Saturday, May 30, 2009

সভ্যতার মৃত্যু


ঘটনাস্থল ইরাক। সাদ্দাম ক্ষমতাশীন।

ইরাকে টিভি-রেডিওতে যে আজান প্রচারিত হত তা ছিল সুন্নিদের আজান। শিয়াদের আজানে খানিকটা পার্থক্য আছে। একজন শিয়া বালক যখন তার বাবাকে জিজ্ঞেস করত, টিভি-রেডিওতে যে আজান প্রচারিত হয় তার সঙ্গে আমাদেরটার মিল নাই। তাহলে কী আমাদেরটা ভুল?
ওই বালকের বাবা তার সন্তানকে কেমন করে বোঝাবেন ভুল-শুদ্ধ পরের কথা। আসল কথা হচ্ছে গায়ের জোর। সুন্নি ভাবাপন্ন সাদ্দাম ক্ষমতায় তাই তাদের আজানই প্রচারিত হবে। জন্ম নেয় একেকটা বিষবৃক্ষ।

একজন শিয়া বলেন, "I know i am recist but i can't help it. আরবদের আমি ঘৃণা করি। এমন কী মুসলমানদেরও। আমি কোরান পড়ি না কারণ এটা আরবীতে লেখা। আমি ইসলাম মানি না কেননা ইসলাম আরবদের মাধ্যমে এসেছে"।
...................
ইরাকে, এক গভর্নরের ড্রাইভার রাগের বশবর্তী হয়ে একজনকে খুন করলে, অভিযোগ পাওয়ার ৩ দিনের মাথায় ওই ড্রাইভারের ফাঁসির আদেশ হয়। প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হবে। দলে দলে লোকজন আসল। বাদাম টাইপের কিছু চিবাতে চিবাতে ফাঁসির অনুষ্ঠান উপভোগ করল।

এখানে যেটা করা হয়েছিল, ওই ফাঁসি দেয়া অনুষ্ঠানে, ওই ড্রাইভারের বউ এবং নাবালক বাচ্চাকে বাধ্য করা হয়েছিল পুরো অনুষ্ঠানটা প্রত্যক্ষ করতে।

সাদ্দাম হোসেন কারণে-অকারণে হাজার-হাজার শিয়াকে হত্যা করেছেন। সেগুলো নিয়ে না-হয় আলোচনায় গেলাম না। কিন্তু পিতার সন্তানকে এই দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা, আমার মতে, একটি সভ্যতাকে থামিয়ে দেয়া। সাদ্দামের নামাজপড়া অবস্থায় ছবি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষদের অনাবশ্যক কৌতুহল লক্ষ করেছিলাম। শুনতে পাই, সাদ্দামের কাছে সর্বদা একটা কোরান থাকত। আমার ধারণা, এটা তিনি শো-পিস হিসাবে বগলে রাখতেন। বা কখনও-সখনও চুমু দেয়ার জন্য। পড়ার জন্য না।
কোরান পড়লে অবশ্যই এটা তার নজরে পড়ত,
"...নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্য করা হেতু ব্যতীত কেউ কাউকে হত্য করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল..."। (৫ সুরা মায়িদাঃ ২৭-৩২)

ইরান, সৌদিসহ তথাকথিত মুসলিম উম্মাহ এই দোষে দুষ্ট। এরা সভ্যতার মৃত্যু ঘটায়। অন্য ধর্মের এরা আবার বাড়াবাড়ি রকমের চালাক। এরা সভ্যতার মৃত্যু ঘটায় খানিকটা বুদ্ধি করে।

ছবিসূত্র: ISNA/PHOTO: ALIREZA SOTAKBAR (ঘটনাস্থল ইরান)।

No comments: