Friday, December 25, 2009

রক্ত+তেল=

হোয়াইট হাউজের সামনে নাকি একটা আপেল গাছ ছিল। এখন নাই। নাই কেন, এর ইতিহাস খানিকটা বিচিত্র! জঙ্গল সাহেব ওরফে বুশ একদিন ব্যালকনিতে বসে মানুষের খুলিতে চা পান করছিলেন। হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, আপেল গাছে লাদেনের মত একজন মানুষ পা ঝুলিয়ে কচকচ করে কি যেন চিবুচ্ছে। বুশের অভ্যন্তরীন হালুয়া টাইট হয়ে গেল। বুশের ধারণা হলো লাদেন ওনার গ্রে মেটার চিবুচ্ছে।

বুশের মস্তিষ্কই নাই, গ্রে-মেটার আসবে কোত্থেকে? বুশ আসলে জানতেন না ব্রেন বলে কোন জিনিস আদৌ তার নাই। এক জটিল অপারেশনে সার্জন ভুল করে তার ব্রেন ফেলে দিয়েছিলেন। সার্জন অপারেশনের পরপরই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে এ রহস্য রহস্যই থেকে যায়। সিআইএ সাদ্দামের পশ্চাদদেশ শুঁকতে এতই ব্যস্ত ছিল এ রহস্য নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় কোথায়!

যাই হোক, বুশ রাইসকে "আ নিড আ বাথরুম ব্রেক" বলে সেই যে বাথরুমে ঢুকলেন আর তো বের হন না। কিছুক্ষণ পরেই হাউজ ফোনে নির্দেশ দিলেন, আপেল গাছটি কেটে ফেলার জন্য, যথারীতি গাছটা কেটে ফেলা হলো। গাছটি না-কাটা পর্যন্ত বাথরুম থেকে বেরই হলেন না।
সম্প্রতি এক গাছ বিশেষজ্ঞ ওই আপেল গাছটির শেষ সংলাপ উদ্ধার করেছেন। আপেলদের খা-খু, খি-খা ভাষা বাংলায় রুপান্তর করে এখানে দেয়া হলো:
১ নং আপেল: আমাদের সামনে বড়ো সুদিন রে, এই পৃথিবী হবে সোনার আপেল পৃথিবী!
২ নং আপেল: ক্যামনে কী!
১ নং আপেল: দেখ, ওই যে সাদা বাড়িতে একটা গাধা থাকে এ অচিরেই এই পৃথিবীটা শেষ করে ফেলবে, মানুষের নাম-গন্ধ থাকবে না। পৃথিবীতে থাকব কেবল আমরা গাছেরা। তখন আমরাই পৃথিবী শাসন করব। সাদা বাড়িটায় গিয়ে উঠব। কী মজা, খিক-খিক!
২ নং আপেল: হুম, খুব মজা হবে কিন্তু শাসন করবে কে? কাঁচা আপেল, না পাকা আপেল?

গল্পটা বলার কারণ হচ্ছে, বুশের নৃশংসতা আলাদা করে কিছু না। মূল বিষয় হচ্ছে, রক্ত+তেল=ব্যবসা। এক্সন-মবিল, রয়্যাল ডাচ শেল, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, ক্রমশ এরা ইরাকের সমস্ত তেল নিয়ে নিচ্ছে, হালাল পদ্ধতিতে। এরা তো আবার সভ্য জাতি, দু-নম্বুরিতে নাই। তেলের সঙ্গে রক্ত মেশাবার কারণেই এটা হালাল হয়েছে- যুদ্ধটা না লাগিয়ে উপায় ছিল না। এদের পরিশোধনাগারে তেল থেকে রক্তগুলো ছেঁকে ফেলার কতো আধুনিক যন্ত্রপাতিই না আছে!
এদের সব কিছুই অতি উঁচু মানের। পারফিউমও লাগান অত্যন্ত দামি, এই পারফিউম সালফারের (বোমা তৈরির প্রধান উপাদান) গন্ধ ছড়ায়। তাই তো আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পাশে বসলেই এটা টের পাওয়া যায়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের পাশে বসেই চিল-চিৎকারে বলেন, "আমি এখানে সালফারের গন্ধ পাচ্ছি"!

তো, হালাল খেলাটা খেলার জন্য একজন গ্রহবাবা ওরফে আমেরিকার কাঁধে বন্দুকটা তো রাখতে হবে, উপায় কী! যিনি পৃথিবীতে শান্তির বুলি কপচিয়ে বিশ্ববাসিকে তাক লাগিয়ে দেবেন। কেউ যদি ভাবেন, কেবল শান্তির বুলি কপচিয়েই কাজ সারা তাহলে ভুল ভাবছেন।
এখানে খানিকটা অংকের খেলাও আছে। প্রথমেই তেল উৎপাদনকারী প্রধান ৩টি দেশ ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরবের মধ্যে সৌদি আরবকে বেছে নেয়া হবে। (আরব শেখরা, এরা যোদ্ধা জাতি ছিল কিন্তু কালে কালে এরা বন্দুকের নলের চেয়ে চামড়ার নলই সমস্ত ক্ষমতার উৎস এই মতবাদে এরা ব্রেন ড্রেনে ফেলে দিল)।
গ্রহবাবার কল্যাণে তার পুত্র সাদ্দাম নানাপ্রকার চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় দ্বারা এমন মোটাতাজা হলো, অনায়াসে কুয়েতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সৌদি শেখদের হাগু বন্ধ, লম্বা হয়ে পড়ল গ্রহবাবার পায়ে। ক্রমশ লম্বা হলো কুয়েত, ইরাক।

ফাঁকতালে আর্মস ডিলারদেরও একটা গতি হলো। অস্ত্র অসম্ভব লাভজনক পণ্য। এতো সব হাইটেক মারণাস্ত্র যে বানানো হচ্ছে এইসবের লাইভ মহড়া করার উপায় কী? আগে একটা ক্লাস্টার বোমায় ৫০ জনের মৃত্যু হতো এখনকার ক্লাস্টার বোমায় আনুমানিক ৫০০ জনের মৃত্যু হয়। নির্জন মরুভূমিতে এর মহড়া করলে বোঝা যাবে কেমন করে? কী আর করা, তো যুদ্ধ লাগাও। শ্যাম্পেনে চুমুক দিয়ে পরস্পরের স্বাস্হ্য পান করতে করতে যুদ্ধের লাইভ ভিডিও ফুটেজ দেখো, দরদাম করো, ডিল। ব্যস...।

এতে আমাদের লাজের কিছু নাই, এই গ্রহের গ্রহবাবা হচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কখনও বুশ, কখনও জুনিয়র বুশ। কাঁচা আপেল পাকা আপেলের মত সাদা মানুষ, এখন কালো মানুষ। একজন কালো মানুষ বারাক ওবামাকে নিয়ে আমার আশা অনেক (ওবামা ইউনিলিভারের ফেয়ার এন্ড লাভলী কেন যে মাখেন না এই রহস্য আজও ভেদ করতে পারলাম না)।

কিন্তু দৈনিক প্রথম আলো আমার সেই আশায় পানি ঢেলে দিয়েছে। ১১ ডিসেম্বর এরা লিখেছে, "বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের হাইওয়েতে জন্ম নিয়েছেন!" যে প্রেসিডেন্টের জন্ম হাইওয়ে-রাজপথে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাটা কঠিন হয়ে পড়ে!
হাওয়াই হয়ে গেছে হাইওয়ে, হা হা হা!
তবুও ক্ষীণ আশা, তিনি বুশের হবেন না।

বুশ, এই মানসিক রোগিটাকে কিছু বলাও বিপদ। কেউ বলল, বুশ, সারফেসটা উঁচু করো তো, বাপ। এ করবে কী, নিমিষেই লোকজন সব মেরে কবর বানিয়ে সারফেসটা উঁচু করে ফেলবে।
এদের বাবা-মা কে এটাই জানা নাই অথচ মাদারল্যান্ড নাকি ফাদারল্যান্ড রক্ষার্থে যুদ্ধ! বুশ গাধাটা তেলের সঙ্গে রক্ত মিশিয়ে নতুন একটা জ্বালানী আবিষ্কার করার চেষ্টা করছিল এটা প্রকাশ্যে না-বলার জন্য আমি বুশকে খানিকটা সমীহ করি, শ্রদ্ধা করি। যাক, সার্জন অপারেশনে তার ব্রেন ফেলে দিলেও ছিটেফোঁটা ব্রেনের লেগে ছিল তাহলে।

*ছবিসূত্র: বুশের এই ছবিটির সূত্র আপাতত আমার জানা নাই বলে ক্ষমা প্রার্থনা। যিনিই এই ছবিটা বানিয়েছেন তার তারিফ না-করে উপায় নেই। বুশের এই ছবিটা বড়ো করলে অসংখ্য মুখ ভেসে উঠবে। এঁরা হচ্ছেন, ইরাক যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনা।
**ছবি ২: scrapetv.com