Search

Sunday, December 13, 2009

মি. প্রাইম মিনিস্টার, ঝেড়ে কাশেন

সরল রেখা এবং বৃত্তের ফারাক বিস্তর। জ্ঞান হচ্ছে, সরল রেখা। অর্জিত জ্ঞান নিয়ে কেবল এগিয়ে যাওয়া, এখানে থামাথামির কোন উপায় নেই। যারা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবেন না তারা সরল রেখাকে বৃত্ত বানিয়ে অনবরত ঘুরপাক খেতে থাকেন, আমৃত্যু।

আগের পোস্টে লিখেছিলাম, আমাদের দেশের কান্ডারিরা অতীত থেকে কিছুই শেখার প্রয়োজন বোধ করেননি।
প্রাইম মিনিস্টারের প্রতি আমার যথেষ্ঠ আগ্রহ ছিল। আফসোস, বছর গড়ালো কিন্তু বিশেষ কোন চমক দেখতে পাইনি যে চমকে উঠব। সেই চিরাচরিত! ক্রসফায়ার নামের এক দানব! সেই দেশের বাইরে যাওয়ার সময়, ফেরার সময় ভি, আই, পিদের হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা। আচ্ছা, এর প্রয়োজনটা কী! তিনি কি যাওয়ার পূর্বে সবার কাজ বুঝিয়ে দিয়ে যান? তাই হবে! বিদুৎ নিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে এত বড়ো প্রতারণা করা হলো অথচ তিনি এই টুঁ-শব্দ করেছেন বলে তো শুনিনি। সেই লঞ্চ ডুবে, লাশ ভেসে যায়- ফ্রিগেট কেনা হয় কিন্তু রুস্তম-হামজা নামের দুই বুড়া গাধাকে বদলানো হয় না। এইসব অন্যায় বিচারের কোন সুরাহা হয়নি, অন্তত শুরু হয়েছে এমনটাও বলা যাবে না।

এদিকে (৯ ডিসেম্বর, ২০০৯) পত্রিকায় দেখলাম, দুই দিনব্যাপী অর্থায়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রাইম মিনিস্টার তাঁর সিংহাসন মার্কা চেয়ার বদলেছেন। এমন কতশত অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী ক্রমশ ছুঁড়ে ফেলতে পারতেন যদি।

সাধারণ একজন ইউ, এন ও পর্যন্ত এই রাজসিক চেয়ার ব্যতীত বসতে চান না। রাজসিক চেয়ারে না বসলে কী সমস্যা হয় এটা আমার বোধগম্য হয় না। আশা করছি, আমলারা এটা থেকে শিখবেন।
আমলা, এরা আবার আরেক কাঠি বাড়া, চেয়ারের পেছনে তোয়ালে না থাকলে পশ্চাদদেশের সমস্যা হয়, বসে আরাম পান না। এই বাথরুমের জিনিস চেয়ারে সাজিয়ে রাখার বুদ্ধিটা কার মাথা থেকে বেরিয়েছিল আল্লা তাকে হেদায়ত করুন।
অর্থায়ন মেলায় প্রাইম মিনিস্টার বলেছেন, "ঢাকার বাইরে শিল্প স্থাপনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে"।
মি. প্রাইম মিনিস্টার, এভাবে ভাসা ভাসা বললে তো হবে না। আপনি স্পষ্ট করে বলুন। কেউ ঢাকার বাইরে শিল্প স্থাপন করতে চাইলে সে কি কি সুবিধা পাবে? বলুন, তাঁকে আর্থিক কতটা ছাড় দেয়া হবে? তাঁকে কতভাবে সম্মান দেখানো হবে? একজন শিল্পপতিকে আপনি এমন অফার দিন যেন সে 'না' শব্দটা বলতে না পারে। ঢাকার বাইরে শিল্প স্থাপন করার জন্য কাছা খুলে দৌড়াতে থাকে। এতে কতশত সমস্যার যে সমাধান হয়ে যাবে এর ইয়াত্তা নাই। অন্য জেলা থেকে ঢাকায় নিম্নবিত্তদের আসা রোধ হবে। মঙ্গা ঠোঙ্গায় আটকে থাকবে।
বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০টি ঢাকায়।
৩৮টি মেডিকেল কলেজের ৩২ টি ঢাকায়।
তৈরি পোশাকশিল্পের ১৮ লাখ শ্রমিক ঢাকায়।
১৫ লাখ নির্মানশ্রমিক এবং রিকশাচালক ঢাকায়।
প্রতিদিন ২১৩৬ জন মানুষ ঢাকায় ঢুকছে আর বের হচ্ছে না।

আগের একটা পোস্টে আমি লিখেছিলাম, কোন এক লেখায় আমি লিখেছিলাম: "আমরা সব লাটিম বনবন করে ঘুরাচ্ছি ঢাকাকে কেন্দ্র করে! এটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ঢাকার উপর থেকে যত দ্রুত সম্ভব চাপ কমানো অতি আবশ্যক। এখান থেকে সরাতে হবে ক্যান্টনমেন্ট, সরকারি যত আপিস। তারচেয়ে জরুরি হচ্ছে কল-কারখানাগুলো সরানো। সরানো মানে নতুন করে হতে না দেয়া, সরিয়ে নিতে লোভ দেখানো। জোর করে তো এটা করা যাবে না। 
এ জন্য মোটা মাথা থেকে চিকন বুদ্ধি প্রসব করতে হবে। যেসব উদ্যোক্তা ঢাকার বাইরে রংপুর, খুলনায় শিল্প-প্রতিষ্ঠান করবেন তাদের জন্য থাকবে ট্যাক্সসহ অন্যান্য বিভিন্ন কর দেয়ার বেলায় বিরাট ছাড়। এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ সম্মান থাকবে এদের জন্য। আমার ধারণা, এরা প্রয়োজনে বায়ারকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ওই বায়ার লাফাতে লাফাতে রাজি হবে। না-হওয়ার কোন কারণ দেখি না। এই বায়ার মহোদয় শত-শত বার প্লেনে চড়েছেন কিন্তু হয়তো বা হেলিকপ্টারে চড়া হয়নি। তিনি বিমলানন্দে দেশে গিয়ে গল্প করবেন, হেই ম্যান, গেসিলাম বেংলাদেশে... ইমাজিন, হোল হেলিকাপ্টার হামার জইন্যে।"

ঢাকা কলাপস করছে এটা বলতে পারলে ভাল লাগত, অলরেডি ঢাকা মারা গেছে, পচন শুরু হওয়া সময়ের দাবি মাত্র। সুশীল সমাজ, কারও এ নিয়ে খুব একটা উদ্বেগ আছে বলে তো মনে হয় না। শাহাদুজ্জামানের মত অল্প মানুষরাই অনুমান করতে পারছেন ঢাকা কলাপস করছে।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের চমৎকার একটা গল্প আছে, '২০৩০ সালের একদিন'। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে এটার অসাধারণ বর্ণনা। তিনি আশাবাদী মানুষ, ২০৩০ সাল বলেছেন। আমি হলে আরও ১০ সাল কমিয়ে দিতাম।

একা জাফর ইকবাল যে কাজটা করছেন কোটি-কোটি মানুষ সেটা পারছেন না। এই দেশের কোটি-কোটি মানুষের স্বপ্ন, ঢাকায় একটা বাড়ি, ঢাকায় একটা চাকরি, ঢাকায় বাচ্চাদের পড়াশুনা। মায় ঢাকায় পেচ্ছাব করেও সুখ। অথচ জাফর ইকবাল ইচ্ছা করলেই অনায়াসে ঢাকায় বসবাস করার সুযোগ নিতে পারতেন। আপাততদৃষ্টিতে তাঁর জীবনটা অনেক সহজ হতো! তাঁর এই একটা উদাহরণ তথাকথিত সুশীলরা ছড়িয়ে দিতে পারত যদি, আফসোস! এই একটা কারণে এই মানুষটা খুন করে ফেললেও অবলীলায় ক্ষমা করে দেব, আমার লেখালেখির কসম। স্যালুট, হে মানুষ, একজন স্বপ্নবাজ মানুষ।

Saturday, December 12, 2009

গীনসবার্গ, 'চোরা' করসো এবং আমাগো গুণ!

একজন কবি কেমন করে শব্দের বোমা ফাটান এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ গীনসবার্গ।
এই মার্কিন কবি লিখলেন:
"...America when will you end the human war?
Go fuck yourself with atom bomb
I don't feel good don't bother me."
(America: Allen Ginsberg)
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা:
"...millions of fathers in rain
millions of mothers in pain
millions of brothers in woe
millions of sisters nowhere to go."
(september on Jessore road)
বিট ঘরানার এই কবি বিট ঘরানার আরেক তারকা কবি গ্রেগরী করসো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। করসো চৌর্যবৃত্তির কারণে জেল খেটেছিলেন। যা তার কবিতায় উঠে আসে:
"I was happy I bubbly drunk
The street was dark
I waved to a young policeman
He smilled..."
(Second night in N. Y. C. after 3 years)
গীনসবার্গ তরুণদের মাঝে উম্মাদনা ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন ভালই। নিজে স্বঘোষিত সমকামি ছিলেন। সমকামিতা যদি জৈবিক সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে বলা যায় এর বিস্তারে তাঁর ভূমিকা প্রবল। গীনস যখন প্রকাশ্যে তার যুবক কবিবন্ধুর ঠোঁটে দীর্ঘ চুমু খান তখন নির্মলেন্দু গুণ বলেন, "I appreciate your feeling."

গীনস একবার আক্ষেপ করে বলছিলেন, "আমি বুঝি না মদের মত একটা বিষাক্ত জিনিস নিয়ে সমাজে আপত্তি নাই অথচ মারিজুয়ানার মত স্বর্গীয় জিনিসকে নিয়ে কেন আপত্তি করা হয়"।
তিনি নাকি ভারত চলে এসেছিলেন উৎকৃষ্ট গাঁজার লোভে। গীনসবার্গ তাঁর কবিতা লেখা নিয়ে বলেন: "শোন, যখন বুঝি কবিতা আসছে তখন গাঁজা-টাজা নিয়ে ঘর বন্ধ করে বসে যাই, চলতে থাকে মাদক গ্রহন এবং কবিতা প্রসব"।

একবার তিনি মঞ্চে কবিতা পাঠ শেষ করার পর একজন তরুণী জিজ্ঞেস করল, "মি. গিনসবার্গ, আপনার এই কবিতার অর্থ কী"?
গিন্সবার্গ বিড়বিড় করলেন, "অর্থ, আচ্ছা অর্থ"। এই বলে তিনি ট্রাউজার খুলে অসংখ্য দর্শকের সামনে দিয়ে নগ্ন হয়ে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন।


আমি মনে করি, (এটা আমার নিজস্ব মত), একজন হুমায়ূন আহমেদ (কারণ তিনি তেলিবেলি কেউ না, লক্ষ-লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন) যখন সিগারেট হাতে প্রচ্ছদে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন, একজন কবি যখন ড্রাগ নিয়ে মাতামাতি করেন, আমার কাছে এঁদের পোকা-পোকা মনে হয়।
এই গ্রহে ড্রাগ নামের দানবটাকে লালন-পালন করেন কবি-গায়করা। এরা তৎকালিন প্রজন্মকে প্রভাবিত করার বিপুল ক্ষমতা রাখেন বলে অনায়াসে এই কাজটা করতে পারেন। ড্রাগস কেবল একজন তরুনকেই শেষ করে দেয় না, গোটা পরিবারটাকেই ভাসিয়ে দেয়।
আহা রে, ড্রাগ-ট্রাগ না নিলে তো আবার কবি-টবি হওয়া যায় না; কী আর করা!


গ্রেগরী করসো যখন আমাদের বাংলাদেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষের ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কাছে জনসমক্ষে, প্রকাশ্যে আদি রসাত্মক অতি কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে, অতি হৃদয়হীন মন্তব্য করেন, "তোমাদের দেশ তো খুব ফারটাইল, প্রতিদিন হাজার হাজার মানবসন্তানের জন্ম দিচ্ছ তোমরা। ...ছাউ ফুটানোর কাজটা তোমরা ভালই পার।"
তখন গুণ দাদার গলা দিয়ে স্বর বের হয় না। চিঁ চিঁ করে বলেন, "তা তুমি ঠিকই বলেছ, We born in billions & die in millions."
আহা, মার্কিন মুল্লুকে গুণ দাদা যে কত বড় কবি এই সার্টিফিকেটটা এদের কাছ থেকে বাগাতে হবে যে। এরাই আমাদেরকে সার্টিফিকেট বিলি করবেন, আবার মানবতাও শেখাবেন। এতে করে গুণের সামনে তাঁর মা, দেশমাকে নগ্ন করলে কী আসে যায়!

এদিকে ফার্লিংঘেট্টি আন্ডারওয়্যার নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভোর করে দেন। বিপুল ভাবনার কবিতা প্রসব করেন:
"I didn't much sleep last night
thinking about underwear..."
(Underwear: L. Ferlinghetti)
ফালিংঘেট্টি অবশ্য আন্ডারওয়্যার মাথায় বাঁধা যায় কিনা এ নিয়ে কোন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন কিনা এটা জানা যায়নি। এটা নিয়ে একটা গবেষণা হওয়া আবশ্যক! তার ভাবনায় প্রভাবিত হয়েই কিনা কে জানে মাইকেল জ্যাকসন ট্রাউজারের উপর আন্ডারওয়্যার পরা শুরু করেছিলেন কি না, এটাও জানা যায়নি। গুণ দাদা আবার এই কবিতা নিয়ে বড়ো উচ্ছ্বসিত হন। আমিও উচ্ছ্বসিত, এখন আন্ডারওয়্যার পরা ছেড়ে দেব কিনা ভাবছি।

আফসোস, এরা কখনই জানতে পারবে না একজন ছফাকে। বহিঃবিশ্বে আজ এই দেশের লক্ষ-লক্ষ সেরা সন্তানরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কিন্তু অন্তত ইংরাজি ভাষায় অনুবাদ করে এই তথাকথিত মানবতাবাদি মানুষদের কাছে পরিচিত করাবার চেষ্টাও এরা করবে না। আফসোস, ছফার মত মানুষকে ধারণ করা দূরের কথা, তাঁকে নিয়ে বলার যোগ্যতাও আমাদের নাই!

গুণ দাদার খুব একটা দোষ দেই না। আহা, সাদা-লাল চামড়ার (এটা অবশ্য বর্ণবাদি কথা হয়ে গেল) কেউ আমাদের পিঠে হাত না রাখলে, সার্টিফিকেট না দিলে আমাদের বাদামি চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যায় যে!
আমাদের বিস্মৃত হওয়ার উপায় নেই এ গ্রহের সাহিত্য মানে মার্কিন সাহিত্য আর বাংলাদেশের সাহিত্য মানে হচ্ছে ঢাকার সাহিত্য! এর বাইরে যা আছে সবই বাচ্চার ইয়ে...।


সহায়ক সূত্র:
১. সমকামিতা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html
২. ছফা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_15.html
... ... ... 
চোরা করসোকে নিয়ে এ আই (মেটা) বেশ উচ্ছ্বসিত: 
"Gregory Corso। আমেরিকান কবি। Beat Generation-এর মানুষ। অ্যালেন গিন্সবার্গ, জ্যাক কেরুয়াক, উইলিয়াম বারোজদের বন্ধু। জেল খাটছে, চুরি করছে, এতিমখানায় বড় হইছে। 
কিন্তু কলম ধরছে। আর এমন কলম, বোমার চেয়ে ধারালো। করসো লিখছিলো 'Bomb' কবিতা। বোমার সাথে প্রেমের কথা কইছে। লিখছিলো 'Marriage'। বিয়ারে ধুইয়া দিছে। 
লিখছিলো 'Power'। ক্ষমতারে ল্যাংটা করছে। 
করসোর একটা লাইন আছে: 
'I am a great poet. I don’t give a fuck what you think.' 
আমি বড় কবি। তুমি কী ভাবো, আমার কিছু যায় আসে না। 
করসো বৃত্ত ভাঙে। সে রাস্তার মানুষ। চোর। জেলখাটা। সে কয়, বোমারে ভালোবাসি, কারণ বোমা সব সমান কইরা দেয়। রাজা ফকির এক। 
করসোর আরেকটা কথা শোনো: 
'Standing on a street corner waiting for no one is power.' 
রাস্তার মোড়ে দাঁড়ায়া কারো জন্য অপেক্ষা না করা, এইটাই ক্ষমতা। 
মরার আগে কইছিলো, 'I don’t want to be forgotten'. আমি ভুলে যেতে চাই না। "

আপনারা আর কবে বদলাবেন?

আমি নিশ্চিত ছিলাম, ওয়ান ইলাভেনের পর আমাদের নেতারো বদলাবেন। অর্জিত শিক্ষাটা কাজে লাগাবেন। 

তীব্র বেদনার সঙ্গে লক্ষ করলাম, ওই শিক্ষাটা বানের জলে ভেসে গেছে। কেউ কেউ সম্ভবত কখনই শিখতে চান না! 

বেগম জিয়ার প্রতি আমার খুব একটা চাওয়ার ছিল না, কেন? এই একটা ছবিই অনেক কিছু বলে দেয়! তাঁর সহযোদ্ধা মতিউর রহমান নিজামী! এই মানুষটার দল নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই!

সেই রাজসিক (রানিসিক!) চেয়ার সেই রানিসিক (!) ভঙ্গি! আমি বিস্মিত হই, এই আধুনিক যুগে এখনও কেমন করে রাজা-রানীর খেলা প্রকাশ্যে চলে? চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়াই কি একমাত্র প্রার্থী। হা ঈশ্বর, এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কোন পুরুষ (উইথ বলস) নাই? যে দাঁড়িয়ে বলতে পারে আমি চেয়ারপারসন পদে লড়তে চাই। হেরে গেলে সেটা অন্য কথা।

অন্য কোন নাম উত্থাপিত না-হওয়ায় তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন হয়েছেন। এরা বলে গণতন্ত্রের কথা! আফসোস, এদের কথায় আমরা একজন অন্যজনের মাথা ফাটাই, হাসতে হাসতে জীবন দেই!
...
শেখ হাসিনার কাছে যেটুকু আশা ছিল তার কিছুই পূরণ হয়নি। সবই সেই চিরাচরিত দৃশ্য, খুব একটা ফারাক নাই। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে অনেক আগুন বর্ষণ করতেন, যথারীতি তা চালু আছে। বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে যে প্রতারণাটা করা হলো এর উত্তর কার কাছে চাইব?

আচ্ছা, প্রধানমন্ত্রী বৈদেশ যাওয়ার সময় এবং ফেরত আসার সময় এ দেশের সমস্ত ভি আই পিদের প্রায় হাতজোড় করে, এয়ারপোর্টে গিয়ে ধুম মাচানোর প্রয়োজনটা কী এটা বোধগম্য হয় না। তবুও ভাল অন্তত অর্থমন্ত্রী মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়াবার সাহস দেখাতে পেরেছেন। স্যালুট তাঁকে!

* ছবিঋণ: প্রথম আলো

Friday, December 11, 2009

সমকামিতা এবং শিকারী নির্মলেন্দু গুণ!

"...I didn't much sleep last night
thinking about underwear...
Did Gandhi wear a girdle?..."
(Underwear: L. Ferlinghetti)

Ferlinghetti -এর মাথায় ঘুরপাক খায় মহাত্মা গান্ধী আন্ডারওয়্যার পরতেন কিনা? তাঁর মত এমন বিপুল চিন্তা মাথায় ঘুরপাক না-খেললেও মাথায় কতশত প্রশ্ন ঘুরপাক খায়আচ্ছা, একজন মানুষ সমকামী কেন হয়? এটা কি এমন? কেউ সিগারেট খায়, কেউ খায় না, কেউ লিকার ধরে, কেউ ধরে না, এমন?

এই বিষয়টা নিয়ে আমরা তেমন আলোচনায় যেতে চাই না কিন্তু বালিতে মাথা গুঁজে থাকলেই তো আর প্রলয় থেমে যায় না! বিষয়টা হেলাফেলা থাকে না খন ২০০৬ সালে ব্রাজিলের গে প্রাইড প্যারেডে ৩০ লাখ মানুষ অংশগ্রহন করেন। তাদের মূল থিম ছিল, 'হোমোফোবিয়া ইজ আ ক্রাইম'।  
 
প্রকৃতির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে অনেক পূর্বে একটা লেখা দিয়েছিলাম। ওখানে আমি বলার চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের দেশে এটা নিয়ে তেমন কোন কাজ হচ্ছে না। বিষয়টা আমাদের সমাজে অতি গোপনীয় কিন্তু আমার ধারণা, এর থাবা অনেক দূর বিস্তৃত।  
কেউ কেউ স্বীকার করেন, অধিকাংশই সযতনে গোপন করে রাখেন। নির্মলেন্দু গুণ যখন বলেন:
"যৌবনের প্রথম দিনগুলোতে আমি নিজেও সমকামি ছিলামপ্রথমদিকে অন্য অনেকের মত আমিও দু'একবার সমকামিতার শিকার হয়েছি, পরে অধিকাংশ সময় আমি নিজেই ছিলাম শিকার-সন্ধানী।"
(গীনসবার্গের সঙ্গে/ নির্মলেন্দু গুণপৃ: ৫২)

তখন গুণ আমাদের কাছ থেকে শাবাসি আশা করেন কিনা কে জানে! কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, আমাদের শ্রদ্ধেয় কবিবর নির্মলেন্দু গুণকে 'হালকা চাবুকপেটা' করা আবশ্যক। আমাদের দেশের একজন প্রথম সারির বুদ্ধিজীবী সমকামী নাকি ছাগলকামী সে ভিন্ন তর্কের জায়গা কিন্তু তিনি কী অবলীলায় বলছেন, 'আগে শিকার ছিলাম এখন শিকারী হয়েছি'।
ভাগ্যিস, আগের আমলের বাঘ শিকারের মত মরা বাঘের উপর পা তুলে এবং বন্দুকসহ যেভাবে শিকারিরা ছবি তুলতেন তেমনি আমাদের 'কবি শিকারী' গুণ দাদা কোন-এক বালকের উপর পা তুলে ইয়ে উঁচিয়ে ছবি উঠাচ্ছেন এই দৃশ্য দেখে অজ্ঞান হয়ে যাব!
আমি যে বললাম, গুণ 'হালকা চাবুকপেটা' করাটা কেন জরুরি? গুণ গে না হে এটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত কিন্তু সে কিন্তু এর মতো পটাবার চেষ্টায় নাই:
সে, গুণ কিন্তু শিকার করে, শিকারি!

কানাডার ন্যাশনাল একাডেমি অভ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত  প্রবন্ধে প্রফেসর এন্থনি এফ বোগার্ট বলেন, 'সমকামীতার কারণ যতটা না সামাজিক তারচে অনেক বেশি জৈবিক'
বোগার্টের মতে, গর্ভাবস্থায় একধরনের 'মাতৃক স্মৃতি' সমকামি বৈশিষ্ট্য নির্ধারনের জন্য দায়িকোনও কোনও মায়ের শরীর হয়তো তার গর্ভে সন্তানের ভ্রুণকে বিজাতীয় হিসাবে দেখে থাকেফলে তার শরীরে অ্যান্টিবডি নিঃসরণ বা কোনও ধরনের প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকেআর এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সন্তানের ভ্রুণের মধ্যে
মায়ের অ্যান্টিবডি ছেলে ভ্রুণের অপরিণত মস্তিষ্কে যে প্রভাব ফেলে পরে সেটাই হয়তো তাকে সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলেতবে নারি সমকামিদের ক্ষেত্রে বিষয়টা কিভাবে ঘটে এ বিষয়ে কিছু বলেননি বোগার্ট!

বোগার্টের সমকামিতার ব্যাখ্যা বুঝতে খানিকটা সমস্যা হয়। গীনসবার্গও স্বঘোষিত সমকামি ছিলেনবোগার্টের তত্ত্ব এখানে খানিকটা মিলে গেলেও, গীনস এবং কবি গুণের মধ্যে বেশ অনেকখানি পার্থক্য আছে
গুণের কথামতে তিনি প্রথম যৌবনে সমকামি ছিলেন, পরের যৌবনে সমকামি ছিলেন না। প্রথমে শিকার হয়েছেন, পরে শিকারী হয়েছেন। এতে সন্দেহ নাই ব্যাপারটা তিনি উপভোগ করেছেন।
অনেকটা সেই ঘটনার মত: এক ধর্ষিতা সেনাপ্রধানের নিকট এসে বলছে:
'আপনার ২৩ জন সৈনিক আমাকে ধর্ষণ করেছে। আমি এর বিচার চাই'।
সেনাপ্রধান বললেন, '২৩ জন, ঠিক বলছো'!
'অবশ্যই, ২৩ জন'!
এবার সেনাপ্রধান বললেন, 'সংখ্যাটা তুমি যখন মনে রাখতে পেরেছ তখন এতে আমার কোন সন্দেহ নাই পর্বটা তুমি উপভোগ করেছ'। 
কবি গুণ পরে বিয়ে-শাদীও করেছিলেন, 'মৃত্তিকা' নামের তাঁর চমৎকার একটা মেয়েও আছে যে ছোট্ট (৪ বছর বয়সে) মেয়েটির কান্না থামাবার জন্য তিনি পানিতে ঝাঁপ দেয়ার ভঙ্গি করেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এই মেয়েটি তখন পানিতে পড়ে গেলে, গুণ সত্যি সত্যি চোখ বুজে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। মেয়ের জন্য তাঁর এই যে অন্য ভুবনের তীব্র মায়া-মমতা, গুণ আজীবন গে থেকে গেলে কী এর ছোঁয়া পেতেন, কে জানে! 

এক লিঙ্গের অন্য লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষণে মানব-শেকড় ক্রমশ ছড়াতে থাকবে। গুণ থেকে মৃত্তিকা, মৃত্তিকা থেকে অন্য কেউ। শেকড় নামের শেকলের আংটাগুলো একটার সঙ্গে অন্যটা আটঁসাঁট হয়ে থাকবে। এইজন্যই কি প্রকৃতি ব্যত্যয় পছন্দ করে না?
সে চলে তার নিজস্ব গতিতে, তাঁর অনন্ত ভ্রমণে থামাথামির সুযোগ কোথায়? থামতে যে তাঁর বড়ো আলস্য। আসলে তাঁর অনন্ত যাত্রায় থামার কোন সুযোগ নাই- কে জানে, হয়তো ইচ্ছা করেই রাখা হয়নি!

এদিকে প্রকৃতির সন্তান আবার চলে তার নিজস্ব গতিতে। প্রকৃতির সন্তান পরিপাটি করে গোছানো প্রকৃতিকে এলোমেলো করে দেয়- কেউ গাছসব কেটে সাফ করে ফেলে, কেউ জেনেটিক কোডের তথ্যের হাত ধরে অপার্থিব আনন্দের সংগে 'গে' হয়ে যায় অথচ আমাদের অনেকের বিষয়টা নিয়ে ভাবলেই মুখ ভরে বমি চলে আসে...। 

সহায়ক সূত্র:
১. প্রকৃতির পছন্দ-অপছন্দ...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5122.html
২. অনন্ত ভ্রমণ...: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_18.html 

তৃতীয় মাত্রা এবং তৃতীয় নয়ন!

আজ চ্যানেল আইয়ে তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানটা দেখছিলাম, অনুষ্ঠানটা প্রায় শেষ হয়-হয় এমন সময়, আহা অনেক কিছু মিস করে গেছি। 
এই  'তৃতীয় মাত্রা' আমাদের দেশে এক অভাবনীয় কান্ড করে ফেলেছে। সঠিক মনে নেই সম্ভবত ৩০০০ দিন অতিক্রম করেছে! এটা একটা মাইল ফলক!

তবে এর উপস্থাপক জিল্লুর রহমান এখানে মিডিয়া ঈশ্বরের ভূমিকা পালন করেন, তার ইচ্ছাই এখানে প্রধানতিনি কাকে-কাকে এখানে বকবক করার জন্য নিয়ে আসবেন এটা তিনিই ঠিক করেনদর্শকের ইচ্ছা খুব একটা আমলে আনা হয় বলে আমার মনে হয় না

একদিন একজনকে দেখলাম (দুর্বল স্মৃতির অবদান, নাম ভুলে গেছি) কী তার ব্যক্তিত্ব, কী চমৎকারসব কথা  আমি চেপে রাখা তৃপ্তির শ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবছিলাম, এতদিনে তাঁহারে পাইলামসর্বদা আমি হাঁ করে অপেক্ষায় থাকি, এই দেশে একজন আইডল খুঁজে বের করার জন্যযাকে অনুসরণ করে নিজেকে বদলাতে পারব, অন্ধের মত যাকে অনুসরণ করতে পারব 

ওরি আল্লা, সন্ধ্যায় এক খবরে দেখি এই মানুষটাই একটা রাজনৈতিক দলের অফিস থেকে বেরিয়ে আসছেন। ওই রাজনৈতিক দলের শেখানো বুলি তোতা পাখির মত আউড়ে যাচ্ছেন!
আমি বুঝি না একটা মানুষকে কেন কোন একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়াতে হবে! একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাঁর পরিচিতির জন্য পিঠে রাজনৈতিক দলের ট্যাগের প্রয়োজনটা কী? আমার কাছে অনেকটা মনে হয় এমন, দুধের বদলে ঘোল খাওয়ার আকুলতা! তখন মানুষটাকে স্রেফ নির্বোধ মনে হয়।
মোটা দাগে বললে, এসপি থেকে ওসি হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা!

আজ তৃতীয় মাত্রায় অতিথি ছিলেন একজন সচীব জনাব মুসা এবং ৮ নং সেক্টর কমান্ডার লে কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীজিল্লুর রহমান বলছিলেন, লে কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীকে, 'আজ আপনি প্রথমবারের মত এই অনুষ্ঠানে এসেছেন, আপনাকে অভিনন্দন' 

ভাল-ভাল! জিল্লুর রহমানের কি ধারণা, এই দেশে কয়েক লক্ষ সেক্টর কমান্ডার আছেন? তাই হবে! নইলে আবু ওসমান চৌধুরী কয়েক বছর ধরে চলে আসা এমন অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মত আসেন অথচ তানভীর চৌধুরীর মত মানুষদের হপ্তাখানেকের ব্যবধানে এখানে অনল বর্ষন করতে দেখি!
জিল্লুর রহমান আবার এটা বোয়াল মাছের মত মুখ করে অতিশয় গর্বের সঙ্গে বলেন, 'আপুনি আজ পরথম বারের মত...'!

তিনি অঞ্জনার সঙ্গে বসে রগড় করেন, উপদেশ কপচান! তাঁর কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, একসময় টেলিফোন নাকি ফ্রিজ; ঢাকায় মাত্র ২টা ছিল, তার মধ্যে একটা আমাদের তানভীর সাহেবদেরতিনি নাকি বি-রা-ট অভিনেতাও, ছবিটা রিলিজ হয়নি, হলে ফাটিয়ে ফেলবেনতিনি একটু পর-পর রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃতি করায় আমরা বুঝতে পারি তিনি কী বিশাল মাপের সংস্কৃতি জগতের মানুষ! 

আর জনাব মুসাকে নিয়ে বাক্য ব্যয় করি নাএই মানুষটা সবসময় একগাদা ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেনএকটু পরপর এককটা ছবি আমাদের দিকে রাইফেলের মত তাক করে, কথা জড়িয়ে হাউহাউ করে বলতে থাকেন, একে স্যালুট করুন, একে চুমা দেন, আপনারা যে যেখানে আছেন উঠে দাঁড়ান, উঠবস করেন ইত্যাদি 
আরে নিয়া, চুমা দিতে হলে নিজের পেছনে নিজে চুমা দেন—আমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন কেন!

আমার প্রচন্ড আগ্রহ ছিল আবু ওসমান চৌধুরীর প্রতিঅমিত সাহসী এই মানুষটাকে নিয়ে খুব বিশেষ একটা আমরা জানি বলে আমার মনে হয় নাতিনি কষ্ট চেপে বলছিলেন, আমরা যারা আছি, একসময় থাকব না, প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এই প্রজন্মের জেনে রাখাটা বড় প্রয়োজন! তিনি সাবলিল ভঙ্গিতে বলে যাচ্ছিলেন সেইসব আগুন দিনগুলোর কথা। 
তাঁর সহযোদ্ধা জুনিয়র কমিশন্ড একজন, জনাব মুজিবরের (নামটা ভুল হলে আগাম ক্ষমা প্রার্থনা) অসম বীরত্বের কথা। এই মানুষটা একাই পাক আর্মিকে রুখে দিয়েছিলেন। প্রাণ রক্ষা করেছিলেন ওসমান চৌধুরীসহ অসংখ্য যোদ্ধার। একসময় যখন তাঁর মেশিনগানের গুলি শেষ হয়ে গেল তখন পিস্তল বের করে গুলি ছোঁড়া শুরু করলেন। ওসমান চৌধুরী বারবার বলছিলেন, 'মজিবর তুমি পিছিয়ে আসো'। 
তখন এই অগ্নিপুরুষ বলেছিলেন, 'স্যার মজিবর পিছিয়ে আসতে জানে না'। 
তাঁর পিস্তলের গুলিও যখন শেষ হয়ে গেল তখন তিনি খালি হাতে পাক আর্মির উপর লাফিয়ে পড়লেন। ধস্তাধস্তির সময় একজন পাকআর্মি খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। 
সেক্টর কমান্ডার ওসমান চৌধুরী বলছিলেন:
'এই মানুষটাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়ার জন্য ৩ জন আই উইটনেসসহ সমস্ত উপাত্ত দেয়ার পরও তাকে খেতাবটা দেয়া হয়নি। কেন দেয়া হয়নি এটা আমি এখন আর বলতে চাই না'।

আমরা এখন আঁচ করতে পারি খেতাব দেয়া নিয়েও অনেক কু-রাজনীতি হয়েছে (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই) এইসব এই প্রজন্মের জানাটা অতি জরুরি। একজন মেজরের (ক্ষমা চাচ্ছি, নামটা উদ্ধার করতে পারিনি) এ লেখাটায় পদকের কিছু বিষয় আমরা জানতে পারি।

এখানে এসে আমার বুক ভেঙ্গে আসে, একজন সেক্টর কমান্ডার যদি এইসব অন্ধকার দিক উম্মোচন না-করেন তাহলে এই প্রজন্মের আমরা প্রকৃত ইতিহাস জানব কেমন করে? আসলে আমরা সেই চিরাচরিত বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খেতেই থাকব, মুক্তিযুদ্ধ মানেই বিশেষ বিশেষ দলের অবদান। 
বিষাদে বলি, আমাদের জন্য সর্বত্র একই শিক্ষা, আগে দলবাজ হও তারপর মানুষ হও।

Tuesday, December 8, 2009

কেন আমি এই পাপের বোঝা টানব?

'ইকুয়েটি এন্ড জাস্টিস গ্রুপ' আয়োজিত এক সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে মাথা-পিছু ঋণের পরিমাণ ১৪৫ ইউ, এস ডলার। টাকার অংকে প্রায় ১০ হাজার। দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ধরলে জাতীয় ঋণ কত দাঁড়ায়? সেলফোনের ক্যালকুলেটরে হিসাবটা করার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিলাম। হাল আসলে আমি ছাড়িনি, ছেড়েছে যন্ত্র: বারবার একই বক্তব্য দিচ্ছে, ওভার ফ্লো!

যাগ গে, জাতীয় ঋণের পরিমাণটা কত এ দিয়ে আমার কাজ কী! এ নিয়ে মাথা ঘামাবার জন্য আমাদের দেশের বড়-বড় মানুষ আছেন। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের এই বিপুল আঁক কষে লাভ নাই। আমি মাথা-পিছু ঋণ সেই ১০ হাজারেই থাকি, এটাই মঙ্গল।  

আমার স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঋণ-আবর্জনা কেন আমি ঘোর অনিচ্ছায় আমৃত্যু বয়ে বেড়াব? আমার কী দায় পড়েছে? আমি তীব্র অনীহা প্রকাশ করি। এ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজি, এই ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিতে চাই। উঁহু, এমনি এমনি না। ১০ হাজার টাকা তো আর গাছে ধরে না। সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার পর আমাকে লিখিত আকারে কাগজ দিতে হবে, "যে বা যাহার জন্য প্রযোজ্য, এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাইতেছে যে, অমুক জাতীয় ঋণমুক্ত"...ইত্যাদি। লজ্জার মাথা খেয়ে এও বলি, এখন পর্যন্ত কেউ এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে শুনিনি বিধায় জাতীয় ঋণ মুক্তর সঙ্গে প্রথম লাগালে...। আচ্ছা থাক, না-লাগালে নাই। 

আমি নিশ্চিত, কেউ কেউ আছেন যারা আমার বর্তমান 'খাস্তাহাল' অবস্থা সম্বন্ধে সম্যক ওয়াকিবহাল। এদের কারও কারও অট্টহাস্যে মনিটর মায় টেবিলসহ কেঁপে উঠছে। মিয়া ছলিমুল্লা, তোমার নিজের পরনে নাই 'চাড্ডি' আর তুমি কিনা দিবা মাথা-পিছু ঋণ।  হা হা হা, হি হি হি, হো হো হো...। এদের কথা সত্য। 

বাহে, ইচ্ছা থাকলে উপায় একটা না একটা বেরুবেই। কেন রে বাপু, 'রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দোব' আমাদের দেশের পাল্টিশিয়ান(!) মহোদয়গণ কি রক্ত দিতেই থাকবেন? এ কেমন বিচার! আমার দেহ কী দেহ না, আমার মত সামান্য মানুষের শরীরে কী কোন রক্ত নাই?

আহা, কাজটা সিম্পল- কোন এক ব্লাডব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলব, ভাইজান ১০ হাজার টাকা দেন। এবি পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন হলে স্রেফ আমাকে খবর দেবেন, চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিব। সমুদয় টাকা পরিশোধ না-হওয়া পর্যন্ত আপনাদের রক্ত দিয়ে যাব। 
হয় না এমন? বেশ হয়।    

Monday, December 7, 2009

পাখি উড়ে যায়, ফেলে যায় পালক


ভারমুক্ত লাগছে। আমাকে খুনি বানাবার অপচেষ্টা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। থ্যাংকস বাডি। মৌমাছি ভাইজানরা গাট্টি-বোঁচকা নিয়ে পগার পার হয়েছেন। ফেলে যাওয়া বাসাটা আমাকে দান করে গেছেন।

আচ্ছা, এরা বুঝল কেমন করে, আমার মত অকর্মণ্য, বাতিল একজন মানুষকে দিয়ে অহেতুক খুনাখুনি করানো সমীচীন হবে না। ওয়াল্লা, আমি কি তাহলে এতদিন এদের ওয়াচে ছিলাম- আমার অজান্তেই আমাকে চোখে চোখে রাখা হয়েছে? এদের গোয়েন্দা বিভাগ কী আমাদের দেশের গোয়েন্দাদের চেয়েও চৌকশ! তাই হবে। 

এখন আবার চড়ুই পাখির উপদ্রব! এদের কাজের সূক্ষতার জবাব নাই। এরা দীর্ঘদিন ধরে আছে আমার অজান্তেই, যথারীতি বিনা ভাড়ায়। কসম, টেরটিও পাইনি। এতো সাবধানি এরা! 

একটা বাবুই পাখির বাসার খুব শখ ছিল। যাকেই বলি একটা যোগাড় করে দিতে তিনি অমায়িক ভঙ্গিতে বলেন, আছে তো।
আমি চকচকে চোখে বলি, দেন না একটা যোগাড় করে। তারা আমাকে নিয়ে তালগাছের নীচে দাঁড় করিয়ে দেন। দেখো দিকি কান্ড, আমি কী তালগাছে তরতর করে চড়তে পারি। এদের এককথা, এরা নাকি তালগাছে বাসা না বাঁধলে আরাম পায় না। আমি ঠান্ডা-ঠান্ডা শ্বাস ছাড়ি। কেন রে বাপ, নীচু কোন গাছে বাসা করলে কেউ কী দা নিয়ে তাড়া করবে!
পোড়া মরিচ গিয়ে পড়ে খিচুরিতে। একদিন দেখি আমার নারকেলগাছে বাবুই পাখির অনেকগুলো বাসা। কি কারণে জানি না, একেক করে বাসাগুলো মাটিতে পড়া শুরু হলো। আমি এগুলো কুড়িয়ে আনি। বেশ কটা জমে গেল। একটা বাতির চারপাশে ঝুলিয়ে দিলাম।

চড়ুই পাখি এই বাতিটার ভেতর বাসা গেড়েছে, বোঝার কোন জো নাই। আমি যখন আয়েশ করে সিগারেট ধরাই, প্রায়শ কাঁচের ঠুনঠুন শব্দ হয়। আমি ভাবি, কাঁচ বাতাসে নড়ে বুঝি। এভাবে দিনের পর দিন পার হয়েছে।

কিন্তু তোমরা আমার সঙ্গে চালবাজি করে পার পাবে না, বদমাশ। তোমরা কি আমার মত ইশকুলে নেকাপড়া করেছ, সায়েন্সের কিলাশ করেছো? প্রতিবিম্ব বুঝো? ওই গাধারা, পেছনের দেয়ালে তোদের অস্পষ্ট ছায়া দেখা যায় রে। হু-হু, বাওয়া চড়ুই, আজ হাতেনাতে রহস্য উদঘাটিত।    

*ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

Sunday, December 6, 2009

গ্রামীন ফোন: চোর বানাবার কারখানা!

আমরা হঠাৎ হঠাৎ জেগে উঠে বলি, এতো চোর-চোট্টা কেন চারপাশে! কিন্তু এই চোর বানাবার গাছ আমরাই লাগাই, সযতনে পানি দেই। আর্শিবাদ করি, ফুলো, ফালো...।

হানিফ সংকেতের মত সেলিব্রেটি মানুষরা যখন চৌর্যবৃত্তিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান তখন আমরা ভীষন আমোদিত হই, আমোদে গা দোলাই, মাথা দোলাই। হানিফ সংকেতের মত মানুষরা আমাদের অজান্তেই শেখান শর্টকাটের রাস্তা। এখান থেকেই ডলি সায়ন্তনি শেখেন, কেমন করে একবেলা ভাত খাইয়ে, ১০০ টাকা ধরিয়ে কাঙ্গালিনি সুফিয়ার কাছ থেকে গান চুরি করতে হয়। মাহমুদুজ্জামান বাবু শেখেন কেমন করে অতুল বাবুর গান নিজের বলে চালিয়ে দিতে হয়।

গ্রামীন ফোনের একটা বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে নিয়ম করে। বাবা তার সন্তানকে (প্রায় ল্যাদা বাচ্চা) ওস্তাদের কাছে নিয়ে আসেন গান শেখাবার জন্য। কাতর হয়ে বলেন, 'আপনার কার্বন কপি বানিয়ে দিন'।
ওস্তাদ বলেন, 'রেখে যা'।
বাবা রেখে যান।

সেই শিশুটির বেসুরো গলা দিয়ে সুর বের হয় না। শিশুটির বয়োবৃদ্ধি হয়। কিন্তু হায়, সুর আর বের হয় না। ওস্তাদ ক্রমশ বুড়া হতে থাকেন। শিষ্যকে শেখাবার ধকল সামলাতে না-পেরে অবশেষে পরকালে যাত্রা করেন। শিশুটির, আজকের ইয়া ধামড়া যুবকের গলা সেই বেসুরোই থেকে যায়। মেজাজ খারাপ করে ওস্তাদ নিরুপায় হয়ে ছবি থেকে বের হয়ে শিষ্যকে চাঁটি মারেন।

চমৎকার একটা বিজ্ঞাপন। অসাধারণ নির্মাণ, আঁজলা ভরে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সাধুবাদ জানানো শেষ হলেই এদের হালকা চাবকানো প্রয়োজন। হালকা বললাম এ কারণে নির্মাণে মুন্সিয়ানার ছাপের মুগ্ধতা আছে বলে। এরপর হচ্ছে সেই কুৎসিত, ক্ষমার অযোগ্য দৃশ্য! সেই গাতক নামের ঘাতক(!) মোবাইল চেপে বলে, 'গান কপি করা এতো সোজা, প্যাপ...প্যাপ'।

ফোন কোম্পানি বোঝাতে চাচ্ছে, কারও ওয়েলকাম টিউন পছন্দ হলে প্যাপ প্যাপ করে বোতাম চাপলেই তার গানটা কপি হয়ে যাবে। বেশ-বেশ! কিন্তু ওস্তাদজীর কাছে গান শেখার সঙ্গে এটা জুড়ে দিয়ে কি বোঝানো হলো? ওস্তাদজী পরলোক থেকে হ্যাবলার মতো মাথা দুলিয়ে আবার বলেনও, 'এখন গান কপি করা এতো সোজা'!
মানে কী! গোটা বিজ্ঞাপন জুড়ে কি বোঝানো হলো? কষ্ট করে কিছু শেখার প্রয়োজন নাই, কপি-নকল করে নিলেই হয়? শর্টকাট রাস্তা, যেটা আমরা বাস্তব জীবনে দেখছি। মোদ্দা কথা, অন্যের কষ্টার্জিত সম্পদ ছিনিয়ে নাও।

*ভাল কথা, এই যে প্যাপ প্যাপ করে গান কপি করা হলো এটা কি ফ্রি? নাকি এর জন্য টাকা গুনতে হবে? টাকা গুনতে হলে, এইবার 'হালকা চাবকানো' এখান থেকে হালকা শব্দটা বাদ দিতে হবে কারণ বিজ্ঞাপনে কোথাও এটা হয়নি এই 'প্যাককান্ডটা' গান কপি করলে গ্রাহককে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে।

Saturday, December 5, 2009

চন্দ্রগ্রস্ত একজন মানুষ!


করপোরেট জগতের মানুষদের কাছ থেকে আমি নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি। এরা একেকটা চলমান রোবট! ট্রাক এবং রোবটদের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকাই মনুষ্যেচিত আচরণ।

এই দেশ দু-ভাগ হয়ে আছে; এমবিএ ডিগ্রি একদিকে অন্যদিকে তাবৎ ডিগ্রি। কেউ ফিলোসফিতে মাস্টার্স করেছে, নাকি সাইকোলজিতে, তাতে কী আসে যায়! এদের অনেককে খুব কাছ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। আমি শ্বাস আটকে ভাবতাম, এরা কী এই দেশের কেউ, নাকি এলিয়েন? কোন মতে একটা এমবিএ ডিগ্রি বাগাতে পারলে আর কিছু লাগে না, না? ব্যস, তখন মানুষটা হয়ে যায় 'হর্স-মাউথ'। চিঁ হিঁ হিঁ । সে বলবে সবাই শুনবে। তখন গুবগুবাগুব বাদ্যর প্রয়োজন নাই, মুখই যথেষ্ঠ!

কিন্তু এই মানুষটা আমার ধারণা পাল্টে দেন। আমার গোপন লুকানো দিকটা যেদিন হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলেন, কী যে অবাক হয়েছিলাম! করপোরেট জগতের এই মানুষটা ওদিন ফোনে অনেকখানি বিভ্রান্ত করে দিলেন। তাঁর তীব্র ইচ্ছা, ফুল-মুনে মাধবকুন্ড যাওয়ার। বেশ! ফুল-মুনে পাহাড়ের চুড়ায় বসে থাকার আকাঙ্খা এই প্রথম না। হুমায়ূন আহমেদের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা শুনে শুনে ক্লান্তি এসে যায়। কিন্তু এরপর যেটা বললেন, তার ইচ্ছা, ত্রিশূল গেড়ে যে সাধুটা ওখানে বসে থাকত...ইত্যাদি ইত্যাদি। ইত্যাদি।
ত্রিশূল, সাধু! সাধুর চোখ দিয়ে অতি নাগরিক একজন মানুষ জ্যোৎস্না দেখতে চাচ্ছে! হা ঈশ্বর, তাও করপোরেট জগতের একজন মানুষ! 


ত্রিশূলের পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আমার মাথায় আসে, সাধুরা ধ্যান করার সময় আধ হাত লম্বা একটা কাঠের জিনিস ব্যবহার করতেন। এটা সচরাচর বাঁ হাতের নীচে থাকত। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের যাদের পেয়েছি জনে জনে জিজ্ঞেস করেছি এই জিনিসটা নাম কী? আফসোস, কেউ এখনও বলতে পারেননি- এদের মধ্যে কিছু পন্ডিত শ্রেণীর মানুষও আছেন। কেউ কেউ আশা দিয়েছেন, জানতে পারলে আমাকে জানাবেন। আজ (৭.১২.০৯) এটার একটা নমুনা যোগাড় করলাম। 
যাই হোক, আজ খানিকটা বুঝতে পারি, মানুষটা কেমন করে অন্য একজন মানুষের গোপন দিক অবলীলায়-চট করে বুঝে ফেলেন। যেমন করে তাঁর মত অতি নাগরিক একজন মানুষ, ফ্ল্যাট নামের কংক্রিটের বস্তিতে থেকেও আকাশ নামের একটুকরো জানালা গলে উপচে পড়া একফালি জোৎস্না দু-হাতে সরাতে সরাতে এগুতে থাকেন! সুতীব্র অনিচ্ছায় যান্ত্রিক আলোর সুইচ হাতড়ে বেড়ান!
আজ আমার মনে হচ্ছে, আমার মত মোটাদৃষ্টির মানুষদের লেখালেখি করার চেষ্টা করাটা সমীচীন না। লিখবে তো এইসব মানুষেরা! এঁদের দিব্যদৃষ্টি দিয়ে ফালি ফালি করে কাটবে, জোড়া লাগাবে। এই মানুষটার জন্য আমার বড়ো দুঃখ হয়, ভুল জায়গায় ভুল একটা মানুষ!

*ফুল-মুনে, সেল ফোনের ৩.২ মেগাপিক্সেল লেন্স দিয়ে চন্দ্রের ছবি তোলার চেষ্টা করাটা চন্দ্রের সঙ্গে এক ধরনের 'চন্দ্র-বেয়াদবি'।  আশা করছি, চন্দ্রমহাশয় আমার 'খাস্তাহাল' অবস্থা বিবেচনায় রাখবেন।
**তদুপরি ছবি-স্বত্ব: সংরক্ষিত

Friday, December 4, 2009

গাধা বনাম ছাগল!

এইবার ভোলায় লঞ্চ ডুবিতে এখন পর্যন্ত সংখ্যাটা হচ্ছে ৮৭। ৮৭-এর পর ৮৮, ৮৯, ৯০। আহা, সংখ্যা মানে লাশ এটা বুঝি আবার লিখতে হবে? উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে কী, ক্রমশ সংখ্যা বাড়তে তো কোন সমস্যা নাই। উদ্ধার তৎপরতা বন্ধের পরও লাশ উদ্ধার হচ্ছে।  লঞ্চডুবিতে ছাগল দেয়ার নিয়ম চালু ছিল, এই নিয়ম কি এখনও চালু আছে?

উদ্ধার তৎপরতা মানে হচ্ছে রুস্তম, হামজা নামের দুই উদ্ধারকারি জাহাজ নামের বুড়া গাধার গাধামি- একটা টানে, অন্যটা ঠেলে! রুস্তম, হামজা এই বুড়া-হাবড়ার দোষ দিয়ে লাভ কী, বেচারা! এদের জন্য মায়াই হয়। এদের উত্তোলন ক্ষমতা ১২০ মে. টন কিন্তু এখনকার বেশিরভাগ লঞ্চগুলোই হচ্ছে ৫০০ মে. টনের। কোকো-৪ লঞ্চের ওজনও তাই। ফল  যা হবার তাই হয়! অবশ্য এটা ঠিক, আই ওয়াশের বিষযটা এরা চমৎকাররুপে সার্ভ করেন! ফাঁকতালে এই দুই গাধা মিলে গাধামি করবে আর ছাগল দেয়ার সংখ্যা বাড়বে! 

অনেককে দেখছি, এই নিয়ে বড়ো অস্থির হচ্ছেন। লঞ্চ ডুববে, উদ্ধারকাজ বন্ধ হবে এ তো বিচিত্র কিছু না। লঞ্চগুলোর ফিটনেস দেখে ভূত। অধিকাংশ লঞ্চের তলদেশ হালকা, জোর হাওয়ায় লঞ্চ উল্টে যায়। ধরেবেঁধে কিছু লঞ্চের তলদেশে পাথর, সিমেন্ট দিয়ে (সলিড ব্যালাস্ট) ভারী করা হয়েছিল। কিন্তু নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়।

বড়ো অভাগা এই দেশ। সংখ্যা-লাশ ভেসে যায়। একজন মা-বাবা তাঁর সন্তানের লাশটাও দেখতে পাবেন না। শেষ দেখা দেখে গড়াগড়ি করে কাঁদতেও পারবেন না। শেষ গোসল করাবার জন্য বড়িপাতার খোঁজ করবে না কেউ। শেষবার কবরে নামাবার সময় বাবা বলতেও পারবেন না, আহারে, একটু আস্তে নামাও, বাজান দুকখু পায় না বুঝি। সংখ্যা-লাশ নামের মানুষটার শেষশয্যা বলে কপালে কিছুই জুটবে না।

আচ্ছা, লাশ ভেসে যায় কেমন করে? নৌবাহিনীর স্পীড-বোট, দ্রুতগামি যানগুলোর তলা কি ফুটো হয়ে গেছে? বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলোর পাখা কি ঝুলে গেছে? 
মোদ্দা কথা হলো, এই সংখ্যাগুলোর মধ্যে বিশেষ কোন সংখ্যা নাই- বিশেষ কোন সংখ্যা মানে কোন এক ভি,ভি,আই,পি। থাকলে বঙ্গাল দেখত উদ্ধার তৎপরতা কাহাকে বলে, কত প্রকার এ কি কি? এই ভি,ভি,আই,পির একটা বিচিও হাঙ্গর খেয়ে ফেললে হাঙ্গরের পেট থেকে সেটা পুনরুদ্ধার করে পুনরায় সেটা স্বস্থানে সেলাই করে দেয়া হতো। এতে আপনাদের সন্দেহ থাকতে পারে, অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই।  

বড়ো বিচিত্র এই দেশ! এই দেশে বড়ো বড়ো মানুষরা ফ্রিগেড কেনার কথা ভাবেন কিন্তু রুস্তম, হামজা নামের গাধাদের অবসর দেয়ার কথা ভাবেন না। আমাদের দেশে সবচে উঁচু ভবন কয় তলা? অথচ আগুন নেভাবার জন্য ব্রন্টো স্কাই লিফটের ১৪ তলার পর যাওয়ার সাধ্য নাই! আমরা আরেকটা আগুন লাগার অপেক্ষায় থাকব, গোল হয়ে তামাশা দেখব। মিডিয়া কাঁপা কাঁপা গলায় লাইভ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে গ্রেট শো দেখাবে। আমরা যারা সরাসরি ওখানে থাকতে পারব না তারা টিভির সামনে পেট ভাসিয়ে তারিয়ে তারিয়ে অনুষ্ঠানটা উপভোগ করব! আলুর গুদাম যখন পুড়বেই তখন লবন দিয়ে পোড়া আলু খাওয়ার অপেক্ষা করা ব্যতীত আমাদের আর কাজ কী! <  

*প্রথম আলোর এই ছবিটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না সরকার নামের দেশপিতার অবহেলা, তাচ্ছিল্য, উদাসিনতা...।  
(ছবিটা দেখে প্রথম আলোর জন্যও করুণা হয় এরা কখনই বদলাবে না! এমন অসাধারণ একটা ছবিটা যিনি উঠিয়েছেন, তাঁর নাম ছাপা হয়নি!)

Thursday, December 3, 2009

নিয়তি!


বছর গড়ালো। এখন কেউ যখন দুম করে জিজ্ঞেস করে বসেন, আপনি কি করেন? আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কি করি-কি করি, আচ্ছা আমি কি করি? 
কি বলব?

অতীতের কথা বলে, চর্বিতচর্বণ করে এখন আর লাভ কী! অন্য একটা পোস্টে লিখেছিলাম, যে বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে কাজ-কারবার করতাম তাদের সঙ্গে বিরাট ভেজাল হলো। যুদ্ধ ঘোষণা হয়ে গেল। একটা অসম যুদ্ধ! এদের কাছে লেজার গান, ব্লাস্টার, বেসুমার টাকা আর আমার কাছে গুলতি। তবুও আমি পিছ-পা হলাম না। নীতির প্রশ্ন, একজন মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন। মর্যাদাহীন একজন মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজন কী! নিজের লাশ নিজেই কাঁধে বয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না। এই যুদ্ধ এখনও চলছে, প্রায় অর্থহীন এক যুদ্ধ!
স্বপ্ন বিক্রির ব্যবসায়ী হতে চেয়েছিলাম; শ্লা, হয়েছিলাম তামাকের ব্যবসায়ী!

তো, কি করি? আমি যে কিছুই করি না, ভারী অকাজের একজন মানুষ! আমি যে দু-কলম লেখা ব্যতীত আর কিছুই পারি না। না-পারলে কী করব, নিজেকে ধরে চাবকাব? আফসোস, লেখালেখি করি এটা বলারও যো নাই, এটা কোন কাজের পর্যায়ে পড়ে না! দূর-দূর, এই দেশে একজন মেথর গু সাফ করে, মেথরগিরি করে দিন গুজরান করতে পারবে; বুক ফুলিয়ে গু সাফ করি এটা বলতে পারবে কিন্তু একজন লেখালেখি করে, এটা বলতে পারবে না। অবশ্য আমার এইসব লেখালেখিকে তেমন গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই। আর এইসব ছাইপাশ লিখে কী লাভ হয়? তাছাড়া এই ছাতার দেশে লেখালেখিকে পেশা হিসাবে নেয়ার সুযোগ কই? আচ্ছা, ভিজিটিং কার্ডে কি পেশার স্থলে 'লেখালেখি' ছাপানো যায়? বা পাসপোর্টে? 

"বধু শুয়ে ছিল পাশে-শিশুটিও ছিলো;"। অ, জীবনানন্দ দাদা, 'বিপন্ন একটা বিস্ময়' কেন আপনার রক্তের ভিতরে খেলা করে; এটা আজ খানিকটা বুঝি। কেমন করে খেলা করে, কেন করে!
কেউ কেউ অহেতুক অবাক হন, কিছু না-করে এই ইয়া ধামড়া মানুষটা বছর ধরে হাত গুটিয়ে বসে থাকে কেন? কালে কালে একজন ব্যর্থ মানুষ হয়- কখনও নিজেই নিজেকে সহ্য করতে পারি না! কাকে বলি, মানুষটা চেষ্টা করছে না এমন না- দুর্বল মানুষরাই কেবল নিয়তির উপর সব দোষ চাপিয়ে পালাবার রাস্তা খোজেঁ। কিন্তু নিয়তি মনে হয় সত্যি সত্যিই আমাকে ওয়াচে-বিশেষ নেকনজরে রেখেছে! আমি নিশ্চিত, ঘোড়া ডিম পাড়ে না, এটা আমি বলামাত্র ঘোড়া ডিম পাড়বে, কেবল আমাকে অপদস্ত করার জন্য! আই বেট!

তবে শেখা হয়েছে ঢের। দূরের মানুষরা অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দেন কিন্তু হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকা আমার কাছ থেকে কী অবলীলায় কাছের মানুষগুলো দূরে সরে যায়; বদলে যায়, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত! বাপু রে, এতো দ্রুত সরে যাওয়ার আদৌ প্রয়োজন ছিল না। আমার প্রতি কারও কারও অতি দ্রুত বদলানো দেখে আমি হাসি, গা দুলিয়ে হাসি। আমার কেবলি মনে হয়, আহারে, নিয়তির খেলা যদি আমরা বুঝতে পারতাম: 
"আয়ারল্যান্ডের নিকোলাস সেহি (১৭২৮-১৭৬৬)। নিকোলাস সেহি নামের এই নিরপরাধ মানুষটা খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। নিকোলাস বারবার ১২ জন জুরিকে বোঝাবার চেষ্টা করছিলেন তিনি নির্দোষ কিন্তু ১২ জন জুরির কেউই তাঁর কথার গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। তারা নিকোলাস সেহিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন।
সেহিকে এই অন্যায় রায় দেয়ার পরপরই ১২ জন জুরির সবারই মৃত্যু হয়।" (রিপলি'স)

Tuesday, December 1, 2009

ভীতিবি এবং একালের ব্রুটাস!


ভোরের কাগজে তখন (৯২-৯৩) প্রতি সপ্তাহে 'একালের রূপকথা' নামে একটা ফিচার লিখতামওই সময় ওই পাতাটি দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরীদলছুটের সঞ্জীব চৌধুরী, লেখক বানাবার মেশিন
তো সঞ্জীব চৌধুরী একদিন অফিসে বললেন: ভোরের কাগজে 'মেলা' নামের নতুন একটা পাতা বেরুচ্ছে, ...হক এর দায়িত্বে আছেনলেখকদের কাছে মেলার জন্য লেখা চাচ্ছেন, আপনি মেলার জন্য একটা লেখা লিখে দেন 
আমি খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না কারণ সঞ্জীবদার সঙ্গে কাজ করার মজাই আলাদা। তারপরও সঞ্জীব চৌধুরী ...হকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। 
...হক বললেন: মেলার জন্য মজার একটা লেখা লিখে দেন। 
আমি বিনীতভাবে বললাম: মজার লেখা আসলে ঠিক কিভাবে লিখতে হয় আমি  জানি না তবুও চেষ্টা করব'

'ভীতিবি' লেখাটি লিখে দিলামবিটিভিকে ব্যঙ্গ করে ভীতিবিযথারীতি 'মেলা' বেরুল। 'ভীতিবি' লেখাটির কোন খবর নাইআমি বিব্রত-লজ্জিত হলামলেখাটি যে রকম মজার হওয়ার উচিত ছিল আমি সম্ভবত সেভাবে লিখতে পারিনি। 
হা ঈশ্বর, এই লেখাটিই একমাস পর মেলায় ছাপ হলো। আমার 'ভীতিবি' লেখাটা ছাপা হবার পর বিষাদে মনটা ছেয়ে গেল।

তখন ঘটনা হয়ে গেছে অন্য রকম! 'মেলা' পাতাটিতে শুরু থেকেই টিভি সমালোচনা নামে একটি ফিচার চালু করা হয়েছিল ওই ফিচারটির নাম এবং লোগো 'ভীতিবি'। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস ভীতিবি লোগোসহ টিভি সমালোচনা বেরুতে লাগল 
কেউ বলেনি কিন্তু নিজেকে তখন চোর চোর মনে হচ্ছিল! কেবল মনে হচ্ছিল, এখান থেকে আইডিয়া নিয়ে আমি আমার ওই লেখাটি লিখেছি!  
সেই প্রথম খুব কাছ থেকে ছুঁরি খাওয়ার অভিজ্ঞতা! 

আমার লেখা 'ভীতিবি' ব্যবহার করার জন্য আমার কাছ থেকে মৌখিক অনুমতিও নেয়া হয়নি, অন্তত জানাবার মত ন্যূনতম ভদ্রতাও করা হয়নি। এই সামান্য সৌজন্যটুকু দেখালে আমার মতো অখ্যাত লেখকের আনন্দের কোন সীমা থাকত নাকিন্তু ...হকদের মতো, যারা পত্রিকা চালান তারা কী একবারও ভাবেন না প্রত্যেকটি থিম একজন লেখকের নিজস্ব সম্পদপৃথিবীতে অসংখ্য থিম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, একজন লেখক ওইসব থিম- শব্দের ইট একের পর এক সাজিয়ে ইমারত বানান, চরিত্র সৃষ্টি করেনকারও অনুমতি ব্যতীত থিম ব্যবহার করার অর্থ থিম ছিনতাই

পৃথিবীতে অসংখ্য সম্পদ ছড়িয়ে আছে কিন্তু কারও অনুমতি ব্যতীত সম্পদ ছিনিয় নেয় কেবল ছিনতাইকারী... হকের মতো একজন জনপ্রিয় লেখক (জনপ্রিয় লেখক হওয়ার অনেক হ্যাপা) যখন থিম ছিনতাই করেন তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেই হয়, হায়, একালের ব্রুটাস!

*আমার মনটা নরোম তাই এই মানুষটাকে ব্রুটাস বললাম। নইলে 'জুডাস' বলতে চেয়েছিলাম, 'একালের জুডাস'। জুডাসের মত বিশ্বাসঘাতক বিরল! যীশুখ্রীস্টের বারোজন শিষ্যের অন্যতম। জুডাসের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে যীশুখ্রীষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করতে হয়।
WhatsApp