Search

Saturday, January 10, 2009

জুইশদের দানব হয়ে উঠা।

জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস প্রায় ৩০০০ বছর পুরনো। ইহুদি ধর্ম মূল ধর্মগুলোর প্রাচীনতম। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলিদের আদিবাস ছিল, তবে তারা এখন তাদের জায়গা বলে যেটা দাবি করছে তা নিয়ে জোর বিতর্ক আছে।
মোজেস বা মুসা নবী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সম্প্রদায়ের সুখের সময় ছিল খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ বছর আগে ডেভিড বা সম্রাট দাউদের সময়। ডেভিডের সময় সলোমন বা সোলেইমানের সময়েও ইহুদিদের সোনালি সময়। কিন্তু সলোমনের মৃত্যুর পর ইহুদি জাতি ২ ভাগে ভাগ হয়ে যায়। অ্যাসিরিয়ানদের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে ইহুদিরা ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে।


ইজিপশিয়ান ফারাওদের সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলার পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। মুলত ইহুদিদের সঙ্গে চরম সম্পর্ক খারাপ ছিল খ্রীস্টানদের। খ্রীস্টানদের অনেকে ইহুদিদের যিশুর হত্যাকারি বলে মনে করত। ইহুদিদেরকে অভিশপ্ত জাতি মনে করত। ইহুদিদের দেখা হতো নিচু চোখে। ইহুদিদের জীবনটা হয়ে পড়ে যাযাবরের মত, কেবল এখান থেকে সেখানে তাড়া খেয়ে বেড়ানো। তারা পরিশ্রমের কাজের চেয়ে বেছে নিত কম পরিশ্রমের মাথা খাটাবার সূক্ষ-বুদ্ধির কাজ।

ইউরোপে এদের সম্বন্ধে কেমন ধারণা ছিল এটা বোঝা যাবে ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে। শেক্সপিয়ারের 'শাইলক' ইহুদি চরিত্রটি, যে এমন নির্মম টাকা আদায়ের জন্য গায়ের মাংস কেটে নিতেও পিছ-পা হয় না। বা নিকোলাই গোগলের 'তারাস বুলবা' উপন্যাসের ইহুদি চরিত্র ইয়ানকেল।

মুসলমানদের সঙ্গে তাদের ছিল সুসম্পর্ক। সম্পর্কের অবনতি হয় অনেক পরে। ইউরোপে তাড়া খেয়ে এরা অবশেষে মিডল-ইস্টে ঢোকা শুরু করে। এখানে ইউরোপিয়ানদের সূক্ষ চাল ছিল; যেহেতু এরা ইহুদিদের পছন্দ করত না তাই তারা চাচ্ছিল এই বোঝা মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে। আর ইহুদিরাও চাচ্ছিল হাজার-হাজার বছরের যাযাবরের জীবনের অবসান।

জুইশ কমিউনিটির বা ইহুদিদের লোকসংখ্যা মাত্র দেড় কোটি। এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পৃথিবীময়। তাই তো আইনস্টাইন বলেছিলেন, There are no German Jews, There are no Russian Jews, There are no American Jews ...There are in fact only Jews.
আসলেই এরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক- এদের একতা, ভিশন নিয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বপ্ন দেখেছে ইসরাইল নামের স্বপ্নভূমি, যে কোন মূল্যে। ৩০০০ হাজার বছর আগে মিডলইস্টের কোন এক জায়গায় তাদের জন্মভূমি ছিল এই যুক্তিতে গায়ের জোরে দখল নেয়াটা এদের পক্ষেই সম্ভব।
এই বিষয়ে ইউরোপিয়ানদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে ইয়াসির আরাফাতের স্পষ্ট বাক্য ছিল,'ইসরাইলীদের জন্য আপনাদের এতো দরদ থাকলে ইউরোপ, আমেরিকায় আপনাদের বিস্তীর্ণ ভূমি রয়েছে, আপনারা ওখান থেকে জমির ব্যবস্থা করে দিন। দয়া করে আমাদের জমি দিতে বলবেন না, শত-শত বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি'।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে গণহারে ইহুদি নিধন শুরু হয় বা বিভিন্ন সময়ে খ্রীস্টানরা এদের উপর যে অত্যাচার করেছে, সেই অত্যাচার এরা এখন কয়েক গুণ ফিরিয়ে দিচ্ছেভাগ্যের রসিকতা সেই রোষ, দানবীয় আচরণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে মুসলমানদের।

এরা কেমন দানব হয়ে উঠেছে এর একটা উদাহরণ হতে পারে এটা। ১১০ ফিলিস্তানিকে একটা ভবনে আটকে রেখে বোমা মেরে প্রায়
সবাইকে মেরে ফেলে, এতে অন্তত ৩০জন শিশু, নারি ছিলেন। 

(গড থেকে আল্লাহ আবার একটু ঘুমকাতুরে বেশি। নাকে জয়তুনের তেল দিয়ে ঘুমানোটা ভারী আরামপ্রদ তাঁর জন্যে। এতে সমস্যা নাই কিন্তু 'ইচ্ছা-মৃত্যুর' অপসন থাকলে বেশ হত। ইচ্ছা-মৃত্যুর ব্যবস্থা থাকলে আমি মৃত্যু কামনা করতাম এক্ষণ, এই মুহূর্তে, নির্বিকারচিত্তে।) 

*ছবিসূত্র: ইন্টারনেট, সোর্স, বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

কর্নেল তাহের, তোমাকে কি স্পর্শ করতে পারি?


(২১.০৭.০৮ প্রথম আলো তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাহের সম্বন্ধে একটা শব্দও পাইনি বলে খানিকটা ধন্ধে আছি, সত্যিই কী এই দিনটিই তাঁর মৃত্যু দিবস ছিল? নাকি মুক্তচিন্তার দৈনিক দামি স্পেস নষ্ট করেনি! তাই যদি হয়, জয়তু মুক্তচিন্তা- বেঁচেবর্তে থাকো, ক্ষণে ক্ষণে মুক্তচিন্তা প্রসব করো! আমি বলি কি, চুতিয়ার খাতায় নাম লেখাও! )

আমি অবশ্য তাঁর মৃত্যুর দিনকে মৃত্যু দিবস বলে মনে করি না। আজ এই অগ্নিপুরুষের কেবল খোলস বদলাবার দিন। আসলে এমন অগ্নিপুরুষকে মেরে ফেলা যায় না, কারও সাধ্য নাই, যমেরও।
... ... ...
এমসি কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটা আর্মস স্ট্রাগল করার জন্য তিনি মিলিটারি ট্রেনিং নিতে আর্মিতে ভর্তি হবেন। ঠিক-ঠিক আর্মিতে জয়েন করলেন।
কমান্ডো মেজর আনোয়ার হোসেন (অব:) লিখেছিলেন এই অগ্নিপুরুষকে নিয়ে:
‌'১৯৬৭ সাল। আমি পাকিস্তানে ট্রেনিং নিচ্ছি। ওসময় পরিচয় কর্নেল (তৎকালীন মেজর) আবু তাহেরের সঙ্গে। কথাবার্তা হচ্ছিল বাংলায়:
কর্নেল তাহের: বাঙালী কমান্ডো তুমি?
আনোয়ার: ইয়েস স্যার।
কর্নেল তাহের: আমার খুব আনন্দ হচ্ছে তুমি কমান্ডো হচ্ছো, কিন্তু ভুলবে না, পরাধীন দেশ স্বাধীন করতে হবে।
আনোয়ার : স্যার, পরাধীন, পাকিস্তান তো স্বাধীন দেশ! কিসের কথা বলছেন বুঝতে পারছি না!
ক. তাহের (রাগী স্বরে): গোল্লায় যাক পাকিস্তান। তুমি একজন বাঙালী কমান্ডো, বুঝতে পারছ না কোন দেশ স্বাধীন করতে হবে?'
আনোয়ার স্তম্ভিত হলেন।
১৯৬৭ সালে বাঙালী নেতাদের মুখেও দেশ স্বাধীন করার কথা শোনা যেত না। অথচ একজন সৈনিক হয়ে কী দুর্দান্ত বিশ্বাস নিয়েই না উচ্চারণ করলেন।

একটা স্বপ্ন- জান্তব, অদেখা স্বপ্ন! এই স্বপ্ন কেবল অল্প ক-জন মানুষই দেখতে পায়, তাহের তাঁদের একজন।

কমান্ডো তাহেরের অসমসাহসিকতার বর্ণনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অতি সাহসী মানুষরাও তাঁর অতুল সাহসের কথা স্মরণ করে
এখনও শিউরে ওঠেন। নবীন কমান্ডোরা দূর থেকে তাহের নামের মানুষটাকে দেখে ফিসফিস করত, 'লুক, জেন্টলম্যান, দিস ইজ তাহের, আ লিজেন্ট ইন দ্য হিস্ট্রি অভ কামান্ডো ট্রেনিং। ...আ ম্যান ক্যান নট বী আ তাহের। হী ইজ আ সুপার, এক্সেপশনাল'।
তাঁর সার্টিফিকেটে লেখা ছিল, তিনি পৃথিবীর যে কোন দেশের, যে কোন সেনাবাহিনীর সঙ্গে, যে কোন অবস্থায়, অনায়াসে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত রণাংগন। তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসেন। অমিত সাহস নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একটাই স্বপ্ন, সিংহাবলোকন ন্যায় তাহেরের, স্বাধীন দেশ।
পাক কমান্ডাররা তাহের সম্বন্ধে তাদের সৈনিকদের হুশিয়ার করে দিত, 'ইয়াংম্যান, বী আ্যওয়ার অভ তাহের। হী ইজ আ ভলকানো, আ হানড্রেড পার্সেন্ট এক্সামপল, প্রফেশনাল। সো সেভ ইয়্যুর স্কীন'।

তাহেরের বাঁ পায়ে গুলি লেগে গেল, রক্ত ঝরছে বিরামহীন। চেষ্টা করেও থামাননো যাচ্ছে না। তাঁকে উদ্ধার করতে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছল।
উদ্ধারকারি মিত্র বাহিনীর অফিসারকে তাহের হা হা করে হাসতে হাসতে বললেন: 'এরা কী যুদ্ধ করবে, এরা আমার মাথায়ই গুলি লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই, এরা আটকাতে পারবে না, এদের এই ক্ষমতাই নাই'।

পরবর্তীতে এই তাহেরই বাংলার সাধারণ হাজার-হাজার কৃষকদের ট্রেনিং দিয়ে একেকজনকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধারূপে গড়ে তুলেছিলেন। এই বিষয়টা অন্য কারও মাথায় খেলেনি। পরবর্তীতে দেখা গেছে, এই কৃষক-মজুর এঁরা একজন সৈনিকের চেয়ে অনেক ভালো করেছেন। কারণ এঁদের বুকে ছিল একরাশ দুর্দান্ত রাগ- চোখের সামনে এদেঁর কারও প্রিয়মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কাউকে শারীরিককভাবে অপমান করা হয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল।
... ... ...
এ অভাবনীয়, অভূতপূর্ব! তাহের এমন পিতা-মাতার সন্তান যারা তাঁদের ৭ পুত্র এবং ২ কন্যাকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। এদের মধ্যে কর্নেল তাহের বীর উত্তম, তাঁর ভাই আবু ইউসুফ বীর বিক্রম, শাখাওয়াত হোসেন, ওয়ারেসাত হোসেন বীর প্রতীক।
হায় তাহের, হায়- তোমাকে ধারণ করার ক্ষমতা আমাদের কখ-খনো হবে না! এমন একজন অকুতোভয় মানুষকে, একটা স্বপ্নকে, সামরিক আদালতে বিচারের প্রহসনের নামে ফট করে মেরে ফেলা আমাদের দেশেই সম্ভব। আসলে ভীরু, কাপুরুষদের এটা করা ব্যতীত উপায় ছিল না। তাহেরকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় ছিল না। আফসোস, এই দেশ তার সেরা সন্তানদের কখনই ধরে রাখতে পারে না- অভাগা দেশ!
এ স্রেফ খুন! কর্নেল তাহেরকে খুন করা হয়েছিল। এবং এই খুন করার ধরন, নমুনা দেখে আমি বিস্মিত হই- গা বাঁচিয়ে কী চমৎকার ভঙ্গিতেই না খুন করা যায়! অনর্থক রসু খাঁকে আমরা দোষ দেই!

তাঁকে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হয় প্রকারন্তরে এ খুনেরই নামান্তর। তাঁর ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে বা ২৮ দিন পরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান নাই।

একজন কথিত জল্লাদ জনাব মোঃ সিরাজউদ্দিনের সাক্ষৎকার নেয়া হয়েছিল, মিনার মাহমুদের বিচিন্তা পত্রিকায়:
"প্রশ্ন: ফাঁসির মঞ্চের কোনও ব্যক্তির আচরণ কি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে? যদি যায়, তবে সেই ব্যক্তিটি কে?
জল্লাদ সিরাজউদ্দিন: কর্ণেল তাহের। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াইয়া তিনি সহজভাবে কথা বলেছেন। একটা বিপ্লবী কবিতা পইড়া শোনাইছেন (জন্মেছি মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে...)। আশ্চর্য! তিনি নিজের হাতে যমটুপি পরছেন। নিজেই ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় লাগাইছেন। আমার মনে হয় ফাঁসির মঞ্চে এমন সাহস দুনিয়ার আর কেউ দেখাইতে পারে নাই।"

কাজলা গ্রামে, অযত্মে অবহেলায় শুয়ে থাকেন এই অগ্নিপুরুষ।
এ প্রজন্ম তাহেরকে কি কিছুই দিতে পারেনি, কি জানি! কিন্তু যখন দুর্বিনীত রাগী যুবকের উদ্ধত মাথা নুয়ে বুক ছুঁয়ে যায়, চোখ ভরে আসে জলে। চট করে মুখ ঘুরিয়ে নিলেই হয় কিন্তু এ লজ্জা মুছে ফেলার চেষ্টা করে না সে। জলভরা চোখে তাহেরের অদেখা স্বপ্ন তাঁকে ছুঁয়ে যায়। অস্ফুটে বলে, কমরেড, আমরা কী তোমায় স্পর্শ করতে পারি?
এ-ও কি কম পাওয়া, কিছুই না?

তাহেরের মত মানুষকে মেরে ফেলা যায় না, এঁরা খোলস বদলান কেবল। একটা স্বপ্নকে খুন করা যায় না, স্বপ্ন ফিরে আসে বারবার।
বাংলার এমন দামাল সন্তান বারবার ফিরে আসে এই ধান-শালিকের দেশে, মার কাছে। দুঃখি মা-টা হাহাকার নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন, কবে ফিরবে তার প্রিয় সন্তান...।

Friday, January 9, 2009

দানব বানাবার কারখানা!

"একটি পাখির বাসা আছে
একটি গরুর গোয়াল আছে
একটি ঘোড়ার আস্তাবল আছে
একটি খরগোসের গর্ত আছে
সবাই বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব
আমরা ফিলিস্তানি, আমরা মানুষ(?)
আমাদের কোন আবাসভূমি নাই।"
(ফিনিস্তানি কবি মাহমুদ দারবিশ)


আসলেই কী ফিলিস্তানিরা কখনও তাদের নিজস্ব দেশ নামের ভূ-খন্ড পেয়েছে, বা ছিল? এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক-কুতর্ক চলেছে আর এদিকে জুইশরা কিন্তু ঠিকই কালে কালে একেকটা (link) দানব হয়ে উঠেছে!
২০০৬-এর জুন। ১৯ বছরের একজন ইসরাইলি কর্পোরাল জিলাদ শলিতকে মুক্ত করার নাম করে ইসরাইল প্যালাস্টাইনে অনুপ্রবেশ করে প্যালাস্টাইন সরকারের ৯জন মন্ত্রী, ২০ এম. পিকে চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। ইসরাইলের পক্ষেই সম্ভব একটি দেশের মন্ত্রী, এমপিদের অপহরণ করার মত হলিউডি ছবিকে হার মানানো।
ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালে আরবদের সংগে যুদ্ধে আরবরা কিছুই করতে পারেনি বরং অনেক সময় নিজেদের জায়গা হারিয়েছে।
ইয়াসির আরাফাত ওরিয়ানা ফালাচির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, "বিশ্ব ভুলে গেছে ১৯২০ সালে আমাদের পিতারা ইহুদীদের সঙ্গে লড়াই করেছিল। তখন তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনিনি। কিন্তু ১৯৬৫ থেকে আমরা সমানে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি অর্জন করি। 'আল ফালাহ' ফিলিস্তানি যোদ্ধাদের ৯৭ ভাগ প্রতিনিধিত্ব করছে। ১৯৬৯-এর ফেব্রুয়ারিতে পপুলার ফ্রন্ট ৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এর মধ্যে ৪টি দলই 'আল ফালাহ'র সঙ্গে যোগ দেয়। অন্য একটি ফ্রন্টের নেতা জর্জ হাবাশ শিঘ্রি আমাদের সংগে যোগ দেবেন। আমরা এখন যে অবস্থায় কাটাচ্ছি তা যাযাবরের জীবন, অথচ শত-শত বছর ধরে আমরা এখানে বাস করে আসছি"। (ইন্টারভিউ উইথ হিস্ট্রি/ ওরিয়ানা ফালাচি)
এই ইসরাইলি বা ইহুদিদের ক্ষমতা কতটুকু এটা আঁচ করা মুশকিল। জুইশ (Jewish) কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, "পরোক্ষভাবে ইহুদিরাই বিশ্বকে শাসন করছে। আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি। বিশ্বের অস্ত্র, মিডিয়া, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জুইশ কমিউনিটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরোপুরি। গত ৫০ বছরেও বেশি সময় ধরে প্যালেস্টাইনের উপর তারা যে অন্যায় করেছে তা Clash of Civilisation- এর মোড়কে বৈধ করে নিয়েছে পশ্চিমি সমাজ।বুশের প্রকাশ্যে সমর্থন ছিল ইহুদিদের প্রতি। আর কন্ডোলিনা রাইস তার প্রথম ইসরাইল সফরের পর বলেন, নিজের বাড়িতে ফিরে আসা"। 
বুশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর যেমন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার, পেন্টাগন অ্যাডভাইজার, চিফ পলিসি ডিরেক্টর, পলিটিকাল মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা, বাজেট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা, ফরেন সার্ভিস ডিরেক্টর, হোয়াইট হাউজের স্পিচ রাইটার, নাসার অ্যাডমিস্ট্রেটরসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল জুইশরা। কর্পোরেট হাইসগুলোর অধিকাংশ কোম্পানীর মালিক, সিও, প্রধান নির্বাহী জুইশরা। এটা মাইক্রোসফট হোক আর জাপানি কোম্পানি সনি।
মিডিয়ায়ও এদের দাপটের শেষ নাই। টাইম ওয়ার্নার-ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান AOL, HBO, সিনেমেক্স, পলিগ্রাম এদের নাম কে না জানে? ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইহুদি, চিফ এক্সিকিউটিভ বা সি,ও জেরাল্ড লেভিন ছিলেন ইহুদি। টেড টার্নারের সি, এন, এন হাল ছেড়ে দেয় ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছে। ছড়ি ঘোরাত ওয়ার্নার ব্রাদার্স। এরা কেমন করে লোকজনকে প্রভাবিত করে এর একটা উদাহরণ দেয়াটা সমীচীন হবে।
নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংশ হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখানো হচ্ছিল। একটা ফুটেজ সাধারণ মানুষকে হতভম্ব করেছিল সেটা হচ্ছে, এই ধ্বংশের পর প্যালাস্টাইনরা আকাশে শূণ্যে গুলি ছুঁড়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। এই দৃশ্য দেখে যেকোন সচেতন মানুষ আহত হবেন এতে সন্দেহ কী!
কিছুদিন পর সিএনএন খুবই অবহেলার সংগে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে।
'টাইম' ম্যাগাজিনসহ বিশ্বের নন্দিত অন্তত ৫০টি পত্রিকা ওয়ার্নার গ্রুপের। ওয়াল্ট ডিজনির সিও মাইকেল আইসনার ছিলেন ইহুদি। মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডকের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আছে জুইশদের সমর্থন, প্রভাব। বলা হয়ে থাকে মারডকের মা ছিলেন ইহুদি। এমন অজস্র উদাহরণ আছে।
জুইশ কমিউনিটি থেকে এসেছেন স্ট্যানলি কুবরিক, রোমান পোলানস্কি, উডি অ্যালান, এলিজাবেথ টেইলর, ডাস্টিন হফম্যান, হ্যারিসন ফোর্ড, ডগলাস, বব ডিলান, ডেভিড কপারফিল্ড, আসিমভ, আইনস্টাইন, হুডিনি, কাফকা- এই তালিকা অনেক লম্বা। 
জুইশদের পক্ষে জনমত গঠনে যেসব দুর্দান্ত মুভি হয়েছে এগুলো আমাদেরও কম প্রভাবিত, কম আবেগতাড়িত করে না! কারণ 'শিল্ডলার্স লিস্ট', 'মিউনিখ' বানিয়েছেন স্পিলবার্গ, এসেছেন জুইশ কমিউনিটি থেকে। এরা যে যেখানেই থাকেন কিন্তু তাদের স্বপ্নভূমিকে কখনও বিস্মৃত হননি। এদের জোরটা কতটা নিতল এটা কেবল অনুমানই করাই সম্ভব।
প্রকারান্তরে এই গ্রহ শাসন করছে মোটা দাগে আমেরিকা, সূক্ষ দাগে জুইশ কমিউনিটি। এ গ্রহের প্রয়েজনীয় সমস্ত কিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসতে হবে। সব কিছুর মূলে ব্যবসা। অস্ত্র খুব লাভজনক ব্যবসা। হিউজ ইনভেস্ট, এই যে এতসব হাইটেক মারণাস্ত্র বানানো হচ্ছে মহড়া দেয়ার তো উপায় নাই। তো, যুদ্ধ লাগাও। আগের ক্লাস্টার বোমায় একশ প্রাণ নষ্ট হতো এখনকার ক্লাস্টার  বোমায় পাঁচশ মানুষ ঘায়েল হচ্ছে। আরাম করে যুদ্ধের ভিজ্যুয়াল দেখো, শ্যাম্পেনে চুমুক দাও। দরদাম করো, অর্ডার দাও। ডিল।

তেল নামের জ্বালানীটা খুব প্রয়োজন। প্রকৃতি এটা আবার উপুড় করে দিয়েছে কিছু মরুভূমির দেশগুলোকে। খুব বেশি বছর হয়নি ইরানিরা আমাদের দেশে এসে হকারি করত, ছুঁরি-চাকু ধার দিত।
প্রথমে ঠিক করতে হবে কোন-কোন দেশ তেলে ভাসছে। কুয়েতকে শুইয়ে ফেলতে হবে অতএব ইরাককে উস্কে দাও। সৌদি একটা স্পর্শকাতর দেশ, মুসলমানদের তীর্থভূমি। এখানে খানিকটা রয়েসয়ে। কিন্তু ইরাক কুয়েত দখল করে নিচ্ছে, সৌদির সুড়সুড় করে লাইনে না এসে উপায় কী! এই বদুরা ওরফে বর্বরদের এখন আবার বন্দুকের চেয়ে চামড়ার বন্দুক চালাবার আগ্রহই বেশি!  
ইরাককে কুর্দি দিয়ে কাবু করতে হবে, কুর্দিদের মেরে ফেলার জন্য এরাই রাসায়নিক অস্ত্র বিক্রি করবে। বেয়াদবী করলে রাসায়নিক অস্ত্র আছে এই দোহাই দিয়ে ইরাককে ঝুলিয়ে ফেলতে হবে।
কুর্দিদের এরা কী পর্যায়ে অত্যাচার করেছে এর একটা নমুনা এমন: একজন ইরাকি কুর্দি আরি বলেন, "I know i am recist but i can't help it. আরবদের আমি ঘৃণা করি, এমনকি মুসলমানদেরও। আমি কোরআন পড়ি না, কেন না এটা আরবিতে লেখা। আমি ইসলাম মানি না কেননা এটা আরবদের মাধ্যমে এসেছে।"
সবই খেলা, একটা গেমের অংশ। আমরা আকাশপানে তাকিয়ে থাকি। জুম্মাবারে মুসলিম উম্মার জন্য দোয়াপর্ব কয়েক মিনিট দীর্ঘ হয়...। ক্রমশ গোটা পৃথিবী মোমিন মুসলমানে ভরে যাচ্ছে। খেলা কিন্তু বন্ধ নেই, খেলা চলছে...!
প্রথমে আসলে ইহুদিদের উপর বিভিন্ন সময় যে অত্যাচার হয়েছে এই স্মৃতিগুলো অহরহ এখনও এদের তাড়া করে, ফলশ্রুতিতে একেকজন গড়ে উঠছে একেকটা চলমান দানব হয়ে। এরা তাদের শিশুদেরকে মস্তিষ্ক নিয়ে খেলা করছে, এদের সাব-কনশান মাইন্ডেও ঢুকিয়ে দিচ্ছে তীব্র ঘৃণা! বানাচ্ছে আগামি একেকটা দিনের দানব। তাই এদের শিশুরা মিসাইলে গায়ে ফানি-মজার মজার কথা লেখে (সেই মিসাইলেই আহত হয়, প্রাণ হারায় ফিনিস্তানি শিশু) কারণ এদেরকে শেখানো হচ্ছে, মিসাইল, শিশু-মৃত্যু এসব হচ্ছে খেলার একটা অংশ। মজার- খুব মজার, শৈশবের একটা খেলা।

ছবিঋণ: sabbah.biz মতান্তরে এএফপি 
আংশিক ঋণ: মোহাম্মদ মাহামুদুজ্জামান

সহায়ক সূত্র:
১. জুইশদের দানব হয়ে উঠা: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html
২. গ্রহ অধিপতি...: http://www.ali-mahmed.com/2011/05/blog-post_18.html

এরা যোদ্ধা ছিল না, ছিল সাইকোপ্যাথ


...পাক আর্মিরা কুমোরদের বাসায় ঢুকে প্রথমে ভাঙ্গলো ওদের ঠাকুর ঘরের দেবী প্রতিমাগুলো।

তারপর ঢুকলো অভ্যন্তরে।
বাড়ীর ভেতর ঢুকে ঘর থেকে বের করলো ১০ বছর থেকে ৬০ বছর বযসের সব পুরুষকে। বাড়ির একজন বধু ও একজন মেয়েকে ধর্ষণ কররো তাদের স্বামী, মা বাবা, শ্বশুর শ্বাশুড়ির সামনে।

এক পাক আর্মি ঘুমন্ত একটি বছর দেড়েকের বাচ্চার বুকে বেয়ানেট ঢুকিয়ে দিল। তারপর বেয়নেটের আগায় ঝুলিয়ে রাখলো বাচ্চাটার কচি দেহ। সেই অবুঝ শিশুর হাড় গোড়গুলো রক্ত বেয়ে পড়ছে পাক আর্মিটির হাতে ধরা রাইফেল থেকে।

...২৭শে মার্চ সকালে কারফিউ শিথিল করার পর রাস্তায় বেরিয়ে দেখলাম যেন মানুষের মিছিল। হাজার হাজার মানুষ উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাচ্ছেন। কারো বা কোলে বাচ্চা, পিঠে বোঝা- কারো হাতে ধরা পত্নী বা কন্যা!

সমস্ত লোক পালাচ্ছেন শহর ছেড়ে গাঁয়ের দিকে। কেন না তাঁদের ধারণা পাক আর্মি হয়তো বা শহরেই চালাবে তাদের তান্ডবলীলা- গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছবে না, কিন্ত কালক্রমে এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
পাক আর্মি শহরের চাইতে গ্রামেই শেষের দিকে ধ্বংসযজজ্ঞ চালিয়েছে। বাংলাদেশের ৬৬ হাজার গ্রামের মধ্যে ৩০ হাজার গ্রাম ওরা পুড়িয়েছে- চালিয়েছে মানব ইতিহাসে সব চাইতে জঘণ্য ও ঘৃণ্যতম অপরাধ, হত্যাকান্ড!


...পালাচ্ছিলাম যখন, আমার সঙ্গে হেঁটে চলেছেন চার পাশের মানুষগুলো, আমরা সবাই বাঁচতে চাই। এবং সে জন্যই আমাদের কারো প্রতি কারো কোন খেয়াল নাই, কারো সাথে কারো কোন কথা নাই!। সবার চোখে মৃত্যুভয়!
..রাস্তায় লাশ আর লাশ- চোখে পড়লো জি পি ও’র পেছনে এক ঝুড়ি মানুষের রক্তাক্ত হৃদপিন্ড আর নাড়ি ভুড়ি!
...ড্রেনে রক্তের স্রোত, গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে!
...আমি তাকাতে চাই না- আমার মাথা কাজ করছিল না।
...আজো ভাবি, এসব দেখে কি করে সহ্য করেছি- কেন পাগল হয়ে গেলাম না!

তথ্য সূত্র: (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ/ প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ-নাজিমুদ্দিন মানিক, ২৫শে মার্চ থেকে ২৭শে মার্চ)
ছবিসূত্র: প্রথম আলো (এদের সূত্র কী এটা উল্লেখ নাই)


আমার অকপট বক্তব্য: ৩৭ বছর হলো নাকি ৩৭০ বছর,
তাতে কী- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না অবশেষে পাকিস্তানিরাও তাদের ভুল স্বীকার করছে কিন্তু আমাদের দেশের-তাদের সহযোগিরা, আজ পর্যন্ত ভুলেও, মুখেও অন্তত একটিবারের জন্যও স্বীকার করেনি এরা ভুল করেছিন।

Thursday, January 8, 2009

আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই।

শেখ হাসিনার এই ছবিটা কত সালের এটা আমার মনে নাই। তবে অনেক আগের তো বটেই- কত সালে দেখেছিলাম মনে পড়ছে না।। যাযাদি রিপোস্ট করেছিল ২০০৬-এ।
যাই হোক, এমন দৃশ্য নিরাপত্তার খাতিরে এখন দেখা অসম্ভব।
(এরশাদের সেই ফাজলামী দেখে সব বিশ্বাস উবে যেত- এরশাদ সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছেন আর মাথার উপর চক্কর দিচ্ছে নিরাপত্তা হেলিকপ্টার! )

কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতার হাত বাড়িয়ে দিতে সমস্যা কোথায়? আমার আন্তরিক চাওয়া, শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষদের জন্য, দেশের জন্য তাঁর সময়টা ব্যয় করুন; যেন এই দেশে আমার ভালো লাগা অল্প কিছু মানুষের সংগে তাঁর নামটাও বলতে পারি।

ভারতের প্রেসিডেন্টের মত ২টা স্যুটকেস নিয়ে গটগট করে বেরিয়ে যাওয়ার সাহস ক-জনের আছে? আল্লা, এই দৃশ্য আবারো দেখতে চাই না, যেন দেখতে না হয়, আমিন...।

চুতিয়া মিডিয়া এবং কেজি দরে প্রাণ

৩০ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় শেষ পৃষ্ঠায় ছোট্ট করে খবরটা ছাপা হয়, "৩০০ বাংলাদেশি নিখোঁজ, উদ্ধার ১০২"।
শালার মিডিয়া, এর নাম নাকি মুক্তচিন্তা! কুলিন পত্রিকায় এই খবরটা প্রথম পাতায় ঠাঁই পায়নি। কেন? সহজ হিসাব। যে দেশে মানবতা, মনন বিক্রি হয় কেজি দরে সেই দেশে এমনটা হবে এ আর বিচিত্র কী!

ওই দিনই মুক্তচিন্তার এই পত্রিকার প্রথম পাতায় নেত্রিদের বিশাল বিশাল ছবির জায়গা হয়, বিজয় চিহৃসহ আঙ্গুলের জায়গা হয়, বিজ্ঞাপনের জায়গা হয়, আজ ছাপা হলো ৪,৭৯,৭৫৪ কপি এর জায়গা হয়, হয় না কেবল এমন তুচ্ছ খবরের।

বাকিদের কী হল? এরপর প্রতিদিন অপেক্ষা করি, কিসের কী! পরবর্তী আপডেটগুলো ছাপা হয়েছে বড় হেলাফেলা ভংগিতে। আসলে এইসব শস্তা তথ্য জানাবার সময় আমাদের মিডিয়ার কই!

বদলে যাও, বদলে দাও- মোজায় গন্ধ, মোজা বদলাবে কে?




*ইউটিউবের লিংকটা www.mahbub-suman.com থেকে নেয়া।

Tuesday, January 6, 2009

অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল!

'খোদেজা' নামের একটা উপন্যাস আছে আমার।
এই উপন্যাসের খানিকটা-অংশবিশেষ, একজনের অনুরোধে আমার সাইটে পোস্ট করেছিলাম। খোদোজার অংশবিশেষ

হুবহু এই লেখাটি, দাঁড়ি-কমাসহ 'যৌবনযাত্রা' নামের সাইটে পোস্ট করা হয়েছে- অহেতুক, কোন কারণ ছাড়াই। মূল আবেদনটাই অন্য রকম হয়ে গেছে- খোদেজা উপন্যাসটা হচ্ছে ১টা শিশুর উপর চরম নির্যাতন নিয়ে

লিখিত দূরের কথা নিদেনপক্ষে মৌখিক অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন বোধ হয়নি। (অথচ আমার সাইটে আমি স্পষ্ট সতর্কবাণী দিয়ে রেখেছি, আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন লেখা বা এর অংশবিশেষও কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।)
গুগলে আমার নাম দিয়ে সার্চ দেয়ায় বিষয়টা চোখে পড়ল নইলে জানতেই পারতাম না এমন হার্মাদের (ছিনতাইকারীর সফট ভার্সন)
'হার্মাদী'!

এমন অর্বাচীন আচরণের জন্য তীব্র নিন্দা।

নিয়তির হাত থেকে পালাতে পেরেছে কে!

আমরা নিতান্ত অনিচ্ছাসত্বেও সিন্দবাদের ভূতের মত বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি একজন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। দুর্বল হৃদপিন্ডের একজন মানুষ, যার হৃদপিন্ডের মেরামতে ব্যয় হয়েছে আমাদের গাঁটের টাকা, প্রায় ২ কোটি।
অথচ দেশে নাকি আন্তর্জাতিক মানের সব হাসপাতাল- এরা সম্ভবত দুর্বা ছাটাই করে। ইয়াজউদ্দিন আহম্মদের দুর্বল কোমরের কথা বলে আর স্পেস নস্ট করি না। ইয়েস-ইযেস, ইয়েসউদ্দিন তো এমনি এমনি খেতাব জোটেনি, কত কাঠ-খড়ই না পোড়াতে হয়েছে!
কেবল আফসোস, ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাংলা ভাষাটা শুদ্ধ করে বলতে পারেন না, এই লজ্জা কোথায় রাখি?

এখন শুনতে পাই অতি ভংকুর জিল্লুর রহমান সাহেব রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। হায় কলিকাল-হায় নিয়তি। এই মানুষটা বিড়বিড় করে কীসব যে বলেন, ইন্টারনেটের কসম, একটা শব্দও যদি বুঝতাম।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মার্চ-পোস্টে ইনি সালাম টালাম কেমন করে নেবেন, চিন্তায় আছি। আচ্ছা, হুড খোলা জিপে কী সীট-বেল্ট বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখার উপায় চালু আছে, থাকা প্রয়োজন।
থাকলেই বাচোঁয়া, নইলে ভারী বিব্রতকর ব্যাপার হয়ে যাবে যে...!

Friday, January 2, 2009

বঙ্গ-রঙ্গ



বিস্ময়কর এক মুক্তিযোদ্ধা!

এমন শ্বাসরুদ্ধকর আলামত আমরা বাদাম চিবুতে চিবুতে ছবিতে দেখি, ঠ্যাং নাচাতে নাচাতে রগরগে ফিকশনে পড়ি, তখন বড়ো ভাল লাগে, আমোদিত হই।

কিন্তু আমাদের গৌরবগাঁথাগুলো জানতে আগ্রহ বোধ করি না। যে বালক আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-আর্মীর বাংকারে গ্রেনেড ছুঁড়ে বাংকার বিধ্বস্ত করেছিল! যার সাহস কল্পনাকেও হার মানায়! তাঁকে নিয়ে কয়টা মুভি হয়েছে, ক-কলম লেখা হয়েছে?

আমরা কি জানি সেই বালকটি এখন আদৌ কোথায়? নিদেনপক্ষে, কেমন কাটছে তাঁর দিনকাল? আমাদের এইসব জানার প্রয়োজন নাই, সময়ই বা কোথায়! আমরা এইসব অসমসাহসী বালকদের কথা অবলীলায় বিম্মৃত হই। সময়ের ধুলায় এইসব নাম চাপা পড়ে থাকে! আমরা এঁদের আত্মত্যাগ, সাহসের কথা জানতে আগ্রহবোধ করি না!
মুক্তিযুদ্ধ বলতে আমরা ঘুরেফিরে কয়েকটা নামের অবদানের কথাই জানি - ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো দিনের পর দিন শুনে আসছি। তাদেঁর কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি- চর্বিতচর্বণ। যেন রেকর্ডের পিনটা আটকে গেছে, আটকে গেছি আমরাও। একই বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খাওয়া আর চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলা।

এই অসমসাহসী বালকটির নাম শহিদুল ইসলাম লালু। বঙ্গবন্ধু তাঁকে কোলে নিয়ে রেখেছেন। এই লালু সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নাই। আসলে এইসব তথ্য রাখা হয় না- রাখার প্রয়োজন কী!

লালুদের কথা বলে তো লাভ নাই, কারণ লালু কোন দল করতেন না। দলবাজ ব্যতীত কাউকে কি মুক্তিযোদ্ধা বলা সমীচীন? জন্মের পর থেকেই আমাদের বিভাজন শুরু হয়ঃ জন্ত না অজন্ত, হিন্দু না মুসলিম, বিএনপি না আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার?
কিন্তু একজন, সে মানুষ কিনা এটা আমাদের জানার খুব একটা আগ্রহ নাই!

*ছবিটি, লালু নামের সেই বালকের। ছবিটি আফতাব আহমদ তোলেনঃ ২৪ জানুয়ারী, ১৯৭২ সালে।

তাঁকে নিয়ে যথেষ্ঠ তথ্য আমার কাছে ছিল না। পরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, একজন। এই অংশটুকু অষ্ট্রোলিয়া প্রবাসি মাহবুব সুমনের মন্তব্যাকারে মন্তব্য থেকে নেয়া। তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
"লালুর কথা প্রথম পড়ি বংগবীর কাদের সিদ্দিকীর বইয়ে। বেশ ক বছর আগে দৈনিক প্রথম আলোর শনিবারের সাপ্লিমেন্ট ম্যাগ 'ছুটির দিনে' লালুকে নিয়ে কভার স্টোরি করে হয়। সেটা পড়ে উনার সেই সময়কার অবস্থার কথা জানতে পারি। সেই সময় উনি মিরপুর সিরামিক কারখানার সামনে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান চালাতেন।
মুক্তিযুদ্ধে উনার ভুমিকা ও সেই ভুমিকার কথা বলে সরকারের কাছে কিছু চাওয়া আছে কিনা তা জানতে চাইলে উনি বলেছিলেন , 'একজন মুক্তিযোদ্ধার সব চাইতে বড় পাওয়া স্বাধীন দেশ', তার আর কিছু চাওয়ার ছিলো না সরকার বা অন্য কারো কাছে।
জানি না কি অবস্থা উনার এখন, সেদিন গিয়েছিলাম সিরামিক কারখানায়, দোকানটি আর নেই সেখানে। কে জানে, হয়তো ভেঙে দিয়েছে অবৈধ স্থাপনা বলে ! ছবির বংগবন্ধুও আজ নেই। সেই বংগবীর কাদের সিদ্দিককিও আজ অন্য জগতের মানুষ।
সেই লালু, লালুই রয়ে গিয়েছেন। কিছুই পাননি দেশের কাছ হতে। বাঘা সিদ্দিকীর বইয়ে ‘জাহাজ মারা হাবিন’ বলে বিখ্যাত মেজর হাবিব বীর প্রতীকের কথা পড়েছিলাম। বেশ ক বছর আগেও উনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন অসুখে ভুগে, দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করতে করতে। হয়তো লালুও সেই একি পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। স্যালুট এই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যারা কিছু প্রতিদানের আশা না করেই যুদ্ধে গিয়ছিলেন এবং এখনও কিছু আশা করেন না"।
*এই অগ্নিপুরুষকে আমরা সম্মান জানাই এমন করে; এই পত্রিকা-মিডিয়ারাই আমাদের মগজ ধোলাই করে, আমাদের শেখায়! পরিশেষে বিষাদে বলি, মুক্তিযুদ্ধ এখন একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য!
...

                               

Wednesday, December 31, 2008

২০০৯ নামের একটা ভোরের অপেক্ষায়।

বছরটা বড় বাজে গেল, বড় বাজে। আমার শক্ররও যেন এমন সময় না আসে। বাসস্থান-আহার, এইসব মৌলিক চাহিদাগুলোর সমস্যা হলে দেশ-দশ বঙ্গোপসাগরে গেল না লোহিতসাগরে, এই খোঁজে কার কী দায় পড়ে!
কেমন করে নিজের হাতের আঙ্গুলগুলো কুঁকড়ে আসে, কেমন করে চেনা মানুষগুলো অচেনা হয়ে যায়? জনান্তিকে বলি, বাহে, একদা আমিও ছিলাম তোমাদের লোক! আমিও তাদের সাথে সাথে বিশ্বাস করি, তারা শান্ত পুকুর, ঢেউ উঠবে না কোনদিন? বেশ-বেশ। তারাও আমাকে বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছে, বাতিল পুতুল একটা। তাইতো দেখছি...!


একজন মানুষ যখন নিজের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন ওই মানুষটার সঙ্গে একটা গলিত শবের কোন পার্থক্য থাকে না। 

২০০৯ নামের একটা ভোরের অপেক্ষায়। আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না কিন্তু আফসোস, কেউ কেউ ভোর দেখার আগেই হাল ছেড়ে দেয়। আমার প্রবল বিশ্বাস, আমি তাদের মধ্যে একজন না...।

Monday, December 29, 2008

মুসলমানরা টেররিস্ট হয়ে থাকলে, এরা কারা?


















এই গ্রহের সমস্ত টেররিস্ট নাকি মুসলমান, তা আর বলতে! দাড়ি, টুপি এখন ভারী সন্দেহজনক চরিত্র, বাইরের লোকজনরা চোখ সরু করে তাকিয়ে থাকে। এয়ারপোর্টে এদের জন্য বাড়তি খাতির, উঠবস করাতে করাতে কাল ঘাম বের করে ফেলে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাগিয়ে ছাড়ে।
সম্প্রতি ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে প্রায় ৩০০ বে-সামরিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করল এটাকে কী খুন বলা হবে না, না?

ওহ, এরা তো আদম-সন্তান না। যারা খুন হল তাদের প্রিয়জন, এরা কী ধরেই নিয়েছে যুগের পর যুগ ধরে এদেরকে ইসরাইলিরা বিষণ্ন বোধ করলেই পাখির মত গুলি করে মারবে!
তাই কী গাজার অধিবাসিরা অনেকখানি রোবট হয়ে পড়েছে? হাসপাতালের অবর্ণনীয়, বীভত্স দৃশ্য দেখে যখন আমাদের পাগল-পাগল লাগে তখন গাজাবাসীরা এরই মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে তাদের স্বজনদের পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী দেহ থেকে অবলীলায় খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। নির্মম বাস্তবতা।

পাশাপাশি এই শিকার-শিকার খেলায় ইসরাইলিদেরকে, এমন কী তাদের শিশুদেরকেও করে তুলছে আমোদপ্রীয়, খেলুড়ে।
আহা, ওদের শিশুরা কত প্রাণোচ্ছল! ইসরাইলী শিশুরা অপার আনন্দে যে মিসাইলে ফানি ফানি কথা লিখে সেই মিসাইলটাই ছুটে আসে, গাজাবাসীদের শিশুরা পড়ে থাকে ক্ষত-বিক্ষত, ভাগাড়ের কুকুরের মত।

হা ঈশ্বর, তোমার লীলা বোঝা দায়...?

নির্বাচনী নামতা দুই এক এ দুই...।

এইবার ক্ষমতায় কে আসবে- এখানে কিছু অংকের হিসাব আছে? লাইম লাইটে যারা ছিলেন, তাদের কোন ইচ্ছা-অনিচ্ছা-ভয় থাকতে নেই বুঝি? তারেক-কোকোর শারিরিক দৃশ্যগুলো আপাততদৃষ্টিতে সুখকর ছিল না।
প্রাসঙ্গিক হবে বিধায় এখানে একরোখা খালেদা জিয়ার একটা প্রসঙ্গ উল্লেখ করি, আশা করছি বুদ্ধিমানরা যোগসূত্রটা ধরতে পারবেন।
‍"সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন- বিদেশী পর্যবেক্ষকরা বলছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার অনড় বক্তব্য ১০০ আসনে কারচুপি হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছিলেন।
এতে বড় ধরনের গলযোগ সৃষ্টি হতে পারে, এটা জানতে পেরে, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের দপ্তর থেকে অনুরোধ করে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, জাপানের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনাররা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে কথা বলার জন্য অনুমতি চান। কিন্তু খালেদা জিয়া ব্যস্ত আছেন এটা বলে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
উপায়ন্তর না দেখে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতি জরুরি বার্ত বেগম জিয়ার কাছে এখনই পৌঁছে দিতে চান বলে জানান এবং তার সঙ্গে আরও ২জন রাষ্ট্রদূত এবং ২জন হাই কমিশনার থাকবেন এটাও উল্লেখ করেন। বেগম জিয়া বাধ্য হয়ে সময় দেন।
নির্ধারিত সময়ে এঁরা ৫জন বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। বেগম জিয়া বাংলায় বলেন, 'এরা কেন এসেছে, মাতব্বরি করার আর জায়গা পায় না'।
বেগম জিয়ার দোভাষী ইংরাজিতে বলেন, 'আপনারা আসায় ম্যাডাম অত্যন্ত খুশি হয়েছেন তিনি আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছেন'।
এরা কেউই জানতেন না যে, জাপানি রাষ্ট্রদূত ভালই বাংলা জানতেন আর ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানতেন জাপানি ভাষা। সঙ্গে সঙ্গে জাপানি রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার বলা কথাগুলো জাপানি ভাষায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তর্জমা করে বলেন।
যাই হোক, অনেকক্ষণ ধরে এই ৫ কূটনীতিক খালেদা জিয়াকে নির্বাচনি ফলাফল মেনে নিতে অনুরোধের পর অনুরোধ করেন, নইলে বাংলাদেশ আবার নতুন করে সংকটে পড়বে, রাষ্ট্রপতি কোন চরম ব্যবস্থা নিয়ে ফেলবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া অনড় থাকেন।
এই ৫ কূটনীতিক হাল ছাড়েন না। একসময় খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক সম্মতি না দিলেও এরা বুঝতে সক্ষম হন খালেদা জিয়া সম্মত হবেন তখন তাঁরা ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসেন"।
(সূত্র: বিপুলা পৃথিবী/ আনিসুজ্জামান)

তো, ওই যে বললাম অংক।
নির্বাচনটা হচ্ছে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বর হচ্ছে আমাদের বিজয়ের মাস। যুদ্ধপরাধির ইস্যুটা প্রবল হয়ে উঠবে এতে সন্দেহ কী। তাছাড়া এইবারই প্রথমবারের মত ভোটার হয়েছেন প্রায় ৩ কোটি। তো এই ভোটারদের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে মনোভাব অনেকটা প্রবল। ঘুরিয়ে বললে ভোটগুলো আওয়ামীলীগদের পক্ষেই এসে পড়ে।
আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে বড়ো ব্যাকুল। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক-কুতর্ক করার কোন আগ্রহই তাদের নাই।

কেউ ধোয়া তুলসি পাতা না কিন্তু যেহেতু শেষবার ক্ষমতায় ছিল বিএনপি- ক্ষতগুলো বড়ো দগদগে। ত্রানের বিস্কুট খায় ঘোড়া! এদের সময়ে , এদের মদদে ইসলামের দোহাই দিয়ে জঙ্গীরা যা করেছে এটা সব হিসাবের বাইরে! তার উপর কুড়ালে পা- নির্বাচনের ঠিক আগে আগে সিমেন্স, কোকোর সিঙ্গাপুরে অবৈধ টাকা।
এমনিতেও একটা পরিবর্তন তো আম-জনতা চাইতেই পারে। আর প্রার্থী নির্বাচনের বেলায় বিন্দুমাত্র কোন ভাবনা ছিল বলে তো আমার মনে হয় না নইলে কী আর পিন্টুকে...!

সবই অংকের হিসাব কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মানুষদের ভাগ্যর কী পরিবর্তন আসবে সেটাই দেখার বিষয়। আপনারা কী যুদ্ধাপরাধীদের প্রাপ্য বিচার করবেন, আমি আগের মতই ধন্ধে আছি? শেখ হাসিনা ১০ টাকা কেজি দরে আমাদের চাল খাওয়াবেন এতে যার উল্লসিত হওয়ার হন, আমি হতাশ, অন্তত এই কথা বলার পেছনে কোন অংকের সূত্র কাজ করেছে বলে আমি মনে করি না। তাইলে এই দেশের সব কৃষকের গলায় ফাঁস দিতে হবে।

Tuesday, December 23, 2008

মুক্তিযুদ্ধে একজন পীর সাহেব!

কইবুল্লা। অসম্ভব ধার্মিক এই মানুষটা পীর নামে পরিচিত ছিলেন। উত্তর বাংলায় তাঁর ছিল হাজার হাজার মুরীদ-সাগরেদ। তাঁর ছোট ৩ ভাই, এঁরাও পীর। মাঝারি ধরনের এই বাড়িটায় সর্বদা গমগম করত শতশত দর্শনার্থি। কোরান, মৌলুদ পাঠ, ওয়াজ নসিহত আর ওয়াক্তে ওয়াক্তে নামায...।

এই পীর সাহেব ছিলেন আধুনিকমনস্ক। পাক আর্মি যখন ইসলামের দোহাই দিয়ে নির্বিচারে খুন করছে লাখ-লাখ মানুষ, নস্ট করছে নারীর সম্ভ্রম, লুটতরাজ করছে, তিনি এসব মেনে নিতে পারছিলেন না। তাঁর ১ ভাই তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২৫ মার্চের পর তিনি ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার নিযুক্ত হন।

গোকুল গ্রামের তসিম পাড়ের 'জনৈক' এখানে পাক আর্মিকে নিয়ে আসে। কালো বোরকা পরে মেয়েদের সাজ নিয়ে সে পীরবাড়ি সনাক্ত করিয়ে দেয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে আদেশ-নির্দেশও দিচ্ছিল।

রমজান মাস। শেষরাত। সেহরি সেরে পীর সাহেব এবাদতে মগ্ন। ১ ভাই পাশের মসজিদে কোরান তেলাওয়াত করছিলেন। অন্য ভাই ভাত খাচ্ছিলেন।
পাক আর্মি এইসময় ঘিরে ফেলে পীর বাড়ি। একেক করে ৪ ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। পীর সাহেব মারা গেলেন হাতে তসবীহ নিয়ে, অন্য ভাই হাতে এঁটো ভাত। একজন গড়িয়ে পড়েছেন ওজুর ঘটির উপর।
পাক আর্মিরা পীর বংশেরই দোলনায় ঘুমন্ত এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করে।

পরদিন সকাল। পীর বাড়িতে যেন সৃষ্টি হলো কারবালা। শতশত ভক্ত, বুক চাপড়াচ্ছে, মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। কেউ রক্তরঞ্জিত মাটি নিয়ে মাথায় মাখছে।
ভক্তরা তাঁদের সমাহিত করেন। তারপর এই পীরবাড়ির মুঠো মুঠে মাটি নিয়ে যান। এই পবিত্র মাটি তাঁরা সযতনে তুলে রাখবেন।
*সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দৈনিক আজাদ, ১১ মার্চ ১৯৭২।
**ভাষারীতি প্রায় অবিকল রাখা হয়েছে।


রাজাকার বলতেই আমাদেরকে যেসব ছবি দিনের পর দিন দেখানো হয়েছে সেটা হচ্ছে এইরকম, দাড়ি-টুপি পরা বয়স্ক একজন মানুষ! এটা সত্য তখন প্রচুর তথাকথিত ইসলামমনস্ক মানুষ পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল কিন্তু তাই বলে ঢালাও মন্তব্যর কোন অর্থ নাই।
অজস্র উদাহরণ থেকে একটাই বলি, শহীদ ৪ সন্তানের পিতা মৌলভী আব্দুল হালিম বলেছিলেন, "ঘরে বসে গুলি খেয়ে মরার চেয়ে লড়াই করে শহীদ হওয়া অনেক মর্যাদার"।
মৌলভী আব্দুল হালিমের কেবল এক সন্তান প্রাণে বেঁচে যান এবং পরে স্মৃতিচারন করেন।

পাক আর্মিরা এই দেশে যুদ্ধ করেছে, এরা যোদ্ধা ছিল বলে আমি মনে করি না। পতিতারও যেমন অধিকার আছে তেমনি যুদ্ধেরও কিছু নিয়ম আছে। যুদ্ধেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় আইনানুসারে। মানবিক দিকে না-হয় গেলাম না।
ইসলামের লেবেনচুষ খাইয়ে রমজান মাসে প্রার্থনারত মানুষদের অহেতুক মেরে ফেলা, ঘুমন্ত শিশুকে হত্যা করা আর যাই হোক যুদ্ধের অংশ না। এদের যোদ্ধা না বলে বলা প্রয়োজন সাইকোপ্যাথ।

এই খুনগুলোর কেন বিচার হবে না এটাই বিস্ময়, এর জন্য বিশেষ কোন আইনের প্রয়োজন পড়ে বলে তো মনে হয় না। অভাব ছিল কেবল আমাদের সদিচ্ছার, সচেতনতার। নইলে এই খুনের পেছনে যে মানুষটা, তাকে কালো বোরকার আড়ালে আমরা চিনতে পারছি 'জনৈক' নামে। কেন আমরা এখানে তার নামটা পাই না? চেষ্টার অভাব? এই 'জনৈক' নামের খুনিটাকে সনাক্ত করা হয়েছিল কী?
এতো সেইসব মানুষদের একজন না। মুক্তিযুদ্ধে অনেকে বুঝে-না বুঝে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায়, ক্ষিধার জ্বালায়- এমন উদাহরণও আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ভবতী এক শিক্ষকের পেটে বন্দুক ঠেকিয়ে দেশবিরোধী কাগজে সই নেয়া হয়েছিল। এসব অবশ্যই বিবেচ্য।
কিন্তু খুনিটা তো সেই দলে না। সে যেচে পড়ে আর্মিকে এখানে নিয়ে এসেছিল এবং পুরো হত্যাকান্ড উপভোগ করেছে।
এটা অবশ্যই বিচারযোগ্য অপরাধ।

মুক্তিযোদ্ধা হলেই সাতখুন মাফ হয়ে যাবে এরও কোন মানে নাই।
"যুদ্ধের পর, রাজাকারের বিচারের প্রহসনের নামে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামে হাজার হাজার লোকের সামনে নারকীয় তান্ডব হয়েছিল। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হাত-পা ছিড়ে এদের মারা হয়েছিল"। (ইন্টাভিউ উইথ হিস্ট্রি, ওরিয়ানা ফালাচি)
এটাও বিচারযোগ্য অপরাধ।

১৯৭১। অনেক বছর চলে গেছে, না?
"১৯১৫, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কিরা আনুমানিক ১৫ লক্ষ আর্মেনিয়কে হত্যা করে। আর্মেনিয়রা এখনও এটা ভুলেনি কিন্তু বরাবরের মত তুরস্ক বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছিল।
এই গণহত্যা নিয়ে কথা বলায় নোবেলজয়ী লেখক ওরহান পামুকসহ অনেককে আইনি হয়রানি করা হয়। হান্ট ডিংক নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।
সেই তুরস্কের ২০০বুদ্ধিজীবীসহ ২৫০০ হাজার সাধারণ নাগরিক আর্মেনিয়দের কাছে প্রকাশ্যে (ইন্টারনেটে) ক্ষমা চান"।
(ইন্টারনেট থেকে, এপি)

Wednesday, December 17, 2008

একটি ব্যর্থ নাটক নিয়ে নাটক!

সালটা ২০০৩। সুতীব্র ইচ্ছা, হরতালের উপর আমার লেখা 'কয়েদী' নিয়ে নাটক করার। কিন্তু কারা কারা নাটক বানান তাঁদের তো কাউকেই আমি চিনি না।
থাকি মফস্বলে, ঢাকা যাই কালেভদ্রে। গাঁও-গেরামে থাকা, গায়ে সরষে তেলমাখা আমি এক ভুত, আমার এমন লোভ থাকাটা দোষের বৈকি! এই দেশে বিখ্যাত হতে হলে তো কথাই নেই, মানুষ হওয়ার জন্যও নাকি ঢাকায় বসবাস করাটা খুব জরুরি, অতি জরুরি।

যাই হোক, ব্যক্তিগত জটিলতায় ১৯৯৩ পর থেকে ২০০৩ পর্যন্ত আমার লেখালেখি আর করা হয়ে উঠেনি! আগে যাও-বা কিছু মানুষকে চিনতাম, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই পরে আর যোগাযোগ ছিল না। একদিন, প্রথম আলো অফিসে একজনকে খুঁজতে গেছি। ওখানেই আনিসুল হককে পেয়ে গেলাম।
এই মানুষটাকে আমি চিনতাম ভোরের কাগজের 'মেলা'র কল্যাণে। তখন আমি ভোরের কাগজে ফি হপ্তাহে 'একালের রুপকথা' নামের একটা লেখা লিখি। ওই পাতা যিনি দেখতেন, সঞ্জীব চৌধুরী- একজন লেখক বানাবার মেশিন [১]। তিনি আনিসুল হকের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়ে বলেছিলেন, ইনি 'মেলা' পাতাটা এখন থেকে শুরু করছেন, লেখা চাচ্ছেন। আপনি মেলার জন্য লেখা দেন।

আমি অবশ্য খুব একটা উচ্ছ্বসিত হইনি কারণ... সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার মজাই আলাদা। তাছাড়া আমার গায়ের মফস্বলের গন্ধ নিয়ে সঞ্জীব চৌধুরী খুব একটা মাথা ঘামাতেন না, তাঁর নাক কখনও উঁচু হতে দেখিনি।
যাই হোক, মেলায় লেখা দিয়ে সে এক কাহিনি হয়েছিল, সে এক চোট্টামির অন্য কাহিনি...অন্য কোন দিন!

আনিসুল হককে বললাম, 'কয়েদী' নামের যে পান্ডুলিপিটা আমার ওটা নিয়ে নাটক করবে, এমন কেউ তাঁর পরিচিত আছেন কিনা। তিনি ওই লাইনেই গেলেন না। আমাকে প্রায় বুঝিয়েই ফেললেন, দেশের অবস্থা দেখছেন না, এখন নাটকের তেমন বাজার নাই। ইত্যাদি, ইত্যাদি...। আনিসুল হক, নামকরা মানুষ, আমার কী আর না-বুঝে উপায় আছে!
তারপর বললেন:
আর আপনি যে নাটক করবেন, আপনার স্ক্রিপ্টটার তো নাট্যরূপ দেয়া নাই। নাট্যরূপ দিতে হবে।
আমি বললাম, নাট্যরূপ, এটা তো আমি আগে কখনও করিনি। আপনি কী এটার নাট্যরূপ করে দিতে পারবেন।
আনিসুল হক বললেন, আমাকে দিয়ে করালে ২০ হাজার দিতে হবে।
আমি কুর্নিশ করে চলে এসেছিলাম।

পরে যখন আমি এটার নাট্যরূপ দিয়েছিলাম তখন বিস্মিত হয়ে ভাবছিলাম, হা ঈশ্বর, এটার জন্য ২০ হাজার টাকা! শ্লা, সব টাকা দেখি এখন মিডিয়াতে! ২০০৩-এ ২০ হাজার হলে এখন ২০০৮-এ এই টাকার মান সম্ভবত লাখখানেক হবে! না আরও বেশি? আল্লা জানে...।
২০০৫ সালে 'কয়েদী' যখন বই আকারে বের হল তখন এটা পড়ে শংকর দা, শংকর সাঁওজাল বিচিত্র কোনো এক কারণে অযাচিত মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন, তখন এটা নিয়ে নাটক করার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের আগ্রহ দেখালেন। আমার ধারণা, এই চমৎকার মানুষটা 'হুদাহুদি', অল্পতেই মুগ্ধ হয়ে যান!

কিন্তু... ২০১২ শেষ হয়-হয়, এখনো নাটকের ন-ও হয়নি! হরতাল নিয়ে নাটক নাকি পটাবলিক খাবে না। শুনেছিলাম এই দেশের মানুষ নাকি আলকাতরা খায় আর এই অখাদ্য খাবে না, 'আজব'! কথা সেটা না, এই দেশে হরতাল নিয়ে কোনো ফিকশন নাই, কোনো নাটক নাই। কেন? হরতাল নামের অতি কুৎসিত গা ঘিনঘিনে এই দানবটাকে নিয়ে কোনো নাটক করা যাবে না!
শংকর দা অবশ্য এখনও আশার বাণী শোনান। এই চমত্কার মানুষটার উপর আমার কোন ক্ষোভ নাই কারণ তিনি নিজে নাটক বানান না। যে দুজন বিখ্যাত নাট্যপরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথা পাকা হয়েছিল এঁরা গা না-করলে শংকরদার কীই-বা করার আছে!
এখনও ফোনে কথা হলে তিনি হাল ছাড়েন না, 'মাহমেদ, দাঁড়াও হবে-হবে'।
আমার আর এই মানুষটাকে বিব্রত করতে ভাল লাগে না। তবে মনে মনে বলি, দাদা, আমি তো আর এখন দাঁড়িয়ে নাই, বসে-বসে থেকে শুয়ে, ঘুমিয়ে পড়েছি।

আশিক নামের এক ছেলে আমার লেখা নিয়ে নাটক করার জন্য খুব ঝুলাঝুলি করছিল। তার নাকি কার-কার সঙ্গে জানা-শোনা আছে। আসলেই ছিল। একদিন নিয়ে গেল আফসানা মিমির কাছে। ও আল্লা, মিমির সঙ্গে দেখি এর ভালই খাতির। একজন অন্যজনের হাত ধরে আছে। কৃষ্ণচুড়া না কি যেন নাম, ওই প্রডাকশন হাউজ থেকে মিমি নাটক বানাচ্ছেন।
মিমির সঙ্গে কথা হল। শুটিং নিয়ে খুব ব্যস্ত। তবুও এই মানুষটার আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।

ওখানেই প্রথম দেখলাম সুবর্ণা মুস্তফাকে। এই ভদ্রমহিলাকে আমার স্রেফ একটা অভব্য, অমার্জিত মানুষ মনে হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছিল এই ভদ্রমহিলার আচরণ খানিকটা মার্জিত হলে তিনি নিশ্চয়ই অ-সেলিব্রটি হয়ে যেতেন না।
তো, মিমির মোদ্দা কথা, এই দেশে ভাল স্ক্রিপ্টের আকাল তাই তিনি ভারতীয় স্ক্রিপ্ট নিয়ে নাটক বানাচ্ছেন। আগামিতেও এমনটাই ইচ্ছা।

আমার এখানে আর ভাল লাগছিল না। এদের দেয়া চা-টাও বিস্বাদ লাগছিল। এটা কেমন কথা! আমি না-হয় ছাতাফাতা তিন টাকা দামের কলমবাজ, তাই বলে কী এ দেশের সমস্ত লেখক মারা গেছেন যে ভারত থেকে স্ক্রিপ্ট আমদানী করতে হবে? এই সব ফাজিলদের ফাজলামি কথা শুনে গায়ে আগুন ধরে যায়। মিমি ব্যতীত আরও অনেকে দাদাদের লেখা নিয়ে ঝাপিয়ে নাটক বানাচ্ছেন।

আশিক ছেলেটা আরেকজনের কাছে নিয়ে গেল। ওই চ্যাংড়া নাটকনির্মাতার নামটা ভুলে গেছি। উনি আবার প্রেমের নাটক ব্যতীত অন্য নাটক করেন না। আমাকে বললেন, প্রেমের নাটক হলে আছি।
আমি বললাম, আমার কিছু উপন্যাস আছে, ওগুলো নাট্যরূপ করে দেই? 'কনকপুরুষটা'...।
তিনি বললেন, আরে না-না, আধুনিক প্রেমের উপন্যাস। যেটা পাবলিক খাবে। হে মাবুদ, পাবলিক যে কি খায় এটা সম্ভবত পাবলিক নিজেও জানে না!
তিনি একটা প্লটের আইডিয়াও দিয়েছিলেন। ভয়াবহ, গায়ের রক্ত হিম হয়ে আসে! সবটা মনে নাই। অনেকটা এমন: এক দেশে এক ছেলে ছিল। সে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে। করুক...কিন্তু সে যে মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে সেই মেয়ের মায়ের সঙ্গেও সে প্রেম করে। এটা আবার মা-মেয়ে জানে না। এমনসব উদ্ভট আইডিয়া নিয়ে নাটক এগুবে। তিনি আমাকে হাত-পা নিড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেলেন কেমন করে আমাকে 'লিকতে' হবে।
আমি বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, এক কাজ করেন, আপনি নিজেই লিখে ফেলেন না কেন! এটাই উত্তম হবে।
ওখান থেকে ফিরে আসতে আসতে জনান্তিকে বিড়বিড় করছিলাম, হে প্রভূ, আর নাটক ভাল লাগে না...।


সহায়ক সূত্র:
১. সঞ্জীব চৌধুরী: http://www.ali-mahmed.com/2007/11/blog-post.html

এক গ্রাম্য গাতক- লোকন মইসান!

বিচিত্র নামের এই মানুষটা বিচিত্র বাদ্য (পেতলের গামলা) বাজিয়ে গান করেন কী সাবলীল!

Tuesday, December 16, 2008

১০০ পারমানবিক বোমার চেয়ে শক্তিশালি যে বোমা: জুতাবোমা



৬৬ বছর বয়সী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ বেটি উইলিয়ামস ২০০৬-এ বলেছিলেন, "বুশকে আমি সামনে পেলে অবশ্যই তাকে হত্যা করতাম। আজ আমার কাছে অহিংস শব্দটা ভীষণ অপ্রয়েজনীয় মনে হয়"!
এমন একজন বয়স্ক মানুষ, একজন নোবেল লরিয়েট কোন পর্যায়ে গেলে এমন হিংস্র অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তা সহজেই অনুমেয়। কারণ তিনি ইরাক থেকে ঘুরে এসেছিলেন। সেখানে তিনি দেখেছেন শত-শত শিশুকে বাতিল পুতুলের মত মরে পড়ে থাকতে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে যখন তিনি ওখানকার শিশুদের সামনে কথাগুলো বলছিলেন তখন তার চোখে-মুখে ফুটে উঠেছিল তীব্র ঘৃণা!

২০০৩ সালে যৌথ বাহিনীর সুগার কোটেড বড়ির মোড়কে আমেরিকা আক্রমনের পর থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে ১৬ হাজার বৃটিশ সেনা চাকরি ছেড়েছিল।
তো এমন নোবেল লরিয়েট, দুর্ধর্ষযোদ্ধাদেরই যদি এই অবস্থা হয় আমি কোন ছার!

আমি আমার টাট্টিখানার দরজায় আমেরিকা-বৃটিনের পতাকা লাগালে লোকজনদের সূক্ষরূচি আহত হয় বুঝি! আর এইসব সভ্য দেশের অসভ্য লোকদের বর্বরতার কারণে আমার মস্তিষ্কে যে শর্ট-সার্কিট হয়ে যেত, পাগল-পাগল লাগত এর বুঝি কোন দাম নেই? কসম, তখন মরে যেতে ইচ্ছা করত।
হায়, নপুংসক আমি, কীই-বা করার ছিল ৩ টাকা দামের এই কলমবাজের; অনর্থক কলমবাজি করা ব্যতীত।


বুশ ওরফে জঙ্গল। এই গ্রহে জঙ্গলের আইন চালু করেছিল। এখানে ছাপার অক্ষরে কথা চালাচালির সুযোগ কই!

তবে মানুষটাকে মেরে ফেললে কী লাভ হত? নিমিষেই জাগতিক আনন্দ-বেদনার বাইরে চলে যেত! তারচে এই-ই ভাল হল। বুশের বাকি জীবন এই জুতা মারার স্মৃতি তাড়া করুক এটা আমার সুতীব্র চাওয়া। তাড়া করবেই। কারণ ধারণা করি, বুশ পুরাপুরি রোবট না কেননা রোবটদের প্রজনন-ক্ষমতা নাই বলেই জানি (বুশের ২টা মেয়ে আছে বলেই শুনেছি। এই নিয়ে কারও সংশয় থাকলে তাদের ডিএনএ টেস্ট করাতে পারেন। )

*লেখাটা অসমাপ্ত। আরও লেখার ছিল। পরে হয়তো যোগ করব।
'ফ্রিডম' বই থেকে খানিকটা তুলে দিচ্ছি:
বুশ, এ মানসিক রোগে ভুগছে; অ্যাটেনশন ডেফেশিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার।
বুশকে যদি বলা হয়, তুমি সারফেস উঁচু করো। এ করবে কি, সব লোকজন মেরে কবর বানিয়ে সারফেস উঁচু করে ফেলবে। এবং করছেও তাই!
আমাদের দুর্ভাগ্য, বুশ-এর মতো মানুষ পৃথিবীর মাথায় বনবন করে ছড়ি ঘুরাচ্ছে। কোন দেশের নিয়তি নির্ভর করে সেই দেশের শাসক কতটুকু পেটের পীড়াগ্রস্থ তার উপর। আসলেই পৃথিবীর নিয়তি নির্ভর করে বুশ সাহেব ঠিক মতো ডেলিভারী দিচ্ছেন কিনা, রেস্টরুমে !


এই মানুষটা এ গ্রহের কী যে বিপুল ক্ষতি করছে তার ইয়াত্তা নাই! ইরাকের হাজার হাজার বছরের সভ্যতা গুড়িয়ে দিয়েছে। একজন মানব সন্তানের প্রতি জন্তর চেয়েও খারাপ আচরণ করেছে। ইরাকের পবিত্র জায়গাগুলো অপবিত্র করেছে।
ইসলামের ধারক-বাহক আরব দেশ নিশ্চুপ। কিন্তু এটা ছিল আসলে এসিড টেস্ট- ভবিষ্যতে সৌদির পবিত্র জায়গাগুলোর জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হলো।


বুশ, ইরাকের লোকজনদের ভাবনা এলোমেলো করে দিয়েছে। একজন ইরাকি কুর্দি আরি বলেন: 'I know i am recist but i can’t help it. আরবদের আমি ঘৃণা করি। এমনকি মুসলমানদেরকেও। আমি কোরআন পড়ি না- কেন না এটা আরবীতে লেখা। আমি ইসলাম মানি না কেননা আরবদের মাধ্যমে ইসলাম এসেছে'।

জঙ্গল সাহেব আমাদের জঙ্গলের আইনের বদলে গণতন্ত্র শেখান! শেখান তেলের সংগে কেমন করে রক্ত মেশাতে হয়। কেমন করে হাইটেক মারণাস্ত্রগুলোর জান্তব মহড়া দিতে হয়।
একজন মানুষকে হত্যা করলে চরম শাস্তি দেয়া হয় অথচ বুশকে লক্ষ-লক্ষ মানুষ হত্যার জন্য কোন শাস্তি দেয়ার বিধান নাই- গ্রহবাবা যে!
এটা সত্য বুশ নিজ হাতে কাউকে হত্যা করেনি- তাতে কী! গোল্ডা মায়ারের স্পষ্ট কথা, 'একজনকে নিজ হাতে হত্যা করা আর হত্যা করার সিদ্ধান্ত দেয়ার মধ্যে মুলত কোন পাথর্ক্য নাই'।"

Tuesday, December 9, 2008

কোপানি এন্ড চাবানি ঈদ

আমার মতে ২ ঈদকে সামনে রেখে এই দেশে সবচেয়ে বেশি 'দু-নম্বুরি' হয়। এই বিষয় নিয়ে আবারও আলোচনা করার ফায়দা নেই বিধায় একই বিষয় নিয়ে লেখার লিংকটা...http://www.ali-mahmed.com/2008/10/blog-post.html

ওষুধের দোকানে দেখলাম ৫০০ টাকা করে টাকা তোলা হচ্ছে ড্রাগ সুপার সাহেবের জন্য। এই সুপার সাহেবের আয়ত্বে আছে প্রায় ২০০ দোকান। তাইলে টাকা উঠবে আনুমানিক ১ লাখ!
এই সুপার সাহেব যখন লাখ টাকার গরু কোরবানি দেবেন তখন আমাদের মত লোকরা পশ্চাদদেশে চাপড় মেরে লাখ-উল্লাস করব এতে আর সন্দেহ কী!

Monday, December 8, 2008

এক কলমযোদ্ধা

ছবিটি সেলিনা পারভীনের। ‌'শিলালিপি' পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক। মুক্তিযোদ্ধাদের ওষুধ, খাবার দিয়ে সহায়তা করতেন।
১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর, দুপুর। পাকবাহিনির দোসররা তাকেঁ তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়।
তখনও তাঁর দুপুরের খাওয়া হয়নি। ৮ বছরের ছেলে সুমনকে বলে গিয়েছিলেন, তুমি খেয়ে নাও, আমি ফিরে খাব। ওয়ান-ওয়ে জার্নি, সেই শেষ যাওয়া।

তাঁর সন্তান সুমনের কী মাথা খারাপ? তিনি কিনা তাঁর মায়ের নামে সামান্য একটা রাস্তার নামকরণ করার জন্য বছরের পর বছর ধরে সরকার বাহাদুরের লোকজনদের বিরক্ত করেছেন।
কী আস্পর্ধা!
ছবি ঋণ: আফতাব আহমদ

সাধুবাদ বনাম মুর্দাবাদ

সাধুবাদ:
"হাইকোর্ট। ২৮ আগষ্ট।
১ দিনে বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রায় ৩১৯ মিনিটে ২৯৮ মামলার রায় দিয়েছেন। প্রতি মামলার জন্য লেগেছে গড়ে ৬৩ সেকেন্ড বা প্রায় ১ মিনিট"। (০৯.১১.০৮, মিজানুর রহমান খান/ প্রথম আলো)

এ ঐতিহাসিক!
এ অসম্ভব!!
এ অভূতপূর্ব!!!


হাইকোর্টের একটি মামলা অন্যের চোখ না, নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিল বলেই জানি এটা কী অসম্ভব একটা কাজ! কোর্টে একটি মামলার কাগজপত্র গুছিয়ে উঠাতে আর নামাতে যে সময় ব্যয় হয় তাতে এই সময়ের হিসাবের কাছাকাছিও নেই!
আমি নিশ্চিত, এই গ্রহে আর কোথাও এমন রেকর্ড ভেঙ্গে খানখান করে ফেলার নজির নেই। গিনিস রেকর্ডে নাম উঠাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। দেশের এমন একটা সাফল্যে মনটা কেমন শান্তি শান্তি লাগছে। আহা, মানুষের অসাধ্য কী আছে!
মাননীয় বিচারপতি জনাব শরীফ উদ্দিন চাকলাদারকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই।


মুর্দাবাদ:
“মাননীয় বিচারক মি. ফ্যাঙ অতন্ত কৃশকায় এবং গরম মেজাজের লোক। ইনি অশক্ত শরিরে যতোটুকু সহ্য হয় তারচেয়ে বেশি মদ্যপান করেন। ফল যা হবার তাই হয়, সর্বদা মেজাজ টং হয়ে থাকে। তাছাড়া ক-দিন পূর্বে একটি দৈনিক পত্রিকায় তাঁর লেখা মামলার এক রায়-এর কঠিন সমালোচনা বেরিয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, এ নিয়ে তিনশোবার বিচারক ফ্যাঙের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে...”। (অলিভার টুইস্ট/ চার্লস ডিকেন্স)


এ অন্যায়!
এ নিন্দনীয়!!
এ ক্ষমার অযোগ্য!!!

মাননীয় বিচারক মি. ফ্যাঙের ঘোর নিন্দা জানাই।

Sunday, November 9, 2008

সব বদলে ফেলব, নিজেকে বদলাব না: শক্তচিন্তা

পত্রিকায় এটার খুব একটা চল নেই, এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। একজন ফটো সাংবাদিক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দুর্ধর্ষ একটা ছবি উঠাবেন কিন্তু তার নামের বদলে ছাপা হবে পত্রিকার নাম। ভাবখানা এমন ছবিটা ওই পত্রিকা উঠিয়েছে নাইকন, অলম্পাস ক্যামেরা, জড়পদার্থের সাহায্যে।
বেতনভোগীর আবার নাম কী! একটা ছবির কারণে পত্রিকার কাটতি বেড়ে গেল এটাই বা কে জানতে চাইবে!

গোটা একটা উপন্যাস অনুবাদে অনুবাদকের পরিশ্রমের ক্লেশ বেশি নাকি কয়েক লাইন ভূমিকা লেখা উপসম্পাদকের? এই নিয়ে তর্ক করা বৃথা। তেল জিনিসটা তেলতেলে কিন্তু চকচকেও বটে!

এমনিতেও পত্রিকায় দু-চারজন বিশেষ আলোকিত মানুষ থাকেন নইলে কর্তৃপক্ষের ধারণা হয় এদের ব্যতীত পত্রিকা অচল। তাই উপসম্পাদকের কানসাট নিয়ে ১০১ লাইনের কবিতা না ছাপিয়ে উপায় কী, তাও সাহিত্য পাতায় না, সম্পাদকীয় পাতায়!

পাঠককে হজম করতে হয়। পাঠক পাকস্থলির মত- সব কিছু হজম করতে হয়। বেচারা!
অনুমান করি, তখন এই দেশের সমস্ত কবি জ্যোত্স্না খাওয়ার জন্য হিমালয়ে অবস্থান করছিলেন। নইলে সমুদ্র গুপ্তের মত ভারী চটের ব্যাগ কাঁধে বয়ে ওষুধ ফেরি করছিলেন।

‘ওয়েবসাইট অবলম্বনে’ বা ‘ইন্টারনেট থেকে’- এসব হচ্ছে গণিমতের মালের মত। পত্রিকায় এই ২টা শব্দ ছেপে দিয়ে তথ্যের মহাসমুদ্র থেকে যে কোন তথ্য নিয়ে নিলেই হল, কেউ চোর-চোট্টা বলবে না। যেন ওয়েবসাইট নামের যন্ত্র নিজে নিজেই এইসব তথ্য যোগাড় করেছে, চাহিবামাত্র পত্রিকাওয়ালাদের সরবরাহ করার জন্য মুখিয়ে থাকে। এর পেছনে দুপেয়ে বুদ্ধিমান কোন প্রাণী ছিল না, সাইটটার কোন নাম থাকতে নেই! অতএব অনুমতি, নামোল্লেখ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আবশ্যকতাই বা কী!

যে তথ্য পাঠকের জন্য জরুরি না সেটা ফলাও করে ছাপা হবে, আজ এত লক্ষ কপি ছাপা হল। যেটা জরুরি সেটা ছাপার আশা বাতুলতা, যে আজ পত্রিকার মোট স্পেসের এত ভাগ বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে? আধাআধি হলেও মন্দের ভাল- ৫০ ভাগ খবর, ৫০ ভাগ বিজ্ঞাপন। এতেও অন্তত আমি সুখি, ৪০০ পয়সা উসুল হয়েছে এই আনন্দে।
নইলে একদিন দেখব গোটা পত্রিকা বিজ্ঞাপনে ঠাসা। পেছনে ছোট্ট করে লেখা, স্থানাভাবে আজ কোন খবর ছাপা হলো না। খবরের জন্য দেখুন আগামিকাল। আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ বন্ধ করে।
চোখ খুললেই...।
বড় ধন্ধে আছি।

Saturday, November 8, 2008

অহেতুক আবেগ- মূল্য মাত্র ৫০ টাকা।

সালটা ৯৩। 'বীরশ্রেষ্ঠ' নামের লেখাটার জন্য পেয়েছিলাম ৫০ টাকা। তখন আমি দৈনিক 'ভোরের কাগজ'-এ ফি হপ্তাহে 'একালের রূপকথা' নামে নিয়মিত লিখি। হাবিজাবি বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে।

থাকি গ্রাম টাইপের একটা জায়গায়, দায়ে না পড়লে ঢাকা যাওয়া হয় না। কিন্তু একবার ঢাকায় পা রেখেই আমার মাথা খারাপের মত হয়ে গেল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাকিস্তানি পতাকায় ছেয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পাকিস্তানি প্রাইম-মিনিস্টার আসছেন। বেশ। তর্কের খাতিরে, শিস্টাচারের দোহাই দিলেও এমন করে পাকিস্তানি পতাকা দিয়ে ঢাকা শহর মুড়িয়ে দেয়ার যুক্তি কী এটা আজো বোধগম্য হয় না। প্রচন্ড মনখারাপ করে তখন বীরশ্রেষ্ঠ লেখাটা লিখেছিলাম।

তখন ওই পাতাটা দেখেতেন সঞ্জীব চৌধুরী। তাঁকে আমি অনুরোধ করেছিলাম এই লেখাটার জন্য কোনো টাকা আমাকে না-দিতে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনো লেখা লিখব টাকার বিনিময়ে এটা আমার কল্পনাতেও ছিল না। তিনি বিষয়টা গুরুত্ব দেননি নাকি নিয়ম ভাঙ্গার নিয়ম ছিল না এটা জানার আজ আর উপায় নেই! বাধ্য হয়ে টাকাটা আমাকে নিতে হয়েছিল- অনেক লেখার বিল একসঙ্গে দেয়া হত। হায়, এই ৫০ টাকার আমি কী করব, কোথায় রাখব?

৫০ টাকাটা আমি রেখে দিয়েছিলাম। আজও আছে। কখনও ইচ্ছা হয়নি এটা খরচ করে ফেলি। সজ্ঞীবদা, আপনি আসলে(!) দেখাব নে আপনাকে...।

"বীরশ্রেষ্ঠ
দেশের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত অঝোরে ঝরে এক জায়গায় জমা হলো। সে সাগরে উঠল উথাল-পাতাল ঢেউ। সে ঢেউ ক্রমশ ফুঁসে উঠল। ছাড়িয়ে গেল এ দেশ- মহা বিশ্ব, সবকিছু। সৃষ্টিকর্তার ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। একাগ্রচিত্তের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শাসন কার্য, সৃষ্টিকর্তার জন্যে এরচেয়ে লজ্জার কিছু নেই। পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে বললেন: এতো অপাপবিদ্ধ রক্ত, এতো রক্ত- এ নিয়ে আমি কি করব, কোথায় রাখব!

এদেশের ক’জন সেরা সন্তান, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ একই সঙ্গে আবেদন করলেন, অল্প সময়ের জন্যে হলেও প্রিয় মাতৃভূমি দেখার অনুমতি দেয়া হোক। তাঁদেরকে জানানো হলো, এ রকম কোনো নিয়ম নেই। বীরশ্রেষ্ঠরা গোঁ ধরে রইলেন। অবশেষে অনুমতি মিলল কিন্তু নিয়মকানুনও বলে দেয়া হলো:
কোনো অবস্থাতেই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না, সাত জনকেই একসঙ্গে থাকতে হবে, এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে ফেরা যাবে না।

ঢাকা। ১২ ডিসেম্বর। আর মাত্র একদিন পর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, মাত্র তিনদিন পর বিজয় দিবস।
চোখের পলকে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ প্রিয় মাতৃভূমিতে উদয় হলেন। মৃত্যুনীল যন্ত্রণায় তাঁদের দেহ মোচড় খাচ্ছে, ভুল করে তাঁরা পাকিস্তানে চলে এসেছেন। আহ-আহ, কী কষ্ট! চারদিকে উড়ছে পাকিস্তানি পাতাকা পতপত করে। চারদিক ছেয়ে গেছে পাকিস্তানি পতাকায়।


সিপাহী মোঃ মোস্তফা কামাল চেঁচিয়ে বললেন: কিন্তু একী আশ্চর্য! ওই, ওই তো দেখা যায় বায়তুল মোকারম মসজিদ?
ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ সুর মেলালেন: আরে, বাহ, আমিও তো স্টেডিয়াম দেখতে পাচ্ছি।
কিছুদূর এগুতেই নায়েক মুন্সী আব্দুর রব অবাক হয়ে বললেন: অবাক কাণ্ড, এটাই তো সেই ঘড়িঅলা বিল্ডিংটা!
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ফুটপাতের অসংখ্য পত্রপত্রিকা নেড়েচেড়ে দেখলেন, সব বাংলা।

ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার রুহুল আমীন অস্ফুট স্বরে বললেন: সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলছে, এটা পাকিস্তান হতেই পারে না, আউট অভ কোশ্চেন!

মতিঝিলে জ্যামে অনেকক্ষণ আটকে রইলেন। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে নাকি সবুজ চত্বরে স্বাগত জানানো হবে।
এঁরা এদিক ওদিক বেশ অনেকটা সময় ঘুরে বেড়ালেন। একসময় সচেতন হয়ে ভারী লজ্জিত হলেন। আসার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু...!


জাতীয় স্মৃতিসৌধের চারপাশে মানব-প্রাচীর ঘিরে আছে। বীরশ্রেষ্ঠরা অলৌকিক ক্ষমতার ব্যবহার না-করে এ ব্যুহ ভেদ করতে পারবেন না। কিন্তু সেই ক্ষমতা ব্যবহার করার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
একজন বীরশ্রেষ্ঠ, কঠিন নিষেধ বিস্মৃত হয়ে মুখ ফসকে বলে ফেললেন: কেন স্মৃতিসৌধে ঢুকতে দেবেন না, আমরা বীরশ্রে..., আমাদের কি এইটুকু অধিকারও নেই?


ভাগ্যিস, বীরশ্রেষ্ঠরা কি করে এখানে এ নিয়ে সৈনিক মাথা ঘামাল না। পাথরমুখে একচুল আঁচড় না ফেলে বরফ ঠাণ্ডা গলায় বলল, পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার এখন ফুল দিচ্ছেন। আপনারা যেই হোন আর যাই হোন ওনার চেয়ে বড় না।

বীরশ্রেষ্ঠদের সবারই যেন কী হলো, সমগ্র বিশ্ব আধার হয়ে আসছে। চোখ জলে ছাপাছাপি কিন্ত কেউ কারো দিকে ভুলেও তাকাচ্ছেন না। বীরপুরুষদের চোখের জল যে দেখতে নেই। তাঁরা ফিরে আসছেন, একেকজনের থুতনী নীচু হতে হতে বুকে গিয়ে ঠেকছে।
সবাই জামার ভেতর আটকে থাকা মেডেলটা খুলে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। মেডেলগুলো ফেলে দিতে গিয়ে তারা জমে গেলেন, এগুলোর গায়ে দৈববাণী জ্বলজ্বল করছে: 'ও আমার বীর সন্তান, তোমাদের চেয়ে প্রিয় আমার আর কেউই নাই।"

দুঃখ প্রকাশ:
ভোরের কাগজের অধিকাংশ লেখা নিয়ে যে বইটি 'একালের প্রলাপ' ছাপা হয় ওখানে 'বীরশ্রেষ্ঠ' নামের এই লেখাটিতে স্কোয়াডন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রুহুল আমীন ছাপা হয়েছে। যা হবে, ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার মোহাম্মদ রুহুল আমীন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কারণে দুঃখ প্রকাশ করি।  

Thursday, November 6, 2008

সাদা বাড়িতে কাল অতিথি...

এ গ্রহে এক প্রভু নাকি থাকেন বিশেষ একটা সাদা বাড়িতে। আকাশবাড়ির আসল প্রভু কী চান সেটা আলোচনার বিষয় না, সাদা বাড়ির প্রভু কী চান সেটাই বিষয়। তিনি কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মাথায় হাত বুলাবেন নাকি ইয়েতে আঙ্গুল দেবেন সেটা তার সদয় মর্জি।
 

এই প্রভু শেখান, এই গ্রহ শেখে। তিনি শেখাতে বাকি রাখেন না কিছুই- সময় থাকলে এটাও বলে দিতে চেষ্টা করেন একজন বিছানায় কেমন করে বিশেষ সময় কাটাবে!
এমন 'শিকখিত' প্রভুর দেশ অথচ সাদা বাড়িতে প্রভুর বেশে একজন কাল মানুষের প্রবেশ করতে ২০০৮ সাল লেগে গেল কেন, এটাই আমার কাছে বিস্ময়! হায়, কেমন 'শিকখিত' প্রভুর দেশ! একজন বুশ- পাগলটা এই গ্রহের মাথায় বনবন করে ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছে ৮ বছর হল! কোন আইন তার কেশাগ্র দূরের কথা গোপনকেশও স্পর্শ করতে পারছে না। একে যদি বলা হয় সারফেস উঁচু করো তো- এ করবে কী, সব প্রাণ মেরে কেটে সাফ করে কবর বানিয়ে সারফেস উঁচু করে ফেলবে। 


আফসোস, ইমপিচমেন্টের ফাঁদে ক্লিনটনের মতো চমত্কার শাসকের সিংহাসনের স্ক্রু ঢিলা হয়ে যায় যায়- মনিকার সঙ্গে ফস্টিনস্টি করে স্বীকার না করার কারণে। অথচ একটা কুকি বিস্কুট ব্যতীত আর কেউ বুশ নামের পাগলপ্রভুকে আটকাবার চেষ্টা করেনি (এই বদ্ধউম্মাদ গলায় কুকি বিস্কুট আটকে মরতে মরতে বেঁচেছিল)।
এ ঘটা করে আবার রাইসের কাছে চিরকুট লেখে, "আই নিড আ বাথরুম ব্রেক, ইজ দিস পসিবল"?
 

আসলে এইসব নকলপ্রভুরা- ডেমোক্রেট না রিপাবলিকান সেটা বিষয় না, এদের চালায় ব্যবসায়িরা। এরাই হচ্ছে এদের প্রাণপাখি। নির্বাচনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ফান্ড না আসলে পৃথিবীর ব্যয়বহুল নির্বাচনের তকমা লাগতে হবে না! 
তেল এবং অস্ত্র- সাংঘাতিক লাভজনক ব্যবসা। এই যে এতসব হাইটেক মারণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে, এইসব বিক্রি করতে হবে না বুঝি। আগের ক্লাস্টার বোমায় মারা যেত ১০/১৫ জন, এখন মারা যায় শয়ে শয়ে। মহড়া করতে হবে না? তো, জাত-পাত, ধর্ম, জাতির নামে লাগাও যুদ্ধ। আরাম করে ভিজ্যুয়াল দেখ। শ্যাম্পেনে চুমুক দাও। দরদাম করো। ডিল। আর যেসব দেশ বোমার আঘাতে আঘাতে জর্জরিত সেইসব দেশের পূর্ণবাসনের কাজও তো এরাই বাগাবে। স্প্লিল্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শিশুটি খেলনা পুতুলের মত মরে থাকলেই কী রাইসের পিয়ানোর নোটে ভুল হবে? নাকি হওয়া উচিত! পাগল!

Monday, November 3, 2008

এক লালচওয়ালার খপ্পরে

আমি মানুষটা বেশ লালচি!
প্রবাসে আমার যেসব সুহৃদরা থাকেন, এরা দেশে ফেরার আগেই আমার খপ্পরে পড়েন। আমি অম্লান, নির্বিকার ভঙ্গিতে অনায্য দাবীতে বলি: দেখিয়েন, খালি হাতে আমার এখানে আসিয়েন না কিন্তক।
বেচারা-রা আ আ, কী আর করবেন, মুখ লম্বা করে, লজ্জার মাথা খেয়ে আমার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসেন।



মাহবুব সুমন:
ইনার ধারণা, আমি একজন দুর্ধর্ষ শিকারি। অস্ট্রেলিয়া থেকে বয়ে নিয়ে আসলেন 'বুমেরাং'। হায় খোদা, আমি তো পিপড়াও মারতে পারি না, শিকার করব কী!


আনোয়ার সাদাত শিমুল:
ইনার ধারণা, আমি নাকি কলমযোদ্ধা- দুই কলম লেখার এই ফল! একদা ৩ টাকার কলম নিয়ে কস্তাকস্তি করতাম দেখে হয়তো তার ধারণা জন্মে গেছে আমি কলম-মারকুটে! তাই কী ব্যাংকক থেকে এক দুর্ধর্ষ যোদ্ধার প্রতিমূর্তি নিয়ে এলেন। দেখো দিকিনি কান্ড, এই যোদ্ধার নাকই তো চার কলম!



বাবু:
এই মানুষটাকে সরকার একের পর এক ট্রেনিং দিয়েও রোবট বানাতে পারেনি। যে মানুষটার একটা ফোনে সরকারি কোষাগারে জমা হয় কোটি-কোটি টাকা, সেই মানুষটারই কিনা কাঁচা কটা আম ভেট পেয়ে সবগুলো দাঁত বেরিয়ে পড়ে।
হা ঈশ্বর! কিন্তু কঙ্গোর এই মহিলার...। লালচি থেকে লো...। রাম-রাম!




মাহবুবুল হুদা:
কট্টর এই মুসলমানের দেখার চোখটা বড় ঝকঝকে-স্বচ্ছ! নইলে কী আর আমাদের দেশের সবচেয়ে চালু মূর্তিপুজার প্রসঙ্গ একপাশে সরিয়ে এটা দেন!


সাদিক মো: আলম:
বিচিত্র এই মানুষ ততোধিক বিচিত্র তার আচরণ- সিংগাপুর থেকে নিয়ে এসেছিলেন এই সিংহাসন কিন্তু এটায় বসার উপায় নেই!



Friday, October 17, 2008

কে কাকে নাড়ায়!

Wednesday, October 1, 2008

শেকল

একেকজনের জন্য একেক পদের শেকল। কারো জন্য ধর্মের, কারও জন্য শিক্ষার...। কারো জন্য বা এমন সু-কঠিন শেকল, তার রক্তের শেকল! আটকে দেয় যাওয়াটা। অথচ অসীম বিনিদ্র রজনী! অনেক কাল না-ঘুমাবার তাড়না। শূণ্য পড়ে থাকে শীতনিদ্রার মোহনীয় বিছানাটা।

প্রবলপুরুষদের এমন শেকল কতটা সময় এ গ্রহে আটকে রাখতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়...।

এরা কারা- এলিয়েন, অন্য গ্রহের কেউ?

আমার ধারণা, বাংলদেশে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয় ২ ঈদের আগে-আগে।
কোরবানির ঈদে কী কী কোরবানি হয় সেই বিতর্কে আমি যাব না! তবে আমাদের দেশে কোরবানির ঈদ মানেই গরু জবাই। এবং চোখ দিয়ে যদি গরু খাওয়ার উপায় থাকত তাইলে একটা গরুও বাজার থেকে আস্ত ফিরতে পারত না, রাস্তাময় কেবল পড়ে থাকত গরুর কঙ্কাল!

আমার এলাকায় গতবছর সবচেয়ে বড় গরুটা (৬৫ হাজার) দিয়েছিলেন সার্জেন্ট সাহেব। সবার সেকি উচ্ছ্বাস!
অনুমান করতে কষ্ট হয় না, ঈদকে সামনে রেখে এ দেশের কোটি-কোটি মানুষের কাতারে আমাদের সার্জেন্ট সাহেবও ছিলেন বৈকি।

এবার আসা যাক ইদুল ফিতরের ঈদ। হাঙ্গা নাকি লেহাঙ্গাটা (৮০ হাজার) কিনেছেন একজন ক্লার্কের বখা মেয়ে।
আচ্ছা, স্যাররা যে ধুমসে দূর্নীতি করেন এই ঈদকে সামনে রেখে- নিশ্চয়ই ঈদের দিন মালপানি আসে না। তবে কখন, গোটা রমজানব্যাপি নিশ্চয়ই?
আমাদের দেশটা বড় বিচিত্র, রমজান মাস এলেই আমরা দেখি ধাঁ ধাঁ করে দ্রব্যমূল্যর দাম আকাশ ছাড়িয়ে যায়। কতটা গভীর মানুষের গলা কাটা যায়!
রিখটার স্কেলের মত যদি দূর্নীতি স্কেল থাকত তবে নির্ঘাত এই ২ ঈদের সময় বঙ্গালদেশ ধসে পড়ত।

রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয়, এই-ই আমার মত। জানি, অনেকেই একমত হবেন না। বেশ।

এ দেশের সমস্ত লোকজন তো দেখি রোজা রেখে মসজিদের সামনের কাতারে, বনবন করে ঘুরছে হাতের তসবি।
তাইলে এরা কারা, যারা সংযমের মাসে সীমাহীন হার্মাদী করছে? এরা কি অন্য গ্রহ থেকে আসে, এলিয়েন?

Monday, September 22, 2008

শিশু হত্যার মারণাস্ত্র, বিজ্ঞাপনরঙ্গ!

সোয়াইক গেল যুদ্ধে নাটকের একটি সংলাপ ছিল এমন: নাত্স-ই বাহিনীর অফিসার বলছে, 'হাগিস কেমন'?
সোয়াইক উত্তর দিয়েছিল, 'যেমন চাইবেন স্যার। শক্ত চাইলে শক্ত, পাতলা চাইলে পাতলা'।
এই আলাপে অশ্লীলতা খোঁজা বৃথা। তীব্র ভয়ে বাহ্যজ্ঞান যেমন লোপ পায় তেমনি লজিক। এখানে আমি সোয়াইকের তীব্র ভয়ে কাবু হওয়াটাই দেখছি- প্রাণের চেয়ে প্রিয় তো আর কিছু নাই!


এখনকার সময়ে বাহ্যজ্ঞান লোপ পেতে ভয়ের পাশাপাশি বেসুমার টংকাও (টাকা) দায়ি। সেলিব্রেটিরা যথেষ্ঠ টাকা পেলে যে-কোন বিজ্ঞাপন করে ফেলেন। শাহেদ নামের সেলিব্রেটি, সেল ফোনের একটা বিজ্ঞাপনে, বাবা-মাকে ছেড়ে আসা স্ত্রীর মন খারাপ দেখে বাসে জনসমক্ষে ললিপপ চুষতেও আপত্তি করেন না। বেকুবটা কী মনে করে এটা চুষছে সেই জানে!

আজিব, কোন চুতিয়ার মাথা থেকে বিজ্ঞাপনের এই আইডিয়া বেরিয়েছে কে জানে! চাবকাতে পারলে আরাম পাওয়া যেত।
কে জানে, আগামীতে দেখব, ইসুবগুলের ভূষির বিজ্ঞাপনে কোন সেলিব্রেটিকে কাস্ট করে জানতে চাওয়া হবে, আপনি কি হাগতে পারেন?
সেলিব্রেটি বিমলানন্দে মাথা নুইয়ে বলবেন, হুঁ, হাগা কোন বিষয় না। পেমেটন্টা ভাল দেন, দেখবেন, আচ্ছা করে হেগে দেখিয়ে দেব। শক্ত চাইলে শক্ত, পাতলা চাইলে পাতলা।

আমার ধারণা, শিশুদের সবচেয়ে পছন্দের অনুষ্ঠান কার্টুন এবং বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন শিশুরা কেন এত আগ্রহ করে দেখে আমি জানি না, এটা মনোবিদরা ভাল বলতে পারবেন। এদের অবচেতন মনে এর প্রভাব অকল্পনীয়! ৪-৫ বছরের শিশু বিজ্ঞাপনের জিংগাল পুরোটাই মুখস্ত করে বসে থাকে। লোগো দেখে গড়গড় করে আউড়ে যায়। সেল কোম্পানির বিজ্ঞাপন শুরু হওয়া মাত্রই ছাদ ফাটিয়ে বলে, মা কান্না করে-মা কান্না করে।

কী বিপুল প্রভাব!

একটি দুধ কোম্পানির চালু একটা বিজ্ঞাপন। বাচ্চালোক এই দুধ কোম্পানির দুধ খেয়ে এমন ‘তানদুরস্ত’-বলশালী হয়, গাছের মগডাল থেকে ছাতা নিয়ে লাফিয়ে পড়ে। কেবল লাফিয়েই পড়ে না প্যারাসুটের মত ভেসে ভেসে নিচে নেমে আসে। এরপর গলা ফাটিয়ে বলে, আমরা করব জয়, এ- এ-এ।

অল্প বয়সের শিশুরা যা দেখে তাই শেখে- বাবা চাঁদ ধরব, বাবা তোপ খাব। এই বিজ্ঞাপন দেখে কোন শিশু ছাদ থেকে ছাতা নিয়ে লাফিয়ে পড়লে ওই শিশুর মৃত্যুর দায় কে নেবে? এই বঙ্গালদেশে কি এমন কেউ নাই যাকে এর জন্য দায়ি করা চলে?

নাকি এরিমধ্যে কোন শিশু লাফ দেয়ার চেষ্টা করেছে? গোটা দেশের খবর তো আর আমাদের নখদর্পনে নাই। প্রত্যক্ষদর্শী কেউ না থাকলে এটাই বা কি করে নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটি ছাতা নিয়েই ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল নাকি এমনি এমনি? পোস্টমর্টেম করে তো আর এটা বের করার উপায় নেই।

আমাদের দেশে জাতীয় দৈনিকগুলোতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ৯০০ কোটি টাকা দানের খবরই আসে না আর একটা শিশুর মৃত্যুর খবর নিয়ে স্যারদের গা করার স্পৃহা কই?

মুক্তচিন্তার পরতিকায়(!) আসলেও বড়জোর আসতে পারে ছাদ থেকে পড়ে একটি শিশুর অকাল মৃত্যু। ফলোআপ করার চল আমাদের দেশে খুব একটা নাই। এরপর আমরা আর কিছুই জানব না।

ব্যস। মামলা ডিসমিস।

Saturday, September 13, 2008

ঈশ্বর হইতে সাবধান!

প্রায়শ ভাবি, আমরা যারা ভুল রোলে অভিনয় করি, নিতান্ত বাধ্য হয়ে; এদের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করা বাতুলতা মাত্র। এদের মস্তিষ্ক, পায়ু, উদর একাকার হয়ে যায়।
চাকুরি সংক্রান্ত বিষয়, ভাইয়ের জন্য ।একজন সদাশয় মানুষের রেফারেন্সে এখানে আসা। চাকুরিদাতার অপেক্ষা। বসে থাকা, অনেক ফানির্চারের সঙ্গে মিলেমিশে ফার্নিচার হয়ে।
গুলশান। গাড়ির শো-রুম। এখানে ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজদের বখা ছেলে-মেয়েদের স্যার-ম্যাম বলে বলে মুখে ফেনা তুলে আলগোছে গছিয়ে দিতে হবে ঝাঁ চকচকে একখানা গাড়ি।
অবশেষে তিনি এলেন। তাঁর খাস কামরা। টুকটাক উত্তর দেয়ার পাশাপাশি প্রশস্ত কামরায় চোখ বুলানো। ভদ্রলোকের সামনে রাখা এলসিডি মনিটরে অসংখ্য চলমান ছবি। ভালই তো, ইনি তাহলে একই সঙ্গে অনেকগুলো চ্যানেল দেখেন।
অরি আল্লা, ঘটনা তো এটা না, এটা তো লুকানো অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি! মাবুদ, মনের ভুলে কেউ গোপনাঙ্গ চুলকালে এটাও যে কেউ আয়েশ করে বসে বসে দেখবে আর হি-হি করে হেসে গড়িয়ে পড়বে?
বিষয়টা মেনে নেয়া কঠিন কিন্তু এই অসভ্য কান্ড এই দেশেই সম্ভব। এখানে কে এটা নিয়ে গলাবাজি করবে যে এটা অবশ্যই আগন্তককে সতর্ক করা আবশ্যক যে গোপন ক্যামেরা চালু আছে। এবং ক্যামেরা যে চালু আছে তার একটা চিহৃ প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে না-দেয়াটা কঠিন অন্যায়।

ভদ্রলোক দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন। শুকরিয়া। এবং এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলছেন না, কার রিজিক কোথায় থাকে কে বলতে পারে, এই যেমন আমিই কী জানতাম আজ দুপুরের আমার রিজিক এখানে? হুম, তা বটে। আরেকটা বিষয় হতে পারে এটাও ইন্টারভিউ-এর একটা অংশ।
ভদ্রলাক একনাগাড়ে কথা বলেই যাচ্ছেন। সৌদি আরব নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।  আমি নিরীহ মুখে বললাম, ওখানে মুতওয়া (পুলিশ) ঘরে ঢুকে এক বাঙ্গালিকে ধরে নিয়ে গেছে, সে বারবার বলছে আমি পাক না, কে শোনে কার কথা। জোর করে থানায় নামায পড়িয়ে বন্ড সই রেখে তবে ছেড়েছে।
সবটা মনোযোগ দিয়ে শুনে কাজটা যথার্থ হয়েছে বলেই ভদ্রলোক সায় দিলেন এবার তিনি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এই দেশে মাতামাতি করায় খুবই উষ্মা প্রকাশ করলেন। ওঁর ধারণা, কবির মর্যাদা দিলে নজরুল ব্যতীত আর কাউকে দেয়া চলে না। দরাজ গলায় আবৃত্তি করলেন, 'কবর দিও আমায় মসজিদের পাশে...'।
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, কবি নজরুল ইসলাম যে সমস্ত লেখা লিখে গেছেন এখনকার সময়ে নজরুল এর দশ ভাগের এক ভাগ লেখাও লিখলে কবির বাবরি চুল বাতাসে উড়ত। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাবরি চুলের পেছনে কবির কল্লা থাকত []!
তিনি বলেই যাচ্ছেন, এখানে কাজের সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা। বেশ। মধ্যে খাওয়া, নামাযের ব্রেক। খাওয়ার ব্যবস্থা এখানেই। বেশ। এবার তিনি চেষ্টাকৃত গম্ভীর হলেন, এখানে নামায কিন্তু অবশ্যই পড়তে হবে, এই বিষয়ে কিন্তু কোন ছাড় নাই।

হায় আকাশ! সকাল থেকে রাত- এখানে পড়ে থাকলে আকাশ দেখার সুযোগ কই? আচ্ছা, না-হয় আকাশ হারিয়েই গেল। পেটে আগুন নিয়ে আকাশ তো আর চিবিয়ে খাওয়া যায় না। বাদ আকাশ! কিন্তু নামাজ পড়ার আদেশ? এটাও তাহলে চাকুরির একটা শর্ত-অংশ!
আমি কখনও ঈশ্বর দেখিনি, এত কাছ থেকে তো প্রশ্নাতীত- তাহলে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে ঝলসে যাব যে!

আজকাল বাড়ির গেটে ‘বিষধর সাপ হইতে সাবধান’ সাইনবোর্ড লাগাবার চল শুরু হয়ে গেছে। কালে কালে দেখব ‌'‌রাজাকার হইতে সাবধান' এমন সাইনবোর্ডও চলে এসেছে! ‘ঈশ্বর হইতে সাবধান’ এমন সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া জরুরী, তাইলে আমরা বেঁচে যাই...।
 
লিংক:
১. কাজী নজরুল ইসলাম: https://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_25.html 

Tuesday, September 9, 2008

বীভত্স স্বপ্ন এবং আত্মার ফেরিওয়ালা!

শাহাদুজ্জামান 'বীভত্স মজা' নামে একটা লেখা লিখেছেন। লেখা না বলে এটাকে কি শব্দছন্দ বলা হবে নাকি ছন্দশব্দ এটা বলা মুশকিল! শব্দ নিয়ে এমন হেলাফেলায় জাগলিং সম্ভবত শাহাদুজ্জামানের মত দুঁদে লেখকের পক্ষেই সম্ভব! হায়, কেমন করে পারেন একজন মানুষ শব্দের এমন শব্দনাচ দেখাতে!

শাহাদুজ্জামান আপনি টলটলে পানিঘষা চোখ দিয়ে কী অবলীলায়ই না ফালাফালা করেছেন ঢাকা নগরকে। ঢাকা, যেন লাশকাটা টেবিলে শুয়ে থাকা অপরূপ এক মানব। কিন্তু ব্যবচ্ছেদের পর, একপেট আবর্জনা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অতি সুদর্শন একজন আর গলিত শবে পার্থক্য কী?
আহা, লুই কান নামের পরিকল্পনাবিদের পরিকল্পনা থেকে আপনি এখনো বেরুতে পারেননি বুঝি! বিদেশি না হলে বুঝি কিছুই আমাদের পাতে দেয়া যায় না? আপনার আর দোষ কী বলুন, যে দেশে আইডিয়া বিক্রি হয় কেজি দরে।


এই হতভাগা দেশে স্বপ্নপুরি কোথায়? কে স্বপ্ন বিক্রি করে, কে স্বপ্ন কেনে? কেই বা স্বপ্ন দেখে, কেই-বা স্বপ্ন দেখায়! কোথায় সেইসব স্বপ্নবাজ, যাদের চোখে উপচে পড়ত স্বপ্ন, যাদের হাড় ক্ষয়ে ক্ষয়ে বেড়ে উঠত স্বপ্নের শেকড়? এরা যে আজ নিজেকেই বিক্রি করতে হন্যে হয়ে ঘুরছে। একটা চাকরির জন্য একে-ওকে ধরছে। কেউ হ্যা হ্যা করে হাসছে, যেন ভারী মজার একটা কিছু শুনল যা হোক। কেউবা অন্য দিকে তাকিয়ে থাকার ভান করে।
এই অভাগা দেশে স্বপ্নবাজদের আদৌ প্রয়োজনই বা কী? স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা এখন থেকে স্বপ্নের বদলে নিজের আত্মা ফেরি করবে অন্ধকারের পশুর কাছে!

Saturday, August 23, 2008

কী সাহস গো আপনার ! পেন্নাম হই।

"শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে-ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়াছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ'ল তার সাধ।
বধু শুয়ে ছিল পাশে-শিশুটিও ছিলো;
...
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
...
লাশকাটা ঘরে
চিত হ'য়ে শুয়ে আছে টেবিলের 'পরে।"

আহা, কী সাহস গো আপনার! মরিবার হ'ল তার সাধ...! মরিবার সাধ কার না জাগে? এ্যাহ, সাধ হলেই কী! সাধ হলেই বুঝি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়া যায়? লাশকাটা ঘরে লাশ হয়ে শুতে ভয় করে না বুঝি?

কী পাষন্ড গো আপনি! কেমন করে পারলেন, বাহে, কেমন করে? কেমন করে পারলেন শিশুটির গায়ের গন্ধ বিস্মৃত হতে?

জানি-জানি বিপন্ন একটা বিস্ময় আপনার রক্তের ভিতরে খেলা করে। সে তো আমাদের রক্তেও সবিরাম খেলা করে! তাই বলে আপনার মত সাহস আসে কেত্থেকে? ট্রাম না হোক চলমান গাড়ি তো আমাদেরও টানে- একটা শীতনিদ্রার যে বড্ড প্রয়োজন।

জীবনানন্দ দাদা, আট বছর আগের একদিন? কেন এটা যে-কোন একদিন হলে দোষ কী!
WhatsApp