Saturday, April 11, 2009

জয়তু ডিজিটাল !

ডিজিটাল, এর মানেটা কী? বুঝে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। নেটে সার্চ দিয়েও কাজের কাজ হল না!
ডিজিটাল এর সঙ্গে সম্ভবত কিছু একটা যোগ থাকতে হবে। চোখ, মেইল ইত্যাদি ইত্যাদি...।

অ আচ্ছা, ডিজিটাল চোখ? ধরা যাক, আমরা যে অহরহ ব্যবহার করি কথাটা, আমি নিজের চোখে ঘটনাটা দেখেছি। (অন্যের চোখে দেখার নিয়ম নাই!)
চোখ তো দুইটা। আমরা কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করি না, কোন চোখে দিয়ে দেখেছেন? ডান, না বাম?

আহা, আগে শুনুনই না কেন বলছি এমনটা। যদি এমনটা হয় দুই চোখের একটা চোখ ডিজিটাল? তখন এই প্রশ্ন করাটা কী অবান্তর যে মনুষ্য-চোখ দিয়ে দেখেছেন, নাকি ডিজিটাল-চোখ দিয়ে?





এই ডিজিটাল-চোখা শিশুটির মত কী এমনটা হতে পারে না, তার এক চোখ দিয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে, অন্য চোখ শুকনো খটখট? কে মাথার দিব্যি দিয়েছে বাপু, এমনটা হতে পারবে না? 

অথবা এমন হতে পারে কী? ডিজিটাল দরোজা [১]? নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেলিভারি না দিলে ওয়াশ-রুমের ডিজিটাল দরোজা খুলবে না; মাথা কুটে মরলেও!
 

বা এমনও কী হতে পারে না, ডিজিটাল মমতা? মা পড়ে থাকেন গ্রামে, সুযোগ্য পুত্রধন থাকেন শহরে ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটে। বছরে একবার 'মা দিবসে' এই পুত্রধন মাকে ডিজিটাল মমতা জানাবেন। কেমন করে? আহা, কেন, ডিজিটাল পত্রাঘাতের মাধ্যমে। ই-মেইল করে।

গ্রামে মা মেইল পাবেন কেমন করে? আরে, এত যন্ত্রণার কী উত্তর হয়! এটাই তো ডিজিটাল। গ্রামে গ্রামে নেটে নেটে গিট্টু লেগে যাবে। মন্ত্রী মহোদয়গণ সেই গিট্টু খুলবেন, কম্পিউটার সম্বন্ধে অগাধ জ্ঞান নিয়ে (মন্ত্রীদের জ্ঞান আবার ব্যাপক। সাইফুর রহমান তো বলেই বসেছিলেন, 'এই দেশ হইতে বিল গেটস কম্পিউটার বিকরি করিয়া কোটি কোটি টাকা নিয়া যাইতাছে...')। 

আহারে, আমার টাকা থাকলে বেচারা গেটসকে বসুন্ধরা সিটিতে একটা শো-রুম খুলে দিতাম। গেটসের জন্য কম্পিউটার বিক্রি করা সহজতর হত।

তো, মন্ত্রী বাহাদুররা নিজেদের কম্পিউটারকে একুরিয়াম বানিয়ে মাছ চাষ করবেন। প্রসব হবে ডিজিটাল মাছ! সেই মাছ কপকপ করে খাবে ডিজিটাল মানুষ...।
জয় ডিজিটাল, জয়তু ডিজিটাল!

সহায়ক লিংক: পাই থেরাপী: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_12.html


*স্কেচস্বত্ব: সংরক্ষিত
**শিশিরের কার্টুনের অসম্ভব ভক্ত আমি। অনেক আগের পত্রিকায় তার কার্টুনটা লেখাটার জন্য দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু নিউজ-পেপারটা ছিঁড়ে অবস্থা গুরুতর বিধায় দেয়া গেল না।
নিরুপায় আমি ভাবলাম, নিজেই পেন্সিল দিয়ে ঘসাঘসি করে একটা কিছু দাঁড় করাবার চেষ্টা করি। আফসোস, শিশিরের কার্টুনের ছাপ এড়ানো গেল না।

একটি ভাল ভুল- একটি খারাপ ভুল!

৭ই মে। বরাবর যা হয়, এবারও তাই হল! যথারীতি এবারও ৭ই মে। অন্যান্য দিনের মত করে সব কাজ সারছি, তারে-নারে ভাব। সকাল গড়িয়ে দুপুর। হোম মিনিস্ট্রি থেকে হোম মিনিস্টারের ফোন। ইস্তারি(!) সাহেবার ফোন। ফোনে উত্তাপ স্পষ্ট টের পাচ্ছি।
ইস্তারি(!) সাহেবা: আজ তারিখটা কত?
আমি অবাক: কেন, বাসায় কি তারিখের যন্ত্র, আ মীন, কেলেন্ডার-ফেলেন্ডার কিছু নাই!
ইস্তারি সাহেবা (হিম গলায়): থাকুক, তুমিই বল না, শুনি একটু?
আমি (গলায় আলগা কাঠিন্য এনে): এটা রসিকতা করার সময় না। কাজের সময়।
ইস্তারি সাহেবা: আমার সঙ্গে চালবাজী করবা না, তুমি কলম চালানো ছাড়া যে অন্য কোন কাজ পার না সে আমি বিলক্ষণ জানি। আমি তোমার ছাতাফাতা আবর্জনা লেখার পাঠক না। তোমার কলমবাজী ওদের জন্য তুলে রাখো। এ্যাহ, ভারী একজন কলমবাজ হয়েছেন তিনি, এক পাতা লেখতে ১০টা বানান ভুল!
আমি (চিঁ চিঁ করে): বিষয় কি, তারিখের সঙ্গে লেখালেখির সম্পর্ক কী! আজ ৭ই মে, তো?
ইস্তারি সাহেবা: তো! লজ্জা করে না তো বলতে, চশমখোর কোথাকার। বুড়া কুইচ্চা মাছ। তোমার সঙ্গে কথা বলতে এখন আর ভাল্লাগছে না।
আমি (হড়বড় করে): শোনে শোনো, ফোন...।

ফোন কেটে দিলে আমি আকুল পাথার ভাবছি। কাহিনী কী! ৭ই মে, এই দিনে কি প্রলয় হয়েছিল যে মনে না রাখলে মাথা কাটা যাওয়ার দশা। এই দিন কী আমেরিকা জাপানে আনবিক বোমা ফেলেছিল, কেন আমার মনে রাখা প্রয়োজন? ১৩১০ গ্রাম মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ছে। লাভ কী, এই দুর্বল মস্তিষ্কের সেই শক্তি কই! আচ্ছা, আজ সকালেই বাসায় ফোটা মে ফ্লাওয়ার দেখে কি যেন একটা ভাবনা এসেও তাল কেটে গিয়েছিল? ইয়া মাবুদ, আজ থেকে ১০ বছর আগে এই দিনই বিবাহ করেছিলাম। একটি ভাল ভুল!

পায়ে কুড়াল মারা হলো নাকি কুড়ালে পা মারা হলো এ নিয়ে গবেষণা করার আর কোন অবকাশ নাই। কিন্তু দেখো দেখি লোকজনের কান্ড, এরিমধ্যে আমার এক সুহৃদ ফোন করে ইস্তারি সাহেবাকে ১০ বছর আগের করা আমার এই ভুলটার জন্য শুভেচ্ছা জানালেন। কেন রে বাবা, এটা উনাকে না বলে আমাকে বললে কী আকাশ ভেঙ্গে পড়ত!
ইস্তারি সাহেবাকে কি ভাবে ম্যানেজ করলাম সে কাহিনী বলে অন্যদের বিরক্ত করার কোন মানে হয় না। সন্ধ্যায় শুধু একবার তিনি চিড়বিড় করে বলেছিলেন, ভাঁড় কোথাকার।
ভাঁড় বলার কারণটা অতি তুচ্ছ। সন্ধ্যায় আমি ১০ বছর আগের বিবাহের পোশাকটা শখ করে পরেছিলাম। এই বিবাহের পোশাকটা, বরাবর যা পরি তাই পরেই বিবাহ করেছিলাম। সেই জিনস, সুতি শার্ট।
বিবাহের সময় কিছু অনায্য শর্ত ছিল আমার। পোশাক থাকবে এই। কন্যা ব্যবহারের কিছু কাপড় ছাড়া অন্য কিছু আনতে পারবে না। বরযাত্রী থাকবে সর্বসাকুল্যে ৭/ ৮ জন।

বিবাহের সময় মজার অনেক ঘটনার একটা ছিল এই রকম। আমি বসে আছি। কাজী সাহেব অনেকটা সময় বসে থেকে উসখুস করে বললেন, জামাই এখনও আইলো না, আমার তো আরেকটা বিয়া পড়াইতে হইব। একজন যখন আমাকে দেখিয়ে বললেন, জামাই তো আপনার সামনেই বসা। কাজী সাহেব সময় নিয়ে চশমা ঠিক করে ভাল করে আমাকে দেখলেন। টুঁ শব্দও করলেন না। কিন্তু তাঁর মনের ভাব বুঝতে আমায় বেগ পেতে হয়নি। তিনি যা ভাবছিলেন, এই বান্দর কোত্থিকা আমদানী হইল! আমি তাঁর দোষ ধরি না। পালিয়ে বিয়ে করলে এক কথা কিন্তু সেটেল ম্যারেজে একজন কাজীর এমনটা ভাবা বিচিত্র কিছু না।

আমার এই পাগলামির অন্য কোন কারণ ছিল না। আমার প্রবল আশা ছিল, আমার এই পাগলামি অন্য কোন একজন যুবকের মধ্যে সংক্রামিত হয় যদি। একটা অন্য রকম লোভ! লাভের লাভ হল কচু। ফাঁকতালে পাগল হিসাবে কুখ্যাতির পাল্লা ভারী হল। জোর গুজব, কারা কারা নাকি আমাকে দেখেছে ছাদে নাংগুপাংগু হয়ে আকাশের সঙ্গে কথা বলতে। এতে আকাশের কি এসে গেল জানি না তবে আমার দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয় বাতাস!
যাই হোক, বিবাহের দিনটা ভুলে যাওয়া কাজের কোন কাজ না। একটা খারাপ ভুল!

খাইব পান্তা, মরিব অসুখে

বৈশাখ ঘাড়ের উপর শ্বাস ফেলছে। বঙ্গালরা(!) কি পিছিয়ে থাকবেন, নাকি তাদের ছানাপোনারা?
বাংলা অক্ষর দেখে যাদের ছানাপোনাদের নাঁকিসুরে এটা না বললে যে মাথা কাটা যাবে, ড্যাড-মম, এটা কি বা-ং-লা? এরা কি এমন একটা দিনে ‘পান্তা ভাত’ খাবেন না, এটা কী ভাবা যায়! সেইসব পান্তাখেকোদের এই লেখাটা উৎসর্গ করছি।

গত বছর পহেলা বৈশাখে, মহাখালির ট্রাস্ট মিলায়তনে ৩০০ শিল্পী এবং তাদের পরিবারের লোকজনদের পান্তা খেয়ে পেট নেমে গেল। হাসপাতালে টানাটানি। যাচ্ছেতাই অবস্থা!

এবারও নিশ্চয়ই এমন কিছু একটা হবে। অপেক্ষায় আছি।

আসলে পহেলা বৈশাখে পান্তাভাত না খেলে আমাদের চলেই না। কিন্তু পান্তা বানানো নয়কো সোজা। ট্রাস্ট মিলনায়তনের শিল্পীদের পেট নেমে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করা হয়েছিল যেটা:
সকালে গরম ভাত রেঁধে দ্রুত পান্তা বানানোর জন্য এতে দেয়া হয়েছিল বরফ। সম্ভবত ওই বরফের পানি ছিল দুষিত।
তো...? লজ্জা-লজ্জা!

এই দেশের মত বিচিত্র মানুষ সম্ভব এ গ্রহে আর নাই। বিচিত্র জাতি, এরা নিজেরাই নিজেদেরকে ফাঁকি দেয়। লাল চামড়াদের অনুকরণ না করলে আমাদের পশ্চাদদেশের কাপড় ঠিক থাকে না- সারা বছর মার খোঁজ না রেখে বছরে একটা কার্ড পাঠিয়ে দায় সারা।

হায়, পান্তাখেকো এস বি সাহেবের বাবা হওয়া! বা একজন স্ত্রী বিরহী, যেদিন স্ত্রী মারা গেছেন সেই দিনই শোক প্রকাশে কাল কন...পরে ফিঁয়াসের কাছে যাওয়া...।