Thursday, February 4, 2010

রাতকে দিন করা কেবল মিডিয়ার পক্ষেই সম্ভব

প্রথম আলোর 'সুখী এক বেকার' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, এ গ্রহের চুতিয়া নাম্বার ওয়ান এন্ড টু। টু-টা কে বা কাহারা উল্লেখ করিনি কিন্তু এখন আর সংশয় নাই। প্রথম আলো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে! প্রথম আলোকে অভিনন্দন!

ওই পোস্টে আমি উল্লেখ করেছিলাম, প্রথম আলো
'সুখী এক বেকার' লেখাটার কোন সূত্র উল্লেখ করেনি। আসল লেখাটার শিরোনাম হচ্ছে The Lolly and the Skive-yঅথচ প্রথম আলোর শিরোনাম হচ্ছে 'সুখী এক বেকার'। প্রকারান্তরে প্রথম আলো আমাদেরকে শেখালো, কোন কাজ-কাম না করে আজীবন বসে বসে ছাতা মাথায় দিয়ে ভাতা খেলে কোন সমস্যা নাই; কেবল কষ্ট করে বীর্যপাত করে দিনপাত করা। প্রথম আলোর চোখে এরা একটা সুখী পরিবারের চমৎকার উদাহরণ! বেশ-বেশ, মিডিয়া বলে কথা। ছাপার অক্ষরে আমরা যা পড়ি তাই বিশ্বাস করি।

মিডিয়া বলে কথা! ফাঁসির কল্যাণে এরা আমাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকাটা পশুটাকে বার করে নিয়ে এসেছে! কালের কন্ঠ নামের আরেক চুতিয়া
(এই শব্দটা বাদ দিয়ে পড়বেন) কেমন করে খবর নিয়ে জাগলিং করে এর একটা নমুনা দেই। এরা বোল্ড করে লিখেছে, "তওবায় অনীহা।"
কেঊ এটা পড়লেই একটা ধাক্কার মত খাবেন। কী এরা তওবায় অনীহা দেখিয়েছে, এরা হার্মাদ? অনায়াসেই মানুষগুলোর প্রতি একটা বিতৃষ্ণা চলে আসবে।
ভেতরে
কালের কন্ঠ লিখছে, "পাঁচ বন্দির কেউই তওবা পড়তে রাজি হয়নি। তারা বলেছে, আমরা নিজেরাই তওবা পড়তে পারি। কোনো আনুষ্ঠানিকতার তওবা বা ইমামের প্রয়োজন নাই।"

এটা এমন ঘটা করে লেখার কী হলো এটা আমাদের সুযোগ্য আবেদ খান ভালো বলতে পারবেন- এটা তাঁর এস্টাইল (!) কিনা কে জানে! কেউ তওবা জানলে সে নিজে পড়লে হবে না এমনটা কোথায় লেখা আছে?
কালের কন্ঠ অন্যত্র লিখেছে, "চিৎকার করছিল মহিউদ্দিন আর্টিলারি। তাকে অনেকটা পাঁজাকোলা করেই মঞ্চে আনা হয় (জানা যায়, সে কিছুটা অসুস্থ ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, দেহের এক পাশ কিছুটা প্যারালাইসিস ছিল আর্টিলারি মহিউদ্দিনের। তবে কারা সূত্র এই অসুস্থতার কথা স্বীকার করেনি। মঞ্চে আনার পরও ছটফট করছিল সে। বসে পড়ে পাটাতনের ওপর। সেখানেও চিৎকার করতে থাকে।)"

আমি পাঠকের তো এই খবরে কোন কাজ নাই জল্লাদ কি কালারের অন্ডারওয়্যার পরে রেখেছিলেন? (প্রথম পৃষ্ঠায় ঘটা করে জল্লাদের ছবি ছাপিয়েছে প্রথম আলো)। আমার প্রয়োজন আর্টিলারি মহিউদ্দিন অসুস্থ ছিলেন কি ছিলেন না এটা জানা। মিডিয়া পারলে জানাবে, জানাতে না-পারলে মুখে অথবা তাদের পছন্দসই স্থানে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকবে, সমস্যা তো নাই। দয়া করে জানা যায় বলে দায় সারবেন না।
আর কী ভাষা! করছিল, পাঁজাকোলা, সে, ছিল, পড়ে! এই না হলো পত্রিকার ভাষা! আমাদের বিবেক, আলোর দিশারী!
যায়যায়দিন নামের আরেকটি পত্রিকা চুতিয়াগিরির আরেক ধাপ এগিয়ে। এরা লিখেছে, "তাকে কোলে করে আনা হয় মঞ্চে।"
অ, জাতির বিবেক, বিছানা থেকে আপনাদের পশ্চাদদেশ উত্তোলন করুন, আমাদের মানবতা এই খুনিদের পর্যায়ে নামিয়ে আনবেন না, প্লিজ! জেল কোড ভেঙ্গে তাহলে কি দোষ করেছিলেন স্বৈরাচারি এরশাদ ১৪ বছরের নাবালক বালকেকে ফাঁসি দিয়ে? জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে?
আমাদের দেশের তথাকথিত সুশীলরা আজ কোথায় গো? আমার এক বন্ধু বলছিলেন, আমাদের দেশের লেখকরা পুতিয়ে (এই শব্দটা তিনি তাঁর ভদ্র ভাষায় বলেছেন। সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন, বিচি হারিয়েছেন) গেছেন!

তওবা বিষয়ে প্রথম আলো কি লিখেছে একটু দেখি, "রাত সাড়ে ১১টায় কারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন ফাঁ
সির সেলে যান। খুনিদের সঙ্গে কথা বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। ইমাম পাঁচজনকেই তওবা পড়ান।"

ওয়েল, প্রথম আলোর
'সুখী এক বেকার'-এ ফিরে যাই। মূল লেখা পড়ে আমার মাথায় হাত। প্রথম আলো লিখছে, "বাস্তবে ডন কেইনের অবস্থা একেবারেই উল্টো। সারা দিন স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করে দিব্যি কাটিয়ে দিচ্ছেন।...আবারও মা হতে যাচ্ছেন স্ত্রী শেন কেইন।"প্রথম আলো আরও লিখছে, স্ত্রী শেন কেইন বললেন, "আমার মা হতে খুব ভালো লাগে। এর মধ্যেই ১৪ বাচ্চার মা হয়েছি। ১৫তমটা আসছে।"The Lolly and the Skive-y-এ দেখছি, শেন বা শন কেইন হচ্ছে বাবা! এর মানে কী! প্রথম আলো কি বলতে চাইছে স্বামী-পুরুষ মানে শেন বা শন নামের বাবা ১৪টি বাচ্চা প্রসব করেছে ১৫ নাম্বারটি তার পেটে (আমি ঠিক নিশ্চিত না, পুরুষদের বাচ্চা কী পেটে থাকে নাকি অন্য কোথাও) নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে?
এটা ভালো হলো, যেসব নারী জরায়ু সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হইচই করতেন তাঁরা এখন অনেকটা আরাম বোধ করবেন। অন্তত তসলিমা নাসরিন খুশিতে হাফ-প্যান্ট পরে দাদাদের পত্রিকায় (আনন্দলোক) পোজ না দিয়ে এখন প্রথম আলোতে দেবেন এতে আর কোন সন্দেহ নাই। আজকাল শুনতে পাই মতিউর রহমান সাহেব নাকি ফটো-সাংবাদিকের (!) দায়িত্ব পালন করেন। এমন একটা দুর্লভ ছবি তিনি উঠালে আমার চেয়ে সুখী আর কেউ হবে না।
'সুখী এক ব্যর্থ লেখক'!

No comments: