My Blog List

Monday, January 24, 2011

কলস ভাঙ্গিবার পূর্বেই চটকনা দিয়া ফেলিল

ছবি ঋণ: প্রথম আলো, ২৪.০১.১১
এই ছবিটা নিয়ে আমি খানিকটা সমস্যায় আছি। না, খুনীর হ্রস্ব-ই কার হবে নাকি দীর্ঘ-উ কার এই নিয়ে আমার উচ্চবাচ্য নাই কারণ আমাদের গোয়েন্দারা সব জানেন। অভিধানে খুনি হ্রস্ব-ই কার দিয়ে লেখার জন্য বলা হয়েছে তাতে কী আসে যায়। অভিধান কী জানে!
সমস্যা অন্যত্র। ছবিতে এদের বুকে লেখা দেখছি খুনি অমুক, খুনি তমুক। এদের পেছনে যারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনুমান করি, এরা গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন। ভাল, সঙ্গে ছবি উঠাবার নিয়ম আছে- ভাগ্যিস, এদের খুনি লিখে আলাদা না-করলে ভ্রম হত! কিন্তু আমার প্রশ্ন, এরা যে খুনি এটা কে বলছে? সত্যিই কি এদের সঙ্গের লোকজন গোয়েন্দা বিভাগের নাকি আদালতের? কোনও আদালত কি সূক্ষাতিসূক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণের পর এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে এরা খুনি? 

জানি-জানি, অনেকে বলবেন, গোয়েন্দারা সব জানে। বটে, কবুল করলুম। আমাদের গোয়েন্দারা যখন জজ মিয়ার আষাঢ়ে গল্প রসিয়ে রসিয়ে বলতেন তখনও কি আমরা বিশ্বাস করিনি? আলবত করেছি। কি গা ছমছম করা গল্প! এক দেশে জীবিত এক রাজা ছিল, গাঁজা সেই রাজাকে খেত, গাঁজা রাজাকে খেতে খেতে গাঁজা মরল কিন্তু বেচারা রাজাও বাঁচল না। দেশব্যাপি তখন ঢাক বেজে উঠল, একটি রাজার লাশ হারানো গিয়াছে, লাশটি খানিক তোতলা...। চারদিকে ঢিঢি পড়ে গেল।
তো, তাকিয়ায় হেলান দিয়ে ডিম সহযোগে খিচুড়ি খেতে খেতে আমরা এতোটাই সেই গল্পে মগ্ন হতুম যে ডিম খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে বসে থাকতুম, পরে সেই ডিম কে খেত সে প্রসঙ্গ আজ থাক।

আমার এই লেখার মূল উপজীব্য এটা না এরা খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল, কি ছিল না। সে অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার পূর্বেই একজনকে খুনি বলে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা? এই অধিকার আদালত ব্যতীত অন্য কারও আছে কিনা? থাকলে, আদালতের আবশ্যকতা কি?