Monday, June 17, 2013

ভাল দাম পেলে...!

পূর্বেও লিখেছিলাম, আমি যে বাড়িটায় থাকি এটা ব্রিটিশদের করা। এই বুড়া বাড়িটার বয়স ১০০ ছুঁইছুঁই! অনেকে বলে বেড়ান, এটা ভূতের বাড়ি। বলুক, তাতে আমার কী! ভূত তার মত থাকে, আমি আমার মত থাকি, সমস্যা হয় না, চলে যায়...।

কিন্তু এটা অনেকে জানেন না যে বাড়িটা অভিশপ্ত। এ আটকে ফেলেছে আমাকে! সবার হাতে যখন একটা করে ক্যারিয়ার তখন আমার হাতে টিফিন-ক্যারিয়ার! এর পেছনে এই অভিশপ্ত বাড়িটা যে কলকাঠি নাড়েনি এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না! তবুও এই বাড়িটা আমি এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর বাড়িটার সঙ্গেও অদলবদল করার গোপন কোনো ইচ্ছা পোষণ করি না!

অনেকের হয়তো মনে আছে মাত্র কয়েক কিলোমিটার রাস্তা ভারত করে দিয়েছিল বলে, পেছনে তিন চাপড় মেরে, আমরা আমাদের সমস্ত নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা করে দিয়েছিলাম যেন ভারত তার মালসামান নিয়ে যেতে পারে। লক্ষ-লক্ষ মানুষের বারোটা বাজিয়ে, জীব-বৈচিত্রের তেরোটা বাজিয়ে...! [১]
আমরা খুবই-ই অমায়িক গুখোর! আমরা অল্প কয়টা টাকা পেলে অবলীলায় মাকেও বিক্রি করে দেই- মার কিডনি, ফুসফুস, লিভার, সব-সব...।

হালে এডিবি এবং ভারত মিলে নতুন একটা ঢং শুরু করেছে। ডাবল রেললাইন হবে, এডিবি টাকা দেবে। আবার ভারতও টাকা দেবে আরেকটা রেললাইন বসাবার জন্য, ওটায় কেবল ভারতের গাড়িই চলবে। ভাবখানা এমন, যেই টাকা দেবে রেলবিভাগ একটা করে রেললাইন বসিয়ে দেবে!
শ্লা, আমার অনেক টাকা থাকলে রেলওয়েকে আরেকটা লাইন বসাবার জন্য টাকা দিতাম। একটা রেলগাড়ি নিয়ে সকাল-সকাল বাথরুম সারতে বেরিয়ে পড়তাম। অনেকের কাছে আইডিয়াটা ভাল নাও লাগতে পারে কিন্তু কী করা, শখ বলে কথা! টাকা নাই বলে শখ চেপে আছি আর কী...।

এখন আমাদের ধর্মবাপ এডিবি এবং আমাদের দাদাভাই ভারতের জন্য রেললাইন পাততে হবে এই দোহাই দিয়ে, বাংলাদেশ সরকার মাইলের-পর-মাইল জুড়ে, রেললাইনের দুপাশে শত-শত ফুট জায়গা অধিগ্রহন করার কাজ শুরু করেছে। এতে করে নিচিহ্ন হবে শত-শত বছর পুরনো হাট-বাজার, হাজার বছরের পুরনো মন্দির, শতবর্ষ পুরনো স্থাপনা।
বাট, হুজ কেয়ার...!

কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কী চান না চট্টগ্রাম-ঢাকা রেললাইন হোক, যাত্রার সময়টা কমে আসুক? অবশ্যই চাই, চাইব না কেন? কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক জায়গায় রেলের মূল লাইনের পাশেই আরও দুইটা লাইন থাকার পরও এরা শত-শত ফুট জায়গা নিচ্ছে যেটার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। অন্য পাশ দিয়ে আবার আরও একটা লাইন আছে...।
তো, এই তিনটা লাইন সংস্কার করে নিলেই নতুন করে আর লাইনের প্রয়োজনই হয় না অনেক জায়গায়।
কিন্তু এডিবি নামের আব্বা বলেছে, ব্যস। ভারত নামের দাদারা বলেছে, ব্যস, আর যায় কোথায়, পেতে দাও...। টাকার টাকা পাইলাম, রেললাইনের রেললাইনও পাইলাম...মজার বিষয়টা এখানে অহেতুক তাই আর উল্লেখ করলাম না।

তারপরও জনস্বার্থে আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গা দিতে রাজি তবে অহেতুক না। রেলের দুপাশেই অন্তত ৩৫ থেকে শত ফুট রেলের নিজস্ব জায়গা আছে। যথার্থ  প্রয়োজন মনে করলে আমরা আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে আরও না-হয় পঁচিশ-ত্রিশ ফুট জায়গা ছেড়ে দেব কিন্তু শত ফুট কেন!
এডিবি বলছে ব্রিটিশ আমলে এতো এতো জমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। ওরে ব্যাটা তস্কর, তোদের কাছে কী এই আঁক কষা নাই রে যে বিট্রিশ আমলে বাংলাদেশের এই আয়তনেই লোকসংখ্যা কত ছিল? তর্কের খাতিরে না-হয় ধরেই নিলুম, ধরেবেঁধে এক কোটি। এখন বাংলাদেশের লোকসংখ্যা কত রে? ন্যাকা, ব্যাটা তোমরা জানো না এটা, আমাদের এই দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে লোকসংখ্যার ঘণত্ব কত? সারা দেশে কেবল রেললাইন পাতলে লোকজন যাবেটা কোথায়, সাগরে? নাকি শ্লা তোমরা তোমাদের দেশে আমাদের দলে দলে যাওয়ার জন্য ভিসা দেবে?

এরা টাকার লোভ দেখায়। আমি এদের একজন উঁচুপদের কর্মকর্তাকে বলছিলাম, আপনারা যে বারবার বলছেন, ক্ষতিপূরণ দেবেন, নতুন করে সব করে দেবেন। আমার শতবর্ষের পুরনো ব্রিটিশদের স্থাপনা নষ্ট করে নতুন করে ঝা-চকচকে কী ছাতাফাতা বানিয়ে দেবেন আমাকে, বা...?
আরে, এরা তো হচ্ছে টবের গাছ, এরা কখনই বুঝবে না যে আমরা হচ্ছি, নারকেল গাছ! আমাদের শেকড় ছড়িয়ে থাকে অনেক দূরে। আমরা তো তোদের মত না রে, তোদের মত ফেলে দিয়ে আসি না...। আমরা বাপ-দাদাকে বুকে জাপটে ধরে আগলে ধরে রাখি বছরের-পর বছর ধরে...।


সহায়ক সূত্র:
১. তিতাস...: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
২. কালের কন্ঠ: http://www.kalerkantho.com/print_edition/index.php?view=details&type=gold&data=news&p-ub_no=1275&cat_id=1&menu_id=56&news_type_id=1&index=17#.Ub2ZqNhCLFw

No comments: