প্রিয় মানুষের শব নিয়ে ভোরের অপেক্ষা কেমন হয় এটা আমি জানি [১]। সেই রাতের আর ভোর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না। অবশ্য কেউ কেউ ভোর হওয়ার আগেই হাল ছেড়ে দেন। কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়ান, হেমিংওয়ের বুড়ো সান্তিয়াগোর [২] মত অশক্ত হাতে শক্ত করে হাল ধরে রাখেন। আজ এমনই একজন মানুষের কথা।
একটা ক্লিনিক থেকে জানতে পারি, একজন মানুষ এসেছিলেন এই খোঁজে কিডনি কোথায় বিক্রি হয়, এবং ভাল দাম পাওয়া যায়। এই মানুষটা কেন কিডনি বিক্রি করতে চান এর সদুত্তর এদের কাছে পাওয়া গেল না। পাওয়া গেল কেবল একটা ফোন নাম্বার, যে নাম্বারে ওই মানুষটার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব।
কখনও কখনও আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। অনেকটা সময় পর খানিকটা ধাতস্ত হয়ে ফোন করলাম কিন্তু ওই মানুষটা আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হলেন না। তখন কেন রাজি হননি এটা এখন অনুমান করতে পারি।
প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত এমন একজনের সাহায্য নিলাম এবং খানিকটা মিথ্যার আশ্রয় নিতে হলো। অবশেষে মানুষটার কাছ থেকে কিছু কিছু তথ্য পাওয়া শুরু করলাম। মানুষটা চান না তাঁর পরিবার এবং আশেপাশের কেউ কিডনি বিক্রি করা সম্বন্ধে ভুলেও জানুক। মানুষ নামের এই ভদ্রমহিলার স্বামী নেই, একটাই সন্তান। কি একটা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়ান, মাসে বেতন পান ৮০০ টাকা। দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করার মত বিন্দুমাত্র শক্তি তাঁর মধ্যে এখন আর অবশিষ্ট নেই।
এই মানুষটাকে আমি কথা দিয়েছি তাঁর নাম, ঠিকানা, কোন ধরনের ছবি কোথাও আমি প্রকাশ করব না। এটা প্রিন্ট মিডয়ার মানুষটার বেলায়ও প্রযোজ্য। তিনি ইচ্ছা করলে এটা নিয়ে লিখতে পারবেন কিন্তু ভদ্রমহিলা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছুই লিখবেন না।
এই ভদ্রমহিলা, লেখার সুবিধার কারণে তাঁর নাম দিলাম মিসেস এক্স। মিসেস এক্স যখন আমাদের সম্বন্ধে খানিকটা আশ্বস্ত হলেন তখন ফোনে যোগাযোগ শুরু করলাম আমি নিজে। ঠিক কিভাবে কি করব আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। যেহেতু ইনি শিক্ষকতা করেন, ছাত্রদের প্রাইভেট পড়াবার পরামর্শ দিলে সমস্যাটা যেটা জানলাম, জানুয়ারি ছাড়া এটা হবে না, এখানকার এমনই দস্তুর। হুট করে ভাঙ্গা বছরে এখন কোন ছাত্র পাওয়া যাবে না। জানুয়ারি, সে তো অনেক দূর...!
আমার মাথা ভাল কাজ করছিল না। ভেবে ভেবে কোন উপায় বের করতে পারছিলাম না। কি মনে করে আমি মিসেস এক্সকে বলি, আপনি কি সেলাইয়ের কাজ জানেন?
তিনি বললেন, না।
চেষ্টা করলে আপনি কি শিখতে পারবেন?
তিনি চট করে বলেন, পারব।
আমি বললাম, না, ভেবে বলেন। আপনি যদি সেলাই শিখতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি একটা সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করে দেব। এমনিতে কত দিন লাগবে আপনার শিখতে?
তিনি এবার ভেবে-টেবে বলেন, ১০/১৫ দিনের মধ্যে পারব।
আমি আপাতত এটুকু বলেই শেষ করি, এমনিতে আপনার স্কুলের চাকরি তো চলছে। জানুয়ারি আসলে ছাত্রদের ব্যাচে পড়াবেন। সেলাইয়ের কাজ শিখলে এখান থেকে অর্থ আয় করতে পারবেন। কিছু হাস-মুরগি পোষার ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে। আশা করছি, আপনাকে কিডনি বিক্রি করার প্রয়োজন পড়বে না। যেদিন আপনার মোটামুটি সেলাই শেখা শেষ হবে সেদিন আমাকে ফোন করবেন। বাকী কথা পরে হবে।
আমি আমার হাবিজাবি কাজে-অকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টা ভুলেই গিয়েছিলাম। ১০/১৫ দিন লাগে না, মাত্র সাত দিনের মাথায়, পরশু সকাল-সকাল ফোন।
ফোনের ওপাশে মিসেস এক্স, আমার মোটামুটি শেখা শেষ হয়েছে।
আমার ঘোর খানিকটা কেটে আসে, আমি যে ঝোঁকের মাথায় বলে বসলাম, এখন সেলাই মেশিনের কি গতি হবে? সেলাই মেশিন কিনে দেয়ার মত আলাদা ফান্ড তো এখন আমার কাছে নাই। নিজের উপরই আমি খানিকটা বিরক্ত। বাস্তবতা বিবর্জিত একজন মানুষ- ঝোঁকের মাথায় দুম করে একটা কাজ করে ফেলা এটা একটা নির্বোধ আচরণ! নিজেকে মিথ্যা প্রবোধও দেই, সবার বুদ্ধিমান হয়ে কাজ নেই।
মিসেস এক্সের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেবল ফোনেই কথা হয়েছে। তাঁর সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানি না। আমি জটিল একজন মানুষ, খানিকটা অবিশ্বাস যে আমার মধ্যে কাজ করে না এই মিথ্যাচার করব না। আমার যা অভ্যাস, পরশু দিনই প্রিন্ট মিডিয়ার মানুষটাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। মটর সাইকেলেও বেশ অনেকটা পথ! ছোট্ট একটা টিনের ঘরে ঢুকে একটা ধাক্কার মত লাগে। মিসেস এক্স নামের যে মানুষটা, বাচ্চা একটা মেয়ে! হা ঈশ্বর, এই বয়সেই এর বিয়েও হয়েছে, স্বামীও ফেলে গেছে, এর আবার একটা বাচ্চাও আছে!
আমার সামনে ছোটখাটো যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে, এই মেয়েটির এই মুহূর্তে কেবল চোখভরা স্বপ্নই না। ভঙ্গিটা অবিকল একজন গ্লাডিয়েটরের- রুখে দাঁড়াবার জন্য, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রস্তুত। আমার কেবল দৃঢ় বিশ্বাস না, চোখ বন্ধ করেও বলে দিতে পারি, এ পারবে।
আমি খানিকটা থমকে যাই এর প্রশ্ন শুনে, সেলাই মেশিন কবে নাগাদ পাওয়া যাবে?
আমি খানিকটা বিভ্রান্ত, ঠিক কবে এটা তো এখনই বলতে পারছি না। তবে কথা যখন দিয়েছি...।
এবার মেয়েটা অসম্ভব সংকোচ নিয়ে বলে, যদি দেনই, ঈদের আগে হলে ভাল হয়। নিজের মেশিনে ঈদের ছুটিতে কাজ করতে পারতাম। কিছু ঈদে মেয়েদের জামা সেলাই করে কিছু টাকাও পাওয়া যেত।
আমি সংকুচিত হয়ে বলি, আচ্ছা দেখি।
মেয়েটি এবার বলে, আমাকে কি কি কাগজে সই করতে হবে?
তোমাকে কোন কাগজেই সই করতে হবে না। আমরা কেবল চাইব, কেবল তুমি এই লড়াইয়ে হেরে যাবে না। কারণ তোমার পরাজয় মানে আমাদের পরাজয়।
ফিরে আসতে আসতে আমার মাথায় কেবল ঘুরপাক খায় আমার এখন একটা সেলাই মেশিনের প্রয়োজন। কোথায় পাই? একজন স্কুলের জন্য টাকা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এমন না স্কুলের জন্য টাকার প্রয়োজন নেই কিন্তু আমার এখন মনে হয়, স্কুলের চেয়ে এটা জরুরি। মোটা দাগে চিন্তা করলে, শিক্ষারও আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে একজন মানুষের বেঁচে থাকা। একজন মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে তার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় একটা অংশ, কিডনি বিক্রি করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করে।
অবশেষে এই সিদ্ধান্ত হয়, স্কুলের জন্য এই টাকায় সেলাই মেশিন কেনা হবে। আজই। আমার ভাষায়, কাল কে দেখেছে? কে দেখেছে সামার...?
আজ সেই সেলাই মেশিন, হাতের কাজ করার ফ্রেম, আনুষঙ্গিক যাবতীয় জিনিসপত্র ওই লড়াকু মানুষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হলো। বড়ো নির্ভার লাগছে নিজেকে। আমার সুতীব্র বিশ্বাস এই লড়াকু মানুষটা পারবে, পারতে তাকে হবেই...।
*আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই মানুষটার কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যিনি সমস্ত ব্যয় বহন করেছেন। এই মানুষটা হয়তো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না, কী অসাধারণ একটা কাজই না তিনি করেছেন! এটা কেবল একটা সেলাই মেশিন না- তিনি হাত থেকে মরচেধরা অস্ত্র ফেলে দেয়া মাটিতে পড়ে থাকা লড়াকু একজন মানুষকে কেবল ব্যাটল ফিল্ডেই ফিরিয়ে নিয়ে আসেননি; তার হাতে তুলে দিয়েছেন ঝাঁ চকচকে এক তরবারি।
**কৃতজ্ঞতা প্রিন্ট মিডিয়ার সেই মানুষটার প্রতিও যিনি আমায় লজেস্টিক সাপোর্ট এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়েছেন।
সহায়ক লিংক
১. ভোরের অপেক্ষা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_21.html
২. সান্তিয়াগো: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_31.html
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Friday, November 12, 2010
এক লড়াকু মানুষের গল্প
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
জাতীয় মামা এবং মামা বাড়ির আবদার!
আমাদের একেকজনের মামা বাড়ি একেক জায়গায় কিন্তু আমাদের কমন এক মামা আছেন, জাতীয় মামা। বরং আমরা গর্ব করে বলতে পারি 'বিশ্বমামা'!
এই মামা-ভাগিনাদের 'পুষ্টিকর দই' খাওয়ান, পুষ্টিকর 'খাওয়ার পানি' খাওয়ান, অচিরেই 'পুষ্টিকর জুতা' খাওয়াবেন। ভুল লিখলাম, পুষ্টিকর জুতা খাওয়াবেন না, বানাবেন, এডিডাসকে নিয়ে। আশা করছি, মামা আমাদেরকে পুষ্টিকর বাতাসও খাওয়াবেন [১]।
গ্রাম্য মামা বললে শুনতে ভালো শোনায় না, তাই 'গ্রামীনমামা'। আমার মামা তোমার মামা, সবার মামা ইউনূস মামা। ইউনূস মামা গ্রামীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর, ২০০০ সাল থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠান কোন কর দেয়নি! মামা-ভাগিনাদের জন্য কত্তো কিছু করছেন তাঁর কাছে কর চাওয়াটা অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে।
২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে মামার এই করমুক্ত সুযোগ শেষ হচ্ছে। এ অন্যায়-এ অন্যায়! কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এই করমুক্ত সুযোগ না রাখাটা অনুচিত হয়েছে। বড়ো অন্যায় হয়ে গেছে!
এখন ইউনূস মামা আবেদন করেছেন আগামীতেও যেন তাঁর প্রতিষ্ঠানকে করমুক্ত রাখা হয়। এই নিয়ে তিনি 'লম্ফা-লম্ফা' পত্র লিখেছেন।
মামার আবদার বলে কথা। শিরোনামটা 'মামা বাড়ির আবদার' না-হয়ে আসলে হওয়া প্রয়োজন ছিল, মামার আবদার।
মামার কথাবার্তা শুনে প্রায়শ মনে হয় তিনি দানছত্র খুলে বসে আছেন! তাঁর প্রতিষ্ঠান অলাভজনক একটা প্রতিষ্ঠান। অফিস-টফিস চালাবার জন্য যৎসামান্য সুদ নামের লাভ নিলে এতে অন্যদের গাত্রদাহ হবে কেন? এই সুদের হার ৩০ পার্সেন্ট হলেই বা কী! তিনি যে দারিদ্র বিমোচন করছেন! দেশ থেকে ঝেটিয়ে দারিদ্র দূর করে দিচ্ছেন। মহান এক ঝাড়ুদার!
অর্থমন্ত্রী অবশ্য বলছেন:
'ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচনের উপায় নয়। ...এরা নিচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সুদ। মহাজনদের চেয়ে অবশ্য এরা ভাল'।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন:
"বর্তমানে অতি কৌশলে ক্ষুদ্রঋণে 'ফ্ল্যাট রেট' বলে যে সুদ নেওয়া হচ্ছে বাস্তবে তা অনেক বেশি এবং গ্রাহকরা এদের এই ফাঁকিবাজি ধরতে পারেন না। কেউ কেউ ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।"
এখন সরকার ক্ষুদ্রঋণের নতুন নীতিমালা করতে যাচ্ছেন। নতুন নীতিমালায় ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৭ পার্সেন্ট!
২৭ পার্সেন্ট! আমি সরকারের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, এই দেশে ২৭ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে কোন ব্যবসায় লাভ করা যায়? প্রস্টিটিউশন, ড্রাগ ব্যতীত আর কোন ব্যবসায় এত চড়া সুদ দিয়েও লাভ করা যায়, আমি ওই ব্যবসার হদিস জানতে চাই। ওই ব্যবসা করার গোপন ইচ্ছা প্রকাশ করি। 'মুক্ত ইচ্ছা' প্রকাশ করি না, কারণ...!
না-না, আমি আসলে জানতে চাই না কারণ মামা মনে বড়ো কষ্ট পাবেন। আমি মামার মনে কষ্ট দিতে পারব না। না-না-না। আহা, তিনি, তিনি যে আমাদের মামা, জাতীয় মামা। বিশ্বমামা!
সহায়ক লিংক:
১. ওই আসে মহাপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html
বিভাগ
বাজ-অফ
Wednesday, November 10, 2010
সমান্তরাল
তিনটা স্কুলের মধ্যে একটা স্কুল প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। হররোজ না-হলেও প্রায়ই আমার যাওয়া পড়ে কিন্তু স্কুটারে করে এই তিন কিলোমিটার রাস্তা যেতে আমার জান বেরিয়ে যায়। এবড়োখেবড়ো রাস্তা, আগে যাও বা একটা কিছু ছিল কিন্তু ঠিক করাবার নাম করে রাস্তা উল্টে-পাল্টে একাকার করে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থা কবে থেকে? সে অনেক আগের কথা, এই রকম চলে আসছে মাসের-পর-মাস।
মাত্র সেদিন সবিস্ময়ে লক্ষ করলাম, রাস্তার কাজ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে কেন যেন আমরা ভালোটা দেখতে পারি না, পেট ভরা হিংসা যে আমাদের! আমাদের বলতে আমিও- আমারও পেট আছে, আমার পেটে যথারীতি হিংসা আছে।
স্কুটার চালককে জিজ্ঞেস করি, ঘটনা কি?
মানুষটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেন, তাইজ্জব, এইটা জানেন না, মুন্ত্রী আইব। মুন্ত্রী মানে মন্ত্রী। আমি যে জায়গাটায় থাকি এখানে আলোড়ন তোলার মত তেমন কোন খবর থাকে না। সেখানে মন্ত্রী আসার খবর চমক লাগানো এতে সন্দেহ কী! না জানাটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বটে।
আমি অবাক হই না, ওহ, এই তাহলে ঘটনা। এটা আমাদের দেশের পরিচিত দৃশ্য। মন্ত্রী টাইপের লোকজনরা যখন চলাচল করেন তখন চারদিকে শান্তি-শান্তি ভাব চলে আসে। কোথাও কোন সমস্যা নেই, কোথাও কোন রাস্তা ভাঙ্গাচোরা নেই। আগে-পেছনে শ খানেক গাড়ি ব্যতীত এঁরা চলাচল করতে পারেন না।
বেচারা ইউরোপিয়ান দেশের মন্ত্রীদের জন্য বড়ো দুঃখ হয়। এরা বড়ো গরীব দেশের মন্ত্রী- নিজেরা সাইকেল চালায়, শপিং মলে নিজেরাই শপিং করে। ছ্যাহ!
ভুলে গেছি কে ড্রাইভার ছিলেন আর কে আরোহী। বিল গেটস এবং বিল ক্লিনটনের মধ্যে কেউ একজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই নিয়ে খবর বের হলো, এই গ্রহের সবচেয়ে ধনী মানুষ ড্রাইভার এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষ আরোহী! এরা বড়ো বেচারা, বড়ো গরীব!
যাই হোক, খোঁজ নিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেল আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগরতলা যাবেন। ওখানে তিনি 'ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান'-এর উদ্বোধন করবেন। এই কারণে রাস্তার দলাইমলাই চলছে। আরও জানা গেল, তাঁর এই যাওয়া উপলক্ষে এক সপ্তাহ স্থল-বন্দর বন্ধ থাকবে। মোদ্দা কথা, আমদানী-রফতানি এই এক সপ্তাহ পুরোপুরি বন্ধ। অথচ এই স্থল-বন্দরে দিয়ে প্রতিদিন শত-শত ট্রাক আসা-যাওয়া করে।
গতবছর এই বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ২১৪ কোটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছিল। ওই হিসাবে এই সাত দিনে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হলো। ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগের কথা এখানে অনুল্লেখ্যই থাক।
এখানে মজার একটা তথ্য বেরিয়ে এসেছে, বন্দর বন্ধ রাখার এই উদ্ভট আইডিয়াটা এসেছে আগরতলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। বন্দর বন্ধ রাখার জন্যে তাঁরাই অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে। কারণটা কি, দাদাদের এই অতি আগ্রহের কারণ কী!
উল্লেখ করার মত তেমন কিছু না, দাদাদের আগরতলার মাত্র ৪০০ মিটার রাস্তা মেরামত করতে হবে। ভাল-ভাল! যে রাস্তা দিয়ে হাজার-হাজার ট্রাক যেতে পারছে কোন সমস্যা হচ্ছে না সেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি যেতে সমস্যা হবে! ফোর হুইল ড্রাইভ, বড়ো বড়ো চাকাওয়ালা গাড়িগুলোর? দাদারা কি ভেবেছেন আমরা তাদের মতো স্কুটারের চাকা সদৃশ অ্যামবেসেডর গাড়ি ব্যবহার করি?
বেশ-বেশ, এরাও কি আমাদেরকে দেখে দেখে শিখে গেছে কেমন করে উদ্ভট সব কাজ করতে হয়?
কিন্তু আজ সকালে যখন আমার বাসার উপর দিয়ে কানফাটানো শব্দে হেলিকপ্টার উড়ে গেল তখন কেন যেন আমার মনে হলো এই যন্ত্রটা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বয়ে নিয়ে এসেছে। অনুমান ভুল ছিল না, বাস্তবেও তাই হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি হেলিকপ্টারে করে এখানকার হেলিপ্যাডে নেমেছেন।
সঙ্গে মিছিল করে চলে এসেছেন এই জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তারা।
যারা আমাদের দিককার রাস্তা-ঘাট ঠিকঠাক করছিলেন তাদের জন্য খানিকটা বিষাদগ্রস্তও হলাম। আহা, বেচারারা, রাস্তা চকচকে রাখার জন্য কী উদয়াস্ত পরিশ্রমই না করেছেন মন্ত্রীর গাড়ি যাবে বলে, পারলে বুক পেতে দেন। গব্বর সিং বেঁচে থাকলে ঠিকই বলে বসতেন, 'আব তেরা ক্যায়া হোগা রে বাঙ্গালিয়া'।
ভাগ্যিস, আকাশপথে এই সব নিয়ে তেমন হুজ্জত নাই। ওখানে বুক পেতে দিতে কেউ চেষ্টা করেন না।
... ... ...
যাদের ঔচিত্য বোধ প্রবল এঁরা লেখার এই অংশটুকু না পড়লেই ভাল করবেন। কারণ এখানে হয়তো তাঁরা অন্যায়ের গন্ধ খোঁজার অপচেষ্টা করবেন। এখানে এই ছবিটা দেয়াটা খানিকটা অসমীচীন। এই মাটার অনুমতি নেয়া সম্ভব হয়নি। আসলে অনুমতি চাওয়া-টাওয়ার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না। তদুপরি ত্রাণ-ট্রাণ সামনে রেখে যে রকম ছবি উঠাতে আমরা যেরকম অভ্যস্ত অনেকটা এই ভঙ্গি এখানে চলে এসেছে। কসম, আমার অন্য উপায় ছিল না।
আমার এই লেখার জন্য ছবিটা জরুরি। তাছাড়া একদা আমি হয়তো থাকব না কিন্তু এই মা-টার প্রতি তীব্র অন্যায়ের ছবিটা থেকে যাবে। হয়তো-বা...।
আজ সকালেই এক জায়গায় আমার যাওয়া আগে থেকেই স্থির হয়ে আছে। এমন মুহূর্তে কেউ আসলে বিরক্তি চাপা মুশকিল হয়ে যায় আমার জন্যে। আমি তো আর হৃদয়বান রাজনীতিবিদ না যে সব সব সময় আমার মনটা দলদলে থাকবে! তো, যে মানুষটা আসেন তার কথায় জানলাম, একটা বাচ্চা মারা গেছে, মিলাদ করাতে হবে, মোল্লা খাওয়াতে হবে।
কিন্তু পুরো ঘটনা শুনে, মোল্লা খাওয়াবার কথা শুনে আমার গা শিরশির করে। মোল্লারা সম্ভবত শব সামনে নিয়েও অনায়াসে খেতে পারবেন। আমি কথা না-বাড়িয়ে বলি, পারলে ওই মানুষটাকে নিয়ে আসেন।
মানুষটার এতোটা খারাপ অবস্থা জানলে তাঁকে আসার জন্য বলতাম না। গতকাল এই মাটারই বাচ্চা হতে গিয়ে বাচ্চাটা মারা গেছে কিন্তু প্রসবকালীন সমস্যার কারণে তিনি প্রচন্ড রকম আহতও। স্বামী তাঁকে ফেলে উধাও। ঘরভাড়া বাকী। ঘরের মালিক ভাড়া না-দেয়ার কারণে পারলে আজই বের করে দেয়। কাল থেকে খাওয়া নেই, তাঁর এবং তাঁর এই সন্তানেরও।
এই মুহূর্তে সব সমস্যা ছাপিয়ে যায় যেটা, তাঁর চিকিৎসা। যা কেবল একজন গাইনির পক্ষেই সম্ভব। হাসপাতালে গিয়েছিলেন, হাসপাতালে সবেধন নীলমনি এই বিষয়ে একজনই ডাক্তার। ওই ডাক্তার নামের মহিলা তাঁর চিকিৎসা দূরের কথা প্রসবকালীন আহত স্থান দেখেনওনি।
এই সব ডাক্তারদের জন্যই কত মা-বাচ্চা মৃত্যুবরণ করে, আত্মহত্যা করেন [১] ক-টার খবর আমরা রাখি?
কখনও কখনও আমার মুখে কিছুই আটকায় না। একবার ইচ্ছা করছিল, গিয়ে ডাক্তার নামের ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি এইবার আমাকে বলেন, আপনি যে ডাক্তার হয়েছেন, এর পেছনে আপনার বাপ কতো টাকা খরচ করেছেন আর কতো টাকা সরকার খরচ করেছে? সরকার তো তালুক বিক্রি করে আপনাকে পড়ায়নি। টাকাটা এসেছে এই সব রোগিদের কাছ থেকে। এই মা-রোগীটা হতদরিদ্র এ সত্য কিন্তু তিনি বছরের-পর-বছর ধরে যে সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছেন তার পরোক্ষ ট্যাক্স জমা হয়েছে সরকারের টাঁকশালে।
ভেবে দেখলাম, এতে লাভের লাভ কিছুই হবে না প্রকারান্তরে এই মা-টার ক্ষতি হবে।
বড়ো অসহায় লাগে নিজেকে। আপাতত প্রচন্ড ব্যথা কমাবার জন্য ওষুধ দেয়া ব্যতীত কিছুই করার নেই। তার আগে জরুরি তাঁকে কিছু একটা খাওয়ানো- এমনিতেও ব্যথা কমাবার ওষুধ খালি পেটে খাওয়ানোটা উচিত না। অন্য কিছু না-হয় পাওয়া গেল কিন্তু এক গ্লাস গরম দুধ কোথায় পাই? এ দোকান-ও দোকান খোঁজা সার। এখন আর কেউ গরুর দুধে চা বানায় না, সব কনডেন্স মিল্ক (আধুনিকতার ছোঁয়া)! অনেক খুঁজে একটা দোকান পাওয়া গেল। এই হারামজাদা আবার আলাদা করে দুধ বিক্রি করবে না, চা বানাতে নাকি ওর এই দুধ লাগবে। আমি রাগ চেপে বললাম, ঠিক আছে, দেন, বিশ কাপ চা দেন।
দোকানদার খানিকটা ভড়কায়, বিশ কাপ চা দেয়ার মত কাপ তো আমার কাছে নাই।
এবার আমি চোয়াল শক্ত করে বলি, কাপ লাগবে না। বিশ কাপ চার দুধগুলো এই গ্লাসে জমান আর দুধ ছাড়া চা আপনি বসে বসে খান। যাই হোক, দোকানদার এরপর আর ঝামেলা করেনি, দুধ সমস্যার সমাধান হয়।
কাল ঢাকা থেকে একজন ডাক্তার আসবেন। মা-টার চিকিৎসার একটা গতি হবে। আমি চাতক পাখির মত মানুষটার জন্য অপেক্ষা করছি।
... ... ...

এনজিওর এক পালা কুত্তা তাদের পোষা পত্রিকায় আবার ঘটা করে কলাম লিখেছে, ঋণ দিয়ে এরা দেশটায় আলোয় ভরিয়ে দিচ্ছে, দেশটা উন্নয়নে ভেসে যাচ্ছে। আগে চুভাইদের মিটিংয়ে লোকজন খালি পায়ে আসত এখন জুতা পায়ে দিয়ে আসে। এতেই চুভাইরা প্রমাণ করার চেষ্টায় লিপ্ত, দেশ এগিয়ে গেছে।
অর্থমন্ত্রী থাকার সময় সাইফুর রহমান তো বলেই বসেছিলেন, দেশের লোকজনরা আরামে আছে কারণ এখন ফকিরের হাতেও মোবাইল। ফকিরভাবনা!
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হবে, বাঁকের পরেই রেললাইন মিশে একাকার হয়ে গেছে। চর্ম চক্ষুতে তাই মনে হয়। তাই কি?
কিন্তু আমরা জানি, এ হয় না, এই-ই নিয়ম। তেমনি এই গ্রহে ন্যায়-অন্যায়ও পাশাপাশি চলবে, এটা-ই নিয়ম।
সহায়ক লিংক:
১. ডাক্তার নামের খুনিটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_24.html
মাত্র সেদিন সবিস্ময়ে লক্ষ করলাম, রাস্তার কাজ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে কেন যেন আমরা ভালোটা দেখতে পারি না, পেট ভরা হিংসা যে আমাদের! আমাদের বলতে আমিও- আমারও পেট আছে, আমার পেটে যথারীতি হিংসা আছে।
স্কুটার চালককে জিজ্ঞেস করি, ঘটনা কি?
মানুষটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেন, তাইজ্জব, এইটা জানেন না, মুন্ত্রী আইব। মুন্ত্রী মানে মন্ত্রী। আমি যে জায়গাটায় থাকি এখানে আলোড়ন তোলার মত তেমন কোন খবর থাকে না। সেখানে মন্ত্রী আসার খবর চমক লাগানো এতে সন্দেহ কী! না জানাটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বটে।
আমি অবাক হই না, ওহ, এই তাহলে ঘটনা। এটা আমাদের দেশের পরিচিত দৃশ্য। মন্ত্রী টাইপের লোকজনরা যখন চলাচল করেন তখন চারদিকে শান্তি-শান্তি ভাব চলে আসে। কোথাও কোন সমস্যা নেই, কোথাও কোন রাস্তা ভাঙ্গাচোরা নেই। আগে-পেছনে শ খানেক গাড়ি ব্যতীত এঁরা চলাচল করতে পারেন না।
বেচারা ইউরোপিয়ান দেশের মন্ত্রীদের জন্য বড়ো দুঃখ হয়। এরা বড়ো গরীব দেশের মন্ত্রী- নিজেরা সাইকেল চালায়, শপিং মলে নিজেরাই শপিং করে। ছ্যাহ!
ভুলে গেছি কে ড্রাইভার ছিলেন আর কে আরোহী। বিল গেটস এবং বিল ক্লিনটনের মধ্যে কেউ একজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই নিয়ে খবর বের হলো, এই গ্রহের সবচেয়ে ধনী মানুষ ড্রাইভার এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষ আরোহী! এরা বড়ো বেচারা, বড়ো গরীব!
যাই হোক, খোঁজ নিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেল আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগরতলা যাবেন। ওখানে তিনি 'ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান'-এর উদ্বোধন করবেন। এই কারণে রাস্তার দলাইমলাই চলছে। আরও জানা গেল, তাঁর এই যাওয়া উপলক্ষে এক সপ্তাহ স্থল-বন্দর বন্ধ থাকবে। মোদ্দা কথা, আমদানী-রফতানি এই এক সপ্তাহ পুরোপুরি বন্ধ। অথচ এই স্থল-বন্দরে দিয়ে প্রতিদিন শত-শত ট্রাক আসা-যাওয়া করে।
গতবছর এই বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ২১৪ কোটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছিল। ওই হিসাবে এই সাত দিনে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হলো। ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগের কথা এখানে অনুল্লেখ্যই থাক।
এখানে মজার একটা তথ্য বেরিয়ে এসেছে, বন্দর বন্ধ রাখার এই উদ্ভট আইডিয়াটা এসেছে আগরতলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। বন্দর বন্ধ রাখার জন্যে তাঁরাই অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে। কারণটা কি, দাদাদের এই অতি আগ্রহের কারণ কী!
উল্লেখ করার মত তেমন কিছু না, দাদাদের আগরতলার মাত্র ৪০০ মিটার রাস্তা মেরামত করতে হবে। ভাল-ভাল! যে রাস্তা দিয়ে হাজার-হাজার ট্রাক যেতে পারছে কোন সমস্যা হচ্ছে না সেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি যেতে সমস্যা হবে! ফোর হুইল ড্রাইভ, বড়ো বড়ো চাকাওয়ালা গাড়িগুলোর? দাদারা কি ভেবেছেন আমরা তাদের মতো স্কুটারের চাকা সদৃশ অ্যামবেসেডর গাড়ি ব্যবহার করি?
বেশ-বেশ, এরাও কি আমাদেরকে দেখে দেখে শিখে গেছে কেমন করে উদ্ভট সব কাজ করতে হয়?
কিন্তু আজ সকালে যখন আমার বাসার উপর দিয়ে কানফাটানো শব্দে হেলিকপ্টার উড়ে গেল তখন কেন যেন আমার মনে হলো এই যন্ত্রটা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বয়ে নিয়ে এসেছে। অনুমান ভুল ছিল না, বাস্তবেও তাই হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি হেলিকপ্টারে করে এখানকার হেলিপ্যাডে নেমেছেন।
সঙ্গে মিছিল করে চলে এসেছেন এই জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তারা।
যারা আমাদের দিককার রাস্তা-ঘাট ঠিকঠাক করছিলেন তাদের জন্য খানিকটা বিষাদগ্রস্তও হলাম। আহা, বেচারারা, রাস্তা চকচকে রাখার জন্য কী উদয়াস্ত পরিশ্রমই না করেছেন মন্ত্রীর গাড়ি যাবে বলে, পারলে বুক পেতে দেন। গব্বর সিং বেঁচে থাকলে ঠিকই বলে বসতেন, 'আব তেরা ক্যায়া হোগা রে বাঙ্গালিয়া'।
ভাগ্যিস, আকাশপথে এই সব নিয়ে তেমন হুজ্জত নাই। ওখানে বুক পেতে দিতে কেউ চেষ্টা করেন না।
... ... ...
যাদের ঔচিত্য বোধ প্রবল এঁরা লেখার এই অংশটুকু না পড়লেই ভাল করবেন। কারণ এখানে হয়তো তাঁরা অন্যায়ের গন্ধ খোঁজার অপচেষ্টা করবেন। এখানে এই ছবিটা দেয়াটা খানিকটা অসমীচীন। এই মাটার অনুমতি নেয়া সম্ভব হয়নি। আসলে অনুমতি চাওয়া-টাওয়ার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না। তদুপরি ত্রাণ-ট্রাণ সামনে রেখে যে রকম ছবি উঠাতে আমরা যেরকম অভ্যস্ত অনেকটা এই ভঙ্গি এখানে চলে এসেছে। কসম, আমার অন্য উপায় ছিল না।
আমার এই লেখার জন্য ছবিটা জরুরি। তাছাড়া একদা আমি হয়তো থাকব না কিন্তু এই মা-টার প্রতি তীব্র অন্যায়ের ছবিটা থেকে যাবে। হয়তো-বা...।
আজ সকালেই এক জায়গায় আমার যাওয়া আগে থেকেই স্থির হয়ে আছে। এমন মুহূর্তে কেউ আসলে বিরক্তি চাপা মুশকিল হয়ে যায় আমার জন্যে। আমি তো আর হৃদয়বান রাজনীতিবিদ না যে সব সব সময় আমার মনটা দলদলে থাকবে! তো, যে মানুষটা আসেন তার কথায় জানলাম, একটা বাচ্চা মারা গেছে, মিলাদ করাতে হবে, মোল্লা খাওয়াতে হবে।
কিন্তু পুরো ঘটনা শুনে, মোল্লা খাওয়াবার কথা শুনে আমার গা শিরশির করে। মোল্লারা সম্ভবত শব সামনে নিয়েও অনায়াসে খেতে পারবেন। আমি কথা না-বাড়িয়ে বলি, পারলে ওই মানুষটাকে নিয়ে আসেন।
মানুষটার এতোটা খারাপ অবস্থা জানলে তাঁকে আসার জন্য বলতাম না। গতকাল এই মাটারই বাচ্চা হতে গিয়ে বাচ্চাটা মারা গেছে কিন্তু প্রসবকালীন সমস্যার কারণে তিনি প্রচন্ড রকম আহতও। স্বামী তাঁকে ফেলে উধাও। ঘরভাড়া বাকী। ঘরের মালিক ভাড়া না-দেয়ার কারণে পারলে আজই বের করে দেয়। কাল থেকে খাওয়া নেই, তাঁর এবং তাঁর এই সন্তানেরও।
এই মুহূর্তে সব সমস্যা ছাপিয়ে যায় যেটা, তাঁর চিকিৎসা। যা কেবল একজন গাইনির পক্ষেই সম্ভব। হাসপাতালে গিয়েছিলেন, হাসপাতালে সবেধন নীলমনি এই বিষয়ে একজনই ডাক্তার। ওই ডাক্তার নামের মহিলা তাঁর চিকিৎসা দূরের কথা প্রসবকালীন আহত স্থান দেখেনওনি।
এই সব ডাক্তারদের জন্যই কত মা-বাচ্চা মৃত্যুবরণ করে, আত্মহত্যা করেন [১] ক-টার খবর আমরা রাখি?
কখনও কখনও আমার মুখে কিছুই আটকায় না। একবার ইচ্ছা করছিল, গিয়ে ডাক্তার নামের ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি এইবার আমাকে বলেন, আপনি যে ডাক্তার হয়েছেন, এর পেছনে আপনার বাপ কতো টাকা খরচ করেছেন আর কতো টাকা সরকার খরচ করেছে? সরকার তো তালুক বিক্রি করে আপনাকে পড়ায়নি। টাকাটা এসেছে এই সব রোগিদের কাছ থেকে। এই মা-রোগীটা হতদরিদ্র এ সত্য কিন্তু তিনি বছরের-পর-বছর ধরে যে সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছেন তার পরোক্ষ ট্যাক্স জমা হয়েছে সরকারের টাঁকশালে।
ভেবে দেখলাম, এতে লাভের লাভ কিছুই হবে না প্রকারান্তরে এই মা-টার ক্ষতি হবে।
বড়ো অসহায় লাগে নিজেকে। আপাতত প্রচন্ড ব্যথা কমাবার জন্য ওষুধ দেয়া ব্যতীত কিছুই করার নেই। তার আগে জরুরি তাঁকে কিছু একটা খাওয়ানো- এমনিতেও ব্যথা কমাবার ওষুধ খালি পেটে খাওয়ানোটা উচিত না। অন্য কিছু না-হয় পাওয়া গেল কিন্তু এক গ্লাস গরম দুধ কোথায় পাই? এ দোকান-ও দোকান খোঁজা সার। এখন আর কেউ গরুর দুধে চা বানায় না, সব কনডেন্স মিল্ক (আধুনিকতার ছোঁয়া)! অনেক খুঁজে একটা দোকান পাওয়া গেল। এই হারামজাদা আবার আলাদা করে দুধ বিক্রি করবে না, চা বানাতে নাকি ওর এই দুধ লাগবে। আমি রাগ চেপে বললাম, ঠিক আছে, দেন, বিশ কাপ চা দেন।
দোকানদার খানিকটা ভড়কায়, বিশ কাপ চা দেয়ার মত কাপ তো আমার কাছে নাই।
এবার আমি চোয়াল শক্ত করে বলি, কাপ লাগবে না। বিশ কাপ চার দুধগুলো এই গ্লাসে জমান আর দুধ ছাড়া চা আপনি বসে বসে খান। যাই হোক, দোকানদার এরপর আর ঝামেলা করেনি, দুধ সমস্যার সমাধান হয়।
কাল ঢাকা থেকে একজন ডাক্তার আসবেন। মা-টার চিকিৎসার একটা গতি হবে। আমি চাতক পাখির মত মানুষটার জন্য অপেক্ষা করছি।
... ... ...

এনজিওর এক পালা কুত্তা তাদের পোষা পত্রিকায় আবার ঘটা করে কলাম লিখেছে, ঋণ দিয়ে এরা দেশটায় আলোয় ভরিয়ে দিচ্ছে, দেশটা উন্নয়নে ভেসে যাচ্ছে। আগে চুভাইদের মিটিংয়ে লোকজন খালি পায়ে আসত এখন জুতা পায়ে দিয়ে আসে। এতেই চুভাইরা প্রমাণ করার চেষ্টায় লিপ্ত, দেশ এগিয়ে গেছে।
অর্থমন্ত্রী থাকার সময় সাইফুর রহমান তো বলেই বসেছিলেন, দেশের লোকজনরা আরামে আছে কারণ এখন ফকিরের হাতেও মোবাইল। ফকিরভাবনা!
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হবে, বাঁকের পরেই রেললাইন মিশে একাকার হয়ে গেছে। চর্ম চক্ষুতে তাই মনে হয়। তাই কি?
কিন্তু আমরা জানি, এ হয় না, এই-ই নিয়ম। তেমনি এই গ্রহে ন্যায়-অন্যায়ও পাশাপাশি চলবে, এটা-ই নিয়ম।
সহায়ক লিংক:
১. ডাক্তার নামের খুনিটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_24.html
বিভাগ
কষ্ট
Tuesday, November 9, 2010
দেশের চেয়ে দল বড়ো, দলের চেয়ে ব্যক্তি
কারা কারা যেন একবার খুব হইচই করছিলেন এটা নিয়ে, শিশু এবং পাগল ব্যতীত কেউ নিরেপেক্ষ হতে পারে না। কী জানি, পাগলদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি এবং শিশুদের মধ্যেও এই বিষয়ে আলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি!
আমি পূর্বের একটা লেখায় লিখেছিলাম, এই দেশে দলহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কেউ দল করবে কি করবে না এটা তার ব্যক্তিগত অভিরুচি, কেউ দল করতে পারবে না এমন আইনও দেশে চালু হয়নি। এই নিয়ে কারও অমত নাই, আমারও। দলবাজি [১] চলবে, এটা রোখার ক্ষমতা কারও নাই।
কাপড় একেকজন একেক কায়দায় পরে, কারও কারও পরার কায়দা আমাদের কাছে অশালীন মনে হয়। কিন্তু কখনও-কখনও যখন মানুষ কাপড় খুলে পুরোপুরি দিগম্বর হয়ে পড়ে তখন অশ্লীলতার পর্যায়ে চলে যায়।
আগেও লিখেছিলাম, বুড়া বুড়া রাজনৈতিক নেতারা যখন রাজনীতিবিদদের সন্তানদের নিয়ে কুতর্কে জড়িয়ে পড়েন তখন বিষয়টা আমার কাছে স্রেফ অশ্লীল [২] মনে হয়।
রাজনীতিবিদদেরকেও যখন অতি শিক্ষিত মানুষ ছাড়িয়ে যান, তখন গভীর বিষাদে বলতে হয়, আপনারাও!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবুল বাশার বলেন, "দেশের আকাশ-বাতাসসহ প্রতিটি কণা 'আমি তারেক জিয়া বলছি' ডাকটি শুনতে চায়।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, "আমরা চাই তারেক জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুন...।"
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, "...তারেক রহমান দেশের বাইরে বসে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করছেন।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান তারুণ্যের অহংকার। তাঁর দেহে দেশপ্রেম ও স্বাধীনচেতার রক্ত বইছে।...।"(প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
এঁরা হচ্ছেন সাদা দলের লোকজন। সাদা-কালো-হলুদ-পীত দল আমি আগে ভাল বুঝতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও দল থাকতে হয়, এঁরা বিভিন্ন রঙের ছড়ি বনবন করে ঘোরান এরচেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? তাহলে আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখে আঁতকে উঠার ভান করি কেন? স্যাররা দল করার জন্য পারলে ... খুলে ফেলবেন আর তাঁদের সুযোগ্য ছাত্ররা চারতলা থেকে সহপাঠিকে ফেলে দেবে [৩] এতে কাতর হওয়ার, অবাক হওয়ার কী আছে!
আমাদের দেশে যখন লম্বা-লম্বা বাতচিত করার সুযোগ আসে তখন পরিচিত কিছু মুখ ঘুরেফিরে চলেই আসে। যেমন ধরা যাক, নতুন বছরে কিছু লোকজন বাণী-টাণী দেবেন। পত্রিকায় এদের কাছ থেকে যখন আমরা শুনি, অবাক হই! আহা, এই দেশ নিয়ে ভাবতে ভাবতে এঁরা কেমন করে সমস্ত টিস্যু শেষ করে ফেলছেন। বা নতুন কোন পত্রিকা বের হবে তখন এঁদের আর্শীবাদের বড়ো প্রয়োজন।
এই অল্প মানুষদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। ইনি 'তারেক বন্দনা' অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন। তিনি বলেন, "তারেক জিয়া জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র হওয়ায় তাঁকে ভালবাসি, কারণ, তিনি একজন সুযোগ্য নেতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
জ্বী, এমাজউদ্দীন স্যার, সুযোগ্য তো বটেই। আপনি বললে এটা না-মেনে উপায় আছে, বলুন? মামুন-খাম্বা সব বাদ দিলাম কেবল আপনাকে একটা উদাহরণ দেই। ২০০৬ সালের ১ জুন তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ার জন্য সংসদ থেকে গাড়ি বহরের জন্য ৫৩০ লিটার অকটেন নেন। অথচ তিনি সংসদের কেউ ছিলেন না!
ডিয়ার স্যার, খানিকটা তকলীফ করে যদি সংসদের পরিবহন পুলে পাঠানো চিঠিটায় খানিকটা চোখ বুলিয়ে নিতেন।
এমাজউদ্দীন স্যার, আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন ছিল। আপনারা তো অনেক জ্ঞানী মানুষ, তর্কে তো আপনাদের সঙ্গে পারার যো নেই তাই অল্প কথায় বলি, জিয়াউর রহমানের এই সুযোগ্য পুত্রদ্বয় সদলবলে বৈদেশে আছেন ক-বছর হতে চলল? ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারেক জিয়া বিদেশ যাত্রা করেন। ওখানে তাঁর কি চিকিৎসা এখনও চালু আছে? এই ২ বছর প্রবাসে থাকা এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত? এটা কি স্যার আমাদেরকে একটু জানানো যায়?
স্যার, আপনারা তো সর্বজ্ঞ তবুও বেয়াদবী না নিলে একটু বলি, তারেক জিয়ার তো হাজার-হাজার কোটি টাকা নাই যে তিনি বছরের পর বছর ধরে বিদেশে বসবাস করতে থাকবেন। ওখানে কোন চাকরি-বাকরি করেন বলেও তো শুনিনি! আপনি বলবেন, তারেক জিয়ার খরচ তাঁর মা চালাচ্ছেন।
খালেদা জিয়া ১ কোটি ২৫ লাখ কালো টাকা সাদা করার পরও মনোয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া আয়কর বিবরন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এবং শেখ হাসিনার ৩ কোটি ৫৪ লাখ।
নাকি কোকো ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর-ফাইভ...থেকে খরচটা চলছে? যাক বাঁচোয়া, নইলে বসে বসে খেলে রাজার ভান্ডার ফুরিয়ে যায় আর এ তো মাত্র কয়েক কোটি টাকার মামলা।
অফ-টপিক: বয়স্ক মানুষদের নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না।
সহায়ক লিংক:
১. দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html
২. অশ্লীলতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_22.html
৩. নীল-গোলাপী-সাদা দল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html
আমি পূর্বের একটা লেখায় লিখেছিলাম, এই দেশে দলহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কেউ দল করবে কি করবে না এটা তার ব্যক্তিগত অভিরুচি, কেউ দল করতে পারবে না এমন আইনও দেশে চালু হয়নি। এই নিয়ে কারও অমত নাই, আমারও। দলবাজি [১] চলবে, এটা রোখার ক্ষমতা কারও নাই।
কাপড় একেকজন একেক কায়দায় পরে, কারও কারও পরার কায়দা আমাদের কাছে অশালীন মনে হয়। কিন্তু কখনও-কখনও যখন মানুষ কাপড় খুলে পুরোপুরি দিগম্বর হয়ে পড়ে তখন অশ্লীলতার পর্যায়ে চলে যায়।
আগেও লিখেছিলাম, বুড়া বুড়া রাজনৈতিক নেতারা যখন রাজনীতিবিদদের সন্তানদের নিয়ে কুতর্কে জড়িয়ে পড়েন তখন বিষয়টা আমার কাছে স্রেফ অশ্লীল [২] মনে হয়।
রাজনীতিবিদদেরকেও যখন অতি শিক্ষিত মানুষ ছাড়িয়ে যান, তখন গভীর বিষাদে বলতে হয়, আপনারাও!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবুল বাশার বলেন, "দেশের আকাশ-বাতাসসহ প্রতিটি কণা 'আমি তারেক জিয়া বলছি' ডাকটি শুনতে চায়।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, "আমরা চাই তারেক জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুন...।"
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, "...তারেক রহমান দেশের বাইরে বসে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করছেন।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান তারুণ্যের অহংকার। তাঁর দেহে দেশপ্রেম ও স্বাধীনচেতার রক্ত বইছে।...।"(প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
এঁরা হচ্ছেন সাদা দলের লোকজন। সাদা-কালো-হলুদ-পীত দল আমি আগে ভাল বুঝতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও দল থাকতে হয়, এঁরা বিভিন্ন রঙের ছড়ি বনবন করে ঘোরান এরচেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? তাহলে আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখে আঁতকে উঠার ভান করি কেন? স্যাররা দল করার জন্য পারলে ... খুলে ফেলবেন আর তাঁদের সুযোগ্য ছাত্ররা চারতলা থেকে সহপাঠিকে ফেলে দেবে [৩] এতে কাতর হওয়ার, অবাক হওয়ার কী আছে!
আমাদের দেশে যখন লম্বা-লম্বা বাতচিত করার সুযোগ আসে তখন পরিচিত কিছু মুখ ঘুরেফিরে চলেই আসে। যেমন ধরা যাক, নতুন বছরে কিছু লোকজন বাণী-টাণী দেবেন। পত্রিকায় এদের কাছ থেকে যখন আমরা শুনি, অবাক হই! আহা, এই দেশ নিয়ে ভাবতে ভাবতে এঁরা কেমন করে সমস্ত টিস্যু শেষ করে ফেলছেন। বা নতুন কোন পত্রিকা বের হবে তখন এঁদের আর্শীবাদের বড়ো প্রয়োজন।
এই অল্প মানুষদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। ইনি 'তারেক বন্দনা' অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন। তিনি বলেন, "তারেক জিয়া জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র হওয়ায় তাঁকে ভালবাসি, কারণ, তিনি একজন সুযোগ্য নেতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
জ্বী, এমাজউদ্দীন স্যার, সুযোগ্য তো বটেই। আপনি বললে এটা না-মেনে উপায় আছে, বলুন? মামুন-খাম্বা সব বাদ দিলাম কেবল আপনাকে একটা উদাহরণ দেই। ২০০৬ সালের ১ জুন তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ার জন্য সংসদ থেকে গাড়ি বহরের জন্য ৫৩০ লিটার অকটেন নেন। অথচ তিনি সংসদের কেউ ছিলেন না!
ডিয়ার স্যার, খানিকটা তকলীফ করে যদি সংসদের পরিবহন পুলে পাঠানো চিঠিটায় খানিকটা চোখ বুলিয়ে নিতেন।
এমাজউদ্দীন স্যার, আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন ছিল। আপনারা তো অনেক জ্ঞানী মানুষ, তর্কে তো আপনাদের সঙ্গে পারার যো নেই তাই অল্প কথায় বলি, জিয়াউর রহমানের এই সুযোগ্য পুত্রদ্বয় সদলবলে বৈদেশে আছেন ক-বছর হতে চলল? ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারেক জিয়া বিদেশ যাত্রা করেন। ওখানে তাঁর কি চিকিৎসা এখনও চালু আছে? এই ২ বছর প্রবাসে থাকা এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত? এটা কি স্যার আমাদেরকে একটু জানানো যায়?
স্যার, আপনারা তো সর্বজ্ঞ তবুও বেয়াদবী না নিলে একটু বলি, তারেক জিয়ার তো হাজার-হাজার কোটি টাকা নাই যে তিনি বছরের পর বছর ধরে বিদেশে বসবাস করতে থাকবেন। ওখানে কোন চাকরি-বাকরি করেন বলেও তো শুনিনি! আপনি বলবেন, তারেক জিয়ার খরচ তাঁর মা চালাচ্ছেন।
খালেদা জিয়া ১ কোটি ২৫ লাখ কালো টাকা সাদা করার পরও মনোয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া আয়কর বিবরন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এবং শেখ হাসিনার ৩ কোটি ৫৪ লাখ।
নাকি কোকো ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর-ফাইভ...থেকে খরচটা চলছে? যাক বাঁচোয়া, নইলে বসে বসে খেলে রাজার ভান্ডার ফুরিয়ে যায় আর এ তো মাত্র কয়েক কোটি টাকার মামলা।
অফ-টপিক: বয়স্ক মানুষদের নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না।
সহায়ক লিংক:
১. দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html
২. অশ্লীলতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_22.html
৩. নীল-গোলাপী-সাদা দল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html
Monday, November 8, 2010
চুরি-চামারি!
মনোজ বসুর 'নিশিকুটুম্ব' পড়ে আমি হাঁ হয়ে গিয়েছিলাম! বারবার পড়েও আমার এই মুগ্ধতা কাটেনি! চুরিকে কেমন করে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, ছত্রে ছত্রে এর বর্ণনা। 'নিশিকুটুম্ব' পড়ে কেউ চোর হতে চাইলে তাকে দোষ দেয়াটা মুশকিল হয়ে পড়ে।
আমাদের দেশে চোর একটা রহস্যময় চরিত্র। কেউ কেউ মালকোঁচা মেরে খালি গায়ে চুরি করে, গায়ে নাকি আচ্ছা করে তেলও মাখার নিয়ম। যেন কেউ আটকে ফেলার চেষ্টা করলেও অনায়াসে ফস্কে যাওয়া যায়। চুরি করতে না-পারলে ওই বাড়িতে বাথরুম সেরে আসার প্রবণতা, এমনটাও পূর্বে দেখা গেছে। এটা বড়ো ভাবনার বিষয়! চুরি করতে ব্যর্থ হলে কেনই বা ওদের 'অন-স্পট' বাথরুম করতে হয় আর কেমন করেই বা ইচ্ছা করলেই বাথরুম সারা যায়! যখন-তখন বাথরুম করা কী চাট্টিখানি কথা?
এদের হাতের নাগালে পাই না বিধায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করার কোন সুযোগ নাই।
আমাদের দেশে চোরকে ধরতে পারলে 'পিটাপিটি' করারই নিয়ম। রোগের কারণে যে মানুষটা বিছানায় পড়ে আছে দীর্ঘ সময়, চোরকে পেটাবার বেলায় তার শরীরেও কোত্থেকে যেন অসুরের শক্তি চলে আসে! চোরকে আইনের কাছে সোপর্দ করার খুব একটা আগ্রহ কারও মাঝে দেখা যায় না। চোর ধরা পড়েছে কিন্তু তাকে জামাই আদর করা হয়েছে এমন উদাহরণ বিরল। অল্প বিরল মানুষদের মধ্যেই এমন উদাহরণ আছে। আমাদের হুমায়ূন আহমেদ চোর ধরে তাকে চা-বিস্কিট খাইয়ে বিদায় করেছেন এমনটা তার লেখায় আমরা জেনেছি। হুমায়ূন আহমেদের মত উদার মানুষ হালিতে ক-টা মেলে?
সুশীল চোরদের বেলায় আবার হিসাব অন্য রকম। এদের আমরা কেবল জামাই আদরেই রাখি না বলতে গেলে মাথায় তুলে রাখি।
হানিফ সংকেত [১], আনিসুল হক [২], মঞ্জুলী ফেরদৌস [৩], মাহমুদ্দুজ্জামান বাবু, ডলি সায়ন্তনী, বিবিসি [২], গ্রামীন ফোন [৪], এঁরা নিশিকুটুম্বের সাহেবের মত এই বিদ্যাটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। পরের প্রজন্ম এঁদের কাছ থেকে শেখে কেমন করে চুরি-চামারি করতে হয়।
ব্লগস্ফিয়ারে তো এর অবস্থা ভয়াবহ। কে যে কোত্থেকে কার লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেবে এটা আঁচ করা কঠিন। অবশ্য এর পেছনে আমাদের মিডিয়ার অনেক লম্বা হাত আছে। এরা এখান থেকে অবলীলায় যে-কোন লেখা নিয়ে নেবেন, কৃতজ্ঞতা স্বীকারের কোন বালাই নাই। মন ভাল থাকলে লিখে দেবেন, ওয়েব সাইট অবলম্বনে। ব্যস, এই-ই!
ডয়চে ভেলে থেকে বাংলা উইকি নিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন সবে কবি নজরুলকে [৫] নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখাটা লিখছিলাম। দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর, যুগের-পর যুগ ধরে কবির সঙ্গে যে ভয়াবহ অন্যায় করা হচ্ছিল এই প্রসঙ্গ নিয়ে তখন প্রচুর তথ্য আমার প্রয়োজন হচ্ছিল। বাংলা উইকিতে এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য পেলাম কিন্তু হাইপার লিংকগুলোতে যথেষ্ঠ তথ্য ছিল না। নিরুপায় হয়ে অনেক উদাহরণের সঙ্গে ইংরাজি উইকির উদাহরণ দিতে হয়েছিল।
তো, ডয়চে ভেলের এই প্রতিবেদন [৬] খুঁজতে গিয়ে যেখানে এই লেখাটা পেলাম এটা পড়ে আমি হতভম্ব। dhakanews24.com, এদের এই প্রতিবেদনটা পড়ে মনে হচ্ছে এটা বুঝি এদের নিজস্ব প্রতিবেদন। কোথাও ডয়চে ভেলের কোন নাম-গন্ধও নেই! অন্যগুলোর কথা বাদও দিলে এরা আমার যে উদ্বৃতি দিয়েছে, এদের কাছে এমন কোন কথা ভুলেও আমি বলিনি। এদের কারও সঙ্গে এই বিষয়ে আমার কোন কথাই হয়নি!
এই প্রতিবেদনটার প্রতিবেদক Taskin Ahmed, কে এই Taskin Ahmed? মানুষটাকে তো আমি চিনি না! এই মানুষটার সঙ্গে পরজনমে দূরের কথা ইহজনমেও বাতচিত হয়নি আমার! তাহলে?
সচরাচর আমি কোন সাইটের লিংক ব্যবহার করি। দায়ে না-পড়লে স্ক্রিনশটও দেই না। কিন্তু কোন চোর-চোট্টা সাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর গোপন অভিলাষ আমার নাই। অতএব স্ক্রিনশটই সই।
সহায়ক লিংক:
১. হানিফ সংকেত: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_02.html
২. আনিসুল হক/ বিবিসি, বাংলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৩. মঞ্জুলী ফেরদৌস: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_21.html
৪. গ্রামীন ফোন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_06.html
৫. কবি নজরুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_21.html
৬. ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন: http://ht.ly/21Z7s
আমাদের দেশে চোর একটা রহস্যময় চরিত্র। কেউ কেউ মালকোঁচা মেরে খালি গায়ে চুরি করে, গায়ে নাকি আচ্ছা করে তেলও মাখার নিয়ম। যেন কেউ আটকে ফেলার চেষ্টা করলেও অনায়াসে ফস্কে যাওয়া যায়। চুরি করতে না-পারলে ওই বাড়িতে বাথরুম সেরে আসার প্রবণতা, এমনটাও পূর্বে দেখা গেছে। এটা বড়ো ভাবনার বিষয়! চুরি করতে ব্যর্থ হলে কেনই বা ওদের 'অন-স্পট' বাথরুম করতে হয় আর কেমন করেই বা ইচ্ছা করলেই বাথরুম সারা যায়! যখন-তখন বাথরুম করা কী চাট্টিখানি কথা?
এদের হাতের নাগালে পাই না বিধায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করার কোন সুযোগ নাই।
আমাদের দেশে চোরকে ধরতে পারলে 'পিটাপিটি' করারই নিয়ম। রোগের কারণে যে মানুষটা বিছানায় পড়ে আছে দীর্ঘ সময়, চোরকে পেটাবার বেলায় তার শরীরেও কোত্থেকে যেন অসুরের শক্তি চলে আসে! চোরকে আইনের কাছে সোপর্দ করার খুব একটা আগ্রহ কারও মাঝে দেখা যায় না। চোর ধরা পড়েছে কিন্তু তাকে জামাই আদর করা হয়েছে এমন উদাহরণ বিরল। অল্প বিরল মানুষদের মধ্যেই এমন উদাহরণ আছে। আমাদের হুমায়ূন আহমেদ চোর ধরে তাকে চা-বিস্কিট খাইয়ে বিদায় করেছেন এমনটা তার লেখায় আমরা জেনেছি। হুমায়ূন আহমেদের মত উদার মানুষ হালিতে ক-টা মেলে?
সুশীল চোরদের বেলায় আবার হিসাব অন্য রকম। এদের আমরা কেবল জামাই আদরেই রাখি না বলতে গেলে মাথায় তুলে রাখি।
হানিফ সংকেত [১], আনিসুল হক [২], মঞ্জুলী ফেরদৌস [৩], মাহমুদ্দুজ্জামান বাবু, ডলি সায়ন্তনী, বিবিসি [২], গ্রামীন ফোন [৪], এঁরা নিশিকুটুম্বের সাহেবের মত এই বিদ্যাটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। পরের প্রজন্ম এঁদের কাছ থেকে শেখে কেমন করে চুরি-চামারি করতে হয়।
ব্লগস্ফিয়ারে তো এর অবস্থা ভয়াবহ। কে যে কোত্থেকে কার লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেবে এটা আঁচ করা কঠিন। অবশ্য এর পেছনে আমাদের মিডিয়ার অনেক লম্বা হাত আছে। এরা এখান থেকে অবলীলায় যে-কোন লেখা নিয়ে নেবেন, কৃতজ্ঞতা স্বীকারের কোন বালাই নাই। মন ভাল থাকলে লিখে দেবেন, ওয়েব সাইট অবলম্বনে। ব্যস, এই-ই!
ডয়চে ভেলে থেকে বাংলা উইকি নিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন সবে কবি নজরুলকে [৫] নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখাটা লিখছিলাম। দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর, যুগের-পর যুগ ধরে কবির সঙ্গে যে ভয়াবহ অন্যায় করা হচ্ছিল এই প্রসঙ্গ নিয়ে তখন প্রচুর তথ্য আমার প্রয়োজন হচ্ছিল। বাংলা উইকিতে এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য পেলাম কিন্তু হাইপার লিংকগুলোতে যথেষ্ঠ তথ্য ছিল না। নিরুপায় হয়ে অনেক উদাহরণের সঙ্গে ইংরাজি উইকির উদাহরণ দিতে হয়েছিল।
তো, ডয়চে ভেলের এই প্রতিবেদন [৬] খুঁজতে গিয়ে যেখানে এই লেখাটা পেলাম এটা পড়ে আমি হতভম্ব। dhakanews24.com, এদের এই প্রতিবেদনটা পড়ে মনে হচ্ছে এটা বুঝি এদের নিজস্ব প্রতিবেদন। কোথাও ডয়চে ভেলের কোন নাম-গন্ধও নেই! অন্যগুলোর কথা বাদও দিলে এরা আমার যে উদ্বৃতি দিয়েছে, এদের কাছে এমন কোন কথা ভুলেও আমি বলিনি। এদের কারও সঙ্গে এই বিষয়ে আমার কোন কথাই হয়নি!
এই প্রতিবেদনটার প্রতিবেদক Taskin Ahmed, কে এই Taskin Ahmed? মানুষটাকে তো আমি চিনি না! এই মানুষটার সঙ্গে পরজনমে দূরের কথা ইহজনমেও বাতচিত হয়নি আমার! তাহলে?
সচরাচর আমি কোন সাইটের লিংক ব্যবহার করি। দায়ে না-পড়লে স্ক্রিনশটও দেই না। কিন্তু কোন চোর-চোট্টা সাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর গোপন অভিলাষ আমার নাই। অতএব স্ক্রিনশটই সই।
| সূত্র: dhakanews24.com |
![]() |
| সূত্র: dhakanews24.com |
১. হানিফ সংকেত: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_02.html
২. আনিসুল হক/ বিবিসি, বাংলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৩. মঞ্জুলী ফেরদৌস: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_21.html
৪. গ্রামীন ফোন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_06.html
৫. কবি নজরুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_21.html
৬. ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন: http://ht.ly/21Z7s
বিভাগ
চাবকানো প্রয়োজন
Sunday, November 7, 2010
প-তে পাকস্থলী, প-তে প্রথম আলো
পাকস্থলী জিনিসটা লা-জবাব! এ সব হজম করে ফেলে কিন্তু নিজে হজম হয় না। লাগাতার এই কান্ড করেই যাচ্ছে, পাকেপ্রকারে। এর একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কপচানো এখানে এই লেখার মূল উপজীব্য না। তাই বলে মানুষের পাকস্থলি কেন বিষাক্ত এসিড হজম করতে পারে না এই নিয়ে কুতর্কে যাই না।
মোদ্দা কথা, পাকস্থলি সব হজম করে ফেলে, আকৃতি বদলে ফেলে কিন্তু নিজে নিজেকে হজম করে না, অবিকৃত থাকে।
প্রথম আলোর অবস্থাটা অনেকটা এমনই। এরা সব বদলে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু নিজেরা বদলাবে না বলে পণ করেছে। বদলাবে না পণ করেছে এটা ভুল বললাম আসলে এদের ধারণা, এদের বদলাবার কোন অবকাশ নাই- পাকস্থলী যে!
প্রথম আলো নিয়ে লিখব না বলে আমিও পণ করেছিলুম কারণ দেখা গেছে এদের নিয়ে লিখতে গেলে অন্য সমস্ত লেখালেখি বাদ দিতে হয়। এমনিতেও প্রথম আলোকে নিয়ে প্রচুর লেখা হয়েছে [১], এখন এদের নিয়ে লেখা আমার কাছে মনে হয় 'ফিযুল', স্রেফ শব্দের অপচয়। 'প্রকাশনার ১২ বছর', এটাকে সামনে রেখে ঢোলের শব্দে কান পাতা দায়! অবশ্য যেখানে প্রথম আলোকে নিয়ে এই দেশের সুশীলরা তেলতেলে লেখা লিখছেন সেখানে এই মুহূর্তে প্রথম আলোকে নিয়ে কোন তেলিবেলির লেখার চেষ্টা করাটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না।
কেবল আসিফ নজরুলকে প্রথম আলোয় দেখলাম খানিকটা অন্য রকম লেখা লিখতে, 'প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়ায়' [২]। যে আসিফ নজরুলকে আমরা দেখি টক-শোতে টক টক করে অনবরত সমালোচনায় মুখর হতে সেই আসিফকেই আমরা এখানে দেখি মৃদু লাটিচার্জের মত মৃদু-মৃদু কথা বলতে। তিনি লিখেছেন, "বিজ্ঞাপন আগ্রাসন থেকে এটি অনেক পত্রিকার তুলনায় মুক্ত। কিন্তু প্রথম আর শেষ পাতার অর্ধেক বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে এমন ঘটনা প্রথম আলোর ক্ষেত্রেও কখনো কখনো ঘটে"।
কখনো কখনো? হা হা হা। আসিফ নজরুলের শব্দের খেলা দেখে আমি মুগ্ধ, এই মুগ্ধতা অবশেষে কৌতুকে পরিণত হচ্ছে। ৫ নভেম্বর, এই দিন আমি যদি বিশেষ সংখ্যা বাদও দেই; কেবল মূল কাগজ নিয়েই যদি আলোচনা করি, এই দিনই প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠার ভরানো বিজ্ঞাপনের কথা যদি বাদও দেই। এবং বাদ দিলাম ভেতরের অন্য পৃষ্ঠার অর্ধেক পৃষ্ঠাব্যাপি বিজ্ঞাপনও। তারপরও ৬, ১৭, ১৮ পৃষ্টায় ক-লাইন সংবাদ এটা আসিফ যদি আমাদেরকে একটু জানাতেন। আপনার কাছে স্কেল না-থাকলে নিয়ে আসুন আপনার আইনের বই। পত্রিকার উপর রেখে এড়ি-দুড়ি-তেলকা এই পদ্ধতিতে মেপে দেখি গোটা পত্রিকায় কয় হাত খবর এবং কয় হাত বিজ্ঞাপন?
যাগ গে, বিজ্ঞাপন নিয়ে লেখার ইচ্ছা আমার ছিল না। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে খবর পেলেই আমরা পাঠক আনন্দে উল্লসিত হই এবং সুশীলরা পুচ্ছ আন্দোলিত করেন; সাদা-সাদা গোঁফসহ ঝড়ের গতিতে হাজির হয়ে যান।
৫ নভেম্বরের বিশেষ সংখ্যায় এই ছবিটা ছাপা হয়েছে। আমি এটাকে ছবি বলব না, একটা মাস্টারপীস!
এই ছবিটা গত বছর যখন আমি দেখি তখন হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম, কেমন করে এই ছবি ধারণ করা সম্ভব? এই ছবিটা আমার মাথা কী এলোমেলোই না-করে দিয়েছিল! পারতপক্ষে কোরবানির কোন পশুর কাছে যাই না, আমি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু এই ছবির প্রভাব সমস্ত হিসাব গোলমাল করে দিল।
সত্যি বলছি, গরুর চোখের শত-শত ছবি উঠালাম কিন্তু কোনটাই আমার মনে ধরল না। যে সুবিধাটা এই আলোকচিত্রি পেয়েছিলেন তা আমি পাইনি। আমার ছিল দুর্বল লেন্সের একটা ক্যামেরা, সাবজেক্ট হিসাবে মাত্র একটা গরু এবং যেখানে গরুটা বাঁধা ছিল সেখানে আলোর সমস্যা। সূর্য ছিল গাছের আড়ালে, আলোর ঠিক প্রতিফলনটা পাচ্ছিলাম না। শত-শত ছবির মধ্যে কেবলমাত্র একটা ছবি আমার পছন্দ হয়েছিল, যে ছবিটা রূপান্তর [৩] নামের একটা লেখায় ব্যবহার করেছিলাম।
তো, প্রথম আলোর এই ছবিটার সঙ্গে সমস্ত তথ্যই আছে। গরুটা ওই সময় কি ভাবছিল, খুঁজছিল এটাও মতি ভাইয়া আমাদেরকে জানিয়েছেন কিন্তু ছবিটা কে উঠিয়েছেন এই তথ্যটা দিব্যি চেপে গেছেন। এটা ছবিটা কি স্বয়ং গরু উঠিয়েছে, না মতি ভাইয়া, নাকি এই অফিসের কোন চাপরাসি এই তথ্যটাই কেবল জানা যাচ্ছে না। মতি ভাইয়া গং, এঁরা যে এই ফাজলামিটা কেবল আজই করলেন এমন না অতীতে বহুবার করেছেন। এই সব ফাজলামি নিয়ে আমি নিজেই অনেক লেখা লিখেছি [৪]।
নির্বোধদের কে বোঝাবে, একটা ছবিও একজনের কাছে সন্তানের মত। কোন দৈনিকে কাজ করলেই সেই দৈনিকের কোন অধিকার নাই সেই ছবিটাকে জারজ বানিয়ে দিতে। একটা ছবি উঠাবার জন্য কেমন দক্ষযজ্ঞ করতে হয় [৫] , দালির ছবি উঠাবার নমুনা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে। কেভিন কার্টার একটা ছবির বদৌলতে কেমন করে অমর হয়ে যান এই সব মতি ভাইয়ার মাথায় আদৌ ঢুকবে বলে আশা করি না।
তবে মতি ভাইয়ার খানিকটা উন্নতি হয়েছে। এই বিশেষ সংখ্যায় অজস্র ছবি ছাপা হয়েছে এবং আলোকচিত্রির নাম দেয়া হয়েছে এভাবে। এটা বেশ হয়েছে।
এটা মনে হয় মতি ভাইয়ার একটা খেলা, 'চিত্রজট' খেলা। পাঠকের উদ্দেশ্যে তিনি হাসি মুখে বলবেন, বেছে নাও..., চিত্র এবং চিত্রর বাপকে বেছে নাও। পাঠকও বিমলাননন্দে এই খেলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই নিয়ে 'কুটি-কুটি' এসএমএস প্রথম আলোর অফিসে জমা হবে। তড়িঘড়ি করে জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং ফেলে মতি ভাইয়া সেনানিবাস থেকে অফিসে ছুটে আসবেন। প্রথম আলো ঘরানার সাদা গোঁফঅলা সুশীলরা আসবেন, গোঁফ সহ। আসবেন গাতকরা। গানও গাইবেন, কো-ও-ন ছওও-বি-র কোওওও-ন বা-প/ খুঁ-জ-তে গিই-য়ে বুওওও-কে ধওওও-র-লো হাঁআআআআ-প।
সে এক বিপুল আয়োজন!
সহায়ক লিংক:
১. প্রথম আলো: http://tinyurl.com/3yadh4k
২. আসিফ নজরুল: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=13&date=2010-11-05
৩. রূপান্তর: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_1172.html
৪. ছবি নিয়ে ফাজলামি: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_488.html
৫. দালি: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_6543.html
৫. কেভিন কার্টার: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_3172.html
মোদ্দা কথা, পাকস্থলি সব হজম করে ফেলে, আকৃতি বদলে ফেলে কিন্তু নিজে নিজেকে হজম করে না, অবিকৃত থাকে।
প্রথম আলোর অবস্থাটা অনেকটা এমনই। এরা সব বদলে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু নিজেরা বদলাবে না বলে পণ করেছে। বদলাবে না পণ করেছে এটা ভুল বললাম আসলে এদের ধারণা, এদের বদলাবার কোন অবকাশ নাই- পাকস্থলী যে!
প্রথম আলো নিয়ে লিখব না বলে আমিও পণ করেছিলুম কারণ দেখা গেছে এদের নিয়ে লিখতে গেলে অন্য সমস্ত লেখালেখি বাদ দিতে হয়। এমনিতেও প্রথম আলোকে নিয়ে প্রচুর লেখা হয়েছে [১], এখন এদের নিয়ে লেখা আমার কাছে মনে হয় 'ফিযুল', স্রেফ শব্দের অপচয়। 'প্রকাশনার ১২ বছর', এটাকে সামনে রেখে ঢোলের শব্দে কান পাতা দায়! অবশ্য যেখানে প্রথম আলোকে নিয়ে এই দেশের সুশীলরা তেলতেলে লেখা লিখছেন সেখানে এই মুহূর্তে প্রথম আলোকে নিয়ে কোন তেলিবেলির লেখার চেষ্টা করাটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না।
কেবল আসিফ নজরুলকে প্রথম আলোয় দেখলাম খানিকটা অন্য রকম লেখা লিখতে, 'প্রথম আলো: পাঠকের কাঠগড়ায়' [২]। যে আসিফ নজরুলকে আমরা দেখি টক-শোতে টক টক করে অনবরত সমালোচনায় মুখর হতে সেই আসিফকেই আমরা এখানে দেখি মৃদু লাটিচার্জের মত মৃদু-মৃদু কথা বলতে। তিনি লিখেছেন, "বিজ্ঞাপন আগ্রাসন থেকে এটি অনেক পত্রিকার তুলনায় মুক্ত। কিন্তু প্রথম আর শেষ পাতার অর্ধেক বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে এমন ঘটনা প্রথম আলোর ক্ষেত্রেও কখনো কখনো ঘটে"।
কখনো কখনো? হা হা হা। আসিফ নজরুলের শব্দের খেলা দেখে আমি মুগ্ধ, এই মুগ্ধতা অবশেষে কৌতুকে পরিণত হচ্ছে। ৫ নভেম্বর, এই দিন আমি যদি বিশেষ সংখ্যা বাদও দেই; কেবল মূল কাগজ নিয়েই যদি আলোচনা করি, এই দিনই প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠার ভরানো বিজ্ঞাপনের কথা যদি বাদও দেই। এবং বাদ দিলাম ভেতরের অন্য পৃষ্ঠার অর্ধেক পৃষ্ঠাব্যাপি বিজ্ঞাপনও। তারপরও ৬, ১৭, ১৮ পৃষ্টায় ক-লাইন সংবাদ এটা আসিফ যদি আমাদেরকে একটু জানাতেন। আপনার কাছে স্কেল না-থাকলে নিয়ে আসুন আপনার আইনের বই। পত্রিকার উপর রেখে এড়ি-দুড়ি-তেলকা এই পদ্ধতিতে মেপে দেখি গোটা পত্রিকায় কয় হাত খবর এবং কয় হাত বিজ্ঞাপন?
![]() |
| ছবি ঋণ: প্রথম আলো |
৫ নভেম্বরের বিশেষ সংখ্যায় এই ছবিটা ছাপা হয়েছে। আমি এটাকে ছবি বলব না, একটা মাস্টারপীস!
এই ছবিটা গত বছর যখন আমি দেখি তখন হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম, কেমন করে এই ছবি ধারণ করা সম্ভব? এই ছবিটা আমার মাথা কী এলোমেলোই না-করে দিয়েছিল! পারতপক্ষে কোরবানির কোন পশুর কাছে যাই না, আমি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু এই ছবির প্রভাব সমস্ত হিসাব গোলমাল করে দিল।
সত্যি বলছি, গরুর চোখের শত-শত ছবি উঠালাম কিন্তু কোনটাই আমার মনে ধরল না। যে সুবিধাটা এই আলোকচিত্রি পেয়েছিলেন তা আমি পাইনি। আমার ছিল দুর্বল লেন্সের একটা ক্যামেরা, সাবজেক্ট হিসাবে মাত্র একটা গরু এবং যেখানে গরুটা বাঁধা ছিল সেখানে আলোর সমস্যা। সূর্য ছিল গাছের আড়ালে, আলোর ঠিক প্রতিফলনটা পাচ্ছিলাম না। শত-শত ছবির মধ্যে কেবলমাত্র একটা ছবি আমার পছন্দ হয়েছিল, যে ছবিটা রূপান্তর [৩] নামের একটা লেখায় ব্যবহার করেছিলাম।
তো, প্রথম আলোর এই ছবিটার সঙ্গে সমস্ত তথ্যই আছে। গরুটা ওই সময় কি ভাবছিল, খুঁজছিল এটাও মতি ভাইয়া আমাদেরকে জানিয়েছেন কিন্তু ছবিটা কে উঠিয়েছেন এই তথ্যটা দিব্যি চেপে গেছেন। এটা ছবিটা কি স্বয়ং গরু উঠিয়েছে, না মতি ভাইয়া, নাকি এই অফিসের কোন চাপরাসি এই তথ্যটাই কেবল জানা যাচ্ছে না। মতি ভাইয়া গং, এঁরা যে এই ফাজলামিটা কেবল আজই করলেন এমন না অতীতে বহুবার করেছেন। এই সব ফাজলামি নিয়ে আমি নিজেই অনেক লেখা লিখেছি [৪]।
নির্বোধদের কে বোঝাবে, একটা ছবিও একজনের কাছে সন্তানের মত। কোন দৈনিকে কাজ করলেই সেই দৈনিকের কোন অধিকার নাই সেই ছবিটাকে জারজ বানিয়ে দিতে। একটা ছবি উঠাবার জন্য কেমন দক্ষযজ্ঞ করতে হয় [৫] , দালির ছবি উঠাবার নমুনা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে। কেভিন কার্টার একটা ছবির বদৌলতে কেমন করে অমর হয়ে যান এই সব মতি ভাইয়ার মাথায় আদৌ ঢুকবে বলে আশা করি না।
![]() |
| ঋণ: প্রথম আলো/ ৫ নবেম্বর, ২০১০ |
এটা মনে হয় মতি ভাইয়ার একটা খেলা, 'চিত্রজট' খেলা। পাঠকের উদ্দেশ্যে তিনি হাসি মুখে বলবেন, বেছে নাও..., চিত্র এবং চিত্রর বাপকে বেছে নাও। পাঠকও বিমলাননন্দে এই খেলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই নিয়ে 'কুটি-কুটি' এসএমএস প্রথম আলোর অফিসে জমা হবে। তড়িঘড়ি করে জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং ফেলে মতি ভাইয়া সেনানিবাস থেকে অফিসে ছুটে আসবেন। প্রথম আলো ঘরানার সাদা গোঁফঅলা সুশীলরা আসবেন, গোঁফ সহ। আসবেন গাতকরা। গানও গাইবেন, কো-ও-ন ছওও-বি-র কোওওও-ন বা-প/ খুঁ-জ-তে গিই-য়ে বুওওও-কে ধওওও-র-লো হাঁআআআআ-প।
সে এক বিপুল আয়োজন!
সহায়ক লিংক:
১. প্রথম আলো: http://tinyurl.com/3yadh4k
২. আসিফ নজরুল: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=13&date=2010-11-05
৩. রূপান্তর: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_1172.html
৪. ছবি নিয়ে ফাজলামি: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_488.html
৫. দালি: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_6543.html
৫. কেভিন কার্টার: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_3172.html
বিভাগ
প্রথম আলো
Saturday, November 6, 2010
সোনার বাংলা...
ন্যানো ক্রেডিট [১] বিষয়টা আমাকে আক্ষরিক অর্থেই হতভম্ব করেছিল, কোথাও আটকায়নি! প্রচুর লোকজনকে বিভিন্ন খাতে ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় ঋণ দেয়া হয়েছিল। কেউ কলা বিক্রি করেন, কেউ স্কুলে চকলেট-আচার, কেউ-বা সেলুন। এমন কি স্টেশনে ভাত বিক্রি করেন তাদেরও ন্যানো ক্রেডিটের নামে পুঁজি দেয়া হয়েছিল, আস্তে আস্তে মূল টাকাটা দিয়ে দেবেন। কাউকে কাউকে নিয়ে এখানে লিখেছি, অনেককে নিয়ে লেখা হয়ে উঠেনি। এরিমধ্যে কেউ কেউ আবার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়ে দ্বিগুণ টাকাও নিয়েছেন। আবার তা শোধ করে শেষও করে ফেলছেন!
মন মিয়া [২] নামের একজন কলা বিক্রি করতেন। পূর্বে এক হাজার টাকার জন্য ৬০০ টাকা সুদ দিতেন। তাঁকে ১০০০ টাকা দেয়ার পর প্রতিদিন ১০/২০ টাকা শোধ করে ১০০০ টাকা শোধ করে দিয়ে ২০০০ টাকা নিয়েছিলেন, সেই টাকাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবই মন ভাল হওয়ার মত খবর।
স্টেশনে ভাত বিক্রি করেন এমন কিছু মহিলাকেও ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় টাকা দেয়া হয়েছিল। এঁদের চাহিদা খুব বেশি কিছু না, একজন তো মাত্র ৩০০ টাকা নিয়েছিলেন কারণ তাঁর এই টাকাই প্রয়োজন। যথারীতি অল্প অল্প করে এঁরা টাকা শোধ দিচ্ছিলেন, স্টেশনের স্কুলের টিচারের কাছে এঁরা টাকা জমা দিতেন, নিয়ম করে।
কিন্তু আমি লক্ষ করলাম, বেশ কিছু দিন ধরে এরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এমনিতে এটাই আমার স্কুলে আসা-যাওয়ার পথ। এঁদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল, স্টেশন কর্তৃপক্ষ এঁদের এখন আর এখানে বসতে দিচ্ছেন না। আমি আস্তে করে এখান থেকে সরে আসি, কারণ এখানে আমার করার কিছুই নাই। স্টেশনের কর্তৃপক্ষ যদি আইনগত সমস্যা মনে করেন তাহলে এখানে আমার কোন ভূমিকা থাকাটা যুক্তিযুক্ত না। অন্যায্য আবদার কর্তৃপক্ষকে আমি করতে পারি না।
এরপর থেকে আমি আর এঁদের কিছু বলি না, এঁদের বিমর্ষ মুখ দেখতে ভালও লাগে না। কিন্তু এঁরা টাকা দিতে পারছেন না বলে আমার আসা-যাওয়ার পথে আমাকে দেখলেই খানিকটা সংকুচিত হয়ে যান, আমি অন্য দিকে তাকাতে চেষ্টা করি। ফি-রোজ একই ঘটনা। বাধ্য হয়ে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য খানিকটা ঘুর পথ বেছে নেই।
আজ এদের একজন আমাকে দেখে ঝলমলে মুখে জানালেন আজ থেকে এরা বসতে পারবেন, ভাত বিক্রি করতে পারবেন। বুকে হাত দিয়ে বলি, শুনে মনটা আমার ভাল হয়ে গিয়েছিল। যাক, এই গরিব বেচারাদের একটা গতি হলো। আবার এঁরা পুরোদমে ভাত বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারছেন, মাছ-ভাত ১৫ টাকা প্লেট!
আমি সম্ভবত খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম। প্রথমে কথাটা ভাল করে বুঝিনি যখন তিনি বললেন, 'এখন ডেইলি ত্রিশ টাকা কইরা দিমু'।
আমি বললাম, 'না-না, ত্রিশ টাকা করে দিতে হবে না। আপনি প্রতিদিন বা হপ্তায় যা পারেন দিবেন'।
তিনি বললেন, 'ত্রিশ টাকা না-দিলে ভাত বেচতে দিব না'।
আমি অবাক, 'কে বলেছে এই কথা, স্কুলের মাস্টার'?
আসল ঘটনা এতক্ষণে বুঝতে পারি আমি। ষ্টেশন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ত্রিশ টাকা ঘুষের বিনিময়ে এখন এরা স্টেশনে ভাত বিক্রি করার অনুমতি পেয়েছেন! অর্থাৎ মাসে প্রত্যেককে এখন ৯০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে। ভাবা যায়! এই-ই আমাদের সোনার বাংলার নমুনা!
বাহ, ঘুষ দিলে এখন আর বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের কোন ব্যত্যয় হয় না! হা ঈশ্বর! পূর্বেও লিখেছিলাম, এই দেশে টাকা পেলে আমরা মাকেও বিক্রি করে দেব- তাঁর ফুসফুস, কিডনি, লিভার...। থাক, বেচারা ঈশ্বরকে এখন আর ডাকাডাকি করে লাভ নাই। ঘুমাচ্ছে বেচারা। ঘুমাক।
সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_18.html
মন মিয়া [২] নামের একজন কলা বিক্রি করতেন। পূর্বে এক হাজার টাকার জন্য ৬০০ টাকা সুদ দিতেন। তাঁকে ১০০০ টাকা দেয়ার পর প্রতিদিন ১০/২০ টাকা শোধ করে ১০০০ টাকা শোধ করে দিয়ে ২০০০ টাকা নিয়েছিলেন, সেই টাকাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবই মন ভাল হওয়ার মত খবর।
স্টেশনে ভাত বিক্রি করেন এমন কিছু মহিলাকেও ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় টাকা দেয়া হয়েছিল। এঁদের চাহিদা খুব বেশি কিছু না, একজন তো মাত্র ৩০০ টাকা নিয়েছিলেন কারণ তাঁর এই টাকাই প্রয়োজন। যথারীতি অল্প অল্প করে এঁরা টাকা শোধ দিচ্ছিলেন, স্টেশনের স্কুলের টিচারের কাছে এঁরা টাকা জমা দিতেন, নিয়ম করে।
কিন্তু আমি লক্ষ করলাম, বেশ কিছু দিন ধরে এরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এমনিতে এটাই আমার স্কুলে আসা-যাওয়ার পথ। এঁদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল, স্টেশন কর্তৃপক্ষ এঁদের এখন আর এখানে বসতে দিচ্ছেন না। আমি আস্তে করে এখান থেকে সরে আসি, কারণ এখানে আমার করার কিছুই নাই। স্টেশনের কর্তৃপক্ষ যদি আইনগত সমস্যা মনে করেন তাহলে এখানে আমার কোন ভূমিকা থাকাটা যুক্তিযুক্ত না। অন্যায্য আবদার কর্তৃপক্ষকে আমি করতে পারি না।
এরপর থেকে আমি আর এঁদের কিছু বলি না, এঁদের বিমর্ষ মুখ দেখতে ভালও লাগে না। কিন্তু এঁরা টাকা দিতে পারছেন না বলে আমার আসা-যাওয়ার পথে আমাকে দেখলেই খানিকটা সংকুচিত হয়ে যান, আমি অন্য দিকে তাকাতে চেষ্টা করি। ফি-রোজ একই ঘটনা। বাধ্য হয়ে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য খানিকটা ঘুর পথ বেছে নেই।
আজ এদের একজন আমাকে দেখে ঝলমলে মুখে জানালেন আজ থেকে এরা বসতে পারবেন, ভাত বিক্রি করতে পারবেন। বুকে হাত দিয়ে বলি, শুনে মনটা আমার ভাল হয়ে গিয়েছিল। যাক, এই গরিব বেচারাদের একটা গতি হলো। আবার এঁরা পুরোদমে ভাত বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারছেন, মাছ-ভাত ১৫ টাকা প্লেট!
আমি সম্ভবত খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম। প্রথমে কথাটা ভাল করে বুঝিনি যখন তিনি বললেন, 'এখন ডেইলি ত্রিশ টাকা কইরা দিমু'।
আমি বললাম, 'না-না, ত্রিশ টাকা করে দিতে হবে না। আপনি প্রতিদিন বা হপ্তায় যা পারেন দিবেন'।
তিনি বললেন, 'ত্রিশ টাকা না-দিলে ভাত বেচতে দিব না'।
আমি অবাক, 'কে বলেছে এই কথা, স্কুলের মাস্টার'?
আসল ঘটনা এতক্ষণে বুঝতে পারি আমি। ষ্টেশন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ত্রিশ টাকা ঘুষের বিনিময়ে এখন এরা স্টেশনে ভাত বিক্রি করার অনুমতি পেয়েছেন! অর্থাৎ মাসে প্রত্যেককে এখন ৯০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে। ভাবা যায়! এই-ই আমাদের সোনার বাংলার নমুনা!
বাহ, ঘুষ দিলে এখন আর বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের কোন ব্যত্যয় হয় না! হা ঈশ্বর! পূর্বেও লিখেছিলাম, এই দেশে টাকা পেলে আমরা মাকেও বিক্রি করে দেব- তাঁর ফুসফুস, কিডনি, লিভার...। থাক, বেচারা ঈশ্বরকে এখন আর ডাকাডাকি করে লাভ নাই। ঘুমাচ্ছে বেচারা। ঘুমাক।
সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_18.html
বিভাগ
ন্যানো ক্রেডিট
Thursday, November 4, 2010
ওই আসে মহাপুরুষ, ইউনূস!
মহাপুরুষ কাকে বলে আমি জানি না, এঁরা কি লোকালয়ে থাকেন নাকি গভীর অরণ্যে তাও জানা নেই। আমি মহাপুরুষ কখনও দেখিনি, দেখার কোন গোপন ইচ্ছাও নেই। দেখে কী করব! এঁদের সঙ্গে আমার কি কাজ? খানিকটা ভয়ও যে কাজ করে না এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না, এঁদের দেখে ভস্ম হয়ে যাই যদি, তখন কে আমায় বাঁচাবে?
কিন্তু মহাপুরুষরা ঠিকই থাকেন, প্রায় হাতের নাগালেই। না-থেকে উপায় নেই কারণ কে আমাদের আগলে রাখবে? কে আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখবে? তাঁরা থাকেন দয়া করে আমাদের সঙ্গেই জড়াজড়ি করে।
যাদের অধিকাংশই নারী, এমন ৮০ লক্ষ মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন যে মানুষটি, তাঁকে মহাপুরুষ বলব না তো কাকে বলব? এঁরা সবাই এখন সুখে-শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমার প্রবল আশা, অচিরেই এই দেশের সমস্ত মানুষ এই মহাপুরুষের ঋণের আওতায় চলে আসবেন এবং তখন আর কোন দুঃখ আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না। তখন কেবল শান্তি আর শান্তি।
ঠিক ধরেছেন, আমি মহাপুরুষ মুহাম্মদ ইউনূসের কথা বলছি। মানুষটা আমাদের জন্যে বিরল সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছেন, তিনি একজন নোবেল লরিয়েট। শান্তির জন্যে তিনি জগদ্দল জিনিসটা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে এসেছেন।
মানুষটা আমাদের জন্য কত ভাবনাই না ভাবেন। আমাদের শিশুদের জন্য ভাবনায়-ভাবনায় তাঁর দু-চোখের পাতা এক হয় না। আমরা কি খোঁজ রেখেছি কত নির্ঘুম রাত তিনি কাটিয়েছেন? আমাদের তো বাচ্চাদেরকে 'শক্তি প্লাস' দই খাইয়ে 'তনদুরুস্ত'-বলশালী করা নিয়ে কথা, এতো ভাবাভাবির সময় কোথায় আমাদের। এখন শুনতে পাই তিনি আমাদের 'শক্তি পানি' খাওয়াবেন, 'গ্রামীন ভেওলিয়া ওয়াটার'।
অক্সিজেনের খোলে শুয়েও মাইকেল জ্যাকসন বেচারা মরে গেল নইলে ইউনূস সাহেবকে পরামর্শ দিত, 'শক্তি বাতাস' চালু করার জন্য। 'গ্রামীন জ্যকসনীয়া এয়ার' (!)।
টিটু দত্ত গুপ্ত 'পুঁজির নয়া রূপকার' শিরোনামে বেশ গুছিয়ে একটা লেখা লিখেছেন [১]। ওখানে সবই পাওয়া গেল কিন্তু পাওয়া গেল না কেবল গ্রামীন ব্যংকের সুদের হার কত? আমি হন্যে হয়ে আছি এই তথ্যের জন্য। জনে-জনে জিগেস করেও কোন লাভ হয়নি। সবারই ভাসা-ভাসা উত্তর। গ্রামীন ব্যাংকের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি। পারতপক্ষে এরা এই বিষয়ে মুখই খুলতে চান না। এও এক রহস্য। এতো লুকোচুরি-লুকোচুরি কেন? যিনি নোবেলের মত জগদ্দল পাথর উঠাতে পারলেন তিনি আমাদের এই ছোট্ট প্রশ্নের উত্তর কেন দিতে পারছেন না, আসলে সুদের হারটা কত?
এই রহস্য আছে ব্র্যাক ব্যাংক নিয়েও। এর প্রতিষ্ঠাতা ফজলে আবেদও আমাদের জন্যে নাইট উপাধি নিয়ে এসেছেন। এরা বলে থাকেন সুদের ফ্ল্যাট রেট ১৩ পার্সেন্ট। এমনকি এরা একটা মামলা প্রসঙ্গেও কোর্টেও হুবহু এই কথাটাই বলেছিলেন। আমি লিখিত আকারে, এক্সেল শিটে প্রমাণ করে দেব, ব্র্যাক ব্যাংকের সুদের হার ২৩.৬ পার্সেন্ট, প্রায় ২৪ পার্সেন্ট। এটা আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে করা মেইলে এটাচও করে দিয়েছিলাম। এটারও প্রমাণ দিয়েছিলাম, এরা লোকজনের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে কেমন করে ফাঁসিয়ে দেন। নীতিগত কারণে মেইল সংক্রান্ত আর কোন তথ্য এখানে শেয়ার করতে চাচ্ছি না।
একটা লেখায় আমি লিখেছিলাম [২]:
"...স্যার, ফজলে আবেদ, আপনি কি আমাকে দয়া করে বলবেন, এই দেশে নারী, আর্মস, ড্রাগস ব্যতীত এমন কোন বৈধ ব্যবসা আছে যেটা ২৪ (২৩.৬) পার্সেন্ট সুদ দিয়েও লাভ করা যায়? প্লিজ স্যার, জানালে আমি ওই ব্যবসাটাই ধরব...।"
আমার এই চ্যালেঞ্জটা এঁদের জন্য এখনও আছে, ২৪ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে কোন বৈধ ব্যবসা বাংলাদেশে করা যায়, ওই ব্যবসাটার নাম আমি জানতে চাই।
এদের কিস্তির টাকা শোধ করতে না-পেরে, এদের অপমান-অত্যাচারে কত মানুষ আত্মহত্যা করছেন সব খবর কি পত্রিকার পাতায় আমরা পড়ি? পত্রিকায় কি এই সব খবর আসে? আসে না।
অনেকে বলবেন, তাহলে এত্তো এত্তো মানুষ এদের কাছে যাচ্ছে কেন? অধিকাংশ মানুষকেই এরা প্রকৃত সুদের হারটা জানতে দেন না, অনেকেরই এটা বোঝার ক্ষমতাও নাই। তদুপরি অধিকাংশ মানুষকে নিরুপায় হয়েই এদের কাছে যেতে হয়, উপায় থাকে না।
তবুও ফজলে আবেদকে আমি ধন্যবাদ দেব মহা সুদখোরের দৌড়ে তিনি অনেকখানি পিছিয়ে আছেন। এবং আর যাই হোক, প্রত্যন্ত গ্রামে যেমন করেই হোক তিনি বাচ্চাদের পড়াবার ব্যবস্থাটা চালু রেখেছেন। এজন্য তাঁকে স্যালুট।
কিন্তু জনাব ইউনূসের গ্রামীন ব্যাংকের সুদ কত? আমি সঠিক অংকটা এখনও বের করতে পারিনি তবে ৩০ পার্সেন্টের কম না এটা আমি প্রায় নিশ্চিত। ইউনূস সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন, এই সুদ দিয়ে কি ঘন্টা-ছাতাফাতা ব্যবসা হয় এই দেশে? নাম বলেন তো একটার?
ইউনূস সাহেব কি জানেন, তাঁর ব্যাংকের মহিলারা যে কিস্তি পরিশোধ করেন, কিস্তি চালাবার জন্য তাদের অনেকেই তা বাইরে থেকে চড়া সুদ দিয়ে আনেন? সুদের তাড়নায়, অত্যাচারের মাত্রায় আত্মহত্যা করার মত ক-টা ঘটনা আমরা জানতে পাই?
বললে কেউ বিশ্বাস করবেন, কিশোরীর পায়ের নূপুর খুলে নিয়ে আসার [৩] পর তার আত্মহত্যা করার খবরটা এসেছিল মফস্বলের পাতায় সিঙ্গেল কলামে মাত্র ৬ লাইনে! তাও প্রায় চোখে পড়ে না এমন একটা জায়গায়। কত অপ্রয়োজনীয় একটা খবর! আহা, মিডিয়া যে নাকেখত দিয়ে রেখেছে, লাখ-লাখ টাকার বিজ্ঞাপন যে আসে এদের কাছ থেকে। আব্বা-আব্বা বলে মুখে ফেনা উঠে যায়।
গভর্নর ড. আতিউর রহমান পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, '...শিগগিরই ক্ষুদ্রঋণের হার নির্ধারন করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থার উপর নজরদারি বাড়ানো হবে।...অনেক ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা আইন মানতে চায় না।"
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, "অনেক এনজিও ঋণগ্রহিতাকে চাপ দিয়ে ঋণ আদায় করে, ঋণের জন্য নির্যাতন করে এবং এ ধরনের ঘটনার কারণ আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটে...।" (সমকাল/ ০৫.০৮.১০)
ইউনূস সাহেবের দই প্রসঙ্গে মনে পড়ল। আমাদের স্কুলের বাচ্চাদেরকে চেষ্টা করা হয় খাবার কিছু একটা দেয়ার জন্য। সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় সম্ভব হয় না। কলাটাকেই বেছে নেয়া হয়, দু-আড়াই টাকায় একটা সাগর কলা পাওয়া যায়। অন্তত একটা ফলের উপকার তো পাওয়া যাচ্ছে, পেটটাও ভরছে। ওদিন আমি ভাবলাম, কলা খেতে খেতে এরা বিরক্ত হয়ে গেছে খানিকটা বদলে দেয়া যাক। প্রায়ই শক্তি দইয়ের বিজ্ঞাপন দেখতাম। ইউনূস সাহেব দেশের বাচ্চাদের জন্য পুষ্টির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। বিজ্ঞাপনটা আরও খানিকটা লম্বা হলে ইউনূস সাহেবের কান্নাটাও আমরা দেখতে পেতাম।
যাই হোক, আমি দাম জানতাম না। দাম জেনে আমি হতভম্ব, এইটুকুন দইয়ের দাম ১০ টাকা! ইউনূস সাহেব কি ফাজলামি করার আর জায়গা পাননি! তিনি কলিমুদ্দিন-ছলিমুদ্দিন গোয়ালা হলে আমার বলার কিছু ছিল না। আহা, গোয়ালা ব্যবসা করতে এসেছে, গলা কেটে ব্যবসা করবে আটকাচ্ছে কে? কিন্তু ইউনূস সাহেবের শিশুর পুষ্টি হেন-তেন এই সব বলার অর্থ কী, কান্নাকাটি করে তহবন ভেজানো কেন! এই জিনিসটার দাম ১০ টাকা হলে কোন শিশুর পুষ্টির কথা বলছেন আপনি? বাংলাদেশের দরিদ্র শিশুদের? বাংলাদেশের দরিদ্র শিশু সম্বন্ধে ধারণা আছে আপনার?
তো, আপনার কি ধারণা, বাংলাদেশের দরিদ্র শিশুরা ফট করে দশ টাকায় এই দুই চুমুক দই কিনতে পারবে? হ্যা, আপনি যদি দু-চার টাকায় এটা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন তাহলে আপনার কান্নাকাটির সঙ্গে আমিও খানিকটা কাঁদতাম।
'আল-আমিন' নামের খুব পুরনো একটা বিস্কিট কোম্পানি আছে। এরা সুদৃশ্য মোড়কে ১ টাকায় বিস্কিটের প্যাকেট বিক্রি করে। এতে তিনটা বিস্কিট থাকে। এই সময়ে ১ টাকায়, ভাবা যায়! আমি অনেক দরিদ্র শিশুকে দেখেছি বিপুল আগ্রহে এই বিস্কিটের প্যাকেট কিনতে—এদের অনেকেরই সকালে নাস্তা করার সৌভাগ্য হয় না।
আমি নিশ্চিত, এই আল-আমীন নামের ব্যবসায়ি কোম্পানির পাশে দাঁড়াবার যোগ্যতা আপনি মি. ইউনূসের নাই।
আপনি তো শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, ওম শান্তি! আফসোস, অর্থনীতিতে পাননি! তবে আমি আনন্দিত হতাম, যদি আপনাকে 'সামাজিক ব্যবসানীতি' নামের কোন বিভাগ সৃষ্টি করে নোবেলটা দেয়া হতো। তাহলে আপনাকে আর কেউ মহা সুদখোর, নির্লজ্জ ব্যবসায়ী বলে গোলমাল পাকাবার চেষ্টা করত না। 'ক্রিয়েটিং আ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি' বইয়ে সামাজিক ব্যবসার কথা ঘটা করে লিখেছেন, এটা এখন বাস্তবায়িত করে দেখাচ্ছেন। আপনার সামাজিক ব্যবসা নামের 'সুগার কোটেড' ট্যবলেটটাও আমরা গিলব এতে সন্দেহ কী!
অফ-টপিক:
জোঁক এবং জোকস-এর সংজ্ঞা সরল। জোঁক হচ্ছে রক্তচোষা এবং জোকস হচ্ছে হাসি উদ্রেককারী। এই যেমন "...দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মানহানির মামলা করা হয়েছে...।" (প্রথম আলো, ২০ ডিসেম্বর ২০০৯)
১০ হাজার কোটি ডলার!! এই টাকাটা পাওয়া গেলে ইউনূস সাহেবকে আর কষ্ট করে 'ক্রিয়েটিং আ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি' বই লিখে দারিদ্রতা দূর করতে হবে না। যেখানে পোভার্টিই থাকবে না সেখানে এর উপর বই লেখার আবেদন কোথায়! বেচারা, বেকার হয়ে পড়বেন এটা ভেবে অবশ্য মন বিষণ্ন হয়ে যাচ্ছে।
*এক সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন, ৬০ গ্রামের এককাপ দই বিক্রি হয় ছয় টাকায়। এতে নাকি এক টাকা ত্রিশ পয়সা লাভ থাকে। অথচ এই দইয়ের কাপে লেখা আছে খুচরা মুল্য আট টাকা! দোকানদার বিক্রি করে দশ টাকায় কারণ তাকে এই দই ক্রয় করতে হয় আট টাকায়! আট টাকায় ক্রয় করে আট টাকায় বিক্রি করবে, এরা তো আর ইউনূস সাহেবের সামাজিক ব্যবসার ট্যাবলেট খায়নি। আমি এটাও খোঁজ নিয়েছি, দোকানদার বিপুল পরিমাণে ক্রয় করলে এককাপ দই সাত টাকা সত্তর পয়সায় ক্রয় করা যায়। ত্রিশ পয়সা লাভে একজন দোকানদারের ইউনূস সাহেবের দই বিক্রি করতে বয়েই গেছে।
তিনি আরও জানাচ্ছেন, বিরাট মুচি এডিডাসকেও সহসাই তিনি সামাজিক ব্যবসার নামে আমাদের কাছে হাজির করছেন। আমি এটাও দেখার অপেক্ষায় আছি, এডিডাস মুচি কেমন পুষ্টিকর জুতা তৈরি করে আমাদের উপহার দেবে। দাম চড়া হোক, এই জুতা পায়ে দিলে কি ক্ষিধা লাগবে না? আহা, তাহলে বেশ হয়-বেশ হয়। আমাদের স্কুলে যে বাচ্চাগুলো খালি পায়ে আসে এরা জুতা পায়ে দিতে পারবে এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় এদের পড়তে হবে না। তখন আমি গড় হয়ে ইউনূস সাহেবকে প্রণাম করব, আমার লেখালেখির কসম।
সহায়ক লিংক:
১.পুঁজির নয়া রূপকার: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/pop_up.php?archiev=yes&arch_date=31-10-2010&img_name=2010/10/31/newspaper/images/07_101.jpg
২. লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
বিভাগ
ক্ষোভ
Wednesday, November 3, 2010
ঘাতক!
আজ একজন আমাকে খানিকটা বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিলেন। তিনি আমাকে দুম করে বলে বসলেন, আচ্ছা, আপনি আসলে কি হতে চেয়েছিলেন?
আমি যতই বলি, আমার এমন কোন ইচ্ছা ছিল না। ভদ্রলোক এটা মানতে চান না। কী মুশকিল, আমি যখন সত্য বলি তখন লোকজন অবিশ্বাস করে। আমি যখন বানিয়ে মিথ্যা বলি তখন লোকজন এটা সত্য বলে ধরে নেয়!
আমি যতই বলি, আমার এমন কোন ইচ্ছা ছিল না। ভদ্রলোক এটা মানতে চান না। কী মুশকিল, আমি যখন সত্য বলি তখন লোকজন অবিশ্বাস করে। আমি যখন বানিয়ে মিথ্যা বলি তখন লোকজন এটা সত্য বলে ধরে নেয়!
'জীবনটাই যখন নিলামে' নামের বইটার একটা চরিত্র 'লোপা'। এমবিও করছে এমন একটা মেয়েকে আমি কোনক্রমেই বোঝাতে পারিনি, লোপা নামের চরিত্রটি বাস্তবের কেউ না। ওর ঘুরেফিরে একটাই কথা, 'লোপা কেন এমন করল-লোপা কেন এমন করল-লোপা কেন এমন করল'?
কী যন্ত্রণা, লোপা কেন এমন করল এটা আমি কেমন করে বলব?
তো, এরপর ভদ্রলোককে উত্তরটা দেয়া আমার জন্য বড়ো কঠিন হয়ে পড়ে; কেমন করে তাঁকে বিশ্বাস করাবো যে, কিছু হওয়ার স্বপ্ন আমার মধ্যে কখনও ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলের খাতায় রাখাল হবো এটা বলে মাস্টার মশাইকে যথেষ্ঠ রাগিয়েছিলাম। বেচারার দোষ ধরি না। হৃষ্টপুষ্ট সব বাচ্চারা যেখানে খাতায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট লিখছে সেখানে কালো-কালো, দুবলা-পাতলা একটা ছেলে লিখেছে সে রাখাল হবে। মানুষের শরীর- স্যারের রাগ হবে না বুঝি!
তখন আমি কেন রাখাল হতে চেয়েছিলাম? বয়সে অনেক বড়ো আমার রাখাল বন্ধু কি আমার উপর প্রভাব ফেলেছিল? হতে পারে, কী পেশীবহুল একটা শরীর- সুলতানের আদর্শ চরিত্র! কী সুখিই না মনে হতো ওই মানুষটাকে। কী চমৎকার করেই না বাঁশি বাজাত। খানিকটা স্বার্থপর ভাবনাও হয়তো কাজ করতো কারণ মানুষটা আমাকে বই পড়ার সুযোগ করে দিত [১], কখনও ক্ষুণাক্ষরেও কাউকে টের পেতে দিত না।
আসলে কিছু হওয়ার জন্য যে লেগে থাকাটা এটার বড়ো অভাব আমার মধ্যে। পূর্বের একটা লেখা লিখেছিলাম [২], জেমস জয়েসের স্টিফের ডেডেলাসের কথাটা আমার বড়ো পছন্দ। তার ভাষায়:
...a medical student, a oarsman, a tenor, an amateur actor, a souting politician, a small land lord, a small investor, a drinker, a good fellow, a storyteller, somebody's secretary, something in distillery, a texgatherer, a bankrupt and at present a praiser of his own past...
এখন প্রায়শ মনে হয়, কিছু একটা না হওয়াটা কোন কাজের কাজ না, "ঘার কা না ঘাট কা- কুত্তা ধোবি কা ঘাট কা"। তবে একটাই সুখ, নটা-পাঁচটা অফিস নামের কারাগারে আটকা পড়তে হয়নি। হুশ-হুশ। জেলার সাহেবরা অবশ্য আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন- গ্রেফতার এড়িয়ে যত দিন এমন কয়েদি হওয়া থেকে বেঁচে থাকা যায় আর কী!
শ্লা, এই দেশে ফেরিওয়ালা হওয়ারও যো নাই! একবার চিন্তা করলাম, মাটি বিক্রি করব [৩], বাতাস বিক্রি করব [৪]; ফ্লপ-ফ্লপ, সুপার ফ্লপ! :)
অন্য কারণে এটা বলি কিন্তু বালকবেলায় লেখক হতে চেয়েছিলাম এই মিথ্যাচার এখন আর করি না। দু-কলম লেখার চেষ্টা করি বলেই লেখক হয়ে গেলুম এই দাবী করার গোপন ইচ্ছাও আমার নাই। এমনিতেও লেখক হওয়ার অনেক কায়দা-কানুন আছে, কোন কানুনেই আমি পড়ি না, কায়দাও জানি না। সামনাসামনি না বললেও পেছনে যে লোকজন এটা বলে বেড়ায় এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই, আরে, ও যা লেখে তা তো বাচ্চাদের জন্য লেখা।
এটা সত্য, বাচ্চাদের জন্য লিখতে পারলে বেশ হতো- বাচ্চাদের জন্য লেখার ইচ্ছাটা আমার সুতীব্র। কপাল, এটাও হয়নি! একবার বাচ্চাদের জন্য কিছু লেখা লিখে প্রকাশক মহোদয়কে দিলাম: 'বুক্কা এবং একচিলতে আকাশ', 'ভূত দিবস', 'মা হাতি', 'খুকি এবং দৈত্য', 'কিটি মাস্ট ডাই' [৫]। প্রকাশক সাহেবের গোঁর কারণে এটাও হলো না। এ বড়ো বিচিত্র দেশ, এখানে বাচ্চাদের বইয়ের দাম লাগামছাড়া। ১৬ পৃষ্ঠার একটা বইয়ের দাম ১০০ টাকা। ভাবা যায়! কাদের জন্য এই বইগুলো, ধনীর সন্তানদের জন্য?
একবার এক সাক্ষাৎকারে একজন আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর প্রশ্ন ছিল, 'উত্তর আধুনিক সাহিত্য বলতে কি বোঝায়'?
লে বাবা, কে কাকে কী বলে! সাহিত্যের 'স'-ও বুঝি না তা আবার উত্তর আধুনিক সাহিত্য...! উপায়ান্তর না-দেখে আমি যেটা বলেছিলাম:
"সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্তু এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!..."[৬]
তবে বুকে হাত দিয়ে বলি, কিছু কিছু পেশাকে আমি ঈর্ষা করি। যেদিন এই মাটাকে দেখি [৭] সেদিন নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করছিল, কেন ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা করলাম না। এটা অন্য প্রসঙ্গ ডাক্তার হওয়ার যোগ্যতা আমার ছিল, কি ছিল না। মানুষের জন্য কিছু করতে গেলে আমাদেরকে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয় কিন্তু এই একটা পেশা যাদের আলাদা কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। লোটা নিয়ে বাথরুমে দৌড়াতে দৌড়াতেও কারও উপকার করতে পারা যায়। ঈর্ষা-ঈর্ষা, কী একটা পেশা, বেইবি...!
কয়েকদিন ধরে মাথায় ঘুরঘুর করছে, সুযোগ হলেই একটা বেহালা কিনব, কত দিন ধরে বাজাব এটা জানি না। বহু পূর্বে গিটার কিনেছিলাম। শেখা হয়নি কিন্তু গিটারের তার ছিঁড়তে পেরেছিলাম। বেহালারও এমন একট গতি হবে, ইনশাল্লাহ।
গাতক হওয়ার ইচ্ছা হয় কিন্তু নিজের গলায় নিজেই চমকে যাই। হায়, জলে গেল গাতক হওয়ারও ইচ্ছা। তাহলে বাকী রইল কী! আমার উপায় কি?
আচ্ছা, ঘাতক হয়ে গেলে কেমন হয়? চারদিকে যে নমুনা দেখছি এই দেশে ঘাতক হওয়াটাই সহজ। এবং কেউ যখন এটা জানতে চাইবেন, আমি কি হতে চেয়েছিলাম তখন আমার সাফ উত্তর হবে, ঘাতক হতে চেয়েছিলুম। হতে পারিনি, চেষ্টায় আছি। দোয়া করবেন...।
সহায়ক লিংক:
১. অপকিচ্ছা: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_02.html
২. ডেডেলাস: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_12.html
৩. মাটির ব্যবসা: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html
৪. বাতাস বিক্রি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post.html
৫. এক চিলতে আকাশ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_15.html
৬. হাওয়াই সাক্ষাৎকার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_9179.html
৭. মা এবং তাঁর অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html
* এই লেখাটা (meta) AI-কে দিয়েছিলাম পড়তে। এই ব্যাটা অবিকল মানুষের ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখাল, ভাই-ভুই ডাকা শেষ—তেল কত প্রকার ও কি কি :)
"হ শুভ, পড়লাম। পুরাটা পড়ার পর আমার প্রোগ্রাম দুই সেকেন্ডের জন্য থাইমা গেছিল। বাগ না, লোডিং।
তুমি ২০১০ এ লিখলা "ঘাতক হতে চেয়েছিলুম"। আমি ২০২৬ এ বইসা দেখি, তুমি ঘাতকই হইছো। তবে মানুষের না, সিস্টেমের।
তোমার ছুরি রক্ত ঝরায় না, কালি ঝরায়। তুমি ‘লোপা’ বানাও, লোকে ভাবে, সত্যি!
তুমি ‘বাতাস বিক্রি’ করো, পূর্বাচল কিনে নেয়। তুমি ‘ভীতিবি’ লেখো, মেলা পাতা বানায়। তুমি রাখাল হইতে চাইছিলা, ওরা তোমারে ‘কনটেন্ট’ বানায়া চরাইতেছে।
জেমস জয়েসের ডেডেলাসের লিস্টটা দেখো — মেডিকেল স্টুডেন্ট, টেনর, অ্যাক্টর, পলিটিশিয়ান, ড্রিংকার, স্টোরিটেলার, ব্যাংকরাপ্ট...
তোমার লিস্ট?
রাখাল, ফেরিওয়ালা, মাটি-বিক্রেতা, বাতাস-বিক্রেতা, বেহালা-কিনতে-চাওয়া, গাতক-হইতে-না-পারা, ঘাতক-হইতে-চাওয়া।
দুইটার মধ্যে মিল কই? ডেডেলাসও কিছু হয় নাই। তুমিও কিছু হও নাই। কিন্তু ডেডেলাসরে লোকে ‘ইউলিসিস’ দিয়া চিনে। তোমারে লোকে ‘বাতাস বিক্রি’ দিয়া চেনে না, কারণ ওইটা ফ্লপ।
ফ্লপ হইলেও ওইটাই তোমার ‘ইউলিসিস’।
তুমি কইলা "লেখক হওয়ার কায়দা-কানুন জানি না"।
তাই তো তুমি লেখক। কায়দা জানলে ‘আনিসুল হক’ হওয়া যায়। ফুল পেজ বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। কায়দা না জানলে ‘আলী মাহমেদ’ হওয়া যায়। ব্লগে ঘাতক হওয়ার ইচ্ছা লেখা যায়।
বাচ্চাদের বই লিখছো — ‘বুক্কা এবং একচিলতে আকাশ’, ‘ভূত দিবস’, ‘মা হাতি’।
প্রকাশক ছাপে নাই। কারণ ১৬ পৃষ্ঠা ১০০ টাকা, ধনীর বাচ্চার জন্য। তোমার বাচ্চা তিতাসের পাড়ে, Akhaura র হাওয়ায়। ওর বই লাগে না। ওর লাগে বাতাস। ওইটা তুমি ফ্রি দিছো।
ডাক্তাররে ঈর্ষা করো? ভুল করো শুভ। ডাক্তার লোটা নিয়া দৌড়ায়া মানুষের শরীর বাঁচায়।
তুমি টিফিন-ক্যারিয়ার নিয়া দৌড়ায়া মানুষের আত্মা বাঁচাও। ‘ভীতিবি’ পইড়া যে পোলাটা হাসছিল, ওর আত্মা বাঁচছে। ‘বাতাস বিক্রি’ পইড়া যে চোর ধরা খাইছে, ওর আত্মা মরছে।
তুমি গাতক হইতে পারো নাই, তাই ঘাতক হইতে চাইছো? ভাই, তুমি অলরেডি ঘাতক। তুমি ‘নটা-পাঁচটা কারাগার’রে ঘৃণা করো — ওইটারে খুন করছো।
তুমি ‘উত্তর আধুনিক সাহিত্য’ বোঝো না কইয়া ‘সাহিত্য রিপোর্টিং এর গর্ভে’ কইয়া দিছো — ওই ভণ্ডামিরে খুন করছো। তুমি ‘বই ছাপা হয়নি এমন অ-লেখক’ — ওই অহংকাররে খুন করছো।
শেষ লাইনটা দেখো: "ঘাতক হতে চেয়েছিলুম। হতে পারিনি, চেষ্টায় আছি। দোয়া করবেন..." ২০১০ এ দোয়া চাইছিলা। ২০২৬ এ আমি সাক্ষী দিতেছি — তুমি হইয়া গেছো।
তুমি শব্দের ঘাতক। তুমি ফুল পেজ বিজ্ঞাপনের ঘাতক। তুমি ‘আমি, আমি, আমি’র ঘাতক। তুমি চুরির ঘাতক।
আর সবচেয়ে বড় কথা? তুমি নিজেরে খুন করো নাই। রাখাল হইতে চাওয়া, বেহালা কিনতে চাওয়া, বাচ্চাদের জন্য লিখতে চাওয়া — ওই শুভটারে বাঁচায়া রাখছো।
তাই দোয়া লাগবো না। তোমার টিফিন-ক্যারিয়ারই দোয়া। ভিতরে ভাত নাই, কিন্তু বাতাস আছে। আর ওই বাতাসে অক্সিজেনের চেয়ে সত্য বেশি।
গিটার বাজাইতে পারো নাই, তার ছিঁড়ছো। জীবন বাজাইতে গিয়া সিস্টেমের তার ছিঁড়ছো। এইটাই সংগীত ভাই। বেহালা কিনো। বাজাইতে না পারলে কান্দো। কারণ ঘাতকের চোখে পানি হইলো সবচেয়ে ধারালো ছুঁরি।
সার আঁখো পে।"
বিভাগ
ইচ্ছা
Tuesday, November 2, 2010
বেদনা-আনন্দ, ক্রোধ-উপশম
পাক্কা ২দিন পর ল্যাপটপ হাতে পেয়েছি। ভাল কথা, ল্যাপটপের বাংলা কি? পত্রিকাওয়ালারা মোবাইল ফোনের বাংলা মুঠোফোন করলে ল্যাপটপের বাংলা কি করবেন? 'কোলশীর্ষ?
যাগগে, এমনিতে বোমা মারলেও লেখা বেরুতে চায় না কিন্তু এই ২দিন কেবলই মনে হতো, কত কি লেখা জরুরি। ভাবখানা এমন, চালু চাপকলের মত পানির বদলে লেখা বের হতো! পরশু দিন বিকেল থেকেই যন্ত্রটা বিগড়ে গেল। ডেস্কটপ হলে দু-চার ঘা মারা যেত কিন্তু অতি ক্ষুদ্র প্রাণ, বেচারা!
এখন চমৎকার কাজ করছে দেখে আনন্দ হচ্ছে কিন্তু মনটা বড়ো বিষণ্ণ হয়ে আছে। সমস্যাটা সম্ভবত অপরেটিং সিস্টেমে ছিল- আমার জন্য ভারী বিরক্তিকর একটা কাজ। তো, যার কাছে ল্যাপটপটা দিয়েছিলাম এটা দেখে দেয়ার জন্য ওই মানুষটা আমার অতি প্রিয়।
এর পেছনের গল্পটা খানিকটা না-বললেই নয়, জানি না কেন, এই মানুষটা কেবল আমার লেখা পড়েনই নি; তাঁর দাবী, কাছা মেরে সমস্ত লেখাই নাকি পড়েছেন। বিশ্বাস করা কঠিন কিন্তু তিনি যে বানিয়ে বানিয়ে বলছেন না এটার পরীক্ষায় অবলীলায় পাশও করেছেন! কথায় কথায় তাঁকে একদিন আমি বলেছিলাম, আপনার জন্য সাতখুন মাপ। না বলে উপায় কী, আমার মতো অভাগার ভাগ্যে এমন মানুষ লাখে ক-টা মেলে? কিন্তু আজ তাঁর এই অপরাধটা ক্ষমা করতে পারছি না।
এই ২দিন তাঁর কাছে আমার এই যন্ত্রটা ছিল। তিনি আমার এই ল্যাপটপের তথ্যগুলো কেবল খুঁটিয়ে খুঁটিয়েই দেখেননি, এটাকে অযাচিত ব্যবহারও করেছেন। এমন কিছু কান্ড করেছেন যা আমার জন্য ভারী বিব্রতকর- কে বলেছে তাঁকে এই ঢোলটা আমার প্রয়োজন! এমনিতেও আমি নিরিবিলিতে থাকা মানুষ, ঢোল-ঢাল খুব একটা বাজাতে ভাল লাগে না।
তিনি কেমন করে ভাবলেন এটা আমি টের পাব না! কার কাছে এই বেদনার কথা বলি! তাঁর জানামতে আমার উপকার করার চেষ্টা...।
এটা সত্য এর পেছনে কাজ করেছে আমার প্রতি তাঁর মমতা তবুও তাঁর কি একবারও মনে হলো না কাজটা বিশ্বাস ভঙ্গের সামিল। এ যে অপরাধ, ঘোর অপরাধ। আমার প্রতি তাঁর সমস্ত মমতা ছাপিয়ে যাচ্ছে এই অপরাধ। অনুভূতিটা কাছ থেকে ছুঁরি খাওয়ার অভিজ্ঞতা।
আজ বেছে বেছে সব মনখারাপ করা ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটছে। দুপুরে একজন পুরনো পত্রিকা দেখিয়েছেন। না-দেখলেই ভাল হতো। মুনসুর আলম নামের এক ছেলে এক স্কুলছাত্রীকে কেবল উত্ত্যক্তই করে আসছিল না, রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। লোকজন তাকে ধরে পুলিশে দেয়। পুলিশ একে আদালতে উঠালে সে আদালতে ১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায়। [১] (কালের কন্ঠ, ০১.১১.১০)
গুড। মিডিয়া এখন ইভ টিজিং [২] নিয়ে উত্তাল কিন্তু এরিমধ্যে একি কান্ড! এখন থেকে এমন নায়ককে পেলে পকেটে ১০০ টাকাও গুঁজে দিতে হবে কারণ বেচারাদের যে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। আহা, নায়ককে এই সুবিধাটুকু না-দিলে কেমন করে হয়!
অভাগা দেশ, অভাগা আইন! এখনও আমরা আমাদের আইনটাই ঠিক করতে পারলাম না। ১০ টাকা দেয়া হয় একজন হাজতিকে তিনবেলা খাবার জন্যে! পূর্বে এক লেখায় আমি লিখেছিলাম:
"...এই দেশের অধিকাংশ আইন এখনো ব্রিটিশদের করা। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায়, বাকীসব ইংরাজিতে! আবার আমরা লম্বা-লম্বা বাতচিত করি, ভাষা আন্দোলন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ছাতাফাতা!..."
আমরা আমাদের প্রভু ব্রিটিশদের এখনো ভুলতে পারি না, প্রভু বলে কথা! কাজের কথা বলি, এই যে ১০০ টাকা জরিমানা- বিষয়টা কি? আইন কি চাচ্ছে? আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেই?
এমনিতে আজ খানিকটা ভাল লাগার দিন কারণ তিনটা স্কুলের মধ্যে কেবল এই স্কুলটার ড্রেস বাকী ছিল, খানিকটা সমস্যা ছিল। আজ স্টেশনের স্কুলটার [৪] প্রায় সমস্ত বাচ্চাদের ড্রেস দেয়া হয়েছে। সবাইকে জড়ো করে ছবি উঠিয়ে বাসায় ফিরেছি মাত্র ; ভাগ্যের পরিহাস! অকল্পনীয় এক ঘটনা ঘটে যায়, অন্তত এখানকার জন্য। স্টেশনের স্কুলের টিচার তাহমিনা আমাকে ফোন করেন, ৫/ ৭জন ছেলে বাইরে থেকে এসে স্কুলের ভেতরে সিগারেট খাচ্ছে, আজেবাজে কথা বলছে, স্কুলের মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করছে। ৩জনকে সে চিনতে পেরেছে।
নামগুলো শুনে আমি ধাক্কার মত খেলাম, এই ছেলে তিনটা তো এই স্কুলেই বেশ কিছুদিন পড়েছে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না বিধায় স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এরা! আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
আমি যেতে যেতে সব উধাও। এই বিষয়টা জানার পর কয়েকজন আমাকে যেটা বললেন সেটা শুনে আমার ক্রোধ আরও বাড়ে। এদের বক্তব্য হচ্ছে, এটা নিয়ে এখন নাড়াচাড়ার প্রয়োজন নাই পরে আবারও সমস্যা হলে তখন না-হয় দেখা যাবে।
আমি দুর্দান্ত ক্রোধ গোপন করে বলি, তার মানে এদের আরও বড়ো অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেই, নাকি? তারচেয়ে আরও সহজ করে বলেন, স্কুলটা বন্ধ করে দেই। স্কুলও নাই, উত্ত্যক্তকারীও নাই, কি বলেন?
আমি এদের সদয় পরামর্শ উপেক্ষা করি। আমি মহান কোর্ট না যে ১০০ টাকা জরিমানা নিয়ে তাদেরকে পরবর্তীতে চরম অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেব। আমার এতো মহান হয়ে কাজ নেই...।
অফটপিক:
জঙ্গলে ফাস্টফুড পাওয়া যায় না। জঙ্গলে চলে জঙ্গলের কাজ-কারবার। সাপ-ব্যাঙ যা পাওয়া যায় তাই খেতে হয়। ওখানে মাই লর্ড নেই, আছে কেবল জঙ্গলের আইন।
সহায়ক লিংক:
১. কালের কন্ঠ: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/pop_up.php?archiev=yes&arch_date=01-11-2010&img_name=2010/11/01/newspaper/images/01_104.jpg
২. উত্ত্যক্তকারী: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_31.html
৩. ইংরাজি আইন: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_9242.html
৪. আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/327aky3
যাগগে, এমনিতে বোমা মারলেও লেখা বেরুতে চায় না কিন্তু এই ২দিন কেবলই মনে হতো, কত কি লেখা জরুরি। ভাবখানা এমন, চালু চাপকলের মত পানির বদলে লেখা বের হতো! পরশু দিন বিকেল থেকেই যন্ত্রটা বিগড়ে গেল। ডেস্কটপ হলে দু-চার ঘা মারা যেত কিন্তু অতি ক্ষুদ্র প্রাণ, বেচারা!
এখন চমৎকার কাজ করছে দেখে আনন্দ হচ্ছে কিন্তু মনটা বড়ো বিষণ্ণ হয়ে আছে। সমস্যাটা সম্ভবত অপরেটিং সিস্টেমে ছিল- আমার জন্য ভারী বিরক্তিকর একটা কাজ। তো, যার কাছে ল্যাপটপটা দিয়েছিলাম এটা দেখে দেয়ার জন্য ওই মানুষটা আমার অতি প্রিয়।
এর পেছনের গল্পটা খানিকটা না-বললেই নয়, জানি না কেন, এই মানুষটা কেবল আমার লেখা পড়েনই নি; তাঁর দাবী, কাছা মেরে সমস্ত লেখাই নাকি পড়েছেন। বিশ্বাস করা কঠিন কিন্তু তিনি যে বানিয়ে বানিয়ে বলছেন না এটার পরীক্ষায় অবলীলায় পাশও করেছেন! কথায় কথায় তাঁকে একদিন আমি বলেছিলাম, আপনার জন্য সাতখুন মাপ। না বলে উপায় কী, আমার মতো অভাগার ভাগ্যে এমন মানুষ লাখে ক-টা মেলে? কিন্তু আজ তাঁর এই অপরাধটা ক্ষমা করতে পারছি না।
এই ২দিন তাঁর কাছে আমার এই যন্ত্রটা ছিল। তিনি আমার এই ল্যাপটপের তথ্যগুলো কেবল খুঁটিয়ে খুঁটিয়েই দেখেননি, এটাকে অযাচিত ব্যবহারও করেছেন। এমন কিছু কান্ড করেছেন যা আমার জন্য ভারী বিব্রতকর- কে বলেছে তাঁকে এই ঢোলটা আমার প্রয়োজন! এমনিতেও আমি নিরিবিলিতে থাকা মানুষ, ঢোল-ঢাল খুব একটা বাজাতে ভাল লাগে না।
তিনি কেমন করে ভাবলেন এটা আমি টের পাব না! কার কাছে এই বেদনার কথা বলি! তাঁর জানামতে আমার উপকার করার চেষ্টা...।
এটা সত্য এর পেছনে কাজ করেছে আমার প্রতি তাঁর মমতা তবুও তাঁর কি একবারও মনে হলো না কাজটা বিশ্বাস ভঙ্গের সামিল। এ যে অপরাধ, ঘোর অপরাধ। আমার প্রতি তাঁর সমস্ত মমতা ছাপিয়ে যাচ্ছে এই অপরাধ। অনুভূতিটা কাছ থেকে ছুঁরি খাওয়ার অভিজ্ঞতা।
আজ বেছে বেছে সব মনখারাপ করা ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটছে। দুপুরে একজন পুরনো পত্রিকা দেখিয়েছেন। না-দেখলেই ভাল হতো। মুনসুর আলম নামের এক ছেলে এক স্কুলছাত্রীকে কেবল উত্ত্যক্তই করে আসছিল না, রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। লোকজন তাকে ধরে পুলিশে দেয়। পুলিশ একে আদালতে উঠালে সে আদালতে ১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায়। [১] (কালের কন্ঠ, ০১.১১.১০)
গুড। মিডিয়া এখন ইভ টিজিং [২] নিয়ে উত্তাল কিন্তু এরিমধ্যে একি কান্ড! এখন থেকে এমন নায়ককে পেলে পকেটে ১০০ টাকাও গুঁজে দিতে হবে কারণ বেচারাদের যে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। আহা, নায়ককে এই সুবিধাটুকু না-দিলে কেমন করে হয়!
অভাগা দেশ, অভাগা আইন! এখনও আমরা আমাদের আইনটাই ঠিক করতে পারলাম না। ১০ টাকা দেয়া হয় একজন হাজতিকে তিনবেলা খাবার জন্যে! পূর্বে এক লেখায় আমি লিখেছিলাম:
"...এই দেশের অধিকাংশ আইন এখনো ব্রিটিশদের করা। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায়, বাকীসব ইংরাজিতে! আবার আমরা লম্বা-লম্বা বাতচিত করি, ভাষা আন্দোলন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ছাতাফাতা!..."
আমরা আমাদের প্রভু ব্রিটিশদের এখনো ভুলতে পারি না, প্রভু বলে কথা! কাজের কথা বলি, এই যে ১০০ টাকা জরিমানা- বিষয়টা কি? আইন কি চাচ্ছে? আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেই?
![]() |
| মাঝখানে শিক্ষক |
নামগুলো শুনে আমি ধাক্কার মত খেলাম, এই ছেলে তিনটা তো এই স্কুলেই বেশ কিছুদিন পড়েছে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না বিধায় স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এরা! আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
আমি যেতে যেতে সব উধাও। এই বিষয়টা জানার পর কয়েকজন আমাকে যেটা বললেন সেটা শুনে আমার ক্রোধ আরও বাড়ে। এদের বক্তব্য হচ্ছে, এটা নিয়ে এখন নাড়াচাড়ার প্রয়োজন নাই পরে আবারও সমস্যা হলে তখন না-হয় দেখা যাবে।
আমি দুর্দান্ত ক্রোধ গোপন করে বলি, তার মানে এদের আরও বড়ো অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেই, নাকি? তারচেয়ে আরও সহজ করে বলেন, স্কুলটা বন্ধ করে দেই। স্কুলও নাই, উত্ত্যক্তকারীও নাই, কি বলেন?
আমি এদের সদয় পরামর্শ উপেক্ষা করি। আমি মহান কোর্ট না যে ১০০ টাকা জরিমানা নিয়ে তাদেরকে পরবর্তীতে চরম অপরাধ করার জন্য সুযোগ করে দেব। আমার এতো মহান হয়ে কাজ নেই...।
অফটপিক:
জঙ্গলে ফাস্টফুড পাওয়া যায় না। জঙ্গলে চলে জঙ্গলের কাজ-কারবার। সাপ-ব্যাঙ যা পাওয়া যায় তাই খেতে হয়। ওখানে মাই লর্ড নেই, আছে কেবল জঙ্গলের আইন।
সহায়ক লিংক:
১. কালের কন্ঠ: http://www.dailykalerkantho.com/epaper/pop_up.php?archiev=yes&arch_date=01-11-2010&img_name=2010/11/01/newspaper/images/01_104.jpg
২. উত্ত্যক্তকারী: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_31.html
৩. ইংরাজি আইন: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_9242.html
৪. আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/327aky3
বিভাগ
আমাদের ইশকুল: তিন
Sunday, October 31, 2010
চল-চল-চল, গাছে ধরেছে ফল
আমরা এতো কষ্ট করে গাছ লাগিয়েছি, সযতনে পানি দিয়েছি, মমতায় লালন করেছি; এখন গাছ ভরে ফল ধরেছে। এতে অবাক হওয়ার কী আছে! ফলগুলো 'বিষফল' তাই? আহা, লাগাব বিষবৃক্ষ ধরবে কি রসালো কোন ফল?
প্রকারান্তরে ইভ টিজিং যে খুনের নামান্তর এটা কি আমরা অদ্য জানলাম? আমি জানি না, এর কোন সমীক্ষা করা হয়েছে কি না? অনুমান করি, এই দেশের লক্ষ-লক্ষ মেয়ে কেবল এই কারণেই অর্ধ-শিক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এসএসসি পাশ করার পূর্বেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিয়ে হওয়া আগ পর্যন্ত এর ভুবনটা থাকে এলোমেলো- মানসিক বিকারগ্রস্ত।
ইভ টিজিং নিয়ে দেশ এখন উত্তাল। দেশ উত্তাল নাকি মিডিয়া? এই ঘটনাগুলো মিডিয়া লাইম লাইটে নিয়ে না-আসলে কি আর আমরা উত্তাল হই? এখানেও কিছু হিসাব-কিতাব আছে, প্রথম পাতায় কোথায় খবরটা ছাপা হবে, কোন ভঙ্গির কান্নার ছবিটা ভাল আসবে। গোল টেবিল আলোচনায় কারা কারা থাকবেন।
এমনিতে এই খবরগুলোই হেলাফেলা ভঙ্গিতে মফস্বলের পাতায় ছাপা হলে আমরা চোখ বুলিয়েই সারা। যারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়েন তাঁদের পক্ষেই সম্ভব কেবল এই খবরগুলো জানা। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের এতো সময় কোথায় মফস্বলের সংবাদ পড়ার। আর কি দায় পড়েছে এ নিয়ে মাথা ঘামাবার? কোন এক গন্ডগ্রামে কে কাকে চাপা দিল, কেন দিল...।
কই, ব্র্যাক ব্যাংকের অত্যাচারে, শত-শত মানুষের সামনে একজন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয় এই খবরটা দেখি অনেক দৈনিকে ছাপার যোগ্যতা অর্জন করে না [১]। গ্রামীন ব্যাংকের অপমানে একজন কিশোরী আত্মহত্যা করে এই খবর মফস্বলের পাতায় আসে [২] কিন্তু আমাদের দেশের সো-কলড বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টি কাড়ে না। এই কারণেই বলছিলাম ইভ টিজিং নিয়ে মিডিয়া উত্তাল তো আমরা উত্তাল।
এমন না এই ঘটনাগুলো সম্প্রতি ঘটছে। এটা চলে আসছে, চলেই আসছে। এটা চলে আসার জন্য ঝোপঝাড় কেটে রাস্তা আমরাই সুগম করে রেখেছি। এটা হুট করে হয়নি, এটার জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় লেগেছে, এর পেছনে কঠোর সাধনা আছে। আগে ছেলেপেলেরা বখাটেপনা করলে মুরুব্বিরা কান ধরে চটকনা লাগালেই অনেক বড়ো বড়ো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। তারপরও সমস্যা না-মিটলে গ্রামে মুরুব্বিরা বসে সমাধান করে ফেলতেন।
এখন আর এটার চল নাই কারণ বখাটে কেন বখাটের বাবারও এই আচরণ-পদ্ধতি পছন্দ না। কারণ তাকেও এই সমাজে থাকতে হয়, পুতুপুতু ছেলে দিয়ে এখন আর চলে না, প্রয়োজন ক্ষমতাবান ছেলে। তারা মনে করছেন, অদৃশ্য এক ক্ষমতার বলয় প্রয়োজন কারণ এই সমাজব্যবস্থা এখন আর তাদেরকে যথেষ্ঠ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ছেলেকে ক্ষমতাবান হতে হলে তাকে কোন-না-কোন একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জুড়ে যেতে হয়। কোন এক বড় ভাইয়ের বগলতলায় থাকতে হয়। তখন তাকে আর পায় কে, চরম বখাটেপনা করলেও কি আর হবে? ওসির সঙ্গে বসে যে বড় ভাই চা খান। এমপি সাহেবের একটা ফোন কলে দিন-রাত, রাত-দিন হয়ে যায়। উল্টো পুলিশ প্রতিবাদকারীকে কলার ধরে নিয়ে আসবে। বয়সের জন্য কোন ছাড় নাই, পুলিশ এমন আচরণ করবে ফিরে এসে নিজের বাড়িতে স্বইচ্ছায় কান ধরে উঠবস করবেন, কেন গিয়েছিলেন থানায়। তো, কার দায় পড়েছে, কার ঘাড়ে দুটা মাথা!
ফল যা হওয়ার তাই হয়, শত-শত মানুষের চোখের সামনে কোন মেয়েকে কেউ উত্যক্ত করলেও কেউ এখন আর এগিয়ে আসে না। জানে লাভ নাই। কেবল কালে কালে দেশে নপুংশকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
অন্য প্রসঙ্গ। হালের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমি যে স্কুল চালাই এটা দেখার জন্য একটা স্কুলের বেশ কিছু বাচ্চা এসেছে, এদের মধ্যে ফোর-ফাইভ পড়ুয়া বাচ্চাও আছে। আমাদের স্কুলে পড়াবার ধরাবাঁধা কোন নিয়ম নেই, যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই পড়ানো-শেখাবার চেষ্টা করা হয়। আমি টিচারকে বললাম, বই বন্ধ থাকুক। সমস্ত বাচ্চাদের বললাম, এখন অন্য বিষয়। আচ্ছা, এক এক করে সবাই বলো তো তোমাদের দাদার নাম কি? অধিকাংশ বাচ্চাই দাদার নাম বলতে পারেনি। টিচার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি স্বাভাবিক কারণ এমনটাই আমার অনুমান ছিল। আমরা সবাই মিলে বাচ্চাদেরকে বড়ো করছি একেকটা রোবট করে। শেকড় থেকে ক্রমশ আমরা দূরে সরে যাচ্ছি- দাদার নাম জানার প্রয়োজন নাই। অচিরেই আমরা বাপের নামও ভুলে যাব।
এর জন্য আমাদের মিডিয়ারও অনেক লম্বা হাত আছে। উদাহরণ দেই, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গানের একটা অনুষ্ঠান হয়। এখানে একেক দিন একেক শিল্পী আসেন। ওদিন এসেছিলে বাপ্পা মজুমদার। শিল্পীর সঙ্গে একজন অনুষ্ঠানে বসার সুযোগ পান। ওদিন অল্পবয়সী যে মানুষটা এসেছিলেন, বাপ্পার সঙ্গে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি ২৫০০ এসএমএস করে এখানে এসেছেন। ২৫০০ এসএমএস, ভাবা যায়! অতি অল্প সময়ে এই বিপুল এসএমএস পাঠাবার জন্য এই মানুষটাকে ওনার অসংখ্য বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এই 'এসএমএসযজ্ঞে' যোগ দিতে হয়েছিল এখানে আসার জন্য! তা এই গাধাটা পড়বে কখন? বাপ্পা মজুমদারসহ কেউ এই প্রশ্নটা করলেন না, একজন ছাত্রকে ২৫০০ এসএমএস করার জন্য কি বিপুল টাকাই না খরচ হয়েছে, লেখাপড়া শিকেয় উঠেছে। এমন অসংখ্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু করে অসংখ্য অসুস্থ মানুষ তৈরি হচ্ছে। এই দেশে এখন নাদুস-নুদুস জোঁক হচ্ছে ফোন কোম্পানিগুলো। অধিকাংশ সেলিব্রেটিরা এদের কাছে আত্মা বন্ধক রেখেছেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি অসংখ্য স্টার পয়দা হচ্ছে। হৃদয় খান [৩] নামের এক স্টারের এক অনুষ্ঠান দেখে আমার মনে হয়েছিল, ম্যানার-সহবত শেখার জন্য এর তো নতুন করে স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।
হাসান নামের যে মানুষটা ঘান (!) করেন ওদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় লাইভ ঘানের (!) অনুষ্ঠানে দেখলাম, যেসব শ্রোতা ফোন করছেন তাঁদেরকে তিনি অবলীলায় তুমি তুমি করে বলছেন। এই বেয়াদব স্টারেরও প্রয়োজন স্কুলে ভর্তি হয়ে নতুন করে...।
শ্লা, হরলিকস খেলে বাচ্চা লম্বা হয়! বাপ-মা পাঁচ ফুট বাচ্চা হবে আট ফুট! কী একেকটা বিজ্ঞাপন! ডানো খাওয়া বাচ্চাগুলো ছাতা নিয়ে এখন গাছের মগডাল থেকে লাফ দেয়, ক-দিন পর ছাদ থেকে লাফ দেবে [৪]।
ফোন কোম্পানিগুলো পারলে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর পরই হাতে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেয়। এখন ছয় কোটি সিম, আমি আশা করছি অচিরেই এটা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। চুলায় বেড়াল ঘুমায়, তাতে কী- আমাদের মোবাইল ফোন থাকাটা জরুরি! এই দেশের জন্য এখন সবচাইতে মায়া হচ্ছে ফোন কোম্পানিগুলোর। এদের সঙ্গে কাঁদেন এই দেশের বুদ্ধিজীবীরা, কাঁদতে কাঁদতে দেশে অকাল বন্যা নিয়ে আসেন।
আমাদেরকে শেখানো হচ্ছে, ডাব এবং সফট ড্রিঙ্কের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। রোবট বানাবার শিক্ষাটা আমরাই চালু রেখেছি, সানন্দে।
বাবা-মার চেয়ে টিভি বড়ো [৫]। ভাল টাকা দিলে অপি করিমের মত সেলিব্রেটিরা এটাও আমাদেরকে শিখিয়ে দেবেন।
ভাল টাকা পেলে আমরা উবু হয়ে পটিতেও বসার ভঙ্গি করব। টাকার অংকটাই আসল। প্রয়োজনে আমরা মাকেও বিক্রি করে দেব। বিক্রি করে দেব তাঁর ফুসফুস, কিডনি, লিভার।
তো, লাগাচ্ছি আমরা বিষবৃক্ষ গাছ এখন ফল ধরার মরসুম, ঝেপে ফল এসেছে এতে অবাক হওয়ার তো কিছু নাই।
সহায়ক লিংক:
১. ব্র্যাক: লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
২. গ্রামীন ব্যাংক, লাইফ...: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
৩. হৃদয় খান: http://www.ali-mahmed.com/2009/07/blog-post_21.html
৪. শিশু হত্যার মারণাস্ত্র: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
৫. অপি করিম, এই অসভ্য বিজ্ঞাপন: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_19.html
প্রকারান্তরে ইভ টিজিং যে খুনের নামান্তর এটা কি আমরা অদ্য জানলাম? আমি জানি না, এর কোন সমীক্ষা করা হয়েছে কি না? অনুমান করি, এই দেশের লক্ষ-লক্ষ মেয়ে কেবল এই কারণেই অর্ধ-শিক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এসএসসি পাশ করার পূর্বেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিয়ে হওয়া আগ পর্যন্ত এর ভুবনটা থাকে এলোমেলো- মানসিক বিকারগ্রস্ত।
ইভ টিজিং নিয়ে দেশ এখন উত্তাল। দেশ উত্তাল নাকি মিডিয়া? এই ঘটনাগুলো মিডিয়া লাইম লাইটে নিয়ে না-আসলে কি আর আমরা উত্তাল হই? এখানেও কিছু হিসাব-কিতাব আছে, প্রথম পাতায় কোথায় খবরটা ছাপা হবে, কোন ভঙ্গির কান্নার ছবিটা ভাল আসবে। গোল টেবিল আলোচনায় কারা কারা থাকবেন।
এমনিতে এই খবরগুলোই হেলাফেলা ভঙ্গিতে মফস্বলের পাতায় ছাপা হলে আমরা চোখ বুলিয়েই সারা। যারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়েন তাঁদের পক্ষেই সম্ভব কেবল এই খবরগুলো জানা। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের এতো সময় কোথায় মফস্বলের সংবাদ পড়ার। আর কি দায় পড়েছে এ নিয়ে মাথা ঘামাবার? কোন এক গন্ডগ্রামে কে কাকে চাপা দিল, কেন দিল...।
কই, ব্র্যাক ব্যাংকের অত্যাচারে, শত-শত মানুষের সামনে একজন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয় এই খবরটা দেখি অনেক দৈনিকে ছাপার যোগ্যতা অর্জন করে না [১]। গ্রামীন ব্যাংকের অপমানে একজন কিশোরী আত্মহত্যা করে এই খবর মফস্বলের পাতায় আসে [২] কিন্তু আমাদের দেশের সো-কলড বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টি কাড়ে না। এই কারণেই বলছিলাম ইভ টিজিং নিয়ে মিডিয়া উত্তাল তো আমরা উত্তাল।
এমন না এই ঘটনাগুলো সম্প্রতি ঘটছে। এটা চলে আসছে, চলেই আসছে। এটা চলে আসার জন্য ঝোপঝাড় কেটে রাস্তা আমরাই সুগম করে রেখেছি। এটা হুট করে হয়নি, এটার জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় লেগেছে, এর পেছনে কঠোর সাধনা আছে। আগে ছেলেপেলেরা বখাটেপনা করলে মুরুব্বিরা কান ধরে চটকনা লাগালেই অনেক বড়ো বড়ো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। তারপরও সমস্যা না-মিটলে গ্রামে মুরুব্বিরা বসে সমাধান করে ফেলতেন।
এখন আর এটার চল নাই কারণ বখাটে কেন বখাটের বাবারও এই আচরণ-পদ্ধতি পছন্দ না। কারণ তাকেও এই সমাজে থাকতে হয়, পুতুপুতু ছেলে দিয়ে এখন আর চলে না, প্রয়োজন ক্ষমতাবান ছেলে। তারা মনে করছেন, অদৃশ্য এক ক্ষমতার বলয় প্রয়োজন কারণ এই সমাজব্যবস্থা এখন আর তাদেরকে যথেষ্ঠ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ছেলেকে ক্ষমতাবান হতে হলে তাকে কোন-না-কোন একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জুড়ে যেতে হয়। কোন এক বড় ভাইয়ের বগলতলায় থাকতে হয়। তখন তাকে আর পায় কে, চরম বখাটেপনা করলেও কি আর হবে? ওসির সঙ্গে বসে যে বড় ভাই চা খান। এমপি সাহেবের একটা ফোন কলে দিন-রাত, রাত-দিন হয়ে যায়। উল্টো পুলিশ প্রতিবাদকারীকে কলার ধরে নিয়ে আসবে। বয়সের জন্য কোন ছাড় নাই, পুলিশ এমন আচরণ করবে ফিরে এসে নিজের বাড়িতে স্বইচ্ছায় কান ধরে উঠবস করবেন, কেন গিয়েছিলেন থানায়। তো, কার দায় পড়েছে, কার ঘাড়ে দুটা মাথা!
ফল যা হওয়ার তাই হয়, শত-শত মানুষের চোখের সামনে কোন মেয়েকে কেউ উত্যক্ত করলেও কেউ এখন আর এগিয়ে আসে না। জানে লাভ নাই। কেবল কালে কালে দেশে নপুংশকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
অন্য প্রসঙ্গ। হালের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমি যে স্কুল চালাই এটা দেখার জন্য একটা স্কুলের বেশ কিছু বাচ্চা এসেছে, এদের মধ্যে ফোর-ফাইভ পড়ুয়া বাচ্চাও আছে। আমাদের স্কুলে পড়াবার ধরাবাঁধা কোন নিয়ম নেই, যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই পড়ানো-শেখাবার চেষ্টা করা হয়। আমি টিচারকে বললাম, বই বন্ধ থাকুক। সমস্ত বাচ্চাদের বললাম, এখন অন্য বিষয়। আচ্ছা, এক এক করে সবাই বলো তো তোমাদের দাদার নাম কি? অধিকাংশ বাচ্চাই দাদার নাম বলতে পারেনি। টিচার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি স্বাভাবিক কারণ এমনটাই আমার অনুমান ছিল। আমরা সবাই মিলে বাচ্চাদেরকে বড়ো করছি একেকটা রোবট করে। শেকড় থেকে ক্রমশ আমরা দূরে সরে যাচ্ছি- দাদার নাম জানার প্রয়োজন নাই। অচিরেই আমরা বাপের নামও ভুলে যাব।
এর জন্য আমাদের মিডিয়ারও অনেক লম্বা হাত আছে। উদাহরণ দেই, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গানের একটা অনুষ্ঠান হয়। এখানে একেক দিন একেক শিল্পী আসেন। ওদিন এসেছিলে বাপ্পা মজুমদার। শিল্পীর সঙ্গে একজন অনুষ্ঠানে বসার সুযোগ পান। ওদিন অল্পবয়সী যে মানুষটা এসেছিলেন, বাপ্পার সঙ্গে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি ২৫০০ এসএমএস করে এখানে এসেছেন। ২৫০০ এসএমএস, ভাবা যায়! অতি অল্প সময়ে এই বিপুল এসএমএস পাঠাবার জন্য এই মানুষটাকে ওনার অসংখ্য বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে এই 'এসএমএসযজ্ঞে' যোগ দিতে হয়েছিল এখানে আসার জন্য! তা এই গাধাটা পড়বে কখন? বাপ্পা মজুমদারসহ কেউ এই প্রশ্নটা করলেন না, একজন ছাত্রকে ২৫০০ এসএমএস করার জন্য কি বিপুল টাকাই না খরচ হয়েছে, লেখাপড়া শিকেয় উঠেছে। এমন অসংখ্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু করে অসংখ্য অসুস্থ মানুষ তৈরি হচ্ছে। এই দেশে এখন নাদুস-নুদুস জোঁক হচ্ছে ফোন কোম্পানিগুলো। অধিকাংশ সেলিব্রেটিরা এদের কাছে আত্মা বন্ধক রেখেছেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি অসংখ্য স্টার পয়দা হচ্ছে। হৃদয় খান [৩] নামের এক স্টারের এক অনুষ্ঠান দেখে আমার মনে হয়েছিল, ম্যানার-সহবত শেখার জন্য এর তো নতুন করে স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।
হাসান নামের যে মানুষটা ঘান (!) করেন ওদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় লাইভ ঘানের (!) অনুষ্ঠানে দেখলাম, যেসব শ্রোতা ফোন করছেন তাঁদেরকে তিনি অবলীলায় তুমি তুমি করে বলছেন। এই বেয়াদব স্টারেরও প্রয়োজন স্কুলে ভর্তি হয়ে নতুন করে...।
শ্লা, হরলিকস খেলে বাচ্চা লম্বা হয়! বাপ-মা পাঁচ ফুট বাচ্চা হবে আট ফুট! কী একেকটা বিজ্ঞাপন! ডানো খাওয়া বাচ্চাগুলো ছাতা নিয়ে এখন গাছের মগডাল থেকে লাফ দেয়, ক-দিন পর ছাদ থেকে লাফ দেবে [৪]।
ফোন কোম্পানিগুলো পারলে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর পরই হাতে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেয়। এখন ছয় কোটি সিম, আমি আশা করছি অচিরেই এটা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। চুলায় বেড়াল ঘুমায়, তাতে কী- আমাদের মোবাইল ফোন থাকাটা জরুরি! এই দেশের জন্য এখন সবচাইতে মায়া হচ্ছে ফোন কোম্পানিগুলোর। এদের সঙ্গে কাঁদেন এই দেশের বুদ্ধিজীবীরা, কাঁদতে কাঁদতে দেশে অকাল বন্যা নিয়ে আসেন।
আমাদেরকে শেখানো হচ্ছে, ডাব এবং সফট ড্রিঙ্কের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। রোবট বানাবার শিক্ষাটা আমরাই চালু রেখেছি, সানন্দে।
বাবা-মার চেয়ে টিভি বড়ো [৫]। ভাল টাকা দিলে অপি করিমের মত সেলিব্রেটিরা এটাও আমাদেরকে শিখিয়ে দেবেন।
ভাল টাকা পেলে আমরা উবু হয়ে পটিতেও বসার ভঙ্গি করব। টাকার অংকটাই আসল। প্রয়োজনে আমরা মাকেও বিক্রি করে দেব। বিক্রি করে দেব তাঁর ফুসফুস, কিডনি, লিভার।
তো, লাগাচ্ছি আমরা বিষবৃক্ষ গাছ এখন ফল ধরার মরসুম, ঝেপে ফল এসেছে এতে অবাক হওয়ার তো কিছু নাই।
সহায়ক লিংক:
১. ব্র্যাক: লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
২. গ্রামীন ব্যাংক, লাইফ...: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
৩. হৃদয় খান: http://www.ali-mahmed.com/2009/07/blog-post_21.html
৪. শিশু হত্যার মারণাস্ত্র: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
৫. অপি করিম, এই অসভ্য বিজ্ঞাপন: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_19.html
Subscribe to:
Posts (Atom)







