Wednesday, March 17, 2010

সেকালের জিউস এবং একালের আমিনী!

এসকিলাস খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে লিখে গেছেন, সেই প্রমিথিউসের কথা। প্রমিথিউস মানুষের কল্যাণের জন্য, স্বর্গের দেবতা হেপাসটাসের স্বর্গীয় আগুন চুরি করে মানুষকে দিয়ে দিয়েছিলেন। যে কারণে জিউসের খড়গ নেমে আসে প্রমিথিউসের উপর!
জিউসের অমোঘ নির্দেশে আগুনের দেবতা হেপাসটাস ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিষণ্নচিত্তে প্রমিথিউসকে শৃঙ্খলিত করতে বাধ্য হন। কিন্তু আগুনের দেবতা হেপাসটাসের এই নিয়ে কাতরতার শেষ ছিল না!
প্রমিথিউস সমস্ত কিছু মানুষকে শিখিয়েছিলেন কিন্তু কেবল শেখেননি জিউসের হাত থেকে কেমন করে নিজেকে রক্ষা করতে হয়! প্রমিথিউস বলছেন,

"যদি এক কথায় বলতে চাও, মানুষের জন্যে আমার
সামগ্রিক অবদান কি, তবে বলতে পার:
মানুষের সমস্ত জ্ঞান ও নৈপুণ্য প্রমিথিউসেরই দান।
...
হ্যাঁ, এই সমস্ত কিছুই আমি উপহার দিয়েছি মানুষকে।
কিন্তু হায়, আজ মনে হচ্ছে: এই যন্ত্রণা থেকে নিজেকে বাঁচাবার
কৌশলটুকুই আমি বোধহয় শিখি নি।"

সেকাল আর নাই। সেকালের জিউস নাই, আগুনের দেবতা সেই হেপাসটাসও আজ নাই, মানুষের জন্য একবুক ভালবাসা নিয়ে প্রমিথিউসও আর নাই। এখন আছেন একালের আগুনমানুষ আমিনী! মুফতি ফজলুল হক আমিনী। তিনি আছেন মানুষের কল্যাণের জন্য!
মানুষের কল্যাণে (!) ফতোয়ার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার কারণে, আমিনী ২০০১ সালে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীকে মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন এবং ২০১০ সালেও এই মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন। এই নিয়ে আমিনীর মধ্যে হেপাসটাসের মত কোন কাতরতা, বিষণ্নতা নাই। আমিনী নির্দয়, দাম্ভিক হয়ে বলেন, "...রাব্বানী (জজ), তোমার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলাম, সেটা এখনো বহাল আছে।" (প্রথম আলো ১৬.০৩.১০)

কসম, আমার লেখালেখির, আমিনী সাহেবের মত এমন আগুনপুরুষ আমি আর দেখি নাই! কোন সভ্য দেশে কোন বিচারপতিকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যায় সেটা আবার বছরের পর বছর ধরে বহাল থাকে। আবারও মিডিয়ায় সদম্ভে এই বহালনামা মনেও করিয়ে দেয়া যায়! বহাল তবিয়তে ঘুরেও বেড়ানো যায়!
পুলিশ এদের কেশও স্পর্শ করতে পারে না!
বড়ো বিচিত্র এ দেশ!