Wednesday, April 14, 2010

যারা ভাল ইংরাজি জানেন না তারা শূলে চড়বেন

আমার এই সাইটটাতে কখনও কখনও অন্য ভাষার লোকজন দুম করে ঢুকে পড়েন। ঢুকেই দেখেন সব হিজিবিজি-হিজিবিজি! বেচারাদের এতো দায় পড়েনি বাংলা ভাষার চর্চা করবেন। অধিকাংশই এ গ্রহে বাংলাদেশ নামের কোন দেশ আছে এটাই জানেন না। জানলেও বাংলাদেশের লোকজন নেট ব্যবহার করেন, আবার ব্লগিং-এর নামে লেখালেখি করেন এটা বিশ্বাসই করেন না।
একটা উদাহরণ দেই, আমার এক চীনা বন্ধু আছেন। তিনি মন্তব্য চালাচালির ফাঁকে একদিন দুম করে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি করো'?
আমি আকাশ-পাতাল হাতড়াতে লাগলাম, কি করি-কি করি? অনেক ভেবে-টেবে বললাম: আমি একটা ওয়েবসাইটে লেখালেখি করি।
তার পরের প্রশ্নটা ছিল, 'তুমি আবার নেটে কি লেখ! সত্যি তোমার ওয়েবসাইট আছে'?
একে লিংক দিয়ে লাভ কী, এ তো কিছুই বুঝবে না! অবশ্য আমার খুব রাগ হয়েছিল, মহিলা মানুষ বলে বেশি কিছু বলিনি।

তো, একবার মনে হলো, আমার এই সব ছাইপাশ লেখা অন্য কিছু ভাষায় অনুবাদ করার চেষ্টা করি। ইংরাজি জানা ব্যতীত অন্য লোকজন পাব কোথায়? লজ্জার মাথা খেয়ে বিভিন্ন মানুষকে ধরাধরি করি। ইংরাজি হলেই তো হবে না কীসব নেটিভ ইংরাজির হ্যাপা আছে!
পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে একজনকে বলায় তিনি বললেন, 'আপনি নিজেই কেন ইংরাজিতে অনুবাদ করে ফেলেন না'?
আমি বললাম: বাপু রে, দু-পাতা ইংরাজি পড়তে পারি বলে অনুবাদ করে ফেলব, এতোই সোজা! বাংলাটাই ভালো জানি না তাও আবার অন্য ভাষা!
মানুষটা আমার অনুরোধ রাখলেন না। এতে সমস্যা ছিল না, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এবারের বইমেলায় অল্পবয়সী কিছু ছেলেপেলেদের সঙ্গে কথা বলছি। এরা সদ্য বিভিন্ন সাইটে লেখালেখি করছে। কার কাছে যেন আমার কথা শুনেছে, ঝলমলে মুখে এটা-ওটা জানতে চাইছে। এরিমধ্যে এই মানুষটা ওখানে এসে হাজির হলেন। তিনি ফট করে বলে বসলেন, 'আচ্ছা, ইয়ে, আপনি ইংরাজি ভালো জানেন না, না'?
আমি বেদনাহত হয়ে মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ এতোটা হৃদয়হীন হয় কেমন করে! অন্য কিছু না কেবল এখানে ছেলে-পেলেদের সামনে আমাকে অপদস্ত করা, লজ্জা দেয়া। ছেলেরা আগ্রহ করে আমার সঙ্গে কথা বলছে এটা হয়তো মানুষটার কাছে ভালো লাগেনি, কেমন করে আমাকে নীচু দেখানো যায় এটাই হচ্ছে আসল কথা। সোজা অংক, এই সব ছেলেদেরকে বুঝিয়ে দেয়া আমি ছদুরুদ্দিন-মদুরুদ্দিন টাইপের একটা মানুষ। এটা সত্য হলেও এদের কাছে বলার আদৌ প্রয়োজন কী!
আমি রাগ চেপে ছোট্ট করে উত্তর দিলাম, 'না, ইংরাজি ভালো জানি না, এতে কী আমার জেল-ফাঁসি হবে!
এখানেই বিষয়টা শেষ হয়ে গেলে চুকে যেত। কিন্তু তিনি আবারও বললেন, 'এমন ভাবে বলছেন যেন
ভালো ইংরাজি না-জানাটা বিরাট একটা কাজ'।
আমি প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হলাম। অতি শিক্ষিত একটা ছেলে- বাইরে পড়াশোনা করেছে, এ এই সব কি বলছে! এটা তো স্কুলপড়ুয়া ছোকরাদের ঝগড়া করার ভঙ্গি! রেগে গেলে এমনিতে আমার কথা জড়িয়ে যায় কিন্তু প্রচন্ড রেগে গেলে ঠান্ডা মাথায় গুছিয়ে বলতে পারি। চাক-চাক বরফি কাটার মত!
আমি পলক না-ফেলে মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, 'ছি ছি মা বোভু'।
মানুষটা ভেবাচেকা খেয়ে বললেন, 'এইটা আবার কি বললেন'?
আমি মানুষটার চোখ থেকে চোখ না-সরিয়ে আবারও বললাম, 'বিছো মাবে'। বোঝেন নাই! প্রথমে আপনাকে সোহেলি ভাষায় বলেছিলাম, তুমি খারাপ। আফসোস, আপনি দেখি সোহেলি ভাষা জানেন না, পরে লিংগালা ভাষায় বললাম, তুমি খারাপ। আশ্চর্য, আপনি দেখি লিংগালা ভাষাও জানেন না! এটা একটা কাজ হলো, দুঃখজনক!
মানুষটা এইবার খানিকটা রেগে গেলেন, 'আমার কি ঠেকা পড়েছে জংলিদের ভাষা জানার'?
 
আমি একটিবারের জন্যও মানুষটার চোখ থেকে চোখ সরাইনি। স্থির চোখে এইবার বললাম, তাহলে ফরাসি ভাষায় বলি, 'ভু মভে'। বুঝেন নাই? ঘটনা কী, ফরাসি ভাষা তো আর জংলিদের ভাষা না। শোনেন, প্রতিদিন আপনি ফরাসি ভাষায় জপ করবেন 'জো নো ছে পা' এটার বাংলা হলো, আমি কিচ্ছু জানি না। ঘুম থেকে উঠেই অনবরত বকে যাবেন, জো নো ছে পা-জো নো ছে পা, আমি কিচ্ছু জানি না-আমি কিচ্ছু জানি না।
পাশের ছেলেগুলো হাসি গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। এরপর থেকে এই অতি শিক্ষিত মানুষটা আমার কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকত। আমারও মানুষটাকে ট্রাক-ট্রাক লাগত। ট্রাকের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকারই নিয়ম।
 
পরে অবশ্য সাদিক আলম এবং তিথি- এঁরা কিছু লেখা অনুবাদ [] করে দিয়েছিলেন। কিছু অনুবাদ হয়েছিল অপূর্ব, কিছু অনুবাদ মূল লেখাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আমাদের দেশটা অদ্ভুত! এখানে ফটাফট করে ইংরাজি বললে বিনা বাক্যে শিক্ষিত ধরে নেয়া হয়। এ লজ্জা কোথায় রাখি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ [] নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক  শুদ্ধ বাংলা বলতে পারেন না! একবার তাঁর একটা ভাষণের সময় কাগজ-কলম নিয়ে বসেছিলাম। এই মানুষটা ৫ মিনিটের মধ্যে একুশটা অশুদ্ধ বাংলা বলেছিলেন! পরে হাল ছেড়ে দিয়ে হিসাব কষা বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম।
কার কাছে এই কষ্টটা বলি, এই দেশের অধিকাংশ আইন এখনো ব্রিটিশদের করা। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায়, বাকীসব ইংরাজিতে! আমরা আবার লম্বা-লম্বা বাতচিত করি, ভাষা আন্দোলন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে- ছাতাফাতা! 
এই দেশের বুদ্ধিজীবী নামের বুদ্ধির ঢেঁকিদের বুদ্ধির তারিফ না করে উপায় কী! বুদ্ধিজীবী খোকারা দেশি মার শাড়ির আঁচল ছেড়ে বিদেশি মার স্কার্ট ধরে টানাটানি করেন। এঁদের কাছ থেকে এই প্রজন্ম যা শেখার তাই শিখবে এ আর নতুন কী! বিনয়ের সঙ্গে বলি, ইংরাজি শিক্ষা বন্ধ করে দেয়া হোক আমি এই অর্বাচীন কথা বলতে চাচ্ছি না- বাপ নীচে বসে থাকবে আর পোলা চেয়ারে এই ভঙ্গিটা কেবল চাচ্ছি না, ব্যস। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাবার জন্য ইংরাজি শিখতে হবে কিন্তু মার ভাষা বাদ দিয়ে না!
দুশো বছরের ইংরেজ প্রভুর গোলামের বাচ্চাদের চিৎকার, শীৎকারে বড়ো অতিষ্ট হয়ে পড়ি। 'পহেলা বোশেখে' এরা পান্তা খেয়ে [৩] দেশ উদ্ধার করে।
"আমরা বাংলা গিয়েছি ভুলি,
আমরা শিখেছি বিলেতি বুলি, ...
আমরা সাহেবি রকমে হাঁটি
স্পীচ দেই ইংরাজি খাঁটি
কিন্তু বিপদেতে দেই বাঙালিরই মত
চম্পট পরিপাটি।"
(বিলাত ফের্তা, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
এই দেশের সাহিত্য যেমন ঢাকাসাহিত্য, তেমনি এই গ্রহের সাহিত্য মানে হচ্ছে ইংরাজি সাহিত্য, প্রকারান্তরে আমেরিকা-বৃটেনের সাহিত্য! কেউ ইংরাজি সাহিত্য রচনা না করলে বা ইংরাজিতে অনুবাদ না হলে তার অবস্থা দাঁড়াবে আমাদের দেশের একজন তেলিবেলি লেখকের মত।
ধরা যাক, গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কথা। জে. এস. বার্নষ্টাইন তাঁর 'নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্ণেল' [৪] ইংরাজিতে অনুবাদ না করলে মার্কেজ নামের কলম্বিয়ান এই লেখক সেই তিমিরেই পড়ে থাকতেন। তাঁর নামটাও বিশ্ববাসী জানত না। 
Franze Kafka-এর  The Metamorphosis লেখাটা ইংরাজিতে ছাপা না হলে, David Wyllie ইংরাজিতে অনুবাদ না-করলে 'গ্রেগর' নামের চরিত্রটির অদ্ভুত রূপান্তর আমরা জানতেই পারতাম না। কী অসাধারণ একটা লেখা"
"...One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin..." (Metamorphosis/ Franz Kafka)
গ্রেগরের পোকাসুলভ আচরণ, তার যন্ত্রণা, তার করুণ মৃত্যু।
"...'Dead?' said Mrs. Samsa and looked questioningly at the cleaning women."
আহ, তার মার কী সেই নির্দয় উক্তি, 'মরে গেছে'?
"...'Well,' said Mr. Samsa, 'now we can give thanks to God.' He crossed himself,"
গ্রেগরের বাবার হাঁপ ছাড়া অতি নিষ্ঠুর সংলাপ, 'যাক, ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ'।
 
'OF MICE AND MEN' (John Steinback), জর্জ যখন তার অসম্ভব প্রিয়, অসহায়-একরকম মাথায় খাটো বন্ধু লেনিকে গুলি করে আমি তখন চোখ বন্ধ করে ফেলি। কিন্তু চোখ বন্ধ করে ফেললেই যেমন প্রলয় থেমে থাকে না তেমনি জর্জের গুলিও।
এঁদের এই সব লেখার শক্তি দেখে হতভম্ব হয়ে যেতে হয়।
এঁদের এই সব লেখার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের যোগ্যতার অভাব নেই আমাদের বাংলার এই সব লেখকদের।
পেছনের কাতারে পড়ে থাকা বাংলার সেইসব অভাগা লেখকরা। আহারে-আহারে, তাঁদের একেকটা হাত সোনাপানির প্রলেপে মাখা -তারাশঙ্করের 'পঞ্চগ্রাম', বিভূতিভূষণের 'আরণ্যক' খাঁটি সোনা ফেলে দেই কেমন করে?
Paulo Coelho-এর 'The Alchemist পড়িনি কিন্তু তার 'eleven minutes' পড়ে আমার মনেই হয়নি এটা না-পড়লে দুঃখের শ্বাস ফেলতে হত বা জীবনটা বৃথা যেত! অথচ PAULO COELHO-কে নিয়ে কী মাতামাতি!
George Bernard Shaw-এর 'YOU NEVER CAN TELL' এমন আহামরি কোন লেখা না! বার্নাড শ-কে আমরা মাথায় তুলে রাখব কিন্তু শ সাহেব লিখেছেন বলেই তাঁর সব লেখায় লাফিয়ে ছাদে মাথা ঠুকে ফেলার কোন কারণ নাই।
অথচ একজন মনোজ বসুর 'নিশিকুটুম্ব' এই সব লেখাকে অনায়াসে পেছনে ফেলে দেবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই। আহারে, এই লেখাটা পড়ে আমার সাহেবের মত চোর হতে ইচ্ছা হয়েছিল!

'THREE MEN IN A BOAT', Jerome K. Jerome বা 'CARRY ON JEEVES'/ 'THANK YOU JEEVES'/ P. G. Woodhouse) অথবা 'DON QUIXOTE'/ Cervantes) [৫] এদের দুর্ধর্ষ হিউমারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু এঁরা একজন শিবরাম, একজন ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সামনে দাঁড়াতেই পারবেন না। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, এদেরকে শুইয়ে দেওয়ার জন্য ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় একাই যথেষ্ঠ।
"...একবার, দুইবার, তিনবার বিষম বল প্রয়োগ করিয়া বাঘ পলাইতে চেষ্টা করিল। ...কিন্তু দৈবের ঘটনা একবার দেখ! এত টানাটানিতেও বাঘের লাঙ্গুল ছিঁড়িয়া গেল না। তবে এক অসম্ভব ঘটনা ঘটিল। প্রাণের দায়ে ঘোরতর বলে বাঘ শেষকালে যেমন এক হ্যাচকা টান মারিল, আর চামড়া হইতে তাহার আস্ত শরীর বাহির হইয়া পড়িল। অস্থি-মাংসের দগদগে গোটা শরীর, কিন্তু উপরে চর্ম্ম নাই! পাকা আমের নীচের দিকটা সবলে টিপিয়া ধরিলে যেরূপ আঁটিটা হড়াৎ করিয়া বাহির হইয়া পড়ে, বাঘের ছাল হইতে শরীরটি সেইরূপ বাহির হইয়া পড়িল...।" 
ত্রৈলোক্যনাথের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কেবল সারভান্তিসের সঙ্গে। বা শিবরাম! শিবরামের বড় লেখাটাকে ছোট করে বলি:
দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!
কী অসাধারণ এক গল্প! ভুবনেশ্বরের সেই গল্প ভেড়িয়ে বা নেকড়ে?
"...লাফ দিতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বাবা বললেন, 'দাঁড়া, আমার পায়ের জুতাগুলো একেবারে নতুন, ভেবেছিলাম কমসেকম দশবছর পরবো', একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন, 'দেখিস তুই এগুলো আবার পরিস না যেন, মরা মানুষের জুতা পরতে নেই। তুই জুতাজোড়া বেচে দিস কারো কাছে'। জুতাজোড়া খুলে গাড়ির ভেতরে ছুঁড়ে মারলেন বাবা। তারপর লাফ দিয়ে পড়লেন গাড়ির পেছন-পেছন দৌড়ুতে থাকা নেকড়েগুলোর একেবারে মাঝখানে...।"
(অনুবাদ: মোসতাকীম রাহি)

কিন্তু ওই যে বললাম, এ গ্রহের সাহিত্য মানেই ''ইংরাজি সাহিত্য'। বেশ এটা না-হয় মেনে নেয় গেল। কিন্তু আমরা কেন বিস্মৃত হতে পারছি না পৃথিবীতে অসংখ্য ভাষার অনেক কিছুই আমরা জানি না, কেবল জানি ইংরাজির জন্য 'চাড্ডি'-আন্ডারওয়্যার (এই শব্দটার জন্য আমার দিকে ভুরু কুঁচকে লাভ নাই L. Ferlinghetti [৬] নামের কবি Underwear নিয়ে জমাটি কবিতা লিখতে পারবেন আর আমি উচ্চারণ করলে মাথা কাটা যাবে এটা কেমন কথা!) পর্যন্ত খুলে দিতে। 
আসলে আমরা কেমন করে ভুলি, ঘোড়ার এক পাশে উবু হয়ে থাকতাম আমরা, ইংরেজ সাহেব-মেম আমাদের পিঠে পা রেখে ঘোড়ায় চড়তেন। প্রভুদের মায়া আমরা এখনও কাটাতে পারিনি, অভ্যাস বলে কথা!

*আজ বছরের প্রথম দিনে আমি প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করব, উদাহরণ ব্যতীত, বাংলা লেখার সময় ইংরাজি শব্দ না লিখতে। তাই বলে আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মত সফটওয়্যারের বাংলা 'নরোমতার' করার অপচেষ্টা করব না। যেমন চেষ্টা করব না চেয়ারের বদলে কেদারা লিখতে। কিন্তু অহেতুক ইংরাজি শব্দ না-লিখতে চেষ্টা করব। এহো, আমি তো আর লিখি না লিখে ৩টাকা দামের কলম- আমার তিন টাকা দামের কলমের কাছে এটুকুই চাওয়া...।
**এই বেলা আপনাদের কানে কানে একটা কথা বলি, কাউকে বলবেন না যেন :) অন্য ভাষা দূরের কথা আসলে আমি বাংলা ভাষাটাই ভাল জানি না। ফরাসি-লিংগালা-সোহেলি ভাষার ভ-ও জানি না। ওই সময় কঙ্গোর উপর একটা বই পড়ছিলাম। ওখানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত লোকজনদেরকে বাধ্যতামূলক কয়েকটা ভাষার কিছু-কিছু শব্দ শিখতে হয়। ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমিও দু-চারটা শিখে ফেলেছিলুম আর কী! এটা কেবল বিশ্বাস করে আপনাদেরই বললুম কিন্তু... :D

***এই লেখায় এক জায়গায় আমি লিখেছিলাম, '...একজন মানুষ এতোটা হৃদয়হীন হন কেমন করে'! ফেসবুকে এই লেখাটাই পোস্ট করলে, ওখানে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য আকারে বলেন, Debasish Chakrabarty:
"Ami to ekjon bhison pondit manusher kotha porechi jinni kono ek somoy e rokom kore chilen.
...You will be surprised that he is none other than Dr. Sahidullah. Once Abu Zafar Samsuddin, who was then serving as the head of the translation, was going to Karachi for a seminar.
His paper was 'problems of translations'. On 21-03-1964 he went to airport lounge and found Dr. Sahidullah and Dr. Enamul Hoque. They were not only famous for their erudition, but were 'murubbi' in age. So Abu Zafar Samsuddin set with sufficient hesitation with them. Suddenly Dr. Sahidullah pointed samsuddin and told Dr. Enamul Hoque now-a-days he (samsuddin) translates from GREEK.
Dr. Enamul Hoque asked samsuddin 'Do u know Greek'?
Samsuddin replied 'no no. I know nothing'.
Abu Zafar Samsuddin wrote that dr. sahidullah knew very well that he does not know greek -he is not a linguist. Still, why he-a personality of his stature- attacked Samsuddin saheb without any reason?"
source: ATMA SMRITI-Abu zafar samsuddin, p.323 sahityo prakash. P.S. I can't say whether the incident is true or false. This disclaimer is added.)
 
সহায়ক সূত্র:
১. অনুবাদ...: http://www.ali-mahmed.com/search/label/in%20plain%20english
২. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_06.html
৩. পান্তা...:
৪. রাইটস টু কর্ণেল...: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_31.html 
৫. DON QUIXOTE: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_13.html
৬. Underwear..: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html 

এসো, এসো হে পান্তাখেকো

আবার বৈশাখ চলে এসেছে। পান্তাভাত খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর পোয়াবারো! স্যালাইনের বিক্রির টার্গেট ছাড়িয়ে যাবে। রেকর্ড ভঙ্গ!

আহারে, একবার শিল্পীরা পান্তা খেতে গিয়ে কী নাকালই না হলেন! এরা এসেছিলেন নাচাগানা করতে। কোথায় নাচ, কোথায় গান? সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো। বিষয় কি, বিষয় আর কী! সকাল-সকাল পান্তা খেতে হবে যে। রান্না করা গরম ভাতকে তড়িঘড়ি করে ঠান্ডা করতে হবে, সময় কোথায়? বরফকল থেকে বরফের চাঁই এনে দাও ঢেলে ধোঁয়াওঠা গরম ভাতে। বরফকলের ওই বরফ ছিল আমাদের মহান ঢাকার দূষিত পানি। ফল যা হওয়ার তাই হলো।

আমি বলি কি, পান্তাভাতের সঙ্গে একটা করে ওরস্যালাইনও দেয়া হোক। সব মুশকিল আসান।  সারা বছর ফটাফট ইংরাজি বলা বাচ্চাগুলো বাংলা অক্ষর দেখে কী সোন্দর করেই না বলে, মম, এটা কি বোং-লা? এরা পান্তা খেয়ে 'বঙ্গাল' হবে! শ্লা!
আমি বুঝি না পান্তা খাওয়ার মানেটা! পিঠা-পুলি হলে নাহয় মেনে নেয় গেল। নববর্ষে নব্য বঙ্গালদের পান্তা খাওয়াটা আমার কাছে একটা চরম রসিকতা মনে হয়। আমাদের দেশের বড়ো দুখি মানুষরা, যাদের চুলা তিনবেলা জ্বলে না তাঁরা পান্তা খান। রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত পানি দিয়ে রেখে দেন, সকালে এটাই খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়েন।    
 
এটা পুরনো লেখা, রিপোস্ট করছি এই কারণে একই কাহিনী নিয়ে বারবার লিখে আমার দুর্বল মস্তিষ্ক নামের হার্ডডিস্কে বাড়তি চাপ নেয়ার কোন গোপন ইচ্ছা আমার নাই। নিয়ম করে আমরা পান্তাভাত খাওয়ার একটা নাটক করব। ফি বছর একই নাটক নিয়ে লেখার কোন অর্থ হয় না। কালির অপচয় (আমি এখন কলম দিয়ে লিখি না, এই ভুল ধরার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে)!

"ইনি এস, বি। টাকা চালাচালি যারা করেন তাদের অধিকাংশই এই ভদ্রলোককে এক ডাকে চেনেন। এস, বি সাহেবের পোশাকি নাম শাহাবুদ্দিন ভূঞা। ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু কুৎসিত রসিকতা করেছিল এস, বি নিয়ে। শালার ব্যাটা বলেছিলেন। ফাজিল বন্ধুকে শান্তি দিয়েছিলেন, কঠিন শাস্তি, তার বউকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। বয়সটা ছিল দশচক্রে ভগবান ভূত। বয়সের সেই দবদবা এখন আর কই! শরীর অশক্ত- মন দলদলে। 
এখন মনে হচ্ছে, আহ, জীবনটা এতো ছোট, কী দ্রুতই না সময় গড়িয়ে যাচ্ছে! কী অসম্ভব ক্ষমতা তাঁর, টাকার বস্তায় শুয়ে আছেন বললে ভুল হবে চাপা পড়ে আছেন। এ দেশের আট-দশজন পরিবারের সমস্ত মাসের খরচ চলে যে টাকায় এরচে’ বেশী ফাইভ স্টার হোটেলে একজনের একবেলার খাবারের মূল্য পরিশোধ করেন। এর কোনো অর্থ হয়, শিট, বুলশিট।
 

ওঁর অফিসের রিভলবিং চেয়ারের তোয়ালের দামই ৩৮০০ টাকা, ব্যাংকক থেকে আনিয়েছেন। এ দেশে যিনি যত বড় স্যার তাঁর চেয়ারের পেছনের তোয়ালে তত দামী ! সোনার দেশের সোনার সন্তানেরা টয়লেটের জিনিস অফিসে সাজিয়ে রাখেন। কী বুদ্ধিমান সব বুদ্ধিজীবী! খোদা না করুন কোন এক দিন টয়লেটের ওই জিনিস...।

এস, বি সাহেবের কেমন চাপা কষ্ট হচ্ছে। আহা নিঃস্ব-দুঃখীদের জীবন পাল্টে দিতে পারলে বেশ হতো। এটা কি করে সম্ভব ? কখনও এসব নিয়ে ভাবেননি। আজ ভেবে কূল পাচ্ছেন না। ইয়েস, এই তো সেদিন টেলিভিশনে নাটক দেখছিলেন। কি যেন নাম নাটকটার, হিমু না ভিমু? ধনীর এক দুলাল দূর্ভাগাদের জীবন কাছ থেকে দেখার জন্যে আলগা দাড়ি লাগিয়ে সুয়েরেজ পাইপের ভেতরে গিয়ে বসে থাকে। নিশিতে দিব্যি দুই ঠ্যাং উপরে তুলে আরামে ঘুমুতে যায়। ওয়াও, কী সোন্দর-কী সোন্দর! এমন অতিমানব হতে পারলে মন্দ হতো না- এ বয়সে কি এতোটা সইবে? প্রাণটা হু হু করছে। একটা কিছু করতেই হবে।
 

তীব্র ইচ্ছা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। ১৩১০ গ্রাম ওজন বিশিষ্ট মস্তিষ্কে প্রবল চাপ পড়ছে। মনে হচ্ছে সদ্যজাত শিশুর ৩৮০  গ্রাম মস্তিষ্ক হয়ে গেছে, ব্রেন প্রায় ড্রেন। অবশেষে স্থির সিদ্ধান্তে পৌছলেন পান্তাভাত খাবেন। এই ডিশটা নাকি গরীব-টরীবরা হরদম খেয়েই যাচ্ছে। এদের খাবার খেয়ে এদের বেদনা উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। তার সমস্ত পরামর্শকদের নিষেধ উপেক্ষা করলেন। জিনিসটা খাবেন, খাবেনই। ছাড়াছাড়ি নাই।

কী কুৎসিত, বাসার তিনজন বাবুর্চীর কারো এটার রন্ধন প্রণালী জানা নেই। তিনি ইংরেজীতে খুব নরম একটা গালি দিলেন, যার আদ্যাক্ষর এফ। প্রচুর টাকা কবুল করে অং বং চং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে শেফ ভাগিয়ে আনা হল। চীনা 

বাবুর্চীকে বললেন, তুমি কি ফাক কারিতে জানো? 
চীনা সাহেব কি বুঝলেন কে জানে, লজ্জায় লাল-নীল হয়ে গেলেন। ভুল বুঝেছেন বুঝতে পেরে স্বস্তির শ্বাস ফেলে জানালেন রেসিপি এনে দিলে জিনিসটা রান্না করতে পারবেন। অসংখ্য দুর্লভ রান্নার বই চিবিয়ে সবার গলদ্ঘর্ম অবস্থা। কোথাও এ জিনিসের বর্ণনা নেই। একজন বলল, কেকা ফেরদৌসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ওনাকে পাওয়া গেল না, তিনি মহা আত্মীয়ের চ্যানেল ব্যতীত অন্য কোথাও কালো চশমা পরা মুখ দেখান না।
 

এস, বি সাহেবের এক উপদেষ্টা চট করে এ সমস্যার সমাধান করলেন। এক হাভাতেকে ধরে আনা হলো। সাহেব বাবুর্চীর ক্ষীণ সন্দেহ হলো এই চলমান এক্স-রে প্রিন্ট কি কথা বলতে পারবে ? ইতস্তত করে বললেন, ‘টুমি খি ফাক কারিতে ঝানো ফান্টাভাট ?’
হাভাতে চোখ চকচকে করে বলল, ‘জ্বে না, ফান্টা কুনু সুময় খাই নাইক্কা। নাম হুনছি, চোক্কো দেখছি, সূর্যের লাহান অয়। নাল।’
এস, বি সাহেব অনতিদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার বমি ভাব হচ্ছে। হারামজাদার শরীর থেকে বিকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। গা কেমন গুলাচ্ছে, নি:শ্বাস বন্ধ করে রেখেছেন। নি:শ্বাস সর্তকতার সঙ্গে ছেড়ে বললেন, ‘না না, তুমি যা ভাবছো তা না। পান্তাভাত খাও তো?’
হাভাতে ভারি অবাক হল, ‘ইডা কেমুন কতা, পান্তাভাত দাদায় খাইছে বাপেও খাইছে, আমি খাই, আমগো পোলাও খায়, হের পোলাও খাইব।’
 

এস, বি বিরক্ত, আরে হা...এ দেখি অবিকল রাজনীতিবিদদের মত কথা বলছে। বাপ দেশ চালাইছে, আমিও চালাই, আমার পুলাও চালাইব। এস, বির রাগি গলা: খামোশ, ফড়ফড় করবে না। এখন বলো এটা কি করে রান্না করতে হয়?
হাভাতে: ইডা কেমতে রান্ধন লাগে আমাগো জানা নাই।
এস, বি: কামন কঙ্কাল বডি, খাচ্ছ অথচ রাঁধতে জানো না!
হাভাতে : আইজকার ভাত পানি দিয়া থুয়া দিমু, কাইল হেই পানিভাত খামু।
এস, বি: এই বিশেষ পানি কোত্থেকে আনো?
হাভাতে: কি কন বুঝি না। বালা পানি বেবার করি। আমগো ডোবাডা আছে না, দেহেন নাই? ওই যে লাইন ধইর‌্যা টাট্টি বানায়া রাখছে। হের তলে থিক্যা।
 

এস, বি সাহেব শিউরে উঠলেন। মনে হচ্ছে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। টলে উঠতে গিয়ে সামলে নিলেন। এ সমস্যারও সমাধান হলো। পানির বদলে মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করা হবে। 
বুভুক্ষুটার খাওয়া আট মিলিমিটার সুপারফাস্ট ক্যামকর্ডার ভিডিও মুভি ক্যামেরায় বিভিন্ন এঙ্গেলে ছবি নেয়া হয়েছে। তিনি চাচ্ছেন অবিকল ভঙ্গিটা। পান্তাভাত কাটা চামুচ দিয়ে মুখ বন্ধ করে খেলে তো হবে না। গ্রোগ্রাসে গপাগপ করে গিলতে হবে। সিনামা পাড়া থেকে একজন দুর্দান্ত অভিনেতাকে আনা হয়েছে। ইনি এখনো ষাট বছর বয়সে চুটিয়ে কলেজ ছাত্রের অভনয় করেন। তিনমনি এই অভিনেতা একমন ওজন বিশিষ্ট পেটটা ভাসিয়ে আদুল গায়ে পা ছড়িয়ে বসেছেন। ভিডিও ক্যাসেট দেখে দেখে খাওয়ার ভঙ্গিটা রপ্ত করছেন এবং এস, বি সাহেবকে শেখাচ্ছেন।
 

ক’জন ডাক্তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। এদের প্রত্যেকেরই আছে নিজ পেশায় অভাবনীয় সুনাম এবং নামের পেছনে এ.বি.সি.ডি ওয়াই, জেড কাড়ি কাড়ি বিজাতীয় অক্ষর। দুটা এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, একটা বিকল হলে অন্যটা কাজে লাগানো হবে। হাতের নাগালে ওরাল স্যালাইন, আই ভি ফ্লুইড রাখা হয়েছে। ফুড পয়জনিং হলে অন্য ব্যবস্থা।
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, অতি প্রত্যুষে এস, বি সাহেব পান্তাভাত খাবেন। নতুন একটা সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে আরম্ভ হবে অন্য রকম একটা দিন। রাতেই তিনি মা’র পা ছুঁয়ে সালাম করলেন: মা, দোয়া করো আমার জন্যে। আমি পান্তাভাত খেতে যাচ্ছি।
এস, বি সাহেবের মা কী অবাকই না হলেন! আহা, কতো দিন, কতো দিন পর তার সন্তান গাঢ় স্বরে তাঁর কাছে আসল, তাঁকে ডাকল, আহা, কী গভীর মমতায় তাকে ছুঁয়েছে: খোকা-খোকা, অ খোকা, পা-পান্তা ভা-ত কি বলছিস ছাইপাশ, এটা খাবি কেন, কি কষ্ট তোর!
ও তুমি বুঝবে না, মা। সমস্তটা জীবন হেলাফেলা করে কাটিয়েছি। এবার মানব সেবা করতে চাই।
মার বিস্ময়ের শেষ নেই, এটা খেলে মানব সেবা হবে? খেতেই যদি হয় তোর বদলে অন্য কেউ খাবে, তুই কেন? তোর সব কাজই তো অন্যরা করে। এটাই নিয়ম।
 

এস, বি সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অজান্তেই মা বড়ো ভুল বলেননি। তার বাবা হওয়ার ক্ষমতা নেই অথচ ছেলেটা আরিজোনায় পড়াশুনা করছে।
মনখারাপ করা শ্বাস ফেলে বললেন, তা হয় না মা। এ মহান কাজটা আমায় করতেই হবে। সকাল সকাল তোমার ঘুম ভাঙ্গাতে চাই না বলেই এখন আসলাম। এইবার বিদায় দাও।
এস, বি সাহেব বেরিয়ে যেতে যেতে ভাঙ্গা অস্ফুট গলায় গাইলেন: একবার বিদায় দে মা পান্তা ভাত খেয়ে আসি। আঁ আঁ আঁ আঁ।

তিনি ভোরের অপেক্ষা করছেন। কী অসহ্য অপার্থিব একটা ভোরের প্রতীক্ষা। কিন্তু ভোর তো আর হয় না, মনে হচ্ছে প্রিয় মানুষের লাশ সামনে নিয়ে বসে আছেন। ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না। কেউ কেউ ভোরের প্রতীক্ষা করে করে শেষ প্রহরে হাল ছেড়ে দেয়, এ ভুবন থেকে অন্যভুবনে যাত্রা করে। তিনি হাল ছাড়বেন না। পান্তা খাবেন, খাবেনই- ছাড়াছাড়ি নাই।"