'রামায়ন' নিয়ে একটা সিরিজ লেখা শুরু করেছিলাম। আদিকান্ড [১] এবং অযোধ্যাকান্ড [২] লেখার পর উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম। দাদাদের যন্ত্রণায় আগ্রহ উবে গেল। কিন্তু আজ আমি বুকে হাত দিয়ে বলি, কোন বিশেষ ধর্মকে খাটো করার কোন গোপন ইচ্ছা আমার ছিল না।
বিষয়টা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। দুম করে চাপা পড়ে থাকা শবটা সামনে চলে এলো! এই সুমহান কাজটি করেছেন 'অর্নব আর্ক' নামের একজন। তিনি নিজের পরিচয় দেন এভাবে: "...স্নাতক সম্মান অধ্যয়নকারী ও অবিনির্মানবাদী লেখক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।"
লেখক কারা এই নিয়ে এখনও আমার ধন্ধ কাটেনি এরিমধ্যে আবার অবিনির্মানবাদী লেখক- ওয়াল্লা! বড়ই চিন্তার কথা, অবিনির্মানবাদী লেখক কাদের বলে কে জানে! এরা টাইপ করার জন্য কি ব্যবহার করেন, 'পাঙুল'- এটা নিয়েও কেউ ভাবনায় তলিয়ে গেলে তাকে দোষ দেয়া চলে না। এরা আট লাইন টাইপ করলেই কী দেড়শো লাইন হয়ে যায়, হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে।
যাই হোক, এই অবিনির্মানবাদী লেখক স্যার অর্নব একটি ওয়েব সাইটে লিখেছেন, "রামায়নের পাতা থেকে কিছু মজার কাহিনী (পর্ব এক)




" [৩]। এই লেখায় তিনি বলছেন: "প্রত্নতত্ত্বের অধ্যয়নকারী হিসেবে আমাদের সিলেবাসের অংশ হিসেবে অনেক কিছুই শিখতে হয়। আমরা যাই পড়ি অন্তত একটি কথা বলতে পারি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার দড়ি ছিড়তে গেলে যা করা দরকার তা একরকম জানতে হয়।...।" ইত্যাদি ইত্যাদি।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি এভাবে, "কৃতজ্ঞতা স্বীকার: প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক (আমার কোর্স শিক্ষক), আলী মাহমেদ (একজন ব্লগার যিনি পূর্বে এই বিষয়ে লিখেছেন)।"
আমার নামটা এখানে এসেছে, আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু মনটা বিষাদে ছেয়ে গিয়েছিল কারণ এই সুবিশাল লেখার দাঁড়ি-কমা-মন্তব্য সমস্ত কিছুই আমার পোস্ট থেকে নেয়া, অবিকল [১] [২]। এই সুবিশাল লেখায় মন্তব্য আকারে যা এসেছে কেবল এই আট লাইন আমার না। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে ওখানে স্যারের লেখায় মন্তব্য আকারে লিখতে হয়:
"ডিয়ার অর্ণব আর্ক, এই দীর্ঘ লেখায় উপরের আট লাইন এবং ইমোটিকন ব্যতীত একটা বাক্যও আপনার না। এই আট লাইনের মধ্যে কোনটা প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক (আমার কোর্স শিক্ষক)-এর এবং কোনটা মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব, স্নাতক সম্মান, অধ্যয়নকারী ও অবিনির্মানবাদী লেখক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর? দয়া করে যদি একটু জানাতেন তাহলে কৃতজ্ঞতা।"
এর উত্তর পাওয়া যায়নি কিন্তু এটাও আমার জানা হয়ে উঠেনি, আমার বিনা অনুমতিতে আমার লেখা থেকে প্রায় দেড়শো লাইনের এই লেখার উপরে কেবল আট লাইন জুড়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার কিনা উনার কোর্স শিক্ষক প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক এবং উনি নিজে! আর প্রতিটা লাইন, প্রতিটা শব্দ আমার লেখা থেকে নিয়ে কেবল এটুকু লিখে দিলেই দায় শেষ হয়ে যায়?
অথচ আমার সাইটে গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রেখেছি, "আমার বিনা অনুমতিতে কোন লেখা কোথাও প্রকাশ করা যাবে না"। তারপরও মানুষটা আমার নাম উল্লেখ করেছেন বলে অর্ণব আর্ক নামের মানুষটাকে তস্কর-চোর বলি কেমন করে? যে-কোন প্রকারে আমার নামটা তো উল্লেখ করেছেন। আহা, কী একটা ধরন, "আলী মাহমেদ (একজন ব্লগার যিনি পূর্বে এই বিষয়ে লিখেছেন)"।
উই মা, আমি ধন্য। জেনে ভাল লাগছে আমি এটা নিয়ে পূর্বে লিখেছি, এটা না-বললে জানাই হতো না! এবং আমি যে একজন ব্লগার স্যারের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পেয়েও ভাল লাগছে।
কেবল যে এই লেখাটি হুবহু অন্য সাইটে পাবলিশ করা হয়েছে বলেই না, আমি ক্রুদ্ধ অন্য কারণেও। এই সুবিশাল লেখায় উপরের আট লাইন ব্যতীত অর্ণব নামের মানুষটার 'রসিকলাল' টাইপের হাসির ইমোটিকনের অযথা ব্যবহার। যে ধর্ম কোটি-কোটি মানুষের বিশ্বাস করে সেই ধর্ম নিয়ে এমন স্থুল রসিকতা আমার বিন্দুমাত্র পছন্দ হয়নি, তাও আমার অনিচ্ছায় আমার লেখাকে জড়িয়ে। এটা আমার ব্যক্তিগত মত, অধিকাংশ ধর্মের উপাদানই হাসির উদ্রেক করে সেখানে কেবল একটি ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বলেই আমি মনে করি।
বিষন্নচিত্তে আপনাকে বলতেই হয়, ডিয়ার অর্ণব আর্ক, আপনার গবেটসুলভ আচরণ মেনে নিতে পারলাম না বলে দুঃখ প্রকাশ করি।
সহায়ক সূত্র:
১. আদিকান্ড: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_07.html
২. অযোধ্যাকান্ড: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_31.html
৩. অর্নবের লেখা: http://www.somewhereinblog.net/blog/Archaeologistaurnab/29291344