Friday, February 26, 2010

ঘুষ দিতে আমার মোটেও আপত্তি নাই

দুর্নীতির প্রধান একটা স্তম্ভ, ঘুষ। এই দেশে সুযোগ পেলে ঘুষ কে খান না এটা গবেষণার বিষয়! খানিকটা ঘুরিয়ে বললে ঘুষ খান না, বেশ, কত টাকা খান না? অবশ্য একটা অংশ আছে যাদের সুযোগ এবং সাহসের অভাব।
খুব অল্প মানুষই আছেন যারা তাঁদের নীতিতে অটল- মরে যাবেন তবুও ঘুষের টাকা ছুঁয়েও দেখবেন না।

একজন আমলা সাহেব ৩ কোটি টাকা খরচ করে এম, পি পদে দাঁড়ান। এই খরচ কেমন করে যুগিয়েছেন, একজন শিক্ষিত মানুষকে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেছিলেন, ইনি ম্যালা টাকা বেতন পান। এই ম্যালা টাকা কত?
এই দেশে, এই পদমর্যাদার সরকারী চাকুরে কেউ ৫০ হাজার টাকার উপরে বেতন পান বলে আমার জানা নাই।

তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, গড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা করে বেতন পেতেন। পুরো টাকাটাই জমাতেন। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ইনি অতি হিসাব করে চলতেন। ইনার ইস্তিরি সাহেবার মাত্র দুইটা কাপড় ছিল। একটা গায়ে দিতেন অন্যটা শুকাতে। ওনার ছাওয়াল-বাচ্চারা ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে, ফ্রি হাই-স্কুলে, ফ্রি কলেজে, ফ্রি ভার্সিটিতে নেকাপড়া (!) করে তাবড়- তাবড় ডিগ্রি বাগিয়েছেন। তর্কের খাতিরে আরও ধরে নিলাম, ইনি আলু চাষ করতেন, তিন বেলায়ই আলু খেতেন (সাবেক সেনাপ্রধান আলু খাওয়ার আইডিয়াটা সম্ভবত এখান থেকেই বাগিয়েছিলেন)। বেলায় বেলায় আলুর জুস, আলুর সরবত, আলুর নুডুলস, আলু ফ্রাই, হট ডগের বদলে আলুডগ, আলুর সুরুয়া ইত্যাদি।

এইসব করেও ৩ কোটি টাকা জমাতে মাত্র ৫০ বছর লাগবে। মাত্র ৫০ বছর। এবং আমরা এটাও জেনে আনন্দিত হবো, যেহেতু ৫০ বছর ধরে চাকুরীতে থাকতে হবে তাই ওনাকে বালকবেলায় (যখন মানুষ ঢোলা-ঢোলা হাফ-প্যান্ট পরে এবং বসলে ইয়ে দেখা যায়) চাকুরিতে যোগ দিতে হবে এবং তখনই ৫০ হাজার টাকা মহিনা-বেতন পেতে হবে।

ঘুষ না দেয়ার কারণে জীবনে আমাকে অনেক যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফিরিস্তি অনেক লম্বা। সাধারণ একটাই বলি, বাড়তি টাকা-ঘুষ দিতাম না বলে আসনবিহীন টিকেট পেতাম। ট্রেনে উঠার পর সবাই ঘুষ দিয়ে ফাঁকতালে খালি আসন ম্যানেজ করে ফেলত। আর চুতিয়া আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করেছি। অবশ্য বই পড়তে পড়তে সময়টা কেটেই যেত।

স্রোতের বিপরীতে গিয়ে লাভ নাই, এই ক্ষমতাও আমার নাই।
এখন থেকে ঠিক করেছি ঘুষ দেব, দেবো না কেন? আমি দেব। কেবল চাহিদা মাফিক ঘুষের টাকাই দেব না, বোনাসও দেব।
তবে...।
ঠিক করেছি, বিভিন্ন টাকার মাপে কাগজ কেটে নিজস্ব টাকা বানাব। গভর্নরের স্বাক্ষরের জায়গায় আমার স্বাক্ষর থাকবে। কাউকে চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সরকারের ছাপানো আসল টাকার সঙ্গে আমার টাকাও দেব। একদম ফ্রি!
আগাম সতর্কতা: পোস্ট এখানেই শেষ।

(পরের অংশটুকু সূক্ষরূচির পাঠকেদের জন্য না। যাদের রূচি আমার মত ভোঁতা তাদের জন্য)।

আমার টাকাগুলোর মাপের কাগজগুলোর নমুনা এমন। ৫০ টাকার সমান নোটে লেখা থাকবে 'আবর্জনা খা'। ১০০ টাকার নোটে 'গু খা'। ৫০০ টাকার নোটে 'কাচা গু খা'। ১০০০ টাকার নোটে...। 


*ঘুষখোর ব্যাংকের গভর্নর: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_3654.html

2 comments:

রেজওয়ান said...

ভারতের এক এনজিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শূণ্য রুপী নোটের প্রচলন করেছে ঘুষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে।

http://blogs.worldbank.org/publicsphere/paying-zero-public-services

ঘুষ শুধু বাংলাদেশেই নয় অন্যান্য দেশেও আছে।

ইন্দোনেশিয়ার অবস্থা আরও খারাপ। এখানে ঘুষ আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বীকৃত। ওরা ঘুষ বলে না - বলে গিফ্ট - আপনি খুশি হয়ে যা দেবেন - তবে ঘুষদাতার আর্থিক সামর্থ অনুযায়ী গ্রহীতার সন্তুষ্টি নির্ভর করে - এবং তবেই কর্ম সমাধা হয় দ্রুত। না হলে আপনাকে অনেক ভোগাবে ঘুষগ্রহীতাকে যথাযথ সম্মান না জানানোর জন্যে। এবং মজার একটি ব্যাপার ওরা মুখ ফুটে ঘুষ চায়না - ওদের কার্যই ইঙ্গিত দেয়।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার প্রধান কর কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে - বিপুল পরিমান ফ্লাট ও অন্যান্য সম্পত্তির মালিক তিনি হয়েছেন গত কয়েক বছরে। তিনি অকপটে বলেছেন লোকে খুশী হয়ে তাকে দিয়েছে এবং তার মনেও নাই কে কোন ফ্লাটটি দিয়েছে। তদন্ত চলছে যে তিনি কোন সুবিধা দিয়েছেন কিনা এর বিনিময়ে তা বের করার জন্যে। প্রমাণ না পাওয়া গেলে সম্পূর্ণ হালাল হবে তার এইসব সম্পত্তি।

।আলী মাহমেদ। said...

আপনার লিংকটা দেখলাম। ধন্যবাদ লিংকটা দেয়ার জন্য।
বাহ, শূণ্য রুপির আইডিয়াটা চমৎকার তো!

আমিও সিরিয়াস,সত্যি সত্যি আমার পোস্টের আইডিয়ায় অন্তত এমন
৩-৪টা নোট আমার ওয়ালেটে রাখব। ৫০, ১০০, ৫০০, আবর্জনা খা...।
১০০০ টাকার নোটের বক্তব্য খুঁজছি।