Friday, November 13, 2009

ডন কুইক্সোট, অন দ্য ওয়ে...

মিগুয়েল ডি সারভান্তিস আমার প্রিয় লেখকদের একজন। এই লেখায় কেবল তাঁর লেখা 'ডন কুইক্সোট' বইটির চরিত্রগুলোর নাম ব্যবহার করেছি (Cervantes, Don Quixote)। আশা করছি, সারভান্তিস সাহেব রে রে করে তেড়ে আসবেন না। 
আপনারা সারভান্তিস সাহেবের 'ডন কুইক্সোট'-এর সঙ্গে পরিচিত আছেন। 'খোদা না খাস্তা’ কারও পরিচয় না-থাকলে চরিত্রগুলো খানিকটা শেয়ার করি:
১. ডন কুইক্সোট অভ লা মানচা। (তাঁর ধারণা, তাঁর মত বীর এই গ্রহে আর নাই। সমকক্ষ কেউ জন্মাবে এও বিশ্বাস করেন না!)।
২. সাংকো পানযা। (বিচিত্র কারণে ডনকে সে খুব পছন্দ করে। তাঁর  সঙ্গে ঘুরঘুর করে। আমাদের ভাষায় চামচা)।
৩. ডালসিনিয়া দেল টোবাসো। (ডন কুইক্সোট অভ লা মানচার কাল্পনিক প্রেমিকা। ডনের ধারণা, টোবাসোর মত রূপসি এই গ্রহে দূরের কথা, অন্য গ্রহেও নাই। লজ্জার মাথা খেয়ে বলি, আমারও একটা চোখ আছে টোবাসোর প্রতি। কে জানে, এ জন্য হয়তো ডনের সঙ্গে আমাকে ডুয়েল লড়তে হতে পারে!)
৪. রোজিন্যান্ট। (ঘোড়া। ডনের একমাত্র বাহন। ডনের ধারণা, রোজিন্যান্টের মত তেজি ঘোড়ার কাছে ফেরারি গাড়ি কিছুই না। জনান্তিকে বলে রাখি, রোজিন্যান্ট-এর প্রতি সম্মান রেখেই, রোজিন্যান্ট 'ছাল উঠা কুত্তা বাঘা তার নাম'। রোজিন্যান্টের চেহারা ছবি, মাশাল্লা! এই হাড় জিরজিরে ঘোড়াকে গাধা অনায়াসে পেছনে ফেলবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই!)
৫. ড্যাপল। (গাধা। সাংকো পানযার বাহন। আমার সঙ্গে খানিকটা হৃদ্যতা আছে বলে আমার শত্রুরা বলে বেড়ায়, আমার সঙ্গে নাকি কিসব মিল আছে। এক্ষণ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করি না।)
 

'ডন কুইক্সোট অভ লা মানচা' মরেও আরামে নাই! এখনও তাঁকে বিভিন্ন রিকোয়েস্ট রাখতে হয়। অনুরোধে মৃত্যু থেকে ফিরে আবারও জীবনকেও গিলতে হয়! হায় রে, জীবন-বিষ!
বাংলাদেশের এক আবর্জনা লেখক তাঁকে নিয়ে দু-কলম ছাতাফাতা লিখে লম্বা একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছে। ওই আবর্জনা লেখক মানুষটা আবার  ড্যাপলের দোস্ত মানুষ! মানুষটা গোঁ ধরে বসে আছে, ডনকে
নাকি হনুমানজিকে খুঁজে দিতে হবে।
 

এদিকে আবার বাংলাদেশ যারা চালাচ্ছেন তারাও ধরে বসেছেন। তারা চাচ্ছেন, জিরো ডিগ্রির দ্রাঘিমারেখাটা গেছে গ্রিনিচের উপর দিয়ে। এর পরের যে ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাটি গেছে বাংলাদেশের উপর দিয়ে তা খানিকটা সরিয়ে দিতে হবে। এতে অনায়াসে গ্রিনিচের সঙ্গে সময়ের পার্থক্যটা ৬ ঘন্টার স্থলে ৭ ঘন্টা করে দেয়া যাবে। ২৪ ঘন্টার সময় এখন আর ৬ ঘন্টা করে ভাগ হবে না। ২৪ ঘন্টায় দিনের বদলে ২৫ ঘন্টায় দিন হবে! গোটা পৃথিবী একদিকে বঙ্গালদেশ একদিকে!
(ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিষয়টা পানির মত বুঝিয়ে দিয়েছেন কিন্তু এই পানি খাওয়ার ক্ষমতা এঁদের নাই)
 

ডন কুইক্সোট পাঠ খড়ি টাইপের পাটকিলে শরীরটা নিয়ে হুড়মুড় করে উঠে বসলেন। সাংকো পানযাকে গাট্টা মেরে বললেন, কলিং-কলিং, ইমারজেন্সি। ডু য়্যু হিয়া মী?
সাংকো পানযা তার বিপুল দেহ নিয়ে গড়াগড়ি করতে করতে, ভুঁড়ি কাঁপাতে কাঁপাতে শাপ-শাপান্ত করছে, আজ কী আমবস্যা-পূর্নিমা, মানুষটার মাথা কী আবারও আউলা-ঝাউলা হয়ে গেল! যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে! 

সাংকো চেহারা বিকৃত করে বলল, ইয়েস-ইয়েস-ইয়েস, কপি, সার।
ডন হড়বড় করে বললেন, রেডি, স্টেডি, গো-ও। আমার তরবারি ধো-ও।
 

ডনের বক্তব্য অন্যদের বুঝতে সমস্যা হলেও সাংকোর হয় না। ডন তার তরবারি ধুতে বলছেন। ডনের ধারণা, পূর্বের যুদ্ধে তিনি যে রক্তপাত করেছেন, তা ধুয়ে সাফ-সুতরো করা আবশ্যক! সাংকো বিড়বিড় করল, ছাই। রক্তপাত, না রেত:পাত! 
যথারীতি ডনের তরবারি ধুয়ে-মুছে সাফ করা হলো। এই মরচে-ধরা তরবারি দিয়ে বড়জোর মুরগীর ডিম দু-ভাগ হতে পারে! বর্শাটা দিয়ে বেলুন ফুটো করা যাবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই!

ডন যুদ্ধের পোশাক চড়িয়ে ঘোড়া রেজিন্যান্টে চাপলেন। চাপলেন মানে সাংকো পাঁজাকোলা করে ঘোড়ায় উঠিয়ে দিল। ডনকে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে ভাল করে আটকেও দিল। ডনের আবার বেশি জোশ চলে এলে তিনি ঘোড়ার পিঠে থাকতে পারেন না। ঘোড়া এবং তাঁর মধ্যে দুরত্ব ক্রমশ বেড়ে চলে!

মুখ একহাত লম্বা করে সাংকো তার গাধা ড্যাপলে উঠে ডনকে অভিসম্পাত দিতে দিতে পিছু নিল। ডন এবার তার ঘোড়া রোজিন্যান্টকে নিয়ে পড়লেন, স্পিড-স্পিড, ফুল স্পিড এহেড।

ডন এই দেশের মেয়েদের দেখেও না-দেখার ভান করছেন। তাঁর সমস্ত মন ছেয়ে আছে তাঁর প্রেমিকা ডালসিনিয়া দেল টোবাসো। ছ্যাহ, এরা টোবাসোর কাপড়ের যোগ্যও না! এরা তো এখনও কাপড় পরতেই শেখেনি। আরি, দরকার হলে টি-শার্ট পর, কেউ তো না করছে না। কিন্তু গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখার মানে কী! আবার দেখো দিকি কান্ড, কেমন একপাশে ওড়না ফেলে রেখেছে! এইসব কী, একটা ইয়ে কী পাবলিক প্রপার্টি নাকি?
 

ডন মেজাজ খারাপ। একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এইসব কী বা...?
লোকটা অবজ্ঞাভরে বলল, বা..., তুলব তোর ছাল, এইবার তুই গেলি, নাকি হাতে নেব একটা চেলি, পেছনে দেব এক ঘা; তখন দেখিস, কাঁদবি কেমন। হা হা হা।
ডন কুইক্সোট হুংকার দিলেন, কুতুয়া, মারদুদ, তোর মুন্ডু দিয়ে খেলব আমি কুতকুত। জানস, আমি কে? এককোপে কল্লা নামায়া ফেলব।
লোকটা গভীর আগ্রহে ডনের তরবারির ধার পরীক্ষা করে বলল, এইটা দিয়া আমার বা...ও কাটব না!
 

সাংকো ডনকে আড়াল করে দু-হাত জোড় করে মিনতি ভরা চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে থেমে থেমে বলল, সার, ডন, এ আপনাকে চিনতে পারেনি। মাফ কইরা দেন।
ডন মাথা দুলিয়ে বললেন, যাও, মাফ কইরা দিলাম। আচ্ছা শোন, তোমাদের নাকি খুব সমস্যা যাইতেছে।
লোকটা অবাক হয়ে বলল, কি সমস্যা?
তোমরা নাকি সূর্যের সঙ্গে কি গন্ডগোল লাগাইছ! শীতকালে সূর্যরে বলতাছ ১ ঘন্টা পরে মুখ দেখাইতে?
লোকটা ঠোঁট উল্টে বলল, আরে না, ব্যাপার না। এইটা কোন সমস্যা না। শীতকালে ২ মাস রোজা রাখা ডিক্লার হইতাছে। আমরা সেহরি খায়া আর ঘুমাব না, কাজে বাইর হয়া পড়ব।
ডন মন খারাপ করে বললেন, তাইলে তোমাদের কোন সমস্যা হইতাছে না? সত্য বলতাছ?
লোকটা এবার চিড়বিড় করে বলল, সত্য না মিছা, আপনের কপালে পিছা।
ডনের চিৎকারে একটা চড়ুই উড়ে গেল, খামোশ বেল্লিক, হ্যান্ডস আপ বাট লেগ ডাউন। আমি এক থেকে একশ পর্যন্ত গুনব। মৃত্যুর জন্য রেডি হ, বদমাশ। রেডি স্টেডি গো।
সাংকো ডনকে সরিয়ে নিতে নিতে বিড়বিড় করছে, রেডি স্টেডি গো, মানুষটা একই ডায়লগ সব জায়গায় বলে বেড়ায় কেন, কে জানে!
ডন থেকে থেকে গা দোলাচ্ছেন। সাংকো, কাজটা কী হইল এইটা, হুদাহুদি আমারে খবর দিল। এদের তো দেখি কোন সমস্যাই নাই! আবর্জনা লেখক আমারে ফাঁকি দিল। ব্যাটারে পাইলেই হয়, এককোপে কল্লা...।