Saturday, February 21, 2009

দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে?

দাউদ হায়দার নামের এই দেশের এক অভাগা সন্তানের আজ জন্মদিন। এই দেশের মাটি কপালে মাখার অধিকার নাই যে মানুষটার, তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নিয়ম আছে কী, জানি না!

কে কাকে মনে করিয়ে দেবে, একজন লেখককে যে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। লেখক কেবল তাঁর নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তারপরেও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি শব্দের ছুঁরি মেরে মহা মহাঅন্যায় করেছেন। বেশ তো, আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিন না, আটকাচ্ছে কে? খোদার কসম, আমরা কিচ্ছু বলব না।
হায়, এই দেশে মানুষকে কুপিয়ে ১৪৯ টুকরা করে ফেলা কসাই থাকতে পারবে, চোর-চোট্টা, বেশ্যার দালাল থাকতে পারবে, কুত্তা থাকবে পারবে, দরদর করে ঘামতে থাকা শুয়োর থাকলে দোষ নেই- কেবল একজন কবি থাকতে পারবে না। বাহ!

২১ ফেব্রুয়ারী কবির জন্মদিন। আজ দেশে কী লম্বা লম্বা বাতচিত, একুশের চেতনা ধারণ করতে করতে আমাদের একেকজনের শিরদাঁড়া বাঁকা হয়ে আসে। বইমেলার ধুলায় একটা কুত্তা গড়াগড়ি দিতে পারবে কিন্তু কবি এই মেলার এককিনি ধুলা গায়ে মাখতে পারবেন না! আহারে, আমার সোনার বাংলা অআমি তোমায় ভালবাসি!
৩৫ বছর আগে একটা বিতর্কিত(!) কবিতা লেখার অপরাধে এই মানুষটা (তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০) এই গ্রহ বা গ্রহের বাইরে যে-কোন জায়গায় যেতে পারবেন, কেবল তাঁর জন্মভূমি ব্যতীত। হায় জন্মভূমি, স্বর্গ কোন ছার! মানুষটার বুক ভেঙ্গে আসে না এমন কবিতা লিখতে,
"...
এখনও আশায় আছি
যদি কেউ ফেরায় সস্নেহে, পিতৃদেশে।"

বা এই লেখাটি,

"কেটে গেল তিরিশ বছর
এখনো নির্বাসনে।
সে যে ছেড়েছি দেশ
প্রথম যৌবনে
ভুলেই গিয়েছি মাটির গন্ধ
জলের জীবন।"

হায় অভাগা জন্মভূমি, কেমন অভাগা তুমি, লাজে মরে যাই তোমায় দেখে, কেমন করে পারলে তোমার সন্তানকে ফেলে দিতে! ভুল বললাম, তার চেয়েও বিভত্স নিষ্ঠুরতা। এরচেয়ে ফাঁসিও অনেক সহনীয় ছিল বলে আমি মনে করি! অন্তত আমি হলে বেছে নিতাম।
এই কবিকে পর্যটকের মত ক-দিনের জন্য আসার অনুমতিটুকুও দিতে কার্পন্য এই সোনার দেশের। আহা, সোনার দেশ, এই দেশের সবটা সোনা হয়ে গেলে কবরের জায়গাটুকুও থাকবে না যে!


ছবিঋণ: Poet Daud Haider (Left), www.sezanmahmud.org
কৃতজ্ঞতা হাসান ফেরদৌসের কাছে যিনি আমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আজ কবির জন্মদিন।

*দাউদ হায়দার, তোমাকে কাছে খোলা চিঠি: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_7633.html