Search

Friday, March 27, 2015

দুপেয়ে পশু!

রাজুকে আমি চিনি তা বছর দুয়েক হবে [১]। এর মার মাথা এলোমেলো, বাপ নেই। প্রায়ই দেখা হয়। এর বিভিন্ন আবদার থাকে। আমার সঙ্গে এর কোনও প্রকারের সংকোচ নেই, যা বলে সোজাসাপটা। কখনও-কখনও আবার আমাকে টাকা নিতেও সাধাসাধি করে, ‘টেকা নিবা? টেকা লাগবে আমারে বলবা’, বলেই দশ-বিশ টাকা এগিয়ে দেয়।

বিভিন্ন ছল করে একে স্কুলে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। কখনও কখনও মেজাজ খারাপ থাকলে বলবে, ‘আমি খেলুম কিন্তুক পড়ুম না’। যে বাচ্চাদেরকে ছেলেটি পড়ায় তাকে বলা আছে, কাউকে পড়ার জন্য চাপাচাপি না-করতে, বিশেষ করে রাজুকে তো একেবারেই না। কারণ তাইলে আর এদের টিকিটিরও দেখা মিলবে না।
এমনিতে এই স্টেশনের চাঅলা-পানঅলা-হকার সবাই ‘রাজু মস্তান’ নামেই একে চেনে, আমরাও। রাজু দেখা হলে এটা বলবেই, ‘তুমি আমার নাম জানো, আমার নাম কিন্তুক রাজু মস্তান’।

মধ্যে এর সমস্ত গা খোস-পাচড়ায় ভরে গিয়েছিল, তাকানো যায় না এমন।দিনের-পর-দিন গোসল না-করার ফল। ডা. সুমন ভূঁইয়া নামের সহৃদয় মানুষটা এর চিকিৎসা করেছিলেন। মানুষটার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। রাজুর মত, যার পায়ে সর্ষে তার চিকিৎসা করাটা যে কত জটিল এটা বোঝানো মুশকিল। তার উপর সেই রোগ যদি হয় চর্মরোগ!

যাই হোক, ক-দিন ধরে রাজু উধাও। এর সঙ্গের ছেলেমেয়েদেরকে জিজ্ঞেস করে হদিস পাওয়া গেল না। কেবল এটুকুই জানা গেল ওমুক ট্রেনে একে উঠতে দেখা গেছে। রাজু
যখন ফিরে এলো একে দেখে একজন পাষন্ডও বিচলিত হবে, আমি কোন ছার! এর বাঁ দিকের কাঁধের কাছটায় হাড় নড়ে গেছে। এক্স-রে করে দেখা গেল ডান হাতটার কব্জিও ভাঙ্গা (ছবিটায় একটু ভাল করে লক্ষ করলে বোঝা যাবে ডার হাতের কব্জিটা ফুলে আছে )। ডান হাতটাও প্লাস্টার করে ফেললে এর খাওয়ার গতি কী হবে? আপাতত একে কোনও প্রকারেই রাজি করানো গেল না।

এর গুছিয়ে বলার মত বয়স এখনও হয়নি। তবুও এই অবস্থার কারণ ভাসা ভাসা যেটা জানা গেল কেউ একজন একে নিষ্ঠুর ভঙ্গিতে পিটিয়েছে। কেন, এটা জানতে চাইলে অষ্পষ্ট করে যেটা বলল কারও ব্যাগ ধরে এ নাকি টানাটানি করেছিল। এর গায়ে আমি কিছু ফোসকাও দেখেছি। অনুমান করি, এগুলো সিগারেটের ছ্যাকা। আমার ধারণা এ হয়তো খাবারের লোভে কারও ব্যাগে হাত দিলেও দিতে পারে তবে ব্যাগ নিয়ে যাবে এর পেছনে শক্ত যুক্তি নেই কারণ ব্যাগ নিয়ে গিয়ে কেমন করে ওটা দিয়ে পয়সা পাওয়া যায় এই বুদ্ধি এর এখনও হয়নি।

সমরেশের একটা লেখা আছে এমন: “...মানুষ এবং জন্তুর মূল পার্থক্য হলো, জন্তু চিরকাল জন্তুই থেকে যায়। দু’হাজার বছর আগে একটা গরু যেভাবে ঘাস খেত, দিন কাটাত, আজো সে সেভাবেই ঘাস খায়, দিন কাটায়। কিন্তু মানুষ প্রতিদিন যে জ্ঞান অর্জন করে সেটা সে তার সন্তানের জন্য রেখে দেয়। যে যেখান থেকে শেষ করছে তার সন্তান সেখান থেকে শুরু করে...।“
মানুষের সঞ্চিত জ্ঞানই সভ্যতার মূল স্তম্ভ। আমরা আসলেই কী সভ্য হয়েছি? ভাগ্যিস, আমাদের পেটের ভেতরের একপেট আবর্জনা ঢেকে থাকে বিভিন্ন প্রকারের চামড়া দিয়ে আর বাকীটা আমরা ঢেকে রাখি বিভিন্ন আদলের চকচকে কাপড় মুড়িয়ে। নইলে কী ভয়াবহ কান্ডই না হতো তাহলে একপেট আবর্জনা উম্মুক্ত হয়ে যেত। পশু এবং মানুষকে আলাদা করাটা মুশকিল হয়ে পড়ত।

পশু ভাগ্যবান তাকে কাউকে বয়ে বেড়াতে হয় না। মানুষকে সর্বদা কাঁধে করে বয়ে বেড়াতে হয় গা ঘিনঘিনে এক পশুকে। পশু বেচারার কষ্টের শেষ নেই কারণ সে ইচ্ছে করলেই মানুষ হতে পারে না কিন্তু মানুষের যে বাড়তি সুবিধাটুকু সে ইচ্ছা করলেই চট করে পশু হয়ে যেতে পারে। নিমিষেই দু-পা থেকে চার পায়ে রূপান্তর...।

সহায়ক সূত্র:
১. জননী: http://www.ali-mahmed.com/2013/11/blog-post_23.html

Thursday, March 26, 2015

দুঃসাহস!

মাত্র এক মাস হলো। যে লেখাটা দিয়েছিলাম আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে, আস্পর্ধা [১]! ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমাদের শোকের সময়ে এরা পতাকা লাগিয়েছিল আনন্দের পতাকা।
আজ ২৬শে মার্চে আমার অনেকখানি কৌতুহল ছিল এরা এবার কীসের পতাকা লাগাবে, শোকের? ওয়াল্লা, আজ তো দেখি পতাকার কোনও পাত্তাই নেই! ২৬শে মার্চে একটা ব্যাংক পতাকাই লাগাবে না এ তো চিন্তারও অতীত!

আচ্ছা এদের সমস্যাটা কী! ইসলামের ঢালের আড়ালে এরা নাহয় ইসলামমনস্ক হলো, বেশ কিন্তু ইসলাম ধর্মে কোথায় এটা বলা আছে নিজদেশের প্রতি, দেশমার প্রতি, পতাকা-আবেগের প্রতি তাচ্ছিল্য করতে হবে?
আসলে এরা যেটা করছে এটা স্রেফ মন্দসাহস, দুঃসাহস, চরম দুঃসাহস...।

সূত্র:
১. আস্পর্ধা: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_21.html

Monday, March 23, 2015

অভিজিৎ—একটি খুন, অতঃপর: দুই।

কেউ ছুঁরি দিয়ে আপেল কেটে খায় কেউ সেই ছুঁরি দিয়েই কারও চোখ উপড়ে ফেলে! তেমনই কেউ দেখে খাবার হিসাবে আপেলকে অন্য কেউ দেখে আপেলের সৌন্দর্য। যার-যার দৃষ্টিভঙ্গি-বিবেচনা।
চাপাতির কোপে পিচের সঙ্গে লেপ্টে ছিল অভিজিতের যে মগজ, আমি দেখি সেই মগজের পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল অজস্র জ্ঞান—বিনষ্ট হলো সেই জ্ঞানের উৎস। কী অপচয়, কী নিদারুণ অপচয়!

আমার বই পাওয়ার উৎস রকমারী ডট কমের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর বিকট সমস্যায় পড়ে গেলাম। সহৃদয় চিন্ময় ভট্টাচার্য উদ্ধার করলেন। তিনি নিয়ে এলেন অভিজিতের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ বইটি।
এই বইটাতেও আমি দেখেছি অসংখ্য তথ্যের সূত্র ব্যবহার করতে। অসম্ভব প্ররিশ্রমী একটা কাজ নিঃসন্দেহে, অসংখ্য তথ্য-উপাত্ত একটা জায়গায় জড়ো করাটা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। আমি এটাও লক্ষ করেছি রায়হান আবীরের সঙ্গে তিনি যে বইটি লিখেছেন এখানে তাঁর নিজস্ব মত খুবই অল্প। বইটার শুরুতেই যে তথ্য তা চামকে দেয়, অন্তত আমাকে। এখান থেকে মাত্র ২টা তথ্য উল্লেখ করি:
"১. 'নেমাটোমর্ফ হেয়ারওয়ার্ম' নামে এক ফিতাকৃমি সদৃশ প্যারাসাইট ঘাসফড়িং-এর মস্তিষ্কে সংক্রমিত করে ফেললে ঘাস ফড়িং পানিতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করে, যার ফলে হেয়ারওয়ার্মের প্রজননে সুবিধা হয়। অর্থাৎ নিজের প্রজনননের সুবিধার পেতে হেয়ারওয়ার্ম বেচারা ঘাস ফড়িংকে আত্মহত্যায় পরিচালিত করে।..."


২. "ল্যাংসেট ফ্লুক নামে এক ধরনের প্যারাসাইটের সংক্রমণের ফলে পিঁপড়া কেবল ঘাস বা পাথরের গা বেয়ে উঠানামা করে। কারণ এই প্যারাসাইট বংশবৃদ্ধি করতে পারে শুধুমাত্র তখনই যখন কোনো গরু বা ছাগল একে (পিঁপড়াসহ প্যারাসাইটকে) ঘাসের সঙ্গে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। ফলে প্যারাসাইট নিরাপদে সেই গরুর পেটে গিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।"

এই তথ্যগুলো কিন্তু অভিজিতের মনগড়া না, এটা তিনি নিয়েছেন, Deniel C. Dennett-এর Breaking the Spell…বইটি থেকে। এমন অজস্র তথ্য! এখন আমার মত যারা সাধারণ পাঠক তাদের পক্ষে Deniel C. Dennett লেখকের বই যোগাড় করে এই তথ্যগুলো জানাটা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিজিতের মত লোকজনেরা সেই কঠিন কাজটা সহজ করে দেন।

আমি হতবাক হয়েছি এটা দেখে অভিজিৎ রায়কে নৃশংস ভাবে হত্যা করার পর অনেক শিক্ষিত(!) মানুষকে দেখেছি তার এই হত্যাকান্ডকে বৈধতা দিতে, তিনি ধর্মের প্রতি বিষ উগরে দিতেন এই যুক্তিতে। আজব! 

অভিজিৎ রায় বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে লিখতেন যেখানে তথ্য-উপাত্ত দেওয়া থাকত। তদুপরি কারও আপত্তি থাকলে লেখার উত্তর লেখা দিয়ে দিলে সমস্যা কোথায় ছিল! আর লেখার শক্তিতে ভরসা না-থাকলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে প্রতিকার চাইলেন না কেন? কলমের উত্তর কী কলম-আইনের মাধ্যমে না-গিয়ে চাপাতির মাধ্যমে!

মানুষের মধ্যে যেমন ভাল-মন্দ আছে তেমনি লেখায়ও। ভাল লেখা-মন্দ লেখা। আমরা মন্দ মানুষকে যেমন এড়িয়ে চলি তেমনি মন্দ লেখাও পরিত্যাজ্য। পাতার-পর-পাতা পড়ে ফেললেই যেমন একজন সাহিত্যিক হওয়া যায় না তেমনি সব লেখাও লেখা হয়ে উঠে না। মানুষের কল্যাণের জন্য যে লেখা না তা কখনও ভাল লেখা হতে পারে না।
এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সাহিত্যের অধ্যাপক মোরদেচাই কেদার। ডিজঅর্ডারে ভোগা এই মানুষটা একটা উম্মাদ। উম্মাদের কথার গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নাই।
"যুদ্ধ অনেক হয়েছে, এবার ধর্ষণ যুদ্ধ শরু করতে হবে। গাজার ঘরে-ঘরে ঢুকে এদের নারীদের ধর্ষণ করতে হবে। মা-বোন-স্ত্রী-কন্যা কেউ যেন বাদ না যায়।"
-জেরুজালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের অধ্যাপক মোরদেচাই কেদার।

মানুষের মৃত্যুর পর তার কি হবে এই ভয়-ই ধর্মগুলোর প্রধান হাতিয়ার। অনেকের জন্য তখন এর বাইরে যাওয়ার ধর্মীয় নির্দেশ-সুযোগ-ইচ্ছা থাকে না। আমি এক লেখায় লিখেছিলাম,
“প্রধান ধর্মগুলোর জোর দাবি তাঁর ধর্মই সেরা! তাঁর ধর্মেই মুক্তি...। অন্য ধর্মে নরকবাস! বেচারা মানবের হয়েছে নাভিশ্বাস...” [১]।
কেবল এটুকুই না, ভয়ংকর ব্যাপারটা হচ্ছে, কিছু-কিছু ধর্মে নিজ ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যা করার নির্দেশও দেওয়া আছে!

বিভিন্ন ধর্মে এমন অনেক ঘটনার অলৌকিক বর্ণনা আছে যার আদৌ কোনও ব্যাখ্যা নেই। তখন সেই ধর্মের অনুসারীগণ অসহায় বোধ করেন। তার এই অসহায়ত্ব নিয়ে সবিরাম খোঁচাখুঁচি করাটা অর্থহীন।

এ থেকেও উদ্ধারকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় স্বয়ং ধর্ম। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস রাখার উপরই জোর দেওয়া হয় যে সবই তার ইচ্ছা- প্রশ্ন করার অবকাশ নেই।
এই বৃত্তের বাইরে একদল মানুষ আছেন যারা কোনও ধর্মেই বিশ্বাস রাখেন না, সৃষ্টিকর্তার প্রতিও অবিশ্বাসী। যাদেরকে প্রচলিত অর্থে আমরা নাস্তিক বলি।
এখন কে আস্তিক হবেন বা কে নাস্তিক এটা তো তার নিজের সিদ্ধান্ত। এখানে অন্যদের কী কাজ! ভয় দেখিয়ে আস্তিক বানাবার অপচেষ্টা কেন! এটা তো ভয়ংকর, যে মানুষটার সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস নেই , ভয় নেই সেই মানুষটা ভয় পাচ্ছে তারই মত তুচ্ছ মানুষকে। ওই তুচ্ছ মানুষটা কী সৃষ্টিকর্তার চেয়েও বড়ো!

কেউ-কেউ তো এখনও সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে বাস করেন। দৈনিক পত্রিকা-খবর-খেলার সঙ্গে কোনও যোগ নাই। এরা অবলীলায় ইসরাইলের দূতাবাস ঘেরাও করার কর্মসূচীও দিয়ে ফেলেন। এটা জানার প্রয়োজন বোধ করেন না ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের দেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক নাই তাই তাদের দূতাবাস থাকার প্রশ্নই উঠে না। ঘেরাও করাটা হাস্যকর, অতি হাস্যকর।
এরাএমনসব বই পড়বেন [২] যার সূত্রের কোনও বালাই নেই। এক লেখায় আমি লিখেছিলাম এদেরকে পরিপূর্ণ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষদের বঞ্চিত, দূরে রেখে..., 
“...ওখানে কেবল ধর্মই শেখানো হবে না। কম্পিউটারও থাকবে। এরা ইন্টারনেট ব্যবহার করবে- এরা নিজেরাই জানবে ধর্ম নিয়ে যেমন কুৎসিত কথা বলা হয় তেমনি চমৎকার কথাও লেখা হয়। এরা চোখ বড় বড় করে মাল্টিমিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ সব বীরত্বের প্রামাণ্যচিত্র দেখবে। লাইব্রেরিতে শিক্ষামূলক বই...।”[৩]
কিন্তু এখন, কেবল এদের কথা বলেই দায় সারার উপায় নেই। এখন অতি শিক্ষিত ছেলেপেলেরাও চলে আসছে। আমার এক আত্মীয়, বুয়েটে পড়াশোনা করে এমন একজনের ফেসবুকের লেখা দেখে আমি চমকে উঠেছিলাম। সে লিখেছিল, ‘এই দেশে কোনও নাস্তিক থাকতে পারবে না’।

কেন একজন নাস্তিক এই দেশে থাকতে পারবে না! যুক্তি কি? আমি অন্য একটি লেখায় লিখেছিলাম: “...কথাটা রবিদাদার,
‘I love my God because he gives me the freedom to deny him.’ 
বাপুরে, এই ক্ষমতাটাও তো তাঁরই দেওয়া নইলে তো এই গ্রহে অবিশ্বাসী বা অন্য ধর্মের কেউ থাকত না [৪]! ...” তাহলে তুমি কে হে, সলিমুল্লা?
এখন সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায় এই ভয়াবহ খবরগুলো। আইএস-এর (ইসলামি স্টেট) মত খুনি-দানবদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা ওখানে উড়ে যাচ্ছে। হালে যোগ দিতে গেল ইউকে থেকে মেডিকেলের ছাত্ররাও! গা হিম করে দেওয়ার মত এই ঘটনাগুলো।

একটা সময় তো পরিস্থিতি এমন উদ্ভট ভয়ংকর ছিল, ব্লগার মানেই নাস্তিক [৫]। আজও নাস্তিক এবং ধর্মের কটাক্ষকারীর মধ্যে ফারাকটা অনেকের কাছেই পরিষ্কার না। পূর্বেই বলেছি কে নাস্তিক হবেন, কে হবেন না এটা তার এখতিয়ার। এখানে অন্যদের কোনও বক্তব্য থাকার কথা না।
তবে কোনও ধর্ম নিয়ে অশালীন, কুৎসিত কথা বলার আমি ঘোর বিরোধী। আরজ আলী মাতুব্বর কেবল ঘোর নাস্তিকই ছিলেন না এই বিষয়ে প্রচুর লেখাও লিখে গেছেন, ধর্মের বিপক্ষে অসংখ্য যুক্তি দিয়েছেন কিন্তু কোথাও তিনি কোনও ধর্ম নিয়ে কুৎসিত কথা বলেছেন এমনটা অন্তত আমার জানা নাই। যেমনটা অভিজিতের বেলায়ও খাটে।

একদল আছেন যারা ধর্ম নিয়ে অতি নোংরা, অতি কুৎসিত কথা বলেন। এমন অনেকেই আছেন যাদের ১০০টা লেখার মধ্যে দেখা যাবে ৯৯টাই ধর্মসংক্রান্ত অতি জঘন্য কথা লেখা। এরা এই কাজটা করেন ইচ্ছাকৃত। এই শিক্ষিত মানুষগুলো কেন এমনটা করেন? কারও কাছে একটা নিরেট পাথর ঈশ্বরতুল্য, অন্য একজনের কি কাজ এটায় লাথি দিতে। এই গ্রহে কী লাথি মারার পাথরের অভাব পড়েছে!
এরা নাস্তিক কিনা সেটা জরুরি না কিন্তু এরা নাস্তিক নামের আড়ালে একেকজন চলমান মুক্তমনা(!)। অন্যের মত-বিশ্বাস-আবেগকে পদদলিত করে কেমন করে মুক্তমনা হওয়া যায় এটা আমার বোধগম্য হয় না! এমন ধর্মীয় আচারও আছে সৎকারের নামে মৃতদেহ টুকরো-টুকরো করে শকুনকে দিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। এখন কি ওই ধর্মের অনুসারীর মৃতদেহে লাথি মারতে হবে?
আমার দৃষ্টিতে এরা একেকটা ইতরবিশেষ।

আহ, ধর্মের অবমাননা! আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, 'ইসলাম ধর্মের অবমাননা সহ্য করা হবে না...'। অথচ ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর এটা বলাটাই সমীচীন ছিল যে কোনও ধর্মেরই অবমাননা সহ্য করা হবে না [৬] ।

অনেক ধর্মীয় শিক্ষক ওয়াজের নামে গভীর রাত পর্যন্ত ৮/১০টা চোঙ্গা লাগিয়ে অন্য ধর্মগুলোকে উদ্দেশ্য করে যে সমস্ত উগ্র বক্তব্য দেন তাতে কী ধর্মের অবমানননা হয় না? এই ভিডিওটা দেখলে খানিকটা অনুমান করা যাবে অন্যের ধর্মের প্রতি কেমন অবজ্ঞা-তাচ্ছিল্য-হুমকি প্রদর্শন করা হয়। এই মানুষটা কি অন্য ধর্মের অবমাননার নামে অন্যায় করছেন না? কেন এই মানুষটাকে আইনের আওতায় আনা হবে না?

রানা প্লাজায় যখন একের-পর-এক লাশ উদ্ধার হচ্ছিল তখন মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী বলেছিলেন: 
'আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ে’।"
কী অমানবিক, হিংস্র কথা!

লেখার শুরুতে বলেছিলাম, আস্তিক আস্তিকের মত, নাস্তিক নাস্তিকের মত থাকলে কোনও সমস্যা ছিল না কিন্তু একদল ধর্মের ঢাল ব্যবহার করে ঝাঁপিয়ে পড়েন নাস্তিকের উপর। নিজের মতের সঙ্গে না-মিললে ইচ্ছা হলেই যে-কাউকে ট্যাগ লাগিয়ে দেন নাস্তিকের [৮]।
কখনওবা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে বিনষ্ট করেন প্রাণ, যে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাটুকুও তার নাই। 

নাগাল্যান্ডে ধর্ষণের অভিযোগে ফরিদ নামের যে যুবককে কারগার ভেঙ্গে নগ্ন করে সমস্ত শহর প্রদক্ষিণ করিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল জনতা অথচ পরে জানা গেল ফরিদ নামের ওই মানুষটা নির্দোষ। এখন ওই খুনিরা কী করবে, ফরিদের প্রাণ ফিরিয়ে দেবে? 

অভিজিতের খুনিদের যদি কখনও এমনটা মনে হয় মানুষটাকে মেরে ফেলাটা ভুল ছিল তখন এরা কী করবেন অভিজিৎকে ফিরিয়ে দেবেন?
এদিকে আবার অন্যদল নাস্তিকের ঢাল ব্যবহার করে অতি কুৎসিত কথার ঝাঁপি খুলে ঝাঁপ দেন আস্তিকের উপর। এই সব 'নাস্তিক মিলিট্যান্ট'রা যদি ভেবে থাকেন আমরা তাদেরকে 'শাবাসি' দেব তাহলে ভুল ভাবছেন।

হাহ, মিলিয়ন-মিলিয়ন নক্ষত্রের মধ্যে (যাদের মধ্যে সূর্য একটা সাধারণ হলুদ নক্ষত্রমাত্র) সেই সূর্যের চেয়েও ১৩ লক্ষ গুণ ছোট এই পৃথিবীর ক্ষুদ্র একটা দেশের অতি ক্ষুদ্র একটা শহরে বসে আমরা কী অবলীলায়ই না জ্ঞান কপচাই। এই গ্রহটার সঙ্গে ৭০০ কোটি মানুষ লেপ্টে আছে অথচ একজন মানুষের শরীরেই ১০০ ট্রিলিয়ন ব্যকটেরিয়ার বাস! এই মহাবিশ্বের পাশে মানুষ নামের ৭০০কোটি সংখ্যাটা কী তুচ্ছ, কী হাস্যকরই না! ধর্ম ঘুরপাক খায় কেবল এই গ্রহের মানুষকেই ঘিরে।

মহাবিশ্বের সমস্ত রহস্য যখন সবাই জেনে বসে আছে আমি কেবল সলাজে বলি, আমি জানি না, কিচ্ছু জানি না [৯]...।

২৫.০৩.২০১৫
*একজনের প্রতি মুগ্ধতা, ভাল লাগার কারণে তার সব কিছুতেই একমত হতে হবে এমনটা আমি মনে করি না বিধায় এই লেখাটায় এটা যোগ করার প্রয়োজন বোধ করছি।
অভিজিৎ রায় তাঁর ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ বইটার (পৃষ্ঠা ৩০৯) শেষ অংশে বলছেন, “...’ধর্মকারী’ নামে একটা সাইট আছে অন্তর্জালে। সাইটটির উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে- ’...এই ব্লগে ধর্মের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করা হবে, ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে, অপদস্ত করা হবে, ব্যঙ্গ করা হবে...।“

যদিও এখানে অভিজিৎ রায় অন্য একটি সাইটের বক্তব্যের অংশবিশেষ তুলে দিয়েছেন কিন্তু এতে যে তাঁর প্রচ্ছন্ন সম্মতি আছে এটা পরিষ্কার হয়। তাঁর এই মতের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি।
‘ধর্মের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করা হবে’, ‘ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে’ এই নিয়ে আমার কোনও দ্বিমত নাই কিন্তু অপদস্ত করা হবে, ব্যঙ্গ করা হবে এই বিষয়ে আমার ঘোর আপত্তি আছে। কারণ একেকটা ধর্ম তার অনুসারীদের কাছে তার ধর্ম বিশ্বাস-আবেগের স্থান এটা নিয়ে আর যাই হোক ব্যঙ্গ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা চলে না।

মোটা দাগে আবেগকে আমি ব্যাখ্যা করি এভাবে। কার মা কালো-কালো, চামড়া কোঁচকানো, গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না-কথার খেই হারিয়ে ফেলেন...তাতে সেই মার সন্তানের কী আসে যায়। অন্যের কি অধিকার আছে কারও আলাভোলা মাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার? এমনটা হয়ে থাকলে এও এক অন্যায়।   

**একটি খুন, অতঃপর: এক: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/blog-post_20.html

সহায়ক সূত্র:
১. তাঁদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_06.html
২. কল্পনাকেও ছাড়িয়ে: http://www.ali-mahmed.com/2014/06/blog-post_5.html
৩. চাবুক মেরে দুধে পানি মেশানো বন্ধ করা যায় না: http://www.ali-mahmed.com/2013/05/blog-post_7.html
৪. ...ফারাবী গং: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/rokomaricom.html
৫. ব্লগিং-বোল্গিং, আস্তিক-নাস্তিক: http://www.ali-mahmed.com/2013/03/blog-post_15.html
৬. প্রধানমন্ত্রী: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_4.html
৭. মাওলানা রুহী...: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_4554.html
৮. নাস্তিক এবং...: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_9.html
৯. আমি কেউ না, আমি কিছু না: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_07.html

Friday, March 20, 2015

অভিজিৎ—একটি খুন, অতঃপর: এক।

(ছবি ঋণ: বাংলার চোখ)

অভিজিৎ রায়কে কোপানোর পর যেসব ছবি দেখেছি ওগুলোয় কেমন যেন একটা ফাঁক-ফাঁক মনে হচ্ছিল কি যেন থাকার কথা অথচ নেই। এই ছবিটায় সেই অভাব পূরণ হয়েছে। পুলিশকে দেখা যাচ্ছে।

অতি ঘৃণার সঙ্গে বলতে হচ্ছে তখনই অভিজিতের খুনিকে আটকাবার বিন্দুমাত্র চেষ্টা দূরের কথা তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টাও পুলিশ করেনি! এখানে কেবল দায়িত্ব না মানবতাও মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছে! কেবল তাই না অভিজিৎ এবং তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালেও পুলিশ নিয়ে যায়নি। জনসাধারণের মধ্যে থেকে একজন নিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি পুলিশ এই কাজে তাদের গাড়িও ব্যবহার করেনি, স্কুটারে করে অভিজিৎ এবং তাঁর স্ত্রী বন্যাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ এমন আহত অবস্থায় একজন মানুষের জন্য প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান।

আমি জানি না এমন চাপাতি কোপানো মুমূর্ষু একজন মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি কোনও প্রকারের ‘উপরের নির্দেশের’ নিষেধাজ্ঞা আছে কি না? আমাদের দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আসলেই তাদের কাজ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল কিনা এটাও একটা প্রশ্ন। এদের অধিকাংশকেই এমনসব কাজে ব্যস্ত রাখা হয় যেটা আদৌ এদের কাজ না। এর উপর আছে ‘উপরের নির্দেশ’। এই উপরের নির্দেশ জিনিসটা কী এটা উপরওয়ালা ব্যতীত অন্য কেউ বলতে পারবে এমনটা ভরসা করি না।

অভিজিৎ রায়ের উপর গুরুতর হামলাটা এই দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ভাবনার বিষয় কারণ কেবল অতি সুরক্ষিত (এটার আবার গালভরা একটা নাম আছে, তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিনদুপুরেই না শত-শত মানুষের সামনেই ঘটেছে এই ঘটনাটা। এ অবিশ্বাস্য, এ অভূতপূর্ব!

ড. হুমায়ূন আজাদের বেলায় স্থান এক হলেও খানিকটা নিরিবিলি, আড়াল ছিল। অভিজিতের উপর এই হামলার পেছনে যারা আছে তাদের দূরদর্শিতার তারিফ না-করে উপায় নেই। এরা ঠিক-ঠিক জানে এই দেশের পালস। এরা এটা বিলক্ষণ জানে এই দেশের পুলিশ নীল ল্যাস্পপোস্টের মত দাঁড়িয়ে থাকবে। কিছু নপুংসক গোল হয়ে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে তামাশা দেখবে।
কেবল অভিজিৎকে উদ্ধারকারী ওই মানুষটাই ‘আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ’ এই সহজ চিত্রটা খানিকটা ভন্ডুল করে দিয়েছেন। পুলিশ যে জীবন আহমেদকে খুনি বানিয়ে দেয়নি এটা জীবন আহমেদের অপার সৌভাগ্য।

এই দেশ এরপরও বসবাসের যোগ্য এমনটা কেবল এই দেশের ‘চামচ-শ্রেণীর’ বা চামার শ্রেণীর লোক ব্যতীত অন্য কারও পক্ষে দাবী করা সম্ভব না। এই ঘটনা আরও ভয়াবহ, ছোট্ট উদাহরণ:
ঘটনার সময় বইমেলার গেটে দায়িত্ব পালনকারী নীলক্ষেত ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওয়াহিদুজ্জামান মিডিয়াকে জানান:
তাকে নাকি এখনও (১২ মার্চ ২০১৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেউ ডাকেইনি! 
আহা, ডাকবে কেন? জবাবদিহিতা বলতে কোনও বিষয়ের চল তো আমাদের দেশে নাই। আছে কেবল গালভরা নাম, তিনস্তর, সাড়ে তিন স্তর...।

ওরে, তিনস্তর নিরাপত্তাই বটে! শোনো কথা! সম্ভবত চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ছিল না-বলে এসআই ওয়াহিদুজ্জামান ডাকা হয়নি! আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা চালু হবে। তখন তিনস্তর নিরাপত্তার চাদরের বদলে চারস্তরের মোটা কাঁথায় ঢেকে দেওয়া হবে এবং অসংখ্য ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরাগুলো টোকাইদের মাঝে বিলি করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

আমাদের চৌকশ গোয়েন্দা মহোদয়গণ বাঘের দুধের পায়েশ জনগণকে খাইয়ে দিতে পারেন এই তারাই এখন হাঁ করে আছেন ভিনদেশি গোয়েন্দাদের মুখ চেয়ে।

অভিজিতের প্রকৃত হত্যাকারী কে এটা যেহেতু আমরা এখনও জানি না তাই বলা মুশকিল কে এর পেছনে? এমনিতে তো আমরা বিভিন্ন নাটক দেখে অভ্যস্ত। ‘জজ মিয়া নাটক’ সগৌরবে মঞ্চস্থ হতে পারলে ‘আসামী মিয়া’ নামে আরেকটা নাটক মঞ্চস্ত হতে সমস্যা কোথায়!
পূর্বেই বলেছি অভিজিৎ রায় যুক্তি-সূত্র দিয়ে যে সমস্ত লেখা লিখে গেছেন... (অভিধানকেও কী চাপাতি দিয়ে কোপানো হবে) [১] সে তো নস্যি তারচেয়েও অনেক অনেক কুৎসিত, জঘন্য ভাষায় অহেতুক ধর্মকে আক্রমণ করার লোকের অভাব এই ব্লগস্ফিয়ারে নেই, তাহলে অভিজিৎই কেন? নাকি কেউ এই সুযোগের পুরো ফায়দাটা নিয়ে নিল? এর উত্তর সময়ের হাতেই না-হয় ছেড়ে দিলাম।

পুলিশের বিরুদ্ধে পরোক্ষ মৃত্যুর অভিযোগ কেন আনা হবে না এই নিয়ে কেবল হইচইই করা চলে- ফলাফল ‘আ বিগ জিরো’। দায়িত্ব অবহেলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনও পুলিশ মহোদয়ের কেশাগ্রও এদিক-ওদিক হয়নি এদিকে আমাদের আইনমন্ত্রী মহোদয় যথারীতি হুংকার দিয়েছেন:
“কোনো অন্যায়কারী বিচার ব্যতীত যেতে পারে না। বাংলাদেশের কেউ মনে করতে পারবে না যে, সে আইনের উর্ধ্বে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।” (http://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/940113)
ল ইজ কামিং, আইনমন্ত্রী ‘সেই বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে থাকুন আমরা অন্য প্রসঙ্গে যাই...।

*একটি খুন, অতঃপর, দুই: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/blog-post_23.html

সূত্র: ১. ...ফারাবী গং: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/rokomaricom.html

Thursday, March 19, 2015

হাঙ্গর!

গতকালের লেখাটা নিয়ে [১] কেউ-কেউ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমি বিব্রত হব এটা ভেবে একজন ইনবক্সে তার শ্লেষভরা বক্তব্য উগরে দিয়েছেন, ‘শুভ, আপনি দেখি ধান ভানতে শীবের গীত গাওয়া শুরু করে দিয়েছেন’!
আমার খুব একটা আহত হওয়ার কিছু ছিল না কারণ আমরা সেই শুরু থেকেই ব্লগস্ফিয়ারে লেখালেখি শুরু করেছি- এটা তিনি দাবী নিয়ে আমাকে লিখতেই পারেন।

যাই হোক, আমি লেখাটায় যেটা বলতে চেয়েছিলাম, এই প্রজন্ম তীব্র অসহিষ্ণু হওয়ার এটাও একটা কারণ যে ভারতের উপর তীব্র ক্ষোভ আছে ভারতের বিভিন্ন প্রকারের দাদাগিরি করার জন্য। ওরে, এদের যে আবার দাদা-দাদাগিরি বলে ফেললাম। প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় যে- গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করব কিনা বুঝতে পারছি না।
অন্য এক লেখায় এদেরকে ‘দাদা’ বলায় একজন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন’। কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! তাই ঠিক করেছি এখন থেকে এদেরকে দাদার বদলে হাঙ্গর বলব।

তো, গতকালের লেখাটায় এই প্রজন্মের ক্ষোভের কথা বলতে গিয়ে আমি হাঙ্গরের যৎসামান্য কর্মকান্ডই তুলে ধরেছিলাম। হাঙ্গর নৈতিক কর্মকান্ড করল নাকি অনৈতিক সেটা হাঙ্গরকে কে বোঝাতে যাবে! একজন শিক্ষকের বোঝাবার-শিক্ষাদানের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন তা এখানে কোথায়! শিক্ষক বেচারার হাঙ্গরের পেটে শুয়ে শিক্ষাদান করাটা নিশ্চয়ই আরামপ্রদ কিছু না। আহা, ধর্মের বাণী শোনাতে চাচ্ছে বুঝি কেউ। বেশ-বেশ, ধর্মপুস্তক এবং তিনি দুজনেই পাশাপাশি থাকবেন কিন্তু স্থান ওই হাঙ্গরের পেট।

হাঙ্গর যখন খেলা করে সেটাও অতি ভীতিকর। তেমনি ভারত যখন খেলে সেখানে ভীতিকর না থাকলেও অন্তত অপ্রীতিকর কিছু একটা যে থাকবে, থাকবেই এ তো বিচিত্র কিছু না।এতে করে নির্দোষ-নির্মল খেলা কতটা গুয়ে মাখামাখি হবে এতে কী আসে যায়? যার খানিকটা নমুনা আজ আমরা দেখেছি।
ভারত-বাংলাদেশ ইনিংসে আম্পায়ার আলিম দার ও ইয়ান গৌল্ডের রুবেলের করা বলকে কোমরের উপর ছিল বলে নো-বল বলে রোহিতের আউটকে নাকচ করে দেওয়া। অথচ ছবিতে আমরা পরিষ্কার দেখছি বলটা কোমরের নীচেই ছিল।
সুরেশ রায়নার এলবিডব্লিউ ছাড়াও বাউন্ডারি সীমানায় শিখর ধাওয়ানের নেওয়া ক্যাচটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহকে আউট দেওয়া হয়। অথচ আমরা ছবিতে পরিষ্কার দেখছি শিখর ধাওয়ানের সীমানার দড়িতে কেবল পা-ই লাগেনি তার প্রায় সমস্ত শরীরই বাইরে।
(ভিডিও ঋণ: আহমাদ রনি। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা)
গ্যালারিতেও যদি ভারতের জার্সি গায়ে কেউ বলটা লুফে নেয় সেটাও আউট দেওয়াটা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না। বাহে, ‘কাভি নেহি’ বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন না- হাঙ্গরের সঙ্গে খেলায় সবই সম্ভব...।

সূত্র:
১. মওকা-সুযোগ-সুযোগসন্ধানী: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/blog-post_18.html  

Wednesday, March 18, 2015

'মওকা'-সুযোগ-সুযোগসন্ধানী।

পেপসিকো ইন্ডিয়ার নামে অতি আপত্তিকর ভিডিও ‘মওকা’ নিয়ে আমাদের এই প্রজন্ম প্রচন্ড রকম ক্ষুব্ধ হয়েছে। যদিও পেপসিকো ইন্ডিয়া ক্ষমা চেয়েছে এবং দাবী করেছে এটা তাদের বিজ্ঞাপন না। প্রচন্ড আপত্তির মুখে ইউটিউবেও এই ভিডিওটি অপসারণ করেছে।

কিন্তু এরই মধ্যে এই প্রজন্ম যেটা করে দেখিয়েছে তা এক কথায় অভূতপূর্ব। স্যালুট। তাদের অনেক ভঙ্গির সঙ্গে আমাদের দেশের ঝুলেপড়া গোঁফ এবং ঝুলেপড়া ইয়ের বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন নৈতিকতার আঁক কষবেন। এতে করে এই প্রজন্মের বয়েই গেছে! বিষয়টা অনেকটা এমন, কেউ কারও মাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়েছে, সামনের লোকটাকে স্রেফ খুন করে ফেলতে হবে- এখানে জেনেভা কনভেশনের কী কাজ?

১৯৭১-‘রিবার্থ’, এই দেশ স্বাধীন হওয়ার মাধ্যমে যে প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে তার কাছে স্বাধীনতা মা-সম। তার মাকে কেউ অপমান করবে আর সে চেয়ে চেয়ে দেখবে এমনটা আশা করাটাই বোকামী। সেই দ্রোহ-ক্ষোভের তীব্রতা কাঁপিয়ে দেবে সমস্ত কিছু, দিয়েছেও। আমাদের নষ্ট রাজনীতিবিদদের জন্য এটা একটা আগাম সতর্কবার্তা। যারা এই প্রজন্মের পালস বুঝতে পারবে তারাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে।

১৯৭১ সালে ভারতের যেটুকু অবদান তা অস্বীকার করে আমরা অরুচির পরিচয় দিতে চাই না। তবে আমাদের উপকার করার মাধ্যমে তাদের কতটুকু উপকার হলো সেটা না-হয় ভাবাভাবির লোকজনের জন্য তুলে রাখলাম। উপকার করেছে বলে আমরা কী আজীবন হাতের তালু ঘষতে ঘষতে রেখা মিটিয়ে দেব?

যাই হোক, আমি বারবার যেটা বলে আসছি আমার সবটুকু আস্থা এই প্রজন্মের উপরই। পারলে এরাই পারবে করে দেখিয়ে দিতে। যেমনটা মওকার ক্ষেত্রে হয়েছে। ভারতের মত পরাশক্তিকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিয়েছে। ভারতের মত শক্তিশালী দেশের প্রতি আমরা কারা-কারা নতজানু এতে এদের পরোয়া নেই। এরা এদের লড়াইয়া চালিয়ে গেছে নিজের মত করে।
This is my land, no cowboy rides here. আমার নিজের ভুমিতে কোনও রাখালবালকে মাস্তানি করতে দেব না সে আমেরিকা হোক বা ভারত।

'মওকা'-সুযোগ একটা ওছিলামাত্র। এমনিতে ভারত যে চরম সুযোগসন্ধানী সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য মওকার বিষয়ে অনেকে এই প্রজন্মের প্রতিক্রিয়াকে সহনশীলতার অভাব রূপে দেখছেন। আসলে ‘মওকা’আমাদেরকে একটা মওকা বা সুযোগ এনে দিয়েছে। ভারতের প্রতি এই পুঞ্জিভূত ক্ষোভ কিন্তু একদিনের না। ভারতের বিভিন্ন তালেবর খেলাবিষয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে অনবরত বিভিন্ন কটু কথা বলেই গেছেন। এর বাইরে ভারত বিভিন্ন সময়ে এই দেশের উপর যে সমস্ত অত্যাচার করেছে এই সমস্তই ঘটেছে এই প্রজন্মের চোখের সামনে।
আমাদের সুন্দরবন ধ্বংস করে এরা রামপাল বিদুৎকেন্দ্রের কাজ চালিয়েই গেছে [১]। এরা নিজেদের বিদুৎকেন্দ্রে জন্য তিতাস নদীকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল [২]। ফেলানি নামের অসহায় এক মেয়েকে এরা গুলি করে যেভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিল [৩] এই দৃশ্য এই প্রজন্ম বিস্মৃত হয়নি।

বিএসএফ নামের নেকড়েগুলো হাতের নাগালে পেলে এই দেশের লোকজনের শরীরে পেট্রল পুশ করেছে এমন উদাহরণও আছে বা হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এরা কেমন করে আমাদের দেশের লোকজনকে অত্যাচার করে এই লেখার [৪] সঙ্গের স্টিল ছবিগুলো বা ভিডিওটি দেখলে অনুমান করা যাবে যে এরা কী পরিমাণ হিংস্র! হিংস্রতায় অবলীলায় এরা পশুকেও হারিয়ে দেবে। এমন উদাহরণের অভাব নেই।

ভারতের সুবিধার জন্য আলাদা রেললাইন লাগবে এদের এমন শত বায়ানাক্কার শেষ নেই [৫]। এরা শহরের সমস্ত বর্জ্য পাঠিয়ে দেয় আমাদের দেশে [৬]। কেবল তাই না আমাদের দেশে ফেনসিডিল দিয়ে এরা ভাসিয়ে দেয়, কেবল বাংলাদেশে পাঠাবার জন্য এরা সীমান্তে শত-শত ফেনসিডিলের কারখানা খুলে রেখেছে। ফেনসিডিলের মূল উপাদান 'কোডিন' কিন্তু এদের ফেনসিডিলে যা আছে তা স্রেফ বিষ! এরা কিন্তু নিজেরা ওই ফেনসিডিল ছুঁয়েও দেখে না। এদের মেয়াদ উত্তীর্ণ গুড়ো দুধ, জিরা আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেয় আর ইলিশের প্রয়োজন হলে দিদি-দিদি বোল আমাদের কান ঝালাপালা করে দেয়।

আমরা কেবল একটা জায়গায় এদের থেকে পিছিয়ে আছি। এরা নিজেদের স্বার্থের জন্য, দেশের জন্য সবাই একাট্টা এখানে এদের কোনও আপোষ নেই কিন্তু আমরা দলবাজরা না-মানে-ইয়ে বলে অতি দ্রুত দু-ভাগ হয়ে যাই...।

সহায়ক সূত্র:
১. সুন্দরবন-রামপাল: ...!: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_23.html
২. তিতাস, বানরের পিঠা ভাগাভাগি: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
৩. ফেলানি: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_10.html
৪. বিএসএফ এক নেকড়ের নাম: http://www.ali-mahmed.com/2012/01/bsf.html
৫. ভাল দাম পেলে...: http://www.ali-mahmed.com/2013/06/blog-post_17.html
৬. দান...: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post_14.html

Sunday, March 15, 2015

অদৃশ্যমানব এবং প্লেটোবাদ।

রগরগে একটা কল্পকাহিনী যেটায় একজন মানুষ অদৃশ্য হয়ে যেত- বিচিত্র কারণে যাকে কেউ আর দেখতে পায় না। কে জানত, সেই কল্পকাহিনী বাস্তবে রূপ নেবে তাও আমাদের মত অনুন্নত একটা দেশে!
হুটহাট করে এই দেশ থেকে লোকজনেরা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। ইলিয়াস আলী অদৃশ্য হয়ে গেছেন। দিন-মাস-বছর গড়ায় এই মানুষটার আর কোনও হদিস মেলে না। আমার কল্পনাশক্তি দুর্বল নইলে হয়তো বলতে পারতাম ভিনগ্রহের কেউ তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। মাহমুদুর রহমান মান্নাও ১৯ ঘন্টা অদৃশ্য ছিলেন। হয়তো অদৃশ্য হওয়ার কৌশল ভাল রপ্ত করতে পারেননি তাই ১৯ ঘন্টা পর তাঁকে দৃশ্যমান হতে হলো।

এই তালিকা অনেক লম্বা। হালে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি নাম, সালাহউদ্দিন আহমেদ। অবশ্য তাঁর পরিবার-পরিজনের অভিযোগ ডিবির লোকজনেরা তাঁকে রাতের আধারে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু চার দিন পরও কোনও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সালাহউদ্দিনকে আটক করেছে এমনটা স্বীকার করেনি। বেশ, কিন্তু সালাহউদ্দিন এখন কোথায় আছেন এটা নিশ্চিত করার দায়িত্বটাও এদের উপরই বর্তায়।

অবশ্য মাহমুদুর রহমান মান্নার বেলায়ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ১৯ ঘন্টা পর্যন্ত জানত না যে তিনি কোথায় কিন্তু ১৯ ঘন্টা পর ঠিকই তাকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়েছিল। এ সত্য, রাষ্ট চাইলে যে কাউকে আটক করতে পারে আইনের আওতায় থেকে। ন্যায়-অন্যায় সে ভিন্ন প্রসঙ্গ সেটা রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা কিন্তু রাষ্ট্র যেটা কখনও করতে পারে না সেটা হচ্ছে তার কোনও নাগরিক অদৃশ্য হয়ে গেলে তার হদিস দিতে ব্যর্থ হওয়া।

একজন মানুষ ভাল-মন্দ সেটাও আলোচনার ভিন্ন ক্ষেত্র। একজন মানুষ অদৃশ্য হয়ে গেছেন এটা তাঁর পরিবার-পরিজন-স্বজনের জন্য যে কতটা কষ্টের-উদ্বেগের-ভয়ংকর অভিজ্ঞতার তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারেন। এবং এই সময়টা যে কত দুঃসহ তা অন্যরা কেবল খানিকটা অনুমানই করতে পারবেন। সালাউদ্দিনের পরিবার-পরিজন-স্বজনের চেয়ে অসহায় এই মুহূর্তে আর কে হতে পারে? অথচ এই সালাহউদ্দিনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান কর্ণধার শেখ হাসিনা মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এভাবে:
”...কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে ৮ বস্তা ময়লা-আবর্জনা বের করা হয়েছে। সবাই জানে, সালাউদ্দিন ওখান থেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাকেও কোথাও পাচার করে দিয়েছে কি না, সে জবাব খালেদা জিয়া দিতে পারবেন...। ” (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৫ মার্চ, ২০১৫)

একজন মানুষের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাটা অতি অমানবিক, নিষ্ঠুর একটা আচরণ। রাষ্ট্রের প্রধান কর্ণধার যখন এমন বক্তব্য রাখেন তখন একটি রাষ্ট্রের কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে, সেই সঙ্গে দুলতে থাকে গোটা রাষ্ট্রটাই, ১৬ কোটি মানুষসহ! মাসের-পর-মাস অবরোধ-হরতালের নামে দেশ অচল। চড়চড় করে পুড়ে যাচ্ছে আমাদের চামড়া, আমাদের অতি আস্থার জায়গা আদালতের এজলাস। আমরা উদাসীন চোখে দেখছি। বার্ন-ইউনিট এখন আমাদের শুটিং করার চমৎকার জায়গা।
যে আমরা খানিকক্ষণ ট্রেনের বিলম্ব হলে অসহিষ্ণু হয়ে পড়তাম এখন সকালের ট্রেন রাতে গেলেও নির্বিকার। একের-পর-এক মানুষ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এসবই এখন আমাদের গা সওয়া- চলমান একেকজন যন্ত্রমানব। এই দেশে ক্রমশ বাড়ছে যন্ত্রমানবের সংখ্যা।

প্লেটো এমন এক রাষ্ট্রের কাঠামো তুলে ধরেছিলেন..., “... আমাদের ছেলেদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে ...তাদের জীবনে এমন কোনও গল্প থাকবে না যেখানে ভালো মানুষেরা কাঁদে ও হাহাকার করে, এমনকি তাদের বন্ধুদের মৃতুতেও।
...’লিদিয়া’ ও ‘আয়োনিয়ার’ সুরগুলো নিষিদ্ধ করা হবে কারণ লিদিয়ার সুর দুঃখের এবং আয়োনিয়ার সুর প্রশান্তির। কেবল থাকবে ‘ডরিয়ান’ এবং ‘ফ্রিজিয়ান’ সুর যেগুলো সাহসিকতা এবং মিতাচারের সুর।
...বিকলাঙ্গ শিশু বা নিম্নমানের পিতামাতার সন্তানদের সরিয়ে নেওয়া হবে একটি রহস্যময় অজানা স্থানে...।“

এই রহস্যময় স্থান বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না-গেলেও এটা বোঝার জন্য প্লেটো হতে হয় না যে বিকলাঙ্গ শিশু বা নিম্নমানের পিতামাতার সন্তানরা স্রেফ অদৃশ্য হয়ে যাবে। সব নমুনা দেখে মনে হচ্ছে প্লেটোর সেই রাষ্ট্রে থাকবে কেবল যন্ত্রমানব!
প্লেটো আজ বেঁচে থাকলে বড়ই আনন্দিত হতেন এটা দেখে যে বাংলাদেশের মত অনুন্নত একটা রাষ্ট্র কেমন করে তাঁর স্বপ্নের রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রের সব অদ্ভুতুড়ে কর্মকান্ড, রাষ্ট্রের নাগরিকের অদৃশ্য হওয়ার মিছিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যন্ত্রমানবের সংখ্যা। কালে কালে এই রাষ্ট্রে থাকবে কেবল যন্ত্রমানব অন্যরা স্রেফ অদৃশ্য হয়ে যাবে।

Sunday, March 8, 2015

ভালোবাসা।

এই শব্দটা বহুল ব্যবহারে ব্যবহৃত। একে অপরের প্রতি, সন্তান, মানুষ, জন্তু-জানোয়ার, গ্রহের তাবৎ জিনিসপত্র মায় কারও কারও নিকট গোটা গ্রহটার প্রতিই। এইসবের প্রতি এই টান, আকর্ষণ হয়তোবা উপেক্ষা করা যায় কিন্তু একটা জায়গায় মানুষ বড়ো অসহায়।

খাবার! খাবারের প্রতি ভালোবাসা। পেট- হায়, পেট! এই খাবার-পেটের জন্যই মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়, বাবা তার সন্তানকে ফেলে দেয়। একপেট আগুন নিয়ে দেশ-ধর্ম-নৈতিকতা দূরের কথা এই গোটা গ্রহটাকেই উড়িয়ে দিলেই কী আসে যায়! এই-ই জগদ্বিধান। খাবারের এই অমোঘ টান উপেক্ষা করার ক্ষমতাটা মানুষকে দেওয়া হয়নি। বা সব মস্তিষ্ককে যদি এই নির্দেশ দেওয়া হত এই বর্জ্যগুলো অতি সুস্বাদু। ব্যস, কেল্লা ফতে! (এই জায়গায় কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছিল পেটের ভেতর যা আছে সেইসবই সূর্যের আলো না দেখে ছাড়বে না।)

এটা প্রকৃতির ইচ্ছা না সম্ভবত। পেটের এই সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেলে কার দায় পড়েছে নড়াচড়া করার। এক জায়গায় ঝিম মেরে মাস-বছর ধরে পড়ে থাকলে আটকাত কে- শরীরে শ্যাওলা জমে জমে একেজন 'শ্যাওলাকুমার'! বা দূর থেকে বল্মীক বলে ভ্রম হতো।
না, আটকাত না কেউই, এ সত্য কিন্তু স্থির দেহের দেহঘড়ি অকালে থেমে যেত একেক করে। অর্গানগুলো অকেজো হতো অতি দ্রুত।

যাই হোক, এই মানুষগুলোকে দেখে এইসব চিন্তা আবারও মাথায় ঘুরপাক খায়। এদের অনেকেরই বাহ্যেজ্ঞান নাই। গায়ে কাপড় থাকল কি থাকল না, আপনজনকে চিনল কি চিনল না কে পরোয়া করে।
কিন্তু...। সেই তো খাবারের নিকট পরাভূত। ‘পাগলে টাকা চেনে’, বলে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে ঘুরিয়ে বললে পাগলে খাবার চেনে, খাবারের প্রতি ভালবাসা...।

Saturday, March 7, 2015

“ভূতের মুখে রাম নাম”!

ওই লেখাটায় [১] আমি লিখেছিলাম:
“...আমি দিব্যচক্ষুতে দেখতে পাচ্ছি, জনাব, জাকারিয়া স্বপন বিভিন্ন মঞ্চ আলো করে বসে আছেন। সেই আলোয় চকচক করছে তার পরনের পোশাক-আশাক। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাঁ করে আছে এই প্রজন্ম। এরা অতি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছে জাকারিয়া স্বপনের মধুবাক্য! তিনি জলদগম্ভীর কন্ঠে বলে যাচ্ছেন বিভিন্ন নীতিবাক্যের কথা। তিনি আউড়ে যাচ্ছেন ওয়েবসংক্রান্ত বিভিন্ন ইথিকস নিয়ে, কপিরাইট নিয়ে...।”

বাস্তবে এটা দেখতে খুব একটা সময় লাগেনি! মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে আবারও পরিস্থিতি উত্তাল! জাকারিয়া স্বপন মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন তার লেখা সুবিশাল লেখাটায়। সেটা তিনি করতেই পারেন। খুব খেটেখুটে যে লেখাটা তিনি লিখেছেন এবং লেখাটা সুখপাঠ্যও বটে। কেউ-কেউ তাকে উকিল বলছেন আমি সেপথ মাড়াচ্ছি না। মোস্তফা জব্বরের পক্ষে যুক্তিগুলো শুনলে মন্দ হয় না কিন্তু সুখের বদলে আমার অসুখ বোধ হচ্ছে।
কারণ লেখাটা যে জাকারিয়া স্বপন লিখেছেন! ‘রিদমিক’ কেমন করে মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের সঙ্গে মিলে যায়, প্যাটেন্ট-ট্যাটেন্ট, কপিরাইট এই সব নিয়ে। তার এই লেখাটা পড়ে আমি খ-বাষ্প, জমে গেছি কারণ তার মত একটা মানুষ কেমন করে বুক চিতিয়ে এমন একটা লেখা লিখে আমাদেরকে নসিহত দেন!

জাকারিয়া স্বপন নিজে কী করছেন। তিনি যে 'প্রিয় ডট কমের' কর্ণধার সেই প্রিয় ডট কমে প্রকাশ করছেন অন্যের লেখা হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ! কেবল অন্যের লেখা হুবহু ছাপিয়েই দিচ্ছেন না সূত্রটা পর্যন্ত উল্লেখ করছেন না। আমাদেরকে বোঝাবার চেষ্টা করছেন ওই লেখাগুলো তার নিজের। তিনি বা তার প্রতিনিধিরা বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বাঘ-কুমির থেকে গা বাঁচিয়ে সেই সব দুর্ধর্ষ লেখা-প্রতিবেদন আমাদেরকে্উপহার দিচ্ছেন।
কিন্তু আমরা সবিস্ময়ে লক্ষ করেছি কিছু ছবিতে এপির ছাপও মারা। আমরা জানি, এপির মত আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে টাকা খরচ করে কিনতে হয়, আনুষ্ঠানিক চুক্তি থাকতে হয়।

এ সত্য, এই দেশের অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়া একদা বিদেশী সংস্থার কনটেন্ট নিজেদের মত করে ছাপিয়ে দিত। সঙ্গে দয়া করে লিখে দিত, ‘ওযেব-সাইট অবলম্বনে’। এই নিয়ে বিস্তর হইচই হতো। পরে এদের অনেকেই সচেতন হয়েছে। এখন লেখার সোর্স উল্লেখ করেন। এও মন্দের ভাল যাক বাবা, অন্তত অন্যের ঋণ তো স্বীকার করানো গেল।

এও সত্য, অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপিয়ে দেয় এমন অনেকেই আছে সেইসব আউলা-ঝাউলা, এলেবেলে সাইটগুলো নিয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না কিন্তু প্রিয় ডট কম যখন কাজটা করে তখন নড়েচড়ে না-বসে উপায় থাকে না।
আর জাকারিয়া স্বপন যেটা করছেন সচরাচর সেটাকে চুরি বলারই নিয়ম। কিন্তু তিনি যে ভঙ্গিতে দিনের-পর-দিন, মাসের-পর -মাস ধরে অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছেন যেটাকে চুরি বলাটা অন্যায় হবে, স্রেফ ডাকাতি। কারণ দিনদুপুরে কেউ যখন অন্যের সম্পদ নিয়ে যায় তখন সেটাকে কোনও প্রকারেই চুরি বলাটা সমীচীন না।

জাকারিয়া স্বপনের ডাকাতি নিয়ে পূর্বে লিখেছিলাম [১, ২]। এমন অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেইসব উল্লেখ করাটায় আলস্য বোধ করছি এবং সেটা হবে শব্দের অপচয়! জাকারিয় স্বপন যে লেখাটা লিখেছেন [৩] সেটায় তিনি উল্লেখ করেছেন,
“...অভ্র/রিদ্মিকের উচিৎ ছিল নিজেদের মতো আগানো। এভাবে অনুমতি ছাড়া অন্যের কী-বোর্ড (যা নিয়ে এতো বিতর্ক হয়েছে) নিয়ে বিপ্লব ঘটানোর আগে আরো চিন্তা করার প্রয়োজন ছিল।...
... হয়তো বিজয় অন্য কোনও কি-বোর্ড থেকে কিছু সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু সরকার তো বিজয়কে নিজস্ব একটি লে-আউট হিসেবে কপিরাইট দিয়েছে। আমরা কেন সেটাকে মানতে চাইছি না?...”
যে মানুষটা নিজেই অন্যের কন্টেন্ট, লেখা-ছবি, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ডাকাতির ব্যবসা করছেন সেই মানুষটাই বলছেন কপিরাইটের কথা! কী শেখাচ্ছেন এই প্রজন্মকে? ভূতের মুখে...!

সূত্র:
১. priyo.com: ডিয়ার, তোমাকে কি ডাকাত বলতে পারি?: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html
২. ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম...: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_5.html 
৩. আবারো বিজয় বিতর্ক, কিছু প্রশ্ন-উত্তর: http://www.priyo.com/blog/2015/03/06/137233.html

Thursday, March 5, 2015

মহামতি মোস্তফা জব্বার যদি ভাষা-সৈনিক হইতেন।

...যদি হইতেন, মোস্তফা জব্বার যদি ভাষা-সৈনিক হইতেন? এই একটি বাক্য লিখিতে হৃদকম্প আসিয়া উপস্থিত হয়। ভাষা-সৈনিকের হালনাগাদ তালিকাটা হাতের নাগালে নাই বিধায় সংশয়টুকু প্রকাশ না-করিয়া পারিলাম না!
যদি...? যদি বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করিতে গিয়া আমাদের জব্বার মহোদয় একটি লাঠির গুঁতাও খাইতেন তাহা হইলে সেই লাঠিখানা তিনি 'বক্কিলা'-র ন্যায় সুইসভল্টে সংরক্ষণ করিয়া রাখিতেন। অতঃপর আমাদের শরীর হইতে নিংড়ানো তৈল সংগ্রহ করিয়া সেই তৈল লাঠিখানায় নিয়ম করিয়া মাখাইতেন। 
 
বা যদি! ভাষার জন্য জব্বার মহামতির শরীর হইতে এক ফোঁটা রক্তও ঝরিত তাহা হইলে সেই এক ফোঁটা রক্তের সহিত সাগরের সমস্ত জল মিশাইয়া আমাদের মানে বঙ্গালদের নিকট গ্যালন-গ্যালন সেই রক্তপানি বেচিয়া কুটি-কুটি ট্যাকাটুকা কামাইয়া শীর্ষ ধনী হইতেন। দূর-দূর, ব্যাটা স্টিভ-গেটস কোন ছার! আর আপেলওয়ালা স্টিভ ফিরিঙ্গিটা? ফিরিঙ্গি বলিয়াই আপেল পাইয়াছে তাও 'এঁটো আপেল' নইলে পচা টমেটোও পাইত না।

ভাবুন দিকি কিঞ্চিৎ চোখ মুদিয়া, এই পোড়া দেশে মহামানব জব্বার না-জন্মাইলে...? নইলে যে দেশের কী সবর্নাশটাই না হইত। ধরুন, মা শব্দটা...কষ্ট হইলে পুরুষমানুষ ইচ্ছা করিলেই পা ছড়াইয়া বসিয়া কাঁদিতে পারে না। টাট্টিখানায় ট্যাপ ছাড়িয়া হাউমাউ করিয়া কাঁদিয়া-কাটিয়া মা-মা বলিয়া বুক ভাসাইতে গিয়াও বিকট বিপর্যয়ের মুখে পড়িত। জব্বার স্যার বিস্তর আঁক কষিয়া দেশের নামে ‘মা’ শব্দটা জন্য ট্যাকসো বসাইতেন। ট্যাঁক খুলিয়া জব্বার মহাশয়কে বিস্তর ট্যাকসো-টংকা দিতে হইত। সেই ট্যাকসো-টংকা পরিশোধ করিতে করিতে কখন 'ম্যাংগো-পাবলিক' ওরফে আমজনতার ধুতি-প্যাটলুন খসিয়া পড়িত তাহার হিসাব কে রাখিবে!

ইতোপূর্বে মহাত্মন জব্বার  অভ্রর সহিত খিটিমিটি করিয়া  বিস্তর সুনাম(!) কামাইয়া ছিলেন। ওইখানে ওই লেখাটায় বেকুবের ন্যায় লিখিয়াছিলাম [১]:
“ ...মোস্তফা জব্বার, আপনি কি জানেন না, পানির স্রোতকে যেমন আটকে রাখা যায় না তেমনি স্বপ্নকেও। ভাষা উম্মুক্ত হবেই, পারলে আপনি আটকান।...”
হালে ‘রিদ্মিক’ লইয়া মহান আত্মা আবারও ক্ষেপিয়া গিয়াছেন। ক্ষেপিবেন না কেন রে, বাপু? আজকালকার ইঁচড়েপাকারা কি করিয়া বুঝিবে তাহার মধুমেহ রোগের একেকটা বটিকার কী অট্টালিকাছোঁয়া মূল্য! তিনি সরকার বাহাদুরের নিকট মাত্র পাঁচ কোটি মুদ্রা চাহিয়া কী অন্যায়টা করিয়াছেন তাহা বোধগম্য হয় না।

অথচ দুষ্টরা তাহাকে লইয়া ইউটিউবে সিনেমা ছাড়িয়া দিয়াছে [২]! তাহাদের দাবী বিজয় সফটওয়্যারের মূল কারিগর নাকি মুনিরুল আবেদিন পাপান্না। রাম-রাম, একি অনাচার- আমরা 'তেব্র প্রতিবাদ' জানাই! বাস এবং হাওয়াই জাহাজের (ফিরিঙ্গিদের এরোপ্লেন) শপথ, আমাদের 'সপটতার বিজ্ঞানী' গেইটলক বাসে ঝুলিতে-ঝুলিতে হাওয়াই জাহাজের জানালা খুলিয়া কাচাপাকা কেশ মেঘে ভাসাইতে-ভাসাইতে কুলকুন্ডলিনী ভঙ্গিতে কাহারো সহায়তা ব্যতিরকেই দ্য গ্রেট জব্বার 'বিজয়' প্রসব করিয়াছেন, অথচ...!
 
অথচ দেকো দিকি কান্ড, 'বিজয়' এবাউটের ফাঁক গলিয়া ইস্টার এগ টাইপের ন্যায় মুনিরুল আবেদিন পাপান্নার একটা ফটো লাগাইয়া দিলেই বুঝি হয়? ছ্যা, এরূপ একখানা না চারখানা ফটো কোনও ফটোগ্রাফারের নিকট গেলে ত্রিশ টাকা পারিশ্রমিকে যে কাহাকেও হস্তগত করাইয়া দিবে। কিংবা ইহা যে ফটোশপের কাজকারবার নহে তাহাই বা কে বলিবে?
 
আরও শোনো কথা, দুর্মুখেরা রটাইল তিনি নাকি বিজয়ের মূল কারিগর মুনিরুল আবেদিন পাপান্নার ঘামের মূল্য পরিশোধ করেন নাই। এ্যাহ, এইটা কী একটা 'বিজয় কি-বোর্ডে'র আবদার! বলিলেই হইল, ঘামের মূল্য কী হে আবার! তিনি যে অন্যের ঘাম ঝরাইয়া শরীরের মস্তো উপকার করাইয়াছেন ইহা বুঝি কাহারও চোখে আটকায় না। মরণ!

এই ‘বঙ্গাল’ জাতিটাই নচ্ছার। আপসোস, ইহারা তাহার ন্যায় রতন চিনিল না। দেশের জন্য উৎসর্গিত তাহার অমেয় জ্ঞান, প্রেমভক্তিতে ইহারা অমেধ্যের যোগ ঘটায়। হা 'বিজয় কি-বোর্ড', এই মনস্তাপে আর প্রাণ রাখিতে ইচ্ছা জাগে না!

সহায়ক সূত্র:
১. আমাদের এই বিজয় মিছিলের পুরোধা, অভ্র: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_29.html
২. ইউটিউব: মোস্তফা জব্বারের প্রতারণা: https://www.youtube.com/watch?v=UrMVnOotPO8
 
 
...
আপডেট ২৬.০৫.২০২৪
স্যার জব্বার এখন সোশ্যাল মিডিয়া এফবিতে আছেন। স্যারের স্ট্যাটাস ওরফে লেখাগুলো দেখলে মনে হয় স্যারের চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক-ভাষাবিদ, বাংলা ভাষার প্রতি অগাধ মমতা এই দেশে আর কারও নাই। হাজার বছরেও তার মত এমন কেউ আসবে এমনটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না! নমুনা:
ভাবা যায়, স্যার মোস্তফা জব্বার কী পরিমাণ বাংলা ভাষার প্রতি নিবেদিত প্রাণ! তিনি বাংলা ব্যতীত অন্য কোন নাম বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন না। স্বয়ং জাকারবার্গ হলেও কুছ পারোয়া নেহি! হতভাগা জাকার, রে পাজি নচ্ছার, চাইনিজ মেয়ে বিবাহ না-করে বাংলা মেয়ে বিবাহ করলে না কেন! তাহলে তো ছারের নেক নজরে থাকতে পারতে হে।
জব্বার ছার ক্ষণে-ক্ষণে বিভিন্ন জনকে বন্ধু তালিকা থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও প্রদান করে থাকেন। এবং বিভিন্ন প্রকারে অন্য ভাষাকে বিশেষ করে এংরাজিকে বাংলা করার চেষ্টাও অব্যহত রাখেন। সাধু-সাধু! আমি নিশ্চিত, স্যারের চোখ এড়িয়ে গেছে নইলে এতদিনে সফটওয়্যারের বাংলা 'নরোমতার' করে ফেলতেন। সেই তার দিয়ে ইয়ে বাঁধা সহজ হতো। বিজয় জব্বারের বাবা বলে কথা!
 এদিকে এ আরেক কান্ড!


ওয়াল্লা, বিজয় জব্বারের মা ওরফে স্যারের ইস্তারি সাহেবা বকুল মোস্তাফা আমাদের জব্বার স্যারকে পাশে বসিয়ে যে কেক কাটলেন সেটা আবার বাংলা ভাষায় না, অন্য ভাষায় লেখা, এংরাজি! এটা দেখে সঙ্গে-সঙ্গে আমার এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে এলো! এদিকে আবার ভয়ে-ভয়েও আছি জব্বার স্যার না-আবার বহিষ্কার করে দেন, ইয়েকে, ইয়ে তালিকা থেকে...!
 
* ঋণ: এই স্ক্রিণশট জনাব, মোস্তাফা জব্বারের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

Monday, March 2, 2015

অভিজিৎ—Rokomari.com—ফারাবী গং ...।

শোনেন, ফারাবি গং, ভুলেও কিন্তু আমার মত দুর্বল মানুষকে মৃত্যুর ভয় দেখাবেন না। কেউ থুত্থুড়ে বুড়া হয়ে গু-মুতে মাখামাখি হয়ে মারা যায়, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে, কেউবা আপনাদের মত কাপুরুষদের হাতে। 
আমার মত কাউকে-কাউকে মেরে ফেলা যায় এ সত্য কিন্তু তার আদর্শ, তাঁর ভাবনাকে মেরে ফেলা যায় না!
এবং সেই ভাবনার রেশ ধরে আমার গলিত শব থেকে জন্ম নেবে, নেবেই অন্য একজন। যে মানুষটা কিন্তু আমার মত দুর্বল হবে না—ওই মানুষটার হাতে থাকবে জ্ঞানের এমন এক তরবারি যেটা দিয়ে সে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে সমস্ত অন্ধকার। এবং, এবং যথারীতি আপনাদের মত, 'পেছন থেকে চাপাতির কোপ-দেয়া', গুয়ে-ভাসা পোকার মত কাপুরুষদেরকেও...।
সম্ভবত ৫/৭ বছর পূর্বে সাদিক আলম অভিজিৎ রায়ের ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’ বইটা আমাকে দিয়েছিলেন। প্রচুর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে লেখা বইটা তখন পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আজ একটা প্রয়োজনে বইটার প্রয়োজন হলে অনেক খুঁজেও যখন পেলাম না তখন নিশ্চিত হলাম এটা কোনও মহান(!) বইচোরের কাজ!

আমার ঢাকা যাওয়া হয় কালেভদ্রে তার উপর বইমেলায় যাওয়া হয় না বেশ ক-বছর। আমার নিজের সাইটেই ‘রকমারি ডট কমের’ হাইপার লিংক ছিল কিন্তু এটা মাথায় আসে অনেক পরে। আরে, এদের মাধ্যমেই তো বই কেনা সম্ভব। এরপর আমার জন্য বিষয়টা সহজ হয়ে গেল। আমি আমার প্রয়োজনীয় বই পাঠাতে বলে দিলেই ওরা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়, বই বুঝে পেয়ে টাকা পরিশোধ করে দিলেই হয়। 'ওয়েটিং ফর গডো-ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’ [১] যে লেখাটা লিখেছিলাম সেই লেখাটার উৎসও রকমারির মাধ্যমেই সংগ্রহ করা বই।

আজ আমি রকমারিকে ফোন করে বললাম ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’ এবং অভিজিৎ রায়ের আরেকটা বই পাঠিয়ে দিতে। এরা আমাকে জানালেন, অভিজিৎ রায়ের বই তাদের লিস্টে নেই এবং কোনও প্রকারেই তাঁর বইগুলো পাঠানো সম্ভব না। কয়েক দফা কথা বলেও আমি এদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পেলাম না, কেন এরা অভিজিৎ রায়ের বই সরিয়ে ফেলেছেন বা পাঠানো সম্ভব না।
আমিও এটাও অনুরোধ করেছিলাম, আপনাদের সাইটের লিস্টে নাই, বেশ, আমাকে অন্তত যোগাড় করে পাঠিয়ে দেন। উত্তর নেগেটিভ!
এবার আমি দুর্দান্ত রাগ চেপে বললাম, ‘কী আশ্চর্য, আপনারা একটা ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেবেন না! এ তো ঘোর অন্যায়! বেশ তাহলে, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরুপ আপনাদের এখানে তালিকায়-থাকা আমার নিজের লেখা যে বইগুলো দেওয়া আছে তা-ও সরিয়ে ফেলুন’।
তারা আমাকে বললেন: ‘আপনি মৌখিক ভাবে বললে তো হবে না, মেইল করে জানান’।
আমি বললাম, মৌখিক ভাবে বললে সমস্যা কোথায়! আমি নিজে আপনাদের ওখান থেকে বই কিনেছি। ওখানে আমার ফোন নাম্বার বিস্তারিত সবই দেওয়া আছে, তাহলে?
তাদের উত্তর, ‘তর্ক বাড়িয়ে লাভ নাই। আপনি মেইল করুন। আপনি তো আর আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন না’।
এরপর আমি তাদেরকে মেইল করলাম। মেইলের লেখাটা এখানে হুবহু তুলে দিচ্ছি। নিজের ঢোল নিজেই পেটানো হয়ে যাবে বলে এখানে আমার বইয়ের নামগুলো উহ্য রাখলাম। অন্য কোনও কারণে না কেমন একটা বিজ্ঞাপন-বিজ্ঞাপন গন্ধ চলে আসবে বিধায়। মেইলটা ছিল এমন:
“এডমিন, রকমারি ডট কম।
সুপ্রিয়,
আমি আপনাদের এখান থেকে প্রয়োজনে বই ক্রয় করে থাকি। কিন্তু আজ লেখক অভিজিৎ রায়ের বই পাঠাবার জন্য অনুরোধ করা হলে আপনাদের ওখান থেকে আমাকে জানানো হয়, এই লেখককের সমস্ত বই আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন এবং কোনও প্রকারেই অভিজিৎ রায়ের বই পাঠানো সম্ভব হবে না।
বেশ ক-বার আপনাদের অফিসের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এর সুরাহা হয়নি! এবং কেন আপনারা উক্ত লেখকের বই সরিয়ে ফেলেছেন বা বিক্রয় করতে আগ্রহী নন তারও কোনও সদুত্তর মেলেনি।
আমি যতটুকু জানি অভিজিত রায়ের বই বিক্রয় করা বাংলাদেশে আইনত নিষিদ্ধ না তাহলে কেন আপনারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এটা আমার মোটেও বোধগম্য হচ্ছে না। আমি যেটা অনুমান করছি সেটা সত্য হয়ে থাকলে, আপনাদের করা উক্ত আচরণ একজন লেখকের প্রতি চরম অপমানের, অশ্রদ্ধার।
আপনাদের এই ঘৃণ্য, অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আপনাদের সাইটে আমার লেখা যে বইগুলো (১. ..., ২. ..., ৩. ..., ৪. ..., ৫. ..., ৬. ..., ৭. ..., ৮. ..., ৯. ..., ১০. ..., ১১. ...) বিক্রি করার জন্য যে তালিকায় রেখেছেন তা সরিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ করি।
ধন্যবাদান্তে- আলী মাহমেদ”
এরা কেন বইগুলো সরিয়ে ফেলেছিলেন বা বিক্রয় করতে চাচ্ছিলেন না তা আমি বুঝতে পারছিলাম না। এফবিতে আমার বন্ধুদের সহায়তা চাওয়ার পর দেখা গেল ‘ফারাবী’ নামের একজন নাকি রকমারি ডট কমের কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছিল এরপর এরা বইগুলো সরিয়ে ফেলে বা বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকে।
এবং এটা নিয়ে গতবছর বইমেলার সময়ও নাকি খুব হইচইও হয়েছিল, এমনকি মানববন্ধনও। কোনও বিচিত্র কারণে বিষয়টা আমারা চোখ এড়িয়ে গেছে বলে বিব্রত, লজ্জিত বোধ করছি। পাঠকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাও করছি।

বাহ, ফারাবীর মত মানুষরা অতি শক্তিশালী তো! এতো শক্তিশালী মানুষদেরকে গুরুত্ব না-দেওয়ার তো কোনও কারণ দেখি না। একটু আগে শুনলাম, ফারাবীকে নাকি ধরা হয়েছে। এখন উপায়? অন্তত ফারাবীর ঠ্যাং দুইটা যেন শিকের বাইরে রাখা হয় যাতে করে আমার মত দুর্বল মানুষেরা গিয়ে ঠ্যাং ধরে কদমবুসি করতে পারে।
অভিজিৎ রায়ের উপর ফারাবী গং ক্ষেপে গেল কেন? তিনি কি এমন কোনও লেখা লিখেছিলেন যা আজগুবি, যার কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই? যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে সেই লেখাটা নিয়ে প্রতিবাদ করলে সমস্যা কোথায় ছিল? লেখার উত্তর কী চাপাতি দিয়ে?

(যদিও আমরা এটা এখনও জানি না অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর জন্য কে বা কারা দায়ী। যেহেতু ফারাবী অভিজিৎ রায়কে হুমকি দিয়ে এসেছে তাই আপাতত আলোচনায় ফারাবীই চলে আসছে।
এবং এরপর চাপাতির কোপে মারা গেলেন ফয়সল আরেফিন দীপন—একে-একে বেশ কিছু ব্লগার...!)
নাকি এরা চাচ্ছে এই গ্রহের সবাই ফারাবী গংদের মত হয়ে যাবে? মোটাদাগে বলতে হয়, তাহলে তো এই গ্রহে সবই আপেল গাছ থাকত কলাগাছ থাকত না। কথাটা সম্ভবত রবিদাদার:
“I love my God because he gives me the freedom to deny him.”
বাপুরে, এই ক্ষমতাটাও তো তাঁরই দেওয়া নইলে তো এই গ্রহে অবিশ্বাসী বা অন্য ধর্মের কেউ থাকত না।!
এই তো সেদিন সবচেয়ে চালু এক দৈনিকে পড়লাম একজন ধর্মীয় শিক্ষক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লিখেছেন, “...তাঁর পায়খানা, প্রস্রাবেও সুগন্ধ হতো”।
এখন এই লেখা নিয়ে কি কেউ কোনও সংশয় প্রকাশ করতে পারবে না, কোনও রেফারেন্স চাইবে না? চাইলেই কী চাপাতি চলবে?

অন্য একটা লেখাও চোখে পড়েছিল। একটা রক্তাক্ত কুকুরের ছবি এবং অভিজিৎ রায়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে বলা হয়েছে লোকটা কুকুরের মত মরেছে। তা লোকটার কি দোষ? তারও ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই লেখায়। তিনি নাকি ঈশ্বরকে নিয়ে মন্দ কথা লিখেছিলেন। ওখানে উল্লেখ-করা অভিজিতের লেখার রেফারেন্সটাও পড়লাম।
তিনি যেটা লিখেছিলেন, ‘ভগ’ মানে যোনি এবং কোত্থেকে কেমন করে এটা এসেছে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অভিজিতের নিজের কোনও মনগড়া ব্যাখ্যা না কিন্তু। তাহলে? বাংলা অভিধানেই তো আছে ‘ভগ’ মানে যোনি, গুহ্যদেশ। বাছা, অভিধানকেও কী চাপাতি দিয়ে কোপানো হবে?

আপডেট, ৪ মার্চ, ২০১৫:
‘রকমারি ডট কম’ আমার পাঠানো মেইলের উত্তর দিয়েছে। হুবহু এখানে দেওয়াটা সমীচীন মনে করছি না, কেবল মূল বক্তব্যটা বলি। তারা এটা নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে আমার কোনও বই বিক্রি করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত-না আমার মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। 

ওয়েল, তারা বারবার এটা আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন, তাদের সমস্যাটা বোঝার জন্য। আমি যে খানিকটা বুঝতে পারছি না এমন না কিন্তু আমার সমস্যাটার কি হবে? একটা মানুষের প্রতি, লেখকের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে এটা জেনেও আমি তো ‘জম্বি’ হয়ে যেতে পারি না। 
এই বিষয়ে আমি আমার মনোভাব আগাম বলে রাখি। আমার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটার কোনও কারণ নাই যতক্ষণ পর্যন্ত-না অভিজিৎ রায়ের বই বিক্রির উপর থেকে এরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।
এই বিষয়ে আমার মনোভাব স্পষ্ট। অভিজিৎ রায়ের বই বিক্রি করার উপর আমাদের প্রচলিত আইনে কোনও প্রকার নিষেধাজ্ঞা নাই বিধায় রকমারি'র এই আচরণ ঘোর অন্যায়। আজ এরা অভিজিতের বেলায় এটা করছেন কাল কোনও উটকো লোক এসে অন্য লেখকের বই সরাতে বললে এরা আনন্দের সঙ্গে সেই কাজটাই করবেন।

মার্টিন সাহেবকে এখানে দাওয়াত করে আনলে খুব একটা দোষ হবে না বলেই মনে করি:
“First they came for the Socialists, and I did not speak out—
Because I was not a Socialist.

Then they came for the Trade Unionists, and I did not speak out—
Because I was not a Trade Unionist.

Then they came for the Jews, and I did not speak out—
Because I was not a Jew.

Then they came for me—and there was no one left to speak for me.
”  
-(Martin niemoller)
সহায়ক সূত্র:
১. ওয়েটিং ফর গডো...:
https://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post.html?m=0
WhatsApp