Friday, April 26, 2013

মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী, পরম করুণাময় যেন আপনাকে করুণা করেন...

সাভারের এই লাশের মিছিল নিয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেছেন, "সরকার আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারই পরিণাম এ গজব।
...তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রানা প্লাজার ৫ম তলায় বুধবার হেফাজত বিরোধী ২৭ এপ্রিল নারী সম্মেলন এবং আমাদের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বানচাল করতে ভবনের মালিক, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ‘বাছাইকৃত’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিল। এর কিছুক্ষণ পরে ‘আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ে’।" [১]

জনাব রুহী, "...যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ‘বাছাইকৃত’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিল। এর কিছুক্ষণ পরে ‘আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ে..."।
'আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ার পর, এতে করে সোহেল রানার মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে তার সন্ত্রাসীদেরও। ঠিক বলেছি, না?

আচ্ছা, আপনার কাছে জানতে চাই, আল্লাহর বিরুদ্ধে কেমন করে যুদ্ধ ঘোষণা করা যায়? প্যারালাল ইউনিভার্স না, ইউনিভার্স না, ন্যানো ডটের সমান পৃথিবী নামের অতি ক্ষুদ্র একটা গোটা গ্রহও না, ন্যানো ডটের চেয়েও অতি অতি ক্ষুদ্র একটা দেশের সরকারপ্রধান কেমন করে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সক্ষমতা-যোগ্যতা রাখে?
অসীম ক্ষমতাধর শক্তির সঙ্গে আপনি তাঁরই সৃষ্টি অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষের তুলনা করার ধৃষ্টতা কোথায় পেলেন? এই ক্ষমতা আপনাকে কে দিল!

অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি-তেলের কারণে, একজন উম্মাদ বুশ এবং তার পোষা কুত্তা ব্লেয়ার এবং তাদের সহযোগী লোভী মানুষের কারণে যখন ইরাকে লক্ষ-লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়; দুগ্ধপোষ্য শিশু ভাঙ্গাচোরা পুতুলের মত মরে পড়ে থাকে তখন আপনার মত লোকেরাই বলেন, এটা তাদের পিতা-মাতার কর্মফল!

যখন সোহেল রানার মত অতি লোভী মানুষের লোভের কারণে সাভারে শত-শত মানুষের মৃত্যু হয়, হাজার-হাজার মানুষ বিকলাঙ্গ হন তখন আপনার মত ইসলাম ধর্মের ধারক-বাহক বলেন, 'এটা আওয়ামিলীগ সরকারের আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফল, গজব'!

যে মানুষগুলো মরে গেছেন, তাঁরা মরে বেঁচে গেছেন কিন্তু যারা আটকে ছিলেন, আছেন। একটু অক্সিজেনের জন্য (ওহো, আপনি তো আবার অক্সিজেন বুঝবেন না, ওটা মুরতাদের ভাষা) আহা, গজব বোঝেন, অক্সিজেন বোঝেন না! বাতাস বোঝেন তো? গুড! এবার জোরে শ্বাস নিন, নিয়েছেন। ঘড়ি ধরে কেবল দুই মিনিট শ্বাস আটকে রাখুন। পেরেছেন রাখতে? ভেরি গুড! কেমন লাগছে, মজা, না?

তো, ওই অভাগা মানুষগুলোর কেবল মনে হচ্ছে, এই পৃথিবীতে এতো বাতাস-এতো বাতাস, একটা ফোঁটা বাতাস, স্রেফ এককিনি বাতাস...। এক ফোঁটা অক্সিজেনের জন্য এরা যে কী অবর্ণনীয়, অসহ্য, অন্য ভুবনের কষ্ট সহ্য করছেন এখন খানিকটা বুঝতে পারছেন কী!
এই বাতাসের অভাবের মধ্যে যে শিশুটি ভূমিষ্ট হয়েছে [২] সে শিশুটি এক বিন্দু বাতাসের জন্য মুখ হাঁ করে রেখেছিল। ছোট্ট বাবুটার অপরিণত ফুসফুসে কতটুকু আর বাতাসের প্রয়োজন, বলুন? আপনি গজব-গজব বলে যে বাতাসের অপচয় করেছেন তারচেও অনেক কম!

এই শিশুগুলোর চোখে চোখ রাখার ইচ্ছা স্বয়ং পরম করুণাময়ের আছে কিনা কে জানে অথচ তার অতি তুচ্ছ সৃষ্টি আপনি, অন্যের অন্যায়ের কথা বলে, 'গজবের' নামে এই শিশুগুলোর চোখ গেলে দিতে চাইছেন!

জনাব রুহী, এই নিরপরাধ, অসহায় মানুষ-বাচ্চাগুলোর অভিশাপ আপনাকে তাড়া করবে, করবেই, করতেই থাকবে...। এক ফোঁটা বাতাসের জন্য আপনার ফুসফুস যখন আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, মনে হবে গরম শিশা, ফুসফুসে আগুন ধরে গেছে; আধজবাই পশুর মত ছটফট করবেন, যখন আপনার শ্বাসটা আটকে থাকবে তখন পরম করুণাময় যেন আপনাকে করুণা করেন...।


সহায়ক সূত্র:
১. গজব: http://www.banglamail24.com/index.php?ref=ZGV0YWlscy0yMDEzXzA0XzI1LTEwNS0zNDk1OA%3D%3D
২. নবজাতক: http://banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=8c6b50885da7101bab5fff5ed86987d7&nttl=25042013191705

No comments: