Wednesday, January 27, 2010

আবেদ খানের এস্টাইল (!)

আবেদ খানের 'বোধ হয়' লইয়া আমরা কী করিব? ইহা লইয়াই যন্ত্রণার একশেষ! মনে খানিকটা দুঃখ বোধও কাজ করিতেছিল, এমন কঠিন লিখা 'বোধ হয়' সমীচীন হইল না। একজনের স্মৃতিশক্তি দুর্বল থাকিতেই পারে, আবেদ খানেরও এমনটা হইবে না তাহা বুকে হাত দিয়া বলিতে পারি না।
ইহা আমি ব্যতীত কে বুঝিবে? অদ্যাপি বাচ্চাদের বয়স মনে রাখিতে পারি না, কেহ শেষের কবিতা কেমন লাগিল বলিলে আহাম্মকের ন্যায় বলিয়া বসি, আমি তো কবিতা বুঝি না! ভুলেও কেহ ইহা লইয়া বিশ্রম্ভালাপ করে না, এ লইয়া বিস্তর হাসাহাসি হয়! এই নিয়া অদৃষ্টকে দোষ দিয়া আজ আর কী করিব?

আজ আরেক নতুন উপদ্রব দেখা দিল। এলাকার একটি ছেলে কাজী হান্নান সে
থাকিয়া থাকিয়া কষ্টের শ্বাস ফেলিতেছিল। বেচারা সুনীলের বড়ো ভক্ত, 'কেউ কথা রাখেনি' বোধ হয় সুনীলেরই আবেদ খান ইহা নিয়া সংশয় প্রকাশ করিয়া, লিখিয়া, ছাপাইয়া দেয়ায় মনে বড়ো চোট পাইয়াছে।
আমি তাহাকে বললুম, বাপু রে, মনে কষ্ট রাখিও না, স্মৃতির উপর মানুষের কোন হাত নাই। তদুপরি মানুষটার সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক ছিল।

হান্নান চটিয়া বলিল, আমি আবেদ খানকে
গতকল্য ফোন করিয়াছিলুম। তিনি বলিলেন, "ইহাই আমার ইস্টাইল।" আপনি আমাকে বলুন, ইহা ইস্টাইল হয় কেমন করিয়া?
আমি অবিশ্বাসের হাসি হাসিলাম, বাপু, তুমি চটিয়াছ বিধায় এমনটা বলিতেছ। ইহা অসম্ভব, একজন সুশীল মানুষ আবেদ খান কখনই এমনটা বলিতে পারেন না। মানুষ মাত্রই ভুল করিয়া ভূল লিখিয়া ভুল করে।

হান্নান যখন আমার নাকের ডগায় প্রমাণ ঝুলাইয়া দিল তখন আমার আর বলার কিছুই অবশিষ্ট থাকিল না। যখন আমি নিজের কানে শুনিলাম তখন হতভম্ব হইলাম নাকি ভম্বহত(!) তাহা বলিতে পারি না। আবেদ খানের মত সুশীল একজন মানুষ এইরূপ বলিতে পারেন তাহা নিজের কানে না-শুনিলে বিশ্বাস করিতাম না!

আজ তিনি তাঁহার লেখার ইষ্টাইলের কারণে বলিতেছেন, কেউ কথা রাখেনি 'বোধ হয়' সুনীলেরই। কাল বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল মরিয়া গিয়াছেন। পরশু বলিবেন, 'বোধ হয়' সুনীল চিতা হইতে সশরীরে ফিরিয়া আসিয়াছেন। তরশু বলিবেন, ...।
আমার মনে সংশয় জাগিয়াছে বলিয়া কালের কন্ঠ কি আমার এহেন বিজ্ঞাপন ছাপাইবে? "লেখার ইস্টাইল করিয়া করিয়া 'বোধ হয়' আবেদ খান উদভ্রান্ত হইয়া গিয়াছেন।"
আবেদ খানও আরেকখানা বিজ্ঞাপনে তিনি উদভ্রান্ত হন নাই এই সার্টিফিকেট ছাপাইয়া আমাদিগকে আশ্বস্ত করিবেন। সমস্যা তো নাই।

কেহ বপুষ্মান হইলেই তাহার মস্তিষ্ক বিপুল হইবে এমনটা দাবী করা চলে না। পায়ে আবর্জনা লাগিলে পা উঠাইয়া তাহা বড় জোর দেখা চলে, হাতে উঠাইলে বোকামি ফুটিয়া উঠে, নাকে নিয়া শুঁকিলে মানুষটার মস্তিষ্ক আদৌ আছে কিনা তাহা লইয়া 'বোধ হয়' সংশয় জাগে।

No comments: