Search

Monday, July 19, 2010

আমি সমস্ত খুনি-অপরাধীর বিচার চাইব

৭১-এর খুনের অপরাধে কতিপয় অভিযুক্তকে বিক্ষিপ্ত আকারে ধরা হয়েছে। এতে আমার আলাদা কোন উল্লাস নাই। কে ৭১-এ খুন করেছে, কে ৮১-তে, কে ৯১-এ, কে ২০০১ সালে, কে ২০১০ সালে এটা আমার কাছে মুখ্য না। আমি সমস্ত খুনি-অপরাধীর বিচার চাই। কে কয়টা খুন করেছে সেটা অন্য বিচার্য বিষয়।

৭১-এর খুনি-অপরাধীদের বিষয়টা অনেকখানি ভিন্ন কারণ এরা কেবল অপরাধ করেই ক্ষান্ত থাকেননি যথানিয়মে ক্ষমতায় এসেছেন, আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদের মাথায় বনবন করে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। সেই কারণে আমাদের ঘৃণাটা তীব্র। 
এই দেশের আইন এখনও এটা প্রমাণ করতে পারেনি, আইন সবার ক্ষেত্রে সমান। এমনটা হলে বিস্তর প্রমাণ থাকার পরও ৭১-এর খুনিরা সদর্পে ঘুরে বেড়াতে পারতেন না।
কিন্তু এমন বুক চিতিয়ে অনেক খুনিই তো বহাল তবিয়তে আছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আইন তাদের কেশও স্পর্শ করতে পারে না!

কর্নেল তাহেরকে [১] বিচারের প্রহসনের নামে যেমন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে এটা কি খুন না? এই খুনিরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পার পেয়ে গেছেন। এই খুনের বিচার হলো না কেন? একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা [২], একজন সেক্টর কমান্ডার, একজন শারিরীক সমস্যা আক্রান্ত মানুষকে যেভাবে খুন করা হয়েছে এর নজির বিরল! 
তাঁকে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হয় প্রকারন্তরে এ খুনেরই নামান্তর। তাঁর ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে বা ২৮ দিন পরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান নাই। 

শাহআলম সাহেবের সুযোগ্য পুত্র সানবীর কেবল খুনের অভিযোগে অভিযুক্তই না, খুনের মামলায় সানবীরকে ধরতে ইন্টারপোলের সাহায্যও চাওয়া হয়েছিল। ইন্টারপোল এখন ইলেকট্রিক-পোল হয়ে গেছে!
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তনের পর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় গোটা পরিবার বিদেশে পালিয়ে যায়। তখন ১৪টি মামলা হয়েছিল।
পট-পরিবর্তনের পর শাহআলম সাহেব কেবল ফিরেই আসেননি, সদর্পে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। টাকা থাকলে কী না সম্ভব [৩]? দান-খয়রাতও করা যায়। শাহআলম সাহেবের সুযোগ্য পুত্রধন এটা না বলে বসে আছেন বুঝি? 'সানবীর' কোন এক ককটেল পার্টিতে রসিয়ে রসিয়ে-তারিয়ে তারিয়ে বলবেন, জানিস, বান...কে মেরে যে গন্ডগোলটা হল না। শ্লা, ড্যাডের ২০০ খরচ হল। কাট মাই শিট!
২০০ মানে ২০০ কোটি।

এক এক করে মিডিয়াও কিনে ফেলা যায় [৪]। সেইসব মিডিয়ায় এই দেশের বুদ্ধিজীবী মানুষরা তাদের বুদ্ধি শাহআলম সাহেবের পদতলে রেখে দেন।  
বেশ, কিন্তু কি গতি হয়েছে সাব্বির হত্যা মামলার? 

রাহেলা [৫] খুনের মামলার এখন অবস্থা কি? এই অভাগা মেয়োট কি বিচার পাবে? মানুষ নামের সেই নৃশংস খুনিরা কি শাস্তি পাবে?
"‘আমি মরি নাই, আমারে বাঁচান’! কেমন করে সম্ভব একজন মানুষের পক্ষে এই অল্প কটা শব্দ উচ্চারণ করা? যে মানুষটার শরীরে পচন ধরেছে। স্পাইনাল কর্ড এবং দু-পায়ের রগ কাটা, শুধু কন্ঠনালীর মাধ্যমে শরীরের সঙ্গে মাথা ঝুলে আছে। শরীরের ক্ষতঅংশে অজস্র পিপড়া বাসা বেধেছে এবং কাটা অংশ থেকে রক্ত পড়তে পড়তে পুরো শরীর ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। মানুষটাকে এ গ্রহের চরম শারীরীক নির্যাতন করে নর নামের যে নরপশুরা তাকে জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন স্থানে এই অবস্থায় ফেলে গিয়েছিল, দু-দিন পর তার আবার ফিরে আসে এবং জীবিত দেখে ক্ষতস্থানে এসিড ঢেলে দিয়েছিল।" 

বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ সাহেবের আমলে যে ১৪ বছরের বালককে প্রহসনের নামে খুন করা হয়েছিল (দৈনিক আজকের কাগজ, ০৬.০৭.৯১)। ১৪ বছর হলেও আমাদের দেশের প্রচলিত আইন, Sailent features of the children act of 1974, Section 2 (F)-এ বলা হচ্ছে, শিশু কারা?
"A child means a person under 16 years of age."
১৬ বছরের নীচে কাউকে ফাঁসি দেয়ার বিষয়ে (Child Rights and Juvenile Justice-এ Section 51), বলা হচ্ছে,
"No Child to be sentenced to death."
এই শিশু হত্যার কি বিচার হবে না? এই খুনের দায় এরশাদ সাহেব [৬] এড়াতে পারেন কেমন করে? এবং এমন একটা খুন যার কারণে সভ্যতা কেঁপে উঠে!

চলেশ রিছিল নামের মানুষটাকে তৎকালীন এডিএম হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।কিন্তু আমরা জানি তিনি হৃদরোগে মারা যাননি। তার মৃতদেহে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন ছিল, তাঁর চোখের জায়গায় ছিল মার্বেল।

২০০৭ সালের ১৮ মার্চ ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে চলেশ রিছিল এবং তাঁর আত্মীয় প্রতাপ জাম্বিল, তুহিন হাদিমা, পিরেন সিমসাংকে আটক করা হয়। এই প্রতাপ জাম্বিলই জানিয়েছিলেন, আটকের পর তাঁদেরকে মধুপুরের সেনাক্যাম্পে নেয়া হয়। সেখানেই চলেশ মারা যান। খুন নামের এই মৃত্যুর বিচার হবে না?

কল্পনা চাকমা। সেই ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম নির্বাচনের পূর্বে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সেনাসদস্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত যখন কল্পনা চাকমার খোঁজ পাওয়া যায়নি তখন এটাকে খুন হিসাবে ধরে নেয়া যেতে পারে।
কেবল তাই না, কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রূপন চাকমা নামের একজন ছাত্র নিহত এবং তিনজন ছাত্র নিখোঁজ হন। ওই তিনজন ছাত্রের লাশ আজও পাওয়া যায়নি। এই সব খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হবে না?

১৯৭৫ সালে জেলখানায় যে ৪জন জাতীয় নেতাকে খুন করা হয়েছিল, এই খুনগুলোর বিচার কবে হবে? কোন একটা দেশের সরকার হচ্ছে সেই দেশের জনগণের পিতা। তাঁর দায়িত্ব তার সন্তানদের রক্ষা করা। জেলখানায়, সরকারের কাস্টডিতে যখন ফট করে গুলি করে কাউকে মেরে ফলা হয় তখন কেবল কয়টা প্রাণ গেল সেটা জরুরি না, এই প্রাণগুলো কার ছিল সেটাও এখানে আলোচ্য বিষয় না। স্রেফ একটা সভ্যতার মৃত্যু হয়। মানুষ হিসাবে বর্বর লেন্দু জাতি এবং আমাদের মধ্যে খুব একটা ফারাক থাকে না! 
এখন এই খুনের বিচার হলেও খুব কি একটা লাভ হবে? মোশতাক সাহেব তো সমস্ত শাস্তির বাইরে। কিসের জাস্টিস, কোথায় জাস্টিস! 

এমন কতশত খুনের বিচার হয়নি। তবুও আমি চাইব বিচারগুলো হোক, রক্তের দাগ মুছে যাক। নইলে রক্তের দাগ থেকেই যায় [৮]। সময়টা ৪০ বছর, না ৪০০ বছর, তাতে কী আসে যায়...।

সহায়ক লিংক: 
১. কর্নেল তাহের: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_8805.html 
২. মুক্তিযুদ্ধে একজন তাহের: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5428.html
৩. টাকাই সব: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_14.html
৪. কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_16.html
৫. রাহেলা, একটা চাবুকের নাম: http://www.ali-mahmed.com/2008/02/blog-post_27.html
৬. শিশুর ফাঁসি: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_16.html 
৭. চার নেতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_03.html 
৮. রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_18.html     

Sunday, July 18, 2010

ইশ্বরের বিশেষ সন্তানদের ইশকুল

রমজান মিয়া। 

কিছু ক্রাচ এবং ব্লাইন্ড স্টিক (এটার ভাল নাম আমি জানি না) আমাকে এনে দেয়া হয়েছে। ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান [১], যারা চোখে দেখতে পান না তাঁদেরকে দেয়ার জন্য।

অনেকেই আছেন জন্ম থেকেই দেখতে পান না। এমন একজন রমজান মিয়ার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কিন্তু মানুষটার হাতে ঘড়ি দেখে আমি থমকে যাই। মনে আমার একগাদা সন্দেহ- মানুষের প্রতি চট করে অবিশ্বাস করাটা আমাদের মজ্জাগত!। আমরা সন্দেহের বোঁচকাটা সঙ্গে নিয়েই ঘুরে বেড়াই, আমিও তো এদেরই একজন।

আমি অবিশ্বাসের বোঁচকাটা খুলতে খুলতে রমজান মিয়াকে বলি, আপনে ঘড়ি দিয়া কি করেন?
রমজান মিয়া খানিকটা বিরক্ত, ঘড়ি দিয়া মাইনষে কী করে! টেম দেখি।
না, মানে বলছিলাম কি, আপনি তো চোখে দেখতে পান না। সময় দেখেন কেমন করে?
রমজান মিয়া বলেন, দাঁড়ান, আপনেরে কই কয়টা বাজে।
তিনি ঘড়ির একটা বোতামে চাপ দিলে শব্দ বের হয়, এতোটা বেজে এতো মিনিট। আমি হাঁ। এই সম্ভাবনা আমার মাথাতেই আসেনি।

রমজান মিয়ার হাতে বাচ্চাদের একটা ছবিওয়ালা বই দেখে অবাক হয়ে জানতে চাই, এই বই দিয়া কি করবেন? আইজকা কিনলাম। এইটা আমার বাচ্চা পড়ব।
আপনার বাচ্চা কোথায় পড়ে?
একজন মাস্টার কইছে টেকা দিলে সপ্তাহে একদিন পড়াইব।
আমি চকচকে চোখে বলি, আমাদের একটা স্কুল আছে, আপনার বাচ্চাকে ওখানে দিলে পড়তে পারবে, টাকা-পয়সা লাগবে না।
মানুষটা রাজি। আনন্দিত গলায় বলেন, যদিও ম্যালা দূর, কষ্ট হইব। তারপরও আমি বাচ্চাটারে নিয়া আমু, আবার নিয়া যামু।

আমি অনেক ভেবে দেখলাম, স্কুলটা যে জায়গায় ওখান থেকে রমজান মিয়া যেখানে থাকেন ৮/১০ কিলোমিটারের কম হবে না। রমজান মিয়া করেন ভিক্ষা। এই বাচ্চাটা পড়ার পর তার বাবার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে ঘুরবে। এবং এ দেখবে, শিখবে, হাত বাড়ালেই অনায়াসে পয়সা পাওয়া যায়। যে একবার হাত বাড়িয়ে টাকা আয় করার কৌশলটা শিখে যায় সে আর এই চক্র থেকে বেরুতে পারে না।
আমাদের দেশে ভিক্ষুকদের টাকা-আধুলি দিয়ে দানবীর সাজার আগ্রহটা আমাদের মধ্যে আবার প্রবল। তাছাড়া হরিজন পল্লীর বাচ্চাদের সঙ্গে অন্য বাচ্চাদের মেশালে কিছু অহেতুক ঝামেলার সৃষ্টি হবে। যেটা আপাতত আমি চাচ্ছি না।

যেমন হরিজন পল্লীর ইশকুলে [২] গিয়ে আমি একদিন বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, বাচ্চারা আমাকে আসসালামুয়ালাইকুম বলছে। মাস্টার মশাইকে আমি নিষেধ করলাম। বললাম, এরা আদাব-নমস্কার যা বলে তাই শেখান। কারণটাও আমি ব্যাখ্যা করলাম। এদের বাবা-মার মনে যেন অহেতুক এই আতংকটা কাজ না করে যে, আমরা ইশকুলের নামে এদের বাচ্চাদেরকে অন্য ধর্মে শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করছি।

রমজান মিয়ার কাছেই পাই চমৎকরণ তথ্য। তিনি যেখানে থাকেন সেখানে ১৫টা পরিবার থাকে। বয়স্করা সবাই অন্ধ। প্রত্যেক পরিবারের ১জন সন্তান ধরলেও ১৫ জন হয়। আমি রমজান মিয়াকে বলি, আচ্ছা, ওখানে একটা স্কুল খুললে কেমন হয়?
রমজান মিয়ার বিশ্বাস হয় না। কেন হয় না কে জানে! যখন খানিকটা বিশ্বাস হয় তখন তাঁর মুখভর্তি হাসি!

আমি আবারও বলি, একজন মাস্টার রেখে দিলে আপনারা কি আমাকে ১ ঘন্টার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? যেখানে আপনাদের বাচ্চারা পড়বে।
মানুষটা সব শর্তেই রাজি। কী তীব্র প্রকাশ তাঁর বাচ্চা পড়বে এই আনন্দে।

আমি বেদনার শ্বাস ফেলি, ঈশ্বরের এই সব বিশেষ সন্তানদের যাদের অধিকার [২] আমাদের চেয়েও বেশি থাকা প্রয়োজন ছিল তাঁরা কেন এই নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলবেন? আকিতার মার [৩] মতো এরাও কেন বলতে পারেন না,
"পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা চুরি করে, অনেকে আবার নিজের অপকর্ম বা পাপের কথা স্বীকার করে না। মা বলতেন, তুমি তো একটা ঘটনার স্বীকার মাত্র। প্রকৃতি তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তাই তুমি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছ, যাতে তোমার কোন হাত নাই! ...যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, বিন্দুমাত্র বিব্রতবোধ করবে না!"


আফসোস, এঁদের তো চোখে চোখ রাখার সেই ক্ষমতাটুকুও নাই! 
এঁদের এখানে সহসাই যাওয়ার ইচ্ছা আমার। একটা স্কুল চালাবার মত বাচ্চা থাকলে একটা স্কুল খোলা হবে।

তোতা যেমন বলে, ছোলা দে। তেমনি আমিও বলি, টাকা দে। ছোলা কোত্থেকে আসবে এটা যেমন তোতার জানার প্রয়োজন নাই তেমনি টাকা কোত্থেকে আসবে এটাও আমার জানার প্রয়োজন নাই।
এটা 'পড়শী ফাউন্ডেশন'-এর সমস্যা, আমার না।

সহায়ক লিংক:
১. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_03.html 
২. ইশকুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_9016.html 
৩. আকিতার মা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post.html

ন্যানো ক্রেডিট: ৪

জোহরা বেগম। বয়স জানেন না। আমি অনুমান করছি ষাটের কাছাকাছি হবে। ২ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মার খানিকটা খেয়াল রাখে কিন্তু তিনি নিজের ব্যবসা নিজেই করেন। আনাজ-তরকারি বিক্রি করেন। 
১ হাজার টাকা এখন পেলে সুবিধে হয়। মাসে ২০০ টাকা করে দিতে তাঁর কোন সমস্যা হবে না। ৫ মাসে সম্পূর্ণ টাকাটা শোধ হয়ে যাবে।

আপাতত এই মাসের কোটা শেষ। টাকার সীমাবদ্ধতা এবং আরও কারণে ঠিক করা হয়েছে, ১ মাসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ন্যানো ক্রেডিটের নামে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া মাত্র শুরু করা হলো এর ফলটা কি দাঁড়ায় এটাও দেখার বিষয়। অন্যরা দেখাদেখি করুক কিন্তু আমি বড়ো আশাবাদী।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ৩: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_3561.html

Saturday, July 17, 2010

এই সব পতাকার গতি কী!

গতকাল সাদিকসহ অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি ইশকুলেও [১] যাওয়া হয়েছিল। সাদিকের এই আইডিয়াটা আমার পছন্দ হয়েছে। চিপস কিনেছে কিন্তু দুজন বাচ্চার জন্য এক প্যাকেট করে। আমি বললাম, আরে, মারামারি করবে তো।
সাদিকের বক্তব্য এরা ভাগাভাগি করে খাওয়া শিখুক। গুড, আইডিয়াটা আমার পছন্দ হয়েছে।

ইশকুল ড্রেস দেয়াটা একটা কাজের কাজ হয়েছে। একেকজনকে দেখি দাঁত আর কোনটাই দেখাতে বাকী রাখে না। 
একজনকে আবার দেখলাম অতি উৎসাহে ড্রেসের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে ইশকুল ব্যাগও নিয়ে এসেছে। এটা কিনে দিতে  বায়নার জন্য হয়তো বাবা-মার হাতে দু-চারটা চড়-থাপড়ও খেয়েছে। 
এটা নিয়ে এখনই কিছু বললাম না কিন্তু এটা একটা খারাপ উদাহরণ। ইশকুলটা এদের বাড়ির ভেতরেই বলে ব্যাগটা বাহুল্য। তাছাড়া অন্য বাচ্চাদের জন্য অহেতুক প্রতিযোগিতার চাপ সৃষ্টি করবে।

আমি মাস্টার মশাইয়ের উপর খানিকটা বিরক্ত। কিছু বাচ্চা এসেছে ইশকুল ড্রেস ছাড়া! কিন্তু কারণটা জানার পর বিরক্তি উবে যায়। ময়লা হওয়ায় ড্রেস ধুয়ে দেয়া হয়েছে, শুকায়নি। এর উপর তো আর কথা চলে না। তাই তো কিন্তু এখনই সবার জন্য আরেক প্রস্থ ইশকুল ড্রেস বানিয়ে দেয়াটা তো সম্ভব না।

সাদিকের মাথায় নানা ভাবনা খেলা করে। ভাবনাগুলোর মূল বিষয় হলো, কেমন করে সাশ্রয় করা যায়। আমার হলো উল্টোটো, কেমন করে খরচ করা যায়।

খেলা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমাদের উম্মাদনা [২] এখনও শেষ হয়নি! এখনো অন্য দেশের পতাকা উড়ছে পতপত করে। যথারীতি নির্বোধদের নির্বুদ্ধিতার নমুনায় আমাদের পতাকাসহ!
সাদিককে আমি কি এক প্রসঙ্গে বলেছিলাম, আচ্ছা, বিশ্বকাপের কারণে যে লাখ-লাখ গজ কাপড়ের অন্য দেশের পতাকা বানানো হয়েছে এগুলোর এখন গতি কী!  কি করা হবে এইগুলো দিয়ে?

সাদিক বলছিল, ভাল কথা, এইগুলো কালেক্ট করে ইশকুল ড্রেস বানালে কেমন হয়?
আমি মুখ শুকিয়ে বলি, হুম। তা এগুলো দিবে কে!
চেয়ে দেখতে দোষ কি।
আমি জানি ফলটা কি হবে তবুও কয়েকজনকে বলেছিলাম, ফল যা হওয়ার তাই হলো। কোন সাড়া পাওয়া গেল না। একেকজন একেক চালবাজির কথা বলেন। কেউ স্মারকচিহ্ন হিসাবে রেখে দিতে চান, তো কেউ এটা দিয়ে ডাইনিং টেবিল, টিভি টেবিলের আচ্ছাদন বানাবেন। 
একজনের কথা শুনে খুই চমৎকৃত হলাম, তিনি বললেন, আগামি বছর আবারও খেলা হলে এটা কাজে লাগবে। বলিহারি! ফিফা ব্যাটাদের বলতে হবে এরা যেন ফি বছর বিশ্বকাপের আয়োজন করে!

আরে, আমি কেবল পতাকার কাপড় নিয়ে বলছি কেন? পাশাপাশি বাঁশগুলোর কি গতি হবে এটাও নিয়েও তো ভাবা প্রয়োজন। আমি বলি কি, বাঁশও রাখুন। বাঁশগুলো কোথায় রাখবেন এটা নিজেরাই ঠিক করুন।

সহায়ক লিংক:
১. ইশকুল এবং বিবিধ: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_9016.html
২. উম্মাদনা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_5250.html  

ট্যাংক-মানব, আমরা আপনার অপেক্ষায়...

ট্যাংক-মানব [১] অসুস্থ। পায়ের গুরুতর সমস্যা। থেরাপি দিতে হবে লম্বা সময়। ঢাকা গেছেন চিকিৎসার জন্য। মানুষটা ফোনে বলছিলেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি মনে মনে বলি, দোয়া-টোয়া জানি না, আপনাদের মত লোক এই দেশে দ্রুত কমে যাচ্ছে। আপনাদের মত লোকদের যে আমাদের বড়ো প্রয়োজন।

এই মানুষটার সঙ্গে আমার আবারও বসার কথা ছিল। শেষ যেবার তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল তখন অনেক কথাই বিশদ জানা হয়ে উঠেনি। এরশাদ সাহেব [২] ব্যতীত এই দেশের বিখ্যাত কিছু দেশপ্রেমিকের (!) কীর্তি বিস্তারিত জানার ছিল। আমার জাগতিক সমস্যার কারণে এটা আর হয়ে উঠেনি।

এই মানুষগুলো যে কী অল্পতেই না খুশি হন! বাচ্চাদের আঁকাআঁকির একটা অনুষ্ঠানে [৩] ফজলুল হক ভূঁইয়াকে নিয়ে একটা আয়োজন করা হয়েছিল। অকস্মাৎ আমার মনে পড়ল, আরে, এই অনুষ্ঠানে তো এই মানুষটাকেও বড়ো প্রয়োজন। বাচ্চা, শিক্ষক, গার্জেন, আমরা এই মানুষটার মুখ থেকেও যুদ্ধের সময়ের কিছু অভিজ্ঞতা জানি না কেন? অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন সমাপ্ত এমন সময়ে একজন মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো বেয়াদবির সামিল। কিন্তু মানুষটাকে যে বড়ো প্রয়োজন।

আমি দ্বিধায় পড়ে যাই। মানুষটাকে এই মুহূর্তে বলব কেমন করে, তিনি এটা কেমন ভাবে নেবেন? আমি ভয়ে ভয়ে সকালে ফোন করি, খানিকটা অসুস্থ জানার পরও আমি নির্দয়ের মত বলি, আপনি কি দয়া করে আজ একটু আসতে পারবেন?
মানুষটা জানতে চান আসার কারণ। আমি যখন বলি, বাচ্চারা আপনার মুখ থেকে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা শুনবে তখন তিনি আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করেননি। কেবল বলেন, আসছি।

আমি অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে থাকি। অনেকটা পথ তার উপর আকাশের অবস্থা ভাল না। যে কোন মুহূর্তে মেঘ তার সমস্ত ঝাপি খুলে দেবে। কিন্তু মানুষটা আমাকে অবাক করে দিয়ে একগাদা টাকা খরচ করে একটা স্কুটার নিয়ে চলে এসেছিলেন। তাঁর এই মহানুভবতার কথা আমি ভুলব না।

অ, ট্যাংক-মানব, আমি অতশত বুঝি না, আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। আপনাকে যে আমাদের বড়ো প্রয়োজন...।

সহায়ক লিংক:
১. ট্যাংক-মানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html
২. এরশাদ সাহেব: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
৩. আঁকাআঁকির অনুষ্ঠান: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_4596.html

Thursday, July 15, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৩

রুবিনা আক্তার। বয়স আনুমানিক ৪৫। স্বামীর তাঁর খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, ঘরে তার অন্য স্ত্রী। ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে। ১ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

১ ছেলের বিয়েও দিয়েছিলেন। ওই ছেলেটা একটা চার দোকান চালাত। সুদের টাকার কারণে তার উপর প্রচন্ড চাপ ছিল। একদিন সে আত্মহত্যা করে।

রুবিনা আক্তারের এখন ২ ছেলে, ২ মেয়ে। ছোট-ছোট। এক রেল গেইটে বসে কলা, পেয়ারা বিক্রি করেন। যে আড়ত থেকে কলা আনেন তারা বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দাম ধরে, কিছুই বলার নেই; কারণ বাকীতে দিচ্ছে।

এই ভদ্রমহিলাকে দেয়া হয়েছে ১৫০০ টাকা। মাসে মাসে ২০০ টাকা দেয়া তাঁর জন্য সমস্যা হবে না বলেই জানালেন।
একজন আমাকে এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলছিল, 'আরে, হেরা টেকা লইয়া ভাইগা যাইব'। 
এটা এডিবির টাকা না যে সময় ফুরিয়ে আসছে, তড়িঘড়ি করে দিয়ে শেষ করতে হবে- লোক ধরে ধরে এনে দেয়া হচ্ছে! বুঝেশুনেই টাকা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া যারা বছরের পর বছর ধরে এখানে আছেন এরা সব ছেড়েছুঁড়ে দেশান্তরী হবেন, আজব! তর্কের খাতিরে ধরলাম, ভেগেই যাবে। তো? কোন হাতি-ঘোড়া নিয়ে ভাগবে? কেএফসির ১০ পিসের ভাজা মুরগী কিনতেই তো হাজার টাকা লাগে।
শালার পাবলিক!

আরেকটা বিষয় আমি লক্ষ করেছি, এদেরকে বলা হয়েছিল আরও বাড়িয়ে টাকা নিতে চায় কিনা কিন্তু কেউ সম্মত হননি।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ২http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html 

ন্যানো ক্রেডিট: ২

মানুষটার নাম মন মিয়া। বয়স আনুমানিক ৬৫। স্ত্রী তাঁকে ফেলে চলে গেছেন কারণটা এখানে বলাটা সমীচীন মনে করছি না। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। এখন এখানে থাকেন, একা।

সাহা পাড়ার কাছে, এই মেডিকেলটার সামনে, রাস্তায় বসে কলা বিক্রি করেন। লাভ খুব একটা মন্দ না কিন্তু তিনি যার কাছ থেকে ১০০০ টাকা নিয়েছিলেন তাকে প্রতিদিন দেন ২০ টাকা।
মন মিয়া ভাই, তিনি সম্ভবত এভাবে হিসাবটা করেননি যে মাসে তাঁকে দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা!

হা ঈশ্বর, ১০০০ টাকার জন্য ৬০০ টাকা! বিশ্বাস হয় না কিন্তু তিনি আমাকে যে লিখিত কাগজটা দিয়েছেন ওই কাগজটা নিজ চোখে না দেখলে আমি বিশ্বাসই করতাম না।

হচ্ছেটা কী এই দেশে? মানুষ কী একেকজন চলমান দানব হয়ে যাচ্ছে? প্রার্থনাস্থলে উপচে পড়ছে ধার্মিক মানুষে। একজন আমাকে অন্য রকম একটা কথা বলেছিলেন, প্রতিদিন যে ভুলচুক করি তা তিনি উপরওয়ালার কছে মাফ চেয়ে নেন। প্রতিদিন কাটাকাটি হয়ে যায়। কী অদ্ভুত ভাবনা! 

আমার ধারণা, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এই ভাবনাটা লালন করেন বলেই দানব হতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না। আমি মনোবিদ নই, চৌকশ মনোবিদ ভাল বলতে পারবেন, আমাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দানব মানবের মধ্যে লড়াইয়ে দানবটা কেন অনায়াসে জয়ী হচ্ছে। ফাঁকটা কোথায়? কোন ফাঁক দিয়ে দানবটা তার মাথা বের করে দিচ্ছে! 
কেন আমরা হরদম হেরে যাচ্ছি? কেন? একটাই মাত্র জীবন আমাদের, কী স্বল্প আমাদের জীবন! তারপরও কেন-কেন?

এই মানুষটাকে আজ ১০০০ টাকা দেয়া হয়েছে। যার কাছ থেকে অকল্পনীয় সুদে টাকাটা নিয়েছেন তাকে ফেরত দেবেন। এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হয়েছে প্রতিদিন তিনি ২০ টাকা করে 'নিসার ভাই' নামের একজনের কাছে জমা রাখবেন। এতে করে ২ মাসের পুর্বেই তাঁর টাকাটা শোধ হয়ে যাবে। এবং তাঁর সংগে হিসাব শেষ...। 

এই 'ন্যানো ক্রেডিট' প্রজেক্টটা নিয়ে আমি বড়ো আশাবাদী। আমার ধারণা, এটা কালে-কালে মহীরুহ হয়ে উঠবে।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ১: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_14.html 

কুত্তা জহির

জহিরের জন্মের ইতিহাস, ধর্মীয় আচার পালন, দলীয় পরিচিতি, এলাকার পরিচিতি ছাপিয়ে চাউর হয়ে গেল অন্য একটা নাম, কুত্তা জহির! জহির কি গালকাটা রমজান, বাইট্টা মনির বা মুরগি মিলনের মত দুর্ধর্ষ?
দুর্ধর্ষ না ছাই, জহির নিতান্ত ছাপোষা মানুষ। তার নামের পূর্বে এই উপাধি কিভাবে যোগ হলো এই ইতিহাস খানিকটা বিচিত্র।

জহিরের অফিস আড্ডা দেওয়ার জায়গাটা দোতলায়। সেদিন নিচে নেমে জহির মুখ ফেরাতেই জমে গেল। ইয়া তাগড়া পালোয়ান টাইপের একটা কুত্তা! ঠিক তার পায়ের কাছে। আরেকটু হলেই চাপা দিয়েছিল আর কী! হুশ বলতে গিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। কুকুরটার ঘাড়ে কে যেন কোপ দিয়েছে। শরীরে ছোপ ছোপ রক্ত। এখনও রক্ত ঝরছে। ইস-স কী বীভৎস! গা কেমন গুলিয়ে উঠছে।
কুকুরটা সেই যে বসেছে উঠার আর নাম নেই। উঠে কোথাও হারিয়ে গেলে চলে গেলেই তো হয়।

জহির পাশের দোকানের হাফেজ সাহেবকে পাকড়াও করল। দুখি মুখ করে বলল, 'হাফেজ সাব ঘটনাডা দেখছেন'?
হাফেজ সাহেব বিরক্ত হলেন, 'খেদান-খেদান এইডারে, বড়ই নাপাক জিনিষ'।
জহির নাছোড়বান্দা, 'হাফেজ সাব, ভাইরে কুত্তাডারে একটু দেহেন না, আহ দেখেনই না, কোপ দিয়ে ঘাড়টা প্রায় আলাদা করে ফেলছে'।
হাফেজ সাহেব এবার বিরক্তি গোপন না করেই বললেন, দুরো মিয়া, বেশি যন্ত্রণা করেন, এইডার একটু ধুলা আমার গায়ে পড়লে এই অবেলায় গোসল করতে হইব। হুশ-হুশ, থুবা আসতাগফিরুল্লা। এইডারে পশু হাসপাতালে দিয়া আসেন'।
জহির এবার রাগী গলায় বলল, 'আপনে নিয়া যান না, টাকা যা লাগে আমি দিমু'।
হাফেজ বিড়বিড় করেন, 'কী বেদাত কথাবার্তা আসতাগফিরুল্লাহ-আসতাগফিরুল্লাহ। নাফরমান বান্দা'।

পাশেই একজন মনোযোগ সহকারে কথাবার্তা শুনছিলেন, তিনি বললেন, এইডারে পশু হাসপাতালে নিলে চিকিৎসা হইত'।
জহির আগ্রহী হলো, 'আপনি নিয়া যাইতে পারেন ভাই, যা খরচ লাগে আমি দিমু নে'। লোকটা অন্য দিকে তাকিয়ে দাঁত খোঁচাতে লাগল।

জহিরের বড় অস্থির লাগছে। আল্লাহর একি অবিচার, দেড় লক্ষ লোকের বাস এখানে। কুকুরটা তার ঘাড়েই কেন পরবে! হোয়াই আল্লা, হোয়াই?
জহির বিমর্ষমুখে দাঁড়িয়ে ছিল। ভাগ্যক্রমে একজন মানুষের ডাক্তারকে পেয়ে গেল। মুখ শুকিয়ে কুকুরটাকে দেখাল। মানুষের ডাক্তারের সঙ্গে জহিরের খানিকটা রসিকতার সম্পর্ক আছে।
তিনি হা হা করে হেসে বললেন, 'ভাইরে, আপনি তো বেশ লোক। যা হোক, শেষ পর্যন্ত আমাকে কি কুত্তার ডাক্তার হতে বলছেন! হা হা হা। সমস্যাটা কি জানেন, কুকুরটা তো আর আপনার পোষা না, জোর করে তো পশু হাসপাতালে নিতে পারবেন না। শেষে র‍্যাবিস-ট্যাবিস বাধিয়ে বসবেন। আচ্ছা এক কাজ করেন, সিরিঞ্জে করে ভায়োডিন দূর থেকে কুকুরটার আহত স্থানে ছিটিয়ে দেন আর একটা ক্যাপসূল লিখে দিচ্ছি চার-পাঁচটা খুলে পাউরুটির ভেতরে করে খাওয়াতে পারেন কিনা দেখুন'।

এই চিকিৎসা পদ্ধতিটা জহিরের বেশ মনে ধরল। সম্ভব, এটা ওর পক্ষে সম্ভব। সিরিঞ্জে ভায়োডিন ভরে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিল ছিটাবার জন্য। নিজে থাকল ক্যাপসূলে পাউডার ভরা পাউরুটির দায়িত্বে। মানুষের হিংস্রতা নিয়ে কুকুরটার স্মৃতি ভারাক্রান্ত। প্রচুর কাঠখড় পোহাতে হলো পাউরুটি খাওয়াতে। ক-দিন এই চিকিৎসা চলল। পরে জহির ভুলেই গিয়েছিল কুকুরটির কথা।

বেশ কিছুদিন পরের কথা। যথারীতি তুমুল আড্ডা হচ্ছে। জহিরের এক বন্ধু এসে বলল, 'জহির রে, দুমরি যা-দুমরি যা তোর গেষ্ট আসছে কয়েকজন বান্ধবী নিয়া'।
জহির দুদ্দাড় করে  নিচে নামতে-নামতে ভাবল, বহুজাতিক কোম্পানির কোনও কর্মকর্তা-টর্তা আবার চলে এলে নাকি! নেমে দেখল সেই পালোয়ান টাইপের কুকুরটা সঙ্গে বেশ কটা মহিলা কুকুর। আনন্দে জহিরের চোখে পানি চলে এল। কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। চশমার কাঁচ যে ঝাপসা!

কুকুরটা ঘুরেফিরে জহিরের কাছে আসে। বন্ধুরা আড়ালে তাকে 'কুত্তা জহির' ডাকা শুরু করল।

Wednesday, July 14, 2010

ন্যানো ক্রেডিট

পূর্বের পোস্টে [১] লিখেছিলাম, 'স্মল ক্রেডিট' নিয়ে। অতি ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের (বিশেষ করে নারীদের) বিনা সুদে অতি ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার প্রসঙ্গে।
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, নামটা দেব  'স্মল ক্রেডিট'। পরে ভেবে দেখলাম, ইউনূস সাহেব [২] ক্ষেপে যেতে পারেন। রাগে চিড়বিড় করে বলে বসতে পারেন:
কী-ই-ই, আমি চালাই মাইক্রো ক্রেডিট আর তুই..., খামোশ! মামলা ঠুকে দিলে আটকাচ্ছে কে- রে হার্মাদ, বুরবাক, 'মাইক্রো বড়ো না 'স্মল' বড়ো, রে?
থাক বাবা, হুজ্জতে গিয়ে লাভ নাই। ইউনূস স্যার, আবেদ স্যার, এরা থাকুন ওনাদের চড়া সুদের মহৎ কারবার নিয়ে। এঁদের কেউ ঘাঁটাতে সাহস পায় না, আমি কোন ছার- ৩ টাকা দামের কলমবাজ! তাছাড়া ইয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা মোটেও ভাল কাজ না।

তাই নামটা এখন বদলে রাখলাম, 'ন্যানো ক্রেডিট'। আমি সামান্য মানুষ, কাজগুলোও অতি সাধারণ! ঋণটাও তথৈবচ- মাত্র ১০০০ টাকা! অতএব "ন্যানো"...।

Tuesday, July 13, 2010

কুইজ প্রতিযোগিতা

পত্রিকাওয়ালা বিভিন্ন কুইজের আয়োজন করে থাকে। আমাদের যেহেতু ছাপার অক্ষরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাই তারা যা বলেন আমরা চোখ বুজে বিশ্বাস করি, অনুকরণ করি। পত্রিকার দেখাদেখি একটা কুইজের আয়োজন করলে খুব একটা দোষের হবে বলে মনে হয় না।
একটা পত্রিকার থাকে বেসুমার টাকা। তারপরও এরা কোন কুইজ প্রতিযোগিতায় ১০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে। মন ভালো থাকলে ২০০ টাকা।

এঁদের তুলনায় আমি কিছুই না। আমি খুশি হতাম কুইজের পুরস্কার হিসাবে দুইটা বাদাম দিতে পারলে। কিন্তু ওপথ মাড়াচ্ছি না। কারণ এমনিতেই আমার দুর্নামের শেষ নাই বিধায় নতুন করে দুর্নাম কামাতে চাই না বলে! 
সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে যিনি জিতবেন তিনি পাবেন নগদ ২০০ টাকা। যাদের নগদ টাকার প্রতি মোহ নাই তাঁদের জন্য অন্য অপশন আছে। আস্ত মুরগীর রোস্ট, কয়লার আঁচে ঝলসানো (এটার সমস্যা হচ্ছে, কষ্ট করে এসে খেয়ে যেতে হবে এবং এটাও কথা দিচ্ছি ওই আস্ত রোস্টে আমি ভাগ বসাব না। কেবল তাকিয়ে থাকব।)।
তো, হয়ে যাক একটা কুইজ প্রতিযোগিতা। কইনছেন দেহি...

এই ছবিতে তিন বালিকা এক পাশে, অন্য বালিকা অন্য পাশে। আলাদা। কেন? 
এখানে অনেকগুলো সূত্র দেয়া হয়েছে। এখান থেকেই বেছে নেয়া যাবে সঠিক উত্তরটা। কেউ যদি মনে করেন সঠিক উত্তরটা এখানে নাই তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর সঠিক উত্তরটা এখানে যোগ করতে পারবেন।

ক. তিন বালিকারই কি হাতের ল্যাপটপটা বেশি দামি, একাকী বালিকাটার কম দামি?
খ. তিন বালিকারই হাতের ল্যাপটপ কি কম দামি, একাকী বালিকাটির বেশি দামি?
গ. ল্যাপটপ কেবল মেয়েরাই ব্যবহার করে। ভয়ে ভয়ে আছি, কোন দিন না দেখি মেয়েরা...ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। ল্যাপটপ কেবল মেয়েরাই ব্যবহার করে এটা বিস্মিত হওয়া কোন এক বালক ভুলে ফাঁকা জায়গায় চলে এসেছিল। তাকে কি ফটো-ব্লাস্টার দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে?
ঘ. তিন বালিকার নামের আদ্য-প্রথম অক্ষর কি একই?
ঙ. তিন বালিকার হাইহিল জুতার উচ্চতা কি একই?
চ. তিন বালিকা কি ভাল রকম বাঁকা হতে পেরেছে?
ছ. তিন বালিকার ফ্যাশন ডিজাইনার কি একজনই?
জ. নাকি ছবিতে বিশেষ কোন লোগো দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন?

*ছবি ঋণ: প্রথম আলো 

Monday, July 12, 2010

ইশকুল এবং বিবিধ...

পূর্বের পোস্টে [১] আমি লিখেছিলাম, ইশকুলটার বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।  একটা ইশকুল ঘরের প্রয়োজন ছিল কারণ বৃষ্টি এলেই পড়া পন্ড হত। বাচ্চাদের পোশাকের সমস্যাও ছিল। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে। ইশকুলের জন্য একটা ঘর পাওয়া গেছে। যদিও এই ঘরটায় আলো-বাতাসের সমস্যা আছে, তবুও ইশকুলের জন্য একটা নির্ধারিত ঘর তো হলো। আশা করছি, কালকের মধ্যে আলো-বাতাসের সমস্যার সমাধান হবে।

বাচ্চাদের পোশাকের সমস্যারও সমাধান হয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, আলাদা কাপড়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু পরে এটা বাদ দেয়া হয়েছে। এরচেয়ে অনেক ভালো হয় এদের ইশকুল ড্রেস হলে। তাই করা হয়েছে।
ইশকুলের ড্রেস পরে সারি বেঁধে বাচ্চারা ইশকুলে যাচ্ছে এ দৃশ্যটা একবার আমার মাথায় এমন আটকে গিয়েছিল যে তখন মনে হচ্ছিল, এই গ্রহে এরচেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর নাই! 
আর এখন এই বাচ্চাদের তো কথাই নেই। অবশ্য বাচ্চাদের চেয়ে এদের মাদের আনন্দ কম এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি না।

আলী মাহমেদ নামটা নিয়ে অনেকে খুব সমস্যা বোধ করেন। সাধারণ মানুষ কোন ছার, জ্ঞানী মিডিয়ারও কেউ কেউ এটাকে আলীম আহমেদ বানিয়ে দেন, তো কেউ আলী আহমেদ, কেউ-বা আলী মাহমুদ। 
কেউ কেউ আবার ভুরু জোড়া দিয়ে বলেন, এইটা আবার একটা নাম হইল! তাঁদের সদয় অবগতির জন্য বলি, দয়া করে ইংরাজিতে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখবেন বিভিন্ন দেশে কত আলী মাহমেদ আছে।
প্রসঙ্গটা এই কারণে বললাম, এই হরিজন পল্লীতে সবচেয়ে শিক্ষিত ছেলেটার নাম হচ্ছে, আকাশ বাসপোর। বাসপোর? বাসপোর কি নাম, বাওয়া? নামটাকে নিয়ে মিডিয়া যে কী খেলা খেলত এই নিয়ে বড়ো চিন্তায় আছি।

যাগ গে, এই আকাশ বাসপোর, পিতা প্রদীপ বাসপোর। এ প্রথম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছিল। বৃত্তি পেয়েছিল ক্লাশ ফাইভে। আমার খানিকটা অবিশ্বাস ছিল কিন্তু আজই তার সনদগুলো হাতে পেলাম।

এখন এ পড়ছে ক্লাশ এইটে, তার বোন ক্লাশ ফাইভে। তার প্রবল আশা, ক্লাশ এইটেও সে বৃত্তি পাবে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ওর বাবা নাই। আর্থিক সমস্যার কারণে পড়া চালিয়ে যেতে তার সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যারও একটা সমাধান করা হয়েছে।

*এই সব সমস্যা নিয়ে আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পড়শী ফাউন্ডেশন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভদ্র মহিলা। তাঁদের প্রতি আমার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

**এখন আমার জন্য সবচেয়ে বড়ো যে সমস্যা সেটা হচ্ছে, আজও লক্ষ করলাম, বেশ কটা বাচ্চার শরীর খারাপ থাকায় এরা অনুপস্থিত। ডাক্তার পাচ্ছি না। অনীক নামের একটা বাচ্চার চোখ দেখলাম হলুদ। এটাকে ধরে নিয়ে টেস্ট করে অবশ্য গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি। বিলরুবিন ২.৭। এইচবিএস নেগেটিভ। আপাতত এর বিশ্রাম।
এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এমন একজন জুনিয়র বন্ধুকে গতকাল ডাক্তারের সমস্যার কথা বলায় সে বলছিল, দেখি, ডাক্তার একটা মেয়ে খুঁজছি বিয়ে করার জন্য। বুদ্ধিটা মন্দ না। :)

***আরেকটা কাজ অচিরেই শুরু করব। 'স্মল ক্রেডিট'। 'মাইক্রো ক্রেডিট' এটা বললে আমাদের ইউনূস সাহেব [২] আবার আপত্তি জানাতে পারেন তাঁর বিরাট আবিষ্কার ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে বলে। 
'স্মল ক্রেডিট' হচ্ছে খুব সাধারণ একটা ভাবনা। ছোট্ট একটা কাজ। অনেক মহিলা আছেন যাদের খুব স্বল্প পুঁজি হলে গোটা পরিবারটা দাঁড়িয়ে যায়। এঁরা অনেকে মোয়া বানান, ঠোঙ্গা বানান, সমুসা বানান (এটা এখন গাড়িতে হরদম বিক্রি হয়)। 
এঁদেরকে যে স্বল্প পুজিটা দেয়া হবে সেটা (এঁদের সঙ্গে আলোচনা করে) প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকাটা এঁরা পরিশোধ করবেন। এবং অবশ্যই আমাদের মহান ইউনূস সাহেব, স্যার ফজলে আবেদের [৩] মতো চড়া সুদে না। 
বিনা সুদে।

সহায়ক লিংক:
১. ইশকুল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_1768.html   
২. লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
৩. লাশ-পদক-বানিজ্য: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html

মাননীয় হাইকোর্ট, মুদ্রার অন্য পিঠও দেখুন, প্লিজ

হাইকের্টের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির সঙ্গে পুলিশের আচরণ বিষয়ে ১২ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অসাধারণ একটা কাজ হয়েছে। আমি পূর্বেও লিখেছিলাম, এই দেশের সব কিছু যখন নষ্টদের দখলে চলে যায় তখন আমাদের আর দাঁড়াবার কোন জায়গা থাকে না। তখন হাইকোর্টই আমাদের শেষ ভরসাস্থল।

এই দেশে ক্ষমতায় যে যখন আসেন পুলিশকে তাদের নিজস্ব লোক হিসাবেই ব্যবহার করে থাকেন। ফল যা হওয়ার তাই হয়! যথারীতি পুলিশ সময়মতো পৌঁছতে পারে না- [১] অপরাধি চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও তাকে দেখতে পায় না [২]! উপরওয়ালার নির্দেশ ব্যতীত এরা কিছু্ই করতে পারেন না [৩] [৪] [৫], এই খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে কেউ তো আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি [৫]। কী হাস্যকর!

তখন গায়ে সরকারি পোশাকে এই সব মানুষগুলো কতটা হিংস্র হয়ে উঠে এর উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। এরা তখন কাউকে তোয়াক্কা করেন না। খানিকটা আঁচ করা যাবে এই লেখায় [৬]

এমনিতেও বেঙ্গল ওরফে পুলিশের বিপুল ক্ষমতা। আর্মি, বিডিআর, র‌্যাব যে কেউই কোন আসামি পাকড়াও করুক না কেন সোপর্দ করতে হবে পুলিশের কাছে। অন্য সংস্থার কেউ একজন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে একজন অপরাধিকে পাকড়াও করলেও, পুলিশ লেনদেনের বিনিময়ে সেই আসামিকে ছেড়ে দিলে বা মামলা দুর্বল করে দিলে কারও কিচ্ছু বলার নেই! পুলিশ কারও কাছ থেকে টাকা না পেয়ে বা ফাঁসাতে না পেরে গুলি করে মেরে ফেললে কিচ্ছু হবে না। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলে হয়তোবা পুলিশ লাইনে তাকে ক্লোজ করা হবে। কিছুটা সময় পার হলে তিনি আবারও টাকা-পয়সা লেনদেন করে নব-উদ্যোমে নতুন কোন একটা জায়গায় পোস্টিং নিয়ে নেবেন।

হাইকোর্ট এখন এদের থামাবার জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। কিন্তু মাননীয় হাইকোর্টের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। আমি জানি, আপনারা বলবেন, সব কিছু দেখার এখতিয়ার আমাদের নাই। তবুও আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলি:

এক: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি সদয় অবগত আছেন, নিম্ন-কোর্ট বিশেষ করে সিএমএম আদালতের সার্বিক অবস্থা কেমন?
কখনও ওখানে গেলে দেখবেন লোকে গিজগিজ করছে। কোর্ট-রুমে একটা সুই ফেলারও জায়গা নেই। যখন যার খুশি ঢুকছে, বেরুচ্ছে, পাশের বারান্দায় বাদামওয়ালা বাদাম বিক্রি করছে, চা-ওয়ালা হেঁকে যাচ্ছে। এমন হইচই বাজারের মত অবস্থায় ন্যায় বিচার করাটা কতটা দুরূহ তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাটা কঠিন। কোন আসামীর নাম ডাকা হলে সেই আসামি আদৌ সেই ব্যক্তিই কি না এটা জানার কোন উপায় থাকে না!

দুই: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি অবগত আছেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য একজন মানুষকে পদে পদে কত ধরনের অন্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়। মামলাসংক্রান্ত একটা নকল-অনুলিপি উঠাবার জন্য কত জায়গায় টাকার লেনদেন হয়? সরকারি ফি ১০০ হলে কেউ ১০০০ নীচে আনতে পারলে আমি লেখালেখি ছেড়ে দেব।

তিন: মাননীয় হাইকোর্ট, আপনারা কি অবগত আছেন, একটা সমন এক বছরেও জারী করা যায় না, তদ্বীরের অভাবে। তদ্বির আর কিছু না, সমন জারী করার জন্যে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আসা। একটা মামলা শেষ হতে যদি বছরের পর বছর লাগে সেই ন্যায়বিচার আর অবিচারের মধ্যে মোটা দাগের ফারাক কোথায়! কোথায় জাস্টিস [৭]?

পুলিশের প্রতি দিক-নির্দেশনা দেয়াটা অতি জরুরি ছিল কিন্তু মূল ধরে টান না দিলে বাস্তবায়িত হবে কেমন করে? মাননীয় হাইকোর্ট আপনারা কি জানেন, নির্বাচনের মত একটা অতি ঝুকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব থাকা এএসপি পদপর্যাদার একজন পুলিশ অফিসারের খাবারের খরচ দৈনিক ২৫ টাকা! কোন হোটেলে তিনবেলা ২৫ টাকায় খাওয়া যায় সেই হোটেলটার নাম আমরা জানতে চাই।
আপনারা কি অবগত আছেন, থানাহাজতে পুলিশের দায়িত্বে থাকা একজন হাজতির জন্য সরকার থেকে বরাদ্ধ দৈনিক ১০ টাকা! এই ১০ টাকা দিয়ে তো তিন বেলা বাদামও কিনে খাওয়া সম্ভব না।
পুলিশের কোন অর্জনকে কেন খাটো করা হয় [৮]- নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? আর এই দেশে সবাই দলবাজি করবে, পুলিশ করবে না কেন [৯]!

পুলিশের হাতে বিপুল ক্ষমতা, বেসুমার টাকার হাতছানি। এদের আর আট-দশটা পেশার সঙ্গে তুলনা করলে তো হবে না, বা অন্যদের সঙ্গে মিলিয়ে বেতন দিলে। আলাদা করে ভাবতে হবে। 
এবং পেটমোটা সব পুলিশ স্যারদের বিদায় করে চৌকশ ছেলেপুলে ভর্তি করতে হবে। এদের এই নিশ্চয়তাও দিতে হবে দায়িত্ব পালনকালে কোন পুলিশের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবে। পুলিশদের নজরদারি করার জন্য আলাদা একটা বিভাগ থাকবে। ওই বিভাগ কেমন করে কাজ করবে এটা আমার শিখিয়ে দেয়ার কিছু নেই। হতে  পারে মানুষটা একজন কনস্টেবল বা থানার সামনে বসে থাকা মুচি। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করতে হবে। প্রমাণিত হলে আমজনতার যে সাজা হয় এদেরও তাই হবে। যেটা অপরাধের উপর নির্ভর করবে, সেটা ১ মাসের জেল নাকি ফাঁসি সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় না।
পুলিশকে ঢেলে না সাজালে যতই নির্দেশনা দেয়া হোক আখেরে খুব একটা ভালো ফল দেবে বলে আমি মনে করি না।

সহায়ক লিংক: 
১. পুলিশ লিখবে কবিতা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_09.html
২. হরেক রকম জামা...: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html
৩. ফতোয়াবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_11.html 
৪. দোররা: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_24.html 
৫. একজন আমিনী: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_17.html
৬. পুলিশ জনগণের বন্ধু: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_08.html 
৭. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html  
৮. নায়ক: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_25.html 
৯. দলবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html

Sunday, July 11, 2010

ইশকুল: অগ্রগতি

ইশকুলটা [১] চালু করা হয়েছিল (১৩ জুন, ২০১০)। প্রায় এক মাস হতে চলল। দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে এবং আমার নিজস্ব কিছু জাগতিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছিলাম বলে ইশকুলে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হয়নি। 
কিছু কারণে আজ আমার মনটা ভারী বিষণ্ন। আমার মন খারাপ হলে হাঁটতে হাঁটতে ইশকুলে চলে যাই- বিচ্ছুদের যন্ত্রণায় কখন মনটা ভালো হয়ে যায় টেরটিও পাই না!

আজ এখানে আসার পর মাস্টার মশাই শশব্যস্ত হয়ে এদের পড়ার অগ্রগতি আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি আগের পোস্টেও [২] উল্লেখ করেছিলাম, মাস্টার মশাইকে আমি স্পষ্ট করে বলেছিলাম, আমার কাছে এদের পড়ার চেয়ে গুরুত্ব বেশি যেটা এদের সহবত, পরিছন্নতা...। কারণ এরা আপনার আমার সন্তান না, এরা হরিজনদের সন্তান- যাদের আমরা তাচ্ছিল্য করে বলি, মেথরদের সন্তান।

ভাল লাগে এটা দেখে, এদের নোখগুলো ছোট করে কাটা, দাঁত পরিষ্কার! খাওয়ার পূর্বে হাত ধোয়ার অভ্যাসটাও এরা রপ্ত করে ফেলেছে।
ধন্যবাদ, মাস্টার মশাই।
ডান পাশেরটাকে আমি বলি, ব্যাটা দাঁত দেখি। এ একটু বেশি দাঁত দেখাতে গিয়ে মুখের চকলেটটা পড়ে গিয়েছিল। এদের জন্য আবার চকলেট না নিয়ে গেলে বড়ো যন্ত্রণা করে।

ডান পাশের বাচ্চাটাকে তার মা নিয়ে যেতে চাচ্ছিল কারণ এর গায়ে জামা নাই। এই পরিবারটা এতই হতদরিদ্র, বাচ্চাটা ইশকুলে আসে জামা ছাড়া।

অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। এদের জামা-কাপড় প্রয়োজন, প্রয়োজন একটা ইশকুল ঘরের। এখন যে উঁচু চাতালটায় ক্লাশ করা হয় বৃষ্টি এসে সব পন্ড করে ফেলে। প্রয়োজন এদের প্রাথমিক চিকিৎসার। 
ডাক্তার সাহেবদের তৈলমর্দন করে করে আমার ঘটির তৈল ফুরিয়ে গেছে। এমন না যে এদের মাগনা দেখে দেবেন কিন্তু ওখানে যেতে এদের বড়ো সমস্য। একজন ডাক্তার সাহেব আবার অতি ধার্মিক টাইপের, ধর্মের গাট্টি নিয়ে দেখি প্রায়ই ছুটাছুটি করতে। তো, ওনার আবার সামনে যেন কি একটা পরীক্ষা, তিনি ৩০ মিনিট সময়ও বের করতে পারছেন না! তিনি স্বর্গ জয় করুন!
কেন যে 'নেকাপড়াটা' ভালো করে করলাম না। ...শ্লার জীবন একটা আমার! ছোটখাটো একজন ডাক্তার হতে পারলেও কাজ হতো। এই একটা পেশাকে আমি ঈর্ষা করি। 
আমার ভাষায় এঁরা দ্বিতীয় ঈশ্বর- একজন মুমূর্ষু রোগি যখন আধ-জবাই পশুর মত ছটফট করতে থাকে তখন উপরে প্রথম ঈশ্বর আর নীচে দ্বিতীয় ঈশ্বর ডাক্তার; মাঝামাঝি আর কেউ নাই, কিছু নাই।
আমি এই মা-টার মুখ [৩] এখনো ভুলতে পারি না।

সহায়ক লিংক:
১. ইশকুল, এক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_14.html 
২. ইশকুল, দুই: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_5273.html 
৩. মা এবং তাঁর অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html    

একজন ফ্রিডম ফাইটার এবং তিন টাকা দামের রাইটার

ক-দিন আগে ঢাকা থেকে ফিরছি। আসন সহ আমার একটা টিকেট দরকার, পাচ্ছি না। এই দিনই আমি জরুরি একটা কাজে ঢাকা গেছি রাতের ট্রেনে। ঘুমের সমস্যা হয়েছে, সমস্ত দিন রোদে পুড়তে হয়েছে, এরপর দাঁড়িয়ে আসাটা প্রায় অসম্ভব ছিল আমার পক্ষে।
এই একটা ঢং হয়েছে, রেলওয়ে যাত্রীদের বসার জায়গা দিতে পারছে না। যত যাত্রী আসন পান প্রায় তত যাত্রী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সুখকর (!) ভ্রমণ করেন।

একবার রেলওয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা, আপনারা কিছু জায়গায় ডাবল লাইন বসিয়ে, কিছু ইঞ্জিন, বেশ কিছু বগির ব্যবস্থা করলেই তো সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
তিনি হাসতে হাসতে বললেন, বলেন কী, তাহলে এতোগুলো যে ভলভো বাস চলছে এগুলোর কি গতি হবে!
আমি অবাক হয়ে বললাম, মানে কী?
তিনি বললেন, বুঝলেন না! যেসব ভলবো বাস চলছে, খোঁজ নিয়ে দেখবেন যারা রেলকে লাভজনক করার দায়িত্বে আছেন এদের অনেকেরই বেনামে অনেকগুলো বাস। এরা আবার বুদ্ধি করে কোন একটা কোম্পানিকে চুক্তিতে দিয়ে দেয়। ব্যস, ল্যাঠা চুকে গেল।
আমার চোখে অবিশ্বাস, কোত্থেকে পেলেন আপনি এই তথ্য!
ভদ্রলোক হাতে কিল মেরে বললেন, লাগবেন বাজী?
সাথে কোন টাকা-পয়সা ছিল না বিধায় বাজী লাগার প্রশ্নই আসে না। আমি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে থাকি।

তো, অপ্রচলিত স্পীড মানি, প্রচলিত ঘুষ নামের বাড়তি টাকা দিলে হয়তো টিকেট বের হয়ে আসত। এতে আমার আবার এলার্জি আছে [১]। আমি সহজ পথে না গিয়ে কঠিন পথটাই বেছে নেই। যে স্টেশনে নামব
আজমপুর, ওই স্টেশনের টিকেট না পেয়ে পরবর্তী একের পর এক স্টেশনের টিকেট চাইতে থাকি। অবশেষে শ্রীমংগলের একটা টিকেট পাওয়া গেল। তাই সই। আরামের শ্বাস ফেললাম। যাক, বসার একটা ব্যবস্থা তো হলো। রাতজাগার ক্লান্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে পায়ের ব্যথা। অন্যমনস্ক থাকার কারণে উঠার সময় ডান হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছি। এখনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়।


ঢাকা থেকে ট্রেন যখন ছাড়ল, আসনগুলো ফাঁকা-ফাঁকা। আমার আসন থেকে খানিকটা দূরে কালো পোশাকে বয়স্ক একজন মানুষকে আগ্রহ নিয়ে দেখছিলাম। কেবল তাঁর পেল্লাই গোঁফ দৃষ্টি কেড়েছিল এমন না, মানুষটার বসার ভঙ্গি ঋজু, টান-টান! খানিকটা অন্য রকম।

ওয়াল্লা, বিমানবন্দর স্টেশন আসার পর পঙ্গপালের মত লোকজন উঠা শুরু করল। অল্প বয়সের দুইটা ছেলে অমার্জিত ভঙ্গিতেই এই মানুষটাকে বলল, এই যে-এই যে, সিট ছাড়েন। 
মানুষটা শশব্যস্ত হয়ে আসন ছেড়ে উঠে একপাশে এসে দাঁড়ান। এবার মানুষটাকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় আমার। মানুষটার বুকে মুক্তিযোদ্ধার ছোট্ট গোল ব্যাজ দেখে আমি তাঁর কাছে গিয়ে অনুচ্চ গলায় বলি, স্যার, আপনি কি ফ্রিডম ফাইটার? মানুষটা মাথা নাড়েন।
আমি তাঁকে বললাম, আপনি আমার সিটে বসেন।
মানুষটা রাজি হন না। আমি যতই বলি কিন্তু কে শোনে কার কথা! আমিও হাল ছাড়ি না। বলি, প্লিজ বসেন, দেখেন লোকজন সবাই তাকিয়ে আছে।
মানুষটা তবুও রাজি হন না।
আমি আস্তিন থেকে লুকানো অস্ত্রটা বের করি। গলা আরও নামিয়ে বলি, স্যার, একজন মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে থাকলে আমি বসতে পারি না। আপনি কি চান আমিও দাঁড়িয়ে থাকি? 
নিতান্ত অনিচ্ছায় এবার মানুষটা বসেন। আমার পাশের ছেলেটার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে হড়বড় করে বলে উঠে, আপনিও বসেন, তিনজন বসা যাবে।

মুক্তিযোদ্ধা নামের মানুষটার সঙ্গে টুকটাক কথা চলতে থাকে। তাঁর নাম, মনোহর বিশ্বাস। বাড়ি রায়পুরার শ্রীনিধি। যাবেন আশুগঞ্জ। আমি জানতে চাই, আপনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
তিনি বলেন, ৩নং সেক্টরে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ। 
আমি বললাম, আপনি কোন খেতাব পেয়েছিলেন?
তিনি সম্ভবত খানিকটা বিব্রত হন। বলেন, না।
এই প্রশ্নটা করার জন্য নিজেকে চাবকাতে ইচ্ছা করছিল। আমি এবার তাঁকে বলি, দেখেন, খেতাব পাওয়া, না পাওয়া দিয়ে কি আসে যায়। আমাদের দেশে এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাদের যোগ্যতা থাকার পরও খেতাব পাননি। আপনি তো জানেন, খেতাব নিয়েও সমস্যা ছিল। তাঁকে বলি, দুলা মিয়ার কথা [২]। বলি, নৌ-কমান্ডোর ফজলুল হক[৩] [৪], ট্যাংক-মানব এম, এ জব্বারের কথা [৫]। মানুষটার হয়তো খানিকটা সংকোচ কাটে।

৩ নং সেক্টরে তাঁর যুদ্ধ করার জায়গা ছিল আজমপুর, আখাউড়া। তখন আখাউড়া-কসবায় তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল
কারণ ভারত সীমান্ত একেবারে লাগোয়া। তাঁর সঙ্গে কথা হতে থাকে। তিনিই জানান তাঁর গেজেট নাম্বার ১৬২ হালের ১১২২। ভোটার নাম্বার ১৭১।
আমি অবাক হই, ভোটার নাম্বার কি আবার? 
তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভোটের নাম্বার। ভোট দেয়ার পদ্ধতিটা বেশ জটিল, উপজেলায় পর্যায়ে ১১টা, জেলায় ১৭, কেন্দ্রীয় ৪১টা মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৬৯টা ভোট নাকি দিতে হয়।

তাঁর যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলেন। মামা দিয়েছিলেন গরু বিক্রি করার জন্য। দু-হাত উঁচু গরু। ১১০ টাকায় গরু ৯০ টাকায় বিক্রি করে মামাকে ৪০ দিয়ে বাকী ৫০ টাকা নিয়ে চলে গিয়েছিলেন আগরতলায়। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় আসাম।
তাকে এবার আমি জিজ্ঞেস করি, আপনি কি সিট পাননি?
তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে টিকেট নিতে পারতাম, ইচ্ছা করেই নেই নাই। ভাবলাম, সরকার কেন একটা সিটের টাকা থেকে বঞ্চিত হবে।
আমি তাঁর সঙ্গে একমত হতে পারি না। বললাম, এটা আপনার পাওনা। আপনি আপনার ন্যায্য পাওনা কেন ছাড়বেন!
তিনি মৃদু স্বরে বলেন, না, ভাবলাম কাছেই তো আশুগঞ্জ। 
মানুষটা কথা ঘুরাতে চাচ্ছেন। আমি এই বিষয়ে আর কথা বাড়ালাম না।

আমি যখন তাঁর ছবি উঠাচ্ছিলাম, সেই দুইটা অমার্জিত ছেলের একজন জানতে চাইল, ভাই, আপনি কি সাংবাদিক নাকি?
এই হয়েছে এক জ্বালা! এই দেশে মনে হয় অলিখিত আইন হয়েছে সাংবাদিক ব্যতীত অন্য কেউ ছবি উঠালে তাকে জনে জনে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, না।
এ এবারও জিজ্ঞেস করে, না, উনার ছবি তুললেন তো। এই জন্য জিগাইলাম। ওনার ছবি দিয়া কি করবেন?
এবার আমি কঠিন গলায় বললাম, বাংলাদেশে কি কোন আইন পাশ হয়েছে যে কারও ছবি তোলা যাবে না? এটা আমার একটা বদঅভ্যাস, চলার পথে যাকে ভাল লাগে তার ছবি তুলে রাখি। অবশ্য সবার না, বেতমিজদের ছবি আমি আবার উঠাই না।

আশুগঞ্জ চলে আসে। তিনি নামবেন। তাঁর সঙ্গে অতি হালকা একটা ব্যাগ। আমি হাত বাড়াই, এটা দেন আমার কাছে।
আবারও মানুষটার তীব্র অনীহা। জোরে আঁকড়ে ধরেন ব্যাগটা। কিছুতেই হাতছাড়া করবেন না। আমি আমার আস্তিন থেকে আবারও অস্ত্রটা বের করি, দেখেন, লোকজন জমে যাবে। দেন এটা আমার কাছে, আমার ভাল লাগবে।
মানুষটাকে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ি। আমাকে নামতে হবে আরও কয়েক স্টেশন পর। ট্রেনটা যখন স্টেশন অতিক্রম করছিল ভাগ্যিস তখন বাইরে তাকিয়েছিলাম। খানিকটা আড়ালে কালো পোশাকপরা ঋজু, টান-টান মানুষটা আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারেননি। মানুষটা ঠায় দাঁড়িয়ে। ট্রেন চলে যাচ্ছে কিন্তু মানুষটা অনঢ়।

বিস্মিত হয়ে ভাবি, এঁরা কী অল্পতেই না তুষ্ট হন! অথচ এঁদের জন্যই আজ আমি বাংলায় কথা বলি, বাংলায় লিখে মনের চাপ কমাতে পারি, বাংলায় হাহাকার করে বুক হালকা করতে পারি। 
আমি অনুমান করতে পারি, মানুষটা খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। মাস গুলিয়ে ফেলেছেন, এটা কি জুলাই না ডিসেম্বর? এই সব মানুষরা ধরেই নিয়েছেন, ডিসেম্বর এলেই আমরা এঁদের নিয়ে হইচই শুরু করব তারপর আরেকটা ডিসেম্বরের জন্য অপেক্ষা করব। বিশেষ মাস ব্যতীত আমাদের যে আবার জোশ-কান্না আসে না [৬]!

সহায়ক লিংক:
১. ঘুষখোর: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_3654.html
২. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
৩. নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, ১: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html
৪. নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, ২: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html
৫. ট্যাংক-মানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html
৬. মিডিয়ার আয়োজন করে কান্না: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_05.html

Saturday, July 10, 2010

সদয় অবগতি

গতকাল (৯ জুলাই, ২০১০) প্রথম আলোয় আমাকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, 'আখাউড়া থেকে বন'। এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ পাঠককে অনেকখানি বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এই প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হচ্ছে, "...আর এবারই প্রথম এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছিল বাংলা ব্লগ। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে—‘বাংলাদেশ বাঁচলেই বিশ্ব বাঁচবে’..."[১]
আমার সাইটে এই নিয়ে কয়েকজন জানতে চেয়েছেন এবং আলাদা আলাদা করে আমাকে মেইলও করেছেন। বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার সমস্যা হচ্ছে বিধায় বিস্তারিত এখানে দিয়ে দিচ্ছি।

প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তন এই তথ্য প্রথম আলো কোথায় পেয়েছে এটা এরাই ভাল বলতে পারবেন। আমার অন্তত জানা নেই।  বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি এই নিয়ে আমার সাইট প্রতিযোগিতায় কখনও ছিল না। লজ্জার মাথা খেয়ে এও স্বীকার যাই, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভাল জ্ঞান আমার নাই!

ডয়চে ভেলে (১৫ এপ্রিল, ২০১০) প্রথম যে ঘোষণা দেয়, তাদের সাইটে জানাচ্ছে, "...আর আলী মাহমেদ-এর ব্লগ উঠে এলো শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ হিসেবে...বিশ্বের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাঙালি ব্লগার, যিনি ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন৷... "[২]

ডয়চে ভেলে (২২ জুন, ২০১০) পুরস্কার প্রদানের পরও [৩] যে প্রতিবেদন ছাপে সেখানেও বলা হয়েছে, "ডয়চে ভেলের সেরা বাংলা ব্লগ পুরস্কার জিতেছেন আলী মাহমেদ শুভ৷ এটা কোন নতুন খবর নয়, কিন্তু সেই পুরস্কারটি মঙ্গলবার তিনি গ্রহণ করলেন গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম থেকে৷...মঙ্গলবার গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শুভসহ ১১টি ভাষার এবং আরো কয়েকটি ক্যাটেগরির বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়৷ এসময় আরো অনেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান, প্রতিযোগিতার বাংলা অংশের জুরি সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা এবং ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান আব্দুল্লাহ আল-ফারূক..."৷ 

এবং পাঠকের অবগতির জন্য বলি, এই প্রতিযোগিতাটা ছিল বাংলা ভাষার উপর, কেবল বাংলাদেশকেই ধরা হয়নি, ভারতসহ। গ্লোবাল ভয়েসেস [৪] এর মতে, "Deutsche Welle's 2010 The Best Of Blogs (BOBs) international award has a significance for the Bangla (Bengali) bloggers in Bangladesh, India and the Bengali diaspora around the world. In its 6th round of blogging competition Bangla language blogs have been included in the BOBs [bn] for the first time. With approximately 230 million speakers, Bangla is one of the most spoken languages in the world. This award is significant in a sense that we have not seen any successful nationwide best of Bangla blogs competition in Bangladesh or in India till-to-date. ...।" 

মোদ্দা কথা, জলবায়ু বিষয়ক প্রতিযোগিতাটা ছিল অন্য ক্যাটাগরীতে। এটার সঙ্গে বেস্ট ওয়েবলগ বাংলার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নাই।

অন্য ক্যাটাগরিতে The BOBs আয়োজিত "Special Topic Award Climate Change" এই বিভাগে "Bangladesh Banchlei Bishwa Bachbe" এই সাইটটি প্রতিযোগিতা করেছিল [৫] 
এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশেরই আরেকজন ব্লগার মোঃ মোস্তফা কামাল, এই অন্য ক্যাটাগরিতে  হেরে যান অতি অল্পের জন্য। আমার নিজেকে বড়ো ছোট মনে হয় যখন এটা ভেবে বুকের ভেতর থেকে হাহাকার বেরিয়ে আসে, আমরা খানিকটা চেষ্টা করলেই জলবায়ু বিষয়ক পুরস্কারটাও আমাদের দেশেই থাকত!

মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রথম আলোতেই [৬] ছাপা হয়েছিল, "...সম্প্রতি জার্মান বেতারকেন্দ্র ডয়েচে ভেলের বিচারক এবং পাঠকদের ভোটে সেরা বাংলা ব্লগ নির্বাচিত হয়েছে ব্লগার আলী মাহমেদের ব্লগসাইট..."

*এওয়ার্ডটা স্বচ্ছ কাঁচের। লেখাগুলো আবার সাদা! আল্লা জানে কার মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে! ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো কিছু না রেখে ছবি উঠাবার কোন উপায় ছিল না। এই কারণে দুঃখ প্রকাশ করি!

সহায়ক লিংক
১. প্রথম আলো, ৯ জুলাই, ২০১০: http://prothom-alo.com/detail/date/2010-07-09/news/77162 
২. ডয়চে ভেলে, ১৫ এপ্রিল, ২০১০: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5473377,00.html 
৩. ডয়চে ভেলে, ২২ জুন, ২০১০: http://ht.ly/21Z7s 
৪. গ্লোবাল ভয়েসেস: http://globalvoicesonline.org/2010/04/11/bangladesh-bangla-blogs-at-the-bobs-meet-ali-mahmed/
৫. বাংলাদেশ বাঁচলে বিশ্ব বাঁচবে: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_18.html 
৬. প্রথম আলো, ২৪ এপ্রিল, ২০১০: http://prothom-alo.com/detail/date/2010-04-24/news/58454

Friday, July 9, 2010

হরেক রকম জামা আছে, নীল-গোলাপী-সাদা

আমরা, মিডিয়া, রাজনীতিবিদগণ কোন একটা ঘটনা-দুর্ঘটনায় কতজন মারা গেল এটা নিয়ে বড়ো মাথা ঘামাই কিন্তু যারা মারা গেল না তাঁদের গুণতিতে ধরি না। 
জোয়ান মরদটা কালে কালে একজন বোঝা-ভিক্ষুক পরিণত হয় এই খবরে আমাদের কোন প্রয়োজন নাই; সময়, আগ্রহও নাই!

আমাদের দেশে কারও খানিকটা পয়সা হয়ে গেলেই এরা গা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেন এদের পরিবার একদা কৃষক ছিলেন। বলার চেষ্টা করেন অন্য দেশে এদের ছোটখাটো জমিদারী ছিল, তাদের পূর্বপুরুষরা বাঈজি নাচাতে নাচাতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে দয়া করে বাংলাদেশে এসেছিলেন দেশউদ্ধার করার অভিপ্রায়ে। কেউ-বা এসেছিলেন ইরান-তুরান থেকে বাঘের পিঠে চড়ে। বাস্তবতা হচ্ছে, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষক-জেলে-মজুর। এঁরাই এই দেশের চাকাটা ঘোরাচ্ছেন বনবন করে। 
কেন মানুষ তার পূর্বের স্মৃতি বিস্মৃত হন আমি জানি না। কেন আমাদের গভর্নর আতিউর রহমানের [১] মত অতীতকে সগর্বে বলতে পারেন না এটাও আমার বোধগম্য হয় না। আমার ধারণা, আমাদেরকে দেয়া শিক্ষার মধ্যে বড়ো ধরনের গলদ আছে। কেন আমাদেরকে এটা শেখানো হয় না কেমন করে আমাদের শেকড়কে বুকে জাপটে ধরে রাখতে হয়।

বাবা-মা তাঁদের জমি-জায়গা বিক্রি করে সন্তানকে পাঠান শিক্ষার জন্য- সন্তানকে পাঠান না, পাঠান তাঁর স্বপ্নকে। তাদের স্বপ্নগুলো এভাবে পড়ে থাকে? ফোকাস বাংলার সৌজন্যে এখানে আমরা যাদের ছবি দেখতে পাচ্ছি এরা তাঁদেরই খন্ড-খন্ড স্বপ্ন। এই মানবদেহগুলোকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। এরা কিন্তু সবাই মৃত না, হয়তো কেউ কেউ বেঁচে যাবে কিন্তু কখনই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে না।
কারা ফেলেছে এদের? অন্য গ্রহের কেউ? 
উঁহুঁ, ওরাও কারও-না-কারও সন্তান, কারও-না-কারও স্বপ্ন। এদেরকেও পাঠানো হয়েছিল এখানে শেখার জন্য। এরা কি এই শিক্ষা লাভ করছে, দানব হওয়ার শিক্ষা? তাহলে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কী দানব বানাবার কারখানা? এখানে কি এদের পাঠানো হয় কেমন করে মানবতাকে নষ্ট করতে হয় এই শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য?

এই যে এখানে ছাত্রদের মধ্যে তুমুল কান্ড ঘটে গেল, এদের মধ্যে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা আর কিছু না, দলবাজি-ক্ষমতার রাশ। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দলবাজী [২] করেন সেখানে তাঁদের ছাত্ররা দলবাজি করবে না এটা কি হয়? যোগ্য শিক্ষকদের যোগ্য শিক্ষার্থি!
দলবাজি হচ্ছে একটা শেকল- এটার একটা আংটার সঙ্গে অন্য একটা আংটা জোড়া দেয়া, নিয়ম অনুযায়ী একটা পেছনে অন্য একটাকে চলে আসতেই হয়। পত্রিকায় যে সংবাদগুলো আসছে এগুলো নতুন কিছু না। এই সব ক্ষমতার লড়াইয়ের পেছনে আছে আর্থিক লেনদেন। এই লেনদেনের প্রধান উৎস হচ্ছে, অন্যের জমি বিক্রি লেনদেন থেকে অবৈধ আয়, চাঁদাবাজি।

নিজের একটা ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ শেয়ার করি। ঢাকায় একজন জমি বিক্রি করবেন, সম্পর্কের জের ধরে আমার সহায়তা চাইলেন। আমি বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, ভয়াবহ অবস্থা! কোন অবস্থাতেই চাঁদা না দিয়ে এই জমি বিক্রি করা সম্ভব না। এই চাঁদার সঙ্গে জড়িয়ে যেসব নাম উঠে এল এদের নাম, দৌড় দেখে আমি হতভম্ব! স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে পুলিশ, ছাত্রনেতা কে নেই! 
পরে আমি ওই মানুষটার কাছ থেকে বিনীত অব্যহতি নিয়ে বলেছিলাম, আমি থাকলে আপনি এই জমি কেয়ামতের আগ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন না। কারণ আমি তো কাউকে চাঁদা-ঘুষ দেব না। আমার অন্য এক বন্ধুর হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করে আরামের শ্বাস ফেলেছিলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, "...তা ছাড়া ঘটনাস্থলে পুলিশের আসতেও তো সময় লাগে..."। (প্রথম আলো: ৭ জুলাই, ২০১০) 
কথা সত্য। কিন্তু সাংবাদিদের আসতে সময় লাগে না, এ বড়ো বিচিত্র বিষয়! এঁরা কেমন কেমন করে যেন যথা সময়ে যে কেবল হাজিরই থাকেন এমনটা না, একের পর এক ছবি উঠাবার সময়ও পান। এমনি-কি ইলেকট্রনিক মিডিয়াও চলে আসতে পারে, ফুটেজের পর ফুটেজ দেখাবার সুযোগ পেয়ে যায়। কেবল পারেন ন আমাদের পুলিশ বাহিনী! আমাদের সিনোমায় পুলিশ মারপিট শেষ হলে ভিলেনকে রাশভারী গলায় বলেন, হ্যান্ডস আপ, নড়েছো কি মরেছো। দেরীতে হলেও, তবুও তো সিনেমায় অন্তত ভিলেনকে পুলিশ পাকড়াও করতে পারেন কিন্তু বাস্তবে এরা পারেন না!

পত্রিকায় আমরা এটাও পড়ছি, পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করা দূরের কথা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এটাও তো নতুন কিছু না। আমি একটা লেখায় লিখেছিলাম, পুলিশ লিখবে কবিতা [৪]। পুলিশকে কবিতা লেখার জন্য লাগিয়ে দেয়া হোক এবং চৌকশ ফটো সাংবাদিকদের পুলিশ অফিসার হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হোক। কারণ ফটো সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যেভাবে ঝড়ের গতিতে হাজির হয়ে যান সেখানে পুলিশ অফিসার মহোদয়গণ আসেন গদাই লস্করি চালে! 
আচ্ছা, এরা আসার জন্য গাড়ি ব্যবহার করেন না বুঝি? এমন কাজে হেঁটে হেঁটে আসাটা তো বুদ্ধিমানের কাজ না! পুলিশ এভাবে হেঁটে হেঁটে আসলে বুঝি অপরাধি বসে বসে বাদাম খাবে?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবীর বলেছেন, "...আমি আর্মি বা পুলিশ নই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব লেখাপড়া দেখা..."। (প্রথম আলো: ৭ জুলাই, ২০১০)
বেশ! স্যার, আমি আপনার সঙ্গে একমত কিন্তু আপনি এই প্রশ্নটা কেন উত্থাপন করলেন না, পুলিশ কেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি? এটাও কি স্যার আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? স্যার, এই দেশের প্রায় শিক্ষকই কোন-না-কোন দলের জামা গায়ে চড়িয়ে রাখেন; আপনার গায়েও কোন দলের জামা নাই এই বাহাসে অংশগ্রহন করার কোন কু-ইচ্ছা অন্তত আমার নাই।

সহায়ক লিংক:
১. গভর্নর আতিউর রহমান, সাদা মানুষ: http://www.dhakanews24.com/%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE,/8212.html 
২. স্যাররা দলবাজী বন্ধ করেন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html 
৩. পুলিশ লিখবে কবিতা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_09.html