Sunday, July 1, 2018

দানব এবং মিডিয়া।

হোলি আর্টিজেন বেকারিতে হামলার দুই বছর হলো এখনও অভিযোগপত্রই নাকি দেওয়া হয়নি! তদন্ত নামের যে-জিনিসটা এটা বড় বিচিত্র এর কোনও আগামাথা নাই জবাবদিহিতারও কোনও বালাই নাই।

মিডিয়ার শক্তি কী জিনিস এটা চোখে না-দেখলে আঁচ করা মুশকিল। মিডিয়া যদি বলে কারও কান ৩টা একসময় সে নিজেই বিশ্বাস করা শুরু করবে তার কান ৩টাই। হোলি আর্টিজেনে নৃশংস ভাবে যারা খুন হয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন ফারাজ। মিডিয়ার কল্যাণে দিনের-পর-দিন ধারাবাহিক স্টোরির পর [১] ফারাজের আত্মদান বা বলিদানের খবর এটা এখন বাচ্চারও জানা। ফারাজের আত্মত্যাগ- এমনটা হতেই পারে। কিন্তু আমার স্পষ্ট বক্তব্য যে যা তাকে তাই থাকতে দেওয়াটাই সমীচীন। ফ্যাক্টের মধ্যে ফিকশন মেশবার অবকাশ নাই।

ফারাজকে নিয়ে পাতার-পর-পাতা না-লিখে এই বিষয়টা স্পষ্ট করলেই ভাল হত। তার বন্ধুদেরকে না-ছেড়ে যেতে চাওয়া এই তথ্যের উৎস কি? সমস্ত মিডিয়া নির্ভর করছে নিউইয়র্ক টাইমসের উপর। কেন? দেশের সমস্ত মিডিয়া তখন কোথায় ছিল? কুহতুর পর্বতে!
বেশ, তা টাইমস এই তথ্যটা কোথায় পেল? ফারাজের নিকটাত্মীয় হিশাম হোসেন কাছে। বেশ! কিন্তু হিশাম হোসেন এই তথ্য কোথায় পেলেন? জনৈক ছাড়া পাওয়া জিম্মির কাছ থেকে।
ওই জিম্মি কে, ওই জিম্মির নাম কি, বক্তব্য কি এই প্রশ্নের উত্তর নেই। পরিতাপের সঙ্গে বলি, উত্তর থাকাটাই সমীচীন ছিল। এটা সত্য ফারাজের নৃশংস মৃত্যু অতি বেদনাদায়ক। কেবল যে ফারাজের উপরই এই নৃশংসতা হয়েছে এমন না। ইতালিয় নাগরিক ‘সিমোনা মন্তি’। এই মহিলার গর্ভে তখন অনাগত সন্তান [২]। এই সন্তানটি পৃথিবীর মুখ দেখার পূর্বেই দানবের নৃশংসতা দেখে বিদায় নিয়েছিল।


এই দানবদের [৩] রোখার যে চেষ্টা হচ্ছে তা অপচেষ্টা মাত্র। যারা এই দানব বানাবার কারখানা, যারা এদের মস্তিষ্ক এলোমেলো করে দিচ্ছে তারা থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর দানব তার মাকে খেয়ে ফেলে এরা দেশকে খেয়ে ফেলবে এতে অবাক হওয়ার কী আছে…!

সহায়ক সূত্র:
১. ধারাবাহিক ফারাজকাহিনি: http://www.ali-mahmed.com/2016/08/blog-post.html
২. সিমোনা মন্তি: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_11.html
৩. দানব: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html