'বনলতা এক্সপ্রেস' নামে একটা মুভি বানানো হয়েছে। অর্ধেকটা দেখেছি, আমার কাছে আহামরি কিছু মনে হয়নি! এবং সপরিবারে দেখার মত একটা মুভি!
তবে অসম্ভব বিরক্তিকর একটা বিষয় ছিল সেটা হচ্ছে মোশারফ করীমের মাত্রাতিরিক্ত সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য!
এটা সম্ভবত এই কারণে হয়েছে মুভিটা হুমায়ূন আহমেদের 'কিছুক্ষণ' উপন্যাসের আলোকে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা নিয়ে কোন কথা নেই—লেখার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন! কিন্তু মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন, পোকা-মানব! [১], [২], [৩],[৪], [৫], [৬]
নিজে স্মোক করতেন তাই তিনি কারণে-অকারণে লেখায় স্মোকের দৃশ্য নিয়ে আসতেন, পত্রিকার প্রচ্ছদে সিগারেট হাতে পোজ দিতেন!
বলছিলাম, 'বনলতা এক্সপ্রেস' মুভিটার কথা! একজন ফেসবুক নামের সোস্যাল-মিডিয়ায় এই সিনেমা প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে একটা পোস্ট দেন। সেখানে মন্তব্যে খুব আপত্তির ২টা ছবি-মন্তব্য ব্যবহার করা হয়! আমরা এই ভঙ্গির সাথে পরিচিত! ধর্মীয় ইস্যুতে পূর্বেও আমরা এই অস্ত্রের ব্যবহার দেখেছি!
শোনেন, প্রথমত-দ্বিতীয়ত-তৃতীয়ত, এই মুভিটা কী অশ্লীল? উত্তর যদি না-হয়ে থাকে তাহলে ইস্যু কী! কে বা কাহাদের' মন্তব্যের জেরে? তাহলে তো ভৈরব ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে কেউ গালি দিলে ওই ব্রিজ গুড়িয়ে-উড়িয়ে দিতে হবে!
যাই হোক, এর পরপরই শুরু হলো দাবানল! মৌলবি সাহেবরা জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে লাগলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লোকজন সিনেমা দেখে না-বলে সব সিনেমাহল বন্ধ হয়ে গেছে; এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সিনেমাহল বানাবার চেষ্টা হচ্ছে।
'বনলতা এক্সপ্রেস' মুভিটা 'অন্নদা হাইস্কুলে' প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শনী করার কথা ছিল। আয়োজক যারা, এটা তাদের প্রথম উদ্যোগ না; পূর্বেও অনেকবার সিনেমার প্রদর্শনী করেছেন।
হায়, মাত্র একদিন, ৩ ঘন্টা সিনেমা প্রদর্শনের পর আস্ত একটা স্কুল সিনেমাহল হয়ে যায় এটা জীবনে এই প্রথম জানলাম!
এদিকে জনপ্রতিনিধি হিসাবে রুমিন ফারহানা এর প্রতিবাদ করার পর একজন লিখলেন আবেগঘন লেখা:
তিনি রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'লাল শাড়ি পড়িয়া...', এটা পড়ে আমার চোখ ছলছল করে উঠল। 'শাড়ি পড়া হয়', শাড়ি নিয়ে লেখাপড়া হয়; তাও আবার লাল শাড়ি, এটাও আমার জানা ছিল না!
আরেকজন তো ভয়াবহ তথ্য দিলেন এটাও জানা ছিল না, অভূতপূর্ব!:
তিনি বলছেন, যারা রুমিন ফারহানা সাথে গলা মিলিয়েছেন তারা কাফের হয়ে গেছেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে!
অথচ আমি জানতাম ভিন্ন কথা। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাফের হওয়ার কোন সিস্টেম নাই!
"কেউ কাউকে কাফের বলে অপবাদ দিলে, সে নিজেই কাফের হয়ে যাবে, যদি অপরজন প্রকৃতপক্ষে কাফের না হয়।" -সহীহ বুখারী ৬১০৩
সাবিত বিন আদ-দাহহাক রা. থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
"মুমিনকে গালি দেয়া হলো তাকে হত্যা করার মতো। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কুফরের অপবাদ দেয়, সে যেন তাকে হত্যা করলো। -বোখারী শরীফ, কিতাবুল আদাব, ৬১০৫
এখন কথা হচ্ছে, এই যে দুম করে বলে দিলেন, অমুক-তমুক কাফের; খোদা-না-খাস্তা সে কাফের না-হয়ে থাকলে, আপনার গতি কী!
আর যেটা বললেন, 'রুমিন ফারহানার সাথে গলা মেলানো সবার বউ তালাক হয়ে গেছে', এটা তো বিরাট মুশকিল হয়ে গেল! এখন এদের সবার কী 'হিল্লা বিবাহ' দিতে হবে [৭]?
ভাল-ভাল, তা এই 'হিল্লা বিবাহ কমিটি'র প্রেসিডেন্ট কি আপনি হবেন বলে ঠিক করেছেন?
আমাদের নবী যেখানে সহিষ্ণুতা দেখিয়েছেন [*] সেখানে আপনারা এমন অসহিষ্ণু কেন!
শোনেন, এইসব ছোট-ছোট বিষয় আপাতত বাদ দিয়ে বড়-বড় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান। আপনারা অনেকে 'দাজ্জালের' অপেক্ষায় আছেন! এখন দাজ্জাল পাবেন কোথায় তবে 'একালের দাজ্জাল' পেতে পারেন।
এই যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে কাবাশরীফের পুরনো কিসওয়ারের টুকরা আছে সেটা কোন 'দাজ্জাল' ব্রিটেন, মুরতাদের দেশে (আপনাদের কথামতে) নিয়ে গেল, কেন নিয়ে গেল, কিভাবে নিয়ে গেল?




স্বয়ং সৌদির বাদশাহ একেবারে বা ঋণ হিসাবে দিয়ে থাকলেও কেন দিলেন? তিনি কি জানেন না, বেনামাজি দূরের কথা, ব্রিটেনের এরা তো মুসলিমই না (আমাদের দেশ বা অন্য দেশ থেকে যেসব মুসলিম গেছেন, তাঁরা ব্যতীত)?
অমুসলিম পরের কথা, বে-নামাজির জন্য কি ব্যবস্থা তা এই ধর্মীয় শিক্ষকের কাছ থেকে একটু জেনে নিন! এমনিতে এই ভদ্রলোক—ইনি কেবল শায়েখ না, ডক্টরও! কীসের উপর ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন এটা অবশ্য আমি জানি না!
শাইখ ড. মাযাফফর বিন মুহসিন বলছেন:
"বে-নামাজিকে হত্যা করা হবে এই নিয়ে কারও কোন দ্বিমত নাই—হত্যার পর লাশ কি করা হবে সেটা নিয়ে অল্প কিছু মত আছে।
আবার বলছেন, লাশ ছোঁয়া যাবে না কুকুরকে যেভাবে দড়ি বেধে গর্তে ফেলে দিতে হয় সেভাবে বে-নামাজীর লাশও দূরে কোথাও নিয়ে ফেলতে হবে!"
তো, ব্রিটেনের এরা (অমুসলিম) 'আপনাদের ভাষায় মুরতাদ'—এরাই প্রকাশ্যে পবিত্র কোরানের অবমাননা করে! এরাই তো 'একালের দাজ্জাল'!
১৩ ফেব্রু, ২০২৫, লন্ডনে তুর্কি কনসুলেটের সামনে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরান পুড়িয়েছে! কেবল ফাইন হয়েছে £240!
'এই দাজ্জালকে' ধরা দরকার না? এবং পবিত্র কাবার এই আমানতগুলো ফিরিয়ে আনাটাও অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে লন্ডন অভিমুখে লং-মার্চ শুরু করেন, প্লিজ...!
সূত্র:
১. ভান-গুরু...হুমায়ূন আহমেদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_09.html?m=1
২. মাতাল হাওয়ায়...হুমায়ূন আহমেদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_6179.html?m=1
৩. এক চোখে জল...: https://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_15.html?m=1
৪. নাটক কম...হুমায়ূন আহমেদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_2278.html?m=1
৫. সাদাকে সাদা বলিলেন...: https://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_28.html?m=1
৬. ক্ষমতার অপব্যবহার...: https://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_5009.html?m=1
৭. হিল্লা বিবাহ... : https://www.ali-mahmed.com/2024/12/blog-post.html?m=1
* ১. আবদুল্লাহ-বিন-উবাই হযরতের সঙ্গে অনেক মুনাফিকি করেছিলেন। কিন্তু হযরত কোনও দিন তাঁকে কাফের বলেননি বা ঘোষণা দেননি। তিনি মারা গেলে হযরত তাঁর কাফনের জন্য নিজের গায়ের চাদর পাঠিয়ে দেন। হযরত তাঁর জানাজা পড়েন। কেবল তাই নয়, তিনি তাঁর আত্মার কল্যাণে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও করেছিলেন।(বিশ্বনবী, ২য় খন্ড, পৃ: ১৪৩/ ১৬৫)
২. হযরতের পিতৃব্য আবু তালিব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনো দিন ইসলাম গ্রহন করেননি। কিন্তু হযরত এই কারণে কখনই তাঁকে অশ্রদ্ধা করেননি। মৃত্যুর সময় তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়াও চেয়েছিলেন।
(বিশ্বনবী, ২য় খন্ড, পৃ: ১৪৩)
No comments:
Post a Comment