Friday, January 22, 2010

টান

সিমপ্যাথিতে আমার বিশ্বাস আছে কিন্তু টেলিপ্যাথিতে নাই। তারপরও কেমন কেমন করে যেন কিসব হয়ে যায়। এর জন্য টেলিপ্যাথি দায়ি, না প্লাসিবো নাকি কাকতালীয় আমি জানি না।
টাকা-পয়সা ব্যতীত যা চাই কেমন কেমন করে যেন হয়ে যায়। আপনাদের অট্টহাস্যে আমার মনিটরের পর্দা কাপিয়ে লাভ নাই, পুরনো মনিটর, আমি চাই না আপনাদের হাস্যরসের কারণে বিগড়ে যাক; দুম করে বিদায় নিক।

চর্বিতচর্বণ করি না। আগেও লিখেছিলাম, সাপ খোলস দান করে, ভিমরুল, মৌমাছি, বাবুই পখি বাসা দান করে দিয়ে যায়। এতিম বাচ্চাদের হারিয়ে আবার পেয়েও যাই। মায় কোরবানির গরু পর্যন্ত কাঁদতে বাকি রাখে না
আমার বাবা মারা যাওয়ার দিন একটা অজানা অস্থিরতা, অচেনা ভয় অনুভব করছিলাম অথচ সেদিন তাঁর শরীর অন্য দিনের তুলনায় অনেক ভালো! এর ব্যাখ্যা আজও আমার কাছে নাই। ব্যাখ্যা হয়তো আছে, আমি জানি না।
কেবল ঝামেলাটা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত, এখানে প্লাসিবোটা হয়ে যায় নসিবো, কাকতালীয় হয় ফাঁকতালীয়! সম্ভবত আকাশীয়-অর্থমন্ত্রী আমার উপর রুষ্ট। কেন কে জানে! আকাশে তো আর ধান চাষ হয় না, আমি তাঁর পাকা ধানে মই দিয়েছি এটা জোর দিয়ে তিনি বললেও পাবলিক অন্তত বিশ্বাস করবে না।

যাক গে, টেলিপ্যাথির প্রসঙ্গটা যে কারণে বলছিলাম। আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ আছেন। চন্দ্রগ্রস্থ এই মানুষটা বিভিন্ন রকমে আমাকে চমকে দিয়েছিলেন। আমি হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম যেদিন দূরের এই মানুষটা আমার খুব গোপন একটা বেদনার দিক আলতো করে ছুঁয়ে দিয়েছিলেন। আমি ভেবে ভেবে হয়রান, কেমন করে এটা সম্ভব অথচ কত কাছের মানুষরা টেরটিও পেলেন না! একজন মানুষ তো আর যাদুকর না ইচ্ছা করলেই একটা মানুষের বেদনা চট করে বুঝে ফেলল।
এমনিতেও আমার ফাঁকা মাথায়
অহেতুক-অনাবশ্যক ভাবনা চাপিয়ে দেন, মঙ্গলের পানি দিয়া আমরা কি করিব? এই টাইপের।

কাল কেন যেন হঠাৎ মনে হলো মানুষটার কি অসুখ? কেন মনে হলো আমি জানি না, মনে হলো ব্যস; জনে জনে ব্যাখ্যা দেই কেমন করে! কেবল মনে হচ্ছিল, মানুষটার হ্যালো না-বলে চলে যাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। এটা কোন কাজের কাজ না
, বাডি
আজ ফোন করে জানলাম ঠিকই মানুষটা বড়ো অসুখ।

সমস্যাটা কোথায়? টেলিপ্যাথি-হোমিওপ্যাথি,
দূর-দূর! নাকি আমার প্রতি মানুষটার টান...? টান নামের জিনিসটা তাঁর অজান্তেই খানিকটা আমার মধ্যে ফেরত দিয়ে দিয়েছেন? কি জানি বাবা, পৃথিবীটা বড়ো রহস্যময়। হবে হয়তো বা, দেশটাই ভালো করে ঘুরে দেখিনি গোটা পৃথিবীর খবর নিয়ে বুঝি বসে আছি...।

খানিকটা অক্সিজেন


কাল মনটা খুব খারাপ ছিল। কেমন দমবন্ধ ভাব- মনে হয় কোথাও একটুখানি বাতাস নেই! এটা আমার জন্য ভয়াবহ একটা বিষয়, নিজেকে সামলানো তখন বড়ো মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়- চলন্ত গাড়ি হাতছানি দেয়, ঘুরপাক খাওয়া ফ্যান টানে! কিছুতে নিজেকে তখন আটকে না-ফেললে বিপদ, ভয়াবহ বিপদ।

গুগলে হাবিজাবি লিখে সার্চ দিচ্ছিলাম। একবার দিলাম, আজ আমার মন খারাপ। হুশ গুগল, হুশ, প্রথমেই আমার লেখা এনে হাজির করেছে! নিজের লেখা পড়ব কি, ছাতাফাতা! হাবিজাবি সার্চ দিতে গিয়ে পেলাম গর্বিত সন্তানদের এক পিতা। পড়তে গিয়ে দেখি অরি আল্লা...।
"...কথা হল দশ সন্তানের এক গর্বিত পিতার সাথে। সন্তানদের বোঝা টেনে কিছুটা শ্রান্ত পিতা নন তিনি বরং তাদের হাতের মুঠিতে পুরে দাপটে ছুটে বেড়ানো তাগড়া জোয়ান। হাতের মুঠোয় থাকলেও তারা কিন্তু ভালবাসার চাদরে আপাদমস্তক জড়ানো।"
পড়তে পড়তে কখন মন ভাল হয়ে গিয়েছিল নিজেও জানি না। হা হা হা, মজা তো, সন্তানদের বোঝা টেনে কিছুটা শ্রান্ত এক পিতা। হা হা হা।

ভুলে যাওয়ার জন্য আমার কুখ্যাতির শেষ নাই- এই বিষয়ে আজকাল অনেকে আমার প্রতি করুণার হাসি হাসতেও করুণা বোধ করেন। ইমতিয়াজ আহমদ ইমন। নামটা মনে করার চেষ্টা করি, কখন এই মানুষটার সঙ্গে আমার দেখা, কথা হয়েছিল, কখন? ওয়াল্লা, মনে পড়ে। এক বইমেলা। সে বছর শুভর ব্লগিং বের হয়েছিল। বইমেলায় কথা হচ্ছিল। হড়বড় করে আমি কি কি যেন বলছিলাম আজ আর সবটা মনে নাই।

গর্বিত সন্তানদের পিতা লেখাটায় মানুষটা সুন্দর সুন্দর কথা লিখেছেন কিন্তু মানুষটার কাছ থেকে অটোগ্রাফ দেয়ার নাম করে যে দুই টাকা নিয়েছিলাম এটা এড়িয়ে গেছেন। সম্ভবত আমার লালচ নিয়ে কথা বাড়াতে চাননি!
ওই লেখায় অবশ্য মানুষটার নামটা মনে ছিল না বিধায় সহব্লগার লিখেছিলাম এই জন্য এখন লজ্জা-লজ্জা লাগছে। লেখাটার কল্যাণে অনেক কটা বছর দুম করে পেছনে চলে গেলাম। আহ স্মৃতি, স্মৃতিই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে নইলে কবে মরে ভূত হয়ে যেতাম।

*কাজের সময় অক্সিজেন টাইপের লেখাগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। ভাবছি, লেখাগুলো এই পোস্টে এনে জড়ো করব। কিন্তু মমতায় মাখামাখি মানুষগুলোর লেখায় অতিশয়োক্তির কারণে বড়ো বিব্রত লাগে।
**ছবি-সূত্র: লামিয়া (একটা শিশুর এই ছবি দেয়াটা কেবল আবেক্রান্ত হয়ে না, অন্য কারণে পছন্দ হয়েছে। অবচেতন মনের আঁকাআকি। কালোর মধ্যে রঙের ছোপ- মৃত্যুর মধ্যে জীবনের!)