Friday, June 29, 2007

অন লাইন প্রশ্ন: ২

প্রশ্ন ১: উত্তর আধুনিক সাহিত্য বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্ত এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!
আফ্রিকার জুলু জাতির সাহিত্য কি এটা হতে পারে না? কোন এক গোত্র অন্য গোত্রের পরাজিত বীরের মাংস চিবুতে চিবুতে বিরক্তি প্রকাশ করবে, কেন মাংসটা ভালো রকম রান্না হয়নি! তখন তার মনে এই ভাব খেলা করা কি দোষের? আচ্ছা, এটা কি রান্নার দোষ, নাকি ওই মানুষটার দোষ? মানুষটাকে যখন মারা হলো, তখন কি সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়েছিল, নাকি খানিকটা জমাট বেঁধে আটকে ছিল! নাকি...!
বা, কে জানে, এখানে হয়তো খাদকের কোন একটা মানবিক গুণ বেরিয়ে আসবে। এই লেখাটাই তো ওই দেশের কেউ অথবা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কেউ পড়বেন!
এমনিতে আমার অল্প জ্ঞানে সাহিত্য বলতে যা বুঝি: সাহিত্য বলুন আর যাই বলুন সবই প্রকৃতির নকল। একজন লেখক জাস্ট কল্পনার রঙ মিশিয়ে একটা ভার্চুয়াল জগত সৃষ্টি করে তার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখান, লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখেন। এরপর পাঠক তার মনন অনুসারে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান।

প্রশ্ন ২: শিশু নির্যাতন নিয়ে এত কথা হচ্ছে কিন্ত বাসায় বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে মানুষ তেমন সোচ্চার না। আপনার অভিমত কি?
উত্তর: আমরা প্রায় সবাই একেকটা মুখোশ পরে থাকি। লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, বিচিত্র রঙের মুখোশ। তো, আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্ত ওই একই কাজ নিজেরা করি অবলীলায়। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট।

প্রশ্ন ৩. নিজের বিষয়ে যতটুকু সচেতন, ভালবাসার মানুষের প্রতি ততটুকু সচেতন হওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: আসলে একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে নিজে! অন্য কারও সঙ্গে এই তুলনাটা অর্থহীন।

প্রশ্ন ৪. আপনার পড়াশুনার বিষয় কি ছিল?
উত্তর: আমার একাডেমিক পড়াশুনার কথা ধরলে আমি প্রায় মূর্খ। একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, আমি এস এস সি করি সায়েন্স নিয়ে। আমার ফ্যামেলীর ধারণা ছিল, আমি বিজ্ঞানী হবো। এইচ এস সি করতে গিয়ে দেখলাম, সায়েন্স নিয়ে পড়লে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় (তাইলে আউট বই পড়তে ভারী গোলমাল হয়ে যায় যে)! তো, নিলাম কমার্স।
গ্রাজুয়েশন করতে গিয়ে দেখলাম, অরি আল্লা, কমার্সেও কিছু ক্লাশ করা আবশ্যক। কি আর করা, নিলাম আর্টস! এটা আমার কাছে সহজ মনে হতো। এমন সব সাবজেক্ট বেছে নিলাম, মূল লেখা পড়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা কিছু লিখে দেয়া। সো, গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টসে। এল. এল, বিতে কিছুটা সময় ঝুলে রইলাম, যদি আইন পড়ে দেশ উদ্ধার করা যায়। ভালো লাগল না, একগাদা মিথ্যার বেসাতী। বাদ দিলাম।
পারিবারিক জটিলতার কথা যদি বাদও দেই, ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক হালটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরতে বাধ্য হওয়া। আসলে এমনিতেও প্রচলিত পড়ায় আমার মন ছিল না। মন পড়ে থাকত পাঠ্য বই বহির্ভূত ফালতু বই পড়ায়। মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘুরাবার কেউ ছিল না বলে এই বাড়তি সুবিধাটুকু। এমনিতেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে আমার ছিল তীব্র অনীহা, এখনও!
আরেকটা কারণ, আমি বড্ডো হোমসিক টাইপের মানুষ। পড়াশোনার কারণেও আমি নড়তে রাজি ছিলাম না। শেকড় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। যার ছাপ এখনও প্রবল। হায় হোমসিক, একজন মানুষকে কেমন করে ক্রমশ বানিয়ে দেয় গাধামানব!

প্রশ্ন ৫: বর্তমান জেনারেশনের রাজনীতি বিমুখিতার কারণ কি? এদের মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য কি করা উচিত?
উত্তর: আমাদের রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে গেছে, আমাদের সামনে কোন আইডল নাই, স্বপ্ন দেখাবার মতো মানুষ নাই!
এমনিতে আমি মনে করি, মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে ইয়াংদের আসার কোন বিকল্প নাই। কিন্ত এইসব বয়োবৃদ্ধদের রাজনীতিতে থাকা মানেই পাপেট শো। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই দেখবেন ১০/ ২০টা জটিল সব রোগ, পায়ে বিষ, মুত্রদ্বারে বিষ, গুহ্যদ্বারে বিষ। আর এ তো বাস্তব, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্রেনের সেল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন সেল অকার্যকর হওয়া শুরু করে। তাই বলে আমি কিন্তু চ্যাংড়াদের নিয়ে আসার কথা বলছি না, বলছিলাম থুত্থুড়ে বুড়াদের বাদ দেয়ার কথা। যিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না তিনি অন্যকে কি সামলাবেন!

প্রশ্ন ৬: আপনার নিজের প্রেমের কথা সুন্দর করে এড়িয়ে যান। সত্য করে বলবেন। আপনার প্রেমের লেখাগুলো পড়ে খুব জানতে ইচ্ছা করে।
উত্তর:ভাইরে, দিলেন তো একটা ভেজালে ফেলে। সত্যের মত বদমাশ আর নাই! বিস্তারিত তো শেয়ার করতে পারব না, খানিকটা বলি:
প্রেম-ট্রেম জানি না, একটা মেয়ে অসম্ভব পছন্দ করতাম। কিন্তু তার পরিবারের আপত্তি ছিল কারণটা হচ্ছে আমার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ওই মেয়েটার চেয়ে এক ক্লাশ কম ছিল।
একদিন মেয়েটা বলল, আমার ফ্যামেলি বলেছে, তোমার কোয়ালিফিকেশন...আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ..., আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমি সুখী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওই দিন আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। শিখলাম, পুঁথিগত বিদ্যার কী মূল্য! সার্টিফিকেট নামের কাগজই সব! ওই সময় নিজেকে বড়ো দীন-হীন মনে হচ্ছিল, নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন ধিক্কার। ইচ্ছা করছিল, ওই সময় পর্যন্ত যা শিখেছি, মস্তিষ্কের ওই অংশটুকু টান মেরে ফেল দেই। ক্ষমতায় থাকলে মস্তিষ্কটা ফরম্যাট করে ফেলতাম। মাথাটা একেবারে ফাঁকা, লাইক আ ব্লাংক ক্যাসেট।
পরিহাস, মেয়েটা মোটেও সুখী হতে পারেনি। অথচ আজ যে মেয়েটি আমার হাত ধরে আছে; প্রায়শ ভাবি, একে সম্ভবত বানানো হয়েছে আমাকে মমতার চাদরে ঘিরে রাখার জন্য।
ওয়েল, ওই মেয়েটির সঙ্গে এখনও মাঝে-মাঝে কথা হয়, ও লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে, বিচিত্রসব আবেঘন কথা বলে! পাগল, পানি কী আটকে রাখা যায়, না সময়! জীবনটা সিনেমা না- সিনেমায় রিটেক হয়, জীবনে হয় না!

*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৩