Wednesday, October 28, 2009

পত্রিকা অফিসে অন্তত একটা দারোয়ানের চাকরি!

প্রথম শ্রেণীর (এদের দাবী মোতাবেক) একটা পত্রিকায়, সম্পাদকীয়তে একজনের কানসাট নিয়ে একটি কবিতা ছাপা হয়েছিল। ১০১ লাইনের সুদীর্ঘ কবিতা।
কবিতার মান আমার আলোচ্য বিষয় না বা কানসাট নিয়ে ওঁর আবেগ! আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, সম্পাদকীয়তে ১০১ লাইনের কবিতা ছাপানো এবং ওই পত্রিকার চাকুরে ওই কবি ব্যতীত এ দেশে অন্য আর কোন কবি খুঁজে না-পাওয়া!

লেখালেখি করেন এমন কারও, পত্রিকায় চাকরি করা অপার সৌভাগ্যের। বিভিন্ন ধরনের এক্সপিরিমেন্ট করা যায়, আমরা গিনিপিগরা আছি না। অমিতাভের সেই বিখ্যাত বিজ্ঞাপনের মতো, সাব কুছ হাজাম কারনা পারতা হ্যায় (অখাদ্য-কুখাদ্য সবকিছুই হজম করতে হয়)!

পত্রিকা অফিসে চাকরি করলে কত্তো-কত্তো সুবিধা! নিজের পত্রিকায়, বইমেলার সময়, পছন্দসই স্পেসে, নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই বিভিন্ন প্রকাশনীর নাম দিয়ে ছাপিয়ে দেয়া যায়। বইপত্রের আলোচনায় নিজের বইয়ের নাম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আনা যায়, পেস্টিংয়ের শেষ পর্যায়ে অন্য বইয়ের প্রচ্ছদ বদলিয়ে নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ ঢুকিয়ে দেয়া যায়।
নিজের নাটকের কথা কোন এক সূত্র ধরে (ধরা যাক,পরিচালকের রেফারেন্স ধরে, অথবা এই নাটকের কোন চরিত্রের মুখ দিয়ে ইত্যাদি, ইত্যাদি)। আলোচনায় নিয়ে আসা যায়। আমেরিকা থেকে হাগু করে এসে, সদ্য আমেরিকা ফেরত এই টাইটেল জুড়ে দেয়া যায়।
যায়-যায়-যায়-যায়-যায়, কত্তো যায়!

আসলে পত্রিকা অফিসে চাকরি বড়ো লোভনীয়। একজন মানুষ যে সুযোগ-লিঙ্ক খুঁজে বেড়ান আজীবন, পত্রিকা অফিসে চাকরির সুবাদে এসব সুযোগ আপনা আপনিই এসে ধরা দেয়। সুযোগটা অবিকল একটেলের সেই বিজ্ঞাপনের মতো ন্যাকা গলায় বলবে, আমাকে নেবে? 

উরি, নেব না মানে? নিয়ে নাম ফাটিয়ে চাকনাচুর করা হবে!

কী মজা, পত্রিকা অফিসে চাকুরিরত লেখক কিভাবে ডিম ভাজছেন এটা কোন এক ইলেকট্রনিক মিডিয়া দেখাবে। ভাগ্যিস, উনি পানি গরম করে দেখাননি!

ওই লেখক কিভাবে ফ্ল্যাট সাজিয়েছেন তার হা-বিতং কাহিনি। আমাদেরকে আরও জানানো হবে, ওনার বউ বৈদেশ থেকে ফিরে এসে চিল-চিৎকার দিয়ে কিভাবে বলবেন, এটা কি সাজিয়েছ, এটা কী চাইনিজ রেস্টুরেন্ট!
অথবা লেখক কোন দোকানের ফিতা কাটবেন, এটা কী ছাপা না হয়ে যায়!

আমার না, বুঝলেন, পত্রিকা অফিসে একটা চাকুরির বড়ো প্রয়োজন, হউক না দারোয়ানের চাকরি! অনেক ভেবে দেখলাম, এ ব্যতীত গতি নাই, বাহে, গতি নাই! 

কে জানে, কোন এক দিন হয়তো ওই 'পরতিকায়' দু-লাইনের আমার একটা কবিতা (মতান্তরে ছড়া) ছাপা হয়ে যাবে, অথবা চার লাইনের গদ্য (যেটা দিয়ে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করে)!

‘সবাই যখন পত্রিকা অফিসের ছাদে উড়ায় পলিথিনের ঘুড়ি,
তখন আমি দারোয়ানের টুলে বসে চিবাই ন্যাতানো মুড়ি।'


*বইয়ের বিজ্ঞাপন কেমন হয় এটা বোঝাবার জন্য লিংকটা ব্যবহার করলাম। কেউ কারও সঙ্গে বা এই পোস্টের সঙ্গে কোন মিল খুঁজে পেলে তা হবে নিছক কাকতালীয়।