Search

Wednesday, June 9, 2010

রাতারাতি একটা গণ-মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া, এমন গণতন্ত্র আমার কাম্য না

'আমার দেশ' পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমি কেন যেন একটা ধাক্কার মত খেলাম। এই কারণে না যে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ধাক্কাটা লেগেছে প্রিন্ট-মিডিয়ায় যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হওয়া প্রয়োজন ছিল তেমনটা দেখিনি বলে!

এই দেশের প্রিন্ট-মিডিয়ার প্রতি আমার গভীর অনুরাগ, শ্রদ্ধা আছে এমনটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না। এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই- রাতকে দিন, দিনকে রাত করা এদের পক্ষেই সম্ভব। এই দেশে অধিকাংশ পত্রিকাই বের হয় অসৎ উদ্দেশ্যে, ক্ষমতার লোভ-কালো টাকা সাদা করা-ব্যবসার জন্য-প্রতিপক্ষকে কাবু করা ইত্যাদি।
নমুনা হিসাবে আমরা প্রথম আলো [১], কালের  কন্ঠ [২]-এর কথা উল্লেখ করতে পারি। এতে অবশ্য আমরা পাঠকরাই লাভবান হই। এরা নিজেরা (পত্রিকার সম্পাদক-মালিক) কি কি রঙের অন্তর্বাস পরে রেখেছেন তা আমরা ভুঁড়ি ভাসিয়ে রসিয়ে রসিয়ে পড়ি। বিনে পয়সায় কী তামাশা! এই দেশের সাংবাদিকেরা মিলে নিজেরা একটা পত্রিকা বের করে দাঁড় করাতে পেরেছেন এমনটা আমাদের দেশে অলীক ভাবনা! 

আমার এই লেখার আলোচ্য বিষয় এটা না মাহমুদুর রহমান অপরাধ করছেন, নাকি করেননি? হাসমত আলীকে গোয়েন্দারা নিয়ে গিয়েছিল, নাকি পরী!
এটাই ধরে নেই হাসমত আলী লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন। বেশ! এটা আদালতের এখতিয়ার, আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক।

তবে আমি বিস্মিত, আনন্দিত, উল্লাসিত বিচার বিভাগের ঝড়ের গতি দেখে। নিজে খানিকটা ভরসা পাচ্ছি। একটা বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আমার লিগ্যাল ফাইট চলছে। দীর্ঘ ১০ মাস হয়েছে এখনও এদের প্রতি নোটিশই সার্ভ হয়নি বলে মামলার নড়াচাড়া নেই, জগদ্দল পাথর! কেন? 
এই প্রশ্নের উত্তরে ল-অফিসার থেকে শুরু করে সবাই বলছেন, যেহেতু প্রতিপক্ষদের অফিস ঢাকায় তাই ঢাকা আদালতের নেজারত বিভাগে গিয়ে আমাকে তদ্বির করতে হবে, এটাই নাকি নিয়ম! এখন মামলা এটার কারণেই ঝুলে আছে।

এই তদ্বিরটা কেমন করে হয় এই বিশদে যাই না কেবল একটা উদাহরণ দেই, আদালত থেকে একটা নকল উঠাবার জন্য সরকারী খরচ হচ্ছে ১০০ টাকার নীচে। কিন্তু কেউ যদি এটা এক-দেড় হাজার টাকার নীচে নিয়ে আসতে পারেন আমি তাঁর পা ধরে কদমবুসি করব।

এখন কথা হচ্ছে, সমন জারী করার জন্য কেন আমাকে ঢাকায় গিয়ে তদ্বির করতে হবে? এটা তো আমার দায়িত্ব না। আমি তো আদালতের পিয়ন না। হায় তদ্বির! এই দেশে ন্যায় পাওয়ার জন্য তদ্বির করতে হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ার জন্য তদ্বির করতে হয় [৩]!
অবশ্য মামলার ন্যায় বিচারের জন্য আমি কাতর না কারণ আমার সন্তানকে, যার বয়স এখনো দশও হয়নি; তাকে আদালতের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি, আমার পর সেই এই মামলার দায়িত্ব নেবে [৪]

যেদিন 'আমার দেশ' পত্রিকা নিয়ে মামলা হয়েছিল সেই দিনই আইন ঝড়ের গতিতে এগুতে শুরু করেছিল। সঙ্গে সঙ্গেই মাহমুদুর রহমানকে ধরার জন্য পুলিশ চলে এসেছিল। কেবর মাহমুদুর রহমানকে পুলিশ ধরতেই যায়নি, 'আমার দেশ' পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল করেছে, ছাপানো ২৭০০ কপি জব্দও করেছে।
মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হলে তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে কিন্তু পত্রিকার প্রকাশনা কেন বাতিল করা হবে? পত্রিকাওয়ালারা ধোয়া তুলসী পাতা না, তারা কোন অন্যায় করে থাকলে সেটার জন্য দেশে আইন-আদালত আছে, তাঁরা দেখবেন। তাই বলে পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল? 
একটা পত্রিকায় শত-শত মানুষ জড়িত থাকেন। তাদের সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকেন তাঁদের পরিবারের হাজার-হাজার মানুষ। একজন মাহমুদুর রহমানের জন্য হাজার-হাজার মানুষের প্রতি কেন সীমাহীন অন্যায় করা? 

একটা মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল হয়ে যাবে এটাই বা কোথাকার গণতান্ত্রিক আচরণ!  ভাল কথা, রাহেলা হত্যা [৫] মামলার গতি কি, এটা কি আমাদের মাননীয় আদালত বা আমাদের বিবেক-মিডিয়া জানাবেন, প্লিজ।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ [৬] মানহানীর মামলা করেছিলেন ফৌজদারী-দেওয়ানী আদালতে না, প্রেস কাউন্সিলে! ভাবা যায়? আমাদের দেশে, একজন রাষ্ট্রপতি?

এখন আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলার গতি দেখে আমি আশাম্বিত হচ্ছি, যাক, এখন তাহলে আমারও একটা গতি হবে!
পূর্ব প্রসঙ্গে ফিরে যাই, আমাদের দেশের অন্য পত্রিকাগুলোর যে প্রতিক্রিয়া হওয়া যথার্থ ছিল এমন কোন নমুনা আমার কাছে দৃশ্যমান হয়নি! সম্ভবত এখানেও দলবাজি কাজ করছে। আরে, ও তো আমার দলের না। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের [৭] দলবাজি করার প্রয়োজন হয় সেই দেশে এর বাইরে ভাবাটাও পাপ।

পত্রিকাগুলো আর কিছু না পারুক সবাই মিলে অন্তত প্রত্যেকটা পত্রিকার 'হেড-মাস্ট' ('হেড-মাস্ট' শব্দটা স্মৃতি থেকে লিখছি, ভুল হতে পারে।) কালো বর্ডারে ছাপাতে পারত। নয়তো প্রথম পাতায় এক ইঞ্চি করে কালো বক্স ছাপিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ করে যেতে পারত। এরা করেননি।

মাহমুদুর রহমান, আমার দেশ পত্রিকা, এদের দলবাজি, এই পত্রিকার দৃষ্টি ভঙ্গি কোনটাই প্রতি আমার আলাদা মমতা নাই। কিন্তু এই অন্যায়ের আমি তীব্র প্রতিবাদ করি। 
আমি আজ থেকে আমার সাইটটার ব্যানারটায় খানিকটা পরিবর্তন আনছি। এটা এভাবে থাকবে যে পর্যন্ত না 'আমার দেশ' আবারও চালু হবে। ব্যানারটা কালো করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু মন্তব্যের ফন্টে কিছু টেকনিকাল সমস্যা হচ্ছে।  

পত্রিকাওয়ালা কেন এটা করতে পারলেন না। এরা সম্ভবত দলবাজির কারণেই এটা করেনি। আমি যখন খুব ভালো বোঝাতে পারি না তখন মার্টিন সাহেবের কথাটা ধার করি, বারবার।
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists. I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me". (Martin Niemoller) 

সহায়ক লিংক:
১. প্রথম আলো: http://tinyurl.com/3yadh4k
২. কালের কন্ঠ: http://tinyurl.com/38qlfcf
৩. মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য তদ্বীর: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html
৪. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html
৫. রাহেলা হত্যা: http://www.ali-mahmed.com/2008/02/blog-post_27.html 
৬. সাহাবুদ্দিন আহমদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_9839.html
৭. স্যারদের দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html      

Tuesday, June 8, 2010

আপাদমস্তক একজন মন্দ মানুষ!

আনিসুল হক নামের এই মানুষটাকে নিয়ে আর লিখব না বলে ঠিক করেছিলাম। কারণ আমার উপর চাপ পড়ছে। চুতিয়া শব্দটা লেখার প্রতি আমার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে, এটা লিখতে পারছি না বলে চাপটা আরও তীব্র হচ্ছে। এটা লিখতে পারলে আরাম পেতাম।

লেখালেখি নিয়ে এই মানুষটার চুরি-চামারি নিয়ে আলোচনা করা বৃথা। যারা প্রথম আলোর আদিপর্ব ভোরের কাগজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁরা জানেন এ নতুন কিছু না। সম্প্রতি তিনি নিজেকে প্রথম সাক্ষাৎকারী [১]... ইত্যাদি বলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ধারণা করা হয়েছিল মানুষটা খানিকটা লজ্জিত হবেন, ভুল স্বীকার করবেন। এ দুরাশা [২]!

আজকে প্রথম আলো নামের তাঁর পত্রিকায়(!) 'ভারী পর্বতের হালকা দিকগুলো' [৩] নামের লেখায় লিখেছেন,
"ফেসবুকে স্ট্যাটাসে চমৎকার একটা লেখা বেরিয়েছিল। আমি একটু সম্পাদনা-পরিমার্জনা করে সেটা এখানে উদ্ধৃত করছি।
'বৎস, তুমি কি বিশ্বাস করো, মুসা এভারেস্টে উঠিয়াছে?', 'গুরু, মুসা কি একা উঠিয়াছে?'..."

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ফেসবুকে স্ট্যাটাসে চমৎকার একটা লেখা বেরিয়েছিল... বেরিয়েছিল মানে কি, কোত্থেকে বেরিয়েছিল? ফেসবুক একটা পাইপ নাকি, এক অংশ দিয়ে অসংখ্য শব্দ প্রবেশ করালে অন্য অংশ দিয়ে আস্ত একটা লেখা বের হয়! এই স্ট্যাটাস নামের জিনিসটা কে লেখে? এটা কি ঠাঠারি বাজারের রাস্তায় পাওয়া যায়!

নাকি এটা আমায় বিশ্বাস করতে হবে আনিসুল হক ফেসবুক নামের জিনিসটা বোঝেন না? অবশ্য এমন কোন কথা নেই এই গ্রহের তাবৎ মানুষ ফেসবুক কি এটা বুঝে বসে আছেন। না বুঝে থাকলে এই নিয়ে আমার কোন কথা ছিল না।
আনিসুল হক ফেসবুক জিনিসটা ভালই বোঝেন, কেমন করে এটার ব্যবহার করতে হয় এই সম্বন্ধেও সম্যক জ্ঞান তাঁর আছে। তিনি কেবল ফ্রেন্ডই যোগ করেন না, বিয়োগও করেন। মুকুল নামের একজন লেখককে তিনি তাঁর বন্ধুর লিস্ট থেকে ছাঁটাইও করেছিলেন। বেচারা মুকুল, আনিসুল হকের মতো একজন বন্ধু হারালেন, আনিসুল হককে নিয়ে রাসেল পারভেজের একটা সমালোচনা শেয়ার করতে গিয়ে। মুকুল বেচারা 'ইয়াতিম' হয়ে গেলেন!

আনিসুল হক ওই স্ট্যাটাসের সবটা তাঁর লেখায় শেয়ার করতে পারলেন কেবল পারলেন না আরিফ জেবতিক নামটা পড়তে। নাকি এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে তিনি ইংরাজিতে নামটা বানান করে পড়তে পারেননি। আহা, সোজা তো। এ আর আই এফ, A-r-i-f  J-e-b-t-i-k.
নাকি আপনার ধারণা, ওয়েব সাইটের সমস্ত লেখালেখিই গণিমতের মাল? এটা কি আপনাদের পৈত্রিক তালুক, নাকি আপনাদের যুদ্ধ জয়ের নজরানা, গণিমতের মাল?
আপনারা প্রিন্ট মিডিয়ার লোকজনরা কি ধরেই নিয়েছেন, দয়া করে এখানকার একটা লেখা ছাপিয়ে আমাদের উদ্ধার করবেন, আবার লেখকের নাম!

আর 'আমি একটু সম্পাদনা-পরিমার্জনা করে সেটা এখানে উদ্ধৃত করছি...' , আপনাকে কে অনুমতি দিল এটা সম্পাদনা-পরিমার্জনা করার? আপনি কি সব জায়গায়ই এই মাতব্বরিটা করে থাকেন? পত্রিকায় এটা করে করে অভ্যাসটা খারাপ হয়ে গেছে, না?  হাত চুলকায়?
আপনি কী রবীন্দ্রনাথের লেখাও সম্পাদনা করে থাকেন নাকি? আপনিই কি সেই লোক যে রবীন্দ্র সঙ্গীতও রচনা করে থাকে?
আরিফ জেবতিকের এই স্ট্যাটাসটা, ওই লেখাটা অনেকেই পছন্দ করেছিলেন, আমি নিজেও। এখানে কোথায় অশ্লীল, অমার্জিত, অভব্য শব্দ আছে? এটা পরিমার্জনা করার অনুমতি কে দিল আপনাকে? এটা কে লিখেছে এটা যখন আপনি জানে না তাহলে আপনি তো আরিফ জেবতিক নামের মানুষটার সম্বন্ধেই জানেনই না, তাহলে?

নাকি বাংলা সাহিত্যের ভুবনে সাহিত্যের দন্ডটা আপনি ধরে রেখেছেন? অবশ্য আমরা জানি, আপনার লেখা বইগুলো আপনি নিজেই লিখেছেন; এই নিয়ে আমাদের কোন সংশয় নাই, যেমন নাই আপনার বইয়ের বিজ্ঞাপনও আপনি নিজেই দেন [৪] এটা নিয়ে। কিন্তু তাই বলে সাহিত্যের দন্ডটা আপনার হাতে কে তুলে দিল?

আনিসুল হক, ভব্যতা শেখেন, কেমন করে একজনের ৩টা শব্দ নিলেও (ডয়চে ভেলে লিখেছে, মাহবুব মানিক লিখেছেন, ‘‘ওয়াও!!! ফেসবুক উম্মুক্ত!!!'') [৫] তাঁর নাম শেয়ার করতে হয়।
আনিসুল হকের কাছ থেকে চুরি-চামারিটা অন্যরাও অবলীলায় শেখে। মিডিয়া-ঈশ্বরে বসে বসে তিনি যখন এই সব করেন তখন অন্যদের না শিখে উপায় কী!

আমি পূর্বেও লিখেছিলাম, একজন ভাল লেখক, ভাল রাজনীতিবিদ, ভাল ডাক্তার, ভাল ম্যানেজার মানেই ভাল মানুষ না।

সহায়ক লিংক: 
১. প্রথম বাঙালী সাক্ষাৎকার গ্রহনকারী: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html 
২. ভুল স্বীকার না করা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_29.html 
৩. প্রথম আলো: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2010-06-08 
৪. বিজ্ঞাপন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_07.html 
৫. ফেসবুক নিয়ে ডয়চে ভেলে: http://ht.ly/1UCuO     

Monday, June 7, 2010

স্বপ্ন: চার


আমরা জাতি হিসাবে বড়ো আবেগময়- উঠল বাই তো তিমি চিবিয়ে খাই! ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা বাংলা করে মিডিয়া কাঁদতে কাঁদতে দেশে অকাল বন্যা বইয়ে দেবে। ৩০ মিনিটের স্বপ্নদ্রষ্টা মতিউর রহমান [১] ৩০ হাত লম্বা একটা নৌকা বানিয়ে ফেলবেন। এই দেশ থেকে ব্রিটিশ পগারপার হয়েছে কতো বছর হবে, নাকি এখনও রয়ে গেছে?

ট্রেনে করে কোন কিছু রেলে পাঠাতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনো যে রসিদটা দেবে তাতে হাবিজাবি অনেক কিছুর সঙ্গে লেখা, "...কোন সরকারী অফিসারের (ব্রিটিশ বা বিদেশী উর্দি নহে কিংবা উর্দির অংশ বিশেষ নহে...)"
এখনও বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন ইংরাজিতে। ফটাফট ইংরাজি বলতে না পারলে ওই মানুষটা এবং কলাগাছের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। মুখে মুখে বাংলা ভাষার জন্য আমাদের কী মায়া!

বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছে দেশটা। এই কাঁপাকাঁপি নিয়ে আমার দ্বিমত নাই। অনেকে বিভিন্ন দেশের পতাকা লাগাচ্ছেন, এটার যথার্থতা নিয়ে তর্ক করার ইচ্ছা আমার নাই। কেন আমাদের স্বাধীনতার উৎসবে আমরা বাঁশ খুঁজে পাই না লম্বার ঝাড়ুর উল্টা পিঠে আমাদের পতাকা লাগাই এই নিয়ে কুতর্কেও আমি যাব না। আমাদের বাঁচার জন্য কোন-না-কোন একটা উপলক্ষ থাকার প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে খেলার আবেগেরও। এই নিয়ে আমার অমত নাই।

কেবল যেটা বলতে চাই, কমছে আমাদের মার শাড়ির বহর, বাড়ছে অন্য দেশের পতাকার নহর! যে মানুষটা তার মার ১২ হাতের শাড়ির বদলে ১০ হাত শাড়ি কেনে সে বানাচ্ছে ২২ হাতের পতাকা। গোটা দেশে এ এক অসভ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। কে কার চেয়ে লম্বা পতাকা লাগাতে পারে। লেখার শুরুতে যা বলেছিলাম...।

অন্য দেশের পতাকা নিয়ে আমাদের মাতামাতির শেষ নাই, নিজের দেশে ফুটবল খেলার মাঠের কোন খোঁজ নাই, ফুটবল ম্যাচের পাত্তা নাই! কয়েকজনকে আমি বললাম, আমি টাকার ব্যবস্থা দেখি, তোমরা কি পারবে একটা ফুটবর ম্যাচের আয়োজন করতে? সবাই আমাকে নিরাশ করলেন। তাদের বক্তব্য, আরে না, মারপিট হবে। 
শোনো কথা!

হরিজন পল্লী, যার চালু নাম 'মেথর পট্টি'। এখানে পতাকার নমুনা দেখে থমকে দাঁড়াই। আমি যখন ছবি উঠাচ্ছি তখন এখানকার একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনে কি সাম্বাদিক?
আমি বললাম, না।
তাইলে ছবি উঠাইতেছেন ক্যান?
আমি মনে মনে বলি, ভাল মুসিবত দেখি। জার্মান এম্বেসিতেও আমি সাংবাদিক কিনা এর ব্যাখ্যা দিতে হয়, লোকজনকেও। ভাবছি, কামনা বা বাসনা নামের কোন একটা রগরগে সাপ্তাহিকে জয়েন করে ফেলব কিনা?
মুখে বললাম, এমনিই তুললাম। আপনেরা পতাকা লাগাইছেন, সোন্দর দেখা যাইতাছে।

মানুষটা এইবার খুশী হয়। আমি এর সঙ্গে টুকটাক কথা বলি কারণ এখানে আসার আমার অন্য একটা উদ্দেশ্যও আছে। জানতে চাই, এখানকার ছোট-ছোট বাচ্চারা ইস্কুলে যায় কিনা?
যায় না জানার পর আমি বললাম, আচ্ছা, যদি একজন মাস্টার এসে বিনা পয়সায় আপনাদের বাচ্চাদের পড়িয়ে যায় তাহলে আপনারা কি আপনাদের এখানেই একটা ঘর ঘন্টাখানেকের জন্য দিতে পারবেন?
তিনি বলেন, এইটা সর্দারের পুলা ভালো বলতে পারব। তাইনে আপনের মতোই শিকখিত।

আমি মনে মনে বলি, বাপ, শিক্ষিত হলে বাচ্চাগুলোকে স্কুলে পাঠায় না কেন! নাকি শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের [২] মত হঠাৎ মনে পড়বে, ওরে, তোরা কে কোথায় আছিস বই-খাতা নিয়া আয়? 
কোন নিশ্চয়তা পাওয়া গেল না কারণ এই সিদ্ধান্ত সর্দারের 'শিকখিত' ছেলে ব্যতীত সম্ভব না। বেলা বাজে একটা। তিনি এখনও ঘুমাচ্ছেন, কখন জাগবেন বলা যাচ্ছে না। পরে আবার যেতে হবে।

এটাও আমার ছোট্ট স্বপ্নের একটা অংশ। আমার ইচ্ছা আছে, এখানে ছোট-ছোট বাচ্চাদের পড়াবার জন্য একজন টিচার ফি-রোজ পড়িয়ে যাবেন। এই বাচ্চাগুলোকে পড়তে বসাবার জন্য কিছু চালবাজি করতে হবে। পড়া শেষ হলে চকলেট পাবে এই ফাঁদে ফেলতে হবে। দেখা যাক।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক:
১. শপথবাজ মতিউর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_19.html
২. শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html

আপনারা ধন্যবাদার্হ, তবে...

আমি পূর্বের পোস্টে লিখেছিলাম [১],
"...পত্রিকায় পড়লাম, মুসার সঙ্গে তার সহযোদ্ধা তিন শেরপা এসেছেন। আমি অনেক সুখি হতাম এখানে আনিসুল হকের চাঁদবদন দেখার চেয়ে মুসার সঙ্গে ওই তিন শেরপার ছবি দেখলে। এবং তাঁরা নাকি এই দেশে প্রথমবারের মত এসেছেন...।"  

আমার এই গোপন ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে। মুসা ইব্রাহিমের সঙ্গে এঁদের সম্মানিত করা হয়েছে, পত্রিকায় ছবি এসেছে। কারণ এই শেরপারাই মুসাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। এরা হচ্ছেন 'দুধ-মা'। কেবল অর্থ পরিশোধ করলেই যেমন দুধ-মার দুধের মূল্য পরিশোধ করা যায় না তেমনি একজন শেরপারও। এই জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, প্রথম আলোকে। মুসার পাশে এঁদেরকেই দেখতে ভালো লাগছে। যাক, এই পত্রিকার লোকজনরা তাঁদের জমাট মস্তিষ্ক ব্যবহার করছেন বলে আরেকটা ধন্যবাদ পাওনা হন।

হা ঈশ্বর, এখানেও আনিসুল হক স্যারের চাঁদবদন-দন্তবদন দেখছি! জানি-জানি, আমাকে বলা হবে তিনি আলপাইন ক্লাবের হোমড়াচোমড়া। কারণ এটা আমরা ইতিপূর্বে ওঁর লেখা পড়ে জেনেছি। ২৬ মে, ২০১০-এ তিনি নিজের পত্রিকায় (!) লিখেছেন,
"...আবার ফোন দেই মুসাকে। 
মুসা বলেন, মিটুন দা, আপনি কাঠমান্ডুতে এসেছেন?
(আনিসুল হক) আরে আমি নর্থ আলপাইন ক্লাবের সভাপতি না..."? 

আচ্ছা, তাহলে ঘটনা এই! আনিসুল হক যেভাবে মুসা ইব্রাহিমকে কোলে করে হিমালয় থেকে নামিয়ে নিয়ে আসার ভঙ্গি করলেন এটা কি আলপাইন ক্লাবের পক্ষ থেকে? এখানে তাহলে প্রথম আলো জড়িত থাকার বিষয় ছিল না, না? জেনে ভাল লাগছে। 
কিন্তু আনিসুল হকের চেহারা মোবারক দেখাবার সাধ দেখে মনে হয়, আনিসুল হকের কি নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজে দিয়েও [২] জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে? সব জায়গায় মুসাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার না করে চলছে না, না? তিনি যে চৌর্যবৃত্তি [৩] করলেন। এটা আবার স্বীকার করার ক্লেশ নিলেন না [৪] এটাও কি আলপাইনের জন্য? আহা, ক্লাবের জন্য কী মায়া গো! এই ক্লাবের উচিৎ তাঁকে মাথায় তুলে না রেখে কেল্লায় তুলে রাখা।

শুনতে পাই, এভারেস্ট অভিযানের কারণে বাজারে মুসার অনেক দেনা। হয়তো নিরুপায় তাঁকে কোন এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গ্রামীন ফোন ব্যতীত অন্যত্র আর উপায় কী! 
আমি প্রায় নিশ্চিত, আনিসুল হক কোন-না-কোন প্রকারে সেখানেও ঢুকে পড়বেন, দাঁতসহ। আলাদা একটা গাম্ভীর্য নিয়ে বলবেন, আমি যে এভারেস্ট থেকে মুসা ইব্রাহিমক নামিয়ে আনলাম, ওখানে কিন্তু গ্রামীন ফোনের নেটওয়ার্ক ছিল না কিন্তু প্রথম সাক্ষাৎকারটা আমি (তিনি যে চৌর্যবৃত্তি করেছেন এটা তখন আমরাও বিস্মৃত হবো) নেই গ্রামীন ফোনের লোগো সম্বলিত সেট দিয়ে। হাসি, দন্তসহ। 'আপনারও গ্রামীনের এই ছেট উজ করুইন'।

অবশ্য এই ছবিটায় অন্তত একটা কারণে তিনি ধন্যবাদ পেতে পারেন এভারেস্ট জয়ী মুসার মত নিজেকে সাজাবার চেষ্টা করেননি। আনিসুল হক নামের মানুষটার খানিকটা হলেও লাজ অবশিষ্ট আছে দেখে ভাল লাগছে। 
তবে কারও পতি, নাকি সভাপতি সেটা পরের কথা অন্তত নিজের পত্রিকায় (!) এই ছবিটা না ছাপালেই শোভন হতো। কেন? সব কেন-এর উত্তর দেয়াটা বড়ো মুশকিল।

আনিসুল হক, তিনি কত্তো বড়ো লেখক, তাঁর নামে তাঁরই পত্রিকায় (!) তাঁকে নিয়ে যেদিন এই বিজ্ঞাপনটা গেল:
কবি-উপন্যাসিক-গদ্যকার্টুনিস্ট-কলাম লেখক-সাংবাদিক-প্রকৌশলী ও সদ্য আমেরিকা ফেরত সেদিন থেকেই আমি তাঁর কঠিন একজন ভক্ত। 'সদ্য আমেরিকা ফেরত', এটাও তাহলে একটা টাইটেল? বাহ, বেশ তো! তিনি তো আবার নিজের বিজ্ঞাপন নিজেই দিতে খুব আরাম বোধ করেন। এইবার এর সঙ্গে 'এভারেস্ট ফেরত' এই শব্দটা লাগাবার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

আমাদের উচিৎ এমন একজন মানুষের আচরণগুলো অনুকরণ করা। সাধারণ আমাদের পক্ষে পারা যায় না, বুঝলেন- সাধারণ মানুষ করবে সাধারণ কাজ। 
বাচ্চাদের আঁকাআঁকির একটা অনুষ্ঠানে [৫] আমাকে যখন বলা হলো বিচারকের দায়িত্বে থাকার জন্য; মূল উদ্যোক্তা হওয়া সত্বেও আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করলাম কারণ এই অনুষ্ঠানে স্কুলের নির্বাচনে আমার সন্তানও অংশগ্রহন করেছিল। কেউ আটকাতো না কিন্তু আমার বিবেচনায় এটাই মনে হয়েছিল: আমার বিচারক থাকাটা দৃষ্টিকটু, অশোভন, অন্যায় হয়।
আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধারণ ভাবনা, আনিসুল হকের মত 'প্রথম বিবেক' নামের মানুষগুলো তাঁদের অসাধারণ ভাবনাগুলো নিয়ে বিবেকের কলসি কাঁধে নিয়ে নৃত্য করতে থাকুন! তবে অনুরোধ গায়ে কাপড়-চোপড় রাখবেন, এটা খুব জরুরী, বয়স্ক একজন মানুষকে নগ্ন দেখতে ভালো লাগে না।

*ছবিঋণ: প্রথম আলো

সহায়ক লিংক:
১. আমাগো ছাওয়াল: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_03.html 
২. বিজ্ঞাপন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_07.html 
৩. চৌর্যবৃত্তি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৩. চৌর্যবৃত্তি অ-স্বীকারোক্তি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_29.html 
৫. স্বপ্ন, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_4596.html 

Sunday, June 6, 2010

প্রকৃতি চিৎকার করে করে বলছে...

আজ দেশে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। 

এটা মৃতদের কী কাজে লাগবে কে জানে? এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না আজ এটা পুরান ঢাকায় ঘটেছে, কাল নতুন ঢাকায় ঘটবে- পুরো ঢাকা শহরটাই হয়ে আছে বসবাস অযোগ্য এক মৃত্যু-নগরীতে। 
আমরা কয়টা শোক দিবস পালন করব, কত দিন পর পর?

অভাগা দেশ! এখানে আগুনে পোড়া রোগী মেঝেতে পড়ে থাকে, হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ঠ ব্যবস্থা নেই। আগুনে পোড়া রোগী যখন গরমে মেঝেতে আধজবাই পশুর মত কাতরাতে থাকে তখন আমাদের নেতারা তাদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে এদের কষ্টটা বহু গুণ বাড়িয়ে দেন!
একেকজন নেতার সঙ্গে থাকেন এক দঙ্গল মানুষ, মিডিয়ার হুড়াহুড়ি, ক্যামেরায় চমৎকার ছবি উঠাবার জন্য কদর্য প্রতিযোগীতা। 
আহা, এই মানুষগুলো যদি এই সব আগুনে পোড়া রোগীর কষ্টটা এক পার্সেন্টও সত্যি সত্যি বুঝতে পারতেন। তাহলে এই সমবেদনা জানাবার জন্য অন্তত হাসপাতালে গিয়ে এদের কষ্টটা আরও বাড়িয়ে দিতেন না। একের পর এক নেতারা দল বেঁধে হাসপাতালে ছুটতেন না- নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগীতাও শুরু হয়ে যেত না।

এটা বোঝার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না, বাইরের এই লোকজনের আনাগোনা এই সব রোগীর জন্য কতটা অস্বাস্হ্যকর, বিপদজনক, ভয়ংকর! উপকার বলতে রোগীর মৃত্যুর গতি কেবল ত্বরিত হবে, আর কিছু না। 
এটা কেবল আমাদের দেশেই সম্ভব। উন্নত দেশ হলে যত বড়ো লাটসাহেবই হোক না কেন ডাক্তার সোজা এঁদের হাঁকিয়ে দিতেন! রোগীর ধারেকাছেও ভিড়তে দিতেন না।

এই সব রোগীদের জন্য এখন যেটা অতি প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সুচিকিৎসা। প্রয়োজনে সচিবালয় থেকে এসি খুলে নিয়ে আসুন, পোর্টেবল এসি, এয়ারকুলার বসান। প্রয়োজনে জেনারেটর হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে নিয়ে আসুন। 
৫০ শয্যা বিশিষ্ট বার্ন ইউনিটের বেহাল অবস্থা, একা ডাঃ সামন্তলাল সেন লম্বা সময় ধরে 'বুড়ো সান্তিয়াগো'-এর মতো ভাঙ্গা হাল ধরে আছেন। 
হাসপাতালে ছুটাছুটি না করে আজই প্রতিজ্ঞা করুন, একটা করে স্বয়ংসম্পূর্ণ বার্ন ইউনিট সমস্ত জেলায় করা হবে। আজকের পর যেন আগুনে পোড়া কোন রোগীকে অন্তত মেঝেতে পড়ে থাকতে না হয়।

প্রকৃতি চিৎকার করে করে বলছে, তোমাদের জন্য এটা একটা সামান্য নমুনা মাত্র। এখনও সময় আছে সতর্কতার অবলম্বন করো। কিন্তু প্রকৃতির বোকা, উদাসিন, লোভী সন্তানদের এটা শোনার সময় কোথায়?
কেউ কেউ বলবেন দুর্ঘটনার উপর কারও হাত নাই। বটে রে, ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায় ফায়ার ফাইটিংয়ের গাড়ি ঢোকে না, আগুন নেভাবার জন্য পর্যাপ্ত পানি নাই। আগুন নেভাবার জন্য যথেষ্ঠ উঁচু মই নাই [১], ডুবন্ত লঞ্চ টেনে তোলার মত উদ্ধারকারী জাহাজ নাই [২]। নর্দমার সঙ্গে মিশে আছে খাওয়ার পানি! কোটি-কোটি শ্রমঘন্টা নষ্ট হচ্ছে জ্যামে আটকে থেকে। 
কেবল আমরা পাগল হয়ে যাই ফ্রিগেট, মিগ কেনার জন্য।

ঢাকা নামের কংক্রিটের বস্তি, ম্যাচবক্সের মতো গায়ে গা লাগানো এই সব অথর্ব জিনিসগুলো রিখটার স্কেলে কতটা ঝাঁকুনি সহ্য করতে পারবে এটা বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন। ঝাঁকুনি ব্যতীতই একেকটা ভবন হেলে পড়ছে, পড়বে। এই না শুরু, দেখুন না কালে কালে কী হয়! প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে ঠিকই।
আমি ভেবে শিউরে উঠি সেই দিন হয়তো আর দূরে না যেদিন প্রায় পুরো শহরটাই ধসে পড়বে। ঢাকা আর পারছে না অসম্ভব-অতিরিক্ত ভার সইতে!

পাশাপাশি দুইটা বিশ্ববিদ্যালয়। এইগুলো নাকি বিশ্ববিদ্যালয়! আপনাদের কি ধারণা আছে এখানে খরচ কতো? অধিকাংশ ছাত্রদের বাবার আয়ের উৎস খুঁজলে সাপ বেরুবে নাকি অজগর এটা বলা মুশকিল। 
আমি যে ইনকাম ট্যাক্স অফিসে ট্যাক্স দিতাম সেই অফিসের জয়েন্ট কমিশনারের অফিসের পিয়নের এক ছেলে এমন একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। 
তো, এখান থেকে ফার্মের মুরগির মত কতগুলো রোবট বেরুবে। এদের হাতে যখন ক্ষমতা থাকবে, এরপর যা হওয়ার তাই হবে। এদের হাত ধরেই এমন সব বিজ্ঞাপন বের হবে। ডাবের পানি আর সফট ড্রিংকসের মধ্যে কোন ফারাক নাই। হরলিকসের মত ৩ পয়সার ড্রিংকস দিয়ে বাচ্চারা হবে টলার-স্ট্রংগার!

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০টি ঢাকায়।
৩৮টি মেডিকেল কলেজের ৩২ টি ঢাকায়।
তৈরি পোশাকশিল্পের ১৮ লাখ শ্রমিক ঢাকায়।
১৫ লাখ নির্মানশ্রমিক এবং রিকশাচালক ঢাকায়।
প্রতিদিন ২১৩৬ জন মানুষ ঢাকায় ঢুকছে আর বের হচ্ছে না।

আমি পূর্বের একটা লেখায় বলেছিলাম, "আমরা সব লাটিম বনবন করে ঘুরাচ্ছি ঢাকাকে কেন্দ্র করে! এটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ঢাকার উপর থেকে যত দ্রুত সম্ভব চাপ কমানো অতি আবশ্যক। এখান থেকে সরাতে হবে ক্যান্টনমেন্ট, সরকারি যত আপিস। তারচেয়ে জরুরি হচ্ছে কল-কারখানাগুলো সরানো। 
সরানো মানে নতুন করে হতে না দেয়া, সরিয়ে নিতে লোভ দেখানো। জোর করে তো এটা করা যাবে না। এ জন্য মোটা মাথা থেকে চিকন বুদ্ধি প্রসব করতে হবে। যেসব উদ্যোক্তা ঢাকার বাইরে রংপুর, খুলনায় শিল্প-প্রতিষ্ঠান করবেন তাদের জন্য থাকবে ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর দেয়ার বেলায় বিরাট ছাড়। এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ সম্মান থাকবে এদের জন্য। 
আমার ধারণা, এরা প্রয়োজনে বায়ারকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ওই বায়ার লাফাতে লাফাতে রাজি হবে। না-হওয়ার কোন কারণ দেখি না। এই বায়ার মহোদয় শত-শত বার প্লেনে চড়েছেন কিন্তু হয়তো-বা হেলিকপ্টারে কখনও চড়া হয়নি। তিনি বিমলানন্দে দেশে গিয়ে গল্প করবেন, 'হেই ম্যান, গেসিলাম বেংলাডেশে... ইমাজিন, হোল হেলিকাপ্টার হামার জইন্যে বুক করেছে।"


এখন আমি মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা থেকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন সচিবালয়-প্রধানমন্ত্রীর অফিস। প্রধানমন্ত্রীর অফিস সরানো বড্ডো বেশি জরুরী কারণ এই দেশের সব কিছু ঘুরপাক খায় এই ভবনটাকে ঘিরে।

গোটা দেশটা ঘুরপাক খাচ্ছে ঢাকাকে কেন্দ্র করে। সব-সব! শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষা-বানিজ্য কিছুই বাদ নাই। ঢাকার ভূতের গলি না চিনলে লাজে আমাদের কালো কান লাল হয়ে যায় কিন্তু রাজশাহীর রাজবাড়ি না চিনলে কোন সমস্যা নাই! 
এই দেশের অধিকাংশ মানুষের স্বপ্ন কোন-না-কোন প্রকারে ঢাকায় থাকার একটা ব্যবস্থা করা। এই জন্য পরনের কাপড় খুলে নগ্ন হয়ে যেতেও আপত্তি নাই! আপত্তি নাই নিজের দেশ-মাকেও বিক্রি করে দিতে। দেশ-নীতি-ধর্ম-জাহান্নামে যাক তবুও ঢাকায় থাকা চাই। সরকারী আমলা-ডাক্তার-প্রফেসর-নব্য ধনী, কেউ বাদ নাই; ঢাকার বাইরে থাকার কথা এঁরা কল্পনাও করতে পারেন না।

ঢাকায় আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। দায়ে না পড়লে আমি ঢাকায় যাওয়ার কথা চিন্তাও করি না। ঢাকায় আমার আত্মীয়-বন্ধুর অভাব নাই কিন্তু রাতে ঢাকায় থাকার কথা মনে হলেই গায়ের উত্তাপ বেড়ে যায়। 
এমব্যাসিতে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যাচ্ছি গুলশান। ‌হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা পেলাম, স্কুটারের চাকা ম্যানহোলে পড়ে গেছে। ড্রাইভারের দোষ দিয়ে লাভ নাই। একটা গাড়ি অন্য একটা গাড়ির পেছনে নাক ঠেকিয়ে আছে। সামনের গাড়ির নীচে ম্যানহোল থাকায় ড্রাইভার দেখেনি। স্কুটারের গতি বেশি হলে ওদিনই ছিল শেষ দিন। বকবক করা একজন ব্লগারের অপমৃত্যু।
আমি দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করছি। আটকে যাওয়া চাকা ম্যানহোল থেকে টেনে তোলার পর রাস্তার মাঝখানে ম্যানহোলটার ছবি উঠাবার জন্য যখন চেষ্টা করছিলাম তখন আশেপাশের লোকজনরা বলছে, কয়টা ছবি তুলবেন।
আমি বিভ্রান্ত, আমরা কোন পর্যায়ে চলে গেছি? একটা অসম্ভব ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে ম্যানহোলের ঢাকনা থাকবে না এটা কোন বিষয়ই না!

তবুও ঢাকায় এখনও রোদ উঠে, বৃষ্টি হয় কেন? এখনও মানুষগুলো পুরোপুরি অসভ্য হয়ে উঠেনি। এখনো কোথাও কোথাও টকটকে লাল কৃষ্ণচুড়া ফুল ফোটে। কংক্রিটের বস্তির ফাঁকে পেয়ারা গাছ কষ্টেসৃষ্টে কেবল বেঁচেই থাকে না! টসটসে পেয়ারাও ধরে!

আগেও লিখেছি:
"একা ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল যে কাজটা করছেন কোটি-কোটি মানুষ সেটা পারছেন না। এই দেশের কোটি-কোটি মানুষের স্বপ্ন, ঢাকায় একটা বাড়ি, ঢাকায় একটা চাকরি, ঢাকায় বাচ্চাদের পড়াশুনা। মায় ঢাকায় পেচ্ছাব করেও সুখ। 
অথচ ড. জাফর ইকবাল ইচ্ছা করলেই অনায়াসে ঢাকায় বসবাস করার সুযোগ নিতে পারতেন। আপাততদৃষ্টিতে তাঁর জীবনটা অনেক সহজ হতো! আমি নিজেই অনেকদিন তাঁকে পারাবত ট্রেনে দেখেছি সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছেন। তাঁর এই একটা উদাহরণ তথাকথিত সুশীলরা ছড়িয়ে দিতে পারত যদি আমাদের মধ্যে, আফসোস! এই একটা কারণে এই মানুষটা একটা খুন করে ফেললেও অবলীলায় ক্ষমা করে দেব, আমার লেখালেখির কসম। স্যালুট, হে মানুষ, একজন স্বপ্নবাজ মানুষ।"

*ঋণ: প্রথম ২টা ছবি: প্রথম আলো

সহায়ক লিংক:  
১. আগুনের সঙ্গে শো: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_15.html
২. রুস্তম-হামযা: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_04.html

Saturday, June 5, 2010

প্রিন্ট মিডিয়ার আয়োজন করে কান্না!

সকাল থেকে একের পর এক ফোন, মেইল। এই দেশের সেরা দুই সন্তানকে সম্মান দেখানো হয়েছে [১]। আগামী প্রজন্মের কাছে একটা সু-উদাহরণ তুলে ধরার চেস্টা করা হলো, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কোন পত্রিকায় এটার খবর দেখলাম না!

তাঁদেরকে আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, পত্রিকায় এই খবরটা আসার সঙ্গে আমাদের এই উদ্যোগের সম্পর্ক কি?

তাঁরা তবুও আমাকে ছাড়েন না। আপনার এলাকার পত্রিকাগুলোর সাংবাদিকরা এটার গুরুত্ব বুঝতে পারল না কেন?
এঁদেরকে বোঝাতে গেয়ে আমার গলদঘর্ম অবস্থা হয়। এলাকার বেচারা সাংবাদিকদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। ঢাকায় মূল অফিসে এসিতে বসে থাকা লোকজনদের আছে আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের প্রতি সীমাহীন তাচ্ছিল্য। আমার জানা মতে, বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুমান করি, তাঁরা অতি উৎসাহ নিয়ে সংবাদও পাঠিয়েছেন।

কিন্তু তখন আমি হাসি গোপন করেছিলাম। আমি জানি, পত্রিকাগুলো এটা ছাপবে না কারণ এটা ডিসেম্বর মাস না। পত্রিকাওয়ালাদের একটা নিয়ম আছে, এরা ডিসেম্বর এলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে এদের অন্তর্বাস পর্যন্ত ভিজে যায়! এদের ভাষায় ডিসেম্বরে পাবলিক এই সব খায় ভালো। প্রিন্ট মিডিয়া নামের বিবেক আমাদের এটাই শিখিয়ে যাচ্ছে, ডিসেম্বর এলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে হবে।

এরাই আমাদের শেখায় কেমন করে বিশেষ মাসে আয়োজন করে কাঁদতে হয়। এদের কাছ থেকে শিখে শিখে আমরা সমস্তটা বছর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধিস্থলে গু-মুতের কাঁথা শুকাব এবং ১৬ ডিসেম্বর এলেই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধিস্হল ধুয়েমুছে চকচক করে ফেলব, আকাশে গুলি ছুঁড়ে সম্মান জানাব। কামান সহজলভ্য হলে তোপ দাগব।

প্রিন্ট মিডিয়া ঘটা করে আমাদের জানাবে, কোন কোন মুক্তিযোদ্ধা ঠেলা চালাচ্ছেন, চার দোকানে পানি টানছেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালাচ্ছেন। 
এদের কাছ থেকে শিখবেন আমাদের অতি শিক্ষিত (!) আমলারা। এরা উক্য চিং-[২] এর মত দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে সম্মান দেখাবেন!

এখানে যেসব বাচ্চারা অংশগ্রহন করেছিল তাদের মধ্যে একজন বাচ্চা লিখেছে, "স্বাধীনতার চেতনা থাকুক প্রতিদিন"। 
যেটা বিচারকদেরকে প্রভাবিত করেছিল এই বাচ্চাটাকে মার্কস দেয়ার ব্যাপারে। এই বাচ্চাটা এখন পর্যন্ত যা শিখেছে তা আমাদের অতি শিক্ষিত (!) মিডিয়া এখনো শিখতে পারেনি। আফসোস!

যদিও প্রিন্ট মিডিয়া না তবুও redtimesbd.com [৩] খবরটা ছাপিয়েছে। তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।

সহায়ক লিংক:
১. স্বপ্ন, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_4596.html
২. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৩. redtimesbd.com: http://redtimesbd.com/details.php?cat=4&id=14420

Friday, June 4, 2010

স্বপ্ন, তিন: দু-জন দুর্ধর্ষ মুক্তযোদ্ধা, স্যালুট ম্যান

আমার অনেক দিনের এই স্বপ্ন, নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়ার (যিনি জীবনের অনেকটা সময় ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন) কাছ থেকে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনবে। এই আগুন মানুষটার কাছ থেকে তাদের উপহার নেবে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ট্যাংক-মানব এম এ জব্বার। 
একজন রাজনীতিবিদ, একজন আমলার কাছ থেকে পুরস্কার নেয়ার চেয়ে এই দেশের এমন সেরা সন্তানদের হাত থেকে পুরষ্কার নেয়া যে অনেক মর্যাদার এটা এরা জানবে, জানবে এদের অভিভাবক। জানব আমরা। জানব আমি নিজেও।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল ন-টায়। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাদের খানিকটা দেরী হয়ে গেল। আমরা কেউ নেই অথচ বাচ্চারা এসে অডিটরিয়াম ভরে গেছে। প্রথমেই বাচ্চাদের কাছে আমরা বাজে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলাম। নিজেরাই সময় ঠিক করে সময় রক্ষা করতে পারলাম না। এই দায়টা আমার নিজের উপরও বর্তায়!
বাচ্চাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্ষমা চাইলাম এবং ঘুষ (!) হিসাবে প্রত্যেকটা বাচ্চার জন্য জুসের ব্যবস্থা করা হলো। :)
আমি অভিভূত। ১২টা স্কুল থেকে ৫৮জন বাচ্চা এসেছে। এতো বাচ্চা চলে আসবে এটা আমি ভাবিনি। 


নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া [১]
নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, বর্ণনা করছেন তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি [২]
 
ট্যাংক-মানব, মুক্তিযোদ্ধা এম, এ, জব্বার [৩]। বর্ণনা করছেন কেমন করে আস্ত একটা ট্যাংক নিয়ে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। (বাইরে ঝুম বৃষ্টি, পাওয়ার নাই। তবুও থেমে থাকেনি অনুষ্ঠান।)
 
চলছে আঁকাআঁকির যুদ্ধ।
এই আর্টিস্টকে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা, এটা কি আঁকছ? ও উত্তর দিল, বাঁয়েরটা মানুষ, ডানেরটা টেবিল। আমি আগ্রহ নিয়ে বললাম, বাহ, চমৎকার! তা এরপর কি হবে?
সে বলল, মানুষটা টেবিলে উঠে বসবে।
আমি বললাম, আচ্ছা।
 
এই বাচ্চাটা ইউএনও মহোদয়ের সন্তান। এখানে আমার নিজের সন্তানও আছে কিন্তু এখানে যেমন এই বাচ্চাটাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নাই তেমনি আমার সন্তানকেও। আমি নিজেও প্রচুর আঁকাআঁকি করেছি কিন্তু এখানে বিচারক হওয়ার জন্য সবিনয়ে না করেছি কারণটা পূর্বেই বলেছি আমার সন্তানও এখানে আছে। আছে, কারণ স্কুল থেকে ও এখানে অংশগ্রহণ করলে আমার করার কিছু নেই। 
যাই হোক, এর সমস্যা হচ্ছে, এ কেবল একটাই আঁক শিখেছে। শহীদ মিনারের অবয়বটার কিছু অংশ ভুলে গেছে। ভুলে গেছে তাই এখন তার সাথে নিয়ে আসা ছবিটা তাকে দেখতে দিতে হবে, যেটা সম্ভব না। অধিকাংশ স্কুলগুলো বাচ্চাদেরকে একটা ছবিই আঁকা শেখায়- বাচ্চারা ওই একটা ছবিই বছরের পর বছর ধরে আঁকতে থাকে। 
সে কাঁদছে। আমি বললাম, 'তুমি যা পারো তাই চেষ্টা করো'।
সে বিভ্রান্ত, 'মাথা নেড়ে বলল, আমি এটা ছাড়া আর কিছু পারি না'।
আমি আবারওবললাম, 'চেষ্টা করো পারবে'।
সে এদিক-ওদিক মাথা নাড়ছে, 'না-না-না, আমি পারব না'।
এই ভাবনাটা পূর্বেই আমার মাথায় ছিল। যে কারণে এই প্রতিযোগীতায় সুনির্দিষ্ট কোন বিষয় দেয়া ছিল না। যে যা খুশী আঁকবে। পারলে ভূত আঁকবে, সমস্যার কিছু নাই।
তার আঁকার চেয়ে বিচারকের দৃষ্টি কেড়েছে যেটা, এই ছবির নীচে লেখা ছিল, "স্বাধীনতার চেতনা থাকুক প্রতিদিন"।
এই মেসেজটা আমার পছন্দ হয়েছে। কারণ আমি যখনই এই অনুষ্ঠানটা করার চেষ্টা করেছি তখনই আমাকে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে, ডিসেম্বরে করার জন্য। আমাদের তো আবার কান্নার জন্যও বিশেষ মাস লাগে, আয়োজন লাগে।
 
বিচারক তাদের ছবি দেখছেন। বাচ্চাদের উদ্বেগ কমাবার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবার জন্য ছিল চিপসের ব্যবস্থা।
 
বিজয়ী শিশুদের কথা।
 

বাচ্চাগুলোর মন খারাপ করার সুযোগ ছিল না কারণ তিন গ্রুপে ৯টা পুরষ্কার ব্যতীত সব বাচ্চাদের জন্য (৫৮ জন) ছিল, একটা করে পতাকা, একটা কলম, একটা করে কার্টুন-স্টিকারের পাতা। শিশুরা যেমন এই দুই অতিথীর কাছ থেকে পুরষ্কার নিয়েছে তেমনি এরাও বিশেষ অতিথীদের জন্য উপহার দিয়েছে।
 
এই সেরা সন্তানদের কাছ থেকে আমিসহ এই অনুষ্ঠানে যারা সহযোগীতা করেছেন, প্রত্যেকেই পেয়েছেন একটা করে কলম। 
ডা. রুমি নামের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আমাকে খুব করে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর জন্যও একটা কলম নেয়ার জন্য। তাঁর পক্ষ থেকে আমি নিয়েছি।  এই মানুষটা খানিকটা অন্য রকম। তিনি যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যান, ট্রেনটা যখন আখাউড়া অতিক্রম করে; তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত না বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধিক্ষেত্র ট্রেনটা অতিক্রম করে যায়। 
অন্যরা কি করবেন জানি না, আমার কলমটা রেখে দেব যত্ম করে। আমার জন্য এরচেয়ে বড়ো উপহার আর নাই।

কৃতজ্ঞতা: আমার ভূমিকা এখানে একবারেই গৌণ। এই অনুষ্ঠানটা সফল করার পেছনে আছেন এক ঝাঁক তরুণ যারা সংবাদপত্র ভূবনের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। এঁরা সহযোগীতা না-করলে এই অনুষ্ঠানটা সফল হতো বলে আমি মনে করি না।
আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে 'পড়শী ফাউন্ডেশন'[৪]। তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক:
১. মুক্তিযুদ্ধে একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
২. আবারও অগ্নিপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html 
৩.  ট্যাংক-মানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html 
৪. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html 
৫. আমাদের কুমিল্লা: http://www.dailyamadercomilla.com/content/2010/06/05/news0745.htm

বৈদেশ পর্ব: পাঁচ

জার্মান এমব্যাসি নামের ভবনটায় গতকাল আমাকে আবারও যেতে হয়েছিল। আমি পূর্বের পোস্টে লিখেছিলাম, ওই বিল্ডিংটার দিকে তাকিয়ে আমি সিগারেটও ফুঁকতে চাই না। (আসলে লিখতে চেয়েছিলাম ইয়েও করতে চাই না, ভদ্রতা করে লিখিনি) তারপরও না-গিয়ে উপায় ছিল না।

আমার কাছের লোকজনেরা জানেন, ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি কোনো কাজ করতে পারি না, এই ক্ষমতাটাই নাই আমার। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তা বদলানো হয়েছে এমন উদাহরণ আমার গোটা জীবনে প্রায় নাই বললেই চলে। কারণ যে মানুষটা হাতে টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সে ক্যারিয়ার দিয়ে কী করবে! এর জন্য আমাকে মাশুলও কম দিতে হয়নি!
আমি ডয়চে ভেলেকে গুছিয়ে একটা মেইল করলাম, '...এরা আমাকে হেনেস্তা করার নাম করে আসলে আমার দেশকে অপমান করছে। আমি আমার অপমান না-হয় মেনে নেয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু আমার দেশের...। আমি দুঃখিত, আমি তোমাদের এই অনুষ্ঠানে থাকতে পারছি না'।

যাই হোক, সমস্যাটা হলো পরে, ডয়চে ভেলে থেকে যে ফোন আসল আমাকে এঁরা কোনো কথা বলারই সুযোগ দিচ্ছিলেন না। পুরো বাংলা বিভাগের সবাই আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। ভালবাসার দাবী বড়ো প্রবল, কেমন করে একে উপেক্ষা করা যায়? এই কৌশল আমার ভালো জানা নাই, জানা থাকলে ভালো হতো। 
কথাবাজ, এই সব অসম্ভব চৌকশ মানুষগুলো তাঁদের আস্তিনে লুকানো একের-পর-এক অস্ত্র বের করে ছুঁড়তে থাকেন। আমার প্রতিরোধ করার শক্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসে। পরাজিত আমি এই বলে নিজেকে প্রবোধ দেই কিছু পরাজয়েও সুখ আছে!
এও সত্য, এঁদের প্রয়োজন সমস্যাটা আমি বুঝি তদুপরি তাঁদের এই মমতার ঋণ আমি শোধ করি কেমন করে!

এইবার খুব উঁচু পর্যায়ের একজনের চিঠি সঙ্গে দেয়া হয়েছে। জার্মান ভাষায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা, কেন হের আলী মাহমেদের ওখানে থাকা প্রয়োজন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবং সঙ্গে আমার আসা-যাওয়ার ই-টিকেট। আমি এই সব নিয়ে জার্মান এমব্যাসিতে হাজির হই। 
জানি না কেন এবার এখানকার অনেকের মধ্যে সহযোগীতার মনোভাব দেখলাম, ওয়াচম্যান থেকে শুরু করে প্রায় সবাই। সবার সঙ্গেই এরা সদয় আচরণ করছিলেন। বিনা বাক্যব্যয়ে আমার ভাইকে ভেতরে বসতে দেয়া হয়েছে। চারজনের একটা দলের ফর্ম ছিল না, নিমিষেই এনে দেয়া হয়েছে।

আমার ধারণা ছিল জার্মান ভাষায় লেখা এই চিঠি এবং ই-টিকেট এই সব দেখাবার পর আমাকে বাড়তি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না। আমার ধারণা ভুল ছিল। যদিও প্রশ্নগুলো মার্জিত ছিল তারপরও একগাদা প্রশ্ন। আমি প্রশ্ন উত্তরে আকারে এখানে লেখার চেষ্টা করব। এবারে ছিলেন একজন বাঙালী মহিলা। তিনি ডয়চে ভেলে থেকে পাঠানো জার্মান ভাষায় লেখা চিঠিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লেন, ই-টিকেট দেখলেন।

প্রশ্ন: এখানে লেখা আছে, জার্মান এয়ারপোর্ট থেকে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে কিন্তু কোন নাম নেই। কে নিয়ে যাবে আপনাকে?
উত্তর: ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ থেকে কেউ একজন।
প্রশ্ন: কেউ একজন মানে নাম কি?
উত্তর: (আমি একটা নাম বলি)

প্রশ্ন: আপনি আখাউড়ায় থাকেন?
উত্তর: জ্বী।
প্রশ্ন: আপনি তাহলে ওখান থেকেই এই সব করেন?
উত্তর: এই সব মানে কি, ম্যাম?
তিনি বলেন: এই সব মানে লেখা-টেখা।
আমি: জ্বী। 
প্রশ্ন: ঢাকায় হলে সুবিধা হতো না?
উত্তর: আমার কাছে এটা জরুরি মনে হয় না। তাছাড়া ঢাকা একটা বসবাস অযোগ্য নগরী।

প্রশ্ন: আপনার ব্যাংক একাউন্ট তো অন্য নামে?
(এই পর্ব আগেই শেষ হয়ে গেছে কারণ এটাতে টিক চিহ্ন দেয়া আছে। ঈশ্বর, আবারও!)
আমি: হ্যাঁ, অন্য নামে। এটা আমাদের পারিবারিক ব্যবসার একাউন্ট, পরিবারের প্রধান হিসাবে যার স্বত্বাধিকারী আমি।
প্রশ্ন: আপনার এই ব্যবসা কি এখনো আছে?
উত্তর: না নেই, ওই কোম্পানির সঙ্গে লিগ্যাল ফাইট চলছে- আমিই স্যু করেছি।

প্রশ্ন: আপনার কি অন্য আর কোন ব্যাংক স্টেটমেন্ট নাই?
উত্তর: না, নাই।

প্রশ্ন: জার্মানীর ডয়চে ভেলের এই অনুষ্ঠানে গিয়ে আপনি কি করবেন?
উত্তর: ওখানে বিভিন্ন ভাষার লোকজন থাকবেন। বাংলা ভাষা থেকে আমার থাকার কথা। বিস্তারিত আমি জানি না।
প্রশ্ন: আপনি যে ওয়েব সাইটে লেখেন এটা থেকে কি টাকা পয়সা পাওয়া যায়?
উত্তর: না।
প্রম্ন: আপনি কি বিষয় নিয়ে লেখেন?
উত্তর: ঠিক নাই। যে প্রসঙ্গ নিয়ে লেখার প্রয়োজন হয় সেই বিষয় নিয়েই লিখি।

প্রশ্ন: আপনার ওয়েব সাইট কি এখান থেকে দেখা যাবে?
উত্তর: কেন দেখা যাবে না। আলী হাইফেন মাহমেদ ডট কম। ইউনিকোড সাপোর্ট করলে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: আপনি কি প্রতিদিন লেখেন?
উত্তর: হ্যাঁ।

প্রশ্ন: কাল আপনি কোন লেখাটা লিখেছেন?
(কুখ্যাত স্মৃতিশক্তির জন্য আমি বিখ্যাত। প্রায়শ আমি মনে রাখতে পারি না আমি শেষ লেখাটা কি লিখেছিলাম, শেষ খাবারটা কী খেয়েছিলাম। )
কিন্তু আমি বিস্মিত, গতকালের লেখাটা আমার মনে আছে। তো, বললাম। ভাগ্যিস, মনে ছিল নইলে এই সাইটটা আমার এটা প্রমাণ করা মুশকিল হয়ে যেত। যদিও জার্মান ভাষার চিঠিতে সবই লেখা আছে। আলাদা করে বাড়তি কাগজ হিসাবে ডয়চে ভেলের আমাকে নিয়ে লেখা আর্টিকেলও এখানে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি হেলথ ইন্সুরেন্স করেছেন এক মাসের কিন্তু আপনার টিকেট চার দিনের। আপনাকে তো এক মাসের ভিসা দেবে না।
উত্তর: আমার তো এক মাসের ভিসার প্রয়োজন নাই। কারণ আমি কাজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিরব। আমাকে ঘুরে বেড়াবার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু আমি আগ্রহ দেখাইনি!
(এবার তিনি বললেন, না, আপনার হেলথ ইন্সুরেন্স কম দিনের জন্য করলে টাকা কম লাগত।)
এবার বললেন, কেন, আপনি ঘুরতে চাননি।
আমি আমার বাসায় অতি দ্রুত ফিরতে চাই
কেন?
আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিলাম না।

প্রশ্ন: আপনার পাসপোর্টে লেখা জার্নালিস্ট। আপনি কোত্থেকে এই কোর্স করেছেন?
উত্তর: আমি বিভিন্ন পত্রিকায় ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিকতা করেছি। তারপরও পেশা জার্নালিস্ট দেয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না। আমি লেখালেখির সঙ্গে জড়িত, তাই ইচ্ছা ছিল লেখক দেয়ার কিন্তু পাসপোর্ট করার সময় পেশা হিসাবে লেখক দেয়ার বিধান রাখা হয়নি বিধায় জার্নালিস্ট দেয়া হয়েছে। 
(এ একটা আরেক বিচিত্র! একজন পেশা হিসাবে লেখক লিখতে পারবেন না।)
প্রশ্ন: আপনি যে পত্রিকায় লিখতেন এগুলোর কপি কি এনেছেন?
উত্তর: না।
প্রশ্ন: আনলে ভাল হতো না?
উত্তর: কারণ এগুলো আনতে আমাকে বলা হয়নি।

প্রশ্ন: আপনার পড়াশোনা কি?
উত্তর: আমি একজন সাধারণ গ্রাজুয়েট।
প্রশ্ন: আপনার সাথে কি বিজনেস কার্ড আছে?
উত্তর: না, নাই। এই জিনিস আমি ব্যবহার করি না।
(লেখক ব্যতীত এই জিনিসটা একচেটিয়া অন্যদের দখলে। আফসোস, লেখকদের ভিজিটিং কার্ড নামের জিনিসটা এখনও চালু হয়নি! ব্যাটা লিখবেটা কি ওখানে?)

প্রশ্ন: আপনার কনটাক্ট নাম্বার দিন। 
আমি আমার সিটিসেল নাম্বারটা দিয়ে মনে মনে ভাবি, ওই পুলিশ অফিসারের মত ইনিও আবার বলে বসবেন না তো, সিটিসেল তো রিকশাওয়ালারা ব্যবহার করে [১]

একজন লেখক অখ্যাত, কুখ্যাত পরের কথা কিন্তু এত সব একজন লেখকের থাকলে সে কোন দুঃখে লেখক হতে যাবে? শেষঅবধি যদি আমার জার্মান যাওয়া হয়, ঠিক করেছি ফেরার পর আমার পাসপোর্টটা ফেলে দেব। আমার কাছে এটা বাহুল্য- আমার মতো তিন টাকা দামের কলমবাজের আদৌ এটার প্রয়োজন নাই। নো পাসপোর্ট-নো ভিসা-নো ব্যারিয়ার [২]। এর সঙ্গে এখন যোগ করি, নো ক্যারিয়ার।

(ভিসা প্রসেসিং ফি জমা নিয়ে এবং কাগজগুলো রেখে দশ তারিখ আসার জন্য বলা হলো। আমি মনে মনে ভাবি, আবারও ঢাকা নামের কংক্রিটের বস্তিতে আমাকে আসতে হবে!) কপাল!

ওসময়ও ক্লান্তি লাগছিল, এখনও। অহেতুক ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে। বড়ো ক্লান্ত লাগছে- ইচ্ছার বিরুদ্ধে, প্রতিকূল স্রোতে সাঁতরাতে গিয়ে অফুরন্ত শক্তি ফুরিয়ে যায়...।

*বৈদেশ পর্ব, ছয়: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_29.html

সহায়ক লিংক: 
১. সিটিসেল নাম্বার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_9310.html 
২. নো পাসপোর্ট-নো ভিসা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_30.html

Thursday, June 3, 2010

আমাগো ছাওয়াল ফিরা আসছে!

আমাদের মুসাকে নিয়ে আমরা উল্লাস করবই। এই মানুষটা এই দেশের প্রথম সন্তান যিনি আমাদের জন্য এমন একটা কাজ করে দেখিয়েছেন যা অন্যরা পারেনি। স্যালুট। কালের কন্ঠের মত দানব বানাবার কারখানা [১] কি বলল, না বলল তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না। সে প্রসঙ্গ থাকুক। 

আমি একটায় লেখা লিখেছিলাম, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক [১]। এসেছে-এসেছে, কী আনন্দ-কী আনন্দ! এই দেশের গর্ভ (টাইপে ভুল হয়েছে, পড়বেন গর্ব), আনিসুল হক সহি সালামতে দেশে ফিরে এসেছেন।

এই ছবিটায় আনিসুল হকের নাম না থাকলে আমার বুঝতে সমস্যা হতো কোনটা মুসা, কোন আনিসুল হক। কী পোশাকে, কী মাথার ফেট্টিতে, কী হাসিতে! 

ভাল কথা, মুসা ২ আঙ্গুল দেখালে আনিসুল হকের এটা কি উচিৎ না অন্তত দেড়টা আঙ্গুল দেখানো।

তাঁর ত্যাগও কী কম? কত বড়ো ঝুঁকি তিনি নিয়েছেন! একজন লেখক হওয়ার পরও তিনি আমাদের জন্য হাসিমুখে দাঁত বের করে চৌর্যবৃত্তি করেছেন [২]। 
কেবল করেনইনি, বমাল ধরা পরার পরও বিন্দুমাত্র বিব্রত হননি। কোথাও এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে আমার জানা নাই। কেবল দায়সারা গোছের এটা লিখেই দায় সেরেছেন, "...ফোন আসতে লাগল ডয়েচে ভেলে, বিবিসি থেকে। তারপর তিনি পেলেন আমার ফোন।"  
বেমালুম ভুলে গেলেন তার এই লেখাটা, '...এটা ২৫ মে কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের বেসক্যাম্পের ফোনে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রথম কোন বাঙালির কথোপকথন। এবং প্রিয় পাঠক, এই ঐতিহাসিক কথোপকথনটা আপনি পড়ছেন, আপনিও কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী। ভবিষ্যতে নাতি-নাতনিদের এই গল্প আমরা করতে পারব। হা হা হা...'।" 

ওহ, আমি যে লিখলাম, বমাল ধরা পড়েছেন এই কথাটায় খানিকটা ভুল আছে। বমাল মানে হচ্ছে মাল সহ, ওয়েব সাইটের জন্য এটা সম্ভবত প্রযোজ্য হবে না। বমালের জায়গায় বলা যেতে পারে, 'ওমাল'।
তো, চুরির মত এতো বড়ো একটা ঝুঁকিই কেবল নেন নাই, তিনি যেভাবে মুসাকে বুকে আগলে নিয়ে এসেছেন, দাঁতসহ ফটোসেশন করেছেন এই জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নইলে মুসা দেশে ফিরতে পারতেন কি না সন্দেহ।

আনিসুল হকের কী একেকটা লেখার যাদু! লিখেছিলেন, 
"প্রথম আলো ফুটছে। সূর্যের প্রথম রশ্মি এসে পড়ল এভারেস্টের চুড়ায়। ঠিক তখনই আমি এভারেস্টের মাথায়। আমার কী যে ভাল লাগল। এই আলো। এই আমার স্বপ্নপূরন। ২৩ মের প্রথম আলোকরশ্মি এভারেস্টের চুড়ায় আমাকে স্বাগত জানাল।"
কেবল তিনি দয়া করে এটা লিখেননি, এক ইয়েতিকে দেখলাম এভারেস্টের চুড়ায় বসে প্রথম আলো পত্রিকায় আনিসুল হকের লেখা গভীর মনোযোগের সঙ্গে পাঠ করছে। আমরা পাঠক আর খানিকটা নির্বোধ হলে তিনি এই জিনিসও প্রসব করতেন এতে কোন সন্দেহ নাই। 

আমি বিস্মিত, অবাক হলাম, প্রথম আলো পত্রিকাতেও মুসাকে নিয়ে আনিসুল হক আছেন। পত্রিকায় পড়লাম, মুসার সঙ্গে তার সহযোদ্ধা তিন শেরপা এসেছেন। আমি অনেক সুখি হতাম এখানে আনিসুল হকের চাঁদবদন দেখার চেয়ে মুসার সঙ্গে ওই তিন শেরপার ছবি দেখলে। এবং তাঁরা নাকি এই দেশে প্রথমবারের মত এসেছেন।

আচ্ছা, এই মানুষটার কি বিন্দুমাত্র লাজ নাই। এই মানুষটা তো কেবল একজন সাংবাদ কর্মীই না একজন লেখকও। অন্তত নিজের পত্রিকায় ফটোসেশনের বেলায় সরে গেলে কী সূর্য খানিকটা কি নীচে নেমে আসত! একটা মানুষ এতোটা নির্লজ্জ হয় কেমন করে?

*ছবি ঋণ: সুবীর কুমার, আমাদেরসময় 

সহায়ক লিংক:
১. দানব বানাবার কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_28.html 
২. চৌর্যবৃত্তির নমুনা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html 
৩.ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_29.html 

Tuesday, June 1, 2010

ডিজিটাল জাদু!

কালের কন্ঠ আমাদেরকে চমকের পর চমক দেখিয়েই যাচ্ছে। এদের কল্যাণে নাইব উদ্দিন আহমেদের অতি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের ছবি হয়ে যায় সংগৃহিত [১]। পাঠক ভুল ধরিয়ে দিলে সেই পাঠকের মন্তব্যও [২] উধাও হয়ে যায়। যাদু-যাদু!

আমরা যারপর নাই মুগ্ধ! কালের কন্ঠ এখন আমাদেরকে জানাচ্ছে, অন-লাইনে তাদের পাঠক সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ! ৩১ মে, ২০১০, এদের অন-লাইন পাঠক সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬৫ হাজার।
একই কান্ড প্রথম আলোও করত। এই বিষয়টা প্রথম আলো দীর্ঘ সময় চালু রেখেছিল। এখন প্রথম আলো চর্বিতচর্বণ-জাবরকাটা বন্ধ করেছে। এখন আর প্রথম আলোর অন-লাইন যাদুটা আর দেখতে পাওয়া যায় না।


কালের কন্ঠের এই খবরটা অতি আনন্দের সংবাদ! কিন্তু এলেক্সা বলছে, কালের কন্ঠের ট্রাফিক র‌্যাঙ্ক প্রায় ২৫ হাজার। যে পত্রিকার অন-লাইন পাঠকসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ এদের ট্রাফিক র‌্যাঙ্ক আনুমানিক ১০ হাজারের নীচে হওয়ার কথা, অন্তত। 
হতে পারে এটা বিদেশী চাল- এলেক্সা 'কানডামি'-পক্ষপাতিত্ব করছে, ঠিক হিসাবটা দিচ্ছে না। আমি এই বিদেশী চালের নিন্দা জানাই- এদের কালো হাত আরও কালো হোক, কালো হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।

এই গ্রাফটা যদি লক্ষ করি, তাহলে আমরা দেখতে পাব নীচের রেখাটা কালের কন্ঠের এবং উপরের রেখাটা প্রথম আলোর। একা কালের কন্ঠেরই অন-লাইন পাঠকসংখ্যা তিন লক্ষ হলে প্রথম আলোরটা যোগ করে দিনে দিনে এদের অন-লাইন পাঠক সংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে গেলেও আমি বিস্মিত হবো না। কারণ এ যে ডিজিটাল যাদু!

এই সব বিষয়ে অবশ্য আমার জ্ঞান বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া আমলাদের চেয়েও অনেক কম। বুঝতে খানিকটা সমস্যা হয়। 
আচ্ছা, অন-লাইন পাঠকসংখ্যা বলতে এরা কি বলতে চাইছে? একজন পাঠক ছত্রিশবার ক্লিক করে এদের খবর পড়লে সে কি একজন পাঠক, নাকি ৩৬ জন পাঠক হিসাবে বিবেচিত হবে?
আরও জানার ছিল, কালের কন্ঠের সাইটটা আমি রিফ্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে দেখেছি এদের পাঠক সংখ্যা ধাঁ ধাঁ করে বাড়ছে। একবার রিফ্রেশেই ১০০/১৫০ করে পাঠকসংখ্যা বাড়ছে! 
মানেটা দাড়াচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে অনেকজন করে এই সাইটটাতে পদধুলি দিচ্ছে (দুঃখিত, পদধুলি হবে না, হবে পদ-কাদা। কারণ এখন বর্ষাকাল, ধুলি বড়ো দুর্লভ!)। 
বাহ, চমৎকার তো- কপারফিল্ডের পর কালের কন্ঠের ভক্ত হলুম। এরা দানব বানাবার কারখানার [৩] পাশাপাশি কতো ধরনের যে কারখানা খুলে রেখেছে এর ইয়াত্তা নাই।

সহায়ক লিংক:
১. নাইব উদ্দিন আহমেদ, সংগৃহিত: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_6688.html
২. চোট্টামি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_08.html

৩. দানব বানাবার কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_28.html

Monday, May 31, 2010

রোপণ করছি একেকটা বিষ-বৃক্ষ

এখন পর্যন্ত জানা গেছে, পাকিস্তানের লাহোরে দু্ই মসজিদে অন্তত ৮০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এটার চেয়ে এই গ্রহে আর বড়ো কোন অন্যায় আছে কি না আমি জানি না। এই অন্যায়ের সঙ্গে উইকিলিকসের [১] দেখানো আমেরিকা নামের দানবদের সেই বর্বোরিচিত হামলাও নস্যি। 
যে যার বিশ্বাসমতে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনার সময়, কাউকে হত্যা করার মত জঘণ্য কাজ আর কিছু হতে পারে না।

আমি কোথাও লিখেছিলাম, "মানুষ যেহেতু প্রাণ সৃষ্টি করতে পারে না তার কোন অধিকার নাই কারও প্রাণ নেয়ার, এমন কি নিজেরও"।
কিন্তু যারা প্রার্থনাস্থলে হামলা চালায় এই সব দানবদের মেরে ফেলতে হবে, চোখের পলক না ফেলে। আমার এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, মানুষ নামের কোন দানব এমন কান্ড করতে পারে!

তারচেয়েও বেশি আমি এটা পড়ে স্তম্ভিত, হতভম্ব। আমাদের কিছু কম্যুনিটি ব্লগ নামের সো-কলড দেশপ্রেমের চাদর গায়ে দেয়া দেশপ্রেমিকরা এই বর্বরোচিত হত্যা নিয়ে উল্লাস করেছে, রসিকতা করা হয়েছে!

কেন? আর কিছু না, এদের বক্তব্য, এই পাকিস্তানিরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের উপর ভয়াবহ অন্যায় করেছে। উল্লাসটা এর শোধ! আমি নিজে যদি এটা না পড়তাম তাহলে বিশ্বাস করতাম না, আমার দেশের মানুষ এতোটা হৃদয়হীন হতে পারে! 
এরা কারা? এরা কি ৭১-এর পরবর্তী কাল্পনিক মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করা 'নব্য মুক্তিযোদ্ধা'? যারা স্বঘোষিত দেশপ্রেমিক(!)। দেশপ্রেমিক, হাহ, এত্তো সোজা? এটা কি মুড়ি-মুড়কি যে বাজারে কেজি দরে বিক্রি হয়? দেশপ্রেমিক কাকে বলে এই মানুষটাকে দেখে শেখেন [২]

এখন মুক্তিযুদ্ধটা একটা ফ্যাসানের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আসল মুক্তিযোদ্ধা, দুধর্র্ষ নৌকমান্ডো এখন ঠেলা চালান [৩], একজন ট্যাংকমানব [৪] আকাশপানে তাকিয়ে হাহাকার করেন। আর যারা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা হয় একাত্তরে গর্তে লুকিয়ে ছিলেন নয়তো তখন জন্মই হয়নি। এরাই এখন বড়ো দেশপ্রেমিক সাজেন, ভার্চুয়াল ভুবন কাঁপিয়ে তোলেন। 
এরা গালির বন্যা বইয়ে দেন। দেশপ্রমিক(!) সাজার জন্য কুৎসিত ভাষায় গালাগালি করার নিয়ম আছে। অন্যের মা, প্রকারান্তরে নিজের মাকে নিয়েই কুৎসিত ভাষায় আক্রমন করারও প্রয়োজন আছে। যে গালিগুলো দিতে এই গ্রহের অতি নোংরা মানুষগুলোও দ্বিতীয়বার ভাববে এরা এখানে এসে অবলীলায় বলেন। 
আমার পূর্বে ধারণা ছিল, এই অসভ্য মানুষগুলো অসুস্থ, এদের চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এরা চিকিৎসার বাইরে।

আসলে আমরা বড়ো গুজুগে জাতি [৫]। বিশ্বকাপের আবেগে একটা পতাকা নাহয় লাগালামই কিন্তু একজন ১০ গজ কাপড়ের লাগাচ্ছে তো অন্যজন ২০ গজ কাপড়ের পতাকা! অথচ আমি নিজের চোখে দেখেছি, সরু বাঁশের ঝাড়ুর উল্টোদিকে স্বাধীনতা দিবসে আমাদের বিবর্ণ পতাকা লাগাতে!

একজন মুক্তিযোদ্ধার উদাহরণ দেই। তার সনদ-সার্টিফিকেটের বহর দেখে আমার মাথা খারাপের মতো হয়ে গেল। কয়টা না, বলুন কয় শো। 
অথচ যুদ্ধের সময় এর বয়স ছিল খুব জোর সাত। শেলের একটা টুকরা পড়ে এর নিম্নাঙ্গ উড়ে যায়। একে চিকিৎসার জন্য ভারতে নেয়া হয় এরপর রাশিয়ায়। এটাকে পুঁজি করে এ একের পর এক সার্টিফিকেট যোগাড় করেছে। এখন তাকে মুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত যে কোন সভায় সামনের কাতারে পাওয়া যায়। যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা এ ভোগ করছে, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত!

আচ্ছা, এই শিক্ষাটা এরা কোত্থেকে পেল? গোটা একটা দেশকে, গোটা একটা জাতিকে ঘৃণা করার? একাত্তরের কি পাকিস্তানের সমস্ত মানুষ মিলে আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল? আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি আর্মি, গুটিকয়েক মানুষের নির্দেশে। 
এরা কেন আমেরিকাকে একই ঘৃণা করতে আগ্রহ বোধ করে না- আমেরিকায় যাওয়ার কথা আসলে দেখি লালায় পা ভিজে যায়!

আসলে আমাদের শিক্ষায় গলদ আছে, একজন প্রফেসর সাহেব করেন বাথরুম উদ্বোধন [৬] করেন, মিডিয়া আমাদের ঘটা শেখায় কেমন করে একটা লাশকে [৭] অপমান করতে হয়। বিশেষ মাসে কেমন করে আয়োজন করে [৮] কাঁদতে হয়!

পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশের সৈনিকদেরই গড়ে তোলা হয় একেকটা রোবট হিসাবে। এদের নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলতে কোন শব্দ থাকে না। নির্ভর করে তার কমান্ডারের কমান্ডের উপর [৯]। এদের ঘিলুর ব্যবহার করার অধিকার হরণ করা হয়!

আমরা নিজেরা কি করেছি? বিভিন্ন সময়ে আদিমানুষদের বিরুদ্ধে আমাদের সুসজ্জিত আর্মি লেলিয়ে দিয়েছি। আমরা নিজেরাও এদের ভুবন তছনছ করে দিয়েছি [১০]। কিন্তু এই দেশের সবাই কি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত? 
এখন এটা কেমন হবে, আদিমানুষরা যখন এই দেশের সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা লালন করবে। আমাদের মা-রা যখন হাহাকার করে কাঁদবে এরা দাঁত বের করে হাসবে! এরা কি এদের সন্তানদের এই শিক্ষা দিয়ে বড়ো করবে এই দেশের আপামর জনগণের প্রতি ঘৃণা নিয়ে বেড়ে উঠো। 
এরাও কি রোপণ করবে আমাদের মতো করে একেকটা বিষবৃক্ষ [১১]?

এটা সত্য, আমরা অভাগা-নপুংসক, পাকিস্তানি আর্মিদের নৃশংসতার বিচার করতে পারিনি। এও সত্য পাকিস্তান এখনও তার কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চায়নি- অবশ্য পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীদের একটা অংশ নতজানু হয়েছেন। 
পাকিস্তানিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার আমাদের খুব একটা চেষ্টা ছিল এমনটা বলা চলে না। পাকিস্তানি প্রাইম মিনিস্টার যখন আমাদের দেশে আসেন তখন আমরা লেজ নাড়তে নাড়তে তাকে স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাই। এটা তো প্রটোকলের পর্যায়ে পড়ে না! তখন আমাদের এই সব দেশপ্রেমিকরা কই থাকেন? তখন সবাই অন্তত বুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে ঘৃণার প্রকাশটা করেন না কেন?
কেউ কেউ বলার চেষ্টা করবেন, এটাও আমাদের কম অর্জন না যে তাকে আমরা স্মুতিসৌধে নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করিয়েছি। আমার মত হচ্ছে, অন্যায় স্বীকার না করে কেবল দেখাবার জন্য এই নাটকের প্রয়োজন নাই।

ভার্চুয়াল ভুবনে দেশপ্রেমিক সাজা খুব সোজা কারণ এখানে গায়ে আঁচড়টিও লাগে না। আরও সোজা প্রবাসে বসে বসে দেশউদ্ধার করলে, ধর্ম নিয়ে লম্বালম্বা বাতচিত করলে। ওহে, নব্য মুক্তিযোদ্ধা, বৈদেশে না থেকে দেশে এসে দেশউদ্ধার করেন না কেন?
ধর্মের নামে দেশ রসাতলে যাচ্ছে, এটা দেশে এসে কোন এক জুম্মাবারে কোন মসজিদে দাঁড়িয়ে মুখ থেকে আগুন বর্ষন করুন, তবে বলসগুলো বাড়িতে রেখে আসবেন এই আমার পরামর্শ কারণ পরে এগুলো খুঁজে পাবেন না।

এদের শিক্ষাটাই এমন, বিষবৃক্ষ গাছে বিষবৃক্ষই ধরবে, জয়তুন ফল ধরবে না। আমাদের যে এসব শেখানো হচ্ছে অহরহ- যেসব মানুষগুলো একটা লাশকে সম্মান করতে জানে না তাদের কাছ থেকে এই সব অমানবিক আচরণ পাওয়া যাবে এ আর বিচিত্র কী!

৭১-এ পাকিস্তানি যে মানুষটা এই দেশে ভয়ংকর অপরাধ করেছে, ৩৯ বছর কেন ৩৯০ বছর পরও আমি তার বিচার চাইব কারণ রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না [১২]। কিন্তু এই মানুষটারই মা যখন আকাশ ফাটিয়ে কাঁদবে, ওই মাটার সঙ্গে আমিও কাঁদব। এটা আমার ব্যক্তিগত কান্না। 
আমার এই কান্নার জন্য কারও কাছে জবাবদিহি করার আগ্রহ প্রকাশ করি না। আপনাদের মতো মুক্তিযুদ্ধের এমন আবেগেরও [১৩] আমার প্রয়োজন নাই।

সহায়ক লিংক:
. দানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_15.html 
২. দেশপ্রেমিক যারা: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html 
৩. মুক্তিযোদ্ধা, একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
৪. মুক্তিযুদ্ধে একজন ট্যাংকমানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html 
৫. হুজুগে বাংগাল: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_25.html 
৬. বাথরুম উদ্বোধন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_20.html 
৭. মিডিয়া- লাশ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_28.html 
৮. মিডিয়ার আয়োজন করে কান্না: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_18.html 
৯. রোবট, আমি এখনই মরতে চাই না: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_15.html 
১০. আদিমানুষ, পড়ো আমাদের নামে: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html 
১১. বিষবৃক্ষ গাছ: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_6667.html 
১২. রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_18.html 
১৩. মুক্তিযুদ্ধের আবেগ: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_07.html