Friday, January 29, 2010

ইমদাদুল হক মিলন, একজন ঢোলবাজ!

ইমদাদুল হক মিলন, এই লেখক সাহেবকে নিয়ে একটা লেখা লিখে মন খানিকটা বিষণ্ন হয়েছিল, আহা, বেচারা, বৈদেশে গেছেন। লিকারের প্রভাবে ওখানকার কাহিনী লিখতে গিয়ে মাথা খানিকটা আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে!

আজ
দৈনিক কালের কন্ঠে লিখেছেন চেতনার বইমেলা। এটা পড়ে আমার নিজের মাথাই এলোমেলো হয়ে আছে! তিনি লিখেছেন, "...আমরা জানি, বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক। তিনি ভালো পাঠকও।...বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন...।"

"আমরা জানি"?
এই আমরাটা কে মিলন সাহেব? বলুন আমি জানি।

"বর্তমান সরকার বইপ্রেমী সরকার"?
মানে কি স্যার? বর্তমান সরকার বলতে কি বলতে চাইছেন? নাকি আপনি বলতে চেয়েছিলেন "বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বইপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী"?

"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একজন লেখক"?

হ্যা তিনি লেখক, আপনার সঙ্গে একমত। বেশ কিছু বই লিখেছেন: 'ওরা টোকাই কেন'?, 'আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি', 'সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র', 'দারিদ্র বিমোচন, কিছু ভাবনা', 'বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্চিত মানবতা' ইত্যাদি।

"তিনি ভালো পাঠকও"।
এটা আপনি ভাল বলতে পারবেন। কি কি বই পাঠ করলে ভালো পাঠক হওয়া যায় এই সার্টিফিকেট আপনি দেবেন না তো কে দেবে! বইয়ের তালিকাটা জানাবেন প্লিজ, আমার নিজেরও এমন একটা সনদ প্রয়োজন আপনার কাছ থেকে।

"বাংলা একাডেমীর বইমেলা নিয়ে তিনি ভাবেন।"
তাই বুঝি, স্যার! এইবার বইমেলা পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন না করে কোন একজন বিশিষ্ট লেখক করলে আপনার এই কথায় সত্যতার লেশ আছে বলে ধরে নিতাম। ক্ষমতার গত টার্মের সময় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মত বলে বসবেন না যেন, "তিনি একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে বইমেলা উদ্বোধন করছেন!"
প্লিজ, এই সব ফাঁকা বুলি কপচাবেন না। আপনি একজন লেখক, আমলা না। আপনি সরকারী চাকুরে না যে আপনার মেরুদন্ড থাকবে জেলির ন্যায়।
আমার সাফ কথা, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর দুধ না। বইমেলা উদ্বোধন করবেন লেখালেখি জগতের দুর্ধর্ষ মানুষ, কোন রাজনীতিবিদ না।


যাক, মিলন স্যার 'আমরা বলি' বলে নিজের কিছু ভাবনা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে সরে পড়তে চাইছেন। বেশ! কিন্তু তাঁর লেখায় এই অংশটুকু পড়ে আমি ধন্ধে পড়ে যাই একজন লেখক মানুষ কেন ঢোলবাজের ভূমিকায় নেমে পড়েন?
তিনি লিখেছেন: "...'ভালবাসার সুখ দুঃখ'...বইটি নিয়ে ক্রেজ সৃষ্টি হলো। এমনও দিন গেছে, আমাকে পুলিশ দিয়ে পাহারায় রাখতে হয়েছে। ...হাজার হাজার পাঠক লাইন দিয়ে বইটি কিনত। ...এমনকি ওই বইয়ের জন্য মেলায় মারামারি পর্যন্ত হয়েছে।...।"

আমি তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সবটাই সত্য কিন্তু মিলন সাহেবের এইগুলো না লিখলে কী চলত না? পত্রিকাওয়ালা আছে কি জন্য? এরা কি বসে বসে মাছি মারবে? পাঠক কি মুখে আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুল চোষে?
ক্রেজ কেমন করে সৃষ্টি করতে হয় এমন চালবাজি মিলন সাহেব ব্যতীত আর কে জানবে! মেলায় তাঁর বই আসে 'ভ' দিয়ে, 'ভালবাসি তোমাকে' বা 'ভালবাসি' এই টাইপের। ছোকরা-ছোকরি লুফে নেয়, ভেতরে আবর্জনা তাতে কিছুই যায় আসে না। ছোকরা-ছোকরি তোমাকে আমি পছন্দ করি এটা মুখে না বলে বইটা গিফট করার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করে। মিলন স্যার কী বুদ্ধিই না শিখিয়েছেন।
তাঁর কয়েকটা বইয়ের নাম দেই: ১. ভালবাসা, ২. ভালবেসেছিলাম, ৩. ভালবাসা নাও, ৪. ভালবাসার ছায়া পড়ে. ৫ ভালবাসার হাত ধরেছি, ৬. ভালবাসার নির্বাচিত গল্প, ৭ ভালবাসা সমগ্র। কয়টা নাম বলব? ভালবাসা-বাসির রগরগে বর্ণনার কথা আর উল্লেখ করি না। দশ বছর বয়সী বালক-বালিকাকে নিয়ে তিনি যে রসময় গল্প ফাঁদেন এটাকে কেন পর্ণো বলা হবে না এই কুতর্কে যাই না।

এসব বাদ দিলেও লেখার ফেরিওয়ালা একজন মানুষকে ঢোলবাজের ভূমিকায় দেখতে ভালো লাগে না। স্যার, ঢোলটা আপনারই কিন্তু প্লিজ স্যার, ফাটিয়ে ফেলবেন না...।