Search

Sunday, January 17, 2010

জ্ঞানপাপী: আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান

সিতারায়ে হরর খেতাবে ভূষিত, ডেভিল ডেয়ারখ্যাত অতিশয় দক্ষ পাইলট মতিউর রহমান পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর সব কর্মকর্তাকে ফাঁকি দিয়ে মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে অবাঙালী ছাত্র বৈমানিক রশিদ মিনহাজসহ একটি T-33 বিমান হাইজ্যাক করে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন ২০ আগষ্ট ১৯৭১ সালের শুক্রবার।
 
এ ভয়াবহ কাজে তাকে সহায়তা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী মিলি রহমান। সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দুই শিশুসন্তানসহ থেকে গিয়েছিলেন মৌরিপুর বিমানবাহিনীর অফিসার্স মেসে।

ভারতীয় সীমান্ত থেকে ৩ মিনিটের দূরত্বে থাকতেই মরুভূমিতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। অবাঙালী ছাত্র-বৈমানিক রশিদ মিনহাজসহ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান নিহত হন। রশিদ মিনহাজকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'নিশানে হায়দার'-এ ভূষিত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে গাদ্দার বা ট্রেইটর চিহ্নিত করে মতিউর রহমানকে সমাহিত করা হয় অনাদরে-অবহেলায় তীব্রতম ঘৃণার সঙ্গে ঐ বিমানঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে। বিমানঘাঁটির মূল প্রবেশদ্বারে টাঙিয়ে রাখা হয় রশিদ মিনহাজের ছবি সমরবীর হিসেবে। জানানো হয় অভিবাদন। অন্যদিকে মতিউর রহমানের ছবি টাঙিয়ে গাদ্দার হিসেবে থুথু ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়। (গোলাম আজম বাণীও দেন)।

...মিলি রহমান বলতে থাকেন ৩৪ বছর আগে মধ্য জুলাইয়ের সেই দিনের কথা। বেশ গম্ভীর এবং অন্যমনস্কতার মধ্যে আমাকে এসে নতুন সালোয়ার কামিজটা পরে টাইট করে চুল বাঁধতে বলে ছোট কন্যা তুহিনকে কোলে তুলে নিল। আদর করতে থাকলো ভীষণ তাকে। তারপর তারই পরামর্শে বোন রোজীকে লিখতে হলো একটা চিরকুট...রোজী আপা, তুহিন বাড়িতে থাকলো। ওকে দেখো। ওর এই কাজকর্ম দেখে সাত মাসের ছোট তুহিনকে কোলে নিয়ে অঝোরধারায় কেঁধে উঠলাম।
তা দেখে মতিউর বলে উঠলো, দেশের জন্য একটা বাচ্চাকে ছাড়তে পারছো না! দেশের ঐ অবস্থা দেখেশুনেও একটা বাচ্চা নিজের বোনের কাছে ছেড়ে যেতে এতো কষ্ট হচ্ছে তোমার? কত বাচ্চা চাই তোমার? দেশ স্বাধীন হলে আমিই তোমাকে দেব অনেক বাচ্চা।

এর পর মাহিনকে নিয়ে ওর সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম এয়ারফিল্ডে। গার্ডকে জানালো, বেগম সাহেব ও বাচ্চা এসেছে একটু প্লেন দেখবে। বিনা বাধায় প্লেনের কাছে পৌঁছাতেই ইশারা করলো মাহিনকে নিয়ে ককপিটে বসতে। তাকিয়ে দেখি প্লেনটা শেকল দিয়ে বাঁধা। আমি আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করলাম, 'ধরো প্লেনটা স্টার্ট নিলো না, আবার নিলেও শিকল বাঁধা প্লেন উড়বে কেমন করে? আর এটা করতে গেলে ওরা কী করবে'?
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে খুব ক্যাজুয়ালি উত্তর দিল, 'গুলি করে মেরে ফেলবে, আর কি হবে'?
আমি বললাম, 'এক মেয়ে বাড়িতে ফেলে এসে আরেক মেয়ে নিয়ে এতবড় রিস্ক নিতে পারবো না'।
ও ফট করে উত্তর দিল, 'এ জন্যই মেয়ে মানুষ নিয়ে কোনো কাজ হয় না'।

তারপর বাড়ি ফিরে এলাম। হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে ও বলে উঠলো, 'আমাকে মাফ করে দিও। আমার মাথা ঠিক নাই। আমার পরিকল্পনাটা ঠিক হয়নি। কিন্ত কি করবো বলো, কিছু একটা না করা পর্যন্ত স্বস্তিও পাচ্ছি না যে'।

...১৯ আগষ্ট সকালে মতিউর ঘর থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রী মিলি রহমান প্রতীক্ষায় থাকেন। দুপুরের দিকে গাড়ির শব্দে বেরিয়ে এসে দেখেন ফিরে এসেছেন তার প্রিয় মতি। ...আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় এদিন ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন মতিউর রহমান।
এরপর আসে ২০ আগষ্ট, ১৯৭১ শুক্রবার। সে দিনের কথা স্মরণ করে মিলি রহমান বলেন, রাতে দেখলাম মতি ঠিক ঘুমুচ্ছে না। বারবার আমাকে আর বাচ্চাদের দেখছে। কিন্তু আমি তাকালেই আবার শুয়ে পড়ছে। সকালে উঠে স্বাভাবিক কায়দায় অফিসের পথে রওয়ানা হন তিনি। সে দিন যাবার সময় কোনো কথা হয়নি তার সঙ্গে। এমনকি প্রতিদিনকার মতো খোদা হাফেজ বলা হয়নি মিলি রহমানের।

...২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন মিলি রহমান বোনের সঙ্গে। আসার আগে দেখতে চেয়েছিলেন প্রিয় মতির কবর। অনেক চেষ্টার পর অনুমতি মিলেছিল। Traitor of the Nation ক্যাপশন লেখা মতিউরের ছবি গাঁথা মূল ফটক পেরিয়ে কবরখানায় পৌঁচেছিলাম অবশ্য। নামতে দেয়া হয়নি। গাড়িতে বসেই দূর থেকে একনজর দেখা। প্রিয়তম মানুষের কবর দেখা!

...এতো তিক্ততা যেন আর কারো জীবনে না আসে। আমি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী। সবখানে যাবার সুযোগ ছিল। সামাজিক এই মর্যাদা, সম্মান, পরিচিতির পরও আমাকে যে তিক্ততার স্বাদ নিতে হয়েছে, তাতে আমার সব সময় মনে হয়েছে সাধারণ মেয়েদের অবস্থা তাহলে কত শোচনীয়, কত দুর্দশাগ্রস্ত! এটা যে কী সাংঘাতিক জিনিস বলা মুশকিল। যেই বুঝল আমার স্বামী নেই ওমনি আমি যেন বেওয়ারিশ জিনিস। কোনো খুঁটি নেই, যা ইচ্ছে তাকে নিয়ে যেন করা যায়। অশ্রুসজল হয়ে উঠেন তিনি।
বলেন, বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, ছয়টা হরমোন ইনজেকশন নিতে হয়েছে আমাকে শুধু মোটা হবার জন্য। যাতে আমাকে বয়সী দেখায়। ভারিক্কি দেখায়। বয়স বাড়ানোর জন্য আমার মতো মানুষকে বাধ্য হতে হয়েছে এই ইনজেকশন নিতে। তাহলে বোঝেন অন্য মেয়েদের, নারীদের অবস্থা...।

...৩৪ বছর ধরে তো কেউ ইতিহাস লিখল না। সেই ইতিহাসের কথা তো আমাকেই লিখতে হলো।
...এমনকি আমার নিজের পরিবারেও লিখবার মতো যোগ্য লোক ছিলেন। আমার দু-বোনজামাই আলাউদ্দিন আল আজাদ ও মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামানের মতো লোক ছিল। তারাও তো লিখতে পারতেন। কেউ তো লিখল না। বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে এখানে ওখানে নানাভাবে লেখা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে আছে। জাহানারা ইমাম লিখেছেন। কিন্তু আমার জানামতে, বিস্তৃত করে পুরো জীবন জানবার মতো করে তাদের নিয়ে লেখা হয়নি। আমি অন্তত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে (বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর স্মারকগ্রন্থ) নিয়ে সে চেষ্টাটা করলাম।"
(এই দেশে আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামানের মতো মানুষদের সংখ্যা কম হলে আমাদের মতিউর রহমানের ফিরতে এতো দীর্ঘ বছর লাগত না।)


*লেখা সূত্র: সাপ্তাহিক ২০০০
**ছবি-স্বত্ব: শম্ভু সেনগুপ্ত, আগরতলা/ সংগ্রহে: দুলাল ঘোষ। এবং ছবিটা প্রতীকী।

Saturday, January 16, 2010

কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট

'কালের কন্ঠ' নামের একটি দৈনিক ১০ জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছে। এই দেশের সেরা সন্তানরা ঝাঁপিয়ে পড়ে পত্রিকাটিকে আর্শিবাদ করেছেন, 'আয়ুষ্মান ভবঃ'। এতে সমস্যা নাই, আর্শিবাদ খারাপ জিনিস না। স্বল্প পরিসরে সবার কথা বলা তো সম্ভব না, কয়েক জনের কেবল লেখার শিরোনামই উল্লেখ করি:
হুমায়ূন আহমেদ:
"বৈরি স্বর।" (হুমায়ূন আহমেদ বৈরি স্বরে ইনিয়ে বিনিয়ে তাঁর বেদনার কথা বলেছেন, তিনি শোকে মুহ্যমান। কাঁদতে কাঁদতে শ্যাষ কিন্তু তিনি রাজাকারের পত্রিকা ইনকিলাব, পূর্ণিমায় লেখতে বড়ই আনন্দ বোধ করেন। ভালো টাকা পেলে তিনি গোলাম আজমের পত্রিকাতেও লিখবেন, আই বেট! তাঁর এই লেখাটা পড়ে আমার এক চোখে পানি এক চোখে জল চলে এসেছিল। সেই 'পানিজল' গড়িয়ে কী-বোর্ডে গেলে তো সর্বনাশ!)
মুহাম্মদ ইউনূস:
"সংবাদপত্র, তুমি কার? ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন আমরা ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে যত সময় কাটাই , তার চেয়ে বেশি পরিমাণ উচ্চমানের সময় কাটাই দৈনিক সংবাদপত্রের সঙ্গে।" (তিনি সংবাদপত্র তুমি কার? এটা না বলে সুদ, মহা-সুদ, তুমি কার? এটা বললে ভালো হতো। মুহাম্মদ ইউনূসের এই কথায় ভয়ংকর এক সত্য উঠে এসেছে। ছাপার অক্ষর ওরফে সংবাদপত্র যে কী শক্তিশালি তা আঁচ করা যায়। এমন মারণাস্ত্র দুষ্টের হাতে থাকা আর বানরের হাতে ক্ষুর থাকার মধ্যে কোন ফারাক নাই। কী ভয়াবহ!)
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান:
"স্বপ্নের বাংলাদেশ'। আমাদের স্বপ্নভঙ্গের জন্য রাজনীতিকসহ অন্যদের সঙ্গে দায়ী আমাদের প্রশাসনের বুদ্ধিধর আমলারা।" (স্যার, আপনার কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের স্বপ্নভঙ্গের জন্য কেবল কি এরাই দায়ী? একজন অভিযুক্ত খুনি, ভূমিদস্যু, তস্কর কি দায়ী না?এদের পক্ষে লিখে আপনি দায়ী না?)
 
মুহমম্দ জাফর ইকবাল: 
"প্রথম বছর। এখন ১৫ আগস্টের অন্যান্য হত্যাকান্ড আর জেলহত্যার বিচার শেষ করতে পারলেই এই কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা যায়।" (হে স্বপ্নবাজ, আপনি কেন বোঝেন না আপনাকে লক্ষ-লক্ষ তরুণ অন্ধের মতো অনুকরণ করে! আপনিও যখন যেখানে খুশি লেখেন তখন আমাদের আর দাঁড়াবার জায়গা থাকে না। আমাদের দেশের স্বপ্নবাজের যে বড়ো অভাব। জেলহত্যা অসম্ভব ভয়ংকর একটি ঘটনা এতে কোন দ্বিমত নাই কিন্তু আপনি কি সাব্বির [যার রক্ত লেগে আছে আহমেদ আকবর সোবহানের হাতে, এই হত্যার বিচার চান না?)
 
আকবর আলি খান:
"গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত। প্রায় প্রতিটি দেশেই গগনস্পর্শী দুর্নীতি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গ্রাস করেছে।" (ভাল! স্যার, দুর্নীতি কি নীতি হয়ে যায় পত্রিকা বের করলে?)

হাসান আজিজুল হক:

"বারবার ফেরত পাঠানো স্বপ্ন। চক্ষুষ্মান মাত্রেই মানুষ দেখতে পাচ্ছে উজ্জ্বল দুপুরের সূর্য নিষ্প্রভ।" (রাইট স্যার। আপনার মতো লেখকরাই আমাদের স্বপ্ন দেখান, দুঃস্বপ্নও দেখান।)

আল মাহমুদ: 

"আমাদের স্বপ্নের স্বদেশ।" (আল মাহমুদকে নিয়ে আমার বলার বিশেষ কিছু নাই)
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক:

'তথ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। জাপান...সেখানে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ১৫ কপি পত্রিকাও কেন সঞ্চালিত হয় না- তা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয় না।" (আচ্ছা, এই আ আ ম স এটার অর্থ জানার জন্য কি রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয়? না-হলে আমার জানার খুব ইচ্ছা এই আ আ ম স এটার অর্থ কি?)
 
আবদুল গাফফার চৌধুরী:
"বৈরী স্বকাল এবং দ্রোহী সংবাদপত্র।" (তিনি আবেদ খানকে তুমি-তুমি বলে বিস্তর উপদেশ দিয়েছেন। বিস্তারিত লিখতে চাচ্ছি না, ইতিমধ্যে মনিটর তেলতেলে হয়ে গেছে।
এই দেশের আরও অনেকে আছেন। ক-জনের আর নাম বলব? আরও আছেন ওপার বাংলার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, অভিজিৎ সেন সহ অনেকে। আহা, আমাদের ছফা নাই, নইলে দাদাদের উপর ক্ষেপে যেতেন।
বৈদেশি সাহেবরাও পিছিয়ে নেই। নোয়াম চমস্কি, নাদিন গর্ডিমার সহ অনেকে। নাদিন গর্দিমারের সঙ্গে রুবানা হকের ছবিও ছাপা হয়েছে আমাদের বিশ্বাসের ভিত জোরালো করার জন্য। এর আদৌ প্রয়োজন ছিল না। দাদারা এবং বৈদেশি ভাইয়ারা আমার এই লেখার মূল উপজীব্য না- এরা এই দেশের কী ঘোড়ার ডিমটা জানে! আমাদের দেশের সেরা সন্তানদের নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখি আমাদের সেরা স-ন্তা-ন! আহারে, এঁরা, খোকারা কি জানেন না 'কালের কণ্ঠ' কার পত্রিকা!
 
আমার জানার খুব ইচ্ছা, গোলাম আজম সাহেব যদি 'মুড়ির ঘন্ট ' নামে কোন পত্রিকা বের করেন, সেই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে আবেদ খানের মত কাউকে (ধরুন, আপনাকেই বানিয়ে দেয়া হলো) বসিয়ে দেন তাহলে কি আমার দেশের এই সেরা সন্তানরা হুবহু এমন লেখাই লিখবেন? নাকি লেখার সুর অনেকখানি পাল্টে যাবে? নাকি এরা মুড়ির ঘন্টে লেখা দেবেন না? কেন-কেন, কেন লেখা দেবেন না কেন? লেখা না দিলে ব্যক্তিগত ভাবে আমি ভারী দুঃখিত হবো। এ অন্যায়! কেন রে বাপু, কেন এমন অনাচার? 
 
আহমেদ আকবর সোবহান যেমন এ দেশের নাগরিক, গোলাম আজমও। কি বললেন, এটা কী সত্য না? সত্য, আচ্ছা, গোলাম আজম কি বড়ো ধরনের অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত না? সো, হোয়াই য়্যু আস্ক মী সাচ দিস কোশ্চেন? অভিযুক্ত তো আহমেদ আকবর সোবহান, তিনিও তো ভুমিদস্যুতা, কর ফাঁকি মায় সাব্বিরের খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত- তার খুনি সন্তানকে বাঁচাবার জন্য বিস্তর অন্যায্য কলকাঠি নেড়েছেন! প্রকারান্তরে এ-ও অন্যায়, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এদের দু-জনের কেউই নিজ হাতে খুন করেছেন এমন চাক্ষুষ প্রমাণ নাই কিন্তু আমি কি গোল্ডা মায়ারের বিখ্যাত সেই কথাটা মনে করিয়ে দেব,
"কাউকে নিজ হাতে হত্যা করা এবং হত্যার করার সিদ্ধান্ত দেয়ার মধ্যে কোন ফারাক নাই"।
নাকি এখন এটাও মনে করিয়ে দেয়ার আবশ্যকতা আছে, খুন করা এবং সজ্ঞানে খুন ধামাচাপা দেয়া দুই-ই জঘণ্য অপরাধ। কে ৭১ সালে অন্যায় করেছে, কে ২০০৬, ২০১৬, ২০২৬ সালে তাতে কী, তাতে কি অন্যায়ের হেরফের হয়? কার অপরাধ কতো বড়ো সেটা তো এখানে আলোচ্য বিষয় না। আমি তো বিচারক না, কার গলায় ফাঁসির দড়ি ঝুলবে নাকি ফুলের মালা সেটার বিচারের ভার তো আমার উপর না। এটা আইনের এখতিয়ার। আমি সমস্ত অপরাধিকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দেখতে চাই। কার ১ বছরের জেল হবে, কার ১০০ বছরের সেটা পরের কথা- ৩৭ বছর গেল নাকি ৩৭০ বছর তাতে কী!
আমি খুনিকে স্রেফ খুনি বলব, মুনি না- রাজাকারকে রাজাকার বলব, ছড়াকার না। ভূমিদস্যুকে ভূমিদস্যু, সাব্বিরের খুনিকে খুনি, দ্যাটস অল। কোন-কোন বিখ্যাত মানুষ তাদের কোলে বসিয়ে চুমু খেলেন নাকি আয়ুষ্মান ভবঃ বলে আর্শিবাদ করে-করে পশ্চাদদেশ দোলালেন, তাতে আমার কী!
 
পাখি উড়ে যায় ফেলে যায় পালক- পানি চলে যায়, রেখে যায় দাগ। বাঁচার জন্য কোথাও না কোথাও একটা গাছ থাকতেই হবে তেমনি অন্ধকারেরও একটা দাগ থাকবেই। নিতল অন্ধকার থেকে উঠে আসা 'কালের কন্ঠ'ও তার ছাপ রেখে যাবে এর জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আগামীতেও এই সমস্ত মিডিয়া এই পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যক্ষ খুন, পরোক্ষ খুনের ধামাচাপা দেওয়ার বেলায় বেশ কাজে লাগবে। জুম্মা জুম্মা সাত দিনও হয়নি, নমুনা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে...!
 
আফসোস, আমরা একবারও ভাবি না যে আমরা 'পাইপমানুষ' না। ‘পাইপমানুষ’! যে মানুষ নামের পাইপের এক পাশে থাকে যার চালু নাম খাবার- অন্য পাশে আবর্জনা! খাবার...ভদ্রতা করে বললাম নইলে খাবার না ছাই! ভাগ্যিস, মস্তিষ্ক খাবার নামে যে সমস্ত খাদ্যবস্তু চেনে বলে রক্ষা নইলে সর্বনাশ হয়ে যেত। কারণ মানব-বর্জ্যকেও খাবার রূপে চিনত। তখন গোটা গ্রহ বর্জ্যময়! 
তো, জন্তুর মত কেবল খাওয়া আর বাথরুম করার জন্য এই গ্রহে আমাদের সু-আগমণ না। কে বড় লেখক, কে বড় সাংবাদিক, কে বড় ব্যবসায়ি তারচেয়ে জরুরি হচ্ছে কে একজন ভাল মানুষ। এবং একজন ভাল মানুষ 'পাইপমানুষ' না-বলেই তার পরের প্রজন্মের জন্য তার জ্ঞানটা রেখে যায়। এভাবেই একজনের হাত ধরে-ধরে সভ্যতা এগিয়ে যায়। মানুষ ক্রমশ অমর হতে থাকে...।    

Friday, January 15, 2010

হুমায়ূন আহমেদ: এক চোখে জল, এক চোখে পানি

'কালের কন্ঠ' [১] নামের একটা দৈনিকের প্রথম সংখ্যায় হুমায়ূন আহমেদ 'বৈরী স্বর' নামের একটা লেখা লিখেছেন। তিনি লেখার এক জায়গায় গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই বেদনা আমাকে ছুঁয়ে যায়, হুমায়ূন আহমেদের দেখাদেখি এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে আসে!
ওই দৈনিকে তিনি লিখেছেন: ‍‍"শর্ষিনার পীর সাহেবকে পদক (স্বাধীনতা পদক) দেয়ার গল্প। ...এই নামের তালিকায় শর্ষিনার পীর যুক্ত হলেন ১৯৮০ সালে। ১৯৭১ সালে তাঁর ভুমিকা আমি দেখেছি।
...আমি কোন উপায় না দেখে আমার ছোট ভাই জাফর ইকবালকে নিয়ে শর্ষিনার পীর সাহেবের মাদ্রাসায় গেলাম, যদি সেখানে লুকিয়ে থাকা যায়।
...শর্ষিনার পীর সাহেব আমাদের দুই ভাইকে আশ্রয় দিলেন না। সংগত কারণেই শর্ষিনার পীর সাহেবের স্বাধীনতার পদক প্রাপ্তিটা আমার বুকে বিষমাখা তীরের মতো বিঁধল।"

খারাপ, খুব খারাপ! শর্ষিনার পীর সাহেব কাজটা মোটেও ভালো করেননি! কিন্তু শর্ষিনার পীর সাহেবের বিরুদ্ধে এমন কোনো অন্যায়ের (যা দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ) প্রমাণ না থাকলে তাঁকে কাঠগড়ায় উঠাবার যো নাই।

তবে কিছু অন্যায় আছে যার জন্য একরাশ ঘৃণা ছুঁড়ে দিতে কোন সমস্যা নাই। আমি শর্ষিনার পীর সাহেবের প্রতি একরাশ ঘৃণা বর্ষণ করি!

হুমায়ূন আহমেদ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ওটির টেবিলে শুয়ে অনেক কান্না করেছিলেন। আহা, মুক্তিযুদ্ধের উপর বইটা শেষ না করে মরে যাওয়াটা কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তিনি 'জননী ও জ্যোৎস্নার গল্প' লিখে প্রকাশের দিন মেলায় আরেক দফা কান্নাকাটি করেছিলেন।
আমারও তখন কাঁদতে ইচ্ছা করছিল। আমার আবার একটা অসুখ আছে, কারও কান্না দেখলে হুদাহুদি কাঁদতে ইচ্ছা করে, তহবন ভিজে যায়। লোকজনকে অবশ্য বলে বেড়াই চোখে পোকা পড়েছে।

তো, চোখ থেকে পোকাটা বের করে দেখি, হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বইটার দাম ৪০০ টাকা! এই দামে বইটা কেনা হলো না। বইটা পড়ে আরও খানিকটা কাঁদার সুযোগ হলো না, আফসোস, তহবনটা শুষ্কই থাকল!

হুমায়ূন আহমেদ কান্নাকাটিটা একটু কমিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বইটার দাম কমিয়ে রাখলে আমাদের মতো আমজনতার খানিক সুবিধা হতো। এটা কঠিন কোন কাজ ছিল না। প্রকাশককে বললেই হতো, বইটার দাম অর্ধেক রাখেন, আপনার লোকসান হলে আমি দেখব। তাঁর শত-শত বইয়ের কোটি-কোটি টাকার খেলা থেকে অন্তত এই একটা বইয়ের জন্য আমাদের এমন আবদার, মামা বাড়ির আবদার হতো বলে আমি মনে করি না।

মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই, শর্ষিনার পীর সাহেব খতরনাক অন্যায় করেছেন এতে কোন সন্দেহ নাই। বেশ-বেশ! তা হুমায়ূন আহমেদ স্যার, তিনি কী করেছেন? মাওলানা মান্নানের দৈনিক 'ইনকিলাব', 'পূর্ণিমায়' বছরের পর বছর ধরে লিখে গেছেন। তখন কার কী ক্ষতি হয়েছিল আমি জানি না, অন্যদের কথা বলতে পারব না কিন্তু তখন আমার নিজের কাছে মনে হতো দাঁড়াবার আর কোন জায়গা থাকল না।

আলোকিত এই সব মানুষ এমনটা করলে কার কাছে গিয়ে দাঁড়াব? 

জাহানারা ইমাম তাঁকে বারংবার অনুরোধ করেছিলেন, ইনকিলাব-পূর্ণিমায় না লিখতে। হুমায়ূন আহমেদ লিখে গেছেন। এতে হুমায়ূন আহমেদের গাত্রদাহ না হলেও আমাদের হয়। হুমায়ূন আহমেদকে নিশ্চয়ই মন করিয়ে দিতে হবে না রাজাকার মাওলানা মান্নান কতো বড়ো মাওলানা ছিলেন? তাহলে হুমায়ূন আহমেদ নামের মানুষটা এইসব মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়ে ফিচ ফিচ করে কান্না করেন কেন? কেন অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলেন? কেন আমাদের প্রজন্মকে আফিম মেশানো লেবেনচুষ খাইয়ে বিভ্রান্ত করেন?

অপরাধ কার বড়ো, শর্ষিনার পীরের নাকি হুমায়ূন আহমেদের? কাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? শর্ষিনার পীরকে যেমন সম্ভব না তেমনি হুমায়ূন আহমেদকেও? কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই যে, কাউকে আশ্রয় না-দিলে আইন ভাঙ্গা হবে আবার ইনকিলাব-পূর্ণিমায় লেখা যাবে না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের মত লেখক যখন এই কাজটা করেন তখন এই প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধটা একটা খেলা ব্যতীত আর কিছুই মনে হয় না!

এই দেশে কখনও-কখনও অনেক লেখক ক্ষিধার জ্বালায় তাঁর কলম বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। একজন আল মাহমুদ (একটা উদাহরণের জন্য নেয়া) যখন সংগ্রাম পত্রিকায় লেখেন তখন খুব দোষ হয়ে যায়, না? আমি তো আল মাহমুদের প্রতি দুঃখ বোধ করি, বেচারা! এই দেশে লেখকদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি কিন্তু তাঁর জীবন ধারণের ভাবনা কারও নাই। লেখক নেংটি পরে উবু হয়ে লিখে যাবেন, আজিব!

এ দিক দিয়ে ব্যতিক্রম হুমায়ূন আহমেদ, তাঁর কলম দিয়ে টাকা বের হয়। ক্ষিধার জ্বালায় না, তিনি কলম বিক্রি করেন অতি লোভের কারণে, সীমাহীন দুর্দান্ত লোভ! তাঁর যেমন ইনকিলাবে লিখতে কোন সমস্যা নাই তেমনি কালের কন্ঠেও। আই বেট, ভালো টাকা পেলে তিনি গোলাম আজমের পত্রিকাতেও লিখবেন।
ইনকিলাবের মাওলানা মান্নান এবং সুপুত্র সানবীরের গর্বিত পিতা কালের কন্ঠের আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলম, এরা দু-জনেই, সাব্বির এবং ডাক্তার আলীম চৌধুরীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত।


শাহআলম এবং মান্নান, এ সত্য দুজনের কেউই নিজ হাতে খুন করেননি, এও সত্য দুজনের কাউকেই দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তি দেয়া যায়নি। তাহলে? আমার মতে, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করলে শাহ আলম নাকি মাওলানা মান্নান, কার অপরাধ কঠিন এটা ভাবনার বিষয়...


সহায়ক সূত্র:
১. কালের কন্ঠ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_16.html 
২. জাহানারা ইমাম: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3476.html
৩. মাওলানা মান্নান: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_18.html 
৪. আল মাহমুদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_29.html 
৫. গোলাম আজম: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_29.html    

Thursday, January 14, 2010

মিটিং-মেটিং কমালেই সবার মঙ্গল

সকাল-সকাল মেজাজ তিরিক্ষি। কিছু লোকজন এসেছেন। এরা নাকি একটা কমিটি করবেন। জানলাম, এই কমিটির আবার পদের অভাব নাই, আহ্বায়ক নামের একটা জিনিসও নাকি আছে! আচ্ছা, আহ্বয়াকের কাজ কি আহ্বান করা? মোয়াজ্জিন টাইপের কিছু নাকি?
আমার কাছে এসেছেন এদের সঙ্গে থাকার জন্য। আমি মনে মনে অবাক, অরি আল্লা, আমি এতো কাজের লোক হলাম কবে থেকে, টেরটিও পেলুম না? আজকাল লোকজনের মিটিং নামের জিনিসে আমার প্রয়োজন অনুভব হচ্ছে? লজ্জা-লজ্জা!

ঘটনা কি জানার আগ্রহ
। ঘটনা গুরুতর। এঁরা দেশ উদ্ধার করতে চান- ইনারা শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। আহা, করেন না, আটকাচ্ছে কে (আমি নিষেধ করেছি নাকি)!
এত্তো সোজা না, এই নিয়ে একটা কমিটি করা হবে। বিভিন্ন পদে বিভিন্ন লোকজন থাকবেন। এদের ভাষায় রেজ্যুলেশন হাউজ থেকে পাশ হবে। আমি হিসাব করে দেখলাম এতে কয়েক দিন চলে যাবে। ওই মিটিং-এ পদের জটিলতা শেষ হলে আরেকটা মিটিং-এ সবাই একত্রিত হবেন। তারপর বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র যোগাড় করা হবে। সেগুলো বাছাই করার জন্য আবার কিছু লোকজন থাকবেন, তালিকা করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও কি কি বলেছিলেন মনে নাই।
অতঃপর কোন একটা দিনক্ষণ দেখিয়া মাইকিং করা হইবে। তাহার পর এই সব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হইবেক।

কী বিচিত্র, এটা শীতের শুরুতে কিন্তু তাদের মনে হবে না, হঠাৎ করেই মনে হবে। যেন শীত জীবনে একবারই আসে। আমাদের সরকার বাহাদুরের আমলারাদের এখন দেখছি জনে জনে ঢাকায় নোট পাঠাতে শুরু করেছেন শীতবস্ত্র চেয়ে। বেশ-বেশ, ইহাদের শীতবস্ত্র আসিতে আসিতে শীতবস্ত্র থাকিবে কিন্তু হাভাতে আর মানুষ থাকিবে না।

এদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিতে পারলে আরাম পেতাম। আফসোস, আমি কিছু নিয়ম মেনে চলি তার একটা হচ্ছে, বাসায় কেউ আসলে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ না-করার চেষ্টা করা। কিন্তু তাই বলে মনে মনে চু...ভাই বলতে তো কোন সমস্যা নাই। এটা বলতেও তো সমস্যা নাই, তোমাদের মিটিং তোমাদের পশ্চাদদেশে নিয়ে বসে থাকো। গীনসবার্গের কথা খানিকটা ধার করে বলতে ইচ্ছা করছিল, গো ফাক ইয়োরসেলফ উইথ গরমকাপড়।
আসলে এইসব মিটিং নামের জিনিস আমাদের রক্তে ঢুকে গেছে- ঢোল না পিটিয়ে আমরা কোন কাজ করতে পারি না। ওই আসে মহাপুরুষ-এ-এ-এ...। বাদ্য বাজাও।

এই চু...ভাইদের কে বোঝাবে এতো যন্ত্রণার কোন প্রয়োজন নাই। পুরনো কাপড়ের গাঁইট কিনলে একটা কাপড়ের দাম পড়ে ৫ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ১০০ টাকায় অন্তত ২০জনকে কাপড় দেয়া সম্ভব। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে জনে জনে বেরিয়ে পড়লেই হয়। এর জন্য মহাপুরুষ দূরের কথা পুরুষ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবে মহিলার স্থলে পুরুষ হলে খানিকটা বাড়তি সুবিধা রাত-বিরাতে কাপড় বিলি করা সহজ।

এইসব চু...ভাইদের সমস্যা আছে। হর্স-মাউথের মত খালি কথা আর কথা। গুলি করার আগেও বকতে থাকবে ওয়ান, টু, থ্রি...টেন! আমি নিশ্চিত এই সব মানুষরাই বলে, 'আমার মারে আরেকটা খারাপ কথা কয়া দেখ, এক্কেরে শ্যাষ কইরা ফালামু'। আরেকটা খারাপ কথা! আরেকটা খারাপ কথা মানে কি রে চু...ভাই? মাকে আরেকটা খারাপ কথা বলতে হবে কেন? একবার বলার পরই তো ওই মানুষটার লাশ পড়ে যাওয়ার কথা।

আমাদের সমস্যা হচ্ছে, হঠাৎ হঠাৎ আমাদের মনে পড়ে যায়, ক্ষিধের মত জোশ চাগিয়ে উঠে। শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের হঠাৎ মনে পড়ে তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন, তাঁর কাজের ছেলেকে শিক্ষিত করা প্রয়োজন। হঠাৎ করেই আমাদের মনে পড়ে, একদিন বাঙ্গালি ছিলাম রে। ব্যস, পহেলা বৈশাখে পান্তাভা খাওয়ার নাটক করতে হবে রে-এ-এ। এংরাজি পড়ুয়া সন্তান বলে
ফট করে বসবে, মম, এটা কি বোংলা।
এই দেশের সেরা সন্তান-মুক্তিযোদ্ধাদের কথাও আমাদের হঠাৎ করে মনে পড়ে, বিশেষ একটা মাসে। তখন কোনটা চোখের জল, কোনটা নাকের এটা আলাদা করার জন্য বৈদেশ থেকে যন্ত্র আমদানি করার আবশ্যকতা দেখা দেয়।
লেখক আল মাহমুদেরও হঠাৎ মনে পড়ে যায় তিনিও একদা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন! কত্তো কত্তো জিনিস যে আমাদের হঠাৎ মনে পড়ে তার ইয়াত্তা নাই। যেমন আমাদের সরকার বাহাদুরের ছানা-পোনাদের হঠাৎ মনে পড়েছে শীতবস্ত্র প্রয়োজন। জীবনে একবারই যে শীত আসিল রে!

আমি কোথাও বলেছিলাম, "একজন ভাল লেখক, একজন ভাল রাজনীতিবিদ, একজন ভাল শিক্ষাবিদ, একজন ভাল ম্যানেজার মানেই একজন ভাল মানুষ না"।

Wednesday, January 13, 2010

অতি সাধারণ এক গল্প

এরা দু-বোন। বড়টার নাম সিমু, বয়স আনুমানিক ১০। ছোটটার নাম রিয়া, বয়স ৩। থাকে রেলস্টেশনে।

খুব সাধারণ এদের গল্প-জীবনকাহিনি। ট্রাক ড্রাইভার বাবা আরেকটা বিয়ে করেছিল। একদিন মা-ও অন্য একজনকে বিয়ে করে ফেলে। এদের খালা তখন বড়জন-সিমুকে বলে, 'তোর ভইন রে নিয়া যা'।
তখন সিমু (প্রায় মাসখানেক হবে) বোন রিয়াকে তার কাছে নিয়ে আসে। সেই থেকে এই ৩ বছরের রিয়ার মা-বাবা-খালা-এই গ্রহের সবই সিমু!

কাল এখানে তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
খোলা স্টেশনে হু হু করে বাতাস বয়। গরমসব কাপড় লাগিয়ে ঠান্ডায় হি হি করে কাঁপছি। হা ঈশ্বর, এরা দু-জন দিব্যি খুনসুটি করছে তীব্র শীত উপেক্ষা করে! এমন উচ্ছল-প্রাণবন্ত, চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না!
কবি-সাহিত্যিক আচ্ছা করে গুছিয়ে লিখতে পারতেন, বিশাল-বিশাল লেখা ফেঁদে বসতেন! আমার এই ক্ষমতা নাই! আফসোস, থাকলে ভাল হত।

অন্যদের কাছে শুনেছি, রিয়াকে কেউ-কেউ নিতে চেয়েছিল; সিমু দেয়নি। এর এককথা, 'সবাই হেরে ফালাই দিলেও আমি দিমু না'। ছোটটা-রিয়া, এও বোনের ভারী ন্যাওটা!
আমি তখন তাচ্ছিল্যের হাসি গোপন করেছিলাম, এ্যাহ, সিমু, যে নিজেই নিজেকে সামলাতে পারে না সে কিনা সামলাবে তার ছোট বোনকে! পাগল!

আজ আমি নিজেই নিজের উপর তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলাম। এদের সকাল থেকে খাওয়া হয়নি, খাচ্ছিল দুপুর ১টায়। সে এক দৃশ্য! এদের অজান্তেই পুরোটা সময় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এদের খাওয়া দেখি। সিমু প্রায় সমস্ত খাবার রিয়াকে খাইয়ে দিচ্ছে, অবশেষে তার জন্য তেমন কিছুই পড়ে থাকল না।
আমার মাথায় সব কেমন জট পাকিয়ে যাচ্ছিল। ১০ বছরের এই মেয়েটির এমন বিপুল মায়ার উৎস কোথায়- কোন নিতল থেকে উঠে আসে এমন মায়া? এমন মায়া জন্মদাত্রী মার থাকে শুনেছিলাম। কিন্তু...?
সুযোগ থাকলে কালো-কালো অতি সাধারণ ছোট্ট এই মেয়েটির কাছে হাঁটু গেড়ে নতজানু হয়ে বলতাম, অ মেয়ে, তুমি খানিকটা মায়া ধার দাও না গো আমায়। আমি মনে মনে এই বর ভিক্ষা চাই তোমার কাছে। এর বদলে যা চাইবে তাই দেব।

শ্লা, একজন মাদার তেরেসা লক্ষ-লক্ষ মানুষের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দিয়েও আমাদের ধর্মমতে বেহেশতে যেতে পারবেন না কিন্তু এই দুইটা শিশুর মাথার উপর সামান্য একটা আচ্ছাদনের উপায় না-করেও, আমি মোছলমানের ক্ষীণ হলেও সম্ভাবনা আছে। মজা তো!
ভাল লাগে না-ভাল লাগে আমার, নিজের অসহায়ত্ব বড়ো প্রকট হয়ে ফুটে উঠে। এদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে বড়ো তুচ্ছ-হীন, গা ঘিনঘিনে শুঁয়োপোকা মনে হয়। নিজেকে বড়ো অপরাধি মনে হয়। আমি এইসব এলিয়েনদের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে চাই, দূরে কোথাও...।

Tuesday, January 12, 2010

বীরাঙ্গনা মিসেস টি নিয়েলসন

"যে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে পাকিস্তানি সেনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, একদিন তিনি এলেন। সব কিছু জেনেও আমি তার পা জড়িয়ে ধরলাম।
বললাম, 'কাকাবাবু, আমাকে বাবার কাছে রেখে আসুন। ছোট্টবেলা থেকে আপনি আমাকে চেনেন। আপনার মেয়ে সুলতানার সঙ্গে আমি একসঙ্গে খেলাধুলা করেছি, স্কুলে পড়েছি। আমাকে দয়া করুন'।
উনি পা ঝাড়া দিয়ে আমাকে দূরে সরিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।

...প্রথমে আমার উপর পাশবিক অত্যাচার করে একজন বাঙালী। আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গিয়েছিলাম।

...আমাদের শাড়ি পরতে বা দোপাট্টা ব্যবহার করতে দেয়া হত না। কোন ক্যাম্পে নাকি কোন একটা মেয়ে গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

...প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে সব রমণী মাতৃভূমির জন্য তাদের সতীত্ব , নারীত্ব হারিয়েছে তিনি তাদের বীরাঙ্গনা আখ্যায় ভূষিত করেছেন। অন্তরের শ্রদ্ধা জানালাম সেই মহানায়কের উদ্দেশ্যে। আমি বীরাঙ্গনা, এতোবড় সম্মান আমি পেয়েছি। আমি ধন্য কিন্তু চোখের জল কেন জানি না বাঁধা মানে না।
বাবাকে দেখবার জন্য, তাদের খবর নেবার জন্য অস্থির হয়ে গেছি। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য এমন কাউকে দেখি না যাঁকে অনুরোধ করা যায়। শেষে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী অফিসার মোসফেকা মাহমুদকে বাবার ঠিকানা দিলাম। পথের দিকে তাকিয়ে থাকি, যেন খবর পেয়েই বাবা ছুটে আসবেন। কিন্তু না দিন গড়িয়ে সপ্তাহ গেল। খবর পেলাম বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে সে সব মেরামত করা নিয়ে বাবা ব্যস্ত, আসবেন কয়েক দিনের মধ্যে। শুধু উচ্চারণ করলাম,‘বাবা তুমিও’!

ইত্যবসরে আমার গর্ভপাত করানো হল, কারণ এতদিনে বাস্তবতা বুঝে গেছি।
...আপা (নীলিমা ইব্রাহীম), আপনি তো দেখেছেন মেয়েরা কিছুতেই গর্ভপাতে রাজি হয়নি। আপা, আপনার মনে আছে মর্জিনার কথা? সেই যে ফ্রকপরা মেয়েটি। আপনাকে দেখলেই চিৎকার করত, আর বলত, আপনি তার ছেলেকে চুরি করে বিদেশ পাঠিয়ে দেবেন। আপনি মর্জিনার কষ্ট দেখে পাঠাতে আগ্রহি ছিলেন না।

...বঙ্গবন্ধুকে যখন বলেছিলাম (নীলিমা ইব্রাহীম) উনি বল্লেন, ‘না আপা, পিতৃপরিচয় যাদের নেই সবাইকে পাঠিয়ে দেন। মানুষের সন্তান মানুষের মতো বড় হোক। তাছাড়া ওই দুষিত রক্ত আমি এদেশে রাখতে চাই না’।

...নিয়েলের ভালবাসা, স্নেহ, মমতা আমার অতীতকাল মুছে ফেলল। তারা ব্যানার্জী থেকে আমি হলাম মিসেস টি নিয়েলসন ।
...স্বদেশে আমার সত্যিকার পরিচয় নেই, তারা ব্যানার্জী মরে গেছে ... আমি কোথায়? ওদের কাছে আমি ঘৃণ্য, নিন্দিত, মৃত।

...দেশে সম্মান মর্যাদা যা পেয়েছি মিসেস টি নিয়েলসন আর টমাসের মা হিসাবে।
...জন্ম দিলে জননী হওয়া যায় কিন্তু লালন পালন না করলে মা হওয়া যায় না। আমি জন্মেছিলাম সোনার বাংলায়, লালিত হচ্ছি ডেনমার্কের ভূমিতে। তবুও সেই মাটিতেই হবে আমার শেষ শয্যা...।"
...........................................

(আমরা পাকিস্তানিদের বর্বর বলি কিন্তু এই চেয়ারম্যান সাহেব? যিনি তার কন্যার খেলার সাথিকে তুলে দিয়েছিলেন পাক-আর্মির হাতে। তার এই ভয়াবহ অন্যায়ের কারণে শাস্তি দেয়া হবে না?
তারা ব্যানার্জীর উপর যে বাঙ্গালি বীরপুরুষ সর্বপ্রথম ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? এ?
এই পশুটাকে কাঠগড়ায় উঠানো যাবে না?
আর ওই বাবা নামের কাপুরুষটা? ওই মানুষটা এবং আমাদের সাবেক সেনাপ্রধান কাপুরুষ শফিউল্লা এরা এখনও পেট চিরে আত্মহত্যা করেননি, আশ্চর্য!এরা কি? আমার মনে হয়, পাক-আর্মি এদের কাছে নস্যি!

এও বিচিত্র! এই দেশ বীরাঙ্গনা নামের
এইসব অভাগাদের কেউ মনে রাখেনি! কয়টা বীরাঙ্গনার নামে কয়টা স্কুল-কলেজ-কালভার্টের নামকরন করা হয়েছে এটা একটা গবেষণার বিষয়!)

* লেখা ঋণ: নীলিমা ইব্রাহীম
** ভাষারীতি সামান্য পরিবর্তিত
***ছবি-স্বত্ব: রবীন্দ্র সেনগুপ্ত, আগরতলা। সংগ্রহ: দুলাল ঘোষ

****অসম্ভব জরুরি একটা বিষয় আমার চোখ এড়িয়ে গেছে (যেটা নীলিমা ইব্রাহীমের 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি', বইয়ের ২৪ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে)! আমি লিখেছিলাম, "আমরা পাকিস্তানিদের বর্বর বলি কিন্তু এই চেয়ারম্যান সাহেব? যিনি তার কন্যার খেলার সাথিকে তুলে দিয়েছিলেন পাক-আর্মির হাতে। তার এই ভয়াবহ অন্যায়ের কারণে শাস্তি দেয়া হবে না?"
Ripon Majumder  এক মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছেন, "প্রতিকার কিছুটা হয়েছে। ১৯৭২ এর ১৮ ডিসেম্বর ঐ চেয়ারম্যানকে (মকবুল) মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করে মেরেছে। তবে নতুন হায়েনা অলরেডি তৈরী হয়ে গেছে বলে জানা যায়। ঐ চেয়ারম্যানের ছেলে। অনেক আগে থেকেই সে নাকি বাপের পথ ধরেছে।
বাছাধনের নাম জানি না।
"
Ripon Majumder, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে...। 

Monday, January 11, 2010

মোস্তফা সরোওয়ার ফারুকীর হাফ-প্যান্টনামা!

বিজ্ঞাপন কতটা শক্তিশালী ? বারবার একটা মিথ্যা বললে সেটা নাকি সত্য হয়ে যায়। কেউ যদি কানের পাশে বারবার বলতে থাকেন, 'জুতার ফিতা খান, ভাতের উপর চাপ কমান'। একসময় পাবলিক জুতার ফিতা খাওয়া শুরু করবে।

বাচ্চাদের পছন্দের অনুষ্ঠান কার্টুন এবং বিজ্ঞাপন। শিশুদের নিয়ে যেসব বিজ্ঞাপন দেখায় এটার ভয়াবহতা বোঝার কোন লোক কি এই দেশে নাই?
বিজ্ঞাপনে শিশুদেরকে আমরা কি সুশিক্ষাই না দিচ্ছি, শিশু ভাব নিয়ে, গুরুজনের বেদম হেঁচকি থামাতে তার প্রতি গ্লাসের পানি ছুঁড়ে মারে। এরপর অন্য একটা চিকন গলা জানান দেয়, দাগ নেই তো শেখাও নেই। এই শিশু আগামীতে গু ছুঁড়ে মারলে লাস্যময়ী গলায় বলা হবে, হলুদ দাগ নেই তো শেখাও নেই।

ওয়ারিদ এক পা এগিয়ে। পূর্বে ওয়ারিদের যে জটিল বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছিল, দুই মুচুয়া-মুষ্টন্ডার(!) মোচের খেলা! এই মোচ বানাতে কত যন্ত্রণাই না করতে হয়েছে ফারুকী সাহেবকে, কত কেজি ইউরিয়া যে ঢালতে হয়েছে?
আচ্ছা, ওই সময় কারাগার থেকে যে কিছু কয়েদী পালিয়ে গিয়েছিল দেয়াল টপকে এরা কি দেয়ালে উঠেছিল এদের মোচ বেয়ে?

কাহিনি এমন: এই ভাঁড়ামিপনের ভাঁড়রা একসময় দোস্ত হয়ে যায় এদের ছানাপোনাদের জন্য। দুই মুচুয়ার এক লাড়কা আর এক লাড়কি। মুচুয়া বাপরা এদের মুখ বেঁধে দেয়, এইবার এরা ইশক-প্রেম লাড়াইবেন কেমন করিয়া? মুখ বাঁধা কিন্তু হাত তো খোলা আর খোলা ওয়ারিদের নেটের লাইন। তাই এরা বেদম চ্যাট করতে থাকে, থামায় কার বাপের সাধ্যি? আহা, এরা চ্যাট করতে পারে কিন্তু ফোন করতে পারে না কারন এদের মাথাই নাই, নাই এই বিজ্ঞাপনের নির্মাতারও!

নাপিতের বিজ্ঞাপনটা আমার কাছে এতটাই বিরক্তিকর মনে হয়েছে এমন স্থূল চিন্তা-ভাবনা যে কোম্পানীর সেই কোম্পানীর সংগে থাকতে কারও ইচ্ছা করবে বলে তো মনে হয় না। ওয়ারিদের এই বিজ্ঞাপনের টার্গেট কারা, নেট ব্যবহারকারীরা? যারা নেট ব্যবহার করে এদের কি এই কোম্পানী গাধা মনে করে? ফোন হাতে নিলেই নেটের লাইন চালু হয়ে যায়? ব্রাউজ করা যায়, হেয়ার স্টাইলের পেজ খুলে যায়?
সিনেমা স্টাইলেরও একটা সীমা আছে!

তারচেয়ে ওয়ারিদ যদি কোন ফোন ব্যবহারকারীকে দেখাত তাহলে এতটা সমস্যা ছিল না, ফোন করার জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না আল্লার দেয়া একটা মুখ আর একটা হাত। শরীর দুলিয়ে কোন ভদ্দরমেয়ে গাইতে থাকত, 'বুকে বড় জ্বালা রে পাঞ্জাবীওয়ালা...'। নেপথ্যে ভেসে আসত মারজুক রাসেলের মত কোন সেলিব্রেটির গলা, ওয়ারিদ টেলিকম আছে বলেই না ইনি পাঞ্জাবীওয়ালার সাথে কথা বলে বুকের জ্বালা নেভাতে পারছেন। ফায়ার ব্রিগেড আসার প্রয়োজন নাই। সমস্যা ছিল না। কেবল একটাই ভয়, মারজুক রাসেলের মুর্দা-গলা শুনে মুর্দারা না কবর ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে!

এখন ফারুকী সাহেব ওয়ারিদের নতুন একটা বিজ্ঞাপন প্রসব করেছেন, সিনেমার নায়িকা পপিকে নিয়ে। জু-লে-খা, তু-মি কু-তা-য়? আ-গু-ন নে-ভা-আ-আ...।
তিনি বাংলা সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। ওনার কথামতে, এমন বিজ্ঞাপন নাকি আরও প্রসব করবেন! আল্লা, তুমি কোথায়?

জনাব, ফারুকীকে দেখলাম কোন একটা চ্যানেলে খুব পোজ দিয়ে বলছেন, সিনেমার স্টাইলে আমি এই বিজ্ঞাপনটা বানিয়েছি দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য।
অন্য একটা অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম, ইনি হাফ-প্যান্ট পরে ক্যামেরার পেছন থেকে সামনে চলে এসেছিলেন। চলে এসেছিলেন মানে, ইনি কেমন কেমন করে ক্যামেরার পেছনে থেকে আইডিয়া প্রসব করেন এটা আমজনতাকে দেখানো হচ্ছিল। দেখানো হচ্ছিল মানে তিনি নিজেই দেখাচ্ছিলেন। আচ্ছা, হাফ-প্যান্ট পরে আইডিয়া প্রসব করতে সুবিধা বুঝি? হাফ-প্যান্টের ফাঁক গলে আইডিয়া পড়ে গেলে এর দায় কে নেবে?

এইসব মারমার-কাটকাট বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য যদি হয় দৃষ্টি আকর্ষন করা তাইলে দিগম্বর-নগ্ন হয়ে পোজ দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে সহজ উপায়। অ্যালেন গীনসবার্গ, দালি সাহেবদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেই হয়। ফারুকী সাহেব যে হাফ-প্যান্ট পরে বিজ্ঞাপন বানাবার কসরত করেন এটাও খুলে ফেললে সমস্যা তো নাই।
মাভৈঃ...।

Sunday, January 10, 2010

পানাম-নগর নিয়ে নির্বোধদের তুলকালাম!

১৮৭২ সালে এই ছবিটা তুলেছিলেন ডব্লিউ ব্রেন্যান্ড।


২০০৬, আলী মাহমেদ


২০০৬, সাদিক মোহাম্মদ আলম



২০০৬, আলী মাহমেদ



২০০৬, আলী মাহমেদ


২০০৬, সাদিক মোহাম্মদ আলম



২০০৬, আলী মাহমেদ


২০০৬, আলী মাহমেদ


২০০৬, সাদিক মোহাম্মদ আলম



২০০৬, আলী মাহমেদ
২০০৬, আলী মাহমেদ


২০০৬, আলী মাহমেদ (একটি স্থাপনা পরিবর্তনের পর)

২০০৬ সালেই সরকার বাহাদুরের অতি চৌকশ মানুষরা এই স্থাপনাগুলো সিমেন্ট দিয়ে লেপে দেয়ার ব্যবস্থা শুরু করেছিল। ভাগ্যিস, আমরা আগের অবস্থার কিছু ছবি উঠাতে পেরেছিলাম। এরা কী অসভ্য কান্ড করেছিলেন (পরিবর্তনের পর) এই ছবিটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যায়! এই একটা ছবিই এর প্রকৃষ্ট নমুনা!
এই মানুষগুলো ব্রেনগুলো আদৌ আছে কি না এই নিয়ে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। অথবা আছে, স্বস্থানে নাই! কোন এক বিচিত্র কারণে নিচের দিকে নেমে এসেছে। ঠিক কোথায়, এই দিকনির্দেশনা আমি দিতে চাচ্ছি না।

অপেক্ষায় আছি, জাদুঘরের পুরনো নিদর্শনগুলো লাল-নীল রঙে পরিবর্তন করা হবে। যার সামনে দাঁড়িয়ে পর্যটকেরা প্রাণ খুলে হাসবে। আমরা একটা ভাঁড় জাতি হিসাবে মাথা উঁচু (!) করে বিশ্ব-দরবারে পরিচিত হব।

Saturday, January 9, 2010

জীবনটাই যখন নিলামে


ব্লগিং করে করে যে ক্ষতিটা হয়েছে, বড় কোন লেখা লিখতে এখন পাহাড়সম মনে হয়! উপন্যাস লেখার কথা মনে হলে এখন গা কাঁপে।

প্রকাশক সাহেব যখন বলেন, ৬ ফর্মার নিচে ছাপলে আমাদের পোষায় না, আমার মুখ শুকিয়ে আসে।
৪ ফর্মা লিখতেই আমার জান বেরিয়ে যায়।
আমি চিঁ চিঁ করে বলি, ইয়ে, এইবার ৪ ফর্মা...। আমি নিশ্চিত, প্রকাশক সাহেবের মুখ অন্ধকার হয়। দেখাদেখি আমারও মুখ ঝুলে পড়ে। ভাগ্যিস, মনিটরে তিনি আমার মুখ দেখতে পান না।

আসল লেখকেরা বই শুরুর আগে খানিকক্ষণ তবলা বাজান, প্রস্তাবনা-ভূমিকা এই সব নাম দিয়ে খানিকটা বাতচিত করেন। তবলা বাজালে গান তো হবেই। তাই আমিও লেখক হওয়ার চেষ্টায় কস্তাকস্তি করা একজন মানুষ, লেখকদের অনুকরণ করে কঠিন শব্দ প্রস্তাবনা নাম না-দিয়ে দিলাম:
"কি ছু ক থা, কি ছু গা ন!
২০০৮ সালের ঘটনা এটা। অস্ট্রেলিয়ার আয়ান ইউশার নামের এক ব্যক্তি নিজের জীবনটা নিলামে তুলে দেন। কেবল জীবনই না; তার পছন্দের সমস্ত কিছুই। বন্ধু-বান্ধব-বান্ধবী-স্ত্রী, তৈজসপত্র, জামাকাপড়, বাড়ি, গাড়ি, চাকরি সবই। কেবল তিনি পাসপোর্ট এবং ওয়ালেটটা নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন।
অনেকের কাছে হয়তো এটা রসিকতা মনে হতে পারে, এমন মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না কিন্তু আমার মাথায় কেবল ঘুরপাক খাচ্ছিল আয়ান ইউশার নামের এই মানুষটা কেন এমনটা করার কথা ভাবলেন! কেন? কেন! এটা হয়তো আমার কখনই জানা হবে না যেমনটা এখনও জানা হয়নি জীবনানন্দ দাশের ওই মানুষটা কেন এমন করেছিলেন?
“শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে-ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ’ল তার সাধ।
বধূ শুয়ে ছিল পাশে-শিশুটিও ছিল;
...আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে।”
মানুষটার কেন এমন করে চলে যাওয়ার সাধ হলো? আহা, এমন করে চলে যাবার সময় বধূ, শিশুটিও পাশে থাকবে কেন, আহা কেন? এ অন্যায়-এ অন্যায়! এমন বিপন্ন বিস্ময় কেবল কী ওই মানুষটার রক্তেই খেলা করে, আমাদের রক্তে খেলা করে না? টের পাই না আমরা, না? কি জানি! টের পেতে দেই না, টের পেলে হয়তো আর ফিরে আসা হবে না বলে? অদেখা ভয়ে...?
নাকি শামসুর রাহমান আগেভাগেই টের পেয়ে গিয়েছিলেন?
“যেদিন মরবো আমি, সেদিন কী বার হবে
বলা মুশকিল।
শুক্রবার? বুধবার? শনিবার? নাকি রবিবার?
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে। সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা বড়ো বিরক্ত হবেন।”

এই লেখাটার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আয়ান ইউশার বা জীবনানন্দ দাশের নাম-না-জানা ওই মানুষটার সঙ্গে কোন যোগসূত্র নাই, এটা তাঁদের গল্প না। কিন্তু সত্যিই কী কোন যোগসূত্র নাই? আমাদের মাথায় কি কখনই এমন পাগলামি, রোখ চাপে না? অদেখা ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে- ইচ্ছা করে না লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ি?
আসলাম অনিচ্ছায়, যাবো অনিচ্ছায়; মাঝের দিনগুলোও অনিচ্ছাকৃত ভূমিকায়- সবিরাম অভিনয়! চেষ্টাকৃত অভিনয় করে করে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে মনে হয় না এমন, দূর-দূর, অসহ্য এক জীবন! অন্য একটা ভুবন নিদেনপক্ষে অন্য একটা ভুমিকার বড্ডো প্রয়োজন...।"

*জীবনটাই যখন নিলামে: এক

Friday, January 8, 2010

আজ আমার মন খারাপ, এলিয়েন

এলিয়েন-শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা গেল না! কেন গেল না এটা বলে নিজেকে আর লজ্জা দেই না! যে মানুষ নিজের চোখে চোখ রাখতে পারে না, নিজের কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায় এমন একজন মানুষকে ফিজুল ধিক্কার দিয়ে লাভ কী?

তবুও ভাল এই শিশুটি আমাকে পশু বানাবার খেলায় পুরোপুরি হারাতে পারেনি। অনেকে চোখ সরু করে বলবেন, এইসব কি কও মিয়া, কে এই শিশুটিকে নিয়ে স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে আসত? ব্যাটলফিন্ডে থাকা আর নিরাপদ দূরত্বে থেকে লম্বা-লম্বা বানচিত করায় অনেক ফারাক। গু-মুতে মাখামাখি হয়ে থাকা একটা শিশুকে ঘন্টায় ঘন্টায় পরিষ্কার করা মুখের কথা না। ওষুধ খাওয়াবার পর এর পেট থেকে কতশত পোকা (ভাল নামটা বলতে চাচ্ছি না অনেকের গা গুলাবে) বের হয়েছে এর ইয়াত্তা নাই। ঘরময় পোকা কিলবিল করছে...!
তারপরও আমার মনটা আজ ভারী বিষণ্ন, এই ১৭ দিনে শিশুটা আমায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত মায়ায় ফেলে দিয়েছিল। কী নির্ভাবনায় মুঠো করে আমার হাতটা ধরত। একটা কথাই কেবল বলতে পারত, 'ভাত দে'।

আমার সুতীব্র ইচ্ছা ছিল একে দিয়েই শুরু করি না কেন? একটা হোম করতে কি হাতি-ঘোড়া লাগে। মাসে দশ হাজার টাকা হলে আরামসে এমন ১০/১৫ শিশুকে রাখা যায়। কিন্তু শীতল মস্তিষ্কে ভেবে দেখলাম, কেবল ঝোকের মাথায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া চলে না। যুক্তিতে
আবেগের স্থান কাথায়?
হয়তো এক মাস চালিয়ে মনে হলো, ধুর; বা ফট করে
আমি অন্য ভুবনে যাত্রা করলাম, হতে পারে না এমনটা? তখন এই শিশুগুলো ভাসিয়ে দেয়া কোন কাজের কাজ না। যেটা যুক্তিযুক্ত, অন্তত এক বছরের টাকা হাতে নিয়ে নামা; ফি মাসে দশ হাজার হলে এক লক্ষ বিশ বিশ হাজার টাকা। এতো টাকা এই মুহূর্তে আমি পাবো কোথায়? হায়রে টাকা...!

দুর্জয় নারী সংঘের হাজেরা বেগম নামে এক মহিলা নামপরিচয়হীন শিশুদের লালন-পালন করেন। ড্যানিডা নামের একটি বিদেশি দাতা সংস্থা হঠাৎ করে তাদের অনুদান দেয়া বন্ধ করে দিলে এই ভদ্রমহিলা অকূল পাথারে পড়লেন। পত্রিকায় যখন এই বাচ্চাদের কথা পড়ি, বাচ্চাদের হাহাকার, "
মা, এইবার ইদে আমাদের জামা দিবা না"? হাজেরা আপার কথা প্রথমে জেনেছিলাম পত্রিকার এই রিপোর্টে। তখন নিজেকে একজন নেংটি পরা মানুষ মনে হচ্ছিল।
তখন আমি, আমার বন্ধু রাসেল পারভেজ, তারিফ আজিজ আমরা গিয়েছিলাম তাঁর ওখানে। সেই থেকে তাঁর সঙ্গে পরিচয়।

এই ভদ্রমহিলা ওই শিশুদের নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁকে অনুরোধ করি কেমন করে? হাজেরা আপাকে ফোন করে বলি, আপা, আপনার এই ২৬টা বাচ্চা নিয়ে এখন কেমন করে চলছেন?
তিনি বিমর্ষ উত্তর দেন, চলছে না রে ভাই। আর আমার এখানে এখন শিশু ২৬টা না, মোট ৩৩।
তদুপরি অমানুষের মত আমি হাজেরা আপাকে বলি, আপা, আপনি এই শিশুটাকে আপনার এখানে রাখতে পারেন?
তিনি ক্ষণকাল না-ভেবেই বলেন, সমস্যা নাই যেখানে ৩৩টা বাচ্চা খাবে সেখানে আর একজনে কি আসে যায়। গতকাল শিশুটিকে হাজেরা আপার এখানে দিয়ে আসলাম। সঙ্গে আমার বন্ধু রাসেল পারভেজ, দুলাল ঘোষ। এদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ
নাই।

আমরা যখন গেলাম তখন অন্য শিশুরা গোল হয়ে গান শিখছিল। এই শিশুটিকে নিয়ে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে হাজেরা আপা অন্য শিশুদের সঙ্গে এর পরিচয়
করিয়ে দিলেন, তোমাদের আরেকজন ভাই আসছে।
নিমিষেই অন্য শিশুরা এই শিশুটিকে যে ভঙ্গিতে আপন করে নিল চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। নামপরিচয়হীন এই শিশুটির নাম রাখা নিয়ে এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। সমস্ত শিশু একটা করে নাম দিল, এরপর লটারি, লটারিতে যে নাম উঠল আজ থেকে এটাই এই শিশুটির নাম। স্বপন।
আমার চোখ ভরে আসে, মাথা ঘুরিয়ে ছাদে টিকটিকি দেখি। নিজেকে ধিক্কার দেই, এই অসামান্য মহিলা যে কাজটা করে চলেছেন আমার এর ধারে-কাছে যাওয়ারও ক্ষমতা নাই। খর্বাকৃতি এই মহিলার সামনে নিজেকে কী ক্ষুদ্র, হাস্যকরই না লাগছিল!

Monday, January 4, 2010

মুছে ফেলবে দুঃস্বপ্ন, এ প্রজন্ম

দুলা মিয়া (তাঁর প্রতি সালাম) সম্বন্ধে আমি প্রথম জানতে পারি "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ"র অষ্টম খন্ডে। পড়ে আমি হতভম্ব, কী সাহস মানুষটার! একজন আগুন-মানুষ!
আমি হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম, একজন মানুষ এতো সাহস পান কোত্থেকে?
তীব্র বেদনাহতও হলাম, এই অসমসাহসী মানুষটাকে মুক্তিযুদ্ধে ন্যূনতম একটা খেতাবও দেয়া হয়নি, আজিব!
অথচ একজন বালকবেলায় গাছ থেকে পড়ে হাত ভেঙ্গেছেন, পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে সম্মুখ-যুদ্ধে হাত ভেঙ্গেছেন এটা বলে বড় একটা খেতাব বাগিয়েছেন এমন উদাহরণেরও অভাব নাই।

আরেকটা বিষয় আমাকে আলোড়িত করেছিল, এই আগুন-মানুষটার যুদ্ধে যাওয়ার পেছনে তাঁর ছোট্ট মেয়েটির অসম্ভব প্রভাব ছিল। তখন লিখেছিলাম,
মুক্তিযুদ্ধে একজন অখেতাবধারী দুলা মিয়া।

একদিন মাথায় কী এক রোখ চাপল, দুম করে বেড়িয়ে পড়লাম এই মানুষটার খোঁজে, ছোট্ট সেই মেয়েটির খোঁজে। মেয়েটিকে খুঁজে পেলাম কিন্তু এই মানুষটাকে আর খুঁজে পেলাম না। দুর্দান্ত অভিমান নিয়ে মানুষটা শুয়ে আছেন। পুরোটাই জঙ্গল টাইপের একটা জায়গা, চিহ্নিত করার কোন উপায় নেই। অনেক কষ্টে তার শুয়ে থাকার জায়গাটা খুঁজে বের করি। অথচ পাশেই অখ্যাত এক ফকিরের কবর চমৎকার করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফিরে এসে ন্যালাক্ষেপা হয়ে, খুব মন খারাপ করে লিখেছিলাম,
আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি

এই মানুষটা জীবিত থাকলে কায়ক্লেশে দিন যাপন করছিলেন অথচ তাঁর গ্রামের স্কুলের গোড়া পত্তন যখন হয় নিজের বাড়ির টিন খুলে স্কুল ঘরের টিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন!
জীবিত থাকতে এই মানুষটাকে আমরা ন্যূনতম সম্মান দিতে পারিনি, মৃত্যুর পরও! কে এটা আমাদের বোঝাবে, এতে এই মানুষটার কিছুই যায় আসে না কিন্তু আমরা যারা জীবিত আছি তারা নগ্ন হয়ে পড়ি!

দুলা মিয়ার কবরের জঙ্গল আরও ঘন হয়, ফকিরের কবরের বাড়ে জৌলুশ। আমরা চাউল বিক্রি করে কফের সিরাপ খাওয়া জাতি লেখাটা লিখতে সহ্যাতীত কষ্ট হচ্ছিল।

আজ এই প্রজন্মের একজন দুলাল আমাকে ফোন করে বলল, 'আলী ভাই, আমরা যাচ্ছি'।

এই ছেলেগুলো ভারি ভারি বেড়াগুলো ৫০-৬০ কিলোমিটার বয়ে নিয়ে গেছে। জঙ্গল সাফ করেছে। হাতুড়ি-বাটাল দিয়ে ঠুকে ঠুকে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে! যে ভাবেই হোক তাঁর কবরটা অন্তত চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেছে, অন্তত কাজটা তো শুরু হল।

অভাবনীয় যে ব্যাপারটা এখানে ঘটেছে, এটার পাশেই বাচ্চাদের একটা স্কুল, (যে স্কুলের গোড়া পত্তনের সময় দুলা মিয়া তাঁর বাড়ির টিন খুলে দিয়েছিলেন), সেই স্কুলের শত-শত বাচ্চাদের সামনে দুলা মিয়ার সাহসিকতা, ত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়; কিছু বাচ্চা কাঁদছিল!
এই বাচ্চাগুলো এই দেশের সেরা সন্তান সম্বন্ধে জানতে পারল। এই সমাধিস্থল দেখভালের দায়িত্ব এদের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। এটা একটা অসাধারণ কাজ হয়েছে। আগামি প্রজন্ম এটা বুকে লালন করে বড় হবে, আমরা যেটা করতে পারিনি সেটা করে দেখাবে।

*ছবি-ঋণ: দুলাল ঘোষ

Sunday, January 3, 2010

শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের শপথ বনাম আমার শপথ

ওয়াল্লা, আমি ব্যতীত এই দেশের সবাই দেখি শপথ করে বসে আছেন! আমি বাদ থাকি কেন?

তাঁদের দেখাদেখি আমিও শপথ করিলাম, "আজ হইতে প্রথম আলোর বিপক্ষে আর লিখিব না। লিখিলে...।"

জনাব আনিসুজ্জামান শপথ করেছেন, তিনি তার বাসার কাজের ছেলেকে (বুদ্ধিজীবীরা আবার খানিকটা অন্য রকম করে বলেন, কাজে সাহায্যকারী, বা আমার নাতির সঙ্গে খেলাধুলা করে দিন কাটে ইত্যাদি) নেকাপড়া(!) শেখাবেন।
এই নিয়ে প্রথম আলো বাকবাকুম করে করে এই রিপোর্টটা ছাপিয়েছে কারণ জনাব আনিসুজ্জামান তাদের শপথ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কান্ডটা করছেন। আনিসুজ্জামানের হঠাৎ মনে পড়ল তিনি একজন শিক্ষাবিদ, তাঁর কাজ হচ্ছে শিক্ষার আলো ছড়ানো! ভাগ্যিস, প্রথম আলোর শপথের কারণে মনে পড়ল নইলে ইহকালে আনিসুজ্জামানের এটা মনে পড়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না।

প্রথম আলো লিখেছে, "...এমনই এক সময়ে শুরু হয় প্রথম আলোর শপথের কার্যক্রম। সমাজের বিশিষ্টজনেরা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শপথ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানও শপথ নেন যে তাঁর বাড়ির কাজের ছেলেটিকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন..."।

আমার দৃষ্টিতে প্রথম আলোর রিপোর্টটার সঙ্গে এই ছবিটা একটা অসাধারণ ছবি! কেন বলছি। কারণ এমন একটা ছবি উঠানো চাট্টিখানি কথা না। যথারীতি প্রথম আলো এই ছবিটায়ও ফটো-সাংবাদিকের নাম দেয়ার ক্লেশ স্বীকার করেনি।

ফটো সাংবাদিকের নাম নাই বিধায় বুঝে উঠতে পারছি না ছবিটা কে উঠিয়েছেন? এটা কি এই রিপোর্টের প্রতিবেদক তৌহিদা শিরোপা তুলেছেন, নাকি মতিউর রহমান নিজেই! মতিউর রহমান নিজে ছবিটা উঠিয়ে থাকলে তার প্রতি গভীর ভালবাসা ব্যক্ত করি। কেন, বলছি।
ছবিটার কী টাইমিং, কী ফ্রেমিং! স্কুলের ব্যাগ কাঁধে এই শিশুটি যখন আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে পড়া বুঝে নিচ্ছিল। ঠিক তখনই জানালার পর্দা বাতাসে সরে গিয়েছিল, ফাঁক দিয়ে এটা
মতিউর রহমানের চোখে পড়ে, মতিউর রহমান ফট করে এই ছবিটি তুলে ফেলেন, ধাম করে পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন!
আর এটা পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাঠকআমি শপথ করলুম!
আপনারা বলবেন, কাকতালীয়। বলতে পারেন কিন্তু এমন কাকতালীয় আমাদের বেলায় ঘটে না কেন? কেন-কেন-কেন? এটা একটা গবেষণার বিষয়!

এটাও কি কাকতালীয় না? এই ছেলেটির কথা প্রথম আলো লিখেছে, "...গণিত বেশি ভালো লাগে। গত পরীক্ষায় গণিতে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছি।"
 

কী টাইমিং, প্রথম আলো শপথ অনুষ্ঠান চালু করল। এরিমধ্যে আনিসুজ্জান প্রথম আলোর শপথের সঙ্গে সুর বা গলা মিলিয়ে শপথ নিলেন। তারপর তাঁর কাজের ছেলেকে গুলশানের অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ( অটো প্রমোশন!) ভর্তিও করালেন। সে আবার পরীক্ষাও দিল। গণিতে বেশি নম্বরও পেল। নিয়মিত আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে পড়াও বুঝে নিতে থাকল।
আর বাতাসে জানালার পর্দাও উড়ল। আনিসুজ্জান স্যারের বাসার সামনেই মতিউর রহমান সাহেবের গাড়ির টায়ার পাংচার হলো। জানালা দিয়ে মতিউর রহমান দেখেও ফেললেন (তিনি তখন জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং-এ সেনানিবাসে যাচ্ছিলেন)? জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং বাতিল করে ক্যামেরা বার করলেন...।
এত্তো এত্তো কাকতালীয় যে কোথায় রাখি!

আর ছবিটা দেখে আপনারা ভাবছেন বুঝি খুব সোজা! আরে না, সামনে গেলুম আর দুম করে উঠিয়ে ফেললুম, এতো সোজা না। আনিসুজ্জামান এবং তাঁর কাজের ছেলে দু-জনের একজনও টের পায়নি, পেলে কী আর এরা উঠাতে দিত? ছবিটায় পেছনের জানালাটা দেখছেন না? অনুমান করি, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ওই জানালায় উঠে এই দুর্দান্ত ছবিটা উঠানো হয়েছে। অবশ্য চিন্তায় আছি, আনিসুজ্জামানের বাসাটা এক তলা হলে সমস্যা নাই কিন্তু বহুতল হলে তো সর্বনাশ! প্রাণ হাতে নিয়ে পানির পাইপ বেয়ে উঠতে মতিউর রহমানকে কি কষ্টই না করতে হয়েছে, ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। রাখে আল্লা মারে কে- আল্লা বাঁচিয়েছেন!

যাক, তবুও ভাল আনিসুজ্জামান এই শপথের কল্যাণে বিস্মৃত হওয়া তাঁর শিক্ষক পেশার কথা আবারও মনে করতে পেরেছেন।
শপথ বলে কথা!
এদের শপথের ডাকে হাতি পর্যন্ত ছুটে এসেছিল, আনিসুজ্জামান কোন ছার!


শুনিতে পাই, হাতি নাকি শপথ করিয়াছে, সে আর কলাগাছ খাইবে না, বাঘ মানুষ মারিবে না। ইহারা টিপসহির স্থলে 'পা-ছহি' দিয়াছে, শপথ ভঙ্গ করিলে পশু আইনের দন্ন্ডিত হইবে।
ভাল কিন্তু এই যে হাতি এবং বাঘের শপথের কারণে যে কলাগাছ এবং মানুষ উদ্বৃত্ত হবে এদের গতি কি? প্রকৃতিক ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে গেলে এর দায় কার উপর বর্তাবে?

এই প্রশ্নটা মতিউর রহমানের কাছে করার উপায় কি? এদের মেইল করলে এর উত্তর পাওয়া নিয়ে অনেকখানি জটিলতা আছে। প্রায় বছর ছুঁই ছুঁই, এদের একটা ভুল ধরিয়ে দিয়ে একটা মেইল করে এখনও এর উত্তরের অপেক্ষায় আছি। আমার ধারণা, এরা মেইলে প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে। কবুতরের পায়ে বেঁধে পাঠায়, কবুতরমেইল। হয়তো রাস্তায় কেউ ওই কবুতরটা ধরে খেয়ে ফেলেছে। এ জন্য অবশ্যই মতিউর রহমানকে দায়ি করা চলে না। কবুতরটার জন্য আমি চোখের জল ফেলি, বেচারা!

আফসোস, সংগ্রামের মত পত্রিকাগুলো আল মাহমুদের কলম কিনে নেয়, প্রথম আলোর মত পত্রিকা আনিসুজ্জামানকে। ভঙ্গিটা খানিকটা অন্য রকম, চতুর এই যা তফাৎ!

*পাদটীকা: একজন আমার এই সাইটে এসে দুম করে একটা মন্তব্য করেছিলেন, ভাইজান, আপনি কি সুশীল? আমি এর উত্তরে বলেছিলাম, নারে ভাই, আমি সুশীল না, শীল, (অভিধানে শীলের অর্থ খুঁজে লাভ নাই এটা আঞ্চলিক শব্দ। ভদ্রস্থ ভাষায় ক্ষৌরিক ওরফে নাপিত) নিম্নবর্ণের শীল সম্প্রদায়ের মানুষ। একজন শীল টাইপের মানুষের কাছে বেশি আশা করাটা দুরাশা।
তাই আমি শপথ ভঙ্গ করিলে ইহাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নাই। আনিসুজ্জামানের মত সুশীলরা শপথ নিয়া কস্তাকস্তি করুন আমার কি!

**ছবি-সূত্র: প্রথম আলো

Saturday, January 2, 2010

কালের সেরা সুদখোর, আপনাদের জন্যও অভিনন্দন!


গতকাল ছিল বছরের প্রথম দিন। বছরের শুরুতে এই দেশের সেরা সন্তানদের আমাদের প্রতি (আমজনতা, ব্লগের ভাষায় 'ম্যাংগো পিপল') শুভেচ্ছা জানানোর একটা রেওয়াজ চালু আছে।

এটা দোষের কিছু না। এতে আমাদের আপত্তি করার কিছু নাই, আনন্দিত, গর্বিত হওয়ারই কথা। বড় মানুষদের বাতচিত শুনে এদের মত বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখা।
প্রথম আলোর মাধ্যমে বা মোটা দাগে প্রথম আলোর ইচ্ছানুসারে এবার আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বাণী দিয়েছেন, এই দেশের দুই জন ব্যক্তি। অবশ্যই এঁরা কেউই সাধারণ নন। সাধারণ হলে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় দূরের কথা কোনো পাতাতেই স্থান পেতেন না।

একজন হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যজন জনাব ফজলে হাসান আবেদ। একজন পূর্বেই নোবেল পেয়েছেন অন্যজন হালে 'নাইট' উপাধি পেলেন। দু-জনই আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছেন। কালচে সবুজ পাসপোর্টটার প্রতি বৈদেশিদের দৃষ্টি খানিকটা নরোম করে এনেছেন। এইজন্য আমি টুপি খুলে সম্মান জানাই।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, 
"২০১০ সাল হোক দিনবদলের বছর...আমাদের দেশের তরুণ, তরুণীদের গতি আরবি ঘোড়ার গতি...।"
জনাব ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন:
"বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধিই প্রত্যাশা...বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে...।"
আমি এক লেখায় লিখেছিলাম, 
"৩৮ বছর নাকি ৩৮০ বছর চলে গেছে তাতে কী? সুদখোরকে সুদখোর বলব, রাজাকারকে রাজাকার, ঘুষখোরকে ঘুষখোর। এদের কে চুমো দিল নাকি কোলে বসিয়ে রাখল তাতে কী আসে যায়! অন্যায় করলে আমি কেবল রাজাকারের বিচারই চাইব না, ঘুষখোর-সুদখোরের বিচারও।"
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীন ব্যাংকের অত্যাচার ভুলে যাই কেমন করে? আমার কানে নোবেল পুরষ্কারের মেডেলের ঠোকাঠুকির শব্দ এবং সেই কিশোরীর নুপুরের [১] শব্দের মধ্যে কোন ফারাক নাই।
কিস্তির টাকা দিতে না পেরে কতশত মানুষ আত্মহত্যা করেছে তার সবগুলোর হিসাব কি আমরা জানি? দয়া করে মিডিয়া যা জানিয়েছে কেবল তাই জানি। মিডিয়া তো আবার এদের পাঞ্জাবি, ফতুয়ার পকেটে 'সুসু' করে!

আচ্ছা, আমাদের সরকার বাহাদুররা কি আদৌ হিসাব করে দেখেছেন গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার কত? এমন চড়া সুদ আর কোথায় নেয়া হয় দয়া করে একটু বলবেন?
ফজলে হাসান আবেদের স্যারের ব্র্যাক ব্যাংক গ্রামীন ব্যাংকের তুলনায় খানিকটা সহনীয়। তারপরও এদের সুদের হার কত, জানেন? প্রায় চব্বিশ পার্সেন্ট!

ভাবা যায়?
চব্বিশ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে বাংলাদেশে লাভজনক কোন ব্যবসা করা যায় সৎ ভাবে, আমি জানি না? ড্রাগস-নারি-শিশু পাচারের ব্যবসা হলে অবশ্য অন্য কথা। এগুলো ব্যতীত অন্য ব্যবসা হলে আমি সেই ব্যবসা করতে চাই। স্যার আবেদ, বলেন না প্লিজ, সেই ব্যবসাটার নাম?

অনেকে বলবেন, তাহলে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিচ্ছে কেন? এই মানুষগুলো আদৌ বুঝে-শুনে নিচ্ছে কি না, এতে আমার ঘোর সন্দেহ আছে! এইসব ব্যাংকের হিসাব এমন জটিল যে বুঝে উঠা দায়। হিসাবটা বোঝার জন্য দিনের-পর-দিন আমি এদের পেছনে ঘুরেছি তারপরও আমার পক্ষে বুঝে উঠাটা ছিল প্রায় অসম্ভব।

আনুমানিক একটা হিসাব এমন, দশ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাসে চল্লিশ হাজার টাকা কিস্তি, যেটা ছত্রিশ মাসে পরিশোধযোগ্য। বোঝানো হবে এমন মাসে মাত্র এগারো হাজার টাকা সুদ। যে নেয় তার আনন্দের শেষ নাই। বাহ, এতো কম!
ধরা যাক, পয়ত্রিশটা কিস্তি দেয়ার পর ব্যাংকের টাকা অবশিষ্ট আছে চল্লিশ হাজার (প্রতি কিস্তি দেয়ার পরপরই কিন্তু মূল টাকা দশ লক্ষ থেকে পুঁজি ক্রমশ কমছে, এটা কিন্তু আমরা মাথায় রাখি না)! সেই চল্লিশ হাজার টাকার জন্যও কিন্তু এগারো হাজার টাকা সুদ। অর্থাৎ দশ লক্ষ টাকার জন্যও এগারো হাজার টাকা, চল্লিশ হাজারের জন্যও এগারো হাজার!

ব্যাংকের লোকজন মুখে বলবে ফ্ল্যাট রেট পনেরো পার্সেন্ট কিন্তু অবশেষে দাঁড়ায় চব্বিশ পার্সেন্ট। এই হিসাবগুলো সাধারণ ব্যবসায়িরা করে দেখেন বলে আমার মনে হয় না, করলেও নিরুপায় হয়েই তারা নেন। কারণ অন্য কোন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক স্থাবর সম্পত্তি ব্যতীত ঋণ দেয় না।

তদুপরি লোকজন এদের কাছ থেকে ঋণ নেন, কেন? যেমন বাংলাদেশের অনেক অভাগা মানুষ যে টাকা খরচ করে বিদেশে মরুভূমিতে বছরের-পর- বছর পড়ে থাকেন; ফিরে আসার পর দেখা যায় যে টাকা খরচ করে গিয়েছিলেন সেই টাকাই নিয়ে আসতে পেরেছেন। তাহলে লাভ কী, কেন? কেন ছুটছেন দেশ ছেড়ে, ভাগ্য ফেরাবার আসায়?
শোনেন, এই দেশে কেউ কৃষকের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না কিন্তু ছেলে বিদেশ ফেরত! তখন আর সমস্যা নেই! তো, বিয়ে-শাদীতে সুবিধা হয়; আবার কেউ বেকার বলল না এটাও একটা কারণ হতে পারে।

বাস্তবে লাভ যা হয়, জমির কাছ থেকে, দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রতিশোধ। অজান্তেই তার অভ্যাসে পরিবর্তন (বৈদেশি চাল, ঠাটবাট)- দুশো টাকার 'রেডবুল' তার কাছে নস্যি! জমির কাছে সে আর ফিরে যেতে পরে না, একদিন আবিষ্কার করে রেশনের দোকানে তার হাত ছড়ানো। অবিকল ভিক্ষুকের ভঙ্গি!

এই সুদখোরদ্বয়, এঁরা আমাদের জন্য বিরল সম্মান নিয়ে এসেছেন এটা সত্য। খোদা না খাস্তা, জনাব গোলাম আজমও [২] যদি এঁদের কাছাকাছি কোনো একটা সম্মান নিয়ে আসতে পারেন তাহলে গোলাম আজমকেও [৩] আমরা মাথায় তুলে রাখব, অনায়াসে তাঁর অতীত ভুলে যাব। ইনশাল্লাহ...

সহায়ক সূত্র:
১. নূপুর...: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
২. গোলাম আজম, ১: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_29.html
৩. গোলাম আজম, ২: http://www.ali-mahmed.com/2007/07/blog-post_3179.html

*ছবি-ঋণ: গুগল

Friday, January 1, 2010

পাট, ঘুরে দাঁড়ায় স্বপ্ন!

এই খবরটা কাল না-এসে আজ এলে চমৎকার হতো। নতুন বছরে এক নতুন অসাধারণ ঘটনা! এই একটা খবরের জন্য প্রথম আলোর ১০টা ফাজলামি-অপরাধ-অন্যায় অবলীলায় ভুলে যাই। অরুণ কর্মকার, হানিফ মাহমুদকে টুপি খুলে অভিনন্দন জানাই।

পাট আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে! আমার মনে হচ্ছে এমন, অনেক, অনেক দিন হলো এমন আনন্দের সংবাদ শুনি না। কী যে ভাল লাগা! আমাদের সন্তান আমাদের কাছে ফিরে আসছে। গার্মেন্টসকে হেয় করছি না, একে আমি ঠিক আমাদের সন্তান বলতে চাচ্ছি না কিন্তু পাট আমাদের দেশমাতার ঔরসে। এই বিকলাঙ্গ সন্তান কোমা থেকে ফিরে এসেছে। কী হড়বড় করেই না এখন কথা বলছে। শিশুর উচ্ছ্বাসে ঘরময় আলোকিত করে রেখেছে। চারদিক কেমন সোনা
য় ছেয়ে গেছে সব!

যে পাটের দাম ছিল ২০০ টাকা মণপ্রতি আজ তা ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে যেখানে আড়াই হাজার বেল বিক্রি করা দুঃসাধ্য ছিল সেখানে আজ অনায়াসেই বিক্রি হচ্ছে আড়াই লাখ বেল! ভাবা যায়? এই অসাধ্য সাধন কিন্তু আমাদের সরকার বাহাদুর করেননি যদিও এর সমস্ত ক্রেডিট এরা নিয়ে নেবেন অচিরেই, এতে কোন সন্দেহ নাই। এই অসাধ্য সাধন করেছেন উত্তরবঙ্গের কিছু সাধারণ উদ্যেক্তা।
এঁরা ৫০ বছরের পুরনো তাঁত কিনে এক অভাবনীয় ব্যাপার করে ফেলেছেন।
তপন চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ফজলে হাসান আবেদরা কিন্তু এগিয়ে আসেননি- আহা, জাতীয় দৈনিকে এঁরা তো কেবল লম্বা লম্বা বাতচিত করেই সারা।

বৈদেশি সাদা-লাল চামড়ার নির্দেশে সরকার লোকসানের অজুহাতে একের পর এক পাটকল বন্ধ করে দিচ্ছিল। বৈদেশি স্যাররা হাগেন নিজের দেশে পশ্চাদেদশ পরিষ্কার করেন আমাদের মতো দেশে এসে। আমরা বিমলানন্দে তাদের এই কাজটা করে দেই! 
শ্রমিকদের মজুরির টাকা দিয়ে বিজেএমসি পাট কেনার জন্য ব্যয় করত। তখন অনেক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে। বেতনভাতা পাওয়ার দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত স্টার জুটমিল এবং ক্রিসেন্ট জুটমিলে এই নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে।
১৫.০৯.০৮-এ ২৭ স্টার,
ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম জুটমিলের ২৭ জন শ্রমিকনেতা আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তে কোন খাদ ছিল না। এঁদের প্রস্তুতি- নামায আদায়, তওবা পড়া, কেরোসিনের ক্যান ঠান্ডা মাথায় এই কাজগুলো দেখে, তাঁদের সন্তানদের হাহাকার, 'তুমি মইরা যাইয়ো না, আব্বা'। দাঁতে দাঁত চেপে সব কিছু উপেক্ষা করে তাঁরা তাঁদের কাজগুলো করে যাচ্ছিলেন। পরে দমকলবাহিনীর পানি ছিটিয়ে তাঁদের ভিজিয়ে দেয়।

পত্রিকায় এটা পড়ে আমি শিশুর মত হাউমাউ করে কাঁদছিলাম। আমার কাছের মানুষরা চোখ বড় বড় করে ভাবছিলেন, এমন একটা ধামড়া মানুষ বাচ্চার মত এমন করছে কেন! আজ এতদিন পরও এখন যে এই লেখাটা লিখছি ; কসম, আমার লেখালেখির, আমার মনিটর ঝাপসা।

এটা একটা পুরনো লেখা। হারিয়ে ফেলেছিলাম। অন্য একটা ওয়েব সাইট থেকে আজ উদ্ধার করলাম। প্রাসঙ্গিক হবে মনে করে এখানে দিয়ে দিলাম:
"দাবী আদায়ের জন্য কখনও ভাংচুর, কখনও বা অন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা দেখে, প্রায়শ মনে হত, কেউ একজন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় না কেন? আজ নিরাপদ দূরুত্বে এটার মুখোমুখি হয়ে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। কেবল মনে হচ্ছে ফিচফিচ করে মেকি কান্না না, হাউমাউ করে কাঁদতে পারলে বেশ হত।

খুলনায় রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকলের বকেয়া বেতনের দাবীতে ২৭ জন শ্রমিকনেতা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহুতি দিতে গিয়েছিলেন। এঁরা ঠান্ডা মাথায় যে কাজগুলো করেছেন, কেবল মনে হচ্ছে আমার চামড়ার নীচে অসংখ্য সরীসৃপ কিলবিল করছে। এই ২৭ জন মানুষের তাঁদের প্রিয় মানুষদের মুখগুলো, নরক গমনের ভয় পেছনে ফেলে মৃত্যুকে ছুঁয়ে দিতে এগিয়ে চলা। শত-শত সহযোদ্ধাদের কান্না বাতাসে মিশে যায়, পায়ে দলে যায়। শরীর, মাথায় কাফনের কাপড়। শেষ নামায আদায়। তওবা করা। হাতে কেরোসিনের বোতল থেকে নিজের গায়ে ঢেলে দেয়া। ম্যাচ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা...। দমকল বাহিনীর লোকজনরা বুদ্ধি করে এদের গায়ে পানি ছিটিয়ে না দিলে...? কী হত? এই দেশে কত মানুষই তো পোকা-মাকড়ের মত মারা যাচ্ছে। এর সংগে আরও কিছু সংখ্যা যোগ হত।

কিন্তু কে জানে, হয়তো আমার মত কোন এক নির্বোধের বড্ড সমস্যা হয়ে যেত। কানে ভেসে আসা চামড়া পোড়ার চড়চড় শব্দ কী ডেসিবল দিয়ে মাপা যেত? ধোঁয়াওঠা গরম গরম ভাতের গন্ধের সাথে কী চর্বিপোড়া গন্ধ একাকার হয়ে যেত? জানা নাই।

হায় জঠর! হায় ক্ষিধার কষ্ট! ক্ষিধার কষ্ট, বড় কষ্ট। এই কষ্টটা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের কত কসরতই না করতে হয়। তবুও ক্ষিধা নামের পশুটাকে পুরোপুরি চেনা হয়ে উঠে না আজও! পেটে যখন আগুন জ্বলে ধর্ম কোন রসাতালে গেল নাকি দেশ, তাতে কি আসে যায়! এই সত্যটাকে আমরা লুকিয় রাখার কী আপ্রাণ চেষ্টাই না করি। কিন্তু কতশত মর্যাদাবান মানুষ তাঁদের হাতের অস্ত্র সমর্পণ করেন ক্ষুধার কাছে।

এই ২৭ জন শ্রমিকনেতাদের দেখে কেবল মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় বিবৃতিবাজ নেতাদের মত কেবল বিবৃতি দিয়েই এঁরা ক্ষান্ত দেননি, অনায়াসে সত্যি সত্যি নেতা হয়ে উঠেছেন। যে নেতার এক ডাকে ছুটে আসা চলে।
আহা, যেসব জাতীয় নেতাদের জন্য আমরা আপামর জনতা অবলীলায় অমূল্য প্রাণ বিসর্জন দেই এরা এঁদের পাশে দাঁড়ালে সংখ্যাটা হত ২৮...২৯...৩০? অলীক ভাবনা!

আমি খুব আশা নিয়ে ছিলাম, খুব আশা, আমাদের দেশের বিখ্যাতসব কলমবাজরা তাদের দামি কলম তুলে এদের পক্ষে ঝড় বইয়ে দেবেন। মুক্তচিন্তার দৈনিকগুলোতে প্রথম পাতায় মন্তব্য আকারে ঢাউস ঢাউস আগুনের গোলা উগরে দেবেন। দেবেন কী? কই, পেলাম না তো!
শক্তিশালী লেখকদের এইসব সামান্য বিষয় নিয়ে তাঁদের অন্য ভুবনের লেখাভরা মাথাটা ঘামাবার সুযোগ আছে কী! এঁরা তো জ্যোৎস্নায় থপথপ করে পায়চারি করে শরীরে কোমল জ্যোৎস্না মাখতে থাকেন, কচকচ করে জ্যোৎস্না চিবুতে চিবুতে কোন এক অজানা ভাবনায় তলিয়ে যান। জ্যোৎস্না-ফসর রাইত না হলে মরতে রাজি হন না, দম আটকে ঝুলে থাকেন। তাদের কোন ক্ষুধার্ত চরিত্র চাঁদের দিকে তাকিয়ে কোন এক আলোকিত ভাবনা ভাববেন। সেই আলোকিত ভাবনা আমরা আয়েশ করে, ভুড়ি ভাসিয়ে হাভাতের মতো গিলব।

এইসব সামান্য বিষয়ে এদের কলমবাজি করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই বিষয়ে আমি আমার সর্বস্ব বাজি রাখতে রাজি আছি। এমন বাজিতে হেরে গেলেও সুখ। অতীতে দেখেছি, একের পর এক পাটকলগুলো যখন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছিল আমাদের লেখক মহোদয়দের দেখলাম না তেমন গা করতে। কেন, আল্লা মালুম! আসলে এদের ভাবনার জগৎ অপার্থিব, পরাবাস্তব- তীব্র আলোর ছটায় অন্যদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আধুনিক, উত্তর আধুনিক সাহিত্যের চুলচেরা ফারাকের বিশ্লেষণ ব্যবচ্ছেদ করে করে ফুরসত আর কই! এখন শক্তিশালি জনপ্রিয় লেখকরা কোন এক শপিং মলের ফিতা কাটতে ভারী আমোদ বোধ করেন বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডিম ভাজতে।

যাই হোক, কেন তাঁদের ঘামের পাওনা পরিশোধ করা হবে না? তত্ত্বাবধায়ক স্যাররা, রোডম্যাপওয়ালারা বলবেন, মিলগুলো লোকসান দিচ্ছে, টাকা আসবে কোত্থেকে? মিলগুলো চলছে না। কেন চলছে না? ভাল, কিন্তু এদের মজুরির টাকা দিয়ে পাট কেনার ক্ষমতা আপনাদের কে দিল? যিনি এই সিদ্ধান্তটা দিয়েছেন তিনি কি এই ২৭টা খুনের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতেন?

বিভিন্ন অজুহাতে পূর্বেও অসংখ্য পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গিতিআরা সাফিয়া চৌধুরী আবার এক কাঠি সরেস! পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়াটা কেন অতীব জরুরি এই কুতর্ক করে লাভ নাই। এই পাটকলগুলো বন্ধ করার জন্য নাকি আমাদের পুরু মাখন খাওয়া বৈদেশিক দাতা মহোদয়দের তীব্র চাপ ছিল। এরা এই পাটকলগুলো বন্ধ করার জন্য মুঠো মুঠো ডলার দিতে আগ্রহি। সাধু-সাধু।
পাশ্ববর্তী অন্য দেশগুলোর (ভারত) জন্য আবার অন্য চিত্র। ওখানের জন্য নিয়মটা আবার অন্য রকম। ওখানে পাটকল চালু করার জন্য মুঠো মুঠো ডলার, ইউরো।
ভারতে পাটের সামগ্রী ব্যবহারের চাহিদা ৯০ ভাগ, আমাদের দেশে ৫ ভাগ। পাটকলগুলো লোকসানের অন্যতম কারণগুলোর কয়েকটা এমন: সীমাহীন দূর্নীতি, বিদ্যুত-পাওয়ার না থাকা। ১৬ ঘন্টা বিদ্যুত না থাকলে শ্রমিকদের দোষ দেয়া কেন? এরা কেন তাদের ঘামের মূল্য পাবেন না?

আমাদের মত অগাবগারা কি আর এইসব জটিল বিষয় বুঝতে পারি, আমাদের মস্তিষ্ক তো ঘন্টা দরে বিক্রি করে দেই! ওহে, এ দেশের সোনার শিল্প উদ্যোক্তারা, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ কি ছিল না? ছিল না এমন কোন সোনার বাংলার সোনার সন্তান, যে এই রুগ্ন পাটকলগুলো দায়িত্ব নিতে পারতেন?
অনেককেই দেখেছি, হেনতেন এমন কিছু নেই যা মার্কেটিং করতে পারেন না, ইশবগুলের ভুষিও ঝাঁ চকচকে প্যাকেট করে অবলীলায় মার্কেটিং করে ফেলেন। এক চিমটে ভুষি ৪ টাকা,পাবলিক দেদারসে কিনছে। শ্লা, পারেন না কেবল সোনার দেশের সোনার ছেলেরা সোনালী পাট মার্কেটিং করতে।

আহা, এমনটা হলে যে আমাদের জন্য যে ভারী বেদনার। কত্তো কত্তো গল্প যে আমরা মিস করব। শ্রমিকের যে মেয়েটি এসএসসি পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছিল, সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। যে গৃহবধুটির সলাজ মুখে ঢলঢল করত কমনীয়তা সেই বধুটি বাসন মাজবে । একজন শ্রমিকের হাত যখন অবলীলায় ভিক্ষুকের হাতে পরিণত হবে, এরচে মজার আর কী হতে পারে, নাকি হওয়া উচিত!"

*পুরনো লেখা থেকে আরও কিছু তথ্য পেয়েছি। পাটকলগুলো যখন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছিল তখন সাড়ে ছ হাজার শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছিল, আরও সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক ছাটাইয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। বেতন-ভাতা বন্ধ, ক্ষুধার্ত শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে গিতি আরা সাফিয়া চৌধুরী (স্মৃতি থেকে লিখছি, নামের বানান ভুল হতে পারে) তখন বলেছিলেন, পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করেছে। এই মৃদু লাঠিচার্জের নমুনা এমন, এরা শ্রমিক ইলিয়াসের কোলের সন্তান টুকটুকিকে পর্যন্ত বেদম পিটিয়েছিল।
আরেকজন পাটশ্রমিক মাহবুব। তিনি ঘরে বসে কোরআন পড়ছিলেন। পুলিশ ঘরের ভেতর ঢুকে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী নার্গিসকে বেদম পেটায়। এঁরা বুকে কোরআন ধরেও
পুলিশের মার থেকে বাঁচতে পারেননি।
WhatsApp