জনৈক সমালোচক কয়েদী নিয়ে কঠিন একটা সমালোচনা করেছেন। অবশ্য এটাকে আমি সমালোচনা বলে স্বীকার করি না। এটা হচ্ছে একজন মানুষকে কলম নামের চাপাতি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় কুপিয়ে আহত করা। 'কয়েদী' নামে একটা বই আছে আমার। গোটা বইটাই হরতাল নিয়ে।
আমাদের দেশে হরতালের মতো দানবকে নিয়ে অন্য কোন লেখক কেন বই লেখেননি এটা আমার কাছে অষ্টম আশ্চর্যের একটি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা হরতালকে তাইলে এঁরা সমস্যা মনে করছেন না- প্রকারান্তরে সমর্থন দিচ্ছেন! ভাল ভাল- জয় হোক মহান কলমবাজদের!
তো, সমালোচক সাহেবের বক্তব্য হলো, এটাকে কেন উপন্যাস বলে প্রকাশক বিজ্ঞাপন দিলেন। বিজ্ঞাপনটা ছিল এই রকম: 'হরতাল নিয়ে এই দেশের একমাত্র উপন্যাস'!
বিজ্ঞাপনটা হরতাল নিয়ে এ দেশের একমাত্র বই এমনটা গেলে আর দোষ হতো না। এটা না হয় মেনে নেয়া গেল।
সমালোচক সাহেব লিখেছেন, "৪২ পাতার কয়েদী পড়তে ৪০ মিনিট লাগল। যারা দ্রুত পড়তে পারেন তাদের ৩০ মিনিট লাগবে।" বেশ যা হোক, এখন থেকে একটা বই পড়তে কতোটা সময় লাগবে, এটাও ট্যাগ হিসাবে সংযোজন করা আবশ্যক।
আসলে বইটা ৪২ পাতার না, ৪৮ পৃষ্ঠার। এ নিয়ে আমার তীব্র বেদনা আছে। প্রকাশক সাহেবের আপত্তি ছিল, অন্তত ৪ ফর্মা বা ৬৪ পৃষ্ঠার ম্যাটার দেয়ার জন্য। কিন্ত আমার উপায় ছিল না। সে অন্য কাহিনি।
একটি বই বের হওয়ার পেছনের বেদনার কথা পাঠক জানেন না- তাঁর জানার প্রয়োজনও নেই।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, যে বছর এই বইটা বের হয়। গভীর রাতেই আমার মেয়েটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল- কারণ, পরদিন ছিল হরতাল। আমি ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সকালে আমাকে যখন ফোন করে এ খবরটা দেয়া হয়, আমি ফোনে আমার মেয়ের কান্না শুনতে পাচ্ছিলাম অথচ আমি যেতে পারছিলাম না। কী কষ্ট-কী কষ্ট! এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগারে আটকে পড়া একজন বাবা-কয়েদী! এর নাম নাকি গণতন্ত্র!
তো, পরদিন যাওয়া ব্যতীত আমার কোন উপায় ছিল না। আমার মেয়ে হাসপাতালে আর আমি প্রকাশকের এখানে বসে কয়েদী বইটা প্রুফ দেখছি- চোখের জলে ভাসতে ভাসতে। ৬৪ পৃষ্টা লেখব কি, প্রুফ দেখেই শেষ করতে পারিনা এমন অবস্থা। গোপন ইচ্ছা ছিল, পরবর্তী সংস্করণে আরও কিছু পৃষ্ঠা যোগ করে দেব কিন্তু আমাদের মতো অগাবগা লেখকদের তো আর আবার প্রথম সংস্করণই কখনও শেষ হয় না!
সমালোচক সাহেব আলী মাহমেদ নাম নিয়ে তার আপত্তি বোঝাতে গিয়ে শিশ্ন শব্দটা ব্যবহার করেছেন। আমি সমালোচক সাহেবের লেখার ধাঁচের সঙ্গে পরিচিত- খেয়াল করেছি, গদ্য হোক আর পদ্য, প্রায় লেখায় শিশ্ন শব্দটা না থাকলে যেন লজ্জায় ওনার মাথা কাটা যায়। আমার কাছে মনে হয় এমন, কেউ যেন অনবরত বকেই যাচ্ছে, জানিস, আমার না একটা ইয়ে আছে। জানিস আমার না একটা। ওরে, তোরা জানিস আমার…।
ওনার মূল বক্তব্য হচ্ছে, কয়েদীর নামের বইটা একটা যাচ্ছেতাই । বেশ, নিরানন্দ ভঙ্গিতে না হয় মেনে নিলাম। একজনের লেখা সবার ভাল লাগতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে!
কিন্ত, টুইস্ট হচ্ছে এই, তিনি শেষে বলেন, "আমি যদি এই বইটা লিখতাম তাহলে চরিত্রগুলোর একটার সঙ্গে অন্যটার..." (এরপর তার কেরামতির বিস্তারিত কাহিনী, লম্বা ফিরিস্তি)। মুশকিলটা হয়েছে এখানেই, গ্যালারীর দর্শক যখন খেলতে নেমে পড়ার জন্য লাফিয়ে পড়েন তাইলে খেলা দেখবে কে?
ওঁকে কে বোঝাবে, এটা একটা নতুন ধরনের কাজ করার চেষ্টা। বাপের সঙ্গে চাচার সম্পর্ক, চাচার সঙ্গে নানার এইটা চাচ্ছিলাম না। বইটায় তথাকথিত কোন নায়ক নেই। এই বইটায় একটা চরিত্রের সঙ্গে অন্য একটা চরিত্রের কোন সংযোগ না থাকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়েছিল। যেন একটা কারাগারের বিভিন্ন সেল। একটা সেলের কয়েদীর সঙ্গে অন্য কয়েদীর কোন যোগ নাই, একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ! কাছ থেকে কিছুই বোঝা যাবে না কিন্ত দূর থেকে তাকালে ক্রমশ গোটা কারাগারের একটা অবয়ব ফুটে উঠবে।
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Friday, June 29, 2007
কয়েদীর জনৈক সমালোচক নিজেই যখন লেখক!
বিভাগ
‘কয়েদি’ বই থেকে অংশবিশেষ
মানুষ চেনার ইশকুল
ভাবছি...।
আবার ইশকুলে ভর্তি হবো। মানুষদের চেনার জন্য পড়ায় যে ইশকুলে- প্রথম বেঞ্চিতে গ্যাট হয়ে বসে থাকব, হররোজ। ফুল কোর্স কমপ্লিট না করে ছাড়াছাড়ি নাই।
নইলে যে বড্ডো সমস্যা হয়ে যাচ্ছে!
বিচিত্রসব মানুষদের কতটুকুই বা আমরা চিনি? প্রকৃতির কাছ থেকে প্রকৃতিরসন্তানদের চেনার কথা- প্রকৃতি বেচারা নিজেই আছে বড়ো বেকায়দায়। বুড়া হয়ে গেছে প্রকৃতি, তাই তার সন্তানদের এখন দবদবার শেষ নাই। বেয়াদব সন্তানেরা তার জন্মদাতাকেও মানতে গররাজী- নিজেদের শেকড় উপড়ে ফেলে জাঁক করে বলছে: শেকড়, য়্যু মীন লেজ- সে তো কবেই খসে পড়েছে!
বেশ-বেশ!
একটা ওয়েবসাইটে প্রায় ১ বছর লেখালেখি করেছি। ওখানে অনেকের সঙ্গে হৃদ্যতা হয়েছে, ঝগড়া হয়েছে কিন্ত আমার ওই সময়টা ছিল সোনালি।
ওখানের একজন ব্লগারের অনেক দিক আমি ভারী অপছন্দ করতাম কিন্ত তার কিছু দিক আমাকে খুব টানত। দেশে আসলে তার সঙ্গে আমার দেখা করার খুব ইচ্ছা হল। একদিন দেখা হলো- আমার ইচ্ছাটাই ছিল প্রবল।
অ আল্লা, আমি পুরাপুরি হতভম্ব। যে ছেলেটা অবলীলায় কঠিন কঠিন সব কথা বলে যায়- এমন লাজুক, চোখ তুলে তাকাতেই পারে না। আমার আরও ২জন সুহৃদসহ, আমরা দুপুরে একসঙ্গে ভাত খেলাম। খুব মাস্তি(!) হলো। ওই সময়টা কেটেছিল আমার গভীর আনন্দে। ওই মানুষটাকে আমি আমার একটা বই গিফট করলাম।
বেশ কিছুদিন পর আমার এক সুহৃদ ফোন করলেন, আচ্ছা, আপনার কি অমুকের সঙ্গে কোন সমস্যা হয়েছে। (অমুক মানে ওই মানুষটা-সুবিধার জন্য অমুককে আমরা এক্স নামে ধরি)।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম, কই না তো!আমার সুহৃদ বললেন, কিন্ত এক্স তো আপনার ওই বই নিয়ে কঠিন সমালোচনা লিখেছে।এবার আমি আটকে রাখা শ্বাস ছাড়লাম, ওহ, এই কথা। তা পাঠক হিসাবে এক্স এটা লিখলে দোষ কি- একজনের লেখা সবার ভালো লাগবে এটা কেমনে হয়!আমার সুহৃদ থেমে থেমে বললেন, সেটা কথা না। এক্স আপনাকে নিয়ে কুৎসিতসব কথা লিখেছে। এবার তিনি হাহাকার করা গলায় বললেন, প্লিজ, ওটা পড়বেন না, আপনার মন খারাপ হবে।
আমাকে নিয়ে লেখাটা আমি পড়লাম। না পড়লেই সম্ভবত ভালো হতো- অন্তত মানুষের গভীর অন্ধকার দিক আমাকে তাড়া করত না। আমি গভীর ভাবনায় তলিয়ে গেলাম। আমি ভেবে আকুল হচ্ছি, একটা মানুষ কেন এমন করবে? আমার লেখা ভালো লাগেনি, বেশ- এটা নিয়ে লিখলে তো কোন সমস্যা নাই। আমাকে নিয়ে অহেতুক কুৎসিত কথা কেন লেখবে- কি লাভ, কার লাভ। এসব করে একজন মানুষ নিজের চোখে চোখ রাখে কি করে? এখনও আমার মস্তিষ্কে তার সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি সন্ধ্যার স্মৃতি অম্লান। আমার মনে আছে, ওই সময় আমি একটু পরপর ঘড়ি দেখছিলাম- সময়টাকে আটকাতে পারছিলাম না…।
হায়রে রহস্যময় মানুষ!
আবার ইশকুলে ভর্তি হবো। মানুষদের চেনার জন্য পড়ায় যে ইশকুলে- প্রথম বেঞ্চিতে গ্যাট হয়ে বসে থাকব, হররোজ। ফুল কোর্স কমপ্লিট না করে ছাড়াছাড়ি নাই।
নইলে যে বড্ডো সমস্যা হয়ে যাচ্ছে!
বিচিত্রসব মানুষদের কতটুকুই বা আমরা চিনি? প্রকৃতির কাছ থেকে প্রকৃতিরসন্তানদের চেনার কথা- প্রকৃতি বেচারা নিজেই আছে বড়ো বেকায়দায়। বুড়া হয়ে গেছে প্রকৃতি, তাই তার সন্তানদের এখন দবদবার শেষ নাই। বেয়াদব সন্তানেরা তার জন্মদাতাকেও মানতে গররাজী- নিজেদের শেকড় উপড়ে ফেলে জাঁক করে বলছে: শেকড়, য়্যু মীন লেজ- সে তো কবেই খসে পড়েছে!
বেশ-বেশ!
একটা ওয়েবসাইটে প্রায় ১ বছর লেখালেখি করেছি। ওখানে অনেকের সঙ্গে হৃদ্যতা হয়েছে, ঝগড়া হয়েছে কিন্ত আমার ওই সময়টা ছিল সোনালি।
ওখানের একজন ব্লগারের অনেক দিক আমি ভারী অপছন্দ করতাম কিন্ত তার কিছু দিক আমাকে খুব টানত। দেশে আসলে তার সঙ্গে আমার দেখা করার খুব ইচ্ছা হল। একদিন দেখা হলো- আমার ইচ্ছাটাই ছিল প্রবল।
অ আল্লা, আমি পুরাপুরি হতভম্ব। যে ছেলেটা অবলীলায় কঠিন কঠিন সব কথা বলে যায়- এমন লাজুক, চোখ তুলে তাকাতেই পারে না। আমার আরও ২জন সুহৃদসহ, আমরা দুপুরে একসঙ্গে ভাত খেলাম। খুব মাস্তি(!) হলো। ওই সময়টা কেটেছিল আমার গভীর আনন্দে। ওই মানুষটাকে আমি আমার একটা বই গিফট করলাম।
বেশ কিছুদিন পর আমার এক সুহৃদ ফোন করলেন, আচ্ছা, আপনার কি অমুকের সঙ্গে কোন সমস্যা হয়েছে। (অমুক মানে ওই মানুষটা-সুবিধার জন্য অমুককে আমরা এক্স নামে ধরি)।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম, কই না তো!আমার সুহৃদ বললেন, কিন্ত এক্স তো আপনার ওই বই নিয়ে কঠিন সমালোচনা লিখেছে।এবার আমি আটকে রাখা শ্বাস ছাড়লাম, ওহ, এই কথা। তা পাঠক হিসাবে এক্স এটা লিখলে দোষ কি- একজনের লেখা সবার ভালো লাগবে এটা কেমনে হয়!আমার সুহৃদ থেমে থেমে বললেন, সেটা কথা না। এক্স আপনাকে নিয়ে কুৎসিতসব কথা লিখেছে। এবার তিনি হাহাকার করা গলায় বললেন, প্লিজ, ওটা পড়বেন না, আপনার মন খারাপ হবে।
আমাকে নিয়ে লেখাটা আমি পড়লাম। না পড়লেই সম্ভবত ভালো হতো- অন্তত মানুষের গভীর অন্ধকার দিক আমাকে তাড়া করত না। আমি গভীর ভাবনায় তলিয়ে গেলাম। আমি ভেবে আকুল হচ্ছি, একটা মানুষ কেন এমন করবে? আমার লেখা ভালো লাগেনি, বেশ- এটা নিয়ে লিখলে তো কোন সমস্যা নাই। আমাকে নিয়ে অহেতুক কুৎসিত কথা কেন লেখবে- কি লাভ, কার লাভ। এসব করে একজন মানুষ নিজের চোখে চোখ রাখে কি করে? এখনও আমার মস্তিষ্কে তার সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি সন্ধ্যার স্মৃতি অম্লান। আমার মনে আছে, ওই সময় আমি একটু পরপর ঘড়ি দেখছিলাম- সময়টাকে আটকাতে পারছিলাম না…।
হায়রে রহস্যময় মানুষ!
বিভাগ
নিজস্ব ভাবনা
মানুষ চেনার ইশকুল: ২
তীব্র সমালোচনায় যখন আমাকে কটু ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছিল, ওখানে একজন মন্তব্য করলেন, পড়লাম।
আমার বুকের অনেকখানি জায়গা নিমিষেই ফাঁকা হয়ে গেল। অন্য কেউ এই মন্তব্যটা করলে আমি এ নিয়ে মাথা ঘামাতামই না। কিন্ত এ আমার পছন্দের মানুষ। মানুষটা কি করে পারলো এমন একটা মন্তব্য করতে। আমার মনে হচ্ছিল এমনটা, কেউ আমাকে নগ্ন করছে আর আমার পছন্দের মানুষ বলছে, দেখলাম।
কেউ সীমাবদ্ধতার কারণে আমার পাশে এসে না দাঁড়াতে পারলে সরে গেলেই হয়- এতে আমার বেদনাহত হওয়ার কোন কারণ নাই । তা না করে আমার চোখে চোখ রাখার প্রয়োজন কী!
তো, আমি যখন আমার সীমিত শক্তি নিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ালাম, ওইখানে এই মানুষটার প্রয়োজন কি আবারও বলার, পড়লাম।
হায়রে মানুষ- হায়রে দুগ্ধপোষ্য শিশু!
আমার বুকের অনেকখানি জায়গা নিমিষেই ফাঁকা হয়ে গেল। অন্য কেউ এই মন্তব্যটা করলে আমি এ নিয়ে মাথা ঘামাতামই না। কিন্ত এ আমার পছন্দের মানুষ। মানুষটা কি করে পারলো এমন একটা মন্তব্য করতে। আমার মনে হচ্ছিল এমনটা, কেউ আমাকে নগ্ন করছে আর আমার পছন্দের মানুষ বলছে, দেখলাম।
কেউ সীমাবদ্ধতার কারণে আমার পাশে এসে না দাঁড়াতে পারলে সরে গেলেই হয়- এতে আমার বেদনাহত হওয়ার কোন কারণ নাই । তা না করে আমার চোখে চোখ রাখার প্রয়োজন কী!
তো, আমি যখন আমার সীমিত শক্তি নিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ালাম, ওইখানে এই মানুষটার প্রয়োজন কি আবারও বলার, পড়লাম।
হায়রে মানুষ- হায়রে দুগ্ধপোষ্য শিশু!
বিভাগ
নিজস্ব ভাবনা
বাকের ভাই যখন বাকরখানি হয়ে যান!
আমাদের বাকের ভাই। একসময় কী উম্মাদনাই না সৃষ্টি হয়েছিল এই মানুষটাকে নিয়ে। আপনাদের হয়তো অনেকেরই এটা মনে আছে।
ওই সময় এই উম্মাদনয় কী কেবলই নাট্যকারেরই অবদান ছিল- অবশ্যই না। নূরের অসাধারণ অভিনয়! আমার এখনও চোখে ভাসে- নূরের কী দুর্ধর্ষ অভিনয়!
আমার সেই দৃশ্যটার কথা মনে পড়লেই বুকটা হাহাকার করে উঠে, জেল গেটে বাকের ভাইয়ের লাশটা নিতে এসেছে মুনা (সুবর্ণা মুস্তাফা)। ভোর হয় হয়, চারদিকের মসজিদ থেকে আজান ভেসে আসছে- মুনার সেই পান্ডুর, বিবর্ণ মুখ। কী হাহাকার করা মুখ- বুকটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল- জাগতিক অনেক কিছু তখন তুচ্ছ মনে হচ্ছিল!
কিন্ত অধুনা নূর সাহেব নামের মানুষটা, সামাজিক অর্থ-বিত্ত-মর্যাদা সব কিছু থাকার পরও ক্রমশ পরিণত হন জনসেবকের খোলসে এমন একজন অতি সাধারণ মানুষ- ওই মানুষের বাকের ভাইয়ের মতো মানুষকে স্পর্শ করার তিলমাত্র যোগ্যতা নাই। সেইসব জনসেবক, যাদের মহান বাণী আমরা ব্লাডার খালি করতে করতে শুনি, ফ্লাশ করে চলে আসি।
সাবেক সাংসদ মি. আসাদুজ্জাম নূর পত্রিকায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে খালেদা জিয়ার সিন্ডিকেট চিনি আমদানী করে, সমুদ্রে জাহাজ আটকে রেখে দেশে কৃত্রিম চিনির সংকট তৈরী করে ফায়দা লুটছেন...।
আমাদের মতো সামান্য মানুষরা যারা লেখালেখি করার চেষ্টা করি, আমরাও তো কোন উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে, উপাত্তের সোর্স ব্যবহার করি অথচ একজন সাংসদ মি. আসাদুজ্জাম নূর যে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তারেক জিয়ার প্রতি। যথার্থ প্রমাণ তো দূরের কথা মিনিমাম প্রমাণ দেয়ার অপচেষ্টাও করেন নাই।
সর্বোচ্চ চিনি দাম কত ছিল, সম্ভবত ৬৫ টাকা? তারেক জিয়া মধ্য সমুদ্রে জাহাজটা কি ভাবে আটকে রেখেছেন ? ব্যাটন দিয়ে পানিতে আঘাত করে বলেছেন পানি তুমি দুভাগ হউ। নাকি জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ সবাইকে ৬৫, ৬৪, ৬৩, ৬২, ৬১, ৬০…০- এইসব কান্ড করে সম্মোহিত করে রেখছেন, চিনির দাম একশ টাকা কেজী হলেই তাদের জাগিয়ে তুলবেন আবার। ৯৬, ৯৫…০। ডিং!
মি আসাদুজ্জাম নূর, এভাবে আপনি নওগার গাঁজার ব্যাপারীর মতো বলতে থাকলে- ওই যে বললাম ব্লাডার খালি…!
ওই সময় এই উম্মাদনয় কী কেবলই নাট্যকারেরই অবদান ছিল- অবশ্যই না। নূরের অসাধারণ অভিনয়! আমার এখনও চোখে ভাসে- নূরের কী দুর্ধর্ষ অভিনয়!
আমার সেই দৃশ্যটার কথা মনে পড়লেই বুকটা হাহাকার করে উঠে, জেল গেটে বাকের ভাইয়ের লাশটা নিতে এসেছে মুনা (সুবর্ণা মুস্তাফা)। ভোর হয় হয়, চারদিকের মসজিদ থেকে আজান ভেসে আসছে- মুনার সেই পান্ডুর, বিবর্ণ মুখ। কী হাহাকার করা মুখ- বুকটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল- জাগতিক অনেক কিছু তখন তুচ্ছ মনে হচ্ছিল!
কিন্ত অধুনা নূর সাহেব নামের মানুষটা, সামাজিক অর্থ-বিত্ত-মর্যাদা সব কিছু থাকার পরও ক্রমশ পরিণত হন জনসেবকের খোলসে এমন একজন অতি সাধারণ মানুষ- ওই মানুষের বাকের ভাইয়ের মতো মানুষকে স্পর্শ করার তিলমাত্র যোগ্যতা নাই। সেইসব জনসেবক, যাদের মহান বাণী আমরা ব্লাডার খালি করতে করতে শুনি, ফ্লাশ করে চলে আসি।
সাবেক সাংসদ মি. আসাদুজ্জাম নূর পত্রিকায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে খালেদা জিয়ার সিন্ডিকেট চিনি আমদানী করে, সমুদ্রে জাহাজ আটকে রেখে দেশে কৃত্রিম চিনির সংকট তৈরী করে ফায়দা লুটছেন...।
আমাদের মতো সামান্য মানুষরা যারা লেখালেখি করার চেষ্টা করি, আমরাও তো কোন উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে, উপাত্তের সোর্স ব্যবহার করি অথচ একজন সাংসদ মি. আসাদুজ্জাম নূর যে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তারেক জিয়ার প্রতি। যথার্থ প্রমাণ তো দূরের কথা মিনিমাম প্রমাণ দেয়ার অপচেষ্টাও করেন নাই।
সর্বোচ্চ চিনি দাম কত ছিল, সম্ভবত ৬৫ টাকা? তারেক জিয়া মধ্য সমুদ্রে জাহাজটা কি ভাবে আটকে রেখেছেন ? ব্যাটন দিয়ে পানিতে আঘাত করে বলেছেন পানি তুমি দুভাগ হউ। নাকি জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ সবাইকে ৬৫, ৬৪, ৬৩, ৬২, ৬১, ৬০…০- এইসব কান্ড করে সম্মোহিত করে রেখছেন, চিনির দাম একশ টাকা কেজী হলেই তাদের জাগিয়ে তুলবেন আবার। ৯৬, ৯৫…০। ডিং!
মি আসাদুজ্জাম নূর, এভাবে আপনি নওগার গাঁজার ব্যাপারীর মতো বলতে থাকলে- ওই যে বললাম ব্লাডার খালি…!
বিভাগ
নিজস্ব ভাবনা
থানায় খানিকটা সময়।
আমাদের দেশের পুলিশ, থানা নিয়ে আমার ভীতির শেষ নাই। পারলে আমি শত-সহস্র হাত দূরে থাকি। কিন্ত আল্লা চাইলে উপায় কী!
ক-দিন আগে একটা ঝামেলা হয়ে গেল। গভীর রাতে একটা ফোন কল আসল। এই সময় আমি সচরাচর ফোন-রিং অফ রাখি। কিন্ত বাংলা একটা ওয়েব সাইটে লেখালেখির সুবাদে আমার কিছু প্রিয় মানুষ আছেন যারা আমি অন লাইনে থাকলে ফোন করেন বলে কখনও কখনও রিং অফ থাকে না।
তো, একটা ফোন কল আসল। কথা নাই বার্তা নাই, প্রাণনাশের হুমকী, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি, প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে কুৎসিত সব কথা। হুমকির ভয়ে আমি খুব একটা কাতর নই কিন্ত প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে আমার মাথা খারাপের মতো হয়ে যায়। ভাবছিলাম, কে করতে পারে এমন ফোন। ওই ওয়েব সাইটে লেখালেখির সূত্র ধরে কি কেউ আমায় এভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করেছে? তখন আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছি। অনেকে এটা পছন্দ করছিলেন না। এই কারণেও ওখানে অনেকে আমাকে তীব্র অপছন্দ করেন। ওখানে এমনিতে আমি কিছু বিষয়ে আমি আপোষহীন ছিলাম।
এক: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রসিকতা
দুই: গালিবাজী।
ওই ওয়েব সাইটের কেউ কেউ ওপেন ফোরামে গালি দেয়ার অধিকার নিয়ে বহু দিন ধরেই লড়ছেন। এদের সাফ কথা, প্রকাশ্য স্থানে দিগম্বর হয়ে বসে থাকা আমার অধিকারের পর্যায়ে পড়ে, বা স্যুট টাই (সম্ভব হলে না খুলে) লাগিয়ে বাথরুম সারা। এবং যা তা গালি না, প্রিয় মানুষদের জড়িয়ে কুৎসিত সব গালি দেয়ার মহান অধিকার অর্জন।
তো, আমি ভাবছিলাম, ওই ওয়েব সাইটের কেউ কি? যিনি ওখানে বলার সাহস না করে ফোনে একচোট নিলেন।
কিছু ঘটনা আমাকে চট করে কাবু করে ফেলে। রাতে ঘুম হলো ছাড়াছাড়া। নিজেকে কোন ভাবেই প্রবোধ দিতে পারছিলাম না। প্রাণনাশের হুমকির চেয়ে প্রিয় মানুষকে গালি দেয়াটা আমার সহ্য হচ্ছিল না। কেবল মনে হচ্ছিল, অথর্ব আমি, আমার প্রিয় মানুষকে আগলে রাখার শক্তি নাই!
পরদিন। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এটা জানার পর আমাকে নিয়ে পড়লেন। ইনি বিচিত্র কোন কারণে আমাকে, আমার লেখালেখি নিয়ে অহেতুক উচ্ছ্বাস বোধ করেন। কেন, কে জানে!
যাই হোক, ওঁর বক্তব্য হচ্ছে আমার লেখা পড়ে তিনি… ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আমি কিনা এটা নিয়ে ভয়ে কাবু। আমার আইনের সহায়তা নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আমাকে বললেন, আপনি লোকাল থানায় যান| আমি ফোনে ওসিকে পাইনি, এস আই অমুক আছেন, ফোন করে দিয়েছি, আপনি যান, আমি পরে দেখছি।
সত্যি বলতে কি আমার মোটেও ইচ্ছা করছিল না। থানা তো দূরের কথা, আমি কোন পুলিশ ম্যানের ১০০ হাতের ধারেকাছেও থাকতে চাই না! তবুও গেলাম। কখনও প্রিয়জনদের কথা না শুনে উপায় কী! ওসি ছিলেন না, ছিলেন একজন এস আই। তার সঙ্গে আমার কথোপকথন।
এস আই: হুম। আপনি কিছু না করলে কেন আপনাকে কেউ হুমকি দেবে, অশ্রাব্য কথা বলবে?
আমি: তা তো জানি না।
এস আই: যে কল দিয়েছে সে কি আপনার পরিচিত?
আমি: জ্বী না।
এস আই: অপরিচিত নাম্বার ধরেন কেন?
আমি: জরুরী কিছু কলও তো আসে অপরিচিত নাম্বার থেকে।
এস আই: আপনার ফোনে কি রেকর্ডার আছে? যে নাম্বার থেকে ফোন আসে কথা রেকর্ড করেছেন?
আমি: না নাই।
এস আই: রেকর্ড করেন নাই, আগে রেকর্ড করেন। তারপর আমরা দেখব কি করা যায়। আপনার মুখের কথায় তো আর কিছু করা যায় না। এই যে আপনার জন্য যে কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন আমি বুঝব কেমন করে, ওই লোক জেনুইন।
আমি বললাম: ওনাকে লাগিয়ে দেই। আপনি নিশ্চিত হয়ে নেন।
এস আই: কোন প্রয়োজন নাই। আপনাকে যে নাম্বার থেকে হুমকি দেয়া হয়েছ, এটা কোন কোম্পানীর?
আমি খানিকটা থমাকালাম। কোম্পানী মানেটা কি! আঁচ করতে পারলাম, অপারেটরের কথা বলছে। বললাম, সিটিসেল।
এস আই: সিটিসেল তো এখন রিকশাওয়ালারা ব্যবহার করে। আপনারটা কোন কোম্পানীর?
আমি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললাম: সিটিসেল।
আমার খুব অস্থির লাগছিল। আমার ওই সুহৃদকে থানা থেকেই ফোন করলাম। এস আই সাহেবের আচরণের সবটা আর বলিনি। আমি জানি এ একটা অনর্থ করবে। প্রথমেই যে গালিটা দেবে এটা শুরু হবে 'বা' দিয়ে। এস আইকে বললাম, আপনি কি ওনার সঙ্গে কাইন্ডলি কথা বলবেন একটু। এস আই এবার ওই কর্মকর্তাকে প্রতি নিঃশ্বাসে স্যার বলা শুরু করলেন।
ফোনে কি কথা হলো জানি না কিন্ত আমাকে ওই সুহৃদ বললেন, আপনি এই মুহূর্তে থানা থেকে চেক আউট করেন। ওসি আসলে আমি তার সঙ্গে কথা বলে 'বা'…কে ঠিক করছি। আমি ওই সুহৃদকে বললাম, আমি এটা নিয়ে আর বাড়াবড়ি করতে চাচ্ছি না। কারণ আপনি একটা অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করবেন। এখানে আপনি তো আর সর্বদা থাকবেন না, থাকতে হবে আমাকে। পুলিশের বিশ্বাস কী, এরা পারে না এমন কোন কাজ আছে এই দেশে!
আমাদের দেশের পুলিশ বলে কথা …যম যা না পারে এরা তাও পারে!
ক-দিন আগে একটা ঝামেলা হয়ে গেল। গভীর রাতে একটা ফোন কল আসল। এই সময় আমি সচরাচর ফোন-রিং অফ রাখি। কিন্ত বাংলা একটা ওয়েব সাইটে লেখালেখির সুবাদে আমার কিছু প্রিয় মানুষ আছেন যারা আমি অন লাইনে থাকলে ফোন করেন বলে কখনও কখনও রিং অফ থাকে না।
তো, একটা ফোন কল আসল। কথা নাই বার্তা নাই, প্রাণনাশের হুমকী, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি, প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে কুৎসিত সব কথা। হুমকির ভয়ে আমি খুব একটা কাতর নই কিন্ত প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে আমার মাথা খারাপের মতো হয়ে যায়। ভাবছিলাম, কে করতে পারে এমন ফোন। ওই ওয়েব সাইটে লেখালেখির সূত্র ধরে কি কেউ আমায় এভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করেছে? তখন আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছি। অনেকে এটা পছন্দ করছিলেন না। এই কারণেও ওখানে অনেকে আমাকে তীব্র অপছন্দ করেন। ওখানে এমনিতে আমি কিছু বিষয়ে আমি আপোষহীন ছিলাম।
এক: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রসিকতা
দুই: গালিবাজী।
ওই ওয়েব সাইটের কেউ কেউ ওপেন ফোরামে গালি দেয়ার অধিকার নিয়ে বহু দিন ধরেই লড়ছেন। এদের সাফ কথা, প্রকাশ্য স্থানে দিগম্বর হয়ে বসে থাকা আমার অধিকারের পর্যায়ে পড়ে, বা স্যুট টাই (সম্ভব হলে না খুলে) লাগিয়ে বাথরুম সারা। এবং যা তা গালি না, প্রিয় মানুষদের জড়িয়ে কুৎসিত সব গালি দেয়ার মহান অধিকার অর্জন।
তো, আমি ভাবছিলাম, ওই ওয়েব সাইটের কেউ কি? যিনি ওখানে বলার সাহস না করে ফোনে একচোট নিলেন।
কিছু ঘটনা আমাকে চট করে কাবু করে ফেলে। রাতে ঘুম হলো ছাড়াছাড়া। নিজেকে কোন ভাবেই প্রবোধ দিতে পারছিলাম না। প্রাণনাশের হুমকির চেয়ে প্রিয় মানুষকে গালি দেয়াটা আমার সহ্য হচ্ছিল না। কেবল মনে হচ্ছিল, অথর্ব আমি, আমার প্রিয় মানুষকে আগলে রাখার শক্তি নাই!
পরদিন। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এটা জানার পর আমাকে নিয়ে পড়লেন। ইনি বিচিত্র কোন কারণে আমাকে, আমার লেখালেখি নিয়ে অহেতুক উচ্ছ্বাস বোধ করেন। কেন, কে জানে!
যাই হোক, ওঁর বক্তব্য হচ্ছে আমার লেখা পড়ে তিনি… ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আমি কিনা এটা নিয়ে ভয়ে কাবু। আমার আইনের সহায়তা নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আমাকে বললেন, আপনি লোকাল থানায় যান| আমি ফোনে ওসিকে পাইনি, এস আই অমুক আছেন, ফোন করে দিয়েছি, আপনি যান, আমি পরে দেখছি।
সত্যি বলতে কি আমার মোটেও ইচ্ছা করছিল না। থানা তো দূরের কথা, আমি কোন পুলিশ ম্যানের ১০০ হাতের ধারেকাছেও থাকতে চাই না! তবুও গেলাম। কখনও প্রিয়জনদের কথা না শুনে উপায় কী! ওসি ছিলেন না, ছিলেন একজন এস আই। তার সঙ্গে আমার কথোপকথন।
এস আই: হুম। আপনি কিছু না করলে কেন আপনাকে কেউ হুমকি দেবে, অশ্রাব্য কথা বলবে?
আমি: তা তো জানি না।
এস আই: যে কল দিয়েছে সে কি আপনার পরিচিত?
আমি: জ্বী না।
এস আই: অপরিচিত নাম্বার ধরেন কেন?
আমি: জরুরী কিছু কলও তো আসে অপরিচিত নাম্বার থেকে।
এস আই: আপনার ফোনে কি রেকর্ডার আছে? যে নাম্বার থেকে ফোন আসে কথা রেকর্ড করেছেন?
আমি: না নাই।
এস আই: রেকর্ড করেন নাই, আগে রেকর্ড করেন। তারপর আমরা দেখব কি করা যায়। আপনার মুখের কথায় তো আর কিছু করা যায় না। এই যে আপনার জন্য যে কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন আমি বুঝব কেমন করে, ওই লোক জেনুইন।
আমি বললাম: ওনাকে লাগিয়ে দেই। আপনি নিশ্চিত হয়ে নেন।
এস আই: কোন প্রয়োজন নাই। আপনাকে যে নাম্বার থেকে হুমকি দেয়া হয়েছ, এটা কোন কোম্পানীর?
আমি খানিকটা থমাকালাম। কোম্পানী মানেটা কি! আঁচ করতে পারলাম, অপারেটরের কথা বলছে। বললাম, সিটিসেল।
এস আই: সিটিসেল তো এখন রিকশাওয়ালারা ব্যবহার করে। আপনারটা কোন কোম্পানীর?
আমি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললাম: সিটিসেল।
আমার খুব অস্থির লাগছিল। আমার ওই সুহৃদকে থানা থেকেই ফোন করলাম। এস আই সাহেবের আচরণের সবটা আর বলিনি। আমি জানি এ একটা অনর্থ করবে। প্রথমেই যে গালিটা দেবে এটা শুরু হবে 'বা' দিয়ে। এস আইকে বললাম, আপনি কি ওনার সঙ্গে কাইন্ডলি কথা বলবেন একটু। এস আই এবার ওই কর্মকর্তাকে প্রতি নিঃশ্বাসে স্যার বলা শুরু করলেন।
ফোনে কি কথা হলো জানি না কিন্ত আমাকে ওই সুহৃদ বললেন, আপনি এই মুহূর্তে থানা থেকে চেক আউট করেন। ওসি আসলে আমি তার সঙ্গে কথা বলে 'বা'…কে ঠিক করছি। আমি ওই সুহৃদকে বললাম, আমি এটা নিয়ে আর বাড়াবড়ি করতে চাচ্ছি না। কারণ আপনি একটা অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করবেন। এখানে আপনি তো আর সর্বদা থাকবেন না, থাকতে হবে আমাকে। পুলিশের বিশ্বাস কী, এরা পারে না এমন কোন কাজ আছে এই দেশে!
আমাদের দেশের পুলিশ বলে কথা …যম যা না পারে এরা তাও পারে!
বিভাগ
নিজস্ব ভাবনা
নাস্তিক- আস্তিক!
আমার এক সুহৃদকে কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, যারা নাস্তিক এদের মতো অভাগা আর কেউ নাই।
তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেছিলেন, ভুল। এরা মোটেও অসহায় নন। এরা জেনেশুনেই নাস্তিক হচ্ছেন। অফুরন্ত জ্ঞান নিয়ে।
সাদামাটা দৃষ্টিতে এতে কোন ভ্রান্তি থাকার কথা না। কোন নাস্তিকের চোদ্দপুরূষ নাস্তিক হলে বিষয়টা যত সহজ, অন্যদের বেলায় ততটা না- উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মস্তিস্কের গাদাগাদি করে থাকা বিপুল তথ্যভান্ডার, জেনেটিক কোডের সারি সারি অদেখা উপাত্ত।
আসলে আমার এই বক্তব্যে খানিকটা ভুল ছিল। আমার এই মন্তব্য করার পূর্বে এটা নির্দিষ্ট করা উচিৎ ছিল, কে অসহায়? যে মানুষটা বৃত্তের ভেতর (জন্মসূত্রে পাওয়া প্রচলিত কোন এক ধর্ম), না বাইরে? অবস্থানটা খুব বড়ো একটা ফ্যাক্টর- আদৌ তার অবস্থানটা কোথায়?
বৃত্তের ভেতর থাকাটা বড়োই সুখের, পরিচিত গা ছাড়া ভাব- চিরাচরিত গাদাগাদি ভাবনা। সব ব্যাটা ঈশ্বরের কাঁধে চাপিয়ে দাও। এটা সম্ভবত প্রকৃতিরও বড্ডো পছন্দ। এমনিতে প্রকৃতির প্রচলিত নিয়মে ভারী আমোদ- ব্যতয় তার খুব পছন্দের বিষয় না!
আসলে এঁদের (নাস্তিকদের) অভাগা আমি বলতে চেয়েছিলাম এই অর্থে- এমন একজন, যে বৃত্তের বাইরে এক পা ফেলে রেখেছে, অথচ যার বৃত্তের বাইরের যথেষ্ট জ্ঞান নাই।
জ্ঞান?
বেশ, ধরে নিলাম, একজন মুক্তি পেল অজ্ঞানতাপ্রসূত এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যে প্রত্যেকটা ধর্মই পক্ষপাতদুষ্ট এবং এই ইগো তার ধর্মই সেরা! এই অমোঘ নিয়মে সেই ধর্মানুসারীদের যথারীতি জন্ম নেয় অন্য ধর্মের প্রতি তাচ্ছিল্য। ক্রমশ আটকা পড়া একটা বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খাওয়া। যেন গডরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন, কার সন্তান সেরা এটা প্রমাণে। কেবল তাঁর সন্তানরাই থাকুক দুধে ভাতে, অন্যরা যাক নরকে।
যেমন এক মানুষ বহু মানুষে বিভক্ত হয়েছে। যেমনটা মানুষের হাতকে বিভক্ত করা হয়েছে আঙ্গুলে, কাজের সুবিধার জন্য। মে বী, এত ধর্ম নিশ্চয়ই মানুষের সুবিধার জন্যই হবে। কে জানে, গডকেও ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করা হয়েছে এ কারণে হয়তো বা!
এমনিতে পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম এবং মহাপুরুষদের কাজ তো একটাই, পিস। এই পৃথিবীটা চমৎকার থাকুক। যে যেই ট্র্যাকে আছে সেই ট্র্যাকেই থাকুক, এটাই মঙ্গল। একজন মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকে একটা শিশু এবং পশু। আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় পশুটাকে বার না করার, তবুও কখনো কখনো বেরিয়ে আসে পশুটা। অবিরাম চেষ্টা ধর্মীয় কিছু বিধি নিষেধ প্রয়োগ করে অন্ধকার জগতে আলোর প্রলোভন দেখানো।
কিন্ত একজন নাস্তিকের এই বাড়তি সুবিধাটুকু নেই। তাঁর ভরসা হচ্ছে অর্জিত জ্ঞান। এটুকুই তাঁর পুঁজি- লোটা কম্বল। এখন তাঁর এই ধারণা যদি এমন থাকে সর্বশেষ জ্ঞানটুকু তাঁর কাছে আছে, বেচারা বেঁচে গেল।
হায়রে জ্ঞান! কবেকার জ্ঞান, কোথাকার জ্ঞান, কোন কালের জ্ঞান! একটু যদি এভাবে দেখি, বিষুব রেখার সমতলে পৃথিবীর ব্যাস ৭৯২৭ মাইল, পৃথিবী থেকে সূর্য ১৩ লাখ গুণ বড়। সূর্যের মতো ১ লাখ নক্ষত্র আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়েতে আছে। সাধারণ হিসাবে আমাদের গ্যালাক্সিতে প্রায় দশ হাজার কোটি নক্ষত্রের অস্তিত্ব আছে। আর ইউনিভার্সে আছে বহু মিলিয়ন গ্যালাক্সি- গ্যালাক্সিগুলোর ব্যাস ৫ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত।
আপাততদৃষ্টিতে আমাদের জ্ঞান এসে দাঁড়িয়েছে এ পর্যন্ত:
অনেকটা এমন, অসীম একটা ক্যানভাসে পৃথিবীটা হচ্ছে একটা ডট মাত্র। এই ডটকে ন্যানো ভাগে ভাগ করলে আমাদের দেশ, আমাদের শহর, এই রূমটা, আরও ছোট্ট আমরা একজন।
তো, এই ক্যানভাসে অসীম একটা ছবি আঁকতে হবে অদেখা ভুবনের!
বুদ্ধিমানরা কি বলেন আমি জানি না, আমার বুকের গহীন থেকে হাহাকার করে উঠে- আমি জানি না, আমি কিচ্ছু জানি না!
তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেছিলেন, ভুল। এরা মোটেও অসহায় নন। এরা জেনেশুনেই নাস্তিক হচ্ছেন। অফুরন্ত জ্ঞান নিয়ে।
সাদামাটা দৃষ্টিতে এতে কোন ভ্রান্তি থাকার কথা না। কোন নাস্তিকের চোদ্দপুরূষ নাস্তিক হলে বিষয়টা যত সহজ, অন্যদের বেলায় ততটা না- উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মস্তিস্কের গাদাগাদি করে থাকা বিপুল তথ্যভান্ডার, জেনেটিক কোডের সারি সারি অদেখা উপাত্ত।
আসলে আমার এই বক্তব্যে খানিকটা ভুল ছিল। আমার এই মন্তব্য করার পূর্বে এটা নির্দিষ্ট করা উচিৎ ছিল, কে অসহায়? যে মানুষটা বৃত্তের ভেতর (জন্মসূত্রে পাওয়া প্রচলিত কোন এক ধর্ম), না বাইরে? অবস্থানটা খুব বড়ো একটা ফ্যাক্টর- আদৌ তার অবস্থানটা কোথায়?
বৃত্তের ভেতর থাকাটা বড়োই সুখের, পরিচিত গা ছাড়া ভাব- চিরাচরিত গাদাগাদি ভাবনা। সব ব্যাটা ঈশ্বরের কাঁধে চাপিয়ে দাও। এটা সম্ভবত প্রকৃতিরও বড্ডো পছন্দ। এমনিতে প্রকৃতির প্রচলিত নিয়মে ভারী আমোদ- ব্যতয় তার খুব পছন্দের বিষয় না!
আসলে এঁদের (নাস্তিকদের) অভাগা আমি বলতে চেয়েছিলাম এই অর্থে- এমন একজন, যে বৃত্তের বাইরে এক পা ফেলে রেখেছে, অথচ যার বৃত্তের বাইরের যথেষ্ট জ্ঞান নাই।
জ্ঞান?
বেশ, ধরে নিলাম, একজন মুক্তি পেল অজ্ঞানতাপ্রসূত এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যে প্রত্যেকটা ধর্মই পক্ষপাতদুষ্ট এবং এই ইগো তার ধর্মই সেরা! এই অমোঘ নিয়মে সেই ধর্মানুসারীদের যথারীতি জন্ম নেয় অন্য ধর্মের প্রতি তাচ্ছিল্য। ক্রমশ আটকা পড়া একটা বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খাওয়া। যেন গডরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন, কার সন্তান সেরা এটা প্রমাণে। কেবল তাঁর সন্তানরাই থাকুক দুধে ভাতে, অন্যরা যাক নরকে।
যেমন এক মানুষ বহু মানুষে বিভক্ত হয়েছে। যেমনটা মানুষের হাতকে বিভক্ত করা হয়েছে আঙ্গুলে, কাজের সুবিধার জন্য। মে বী, এত ধর্ম নিশ্চয়ই মানুষের সুবিধার জন্যই হবে। কে জানে, গডকেও ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করা হয়েছে এ কারণে হয়তো বা!
এমনিতে পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম এবং মহাপুরুষদের কাজ তো একটাই, পিস। এই পৃথিবীটা চমৎকার থাকুক। যে যেই ট্র্যাকে আছে সেই ট্র্যাকেই থাকুক, এটাই মঙ্গল। একজন মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকে একটা শিশু এবং পশু। আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় পশুটাকে বার না করার, তবুও কখনো কখনো বেরিয়ে আসে পশুটা। অবিরাম চেষ্টা ধর্মীয় কিছু বিধি নিষেধ প্রয়োগ করে অন্ধকার জগতে আলোর প্রলোভন দেখানো।
কিন্ত একজন নাস্তিকের এই বাড়তি সুবিধাটুকু নেই। তাঁর ভরসা হচ্ছে অর্জিত জ্ঞান। এটুকুই তাঁর পুঁজি- লোটা কম্বল। এখন তাঁর এই ধারণা যদি এমন থাকে সর্বশেষ জ্ঞানটুকু তাঁর কাছে আছে, বেচারা বেঁচে গেল।
হায়রে জ্ঞান! কবেকার জ্ঞান, কোথাকার জ্ঞান, কোন কালের জ্ঞান! একটু যদি এভাবে দেখি, বিষুব রেখার সমতলে পৃথিবীর ব্যাস ৭৯২৭ মাইল, পৃথিবী থেকে সূর্য ১৩ লাখ গুণ বড়। সূর্যের মতো ১ লাখ নক্ষত্র আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়েতে আছে। সাধারণ হিসাবে আমাদের গ্যালাক্সিতে প্রায় দশ হাজার কোটি নক্ষত্রের অস্তিত্ব আছে। আর ইউনিভার্সে আছে বহু মিলিয়ন গ্যালাক্সি- গ্যালাক্সিগুলোর ব্যাস ৫ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত।
আপাততদৃষ্টিতে আমাদের জ্ঞান এসে দাঁড়িয়েছে এ পর্যন্ত:
অনেকটা এমন, অসীম একটা ক্যানভাসে পৃথিবীটা হচ্ছে একটা ডট মাত্র। এই ডটকে ন্যানো ভাগে ভাগ করলে আমাদের দেশ, আমাদের শহর, এই রূমটা, আরও ছোট্ট আমরা একজন।
তো, এই ক্যানভাসে অসীম একটা ছবি আঁকতে হবে অদেখা ভুবনের!
বুদ্ধিমানরা কি বলেন আমি জানি না, আমার বুকের গহীন থেকে হাহাকার করে উঠে- আমি জানি না, আমি কিচ্ছু জানি না!
মস্তিষ্ক বেচারার ঘুম নাই!
মানুষের শরীর আমার কাছে মনে হয় অসীম আশ্চর্য, একজন মানুষের বেঁচে থাকাটাই মহা আশ্চর্য! মস্তিষ্ক হচ্ছে সবচেয়ে জটিল এবং চিন্তার অতীত এক সম্পদ!
ড. স্মীথের স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষকে বুঝতে হলে মস্তিষ্ককে বুঝতে হবে।
মস্তিষ্ক নিয়ে আমি আমার অল্প জ্ঞানে যা বুঝি, আমি কি দেখতে চাই এবং মস্তিষ্ক আমাকে কি দেখাতে চায়? এ এক রহস্য।
এখানে প্রাসঙ্গিক একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। উইলিয়াম জেমস এক লোকের বর্ণনা দিয়েছেন।
বিশেষ ড্রাগ বা ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্ককে অনেকখানি বিভ্রান্ত বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একজন লাফিং গ্যাসের ঘোরে যখন থাকতেন, তখন তিনি দাবী করতেন, তিনি মহাবিশ্বের রহস্য জেনে যেতেন। কিন্ত এই ঘোর কেটে গেলে তিনি মনে রাখতে পারতেন না। তাকে বলা হলো যে কোন রকমে এই রহস্যটা কোন একটা উপায়ে লিপিবদ্ধ করার জন্য। একদা তিনি সমর্থ হলেন কাগজে ওই রহস্য লিখে ফেলতে।
পরে কাগজটা খুলে দেখা গেল, তিনি লিখেছেন, 'চারদিকে পেট্রলিয়ামের গন্ধ'!
সমার্থক একটা কথা আছে হেরাক্লিটাসের, "আমরা একই নদীতে পা দেই এবং দেই না; আমরা আছি এবং নেই।"
প্লেটোর ইউটোপিয়ার এই উপমাটা আমার কাছে দুর্ধর্ষ মনে হয়। একটা গুহায়, কেবলমাত্র একদিকে তাকাতে পারে (বেঁধে রাখার কারণে) কিছু কয়েদিকে আটকে রাখা হলো। তাদের পেছনে আগুন, সামনে দেয়াল- মাঝামাঝি আর কিছু নাই। ছায়াগুলোকে এরা অবধারিতভাবে বাস্তব মনে করবে।
কারণ পেছনের আগুনের উৎস সম্পর্কে এদের কোন ধারণা নাই, মস্তিষ্ককে এর প্রয়োজনীয় উপাত্ত দেয়া হয়নি। অবশেষে একদিন, কেউ, এই গুহা থেকে পালিয়ে সূর্যের আলোতে এসে দাঁড়ালে প্রকৃত বাস্তবের মুখোমুখি হবে এবং নিশ্চিত হবে, এতে দিন যে যেটাকে বাস্তব জেনে এসেছে তা ভ্রান্ত!
ফিরে এলেও, পালিয়ে যাওয়া মানুষটির কথা ওই কয়েদিরা বিশ্বাস করবে না, যে পর্যন্ত না এরা নিজেরা মুক্ত হয়। পালিয়ে যাওয়া মানুষটি এই গুহায় ফিরে এলেও পূর্বের বাস্তবকে এলোমেলো মনে হলেও, অন্যরা এটাই সত্য মেনে প্রকৃত বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া বোকামী মনে করবে।
এই যে আমরা একটা দ্রুতগতির গাড়ির নিচে পড়া থেকে বাঁচার জন্য চোখের নিমিষে সরে পড়ি। খুব সাধারণ একটা ঘটনা। অহরহই হয়।
অথচ মানুষের মস্তিষ্কের কোন কোন ক্যামিকেল রিঅ্যাকশন হতে সময় লাগে সেকেন্ডের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগ। এই যে চট করে সরে পড়লাম এ জন্য মস্তিষ্কের ১ লাখ নিউরোনের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ১ সেকেন্ডেরও অনেক অনেক কম সময়ে।
এরি মধ্যে মস্তিষ্ক তার প্রয়েজনীয় সমস্ত উপাত্ত নিয়ে, এ পর্যন্ত তার অর্জিত তথ্য নিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, কার্যকারিতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর এ মুহূর্তে শরীরের প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে একের পর এক নির্দেশ প্রেরণ করেছে।
অন্য রকম করে দেখা যাক। একজন গাড়ি চালক ঝড়ের গতিতে যাচ্ছেন। সামনে আরেকটা গাড়ি তিনি অতিক্রম করবেন। উল্টো দিক থেকে আরেকটা গাড়িও আসছে। খুব কঠিন কোন কাজ না- প্রায়শ এটা হয়েই থাকে।
এখন অতিক্রম করবেন, কি করবেন না, এ বিষয়ে তিনি একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্তটা আসলে তিনি নিচ্ছেন, নাকি মস্তিষ্ক?
মস্তিষ্ক প্রথমেই যাচাই করবে তার গাড়ির গতি, এরপর সামনের গাড়ির গতি, অবশেষে উল্টো দিক থেকে ছুটে আসা গাড়ির গতি, মাঝখানের দূরত্ব। সব কিছু মিলিয়ে মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেবে আদৌ অতিক্রম করা সম্ভব, কি সম্ভব না।
এবং যথারীতি এই নির্দেশ প্রেরণ করবে শরীরের সমস্ত কল-কব্জায়। এরপর এক্সিলেটর, ক্লাচ, গিয়ারের কারুকাজ। এত কিছুর জন্য মস্তিষ্ক বেচরাকে কি ১ সেকেন্ড সময়ও আদৌ দেয়া হয়!
একজন কৃষকের মস্তিষ্ককে এই হ্যাপা পোহাতে হয় না। গাড়ি সংক্রান্ত কমান্ডের সঙ্গে ওই মস্তিষ্ককে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি।
আরেকটু মোটা দাগে দেখা যাক। একটা চলনসই কম্পিউটারে আনুমানিক হাজার ত্রিশেক ফাইল থাকে, ছোট বড় মিলিয়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, প্রচুর ফাইল নিস্ক্রিয় থাকে বছরের পর বছর ধরে অথচ একটা কমান্ড দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকটিভেট হয়ে তার কাজ শুরু হয়ে দেয় নিমিষেই।
মস্তিষ্ক হচ্ছে, ছুঁরির মতো- যত শান দেয়া হবে, হয়ে উঠবে ততই ক্ষুরধার, ওজনে কিঞ্চিৎ কম, তাতে কী! মস্তিষ্ক বেচারার বড়ো কষ্ট, ঘুমাবার কোন উপায় নাই, মারা যাওয়ার আগ অবধি! বেচারা!!
ড. স্মীথের স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষকে বুঝতে হলে মস্তিষ্ককে বুঝতে হবে।
মস্তিষ্ক নিয়ে আমি আমার অল্প জ্ঞানে যা বুঝি, আমি কি দেখতে চাই এবং মস্তিষ্ক আমাকে কি দেখাতে চায়? এ এক রহস্য।
এখানে প্রাসঙ্গিক একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। উইলিয়াম জেমস এক লোকের বর্ণনা দিয়েছেন।
বিশেষ ড্রাগ বা ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্ককে অনেকখানি বিভ্রান্ত বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একজন লাফিং গ্যাসের ঘোরে যখন থাকতেন, তখন তিনি দাবী করতেন, তিনি মহাবিশ্বের রহস্য জেনে যেতেন। কিন্ত এই ঘোর কেটে গেলে তিনি মনে রাখতে পারতেন না। তাকে বলা হলো যে কোন রকমে এই রহস্যটা কোন একটা উপায়ে লিপিবদ্ধ করার জন্য। একদা তিনি সমর্থ হলেন কাগজে ওই রহস্য লিখে ফেলতে।
পরে কাগজটা খুলে দেখা গেল, তিনি লিখেছেন, 'চারদিকে পেট্রলিয়ামের গন্ধ'!
সমার্থক একটা কথা আছে হেরাক্লিটাসের, "আমরা একই নদীতে পা দেই এবং দেই না; আমরা আছি এবং নেই।"
প্লেটোর ইউটোপিয়ার এই উপমাটা আমার কাছে দুর্ধর্ষ মনে হয়। একটা গুহায়, কেবলমাত্র একদিকে তাকাতে পারে (বেঁধে রাখার কারণে) কিছু কয়েদিকে আটকে রাখা হলো। তাদের পেছনে আগুন, সামনে দেয়াল- মাঝামাঝি আর কিছু নাই। ছায়াগুলোকে এরা অবধারিতভাবে বাস্তব মনে করবে।
কারণ পেছনের আগুনের উৎস সম্পর্কে এদের কোন ধারণা নাই, মস্তিষ্ককে এর প্রয়োজনীয় উপাত্ত দেয়া হয়নি। অবশেষে একদিন, কেউ, এই গুহা থেকে পালিয়ে সূর্যের আলোতে এসে দাঁড়ালে প্রকৃত বাস্তবের মুখোমুখি হবে এবং নিশ্চিত হবে, এতে দিন যে যেটাকে বাস্তব জেনে এসেছে তা ভ্রান্ত!
ফিরে এলেও, পালিয়ে যাওয়া মানুষটির কথা ওই কয়েদিরা বিশ্বাস করবে না, যে পর্যন্ত না এরা নিজেরা মুক্ত হয়। পালিয়ে যাওয়া মানুষটি এই গুহায় ফিরে এলেও পূর্বের বাস্তবকে এলোমেলো মনে হলেও, অন্যরা এটাই সত্য মেনে প্রকৃত বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া বোকামী মনে করবে।
এই যে আমরা একটা দ্রুতগতির গাড়ির নিচে পড়া থেকে বাঁচার জন্য চোখের নিমিষে সরে পড়ি। খুব সাধারণ একটা ঘটনা। অহরহই হয়।
অথচ মানুষের মস্তিষ্কের কোন কোন ক্যামিকেল রিঅ্যাকশন হতে সময় লাগে সেকেন্ডের ১০ লাখ ভাগের এক ভাগ। এই যে চট করে সরে পড়লাম এ জন্য মস্তিষ্কের ১ লাখ নিউরোনের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ১ সেকেন্ডেরও অনেক অনেক কম সময়ে।
এরি মধ্যে মস্তিষ্ক তার প্রয়েজনীয় সমস্ত উপাত্ত নিয়ে, এ পর্যন্ত তার অর্জিত তথ্য নিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, কার্যকারিতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর এ মুহূর্তে শরীরের প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে একের পর এক নির্দেশ প্রেরণ করেছে।
অন্য রকম করে দেখা যাক। একজন গাড়ি চালক ঝড়ের গতিতে যাচ্ছেন। সামনে আরেকটা গাড়ি তিনি অতিক্রম করবেন। উল্টো দিক থেকে আরেকটা গাড়িও আসছে। খুব কঠিন কোন কাজ না- প্রায়শ এটা হয়েই থাকে।
এখন অতিক্রম করবেন, কি করবেন না, এ বিষয়ে তিনি একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্তটা আসলে তিনি নিচ্ছেন, নাকি মস্তিষ্ক?
মস্তিষ্ক প্রথমেই যাচাই করবে তার গাড়ির গতি, এরপর সামনের গাড়ির গতি, অবশেষে উল্টো দিক থেকে ছুটে আসা গাড়ির গতি, মাঝখানের দূরত্ব। সব কিছু মিলিয়ে মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেবে আদৌ অতিক্রম করা সম্ভব, কি সম্ভব না।
এবং যথারীতি এই নির্দেশ প্রেরণ করবে শরীরের সমস্ত কল-কব্জায়। এরপর এক্সিলেটর, ক্লাচ, গিয়ারের কারুকাজ। এত কিছুর জন্য মস্তিষ্ক বেচরাকে কি ১ সেকেন্ড সময়ও আদৌ দেয়া হয়!
একজন কৃষকের মস্তিষ্ককে এই হ্যাপা পোহাতে হয় না। গাড়ি সংক্রান্ত কমান্ডের সঙ্গে ওই মস্তিষ্ককে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি।
আরেকটু মোটা দাগে দেখা যাক। একটা চলনসই কম্পিউটারে আনুমানিক হাজার ত্রিশেক ফাইল থাকে, ছোট বড় মিলিয়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, প্রচুর ফাইল নিস্ক্রিয় থাকে বছরের পর বছর ধরে অথচ একটা কমান্ড দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ্যাকটিভেট হয়ে তার কাজ শুরু হয়ে দেয় নিমিষেই।
মস্তিষ্ক হচ্ছে, ছুঁরির মতো- যত শান দেয়া হবে, হয়ে উঠবে ততই ক্ষুরধার, ওজনে কিঞ্চিৎ কম, তাতে কী! মস্তিষ্ক বেচারার বড়ো কষ্ট, ঘুমাবার কোন উপায় নাই, মারা যাওয়ার আগ অবধি! বেচারা!!
বিভাগ
আয়না
একাত্তরের দিনগুলি/ জাহানারা ইমাম
"...আম্মা, দেশের এ অবস্তায় তুমি যদি আমাকে (রুমী) জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়ত বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইন্জিনিয়ার হবো; কিন্তু বিবেকের ভ্রুকুটির সামনে কোনদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও আম্মা?
…আমি (জাহানারা ইমাম) জোরে দুই চোখ বন্ধ করে বললাম, …ঠিক আছে, তোর কথাই মেনে নিলাম। দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।..."
(১লা মে, শনিবার, ১৯৭১)
…পাকিস্তান আর্মি যুবা ও বয়স্ক লোকদের ধরে এনে এখন আর গুলি করে মেরে ফেলছে না, তাদের শরীর থেকে শেষ বিন্দু পর্যন্ত রক্ত বের করে তারপর লাশ ফেলে দিচ্ছে। এত রক্ত কেন দরকার হচ্ছে? দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের যে যুদ্ধ হচ্ছে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে, তাতে প্রচুর সংখ্যায় পাকিস্তানী সৈন্য জখম হচ্ছে। তাদের চিকিত্সার জন্য প্রচুর রক্ত দরকার। এত রক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কে নেই। তাই এভাবে রক্ত সংগ্রহ করছে।
(৮ আগস্ট, রবিবার, ১৯৭১)
(মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে, রুমী একদিন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে)
"…আমার (জাহানারা ইমাম) চোখ পানিতে ভরে গেল। এখন ধরা গলায় বললাম, না, আমার সামনেই খা (সিগারেট)। অল্প ক-দিনের জন্য এসেছিস। সিগারেট খাওয়ার সময়টুকুও তোকে আড়াল করতে চাই নে।..."
(২৪ আগস্ট, মঙ্গলবার, ১৯৭১)
"...চেনা হয়ে উঠেছে ডা: জাফরুল্লা চৌধুরী, ডা: এম এ মোবিন। এরা দু’জনে ইংল্যান্ডে এফ. আর. সি. এস পড়ছিল। …বিলেতে চার বছর হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর যখন এফ. আর. সি. এস পরিক্ষা মাত্র এক সপ্তাহ পরে, তখনই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু। ছেলে দুটি পরীক্ষা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ আন্দোলনে অংশ নিল, পাকিস্তানী নাগরিকত্ব বর্জন করল…।"
(২৮ আগস্ট, শনিবার, ১৯৭১)
"…আমি বললাম, চুপ কর রুমী, চুপ কর…আমার চোখে পানি টলমল করে এল। হাত বাড়িযে রুমির মাথাটা বুকে টেনে বললাম, রুমী। রুমী এত কম বয়স তোর, পৃথিবীর কিছুই তো জানলি না।
রুমী মুখ তুলে কি রকম যেন হাসল। মনে হল অনেক বেদনা সেই হাসিতে। একটু চুপ থেকে বলল, …যদি চলেও যাই কোন আক্ষেপ নিয়ে যাব না।..."
(২৯ আগস্ট, রবিবার, ১৯৭১)
ক্যাপ্টেন কাইয়ুমের নেতৃত্বে পাক আর্মি রুমী, জামী, জাহানারা ইমামের স্বামী শরীফকে ধরে নিয়ে যায়। সবাই ফেরত আসেন, আসেন না কেবল রুমী। শরীফ সাহেবের উপর চালানো হয় দৈহিক নির্যাতন।
(২০ নভেম্বর, শনিবার, ১৯৭১)
"...আজ ঈদ। রুমি নাই …আমি ভোরে উঠে সেমাই জর্দা রেঁধেছি।
…যদি রুমীর সহযোদ্ধা কেউ আসে এ বাড়ীতে। …তারা কেউ এলে আমি চুপিচুপি নিজের হাতে বেড়ে খাওযাবো। তাদের জামায় লাগিয়ে দেবার জন্য একশিশি আতরও কিনে লুকিয়ে রেখেছি।..."
(১৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, ১৯৭১)
জাহানারা ইমামের স্বামী শরীফ সাহেব হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে কিন্ত ব্লাক আউট থাকায়, লাইফসেভিং মেশিন সময়মতো চালানো যায়নি। ১৮ ডিসেম্বর শরীফ সাহেবের মৃতদেহ বাসায় আনা হয়।)
(১৭ ডিসেম্বর, শুক্রবার, ১৯৭১)
"...আমি মেজর হায়দারকে বললাম, জামী পারিবারিক অসুবিধার কারণে মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারেনি। ও একেবারে পাগলা হয়ে আছে। ওকে কাজে লাগাও।
মেজর হায়দার জামীকে বললেন, …ভেবে দেখ, পারবে কি না। এটা খুব টাফ জব। চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি।
..."
*কেবল বিশেষ বিশেষ অংশ উল্লেখ করা হল।
** মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অন্যান্য লেখা: http://tinyurl.com/37wksnh
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
ধর্ম যাদের বুক পকেটে!
ওনার ইস্তারি(!) সাহেবাও ডাক্তার দু-জনে মিলে একটা ক্লিনিক চালান। মুলত এরা গর্ভবতী মহিলাদের পেট কাটতে খুব আগ্রহ দেখান। কারণটা... পরে আসছি।
একজন রোগী দেখার কারণে এখানে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। রিসেপশন বলতে কোন জিনিসের অস্তিত্ব এখানে নাই। কার কাছে খোঁজ করবো এটাই বুঝতে পারছিলাম না। অল্প কারণেই আমার কপালে ভাঁজ পড়ে এখানের তার ব্যতয় হলো না।
আমি উষ্মা গোপন করতে খুব ভাল করে শিখিনি। আমার উষ্মা দেখে একজন রোগীর আত্মীয় আমায় বললেন, ভাইজান, তবুও এই কিনিকটা ভাল। ডাক্তার সাব ভাল।
আমি রাগ চেপে বললাম, কি রকম?
তিনি বললেন, এই ডাক্তার সাব ক-দিন আগে হজ করেছেন।
আমি বিস্ময় চেপে গেলাম। এখানে হাজী বা আলহাজের সঙ্গে ডাক্তার ভাল, এ তর্ক করা করা বাতুলতা।
পরিচিত একজন ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টিভকে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। তাঁর সহায়তায় নির্দিষ্ট কেবিন খুঁজে পেলাম। বিচিত্র, ভয়াবহ কিছু তথ্যও পেলাম। উক্ত রিপ্রেজেন্টিভ এই ডাক্তার সাহেবকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেন। তার কোম্পানীর এলেবেলে ওষুধ চালিয়ে দেয়ার জন্য।
ভয়াবহ তথ্যটা হচ্ছে মফস্বলের হাসপাতাল থেকে অকারণেই গর্ভবতী মহিলাদের পেট কাটার জন্য এখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই কষ্ট স্বীকার করার জন্য মফস্বলের ডাক্তার সাহেবরা রোগী পিছু ২ হাজার টাকা করে পান। এই ক্লিনিকে চার্জ নেন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
এই পুরুষ ডাক্তার সাহেব খুবই পরহেজগার মানুষ হজের পাশাপাশি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পর্দাও করেন। বাড়তি নমুনা পেলাম তার চেম্বারের বাইরে টাঙ্গানো নির্দেশ থেকে।
আমাদের মতো নাদান বান্দারা এদের দেখে মন খারাপ করা নিঃশ্বাস ফেলি, ধর্ম এদের বুক পকেটে আমাদের কি হবে রে!
জয় রাজাকার- জয় শান্তি কমিটি!
বাগেরহাট, খুলনা। ২৪ এপ্রিল এখানে পাক আর্মি এসেই ১০০ জনের বেশী মানুষকে হত্যা করে। বাড়ী ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়- লুটপাট করে।
মে মাসে এখানে শান্তি কমিটি এবং সেই সঙ্গে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। রজব আলী ফকির শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়। পাক আর্মি থেকে রাজাকাররাই অত্যাচার করেছে সীমাহীন!
বাগেরহাটে যতো হিন্দু ছিল- এদের কিছু সংখ্যককে রাজাকাররা হত্যা করে। বাকী সবাইকে মুসলমান ধর্মে জোর করে দীতি করে- এদের আপত্তি উপো করে! একের পর এক গ্রাম এরা হিন্দুদের জোর করে মুসলমান বানাতে থাকে!
শ্রীমতি দিপালী- ধর্মান্তরিত হয়ে তাহমিনা বেগম বলেন:আমি আমার স্বামী, বাবা মা, কাকা কাকী, তাদের ছেলেমেয়েসহ, সবাই আমরা প্রাণ বাঁচাতে মুসলমান হই! কিন্ত রাজাকাররা এরপরও অনেককে ছাড়েনি- নৃশংসভাবে হত্যা করেছে!
একদিন গভীর রাতে ৫০/৬০ জন রাজাকার আমাদের বাড়ীতে আসে- মুক্তিবাহিনী পরিচয় দিয়ে থাকতে চায় রাতের জন্য। কিন্তু আমার ভাই প্রদীপ গুহ এদের দেখেই চিনে ফেলে যে এরা রাজাকার- সে ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নীচে নেমে পালাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্ত রাজাকাররা তাকে ধরে ফেলে- তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
আরেকদিন আমাদের গ্রামে রাজাকাররা আসে। ওই দিন আমাদের বাড়ীতে ঢুকে, আমার দিদিমাকে লেপ কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করে।আমার দিদিমা আগুনে পুড়তে পুড়তে চিৎকার করছিলেন- কিন্ত রাজাকারররা কাউকে এগুতে দেয়নি।
গ্রামের মেয়েদের ধরে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে, তারপর গুলি করে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে!
বিখ্যাত ব্যবসায়ী বলরাম সাহাকে হত্যা করে, তার বিরাট দোকানের গদীর উপর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান রজব আলী বসতো, তাকে ঘিরে থাকতো রাজাকাররা! ওখানে একটা ঘরে রাজাকাররা লোকদের জবাই করতো! রজব আলীর নির্দেশ ছিল, প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক জবাই করতে হবে- প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক ধরে এনে এখানে জবাই করতোই!
ধর্ষিতা অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে- কেউ গলায় দড়ি দিয়ে, কেউ বিষ খেয়ে- পাশবিক অপমান সহ্য করতে না পেরে। নদীর ঘাটে আমি দড়িবাঁধা অবস্তায় ৪/৫জন লোককে গলাকাটা অবস্তায় পেয়েছি।রাজাকাররা গলা সম্পূর্ন কাটতো না, অল্প কেটে ছেড়ে দিত, আস্তে আস্তে তারা মারা যেত ছটফট করে।
আমার মনে হয়, সমস্ত দেশে রাজাকাররা এমন নৃশংস অত্যাচার আর কোথাও করেনি।
*সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নং: ২৪০-২৪১
**ভাষা ঈষৎ পরিবর্তিত।
মে মাসে এখানে শান্তি কমিটি এবং সেই সঙ্গে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। রজব আলী ফকির শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়। পাক আর্মি থেকে রাজাকাররাই অত্যাচার করেছে সীমাহীন!
বাগেরহাটে যতো হিন্দু ছিল- এদের কিছু সংখ্যককে রাজাকাররা হত্যা করে। বাকী সবাইকে মুসলমান ধর্মে জোর করে দীতি করে- এদের আপত্তি উপো করে! একের পর এক গ্রাম এরা হিন্দুদের জোর করে মুসলমান বানাতে থাকে!
শ্রীমতি দিপালী- ধর্মান্তরিত হয়ে তাহমিনা বেগম বলেন:আমি আমার স্বামী, বাবা মা, কাকা কাকী, তাদের ছেলেমেয়েসহ, সবাই আমরা প্রাণ বাঁচাতে মুসলমান হই! কিন্ত রাজাকাররা এরপরও অনেককে ছাড়েনি- নৃশংসভাবে হত্যা করেছে!
একদিন গভীর রাতে ৫০/৬০ জন রাজাকার আমাদের বাড়ীতে আসে- মুক্তিবাহিনী পরিচয় দিয়ে থাকতে চায় রাতের জন্য। কিন্তু আমার ভাই প্রদীপ গুহ এদের দেখেই চিনে ফেলে যে এরা রাজাকার- সে ছাদ থেকে গাছ বেয়ে নীচে নেমে পালাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্ত রাজাকাররা তাকে ধরে ফেলে- তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
আরেকদিন আমাদের গ্রামে রাজাকাররা আসে। ওই দিন আমাদের বাড়ীতে ঢুকে, আমার দিদিমাকে লেপ কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করে।আমার দিদিমা আগুনে পুড়তে পুড়তে চিৎকার করছিলেন- কিন্ত রাজাকারররা কাউকে এগুতে দেয়নি।
গ্রামের মেয়েদের ধরে নিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে, তারপর গুলি করে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে!
বিখ্যাত ব্যবসায়ী বলরাম সাহাকে হত্যা করে, তার বিরাট দোকানের গদীর উপর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান রজব আলী বসতো, তাকে ঘিরে থাকতো রাজাকাররা! ওখানে একটা ঘরে রাজাকাররা লোকদের জবাই করতো! রজব আলীর নির্দেশ ছিল, প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক জবাই করতে হবে- প্রত্যোকদিন ১০ জন লোক ধরে এনে এখানে জবাই করতোই!
ধর্ষিতা অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে- কেউ গলায় দড়ি দিয়ে, কেউ বিষ খেয়ে- পাশবিক অপমান সহ্য করতে না পেরে। নদীর ঘাটে আমি দড়িবাঁধা অবস্তায় ৪/৫জন লোককে গলাকাটা অবস্তায় পেয়েছি।রাজাকাররা গলা সম্পূর্ন কাটতো না, অল্প কেটে ছেড়ে দিত, আস্তে আস্তে তারা মারা যেত ছটফট করে।
আমার মনে হয়, সমস্ত দেশে রাজাকাররা এমন নৃশংস অত্যাচার আর কোথাও করেনি।
*সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা নং: ২৪০-২৪১
**ভাষা ঈষৎ পরিবর্তিত।
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
শৈশবের স্তম্ভ!
ওই যে বললাম স্তম্ভ! আমার শৈশবের কৌশরের খেলার সাথি, ২জন- যাদেরকে আমি আমার শৈশবের স্তম্ভ বলি। আমার মতো অগাবগা, আজ এখান পর্যন্ত আসার পেছনে এদের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ অন্তত আমার নাই!
একজন ছিল ধোপার ছেলে সেন্টু। প্রায়শ দেখা হয়। কথা হয়। ও এখনও বাপ দাদার পেশাতেই আছে। আগে এই নিয়ে তার বেদনার শেষ ছিল না। আমার সামান্য জ্ঞান দিয়ে অন্তত এটা তাকে বোঝাতে পেরেছি। তুমি যে পেশায় আছো এটা অসৎ কোন পেশা না, সৎ পেশা- চোখ নীচু করে থাকাটা অন্যায়। এক দিন বাপ ছেলে মিলে পোজ দিয়ে ছবি তুলল। ফটাফট ছবি তুললাম, গভীর ভাল লাগায় ভাসতে ভাসতে।
আমার বুকের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। এই ২টা স্তম্ভের অন্যজন ছিল মুচির ছেলে গাদুরা। আমি ডাকতাম গাধু বলে। ও আমাকে ডাকতো চারচোখ বা চারচোইখা বলে। শৈশব থেকেই আমাকে চশমা ব্যবহার হতো।
এই গাধু বদটা পরে পচাই খেতে খেতে মরেই গেল আমি বদের বদটাকে নাগাল পেলাম না- নইলে বলতাম, গাধু, গাধার মতো মরে গেলি, কাজটা কি ঠিক হলো? ১টা ছবি তুলে রাখার সুযোগ দিলি না!
আমি জানোয়ার, ভাগীরথী মনে করিয়ে দেয়!
ফ্রিডম বইটিতে আমি প্রচুর উপাত্ত, লেখা নিয়েছি, মুক্তিযুদ্ধের উপর কিছু অসাধারণ গ্রন্থ থেকে। ওগুলোর মাঝ থেকে, এটা আমার অসম্ভব পছন্দের একটি লেখা। এ লেখাটি আমাকে ভাবায়, আমি যে একটা জানোয়ার এটা বারংবার মনে করিয়ে দেয়! কী অবলীলায় আমরা ভুলে যাই এই বালিকাটির আত্মত্যাগের কথা। কেমন করে বিস্মৃত হই অসমসাহসী ১০ বছরের বালকযোদ্ধা লালুর কথা!
তোতা পাখির মতো ক্রমাগত আউড়ে যাই গুটিকয়েক মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা।
বিশেষ একটা মাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাতর হই, মুখে ফেনা তুলে ফেলি। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে হৃদপিন্ড, অনবরত ধুকধুক করে চলতেই থাকবে। যে দিন আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পুরাপুরি বিস্মৃত হবো, সেই দিন আমরা পরিণত হবো একটা লাশে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা বই লেখা ছিল আমার স্বপ্ন। প্রচলিতভাবে আমি লেখতে চাইনি। আমি চেয়েছি এই প্রজন্মের চোখ দিয়ে দেখতে। কোন উঁচুমাপের লোক এটা পড়লেন, না কোন সাহিত্য সম্পাদক এর আলোচনা করলেন, এতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি তীব্র সুখী হই এ প্রজন্মের একজন পড়লে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খানিকটা আবেক্রান্ত হলে।
প্রবাসী আমার এক বন্ধুর অনুরোধে আমি ফ্রিডম থেকে খানিকটা এখানে তুলে দিচ্ছি:
"…বর্বরতার রেকর্ড (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড)
মহাদেবের জটা থেকে নয় বাংলা মায়ের নাড়ী থেকে ছিঁড়ে জন্ম নিয়েছিলেন যে সোনার মেয়ে, সে ভাগীরথীকে ওরা জ্যান্ত জীপে বেঁধে শহরের রাস্তায় টেনে টেনে হত্যা করেছে। খান দস্যুরা হয়তো পরখ করতে চেয়েছিল ওরা কতখানি নৃশংস হতে পারে। বলতে হয় ওরা শুধু সফলই হয়নি, বর্বরতার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
অষ্টাদশী ভাগীরথী ছিল বরিশাল জেলার পিরোজপুর থানার বাঘমারা কদমতলীর এক বিধবা পল্লীবালা। বিয়ের এক বছর পর একটি পুত্র সন্তান কোলে নিয়েই তাকে বরণ করে নিতে হয় সুকঠিন বৈধব্য। স্বামীর বিয়োগ ব্যথা তার তখনও কাটেনি। এরই মধ্যে দেশে নেমে এল ইয়াহিয়ার ঝটিকা বাহিনী। গত মে মাসের এক বিকালে ওরা চড়াও হলো ভাগীরথীদের গ্রামে। হত্যা করলো অনেককে যাকে যেখানে যেভাবে পেলো।
এ নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ভাগীরথীকে ওরা মারতে পারলোনা। ওর দেহলাবণ্য দস্যুদের মনে যে লালসা জাগিয়েছিল তাতেই হার মানল তাদের রক্ত পিপাসা। ওকে ট্রাকে তুলে নিয়ে এল পিরোজপুরে। তারপর ক্যাম্পে তার উপর চালানো হলো হিংস্র পাশবিক অত্যাচার।
সতী নারী ভাগীরথী। এ পরিস্থিতিতে মৃত্যুকে তিনি একমাত্র পরিত্রাণের উপায় বলে ভাবতে লাগলেন। ভাবতে ভাবতেই এক সময় এল নতুন চিন্তা- হ্যাঁ মৃত্যুই যদি বরণ করতে হয় ওদেরই বা রেহাই দেব কেন? ভাগীরথী কৌশলের আশ্রয় নিল এবার।
এখন আর অবাধ্য মেয়ে নয় দস্তরমত খানদের খুশী করতে শুরু করল, ওদের আস্থা অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগলো। বেশীদিন লাগলোনা, অল্প কদিনেই নারী লোলুপ ইয়াহিয়া বাহিনী ওর প্রতি দারুণ আকর্ষণ অনুভব করল। আর এই সুযোগে ভাগীরথী ওদের কাছে থেকে জেনে নিতে শুরু করল পাক বাহিনীর সব গোপন তথ্য। এক পর্যায়ে বিশ্বাস ভাজন ভাগীরথীকে ওরা নিজের ঘরেও যেতে দিল। আর কোন বাঁধা নেই। ভাগীরথী এখন নিয়মিত সামরিক ক্যাম্পে যায় আবার ফিরে আসে নিজ গ্রামে।
এরই মধ্যে চতুরা ভাগীরথী তাঁর মূল লক্ষ্য অর্জনের পথেও এগিয়ে গেল অনেকখানি। গোপনে মুক্তি বাহিনীর সাথে গড়ে তুলল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এরপরই এল আসল সুযোগ। জুন মাসের একদিন ভাগীরথী খান সেনাদের নিমন্ত্রণ করলো তাঁর নিজ গ্রামে।
এদিকে মুক্তি বাহিনীকেও তৈরী রাখা হলো যথারীতি। ৪৫ জন খান সেনা হাসতে হাসতে বাগমার কদমতলা নিমন্ত্রণ খেতে এসেছিল কিন্তু তার মধ্যে ৪/৫ জন ক্যাম্পে ফিরতে পেরেছে বুলেটের ক্ষত নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে। বাকিরা ভাগীরথীর গ্রামেই শিয়াল কুকুরের খোরাক হয়েছে।
এরপর আর ভাগীরথী ওদের ক্যাম্পে যায়নি। ওরাও বুঝেছে, এটা তারই কীর্তি। পাক আর্মিরা তাই হুকুম দিল জীবিত অথবা মৃত ভাগীরথীকে যে ধরিয়ে দিতে পারবে তাকে নগত এক হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। কিন্ত ভাগীরথী তখনও জানতো না ওর জন্য আরও দুঃসহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। একদিন রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লো ভাগীরথী। তাকে নিয়ে এল পিরোজপুর সামরিক ক্যাম্পে।
খান সেনারা এবার ভাগীরথীর উপর তাদের হিংস্রতার পরীক্ষার আয়োজন করলো। এক হাটবারে তাকে শহরের রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হলো জনবহুল চৌমাথায়। সেখানে প্রকাশ্যে তার অঙ্গাবরণ খুলে ফেলল কয়েকজন খান সেনা। তারপর দু’গাছি দড়ি ওর দু’পায়ে বেঁধে একটি জীপে বেঁধে জ্যান্ত শহরের রাস্তায় টেনে বেড়াল ওরা মহাউৎসবে। ঘন্টাখানেক রাজপথ পরিক্রমার পর আবার যখন ফিরে এল সেই চৌমাথায় তখনও ওর দেহে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। এবার তারা দুটি পা দুটি জীপের সাথে বেঁধে নিল এবং জীপ দুটিকে চালিয়ে দিল বিপরীত দিকে। ভাগীরথী দুভাগ হয়ে গেল।
সেই দু-ভাগে দু-জীপে আবার শহর পরিক্রমা শেষ করে জল্লাদ খানরা আবার ফিরে এল সেই চৌমাথায় এবং এখানেই ফেলে রেখে গেল ওর বিকৃত মাংসগুলো। একদিন দু’দিন করে সে মাংসগুলো ঐ রাস্তার মাটির সাথেই একাকার হয়ে গেল এক সময়। বাংলামায়ের ভাগীরথী এমনি ভাবে আবার মিশে গেল বাংলার ধুলিকণার সাথে…।"
*ভাষারীতি অবিকল রাখা হয়েছে।
বিভাগ
ফ্রিডম
একটি কাকতাড়ুয়ার আত্মকাহিনী
আমার একটি কাকতাড়ুয়ার ছবির প্রয়োজন ছিল। কই পাই? খোঁজ-খোঁজ-খোঁজ। পেলাম না। এখন নাকি কৃষকরা কাঠির আগায় সারের পলিব্যাগ লাগিয়ে রাখে! সিদ্ধান্ত নিলাম একটা কাকতাড়ুয়া বানিয়ে ফেলব। এ্যাহ, বললেই হল! কাকতাড়ুয়া কী বাদামের ছুলকা! অবশেষে একজন পাকোয়াজ(!) মানুষের খোঁজ পাওয়া গেল। ইনি নাকি কাকতাড়ুয়া বানাতে ওস্তাদ।
গেলাম। মোষের মত কালো একজন মানুষ, খালি গায়ে, মালকাছা দিয়ে লুঙ্গি পরনে। চোখের দৃষ্টি নিরাসক্ত।
আমি বললাম, আপনি নাকি কাকতাড়ুয়া বানাতে পারেন?
মানুষটা গম্ভীর, এইডা কি জিনিস, না জানলে বানামু কেমনে?
বুঝিয়ে বলার পর মাছি তাড়াবার ভঙ্গিতে হাত নাড়লেন, অ, বুজছি, কাউয়া হাগানি।
আমি বিভ্রান্ত, কি বললেন, আগামাথা নাই।
ঠিকই বলছি, এইটার উপর বইয়া কাউয়া হাগে।
আমি বিরক্তি চেপে বললাম, ধ্যাৎ!
মানুষটা এবার খানিকটা ছাড় দিয়ে বললেন, আইচ্ছা যান, কাউয়া হাগানি না, কাউয়া ভাগানি। তয়, এইটা দিয়া আপনের কাম কি?
আমার বিরক্তির একশেষ। মানুষটার সে সম্বন্ধে কোন হুঁশ নাই।
আপনের কাম হয়া যাইব। পাতিল লাগব, বন (খড়) লাগব, বাঁশ, দড়ি, ডেগের কালি, চট...।
আমি চকচকে চোখে ভাবলাম, বাপধন, প্রাণটা চাইতে দোষ কী ছিল! আমি এসব পাব কোথায়? বললাম, আপনি যোগাড় করেন, টাকার ব্যবস্থা হবে।
নির্দিষ্ট সময়ে গেলাম। অরি আল্লা, এ করেছে কি! এটাকে কাকতাড়ুয়া বলা যাবে কি আদৌ! প্যান্ট আছে, শার্টও আছে ইন করা। দেখ দেখি কান্ড, এর পায়ে একটা জুতাও শোভা পাচ্ছে।
আমি মানুষটা উপর খানিকটা বিরক্তও। এ নির্ঘাত এসেবের জন্য গলাকাটা দাম চার্জ করবে- বাগে পেলে যা হয় আর কি।
মানুষটার কাঠখোট্টা গলা, কি, পুতলা পছন্দ হয় নাই?
আমি উচ্ছ্বাস চেপে বললাম, তা হয়েছে কিন্ত এই শার্টের জন্য আলাদা টাকা...।
মানুষটা উদাস ভঙ্গিতে বলল, শার্টটা আমার। থাউক, দিতে হইব না।
প্যান্ট?
আমার পুলার। থাউক, দিলে হইব না। আপনের পছন্দ হইছে এইটাই বড় কথা। কেউ তো এইগুলা এখন আর বানায় না। আপনের উছিলায় একটা বানাইলাম। মজা পাইছি। শখের তোলা আশী টেকা, মজার তোলা একাশী টেকা।
এইবার আমি মানুষটার দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালাম। আগের কাঠিন্য ধরে রেখেছে ঠিকই কিন্ত চোখ হাসি হাসি।
কাকতাড়ুয়া নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে আমার বারান্দার এক কোনায়। কাক ওকে, ও কাককে, কেউ কাউকে বিরক্ত করে না। কে জানে, আমার চোখের দেখার ভুল- কখনও কখনও আমার মনে হয়, কাকতাড়ুয়াটার অদ্ভুত মুখে অন্য রকম একটা ভাব খেলা করে। অবিকল ওই মানুষটার কাঠিন্যময় মুখ, তলতলে চোখ!
একটি কাকতাড়ুয়ার আত্মকাহিনী:
আমি না চিজকে; জাঁক করে বলি, আমার অফিসিয়াল নেম কাকতাড়ুয়া। যে মানব আমাকে ইহধামে আনায়ন করিবার নিমিত্তে নির্দেশ প্রদান করিলেন, সেই মানবের কথা বলিয়া আপনাদের সময়ের অপচয় করিবার সাহস কস্মিনকালেও আমার নাই! বিশেষ সময়ে তাহার মাথায় গোলমাল হয় ইহা সত্য নহে। তাহার মাথায় গোলমাল লাগিয়াই আছে- সারিয়া উঠিবে ইহার কোন দিশা পাইবার যো নাই।
মানবটি কোন বুদ্ধিতে আমাকে এখানে আনিয়া দাঁড় করাইয়া রাখিয়াছে! হায়, এখানে কোন কাজ করিবার অবকাশ কোথায়! হায়রে মানুষ, খোলা মাঠে কাক তাড়াইয়া যে সুখ তাহা এই বদ্ধ ঘরে কোথায়? এইসব অর্বাচীন বুঝিতে পারিবে এই দুরাশা করিবার অভিলাষও আমার নাই। ছ্যা, ইহাকেই কি বলে জীবন, তাইলে বাঁচিয়া থাকা কেন!
কেন কেন কেন? (মুষ্টিঘাত)!
অন লাইন প্রশ্ন: ৪
একটি বাংলা ওয়েব-সাইটে দীর্ঘদিন লেখালেখির সুবাদে একটা অন-লাইন সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল আমার মতো অগাবগা মানুষের। সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন, কৌশিক আহমেদ। মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং যারা প্রশ্ন করে আমার আলো-অন্ধকার বের করে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
অন লাইনে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
প্রশ্ন: আপনি নিজেকে প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেন?
উত্তর: আমি প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেছি? আমার একাডেমিক শিক্ষার যে বহর এটা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস- এমন একটা ডিগ্রি আজকাল একজন কেরানীরও থাকে! এস.এস.সি করেছি সায়েন্স নিয়ে, স্বপ্ন ছিল বিরাট বিজ্ঞানি হব। সায়েন্সে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় বলে এইচ.এস.সি-তে নিলাম কমার্স। ওয়াল্লা, কমার্সেও দেখি নিয়মিত ক্লাশ করতে হয়! কমার্স থেকে এইচ.এস.সি করে গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টস থেকে। আমি প্রশ্নের উত্তর তেমন করে শিখতাম না। মূল বিষয় পড়ে হাবিজাবি যা মনে আসত তাই পরীক্ষার খাতায় লিখে দিতাম। আমার আসলে গতবাঁধা একটা বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন পড়ে একটা চলনসই ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল- ব্যস, আর কিচ্ছু না! কিন্তু আজকাল এমন একটা সনদ থাকা না-থাকা সমান! আইন নিয়ে কিছুদিন ঝুলে রইলাম। ঝুলাঝুলিই সার, ভাল লাগল না।
প্রশ্ন: কি ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন?
উত্তর: পড়ার কোন আগামাথা নাই। আর সবচেয়ে বাজে অভ্যাস হচ্ছে, একসঙ্গে অনেকগুলো বই পড়া। অভ্যাস হয়ে গেছে। উদাহরণ দেই, এখন পড়ছি, মিলান কুন্ডেরার 'দ্য জোকস'। প্রথমে ভালই লাগছিল এখন আর ভাল লাগছে না। রুশোর 'কনফেশন'। জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলো' আগে পড়েছিলাম বিচ্ছিন্নভাবে, আবারও পড়ছি। আকুতাগাওয়ার গল্প, 'রাসোমন' গল্পটার এতো নাম, অথচ আমার একদম ভালো লাগেনি। কিন্ত এর পরের একটা গল্প অসাধারণ। নামটা মনে নাই! ওহ ভালো কথা, আরেকটা হচ্ছে, 'সোলেমানী তাবিজ'। কি ভাবে একজনকে বশ করা যায় এইসব। হা হা হা। না-না, কাউকে বশ করার জন্য না। অনেক সময় এইসব লেখার খুব কাজে লাগে!
আমার বুদ্ধিশুদ্ধির একটা মজার ঘটনা বলি, আপনার মতই একজন কোন এক বিচিত্র কারণে আমার লেখালেখির প্রতি অযাচিত মমতা দেখান। তো, হঠাৎ একদিন বললেন, আচ্ছা, আপনি শেষের কবিতা পড়েছেন, কেমন লেগেছে আপনার কাছে?
আমি খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত, বললাম, ভাইরে, আমি তো কবিতা খুব কম পড়ি। তিনি হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। সম্ভবত মনে মনে ভাবছিলেন, কেন, এই গর্দভের লেখা পড়ি! হা হা হা!
পরক্ষণেই আমার মনে পড়লো অমিত-লাবন্যর কথা। যে বইটা আমি কয়েকবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ করতে পারিনি, জানি না কেন আমার ভালো লাগেনি! রবি দাদার লোকজনরা আমাকে পেলে পিটিয়েই মেরে ফেলবেন। অথচ রবি দাদার ছোট গল্প আমার কাছে মনে হয় একেকটা মাস্টারপীস! আমার মনে হয়, ছোট গল্পে দাদা এমন কোন বিষয় নেই বাদ রেখেছেন। বারবার পড়তে ইচ্ছা করে।
আমার সমস্যাটা কি জানেন, একজন পছন্দের লেখক, তা তিনি যতো নামকরাই হোন না কেন। তাঁর সব লেখা ভাল লাগতেই হবে বা তিনি যা লিখেছেন সব পাতে দেয়ার মতো, এতে আমার আপত্তি প্রবল আপত্তি আছে!
প্রশ্ন: বেশীর ভাগ সময় কোথায় কাটান?
উত্তর: আমার নিজস্ব ছোট্ট একটা রুম আছে। হেনতেন সবই এটায় থাকে। এমনকি স্টাফ করা ব্যাঙও পাওয়া যাবে। তো, আমার গানশোনা, মুভি দেখা, বই পড়া প্রায় সবকিছুই এখানে। এমনিতে আমার বই পড়া হয় তিনবেলা খাওয়ার সময়। বদ অভ্যাস, এ নিয়ে বাসার সবাই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ থাকে। অনেক দিন দেখা গেছে টেবিলে তরকারীর একটা পদ রয়ে গেছে অথচ আমার খাওয়া শেষ! হা হা হা!
প্রশ্ন: আপনার কনকপুরুষের পর আর বই এখান থেকে ছাপা হয়নি?
উত্তর: আসলে প্রজাপতি প্রকাশনের যে উপন্যাসটার কথা বলছেন এটায় আমার কোন কৃতিত্ব নাই। এদের মার্কেটিং অসাধারণ। বই চলে এদের মার্কেটিং এবং এদের প্রকাশনার নামে। ইদানিং এদের আর আগের মতো সেই দবদবা নাই কারণ, এরা অন্য লেখককে অবমূল্যায়ন করা শুরু করেছেন। আত্মীয় স্বজনরাই লিখছেন! পরে ওখানে আর লেখা হয় নাই।
কিছু কারণ ছিল, একবার এদের অফিসে গেলাম। আমাকে অফিস সহকারী বললেন, কাজী স্যার ব্যস্ত, ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। আমি বসে আছি তো বসেই আছি। অফিসের সবাই গল্পগুজব করছে। নিজেকে একটা ফার্নিচার ফার্নিচার মনে হচ্ছিল, লাইক আ বেগার! পরে কাজীদাকে কঠিন একটা চিঠি দিয়েছিলাম। ওই অফিস সহকারী চিঠি লিখে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তার নাকি আমার কথা মনে ছিল না! কিন্তু আর যাওয়া হয়নি।
আমার রয়েলটির কিছু টাকা এখনো এদের কাছে পাই। অনেকবার অনুরোধ করেছি, আমার টাকাটা ডাকে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু এদের এক গোঁ, স্বয়ং এসে নিয়ে যেতে হবে। আমিও রাগ করে বলে দিয়েছিলাম, যান, টাকাটা আপনাদেরকে দান করে দিলাম!
প্রশ্ন: আপনার নিজেকে কি ধরনের মানুষ মনে হয়…?
উত্তর: সত্যি বলি, আমার নিজেকে একজন পোকামানব মনে হয়!
প্রশ্ন: আপনার কোন কষ্টের স্মৃতি…?
উত্তর: অনেক। শুধু একটা শেয়ার করি। ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে আমার বাবা রাত ২টার পর মারা যান। আমার বয়স তখন ১৬। ওদিন কোন এক কারণে আমি ছাড়া তাঁর কাছে কেউ ছিল না। তাঁর যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। পৃথিবীতে এতো বাতাস কিন্তু এক ফোঁটা বাতাসের জন্য মানুষটা কী আকুতি! আমি পাগলের মতো ডাক্তার, নার্সের জন্য ছুটাছুটি করছি। এ অভাগা দেশে যা হয় আর কি, কাউকে পাচ্ছিলাম না। একবার মনে হলো ছাদে গিয়ে লাফ দেই। আই ডোন্ট নো হোয়াই, এখন প্রায়শ আমার মনে হয়, কেন সে দিন লাফ দিলাম না? হয়তো আমি একজন ভীতু মানুষ বলে! আমি বাবার হাত ধরে আছি।
বাবা বারবার বলছিলেন, খোকা, বড়ো কষ্ট, আমাকে একটু অক্সিজেন দিতে বল! ইশ-শ, বললেই হলো! ১৬ বছরের এক কিশোরের কাছে এটা না চেয়ে তুমি অন্য কিছু চাইতে! আমার মুঠোর ভেতর ক্রমশ তাঁর হাত শীতল হয়ে আসে।
এক সময় ডাক্তার আমাকে নিশ্চিত করেন, এই মানুষটা আমার বাবা না, একটা লাশ! শুরু হয় প্রিয়মানুষের একটা লাশ নিয়ে ভোরের প্রতিক্ষা!
কিন্তু ভোর তো আর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না কিন্ত কেউ কেউ হাল ছেড়ে দেয়…।
অন লাইনে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
প্রশ্ন: আপনি নিজেকে প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেন?
উত্তর: আমি প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেছি? আমার একাডেমিক শিক্ষার যে বহর এটা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস- এমন একটা ডিগ্রি আজকাল একজন কেরানীরও থাকে! এস.এস.সি করেছি সায়েন্স নিয়ে, স্বপ্ন ছিল বিরাট বিজ্ঞানি হব। সায়েন্সে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় বলে এইচ.এস.সি-তে নিলাম কমার্স। ওয়াল্লা, কমার্সেও দেখি নিয়মিত ক্লাশ করতে হয়! কমার্স থেকে এইচ.এস.সি করে গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টস থেকে। আমি প্রশ্নের উত্তর তেমন করে শিখতাম না। মূল বিষয় পড়ে হাবিজাবি যা মনে আসত তাই পরীক্ষার খাতায় লিখে দিতাম। আমার আসলে গতবাঁধা একটা বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন পড়ে একটা চলনসই ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল- ব্যস, আর কিচ্ছু না! কিন্তু আজকাল এমন একটা সনদ থাকা না-থাকা সমান! আইন নিয়ে কিছুদিন ঝুলে রইলাম। ঝুলাঝুলিই সার, ভাল লাগল না।
প্রশ্ন: কি ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন?
উত্তর: পড়ার কোন আগামাথা নাই। আর সবচেয়ে বাজে অভ্যাস হচ্ছে, একসঙ্গে অনেকগুলো বই পড়া। অভ্যাস হয়ে গেছে। উদাহরণ দেই, এখন পড়ছি, মিলান কুন্ডেরার 'দ্য জোকস'। প্রথমে ভালই লাগছিল এখন আর ভাল লাগছে না। রুশোর 'কনফেশন'। জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলো' আগে পড়েছিলাম বিচ্ছিন্নভাবে, আবারও পড়ছি। আকুতাগাওয়ার গল্প, 'রাসোমন' গল্পটার এতো নাম, অথচ আমার একদম ভালো লাগেনি। কিন্ত এর পরের একটা গল্প অসাধারণ। নামটা মনে নাই! ওহ ভালো কথা, আরেকটা হচ্ছে, 'সোলেমানী তাবিজ'। কি ভাবে একজনকে বশ করা যায় এইসব। হা হা হা। না-না, কাউকে বশ করার জন্য না। অনেক সময় এইসব লেখার খুব কাজে লাগে!
আমার বুদ্ধিশুদ্ধির একটা মজার ঘটনা বলি, আপনার মতই একজন কোন এক বিচিত্র কারণে আমার লেখালেখির প্রতি অযাচিত মমতা দেখান। তো, হঠাৎ একদিন বললেন, আচ্ছা, আপনি শেষের কবিতা পড়েছেন, কেমন লেগেছে আপনার কাছে?
আমি খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত, বললাম, ভাইরে, আমি তো কবিতা খুব কম পড়ি। তিনি হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। সম্ভবত মনে মনে ভাবছিলেন, কেন, এই গর্দভের লেখা পড়ি! হা হা হা!
পরক্ষণেই আমার মনে পড়লো অমিত-লাবন্যর কথা। যে বইটা আমি কয়েকবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ করতে পারিনি, জানি না কেন আমার ভালো লাগেনি! রবি দাদার লোকজনরা আমাকে পেলে পিটিয়েই মেরে ফেলবেন। অথচ রবি দাদার ছোট গল্প আমার কাছে মনে হয় একেকটা মাস্টারপীস! আমার মনে হয়, ছোট গল্পে দাদা এমন কোন বিষয় নেই বাদ রেখেছেন। বারবার পড়তে ইচ্ছা করে।
আমার সমস্যাটা কি জানেন, একজন পছন্দের লেখক, তা তিনি যতো নামকরাই হোন না কেন। তাঁর সব লেখা ভাল লাগতেই হবে বা তিনি যা লিখেছেন সব পাতে দেয়ার মতো, এতে আমার আপত্তি প্রবল আপত্তি আছে!
প্রশ্ন: বেশীর ভাগ সময় কোথায় কাটান?
উত্তর: আমার নিজস্ব ছোট্ট একটা রুম আছে। হেনতেন সবই এটায় থাকে। এমনকি স্টাফ করা ব্যাঙও পাওয়া যাবে। তো, আমার গানশোনা, মুভি দেখা, বই পড়া প্রায় সবকিছুই এখানে। এমনিতে আমার বই পড়া হয় তিনবেলা খাওয়ার সময়। বদ অভ্যাস, এ নিয়ে বাসার সবাই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ থাকে। অনেক দিন দেখা গেছে টেবিলে তরকারীর একটা পদ রয়ে গেছে অথচ আমার খাওয়া শেষ! হা হা হা!
প্রশ্ন: আপনার কনকপুরুষের পর আর বই এখান থেকে ছাপা হয়নি?
উত্তর: আসলে প্রজাপতি প্রকাশনের যে উপন্যাসটার কথা বলছেন এটায় আমার কোন কৃতিত্ব নাই। এদের মার্কেটিং অসাধারণ। বই চলে এদের মার্কেটিং এবং এদের প্রকাশনার নামে। ইদানিং এদের আর আগের মতো সেই দবদবা নাই কারণ, এরা অন্য লেখককে অবমূল্যায়ন করা শুরু করেছেন। আত্মীয় স্বজনরাই লিখছেন! পরে ওখানে আর লেখা হয় নাই।
কিছু কারণ ছিল, একবার এদের অফিসে গেলাম। আমাকে অফিস সহকারী বললেন, কাজী স্যার ব্যস্ত, ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। আমি বসে আছি তো বসেই আছি। অফিসের সবাই গল্পগুজব করছে। নিজেকে একটা ফার্নিচার ফার্নিচার মনে হচ্ছিল, লাইক আ বেগার! পরে কাজীদাকে কঠিন একটা চিঠি দিয়েছিলাম। ওই অফিস সহকারী চিঠি লিখে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তার নাকি আমার কথা মনে ছিল না! কিন্তু আর যাওয়া হয়নি।
আমার রয়েলটির কিছু টাকা এখনো এদের কাছে পাই। অনেকবার অনুরোধ করেছি, আমার টাকাটা ডাকে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু এদের এক গোঁ, স্বয়ং এসে নিয়ে যেতে হবে। আমিও রাগ করে বলে দিয়েছিলাম, যান, টাকাটা আপনাদেরকে দান করে দিলাম!
প্রশ্ন: আপনার নিজেকে কি ধরনের মানুষ মনে হয়…?
উত্তর: সত্যি বলি, আমার নিজেকে একজন পোকামানব মনে হয়!
প্রশ্ন: আপনার কোন কষ্টের স্মৃতি…?
উত্তর: অনেক। শুধু একটা শেয়ার করি। ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে আমার বাবা রাত ২টার পর মারা যান। আমার বয়স তখন ১৬। ওদিন কোন এক কারণে আমি ছাড়া তাঁর কাছে কেউ ছিল না। তাঁর যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। পৃথিবীতে এতো বাতাস কিন্তু এক ফোঁটা বাতাসের জন্য মানুষটা কী আকুতি! আমি পাগলের মতো ডাক্তার, নার্সের জন্য ছুটাছুটি করছি। এ অভাগা দেশে যা হয় আর কি, কাউকে পাচ্ছিলাম না। একবার মনে হলো ছাদে গিয়ে লাফ দেই। আই ডোন্ট নো হোয়াই, এখন প্রায়শ আমার মনে হয়, কেন সে দিন লাফ দিলাম না? হয়তো আমি একজন ভীতু মানুষ বলে! আমি বাবার হাত ধরে আছি।
বাবা বারবার বলছিলেন, খোকা, বড়ো কষ্ট, আমাকে একটু অক্সিজেন দিতে বল! ইশ-শ, বললেই হলো! ১৬ বছরের এক কিশোরের কাছে এটা না চেয়ে তুমি অন্য কিছু চাইতে! আমার মুঠোর ভেতর ক্রমশ তাঁর হাত শীতল হয়ে আসে।
এক সময় ডাক্তার আমাকে নিশ্চিত করেন, এই মানুষটা আমার বাবা না, একটা লাশ! শুরু হয় প্রিয়মানুষের একটা লাশ নিয়ে ভোরের প্রতিক্ষা!
কিন্তু ভোর তো আর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না কিন্ত কেউ কেউ হাল ছেড়ে দেয়…।
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ৩
প্রশ্ন: জীবনের মানে কি?
উত্তর: প্যারালাল ওয়ার্ল্ড,প্যারাডক্স এই টাইপের কিছু কঠিন শব্দ প্রয়োগ করতে পারলে সম্ভবত আপনার কাছেও ভালো লাগতো, আমিও খানিকটা স্বস্তি পেতাম।
সত্যি কথাটা হচ্ছে, আমি জানি না। জানার চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই! জীবনটা আমার কাছে মনে হয় চোখ ধাঁধানো একটা নিতল কুয়ার মতো। তীব্র আলোয় চোখ থাকার পরও তাকাতে পারছি না।
প্রশ্ন: আপনার লেখার স্টাইল…?
উত্তর: দেখুন, আমরা সবাই প্রকৃতির বিভিন্ন অংশ নিয়ে লিখি। একই জিনিস একেকজন একেকভাবে দেখি, লিখি!
আর আমার স্টাইল! হা হা হা! সহজ করে লেখা। এইসব লেখার আসলে আদৌ কোন গুরুত্ব নাই! লেখা হতে হবে কঠিন। আধামাধা বুঝব, আর বাকীটা বোঝার মনন নাই বলে হাল ছেড়ে দেব।
এই মন্তব্য বর্জিত ব্যক্তিগত একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি। আমি জানি অনেকে ভোঁতা দা নিয়ে রে রে করে তেড়ে আসবেন। সম্প্রতী শেষ করলাম, রুশোর ‘কনফেশনস’। আমার কাছে আহামরী কিছু মনে হয়নি। অন্তত না পড়লে হা হুতাশ করতে হবে এমন কিছু না!
রুশোর একটা মন্তব্য আছে এ রকম, ‘আমাকে বোঝা এতো সহজ না’। আসলেই যে মানুষটা মনে করেন, তাঁকে বোঝা এতো সহজ না, তাঁকে বোঝার মনন আমাদের কই? মহোদয় নিজেই নিজেকেই বোঝেন কি না এ নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।
প্রশ্ন: হিজাব, বোরকা নিয়ে আপনার মন্তব্য…?
উত্তর: দেখুন, এ প্রশ্নের উত্তর ভাল দিতে পারবেন মোল্লা-মৌলভীরা। যেহেতু আপনি আমাকে এ প্রশ্নটা করেছেন, আমার ব্যাখ্যাটা হচ্ছে: মূল বিষয়টা এসেছে পর্দা করা নিয়ে। কোরানের কোথাও এটা লেখা নাই মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে বরং খোলা রাখার কথা বলা আছে।
বেশ, মহিলারা গোটা শরীর হিজাব বোরকায় মুড়িয়ে ফেলছেন, হাতে দস্তানা পায়ে মোজা, চোখে কালো চশমা। ভাল-ভাল! কিন্ত তিনি তো আর অন্ধ না, তার বেলায় কী? আপনি জান বাঁচাতে পুলিশের কাছে গেলেন, পুলিশ থেকে আপনাকে বাঁচাবে কে? চোখ তো ঠিকই তার প্রয়োজনীয় উপাত্তগুলো মস্তিষ্কে পাঠাচ্ছে। এখন মস্তিষ্ক, এইসব উপাত্ত নিয়ে কি খেলা খেলবে, এটা তো আর আমাদের জানা নাই! ভদ্রমহিলা যে সুবেশী, সুঠাম পুরুষদের দেখতে পাচ্ছেন তার বেলায় কি হবে? হিজাব, বোরকা এভাবেই কি শুধু শরীরের পর্দা যথেষ্ঠ, শালীন পোশাক যথেষ্ঠ না?
আর শুধু শরীরের পর্দা কেন? একজন যে উম্মুক্ত জায়গায় কপকপ করে সাধ্যমতো খাবার খাচ্ছে- চারদিকে চেয়ে আছে না খাওয়া মানুষের দল, এখানে কি কোন পর্দার প্রয়োজন নাই? তাহলে রোজার শিক্ষা কোথায় গেল?
প্রশ্ন: রোজা রাখা…?
উত্তর: আমি মনে করি এই ধরনের প্রশ্ন ওপেন ফোরামে কাউকে না করাই সমীচীন। কারণ হচ্ছে, আমাদের সামাজিক পেক্ষাপটে, কেউ যদি রোজা না রাখে, সত্য বললে ওই মানুষটাকে বিব্রত হতে হবে। আর মিথ্যা বললে সৃষ্টিকর্তা বিব্রত হবেন। তাঁর থেকে মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হলো বলে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায়নি অথচ তারই সৃষ্টি মানুষকে ভয় পেয়েছে!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৪
উত্তর: প্যারালাল ওয়ার্ল্ড,প্যারাডক্স এই টাইপের কিছু কঠিন শব্দ প্রয়োগ করতে পারলে সম্ভবত আপনার কাছেও ভালো লাগতো, আমিও খানিকটা স্বস্তি পেতাম।
সত্যি কথাটা হচ্ছে, আমি জানি না। জানার চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই! জীবনটা আমার কাছে মনে হয় চোখ ধাঁধানো একটা নিতল কুয়ার মতো। তীব্র আলোয় চোখ থাকার পরও তাকাতে পারছি না।
প্রশ্ন: আপনার লেখার স্টাইল…?
উত্তর: দেখুন, আমরা সবাই প্রকৃতির বিভিন্ন অংশ নিয়ে লিখি। একই জিনিস একেকজন একেকভাবে দেখি, লিখি!
আর আমার স্টাইল! হা হা হা! সহজ করে লেখা। এইসব লেখার আসলে আদৌ কোন গুরুত্ব নাই! লেখা হতে হবে কঠিন। আধামাধা বুঝব, আর বাকীটা বোঝার মনন নাই বলে হাল ছেড়ে দেব।
এই মন্তব্য বর্জিত ব্যক্তিগত একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি। আমি জানি অনেকে ভোঁতা দা নিয়ে রে রে করে তেড়ে আসবেন। সম্প্রতী শেষ করলাম, রুশোর ‘কনফেশনস’। আমার কাছে আহামরী কিছু মনে হয়নি। অন্তত না পড়লে হা হুতাশ করতে হবে এমন কিছু না!
রুশোর একটা মন্তব্য আছে এ রকম, ‘আমাকে বোঝা এতো সহজ না’। আসলেই যে মানুষটা মনে করেন, তাঁকে বোঝা এতো সহজ না, তাঁকে বোঝার মনন আমাদের কই? মহোদয় নিজেই নিজেকেই বোঝেন কি না এ নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।
প্রশ্ন: হিজাব, বোরকা নিয়ে আপনার মন্তব্য…?
উত্তর: দেখুন, এ প্রশ্নের উত্তর ভাল দিতে পারবেন মোল্লা-মৌলভীরা। যেহেতু আপনি আমাকে এ প্রশ্নটা করেছেন, আমার ব্যাখ্যাটা হচ্ছে: মূল বিষয়টা এসেছে পর্দা করা নিয়ে। কোরানের কোথাও এটা লেখা নাই মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে বরং খোলা রাখার কথা বলা আছে।
বেশ, মহিলারা গোটা শরীর হিজাব বোরকায় মুড়িয়ে ফেলছেন, হাতে দস্তানা পায়ে মোজা, চোখে কালো চশমা। ভাল-ভাল! কিন্ত তিনি তো আর অন্ধ না, তার বেলায় কী? আপনি জান বাঁচাতে পুলিশের কাছে গেলেন, পুলিশ থেকে আপনাকে বাঁচাবে কে? চোখ তো ঠিকই তার প্রয়োজনীয় উপাত্তগুলো মস্তিষ্কে পাঠাচ্ছে। এখন মস্তিষ্ক, এইসব উপাত্ত নিয়ে কি খেলা খেলবে, এটা তো আর আমাদের জানা নাই! ভদ্রমহিলা যে সুবেশী, সুঠাম পুরুষদের দেখতে পাচ্ছেন তার বেলায় কি হবে? হিজাব, বোরকা এভাবেই কি শুধু শরীরের পর্দা যথেষ্ঠ, শালীন পোশাক যথেষ্ঠ না?
আর শুধু শরীরের পর্দা কেন? একজন যে উম্মুক্ত জায়গায় কপকপ করে সাধ্যমতো খাবার খাচ্ছে- চারদিকে চেয়ে আছে না খাওয়া মানুষের দল, এখানে কি কোন পর্দার প্রয়োজন নাই? তাহলে রোজার শিক্ষা কোথায় গেল?
প্রশ্ন: রোজা রাখা…?
উত্তর: আমি মনে করি এই ধরনের প্রশ্ন ওপেন ফোরামে কাউকে না করাই সমীচীন। কারণ হচ্ছে, আমাদের সামাজিক পেক্ষাপটে, কেউ যদি রোজা না রাখে, সত্য বললে ওই মানুষটাকে বিব্রত হতে হবে। আর মিথ্যা বললে সৃষ্টিকর্তা বিব্রত হবেন। তাঁর থেকে মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হলো বলে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায়নি অথচ তারই সৃষ্টি মানুষকে ভয় পেয়েছে!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৪
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ২
প্রশ্ন ১: উত্তর আধুনিক সাহিত্য বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্ত এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!
আফ্রিকার জুলু জাতির সাহিত্য কি এটা হতে পারে না? কোন এক গোত্র অন্য গোত্রের পরাজিত বীরের মাংস চিবুতে চিবুতে বিরক্তি প্রকাশ করবে, কেন মাংসটা ভালো রকম রান্না হয়নি! তখন তার মনে এই ভাব খেলা করা কি দোষের? আচ্ছা, এটা কি রান্নার দোষ, নাকি ওই মানুষটার দোষ? মানুষটাকে যখন মারা হলো, তখন কি সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়েছিল, নাকি খানিকটা জমাট বেঁধে আটকে ছিল! নাকি...!
বা, কে জানে, এখানে হয়তো খাদকের কোন একটা মানবিক গুণ বেরিয়ে আসবে। এই লেখাটাই তো ওই দেশের কেউ অথবা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কেউ পড়বেন!
এমনিতে আমার অল্প জ্ঞানে সাহিত্য বলতে যা বুঝি: সাহিত্য বলুন আর যাই বলুন সবই প্রকৃতির নকল। একজন লেখক জাস্ট কল্পনার রঙ মিশিয়ে একটা ভার্চুয়াল জগত সৃষ্টি করে তার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখান, লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখেন। এরপর পাঠক তার মনন অনুসারে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান।
প্রশ্ন ২: শিশু নির্যাতন নিয়ে এত কথা হচ্ছে কিন্ত বাসায় বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে মানুষ তেমন সোচ্চার না। আপনার অভিমত কি?
উত্তর: আমরা প্রায় সবাই একেকটা মুখোশ পরে থাকি। লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, বিচিত্র রঙের মুখোশ। তো, আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্ত ওই একই কাজ নিজেরা করি অবলীলায়। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট।
প্রশ্ন ৩. নিজের বিষয়ে যতটুকু সচেতন, ভালবাসার মানুষের প্রতি ততটুকু সচেতন হওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: আসলে একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে নিজে! অন্য কারও সঙ্গে এই তুলনাটা অর্থহীন।
প্রশ্ন ৪. আপনার পড়াশুনার বিষয় কি ছিল?
উত্তর: আমার একাডেমিক পড়াশুনার কথা ধরলে আমি প্রায় মূর্খ। একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, আমি এস এস সি করি সায়েন্স নিয়ে। আমার ফ্যামেলীর ধারণা ছিল, আমি বিজ্ঞানী হবো। এইচ এস সি করতে গিয়ে দেখলাম, সায়েন্স নিয়ে পড়লে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় (তাইলে আউট বই পড়তে ভারী গোলমাল হয়ে যায় যে)! তো, নিলাম কমার্স।
গ্রাজুয়েশন করতে গিয়ে দেখলাম, অরি আল্লা, কমার্সেও কিছু ক্লাশ করা আবশ্যক। কি আর করা, নিলাম আর্টস! এটা আমার কাছে সহজ মনে হতো। এমন সব সাবজেক্ট বেছে নিলাম, মূল লেখা পড়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা কিছু লিখে দেয়া। সো, গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টসে। এল. এল, বিতে কিছুটা সময় ঝুলে রইলাম, যদি আইন পড়ে দেশ উদ্ধার করা যায়। ভালো লাগল না, একগাদা মিথ্যার বেসাতী। বাদ দিলাম।
পারিবারিক জটিলতার কথা যদি বাদও দেই, ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক হালটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরতে বাধ্য হওয়া। আসলে এমনিতেও প্রচলিত পড়ায় আমার মন ছিল না। মন পড়ে থাকত পাঠ্য বই বহির্ভূত ফালতু বই পড়ায়। মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘুরাবার কেউ ছিল না বলে এই বাড়তি সুবিধাটুকু। এমনিতেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে আমার ছিল তীব্র অনীহা, এখনও!
আরেকটা কারণ, আমি বড্ডো হোমসিক টাইপের মানুষ। পড়াশোনার কারণেও আমি নড়তে রাজি ছিলাম না। শেকড় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। যার ছাপ এখনও প্রবল। হায় হোমসিক, একজন মানুষকে কেমন করে ক্রমশ বানিয়ে দেয় গাধামানব!
প্রশ্ন ৫: বর্তমান জেনারেশনের রাজনীতি বিমুখিতার কারণ কি? এদের মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য কি করা উচিত?
উত্তর: আমাদের রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে গেছে, আমাদের সামনে কোন আইডল নাই, স্বপ্ন দেখাবার মতো মানুষ নাই!
এমনিতে আমি মনে করি, মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে ইয়াংদের আসার কোন বিকল্প নাই। কিন্ত এইসব বয়োবৃদ্ধদের রাজনীতিতে থাকা মানেই পাপেট শো। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই দেখবেন ১০/ ২০টা জটিল সব রোগ, পায়ে বিষ, মুত্রদ্বারে বিষ, গুহ্যদ্বারে বিষ। আর এ তো বাস্তব, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্রেনের সেল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন সেল অকার্যকর হওয়া শুরু করে। তাই বলে আমি কিন্তু চ্যাংড়াদের নিয়ে আসার কথা বলছি না, বলছিলাম থুত্থুড়ে বুড়াদের বাদ দেয়ার কথা। যিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না তিনি অন্যকে কি সামলাবেন!
প্রশ্ন ৬: আপনার নিজের প্রেমের কথা সুন্দর করে এড়িয়ে যান। সত্য করে বলবেন। আপনার প্রেমের লেখাগুলো পড়ে খুব জানতে ইচ্ছা করে।
উত্তর:ভাইরে, দিলেন তো একটা ভেজালে ফেলে। সত্যের মত বদমাশ আর নাই! বিস্তারিত তো শেয়ার করতে পারব না, খানিকটা বলি:
প্রেম-ট্রেম জানি না, একটা মেয়ে অসম্ভব পছন্দ করতাম। কিন্তু তার পরিবারের আপত্তি ছিল কারণটা হচ্ছে আমার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ওই মেয়েটার চেয়ে এক ক্লাশ কম ছিল।
একদিন মেয়েটা বলল, আমার ফ্যামেলি বলেছে, তোমার কোয়ালিফিকেশন...আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ..., আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমি সুখী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওই দিন আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। শিখলাম, পুঁথিগত বিদ্যার কী মূল্য! সার্টিফিকেট নামের কাগজই সব! ওই সময় নিজেকে বড়ো দীন-হীন মনে হচ্ছিল, নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন ধিক্কার। ইচ্ছা করছিল, ওই সময় পর্যন্ত যা শিখেছি, মস্তিষ্কের ওই অংশটুকু টান মেরে ফেল দেই। ক্ষমতায় থাকলে মস্তিষ্কটা ফরম্যাট করে ফেলতাম। মাথাটা একেবারে ফাঁকা, লাইক আ ব্লাংক ক্যাসেট।
পরিহাস, মেয়েটা মোটেও সুখী হতে পারেনি। অথচ আজ যে মেয়েটি আমার হাত ধরে আছে; প্রায়শ ভাবি, একে সম্ভবত বানানো হয়েছে আমাকে মমতার চাদরে ঘিরে রাখার জন্য।
ওয়েল, ওই মেয়েটির সঙ্গে এখনও মাঝে-মাঝে কথা হয়, ও লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে, বিচিত্রসব আবেঘন কথা বলে! পাগল, পানি কী আটকে রাখা যায়, না সময়! জীবনটা সিনেমা না- সিনেমায় রিটেক হয়, জীবনে হয় না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৩
উত্তর: সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্ত এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!
আফ্রিকার জুলু জাতির সাহিত্য কি এটা হতে পারে না? কোন এক গোত্র অন্য গোত্রের পরাজিত বীরের মাংস চিবুতে চিবুতে বিরক্তি প্রকাশ করবে, কেন মাংসটা ভালো রকম রান্না হয়নি! তখন তার মনে এই ভাব খেলা করা কি দোষের? আচ্ছা, এটা কি রান্নার দোষ, নাকি ওই মানুষটার দোষ? মানুষটাকে যখন মারা হলো, তখন কি সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়েছিল, নাকি খানিকটা জমাট বেঁধে আটকে ছিল! নাকি...!
বা, কে জানে, এখানে হয়তো খাদকের কোন একটা মানবিক গুণ বেরিয়ে আসবে। এই লেখাটাই তো ওই দেশের কেউ অথবা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কেউ পড়বেন!
এমনিতে আমার অল্প জ্ঞানে সাহিত্য বলতে যা বুঝি: সাহিত্য বলুন আর যাই বলুন সবই প্রকৃতির নকল। একজন লেখক জাস্ট কল্পনার রঙ মিশিয়ে একটা ভার্চুয়াল জগত সৃষ্টি করে তার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখান, লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখেন। এরপর পাঠক তার মনন অনুসারে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান।
প্রশ্ন ২: শিশু নির্যাতন নিয়ে এত কথা হচ্ছে কিন্ত বাসায় বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে মানুষ তেমন সোচ্চার না। আপনার অভিমত কি?
উত্তর: আমরা প্রায় সবাই একেকটা মুখোশ পরে থাকি। লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, বিচিত্র রঙের মুখোশ। তো, আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্ত ওই একই কাজ নিজেরা করি অবলীলায়। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট।
প্রশ্ন ৩. নিজের বিষয়ে যতটুকু সচেতন, ভালবাসার মানুষের প্রতি ততটুকু সচেতন হওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: আসলে একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে নিজে! অন্য কারও সঙ্গে এই তুলনাটা অর্থহীন।
প্রশ্ন ৪. আপনার পড়াশুনার বিষয় কি ছিল?
উত্তর: আমার একাডেমিক পড়াশুনার কথা ধরলে আমি প্রায় মূর্খ। একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, আমি এস এস সি করি সায়েন্স নিয়ে। আমার ফ্যামেলীর ধারণা ছিল, আমি বিজ্ঞানী হবো। এইচ এস সি করতে গিয়ে দেখলাম, সায়েন্স নিয়ে পড়লে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় (তাইলে আউট বই পড়তে ভারী গোলমাল হয়ে যায় যে)! তো, নিলাম কমার্স।
গ্রাজুয়েশন করতে গিয়ে দেখলাম, অরি আল্লা, কমার্সেও কিছু ক্লাশ করা আবশ্যক। কি আর করা, নিলাম আর্টস! এটা আমার কাছে সহজ মনে হতো। এমন সব সাবজেক্ট বেছে নিলাম, মূল লেখা পড়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা কিছু লিখে দেয়া। সো, গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টসে। এল. এল, বিতে কিছুটা সময় ঝুলে রইলাম, যদি আইন পড়ে দেশ উদ্ধার করা যায়। ভালো লাগল না, একগাদা মিথ্যার বেসাতী। বাদ দিলাম।
পারিবারিক জটিলতার কথা যদি বাদও দেই, ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক হালটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরতে বাধ্য হওয়া। আসলে এমনিতেও প্রচলিত পড়ায় আমার মন ছিল না। মন পড়ে থাকত পাঠ্য বই বহির্ভূত ফালতু বই পড়ায়। মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘুরাবার কেউ ছিল না বলে এই বাড়তি সুবিধাটুকু। এমনিতেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে আমার ছিল তীব্র অনীহা, এখনও!
আরেকটা কারণ, আমি বড্ডো হোমসিক টাইপের মানুষ। পড়াশোনার কারণেও আমি নড়তে রাজি ছিলাম না। শেকড় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। যার ছাপ এখনও প্রবল। হায় হোমসিক, একজন মানুষকে কেমন করে ক্রমশ বানিয়ে দেয় গাধামানব!
প্রশ্ন ৫: বর্তমান জেনারেশনের রাজনীতি বিমুখিতার কারণ কি? এদের মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য কি করা উচিত?
উত্তর: আমাদের রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে গেছে, আমাদের সামনে কোন আইডল নাই, স্বপ্ন দেখাবার মতো মানুষ নাই!
এমনিতে আমি মনে করি, মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে ইয়াংদের আসার কোন বিকল্প নাই। কিন্ত এইসব বয়োবৃদ্ধদের রাজনীতিতে থাকা মানেই পাপেট শো। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই দেখবেন ১০/ ২০টা জটিল সব রোগ, পায়ে বিষ, মুত্রদ্বারে বিষ, গুহ্যদ্বারে বিষ। আর এ তো বাস্তব, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্রেনের সেল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন সেল অকার্যকর হওয়া শুরু করে। তাই বলে আমি কিন্তু চ্যাংড়াদের নিয়ে আসার কথা বলছি না, বলছিলাম থুত্থুড়ে বুড়াদের বাদ দেয়ার কথা। যিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না তিনি অন্যকে কি সামলাবেন!
প্রশ্ন ৬: আপনার নিজের প্রেমের কথা সুন্দর করে এড়িয়ে যান। সত্য করে বলবেন। আপনার প্রেমের লেখাগুলো পড়ে খুব জানতে ইচ্ছা করে।
উত্তর:ভাইরে, দিলেন তো একটা ভেজালে ফেলে। সত্যের মত বদমাশ আর নাই! বিস্তারিত তো শেয়ার করতে পারব না, খানিকটা বলি:
প্রেম-ট্রেম জানি না, একটা মেয়ে অসম্ভব পছন্দ করতাম। কিন্তু তার পরিবারের আপত্তি ছিল কারণটা হচ্ছে আমার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ওই মেয়েটার চেয়ে এক ক্লাশ কম ছিল।
একদিন মেয়েটা বলল, আমার ফ্যামেলি বলেছে, তোমার কোয়ালিফিকেশন...আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ..., আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমি সুখী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওই দিন আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। শিখলাম, পুঁথিগত বিদ্যার কী মূল্য! সার্টিফিকেট নামের কাগজই সব! ওই সময় নিজেকে বড়ো দীন-হীন মনে হচ্ছিল, নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন ধিক্কার। ইচ্ছা করছিল, ওই সময় পর্যন্ত যা শিখেছি, মস্তিষ্কের ওই অংশটুকু টান মেরে ফেল দেই। ক্ষমতায় থাকলে মস্তিষ্কটা ফরম্যাট করে ফেলতাম। মাথাটা একেবারে ফাঁকা, লাইক আ ব্লাংক ক্যাসেট।
পরিহাস, মেয়েটা মোটেও সুখী হতে পারেনি। অথচ আজ যে মেয়েটি আমার হাত ধরে আছে; প্রায়শ ভাবি, একে সম্ভবত বানানো হয়েছে আমাকে মমতার চাদরে ঘিরে রাখার জন্য।
ওয়েল, ওই মেয়েটির সঙ্গে এখনও মাঝে-মাঝে কথা হয়, ও লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে, বিচিত্রসব আবেঘন কথা বলে! পাগল, পানি কী আটকে রাখা যায়, না সময়! জীবনটা সিনেমা না- সিনেমায় রিটেক হয়, জীবনে হয় না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৩
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ১
একটি বাংলা ওয়েব-সাইটে দীর্ঘদিন লেখালেখির সুবাদে একটা অন-লাইন সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল আমার মতো অগাবগা মানুষের। সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন, কৌশিক আহমেদ। মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং যারা প্রশ্ন করে আমার আলো-অন্ধকার বের করে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
অন লাইনে আমাকে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
এক জনের প্রশ্ন ছিল নিম্নরূপ:
প্রশ্ন ১. আপনি জানেন না এমন কোন বিষয়, অথচ জানার প্রচন্ড আগ্রহ আছে?
উত্তর: ডার্কনেস! আমি যখন এই মহাবিশ্বে নিয়ে ভাবি তখন আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। যেন মনে হয়, আমি, অসীম একটা ক্যানভাসে একটা ন্যানো ডট! আর এখন তো আমরা জানতে পারছি, এই মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা। পৃথিবী সৃষ্টি বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে, ফাইন! বিগ ব্যাং এর থিওরি অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এক মহাবিস্ফোরনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এর পর থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে রহস্যময় শক্তি এই সম্প্রসারণ করছে, বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ডার্ক এনার্জি! বিজ্ঞানীরা এই ডার্ক এনার্জির রহস্য এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছেন মাত্র ৪ ভাগ!
জীবন হচ্ছে একটা লম্বা দৌড়, এই দৌড়ও এক সময় শেষ হয়। তারপর! তারপর!!
এই যে তারপর? এই সম্বন্ধে আমরা কতটুকুই আর জানি। আমার জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। তখনই ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়, নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ইচ্ছা করে দিগম্বর হয়ে বেরিয়ে পড়ি।
প্রশ্ন ২: আপনি জীবনে যা করতে চেয়েছেন কিন্ত হয়নি?
উত্তর: লেখক হতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি।
প্রশ্ন ৩: আপনার প্রেমিকার নাম?
উত্তর: (আংশিক পরিবর্তিত)। আমার একজন প্রেমিকা থাকলে, আমার প্রেমিকারও একজন প্রেমিক থাকা উচিৎ। এবং প্রেমিক হিসাবে সে যদি আমার নামই না জানে, তাইলে আমার প্রেমিকা বলতে কেউ ছিল এ দাবী করাটা কি সমীচীন হবে আমার!
প্রশ্ন ৪: আপনার জীবনে পাওয়া গ্রেট এসিসট্যান্স?
উত্তর: কলাগাছ না হয়ে মানুষ হওয়া এবং চলনসই একটা মস্তিষ্ক পাওয়া।
প্রশ্ন ৫: আপনি কোন ঘটনাটাকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চাইবেন?
উত্তর: উত্তরটা কনফ্লিক্ট করবে। কিন্ত অপশন থাকলে, বাবা মার আনন্দের ফসল নিরানন্দ অসফল, আমি। আমার জন্মটাকে আটকে দিতাম।
প্রশ্ন ৬: ডক্টর ফস্টাস নিশ্চয়ই পড়েছেন? তার মতো সুযোগ এলে আপনি কি জীবনকে বিক্রি করবেন?
উত্তর: না, ডক্টর ফস্টাস পড়িনি। কিন্ত, এখন আমি আমার এই তুচ্ছ জীবনটাকে কোন অবস্থাতেই বিক্রি করব না। কারণ আমার শেকড় ছড়িয়ে গেছে বহু দূর। আমি এখন নারকেল গাছ, শেকড় কোথায় জানি না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ২
অন লাইনে আমাকে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
এক জনের প্রশ্ন ছিল নিম্নরূপ:
প্রশ্ন ১. আপনি জানেন না এমন কোন বিষয়, অথচ জানার প্রচন্ড আগ্রহ আছে?
উত্তর: ডার্কনেস! আমি যখন এই মহাবিশ্বে নিয়ে ভাবি তখন আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। যেন মনে হয়, আমি, অসীম একটা ক্যানভাসে একটা ন্যানো ডট! আর এখন তো আমরা জানতে পারছি, এই মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা। পৃথিবী সৃষ্টি বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে, ফাইন! বিগ ব্যাং এর থিওরি অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এক মহাবিস্ফোরনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এর পর থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে রহস্যময় শক্তি এই সম্প্রসারণ করছে, বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ডার্ক এনার্জি! বিজ্ঞানীরা এই ডার্ক এনার্জির রহস্য এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছেন মাত্র ৪ ভাগ!
জীবন হচ্ছে একটা লম্বা দৌড়, এই দৌড়ও এক সময় শেষ হয়। তারপর! তারপর!!
এই যে তারপর? এই সম্বন্ধে আমরা কতটুকুই আর জানি। আমার জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। তখনই ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়, নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ইচ্ছা করে দিগম্বর হয়ে বেরিয়ে পড়ি।
প্রশ্ন ২: আপনি জীবনে যা করতে চেয়েছেন কিন্ত হয়নি?
উত্তর: লেখক হতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি।
প্রশ্ন ৩: আপনার প্রেমিকার নাম?
উত্তর: (আংশিক পরিবর্তিত)। আমার একজন প্রেমিকা থাকলে, আমার প্রেমিকারও একজন প্রেমিক থাকা উচিৎ। এবং প্রেমিক হিসাবে সে যদি আমার নামই না জানে, তাইলে আমার প্রেমিকা বলতে কেউ ছিল এ দাবী করাটা কি সমীচীন হবে আমার!
প্রশ্ন ৪: আপনার জীবনে পাওয়া গ্রেট এসিসট্যান্স?
উত্তর: কলাগাছ না হয়ে মানুষ হওয়া এবং চলনসই একটা মস্তিষ্ক পাওয়া।
প্রশ্ন ৫: আপনি কোন ঘটনাটাকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চাইবেন?
উত্তর: উত্তরটা কনফ্লিক্ট করবে। কিন্ত অপশন থাকলে, বাবা মার আনন্দের ফসল নিরানন্দ অসফল, আমি। আমার জন্মটাকে আটকে দিতাম।
প্রশ্ন ৬: ডক্টর ফস্টাস নিশ্চয়ই পড়েছেন? তার মতো সুযোগ এলে আপনি কি জীবনকে বিক্রি করবেন?
উত্তর: না, ডক্টর ফস্টাস পড়িনি। কিন্ত, এখন আমি আমার এই তুচ্ছ জীবনটাকে কোন অবস্থাতেই বিক্রি করব না। কারণ আমার শেকড় ছড়িয়ে গেছে বহু দূর। আমি এখন নারকেল গাছ, শেকড় কোথায় জানি না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ২
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
বাহরাম দেশের পাল্টিশিয়ান (!)
বাহরাম নামে এক দেশে (এটা ঠিক কোথায় মফস্বলে থাকার কারণে ম্যাপ যোগাড় করা সম্ভব হয়নি, যারা শহরে থাকেন দয়া করে ম্যাপে একটু চোখ বুলিয়ে নেবেন) অভাবনীয় এক কান্ড ঘটে গেল। ওই দেশের জনগণের হঠাৎ করে কী যে পাগলামী চাপল, দুম করে একটা সিদ্ধান্ত নিল, এইবার দেশ চালাবার নেতা ঠিক হবে অন্যভাবে। একটা বাংলা সাইটের ব্লগাররাই ঠিক করবে কে এই দেশের নেতা! জনগণরা কবে নাকি নিত্তি দিয়ে মেপে দেখেছে, ওই দেশের সব মন্ত্রীদের মগজ এক সঙ্গে করেও একটা তেলাপোকার ওজনও হয়নি।
যাই হোক, একেক করে প্রার্থীরা আসছেন। ১ম প্রার্থী ( কাঁদতে কাঁদতে): আমিই একমাত্র যোগ্যতা রাখি, আমি বাবা, অ বাবাগো কই গেলা গো। সব হারিয়েছি, আমার হারাবার আর কিছু নাই !
২য় প্রার্থী (ছলছল চোখে): হুঁ, বললেই হলো, আমি বুঝি আমার স্বামীকে হারাইনি!
৩য় প্রার্থী: (সুরমা চোখে): অনেকে ইজ্জত হারিয়েছে কিন্তু আমি একটা মুসলমান রাষ্ট্র হারিয়েছি। আমার মতো অভাগা আর কেউ নাই।
৪র্থ প্রার্থী: (কবিতার বই বগলে চেপে): হল্ট, বন্দুক এবং চামড়ার নলই সমস্ত ক্ষমতার উৎস। আমি আমার চামড়ার …(সেন্সর) নল হারিয়েছি। আমার চামড়ার …(সেন্সর) নল কে জানি একজন পেরেকে ঝুলায়া দিছে। আবার এক ফাজিল মন্তব্য করেছে, এইটা ক্যাকটাস নাকি? আমি বড়ই কষ্টে আছি!
৫ম প্রার্থী: (লাল পতাকা হাতে): আমাদের বাবা গর্দভ থুক্কু, গর্বাচেভ আমাদের আকুল পাথারে ভাসাই দিছে।
৬ষ্ঠ প্রার্থীকে নিয়ে বেশ খানিকটা জটিলতার সৃষ্টি হলো। ইনি হচ্ছেন বাংলা ভাই। কিন্তু ব্লগাররা মুক্তমনা, এরা বলল, থাকুক বাংলা ভাইও! বাংলা ভাই এসেই অবিকল একটি প্রাণীর মতো … করে উঠলেন ! ব্লগাররা ভয় চেপে আছে, এ যেভাবে লাফাচ্ছে ছাদে না মাথা ঠুকে যায়! শেষে বোমা-টোমা ফেটে ম্যাসাকার একটা অবস্থা হবে। এর তো পেশাবেও বোমার গন্ধ পাওয়া যায়! বাংলা ভাইকে অনেক কষ্টে শান্ত করা হলো।
বাংলা ভাই রাগে গরগর করে বললেন, তেনারা নাকি আবার ত্যাগ করেছেন, ছাতাফাতা, আমার বা…ছাল!
এদের ত্যাগের সঙ্গে আমার ত্যাগের কোন তুলনাই হয় না। আমি দাড়ি না-কামানোর জন্যই ধরা খাইছি, তবুও দাড়ি কামাই নাই! এইবার বাংলা ভাই ভেউভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে নিজের পোড়া দাড়ি দেখিয়ে বললেন, আপনারাই বলেন এর চেয়ে বড় কোন ত্যাগ হয়?
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্লগারদের মিটিং চলছিল…।
যাই হোক, একেক করে প্রার্থীরা আসছেন। ১ম প্রার্থী ( কাঁদতে কাঁদতে): আমিই একমাত্র যোগ্যতা রাখি, আমি বাবা, অ বাবাগো কই গেলা গো। সব হারিয়েছি, আমার হারাবার আর কিছু নাই !
২য় প্রার্থী (ছলছল চোখে): হুঁ, বললেই হলো, আমি বুঝি আমার স্বামীকে হারাইনি!
৩য় প্রার্থী: (সুরমা চোখে): অনেকে ইজ্জত হারিয়েছে কিন্তু আমি একটা মুসলমান রাষ্ট্র হারিয়েছি। আমার মতো অভাগা আর কেউ নাই।
৪র্থ প্রার্থী: (কবিতার বই বগলে চেপে): হল্ট, বন্দুক এবং চামড়ার নলই সমস্ত ক্ষমতার উৎস। আমি আমার চামড়ার …(সেন্সর) নল হারিয়েছি। আমার চামড়ার …(সেন্সর) নল কে জানি একজন পেরেকে ঝুলায়া দিছে। আবার এক ফাজিল মন্তব্য করেছে, এইটা ক্যাকটাস নাকি? আমি বড়ই কষ্টে আছি!
৫ম প্রার্থী: (লাল পতাকা হাতে): আমাদের বাবা গর্দভ থুক্কু, গর্বাচেভ আমাদের আকুল পাথারে ভাসাই দিছে।
৬ষ্ঠ প্রার্থীকে নিয়ে বেশ খানিকটা জটিলতার সৃষ্টি হলো। ইনি হচ্ছেন বাংলা ভাই। কিন্তু ব্লগাররা মুক্তমনা, এরা বলল, থাকুক বাংলা ভাইও! বাংলা ভাই এসেই অবিকল একটি প্রাণীর মতো … করে উঠলেন ! ব্লগাররা ভয় চেপে আছে, এ যেভাবে লাফাচ্ছে ছাদে না মাথা ঠুকে যায়! শেষে বোমা-টোমা ফেটে ম্যাসাকার একটা অবস্থা হবে। এর তো পেশাবেও বোমার গন্ধ পাওয়া যায়! বাংলা ভাইকে অনেক কষ্টে শান্ত করা হলো।
বাংলা ভাই রাগে গরগর করে বললেন, তেনারা নাকি আবার ত্যাগ করেছেন, ছাতাফাতা, আমার বা…ছাল!
এদের ত্যাগের সঙ্গে আমার ত্যাগের কোন তুলনাই হয় না। আমি দাড়ি না-কামানোর জন্যই ধরা খাইছি, তবুও দাড়ি কামাই নাই! এইবার বাংলা ভাই ভেউভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে নিজের পোড়া দাড়ি দেখিয়ে বললেন, আপনারাই বলেন এর চেয়ে বড় কোন ত্যাগ হয়?
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্লগারদের মিটিং চলছিল…।
বিভাগ
নিজস্ব ভাবনা
সরকারী যাকাত
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে প্রতিবছর ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। সে অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ ২০০৫ সালের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৮ ডলার আয়কর দিয়েছেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গত বছর (২০০৪-২০০৫) আমাদের দেশের শীর্ষ আয়করদাতারা হচ্ছেন:
১.চট্টগ্রামের অসিত কুমার সাহা, তিনি ট্যাক্স দিয়েছেন ৮৪ লাখ টাকা।
২. সাতক্ষীরার আদিত্য মজুমদার ভাই।
৩. অশোক কুমার সাহা। (অসিত এবং অশোক এঁরা আপন দুই ভাই)।
আমাদের সৌভাগ্য আমরা চট করে জেনে যাই যুক্তরাষ্ট্রের খবর- ওই দেশের প্রেসিডেন্ট কতো টাকা ট্যাক্স দেন সেই খবর। কিন্ত আমরা জানতে পারি না আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বিরোধী দলের নেত্রী, মতিউর রহমান নিজামী, হোমো এরশাদ কত টাকা ট্যাক্স দেন! আসলে বেচারাদের কোন আয়ই নাই, ট্যাক্স দেবেন কোথা থেকে!
জানি-জানি, অনেকেই বলবেন- পার্টি সদস্যদের চাঁদা দিয়েই সব কিছু চলছে। তা হবে হয়তো, আমার জানা মতে বি এন পির শেষ চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছিল বছরে ১ টাকা করে! অন্য দলগুলোর কত করে চাঁদা আমার জানা নাই!
আমাদের দেশে সাংসদরা যে সব গাড়ি আমদানী করেছেন, সে গুলোর মধ্যে আছে পোরশে, হামার, বিএমডব্লিও, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ক্যাডিলাক, ইনফিনিটি ইত্যাদি! পোরশের দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত, হামার প্রায় ১ কোটি টাকা …!
লিস্টটা বিরাট। আমি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি।
পোরশে: আমদানী করেছেন সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, বেগম রওশন এরশাদ!
হামার: ড, আবদুর রাজ্জাক
মার্সিডিজ বেঞ্জ: শেখ হাসিনা।
টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার: মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাইদী।
লেক্সাস: শেখ ফজলুল হক সেলিম, সাদেক হোসের খোকা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গাড়ি আমদানী করেননি- আদৌ তার কোন প্রয়োজন পড়ে না! হোমো এরশাদের নাম পাওয়া যায়নি, তিনি সম্ভবত পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেন অথবা রওশন এরশাদের কাছে লিফট চান কাতর হয়ে, আমাকে নেবে? (অন্য অর্থ করবেন না)
বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশে সব কিছুর মধ্যে বিষ ঢুকিয়ে দেয়ার পেছনে হোমো এরশাদের হাত ছিল- এই যে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানী করার ফাজিল কান্ডটা এরশাদই চালু করেছেন!
আমাদের দেশে গণতন্ত্র নামের সুগার কোটেড ট্যাবরেটটার বড়ো প্রয়োজন- এই আফিম ট্যাবলেটটা আমাদের খাইয়ে যা খুশী তা করা যায়! আমরা কেয়ামতের আগ পর্যন্ত ঘুরেফিরে এই মুখগুলোই দেখব, এ থেকে আমাদের মুক্তি নেই! পাঁচ বছরের জন্য এরাই কেউ না কেউ শাসক হয়ে আসবেন। বিরোধীদল অনবরত হরতাল দেবেন, বেছে বেছে ২ দিন ছুটির আগের দিন- গণতন্ত্রের জন্য এটা বড়ো প্রয়োজন! আমাদেরকে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে, আমরা ঘুম থেকে জেগে চেঁচিয়ে ওঠবো- পেয়েছি-পেয়েছি আমরা, গণতন্ত্র!
অতীতে কেয়ারটেকার সরকার মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে অনায়াসে দেশ চালিয়েছেন। এই বিশাল মন্ত্রী সভার চেয়ে অনেক অনেক ভালো ভাবে!
আসলে আমরা পান্তাভাত, আলুভর্তা খাওয়া ছা পোষা মানুষ- রীচ ফুড আমাদের জন্যে বড়ো গুরুপাক!
গত বছর (২০০৪-২০০৫) আমাদের দেশের শীর্ষ আয়করদাতারা হচ্ছেন:
১.চট্টগ্রামের অসিত কুমার সাহা, তিনি ট্যাক্স দিয়েছেন ৮৪ লাখ টাকা।
২. সাতক্ষীরার আদিত্য মজুমদার ভাই।
৩. অশোক কুমার সাহা। (অসিত এবং অশোক এঁরা আপন দুই ভাই)।
আমাদের সৌভাগ্য আমরা চট করে জেনে যাই যুক্তরাষ্ট্রের খবর- ওই দেশের প্রেসিডেন্ট কতো টাকা ট্যাক্স দেন সেই খবর। কিন্ত আমরা জানতে পারি না আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বিরোধী দলের নেত্রী, মতিউর রহমান নিজামী, হোমো এরশাদ কত টাকা ট্যাক্স দেন! আসলে বেচারাদের কোন আয়ই নাই, ট্যাক্স দেবেন কোথা থেকে!
জানি-জানি, অনেকেই বলবেন- পার্টি সদস্যদের চাঁদা দিয়েই সব কিছু চলছে। তা হবে হয়তো, আমার জানা মতে বি এন পির শেষ চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছিল বছরে ১ টাকা করে! অন্য দলগুলোর কত করে চাঁদা আমার জানা নাই!
আমাদের দেশে সাংসদরা যে সব গাড়ি আমদানী করেছেন, সে গুলোর মধ্যে আছে পোরশে, হামার, বিএমডব্লিও, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ক্যাডিলাক, ইনফিনিটি ইত্যাদি! পোরশের দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত, হামার প্রায় ১ কোটি টাকা …!
লিস্টটা বিরাট। আমি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি।
পোরশে: আমদানী করেছেন সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, বেগম রওশন এরশাদ!
হামার: ড, আবদুর রাজ্জাক
মার্সিডিজ বেঞ্জ: শেখ হাসিনা।
টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার: মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাইদী।
লেক্সাস: শেখ ফজলুল হক সেলিম, সাদেক হোসের খোকা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গাড়ি আমদানী করেননি- আদৌ তার কোন প্রয়োজন পড়ে না! হোমো এরশাদের নাম পাওয়া যায়নি, তিনি সম্ভবত পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেন অথবা রওশন এরশাদের কাছে লিফট চান কাতর হয়ে, আমাকে নেবে? (অন্য অর্থ করবেন না)
বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশে সব কিছুর মধ্যে বিষ ঢুকিয়ে দেয়ার পেছনে হোমো এরশাদের হাত ছিল- এই যে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানী করার ফাজিল কান্ডটা এরশাদই চালু করেছেন!
আমাদের দেশে গণতন্ত্র নামের সুগার কোটেড ট্যাবরেটটার বড়ো প্রয়োজন- এই আফিম ট্যাবলেটটা আমাদের খাইয়ে যা খুশী তা করা যায়! আমরা কেয়ামতের আগ পর্যন্ত ঘুরেফিরে এই মুখগুলোই দেখব, এ থেকে আমাদের মুক্তি নেই! পাঁচ বছরের জন্য এরাই কেউ না কেউ শাসক হয়ে আসবেন। বিরোধীদল অনবরত হরতাল দেবেন, বেছে বেছে ২ দিন ছুটির আগের দিন- গণতন্ত্রের জন্য এটা বড়ো প্রয়োজন! আমাদেরকে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে, আমরা ঘুম থেকে জেগে চেঁচিয়ে ওঠবো- পেয়েছি-পেয়েছি আমরা, গণতন্ত্র!
অতীতে কেয়ারটেকার সরকার মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে অনায়াসে দেশ চালিয়েছেন। এই বিশাল মন্ত্রী সভার চেয়ে অনেক অনেক ভালো ভাবে!
আসলে আমরা পান্তাভাত, আলুভর্তা খাওয়া ছা পোষা মানুষ- রীচ ফুড আমাদের জন্যে বড়ো গুরুপাক!
আলকাতরার হালুয়া এবং বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া
প্রবাসীরা যখন রেসিপি নিয়ে পোস্ট দেন, আমরা বড়ই বিরক্ত হই। দেশে তো আমাদের প্রিয় মানুষ কেউ না কেউ আগুন ঝাল সালুনসহ ধোঁয়াওঠা এক গামলা ভাত এনে খাওয়ার জন্য মাথার দিব্যি দেন, প্রবাসীদের জন্য বসে থাকতে কার দায় পড়েছে। প্রবাসীদের এই আবেগ আমাদের বুঝতে না পারাই কথা।
আমি এই পোস্টটা তাঁদের জন্য উৎসর্গ করি।
এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখিয়েছিল, একজন সেলিব্রেটি টাইপের মানুষ ডিম ভাজছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া জাঁক করে এটা দেখিয়েছিল। আফসোস, আমি তো আর সেলিব্রেটি টাইপের কেউ না, অগাবগা টাইপের মানুষ। কিন্ত খোদা না খাস্তা আমাকে কোন দিন পাকড়াও করে বসলে আমার উপায় কি? ডিম ভাজাভাজি করে তো আর লাভ নাই, ওই মানুষটা বলে বসবেন আমাকে অনুকরণ করে রে। আচ্ছা, বাদাম ভাজলে কেমন হয় বা পানি গরম করলে? হবে না, না? তাইলে নতুন কোন রেসিপি ট্রাই করে দেখা যেতে পারে। রেসিপিটা আপনাদের বলিনি বুঝি।
আলকাতরার হালুয়া:
১. এক ডেগ আলকাতরা।
২. একটি হাতা।
৩. পরিমাণ অনুযায়ী আগুন।
৪. অন্তত একটি হাত (নিজের হলে ভাল হয়)। তো হয়ে যাক। নাড়তে থাকুন মনের আনন্দে।
ঘুটার পর ঘুটা। দে ঘুটা। নাড়তে থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত না জিসিটা রাবারের মতো হয়।
ব্যস। তো হয়ে যাক পার্টি। অনন্তকাল ধরে চিবুতে থাকা।
বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া:
১. এক প্যাকেট মেয়াদঅলা বিস্কুট। (লক্ষ রাখবেন বিস্কুটগুলো যেন ন্যাতানো না থাকে)।
২. একটি কাঠের হাতুরী (মাথায় বাড়ি দিলে মাথা ফাটবে না এমন)।
৩. একটি টেবিল চামুচ।
৪. ২টি হাত (১টি অন্যের হলে কাজ চালানো যাবে)। এবার বিস্কুটটিকে আলতো করে পিটিয়ে গুড়া করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিস্কুটগুলো গুড়া গুড়া টাইপের হয়। ব্যস। হয়ে গেল বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া। এইবার চামচ দিয়ে খেতে থাকুন কপকপ করে। আর আরামসে ব্লগিং করুন। শাব্বা খায়ের।
*স্মতব্য: এর পরের দায়িত্ব আমার না
প্রকৃতির পছন্দ অপছন্দ…
প্রকৃতির ভারী পছন্দ চিরাচরিত পথ ধরে হাঁটা- অন্য পথও তার অজানা নেই বলেই হয়তো আগ্রহের কমতি। প্রকৃতির আমোদের শেষ নাই- ক্রমশ শেকড় ছড়িয়ে যাওয়ায়। যেন ছোট্ট একটা শিশু খেলছে আপন মনে।
কোন কোন পুরুষ অন্য একজন পুরুষের প্রতি অন্য রকম আকর্ষণ বোধ করেন, কেন? এটা মনোবিদরা ভালো বলতে পারবেন। আমাদের দেশে এ নিয়ে খুব একটা কাজ করা হয়েছে বলে তো শুনিনি। এই যে কেউ কেউ, এরা কেন আগ্রহ বোধ করেন! আমাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কি ধার করা খানিকটা স্মৃতি?
সভ্যতার শুরুতে মানুষের চিন্তা ভাবনা, কর্মকান্ড ছিল অবাধ। জ্ঞান উন্মেষের কারণে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে চলা শুরু করে, পরে সমাজবদ্ধ। ফলশ্রুতিতে এই সমাজকে টিকিয়ে রাখতে যথারীতি আমদানী হলো ত্যাগ। মানুষের অবাধ ভাবনা ভাগ হয়ে গেল সু এবং কুতে। কু প্রবৃত্তিগুলোকে বাঁধা হলো পরতের পর পরত শেকলে। আমাদের অচেতন মন কি সেই ভারাক্রানত স্মৃতিতে কাবু। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য মানুষের মন কি সর্বদাই মুখিয়ে থাকে- কে জানে, হবে হয়তো বা!
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা এক ধরনের অসুখ। তাঁরা চেষ্টা করছেন নষ্ট জিন সরিয়ে ফেলতে। এটা আমার এক বন্ধুকে বলামাত্র তিনি মৃদু আপত্তি জানালেন, তার মনোভাব বুঝতে আমার বাকী ছিল না। কোন এক বিচিত্র কারণে তিনি আমাকে খানিকটা সমীহ করেন। সম্ভবত বয়সের কারণেই। এই মানুষটা অগাধ পড়াশোনা বিভিন্ন বিষয়ে- আমাদের মতো মানুষদের এমন নমুনা দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যায়! আমার গোপন ইচ্ছা ছিল তার সঙ্গে তর্কে যাওয়ার এ দাবী করি না। আমি জানি ইয়া লম্বা লম্বা চোথা ধরিয়ে দেবেন, তাও ইংরাজীতে। কে যায় বেল তলায়!
যে কথাটা বলা হয়নি তাঁকে। মানুষের এই গোপন ইচ্ছার জন্য অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। জেনেটিক সমস্যা বহুলাংশে দায়ী। এটা বললেই তিনি রে রে করে তেড়ে আসতেন। তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলতেন, এইটা খুব একটা ঢং হইছে, কিছু হইলেই দাও দোষ জিন-এর।
আমাদের দেশে এই সমস্যা নিয়ে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। অথচ উড়িয়ে দেয়া চলে এটা বলাও চলে না। যে সচেনতা গড়ে উঠার প্রয়োজন ছিল তা অনুপস্থিত। ফলশ্রুতিতে অজান্তেই অনেকে জড়িয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গে আমাদের ভঙ্গিটা হচ্ছে অনেকটা ওই কাকের মতো- চক্ষু বন্ধ করে আছি বলে কেউ আমাকে দেখছে না। উন্নত দেশগুলোতে যে ভাবে ঘটা করে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আমাদের দেশের কাঠামোতে আপাতত এটা সম্ভব হয়ে উঠে না। অনেক অজানা দিক আমরা জানতে পারছি না। অথচ এই নিগ্রহ যে কতোটা ভয়াবহ, কতোটা বিচিত্র যারা খানিকটা জানেন, মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
তো, এটা ছাড়াও বিশেষ কিছু পেশার লোকজনের মধ্যে এর হার প্রবল। কোন কোন পেশা এটা জনে জনে বলে বিতর্ক আর বাড়াই না। তবে একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি, সাগরে যেসব নাবিকরা ঘুরে বেড়ান দীর্ঘ দিন নারী বিবর্জিত- এদের মধ্যে এই হারটা আশংকাজনক। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাগরপারে এরা সহজলভ্য।
তেমনি কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এই হার ভয়াবহ। তৈরী হচ্ছে একেকটা বৃষবৃক্ষ। এবং এই কান্ডের জন্য অনেক কারণ ব্যতীত ধর্মীয় গ্রন্থের পরোক্ষ উস্কানীও অন্যতম কারণ।
কোন কোন পুরুষ অন্য একজন পুরুষের প্রতি অন্য রকম আকর্ষণ বোধ করেন, কেন? এটা মনোবিদরা ভালো বলতে পারবেন। আমাদের দেশে এ নিয়ে খুব একটা কাজ করা হয়েছে বলে তো শুনিনি। এই যে কেউ কেউ, এরা কেন আগ্রহ বোধ করেন! আমাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কি ধার করা খানিকটা স্মৃতি?
সভ্যতার শুরুতে মানুষের চিন্তা ভাবনা, কর্মকান্ড ছিল অবাধ। জ্ঞান উন্মেষের কারণে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে চলা শুরু করে, পরে সমাজবদ্ধ। ফলশ্রুতিতে এই সমাজকে টিকিয়ে রাখতে যথারীতি আমদানী হলো ত্যাগ। মানুষের অবাধ ভাবনা ভাগ হয়ে গেল সু এবং কুতে। কু প্রবৃত্তিগুলোকে বাঁধা হলো পরতের পর পরত শেকলে। আমাদের অচেতন মন কি সেই ভারাক্রানত স্মৃতিতে কাবু। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য মানুষের মন কি সর্বদাই মুখিয়ে থাকে- কে জানে, হবে হয়তো বা!
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা এক ধরনের অসুখ। তাঁরা চেষ্টা করছেন নষ্ট জিন সরিয়ে ফেলতে। এটা আমার এক বন্ধুকে বলামাত্র তিনি মৃদু আপত্তি জানালেন, তার মনোভাব বুঝতে আমার বাকী ছিল না। কোন এক বিচিত্র কারণে তিনি আমাকে খানিকটা সমীহ করেন। সম্ভবত বয়সের কারণেই। এই মানুষটা অগাধ পড়াশোনা বিভিন্ন বিষয়ে- আমাদের মতো মানুষদের এমন নমুনা দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যায়! আমার গোপন ইচ্ছা ছিল তার সঙ্গে তর্কে যাওয়ার এ দাবী করি না। আমি জানি ইয়া লম্বা লম্বা চোথা ধরিয়ে দেবেন, তাও ইংরাজীতে। কে যায় বেল তলায়!
যে কথাটা বলা হয়নি তাঁকে। মানুষের এই গোপন ইচ্ছার জন্য অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। জেনেটিক সমস্যা বহুলাংশে দায়ী। এটা বললেই তিনি রে রে করে তেড়ে আসতেন। তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলতেন, এইটা খুব একটা ঢং হইছে, কিছু হইলেই দাও দোষ জিন-এর।
আমাদের দেশে এই সমস্যা নিয়ে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। অথচ উড়িয়ে দেয়া চলে এটা বলাও চলে না। যে সচেনতা গড়ে উঠার প্রয়োজন ছিল তা অনুপস্থিত। ফলশ্রুতিতে অজান্তেই অনেকে জড়িয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গে আমাদের ভঙ্গিটা হচ্ছে অনেকটা ওই কাকের মতো- চক্ষু বন্ধ করে আছি বলে কেউ আমাকে দেখছে না। উন্নত দেশগুলোতে যে ভাবে ঘটা করে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আমাদের দেশের কাঠামোতে আপাতত এটা সম্ভব হয়ে উঠে না। অনেক অজানা দিক আমরা জানতে পারছি না। অথচ এই নিগ্রহ যে কতোটা ভয়াবহ, কতোটা বিচিত্র যারা খানিকটা জানেন, মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
তো, এটা ছাড়াও বিশেষ কিছু পেশার লোকজনের মধ্যে এর হার প্রবল। কোন কোন পেশা এটা জনে জনে বলে বিতর্ক আর বাড়াই না। তবে একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি, সাগরে যেসব নাবিকরা ঘুরে বেড়ান দীর্ঘ দিন নারী বিবর্জিত- এদের মধ্যে এই হারটা আশংকাজনক। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাগরপারে এরা সহজলভ্য।
তেমনি কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এই হার ভয়াবহ। তৈরী হচ্ছে একেকটা বৃষবৃক্ষ। এবং এই কান্ডের জন্য অনেক কারণ ব্যতীত ধর্মীয় গ্রন্থের পরোক্ষ উস্কানীও অন্যতম কারণ।
আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে…
আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে যখন ভিনদেশি এইসব মানুষদের কাছে আমাদেরকে অকৃতজ্ঞ, নগ্ন করে দেয়া হয়। ফাদার মারিনো রিগন। ইতালীর নাগরিক। ১৯৭১ সাল, মুক্তিযুদ্ধ। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি তাঁর গির্জাকে রাতের বেলায় বানিয়ে ফেলতেন হাসপাতাল। শত শত মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের নারীকে করেছেন পূর্ণবাসিত।
১৯৭১ সালে রামশীল গ্রামে দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার দল হেমায়েত বাহিনীর সঙ্গে পাক আর্মীর তুমূল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে হতাহত হন পাক আর্মীর ১৫৮ জন। আহত হন হেমায়েত বাহিনীর হেমায়েত। যথারীতি চিকিৎসা করেন ফাদার রিগন। ওই সময় হেমায়েতের মুখ থেকে শুনুন, ওই সময় আমার চিকিৎসা করে ফাদার নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় উপরে ছিলেন ঈশ্বর নীচে ফাদার রিগন।
আমরা ৮৬ বছরের এই মানুষটাকে এই ৩৬ বছরে কি দিয়েছি- লম্বা লম্বা বাতচিত করেছি?
অথচ এই ৩৬ বছরে তিনি বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য। তিনি জটিল অপারেশনের জন্য দেশে যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গেছেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়। যাওয়ার আগে তিনি ফোনে আশা নাজনীনকে বলে গেছেন জীবনানন্দের ভাষায়, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।
হায়রে আইন- হায়রে গাইন। কার জন্য আইন! এই মানুষটাকে নাগরিকত্ব দিতে সমস্যা কোথায়? আফসোস, একজনের নাগরিকত্ব অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নাই। নইলে তুচ্ছ আমি, সীমাহীন আনন্দের সঙ্গে এই মানুষটার জন্য নিজের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতাম। আজীবন এই আনন্দ বয়ে বেড়াতাম, সামান্য একজন আমি ভাল একটা কাজ করলাম। আফসোস...।
*পোস্টের সঙ্গে ইচ্ছা করেই তাঁর ছবিটা দিলাম না। দেবদূতের মতো এই মানুষটার চশমার পেছনের ঝকঝকে চোখে চোখ রাখি কেমন করে!
**সুখের বিষয় কিছুদিন পূর্বে মানুষটাকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালে রামশীল গ্রামে দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার দল হেমায়েত বাহিনীর সঙ্গে পাক আর্মীর তুমূল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে হতাহত হন পাক আর্মীর ১৫৮ জন। আহত হন হেমায়েত বাহিনীর হেমায়েত। যথারীতি চিকিৎসা করেন ফাদার রিগন। ওই সময় হেমায়েতের মুখ থেকে শুনুন, ওই সময় আমার চিকিৎসা করে ফাদার নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় উপরে ছিলেন ঈশ্বর নীচে ফাদার রিগন।
আমরা ৮৬ বছরের এই মানুষটাকে এই ৩৬ বছরে কি দিয়েছি- লম্বা লম্বা বাতচিত করেছি?
অথচ এই ৩৬ বছরে তিনি বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য। তিনি জটিল অপারেশনের জন্য দেশে যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গেছেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়। যাওয়ার আগে তিনি ফোনে আশা নাজনীনকে বলে গেছেন জীবনানন্দের ভাষায়, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।
হায়রে আইন- হায়রে গাইন। কার জন্য আইন! এই মানুষটাকে নাগরিকত্ব দিতে সমস্যা কোথায়? আফসোস, একজনের নাগরিকত্ব অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নাই। নইলে তুচ্ছ আমি, সীমাহীন আনন্দের সঙ্গে এই মানুষটার জন্য নিজের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতাম। আজীবন এই আনন্দ বয়ে বেড়াতাম, সামান্য একজন আমি ভাল একটা কাজ করলাম। আফসোস...।
*পোস্টের সঙ্গে ইচ্ছা করেই তাঁর ছবিটা দিলাম না। দেবদূতের মতো এই মানুষটার চশমার পেছনের ঝকঝকে চোখে চোখ রাখি কেমন করে!
**সুখের বিষয় কিছুদিন পূর্বে মানুষটাকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
যদি আপনাকে বলতে পারতাম, চলে আসেন…
যুক্তরাজ্যের মিস ভেলরি এ টেইলর।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজকে উৎসর্গ করেন মানবসেবায়। ১৯৬৯ সালে ফিজিও থেরাপিস্ট হিসাবে স্বল্পকালীন চুক্তিতে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশে ফিরে যান। আবার এ দেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালে- নিজেকে পুরোপুরি সপে দেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায়। পক্ষঘাতগ্রস্থ মানুষদের জন্য গড়ে তুলেন সিআরপি।
২৭ বছর ধরে নিরলস সেবায় উপকৃত হতে থাকে এ দেশের অসংখ্য মানুষ। দত্তক নেন এ দেশের ২জন পক্ষঘাতগ্রস্থ মেয়েকে।
এই মানুষটি বর্তমানে বেতন নেন সাত হাজার পাঁচশ টাকা। অথচ নির্বাহী কর্মকর্তা সি এম শফি সামি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন বলে জনশ্রুতী আছে।
অবশেষে এই মানুষটির যা প্রাপ্য তাই দেয়া দিয়েছে। সি আর পি থেকে ক্রমশ ভেলরীকে কোনঠাসা করে ফেলা হচ্ছে, যথেষ্ঠ অসম্মানের সঙ্গে। বলা হচ্ছে তিনি নাকি ম্যানেজমেন্ট বুঝেন না। এইটা বুঝতে মহোদয়দের সাতাশ বছর লাগল! হুম, তিনি হরতালের মধ্যে যখন মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন- তখন ম্যানেজম্যান্টের সমস্যা হয়নি বুঝি!
আমি আমার অনালোচিত জীবন এবং সীমিত ক্ষমতা নিয়ে বড়ো সুখী। কিন্ত কখনও কিছু সত্যর মুখোমুখি হলে মনটা হতাশায় ভরে যায়- নিজেকে পোকা পোকা মনে হয়। আমার সন্তানের কসম, আজ আমার যথেষ্ট টাকা থাকলে, ক্ষমতা থাকলে এই ভদ্রমহিলার পা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তাম না, যে পর্যন্ত না তিনি স্বীকার যেতেন, আমার মতের সঙ্গে একমত হতেন।
তাঁকে বলতাম, চলে আসেন ওখান থেকে, যেখানে আপনার সম্মান নাই সেখানে আপনার কি কাজ! ওখানে আপনার বিপুল ক্ষমতার কেন অপচয় করছেন। নতুন করে আবার শুরু করেন। আপনি ফুরিয়ে যাননি... আপনার মতো অমর মানুষদের আমাদের বড্ডো প্রয়োজন। নিজেদের জন্য- আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য...।
*ঋণঃ সাপ্তাহিক ২০০০
মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজকে উৎসর্গ করেন মানবসেবায়। ১৯৬৯ সালে ফিজিও থেরাপিস্ট হিসাবে স্বল্পকালীন চুক্তিতে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশে ফিরে যান। আবার এ দেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালে- নিজেকে পুরোপুরি সপে দেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায়। পক্ষঘাতগ্রস্থ মানুষদের জন্য গড়ে তুলেন সিআরপি।
২৭ বছর ধরে নিরলস সেবায় উপকৃত হতে থাকে এ দেশের অসংখ্য মানুষ। দত্তক নেন এ দেশের ২জন পক্ষঘাতগ্রস্থ মেয়েকে।
এই মানুষটি বর্তমানে বেতন নেন সাত হাজার পাঁচশ টাকা। অথচ নির্বাহী কর্মকর্তা সি এম শফি সামি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন বলে জনশ্রুতী আছে।
অবশেষে এই মানুষটির যা প্রাপ্য তাই দেয়া দিয়েছে। সি আর পি থেকে ক্রমশ ভেলরীকে কোনঠাসা করে ফেলা হচ্ছে, যথেষ্ঠ অসম্মানের সঙ্গে। বলা হচ্ছে তিনি নাকি ম্যানেজমেন্ট বুঝেন না। এইটা বুঝতে মহোদয়দের সাতাশ বছর লাগল! হুম, তিনি হরতালের মধ্যে যখন মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন- তখন ম্যানেজম্যান্টের সমস্যা হয়নি বুঝি!
আমি আমার অনালোচিত জীবন এবং সীমিত ক্ষমতা নিয়ে বড়ো সুখী। কিন্ত কখনও কিছু সত্যর মুখোমুখি হলে মনটা হতাশায় ভরে যায়- নিজেকে পোকা পোকা মনে হয়। আমার সন্তানের কসম, আজ আমার যথেষ্ট টাকা থাকলে, ক্ষমতা থাকলে এই ভদ্রমহিলার পা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তাম না, যে পর্যন্ত না তিনি স্বীকার যেতেন, আমার মতের সঙ্গে একমত হতেন।
তাঁকে বলতাম, চলে আসেন ওখান থেকে, যেখানে আপনার সম্মান নাই সেখানে আপনার কি কাজ! ওখানে আপনার বিপুল ক্ষমতার কেন অপচয় করছেন। নতুন করে আবার শুরু করেন। আপনি ফুরিয়ে যাননি... আপনার মতো অমর মানুষদের আমাদের বড্ডো প্রয়োজন। নিজেদের জন্য- আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য...।
*ঋণঃ সাপ্তাহিক ২০০০
নির্বোধ, তফাত যাও।
আমি রাগ চেপে নির্বোধ মানুষটাকে বললাম, এটা রাখাতে কি সমস্যা হয়েছে!
তিনি বললেন, বিধর্মীর…।
আমি বললাম, বিধর্মীর কি তিনি?
তিনি বললেন, নবী।
আমি বললাম, বেশ। আপনি কি তাঁকে নবী হিসাবে স্বীকার করেন না?
তিনি বললেন, নাউজুবিল্লা।
আমি তার চোখে চোখে রেখে বললাম, আপনি তাঁকে নবী হিসাবে স্বীকার না করলে আপনি নিজেকে মুসলমান বলে দাবী করতে পারেন না।
এই নির্বোধ মানুষটার সঙ্গে আমার কথা বাড়াতে ইচ্ছা করল না। তিনি ডাক্তার বলেই চিকিৎসারসূত্রে আমার অন্দরমহলে আসতে পেরেছেন, বাণী দিতে পেরেছেন। আফসোস, এমন নির্বোধ ডাক্তার হওয়ার চেয়ে আমি বকলম হয়েছি। বড়ো বাঁচা বেঁচে গেছি!
একজন মুসলমান ঈসা (আঃ)- এর ক্রুশেবিদ্ধ করে হত্যা করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা যৌত্তিক কিন্ত নবী হিসাবে তাঁকে অস্বীকার করার কোন অবকাশই নাই।
এখানে প্রাসঙ্গিক একটা কোরানের আয়াতের কথা উল্লেখ করা যেতে পারেঃ
*তারা তাকে হত্যা করেনি বা ক্রুশবিদ্ধও করেনি, কিন্ত তাদের এমন মনে হয়েছিল। তার সম্বন্ধে যাদের সন্দেহ ছিল তাদের এ-সম্পকে অনুমান করা ছাড়া কোন জ্ঞানই ছিল না। এ নিশ্চিত যে তারা তাকে হত্যা করেনি। আল্লাহ তাকে তাঁর কাছে তুলে নিয়েছেন। আর আল্লাহ শক্তিমান, তত্বজ্ঞানী। কিতাবিদের মধ্যে প্রত্যেকে তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে (ঈসাকে) বিশ্বাস করবেই, আর কিয়ামতের দিন সে (ঈসা) তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে।
* (৪ সুরা নিসাঃ ১৫৬-১৫৯)
মানবতা মরে যায়, পশুত্ব মরে না!
আহসান কবীরকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়েছে।
আহসান কবীরকে নিয়ে প্রথম আলো নিউজ করেছে। না করলে কি হতো এটা আমার বোধগম্য না। খবরটার শিরোনাম হচ্ছে এমনঃ সন্ত্রাসী হামলায় চ্যানেল সিএসবির সাংবাদিক হাবিব আহত
খবরের ডিটেইলসে আছেঃ …আহসান হাবিব পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন
…তারা হাবিবের সঙ্গে থাকা আরেকজন সাংবাদিকের খোঁজ করে
হাবিব ছিনতাইকারী ভেবে মানিব্যাগ, ঘড়ি, মোবাইল…
ঘটনাটা ঘটেছে ২২ জানুয়ারী। প্রথম আলো খবরটা ছাপিয়েছে ২৪ জানুয়ারী। আনুমানিক রাত ১১টার ঘটনা- মিস হতেই পারে। কিন্ত খবরটা ছাপানো হয়েছে, ভেতরের পাতায় হেলাফেলা ভঙ্গিতে। এবং এই পত্রিকা আহসান কবীরের নাম লিখেছে, আহসান হাবিব। বেশ!
কাল আমার ধারণা ছিল, এটা ছাপার ভুল। ভুল হওয়া দোষের, কিন্ত বিচিত্র কিছু না।
আজ প্রথম আলো পত্রিকা আমি তন্নতন্ন করে খুঁজেছি- মানুষটা যে কবীর, হাবিব না এর কোথাও কোন সংশোধনী নাই। নাকি আছে, আতশি কাচ দিয়ে না দেখার কারণে আমার চোখ এড়িয়ে গেছে?
এই ভুলটা এই পত্রিকার কারো চোখে পড়েনি? ব্যাপারটা আমার কাছে মনে হচ্ছে, অস্বাভাবিক- চরম অস্বাভাবিক!যে পত্রিকায় আহসান কবীর দীর্ঘ দিন চাকরি করেছেন- লেখালেখি করেছেন! পুরনো এখানের অনেকের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, ভাগাভাগি করে চা, সিগারেট খেয়েছেন। বাহ, তারা নিশ্চিত না তিনি কবীর, না হাবিব!
এই পত্রিকার পুরনোরা তাঁকে চেনেন না? বা এই ধন্দে থাকবেন, তাঁর নাম কি কবীর না হাবিব- আজব? ভুল হয়ে থাকলে সংশোধন হবে না কেন- এর কোন যথার্থ কারণ তো আমি দেখছি না? আসলে এটা কি ক্ষমাহীন ভুল, না অন্য কিছু?
আহসান কবীরের কি কি দোষ আছে এটা অন্যরা ভাল বলতে পারবেন কিন্তু তাঁর একটা অসাধারণ গুণ হলো, তিনি তার মন্দ লাগার কথা অবলীলায় বলতে পারতেন। বিবেকে বাঁধে বা তোষামোদির কোন কাজ করার ব্যাপারে তাঁর ছিল তীব্র অনীহা। আমার জানামতে, এই পত্রিকার কেউ কেউ তাঁকে পছন্দ করতেন না। কেউ কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন, পৃথিবীর তাবৎ মানুষকে ভাল লাগতে হবে, এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? কিন্ত তাই বলে এমন দানবীয় অপছন্দ?
আমি কায়মনে চাই, অন্য কিছু না হোক- হলে, আমি ঠান্ডা মাথায় ভাবছি আর শিউরে উঠছি। আর তাই যদি হয়ে থাকে- আমি নিজেই নিজের মুখে থুথু দেই। লাভ কী- থুথুর মতো ইতিহাসও ফিরে আসে বারবার। ইতিহাসের কুশিক্ষা কি আমাদের রক্তে খেলা করে বেড়ায়- এ থেকে কি আমাদের মুক্তি নাই?
যে ঘৃণার বীজ আজ আমি বয়ে বেড়াচ্ছি- এটা কি তখন ধুয়ে যাবে, যখন আমাকেও অবিকল এমনই করে চাপাতি দিয়ে চরম নির্মমতায় পশুর মতো কোপানো হবে।
আমি কি সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি?
না। আমি এমন দানবীয় ঘৃণা বুকে লালন করার চেয়ে মরে যাওয়া বেছে নেব। আহসান কবীরের একটা উপন্যাসের আছেঃ ভালবাসা মরে যায় মুগ্ধতা মরে না…
কে জানে, আহসান কবীরের মতো লেখক হলে হয়তো বা আমিও একটা উপন্যাস লিখতাম, মানবতা মরে যায় পশুত্ব মরে না…
* আমি একটা ওয়েব সাইটে অনেকটা সময় ধরে লেখালেখি করেছি। এই পোস্টটিতে সবচেয়ে কম সাড়া পেয়েছিলাম। গরম মাথায় আমার প্রিয় এক মানুষকে মেইল করেছিলাম:
…,
দুঃখিত, আমি বড়ো হতাশ হলাম। এ জন্য না যে আপনি আমার পোস্টে মন্তব্য করেননি বলে- সব কিছু মিলিয়ে আমি স্তম্ভিত! আহসান কবীরকে প্রথম আলো থেকে বের করার যে বর্ণনা দিলেন এর সবটাই আমি জানি। এসব তো পত্রিকায় এসেছে। আলপিনের ওই লেখার জন্য জবাবদিহী করার কথা, চাকরী যাওয়ার কথা সুমন্ত আসলামের, আনিসুল হকের। এটা কোন সুযোগ আসলে আমি নিজেই বলতাম। কিন্ত আমার ওই পোস্ট নিয়ে কেউ আমায় চ্যালেঞ্জ করেনি। আমি অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ ভাসাভাসা উপাত্ত নিয়ে লিখিনি। আপনার এই জানা তথ্যোর বাইরে বাড়তি আরও কিছূ আমার জানা আছে।
আহসান কবীরের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাকে কোপানোর মাত্র ২/৩ দিন আগে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল- শাহবাগে। ওই দিন তিনি ভয়াবহ রকম অসুস্ত ছিলেন, মরতে মরতে বেঁচে মাত্র হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। ঠিক মতো দাঁড়াবার ক্ষমতা তার ছিল না। তার বইয়ের প্রুফ দেখার জন্য এসেছিলেন। এর পরেই এই ঘটনা।
আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম। শাহবাগে আমাদের সঙ্গে আরেকজন মানুষ ছিলেন তিনি আহসান কবীরের সঙ্গে চাকরি করেছেন, ভাগাভাগি করে চা সিগারেট খেয়েছেন। অথচ এই মানুষটা কবীরকে নিয়ে দু লাইন লেখা দূরের কথা ১টা কমেন্টসও করেননি!
আমি হতভম্ব। আমার এই পোস্টে মাত্র ১টা মন্তব্য! অথচ হিট প্রায় ৩৫০! হা ঈশ্বর- আমাকে এই ভাগাড়ে লেখালেখি করে দেশ উদ্ধার করতে হবে? ছি- ধিক্কার দেই নিজেকে!এটা আমার পরাজয় না- এটা মানবতার পরাজয়। মানবের বিরুদ্ধে দানবের যুদ্ধের ফল মাত্র…। আফসোস, এসব দেখার আগে আমার ভ্রণাবস্তায় মরে যাওয়াই ভাল ছিল।
কে সেলুনে চুল কাটলো, কে ভোঁতা দা দিয়ে নোখ কাটলো এইসব পোস্ট নিয়ে কী উচ্ছ্বাস! এরি হায় হায়! এই টাইপের পোস্ট তো আমি দিতে পারবো না- যে দিন দেব, সেই দিন আমার মতো একজন অখ্যাত লেখকের মৃত্যু হবে। আমি মরতে চাই না। যাও সরু একটা দড়ির উপর আমি এখানে ঝুলে ছিলাম- ওই দড়িটাও আজ ছিঁড়ে গেল। আহ, মুক্তি পেলাম আমি নিজের কাছ থেকে! এই জায়গাটা আসলে আমার জন্য না!
সরি টু সে, আপনি আমায় হতাশ করলেন, পালিয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না- একজন মানুষ পালিয়ে কোথায় যাবে? নিজের কাছ থেকে কি আদৌ পালানো যায়?
আহসান কবীরকে নিয়ে প্রথম আলো নিউজ করেছে। না করলে কি হতো এটা আমার বোধগম্য না। খবরটার শিরোনাম হচ্ছে এমনঃ সন্ত্রাসী হামলায় চ্যানেল সিএসবির সাংবাদিক হাবিব আহত
খবরের ডিটেইলসে আছেঃ …আহসান হাবিব পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন
…তারা হাবিবের সঙ্গে থাকা আরেকজন সাংবাদিকের খোঁজ করে
হাবিব ছিনতাইকারী ভেবে মানিব্যাগ, ঘড়ি, মোবাইল…
ঘটনাটা ঘটেছে ২২ জানুয়ারী। প্রথম আলো খবরটা ছাপিয়েছে ২৪ জানুয়ারী। আনুমানিক রাত ১১টার ঘটনা- মিস হতেই পারে। কিন্ত খবরটা ছাপানো হয়েছে, ভেতরের পাতায় হেলাফেলা ভঙ্গিতে। এবং এই পত্রিকা আহসান কবীরের নাম লিখেছে, আহসান হাবিব। বেশ!
কাল আমার ধারণা ছিল, এটা ছাপার ভুল। ভুল হওয়া দোষের, কিন্ত বিচিত্র কিছু না।
আজ প্রথম আলো পত্রিকা আমি তন্নতন্ন করে খুঁজেছি- মানুষটা যে কবীর, হাবিব না এর কোথাও কোন সংশোধনী নাই। নাকি আছে, আতশি কাচ দিয়ে না দেখার কারণে আমার চোখ এড়িয়ে গেছে?
এই ভুলটা এই পত্রিকার কারো চোখে পড়েনি? ব্যাপারটা আমার কাছে মনে হচ্ছে, অস্বাভাবিক- চরম অস্বাভাবিক!যে পত্রিকায় আহসান কবীর দীর্ঘ দিন চাকরি করেছেন- লেখালেখি করেছেন! পুরনো এখানের অনেকের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, ভাগাভাগি করে চা, সিগারেট খেয়েছেন। বাহ, তারা নিশ্চিত না তিনি কবীর, না হাবিব!
এই পত্রিকার পুরনোরা তাঁকে চেনেন না? বা এই ধন্দে থাকবেন, তাঁর নাম কি কবীর না হাবিব- আজব? ভুল হয়ে থাকলে সংশোধন হবে না কেন- এর কোন যথার্থ কারণ তো আমি দেখছি না? আসলে এটা কি ক্ষমাহীন ভুল, না অন্য কিছু?
আহসান কবীরের কি কি দোষ আছে এটা অন্যরা ভাল বলতে পারবেন কিন্তু তাঁর একটা অসাধারণ গুণ হলো, তিনি তার মন্দ লাগার কথা অবলীলায় বলতে পারতেন। বিবেকে বাঁধে বা তোষামোদির কোন কাজ করার ব্যাপারে তাঁর ছিল তীব্র অনীহা। আমার জানামতে, এই পত্রিকার কেউ কেউ তাঁকে পছন্দ করতেন না। কেউ কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন, পৃথিবীর তাবৎ মানুষকে ভাল লাগতে হবে, এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? কিন্ত তাই বলে এমন দানবীয় অপছন্দ?
আমি কায়মনে চাই, অন্য কিছু না হোক- হলে, আমি ঠান্ডা মাথায় ভাবছি আর শিউরে উঠছি। আর তাই যদি হয়ে থাকে- আমি নিজেই নিজের মুখে থুথু দেই। লাভ কী- থুথুর মতো ইতিহাসও ফিরে আসে বারবার। ইতিহাসের কুশিক্ষা কি আমাদের রক্তে খেলা করে বেড়ায়- এ থেকে কি আমাদের মুক্তি নাই?
যে ঘৃণার বীজ আজ আমি বয়ে বেড়াচ্ছি- এটা কি তখন ধুয়ে যাবে, যখন আমাকেও অবিকল এমনই করে চাপাতি দিয়ে চরম নির্মমতায় পশুর মতো কোপানো হবে।
আমি কি সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি?
না। আমি এমন দানবীয় ঘৃণা বুকে লালন করার চেয়ে মরে যাওয়া বেছে নেব। আহসান কবীরের একটা উপন্যাসের আছেঃ ভালবাসা মরে যায় মুগ্ধতা মরে না…
কে জানে, আহসান কবীরের মতো লেখক হলে হয়তো বা আমিও একটা উপন্যাস লিখতাম, মানবতা মরে যায় পশুত্ব মরে না…
* আমি একটা ওয়েব সাইটে অনেকটা সময় ধরে লেখালেখি করেছি। এই পোস্টটিতে সবচেয়ে কম সাড়া পেয়েছিলাম। গরম মাথায় আমার প্রিয় এক মানুষকে মেইল করেছিলাম:
…,
দুঃখিত, আমি বড়ো হতাশ হলাম। এ জন্য না যে আপনি আমার পোস্টে মন্তব্য করেননি বলে- সব কিছু মিলিয়ে আমি স্তম্ভিত! আহসান কবীরকে প্রথম আলো থেকে বের করার যে বর্ণনা দিলেন এর সবটাই আমি জানি। এসব তো পত্রিকায় এসেছে। আলপিনের ওই লেখার জন্য জবাবদিহী করার কথা, চাকরী যাওয়ার কথা সুমন্ত আসলামের, আনিসুল হকের। এটা কোন সুযোগ আসলে আমি নিজেই বলতাম। কিন্ত আমার ওই পোস্ট নিয়ে কেউ আমায় চ্যালেঞ্জ করেনি। আমি অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ ভাসাভাসা উপাত্ত নিয়ে লিখিনি। আপনার এই জানা তথ্যোর বাইরে বাড়তি আরও কিছূ আমার জানা আছে।
আহসান কবীরের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাকে কোপানোর মাত্র ২/৩ দিন আগে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল- শাহবাগে। ওই দিন তিনি ভয়াবহ রকম অসুস্ত ছিলেন, মরতে মরতে বেঁচে মাত্র হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। ঠিক মতো দাঁড়াবার ক্ষমতা তার ছিল না। তার বইয়ের প্রুফ দেখার জন্য এসেছিলেন। এর পরেই এই ঘটনা।
আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম। শাহবাগে আমাদের সঙ্গে আরেকজন মানুষ ছিলেন তিনি আহসান কবীরের সঙ্গে চাকরি করেছেন, ভাগাভাগি করে চা সিগারেট খেয়েছেন। অথচ এই মানুষটা কবীরকে নিয়ে দু লাইন লেখা দূরের কথা ১টা কমেন্টসও করেননি!
আমি হতভম্ব। আমার এই পোস্টে মাত্র ১টা মন্তব্য! অথচ হিট প্রায় ৩৫০! হা ঈশ্বর- আমাকে এই ভাগাড়ে লেখালেখি করে দেশ উদ্ধার করতে হবে? ছি- ধিক্কার দেই নিজেকে!এটা আমার পরাজয় না- এটা মানবতার পরাজয়। মানবের বিরুদ্ধে দানবের যুদ্ধের ফল মাত্র…। আফসোস, এসব দেখার আগে আমার ভ্রণাবস্তায় মরে যাওয়াই ভাল ছিল।
কে সেলুনে চুল কাটলো, কে ভোঁতা দা দিয়ে নোখ কাটলো এইসব পোস্ট নিয়ে কী উচ্ছ্বাস! এরি হায় হায়! এই টাইপের পোস্ট তো আমি দিতে পারবো না- যে দিন দেব, সেই দিন আমার মতো একজন অখ্যাত লেখকের মৃত্যু হবে। আমি মরতে চাই না। যাও সরু একটা দড়ির উপর আমি এখানে ঝুলে ছিলাম- ওই দড়িটাও আজ ছিঁড়ে গেল। আহ, মুক্তি পেলাম আমি নিজের কাছ থেকে! এই জায়গাটা আসলে আমার জন্য না!
সরি টু সে, আপনি আমায় হতাশ করলেন, পালিয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না- একজন মানুষ পালিয়ে কোথায় যাবে? নিজের কাছ থেকে কি আদৌ পালানো যায়?
৭১-এ হত্যা- দানবীর নতুনচন্দ্র
পাকিস্তানী সৈন্যরা তাঁকে- নুতননচন্দ্র সিংহকে, হত্যা করে প্রার্থনা করার সময়। সেই সময় তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন।
জনৈক সালাউদ্দিন তাঁকে মন্দিরের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে।
দানবীর নুতনচন্দ্র সিংহের চোখের সামনে মন্দিরটি উড়িয়ে দেয়া হয়। । তারপর তাঁকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে। যে মেজর তাঁকে গুলি করে হত্যা করার জন্য ৩টা গুলি করার পরও সেই সালাউদ্দিন রিভলবারের গুলি ছুঁড়েছিল নতুনচন্দ্রের দিকে। টানা ৩ দিন অবহেলায়, নুতনচন্দ্র সিংহের মৃতদেহ মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল, রাস্তায়!
নতুনচন্দ্র সিংহকে সবাই বারবার বলেছিল, এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর এক কথা, মরতে হলে দেশেই মরবো!
নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি বলে মনে ভারী কষ্ট ছিল তাঁর। তখন রাউজান থানায় কোন বিদ্যালয় ছিল না! মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি আবাসিক সুবিধাসহ আধুনিক কুন্ডেশ্বরী বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছিলেন। শুধু রাউজান না, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে পড়ার জন্য ছাত্রীরা আসতো। তত্কালীন সময়ে সেই বিদ্যালয়ের ছিল নিজস্ব ডাকঘর, সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ, পানির পাম্প, জেনারেটর, বাস ইত্যাদি।
তাঁর মৃত্যুর পর ওই সময়ের টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পত্তি লুট হয়!
’৭১-এ যুদ্ধের সময়, প্রাণ বাঁচাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৭ জন অধ্যাপক সস্ত্রীক এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান, ড. এ আর মল্লিক, ড. আনিসুজ্জামান, ড. কোরাইশী প্রমুখ এদের মধ্যে অন্যতম!
*সূত্রঃ বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড
জনৈক সালাউদ্দিন তাঁকে মন্দিরের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে।
দানবীর নুতনচন্দ্র সিংহের চোখের সামনে মন্দিরটি উড়িয়ে দেয়া হয়। । তারপর তাঁকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে। যে মেজর তাঁকে গুলি করে হত্যা করার জন্য ৩টা গুলি করার পরও সেই সালাউদ্দিন রিভলবারের গুলি ছুঁড়েছিল নতুনচন্দ্রের দিকে। টানা ৩ দিন অবহেলায়, নুতনচন্দ্র সিংহের মৃতদেহ মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল, রাস্তায়!
নতুনচন্দ্র সিংহকে সবাই বারবার বলেছিল, এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর এক কথা, মরতে হলে দেশেই মরবো!
নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি বলে মনে ভারী কষ্ট ছিল তাঁর। তখন রাউজান থানায় কোন বিদ্যালয় ছিল না! মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি আবাসিক সুবিধাসহ আধুনিক কুন্ডেশ্বরী বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছিলেন। শুধু রাউজান না, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে পড়ার জন্য ছাত্রীরা আসতো। তত্কালীন সময়ে সেই বিদ্যালয়ের ছিল নিজস্ব ডাকঘর, সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ, পানির পাম্প, জেনারেটর, বাস ইত্যাদি।
তাঁর মৃত্যুর পর ওই সময়ের টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পত্তি লুট হয়!
’৭১-এ যুদ্ধের সময়, প্রাণ বাঁচাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৭ জন অধ্যাপক সস্ত্রীক এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান, ড. এ আর মল্লিক, ড. আনিসুজ্জামান, ড. কোরাইশী প্রমুখ এদের মধ্যে অন্যতম!
*সূত্রঃ বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
ভার্চুয়াল বেবি!
কোথাও এটা আগেও বলেছিলাম। আমরা দুম করে বলে ফেলি কিসের ছাতাফাতা স্বাধীনতা! স্বাধীনতা কি এটা আমাদেরকে জানতে হবে কোন ইরাকী, কোন প্যালাস্টানীর কাছ থেকে! কেউ হয়তো বলবেন, এটা তো আর ইরাক না- ফাইন।
বেশ, এক দিনে তো আর একটা গাছ মহীরুহ হয়ে উঠে না! একটা গাছ বেড়ে উঠার পেছনে থাকে কতো দুঃসহ স্মৃতি- কতো ঝড়ঝাপটা! তেমনি একটা সৃষ্টির পেছনে সুনির্দিষ্ট সত্য থাকে- সত্যকে অস্বীকার করার মানে সৃষ্টিকে অস্বীকার করা। স্বাধীনতা আমাদের শেকড়- শেকড় কেটে ফেললে তো আর কিছুই থাকে না! স্বাধীনতা অস্বীকার করলে তো আর আমাদের অস্তিত্ব থাকে না।
আজ আমি বাংলায় লিখি- বাংলায় ব্লগিং করি এসবের পেছনে অসংখ্য সাহসী মানুষের সীমাহীন ত্যাগ আছে।
আমি স্পষ্ট করে বলি, স্বাধীনতার ব্যাপারটা তারা কখনোই বুঝবে না, যারা যুদ্ধে তাদের কোন প্রিয়মানুষকে হারায়নি! বা কখনোও, স্বাভাবিক জীবনেও কোন প্রিয়মানুষকে না হারিয়েছে- এই তীব্র বেদনা তাদের স্মৃতিতে নাই! প্রকৃতির শিশু এবং টেস্টটিউব বেবীর মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকবেই। ভার্চুয়াল বেবী কখনোই তার সৃষ্টির ইতিহাস জানতে আগ্রহবোধ করবে না- কারণ তার সাবকনশাস মাইন্ডে তার মার প্রসব বেদনার কোন স্মৃতি নাই!
আমরা যদি একটা মিনিট চোখ বন্ধ করে জাস্ট ভাবি- আমাদের জন্মের সময় আমাদের মার প্রসব বেদনার কথা! আধ জবাই কোন পশুকে আমরা কখনো কি খুব কাছ থেকে দেখেছি? কেউ দেখে থাকলে এই দুঃস্বপ্ন তাকে দিনের পর দিন তাড়া করে বেড়াবে! বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়া- অপািথব, কষ্টের এই বেদনার কাছে নাকি মস্তিষ্ড়্গ হার মানে- এই স্মৃতি মস্তিষ্ক ধরে রাখতে চায় না!
জামাতে ইসলাম এবং ইসলামকে আমরা গুলিয়ে ফেলি। এই বিষয়টা আমরা স্পষ্ট করে দিচ্ছি না। অনেক অতি শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও আমি এই অস্পষ্টতা দেখেছি।
কিন্ত প্রকট সমস্যাটা দাঁড়ায় তখন, যখন অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েরা ইচ্ছায় অনিচ্ছায় জড়িয়ে পড়ে এদের খপ্পরে। আমরা মোটেও চেষ্টা করছি না এদের চোখটা খুলে দিলে, ফিরিয়ে আনতে। বরঞ্চ অন্যায় ভাবে এদের প্রতি রূক্ষ আচরণ করে তুলছে এদের আরও দূর্বিনীত।
জামাত এদের মগজ ধোলাইয়ে যে সময় নিচ্ছে আমরা এর ১০০ ভাগের ১ ভাগও দিচ্ছি কিনা এতে আমার গভীর সন্দেহ আছে। আসলেই কি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হচ্ছে এদের কাছে। পাঠ্যবইয়ে গন্ডগোল, পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইয়ের আকাশ ছোঁয়া দাম, ফাও তুচ্ছতাচ্ছিল্য।
এই অভাগাদের উপায় কী! অথচ এরা তো আমাদেরই সন্তান, আগামী প্রজন্ম।
বেশ, এক দিনে তো আর একটা গাছ মহীরুহ হয়ে উঠে না! একটা গাছ বেড়ে উঠার পেছনে থাকে কতো দুঃসহ স্মৃতি- কতো ঝড়ঝাপটা! তেমনি একটা সৃষ্টির পেছনে সুনির্দিষ্ট সত্য থাকে- সত্যকে অস্বীকার করার মানে সৃষ্টিকে অস্বীকার করা। স্বাধীনতা আমাদের শেকড়- শেকড় কেটে ফেললে তো আর কিছুই থাকে না! স্বাধীনতা অস্বীকার করলে তো আর আমাদের অস্তিত্ব থাকে না।
আজ আমি বাংলায় লিখি- বাংলায় ব্লগিং করি এসবের পেছনে অসংখ্য সাহসী মানুষের সীমাহীন ত্যাগ আছে।
আমি স্পষ্ট করে বলি, স্বাধীনতার ব্যাপারটা তারা কখনোই বুঝবে না, যারা যুদ্ধে তাদের কোন প্রিয়মানুষকে হারায়নি! বা কখনোও, স্বাভাবিক জীবনেও কোন প্রিয়মানুষকে না হারিয়েছে- এই তীব্র বেদনা তাদের স্মৃতিতে নাই! প্রকৃতির শিশু এবং টেস্টটিউব বেবীর মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকবেই। ভার্চুয়াল বেবী কখনোই তার সৃষ্টির ইতিহাস জানতে আগ্রহবোধ করবে না- কারণ তার সাবকনশাস মাইন্ডে তার মার প্রসব বেদনার কোন স্মৃতি নাই!
আমরা যদি একটা মিনিট চোখ বন্ধ করে জাস্ট ভাবি- আমাদের জন্মের সময় আমাদের মার প্রসব বেদনার কথা! আধ জবাই কোন পশুকে আমরা কখনো কি খুব কাছ থেকে দেখেছি? কেউ দেখে থাকলে এই দুঃস্বপ্ন তাকে দিনের পর দিন তাড়া করে বেড়াবে! বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়া- অপািথব, কষ্টের এই বেদনার কাছে নাকি মস্তিষ্ড়্গ হার মানে- এই স্মৃতি মস্তিষ্ক ধরে রাখতে চায় না!
জামাতে ইসলাম এবং ইসলামকে আমরা গুলিয়ে ফেলি। এই বিষয়টা আমরা স্পষ্ট করে দিচ্ছি না। অনেক অতি শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও আমি এই অস্পষ্টতা দেখেছি।
কিন্ত প্রকট সমস্যাটা দাঁড়ায় তখন, যখন অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েরা ইচ্ছায় অনিচ্ছায় জড়িয়ে পড়ে এদের খপ্পরে। আমরা মোটেও চেষ্টা করছি না এদের চোখটা খুলে দিলে, ফিরিয়ে আনতে। বরঞ্চ অন্যায় ভাবে এদের প্রতি রূক্ষ আচরণ করে তুলছে এদের আরও দূর্বিনীত।
জামাত এদের মগজ ধোলাইয়ে যে সময় নিচ্ছে আমরা এর ১০০ ভাগের ১ ভাগও দিচ্ছি কিনা এতে আমার গভীর সন্দেহ আছে। আসলেই কি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হচ্ছে এদের কাছে। পাঠ্যবইয়ে গন্ডগোল, পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইয়ের আকাশ ছোঁয়া দাম, ফাও তুচ্ছতাচ্ছিল্য।
এই অভাগাদের উপায় কী! অথচ এরা তো আমাদেরই সন্তান, আগামী প্রজন্ম।
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
মুক্তিযুদ্ধ, বিদেশী মিডিয়ার চোখেঃ ১
*শকুনে শকুনে ছেয়ে গেছে আকাশ। ইতিমধ্যে আড়াই লাখ বাঙ্গালীকে পেয়েছে খাদ্য হিসাবে। কচুরীপানার মাঝে শিশুর চোখের সামনে ভাসছে তার পিতা-মাতার লাশ পচে যাওয়া লাশ।
(এপি/ ১২ মে, ১৯৭১)
*ঈশ্বর আর অখন্ড পাকিস্তানের দোহাই দিয়ে ঢাকাকে পরিণত করা হয়েছে বিধ্বস্ত ও সন্ত্রস্ত নগরে। পাকিস্তানী সেনাদের ২৪ ঘন্টা শেল নিক্ষেপে নিহত হয়েছে ৭ হাজার মানুষ আর ধ্বংস হয়েছে বিস্তৃত জনপদ। ছাত্ররা বিছানায়, অগ্নিদগ্ধ বাড়িতে অজস্র শিশু এবং মহিলার লাশ পাওয়া গেছে।
ইকবাল হলে হত্যা করেছে ২০০ ছাত্রকে। ২দিন পরেও দেখেছি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রদের লাশ ধিকিধিকি জ্বলছে, কিছু ছাত্রের লাশ পচে গিয়ে ভাসছে পার্শবর্তী পুকুরের পানিতে। অন্য একটি ছাত্রাবাসে সৈন্যরা মৃত ছাত্রদের কোনমতে খোঁড়া গর্তে গণকবরে মাটি চাপা দিয়ে তার উপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দেয়।
(দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফস/ ৩০ মার্চ, ১৯৭১)
*পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে। এদের লক্ষ্য হচ্ছে, এই দেশের রাজনৈতিক শক্তি ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে সমূলে ধ্বংস করা।
(দ্য টাইমস লন্ডন/ ২ এপ্রিল ১৯৭১)
*রাথোর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের একজন মেজর হাসতে হাসতে আমার চোখের সামনেই একজন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষকে পেছন থেকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, শুধু শুধু ওকে মারলেন কেন?
মেজর বলল, কারণ সে হিন্দু হতে পারে।
আমি বললাম, কিভাবে বুঝলেন ও হিন্দু? আর হিন্দু হলেই মেরে ফেলতে হবে কেন?
মেজর এবার রেগে গিয়ে বলল, আপনি জানেন না ওরা কিভাবে পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চেয়েছে? আমরা ওদের শেষ করে ফেলব।
(সানডে টাইম লন্ডন/ ১৩ জুন, ১৯৭১)
*আমি যে সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের পরিবারের কোন না কোন আপনজন নিহত হয়েছেন এবং স্ত্রী বা কন্যার শ্লীলতাহানী হয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে।
(জন পিলগার, ডেইলি মিরর লন্ডন/ ১৬ জুন, ১৯৭১)
*বিশ্ববাসী হিটলারের নৃশংসতার পর সমমাত্রায় আর এক নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করছে পাকিস্তানে। লাখ লাখ বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
(সম্পাদকীয়, ওয়াশিংটন পোস্ট/ ৩০ জুলাই, ১৯৭১)
*পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের মাটিতে স্থাপিত ক্যাম্প ও অস্থায়ী হাসপাতালগুলো একবার ঘুরে আসলে বোঝা যাবে পাকিস্তানী আর্মীদের নিষ্ঠুরতা! আমি গুলিবিদ্ধ শিশুকে দেখেছি আধকাটা পশুর মতো কাতরাতে। দেখেছি সেইসব নির্বাক হয়ে যাওয়া মানুষদের, যাদের চোখের সামনে প্রকাশ্যে হত্যা অথবা ধর্ষন করা হয়েছে তার কোন প্রিয় মানুষকে।
(নিউজ উইক/ ২৮ জুন, ১৯৭১)
*মৃতের কোন হিসেব নেই। কতো বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে এর সরকারী হিসেব কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি। একজন পাকিস্তানের কমান্ডারের উক্তি, শত্রুর লাশ গণনা করে সময় নষ্ট করার মতো সময় আমাদের নেই। মেরে পানিতে ভাসিয়ে দিলেই আমাদের কাজ শেষ।
(দ্য নিউইয়র্ক টাইমস/ ৯ মে, ১৯৭১)
তথ্য ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, কিছু ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
(এপি/ ১২ মে, ১৯৭১)
*ঈশ্বর আর অখন্ড পাকিস্তানের দোহাই দিয়ে ঢাকাকে পরিণত করা হয়েছে বিধ্বস্ত ও সন্ত্রস্ত নগরে। পাকিস্তানী সেনাদের ২৪ ঘন্টা শেল নিক্ষেপে নিহত হয়েছে ৭ হাজার মানুষ আর ধ্বংস হয়েছে বিস্তৃত জনপদ। ছাত্ররা বিছানায়, অগ্নিদগ্ধ বাড়িতে অজস্র শিশু এবং মহিলার লাশ পাওয়া গেছে।
ইকবাল হলে হত্যা করেছে ২০০ ছাত্রকে। ২দিন পরেও দেখেছি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রদের লাশ ধিকিধিকি জ্বলছে, কিছু ছাত্রের লাশ পচে গিয়ে ভাসছে পার্শবর্তী পুকুরের পানিতে। অন্য একটি ছাত্রাবাসে সৈন্যরা মৃত ছাত্রদের কোনমতে খোঁড়া গর্তে গণকবরে মাটি চাপা দিয়ে তার উপর দিয়ে ট্যাংক চালিয়ে দেয়।
(দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফস/ ৩০ মার্চ, ১৯৭১)
*পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে। এদের লক্ষ্য হচ্ছে, এই দেশের রাজনৈতিক শক্তি ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে সমূলে ধ্বংস করা।
(দ্য টাইমস লন্ডন/ ২ এপ্রিল ১৯৭১)
*রাথোর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের একজন মেজর হাসতে হাসতে আমার চোখের সামনেই একজন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষকে পেছন থেকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, শুধু শুধু ওকে মারলেন কেন?
মেজর বলল, কারণ সে হিন্দু হতে পারে।
আমি বললাম, কিভাবে বুঝলেন ও হিন্দু? আর হিন্দু হলেই মেরে ফেলতে হবে কেন?
মেজর এবার রেগে গিয়ে বলল, আপনি জানেন না ওরা কিভাবে পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চেয়েছে? আমরা ওদের শেষ করে ফেলব।
(সানডে টাইম লন্ডন/ ১৩ জুন, ১৯৭১)
*আমি যে সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের পরিবারের কোন না কোন আপনজন নিহত হয়েছেন এবং স্ত্রী বা কন্যার শ্লীলতাহানী হয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে।
(জন পিলগার, ডেইলি মিরর লন্ডন/ ১৬ জুন, ১৯৭১)
*বিশ্ববাসী হিটলারের নৃশংসতার পর সমমাত্রায় আর এক নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করছে পাকিস্তানে। লাখ লাখ বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
(সম্পাদকীয়, ওয়াশিংটন পোস্ট/ ৩০ জুলাই, ১৯৭১)
*পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের মাটিতে স্থাপিত ক্যাম্প ও অস্থায়ী হাসপাতালগুলো একবার ঘুরে আসলে বোঝা যাবে পাকিস্তানী আর্মীদের নিষ্ঠুরতা! আমি গুলিবিদ্ধ শিশুকে দেখেছি আধকাটা পশুর মতো কাতরাতে। দেখেছি সেইসব নির্বাক হয়ে যাওয়া মানুষদের, যাদের চোখের সামনে প্রকাশ্যে হত্যা অথবা ধর্ষন করা হয়েছে তার কোন প্রিয় মানুষকে।
(নিউজ উইক/ ২৮ জুন, ১৯৭১)
*মৃতের কোন হিসেব নেই। কতো বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে এর সরকারী হিসেব কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি। একজন পাকিস্তানের কমান্ডারের উক্তি, শত্রুর লাশ গণনা করে সময় নষ্ট করার মতো সময় আমাদের নেই। মেরে পানিতে ভাসিয়ে দিলেই আমাদের কাজ শেষ।
(দ্য নিউইয়র্ক টাইমস/ ৯ মে, ১৯৭১)
তথ্য ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, কিছু ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
মুক্তিযুদ্ধ, বিদেশী মিডিয়ার চোখেঃ ২
*কেউ জানে না কতজন বাঙ্গালীকে পাকিস্তানী আর্মিরা হত্যা করেছে- কারণ অনেক প্রমাণ এরা মিটিয়ে দিয়েছে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ লোক মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশী হবার আশংকাই বেশী। ( সিডনি এইচ শ্যানবার্গ/ নিউইয়র্ক টাইমস/ ৪ জুলাই, ১৯৭১)
*সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ হবে, আবার কারো ধারণা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর লোক অবশ্য বলেছে, ২৫শে মার্চে মারা গেছে আনুমানিক ১০০জন। কিন্তু অন্যান্য সূত্রের খবর মতে, হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মেশিগানের গুলিতে লাইন ধরে ঝাঁঝড়া করে দেয়া হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে বেছে বেছে শিক্ষকদের! পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এসব খবরের কোন প্রতিবাদ করেনি। (মরিস কোয়েন ট্যান্স/ রয়টার/ ৯ মে ১৯৭১)
*সেনাবাহিনীর আক্রমনের অন্যতম প্রধান লক্ষস্থল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২৬ মার্চের সকালে শোনা কথোপকথনঃ (অপারেশনে অংশগ্রহনকারী ভারপ্রাপ্ত সেনা অফিসার ও উর্ধতন সামরিক কর্তার মধ্যে ) কতজন বেজন্মাদের হত্যা করা হয়েছে?
অন্তত ৩০০জন, স্যার। ওয়েল ডান, গুড হান্টিং- কিন্ত এ সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদেরকে বন্দুকের মুখে কবর খুড়ানো হয় এবং মৃতদেহগুলো সেই কবরে চাপা দিয়ে, যারা কবর খুড়ে ছিল, এদেরকে গুলি করে ওই গর্তে ফেলে দেয়া হয়। (লামদ/ ৬ আগস্ট, ১৯৭১)
*নবম ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল শওকত রাজার সাথে কুমিল্লায় ১৬ এপ্রিল আমার কথা হয়। তার সঙ্গে কথা বলে আমি পাকিস্তানী সেনাদের মনোভাব বুঝতে পারি। তিনি বলেনঃ আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, অহেতুক আমরা লোকবল ও অর্থক্ষয়ের ঝুকি নিয়ে এ অপারেশনে নামিনি। আমরা একটা বিরাট কাজে হাত দিয়েছি। এবং সেই কাজ আমরা শেষ করব। এখানে আমরা পরবর্তীতে মাথাচাড়া দিয়ে দাড়াবে, এমন কোন লোককে রেখে আমাদের কাজ অর্ধসমাপ্ত রাখব না। (ওয়াশিংটন পোস্ট/ ১৩ জুলাই, ১৯৭১)
*ঠান্ডা মাথায় পাকিস্তাসী সেনারা মেশিনগানের গুলি চালিয়ে হত্যা করছে নিরীহ লোকদের তারপর নির্বিকার ভঙ্গিতে ঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। রাতের পর রাত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলছে। নির্বিচার গণহত্যা আর ধ্বংসলীলা শুধু ঢাকাতেই না, সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি লক্ষ করেছি, এদের মধ্যে কোন বিকার দেখিনি, এরা নিজেদের মধ্যে হাসি তামাশা করছে, চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। ব্যাপারটা এরা উপভোগ করছিল। এই ব্যাপারটা আমাকে অসুস্থ করে দিচ্ছে।
(নিউজ উইক, এটার তারিখ পাওয়া যায়নি)।
ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, কিঞ্চিত তথ্য ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
*সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ হবে, আবার কারো ধারণা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর লোক অবশ্য বলেছে, ২৫শে মার্চে মারা গেছে আনুমানিক ১০০জন। কিন্তু অন্যান্য সূত্রের খবর মতে, হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মেশিগানের গুলিতে লাইন ধরে ঝাঁঝড়া করে দেয়া হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে বেছে বেছে শিক্ষকদের! পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এসব খবরের কোন প্রতিবাদ করেনি। (মরিস কোয়েন ট্যান্স/ রয়টার/ ৯ মে ১৯৭১)
*সেনাবাহিনীর আক্রমনের অন্যতম প্রধান লক্ষস্থল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২৬ মার্চের সকালে শোনা কথোপকথনঃ (অপারেশনে অংশগ্রহনকারী ভারপ্রাপ্ত সেনা অফিসার ও উর্ধতন সামরিক কর্তার মধ্যে ) কতজন বেজন্মাদের হত্যা করা হয়েছে?
অন্তত ৩০০জন, স্যার। ওয়েল ডান, গুড হান্টিং- কিন্ত এ সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদেরকে বন্দুকের মুখে কবর খুড়ানো হয় এবং মৃতদেহগুলো সেই কবরে চাপা দিয়ে, যারা কবর খুড়ে ছিল, এদেরকে গুলি করে ওই গর্তে ফেলে দেয়া হয়। (লামদ/ ৬ আগস্ট, ১৯৭১)
*নবম ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল শওকত রাজার সাথে কুমিল্লায় ১৬ এপ্রিল আমার কথা হয়। তার সঙ্গে কথা বলে আমি পাকিস্তানী সেনাদের মনোভাব বুঝতে পারি। তিনি বলেনঃ আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, অহেতুক আমরা লোকবল ও অর্থক্ষয়ের ঝুকি নিয়ে এ অপারেশনে নামিনি। আমরা একটা বিরাট কাজে হাত দিয়েছি। এবং সেই কাজ আমরা শেষ করব। এখানে আমরা পরবর্তীতে মাথাচাড়া দিয়ে দাড়াবে, এমন কোন লোককে রেখে আমাদের কাজ অর্ধসমাপ্ত রাখব না। (ওয়াশিংটন পোস্ট/ ১৩ জুলাই, ১৯৭১)
*ঠান্ডা মাথায় পাকিস্তাসী সেনারা মেশিনগানের গুলি চালিয়ে হত্যা করছে নিরীহ লোকদের তারপর নির্বিকার ভঙ্গিতে ঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। রাতের পর রাত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলছে। নির্বিচার গণহত্যা আর ধ্বংসলীলা শুধু ঢাকাতেই না, সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি লক্ষ করেছি, এদের মধ্যে কোন বিকার দেখিনি, এরা নিজেদের মধ্যে হাসি তামাশা করছে, চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। ব্যাপারটা এরা উপভোগ করছিল। এই ব্যাপারটা আমাকে অসুস্থ করে দিচ্ছে।
(নিউজ উইক, এটার তারিখ পাওয়া যায়নি)।
ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, কিঞ্চিত তথ্য ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
গোলাম আযমের চোখে, মুক্তিযুদ্ধ
আচ্ছা, কেউ কি গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এমন কোন প্রমাণ দিতে পারবে যে, তিনি কাউকে হত্যা করেছেন বা ধর্ষণ করেছেন?
আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম, আচ্ছা, বুশ কি কাউকে নিজ হাতে হত্যা করেছেন? আমার তো ধারণা, কাউকে একটা চড়ও দেন নাই। তাহলে মাদার তেরেসা আর বুশের মধ্যে ফারাক কী! পার্থক্য তো অবশ্যই আছে, এই গ্রহে যতোসব অমানবিক কাজ হয়, বুশের কোনো-না-কোনো প্রকারে সম্মতি থাকে। লাখ-লাখ মানুষকে হত্যার জন্য তিনিই দায়ী যার উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না।
স্মরণ করা যেতে পারে, গোল্ডা মায়ারের স্পষ্ট কথা, "কাউকে নিজ হাতে হত্যা করা আর কাউকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।"
গোলাম আযম নিজ হাতে কাউকে হত্যা করেছেন বলে আমাদের জানা নাই কিন্তু তিনি অসংখ্য বাঙ্গালীকে নিধন করতে প্ররোচিত করেছিলেন।
*গোলাম আযম বলেছিলেন, পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামাত কর্মীদের দুনিয়ায় বেঁচে থেকে লাভ নাই।
(দৈনিক সংগ্রাম/ ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)
*১৯৭১ সালে গোলাম আযম বলেছিলেন, বাংলাদেশ নামের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করবো।
(নাগরিকত্ব মামলার শুনানীতে এটর্নি জেনারেল/ ভোরের কাগজ, ০৯.০৫.৯৪)
*রাজাকারদের সমাবেশে গোলাম আযম বলেন, কালেমার ঝান্ডা উঁচু রাখার জন্য রাজাকারদের কাজ করে যেতে হবে।
(দৈনিক সংগ্রাম/ ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)
*দুষ্কৃতিকারীদের ধ্বংস করার কাজে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগীতা করছে।
(দৈনিক সংগ্রাম/ ২৭ আগস্ট, ১৯৭১)
*পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি মুসলমান নিজ নিজ এলাকার দুষ্কৃতিকারীদের তন্ন তন্ন করে তালাশ করে নির্মূল করবে।
(দৈনিক সংগ্রাম/ ১২ আগস্ট, ১৯৭১)
*দুষ্কৃতিকারীদের মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে দেশের আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাসী লোকদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য আবেদন করছি।
(দৈনিক সংগ্রাম/ *তারিখ পাওয়া যায়নি, ১৯৭১)
*১৬ অক্টোবর ১৯৭১, বায়তুল মোকারমে তৌহিদী জনতার এক সভায় গোলাম আযম বলেন, তথাকথিত বাংলাদেশের আন্দোলনের ভূয়া শ্লোগানে কান না দিয়ে পাকিস্তানকে নতুনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
(দৈনিক পাকিস্তান/ ১৭ অক্টোবর, ১৯৭১)
*গোলাম আযম বলেন, কোন ভাল মুসলমানই তথাকথিত বাংলাদেশের আন্দোলনের সমর্থক হতে পারে না। রাজাকাররা খুব ভাল কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন
(দৈনিক সংগ্রাম/ ০২ অক্টোবর, ১৯৭১)
*বর্তমান মুহুর্তে আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহন করাই হবে দেশের জন্য আত্মক্ষার সর্বোত্তম ব্যবস্থা।
(দৈনিক সংগ্রাম/ ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১)
*গোলাম আযম বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে জামাতে ইসলামের কর্মীরা বেশীরভাগ রেজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে মুক্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করছে এবং প্রাণ দিচ্ছে। এখানে জামাতের অবদানই বেশী সুতরাং পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হলে জামায়েত থেকেই হতে হবে।
( বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, চতুর্থ খন্ড, মুক্তিযুদ্ধ পর্ব)
*১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত গোলাম আযম সব মিলিয়ে ৭ বার সৌদি বাদশা ফয়সলের সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিটি বৈঠকেই তিনি সৌদি বাদশাহকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে এই সময়কাল জুড়ে বাংলাদেশকে কোন প্রকার আর্থিক ও বৈষয়িক সাহায্য সহযোগীতা না করার জন্য মুসলিম দেশগুলোকে প্ররোচিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
(ভোরের কাগজ, ১১.০৩.৯২)
*গোলাম আযম বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বিধ্বস্ত মসজিদ পুর্নগঠনের আবেদন জানিয়ে ৪৫ লাখ রিয়েল সংগ্রহ করেন। অভিযোগ আছে, এই টাকার একটি অংশ দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে একটি বাড়ি কেনেন।
(সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রেক্ষিত ও গোলাম আযম)
** গোলাম আযমকে নিয়ে আরও লেখা: http://www.ali-mahmed.com/2007/07/blog-post_3179.html
***মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অন্যান্য লেখা: http://tinyurl.com/37wksnh
#চোর-চোট্টায় দেশটা ভরে যাচ্ছে। নমুনা: ......... তাই গোলাম আযম অবশ্যই একজন ধর্ষক.........পড়ুন তার রাজাকারীর কয়েকটি দলিল......: http://www.somewhereinblog.net/blog/blogesttowhid/29057733
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
মুক্তিযুদ্ধ, বিদেশী মিডিয়ার চোখেঃ ৩
*মেয়েটি ৩ মাসের অন্তঃস্বত্বা ছিল। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। এই মেয়েটি তার সহপাঠিনী বান্ধবীদের সাথে ইশকুল যাওয়ার পথে পাকিস্তানী সৈন্যরা রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ৪-৫ মাস পরে তাকে ছেড়ে দেয়। (গার্ডিয়ান লন্ডন, ৬ মার্চ, ১৯৭২)
*মিসেস জেড বী (আসল নাম গোপন রাখা হয়েছে), বয়স বিশ। গৃহ পরিচারিকা। তার দূর সম্পর্কের চাচা স্থানীয় শান্তি কমিটির কর্মী, তাকে পাকিস্তানী মিলিটারীর হাতে তুলে দেয়। এই লোকের কাজ ছিল মিলিটারির জন্য মেয়ে যোগাড় করে দেয়া। এই জেড বীকে ৭ টি মেয়ের সঙ্গে একটি তাবুতে ১ মাস রাখা হয়। পাশেই ছিল আরেকটি তাবু। সেখানে ৮জন মেয়েকে রাখা হয়েছিল। মেয়েদেরকে তাবুতে উলঙ্গ করে রাখা হতো যাতে এরা পালিয়ে যেতে না পারে। (গার্ডিয়ান লন্ডন, ৬ মার্চ, ১৯৭২)
*যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সৈন্যরা ৩ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। এর মধ্যে অন্তঃস্বত্তা রয়েছে ২৫ হাজার। (দি পকা অষ্ট্রেলিয়া, ১৫ জুন, ১৯৭২)
*১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ বাঙ্গালী দমনের নামে পাকিস্তানী সৈন্যরা শুরু করে বর্বরোচিত সামরিক অভিযান। ভারতের দালাল ও স্বাধীনতা আন্দোলনের উস্কানীদাতা হিসাবে অভিযুক্ত করে, ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত শাখারী পট্টির ৩০ হাজার বাসিন্দাদের ৮ হাজারকেই তারা হত্যা করে। হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করে। ১৩ বছরের কিশোরীকেও রাখা হয় ক্যান্টনমেন্টে এবং চালানো হয় শারিরীক অকথ্য নির্যাতন। ১২ বছরের মেয়েও ছিল তাদের মধ্যে। (ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ইউএসএ, সেপ্টেম্বর, ১৯৭২)
ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড
কিঞ্চিত তথ্য ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
*মিসেস জেড বী (আসল নাম গোপন রাখা হয়েছে), বয়স বিশ। গৃহ পরিচারিকা। তার দূর সম্পর্কের চাচা স্থানীয় শান্তি কমিটির কর্মী, তাকে পাকিস্তানী মিলিটারীর হাতে তুলে দেয়। এই লোকের কাজ ছিল মিলিটারির জন্য মেয়ে যোগাড় করে দেয়া। এই জেড বীকে ৭ টি মেয়ের সঙ্গে একটি তাবুতে ১ মাস রাখা হয়। পাশেই ছিল আরেকটি তাবু। সেখানে ৮জন মেয়েকে রাখা হয়েছিল। মেয়েদেরকে তাবুতে উলঙ্গ করে রাখা হতো যাতে এরা পালিয়ে যেতে না পারে। (গার্ডিয়ান লন্ডন, ৬ মার্চ, ১৯৭২)
*যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সৈন্যরা ৩ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। এর মধ্যে অন্তঃস্বত্তা রয়েছে ২৫ হাজার। (দি পকা অষ্ট্রেলিয়া, ১৫ জুন, ১৯৭২)
*১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ বাঙ্গালী দমনের নামে পাকিস্তানী সৈন্যরা শুরু করে বর্বরোচিত সামরিক অভিযান। ভারতের দালাল ও স্বাধীনতা আন্দোলনের উস্কানীদাতা হিসাবে অভিযুক্ত করে, ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত শাখারী পট্টির ৩০ হাজার বাসিন্দাদের ৮ হাজারকেই তারা হত্যা করে। হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করে। ১৩ বছরের কিশোরীকেও রাখা হয় ক্যান্টনমেন্টে এবং চালানো হয় শারিরীক অকথ্য নির্যাতন। ১২ বছরের মেয়েও ছিল তাদের মধ্যে। (ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ইউএসএ, সেপ্টেম্বর, ১৯৭২)
ঋণঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড
কিঞ্চিত তথ্য ঋণঃ বিচিন্তা/ ১৩.১২.১৯৯১
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
Thursday, June 28, 2007
একজন গোলাম আযম- একটি পতাকা!
*জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জামাতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম বিবিসিকে, সরকার আগে বিশেষ আদালত গঠন করুক না, তারপর দেখবো, আমাকে সেখানে নেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা। সাক্ষাৎকারটি নেন বিবিসির মি. আতিকুস সামাদ। (সূত্রঃ ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)
*জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গোলাম আযম বলেন, আমার জন্য ১৮ জন শহীদ হয়েছে, এ কথা ভাবতে খারাপ লাগে, আবার ভালোও লাগে। (সূত্রঃ ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)
*গত বছরের ২৪ মার্চ গোলাম আযমকে ফরেনারস এ্যাক্ট-এ আটক করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয় হয়হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে। সকাল ১১টা থেকেই সহস্রাধিক জামাতী কর্মী নাজিমউদ্দিন রোডে তান্ডব সৃষ্টি করে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তারা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন সমস্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়।
গজারী লাঠির সংগে জাতীয় পতাকা বেঁধে তারা ওই জাতীয় পতাকা কখনো দুমড়ে মুচড়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। আবার কখনো জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে বসবার কাপড় হিসাবে।
মাইক এনে বসায়, দুপুর ২টায়- ঠিক জেল গেটের প্রধান ফটকের সামনে। পুলিশ এতে বাঁধা দেয়নি। মাইকে প্রথমে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেয়া হয়, এসব বক্তৃতায় সরকারকে শুধু হুমকি ধামকিই নয়- কেন্দ্রীয় কারাগার জ্বালিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকিও ছিল! পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যে সামান্যতম উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে একটি দল গেয়ে চটুল গান গেয়ে উঠে, হাওয়া হাওয়া তুই কি শুনেছিস—!
জামাতের এক নেতা জানালেন, এটা গান নয় শ্লোগান। এ সময় জামাত এবং পুলিশ একাকার হয়ে যায়! জামাতী কর্মীরা পুলিশের ভ্যান দখল করে সেখানে বসে গোলাম আযমের নামে জিকির করতে থাকে।
বিকেল ৫টা দিকে জামাতীরা গোলাম আযমের মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়ে জনসভার উদ্যোগ নেয় জেল গেটের সামনেই। অথচ ওই স্থানে সমাবেশ করা সম্পূর্ণ বেআইনী! সাড়ে ৫টার দিকে জামাতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এসে ফিসফিস করে জানিয়ে যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে- আজই মুক্তি হবে। ৬টা ৪০ মিনিটে গোলাম আযম বেরিয়ে আসেন জেল গেট দিয়ে! (ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)
***************
চারিদিকে বিভিন্ন দেশের খেলার পতাকা উড়ে- আমরা উত্সাহ উদ্দীপনা, আবেগ নিয়ে অন্য দেশের পতাকা উড়াই, চকচকে ১০-২০গজের পতাকা! আমাদের স্বাধীনতা দিবসেও তো এতো আবেগ নিয়ে উড়ে পতাকা উড়ে না।
অনেকে এ মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানাবেন- খেলার পতাকার সঙ্গে এই উদাহরণ দেয়ার কোন যুক্তি নাই। কিন্তু এই আবেগ নিয়ে আমরা কি জাতীয় পতাকা উড়াই- আমার স্বচক্ষে দেখা, স্বাধীনতা দিবসে বিবর্ণ, দোমড়ানো মোচড়ানো এক পতাকা লম্বা ঝাড়ুর হাতলে বেঁধে উড়ানো হয়েছে।
বিশেষ একটা দিনে কুমিরের ছানার মতো চোখের জল ফেলে এই দেশমার ঋণ শোধ করি! হালুয়া পুরি খেয়ে ভোট দিতে যাই- এই দেশবিরোধীদের গাড়ীতে পতাকা লাগাই, আমাদের মগজ গুহ্যদ্বারে জমা রেখে!
আসলে পতাকা পতাকাই- এক টুকরো কাপড় ব্যতীত অন্য কিছু না!
*জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গোলাম আযম বলেন, আমার জন্য ১৮ জন শহীদ হয়েছে, এ কথা ভাবতে খারাপ লাগে, আবার ভালোও লাগে। (সূত্রঃ ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)
*গত বছরের ২৪ মার্চ গোলাম আযমকে ফরেনারস এ্যাক্ট-এ আটক করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয় হয়হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে। সকাল ১১টা থেকেই সহস্রাধিক জামাতী কর্মী নাজিমউদ্দিন রোডে তান্ডব সৃষ্টি করে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তারা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন সমস্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়।
গজারী লাঠির সংগে জাতীয় পতাকা বেঁধে তারা ওই জাতীয় পতাকা কখনো দুমড়ে মুচড়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। আবার কখনো জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে বসবার কাপড় হিসাবে।
মাইক এনে বসায়, দুপুর ২টায়- ঠিক জেল গেটের প্রধান ফটকের সামনে। পুলিশ এতে বাঁধা দেয়নি। মাইকে প্রথমে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেয়া হয়, এসব বক্তৃতায় সরকারকে শুধু হুমকি ধামকিই নয়- কেন্দ্রীয় কারাগার জ্বালিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকিও ছিল! পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যে সামান্যতম উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে একটি দল গেয়ে চটুল গান গেয়ে উঠে, হাওয়া হাওয়া তুই কি শুনেছিস—!
জামাতের এক নেতা জানালেন, এটা গান নয় শ্লোগান। এ সময় জামাত এবং পুলিশ একাকার হয়ে যায়! জামাতী কর্মীরা পুলিশের ভ্যান দখল করে সেখানে বসে গোলাম আযমের নামে জিকির করতে থাকে।
বিকেল ৫টা দিকে জামাতীরা গোলাম আযমের মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়ে জনসভার উদ্যোগ নেয় জেল গেটের সামনেই। অথচ ওই স্থানে সমাবেশ করা সম্পূর্ণ বেআইনী! সাড়ে ৫টার দিকে জামাতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এসে ফিসফিস করে জানিয়ে যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে- আজই মুক্তি হবে। ৬টা ৪০ মিনিটে গোলাম আযম বেরিয়ে আসেন জেল গেট দিয়ে! (ভোরের কাগজ/ ১৬.০৭.৯৩)
***************
চারিদিকে বিভিন্ন দেশের খেলার পতাকা উড়ে- আমরা উত্সাহ উদ্দীপনা, আবেগ নিয়ে অন্য দেশের পতাকা উড়াই, চকচকে ১০-২০গজের পতাকা! আমাদের স্বাধীনতা দিবসেও তো এতো আবেগ নিয়ে উড়ে পতাকা উড়ে না।
অনেকে এ মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানাবেন- খেলার পতাকার সঙ্গে এই উদাহরণ দেয়ার কোন যুক্তি নাই। কিন্তু এই আবেগ নিয়ে আমরা কি জাতীয় পতাকা উড়াই- আমার স্বচক্ষে দেখা, স্বাধীনতা দিবসে বিবর্ণ, দোমড়ানো মোচড়ানো এক পতাকা লম্বা ঝাড়ুর হাতলে বেঁধে উড়ানো হয়েছে।
বিশেষ একটা দিনে কুমিরের ছানার মতো চোখের জল ফেলে এই দেশমার ঋণ শোধ করি! হালুয়া পুরি খেয়ে ভোট দিতে যাই- এই দেশবিরোধীদের গাড়ীতে পতাকা লাগাই, আমাদের মগজ গুহ্যদ্বারে জমা রেখে!
আসলে পতাকা পতাকাই- এক টুকরো কাপড় ব্যতীত অন্য কিছু না!
বিভাগ
১৯৭১: প্রসব বেদনা
মুক্তিযুদ্ধ একটি ফ্যাশানের নাম
আমাকে খুনি বানাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সামনাসামনি আমার মাকে নিয়ে কুত্সিত কথা বলা। আর আমাকে তীব্র মানসিক কষ্ট দেয়ার সহজ, উত্কৃষ্ট গালি হচ্ছে আমাকে দেশবিরোধী বলা। এরচে কুত্সিত গালি আর কী হতে পারে আমার জন্য।
সম্প্রতী একজন ঠিক এমন একটা গালিই দিয়েছেন আমাকে, আমার সম্বন্ধে দেশবিরোধী বলে সংশয় প্রকাশ করে। না, সামনাসামনি না, লেখায়। এই মানুষটার এমন স্পর্ধা নাই আমার চোখে চোখ রেখে তার এলোমেলো বক্তব্যটা বলতে পারবেন।
মানুষটার দুঃসাহস দেখে আমি হতভম্ব! হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে উঠা আমার জন্য খুব একটা সমস্যা ছিল না। এই মানুষটাকে মনে রাখার মতো কোন স্মৃতি আমার নাই- এমন কোন দুঁদে মানুষ না তিনি, আমার দৃষ্টিতে। কিন্ত আমি পাথর হয়ে যাই যখন দেখি আমার ক-জন সহযোদ্ধা এই নিয়ে টুঁ শব্দ দূরের কথা, প্রতিবাদ দূরের কথা, নিরাসক্ত ভঙ্গিতে দেখলেন।
বেশ-বেশ! নিজের হাতের আঙ্গুলের মত সহযোদ্ধাদের চেনাটাও বড়ো জরুরী! ফ্রিডম নামের মুক্তিযুদ্ধের একটা বই আছে আমার। একজন দুর্বল মানুষের দুর্বল প্রচষ্টা আর কী- কিঞ্চিৎ দেশমার ঋণ শোধের অপচেষ্টা!
তো, আমি এই বইটি একজনকে দিয়েছিলাম, পড়ার জন্য। একবার জানতে চাইলাম, আচ্ছা, বইটায় আপনি কোন সমস্যা পেয়েছেন?
তিনি বললেন, আমি তো পড়িনি। আপনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন- পড়ার প্রয়োজন কি?
আমি হতবাক হয়ে মানুষটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। যদি তিনি বলতেন, আপনার লেখা কিচ্ছু হয়নি, এতে আমার মন্দ লাগার কিছু ছিল না। নিজেকে শোধরাতে পারতাম।
আসলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারী গোলমাল হয়ে গেছে এখন। কারও কারও বদ্ধমূল ধারণা, বিশেষ একটি দলই এই দেশ স্বাধীন করে ফেলেছে- অন্য আর কারও অবদান ছিল না। ভাঙ্গা রেকর্ডের মত এদের কথা বলে চর্বিতচর্বণ করছি আমরা। আমরা মনে রাখি না ১০ বছরের লালুর কথা, হিন্দু বালিকা ভাগিরথী, একমাত্র আদিবাসী বীর বিক্রম উক্য চিং এর কথা!
আমি ব্যতীত অন্তত অন্য ২ জনকে একই দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। ১ জনের বিষয়ে বলি। ওঁর মনন স্পর্শ করার ক্ষমতা অনেকেরই নাই- তাঁর দেশের প্রতি মমতার অভাব আছে বলে আমি মনে করি না।
অন্যজন আমাকে দিয়েছেন তাঁর কিশোরকাল থেকে জমানো মুক্তিযুদ্ধের দূর্লভ সব পেপার কাটিং। যে কিশোরটি বুকে লালন করে আসছে একগাদা মমতা- এত বছর পর সে রাজাকারসম হয়ে গেল। বাহ! এইজন্য কি, এঁরা আপনাদের মত মানুষদের সঙ্গে ঝাকের কৈ হতে পারেন না।
কে বোঝাবে এদের- একেকজনের কাজ করার ভঙ্গি একেক রকম!
কে জানে, সেই দিন খুব দূরে না, মুক্তিযুদ্ধ হবে একটি ফ্যাশনের নাম। বুঝে না বুঝে, কষে কুৎসিত গালি দিয়ে আমরা ক্রমশ পরিণত হবো একটা জাঁকালো মুক্তিযুদ্ধ ফ্যাশনবাজরূপে!
সম্প্রতী একজন ঠিক এমন একটা গালিই দিয়েছেন আমাকে, আমার সম্বন্ধে দেশবিরোধী বলে সংশয় প্রকাশ করে। না, সামনাসামনি না, লেখায়। এই মানুষটার এমন স্পর্ধা নাই আমার চোখে চোখ রেখে তার এলোমেলো বক্তব্যটা বলতে পারবেন।
মানুষটার দুঃসাহস দেখে আমি হতভম্ব! হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে উঠা আমার জন্য খুব একটা সমস্যা ছিল না। এই মানুষটাকে মনে রাখার মতো কোন স্মৃতি আমার নাই- এমন কোন দুঁদে মানুষ না তিনি, আমার দৃষ্টিতে। কিন্ত আমি পাথর হয়ে যাই যখন দেখি আমার ক-জন সহযোদ্ধা এই নিয়ে টুঁ শব্দ দূরের কথা, প্রতিবাদ দূরের কথা, নিরাসক্ত ভঙ্গিতে দেখলেন।
বেশ-বেশ! নিজের হাতের আঙ্গুলের মত সহযোদ্ধাদের চেনাটাও বড়ো জরুরী! ফ্রিডম নামের মুক্তিযুদ্ধের একটা বই আছে আমার। একজন দুর্বল মানুষের দুর্বল প্রচষ্টা আর কী- কিঞ্চিৎ দেশমার ঋণ শোধের অপচেষ্টা!
তো, আমি এই বইটি একজনকে দিয়েছিলাম, পড়ার জন্য। একবার জানতে চাইলাম, আচ্ছা, বইটায় আপনি কোন সমস্যা পেয়েছেন?
তিনি বললেন, আমি তো পড়িনি। আপনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন- পড়ার প্রয়োজন কি?
আমি হতবাক হয়ে মানুষটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। যদি তিনি বলতেন, আপনার লেখা কিচ্ছু হয়নি, এতে আমার মন্দ লাগার কিছু ছিল না। নিজেকে শোধরাতে পারতাম।
আসলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারী গোলমাল হয়ে গেছে এখন। কারও কারও বদ্ধমূল ধারণা, বিশেষ একটি দলই এই দেশ স্বাধীন করে ফেলেছে- অন্য আর কারও অবদান ছিল না। ভাঙ্গা রেকর্ডের মত এদের কথা বলে চর্বিতচর্বণ করছি আমরা। আমরা মনে রাখি না ১০ বছরের লালুর কথা, হিন্দু বালিকা ভাগিরথী, একমাত্র আদিবাসী বীর বিক্রম উক্য চিং এর কথা!
আমি ব্যতীত অন্তত অন্য ২ জনকে একই দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। ১ জনের বিষয়ে বলি। ওঁর মনন স্পর্শ করার ক্ষমতা অনেকেরই নাই- তাঁর দেশের প্রতি মমতার অভাব আছে বলে আমি মনে করি না।
অন্যজন আমাকে দিয়েছেন তাঁর কিশোরকাল থেকে জমানো মুক্তিযুদ্ধের দূর্লভ সব পেপার কাটিং। যে কিশোরটি বুকে লালন করে আসছে একগাদা মমতা- এত বছর পর সে রাজাকারসম হয়ে গেল। বাহ! এইজন্য কি, এঁরা আপনাদের মত মানুষদের সঙ্গে ঝাকের কৈ হতে পারেন না।
কে বোঝাবে এদের- একেকজনের কাজ করার ভঙ্গি একেক রকম!
কে জানে, সেই দিন খুব দূরে না, মুক্তিযুদ্ধ হবে একটি ফ্যাশনের নাম। বুঝে না বুঝে, কষে কুৎসিত গালি দিয়ে আমরা ক্রমশ পরিণত হবো একটা জাঁকালো মুক্তিযুদ্ধ ফ্যাশনবাজরূপে!
ইচ্ছা হলেই কাউকে দুম করে রাজাকার বলা যায় না
"সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা এবং বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান, মি. মাহমুদুর রহমান, আপনি খেপে উম্মাদ হয়ে গেলেন কেন? সমস্যাটা কী আপনার?
ঘটনার সূত্রপাতঃ মাহমুদুর রহমানকে নাকি সিপিডি-র মঞ্জুর এলাহী রাজাকার বলেছেন। ৯ আগস্ট, ০৬-এ দৈনিক ইত্তেফাকে সেন্ট্যাল ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর উদ্ধৃতি দেয়, মাহমুদুর রহমানকে অনেকে রাজাকার বলেন।
মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রমাণসহ দেখিয়ে দিচ্ছি, আমি রাজাকার ছিলাম না। আমার নামে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো। আমাকে রাজাকার বা কোলাবরেটর বলায় বিদেশী বিনিয়োগকারী কি ভাববে?
৯ আগস্ট, বুধবার মাহমুদুর রহমান ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজির হয়ে সিপিডির বিরুদ্ধে একটি মানহানীর মামলা দায়ের করেন। আদালত থেকে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী হয়। পরে তাঁরা আগাম জামিন নেন।
আহ-হা, মাহমুদুর রহমান তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, রাজাকার ভালো একটা পদবী না; যে পদবী থাকলে বিদেশে ভাবমূর্তির সমস্যা হয়। অন্যায়ভাবে কেউ রাজাকার বললে গায়ে আগুন ধরে যায়! আপনার দলের মাথার উপরে যখন রাজাকাররা বনবন করে ছড়ি ঘুরাচ্ছে, সেখানে আপনি রাজাকার শব্দটা ভারী অপছন্দ করেন, বেশ-বেশ! কী কান্ড, নোংরা আবর্জনাটা নিজের উপর পড়লে বুঝি ভালো লাগে না? তখন রাজাকার শব্দটা কুৎসিত গালি মনে হয়?
আলোচ্য বিষয় এটা না, মঞ্জুর এলাহী আসলে বলেছেন, কি বলেন নাই মাহমুদ রহমান কি আসলেই রাজাকার, না রাজাকার না? আলোচ্য বিষয় এটাও না, মামলার কি মেরিট আছে, কি নাই!
আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, আমি মনে করি, মাহমুদুর রহমানের এই মামলাটির গুরুত্ব অপরিসীম! এই মামলায় প্রত্যক্ষ জয় হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের এবং পরাজয় হয়েছে রাজাকারদের। প্রমাণিত হয়েছে, রাজাকার একটি ঘৃণ্য গালি এবং অহেতুক কেউ এই গালি দিলে মামলা করা যায়; গ্রেফতারী পরোওয়ানাও জারী করা যায়!
***
দুধের রং সাদা, এটা হচ্ছে জ্ঞান; শেখার সময় এটাই শিখবো। দুধটা সাদা গরুর, নাকি কালো গরুর, সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় না! এটাও আলোচ্য বিষয় না, দুধের সঙ্গে স্ট্রবেরী মিশিয়ে, না আঙ্গুর মিশিয়ে কেমন রং বানানো হয়েছে!
২য় বিশ্বযুদ্ধ কি ৭১ এর আগে হয়েছে, না পরে? এখনো জাপান তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জায় শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে পারে না, বিনীত হাত ঘসতে ঘসতে হাতের রেখা মুছে যাওয়ার উপক্রম। নাৎসিরা এখনো ধিকৃত হয়।
অসাধারণ একজন মানুষ, নোবেল বিজয়ী গুন্টার গ্রাস, জীবনের শেষ সময়ে এসে ধিকৃত হচ্ছেন। কেন, তাঁর নাৎসি কানেকশনের জন্য। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন কিন্তু পৃথিবীব্যপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে! আরেক নোবেল বিজয়ী লেচ ওয়ালেসা বলেছেন, গুন্টার গ্রাস যখন ২য় বিশ্বযুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে বিতর্কিত, গুন্টারের উচিৎ হবে পোলিশ শহর গদানস্কের সম্মানসূচক নাগরিক এই খেতাবটি স্ব ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়া। ১৯২৭ সালে গুন্টার গ্রাস পোলিশ শহর গদানস্কে জন্মগ্রহন করেন।
সো গাইজ, আমরা সাদাকে সাদা বলবো, কালোকে কালো! রাজাকারকে রাজাকার বলবো সাধুকার না, দ্যাটস অল! রাজাকারকে কে চুমো দিল, কে কোলে বসালো, তাতে আমাদের কী আসে যায়!
Subscribe to:
Posts (Atom)