?

প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক। এই ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি [১], [২], [৩]। সব ফেলে কাউকে নিয়ে সিরিজ লেখা শুরু করলে তো সমস্যা। আমার মনে হয় এই প্রতিজ্ঞা করাটা এখন আমার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে যে প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে নিয়ে আর লিখিব না লিখিলে দাঁত দিয়ে চোখ কামড়াতে বাধ্য থাকিব।

কপালের ফের!

হাতুড়ি মানব!

আমরা, সাধারণ মানুষ যারা, তারা জীবন নামের একটা আলো-ছায়ার বৃত্তে আটকে অনবরত ঘুরপাক খাই। আমাদের মধ্যে থেকে কেউ-কেউ বৃত্তের বাইরে যেতে পারেন না বটে কিন্তু তাঁর একটা পা থাকে বৃত্তের বাইরে। এঁরাই আমাদের আলোর দিশারি। যাদের চালু নাম বুদ্ধিজীবী। কিন্তু আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ এতোটাই আলোকিত হয়ে যান যে আমাদের চোখ ঝলসে যায়।

Tuesday, July 10, 2018

ইয়ে অমলিন!

গতকাল আমাদের মেয়েরা ক্রিকেটে স্বাগতিক হল্যান্ডকে একেবারে লম্বা করে দিয়েছে- ৭ উইকেটে হারিয়ে!

একবার একজন আমাকে বলেছিলেন কোন দেশ সম্বন্ধে জানতে হলে তার এয়ারপোর্ট এবং পত্রিকার নমুনা দেখবে। এয়ারপোর্টের বিষয়টা বুঝেছিলাম কিন্তু

Saturday, July 7, 2018

দমিনাস, জাফর ইকবাল এবং 'বাচপানা'!

ড. জাফর ইকবাল হালে একটি লেখা লিখেছেন। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ [১]। সেখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, “…জাতীয় সঙ্গীত যে রকম শুধু কিছু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু; জাতীয় পতাকাও সে রকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরও অনেক বড় কিছু…”।

Tuesday, July 3, 2018

ফেরা, না-ফেরার দেশে।

প্রবাসীদের মধ্যে কেউ-কেউ নিজেদের নিয়ে একটা নিষ্ঠুর রসিকতা করেন, ‘দেশে ফিরার সময় প্লেনে বইসা আইবেন না ভিআইপি হয়া আইবেন’। ভিআইপি মানে শুয়ে-শুয়ে আসা। মানুষটা দেশে ফেরেন বটে কিন্তু না-ফেরার দেশে। কফিনবন্দি!

একবার হলো কি (এটা সত্য ঘটনা) গ্রামের দরিদ্র পরিবারের একজন প্রবাসে মারা গেছেন। এখন তাকে দেশে ফেরত আনতে গেলে বিস্তর খরচ। লাশটিকে শূন্য হাতে ফিরতে হয় কিন্তু

Monday, July 2, 2018

ভুল ভূমিকায়।

আমাদের জন্মের পর থেকেই শুরু হয় বিভাজন। প্রাণটা কি মানুষের না পশুর? এরপর ধর্মের বিভাজন। তারও পরে দলের। আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল? আওয়ামি লীগ না বিএনপি-জামাত? ইত্যাদি-ইত্যাদি-ইত্যাদি।

এ এক চলমান প্রক্রিয়া! এই প্রক্রিয়ায় আমরা ভুলতে বসি, একদা মানুষ ছিলাম রে। এমনিতে আমরা জাঁক করে বলি বটে, এন্ড অভ দ্য ডে উয়া হিউম্যান বিয়িং। কিন্তু ভুল হয়ে যায়

Sunday, July 1, 2018

দানব এবং মিডিয়া।

হোলি আর্টিজেন বেকারিতে হামলার দুই বছর হলো এখনও অভিযোগপত্রই নাকি দেওয়া হয়নি! তদন্ত নামের যে-জিনিসটা এটা বড় বিচিত্র এর কোনও আগামাথা নাই জবাবদিহিতারও কোনও বালাই নাই।

মিডিয়ার শক্তি কী জিনিস

Friday, June 29, 2018

জরু-গরু, পোলা-ছোলা সবই যাক, কেবল...।

‘…মিডিয়া’ ফুটবলের উম্মাদনা কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে এর নমুনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। রাশিয়ায় এই বিশ্বকাপ রাশিয়ার জন্য 'ইদ-চান'! সরকার সেই দেশের অনেক অন্যায্য কাজ আড়াল করে ফেলার চেষ্টা করছে। যেমন, বর্তমানে রাশিয়ান নারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৫ এবং পুরুষদের ৬০। এখন সরকার চাচ্ছে এই বয়সসীমা যথাক্রমে ৬৩ এবং ৬৫ করতে। এতে করে ভবিষ্যতে সরকারের এক ট্রিলিয়ন রুবল সাশ্রয় হবে।

আমাদের দেশে

Thursday, June 21, 2018

পোকামাকড়ের থাকাথাকি।

কেবল বালকবেলায় না, এখনও, কখনও-কখনও পোকাকে 'পুকা' বলে হাসির পাত্র হই। তো, বালকবেলায় প্রায়শ এটা মাথায় ঘুরপাক খেত 'পুকার' জন্য একটা ঘর-টর করা যায় না?
সেই বালকবেলার হাস্যকর কর্মকান্ড ভাবনাকে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন fakruddin shahariar (https://www.facebook.com/fakruddin.shahariar), এই বাপ-বেটা মিলে পোকামাকড়ের জন্য হোটেল খুলেছেন। 'বাগ হোটেল'।

Sunday, June 10, 2018

হুজুগে বঙ্গাল!

আমাদের মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমাকে নিয়ে পাকিস্তানি মিডিয়ায় যে কুৎসিত রসিকতা করা হয়েছিল

Saturday, June 2, 2018

ক্রসফায়ার বনাম বন্দুকযুদ্ধ।

দেশ এখন যুদ্ধাবস্থায় আছে। তুমুল 'বন্দুকযুদ্ধ' (চালু মিডিয়া সম্ভবত ক্রসফায়ার বলে-বলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই এই নতুন সংযোজন চালু করেছে।) চলছে! বন্দুকের গুলি সবগুলোই একের-পর-এক ক্রস করছে। এ এক ‘অমায়িক ক্রসফায়ার’ - যাদের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে তারা বেজায় খুশি বেঁচে যাওয়ার আনন্দে! কিন্তু ‘খোদা-না-খাস্তা’ কোনও একটা গুলি যদি ক্রস না-করে

Wednesday, May 23, 2018

ডাকাতের মার গলা...।

চোরের মার বড় গলা এটা সবাই জানে কিন্তু ডাকাতের মার গলা এতোটাই বড় থাকে যে কোহিনূর হিরার মত অজস্র ধনও দিব্যি এঁটে যায়! সেই ডাকাতের নাতিপুতিরা যখন বিবাহ করে তখন আমাদের আনন্দ দেখে কে! উল্লাসে নগ্ননৃত্য করতে বললেও আমরা বিমলানন্দে রাজি হয়ে যাব।দুরস্ত পোশাকপরা কেউ যখন এমন লেখা প্রসব করে, ‘আমাদের রাজার বিবাহ। আমরা দুয়া করি’, তখন মানুষটাকে স্রেফ নগ্ন মনে হয়।

Sunday, May 20, 2018

মা!

শৈশব ফিরে আসে বারবার, স্মৃতির হাত ধরে। এমনই এক স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন, সালমা রুহি: 
"শৈশব স্মৃতি বললেই আমাদের মনে পড়ে যায় পুতুল খেলা, স্কুল পালানো, বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা দেয়া, মজা করা ইত্যাদি। কিন্তু আজ আমার শৈশবের যে স্মৃতি বার বার মনে পড়ছে তা আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম।
আজকাল সন্তান জন্মানোটা প্রযুক্তি কত সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমি যখন ছোট তখন সন্তান জন্মানো ছিল খুবই লজ্জার ব্যাপার, মায়ের পেটে বাচ্চা আসলে অন্য সন্তানদের জানানো হতো না। অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করা হতো। নিয়ম!

ভাত!

সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে লিখছেন, Nishom Sarkar
রফিক এই মুহুর্তে তার আম্মাকে নিয়ে হাসপাতালে। তার আম্মার পেপটিক আলসারের সমস্যা বিকট আকার ধারণ করেছে। গতকাল রাতে পেট ব্যাথা, বমি করে খুব খারাপ অবস্থা। ভোর বেলায় সেহেরি করেই চলে এসেছে তাই হাসপাতালে।

রফিকের আম্মা ম্রিয়মান গলায় বলেন, রফিক।

Tuesday, May 8, 2018

পায়ের নীচে সর্ষে।

এ মানুষটা আমার কাছে জানতে চাইছিল 'অ্যালিস হাউস' কোনটা? অ্যালিস নামের কেউ এখানে থাকে তার আবার বাসাও আছে এমনটা অন্তত আমার জানা নেই তাই আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, 'অ্যালিসের বাসা তুমি কেন খুঁজছ'?
সে যেটা বলল, লোকজনেরা নাকি তাকে বলেছে অ্যালিসের বাসায় সাপের ডিম, ব্যাঙের ঠ্যাং রাজ্যের আবর্জনা আছে। অনুমতি থাকলে তার দেখার প্রবল ইচ্ছা।

এবার আমার বোঝার বাকী রইল না লোকজনেরা যার কথা বলেছে সেই চিড়িয়াখানার চিড়িয়া আমি ব্যতীত আর কেউ না।  আলী এর কাছে হয়ে গেছে অ্যালিস এবং যথারীতি আলীর বাসা 'অ্যালিস হাউস'!

Wednesday, May 2, 2018

দানব এগুচ্ছে গুটিগুটি পায়ে।

(অসাধারণ এই লেখাটি যখন পড়ছিলাম, পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন এটা একটা কল্পকাহিনী! অন্য গ্রহের অতি তুচ্ছ প্রাণ-জীবাণু কেমন করে অসম্ভব বুদ্ধিমান পৃথিবীর মানুষদের সঙ্গে লড়াই করার পণ নিয়ে নেমেছে। এরা কেমন করে ক্রমশ অজর-দানব হয়ে উঠছে। এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে একে-একে মেরে ফেলার নোংরা শলা করছে। কিন্তু এটা আমাদের খুব কাছের গল্প, সত্য ঘটনা...।)
লিখেছেন:  Marufur Rahman Opu 
"বাচ্চাটির বয়স ৪ বছর।

Monday, April 30, 2018

মধু! মধু!!

Sunday, April 29, 2018

'লেখুড়ে'।

নেপালে আমাদের বিমান মুখ থুবড়ে পড়ল। চোখের নিমিষেই নরক! বিমানের চারপাশ জুড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমাদেরই কারও-না-কারও স্বজনের চামড়া চড়চড় করে পুড়ছে, শ্বাসনালি পুড়ছে। আমাদের চারপাশে হু হু করে বাতাস বয় কিন্তু এই মানুষগুলোর গোটা শরীর জুড়ে অন্য ভুবনের কষ্ট- তাঁরা এক ফোঁটা বাতাসের জন্য হাহাকার করছেন।
পরে

Thursday, April 26, 2018

ধারা ৫৭...।

দেবতা তবুও ধরেছে মলিন ঝাঁটা
স্পর্শ বাঁচিয়ে পুণ্যের পথে হাঁটা” (অমিয় চক্রবর্তী)

লোকজন দেবতার হাতেও ঝাঁটা ধরিয়ে দেন। শোনো কান্ড, তাও মলিন ঝাঁটা। আহা, দেবতার যেখানে ছাড় নেই সেখানে মানুষ কোন ছাড়! হোমার সামটাইমস নডস- দেবতারও ভুল হয়। কিন্তু এ এক বিস্ময়, এই দেশের মানুষের ভুল হওয়ার চল কোথায়, হলেও স্বীকারের সততা নাই। শোনো কথা, যেন মানুষ চলে যাবে সমস্ত সমালোচনার উর্ধ্বে! আচ্ছা, গেলে কী হয়! যা হওয়ার তাই হয়- ফল হাতেনাতে।

Tuesday, April 24, 2018

আমাদের নায়ক!

(আমাদের গল্প করার মত গল্প খুব কম তেমনি আমাদের জীবনে রিয়েল লাইফ হিরো আরও কম! যাদেরকে দেখিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বলতে পারি: ব্যাটা, ওই দেখ, মরদ একটা! হি ইজ সুপার, এক্সসেপশনাল... হি ইজ আ ভলকানো, আ হানড্রেড পারসেন্ট এক্সামপাল।)

Sunday, April 22, 2018

ক্ষমতার দবদবা !

Saturday, April 14, 2018

রঙিন চশমা!

কোটা সংস্কার নিয়ে দেশ যখন উত্তাল তখন আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই লক্ষ করলাম। ‘বাংলা ট্রিবিউন’ নামের একটা ওয়েব পোর্টাল আছে। এদের যন্ত্রপাতি এতোটাই অত্যাধুনিক যে এরা তারেক রহমানের ফোনালাপও ফাঁস করে দিতে পারে। বিমল আনন্দে আমাদের চোখ ছোট হয়ে আসছে বলে আমাদের কারও এটা জানার আগ্রহ নেই যে কোন নিতল থেকে উঠে আসে এমন যন্ত্রপাতি যা যে-কারও ফোনের আদ্যপান্ত জেনে যেতে পারে। বালকবেলায় পড়া কবিতার প্রথম ছত্র মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়, ‘পুত্র, আমি তোমার জন্য একটি বিষবৃক্ষ রোপণ করেছি…’।

Sunday, April 1, 2018

গ্রেট চুতিয়া!




...
আপডেট:
পূর্ণিমা দুঃখপ্রকাশ করেন কিন্তু দায়সারা গোছের। তার মোটা মাথায় সমস্যাটা অবশ্য বোঝার কথা না... : https://tinyurl.com/y824d7yx
কিন্তু এই অনুষ্ঠানের প্রযোজক সোহেল রানা বিদ্যুৎ অকপটে যে ভঙ্গিতে সমস্ত দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাঁর কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু: https://tinyurl.com/ycbcgjp4

Saturday, March 31, 2018

এমন ডাক্তার কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি!

আমি আগেও লিখেছিলাম এই ডাক্তার মহোদয় অপারেশনের নাম করে যে গুচ্ছের টাকা নেন তা অবশ্য আমাদের দেশে বিরল না কিন্তু তিনি যে ভঙ্গিতে নিজেকে বাজারে মেলে ধরেন তা লজ্জাবতি গাছ ব্যতীত বিরল [১]! এই দেশের মতান্তরে এই গ্রহের (!) সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক যার বইয়ের বিজ্ঞাপন দিতে-দিতে প্রকাশক ফতুর সেই লেখকের বই না-পড়াটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বৈকি [২]
আমাদের দেশের চালু দৈনিকগুলোয় নিয়ম করে এই ডাক্তার কাম লেখক মহোদয়ের বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপাবেন প্রকাশক কিন্তু বিজ্ঞাপনে তার প্রকাশনীর কোনও উল্লেখ থাকে না, আজব! কিন্তু ডাক্তার সাহেবের ‘ইডেন মাল্টি কেয়ার হসপিটালের’ নাম ফলাও করে থাকে। আহা, বড় বেকুব আমাগো এই প্রকাশক!

এই লেখক মহোদয়ের বই না-পড়ার হতাশা লাঘব হল এক ডাক্তার বন্ধুর কল্যাণে। যেদিন অধ্যাপক ডা. এ. কে.এম ফজলুল হক লেখক মহোদয়ের বই হাতে পেলুম সেদিন এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে এলো। অমায়িক আনন্দে। কিতাবখানা হচ্ছে ‘বৃহদন্ত্র … ও পাইলস’। যাই হোক, অধ্যাপক ফজলুল হকের লেখা ‘বৃহদন্ত্র … ও পাইলস’ নামক কিতাব থেকে খানিকটা তুলে ধরি। তিনি লিখেছেন, “…আমি বিগত নয় বছরে বৃহদন্ত্র ও … রোগাক্রান্ত ২৯,৬৩৫ রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি যে, এদের ১৮% পাইলসে ভুগছেন…”। (পৃ: ২৯)

‘মারিছে এবং খারিছে’- বিরাট গবেষণা করিছে! ঝড় নাই বৃষ্টি নাই, আপিস কামাই নাই, ছুটিছাটা নাই ৯ বছর ধরে কেবল ইয়ের গবেষণা। এর জন্য আবশ্যক গড়ে প্রতি দিন ৯ জন রোগি! সেটা অবশ্য সমস্যা না। কিন্তু…। এদিকে আবার ৩৩ নং পৃষ্ঠায় এই লেখকই লিখেছেন, “লেখক বিগত নয় বছরে ২৯,৬৩৫ জন …রোগিদের উপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, …”। এখানে এসে অবশ্য বলার ভঙ্গি বদলে গেল।
আমরা আবারও ৬০ পৃষ্ঠায় পাই লেখক লিখেছেন, “বিগত ৯ বৎসরে …২৯,৬৩৫ জন রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি যে…”।

আবারও-এর পর কি লেখার নিয়ম? আবারও আবার? আচ্ছা! তো, ৭৫ পৃষ্ঠায় ‘আবারও আবার’ লেখক লিখেছেন, “লেখক বিগত নয় বছর … সমস্যায় আক্রান্ত ২৯৬৩৫ জন রোগির উপর গবেষণা করে দেখেছেন…”। গবেষণা এতই মারাত্মক যে আমরা ৭৮ পৃষ্ঠায় ‘আবারও আবার আবার’ দেখব লেখক মহোদয় লিখেছেন, "…বিগত নয় বছরে ২৯,৬৩৫ জন রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি…”।
ডাক্তার কাম লেখক মহোদয়ের গবেষণা চলতে থাকুক এবার দোয়া প্রসঙ্গে যাই। ৬৪ নং পৃষ্ঠায় ডাক্তার সাহেব লিখেছেন, “অনেকে বলেন, স্যার টয়লেটে এখন এত আরাম পাচ্ছি যে তখনই আপনার জন্য দোয়া করি”। আমরা ভাগ্যহীন তাই দোয়ার বিস্তারিত জানতে পারলুম না।

দেখো দিকি কান্ড, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অতি উঁচু মানের এই কিতাবের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাকাতর হয়ে ভূত ব্যাটা কেবল ঝামেলা পাকায়। ভূত ছাপাখানায় গিয়ে অক্ষর এলোমেলো করে দেয় বলেই আমরা ৪৭ পৃষ্ঠায় দেখি ‘মাংসপি’ ঝুলে আছে তো আছেই। ৫৪ পৃষ্ঠায় ‘মাংসপি’ কেটে ১০৩ পৃষ্ঠায় ‘মাংসপি’ বেড়ে যায়। ‘মাংসপি’ বেড়ে-বেড়ে মাংসপিন্ডে রূপান্তরিত হোক ততক্ষণে আমরা ডাক্তার সাহেবের ‘জুলাফ’ নামের জিনিসটা দিয়ে গলা ভেজাই।
‘জুলাফ’ জিনিসটা কি এটা জানার জন্য আমাদের মত ডডনং পাঠককে জোলাপ খেয়ে টয়লেটে গিয়ে ডাক্তার সাহেবের জন্য নগদে দোয়া করতে হবে। এই মহান কিতাবে ‘ফুসফুসজ্জ’ টাইপের অজস্র শব্দ খুঁজে বের করে এখানে লিখে শব্দের অপচয় করাটা সমীচীন হবে না। এই কিতাবে আমরা ডাক্তার সাহেবের ইস্তারি সাহেবা এবং তার পুত্রধনের ছবিও দেখতে পাই। একজন পাঠক হিসাবে এটা দেখাটা আমাদের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়ে বটে। এই মহান কিতাবখানা আবার একজন সম্পাদনাও করেছেন তিনি হচ্ছেন ডা. সজল আশফাক!
তো, কালে কালে পুত্র ডাঙ্গর হয়, ডাক্তার হয়। তখন আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা আবশ্যক হয়ে পড়ে। উপায় কী? আহা, এ এমন কী! এখন যে আমাদের ডাক্তার ফজলুল হক সাহেব নিয়ম করে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বইয়ের যে বিজ্ঞাপন দেন ওখানে তার ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন তার পুত্রধনের ছবি এবং লেখা থাকে সম্পাদনায়: ডাঃ আসিফ আলমাস হক। এবং যথারীতি ডাক্তার সাহেবের 'ইডেন মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালের' বিজ্ঞাপন।
এত্তো-এত্তো মানুষ ডাক্তার সাহেবের পেছনে লাগলে বেচারা ডাক্তারের লেখক না-হয়ে উপায় কী!

একজন ডাক্তার এভাবে চাল করে বিজ্ঞাপন দেওয়ায় আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটছে কিনা এটা একজন আইনজ্ঞ ভাল বলতে পারবেন কিন্তু একজন ডাক্তার,অতি শিক্ষিত একজন মানুষ এতোটা লাজহীন হন কেমন করে? এ এক বিস্ময়!

সহায়ক সূত্র:
২. ডাগদর কাম ল্যাকক: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html

Thursday, March 22, 2018

খসে পড়ে একেক করে...!

রামুর প্রবীণ শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মাকে তাঁরই ছাত্র সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার সংবাদ পুরনো। এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মহোদয় কিরিটি, কুয়াশা, মাসুদ রানাকেও ছাড়িয়ে এটাও প্রমাণ করে দিলেন এই প্রবীণ শিক্ষক ১৯৭১ সালে দেশবিরোধী ছিলেন [১]। ব্যস, এরপর আর কথা চলে না।

একজন আইনপ্রণেতা হয়তো নিজ শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারেন কিন্তু এখনও যেহেতু আইন আকারে এটা পাশ হয়নি তাই আমরা, বিশেষ করে আমি আগের নিয়মেই চলব। নিজ শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা তো কল্পনার অতীত তাঁর চোখে চোখ রাখাই যে দায়। সামনে পড়ে গেলে হৃদপিন্ডের ড্রাম কী আমি বাজাই, শ্লা!

যাই হোক, দেশের অনেক বড়-বড় খবরের মাঝে এই খবরটা চাপা পড়ে গেল! এই সংসদ সদস্য মহোদয়ের অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি একরামুল হুদা মহোদয় আদালতে এই প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করে দিয়েছেন। ওরি বাবা, ‘মানি সাংসদের গেল মান আর একরামুল স্যারের উধাও কান’!

যাই হোক, কেউ মান খোয়ালে মানহানির মামলা করবে এবং যথারীতি ন্যায়ালয় মান ফিরিয়ে দেবে এতে কোনও সমস্যা নেই। এমনিতে আদালত আমাদের বিচার পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল! এই নিয়ে আমার বিশেষ গাত্রদাহও নেই। কিন্তু আমি ভয়ে-ভয়ে আছি। নিজ ছাত্রের হাতে মার খাওয়া অভাগা এই প্রবীণ শিক্ষক যদি এই ১০০ কোটি টাকার মামলা হেরে বসেন তাহলে তো সর্বনাশ এই টাকা শোধ করবেন কেমন করে? ১০০ কোটি! হাজার না, লাখ না, কোটিও না একদম ১০০ কোটি! আহা, টাকার অংকটা কম হলে নাহয় চেষ্টা করা যেত। আচ্ছা ধরা যাক, খোলা বাজারে মাস্টার মশাইকে পার্ট-বাই-পার্ট বিক্রি করে দেওয়া হলো। মাস্টার মশাইয়ের কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলি, দাঁত কিন্তু… ওহো সবই তো দুর্বল পার্টস কোটি টাকা বাজারদর হবে কী! আরে, সব মিলিয়ে কোটি টাকা হলে আমি নিজেই বুঝি বসে থাকতাম, পাগল। কবে নিজের পার্টসগুলো বিক্রি করে টাকা ক্যাশ করে ফেলতাম।
কিন্তু মাস্টার মশাই থেকে ১০০ কোটি টাকা আদায়ের উপায় কী! আমি তো কোনও উপায় দেখছি না কারও মাথায় কোনও উপায় খেললে সে ভিন্ন কথা…।

সহায়ক সূত্র:
১. পিতা, তোমার নগ্নতায়...: http://www.ali-mahmed.com/2018/01/blog-post_19.html

Sunday, March 18, 2018

পাখি ওড়ে যায়, মানুষ হারায়...!


এই মানুষটাকে যখন একজন মারছিল তখন পাল্টা আঘাত দূরের কথা আত্মরক্ষার কোনও প্রকারের চেষ্টাই তার মধ্যে ছিল না। কারণটা পরে জানা গেল। মানুষটা হারিয়ে গেছেন, স্রেফ হারিয়ে গেছেন! তাঁর অনেক কিছুই মনে আছে কিন্তু বাড়ির ঠিকানা মনে নেই। কয়েক দফায় কথা বলে তাঁর সম্বন্ধে জানা হলো বিস্তর। মানুষটা উচ্চশিক্ষিত, শুদ্ধ বাংলার পাশাপাশি চোস্ত ইংরাজিতে কথা বলতে পারেন। টিনা টার্নার, স্টিভ ওয়ান্ডার, জর্জ মাইকেল, রকওয়েলের নাম এর মুখস্থ। এবং, সম্ভবত এঁর পরিবারের একাধিক ব্যক্তিগত গাড়িও আছে ।
একদিন চা খেতে-খেতে কথা হচ্ছিল। আমাকে দুম করে বললেন, 'আচ্ছা, আপনি কি হুইল-চেয়ারে বসে চিন্তাভাবনা করে দেখেছেন'? আমি মনের ভাব লুকিয়ে বললাম, 'আরে, চিন্তা করবে তো তারা যাদের ব্রেন আছে। আমা তো ওই জিনিসটা নাই'। এটা ছিল রসিকতার একটা অংশ কিন্তু আইডিয়াটা আমার পছন্দ হয়েছে...।

ঝকঝকে চোখের প্রাণবন্ত এই মানুষটা যখন গা দুলিয়ে কথা বলেন তখন মনেই হয় না এর ভুবনের কোথাও কোনও প্রকারের এলোমেলো হয়ে আছে। স্টিভ ওয়ান্ডার, রকওয়েল আমারও খুব প্রিয়। কথায়-কথায় যখন মানুষটা হাসি ছুড়ে দিয়ে আমাকে বলেন, 'আমি তাহলে আপনাকে কিশোরবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম, তখন কেবলই মনে হয় বুদ্ধিমান একজন মানুষ এমন অসহায়ের জীবন-যাপন করবেন এটা তো হয় না। তাঁর পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়াটা জরুরি, খুব জরুরি…।

হারিয়ে যাওয়া মানুষ স্বজনের কাছে ফিরে আসে সিনেমায় এ সত্য কিন্তু বাস্তবেও এমনটা হতে পারবে না এই দিব্যি তো আর কেউ দেয়নি। আমি আশাবাদি মানুষ- এই মানুষটা তার স্বজনের কাছে ফিরে যাবেন এই আশায় বুক বাঁধি।মানুষটা বাড়ির ঠিকানা ভুলে গেছেন কিন্তু কেবল এটুকুই বলতে পারেন চট্টগ্রামে এদের বাসা। সম্ভবত হালিশহরে।
*আমার সঙ্গে সহৃদয় যারা যুক্ত আছেন বিশেষ করে চট্টগ্রামের, দয়া করে একটু হাত বাড়ান না …।
...
৭ দিন পর...।
বিপ্লব নামের এই মানুষটাকে নিয়ে একটা সমস্যায় পড়ে গেলাম! এ সত্য এমনতরো সমস্যা আমার জন্য নতুন কিছু না। কিন্তু…কোনও প্রকারেই বিপ্লবের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও সুরাহা করা যাচ্ছিল না। ফাঁকতালে অতি মুল্যবান সময়ের অপচয় হচ্ছিল। যথেষ্ঠ প্রস্তুতি ব্যতীত এহেন রোগে আক্রান্ত একজন মানুষকে ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাও দেখতে দেখতে ৭ দিন গড়িয়ে গেল। এরিমধ্যে কেউ-কেউ প্রচুর সময় নষ্ট করলেন। যারা তাকে ‘বিপ্লব’ নামে চিনতে পারলেন তারা যদি সঙ্গে সঙ্গেই এটা বলে দিতেন যে অনেক বছর পূর্বে একে দেখেছেন। এখনকার কোনও খোঁজ এদের জানা নাই। আফসোস, আমি অপেক্ষায় ছিলাম যে এই বুঝি একটা গতি হলো।

সময় গড়ায়। আমার অস্থিরতা বাড়ে। কেউ-কেউ আমাকে বিস্তর উপদেশও দিলেন, চালু সিস্টেমের(!) কথাও বললেন। তা কেমনতরো সিস্টেম? খুব সোজা! বিপ্লব নামের মানুষটাকে চট্টগ্রামের কোনও ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া। এই সিস্টেমের কথা আমি যে জানি না এমন না। এই সিস্টেমের অনেক ক্ষেত্রেই চল আছে। যেমন মন্দির-মসজিদে নিজের জুতো খুঁজে না-পেয়ে অন্যের চকচকে জুতো পায়ে দিয়ে ঠোঁট গোল করে শিষ দিতে দিতে বাড়ি ফেরা। কিন্তু আহা, একটা মানুষের সঙ্গে এহেন আচরণের জন্য বুকের পাটা লাগে যে!

যাই হোক, পরিচিত কিছু মানুষ বিরক্ত হয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন। একজন ডাক্তার সাহেবকে বিপ্লবের জন্য একটা ওষুধের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার ফোন দিয়েছিলাম। এখনও তিনি আমাকে ফোন করার সময় করে উঠতে পারেননি। একজন সাংবাদিক সাহেবের অবস্থাও তথৈবচ। আহা, ব্যস্ত মানুষ যে সব! এদের যখন ইয়া বড়ো ক্যারিয়ার তখন আমার মত চুতিয়ার হাতে টিফিন ক্যারিয়ার।

যেহেতু বিপ্লবের সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে হালিশহরের কথা এসেছিল তাই হালিশহর থানায় যোগাযোগ করলে বলা হলো এর বাবার নাম বা সেল নাম্বার না থাকলে কিসসু করার নেই। ওরে, বাবার নাম আর সেল নাম্বার থাকলে থানার সহায়তা লাগে নাকি আবার?!

অন্ধকার দিক নিয়ে কথা বলতে ভাল লাগে না। আলোকিত দিকের কথা বলি। বিপ্লবকে নিয়ে লেখাটা দেওয়ার পর অনেকে মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কাতর হয়েছেন। লেখাটা শেয়ার করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেইসব হৃদয়বান মানুষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমার ক্ষমতায় কুলালে প্রত্যেকের হাত ছুঁয়ে বলতাম, আহারে-আহারে, আপনাদের এতো মায়া কেন গো।

সেই সময়কার তুমুল জনপ্রিয় কোজাক, দ্য এটিম, এক্স ফাইলের ভুলে যাওয়া কথা না-হয় বাদই দিলাম। এই সাত দিনে বিপ্লব নামের মানুষটার তীক্ষ বুদ্ধি আমাকে কম হতভম্ব করেনি! তার উপর মায়ার ঝাঁপি- একদিন দরদর করে ঘামছি বিপ্লবের মায়াভরা গলা, ‘ভাইয়া, আপনি অনেক ঘামছেন’। এমন একটা দ্বৈতসত্তার মানুষকে বোঝার খুব ভাল ক্ষমতা আমার নাই। যে ফি-রোজ আমাকে মনে করিয়ে দিত, ‘ভাইয়া আমার পিয়নের চাকরিটা হবে তো’? ওর ওই সত্তার পিয়নের একটা চাকরির খুব প্রয়োজন এবং গ্রামের কুঁড়েঘরে থাকারও তীব্র আগ্রহ।

গতকাল সেলুনে এর চুল-দাড়ি কামিয়ে তার এই ছবিটা দেখিয়ে বলছিলাম, ‘বাহ, দেখেন তো, আপনাকে কী চমৎকারই না দেখাচ্ছে’! আমি নিজেও হাঁ করে তাকিয়ে ছিলাম। মায়াভরা,কী ঝকঝকে চোখ!
আমি এও লক্ষ করেছি বিপ্লব নামের এই মানুষটা অনেকটা আঁচ করতে পারছিল যে আমি তাকে নিয়ে একটা অস্থিরতায় মধ্যো আছি। এই অস্থিরতা থেকে আমাকে মুক্তি দিতেই কিনা জানি না কাল সে একটু হেঁটে আসার কথা বলে সেই যে গেল আর ফিরল না। আমি অপেক্ষায় আছি কিন্তু আমার মন বলছে বিপ্লব নামের অতি বুদ্ধিমান এই মানুষটা আর ফিরবে না। সে আমার প্রতি করুণা করে গেছে। আমাকে জানোয়ার হওয়ার হাত থেকে থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে।


পাখি ওড়ে যায়-মানুষ হারায়। কেউ ফেলে পালক কেউ স্মৃতি। আমার মত দুর্বল, পরাজিত একজন মানুষের বুকের ভেতর পাক খেয়ে উঠা বেদনা একপাশে সরিয়ে আমি চোখ বন্ধ করে কেবল ভাবি, এমনটা হতে পারে না, বেশ পারে। আমার মস্তিষ্ক আমাকে নিয়ে খানিকটা খেলছে। কোথাও গিয়ে ভুলে গেছি নিজের বাড়ির কথা। কেবল স্বজনদের মায়াভরা মুখ মনে আছে, মার হাতের ধোঁয়াওঠা সাদা-সাদা ভাতের কথা মনে আছে, নিজের ঘুমাবার বালিশটা কথা মনে আছে কেবল বাড়ির ঠিকানার কথা মনে নেই। মনে করার চেষ্টা করলে চোখ বড় হয়ে আসে। কথা আটকে গলায় দলা পাকায়, মুখ বেঁকে যায়। যেন এই শরীরটা আটকা পড়েছে অন্য একটা শরীরে। সেই শরীর ফিরতে পারছে না, ফিরতে পারছে না। আহারে-আহারে!

আমি আশাবাদি মানুষ। আমি নিশ্চিত, কোনও একজন মানুষ এগিয়ে আসবেন। তিনি আমার মত ছাতাফাতা দুর্বল মানুষ না। ওখানে থাকবে হোম, আশ্রয়স্থল নামের একটা শক্ত ছাদ যেখানে, এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াতে কোনও সমস্যা নেই। কখনও কোনও সমস্যা হলেই ছুটে আসবে ডাক্তার-নার্স। একদিন, কোনও একদিন আশেপাশের সহৃদয় মানুষগুলো উল্লাসে হাতে কিল মেরে ঝলমলে মুখে বলবে, বলেছিলাম না, বলেছিলাম না এ ঠিক-ঠিক বাড়ি ফিরবে…।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10155388657697335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=3&theater

Friday, January 19, 2018

পিতা, তোমার নগ্নতায়...।

আমরা যারা বেকুব টাইপের মানুষ তারা এখনও দূর থেকে নিজের স্কুলের শিক্ষককে দেখলে রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়াই। মানুষটা যতই কাছাকাছি হতে থাকেন পাল্লা দিয়ে পা ততই দুর্বল হয়ে পড়ে। হবে না কেন, আমাদের বাবারা যখন মাঠে-আপিসে চলে যান তখন এই শিক্ষকরাই তো হাত ধরে-ধরে আমাদেরকে শেখান। এ যেন আরেক বাবা- বাবার ছায়া।

তাই আমাদের মত বেকুবদের কাছে কক্সবাজারের রামুর সংসদ সদস্য ওরফে আইনপ্রণেতার এই আচরণ বৈসাদৃশ্য ঠেকবে বৈকি। কিন্তু এতে আহত হওয়ার কিছু নাই। সাংসদ সাইমুম তার নিজের স্কুলের শিক্ষককে (যে শিক্ষকের তিনি ছাত্র ছিলেন) তুই-তোকারি করেছেন গায়ে হাত উঠিয়েছেন। যেহেতু তিনি আইনপ্রণেতা, বিস্তর আইনের বই নিয়ে ধস্তাধস্তি-কস্তাকস্তি করে কালে-কালে মহীরুহ হয়ে উঠেছেন তাই এতে দোষ ধরলে আইনের ব্যত্যয় হয় কিনা কে জানে! কথিত আছে, দানব নাকি তার মাকে খেয়ে ফেলে। এখন দেখছি কিছু মানব তার বাপকেও খেয়ে ফেলে!
...
কিন্তু বিষয়টা এখন পর্যন্ত থাকল না। সংসদ সদস্য মহোদয়ের মিডিয়ায় ইমেইল চালাচালি করাকরি নিয়ে আবারও লিখতে হলো...।

রামুর আইনপ্রণেতা সাংসদ সদস্য মহোদয়ের নিজ শিক্ষককে তুই-তোকারি করা এবং গায়ে হাত তোলার ঘটনা, এই সংবাদ পুরনো। এ সত্য, এটা অভূতপূর্ব এমন ঘটনা দেশে বিরল।
এটাও সত্য আমরা এটা আশা করে বসে নেই আর এখন সেই দিনও নেই যে ‘ডুপ্পুস’ করে কুয়ায় পড়ার শব্দ শুনব। আগেকালের বিচারে গলায় গামছা গলায় দিয়ে কারও শাস্তির রায় হলে সে লজ্জায়-অপমানে কুয়ায় ঝাঁপ দিত। পার্থক্য হচ্ছে এখন হি-হি করে বলে: গামছাডা নতুন দেইখ্যা দিয়েন। মানে সোজা গলায় গামছা দিয়ে মাফ চেয়ে নতুন গামছা নিয়ে সে বিমলানন্দে বাড়ির পথ ধরবে আর কী! 


তো, আমরা ভুলেও সাংসদ সাইমুমকে নিয়ে এমনটা দুরাশা করিনি। ওয়াল্লা, এখন দেখছি তিনি দাবি করছেন: তার শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন। তিনি নাকি পাকিস্তানি হানাদারকে বাজার করে দিতেন।
আওয়ামীলীগের এই সাংসদ ইমেইলে মিডিয়ার কাছে এটাও লিখেছেন, “তার শিক্ষক সুনীল কুমার আওয়ামী লীগবিদ্বেষী এবং একাত্তরের শান্তি কমিটির সদস্য”।

কেউ এই তথ্য জানে না কিন্তু আমাদের সাংসদ কেমন করে এই তথ্য জানেন এ এক বিস্ময়! তার শিক্ষক যখন পাকবাহিনীর গোশত-টোশত বাজার করে দিতেন তখন এই সংসদ সদস্য মহোদয় বাজারের কোথায় লুকিয়ে এটা পর্যবেক্ষণ করতেন এই তথ্য অবশ্য ইমেইলে উল্লেখ নেই। এখন তো দেশে এমন মুক্তিযোদ্ধাদের নামও শোনা যায় ১৯৭১ সালে যাদের বাবা-মার বিয়েও হয়নি। তাই এটা হওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক না।

এই একটা চল হয়েছে দেশে! কাউকে শুইয়ে দিতে হলে তাকে কোনও-না কোনও প্রকারে ১৯৭১ সাল জড়িয়ে দেশবিরোধী বানিয়ে দাও। ব্যস, এরপর ওই মানুষটার প্রতি করা যে-কোনও অন্যায় হিসাবের বাইরে। তখন সেই মানুষটার পক্ষে কারও দাড়াবার যো নেই। মানুষটা ঘৃণিত যে…!

Saturday, January 6, 2018

তাঁদের না-বলা কথা...।

লেখাটি লিখেছেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর [১] সন্তান Tanvir Haider Chaudhury:
"না, তাঁরা 'হাসিমুখে' মৃত্যুকে বরণ করেননি। কয়েকদিন ধরে দেখছি ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ ছাড়া হচ্ছে ইন্টারনেটে। তার একটায় দেখানো হচ্ছে একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে অপহরণের দৃশ্য। ভদ্রলোকের চোখ বেঁধে, তাঁকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুললো কিছু উর্দিপরা সৈনিক, এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়। প্রথমে হকচকিয়ে গেলেন ভদ্রলোক, কিন্তু গাড়িতে বসে একসময়ে তাঁর মুখে ফুটে উঠলো হাসির রেখা।
আরেকটাতে দেখানো হয় এলোমেলো চুলের, অবিন্যস্ত কাপড়ের এক যুবককে। বোঝাই যাচ্ছে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার সামনের টেবিলে একটা পিস্তল রাখে এক মিলিটারি অফিসার। সে চোখ তুলে তাকায়, আর তার মুখ জুড়ে ফুটে ওঠে তাচ্ছিল্যের হাসি।

এক টেলিকম অপারেটরের উদ্যোগে নির্মিত এই ভিডিও ক্লিপগুলো। বারবার করে এগুলোয় যা বলা হয়েছে তার সারমর্ম হলো এই: একাত্তরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং বুদ্ধিজীবীরা হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছেন, যাতে আমরা একটা সুন্দর দেশ পাই। যাতে বাংলাদেশ ভালো থাকে।
প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু 'হাসিমুখে' মৃত্যু বরণের কথা কেন বলা হলো? এই অতিকথনে কি তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা কিছু বাড়িয়ে দেওয়া হয়? আমার বাবার নাম, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। তাঁকে উনিশশো একাত্তর সনের চোদ্দই ডিসেম্বর ঠিক যেমন দেখানো হয়েছে ভিডিওতে, তেমনিভাবে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়েছিল। এরপর আর তাঁর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। অমিল শুধু এক জায়গায়: আমাদের জানা মতে এই শেষ যাত্রার পথে তাঁর মুখে হাসি ছিল না। আমাদের এই সুপ্রিয় স্বাধীন দেশের বয়স এ বছর ছেচল্লিশ হলো। একই সাথে আমরা যারা একাত্তরের শহীদদের সন্তান, তাদের বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই, কোনক্ষেত্রে পেরিয়েছে। আমরা ভুলে যাই যে যখন আমাদের মা-বাবাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা করা হয়, তখন তাঁদের বয়স ছিলো আমাদের চাইতে কম।

মৃত্যু কী খুব সহজ ব্যাপার? এইরকম বীভৎস মৃত্যু? সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে আমার বাবা মাত্র সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন। একাত্তরে তিনি পঁয়তাল্লিশে বছর বয়সে পা রেখেছিলেন; তাঁর দুই শিশুপুত্রের বয়স ছিলো সাড়ে সাত এবং চার। তাদেরকে ছেড়ে, তাঁর প্রিয় সহধর্মিণীকে রেখে, কতটা অতৃপ্তি, ক্ষোভ আর কষ্ট নিয়ে তিনি চলে গেলেন? তাঁর সতীর্থদের বেলায়ও পরিস্থিতি তো একই রকম ছিল। প্রায় সবারই শিশুসন্তান ছিল, সবার বয়স চল্লিশের কোঠায়- তাঁরা কেউ কি মৃত্যুর মুখে যেতে পেরেছেন প্রশান্তির অনুভূতি নিয়ে?
অথচ তাঁদের মুখেই আমরা ওই শেষ যাত্রায় হাসি জুড়ে দিচ্ছি? এ এক অন্যায়, গুরুতর অন্যায়। চিরদিন তাঁরা স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। এক উদার, অসাম্প্রদায়িক, সংস্কৃতিমনা দেশের। শেষ মুহূর্তে এটাও বুঝেছিলেন যে সেই দেশের দর্শন তাঁদের কোনদিন মিলবে না। কতটা হাহাকার বুকে নিয়ে তাঁরা জীবনের মায়া ছেড়ে গেছেন?

আমার আপনার মতো রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন তাঁরা। আকাঙ্খা ছিল তাঁদের, অনুরাগ ছিল, এই পৃথিবীর প্রতি মায়া ছিল। সব মোহ-মমতার উর্ধ্বে স্থান দেওয়া হলে তাঁদের প্রতি অসম্মানই করা হবে। মহামানবের আসনে বসিয়ে এই অসামান্য মানুষদের অবদানকে ছোট করার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।"

* উপরে উল্লেখিত লেখাটা লিখেছেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর সন্তান Tanvir Haider Chaudhury। তাঁর অনুমতিক্রমে লেখাটি হুবহু ছাপা হলো। মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীকে [১] নিয়ে লিখেছিলাম ২০১০ সালে। ওই লেখার অংশবিশেষ, "...স্বজনদের চোখে চোখ রাখার সময়ও কী তিনি ভাবতে পেরেছিলেন এটা তাঁর শেষ যাত্রা- ওয়ান ওয়ে জার্নি, যেখান থেকে মানুষ আর ফিরে আসে না! পেছনে পড়ে থাকে সন্তানদের গায়ের গন্ধ-থেকে যায় কেবল কিছু স্মৃতি! মানুষটার  অন্য ভুবনের কষ্টের কথা আমাদের আর জানা হবে না। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে মস্তিষ্ক খানিকটাও সচল থাকলে তাঁর সন্তানদের গায়ের গন্ধ তাঁর মৃত্যুযন্ত্রণা কী অনেকখানি লাঘব করেছিল? জানা হবে না, জানা হবে না আর..."!

আমরা এখন বড় চেতনাবাজ হয়ে গেছি!  এই তো সেদিন মাইকিং শুনছিলাম মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে হাউজির (জুয়া) আয়োজন। কেকা ফেরদৌসি 'মুক্তিযোদ্ধাদের খিচুড়ি' রান্নার অনুষ্ঠানে ভাইয়ের ইলেকট্রনিক মিডিয়া খিচুড়ি লেপে ফাটিয়ে ফেলেন। অশ্লীলতার সংজ্ঞা ব্যাপক। কে বলে কেবল নগ্ন গাত্রই অশ্লীল? আমার চোখে এইসবই অশ্লীলতা। কালে-কালে আমরা আমাদের খুব আবেগের জায়গাটাকে বানিয়ে ফেলছি একটা পণ্য রূপে। আমাদের অনেকের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ (!) এখন একটা বিক্রয়যোগ্য পণ্য [২]

সহায়ক সূত্র:
১. নিধন, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী: http://1971-bangladesh.blogspot.com/search?q=%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%B2+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%9A%E0%A7%8C%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80
২. বিক্রয়যোগ্য পণ্য: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_07.html

Thursday, January 4, 2018

নায়ক!

বুকের ব্যাজ পড়ে জানা গেল এই মানুষটার নাম প্রাণকৃষ্ণ, জনাব প্রাণকৃষ্ণ। আমাকে যখন বললেন, একটা মানুষ পড়ে আছে একটু যদি দেখতেন…। আমি অনেকখানি বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। কারণ...। নিরাপত্তা চৌকির সামনে যে মানুষটাকে চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখলাম তার জ্ঞান আছে কিনা তখন বোঝা যাচ্ছিল না।
আমি খানিকটা হকচকিয়ে গেলাম এই কারণে সচরাচর অজ্ঞাত এইসব মানুষদেরকে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে সঙ্গের সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়। এদেরকে নিয়ে আমার মত ব্যাজহীন মানুষদের কাজ করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। ‘খোদা-না-খাস্তা’ খোদার কাছে চলে গেলে বেচারা আমাকে নিয়ে টানাটানি। হাসপাতালে ইচ্ছা করলেই ভর্তি করা যায় না। স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মেমো ইস্যু করবেন সেই মেমোসহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। নইলে হাসপাতালের স্যার মহোদয়গণ ভর্তিই করবেন না। এটা তো গেল আমার মত ব্যাজহীন মানুষদের সমস্যা- ব্যাজঅলা মানুষদের তো সমস্যা নেই। প্রাণকৃষ্ণ কেন ভয়ে সিটিয়ে ছিলেন সেটা পরে জানা গেল কারণ তাঁর চিফ স্টেশনে ছিলেন না, ছুটিতে ছিলেন। দায়দায়িত্বের একটা বিষয় থেকেই যায়।

যাই হোক, এরপর প্রাণকৃষ্ণ নামের মানুষটা ঝড়ের গতিতে কাজ করা শুরু করে দিলেন। চিৎ হয়ে পড়ে থাকা মানুষটার ঘোর খানিকটা কাটলে তার হাতে লিখে রাখা একটা ফোন নাম্বার দেখিয়ে জানাল, এটা তার বউয়ের নাম্বার। প্রাণকৃষ্ণ অনবরত এখানে-ওখানে ফোন করতে থাকেন। ফোনের মাধ্যমে মানুষটার ছবি পাঠালে ওপাশ থেকে নিশ্চিত করা হলো যে এই মানুষটাই তাদের হারিয়ে যাওয়া মানুষ। ততক্ষণে ওরা গাড়ি নিয়ে রওয়ানা দিয়ে দিয়েছেন।
চিৎ হয়ে পড়ে থাকা মানুষটা থেমে-থেমে আমাকে যখন বলছিলেন, কিছু লোক তাকে পুলিশ পরিচয়ে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে একটা ঘরে আটক করে রাখে। এবং ওখানে আরও অনেক মানুষ ছিল। আমি মির হোসেন নামের এই মানুষটার সন্ধাভাষা-দুর্বোধ্য ভাষার খুব একটা গুরুত্ব দিলাম না কারণ এর ঘোর তখনও পুরোপুরি কাটেনি। এইসব ক্ষেত্রে অন্তত ৪৮ ঘন্টার পূর্বে পুরোপুরি সচেতন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সলাজে বলি, আমি ভুল করেছিলাম! নিজেকে চাবুক মারার পদ্ধতি থাকলে দুয়েক ঘা নিজেকেই চাবুকপেটা করতাম। কারণটা পরে বলছি।

স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট সাহেবকে পাওয়া গেল না তাছাড়া মির হোসেনের লোকজনেরাও চলে আসছে। ফোনে একজন ডাক্তারের পরামর্শ খুব কাজে লেগেছিল। এদিকে নুর মোহাম্মদ নামের মানুষটার এই ভয় ভাঙ্গাতে খুব বেগ পেতে হয়েছিল যে তার পরিবারের লোকজন আসার পূর্বেই এখান থেকে অন্য-কেউ নিয়ে যেতে পারবে না। প্রাণকৃষ্ণ এবং তাঁর সহকর্মীরা যেভাবে মানুষটাকে আগলে রেখেছিলেন তাতে কার সাধ্য একে এখান থেকে নিয়ে যাবে!
আমার আসলে এখানে ভাল দর্শক হওয়া ব্যতীত করার কিছুই ছিল না। প্রাণকৃষ্ণ এরা ঠিক-ঠিক এর স্বজনদের কাছে একে বুঝিয়ে দেবেন এই নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

প্রয়োজন ছিল না তবুও পরদিন খোঁজ নিতে গিয়ে যে তথ্য জানলাম তা ভয়াবহ। মির হোসেন নামের মানুষটা তার স্বজনদের কাছে ফিরে গেছেন ঠিকই কিন্তু এই মানুষটার হারিয়ে যাওয়ার জিডি লক্ষীপুর থানায় করা হয়েছিল প্রায় ১ মাস পূর্বে! এই ১ মাস তিনি ছিলেন কোথায়? তাকে এবং অন্য আরও অনেককে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল এই তথ্যটা সত্য তাহলে! কেন আটকে রাখা হয়েছিল? এর উত্তর আপাতত জানা নেই কারও। লোকজনকে অহেতুক আটকে রাখবে কেন? মুক্তিপণ তো চায়নি, তাহলে?
এই সব জটিল বিষয় আপাতত থাকুক মাথায় যেমন ঘুরপাক খায় আলোকিত দিক প্রাণকৃষ্ণদের অসাধারণ মানবিকতা তেমনি অন্ধকার দিকও আছে। নুর মোহাম্মদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল সোস্যাল মিডিয়ায় হারিয়ে যাওয়া তথ্য শেয়ার করার পর অন্য থানা থেকে ‘আপনাদের লোক পাওয়া গেছে’ এই মিথ্যাচার করে বিকাশের মাধ্যমে বিস্তর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই ১ মাসে ।
সব ছাড়িয়ে যায় প্রাণকৃষ্ণ যখন আমাকে বলেন, ’জানেন, কেমন একটা শান্তি-শান্তি লাগতাছে’। আমি একজন ভাল দর্শক বিধায় শান্তি-শান্তি মুখ দেখেও সুখ…।

Saturday, December 16, 2017

একজন মুক্তিযোদ্ধা, একটা বিস্ময়...!

তাঁর সন্তান হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে চলে এসেছে। সন্তানের জন্য তার বাবার হিমশীতল শরীরের চেয়েও অন্য রকমের এক বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। বাবাকে গোরস্থানে শুইয়ে দিয়ে এসে কিছু-একটা খুঁজতে গিয়ে বাবার ব্যক্তিগত কাগজপত্র থেকে একে-একে বের হয়ে এলো…!
ওয়াল্লা, বাবা তাহলে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন?! কই, বাবা তো কখনও কোনও প্রসঙ্গেও এর উল্লেখ করেননি!
তিনি। তাঁর মৃত্যু হয় ৮৩ বছর বয়সে। এ বছরই, বিজয়ের মাসের মাত্র কিছু দিন পূর্বে। আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলেই তিনি ৪৭তম বিজয় দিবস দেখে যেতে পারতেন।
অথচ এই মানুষটার সন্তানের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র অন্যায় করেছিল, ঘোরতর অন্যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যে মানুষটা এই দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন রাষ্ট্রযন্ত্র যখন তাঁর নিরপরাধ সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তখনও তিনি অসহ্য কষ্ট সহ্য করেছেন কিন্তু নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা এই পরিচয় প্রকাশ করে কোনও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেননি। এমনকি মৃত্যুর আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কারণে এক পয়সা সম্মানী-ভাতা গ্রহণ করা দূরে থাক কাউকে বলেননি পর্যন্ত! কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর জানা হবে না কখনও কারণ এই প্রশ্নের উত্তর যিনি দিতে পারতেন তিনি এখন অন্য ভুবনে। এই ভুবনের আনন্দবেদনায় এখন আর তাঁর কিছুই যায় আসে না। তবে এঁদের মতো মানুষ [১] কেন ঠিক ১৬ ডিসেম্বরেই ফাঁস দেন বেদনার জায়গাটা এখন খানিকটা বুঝি।

পরিতাপের সঙ্গে বলি এখন এই মানুষটাকে নিয়ে লিখে আমি একপ্রকারের অন্যায় করছি, জেনেশুনে। কারণ মানুষটা জীবিতবস্থায় কখনও চাননি তাঁর এই পরিচয় প্রকাশ করা হোক। এমনকি এখন তাঁর সন্তানও চান না তাঁর বাবার কোনও তথ্য আমি শেয়ার করি। কিন্তু আমি জ্ঞাতসারে এই অন্যায়টা করছি...।
যে দেশে শূন্য বয়সের মুক্তিযোদ্ধা, মার গর্ভে থেকেই যুদ্ধ করে এমনকি ১৯৭১ সালে যার বাবার বিয়েও হয়নি (একজন মুক্তিযোদ্ধার বাবার বিয়ে হয়েছে ১৯৭৮ সালে) এরা সবাই এখন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এতো বীর এই দেশ ধারণ করবে কেমন করে…!

সহায়ক সূত্র:
১. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_21.html

Saturday, December 9, 2017

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে...।

সৌদি নাগরিক মহতরমা সোফিয়া আমাদের দেশে তশরিফ এনেছেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলুম তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু না, আমার ধারণা ভুল।

এনবিআর চেয়ারম্যান নিজের গাঁটের পয়সা(!) খরচ করে (কেউ কেউ বলছেন টাকার অংকটা কোটির কাছাকাছি আমি সেই কুতর্কে গেলাম না) দেশের অধিকাংশ চালু দৈনিকে ঢাউস আকারের বিজ্ঞাপন দেয়ার ফলে আমার এই ভুল ভেঙ্গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মহোদয়কে দিলখোলা ধন্যবাদ জানাই।

তাঁর বিজ্ঞাপনের কল্যাণে আমরা জানলাম: ‘সৌদি নাগরিক মহতরমা সোফিয়া লাগেজে করে এসেছেন বলে মহতরমার ইমিগ্রেশন লাগেনি এমনকি পাসপোর্ট-ভিসাও’!
এই ব্যবস্থাটাই যদি উন্নত দেশ চালু করে তাহলে মন্দ হয় না কারণ তাহলে আমরা ইয়া বড় একটা লাগেজে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় হেথায় চলে গেলুম আর কী। তিন উল্লাস! 
যমুনা টেলিভিশনে মহতরমা সোফিয়ার একটা সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। ওখানে উপস্থাপক জিজ্ঞেস করলেন: সোফিয়ার পছন্দের রঙ কি? মহতরমা সোফিয়া এর উত্তর দিতে পারেননি কারণ তার ‘দম্পিউটার’(!) ওরফে মেমরিতে এই তথ্য যোগ করা হয়নি।
আমার ধারণা মহতরমা সোফিয়ার মেমরিতে ‘ইয়ে’ (আমি এই ‘ইয়ে’ ওরফে চুতিয়া শব্দটা লিখতে চাই না। কারণ আজকাল পোলাপানরা অবলীলায় এটা লিখে আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়। ‘ইয়ে’ শব্দটা লিখে এর সঙ্গে যোগ করে দেয় ‘কপিরাইট আলী মাহমেদ’। মরণ! ) ইনপুট দিলে সে চোখ টিপে এটাও বলে দেবে।
(গুগলের স্ক্রিণশট)
নর্তিত মিডিয়া মহতরমা সোফিয়াকে নিয়ে যে নাচানাচি করছে তা ভারী আনন্দদায়ক! ইলেকট্রনিক মিডিয়া মহতরমা সোফিয়াকে জিজ্ঞেস করছে, ‘তুমি কি জানো, বাংলাদেশের অনেক ছেলে তোমার প্রতি ‘ক্রাশ’ খেয়ে বসে আছে। আচ্ছা, এমকি কি সম্ভাবনা আছে যে তুমি এদের মাঝ থেকে কাউকে জীবনসঙ্গি বেছে নেবে’?

‘ইয়ে’, ইয়ের মিডিয়া বলে কথা…!

Thursday, November 30, 2017

কাল-নটেশ কালবৈশাখী এক লেখক!

ব্রাত্য রাইসু নামের এক কাল-নটেশ কালবৈশাখী লেখক, যাকে কবি-কোবির বলয়ে আটকে রাখার দুঃসাহস না-করাই শ্রেয়। যেমন ধরুন, 'দোরা কাউয়া পেয়ারা গাছে', রাইসুর এই রচনাটা। এটাকে কি বলা যাবে? গোয়ানিজ শিশুর চোখ দিয়ে দেখলে অবলীলায় এটা ছররা থেকে ছড়া হয়ে উঠে। আবার এটাই কবির খদ্দরের চাদরের ফাঁক গলে হুঁকোর জল গড়িয়ে হুক্কাহুয়া রবে প্রসব হয় জলজ্যান্ত কিলবিলে দুঁদে আস্ত এক কবিতায়।

দেখো দিকি কান্ড, ‘ডাকদর’ মাহফুজুর রহমান যখন এই রচনাটা গুনগুন করেন তখন এটা আবার হয়ে উঠে অসাধারণ একটা গান। সেই গানে ধরাশায়ী হয় অজস্র প্রাণ। আবার ধরুন, আগাম জানিয়ে রাখি ধরাধরি পর্বটার বেশ খানিকটা বাহুল্যই থাকবে। তো, ধরুন এই রচনাটাই আবার 'ছাল ওঠা কুত্তা বাঘা তার নাম'-কেও ছাড়িয়ে গজিয়ে উঠবে ‘কা-কা-ই ডো’ এক উপন্যাসে। এই রচনাটাই শতবার পাঠ করলে ওটা হয়ে উঠবে কালের ছাল ছড়ানো দগদগে আস্ত এক উপন্যাস, 'কেন্ডাসট্যাং'। কালে-কালে উপন্যাস থেকে হাজারবার পাঠে এক মহাকাব্য।

আমি মানসনেত্রে দেখতে পাই হোমার এই লেখাটা পেলে হুম-হাম আওয়াজ তুলে লোফালুফি খেলে-খেলে ক্লান্ত হয়ে ‘কুতকুত’ না-খেলে 'হুদহুদ' খেলতেন। বানভট্ট একচোখে জল একচোখে পানি নিয়ে সজল চোখে পানি-জলের বান বইয়ে দিতেন। বেচারার কপাল না-ভিজে কপোল ভিজে যেত কারণ তাঁর ঠ্যাং বাঁধা আছে কলাগাছে!
তাঁদের বুকের ভেতর থেকে অদেখা এক বেদনা পাক খেয়ে উঠত, আহা-আহা, আমরাও পেয়ারাগাছ ওরফে একটা 'গয়ামগাছ' পেলুম না ক্যান রে-এ? আহারে-আহারে, গয়াম গাছের সঙ্গে গ… মারামারি করলুম না কেন রে-এ-এ? ওরে-ওরে, জীবনগাছটা এতো ছোটগাছ কেন রে-এ-এ-এ!
আসলে রাইসুর মত এই ধরনের 'ল্যাকক' ওরফে লেখকের জন্মদিন-মৃত্যুদিন বলে আলাদা করে কিছু নেই…।

ব্রাত্য রাইসুর 'অমড়' সৃষ্টি।

*  ইমেজ আকারে কবিতা ঋণ: ব্রাত্য রাইসু
...
০৫.০৩.২০২২
'বুদ্ধা রইস' মানে বুদ্ধিজীবী রাইসু একটা 'এসটাটাস' প্রসব করেছেন, হালে:
কিন্তু আজকালকার পোলাপানরা মানি লুকের মান রাখতে জানে না। সুকান্ত ধর পাপ্পুর এহেন কর্মকান্ডে নিন্দা জানাই :)
 
 

Sunday, November 19, 2017

দেশপ্রেম এবং 'ভোটঘুম'!

আমাদের দেশে দাদারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করেন এতে ইউনেসকোর গাত্রদাহ হয়। ইউনেসকো পাজি নচ্ছার একটা!
আমাদের দেশেরও অনেকের গা জ্বলে। দাদাদের দোষ ধরে।

দাদারা রেল সুবিধা চান। এই কারণে পাকিস্তান আমলেই আজমপুর নামক স্থানে রেলওয়ে বিপুল জায়গা অধিগ্রহণ করে রেখেছিল কিন্তু দাদারা সেপথ মাড়ান না কারণ এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের এয়ারপোর্ট, শহর।
এখন নতুন করে আবারও অধিগ্রহণ। এতে করে প্রয়োজন ১৫ কিলোমিটার জায়গা। জনগণের বিস্তর খতকিতাবত-পত্র চালাচালি করেও ফল ‘প্রায় একটা লাড্ডু’।
যাই হোক, এই ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার আমাদের দেশে হওয়ার কারণে নষ্ট হবে একরের-পর-একর জমি। এতে অবশ্য খুব একটা সমস্যা নেই আমরা বাসা বাঁধব বঙ্গোপসাগরে। আরও বিলীন হবে আমাদের বুকে জাপটে ধরে রাখা বুড়ো-বুড়িদের হাড়, ঐতিহ্যবাহি স্থাপনা, মন্দির-মসজিদ।
ওদিকে দাদাদের কেবল ৫ কিলোমিটার! এরমধ্যে কেবল ১ কিলোমিটার ধানক্ষেত আর ৪ কিলোমিটার শহরের উপর দিয়ে উড়ালরেল।
একারণেও অনেকের গা জ্বলে। দাদাদের দোষ ধরে।


লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা দিয়ে আমাদের দেশ ভরে যায়। আমরা দুম করে বলি প্রয়োজনে একবেলা খাব। বাহ, বেশ তো!
তো, মিয়ানমারকে রেহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে এবং নাগরিকত্ব দিতে জাতিসংঘে ওআইসির প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার সময় দাদারা পেট ভাসিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন বিধায় ভোট দিতে পারেননি, আফসোস। হায় ঘুম, হায়!
দাদাদের এই ঘুমের কারণেও অনেকের গা জ্বলে। ঘুমকাতুরে দাদাদের দোষ ধরে।

কিন্তু আমি দোষ ধরা দূরে থাক দাদাদের দোষই দেখি না কারণ দেশপ্রেমিক হওয়া দোষের কিছু না।

Tuesday, October 3, 2017

নায়ক নায়িকাগণ।

এই মানুষটাকে নিয়ে পূর্বে যে লেখাটা লিখেছিলাম [১], ‘এই মানুষটাকে নিয়ে বিপদে আছি’। বিপদ তো আর একা আসে না সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে আসে। এই মানুষটা যেখানে বসে থাকত, একনাগাড়ে একে ৩০ ঘন্টাও বসে থাকতে দেখেছি! বসা মানে বসা, নড়চড় নেই- কাউকে বিরক্ত করা নেই।

কিন্তু প্রভাবশালী এক ‘ভদ্দরনোক’ আপত্তি করলেন, আপত্তির ভঙ্গিটা খুবই আপত্তিকর। কিছুই করার নেই, এখন সবই এদের দখলে। যতদিন পর্যন্ত একটা ‘হোম’ না-করতে পারব ততদিন এদের তামাশা দেখা ব্যতীত আমার উপায় নেই। একে এখান থেকে সরাতে হবে, দ্রুত। কিন্তু কোথায়? খুব অস্থির লাগে।
ওহো, চুলবুল পান্ডেদের মুখ চুলচুল করছে বুঝি, আরে বাহে, আফনের ঘরে লয়া যান না। বললেই হয়! বাপুরে, আমিও তো নাগরিক মানুষদের একজন!


যাই হোক, মনে পড়ে আরে, স্কুল ঘরটা তো খালি। ওখানে একে রাখলে কারও কিচ্ছুটি বলার যো নেই। জরাজীর্ণ একটা ঘরে স্কুল। এটার দর্শনে অনেকের হাসি-কাশি মিশে একাকার হয়ে যাবে কিন্তু জরাজীর্ণ একটা ঘরও বিপদে কী কাজে লাগে এটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝি। (রেলওয়ের সম্প্রসারণের কারণে এই ঘরও এখন যায়-যায় অবস্থা)

ক-দিন ধরে এই মানুষটা এখানেই। সমস্যা একটাই, এ ঘরের ভেতরে থাকতে চায় না তবে বারান্দায় হলে সমস্যা নেই। আমরা আর এটা নিয়ে হুজ্জতে গেলাম না। বাপ, তোমার যেভাবে আরাম হয় সেভাবেই থাকো।
বরাবরের মতই অযাচিত সহায়তা করতে যে লোকগুলো এগিয়ে আসে এবারও তাই হল। এরা আমার মত ‘নেকাপড়া’ করা লোক না।
সুমন নামের যে ছেলেটা একে গোসল করিয়েছে গু-মুত পরিষ্কার করেছে, সেলুনে নিয়ে

চুল কাটিয়েছে এটা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস হবে না। ওয়াল্লা, সুমনের সঙ্গে দেখলাম এর ভাল খাতির। এক পর্যায়ে দেখলাম চুকচুক করে চা-ও খাচ্ছে! ভাল-ভাল!


এর ভোলই দেখি পাল্টে গেছে।










আর চা দোকানদারের বউটা, এই মমতাময়ী তো দেখি মমতার ঝাঁপিটা উপুড় করে দেন। এদের পাশে কী ক্ষুদ্রই না মনে হয়, নিজেকে…!

সহায়ক সূত্র: