Saturday, April 18, 2009

বেলের শরবত বনাম কর্মফল!

­স্বামী বিবেকানন্দের কাছে সন্ন্যাসীর মত দেখতে একজন মানুষ আসলেন। সন্ন্যাসী টাইপের মানুষটা একটা স্বাস্থ্যবতী গাভীর ছবি বের করে স্বামী বিবেকানন্দের হাতে দিয়ে বললেন, আমি একজন গোরক্ষা সভার একজন প্রচারক।

স্বামী বিবেকানন্দ খুব মনোযোগ দিয়ে ছবিটা দেখে বললেন, আপনার সভার কাজটা কি একটু বুঝিয়ে বলুন তো?
সন্ন্যাসী: আমরা কসাইদের হাত থেকে গো-মাতাদের রক্ষা করি।
স্বামী: কিন্তু যেসব গরু বুড়া হয়ে যাবে এদের গতি কী- চাষী বা গোয়ালার কাছে তো এদের কোন মূল্য নাই!
সন্ন্যাসী: এইসব গরুদের জন্য আমরা আশ্রম করে সেবা করব।
স্বামী: উত্তম! তা এখন তো দেশে মহা দুর্ভিক্ষ, নয় লক্ষ লোক মারা গেছে। এই বিষয়ে আপনাদের চিন্তা ভাবনা কি?
সন্ন্যাসী: এসব বিষয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। গো-মাতা রক্ষা না পেলে হিন্দু ধর্ম রসাতলে যাবে!
স্বামী: কী আশ্চর্য, এত প্রাণ যাচ্ছে আর আপনি বলছেন-, আশ্চর্য! যাই হোক, অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও গো-মাতা রক্ষা কাজ বাদ দিয়ে এদিকে একটু সময় দিলে হয় না?
সন্ন্যাসী: গো-মাতার কথা ভুলে যাব! মশায়, আপনি বেশ লোক যা হোক! মানুষ মরছে তো আমরা কি করব? মানুষের পাপেই তো দুর্ভিক্ষ। যেমন কর্ম তেমন ফল, মানুষ মরে তার কর্মফলে...।

প্রসঙ্গটা এখানে দেয়ার শানে-নযুল হচ্ছে: একজন এফসিপিএস ডাক্তারের সঙ্গে মৃদু বাদানুবাদ হল আমার। ডাক্তার সাহেবের বক্তব্য, সমস্ত কিছুর জন্য দায়ি তার কর্মফল।
আমার মেমরি গোল্ড-ফীসের [১] মত। প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় কথাটা কখনই আমি খুঁজে পাই না। বলার সময় শব্দের পিছু ধাওয়া করতে হয়, শব্দগুলো কেবল ফাঁকি দেয় আমায়! প্রায়শ কিচেন, চিকেন গুলিয়ে ফেলি, পাক খেয়ে গুলিয়ে যায় দরজা, জরদা।
­এ নিয়ে খুব হাসাহাসি হয়, কী আর করা, কপালের ফের! ­কিন্তু এইবার মেমরি তার দায়িত্ব পালনে পিছপা হল না।
আমি বিমলানন্দে বললাম, বোমা মেরে ফিলিস্তানি শিশুদের যে মেরে ফেলা হল, এই শিশুদের কী অপরাধ?
ডাক্তার সাহেব খানিকটা থমকালেন। সামলে নিয়ে বললেন, তাদের বাবারা নিশ্চয়ই কোন না কোন অন্যায় [২] করেছেন
আমি হতভম্ব হয়ে মানুষটা দিকে তাকিয়ে রইলাম। এমন পড়াশোনা জানা মানুষটা এইসব কী বলছে! আমি দেখলাম এর সঙ্গে তর্ক বৃথা। এর সঙ্গে বাদানুবাদ করার শিক্ষা এখনও অর্জন করতে পারিনি!

ভলতেয়ারের স্পষ্ট কথা, 'কোনো দেশের নিয়তি নির্ভর করে সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কতটুকু পেটের পীড়ায় আক্রান্ত তার উপর'
তাঁর কথা ধার করে আমি বলি, এ গ্রহের নিয়তি নির্ভর করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কতটুকু পেটের পীড়ায় আক্রান্ত তার উপর। তাঁর বাহ্যে ত্যাগ করা, কোষ্ঠশুদ্ধির উপর। ঠিকঠাক মত ডেলিভারি দিচ্ছেন কিনা তার উপর! কোষ্ঠ নিয়মিত পরিষ্কার থাকলে ভাবনার কিছু নেই। নইলে এর জন্য বেলের শরবতের বিকল্প নাই।
সকাল সকাল হোয়াইট হাউজের বাটলার ঝলমলে মুখে বলবে, খানা লাগানো হয়েছে, মি. প্রেসিডেন্ট। তার আগে ­বেলের সরবতে চুমুক দিন।
 

যীশু, এ গ্রহের মঙ্গল করুন, আমেন। জয় হো, জয় হো বেলের শরবত! জয় হো, জয় হো কর্মফল!

*ছবিস্বত্ব: আলী মাহমেদ (সংরক্ষিত)


সহায়ক সূত্র:
১. মেমরি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post.html
২. অন্যায়...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html

No comments: