Search

Tuesday, February 9, 2010

মজা, না মজাক, নাকি মজারু?


কাল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখছিলাম, খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে দেশের বাঘা-বাঘা সম্পাদক সাহেব এসেছেন। তাঁরা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন আবদার, বক্তব্য রাখছেন।

কেউ বলছেন, ম্যাডাম সংসদের চেয়ার আপনাকে ডাকছে। কেউ-বা বলছিলেন, দেশটা আপনারা দু-জন নারী মিলে চালাচ্ছেন আপনাদের দায়িত্ব অনেক। ইত্যাদি ইত্যাদি।

ম্যাডাম সবার কথা শুনছিলেন। ঝিম মেরে রইলেন। প্রশ্নগুলোর ধারে-কাছেও গেলেন না। যথারীতি বিরোধীদলের কুৎসা গাওয়া শুরু করলেন। তখন আর দম ফেললেন না, এক শ্বাসে বলতেই থাকলেন!

আজ দৈনিক পত্রিকায় দেখছি (প্রথম আলো), খালেদা জিয়া বলেছেন, "সময়মতো সংসদে যাব। এখনই সব বললে তো মজা থাকবে না।"
বেশ-বেশ! সংসদে যাওয়া এটা তাহলে মজার কিছু, নাকি মজাক? আর সময়মতো বলতে আপনি কি বলতে চাইছেন? কবে সময় হবে? প্রায় ৩৬৫ দিন তো চলে গেল- নাকি আপনাদের বছর হয় হাজার দিনে?
সংসদে না যাওয়ার কারণ কী! ওয়াল্লা, চেয়ার ইস্যু! সংসদে কি বসতে দিচ্ছে না, দাঁড়িয়ে থাকতে হয়? আমার তো মনে হয় দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও সংসদে যাওয়া প্রয়োজন। এতে অন্তত দেশের আপামর জনতা আপনাদের সঙ্গে থাকত।

খালেদা জিয়া আরও বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমাদের ছেলেমেয়েরা থাকতে পারছে না। ভি.সিকে বলেও কাজ হয় না। তিনি তো দলীয় লোক।"
হাসি থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। দলীয় লোক? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ভিসি দলীয় লোক ছিলেন না? এ-ও এই দেশের দূর্ভাগ্য শিক্ষকরা পর্যন্ত নীল-সাদা-গোলাপি দলের আড়ালে দলবাজি করেন। যখন যে সরকার আসেন সেই সরকারের ভাষায় কথা বলা শুরু করেন- মেরুদন্ড হয়ে যায় জেলির মত। পিতাসম শিক্ষকদের কেন কোন দলের চামচা হতে হবে এটা আমার বোধগম্য হয় না! এই দেশে দলবাজি ব্যতীত কোথাও দাঁড়াবার জায়গা নাই।

এই দেশের সব কিছুই অন্য রকম। দেশটা চালাচ্ছেন দু-জন নারী, ঘুরেফিরে! জামাতের মতো কট্টর একটা দলেরও এই নিয়ে উচ্চবাচ্য নাই! দেশের আপামর মোল্লাদের কথাও এখানে চলে আসে।
আজ একটা দৈনিকে দেখলাম, একটা রাস্তায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে রেখেছে, "এই রাস্তা দিয়া মহিলাদের হাঁটা নিষেধ।" এমন একটা দেশের সবগুলো চাকা বনবন করে ঘোরাচ্ছেন দু-জন মহিলা, ভাবা যায়?

আমার ছোট্ট একটা প্রশ্ন ছিল, এই যে আপনারা সংসদে যাচ্ছেন না আপনারা কি সংসদ সদস্য হিসাবে ভাতা, সুযোগ-সুবিধাগুলো নেয়া বন্ধ রেখেছেন? সংসদে না গেলে তো এগুলো আপনাদের প্রাপ্য না।
এই দেশের রাজনীতিবিদদের দেশের জন্য কেমন মায়া এটার খানিকটা নমুনা পাওয়া যাবে এখানে। স্রেফ অপচয়! আমাদের ভিক্ষা না করে উপায় কী!

*ছবি স্বত্ব: সংরক্ষিত

The Game of Light and Darkness.



The grass always looks greener on the other side of the fence. After reading my post some of you may think very highly of me. But for your kind information, this is a wrong way of thinking. I am not that generous.
The child is not getting a good living standard in my dwelling. He is an anomaly (mentally disabled). It is very hard to communicate with this child because he does not speak, by judging the expressing of his face we can tell when he is having a hard time to deal with something. This is not possible for us to spend a fair amount of time to take care of him. Today in the morning I figured that his teeth were bleeding but he did not weep at all. He had no idea how he got hurt.
From his attitude we can sense that he was lost from his family and he was forced to work as a beggar for some period of time of his life. He lives in a world that is messed up. Now his interference in our life is messing up our world.
He has the problem of uncontrolled bowel movement. He gets dirty with feces and wet cloths in the middle of the night. Somebody needs to wake up and clean him frequently at night. He makes himself dirtier by playing with his feces whenever he gets a chance. How long can we keep this up?
The greatest challenge to us is we do not have proper training to look after this mentally disabled child. All we have is some feeling of compassion which is of no use. He requires an individual place to live, constant caregiver assistant. This is beyond our financial capability to make such arrangement.
This child is spoiling our happy time. The worst thing is he is exposing us into moral vulnerability! He wants me to confront the inner beast within me. What if I give up the inner struggle and the beast shows up? The world will turn upside down! Will I be conspired to leave him in the railway-station?
At this moral point every good hearted people in the world would strongly disagree to do this, they would scream and say, I can never do that!
But I confess that I am not that great, I do not know anything about this game of uncertainty. We admire the light, the good part of life but we deliberately choose to ignore the dark part of this life.
*Isn’t that a nice photograph? You might think that the child has been covered in a cozy blanket. Just to let you know that it is an old rejected jacket. I was considering throwing it out!
(Once somebody accused me of being a 'Prothom Alo' hater. The reason for his blaming was my couple of posts where I criticized this newspaper. Not that I am particularly a big attacker of this newspaper. For various reasons my family subscribes this newspaper. I personally think their feature page 'Naksha' is a horrible thing to read, but to my surprise it provides life giving pleasure to other member of my family.
This is not a cheap newspaper; I have to pay 800 paisa every single day to buy it but it barely meets my expectations. Why on earth I have to allow all those crap that are being published in this newspaper? As I have no choice but to subscribe and read this newspaper, my eyes cannot ignore the inconsistencies of their published news and writings. Sometimes it is hard for me tolerate their unfairness.
Today there is an article written by Shumona Sharmeen named khide pete ghum’ published in the section chutir dine’ which is very heart touching. A previously published picture has been attached to this article where a child is sleeping on the ground. As far as I know, Shumona Sharmeen is one of the top positioned officials of Prothom Alo. She has written in a touchy tone.
I do not mean to give any detrimental opinion about her emotional writing. But it would be difficult for the common readers not to have any deep emotional response towards this article. After reading this, they will be quiet convinced that this newspaper cares about people’s well being and every single page of this newspaper contains enough miserable stories about life to touch readers heart!
I wrote about this four years old child before. I requested a local representative of Prothom Alo to publish news about this missing child. Even though every other newspaper did that but Prothom Alo did not pay attention to my request. I do not put blame on that local representative, he has limited authority. He did send the news to main office but it was no value to them.
I did not get very disappointed because it was an expected response from them. How can they provide some space in the page of the newspaper for a least significant child in the society?
They would rather publish the news about what color of sharee’ the leader wears. The wedding news of bang babaji’ comes to the front page; where else can they accommodate a missing child’s news? It is all about making money, nothing else matters! But when I read about pathetic article ‘khide pete ghum’, I felt sick in my stomach and wanted to throw up just for a relief. What a naked hypocrisy!) Original post
**English translation by: Tithi, Canada**

Monday, February 8, 2010

জাস্টিস ডিলে...

৩১ জানুয়ারী ছিল আমার জন্মদিন। দুঃখের এই দিনটা (বাবা-মার আনন্দের ফসল নিরানন্দ-আসফল, আমি) আমি নিজের মত করে কাটাই। কেমন করে? বিস্তারিত বলে পাগলের কুখ্যাতি আর বাড়াই না!
সকাল থেকেই মেজাজ তিরিক্ষি। দিনটাই মাটি! আজই মামলার তারিখ, মামলার তদ্বিরে আজ কোর্টে ছুটতে হবে। কপাল, বেছে বেছে আজকের দিনটাই!

এই দুর্দশাটা অবশ্য আমি নিজেই ডেকে নিয়ে এসেছি। একটা বহুজাতিক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিলাম। তা প্রায় বছর দেড়েক হলো। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী হত্যা মামলার রায় পেতে ৩৪ বছর অপেক্ষা করতে হয় সেই দেশে আমার মত অগাবগার মামলার রায়, কবে নাগাদ এর সুরাহা হবে কে জানে! মানুষ তো আর কচ্ছপ না, দেড়-দুশো বছর অনায়াসে বাঁচবে। দুষ্টদের এটাই শক্তি- মামলা করলে আমার ইয়ে হবে। কেউ এ বিষয়ে গা করছে না,
বিচিত্র দেশ!

এমনটা হবে জানতাম না এমন না, জানতাম। আমার বইয়ের সৃষ্ট চরিত্র জানে, "একটি বেড়ালের জন্য গাভী হারানোর নাম হচ্ছে মামলা" আর আমি জানব না; তা কী হয়? তারপরও আমি কেন এমন বোকামি করলাম? কারও কথা শুনিনি কারণ কেবল বিপুল টাকার ক্ষতিপূরনই না, এটা ছিল মর্যাদা, ন্যায়েরও একটা দিক।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অন্য দেশে এসে দেশটাকে তাদের তালুক মনে করে। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ঈশ্বরগোছের মনোভাব থেকে এখনও এরা বের হতে পারেনি। এদের জন্য একটা ম্যাসেজ দেয়া প্রয়োজন ছিল, নিজের দেশে ল্যাংটা হয়ে হাঁটো বলেই অন্য দেশে গিয়ে ইচ্ছা হলেই 'নাংগাপাংগা' হয়ে যাওয়া যায় না।

আমি যখন এদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ল-অফিসারের কাছে গেলাম তখনও অনেক যন্ত্রণা করতে হয়েছে। জুনিয়র এই ল-অফিসার আমাকে বয়স বা যেকোন কারণে খানিকটা সমীহ করেন বলেই মিনমিন করে বলেছিলেন, ইয়ে, ভাই, এই মামলাটা না করলে হয় না?
আমি বলেছিলাম, কেন?
এরা হচ্ছে ডায়নোসর, আপনি এদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবেন না। ডায়নোসরের বিরুদ্ধে গুলতি। আপনি গুলতি নিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করছেন, এটা একটা অসম যুদ্ধ!
আমি অবাক, কেমন?
তিনি বললেন, এরা হাজার-হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স দেয় বিষয়টা আপনি বুঝতে চাইছেন না কেন! সরকার এরা উঠায়, নামায়। গোটা দেশটাই তো এদের...(আর বিস্তারিত এখানে বলা যাবে না)।
আমি মেজাজ খারাপ করে বললাম, সো? ট্যাক্স তো আমরাইও দেই। প্রত্যক্ষ ট্যাক্স বাদ দিলেও আমরা যে কনডম কিনি পরোক্ষ ট্যাক্স তো আমাদেরকেও দিতে হয়। তা অসুবিধা কোথায়? আর সরকার কার কাছ থেকে কত টাকা ট্যাক্স পায় তাতে আমার কাজ কী! তাছাড়া আমি ন্যায় চাচ্ছি কোর্টের কাছে, সরকারের কাছে না। আর এটা কেমন কথা, এই দেশে কি দাঁড়াবার কোন জায়গা থাকবে না?

এই ভদ্রলোকের আগে থেকেই অনেকখানি ধারণা ছিল আমার মাথা
খানিকটা এলোমেলো। তিনি আর কথা বাড়ালেন না। এই পরামর্শ দিয়ে বিদায় দিলেন, যেহেতু আপনি জায়ান্ট একটা কোম্পানির বিরুদ্ধে লাগতে যাচ্ছেন, ভালো হবে খুব সিনিয়র একজন ল-অফিসারের কাছ থেকে এই মামলার আর্জিটা লেখালে।
পরামর্শটা আমার মনে ধরল।

এরপর তারিখের পর তারিখ, লাটিমের মত ঘুরপাক খাওয়া। বহুজাতিক কোম্পানিটি বিচিত্র সব অজুহাতে মামলাটা পিছিয়ে দিতে লাগল।
এরা আমার মুখোমুখি হতে চাচ্ছিল না কেন? একেকবার একেক অজুহাত-চালবাজি। একবার একটা সময় চাইল কোর্টের কাছে, এদের এম.ডি নাকি দেশে নাই। হা হা হা, এম.ডি দেশে না থাকার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক! অনেকটা এমন, দেশে প্রধানমন্ত্রী নাই বিধায় একজন বয়স্ক ভাতা উঠাতে পারছে না!
এদের কাতরতা, হাস্যস্পদ কান্ড, নীচতা দেখে মজাই লাগত। আমার দুঃসহ সময়ে এও কম অর্জন না, ঈশ্বরগোছের মানুষদের আমার মত অভাজনকে কেয়ার করার প্রয়োজন পড়ছে! আহারে, কেবল টাকা-পয়সা দিয়ে মানুষ কী করে?

যাক, যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম। ঠান্ডা মাথায় একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার ৮ বছরের সন্তানকে আজ সাথে নিলাম। ল-অফিসার, মুহুরি, পেশকার এদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম।
আমি বিমলানন্দে বললাম, আমার ছাওয়াল। একে সব দেখিয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে আসলাম। যে গতিতে মামলা চলছে আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারব এমনটা ভরসা করি না। আমার পরে এই সামলাবে।

মানুষগুলো হাঁ! এঁদের ভাব দেখে মনে হচ্ছিল, এরা সম্ভবত আগে এমন পাগলের পাল্লায় পড়েননি। এই মামলার উকিল অনেক সিনিয়র, তিনি চিড়বিড় করে উঠেননি বলে বাচোঁয়া। ক্ষেপে গিয়ে দুম করে বলে বসলে সমস্যা হয়ে যেত, এইটা পাগলা গারদ না, যান মিয়া, আপনের মামলাই আর করুম না। ভাগেন।
এই ল অফিসার-উকিল মানুষটা অন্য সব উকিলের মতই কিন্ত বিশেষ একটা কারণে মানুষটাকে আমি শ্রদ্ধা করি। এতো বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে সাহস করছিল না, তিনি করেছেন।

যাই হোক, আমি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার সন্তানকে সব দেখালাম। ওই যে ব্যাটা দেখছ উঁচু জায়গায় চেয়ারটা ওখানে জজ সাহেব বসে ন্যায় করেন। সে হয়তো খানিকটা বুঝল খানিকটা বুঝল না, তাতে কিছুই যায় আসে না।
হায় ন্যায়-হায় সময়! সময় হচ্ছে গড়িয়ে যাওয়া পানি- হয়তো একদা আমি ন্যায় পাব, কী লাভ? আমার অসহ্য কষ্টগুলো কোর্ট ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কখনই না।

তবুও...। আমরা যেখানে শেষ করব পরবর্তী প্রজন্ম সেখান থেকে শুরু করবে। কতটা সময় গেল তাতে কী আসে যায়।

Sunday, February 7, 2010

আনিসুল হক: একজন আদর্শ সাহিত্যিক!

কেউ কেউ নায়ক থেকে মহা-নায়কে রূপান্তরিত হন। সবাই পারেন না, কেউ কেউ- যারা অসম্ভব বুদ্ধিমান। এরা তাদের বুদ্ধির খেলায় সবাইকে মাত করে দেন।
শিল্প-সাহিত্য ভুবনটাকে আমাদের কাছে দূর থেকে কী মোহনীয়ই না মনে হয়, না? আমরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। এই ভুবনের মানুষগুলোকে অন্য ভুবনের মানুষ মনে হয়। হাতের আঙ্গুল থাকে পাঁচটার স্থলে ছ-টা! এরা যখন আকাশপানে তাকিয়ে পা ফাঁক করে এলোমেলো হাঁটেন, এই দেখাও সুখ!
কিন্তু আমাদের দেশটা বড়ো বিচিত্র এখানে সব উল্টা- ভূতের পার মতো। যা না হওয়ার তাই হয়, যা হওয়ার তা মাথা কুটে মরলেও হয় না।
কার কথা এটা? একটা বই থেকে মেরে দিলে নকল হয় কিন্তু অনেকগুলো বই থেকে মারলে গবেষণা!

হুমায়ূন আহমেদের মত লেখক যখন চৌর্যবৃত্তি শেখান [], অন্যদের না শিখে উপায় কী! তাঁর যে বই বেরই হয়নি সেই বইয়ের বিজ্ঞাপন গেল প্রথম আলোতে, 'প্রথম মুদ্রণ শেষ'!
কী তামশা!
শত-শত ছোকরা-ছোকরিদের হলুদ কাপড় পরিয়ে যখন মেলায় তুলকালাম করে লোকজনকে বিরক্ত করেন তখন মানুষটার কি বিন্দুমাত্র লাজ হয় না? দৃষ্টি আকর্ষন করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয় তাহলে হাফ-প্যান্ট ফারুকীর স্টাইল অনুকরন করলেই হয়। তবে সবচেয়ে সহজ হচ্ছে 'নাংগাপাংগা' হয়ে যাওয়া। নাম দিলেই হবে, 'নাংগা হিমু'। মেলায় এলা নাংগা হিমু!
মুক্তিযুদ্ধের বই প্রকাশের দিন কাঁদতে কাঁদতে তাঁর প্যাটলুন ভিজে যায়। কী কান্না-কী কান্না! কিন্তু বইয়ের দাম রাখেন 'আকাশজোড়া', আকাশছোঁয়া!

হানিফ সংকেত, অসম্ভব প্রতিভাবান এই মানুষটি চৌর্যবৃত্তিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এটা কিন্তু চাট্টিখানি কথা না। পরের প্রজন্মকে চোর বানাবার পেছনে তাঁর অবদানের শেষ নাই! এদের দেখে দেখে পরবর্তী প্রজন্ম শিখেছে।

আনিসুল হক। লেখালেখি জগতের এই মানুষটির অবদানও অপরিসীম। কেমন করে লেখালেখি নামের এই শুভ্র ভুবনকে নিয়ে খেলা করা যায় এটা ভালই দেখিয়েছেন। এটা যে কী জটিল একটা কাজ এটার খানিকটা ধারণা করা যাবে এখানে (বিজ্ঞাপনতরঙ্গ-লেখকরঙ্গ

এবারের বইমেলায় এই বিজ্ঞাপনটা দেখলেও খানিকটা আঁচ করা যাবে। প্রথম আলোর ছুটির দিনে (এটা আবার এই পত্রিকায় সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকা স্যারদের জন্য রিজার্ভ থাকে যার চালু নাম বেতনভুক্ত। সাধারণ প্রকাশকদের এখানে বিজ্ঞাপন দেয়ার কোন সুযোগ নাই) আনিসুল হকের প্রকাশিত বইয়ের এই বিজ্ঞাপনটা দিয়েছেন ৯জন প্রকাশক!
ভাবুন দিকি, এই একটা বিজ্ঞাপনটা দিতে গিয়ে ৯ জন প্রকাশকের কত্তো কত্তো কালঘাম বেরিয়েছে। মেডিকেল সায়েন্স মতে পেশাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। আরে বাওয়া, পেশাব থাকবে কোত্থেকে, পানি সব ঘাম আকারে বেরিয়ে গেছে না?

পোস্টের সঙ্গে ছবিটা দেখে বিজ্ঞাপন জটিলতা যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ কিন্তু না। ৯জন প্রকাশক মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তারা কোথায়, কিরূপে, কেমনে বিজ্ঞাপন দিবেন। টস করেছেন। সিনিয়র, জুনিয়র নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক ভেরেন্ডা, ভুট্টা ভেজে তারা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একযোগে প্রথম আলোতেই (এর জন্য
যথারীতি ৯ জনের মধ্যে অনেক মিটিং-মেটিং, চিঠি, ফোনালাপ, মেইল, চালাচালি হয়েছে) বিজ্ঞাপন দেবেন। অন্য কোন পত্রিকায় এই ৯জনের কেউ-ই বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী নন।  এবং আনিসুল হকের গালে হাত দেয়া এই ছবিটাই দেবেন। অন্য জায়গায় হাত দেয়া ছবি দেবেন না।

বা এমনও হতে পারে ৯জন প্রকাশক মিলে আনিসুল হকের বিজ্ঞাপনের জন্য টেন্ডার দিয়ে ছিলেন এবং সেই টেন্ডার ড্রপ করার বাকস রাখা হয়েছিল প্রথম আলো অফিসে। অনুমান করা যায়, এই টেন্ডার নিয়ে টেন্ডারবাজি হয়নি কারণ প্রথম আলো অফিসে গিয়ে কেউ হুজ্জত করার সাহস পায়নি। ৯জন প্রকাশক রাতের-পর-রাত পার করেছেন প্রথম আলো অফিসে, কখনও গোল-টেবিলে পশ্চাদদেশ রেখে, কখনও চারকোনা টেবিলে। তর্কতর্কি বেঁধে গেলে লটারি হয়েছে। 
জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে থাকা মতিউর রহমানকে তড়িঘড়ি করে আসতে হয়েছে লটারির বাকসে ঘুটা দেয়ার জন্য। সে এক দক্ষযজ্ঞ- শিবের অনুচররাও সতীর শব কাঁধে এমন প্রলয়-নৃত্য করতে পারেননি!
আচ্ছা, এই ছবিটার ভঙ্গি কি গালে হাত দেয়া (লেখকদের গালে হাত দিয়ে ছবি উঠানোরও নিয়ম আছে) নাকি নববধুর লাজুকতায় মোটা 'বরালগ্রীবা' (মেয়েদের বেলায় মরাল গ্রীবা হয়, ছেলেদের মরাল গ্রীবা হওয়ার নিয়ম নাই। আপাতত আমরা 'বরাল-গ্রীবা' দিয়েই কাজ চালাই) বাঁকিয়ে দাঁতে নখ কামড়ানোর ভঙ্গি করা। আফসোস, সাথে গলায় চাদর টাইপের ওড়নাটা (লেখকদের গলায় চাদর থাকার নিয়ম আছে) থাকলে ভালো হতো।

এই যে 'বিজ্ঞাপন খেলা' এই মানুষটার দেখাদেখি পরবর্তীতে অনেক লেখকই এই কান্ডটা শুরু করেছিলেন; প্রণব ভট্ট (ঘুষের বড়ো একটা অংশ তিনি বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ করতেন), মোহিত কামাল, মোস্তফা কামাল, সুমন্ত আসলাম। এই লাইন অনেক লম্বা! এদের বিজ্ঞাপনের বহর দেখে মনে হয় লেখালেখির দন্ডটা এরাই ধরে রেখেছেন!  দেশে আর কোনও লেখক নাই!
সরদার ফজলুল করিম, আবুল ফজল, রশীদ করীম এঁদের বইয়ের বিজ্ঞাপন দূরের কথা বইয়ের রিপ্রিন্টই আর হয় না! এই প্রজন্ম এদের চেনার চেষ্টা করছে না। 
ইমদাদুল হক মিলনের মত লেখকের 'ভা' মানে ভালবাসা দিয়ে দিয়ে শুরু বইয়ে মেলা ছাপাছাপি! হায় লেখক-হায় লেখালেখি! এই মেলা উদ্বোধন করানো হয় সরকার প্রধানকে দিয়ে এখান থেকেই এর পচন শুরু, শব পচে এখন বিকট গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এই যে বিজ্ঞাপনতরঙ্গ, বলতে গেলে আনিসুল হক এই আইডিয়া-চালবাজির পথপ্রদর্শক না-হলেও এটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। প্রথম আলো নামের পত্রিকাকে কত উপায়েই না ব্যবহার করেছেন। প্রথম আলোয় কোন-না-কোন উপায়ে তাঁর বই-নাটকের কথা আসা চাই। হোক সেটা কোন একটা চরিত্রের মুখ দিয়ে। বা পরিচালকের নাকের নীচে যে ছিদ্রটা থাকে যার চালু নাম মুখ ওটা দিয়ে।
সম্পাদকীয় পাতায় ১০১ লাইনের কবিতা ছাপানো আনিসুল হকের পক্ষেই সম্ভব। এ এক অভাবনীয়! তখন সম্ভবত এই পোড়া দেশের সমস্ত কবি হিমালয় পর্বতে বাথরুম সারতে গিয়েছিলেন। যাদের বাথরুম পর্ব আগেভাগে শেষ হয়েছিল তারা ফিরেই কুহতুর পর্বতে জিকির করতে চলে গিয়েছিলেন! গুরু তোমায় সালাম।

তো, আমার কথা হচ্ছে, আনিসুল হকের এতো লাজুকতা-চোট্টামির আবশ্যকতা কী? হাত থেকে দাঁত নামিয়ে অথবা দাঁত থেকে হাত নামিয়ে সাফ-সাফ বললেই তো হয়, বিজ্ঞাপন প্রকাশক দেন না, আমি আনিসুল হক দেই। আমি আনিসুল হকই পরবর্তীতে লিখে দেই, তৃতীয় মুদ্রণ শ্যাষ, চতুর্থ মুদ্রণ আসিতেছে। আপনাদের কোন সমস্যা?
না আনিস ভাইয়া, এটা স্বীকার করলে, ম্যান, এতে আপনার লজ্জারও কিছু নেই, আমাদের সমস্যাও নেই। বরং আমরা আপনার সততাকে স্যালুট করব।

*ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ছুটির দিন
...
'আমারও একটি প্রেমকাহিনি আছে' পুস্তকে আনিসুল হকের গল্পের মেয়েটির একটি ছেলেকে দেখে প্রতিক্রিয়া এমন:
"আমার বুক কাঁপছে। পেটের ভেতরে গুড়গুড় করছে...।"
এটা যতবার পড়ি ততবারই আমার নিজেরই পেট গুড়গুড় করার উপক্রম হয় এই ভেবে আমার প্রেমিকা জোলি হোক বা জরিনা ওর কাছ থেকে সহস্র হাত দূরে থাকব। কারণ যে প্রেমিকার পেট গুড়গুড় করে তার আশেপাশে থাকাটা অতি সাহসের কাজ। সলাজে স্বীকার যাই আমার এত সাহস নেই...।

সহায়ক সূত্র:
  1. হুমায়ূন আহমেদের চৌর্যবৃত্তি: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_15.html
  2. ফারুকি স্টাইল: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_11.html
  3. হানিফ সংকেত: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_02.html
  4. বিজ্ঞাপনতরঙ্গ-লেখকরঙ্: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html
  5. ইমদাদুল হক মিলন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_29.html
  6. বইমেলা উদ্বোধন করানো হয়: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_30.html
  7. ১০১ লাইনের কবিতা http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_28.html 

Saturday, February 6, 2010

বিষবৃক্ষ গাছে জয়তুন ফল ধরে না

আনন্দমোহন কলেজে দুঃসহ ঘটনা, সবাই নীরব শিরোনামে যে খবরটা ছাপা হয়েছে এটা পড়ে চোখের জলে নাকের জলে অনেকের আন্ডারওয়্যার ভিজে যেতে পারে কিন্তু আমাকে খুব একটা প্রভাবিত করে না কারণ এই স্বাভাবিক! এমনটা হবে এ তো আর বিচিত্র কিছু না। আমাদের সন্তানদের আমরা যেমনটা করে বড়ো করছি তারা তেমনটা করেই বড়ো হচ্ছে, এর ব্যত্যয় হবে কেন? লাগাব ধুতুরা গাছ এটায় কী আম ধরবে নাকি? প্রকৃতির নিজস্ব একটা নিয়ম আছে না? অন্যথা হলেই রাগ করে, দুর্দান্ত রাগে তার পিঠে সওয়ার তার সন্তানকে ফেলে দেয়। প্রকৃতি নিয়মের বাইরে যেতে পছন্দ করে না, তাঁর অনন্ত ভ্রমনে থামাথামি নাই।

এর আগের পোস্টে আমি বলেছিলাম আমার এক বন্ধু বলছিলেন, এই দেশের লেখকরা এখন পুতিয়ে গেছেন! আসলে কেবল লেখক না এই দেশের বিবেক নামের জিনিসটা এখন জাদুঘরে রাখার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। প্রায়শ বড়ো অসহায় হয়ে পড়ি- দাঁড়াবার কোন জায়গা নাই! কার কাছে যাই, কোথায় যাই?

তো, আমরা অতি আগ্রহে লাগাচ্ছি বিষবৃক্ষ এটায় কী জয়তুন ফল ধরবে এই আশা নিয়ে আছি বুঝি? এই ছেলেগুলো যে কান্ড করেছে এটার জন্য তো এরা দায়ী না, দায়ী আমরা। ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে যখন হত্যা করা হয়,
একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (তিনি আবার মায়ের জাত) তখন বলেন, "...এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা কোন ব্যাপার না। এমনটি ঘটতেই পারে...।"
তো, আনন্দমোহন কলেজেন এই ঘটনাকে খুব বড়ো করে দেখার অবকাশ কই? পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম ফারুক যদি বলেন, "...এ ঘটনার কথা পরে লোকমুখে শুনেছি। ...কেউ কোন অভিযোগ করেনি।" (প্রথম আলো)
যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনটা মনে করেন সেখানে এসপি সাহেবের এ কথায় আমরা অবাক হবো কেন?


আচ্ছা, একটা বিষয় আমার জানার খুব ইচ্ছা, কেউ যদি আমাকে খুন করে ফেলে আর আমার পরিবারের বা অন্য কেউ যদি অভিযোগ না করে তাহলে কী পুলিশ আমার হত্যাকারীকে ধরবে না? এসপি সাহেবের কথা শুনে তো মনে হচ্ছে, ধরবে না। আইনের কিলাশে(!) টর্ট আইন আমার খুব আগ্রহের বিষয় ছিল। যতটুকু মনে আছে, কেবল এই কথা বলার জন্য এসপি সাহেবের বিরুদ্ধে টর্ট আইনে মামলা হতে পারে, একজন প্রাণ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এই আশংকায়।

থাকুক, এইসব আইনের প্যাচাল! আমাদের দেশের বিবেক ওরফে সুশীল সমাজের কথায় আসি। সম্প্রতী ৫জন খুনির ফাঁসি হল। এই নিয়ে কারও দ্বিমতের কিছু নাই- কেউ অন্যায় কররে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু এই ফাঁসিকে উপলক্ষ করে আমরা যে অন্ধকারের খেলা দেখলাম এটার সঙ্গে কেবল তুলনা চলে হটেনট জাতির সঙ্গে। আমাদের দেশের বিভিন্ন টাইপের মিডিয়া যেটা করেছে এরা ক্রমশ আমাদের ভেতরের পশুটাকে বার করে নিয়ে আসছে। এই জাতি আজীবন এদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে- কারণ আমরা চাই জঙ্গলের আইন, ফিরে যেতে চাই অন্ধকারে।

যে লোকজন লাশের গায়ে থুথু ফেলেছে এদের খুব একটা দোষ দেয়ার কিছু নাই
মন্ত্রীগোছের লোকজন যখন টক-শোতে এই কাজটাকে বাহবা দেন, তাহলে এদের দোষ দেব কেন? আমাদের দেশের লেখালেখি জগতের লোকজন নীরব। কাউকে দেখলাম না এই নিয়ে টুঁ-শব্দ করতে। ৫ খুনির একজন, আর্টিলারী মহিউদ্দিন ফাঁসি দেয়ার সময় অসুস্থ ছিলেন অনেক সূত্র থেকে এটা জানা গেছে। তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনকেও বলেছিলেন, "আমি অসুস্থ, আমাকে এখনই ফাঁসি দিবে না।" এই বক্তব্যটা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে শুনেছি।
জেলকোড অনুযায়ী একজন অসুস্থ মানুষকে কি ফাঁসি দেয়া যায়? কই, কাউকে দেখলাম না এই নিয়ে প্রশ্ন করতে! আমার একজন বন্ধু আরেকটা চমৎকার কথা বলেছেন, আমেরিকায় যেমন ১/ ১১ নিয়ে কোন কথা চলে না তেমনি আমাদের দেশে এদের নিয়ে। এরা পিতৃভূমি নিয়ে, আমরা মাতৃভূমি নিয়ে কস্তাকস্তি করছি।
প্রকারান্তরে আমরা যে এদের মত হয়ে যাচ্ছি এই খোঁজে আমাদের কাজ কী! অন্যকে নগ্ন করতে গিয়ে নিজে দিগম্বর হলে দোষ নাই?

আমার কাছের লোকজন এখন আমাকে নিয়ে সত্রাসে থাকেন (ইতিমধ্যে তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কিছু ঘটনা ঘটেছে)। এদের সাফ কথা, আমি যেন এইসব আগুনসম বিষয় নিয়ে লেখালেখি না করি। সবার পেছনে কেউ-না-কেউ, কোন-না-কোন দল আছে, আমার পেছনে কে আছে। যেখানে দেশের শক্তিশালি লেখকদের এই নিয়ে বিকার নাই সেখানে আমার মত ৩ টাকা দামের কলমবাজের এইসব নিয়ে মাতামাতি করার প্রয়োজন কি। এদের কেমন করে বোঝাই একজন মানুষ একবারই মারা যায়- কেউ বিছানায়, কেউ ব্যাটলফীল্ডে। বিচিহারা এবং মাতৃহারা- এদের মত অভাগা আর কেউ নাই!

এঁদের এ কেমন কথা, আমি কী তাহলে এখন থেকে সিনেমার বিজ্ঞাপন লিখব? হা ভাই, আসিতেছে...।
আজিব, যা সত্য তা নিয়ে লিখতে পারব না? বিচিত্র এ দেশ- বিচিত্রসব কান্ড! এখানে হাজার-হাজার রাজনৈতিক মামলার দোহাই দিয়ে কতশত চোর-চোট্টা পার পেয়ে যাচ্ছে অথচ আমাদের দেশের সোনার শ্যূটার আসিফের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা যাচ্ছে না। এই বেচারা অনুশীলন করবে নাকি কোর্টে হাজিরা দেবে? সত্যিই এমন বিচিত্র দেশের দেখা মেলা ভার!

আমি বলছি না ওই খুনিদের শাস্তি দেয়া না হোক। অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে কারণ ৩৮ বছর কেন ৩৮০ বছর পরও রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু লাশের গায়ে থুথু, জুতা মেরে? একজন অসুস্থ মানুষকে ফাঁসি দিয়ে? তাহলে কী আমরা এদের পর্যায়ে নেমে আসব? নাকি এদের ছাড়িয়ে যাব? এই প্রজন্ম এইসব দেখে দেখে বড়ো হচ্ছে, বিভিন্ন উপায়ে এদের ভেতরের পশুটাকে আমরা বার করে নিয়ে আসছি। কতো উপায়েই না! এই দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি মায়া এখন সেল কোম্পানিগুলোর, ঘটা করে আমাদের মগজ ধোলাই করছে এরাই। এফ.এম রেডিও শেখায় বিচিত্র ভাষা, ততোধিক বিচিত্র কর্মকান্ড! একজন প্রফেসর বাথরুম উদ্বোধন করেন, শিক্ষকরাও করেন দলবাজী! শেখাচ্ছে মিডিয়া, কেমন করে উঁচুমাপের লোকজনকে অসম্মান করতে হয়। হরতালের নামে একজন অফিসযাত্রীকে উলঙ্গ করে ফেলা যায় আবার টিভির উপস্থাপকও হওয়া যায়। কতোশত উদাহরণ!

এই প্রজন্ম একেকটা চলমান পশু হবে এ আর নতুন কী!

জীবনটাই যখন নিলামে: ২

লোপার মন-খারাপ ভাবটা কাটছে না। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। ভেবে কূল পাচ্ছে না কী করলে অস্থির ভাবটা কাটবে? খানিক্ষণ গান শুনল। ধুত, শ্রীকান্তের ‘মেঘলা আকাশ’ এটা শুনে মনটা আরও বিষণ্ন লাগছে, বুকে হাঁপ ধরে গেছে। এরা যে কেন এমন গান লেখে, গায়। যেটা শুনে মন প্রশান্ত না হয়ে আরও অশান্ত হবে, এর কোন মানে হয়!

আজ বেছে বেছে সব মন খারাপ হওয়ার ব্যাপারগুলো ঘটছে। হাতের নাগালে পড়ার মত কিছু খুঁজে পাচ্ছে না। লোপা কষ্টের শ্বাস ফেলল। ও নিজে বাংলায় মাস্টার্স করেছে, কী শখই না ছিল বই পড়ার। অথচ কী একটা মানুষের পাল্লায় পড়েছে, রাব্বি হচ্ছে একেবারে উল্টোটা!
আজিব একটা মানুষ, ভুলেও যদি একটা বই পড়ে দেখত। লোপা তো প্রথম প্রথম বুঝে উঠতেই পারত না একজন মানুষ কেমন করে বই না পড়ে থাকতে পারে! দু-এক বার জোর করে পড়াবার চেষ্টাও করেছে কিন্তু ৫ মিনিটের মাথায় মানুষটা ভোঁস ভোঁস করে নাক ডাকতে শুরু করেছে। অথচ ওর অফিস সংক্রান্ত মার্কেটিং-এর ঢাউস বইগুলো পড়তে তার কোন সমস্যা নাই। কেবল পড়েই ক্ষান্ত দেয় এমন না। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়বে, লাইন বাই লাইন মার্কার দিয়ে আন্ডার-লাইন করবে, প্রয়োজনীয় নোট নেবে। কখনও খটকা লাগলে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে প্রয়োজনীয় উপাত্ত খুঁজে বের করবে, ওই ঢাউস বইগুলোর মার্জিনে মন্তব্য করবে। এখানেই শেষ না, মার্জিনের মন্তব্যগুলো তার ল্যাপটপে নিয়মিত আপডেট দেবে। ক্ষণে ক্ষণে, জনে জনে ফোন করবে। সে এক দক্ষযজ্ঞ!

লোপা যে বইটা খুলে বসেছে এটায় পড়ায় মন নেই, কেন যেন এগুচ্ছে না। খুঁজে ওর নিজের ডায়েরিটা বের করল। এক সময় চুটিয়ে লিখত। সুমন এবং ওর মধ্যে একটা অলিখিত প্রতিযোগীতা চলত। সুমন অবশ্য ঝুলাঝুলি করত, আপুনি, পত্রিকা অফিসে লেখাটা পাঠিয়ে দেই। লোপা সলাজে আপত্তি করত, ধুর, আমাদের লেখা পত্রিকাওয়ালাদের ছাপাতে বয়েই গেছে। ইশ, সুমনবাবু কী এক লেখক হয়েছেন! একপাতা লিখতে দশটা বানান ভুল করে তার লেখা ছাপাবে পত্রিকা, হি হি হি।

সুমন চোখ লাল করে তাকাত। রাগে চিড়বিড় করে বলত, তুই যা লিখিস এগুলো দিয়ে বাচ্চার ইয়েও কেউ পরিষ্কার করবে না।
লোপা ফি-রোজ নিয়ম করে নিজের কোন লেখা না-লিখলেও লিখে যেত। অন্যদের মত নিজের কথাবার্তা না। যা-সব পড়ত তাই লিখত। কোন লাইন, প্যারা, কবিতা ভাল লেগে গেলে টুকে রাখত। এভাবে ওর কত ডায়েরি যে ভরে গেল! কারও বড় কোন লেখা লিখে রাখতে সমস্যা মনে হলে পাতাটা কেটে রেখে দিত। দেখা যেত ওদের বাসার পত্রিকা, ম্যাগাজিনের অনেক পাতা কাটা।
মা খুব রাগ করতেন কারণ তিনি কাগজগুলো সের দরে বেচে দিতেন। দোকানদারের কাছ থেকে কঠিন অভিযোগ আসত, খালাম্মা, আপনাগো কাগজ লয়া বড়ো দিগদারি, পাতায় পাতায় ঢুলা! ঘটনাটা কি কইনছেন, এইটা তো ইন্দুর কাটে না, বেলেইড দিয়া কাটা। বাইচ্চারে সামলান নাইলে একদিন হাত-হুত কাইটা দরবার লাগাইব।
মার সেকি রাগ। রাগের তোড়ে লোপার পিঠে গুম গুম করে কিল। ইশ, মা কী জোরেই না মারতেন! আবার চোখে জল নিয়ে মন খারাপ করে বলতেন, লোপানি, ব্যথা পাইছস?
হি হি হি। আহা, কীসব দিন! কীসব ভাল লাগা কবিতা! জীবনানন্দ দাশের কবিতাটা পড়ে মনটা আরও খারাপ হলো:
“একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষূর বিছানার কিনারে।”

রত্মেশ্বর হাজরার এটাও কেমন মন উদাস করে দেয়:
“মৃত্যু ও মৃতের অধিকার নিয়ে সে
একবার সভাও ডেকেছিল ময়দানে
যদিও সেই সভায় সে নিজে ছাড়া উপস্থিত ছিল
বাতাস
বিকেল বেলার রোদ
মাঠের নির্জনতা
আর বিস্ময়।”

রনজিৎ দাসের এই কবিতাটা কী অদ্ভুত:
“শুঁয়োপোকাটির সঙ্গে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তারই মত
স্থূল ও মন্থর, ও পাখিদের খাদ্য হয়ে, আত্মবিষসহ
যদি তার মতো কোন অবিশ্বাস্য রূপান্তর পেয়ে যাই শুধু এই লোভে।”

লোপা পাতার পর পাতা উল্টে যাচ্ছে। ক্রমশ মনটা ভালো হয়ে আসছে। দুম করে নিজের অজান্তেই অনেক ক-টা বছর পেছনে চলে গেছে। কত হাবিজাবি প্রসঙ্গই না লিখে রেখেছে! হি হি হি।
লিখে রেখেছে, কী কী করলে একজনকে মহাপাতক বলা যায়? মহাপাতক:
এক, ব্রহ্মহত্যা
দুই, ব্রহ্মস্বাপহরণ
তিন, সুরাপান
চার, গুরুপত্মীহরণ
পাঁচ, মহাপাতকী সংসর্গ
আচ্ছা, ব্রহ্মহত্যা মানে কি? ব্রাক্ষণকে হত্যা করা? ব্রহ্মস্বাপহরণ, এইটারই বা অর্থ কী! সুরাপান বোঝা গেল, মদ্যপান। কিন্তু গুরুপত্মীহরণ, গুরুর পত্মীকে নিয়ে পলায়ন। সর্বনাশ, আগে কী কেউ গুরুর পত্মীকে নিয়ে ভেগে যেত নাকি? ছি-ছি, এ তো বিরাট অন্যায়! কেউ এমনটা ভাবে কেমন করে? শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে...ভাবতেই ওর গা গুলাচ্ছে।
মহাপাতকী সংসর্গ, মহাপাতকীর কাছ থেকে দূরে থাকা- উহুঁ, হবে কাছে থাকা? আচ্ছা, মহাপাতকীর সংজ্ঞা কী? এটার অর্থ এখন কোথায় পাওয়া যাবে? দূর ছাই!

রাব্বিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবে? মনে হয় না ও বলতে পারবে। তারচে বড় কথা, বিরক্ত হবে, চরম বিরক্ত। অফিসে ফোন করা ও একদম পছন্দ করে না। ব্যস্ত থাকলে না ধরলেই হয় তাই বলে অফিসে ফোন করা যাবে না কেন? অফিস কী ওর মাথা কিনে নিয়েছে! একজন চাকরি করলেই অফিস আওয়ারে কয়েক মিনিটের জন্যও তার নিজস্ব সময় থাকবে না? এর মানে কী! লোপা ঠিক করল ও ফোন করবেই, রাব্বি বিরক্ত হলে হবে। দেখা যাক।
অনেকবার রিঙ হওয়ার পর রাব্বি ধরল। কোন এক বিচিত্র কারণে ওর মনটা আজ তরল।
রাব্বির উৎফুল্ল গলা, হ্যালো হানি।
কি বললা?
যা শুনলা।
ফাজলামি করছ নাকি?
দূর-দূর! ফাজলামি করব কেন! কেউ কী বউয়ের সাথে ফাজলামি করে। ফাজলামো করতে হয় অন্য মেয়েদের সাথে।
লোপা বিরক্ত গলায় বলল, শস্তা রসিকতা করবে না। শুনতে ভালো লাগছে না। বস্তি-বস্তি লাগছে।
সত্য কথা বললে দোষ, এটা কি ঠিক?
হ্যা, ঠিক।
আচ্ছা যাও, বলব না। এখন বলো কেন ফোন করেছ। একটু পরে একটা মিটিং আছে।
আচ্ছা, তোমরা কী সারা দিন মিটিং-এর উপরই থাকো। কাজ করো কখন?
আরে, এ বলে কী! কাজ আবার কী! মিটিংই তো কাজ। আমাদের এখানে একটা কথা চালু আছে। কোন কাজ না থাকলে চলো একটা মিটিং ডাকি। আর আমাদের অফিসে একটা মাদারি-বস আছে, বুঝলে। এ কয়বার হাগা করবে এটার জন্যও মিটিং ডেকে বসে থাকে। মিটিং ডেকে সোজা বাথরুমে ঢুকে পড়ে। এ মনে হয় দক্ষিণহস্ত ব্যবহারে পারদর্শী।
মানে?
দক্ষিণহস্ত-। থাক, এটা তোমাকে বলা যাবে না।
কেন বলা যাবে না।
এটা একটা কুৎসিত কথা।
তোমার কুৎসিত কথা বলার প্রয়োজন কী!
ইয়ে, মানে-।
লোপার বিরক্তি বাড়ছে, তোমার মুখে বস্তি-মার্কা কথা শুনতে ভাল লাগে না।
রাব্বি বলল, আচ্ছা বেশ, বলো ফোন করেছো কেন?
তুমি মহাপাতকী কাকে বলে জানো?
আজিব, তুমি মহাপাতকী কাকে বলে এটা জানার জন্য ফোন করেছো?
হুঁ।
না, মহাপাতকী জানি না তবে মহাপাতকের খোঁজ দিতে পারি।
লোপা আগ্রহী গলায় বলল, কেমন?
আমাদের অফিসের সৈয়দ হচ্ছে একজন আপাদমস্তক মহাপাতক। আরে, ওই মাদারিটা আর কী, আমার বস!
আবারও ফাজলামো করছ।
আরে না, সত্যি। এ যদি মহাপাতক না হয় আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গু সাফ করব। টাটকা গু।
রাব্বি, তোমার সাথে কথা বলাই ভুল।
বিশ্বাস করো, আমি বাড়িয়ে বলছি না। অফিসের পিয়নকে দিয়ে সিগারেট আনিয়ে পয়সা দেয় না। শুয়োরটার নাকি মনে থাকে না। কুত্তাটা একদিন করল কি-
রাব্বি, তোমাকে না বলেছি আমার সঙ্গে কুৎসিত কথা বলবে না, বলিনি?
আচ্ছা যাও, বলব না। আচ্ছা শোনো ওই কুত্তাটা একদিন করেছে কি-।
রাব্বি, খবরদার আর একটা ফাজিল কথা বলবে না।
আচ্ছা যাও, বলব না।
আমি কয়েকটা বইয়ের নাম বলে দেই, তুমি কি আসার সময় নিয়ে আসতে পারবে?
পাগল, আমি কোথায়-কোথায় গিয়ে বই খুঁজব। আমাদের অফিসে ঢাউস-ঢাউস প্রচুর বই আছে। চাইলে এগুলো নিয়ে আসতে পারি।
লোপা খানিকটা আগ্রহী হয়ে বলল, কি বই?
এই মার্কেট রিসার্চের উপর বিখ্যাত লেখকদের বই। দাঁড়াও তোমাকে লেখকের নামটা বলি-।

লোপা ফোন রেখে দিল। রাগে ওর শরীর চিড়বিড় করছে। রাব্বির এইসব আচরণ ওর অসহ্য লাগে। মানুষটার মধ্যে সামান্যতম ঔচিত্য বোধ নেই!
লোপা রেখে দেয়া বইটা আবার পড়া শুরু করল, পাতাটা খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়নি। এতক্ষণ চুলের কাটাটা খুঁজে পাচ্ছিল না এখন বইয়ের মাঝে পেল। জমাটি গল্প কিন্তু কেন যেন পড়া এগুচ্ছে না। ওর মনটা বিক্ষিপ্ত এটা একটা কারণ হতে পারে, আবার এ-ও হতে পারে লেখায় ওকে ধরে রাখার ক্ষমতাটা লেখকের নাই।

*জীবনটাই যখন নিলামে: ১

Friday, February 5, 2010

An Ordinary Story


They are two sisters. The elder kid is probably ten years old named Shimu.
Riya
is the younger one, she is three years old. They live in a rail station.

Their life story is somewhat ordinary. Their father, who was a truck driver, left them and married a woman. After a short period of time their mother got married as well and could not look after them anymore. They had an aunt who refused to take the responsibility of Riya, so Shimu was the only person left who could take care of her baby sister Riya and she had been doing this for over a month with utter sincerity. Since then Shimu is everything in Riya’s world.

Yesterday the temperature was 10 degree Celsius here. There is no protection in the station to get rid of the chilly wind gust of winter. I was shivering in cold while wearing whole bunch of warm cloths. But these two little kids were playing with incredible joy completely ignoring the severe cold weather. I could not believe my eyes how enthusiastic and graceful they looked! It’s was pity that I lacked the skill of writing something in a superb way as the great poet and writers do. I wished I had the power to write the great story of these girls!


I have heard that some people were interested in adopting Riya, but Shimu didn’t let it happen. Her stubborn word was, “If the whole world denies her, I am the one who will look after her.” Little Riya shows a great affection to her sister. I was a little skeptical about the child raising ability of ten years old Shimu, it was an insane act to me!


But today my conscience mocked at me. These poor girls had absolutely nothing to eat since morning; finally they had something to eat at one o’clock. My mind got fully absorbed while I was watching them eating. Shimu was feeding her sister almost leaving nothing for her to eat.

My mind could not think any longer, as if I was enchanted. Where did she find this bounty of love? I have learned that level of intense love can only be found in a mother’s heart, but what’s going on here…?

If I had a chance, I would have bend before her to beg for some love. I am desperately in need of that magical love; I swear I would trade anything for that.


According to my religious belief, Mother Teresa is not eligible to enter into heaven even though she is responsible for building shelters for millions of homeless people but I have at least a tiny ray of hope to make a passage way into heaven while I am not doing anything to help these two little girls. Isn’t that amazing!

My powerlessness gives me nothing but a sinking feeling inside me. I feel guilty and unworthy when I face this reality. I wish I could escape from these aliens, in a land far beyond sadness...(Original post)


*English Translation by: Tithi, Canada

Thursday, February 4, 2010

রাতকে দিন করা কেবল মিডিয়ার পক্ষেই সম্ভব

প্রথম আলোর 'সুখী এক বেকার' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, এ গ্রহের চুতিয়া নাম্বার ওয়ান এন্ড টু। টু-টা কে বা কাহারা উল্লেখ করিনি কিন্তু এখন আর সংশয় নাই। প্রথম আলো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে! প্রথম আলোকে অভিনন্দন!

ওই পোস্টে আমি উল্লেখ করেছিলাম, প্রথম আলো
'সুখী এক বেকার' লেখাটার কোন সূত্র উল্লেখ করেনি। আসল লেখাটার শিরোনাম হচ্ছে The Lolly and the Skive-yঅথচ প্রথম আলোর শিরোনাম হচ্ছে 'সুখী এক বেকার'। প্রকারান্তরে প্রথম আলো আমাদেরকে শেখালো, কোন কাজ-কাম না করে আজীবন বসে বসে ছাতা মাথায় দিয়ে ভাতা খেলে কোন সমস্যা নাই; কেবল কষ্ট করে বীর্যপাত করে দিনপাত করা। প্রথম আলোর চোখে এরা একটা সুখী পরিবারের চমৎকার উদাহরণ! বেশ-বেশ, মিডিয়া বলে কথা। ছাপার অক্ষরে আমরা যা পড়ি তাই বিশ্বাস করি।

মিডিয়া বলে কথা! ফাঁসির কল্যাণে এরা আমাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকাটা পশুটাকে বার করে নিয়ে এসেছে! কালের কন্ঠ নামের আরেক চুতিয়া
(এই শব্দটা বাদ দিয়ে পড়বেন) কেমন করে খবর নিয়ে জাগলিং করে এর একটা নমুনা দেই। এরা বোল্ড করে লিখেছে, "তওবায় অনীহা।"
কেঊ এটা পড়লেই একটা ধাক্কার মত খাবেন। কী এরা তওবায় অনীহা দেখিয়েছে, এরা হার্মাদ? অনায়াসেই মানুষগুলোর প্রতি একটা বিতৃষ্ণা চলে আসবে।
ভেতরে
কালের কন্ঠ লিখছে, "পাঁচ বন্দির কেউই তওবা পড়তে রাজি হয়নি। তারা বলেছে, আমরা নিজেরাই তওবা পড়তে পারি। কোনো আনুষ্ঠানিকতার তওবা বা ইমামের প্রয়োজন নাই।"

এটা এমন ঘটা করে লেখার কী হলো এটা আমাদের সুযোগ্য আবেদ খান ভালো বলতে পারবেন- এটা তাঁর এস্টাইল (!) কিনা কে জানে! কেউ তওবা জানলে সে নিজে পড়লে হবে না এমনটা কোথায় লেখা আছে?
কালের কন্ঠ অন্যত্র লিখেছে, "চিৎকার করছিল মহিউদ্দিন আর্টিলারি। তাকে অনেকটা পাঁজাকোলা করেই মঞ্চে আনা হয় (জানা যায়, সে কিছুটা অসুস্থ ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, দেহের এক পাশ কিছুটা প্যারালাইসিস ছিল আর্টিলারি মহিউদ্দিনের। তবে কারা সূত্র এই অসুস্থতার কথা স্বীকার করেনি। মঞ্চে আনার পরও ছটফট করছিল সে। বসে পড়ে পাটাতনের ওপর। সেখানেও চিৎকার করতে থাকে।)"

আমি পাঠকের তো এই খবরে কোন কাজ নাই জল্লাদ কি কালারের অন্ডারওয়্যার পরে রেখেছিলেন? (প্রথম পৃষ্ঠায় ঘটা করে জল্লাদের ছবি ছাপিয়েছে প্রথম আলো)। আমার প্রয়োজন আর্টিলারি মহিউদ্দিন অসুস্থ ছিলেন কি ছিলেন না এটা জানা। মিডিয়া পারলে জানাবে, জানাতে না-পারলে মুখে অথবা তাদের পছন্দসই স্থানে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকবে, সমস্যা তো নাই। দয়া করে জানা যায় বলে দায় সারবেন না।
আর কী ভাষা! করছিল, পাঁজাকোলা, সে, ছিল, পড়ে! এই না হলো পত্রিকার ভাষা! আমাদের বিবেক, আলোর দিশারী!
যায়যায়দিন নামের আরেকটি পত্রিকা চুতিয়াগিরির আরেক ধাপ এগিয়ে। এরা লিখেছে, "তাকে কোলে করে আনা হয় মঞ্চে।"
অ, জাতির বিবেক, বিছানা থেকে আপনাদের পশ্চাদদেশ উত্তোলন করুন, আমাদের মানবতা এই খুনিদের পর্যায়ে নামিয়ে আনবেন না, প্লিজ! জেল কোড ভেঙ্গে তাহলে কি দোষ করেছিলেন স্বৈরাচারি এরশাদ ১৪ বছরের নাবালক বালকেকে ফাঁসি দিয়ে? জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে?
আমাদের দেশের তথাকথিত সুশীলরা আজ কোথায় গো? আমার এক বন্ধু বলছিলেন, আমাদের দেশের লেখকরা পুতিয়ে (এই শব্দটা তিনি তাঁর ভদ্র ভাষায় বলেছেন। সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন, বিচি হারিয়েছেন) গেছেন!

তওবা বিষয়ে প্রথম আলো কি লিখেছে একটু দেখি, "রাত সাড়ে ১১টায় কারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন ফাঁ
সির সেলে যান। খুনিদের সঙ্গে কথা বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। ইমাম পাঁচজনকেই তওবা পড়ান।"

ওয়েল, প্রথম আলোর
'সুখী এক বেকার'-এ ফিরে যাই। মূল লেখা পড়ে আমার মাথায় হাত। প্রথম আলো লিখছে, "বাস্তবে ডন কেইনের অবস্থা একেবারেই উল্টো। সারা দিন স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করে দিব্যি কাটিয়ে দিচ্ছেন।...আবারও মা হতে যাচ্ছেন স্ত্রী শেন কেইন।"প্রথম আলো আরও লিখছে, স্ত্রী শেন কেইন বললেন, "আমার মা হতে খুব ভালো লাগে। এর মধ্যেই ১৪ বাচ্চার মা হয়েছি। ১৫তমটা আসছে।"The Lolly and the Skive-y-এ দেখছি, শেন বা শন কেইন হচ্ছে বাবা! এর মানে কী! প্রথম আলো কি বলতে চাইছে স্বামী-পুরুষ মানে শেন বা শন নামের বাবা ১৪টি বাচ্চা প্রসব করেছে ১৫ নাম্বারটি তার পেটে (আমি ঠিক নিশ্চিত না, পুরুষদের বাচ্চা কী পেটে থাকে নাকি অন্য কোথাও) নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে?
এটা ভালো হলো, যেসব নারী জরায়ু সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হইচই করতেন তাঁরা এখন অনেকটা আরাম বোধ করবেন। অন্তত তসলিমা নাসরিন খুশিতে হাফ-প্যান্ট পরে দাদাদের পত্রিকায় (আনন্দলোক) পোজ না দিয়ে এখন প্রথম আলোতে দেবেন এতে আর কোন সন্দেহ নাই। আজকাল শুনতে পাই মতিউর রহমান সাহেব নাকি ফটো-সাংবাদিকের (!) দায়িত্ব পালন করেন। এমন একটা দুর্লভ ছবি তিনি উঠালে আমার চেয়ে সুখী আর কেউ হবে না।
'সুখী এক ব্যর্থ লেখক'!

Wednesday, February 3, 2010

I CURSE MYSELF

Some day, few things confuse me completely, leave me dumbfounded. It leaves me shaken violently and teach me to see the world with new eyes. Today this question is revolving around my head, 'What is my function then?' Why I am traveling in this planet? I came without my concent, I will leave in the same fashion; and whatever days I will live are also not that different. I am tired of my wrong role play in this drama of life, really tired.

"Holing the railing of this almost ruined bridge each day pass away, clumsily."

I dont get this injustice. Where I live, there are about few hundred thousands of people also live; but why me? Why I am made to face such things?

Mentally handicaped this child of age 4 was roaming around the street. All over his body he caries sign of beating. Due to my identity as a write, people have come forward to request me to make a report to the newspaper as 'lost-child' case. See, they could have easily done this by themselves, there is no connection of my being a writer. By getting hold of few juniors who work with the newspaper, I arranged to report this. But no body showed up for this child!

Now what? Everyone in unambiguous voice is declaring that the child should be again left at the rail station where he was found. What?! Is he a cat or dog that he deserve such treatment!

Some said, if kept, there might be problem related to police! Someone might complaints, and this is not strage that the internal organs of this child has been stolen etc.

This country is really strange! If someone is dying on the street and suffering in a pool of blood, even then no one will come forward out of fear of police. If some brave person take him to hospital, even then the doctor wont come forward with treatment unless the police is informed. Strage, strage!

The police station didnt want to take any responsibility of this child, not even the peoples' representative of the locality. Whats interesting is that the representative have access of social welfare and other ministries. If so many government agencies can not take care of a single child, then whats the point of giving so much tax, I wonder!

Where is emotion in crude reality? To keep this child in my custody is no joke. Today my own house is almost non-existent in storm. When this mentally handicaped (special) child's bowl's movement will be left unattended, then everyone at home will become irritated. When he will tear all my papers for writing spread around, wont I be irritated?

My own circle of people knows me as someone who is heartless. They will never know that everyone cries, some cry in day light, some cries in the dark corner of the bathroom. Yet still, some dont have the ability to cry. They are the most unfortunate in the world.

I can't possibly look into the eyes of the child, his look is so intense! I dont have the power to do that. To make a home for such child, one doesnt need to be a millionaire. If there are about 10-12 thousand taka, one can give shelter to 10/15 of such child easily. I blame myself. People like myself have come with only to consume and to release, nothing else. Today I am very angry at my own shortcomings. I curse myself, today.

Dont I want to become like other people, indifferent! I am waiting for that day to come when I will leave this child again at the station platform!

* The photo in this post is taken by another child, 5 years old Lamia. This is my own doing. I have done this on purpose. This age of robots, I have placed her facing a harsh reality. In her body that carry my blood, I wish to leave traces of my own warmth. I dont care how much I am successful or failure in this. Atleast my effort has no impurities. (Original post)

**English Translation by Sadiq Alam

Tuesday, February 2, 2010

বীরাঙ্গনা, কে চাইবে তোমাদের কাছে ক্ষমা?


স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়েছে ১৯ বীরাঙ্গনাকে, সিরাজগঞ্জে। তবুও ভাল, অন্তত শুরু তো হলো!
বীরাঙ্গনা আছিয়া খাতুন বলেন, "স্বাধীনতার পর ৩৮ বছর চলে গেলেও কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।"
বীরাঙ্গনা হাজেরা বেগম বলেন, 'অসুখে, ক্ষুধায় আমাদের অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। মৃত্যুর পরও তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়নি।"

কিন্তু আমার মাথায় এটা আসে না, কেন এতো বছর লাগল?
আমি জানি না বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে কেন একজন বীরাঙ্গনা নাই? কেনই বা বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই? কেন কেবল মুক্তিযোদ্ধা হলেই আমরা একজন পুরুষের কথা ভাবব।

বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধে এঁদের অবদান অনুমান করা যাবে কেবল ভাগীরথী'র সম্বন্ধে জানলে, প্রিনছা খেঁর আত্মত্যাগের কথা পড়লে। এঁদের প্রতি আমরা যে অন্যায় করেছি এর ক্ষমা কার কাছে চাইব? ওই সময়ে মাদার তেরাসার মত অল্প কিছু মানুষ এঁদের প্রতি মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অন্যরা, আমরা এদের পোকার মত দূরে সরিয়ে দিয়েছে- এমন কি একজন বাবাও!

বীরাঙ্গনা রীনার
এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?
"একটি মেয়ে তার জীবনের যা কামনা করে তার আমি সব পেয়েছি। তবুও মাঝে মাঝে বুকের ভেতরটা কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে। কিসের অভাব আমার, আমি কি চাই? হ্যাঁ একটা জিনিস, একটি মুহুর্তের আকাঙ্ক্ষা মৃত্যু পর্যন্ত রয়ে যাবে। এ প্রজন্মের একটি তরুণ অথবা তরুণী এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, বীরাঙ্গনা আমরা তোমাকে প্রণতি করি, হাজার সালাম তোমাকে।"

অজানা এই বীরাঙ্গনাকে আমরা যেমন খুঁজে পাইনি তেমনি পাইনি সেই জজ সাহেবকে।
"ফারুক এখন জজ সাহেব। আর কখনোও হাফ শার্ট পরে না। কেউ হাতের দাগ দেখে ফেললে বলে মুক্তিযুদ্ধে আহত হলেছিল বেয়ানাট চার্জে । দেখুন তাহলে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধা কারা?"

বীরাঙ্গনা তারা ব্যানার্জীর এই হাহাকার কে শোনে?
"...নিয়েলের ভালবাসা, স্নেহ, মমতা আমার অতীতকাল মুছে ফেলল। তারা ব্যানার্জী থেকে আমি হলাম মিসেস টি নিয়েলসন ।
...স্বদেশে আমার সত্যিকার পরিচয় নেই, তারা ব্যানার্জী মরে গেছে ... আমি কোথায়? ওদের কাছে আমি ঘৃণ্য, নিন্দিত, মৃত।"

আমরা বড়ো অভাগা। এই দেশের সেরা সন্তানদের অসম্মান করি, পদে পদে। এতে এঁদের কিছু যায় আসে না- নগ্ন, দিগম্বর হয়ে পড়ি আমরা।
ফ্রান্সে ছয়টি গণকবর থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে, ১৯১৬ সালে ফ্রান্সে নিহত ব্রিটিশ এবং অষ্ট্রেলীয় ২৫০ সেনাদের উঠিয়ে নিয়ে পূর্ণ সম্মানে পুনরায় সমাহিত করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই হাড্ডি-গুড্ডি উঠিয়ে আবার সম্মানের সঙ্গে সমাহিত করলে কী হয়? এটাই কথা, কী হয়? আমরা অনেকে নাক কুঁচকে বলব, ছাতা হয় ফাতা হয়- মিলে মিশে ছাতাফাতা। তা হয়- যার যেমন বুঝ...।


*ছবি সূত্র: এএফপি

Saturday, January 30, 2010

বইমেলা উদ্বোধন

বাংলা একাডেমীর বইমেলা সরকার প্রধান উদ্বোধন করেন। কেন? এটা কী আমাদের কলচর(!) হয়ে গেছে, রাজনীতি এবং পলিটিক্স মিশিয়ে চানাচুর বানিয়ে কুচুমুচুর করে না-খেলে আরাম পাই না? নাকি সব আঙ্গুল ঘিয়ে ডুবিয়ে না-রাখলে আমাদের চলে না? যে কোন সরকার প্রধান যখন ক্ষমতার জোরে বাংলা একাডেমীর বইমেলা উদ্বোধন করেন তখন দৃশ্যটা আমার কাছে অশ্লীল-কুৎসিত মনে হয়। আমি টিভিতে দৃশ্যটা দেখে চোখ বন্ধ করে ফেলি।

এইবার কেয়ার-টেকার সরকারের সময় খুব আশায় আশায় ছিলাম এই অবস্থার পরিবর্তন হবে কিন্তু কিসের কী! ফকরুদ্দিন সাহেবকে দেখলাম চকচকে লম্বা একটা পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে, চাদর নাকি ওড়না (ভালো করে লক্ষ করতে পারিনি বলে ক্ষমা চাচ্ছি) গলায় দিয়ে ঠিকই চলে এসেছিলেন মেলা উদ্বোধন করতে। যথারীতি আমি চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম।
এসব তামাশা দেখে তারপরও না-হয় দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে থাকা যায় কিন্তু বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মত মানুষ যখন একবার দুম করে বলে বসেছিলেন, "এইবার সরকার প্রধান মেলা উদ্বোধন করছেন একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে" তখন আমার দাঁত কপাটি লেগে গিয়েছিল। সহজে আর জ্ঞান ফেরেনি! জ্ঞান ফেরার পর ইমদাদুল হক মিলনের চাটুকারী লেখা পড়ে আবারও জ্ঞান হারাই।

শামসুর রাহমানকে যখন দেখতাম উদ্বোধন করতে আসা সরকারপ্রধানের পিছু পিছু হাসিমুখে মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন বুক ভেঙ্গে আসত, আহা কবি, তুমিও! পদের এতো লোভ?
লেখকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, এঁদের লেখা পড়ে আলোকিত হই কিন্তু এঁদের নিয়ে ভাবার আগ্রহ
কারও নাই। শামসুর রাহমানের এই আচরণ নিয়ে কথা বলতে খুব আরাম পাই কিন্তু ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাওয়া এই মানুষটা চোখের ভয়াবহ অসুখে ভুগছিলেন; তাঁর অষুধ কেনার টাকা প্রায়ই থাকত না, এই অন্ধকার দিক জানার কোন প্রয়োজন আমাদের নাই। আমাদের কাজ হচ্ছে কেবল তাঁর কবিতা আউড়ে যাওয়া।
আগেও কোথাও লিখেছিলাম, লেখকরা অন্য গ্রহ থেকে আসবেন, নেংটি পরে উবু হয়ে লিখে যাবেন, লি খে ই যা বে ন!  আজব একটা দেশ- এই দেশে একজন মেথরও মেথরগিরি করে তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন কিন্তু একজন লেখক পারবেন না (দু-একজন ব্যতীত)।
কেউ কেউ উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন, চু ভাইদের বলে কে লিখতে, সে অন্য প্রসঙ্গ, লাখ টাকার প্রশ্ন। অবশ্য আমি বলি, লেখালেখি করাটা একটা অসুখ।

কোন সরকারের কাছেই আমার কোন জোর আশা নেই। এই দেশে রাজনীতিবিদরা অনায়াসে জমির প্লট পেয়ে যান, হালে জানা গেছে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে ১৮ জন সংসদ সদস্য প্লট নিয়েছেন- অথচ এদের সবারই ঢাকায় একাধিক বাড়ি আছে। তারপরও এঁদের ফকির-ফকির ভাব যায় না! অভাগা দেশ, এঁরা আবার সংসদ সদস্য পদ ধরে ঝুলে থাকেন, থাকতে দেয়া হয়!
সরকার কখনও লেখকদের নিয়ে এমন ভাবনা ভেবেছেন বলে অন্তত আমার জানা নাই। ভাবলেও সেই লেখকের গায়ে সরকারী দলের চামড়া আছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। এই এক চুতিয়াগিরি হয়েছে, একজন মানুষকে কোন-না-কোন দলের সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকতে হবে!

দরিদ্র দেশ, আমাদের ভাবনাগুলোও অতি দরিদ্র! এমন একটা উদাহরণ দেয়া অনেকের কাছে হাস্যকর ঠেকবে। লেখক মিরোশ্লাফ হোলুবকে মোটা অংকের স্কলারশীপ দিয়ে সসম্মানে বার্লিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হোলুব ঘুরেফিরে বেড়াবেন, ইচ্ছা হলে লিখবেন, যা খুশি। হোলুব এক বছরে মাত্র একটি কবিতা লিখেছিলেন এবং ওই কবিতা ঘষামাজা করেছিলেন আরও এক বছর লাগিয়ে!

এই দেশে কতশত বিত্তবান আছেন, কাউকে আজও দেখলাম না লেখকদের জন্য কিছু করতে। এটা তো কঠিন কিছু না, কোন এক ফ্ল্যাট কোম্পানি বাংলাদেশের অন্তত একজন লেখককেও একটা ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে বলত, স্যার, এইবার আপনি একটু নিরিবিলিতে লেখালেখি করেন। সরদার ফজলুল করিমের মত একজন মানুষকে একটা কোম্পানির ফ্ল্যাটে রাখতে পারাটা যে কী সম্মানের এটা এই সব নির্বোধদের কে বোঝাবে?

মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে এসেছি, আমার সাফ কথা, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর দুধ না। বইমেলা উদ্বোধন করবেন লেখালেখি জগতের মানুষ, কোন রাজনীতিবিদ না।

আমার সুতীব্র ইচ্ছা, মারা যাওয়ার আগে এটা দেখে যেতে চাই, প্রধান অতিথিকে নিয়ে প্যা-পো আওয়াজ তুলে নিরাপত্তার দায়িত্বের থাকা লোকজন ঝড়ের গতিতে ছুটছে। অপ্রয়োজনীয় তবুও, র‌্যাব নামের মুখোশ পরা লোকগুলো আজ হাসি-হাসি মুখে মানুষটাকে ঘিরে রাখতে পেরে কী আনন্দই না বোধ করছে। প্রধান অতিথি, সরদার ফজলুল করিমের মত খর্বাকৃতি একজন মানুষ গাড়ি থেকে নেমে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে এগিয়ে আসছেন। আজ মেলার সমস্ত আলো তাঁর জন্য, মেলায় আসা সব দুবির্নীত পা আজ টানটান। মা সন্তানকে বকা দিচ্ছেন, খোকা, আমাদের প্রধান অতিথি চলে এসেছেন, দাঁড়িয়ে সম্মান দেখাতে হয় রে বেটা। লেখক রে বেটা, অনেক বড় লেখক...!

এমন একটা দিনে মরেও সুখ, নাই-বা হলো জ্যোৎস্না রাত!

Friday, January 29, 2010

ইমদাদুল হক মিলন, একজন ঢোলবাজ!

ইমদাদুল হক মিলন, এই লেখক সাহেবকে নিয়ে একটা লেখা লিখে মন খানিকটা বিষণ্ন হয়েছিল, আহা, বেচারা, বৈদেশে গেছেন। লিকারের প্রভাবে ওখানকার কাহিনী লিখতে গিয়ে মাথা খানিকটা আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে! আজ দৈনিক কালের কন্ঠে লিখেছেন চেতনার বইমেলা। এটা পড়ে আমার নিজের মাথাই এলোমেলো হয়ে আছে!
তিনি লিখেছেন, "...আমরা জানি, বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক। তিনি ভালো পাঠকও।...বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন...।"
"আমরা জানি"? এই আমরাটা কে মিলন সাহেব? বলুন আমি জানি।
"বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার"? মানে কি স্যার? বর্তমান সরকার বলতে কি বলতে চাইছেন? নাকি আপনি বলতে চেয়েছিলেন, "বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বইপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী"? 
"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক"? হ্যা তিনি লেখক, আপনার সঙ্গে একমত। বেশ কিছু বই লিখেছেন: 'ওরা টোকাই কেন'?, 'আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি', 'সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র', 'দারিদ্র বিমোচন, কিছু ভাবনা', 'বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্চিত মানবতা' ইত্যাদি।
"তিনি ভালো পাঠকও"। এটা আপনি ভাল বলতে পারবেন। কি কি বই পাঠ করলে ভালো পাঠক হওয়া যায় এই সার্টিফিকেট আপনি দেবেন না তো কে দেবে! বইয়ের তালিকাটা জানাবেন প্লিজ, আমার নিজেরও এমন একটা সনদ প্রয়োজন আপনার কাছ থেকে।
"বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন।" তাই বুঝি, স্যার! এইবার বইমেলা পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন না-করে কোন একজন বিশিষ্ট লেখক করলে আপনার এই কথায় সত্যতার লেশ আছে বলে ধরে নিতাম। ক্ষমতার গত টার্মের সময় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মত বলে বসবেন না যেন, "তিনি একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে বইমেলা উদ্বোধন করছেন"!
 
প্লিজ, এই সব ফাঁকা বুলি কপচাবেন না। আপনি একজন লেখক, আমলা না। আপনি সরকারী চাকুরে না যে আপনার মেরুদন্ড থাকবে জেলির ন্যায়। আমার সাফ কথা, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর দুধ না। বইমেলা উদ্বোধন করবেন লেখালেখি জগতের দুর্ধর্ষ মানুষ, কোন রাজনীতিবিদ না। যাক, মিলন স্যার 'আমরা বলি' বলে নিজের কিছু ভাবনা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে সরে পড়তে চাইছেন। বেশ! কিন্তু আপনার লেখায় এই অংশটুকু পড়ে আমি ধন্ধে পড়ে যাই। আহা, একজন লেখকমানুষ কেন ঢোলবাজের ভূমিকায় নেমে পড়েন?
মিলন লিখেছেন: "...'ভালবাসার সুখ দুঃখ'...বইটি নিয়ে ক্রেজ সৃষ্টি হলো। এমনও দিন গেছে, আমাকে পুলিশ দিয়ে পাহারায় রাখতে হয়েছে। ...হাজার হাজার পাঠক লাইন দিয়ে বইটি কিনত। ...এমনকি ওই বইয়ের জন্য মেলায় মারামারি পর্যন্ত হয়েছে।...।" 
আমি তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সবটাই সত্য কিন্তু মিলন সাহেবের এইগুলো না লিখলে কী চলত না? পত্রিকাওয়ালা আছে কি জন্য? এরা কি বসে বসে মাছি মারবে? পাঠক কি মুখে আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুল চোষে? ক্রেজ কেমন করে সৃষ্টি করতে হয় এমন চালবাজি মিলন সাহেব ব্যতীত আর কে জানবে! মেলায় তাঁর বই আসে 'ভ' দিয়ে, 'ভালবাসি তোমাকে' বা 'ভালবাসি' এই টাইপের। ছোকরা-ছোকরি লুফে নেয়, ভেতরে আবর্জনা তাতে কিছুই যায় আসে না। ছোকরা-ছোকরি 'তোমাকে আমি পছন্দ করি', এটা মুখে না বলে বইটা গিফট করার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করে। মিলন স্যার কী বুদ্ধিই না শিখিয়েছেন।
তাঁর কয়েকটা বইয়ের নাম দেই:
১. ভালবাসা
২. ভালবেসেছিলাম
৩. ভালবাসা নাও
৪. ভালবাসার ছায়া পড়ে
৫ ভালবাসার হাত ধরেছি
৬. ভালবাসার নির্বাচিত গল্প
৭ ভালবাসা সমগ্র।
কয়টা নাম বলব? ভালবাসা-বাসির রগরগে বর্ণনার কথা আর উল্লেখ করি না। দশ বছর বয়সী বালক-বালিকাকে নিয়ে তিনি যে রসময় গল্প ফাঁদেন এটাকে কেন পর্ণো বলা হবে না এই কুতর্কে যাই না। এসব বাদ দিলেও লেখার ফেরিওয়ালা একজন মানুষকে ঢোলবাজের ভূমিকায় দেখতে ভালো লাগে না। ওহে, ডিয়ার মিলন, আপনি তো নামকরা কোনও ঢুলি না যে পেশাব আটকে ড্যাডাং ড্যাডাং করে ঢোল বাজিয়েই যাবেন। ঢোলটা আপনার বটে কিন্তু প্লিজ স্যার, ফাটিয়ে ফেলবেন না। ফাটা ঢোল আর নগ্ন মানুষ দেখতে ভাল লাগে না...।

Thursday, January 28, 2010

নৃশংসতা-ক্রূরতা-নিষ্ঠুরতা!

পাঁচ জন খুনিকে চরম শাস্তি দেয়া হয়েছে। দলবাজের বাইরে সাধারণ একজন মানুষ হিসাবে এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা না। মৃত্যুদন্ড থাকা উচিৎ কি উচিৎ না, সে অন্য প্রসঙ্গ। আমি যেটা বারবার বলে এসেছি, "রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। ৩৪ বছর গেল নাকি ৩৪০ বছর তাতে কী আসে যায়!"
এই বিচারটা যথা সময়ে হলে আমরা কতিপয় দাম্ভিক এইসব মানুষদের পেছনের মূল হোতাদের পেয়ে যেতাম। এমন অনেকের নামই পর্দার পেছনেই পড়ে থাকবে। হয়তো জানা হবে না কখনও!
যথা সময়ে বিচারটা হলে খন্দকার মোশতাকের মত মহা বিশ্বাসঘাতক আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মরে যেতে পারতেন না। কাপুরুষ সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেত, পেট চিরে আত্মহত্যা না করে ফেললে। অন্তত কর্নেল জামিলকে দেখে তাঁর লজ্জায় মরে যাওয়া উচিৎ ছিল।

এই ফাঁসিকে ঘিরে যেসব দেখলাম এতে নিজের মনুষ্যত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ি। আমি যেটা বলে আসছি, "আমাদের ভেতরের পশুটা বেরিয়ে আসার জন্য মুখিয়ে থাকে। এ গ্রহের তাবৎ বড়ো মাপের মানুষদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকে এই পশুটিকে আটকাবার চেষ্টা করা।"
আফসোস, আমাদের ভেতরের পশুটাকে আমরা কেমন অবলীলায় বার করে ফেলি। আমি তো বলব, পশুটাকে বার হয়ে আসার জন্য উসকে দিচ্ছি। মিডিয়া নামের বিবেক এক পা এগিয়ে। ধরা যাক, আজকের (২৮ জানুয়ারি) প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠা। ঢাউস আকারে দুই জল্লাদের ছবি ছাপা হয়েছে। প্রথম পাতায় বিপুল আকারের এ ছবি কেন? এটা কী এতই জরুরী? আমরা কি এই খবরটার জন্য মুখিয়ে আছি কোন জল্লাদ ফাঁসি দিল, তার চেহারা মোবারক কেমন ছিল, তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল নাকি স্যান্ডেল স্যু, সে ভেতরে আন্ডারওয়্যার পরেছিল নাকি লেংটি?
আজকাল প্রথম আলোর প্রথম পাতা কি খুব শস্তা হয়ে গেছে? খবরের আকাল পড়েছে বুঝি! শহীদুল ইসলাম লালুর মৃত্যুর খবরটা দেখি ছাপা হয় বিজ্ঞপ্তি আকারে! ভাষাসৈনিক গাজীউর রহমানের চিরবিদায়ের খবর প্রথম পাতায় আসে না। সেখানে প্রথম পাতা কী এতটাই ফাঁকা যে এমন গার্বেজ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে? আগামীতে হয়তো পড়ব, ডানের জল্লাদটার একটা ইয়ে অন্যটার চেয়ে এক ইঞ্চি নিচে ঝুলে থাকে...।

আহ, আমাদের উৎসুক জনতা! ভেতরের পশুটাকে কাঁধে নিয়ে এরা বেরিয়ে পড়েন তামাশা দেখতে। আগুনে সব পুড়ছে, কাছ থেকে দেখা চাই,
দেখা চাই ফাঁসিটাও। উৎসুক জনতার জন্য ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এগুতে পারে না, এম্বুলেন্স আটকে যায়। এ দেশেও সৌদির মত বর্বর দেশগুলোর মত উম্মুক্ত ফাঁসির আয়োজন হলে এদের অনেক উল্লাস হতো।
লাঠি-চার্জের পাশাপাশি এই সব ফাজিলদের হঠাতে জল-কামান ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা কাপড়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে মজা দ্যাখ।

এখন স্যাটেলাইট টিভি এদের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে দেখছিলাম, এই ফাঁসিকে ঘিরে লাইভ অনুষ্ঠান প্রচারে একেকজনের কী হুড়াহুড়ি! কাঁপা কাঁপা গলায় ননস্টপ একেকজন বকে যাচ্ছেন, "তো যেটা বলছিলাম, আমরা আপনাদের পাঁচটা কফিন দেখিয়েছি। তো যেটা বলছিলাম চৌকিও আপনাদের দেখিয়েছি। এই চৌকিতে লাশগুলোকে গোসল করানো হবে। আপনারা জানেন তবুও বলি এই ফাঁসির রশি ম্যানিলা থেকে আনা হয়, এটাতে সবরি কলা দিয়ে মাখানো হয়। তো যেটা বলছিলাম, এম্বুলেন্স চলে এসেছে পাঁচটা। আপনার এম্বুলেন্সগুলো দেখতে পাচ্ছেন টিভি পর্দায়। তো যেটা বলছিলাম, একেক করে এই এম্বুলেন্স বের হয়ে যাবে এই গেটটা দিয়ে, গেটটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন...।"
ভাগ্যিস, বলেনি, আপনারা যে এম্বুলেন্সগুলো দেখতে পাচ্ছেন এগুলোর প্রত্যেকটার চারটা করে চাকা। এবং আমাদের শেষ খবর অনুযায়ী এই চাকাগুলো স্টার্ট দিলেই ঘোরে।
আল্লা জানে মিডিয়ার কত শত লোক ওখানে গিয়েছিলেন? উৎসুক জনতার সঙ্গে এরা যোগ হলে মাছ বাজার হওয়ার আর অপেক্ষা করতে হয় না!

এভাবে ক্যামেরার চোখ একবার জেলগেইটে, কখনও ৩২ নম্বরে, কখনও-বা স্টুডিওতে ছুটাছুটি করছে। টক-শো চলছে। মন্ত্রী সাহেব পর্যায়ের লোকজন বক্তব্য রাখছেন। টক-শোর টক থামিয়ে ক্যামেরার চোখ ছুটে যাচ্ছে জেল গেটে বেরিয়ে আসা প্রথম এম্বুলেন্স দেখাতে। আবার টক-শো শুরু হলে তা থামিয়ে ক্যামেরা ছুটে যায় জেলগেটে। আবারও টক-শো শুরু হয়, থামে। একে একে বেরিয়ে আসা
পাঁচটা এম্বুলেন্স না দেখালে আকাশ ভেঙ্গে পড়বে যেন।

এরপর আমার দেখা ভয়ংকর এক ঘটনা। মিডিয়ায় দেখাচ্ছে, কিছু লোকজন লাশবাহী এম্বুলেন্সকে লক্ষ করে জুতা ছুঁড়ছে, আবর্জনা ছুড়ছে। এটা আবার ঘটা করে টিভি পর্দায় দেখাচ্ছে। টক-শোতে থাকা সাবেক মন্ত্রী সাহেব এই জুতা ছোঁড়া নিয়ে খুব শাবাসীও দিচ্ছেন। কাজটা যে খুবই ভাল হচ্ছে এটা নিয়ে রসালো মন্তব্যও করলেন।

বেঁচে থাকতে এমন কুৎসিত দৃশ্য আর কখনও দেখব এমনটা আমি আশা করি না। জেলগেটে, এই লাশগুলো সরকারের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় জুতা ছোঁড়া হয়েছে। লাশগুলোর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকার ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। তাও আবার মিডিয়া ঘটা করে দেখায়! আবদুল মতিন খসরুর মত দায়িত্বশীল একজন মানুষ আবার এটার উপর শাবাসী-মন্তব্যও করেন!
আমি যেটা বলেছিলাম, ৪ জন জাতীয় নেতাকে জেলে হত্যা অন্য কোন হত্যার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কেননা ওই চার জন মানুষ সরকারের কাস্টডিতে ছিলেন তেমনি সরকারের কাস্টডিতে থাকা এই পাঁচটি লাশও।

লাশের প্রতি এমন আচরণ ভয়াবহ এক অন্যায়। এই শিক্ষাটা আমরা পাইনি কারণ আমাদের দেশের বড়ো বড়ো মানুষরা এসব নিয়ে গা করেন না। অথচ একটা লাশ সাধুর নাকি খুনির তাতে কী! লাশকে অসম্মান করলে ওই লাশের কিছুই যায় আসে না, জীবিত সমস্ত মানুষ নগ্ন-দিগম্বর হয়ে পড়ে।

*এক্ষণ প্রথম আলোয় এই খবরটা চোখে পড়ল, "দুই শিশুকে দেখা যায় ফাঁসির দাবির ব্যানার হাতে শীতের রাতে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।"
কোন নির্বোধের মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে আল্লা মালুম। এই শিশুদের বাবা-মা তাঁদের সন্তানকে কী বানাতে চাইছেন তাঁরাই জানেন। একটা চলমান বিষবৃক্ষ!

**আমার ধারণা ছিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যেহেতু লাইভ দেখানো হয় তাই এই দৃশ্যটা দেখানো হয়ে গেছে। কিন্তু যখন কালের কন্ঠ প্রথম পাতায় আয়োজন করে এই ছবি ছাপে তখন আমার ইচ্ছা করে, নিজেই নিজের মুখে থুথু দেই।

Wednesday, January 27, 2010

আবেদ খানের এস্টাইল (!)

আবেদ খানের 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব? ইহা লইয়াই যন্ত্রণার একশেষ! মনে খানিকটা দুঃখ বোধও কাজ করিতেছিল, এমন কঠিন লিখা 'বোধ হয়' সমীচীন হইল না। একজনের স্মৃতিশক্তি দুর্বল থাকিতেই পারে, আবেদ খানেরও এমনটা হইবে না তাহা বুকে হাত দিয়া বলিতে পারি না।
ইহা আমি ব্যতীত কে বুঝিবে? অদ্যাপি বাচ্চাদের বয়স মনে রাখিতে পারি না, কেহ শেষের কবিতা কেমন লাগিল বলিলে আহাম্মকের ন্যায় বলিয়া বসি, আমি তো কবিতা বুঝি না! ভুলেও কেহ ইহা লইয়া বিশ্রম্ভালাপ করে না, এ লইয়া বিস্তর হাসাহাসি হয়! এই নিয়া অদৃষ্টকে দোষ দিয়া আজ আর কী করিব?

আজ আরেক নতুন উপদ্রব দেখা দিল। এলাকার একটি ছেলে কাজী হান্নান সে
থাকিয়া থাকিয়া কষ্টের শ্বাস ফেলিতেছিল। বেচারা সুনীলের বড়ো ভক্ত, 'কেউ কথা রাখেনি' বোধ হয় সুনীলেরই আবেদ খান ইহা নিয়া সংশয় প্রকাশ করিয়া, লিখিয়া, ছাপাইয়া দেয়ায় মনে বড়ো চোট পাইয়াছে।
আমি তাহাকে বললুম, বাপু রে, মনে কষ্ট রাখিও না, স্মৃতির উপর মানুষের কোন হাত নাই। তদুপরি মানুষটার সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক ছিল।

হান্নান চটিয়া বলিল, আমি আবেদ খানকে
গতকল্য ফোন করিয়াছিলুম। তিনি বলিলেন, "ইহাই আমার ইস্টাইল।" আপনি আমাকে বলুন, ইহা ইস্টাইল হয় কেমন করিয়া?
আমি অবিশ্বাসের হাসি হাসিলাম, বাপু, তুমি চটিয়াছ বিধায় এমনটা বলিতেছ। ইহা অসম্ভব, একজন সুশীল মানুষ আবেদ খান কখনই এমনটা বলিতে পারেন না। মানুষ মাত্রই ভুল করিয়া ভূল লিখিয়া ভুল করে।

হান্নান যখন আমার নাকের ডগায় প্রমাণ ঝুলাইয়া দিল তখন আমার আর বলার কিছুই অবশিষ্ট থাকিল না। যখন আমি নিজের কানে শুনিলাম তখন হতভম্ব হইলাম নাকি ভম্বহত(!) তাহা বলিতে পারি না। আবেদ খানের মত সুশীল একজন মানুষ এইরূপ বলিতে পারেন তাহা নিজের কানে না-শুনিলে বিশ্বাস করিতাম না!

আজ তিনি তাঁহার লেখার ইষ্টাইলের কারণে বলিতেছেন, কেউ কথা রাখেনি 'বোধ হয়' সুনীলেরই। কাল বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল মরিয়া গিয়াছেন। পরশু বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল চিতা হইতে সশরীরে ফিরিয়া আসিয়াছেন। তরশু বলিবেন, ...।
আমার মনে সংশয় জাগিয়াছে বলিয়া কালের কন্ঠ কি আমার এহেন বিজ্ঞাপন ছাপাইবে? "লেখার ইস্টাইল করিয়া করিয়া 'বোধ হয়' আবেদ খান উদভ্রান্ত হইয়া গিয়াছেন।"
আবেদ খানও আরেকখানা বিজ্ঞাপনে তিনি উদভ্রান্ত হন নাই এই সার্টিফিকেট ছাপাইয়া আমাদিগকে আশ্বস্ত করিবেন। সমস্যা তো নাই।

কেহ বপুষ্মান হইলেই তাহার মস্তিষ্ক বিপুল হইবে এমনটা দাবী করা চলে না। পায়ে আবর্জনা লাগিলে পা উঠাইয়া তাহা বড় জোর দেখা চলে, হাতে উঠাইলে বোকামি ফুটিয়া উঠে, নাকে নিয়া শুঁকিলে মানুষটার মস্তিষ্ক আদৌ আছে কিনা তাহা লইয়া 'বোধ হয়' সংশয় জাগে।

Tuesday, January 26, 2010

আবেদ খানের 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব?

আবেদ খান আজকের 'কালের কন্ঠ' দৈনিকে লিখিয়াছেন,"শেষ পর্যন্ত লেখার একটা ক্ষেত্র হলো বটে, কিন্তু ভাবনা এল_লিখিটা কী!"

আবেদ খানের নাকি লিখিবার ক্ষেত্র সংকুচিত হইয়া ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র বিচির আকার ধারণ করিয়াছে। ইহা শুনিয়া হায়েনা হাসিতে হাসিতে লেলাখেপা হইয়াছে! অবশেষে লিখিবার ক্ষেত্রের জন্য কালের কন্ঠ নামক আস্ত একখানা পরতিকা(!) নাযিল হওয়ারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে! কলমবাজ আর কাহাকে বলে! অবশ্য কাজটা মরদের মতই হইয়াছে বটি!

আজকাল বড়ো একটা ঢং হইয়াছে, পরতিকার সম্পাদক মহাশয়গণ প্রথম পাতায় ঘটা করিয়া লিখিয়া আমজনতার উদ্দেশ্যে বাতচিত করিয়া থাকেন। এই প্রথায় আমাদের মতিউর রহমান সাহেবও পিছাইয়া নাই। সম্পাদক মহাশয় বলিয়া কথা! সে যাক, তাহারা প্রথম পাতায় লিখুন প্রয়োজনে গোটা পৃষ্ঠা জুড়িয়া, আটকাইবে এহেন বুকের পাটা কাহার?

আবেদ খান আরও লিখিয়াছেন, "'কেউ কথা রাখেনি' কবিতাটা 'বোধ হয়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়েরই...।"
প্রথম পাতায় তাঁহার সুদীর্ঘ এই লেখার বিশদে যাইবার আগ্রহ নাই কিন্তু তাঁহার এই 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব, তাহা বোধগম্য হইতেছে না! ইহা কোথায় রাখিব ভাবিয়া ভাবিয়া আকূল হইয়াছি! 'বোধ হয়' তাঁহার লিখায় সন্দেহের লেশ দিব্যি লেজ গজাইয়া দিয়াছে।
আমরা যাহারা হুদাহুদি লিখিবার চেষ্টা করি, যাহাদের নেকাপড়া(!) কম, তাহারা আটকাইয়া গেলে বোধ হয় লিখিয়া গা বাঁচাইবার চেষ্টা করিয়া থাকি কিন্তু আবেদ খানের মত কলমযোদ্ধা, মসিবীর- যিনি কেবল লেখার ক্ষেত্র তৈরি করিবার মানসে একখানা দৈনিক পরতিকা(!) অবতীর্ণ করিয়া থাকেন তিনি 'বোধ হয়' লিখিয়া দায় সারিবেন কেন? এই পরতিকার(!) শতেক কলমবাজ কাহারও নিকট হইতে জানিবার উপায় কি ছিল না? তাঁহারা কী মসিলিপ্ত হইয়া নিদ্রদেবীর কোলে দোল খাইতেছিলেন?

আবেদ খান ইচ্ছা করিলে তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কেই একখানা ফোন লাগাইতেই পারিতেন, 'হাললু দাদা, কেম ছো? দাদা, 'কেউ কথা রাখেনি' ইহা কি আপুনি লিখিয়াছিলেন নাকি আপুনির খগের কলম'?
বেশ ফোনালাপ হইতে পারিত। সুনীল দাদা নাচিতে নাচিতে আবৃত্তি করিতেন। আয়ুষ্মান ভবঃ বলিয়া কালের কন্ঠের জন্য "আমার ভালো লাগা, গ্লানি ও স্বপ্ন" টাইপের আরেকখানি লেখা লিখিয়া ফেলিতেন।

'বোধ হয়' ইহা ভালো জিনিস বটি কিন্তু সংসদে গেজেট পাশ হইয়াছে এমন কোন লিখায় সংসদের কোন এক আইন প্রণেতা যদি লিখিয়া বসেন, "অদ্য হইতে এই আইন কার্যকরী হইল। ইহার উৎস 'বোধ হয়' সংবিধানে আছে।"
বাপস! বড়ো একটা ঝামেলা পাক খাইতে খাইতে পাকিয়া যাইবে!

আচ্ছা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে আবেদ খানের ফোন করিবার কথা যে লিখিলাম, আমি এখন কিঞ্চিৎ ধন্ধে আছি, সুনীল দাদা বাঁচিয়া আছেন তো? শুনিয়া অনেকে আমাকে গাল পাড়িবেন, মনে মনে দুগগা-দুগগা বলিবেন। আহা, ভগবান তাঁহাকে বাঁচাইয়া রাখুন কিন্তু বুঝিলেন কিনা, আমাদের মত কলমচীর এই এক হুজ্জুত, ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার। কে আমাদিগকে তথ্যের যোগান দিবে, কে সংশোধন করিয়া দিবে, কে-কে-কে? কেহ না, বাহে, কেহ না।
অতএব আমার ইহাই লেখা শ্রেয় ছিল, 'বোধ হয়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাঁচিয়া থাকিলে, বোধ হয় আবেদ খানের নিকট ফোন থাকিলে, বোধ হয় নেটওয়র্ক ঠিক থাকিলে, বোধ হয়...।



Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

Monday, January 25, 2010

নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়?

প্রথম আলোর রিপোর্টটা অতি সাধারণ: "বাস ডাকাতদের কবলে রিকশাচালকের পরিবার...শনিবার রাত ১০টার দিকে... পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গাড়িতে করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পান যাত্রীবাহী একটি বাস সিগন্যালে না দাঁড়িয়ে সন্দেহজনকভাবে...তিনি বাসটির পিছু নেন...প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে অবশেষে আসাদগেটে ...বাসটি আটকান।"

এই খবরটাই কালের কন্ঠ লিখছে বড় বড় হেডলাইনে: দেহরক্ষী এবং ড্রাইভারকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরলেন পাঁচ ডাকাত।

এখন আমি পাঠক হিসাবে কোন পত্রিকাকে বিশ্বাস করব? খবর ঠিক আছে কিন্তু বক্তব্যে অনেক ফারাক! প্রথম আলোর মতে, এটা অতি সাধারণ একটা ঘটনা। পুলিশ ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছে, রুটিন ওয়র্ক। এ তো হামেশাই হচ্ছে।
কিন্তু কালের কন্ঠে আমরা এক অভাবনীয় ঘটনা দেখতে পাই। একজন পুলিশ অফিসার অসাধারণ এক কান্ড করে ফেলেছেন। জানি জানি অনেকে ঠোঁট উল্টে বলবেন, পুলিশের কাজই তো এইটা।
আহা, চটছেন কেন! আমাদের দেশের পুলিশকে অপরাধী ধরে হাতে তুলে দিলেও যেখানে এঁরা গা করেন না, হাতের ফাঁক গলে টুপ করে পড়ে যায়। সেখানে পদস্থ একজন পুলিশ অফিসার তাঁর দায়িত্বের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় মাইলের পর মাইল চেজ করে এদের ধরেছেন। সেখানে প্রথম আলোর এমন নিউজ ট্রিটমেন্ট দেয়ার মানে কী! আমাদের দেশে এমনিতেই বলার মত তেমন গল্প নাই, অহংকার করার মত বীর নাই সেখানে নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? পুলিশ বলে?

পৃথিবীর অনেক দেশেই মানুষ কিছু হলেই পুলিশের কাছে ছুটে যায়, পরম নির্ভাবনায়; আমাদের দেশে উল্টোটা। পুলিশের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ অনেক।
একটা উদাহরণ দেই। ব্রাক্ষ্ণণবাড়ীয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে চমৎকার একটা ভাস্কর্য আছে। একজন ট্রাফিক পুলিশ দুইজন স্কুলগামী ছেলে-মেয়েকে রাস্তা পার করাচ্ছে, পরম মমতায়। দেখলেই মনটা অন্য রকম হয়। এটা উম্মুক্ত স্থানে না-রেখে বেষ্টনির ভেতরে কেন এটা আমার বোধের বাইরে! আমি চেষ্টা করেছিলাম এটার ছবি উঠাবার জন্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ রে রে করে তেড়ে এলেন। কিছুতেই তিনি আমাকে এই ভয়াবহ কাজটা করতে দেবেন না। আমি যে এটার ছবি উঠিয়ে কোন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হবো না এটা বোঝাবার পর তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন সহকারী পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমি আগ্রহ বোধ করলাম না, লম্বা দিলাম। কারণ আমি জানি ওখানে যাওয়ার পর কি হবে? চোর-চোট্টার মত স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে বিস্তর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে, কেন আমি ছবি উঠাতে চাচ্ছি, আমি কি কোন পত্রিকার সাংবাদিক? না, তাহলে?

এমনিতেই আমাদের দেশের পুলিশদের আমরা ভিলেন হিসাবে দেখে আসছি। আমরা এদের সম্বন্ধে কী তাচ্ছিল্য পোষণ করি পুলিশেরা এর সবটা যদি জানতেন! আমার নিজের কানে শোনা, এক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা ঘটককে বলছেন, "তুমি পুলিশ ছেলের সম্বন্ধ আনলা কি মনে কইরা, মেথরের আনলেও একটা কথা আছিল"! রাগের চোটে অতিশয়োক্তি হয়ে গেছে এটা সত্য কিন্তু মানুষটার চোখে ঘৃণা উপচে পড়ছিল।
পুলিশকে নিয়ে ভয়ংকর উক্তিটা আমি পড়ি সাদত হাসান মান্টোর লেখায়, "একশজন ... দালালের মৃত্যু হলে একজন পুলিশের জন্ম হয়"। মান্টো এমনিতেও ভয়ংকরসব গল্প লিখতেন। তাঁর 'ঠান্ডা গোশত' পড়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। ৭৭ সালে যেটার অনুবাদ করেছিলেন মোস্তফা হারুন।

যাক গে, অন্য দেশের পুলিশে আমার কাজ কী, আমাদের দেশের পুলিশদের নিয়েই থাকি না কেন। আমাদের দেশে কিছু বিচিত্র বিষয় আছে, যাদের কাপড় থাকা প্রয়োজন শুভ্র, আমরা নিজেরাই তাঁদের ধপধপে কাপড়ে কালি ছিটিয়ে বেদম চেঁচাতে থাকি, দাগ-দাগ! একজন ইমামের বেতন দেড়-দুই হাজার টাকা। এই ইমামকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিলে এমন কাঁদা কাদবে আমার বাপও কবর ছেড়ে উঠে আসবেন। উনি ভুলভাল ফতোয়া না-দিলে কে দেবেন? এই দেশে দেড়-দুই হাজার টাকায় কোন মেথর কাজ করতে রাজি হলে আমি সেই মেথরের পদ-চুম্বন করব। ব্লগ-ভুবনের তার ধরে এই প্রতিজ্ঞাটা আজ করলুম।

ওসি সাহেব একটা উদাহরণ। অনেক ওসি সাহেবকে উপরে নিদেনপক্ষে দু-লাখ টাকা নজরানার দিতে হয়। এই উপরটা কোথায় এটা আবার ফট করে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসবেন না যেন, তাহলে আমি নিজেই অন্য উপরে চলে যাব!
থানার ওসিকে ঠকায় হাজার দশেক, আনুমানিক ১০ হাজার টাকা বেতন কম দিয়ে। তো, ওসি সাহেব সরকারকে ঠকান আনুমানিক ৩০ লাখ। উপরে দুই, নিজের দুই, সাঙ্গোপাঙ্গ এক এবং এই অবৈধ পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে গিয়ে ন্যূনকল্পে পঁচিশ লক্ষ টাকার অন্যায্য, অন্যায় সুবিধা প্রদান। প্রকারান্তরে যা সরকারেরই ক্ষতি। এই মোটা হিসাবটা আমাদের ডিসিশন-মেকাররা যে কেন বোঝেন না!

একটা মামলার তদ্বিরে আমাকে মাসে দু-বার কোর্ট ভবনে তশরীফ আনতে হয়। এখানে বিচিত্র মানুষ দেখি, গাছ দেখি। ততোধিক বিচিত্র মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হই।
একবার পাশেই একজন পুলিশের কনস্টেবল বসে চা খাচ্ছিলেন। সচরাচর আমিও অন্যদের মত ট্রাকের মতই পুলিশের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু প্রকৃতি-পরিবেশের একটা ছাপ তো থেকেই যায়। পুলিশ নামের মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। চাকুরির বয়স ২২ বছর। বেতন এখন পান কেটেকুটে ৭০০০ টাকা। ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা ডিউটি।
বলছিলেন বিমর্ষ হয়ে, 'বলেন, এইটা তো মানুষের শরীর, নাকি! ১৬-১৮ ঘন্টা ডিউটি কইরা শরীরে আর দেয় না, বুঝলেন। আপনে কন, মাথা ঠিক থাকে? এই যে আজকা ডিউটিতে আইছি, সারা দিনে না হইলেও ১০০ ট্যাকা খরচ। এর বাইরে এসআই সাব তো কয়া খালাশ, মোটর সাইকেলের তেল কিনতে হয়, টর্চলাইটের ব্যাটারি কিনি নিজের পয়সায়। ঘুষ না খাইলে বাড়িত ট্যাকা পাঠামু কোত্থিকা'?

শুনে যাই, সে অনেক কথা। সামান্য চার দামটা আমি দিয়ে দেয়ায় মানুষটা এতো অবাক হয়েছিল তার সেই চোখের দৃষ্টি এখনও ভুলিনি! এরা কি একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের আচরণ পাওয়া ভুলে গেছে? আমরা কি এদের লুটেরার পর্যায়ে নিয়ে গেছি?

WhatsApp