Wednesday, January 20, 2010

বিচারপতি লতিফুর রহমান, ভুলি নাই আপনাকে

দৈনিক কালের কন্ঠে বিচারপতি লতিফুর রহমানের একটি বইয়ের সমালোচনা (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা) পড়লাম। কোন বইয়ের সমালোচনার শিরোনাম 'তিন নম্বরের জন্য বদলে যাওয়া জীবন' হয় কি না আমার জানা নেই। ছাপার অক্ষর বলে কথা- আমরা তো আবার ছাপার অক্ষরের সব কিছুই আসমানি ওহী বলে মেনে নেই। কপাল, মেনে নিলাম!

"বইটিতে উঠে এসেছে তার জীবনের নানা দিক ও প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অভিজ্ঞতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৮৭ দিনের কার্যাবলি।"
তাঁর এই বইয়ে আমরা অনেক অজানা কথা জানলাম:
"লেখক বলছেন, তিন নাম্বার বেশি (এমএ ক্লাসে?) পেলে আমার জীবনের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যেত। আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমরা যেটা অনেক সময় মন্দ মনে করি, সেটা বিধাতার দৃষ্টিতে হয়তো ভালো।"

ইয়েস-ইয়েস ভাল, অবশ্যই ভাল। বিধাতা লাগবে না আমরাই বলি, ভালো, বেশ হয়েছে। নইলে আমরা লতিফুর রহমানকে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে কেমন করে পেতাম? বিধাতাকে ধন্যবাদ দেই তিনি তিন নম্বর কম পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে।

"...দর্শনার কেরু কোম্পানির ল অফিসারের পদে চাকরি
নিতে গিয়েছিলেন তিনি...।"

ও-ই না, তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত। কেরু কোম্পানি কলম পেষা কোন কাজের কাজ না! আমি ল পড়া শেষ করি নাই বিধায় জানি না ল অফিসারদের ফ্যাক্টরিতে কোন কাজ থাকে কি না? থাকলে, পাগলা পানির গন্ধ ভক করে নাকে এসে লাগত। ইশ রে, কী বিচ্ছিরি!


"২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তার যোগদানের আগের-পরের অংশটুকু তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন
পাঠক প্রতিটি সময়ের উত্তেজনা উপভোগ করবেন। তাকে নিয়ে বিএনপির বিতর্ক, আওয়ামী লীগের আশঙ্কা কোনো কিছুই তিনি এড়িয়ে যাননিবঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেয়ায় তাকে যে আওয়ামী লীগের প্রতি সহমর্মী হিসেবে বিএনপি অভিযোগ করেছিল, এ বিষয়েও তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা আছে।"

তাই? সবই তো পেলুম, স্যার। তারপরও বুকটা কেমন যেন খালি খালি লাগছে, কি যেন, কি যেন পেলুম না! আচ্ছা কি পেলুম না? উ-ম-ম, চিন্তা জট পাকিয়ে যায় যে।
হুম-ম, বিচারপতি লতিফুর রহমান, কেমন করে ভুলি, স্যার, আপনার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৮৭ দিনের কার্যাবলি?
আপনি তখনও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি, জাস্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে; দেশের বিভিন্ন স্থানে কী যে অরাজকতাই না শুরু হলো! তা লিখলে আপনার লেখা
৩৪৪ পৃষ্ঠার এমন কয়েকটা ঢাউস বইয়ে কুলাবে না, আই বেট। টেলিভিশনে দেখতাম, আপনি টেবিলে বসে বসে আঙ্গুল দিয়ে তবলা বাজাবার ভঙ্গি করতেন আপনি টেবিলে তবলা বাজান, ওদিকে নিরীহ লোকজনের মৃত্যুর তবলা বাজে! আপনি স্যার, কোটের হাতা গুটিয়ে, হাত গুটিয়ে বসে রইলেন- কুটোটিও নাড়লেন না!

ফল ঘোষণার পর পরই, রাতারাতি নিরাপত্তায় নিয়োজিত সবাইকে আপনি নিষ্ক্রিয় করে দিলেন অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনারই ছিল
দেশব্যাপি অসংখ্য নিরীহ জ্যান্ত মানুষদের পুড়িয়ে মারা হলো, শিশুসহ, অন্য দলে ভোট দেয়ার অভিযোগেপ্রকারান্তরে এ খুনেরই নামান্তর। আমরা আজও জানি না এই খুনিদের কি বিচার হয়েছিল?

এই খুনগুলোর পরোক্ষ দায় কী স্যার
, আপনি বিচারপতি লতিফুর রহমানের উপর বর্তায় না, ছিটেফোঁটাও না? কেন বর্তাবে না স্যার, শুনি? আপনি তো তখনও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি- আপনার মত বিচক্ষণ মানুষ এটা জানবেন না এও কী বিশ্বাসযোগ্য? নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা এ তো কোন অজানা-অচেনা বিষয় না। আমার তো মনে হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এটাও প্রধান একটা কাজ, অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।

হায় আইন, একটা খুন করলে ফাঁসি হয় অথচ অসংখ্য খুনের পরোক্ষ দায় থেকে একজন মানুষ কেমন দিব্যি পার পেয়ে যান আবার ঘটা করে ঢাউস বইও লেখেন। সেই বইয়ে চমৎকার সব কথা পড়ে চোখে জল এসে যায়, পানিও শুকিয়ে যায় ("
আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য দিনে দুটি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এ সময় গৃহশিক্ষকতাও করেছেন")! আবার সেই বইয়ের চমৎকার রিভিউ ছাপা হয়, তেলতেলে সেই রিভিউ পড়ে কী-বোর্ড পিচ্ছিলও হয়ে গেছে বিধায় লেখা ক্ষান্ত দিলুম।