Search

Wednesday, June 1, 2016

আইন সবার জন্য সমান…!

ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬
ছবিটা, ভয়াবহ একটা ছবি! ছবিটা যে শারীরিক ভাবে অক্ষম একজন মানুষের ছবি এটা বোঝার জন্য এক পলকই যথেষ্ঠ। এই মানুষটাকে চুরির অভিযোগে ধরা হয়েছিল। আটক করা হয়েছে সত্য কিন্তু বমাল না, সন্দেহজনক মনে করায়। পুলিশ বাসা ধরে ধরে এনেছিল।
অবশ্য ৫২ বছর বয়স্ক খোকন গাজির স্বজনের অভিযোগ মিরপুরের দারোগা আরিফ হোসেন ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেছিলেন। পুলিশকে ২ হাজার টাকাও নাকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এই মানুষটাকে ছাড় দেয়নি। ওই দারোগা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় আসামি…’, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই মানুষটিকে আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া পরানো ছিল তাই পত্রিকাটি ফলাও করে খবরটা ছাপিয়েছে। এটা একটা সুপ্রতিবেদন এতে কোনও সন্দেহ নেই। আচরণটা খুবই ন্যাক্কারজনক কিন্তু কনস্টেবল পদমর্যাদার একজন মানুষের কাছ থেকে [*] আমাদের খুব একটা আশা করারও কিছু নেই। অল্পশিক্ষিত এই পুলিশকে বলা হয়েছে আসামিদেরকে এমন করে নেবে সে এমন করেই নেয়। পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারা পড়ার সুযোগ কোথায় তার? আইনের কেতাবগুলো মুখস্ত করবে তার সে যোগ্যতাই বা কোথায়?

যাই হোক, এখানে পুলিশ খুব খারাপ কিন্তু সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এই মানুষটিকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন খোকন গাজির আইনজীবী আদালতকে বলেন, “…মাননীয় আদালত, দেখুন, লোকটি পঙ্গু। একা চলাফেরা করতে পারেন না। সন্দেহজনক আসামি হিসাবে তাঁকে ধরা হয়েছে। তাকে জামিন দেওয়া হোক। জামিন না পেলে তিনি কারাগারে চরম সমস্যার সম্মুখীন হবেন…।" (প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬)
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা এই মানুষটা জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। সোজা কথা, তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেন যা কারাগারে নিক্ষেপ করারই সামিল।

আমাদের প্রচলিত আইনে আসামীকে ডকে-কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সে যেই হোক না কেন। আইন বলে কথা- আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু…ধরা যাক, একজনের কোমর থেকে দু-পা নেই সে দাঁড়াবে কেমন করে? এখানে বিচারকের ‘inherent power’ থাকা লাগে না- এখানে তাঁর প্রজ্ঞা, বিবেচনা বোধই যথেষ্ঠ।
জামিন প্রসঙ্গে ফৌজদারী কার্যবিধিতে কি বলা আছে? "ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৬: যে সকল ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে: জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তি কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে, বা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন। তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা হইবে না।"

"তবে আরও শর্ত থাকে যে, …" সেই শর্তের গভীরতা বাদ থাকুক বা বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছে এই প্রসঙ্গেও গেলাম না। ধরে নিলাম এটা জামিন অযোগ্য অপরাধ। সে ক্ষেত্রেও ধারা ৪৯৭-এ বলা হচ্ছে, “ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৭: যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে : (১) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে অথবা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইেত পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে উক্তরূপে দেওয়া যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

এখানে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে খোকন গাজি নামের এই মানুষটা অক্ষম, শারীরিক ভাবে অক্ষম।

* Enamul Haque rabbi নামের কনস্টেবল পদমর্যাদারই একজন মানুষের আইন সম্বন্ধে জ্ঞান দেখে হাঁ হয়ে যাই মানুষটার জন্য টুপি খুলে অভিবাদন। এবং এমন করে লেখার জন্য লজ্জিতও হই, দুঃখপ্রকাশ করি! 
সূত্র: http://tinyurl.com/zyxrop4 

Friday, May 27, 2016

সুফি সাধক(!) এরশাদ কহিলেন ...!

সুফি সাধকের শিষ্যের কথা পরে বলছি আগে সুফি সাধকের কথা বলে নেই। জনাব, হো মো এরশাদ নামের এই মানুষটা এমন যে সুফি(!) তা আমরা ভাল করে জানতে পারি ক্ষমতা হারানোর পর। লাল-নীলের ছড়াছড়ি! লাল-নীল, লাল পানি-নীল ছবি।

ওনার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ৬০ বোতল স্কচ হুইস্কি (দৈনিক আজকের কাগজ ০২.০৭.১৯৯১)। এক বোতল এক লিটার করে হলে চালু ভাষায় ১ মন মদ। এই মদ দিয়ে তিনি গোসল করতেন নাকি কুলি করতেন সেই তর্কে আর গেলাম না।

হাবিজাবি আরও অনেক কিছুর সঙ্গে আরও উদ্ধার হয়েছিল ২০০টি ব্লু-ফিল্ম (কাগজ ১৮.০৭.১৯৯১) যার অধিকাংশ আবার খুবই রেয়ার। এগুলোকে এডাল্ট মুভি বলতে পারলে আরাম পেতাম কিন্তু রেয়ার? আমার পাঠকের তালিকায় শিশু নেই বিধায় ‘রেয়ার ব্লু-ফিল্মের’ ব্যাখ্যায় আর গেলাম না।
এমন কোনও নোংরা দিক নেই যাতে এই মানুষটার হাতের ছোঁয়া নেই। অর্থ, নারী, পিতা হওয়ার কেলেঙ্কারী, এমনকি কবিতার নামে সাহিত্যও। [১] 

তৎকালে গঠিত কমিটি এরশাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চিহ্নিত করে ৫৩৪টি মামলা করার সুপারিশ করেছিল। এরশাদ আদালতের রায়ে জেলও খেটেছেন। তো, এরশাদ নামের এই সুফি মানুষটার শিষ্য সেলিম ওসমান স্কুলের শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস [২] করাবার পর শিষ্যকে এরশাদ বলছেন, ’…সেলিম তো আল্লার ওলি হয়ে গেছো...’। [৩] 

কেবল এরশাদই না ইসলামের হেফাজতকারী হেফাজতে ইসলামের বাবুনগরীও সেলিম ওসমানের প্রশংসায় ষষ্ঠমুখ! সেলিম ওসমানকে নিয়ে গাওয়া হয়েছে ইসলামী সঙ্গিতও।
 
যেখানে বলা হচ্ছে, সেলিম ওসমান হযরত ওমরের উত্তরসূরি...!

তো, সব দেখে আমাদের আর দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই যে সেলিম ওসমান আকাশ থেকে নেমে এসেছেন আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য। এমন একজন মানুষের মুখের ভাষা আমাদের চেয়ে অনেকখানি আলাদা হবে এতে অবাক হওয়া কিছু নেই।
এই ভিডিওটির সূত্র: www.bdnews24.com

১. মুবারকবাদ-নিন্দাবাদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
২. তোমার শবযাত্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_18.html 
৩. হেফাজতের পর এবার...: http://tinyurl.com/zsd7epq

Saturday, May 21, 2016

আবদুন নুর তুষার, 'গোলমালেষু'...

আবদুন নুর তুষার নামের মানুষটার মধ্যে কোথায় যেন একটা অমায়িক গোলমাল আছে। বিজয় এবং অভ্রের সমস্যার সময় আমরা যখন জব্বার ভাইয়ার লোভের লকলকে জিব দেখে আঁতকে উঠে তীব্র প্রতিবাদ করি তখন তুষার সাহেব কোনও এক বিচিত্র কারণে আজব এক যুক্তি দেন, ‘"…যদি সফটওয়্যার দিয়ে বাংলা লিখতে গেলে সেই সফটওয়্যারটি ফ্রি হতেই হবে, এটি আমরা বলি, তাহলে কলম দিয়ে বাংলা লিখতে গেলে, সকল কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত৷..."[১]
এরপর এই মানুষটাকে আমার স্রেফ একটা ভাঙ্গাচোরা রোবট মনে হয়। যার কাছে ভাষা, দেশ এই সব আবেগের স্থান নেই।

মানুষটার মধ্যে ভারী গোলমাল মনে হয়েছিল বহু বছর পূর্বে তখনই যখন ‘শুভেচ্ছা’ নামের নিজের অনুষ্ঠানে পথশিশুর কথা বলে ভেউভেউ করে কান্না করছিলেন। দৃশ্যটা রগরগে নাটককেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আহা, কেউ কী আবেগপ্রবণ হবে না? হবে, হবে না কেন! কিন্তু অনুষ্ঠানটা লাইভ ছিল না যে কেউ ফোনে বলল, আপনাকে … করতে চাই আর নিরুপায় দর্শক হাঁ করে শুনল।

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে যখন খুন করা হলো তখন বুদ্ধিজীবী তুষার ফেনিয়ে-ফাপিয়ে বলা শুরু করলেন দীপন কেমন-কেমন করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতেন। বাহ, যেন ধর্মীয় অনুশাসন পালন না-করলে একজন মানুষকে খুন করলে বিশেষ সমস্যা নেই!

যাই হোক, উনি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন শিক্ষককে কুৎসিত অপমান করার পর যারা নিজের কানধরা ছবি দিচ্ছেন তাদের তীব্র সমালোচনা করে। কেন রে বাপু, সমস্যা কী! প্রতিবাদের ভাষা একেকজনের কাছে একেক রকম। নির্মেলেন্দু গুণের মত কেউ তাকে পুরস্কার না-দিলে লাজহীন মানুষের মত হইচই করেন [২] আবার কেউ বা প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে না-খেয়ে অনশন করেন। অবশ্য তুষার স্যার না-খেয়ে অনশনের ধার ধারবেন না কারণ এটা তার গা-গতরে সইবে না।
জনাব তুষার তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "…একজনকে নগ্ন করা হলো,তার প্রতিবাদে সবাই যদি নগ্ন হয়,তাহলে নগ্নতার যে লজ্জা বা মানসিক যন্ত্রনা সেটা কমে যায়।…"
ওহো, আপনি তো দেখি ‘বাত কা বাতাঙ্গার’ বানিয়ে ফেলছেন। কথা হচ্ছিল উপরের অংশ নিয়ে আপনি সরাসরি নীচের অংশে চলে গেলেন- একেবারে ডাইরেক্ট অ্যাকশন। আর আপনি যে এই অংশটুকু লিখেছেন, "…শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা বিষয়ে গোটা দেশ বিশেষ করে নেট ব্যবহারকারী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যেকের কানধরা ছবি পোষ্ট করা হচ্ছে…।"
শোনো কথা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যেকে- কেউ কি বাদ নেই? অন্তত আমি যে নেই এটা বলতে পারি। তো,আক্ষরিক অর্থে এই কথাটা গ্রহণ করলে মশিয়ে তুষারকে বুরবাক বলাটাই সমীচীন।

তুষার মহোদয় লিখেছেন, "…ছিনতাই নিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে কৌতুক করা হয়। (আমি কখনো শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে এটা করি নাই। শুধু তাই না, বুয়া , দারোয়ান, রিকশাওয়ালাদের নিয়েও কোন কৌতুক করি নাই)…।"
এই নিয়ে আপনার পোঁ ধরা কেন, বাপু? ছিনতাই নিয়ে কৌতুক থাকলে কৌতুক করতে ‘অসুবিদা’ কোথায়, স্যার! আমার এক পরিচিত মানুষ রিকশা করে যাচ্ছিলেন। বাচ্চা কোলে। বাচ্চা কাপড় নষ্ট করে দিয়েছে। নতুন কাপড় ফেলতে বড়ো মায়া তাই একটা পোঁটলায় ঢুকিয়ে ফেললেন। ছিনতাইকারী পোঁটলা নিয়ে উধাও। এই নিয়ে রসিকতা করলে কারও রস শুকিয়ে যাওয়ার তো কথা না।
আর আপনি যে বললেন, আমি কখনও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে বুয়া, দারোয়ান, রিকশাওয়ালাদের নিয়েও কৌতুক করি নাই- জ্বী, আপনি বড়ো ‘ভালু লুক’! আপনার দয়ার শরীর- ইয়ে, কৌতুকের কথা বলছেন, আহা, শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে আপনার ভেউভেউ করে কান্নার চেয়ে বড়ো কৌতুক আর কী হতে পারে!

তুষার মহাশয় আরও লিখেছেন, "…বোন ধর্ষিত হলে কি আমরা সবাই ধর্ষিত হয়ে ছবি পোস্ট করব?..." আপনি আসলে হরেদরে সব সমান দেখেন বলেই বোধহয় ন্যায়-অন্যায় গুলিয়ে ফেলেন। তাই কী অতি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকেও ‘চেহারাবেচার’ টাকা অবলীলায় নেন?
ওহো, এতো মুশকিল হলো দেখি! কেউ লিখল, ‘পিতা, তোমার শবযাত্রায়…[৩]। ব্যস, ডাগদর সাহেব, শিক্ষক শ্যামল কান্তির গা টিপেটুপে ডেভিডসনের বই ঘাঁটাঘাঁটি করে বিমল আনন্দে মাথা দুলিয়ে বলবেন, ‘ইউরিয়া’, মানুষটা এখনও জীবিত। বটে, কত বুদ্ধি ঘটে!
বা হেলাল হাফিজ যখন লেখেন, "…এক জীবনে কতটা আর নষ্ট হবে/ এক মানবী কতটা আর কষ্ট দেবে…।" তখন পন্ডিতবর তুষার ক্ষেপে যাবেন। ক-ক্ক-ক্কী, এক জীবন মানে? আমাদের আবার কয়টা জীবন, হে? আমরা কী হিন্দু যে আমাদের অনেক জীবন? হাফিজ ব্যাটা…। ব্যস, এরপর হয়তো তুষার স্যারের চেলা-চামুন্ডা বাহিনী এই নিয়ে গ্রহ মাতাবেন। হেলাল হাফিজকে ধর্মীয় ট্যাগ লাগিয়ে দিলে আটকাচ্ছে কে।

অন্যত্র মহাত্মন তুষার লিখেছেন, "…জর্জ বুশকে যদি জুতা মারা যায়,তাহলে অপমানকারীকে জুতা দেখানো যাবে না কেন? তার কানধরা কুশপুত্তলিকা বানানো যাবে না কেন? তার কুশপুত্তলিকায় চড় মারা যাবে না কেন?...নিজের নাক কেটে অপমানে সমান নয় বরং অপমানকারীর নাক বরাবর মুষ্টি প্রয়োগ করেন।"
এই মানুষগুলো যে কোন ভুবনে বাস করেন! যেন অন্য গ্রহ থেকে ভূর্জপত্র গাত্রে ভূর্লোকে তসরিফ গ্রহন করেন। এই দেশের বুদ্ধিজীবী টাইপের মানুষগুলোর বিকট এই এক সমস্য। এরা চোখে কালোর চশমা লাগিয়ে অন্ধ সেজে থাকেন। তখন অমায়িক ভঙ্গিতে সাদাকে কালো-কালোকে সাদা বলতে পারেন। ‘নাক বরাবর মুষ্টিঘাত’, এই সব শব্দশেল পড়তে ভালই লাগে। যে সংসদ সদস্য এই কর্মকান্ড করেছেন তার সম্বন্ধে আগুনমানুষ তুষারের কী কোনও প্রকারের ধারণা আছে?

এই সংসদ সদস্য সম্বন্ধে খানিকটা ধারণা পাওয়া যাবে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপের অডিও ট্র্যাকটা শুনলে, আহ, মধু-মধু! আর এই সংসদ সদস্য কোন পরিবারের এটা কি তার জানা আছে? ইতিপূর্বে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এই পরিবার সম্বন্ধে কি বলেছেন এটা কি বিস্মৃত হয়েছেন, হের তুষার? "...রাজনৈতিকভাবে ‘হেয়’ করতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে দাবি করে সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।..."
এরপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না। 'সজাগ' থাকতে থাকতে আমাদের মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করে বুকের গহীন থেকে অক্ষমতার হাহাকার বেরিয়ে আসে। তখন আমরা নিজের কান ধরব, নাকি ...!


কোন দেশে যে তুষারের মত লোকজনরা বসবাস করেন! যে দেশের ঘটনা রগরগে মুভিকেও হার মানায়। ফরিদপুরের যুবলীগ নেতা আসলামের ফাঁসির আয়োজনের সমস্ত কাজ সমাপ্ত। মাত্র একদিন পূর্বে সাজা মওকুফ করা হয় রাষ্ট্রপতির দয়ায়। প্রথমবার নাকচ হলেও দ্বিতীয়বার তা মঞ্জুর করা হয়! আমরা হতভম্ব বাকহীন হতেও ভুলে যাই। মিয়া, গ্যলারিতে পপকর্ন নিয়ে খেলা দেখে চ্যাটাং চ্যাটাং বাতচিত করা খুবই সোজা। যান না, নারায়নগঞ্জে গিয়ে দুম করে একটা ঘুষি মেরে আসুন না। আমরাও হাত খুলে লিখব, ওই আসে অগ্নিপুরুষ।
ওহে অগ্নিপুরুষ, তোমারই অপেক্ষায়…। 

সূত্র:
৩. পিতা, তোমার শবযাত্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_18.html

Wednesday, May 18, 2016

পিতা, তোমার শবযাত্রায়…!

বলা হয়ে থাকে পিতার কাঁধে সন্তানের শবের চেয়ে ভারী আর কিছু নাই। কিন্তু সন্তানের কাঁধে পিতার শব পলকা বুঝি! যে বাপটা নিজের পায়ে সন্তানের পা রেখে হাঁটা শিখিয়েছিলেন অথচ সেই সন্তানটাই বাপের শব কাঁধে নিয়ে হাঁটা ভুলে যায়। পা যে চলে না! বুক ভেঙ্গে আসা কান্না চেপে পা টেনে-টেনে বাপের শব টেনে নিয়ে যাওয়া। শেষমেষ কী আর কান্না থামে, শ্লা। বাথরুমের ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদা। নোংরা জলের সঙ্গে মিশে যায় সন্তানের চোখের জল।

এমনিতে আমরা বাবার খুব একটা নাগাল পাই কোথায়? তাঁর অঢেল সময়ই বা কই? বাবারা যখন চলে যান কাজে তখন আমরা ইশকুলে। আহা, তাই বলে বাবাদের কাজ থেমে থাকবে নাকি? হাতে ধরে-ধরে শেখান শিক্ষক নামের যে মানুষটা কখন যে এই মানুষটা বাবার জায়গা দখল করে ফেলেন; দূর-দূর, আগেভাগে তা টের পাওয়ার যো আছে বুঝি!
যে শিক্ষককে বালকবেলায় দৈত্যাকার মনে হত ‘সাবালকবেলায়’ তিনিই আমার কাঁধ ছাড়াতে পারেন না। তাতে কী, এখনও তাঁর পাশে দাঁড়ালে অহেতুক ভয়ে বুক কাঁপে! মরণ, বুক কাঁপার কিছু নেই- মানুষটার মায়াভরা গলা, 'তুমার কিতা হ্ইছে, মুখ এমন শুকনা ক্যান'? চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়, হুদাহুদি- অহেতুক।

আমাকে খুনি বানাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আমার সামনে পিতাসম এই মানুষটাকে চরম অপমান করা, নগ্ন করে ফেলা। আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। পরম করুণাময়, আমাকে যেন চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখতে না-হয় যে আমার পিতাসম শিক্ষককে কেউ চরম অপদস্ত করছে- তারচেয়ে মৃত্যু যে ঢের শ্রেয়।

আজ এই ভিডিওটা দেখে আমার কেবল মনে হচ্ছে এই যে শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে- এরপর ওই মানুষটা একটা মৃতমানুষ! কাগজে-কলমে হয়তো তিনি বেঁচে থাকবেন কিন্তু বাস্তবে একটা গলিত শব! তাঁর শত-হাজার ছাত্র,তাঁর পরিবারের প্রিয়মানুষগুলো গলিত শবটার দিকে তাকাবে কেমন করে, গলা বেয়ে খাবার নামে বুঝি? শবের দিকে তাকিয়ে গপগপ করে ভাত খাওয়া তো কোনও কাজের কাজ না…।

*ভিডিও ঋণ: shorif uddin shobuj

Monday, May 16, 2016

‘আমাগো কোবি’- কবিবর, শ্রীনির্মলেন্দু গুণ।

তিনি কেবল কবিবরই না শিকারিবরও বটে। তিনি সমকামী সেটা তাঁর সমস্যা কিন্তু যখন সদর্পে বলেন, ‘আগে আমি শিকার ছিলাম পরে শিকারি হয়েছি’, 
তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি, কারণ…? ভাগ্যিস, গুণদাদা কেবল এটা জানিয়েই ক্ষান্ত দিয়েছেন অন্য শিকারিদের মত (আহা, এমন পোজ তো আমরা বিস্তর দেখেছি বাঘ শিকার করে বাঘের উপর একটা ঠ্যাং তুলে দিয়ে শিকারি সাহেব ক্যামেরার সামনে  গোঁফ উচিয়ে দাঁড়ান) ওমন ভঙ্গিতে একটা ফটো তুলে জাতির উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেননি!

এমনিতে বড় অভিমানী এই কবি! একবার গণভবনে দাওয়াত না-পেয়ে কবি সাহেব শিশুর ন্যায় গাল ফুলিয়ে রাখলেন। আহা, কী মায়াই না হয়েছিল শ্রীপদপঙ্কজ শ্রীনির্মলেন্দু গুণকে দেখে। আহারে-আহারে…! তখন বাবুর চোখে চোখ রাখাই দায়।
আহা, কবির চোখে চোখ রাখি কেমন করে? ছি-ছি-ছি, কবিসম্রাটকে এহেন অপমান! কবিসম্রাট হওয়ার জন্য কত ত্যাগই না-স্বীকার করতে হয়েছে এই মানুষটাকে। আহা-আহা, এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে আসে যে আমার। আমেরিকান কবি গ্রেগরী করসো যখন আমাদের দেশ নিয়ে আমাদের মৃত মানুষদের নিয়ে অতি কুৎসিত কথা বলেন, জঘন্য আচরণ করেন তখন কবিসম্রাট গায়ের সঙ্গে মাথাও দোলান [১]

এই তো সেদিন, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পূর্বে কবিবর হইচই শুরু করলেন। আমি আরো ভাবলুম কবিবরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আর তিনি কেন এই পুরষ্কারটাই শর্ষীনার পিরকে বা র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছিল, এই নিয়ে ফেসবুক মাতাচ্ছেন। ওয়াল্লা, ঘটনা তো এটা না। এমনিতে আমাদের কবিবর কেবল ফেসবুক দাপিয়ে বেড়ান এমনই না ওখানে অবলীলায় তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেন আদর করে তাকে বলা চলে 'নোংরা শব্দশেল’! সামাজিক মাধ্যমে ‘খা…পোলা’ টাইপের [২] এই সমস্ত অতি কুৎসিত শব্দ প্রয়োগের পূর্বে অপদার্থ বখা ছেলেও দ্বিতীয়বার ভাববে।

তো, ফেসবুকের বরপুত্র একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ওখানে তিনি লিখেছিলেন:
আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসাবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভেতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনো রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে একসময় আমাকে এই পদকটি দেওয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন’
এরপরই পদকদাতাদের চোখ খুলে গেল। তাঁরা তাঁদের ভুলটা বুঝতে পারলেন। তারা কবির গলায় 'ইয়ে' পরিয়ে দিলেন- ঠিক যেমন ইয়ের গলায় ইয়ে পরিয়ে দেওয়া হয়!  এবং কবিবর ‘পদকবর’ মানে পদকপ্রাপ্ত হলেন, এমনটা বলা হচ্ছে বটে কিন্তু সত্যটা হচ্ছে কবিবর স্বাধীনতা পদকটা ছিনিয়ে আনলেন।
 
কোবি, 'আমাগো কোবি' বলে কথা…!
সহায়ক সূত্র:
১. চালবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2012/10/blog-post_16.html 
২. গুণবান গুণ!: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_28.html

Sunday, March 27, 2016

নরকযন্ত্রণা!

ভাগ্যিস, মনুষ্যলোকে নরকের প্রকৃত অবয়ব দেখার উপায় আমাদের নাই তবে কারও-কারও নরকযন্ত্রণা, নরোম করে বললে অশেষ ক্লেশ ভোগ করার দুর্ভাগ্য হয়।

২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। সুখের বিষয়, মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “…আমরা অনেক বড় বড় ঘটনার রহস্য বের করেছি। এটিরও রহস্য উদঘাটন হবে”
যাক, চিন্তার কিছু নেই। আরাম করে ঘুমানো যেতে পারে। সাগর-রুনি বা ফয়সল আরেফিন দিপনের খুনের মত গতি হবে না এই খুনের। পূর্বের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের সুরাহা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হবে বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি সম্ভবত ৪৮ মাসের স্থলে ৪৮ ঘন্টা বলে ফেলেছিলেন।

এই বিচিত্র দেশের কর্মকান্ডগুলোও বড় বিচিত্র! এখানে কেউ খুন-গুম হলে বলা চলে তারা একপ্রকারে বেঁচেই যায় কিন্তু ভয়াবহ বিপদে ফেলে যায় তাঁদের স্বজনকে। ওই স্বজনরা বেঁচে থাকে ‘জম্বি’ হয়ে। না-জীবিত না-মৃত!
উদাহরণ, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের লোকজন, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার যেহেতু কলাবাগানে বাস করেন তিনি কলাবাগান থানায় জিডি করতে গেলে থানা থেকে জানানো হয় যেহেতু তানভীর সর্বশেষ কচুক্ষেত এলাকা থেকে কথা বলেছেন তাই কাফরুল থানায় জিডি করতে হবে। কাফরুল থানায় গেলে ওখান থেকে বলা হয় ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব এটা। ক্যান্টনমেন্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলে ঘটনাস্থল ভাষানটেক থানার আওতাভুক্ত অতএব ভাষানটেক থানায় যান।

এই করে-করে কোনও থানাই তখন জিডি গ্রহণ করেনি। পরিবারের একজন মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পর তাঁর স্বজনদের উপর এই যে অত্যাচার করা হলো, এই যে পাপ, এই পাপের বিচারের কী হবে?

এমনিতে বলা হয়ে থাকে এই গ্রহের সবচেয়ে ভারী হচ্ছে বাবার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ। সন্তানের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাবা কাঁদেন না স্রেফ পাথর হয়ে থাকেন। বাবাদের হাউমাউ করে কাঁদার নিয়ম নাই। খুব ভেঙ্গে পড়লে বাথরুমের ট্যাপ খুলে দিয়ে…তখন বাথরুমের পানির স্রোতের সঙ্গে মিশে যায় বাবাটার চোখের জল।

সোহাগী জাহান তনুকে যে কেবল হত্যা করা হয়েছে তাই না অনুমান করা হচ্ছে তনু চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলেন। এরপর পত্রিকায় আমি যে ভয়ংকর খবরটা পড়লাম আমার কেবল মনে হচ্ছিল আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। এ যে অবিশ্বাস্য, অসম্ভব! কোনও সভ্য দেশে এমনটা হতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না। প্রথম আলো (২৭ মার্চ ২০১৬) থেকে আমরা জানতে পারছি: শুক্রবার বিকেলে সোহাগীর বাবা এবং বড় ভাইকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তারা নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় সোহাগীর মা, ভাই এবং চাচাতো বোনকে র‌্যাব-১১ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ছাড়া হয় ভোর বেলায়! এই হচ্ছে এ দেশে জিজ্ঞাসাবাদের নমুনা! তাও শত-শত বার কী জানতে চাওয়া হয়েছে? সোহাগীর কলেজে কোনও ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা? তাও শোকাহত মার কাছে! এটাও জানতে চাওয়া হয়েছে সোহাগীর বাবা-মা কেন মেয়ের বিয়ে দেননি? আজব একটা দেশ এটা...!

আমার তো মনে হয়, সোহাগীর বাবা-মা, কামরুন নাহারের চোখের জলের সঙ্গে ভেসে যায় অসমাপ্ত পদ্মাসেতু, রিজার্ভের উপচেপড়া বেসুমার টাকা, পেটমোটা জিডিপি, সাহেবসুবোদের অমৃতবাণী মধ্য আয়ের দেশ, এডিবির 'খয়রাতি ঋণ'…।

Thursday, February 18, 2016

গুডবাই ওল্ড ম্যান, গুডবাই।

নায়কোচিত [১] লেখাটায় লিখেছিলাম, এই বয়স্ক মানুষটা স্টেশনে ছিলেন যখন, তাকানো যায় না এমন এক হাহাকারকরা ভঙ্গিতে। এই মানুষটির শেকড় কোথায়, স্বজন কারা? জানা নেই। কোথায় তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন কুঁড়েঘর বা অট্টালিকা। অট্টালিকার কথা শুনে কেউ-কেউ হয়তো হাসি গোপন করছেন।
এই স্টেশনেই আমি এমন মানুষকেও [২] [৩] দিনের-পর-দিন বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকতে দেখেছি পরবর্তীতে যার চিকিৎসা হয়েছে স্কয়ারের মত হাসপাতালে তারপর ইংল্যান্ডে।

যাই হোক, ওই লেখায় লিখেছিলাম মানুষটার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন যে সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছিল যেটা পূর্বেও বলেছিলাম সেটা হচ্ছে যেহেতু মানুষটা চলৎশক্তিহীন তাই তিনি পরিধেয় কাপড় নষ্ট করে ফেলতেন। পরিষ্কার রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ত। তাই বলে চিকিৎসা থেমে ছিল না। ডা. সাইফুল ইসলাম নামের মানুষটা এঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি প্রায় নির্ভার।

গতকালই আমার যে বন্ধু, প্রদীপ কুমার সাহা মাত্র অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ল্যাগজেটের ঘোর যার এখনও কাটেনি তাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে চললাম হাসপাতালে। আমার সাফ কথা, কে দেখেছে নেক্সট সামার কে দেখেছে নেক্সট উইন্টার। পরদিন গেলে মানুষটার দেখা পাওয়া যাবে এর নিশ্চয়তা কোথায়?
তখন সন্ধ্যা হয়-হয়। মানুষটা তখনও অঘোর ঘুমে। আমরা ফিরে আসি।

আজ যখন এই মানুষটার সামনে দাঁড়ালাম। সেই ম্যাজিক, সেই পুরনো ম্যাজিক! এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিশিয়ানের ম্যাজিক। ম্যাজিকের ঘোর যখন কাটে তখন কেবল লাশ উঠাও লাশ নামাও। এই লাশটার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।
এই মানুষটা কিছুই জানা সম্ভব হয়নি, এমনকি নামও। তাই তিনি হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন 'অজ্ঞাত' নামে। যাক, অজ্ঞাত মানুষটার নামের একটা গতি হয় নতুন একটা নামে পরিচিত হন তিনি, লাশ…।

১. নায়কোচিত: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_13.html
২. ঘরের ছেলে…: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post.html
৩. অপেক্ষা: http://www.ali-mahmed.com/2013/11/blog-post_730.html

Wednesday, February 17, 2016

মাহফুজ আনাম, কতিপয় পদ্মা সেতু এবং …!

আমাদের দেশে ভুল স্বীকার করার চল নাই- যে দেশের যে চল! আমরা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে পছন্দ করি।
এমনিতে কারও কোনও প্রকারের ভুলের কারণে তার নিজের ভুলের মাশুল বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কোন প্রকারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটার বিভিন্ন উপায় আছে।
জরুরি অবস্থার সময় যাচাই না-করেই মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকা ডেইলি স্টারে শেখ হাসিনার যে সংবাদটা ছাপিয়েছিলেন সেটা ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত ছিল। এটা তাঁর সম্পাদক জীবনের বড়ো একটা ভুল এটা মাহফুজ আনাম স্বীকার করার পর ঝড় উঠল। তাঁর বিরুদ্ধে একের-পর-এক মামলা হলো।
কিন্তু যে-বিষয় নিয়ে উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না সেটা হচ্ছে ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত সেই সংবাদটিই তখনকার অধিকাংশ পত্রিকাই ছাপিয়েছিল। ওই সমস্ত পত্রিকাগুলো এখনও চালু আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদের বিশেষ কাতরতা নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, যে ডিজিএফআই ওই সংবাদ সরবরাহ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দ নাই।

যাই হোক, এখন পর্যন্ত মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে গত সাত দিনে ৩৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে রাষ্ট্রদ্রেহিতার মামলা এবং মানহানির মামলা। আমার বোধগম্য হচ্ছে না এটা, সংবাদটা ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরের কথা কিন্তু তখন তো তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না তাহলে এখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিষয়টা আসে কেমন করে? বা যারা মামলাগুলো করেছেন শেখ হাসিনার স্থলে তাদের মানহানি কেমন করে হয় সেটাও আমার বোধের বাইরে। কী জানি, এই সব আইনের দিক, আদালতের বিচার্য বিষয় সেটা মাননীয় আদালতই ভাল বুঝবেন।

সব মন্দেরই একটা ভাল দিক থাকে। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ করা হয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকায় অনায়াসে কয়েকটা পদ্মা সেতু হয়। আমাদের দেশে যত বড় বড় সেতু-টেতু আছে আশা করছি অচিরেই কাজ শুরু হবে কারণ সরকারী কোষাগারে টাকার অভাব হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।
জ্যোতি-পদার্থবিজ্ঞানী গ্রেগ লাফলিনের মতে, গোটা পৃথিবীর মূল্য তিন হাজার ট্রিলিয়ন পাউন্ড (উইকির মতে, Earth is worth at least $195 quadrillion)।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে যে-হারে মামলা হচ্ছে এই অংক আমরা জমিয়ে গোটা গ্রহটা কিনে ফেললে আটকাচ্ছে কে…!

Saturday, February 13, 2016

নায়কোচিত।

এঁরা নায়ক নন। ‘নায়ক’ মারাত্মত জিনিস! নায়কদের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে যথাসময়ে ভিলেনের হাত থেকে নায়িকাকে বাঁচানো- এখানে ‘দিরং’ করার কোনও প্রকারের সুযোগ নাই তাহলে যে নায়িকার সর্বনাশ হয়ে যায়। কি সর্বনাশ হবে? আহা, সেটা বুদ্ধিমান পাঠকের কাছে বলে বোকামী করার আদৌ কোনও প্রয়োজন নাই।
এঁদেরকে বড় জোর নায়কোচিত বা চালু কথায় নায়কের মত মত বলা চলে।

এমনই একজন পুলিশম্যান যার সঙ্গে পূর্বেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। ষ্টেশনে হরদম বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় আমাকে। তখন এর-ওর সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়। স্টেশনের দায়িত্বে থাকা এই পুলিশম্যানকে আমি বললাম, ‘আমাকে একজন মেথরের খোঁজ দিতে পারেন’?
ভাগ্যিস, তিনি এটা শোনার পর পিস্তল নাচিয়ে আমাকে এটা বলে বসেননি, আমি কী মেথরের ‘বিজিনিস’ করি!
এই মানুষটা স্টেশনে পড়ে ছিলেন দুদিন ধরে। প্রথম-প্রথম অল্পস্বল্প খাবার খেলেও পরে আর খেতে পারতেন না। সম্ভবত বার্ধক্যজনিত সমস্যা। চলনশক্তিহীন এই মানুষটার পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ নাই বিধায় কাপড়চোপড় নষ্ট করে ফেলেন। আমার অভ্যস্ত নাকও সইতে পারে না, সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয় পেটের ভেতরের সব বেরিয়ে আসবে। কিন্তু পরিচ্ছন্নকর্মী পাব কোথায়! পরিচ্ছন্নকর্মীর এমন আকাল হলো কেমন করে, খুঁজে খুঁজে হয়রান‍!
যাই হোক, শেষপর্যন্ত একজনকে রাজি করানো গেল। রাজি করাতে গিয়ে ওই মানুষটার সঙ্গে কেমনতরো 'বাতচিত' করতে হয়েছিল সেটার উল্লেখ এখানে অপ্রয়োজনীয়। ওই মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারণ বড়ো দরদ দিয়ে তিনি সাফসুতরো করেছিলেন। সত্য বলতে কি এই সমস্ত মানুষের সামনে নিজেকে বড়ো তুচ্ছ মনে হয়!
এবেলা চুপিচুপি এটাও বলে রাখি। এখন আমার নিজেরই সমস্যার অন্ত নেই এই সমস্ত জটিলতা এড়াতে পারলে বেঁচে যাই। লম্বা-লম্বা পা ফেলে এই সব স্থান থেকে সরে পড়তে পারলে বেশ হয়, কিন্তু…! একটা কিন্তু রয়ে যায়। হায়, পায়ের গতি যে স্লথ হয়ে আসে। পা চলে না কেন, এর হয়তো উঁচু দরের ব্যাখ্যা রয়েছে সেটা জেনে আমার কাজ নেই। নিচু স্তরের আলাপটা হচ্ছে এই রকম আমার পায়ের জুতো বেঢপ, ভারী। তাই চট করে সরে পড়াটা মুশকিল হয়ে যায়।

পরদিন গিয়ে দেখি স্থানটা শূন্য, মানুষটা নেই। আমি ধারণা করলাম স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কেউ মানুষটাকে কোনও-একটা ট্রেনে তুলে দিয়েছে। ট্রেন এই সমস্ত অসহায় মানুষকে যেখানে খুশি নিয়ে চলে যাক, এখানকার পর্ব তো চুকে গেল। আপাতত এই স্টেশন সমস্যামুক্ত! আমরা এমনটাই করে অভ্যস্থ। যেমন আশেপাশের দুনিয়ার আবর্জনা আমরা রাস্তায় ফেলি নিজের দোকান-বাসা পরিচ্ছন্ন রেখে; এটাই আমাদের সুখ!
তখন আবার সেই রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য বিখ্যাত ঝাড়ুদার [১] কারিনা কাপুর, অনন্ত জলিলদের তকলিফ দেওয়া লাগে। বেচারাদের কী কষ্ট-কী কষ্ট!

কিন্তু এখনকার ঘটনাটা এমন ছিল না। এই পুলিশম্যান অন্যদের সহায়তা নিয়ে কাতর এই মানুষটাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। এমন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করার হুজ্জতও কিন্তু কম না। হাসপাতালে স্টেশন মাস্টারের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক।
মানুষটার চিকিৎসা চলছে…।
আমি পূর্বেও কোনও-এক লেখায় বলেছিলাম, ম্যান হোক বা পুলিশম্যান আমরা আসলে ভাল হতে চাই কেবল ‘ভালগাড়িটাকে’ রেললাইনে তুলে দিতে হয়। এরপর, এরপর থামাথামি নাই গাড়ি আপনাআপনিই চলে…।

সূত্র: ১. বিশিষ্ট ঝাড়ুদার: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_11.html 

Thursday, February 11, 2016

বিশিষ্ট ঝাড়ুদার!

ঝাড়ুদারচুঞ্চু বা বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের বড়ো আকাল এখন! তাই অনেক যন্ত্রণা করে গুচ্ছের টাকা কবুল করে এদের জড়ো করা হয়। আগামীকাল এরই এক নমুনা দেখব আমরা। ‘ঢাকা ক্লিন’ ওরফে ঢাকা সাফ করার জন্য ‘ক্লিন ঢাকা কনসার্টের’ নামে কারিনা কাপুররা আসছেন। এটা জেনে যারপর নাই আনন্দিত গোটা ঢাকাবাসী। ঢাক বাজে ঢাকডুম-ঢাকডুম।
গোটা আয়োজনটার পেছনে আছে ‘ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন’।

আফসোস, অন্য আর কোনও উপায় ছিল না। সচেনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে একটা করে বিন-ডাস্টবিন দিলে বা স্কুলের রাস্তায় একটা ইট রেখে লুকানো ক্যামেরায় কোন শিশুটা ইটটা সরালো এটা নিশ্চিত হওয়ামাত্র সেদিন গোটা স্কুলে ওই শিশুটিই হলো নায়ক। এই নিয়ে একটা বিষম হুল্লোড় করা হলো- পত্রিকাওয়ালারা ঢাউস আকারের ছবি ছাপালো এমন কতশত উপায় করা যায়। ওরে, এই সব যে হাবড়াহাটি-আজেবাজে কথা!

উহুঁ, এইসবে হবে না। আমাদের দেশে সমস্যা শিশুদের নিয়ে না, সমস্যা বুড়ো-হাবড়াদের নিয়ে। বুড়ো হাবড়াদের সচেতন করার জন্য প্রয়োজন বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের। কনসার্টে এই সমস্ত কলাকৌশল শেখার জন্য আবার ১৫০০/৩০০০ টাকা খরচও করতে হবে! বসার জায়গা না-পেলে ‘হাপ্পা’-উপুড় হয়ে মেঝেতে বসে পড়তেও কোনও সমস্যা নাই আমাদের, এমনকি মন্ত্রী হলেও।

এই একটা চল হয়েছে। গরিব-গুরবাদের জন্য ‘কুমিরকান্না’ পায় তো চলো গরিবদের মত স্বল্প-অল্প পোশাকের একটা কনসার্টের আয়োজন করি। আচ্ছা, কাল এরা কীভাবে আমাদেরকে শেখাবেন? কারিনা কাপুর কী লেহেংগার ঝুল ঝুলিয়ে আবর্জনা সাফ করবেন? আহা, এই সাফ করতে গিয়ে শরীর আগুপিছু হলে সেটাকে তো দোষ দেওয়া চলে না। এমনিতে এখানে আমাদের কৌতুক অভিনেতা অনন্ত জলিল ভাইয়ার কাজ কি? যতটুকু জানি কৌতুক অভিনেতাদের লেহেংগা পরার চল নাই। তাহলে আমাদের ঝাড়ু দেওয়ার কী হবে এটা ভেবে একচোখে জল অন্য চোখে পানি চলে আসে।

ওহো, বুঝেছি ঘটনাটা এবার। ‘বেলবটম’ বাহে, বেলবটম। আগেকার আমলের বেলবটম প্যান্টের ঘের আড়াই ফিটের কম হতো না। অনন্ত জলিল ভাইয়া বেলবটম প্যান্ট পরে হাঁটাহাঁটি করলেই তো সব জঞ্জাল সাফ।
আহা, এরা যেটা পারবেন সেটা সুপরম্যানেরও পারার যো নেই কারণ সুপারম্যান লেহেংগাও পরে না বেলবটমও না, পরে কেবল প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার…।

Saturday, February 6, 2016

‘ডাগদর কাম ল্যাকক’।

শ্রীলংকায় জন্ম নেওয়া স্যার স্ট্যানলি ডেভিডসনের ‘মেডিসিন’ কিতাবখানা কয় কোটি বিক্রি হয়েছিল জানি না তবে বাংলায় জন্ম নেওয়া অধ্যাপক এ কে এম ডা. ফজলুল হকের এই কিতাবখানা ৫০ কোটির কম বিক্রি হয়েছে বলে অন্তত আমি বিশ্বাস করি না!
অনেকেই অবিশ্বাসে মাথা নাড়ছেন এটা আমি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমি আঁক কষে বলে দিতে পারি।

২৩ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। প্রত্যেকে মাথাপিছু ৪-৫টা করে এই কিতাব ক্রয় করলে ৫০ কোটি কী খুব একটা বড় অংক, একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু না। কামানের গোলার ন্যায় কেউ-কেউ এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেবেন ডা. ফজলুল হকের এই কিতাব কেন প্রত্যেকে ৫ কপি করিয়া খরিদ করিবে?

আহা, এও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি! একটা থাকবে স্টাডিতে সাজিয়ে রাখার জন্য। আরেকটা শোয়ার ঘরে। এই কপিখানা পেটের উপর পা রেখে, না-না, ভুল বললাম; পেট ভাসিয়ে দেওয়ালের উপর পা রেখে পড়ার জন্য। অন্যটা সঙ্গের ঝোলায় সর্বদা থাকবে, বাসে-ট্রামে-যানজটে পড়ার জন্য।
বইটার নাম যেহেতু ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ তাই টাট্টিখানায় একটা বই থাকবে না তা কী হয়! আরেকটা বই কেউ ‘হুদাহুদি’ কিনলে আটকাচ্ছে কে? এই কারণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মহোদয় ‘উস্কানি কিতাব’ ক্রয় করার অপরাধে সিপাহি লেলিয়ে দেবেন এমনটা শত্রুও বলবে না।
এমনিতে এই সমস্ত বইকে বই বলার নিয়ম নেই সম্ভবত, গ্রন্থ বলাটাই সমীচীন।
এই ডাগদর সাহেবের ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ গ্রন্থখানার বিজ্ঞাপন আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোতে বছরজুড়ে প্রকাশিত হয় ডাগদর সাহেবের ছবি-মোবারক, কালো গোঁফসহ। দিনের-পর-দিন নিয়ম করে যে-হারে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় এতে করে এই ধারণাটা দোষের হবে না যে এপার-ওপার বাংলা মিলিয়ে এমন বইয়ের বিক্রির রেকর্ড অন্য আর কারও নাই।

এমনিতে বছরজুড়ে দূরের কথা হাতে গোনা কয়েক প্রকাশনী ব্যতীত অন্যরা ফেব্রুয়ারির বইমেলা ব্যতীত বই প্রকাশ করেন না! বইমেলা এলেই বই ছাপার হিড়িক শুরু হয় এবং তথাকথিত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকগণ অমার্যাদার সঙ্গে নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেরাই দেন [১]। ওরে, এটা তো কথাসাহিত্যিকদের বেলায় ইনি তো কথাসাহিত্যিক নন যে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দেবেন।
অবশ্য ডাগদর সাহেবের লেখা চটি টাইপের এই জিনিষ কোন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে এটা আমি বিস্তর চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি। নিজের চেম্বার নামের টাকার খনির বিজ্ঞাপনের ভাল একটা উপায় বের করেছেন যাহোক!
(এই ডাগদর সাহেবকে নিয়ে পূর্বেও লিখেছিলাম [২]। এমন বিচিত্র ডাগদর আমাদের দেশে বিরল)

সহায়ক সূত্র:
১. সবই পেশা কিন্তু…: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_12.html
২. হর্স-মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html

Thursday, February 4, 2016

একালের খেলোয়াড়, মহোদয়গণ!

একজন কবি জীর্ণ ছালের আড়ালে ‘কায়কাউসের ছেলে’ নামে কেবল বিস্তর আবর্জনাই উৎপন্ন করেননি এক ধরনের সামাজিক অপরাধও করেছিলেন। কী জানি, বা হতে পারে এর মাথায় গোলমাল ছিল!
নইলে এই লোক কবিতার নামে এটা লেখে কেমন করে “…রবীন্দ্রনাথকে থাপড়াইলাম…তার ওপর মূত্র বিসর্জন করিলাম…।“ এ আবর্জনা-মাস্টারের সঙ্গে আমার মতো মানুষের জানাশোনা হতো না যদি-না প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’-এর নামে একে জন্তু থেকে মানুষের ভুবনে নিয়ে আসত।
অন্যত্র এক লেখায় যেটা আমি লিখেছিলাম:
"আচ্ছা, এই ইতর যেভাবে রবীন্দ্রনাথের নাম ব্যবহার করেছে সেই নামের স্থলে প্রথম আলোর সর্দারদের কারও নাম বসিয়ে দিলে কেমন হয়"?
এই সব স্যারদের কে বোঝাবে সব আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না, যা-ইচ্ছা তা লেখা যায় না। লিখলে সেটা হয় ‘কুতুয়াসাহিত্য’!

সম্প্রতি একজনের বদৌলতে আরিফ আর হোসেন নামে একজনের একটা ‘ইসটাটাস’ পড়ার দূর্ভাগ্য হয়েছে আমার। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “হাতের ঝাড়ুই হবে অস্ত্র...এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী…।”
লেখাটায় ভাল একটা উদ্যোগের কথা তিনি লিখেছেন সে ভাল কথা কিন্তু ঝাড়ু হবে অস্ত্র…এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী, এই সব লিখতে হবে কেন?

এখন এই একটা নতুন ফ্যাশন চালু হয়েছে প্রয়োজন থাকুক বা না-থাকুক আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যে-কোনও প্রসঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলে লাভ নাই কারণ এদের ভাব দেখে মনে হয় সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাই কোনও-না-কোনও দলের সঙ্গে জড়িত! এর বাইরে কেউ নাই, কিচ্ছু নাই।

তো, স্যারদের বিনীত ভঙ্গিতে বলি, মুক্তিযুদ্ধ কোনও খেলা ছিল না! এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের স্বজনদের অবিরাম রক্তের স্রোত। অন্য ভুবনের সহ্যাতীত যন্ত্রণা! দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করা যায় না এমনসব কষ্ট! একটা পরিবারের ২৫ জনকে খুন করা হয়েছে ওই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে সাদী মহাম্মদ [১] নামের যে শিশুটি বেঁচে গিয়েছিল তাঁর চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা আমাদের কোথায়?

একজন মশিহুর রহমানকে [২] পাকিস্তানিদের স্বপক্ষে সই করাবার জন্য চাবুক মেরে মেরে গায়ের চামড়া খুলে ফেলা হয়েছিল। একে-একে কেটে ফেলা হয়েছিল হাত-পা তবুও তিনি সই করেননি! আমরা, এই প্রজন্মের এই ত্যাগ বোঝার মত মগজ কোথায়?  
ঠিক ১৬ ডিসেম্বরেই মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া [৩] আত্মহত্যা করেছিলেন, কেন? এটা জানার আগ্রহ কোথায় আমাদের!

একজন উক্য চিং [৪]। যিনি ১৯৭১ সালে পাকআর্মির দ্বারা আমাদের নারীদের সম্ভ্রমহানীর প্রতিবাদে পাক-কমান্ডারসহ তার সহযোগীদের পুরুষাঙ্গ কেটে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন। এমন বীরকে আমাদের শিশুদের সামনে উপস্থাপন করার সদিচ্ছাই বা কোথায় আমাদের?
ইতিহাসের পাতায় বড়ো ম্লান ভাগিরথী [৫], রীনা [৬], প্রিনছা খেঁ [৭]। একজন দুলা মিয়ার [৮] শেষশয্যার খোঁজও আমরা পাই না। এমন কতশত উদাহরণ লিখে শেষ করাও যে যো নেই।

অথচ এখন এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধা যেন একটা খেলার বিষয় হয়ে গেছে। যে যেমন করে পারছে, ইচ্ছা করছে...। এরা এটা বুঝতে চাইছে না যে-সমস্ত আবেগে আমরা থরথর করে কাঁপি সেই সমস্ত আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না।
আজ কেউ খেলাচ্ছলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ঝাড়ু ধরিয়ে দিচ্ছে কাল অন্য কেউ দু-চার জন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কাঠের থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের ডামি ধরিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। সাহেবসুবোরা দেদারসে লাল পানি গিলে এসে উল্লাসভরে সেই প্রদর্শনী দেখবেন। হলুদ দাঁত বের করে পেটকাঁপানো হাসির উল্লাসে বলবেন, "ওয়াও, হোয়াড আ মুক্টিজুড্ডা..."।

সহায়ক সূত্র:
১. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
২. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৩. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৫. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৬. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
৭. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৮. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html 

Saturday, January 30, 2016

হানিফ সংকেত- অন্ধতমিস্র, আঁধারের শিক্ষক!

হানিফ সংকেত নামের মানুষটা ফজলে লোহানির হাত ধরে এই আলোকিত ভুবনে এসেছিলেন। ফজলে লোহানি অজানার দেশে চলে যাওয়ার পর এই মানুষটাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমশ একলা-একলি এক আলোকচ্ছটায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এরপর তো ইতিহাস!

কায়দাদুরস্ত হানিফ সংকেত তাঁর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে বছরের-পর-বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, এখনও! কালে-কালে তিনি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠলেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ অভূতপূর্ব! এই প্রজন্মের একটা স্যালুট তিনি পাওনা হন এতে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু এই করে করে বছরের-পর-বছর কেমন করে পার করে দিলেন এটা দেখে স্যালুটটা ফিরিয়ে নেওয়াটা দোষের হবে বলে মনে করি না।
এমনিতে হেন কোনও অসঙ্গতি নেই যা নিয়ে কটাক্ষ করা তাঁর অনুষ্ঠানে উঠে আসে না। এন্তার অসঙ্গতি নিয়ে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেন। ফাঁকে-ফাঁকে নাচ-গান তো আছেই। এটা ফ্রি, ডাল ফ্রি (আগের আমলের)।

কত বছর পূর্বে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ‘হোটেল সালাদিয়া’ নামের এই গানটা শোনা হয়েছিল মনে নেই। বহু বছর পর Download Free24-এর কল্যাণে গানটির খোঁজ পাওয়া গেল, কৃতজ্ঞতা।
যথারীতি হানিফ সংকেত জানাচ্ছেন গানটা লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু এবং গেয়েছেন সান্টু। রিন্টু-সান্টু, সান্টু-রিন্টু, সান্টু-সান্টু-সান্টু, রিন্টু-রিন্টু-রিন্টু 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে আমরা রিন্টু এবং সান্টুর নামই শুনে এসেছি। ভাগ্যিস এই ধরায় সান্টু-রিন্টু এসেছিল নইলে সর্বনাশ হয়ে যেত!

এ আরেক একলসেঁড়ে-অসামাজিক ভাবনা! হানিফ সংকেতের অভিধানে এই দেশে রিন্টু এবং সান্টু ব্যতীত গায়ক, গীতিকার নাই! সবাই বানের জলে ভেসে গেছে? বা হিমালয় পর্বতে চলে গেছে বাথরুম করার জন্য। আফসোস, বড়ই আফসোস- এই দেশ কবে পরিবারতন্ত্র-স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে আসবে কে জানে! যাই হোক, আমরা হোটেল সালাদিয়া গানটা শুনি:
সূত্র: Download Free24 (https://www.youtube.com/watch?v=yzMzyWzIGCo)

বেশ-বেশ, কেটে গেলে মুগ্ধতার রেশ, এখন আমরা তাহলে ইগলসের অসাধারণ অসম্ভব বিখ্যাত ‘হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’ গানটার কথা আলোচনায় নিয়ে আসি। যে-গানটি কোটি-কোটি শ্রোতাকে এমনই আলোড়িত করেছিল যে এই গান নিয়ে গুজবের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এমন ডালই না মেলেছিল যে সেখানে রোদ ঢোকারও উপায় ছিল না। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তারচেয়ে বরং গানটা শোনা যাক:

হায়, এরা তো ভাল করে চুরি করাও শেখেনি!  বটে রে, এহেন চৌর্যবৃত্তির জন্য আবার সুরকার গায়কেরও প্রয়োজন দেখা দেয়? যে মানুষটা ক্ষণে ক্ষণে নীতিকথা কপচান সেই মানুষটাই যখন ‘দিন দাহাড়ে’, এর বাংলা হবে দিন-দুপুরে চোখ ধাঁধানো আলোয় আয়োজন করে বছরের-পর-বছর ধরে এমনতরো কর্মকান্ড চালিয়ে যান তখন বুকের গভীর থেকে বেদনা পাক খেয়ে উঠে, এই দেশে আমাদের দাঁড়াবার জায়গার বড়ো অভাব...! 

*কেবল হানিফ সংকেতই না এমনতরো চুরি-চামারি চলেই আসছে এমন না। যেমন আরেকজন জাকারিয়া স্বপন []। 
হানিফ সংকেত, জাকারিয়া স্বপন এরা যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেন যথারীতি সেই গাছে ফল ধরে পেকে টসটস করে। এরাই তৈরি করছেন নষ্ট এক প্রজন্ম। তখন আর চুরির বালাই থাকে না জন্ম নেয় একেকটা আস্ত ডাকাত। কচু গাছ কাটতে-কাটতে ডাকাত!

অন্যদের কাছে কালো-কালো, দুবলাপাতলা-লিকলিকে হলেও আমার লেখা আমার কাছে সন্তানসম। আমার নিজের সন্তানদের পরিচয় দিতে হবে এই চোর-ডাকাতদের কাছে []? মরণ!

সহায়ক সূত্র:
১. ডিয়ার, তোমাকে কী ডাকাত বলতে পারি: https://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html
২. ডাকাতচুঞ্চু http://www.ali-mahmed.com/2015/10/blog-post_29.html

... ... ...
আমি কেবল একটা চুরির প্রমাণ দিলাম। এই মানুষটার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য চুরির অভিযোগ আনা যাবে। কালে-কালে এই মানুষটার মাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্র একটা আইডির ফলোয়ারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ প্লাস!
 
 

Monday, January 25, 2016

স্মৃতি, কেবল স্মৃতিই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে।

অতিথি লেখক Fakruddin Shahriar  লিখেছেন:
"চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিকথা বলা হবে আর ইউনিভার্সিটির সেই বিখ্যাত ট্রেনের কথা আসবে না তা কী করে হয়! তো, ইউনি'র সেই বিখ্যাত ট্রেন নিয়ে কিছু হালকা স্মৃতিচারণ করা যেতেই পারে। বিখ্যাত সেই ট্রেনের নান্দনিক কোনও বর্ণনা দেয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। চবি'র প্রতিটা ছেলে-মেয়ের হৃদয়েই আঁকা আছে বিখ্যাত এই ট্রেনের ছবি।

একবার আমাদের বন্ধুর এক কাজিন, যে কিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে একটু নাক উঁচা ভাব নিয়েই সকালবেলা আমাদের সঙ্গেই ট্রেনে রওনা হয়েছিল চবি দেখবে বলে…। বিকেলবেলা শহরে আসার পর এই মানুষটারই আফসোসের সীমা ছিল না কেন সে চবি'তে ভর্তি হয়নি!
তখন আমি সেকেন্ড ইয়ারে, ট্রেনের মজা কিছুটা থিতিয়ে এসেছে। আমার ছোট ভাই সবেমাত্র চবি তে ভর্তি হয়েছে। ওর কাছে ট্রেনের মজা তখনও নতুন। সেই সময়ে আমার বাবা প্রথমবারের মতো জাপান সফরে যান এবং সফর শেষে সবে ফিরে এসেছেন। তো, বাসার সবাই, মামা-চাচারা সহ আব্বার জাপান সফরের গল্প শুনছি। বিশেষ করে জাপানের বিখ্যাত বুলেট ট্রেনে আব্বার ভ্রমণের গল্প। জাপানের বুলেট ট্রেন সেই সময়ে সবেমাত্র সার্ভিসে এসেছে এবং যখারীতি বিশ্বের দ্রুততম ট্রেন।

আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে আব্বার বুলেট ট্রেনে চড়ার গল্প শুনছি, গল্পের মাঝেখানেই দুম করে ছোট ভাই আব্বার কাছে জানতে চাইল তিনি কখনো চবি'র ট্রেনে চড়েছেন কিনা? আব্বা বললেন, উনি চবি'তে বেশ অনেকবারই গিয়েছেন তবে গাড়িতে করে, ট্রেনে করে যাওয়া হয়নি। ছোটভাইয়ের সোজা জবাব, ‘তাহলে তো তোমার ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতাই পূর্ণ হয় নাই’!

যাই হোক, আমাদের সময়ে চবি ট্রেনের অনেকগুলো গ্রুপ এর মাঝে সবচেয়ে নামকরা গ্রুপটা ছিল 'খাইট্টা খা' গ্রুপ। ট্রেনে যাওয়া-আসার পথে এদের দেয়া বিনোদন তুলনাহীন, সত্যি বলতে কি প্রতিভা একেকটা! এই গ্রুপের বিখ্যাত গান, কবিতার নমুনা এমন:
'আমার সুখ নাই রে সুখ পরানের পাখি,
আঠারোটা বিয়া করলাম জেলায় জেলায় ঘুরি।
পরথমেতে বিয়া করলাম জেলা নোয়াখালি,
বউ আমার ভাল লাগেনা ভাল লাগে শালী।
তারপরেতে বিয়া করলাম জেলা চিটাগাং,
বউ আমার কথা শোনে না করে চটাং চটাং।
তারপরেতে বিয়া করলাম...।'
যাই হোক, সে এক লম্বা লিস্ট। আর বেশ কিছু বিখ্যাত (!) কবিতা কাম ছড়ার একটা ছিল: 
'ওগো প্রিয়তমা,
তুমি দাড়ি আমি কমা।
তুমি মশা আমি মশারী
তুমি ডাইল আমি খেশারি।
তুমি খাতা আমি কলম
তুমি ব্যথা আমি মলম।
তুমি সাগর আমি মাছ
তুমি পাহাড় আমি গাছ।
তুমি চা আমি কাপ
তুমি মা আমি ...!'
দিস লিস্ট গোওজ অন, প্রতিভা বটে একেকটা! এই স্মৃতির তালিকা্ আরো অনেক লম্বা। এবেলা বিলেতে এসে থিতু হয়েছি ট্রেনের জবে এবং বিশ্বের অনেক ধরনের ট্রেনেই চড়ার সৌভাগ্য হয়েছে তবুও মাঝে -মাঝে খুব মিস করি প্রিয় চবি'র অতি প্রিয় লক্কর-ঝক্কর সেই ট্রেনটিকে। স্মৃতি, আহ স্মৃতি…। "

‘এক গেলাসের ইয়ার’!

এই সরকারের অর্জন বলে কিছু নেই এটা বলাটা অতিশয়োক্তি হয়ে যায়! কিন্তু এরা মাঝে-মাঝে এমন কিছু কর্মকান্ড করে বসবে যার কারণে অর্জনের কফিনে পেরেক ঠোকাই সার। পুলিশ ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীকে পিটিয়ে মাদকব্যবসায়ি বলে ক্রসফায়ারের আতংকেও রেখেছিল। নাটের গুরু পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মাসুদ শিকদারকে প্রচলিত আইনে শাস্তি দিলেই হয় তা না ঘটা করে আবার আইজিপি সাহেব বক্তব্যও রাখেন,‘রাব্বী ফৌজদারি অপরাধ করেছেন’। এই সমস্ত কর্মকান্ড দেখার কেউ নেই!
এক পা লিমনের বিরুদ্ধে আমরা গোটা রাষ্টযন্ত্রের কামান তাক করে থাকতে দেখেছি অথচ এর কোনও প্রয়োজন ছিল না আদৌ! ভুলের খেসারত দিলেই হতো…। বা হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সন্তান-স্বামীর সামনে ফের যৌন নির্যাতন করা হয় যে গৃহবধুটিকে,তাঁর চোখ চোখ রাখার ধৃষ্টতা কার আছে এই দেশে?
এটা সবাই বিলক্ষণ জানে আইনের শাসনের বালাই নেই। ২৮ বছর চলে গেছে চট্টগ্রাম গণহত্যার এখনও বিচার হয়নি, ভাবা যায়? এখন এই বিচার হলেই কি না-হলেই কী!

হালে যে ঘটনাটা ঘটে গেল এমনধারা ঘটনায় ভেসে যায় পদ্মা সেতু! আসাদগেট নিউ কলোনির বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর রেখেই ভবনগুলো ভাঙ্গা শুরু হয়। একেক করে ভবনগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়। কোনও গণতান্ত্রিক দেশে এমন অসভ্য কান্ড ঘটতে পারে এটা আমার কল্পনাতেও আসে না। আমি চোখ বন্ধ করে কেবল খানিকটা ভাবার চেষ্টা করতেই গা হিম হয়ে আসে। কারও বাচ্চা স্কুলে গেছে, পরিবারের কর্তা যথারীতি চলে গেছেন অফিসে বয়স্করা রয়ে গেছেন বাসায়; এমতাবস্থায় তাঁরা দেখলেন তাঁদের বসতবাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে! শপথ আমার লেখালেখির, সমস্ত ভাবনা গুলিয়ে আমার মস্তিষ্ক স্রেফ জমে যায়। গুছিয়ে লেখার অভ্যস্ত হাত খেই হারিয়ে ফেলে…।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৬
দৈনিক প্রথম আলো অসাধারণ একটা প্রতিবেদন ছাপিয়েছে, ‘ভেতরে মানুষ, বাইরে হাতুড়ির ঘা’ (বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৬)। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে: ”বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবন ভাঙ্গা হয়েছে…বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নিউ কলেনি সোসাইটি ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ আছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ বিষয়ে ১৮ জানুয়ারি শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সেই শুনানি পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে ভেঙ্গেছে…।“

“বাসিন্দারা অভিযোগ করেন”, “বাসিন্দারা অভিযোগ করেন”, “বাসিন্দারা অভিযোগ করেন”, বেশ-বেশ, বাসিন্দাদের অভিযোগ থেকে আমরা জানলাম ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিল। যে-কোনও অভিযোগ যে-কেউ করতেই পারেন কিন্তু পাঠকের এটা জানার উপায় নেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে। এটা সত্য, কোনও সংবাদমাধ্যম কোনও প্রতিবেদনে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটির কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কাগজ এখানে স্ক্যান করে দিয়ে দেওয়াটাই সমীচীন ছিল।
স্পষ্টত এটা আদালত অবমাননা। এবম্প্রকার এহেন আদালত অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কি না সেটা আদালতের বিবেচ্য বিষয়।

অবশ্য এই সমস্ত পত্রিকার সংবাদের গুরুত্ব বোঝার আদৌ ক্ষমতা আছে কি না এটা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নও বটে। এবং এটা বোঝার জন্য নাসায় সিভি পাঠাবার প্রয়োজন পড়ে না। দৈনিক প্রথম আলো এই দিন এই সংবাদটি ছাপিয়েছে ভেতরে ৯ পৃষ্ঠায় এবং এই দিনই প্রথম পৃষ্ঠায় ঢাউস ছবি দিয়ে ছাপিয়েছে ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৬
এটা হচ্ছে এদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন! এই হচ্ছে দেশের অগ্রসর একটা দৈনিকের নমুনা যারা ঘটা করে আমাদের শপথ করায়, দেশের আপামর জনতাকে বদলে দেওয়ার জন্য ‘গুছলেংটি’ খুলে -মুক্তকচ্ছ-কাছা খুলে নগ্ন হয়ে পড়ে। পত্রিকাটির ভেতরের ১৬ পৃষ্ঠার 'বিনোদন পাতায়' এটা ছাপালে এই পত্রিকার সর্দারদের কী পাঠক আহাম্মক বলত?
অথচ এদিনই ‘অধুনা’ নামে বাড়তি চার পাতায় মাহিয়া মাহির সুন্দর জীবন থেকে শুরু করে হাবিজাবি জিনিষে ঠাসা। ওখানে আমরা জানতে পারছি মাহিয়া মাহির প্রিয় খাবার ‘গরুর কালা ভুনা’। মাহিয়া মাহি গরুর কালা ভুনা, না কালা গরুর ভুনা খাবে নাকি তিমি মাছের ঝোল বা বাঘের দুধের পায়েস সেটা মতি ভাই বিশদ আকারে ছাপাবেন তাতে তো কোনও সমস্যা নেই। এখানেও কী ছাপাবার জায়গার আকাল হলো?

পত্রিকা চালনেো কম হ্যাপা না, খরচের বিষয়টা যে একেবারে বোধের বাইরে এমনও না কিন্তু তাই বলে...বাপু রে, আপনারা সবাই ‘এক গেলাসের ইয়ার’ সে নাহয় বুঝলুম তা শরীরে না সইলে এক পাত্র কম খেলে হয় না?

Saturday, January 9, 2016

ভোট-ম্যাজিক!

পত্রিকায় এসেছে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের ভোটের রেকর্ডে বিশ্লেষকেরা বিস্মিত! দলটি অনেক পৌরসভায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে। কোথাও কোথাও যেমন সন্দ্বীপে পেয়েছে ৯৮ শতাংশ, কাজীপুর ৯৭, গফরগাঁও ৯৬...। বিশ্লেষকেরা অল্পতেই বিস্মিত হন। এতে বিস্মিত হওয়ার কী আছে- কোথাও তো আর ১০০ শতাংশ ভোট পাওয়ার উদাহরণ নাই। অতএব মামলা ডিসমিস।
অবশ্য আমার এখানে ভোট পাওয়ার গড় প্রায় ৮০ শতাংশ দেখে আমি মর্মাহত!

এমনিতে আমার এখানেও চমৎকার(!) ভোট হয়েছে। ভোট দিতে যাওয়ার পূর্বেই আমাকে ‘অভিজ্ঞ হেডমাস্টার’ টাইপের লোকজনেরা বললেন,‘যাইয়েন না’। হুশ-হুশ, বললেই হলো। আমি ‘দায়িত্ববান পুরুষ’(!) না-হতে পারি কিন্তু দায়িত্ববান নাগরিক হতে সমস্যা কোথায়!
গেছি ভোট দিতে। ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘আক্কাড়-পাক্কাড়’-অস্ত্রশস্ত্রের অভাব নাই, অভাব নাই মিডিয়ার লোকজনেরও। সেনাবাহিনী ব্যতীত সব বাহিনীর লোকজনেরাই এখানে আছেন। দেখে আরাম, চোখেরও আরাম। আগের দিন সন্ধ্যায়ও সমস্ত এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই মিলে বেশ একটা মহড়া দিয়েছেন, যা হোক। আমার মত নিরীহ লোকজনেরা স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে। হুঁ-হুঁ বাওয়া, আইনের বাইরে কিছু হলেই, ক্যাঁক, ক্যাঁক-ক্যাঁক-ক্যাঁক…।
তার উপর ভোটার তালিকা ছবিযুক্ত- একজনের ভোট অন্যজন দেবে সেই সুযোগ নাই।

তো, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা মানুষটা যখন আমাকে বললেন, ’আপনার ভোট তো দেওয়া হয়ে গেছে’, তখন আমি আকাশ থেকে পড়লাম। খানিকটা ধাতস্থ হয়ে আমি তাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখালাম। এটা তাকে তাচ্ছিল্য করার জন্য না আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি যে নেই সেটা দেখাবার জন্য। ওয়ালেট থেকে আইডিও বের করলাম। মানুষটা যে হৃদয়বান(!) এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই। তিনি বললেন,’এক কাজ করেন এই নামটা ফাঁকা আছে এই ভোটটা আপনি দিয়ে দেন’। আমি ওপথ মাড়াবার আগ্রহ বোধ করলাম না। এবং এই নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে গেলাম না কারণ জায়গাটা গরম। জাল ভোট দিতে এসেছি এটা বললে আটকাচ্ছে কে? ‘জাল ভোট প্রদানকারী’ লিখে গলায় ঝুলিয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিল আর মিডিয়া এসে ফটাফট ছবি তুলে ছাপিয়ে দিলে তখন আমার পাঠকরাই বলবেন: লোকটাকে তো ভালই জানতুম; ছি-ছি, ব্যাটার এই ছিল মনে! তবুও, তবুও যে-কোনও উপায়ে পত্রিকায় ছবি ছাপা হওয়াটা আমার মত মানুষের জন্য গর্বের কিন্তু কেন যেন আমি উৎসাহ বোধ করলাম না।

ভোট তালিকার ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী আমার মা'র ভোট নম্বরও পাশাপাশি। সেটায়ও দেখি টিক চিহ্ন দেওয়া। আমি ওখানে আঙ্গুল রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হড়বড় করে বললেন,’অ, এইটা, তিনি তো অনেক আগেই ভোট দিয়ে চলে গেছেন’।
আমার মা ভোট দিয়ে চলে গেছেন এতে আমার আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু আমি বিমর্ষ হলাম, দুঃখিত হলাম। কারণ তিনি ভোটও দিলেন চলেও গেলেন অথচ আমাদের কারও সঙ্গে দেখাটিও করলেন না, আমার সঙ্গেও না! আমার চেয়ে ভোট বড় হলো, কী কষ্ট-কী কষ্ট! এই কষ্টের কথা কাকে বলি! হায় মর্ত্যুকাম!

পাদটীকা: বিখ্যাত কোনও লেখক লেখাটা এখানেই শেষ করতেন। পাঠকও নিমিষেই লেখার মরতবা বুঝে ফেলতেন। কারণ বিখ্যাত মানুষদের বানিয়ান-চাড্ডির খবর সবার জানা বা পরিবারের লোকজনের খবরাখবর মায় পোষা বেড়াল কুত্তাটার খবরও।
তাই আমার মত অতি অখ্যাত মানুষের এটা জানানোটা জরুরি হয়ে পড়ে যে আমার মা মারা গেছেন বছর তিনেক পূর্বে…।
WhatsApp