Tuesday, June 30, 2009

হোজ্জা এস্টাইল(!)

আচ্ছা বলুন তো, গাধার পিঠে চড়ে কেউ কোথাও রওয়ানা হলে আগে কে পৌঁছবে? আহা, সিম্পল উত্তর, গাধা। গাধার মাথাটাই তো সামনে থাকবে, নাকি আমার মাথা?

হোজ্জা সাহেবের গাধাও আগে পৌঁছত, অন্য কারণে। তিনি নিজস্ব স্টাইলে চলতেন, নিজের বুদ্ধিতে। গাধার পিঠে বসতেন সিংহাসনে বসার ভঙ্গিতে, জাঁক করে! ফল যা হওয়ার তাই হতো। কোথাও রওয়ানা হলে গাধা আগে পৌঁছত, সিংহাসনচ্যুত হয়ে কুঁইকুই করে হোজ্জা সাহেব অনেক, অনেক পরে।
এই তথ্য লিপিবদ্ধাকারে কোথাও পাওয়া যাবে না। কারণ যে ভদ্রলোক প্রত্যক্ষদর্শী তিনি হোজ্জার গাধার নিচে পড়ে অক্কা যান। লিখে জানিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। আহা বেচারা, মরে আর বাঁচেননি!

আমাদের সরকার বাহাদুর সম্ভবত হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' অনুসরণ করেন। 'ডে লাই সেভিং' নামের যে জিনিস এরা চালু করেছেন এর যথার্থতা নিয়ে কুতর্ক করার অবকাশ এখন আর নাই। চালু হয়ে গেলে এটা থামাবার যো কার? যে দেশের অধিকাংশ মানুষ ছাতার আড়ালে টাট্টি করেন, তাঁদের এই জিনিস হজম করতে সময় লাগবে বৈকি!
অবশ্য আমজনতার যেটা লাভ হয়েছে তা হচ্ছে লোডসেডিং আরও তীব্র হয়েছে!

বিচিত্রসব ঘটনা ঘটেছে। সিলেটের একজন ১৯ জুন রাত ১১টা থেকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সমস্ত রাত ঠায় বসেছিলেন কখন ঘড়ির কাঁটা নিজে নিজে সরবে।
আরেকজন জনে জনে জিজ্ঞেস করছিলেন, এক ঘন্টা পূর্বে সূর্যকে উঠতে বাধ্য করা হবে কেমন করে?

অনেক শিক্ষিত মানুষ ট্রেন মিস করেছেন। কেউ ইসকুলে গিয়ে দেখেছেন, তালা ঝুলছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি।

সরকার বাহাদুর ২২ জুন তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে জানিয়েছেন, "দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় আগের পাঠদান সময়সূচি বর্তমান ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবে।"

এটা ১৯ জুনের পূর্ব থেকে প্রচার করলে, যে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা এগিয়ে দেয়ার পর, ট্রেনের সময়সূচি, অফিস, স্কুল-কলেজ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পূর্বের সময়েই থাকবে। তাহলে লোকজন 'এপ্রিলফুল'-এর ন্যায় 'জুনফুল' হতো না। কিন্ডার গার্টেন পড়ুয়া ছোট-ছোট শিশুদেরকে তাদের বাবা-মার হতভম্ব মুখ সকাল-সকাল দেখতে হতো না।
সরকার বাহাদুর যাও জানালেন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ২২ জুন। ২২ জুন না জানালেও ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না। যারা হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' মেনে চলেন তাদের এতো কিছু জানাবার দায় কী!

No comments: