Wednesday, April 28, 2010

বিবেকের সঙ্গে কথোপকথন

কপাল, একজন আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। বিবেক নামের এই জিনিসটার কাছ থেকে পালিয়ে থাকা অসম্ভব! এ আমারই একটা অংশ। তার উপর এর আছে বিপুল ক্ষমতা- পশু এবং শিশু নামের দুই হাত। এর এই দু-হাতই আবার সমান চলে! একে আমার বড়ো ভয়- পশু এবং শিশু লুকিয়ে থাকে ঘাপটি মেরে, কখন কে যে বেরিয়ে আসবে এটা আগাম বলা মুশকিল। মহাপুরুষরা হয়তো এদের তোয়াক্কা করেন না কিন্তু অতি সাধারণ একজন আমার পক্ষে একে তাচ্ছিল্য করার কোন উপায় নেই।
নিরুপায় আমি বিবেকের মুখোমুখি হই, ভয়ে-ভয়ে। আমি জানি এ আমাকে নিয়ে কী খেলাটা খেলবে। এ সহাস্যে একের-পর-এক অস্ত্র আমার দিকে ছুঁড়ে দেবে। আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে পাগলের মত হা-হা করে হাসতে থাকবে। আমাকে পরাজিত করতে পারলে এর আনন্দের শেষ নেই!

আমি: (ম্রিয়মান) বিবেককে গলায় বলি, বলো, আমাকে খুঁজছিলে কেন?
বিবেক: কি, আমাকে ভয় করে বুঝি! তোমার নামে এখন এন্তার অভিযোগ। বিবেক মানে আমাকে বিকিয়ে তুমি নাকি জার্মানি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছো, এটা কি সত্যি?
আমি: জ্বী সত্য, অতি সত্য। তবে জার্মানি যাওয়ার জন্য না, ঘটনা ভিন্ন। জার্মানি নৌকায় করে যাওয়াটা তো বুদ্ধিমানের কাজ না। সময় লাগবে অনেক, তাছাড়া খাওয়ার জন্য যে চিড়া-গুড় নেয়া হবে, আপনি ভেবে দেখেছেন, ক-বস্তা লাগবে! নৌকা এতো ভারও সইবে না। নৌকার ওজন কমাবার জন্য আমি বস্তাগুলো মাথায় নিয়ে বসে থাকব বুঝি?
আসলে আমার লোভটা হচ্ছে প্লেন মানে হাওয়াই-জাহাজে চড়া। হাওয়াই-জাহাজে আগে গেছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। এইবার আমাকে বলা হয়েছে বসার ব্যবস্থা হবে এবং ’গেইট-লক’ থাকবে।
 
বিবেক: আমার সঙ্গে রসিকতা করবা না। তোমার আসল অনুভূতিটা বলো?
আমি: আগেও অনেকবার বলেছি, আবারও বলি, আন্তর্জাতিক একটা পাটাতনে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ শব্দটা বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, আসছে; এর কাছে আমার নিজের আনন্দ তুচ্ছ। এখন মরে যেতেও সুখ, মৃত্যুঘুমটা হবে গাঢ়।
আরেকটা অভাবনীয় কান্ড এরিমধ্যে ঘটে গেছে। নেটে যারা লেখালেখি করেন এঁদের কারও কারও ভাবনার-লেখার হাত এতোই শক্তিশালী এই দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকও পাত্তা পাবেন না। আমি ডয়েচে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, 'হয়তো আমি এখানে চলে এসেছি কিন্তু এমন অনেক ব্লগার নামের লেখক আছেন যারা এখানে আসতে পারেননি, কিন্তু পারলে আমি এঁদের হাত সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিতাম। 
কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার ব্লগার নামের লেখকদের প্রতি ছিল সীমাহীন তাচ্ছিল্য। প্রিন্ট মিডিয়া ব্লগার নামের লেখকদের ন্যূনতম সম্মানটুকুও কখনো দেখাননি।
আমি ডয়েচে ভেলের কাছে নতজানু হই, এই কারণে না যে এরা আমাকে এই সম্মানটা দিয়েছেন, এঁরা প্রিন্ট মিডিয়ার মুখে সজোরে একটা চপেটাঘাত করেছেন। থাপ্পড়ের শব্দটা আমি বিলক্ষণ টের পাই। এটা একটা ব্লগার নামের লেখকদের বিপুল বিজয়, অভূতপূর্ব। এই বিজয় মিছিলে আমার সহযোদ্ধাদের পাশে আমিও একজন। আমি এই দেশের সুশীল সমাজের লোকজনের চেয়ে আমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে থাকতে পেরে গর্বিত।
আমি নির্মলেন্দু গুণের [১৫] মত বড়ো মাপের মানুষ না যে আমার দেশকে নিয়ে মার্কিন মুল্লুকের এক কবি গ্রেগরী করসো অতি কুৎসিত কথা বলবে, অঙ্গভঙ্গি করবে, রসিকতা করবে আর আমি উঁচিয়ে লেজ নাড়তে থাকব। ডয়েচে ভেলে আমার সঙ্গে এর চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো আচরণ করে দেখুক না, আমি এক মুহূর্তও না-ভেবেই বলব, আপনাদের জিনিস আপনাদের কাছেই রাখুন, এটাই শ্রেয়।
বিবেক: তুমি নাকি ভীতু-নির্বিষ টাইপের মানুষ?
আমি: হুঁ। আসলে আমার নিজের ঢোলটা খুব পাতলা চামড়ার তো। পারতপক্ষে বাজাই না ফেটে যাওয়ার ভয়ে, অবশ্য মাঝেমধ্যে টোকা দিয়ে দেখি সচল আছে কিনা। এই দেশের অসম্ভব শক্তিশালী একজন মানুষকে চটি দিয়ে পিটিয়ে ছিলাম কেবল তার এই অহং বোধের কারণে, এই দেশে নাকি তার কেশ স্পর্শ করার কেউ নাই। অবশ্য এও সত্য আমি তার কেশ স্পর্শ করিনি, কেবল আমার চটি তাকে স্পর্শ করেছে। 
তেমনি আমার মাকে, আমার দেশকে নিয়ে কেউ কুৎসিত কথা বললে সে স্রেফ খুন হয়ে যাবে। এটাই আমার আইন, জঙ্গলের আইন। একজন নির্বিষের ভঙ্গি।
যেদিন এই লেখাটা লিখছিলাম, "লাশ-বানিজ্য-পদক" [১৬]; এই লেখাটা শেষ করতে করতে ভোর হয়ে গেল। সকালেই ব্র্যাকের প্রতারণার কারণে আমার আগাম জামিন নিতে যাওয়ার কথা। আমার পরিবারের লোকজন ছিলেন সত্রাসে, আমি এদের চোখের ভাষা স্পষ্ট পড়তে পারছিলাম: কি অধিকার আছে তোমার, আমাদের প্রতি এই অন্যায় করার? তোমার কি দায় পড়েছে এদের নিয়ে এই মুহূর্তে এটা লেখার?
কিন্তু আমি গা করিনি কারণ ওই দিনই ব্র্যাকের অত্যাচারে একজন মানুষ অসম্ভব লজ্জায়-বেদনায়-ক্ষোভে মারা গিয়েছিলেন। তখন এমন ভীতু না হয়ে আমার উপায় ছিল না। আমি আমার কলমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
একজন একবারই মারা যায়, প্রতিদিন মারা যায় নপুংশক! আমি জানি, আমি একজন মিছামিছি যোদ্ধা কিন্তু আমার গলিত শব থেকে জন্ম নেবে অসংখ্য সত্যিকারের যোদ্ধা। যাদের তলোয়ারে থাকবে সূর্যের অমিত তেজ! সব অন্ধকার তারা ছিন্নভিন্ন করে দেবে।

বিবেক: এ কী শুনতে পাই! তুমি নাকি আবেগে 'ছিনান' করার কারণে বিক্রি হয়ে গেছ?
আমি: ক্কি-কি বললে, কী সর্বনাশ! তা আমার নিজেকে বিক্রি করে দেয়ার টাকাগুলো ক্কো-কোথায়? কই, সুইস ব্যাংকের ম্যানেজার নতুন কোনো অংকের টাকা জমা হয়েছে এমনটা বলেনি তো, ব্যাটা রাস্কেল একটা! ইয়ে মানে আমার বিক্রির বাজার মূল্যটা কত এটা কি জানা গেল?

বিবেক: (বিবেক এই প্রশ্নের উত্তরের ধারেকাছেও গেল না। ঠোঁট গোল করে বলল), তোমাকে যে একজন অহেতুক কুৎসিত গালি দিল, তুমি দেখি ঝিম মেরে রইলে?
আমি: দেখুন, আমি আগেও বলেছি, আবারও বলি, আমরা যেসব কুৎসিত কথা বাসায়-সামাজিক পরিবেশে বলতে পারি না সেটা এই ভুবনে এসে বলি, এ তো নতুন কিছু না! আর গালির উত্তরে আমি তো গালি দেব না কারণ এতে ওই মানুষটা জয়, আমার পরাজয়। আমার নিজেকে পরাজিত দেখতে ভালো লাগে না।

বিবেক: স্বাধীনতা নিয়ে তোমার অনেক পোস্টই নাকি কান্নাকাটি, কঠিন জিনিস কিছু নাই।
আমি: একদম ঠিক। কঠিন জিনিস থাকবে কেমন করে? এই দেশটা যে গুটিকয়েক মানুষ স্বাধীন করে ফেলেছিলেন, আমি তো তাঁদের নিয়ে লিখি না।  দলবাজি [২৫] ব্যতীত এই দেশে দলছুট মানুষদের স্থান কোথায়- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও দল আছে?
আমি লিখি, একজন অতি সাধারণ নেতা [৫], সামান্য হিন্দু একটা মেয়ে ভাগীরথী [৯], গোলাম আজমের বিপক্ষে দুর্বল যুক্তি [৬] [৭], আদি-মানুষ নামের একমাত্র বীর বিক্রমের কথা [১২], আদি-নারী প্রিনছা খেঁ [৮], একজন ভিনদেশি [১৭], বীরাঙ্গনা রীনার প্রলাপ [১০], তুচ্ছ একজন সুইপার [২], অযথা বকবক করা একজন কথাবাজ [৪], ঠিক ১৬ ডিসেম্বরে রঙ্গে আত্মহত্যা করা একজন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর আনন্দ(!) [১৩] [১৪], একজন সামান্য ঠেলাওয়ালা [১১]! দশ বছরের বালকের খেলা [২৪]। আমার লেখা এমন ফালতু কান্নাকাটিমার্কা কতশত পোস্টের কথা বলব, বলো?
শোনো, ওই সব নব্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বলো, হ্যাঁ, এদের নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি কাঁদি, এতে আমার কোন লাজ নাই। প্রয়োজন মনে করলে হাজার-হাজার মানুষের সামনে কাঁদব, আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদব। আমি আমার 'ফ্রিডম' [২০] বইয়ের ভুমিকায় লিখেছিলাম, "বীরাঙ্গনা রীনা, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পা ধরে রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি বলবেন: এ প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন।"
বীরাঙ্গনা রীনা এখনো বেঁচে আছেন। তুমি ওইসব নব্য মুক্তিযোদ্ধাবালকদের বলো, তাঁকে খুঁজে দিতে, এরপর খেলাটা দেখো, লাইভ। হাজার-হাজার মানুষের সামনে তাঁর পা ধরে বসে থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি মুখে এই কথাটা বলবেন: তিনি এই প্রজন্মকে ক্ষমা করেছেন।
হাহ, এদের আমি বলি, বাছা, ২০০৫ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন লেখা শুরু করেছিলাম তখন মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ২০১০ সালের মত এমন সহজলভ্য ছিল না। আমার মনে আছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তথ্যের প্রায় ১৫০০০ কপি ফটোকপি করেছিলাম। আমার এলাকায় তখন একটাই মাত্র ফটো-কপিয়ার মেশিন। আমার যন্ত্রণায় মেশিন বসে গিয়েছিল। আমি জানি না, মেশিনের বদ-দোয়া লাগে কিনা, হলে ভস্ম হয়ে যেতাম!
তখন চোর হয়েছিলাম সত্য! উপায় ছিল না যে- মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত একেকটা বইয়ের কী দাম! আমাদের হুমায়ূন স্যারও [১৯] বইয়ের দাম রাখেন হাতের নাগালের বাইরে অথচ এই মানুষটা ইচ্ছা করলেই মূল্যটা কম রাখতে পারতেন!
আহা, আমি এই সব দেশপ্রেমিকদের(!) কেমন করে বোঝাই একেকজনের যুদ্ধ করার ভঙ্গি [৩] একেক রকম! যারা নিজেকে ছোট করতে গিয়ে প্রকারান্তরে নিজের মাকে গালি দিয়ে বসে এদের জন্য আমার করুণা হয়!
২০০৬ সালে 'রাজাকারকে রাজাকার বলব, ছড়াকার না' [২৩] এমনসব লেখা লিখে রাতে অনবরত ফোনে হুমকি, কত নির্ঘুম রাত। বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করা।
ওহে বালক, বৈদেশে বসে লম্বা-লম্বা বাতচিত করা সহজ। যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে যুদ্ধ করা আর নিরাপদ দূরুত্বে থেকে পেট ভাসিয়ে ডিভিডিতে যুদ্ধের ছবি দেখায় অনেক তফাত।
বিবেক: তোমার সহযোদ্ধা-প্রতিযোগিদের একজন, তোমার নামে বিস্তর অভিযোগ এনেছেন। প্রথম অভিযোগ তুমি নাকি 'গরীব প্রতিনিধি'?
আমি (হড়বড় করে): এই প্রশ্নটা বাদ দেয়া যায় না? কেন না এর মাথায়...?
বিবেক (চোখ লাল করে): আমি প্রশ্ন করব তুমি উত্তর দেবে, ব্যস। এখন বলো, এই বিষয়ে তোমার মত কি?
আমি (বিষণ্ন): দেখো, এটা কঠিন একটা প্রশ্ন। এখানে অনেক অভিযোগ এবং এই নামটার পেছনে আছেন চালবাজ কিছু মানুষ, ওই সাইটটার স্নেহের ছায়া এদের মাথায়। একেক সময় এটার পেছনে একেকজন মানুষ থাকেন, যখন যিনি থাকেন তখন তার ভাবনা প্রতিফলিত হয়। কার কথা আমি আলাদা করে বলব?
আর গরীব দেশের প্রতিনিধি গরীব হবে এ আর বিচিত্র কী! ফতুয়া ছেড়ে স্যুট-টাই পরলেই কি? তবে এরা আমার ভাবনাকে গরীব-নির্বোধ ভাবেন এটা দেখে ভাল লাগে না।
এরা আমাকে বড়ো বেশী নির্বোধ ভাবেন, আমি হাসি। যে মানুষটা ফোনে আমাকে অভিনন্দন জানান তিনিই আবার আমার অর্জন পাওয়া নিয়ে সংশয়তা প্রকাশ করে আমার নামে কঠিন লেখা দেন। তখন মনশ্চক্ষুতে মানুষটার নগ্নতা আমার চোখে ভেসে উঠে। বুঝলে, নগ্ন একজন মানুষ দেখতে ভালো লাগে না। আমার কাছে তো এদের সবার ৪ বছর আগের মন্তব্যগুলোরও প্রিন্ট-আউট আছে, ওগুলোও পড়ি। হা হা হা। এখন মিলিয়ে আমি খুব মজা পাই।
এরা যে ট্রেনের যাত্রী, একদা সেই ট্রেনের আমিও ডেইলি প্যাসেঞ্জার ছিলাম। একটা ট্রেনে বিচিত্রসব যাত্রী থাকেন, কেউ কেউ আবার দেশ উদ্ধার করেন! কেউ কেউ উঠেই বই পড়তে বসে যান কিন্তু কান তো আর বন্ধ থাকে না। কানপাকা ওষুধের বিজ্ঞাপন কানে না-গিয়ে উপায় কী!
বিবেক: যা প্রশ্ন করব তার উত্তর দেবে? বাড়তি কথা বন্ধ। এরা বলছে, তোমার সাইট মাসে ৫০ জন থেকে ১০০ জন ভিজিট করতেন? কথা সত্য?
আমি: মিথ্যা। ৫০ জন ভিজিট করতেন এই হিসাবটা দেখছি এরা অনেক আঁক কষে বের করেছেন। এ তো সোজা হিসাব। ৫০ না, সংখ্যাটা হবে ৩০। কারণ আমি নিজে প্রতিদিন একবার করে আমার ভিজিট করতাম, মাসে ৩০। তবে পর্ণো সাইটগুলো থেকে আসা ভিজিটর প্রচুর। 'আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি' [২৬], নামে মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত আমার একটা লেখা আছে। কেউ গুগলে 'ইয়ের দুধ' লিখে সার্চ দিলে আমার ওই লেখায় নিয়ে হাজির করে। তোমাকে ইয়ের দুধ মানে কী এটা নিশ্চয়ই আঁক কষে বোঝাতে হবে না?
বিবেক: আমার সাথে চালবাজি কম করবা। তোমাকে আমি খোলা বইয়ের পাতার মত পড়তে পারি। আর এরা বলছে, তুমি নাকি নিজেই স্বীকার করেছ, তোমার লেখাগুলো আদৌ ব্লগিংয়ের পর্যায়ে পড়ে কিনা তুমি জানো না।
আমি: অবশ্যই স্বীকার করেছি। কারণ আমি প্রচলিত ব্লগিংয়ে বিশ্বাস করি না। ব্লগিং মানে কেবল দিনলিপি হতে হবে কেন? একজন ব্লগার তো পর্ণোস্টার না যে সে কার  সঙ্গে বিছানায় গেল তা ফি-রোজ লিখে জানাবে। ব্লগার নামের একজনকে লেখকের কাতারে আসতে হলে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটাই ছিল আমার বলার মূল বক্তব্য।

বিবেক: একটা সাইটের হর্তাকতা [২২] নাকি তোমার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করেছেন?
আমি: ওই সাইটের হর্তাকর্তার পোস্টটা ছিল ভোটের শেষ দিনে দেয়া। একজন ভিনদেশী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে যায়। হোক ভুলভাল বাংলা, তাতে কী! আর প্রচারণা বলতে আমাকে ভোট দিতে বলা হয়নি, কেবল বলা হয়েছিল, আমার এই সাইটটা ২৮% এগিয়ে আছে। তো, তখন পর্যন্ত আমার সাইটটা পরের প্রতিযোগিদের কাছ থেকে প্রায় ৩ গুণ এগিয়ে ছিল। 'ভোট-দমকল' লাগিয়ে ভোট দিলেও এই ব্যবধান কমানো যেত এমনটা জেনে ভালো লাগল। আগামীতে এই দেশে 'ভোট-দমকল' এবং 'মাইনাস-দমকল' এই দুইটা মেশিনের বিপুল চাহিদা হবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।

বিবেক: আরেকটি সাইট (গ্লোবাল ভয়েসেস) [২১] তোমার সাক্ষাৎকার প্রচার করেও ফলাফল প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ আছে?
আমি: সাক্ষাৎকারটা নেয়া হয় ভোট শেষ হওয়ার মাত্র ৩দিন পূর্বে। বাংলা ভাষার প্রতি মমতাই মানুষটার কাল হয়েছে! মাত্র ৩ দিন পূর্বে মানুষটা প্রভাবিত করে কয় পার্সেন্ট বাড়িয়েছেন, এই সব ফাঁকা মাথার লোকজনরা হিসাব করে দেখছে না কেন? 'কেলাশ ওয়ানের' বাচ্চার কাছ থেকে জেনে নিলেই হয়, ২০ পার্সেন্ট আর ২০টা ভোট এক কথা না।
চর্বিতচর্বন-জাবরকাটি না, পূর্বের কথাই: 'ভোট-দমকল' এবং 'মাইনাস-দমকল'। পুরোদমে চালু, এটাই এদের ফাঁকা মাথায় ঘুরপাক খায়!।
বিবেক: তোমাকে নাকি ২০ জন ব্লগার চেনে?
আমি: ভুল। ২০জন না, একজন। আমি নিজে। না, ভুল বললাম। আমি নিজেই নিজেকে চিনি না। এই সব নিয়ে গবেষণা করার কিছু নাই। যা সত্য আমি তাই স্বীকার করি। যেমন ধরো, গোপন সূত্রে আমার কাছে খবর আছে, প্রতি বছর আমার বইয়ের ২টা কপি বিক্রি হয় [১৮]। একটা কেনে আলী মাহমেদ অন্যটা শুভ।
শোন বিবেক, তোমায় বলি, এরা আমাকে, জুরিকে, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী লোকজনকেই কেবল খাটো করছে না, করছে বাংলা ভাষাকে, বাংলাদেশকে। প্রায় ৫০ কোটি মানুষ হিন্দিতে কথা বলে, কই, হিন্দি ভাষা তো ওখানে নাই! কেন নাই, ওই কুতর্কে গেলাম না? কিন্তু নাই। কিন্তু বাংলা আছে!
এইবার আমার মেজাজ খারাপ হয়। বিবেককে বলি, তোমার সঙ্গে আমার খুনাখুনি হলে তুমিও মরবে এবং যথারীতি আমিও। এই বিষয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ায় যাদের লেজ কেটে যায় এটা বলে আগ বাড়িয়ে যারা তথ্য দান করেন এবং প্রতিযোগি হয়েও নিজেই পোস্ট দেন। অন্তত অন্য কাউকে দিয়ে দেয়ার মত যাদের মাথায় ঘিলু নামের পদার্থই নাই তাদের বিষয়ে কী-বোর্ড চাপতে ক্লান্তি লাগছে। ওহে, বিবেক, শেষ কথা বলে তোমার সঙ্গে আলাপচারিতার এখানেই সমাপ্তি এবং শুভ রাত্রি!
শেষ কথাটা হচ্ছে, পূর্বে লিখেছিলাম, 'মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, কুত্তার দুধ না। আর মানুষের মাথায় মানুষের মগজ থাকবে, শুয়োরের না'।
এখন এর সঙ্গে এখন যোগ করি এবং এদের জন্য প্রার্থনাও করি, কিছু মানুষদের মাথায় পশুর হোক আর যারই হোক কোনো-না-কোনো একটা মগজ থাকুক। মগজবিহীন মানুষ দেখতে ভালো লাগে না।

সহায়ক সূত্র:

  1.   দেশমা এবং তার খুনি সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_17.html
  2.   মুক্তিযুদ্ধে একজন সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
  3.    নাইব উদ্দিন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
  4.   সিরাজুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_12.html
  5.   মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
  6.    মুক্তিযুদ্ধ গোলাম আযমের চোখে: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_29.html
  7.    মুক্তিযুদ্ধ এবং গোলাম আযম: http://www.ali-mahmed.com/2007/07/blog-post_3179.html
  8.    প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
  9.    ভাগীরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
  10.   বীরাঙ্গনা রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html 
  11.   মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html
  12.   উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
  13.   সুরুয মিয়ার স্ত্রী: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_02.html
  14.   সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
  15.   অ্যালেন গিনসবার্গ, নির্মলেন্দু গুণ: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_7854.html
  16.   লাশ-বানিজ্য-পদক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
  17.   ফাদার মারিনো রিগন: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
  18.   ওড়নাসমগ্র: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_18.html 
  19.   হুমায়ূন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_15.html 
  20.   ফ্রিডম: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%AE 
  21.   গ্লোবাল ভয়েসেস: http://globalvoicesonline.org/2010/04/11/bangladesh-bangla-blogs-at-the-bobs-meet-ali-mahmed/
  22.   আরিলের পোস্ট: http://www.somewhereinblog.net/blog/arildblog/29134759
  23.   রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_18.html
  24.   লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html
  25.   দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html 
  26.   আমরা দুধ বিক্রি করে...: https://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_05.html
 ... ... ...
১১.০৯.২০২০
১০ বছর পর...!
এই লেখাটার শানে-নজুল একটু বলা যাক। এই লেখায় একজন একেবারে শেষে যে মন্তব্যটা করেছেন এটা চোখে পড়ল ১০ বছর পর! ভাবা যায়! একবার ভাবলাম ডিলিট করে ফেলি কিন্তু পাঠক নামের ওই মানুষটাকে অসম্মান করা হয় আর কিছু চুতিয়াদের অহেতুক সম্মান দেওয়া হয়। এ বড় অবিচার!
ডয়চে ভেলের ওই সম্মান পেয়ে আমি এক বড় অপরাধ করে ফেলেছিলাম। এর অনেকগুলো কারণের এটাও একটা ছিল শিল্প-সাহিত্যের বাপ-মা বিখ্যাত শহর থেকে কেন অখ্যাত এক মফঃস্বলে গেল তাও আবার আমার মত এমন একজন মানুষের কাছে যার শরীর থেকে ভক করে সরষে তেলের গন্ধ বের হয়, এখনও! এ সহ্য হয়, বলুন? তখন আমার বিরুদ্ধে একের-পর-এক কামান দাগা শুরু হল। 'আমার ব্লগ' নামে একটা ব্লগসাইট চালু হল, মুক্তচিন্তার নামে। কী ধরনের মুক্তচিন্তা? একজন যে কথাটা তার পরিবারে বলতে পারবে না সে সেটা এখানে এসে বলবে। অতি কুৎসিত গালিগালাজের টুকরিটা উপুড় করে দেবে। বিষয়টা ধরুন এই রকম, এরা চাচ্ছে ল্যাট্রিন ওরফে হালের ওয়শরুমের কোনো দরোজা থাকবে না। কারণ সোজা! এরা হলুদফুলে যে খেলাধুলা করেন ওখানে সেটা জনে-জনে দেখাতে চান। 'আমার ব্লগ' নামের এই সাইটটা এই ব্লগস্ফিয়ারের ভয়াবহ ক্ষতি করে দিল। এরা অজস্র দানব সৃষ্টি করল, বানরের হাতে ক্ষুর ধরিয়ে দিল। বিশেষ করে 'আমার ব্লগে' আমাকে নিয়ে প্রচুর কুৎসিত লেখা ছাপা হতে থাকল। আর সেখানে আমার এক সময়ের সহযোদ্ধা অমি রহমান পিয়াল মহোদয় যিনি মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক তিনি গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেন। পশ্চাদদেশ চাপড়ে এমন উল্লসিত হন যে আবর্জনা নামের ওই লেখায় পঞ্চ-তারকা প্রদান করেন। 
যাই হোক, নীচের এই লেখাটি লিখেছিলেন, ফিউশন ফাইভ [] নামের একটা নিক। আমি এই নিকের পেছনের মানুষগুলোকে চিনতাম কিন্তু এই নামগুলো নিতে আমার ঘৃণা হয় কারণ এই প্রতিযোগীতায় এই নিকটাও ছিল। নিজে একজন প্রতিযোগী হয়ে অন্য একজন প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে এভাবে লিখে যে মানুষ তাকে চুতিয়া বললেও শব্দের অপচয়! 
  1.  "লুকার বলেছেন: শুভ কে?
    ১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৫৬
    চিরসুখী বলেছেন: লুকার আপনি ব্লগিং এ এখনো নাবালক। আপনার আব্বাজানকে জিজ্ঞেস করুন ''শুভ কে?" উনি হয়তো বলতে পারবেন।
    'সেরা বাংলা ব্লগার' আলী মাহমেদ শুভ'র পরিচয় জানতে স্পষ্টতই 'আব্বাজান' কিংবা পাড়ার মুরব্বীদের দ্বারস্থ হতে হওয়া ছাড়া আপামর ব্লগারদের বোধহয় উপায় নেই! এতো হৈচৈ করে বাংলাভাষার যে সেরা ব্লগারকে নির্বাচন করা হল, বাংলা ব্লগের 'রাজধানী' সামহোয়্যারইনে তাকে তেমন কেউ চেনেন না। অন্য ব্লগগুলোতেও দেখছি একই অবস্থা। নোটিশবোর্ডের স্টিকি পোস্টে সেই চিরপরিচিত কোলাহলের ছিঁটেফোটা নেই। এ এমন এক 'সেরা বাংলা ব্লগ', বাংলা ব্লগমণ্ডলের সক্রিয় তিন-চতুর্থাংশ ব্লগারই যা সম্ভবত গতকালই প্রথম দেখেছে, তাও নোটিশবোর্ড এবং অন্যান্য প্রচারযন্ত্রের সৌজন্যে।
    সেরা ব্লগের গরিবি হাল:
    কাউন্টার বিশ্লেষণ করে দেখলাম, প্রতি মাসে আলী মাহমেদের ব্লগের পেইজভিউ ১০০০ এর মতো। তার মধ্যে দিনে কমপক্ষে দুবার করে আসা গুগল বট তো আছেই। প্রতি মাসে ভিজিটর বড়জোর ৫০ কিংবা ১০০। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এই ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ব্লগটিতে পেইজভিউ হয়েছে দশ হাজারের মতো। যার মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ হাজার পেইজভিউ হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে বিবিধ প্রচারণার সুবাদে। পেইজভিউর তুলনায় ভিজিটর নিশ্চিতভাবেই আরো কম। বই বেচাকেনার বাজারে শহীদুল জহির অচেনা হলেও, বেশিরভাগ পাঠক তার নাম না জানলেও প্রথম আলো সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ কোয়ালিটিই সেখানে শেষ কথা। কিন্তু ব্লগিংয়ে ব্যাপারটা ভিন্ন। সেখানে মিথস্ক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ সবচেয়ে। পাঠকের অংশগ্রহণ, আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক ছাড়া যে কোনো ব্লগই গুরুত্বহীন। কৌতূহল জাগা খুব স্বাভাবিক, এ কেমন সেরা ব্লগ, যেখানে পাঠকের কোলাহল নেই, সমালোচনা নেই, আলোচনা তো নেই-ই, বিতর্ক তো দূরের? শুভ'র পুরো ব্লগ মিলিয়ে প্রায় ৫০০ লেখায় পাঠকের মন্তব্য ৫০টির বেশি হবে বলে আমার মনে হয় না। ভাবা যায়! শুভ অবশ্য নিজেই সেটা অস্বীকার করেননি, 'তারচেয়ে আমার নিজের সাইটে যখন লিখি, লিখে বড়ো আরাম পাই। বাড়তি চাপ নাই। যে অল্প পাঠক সাইটটা ভিজিট করেন তারা মূলত পড়ার জন্যই আসেন।'
    কী ছিল মানদণ্ড?
    ডয়েচে ভেলে ব্লগ প্রতিযোগিতায় সেরা ব্লগার নির্বাচনে বিচারকদের মানদণ্ড কী ছিল আমি এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। যে ব্লগে পাঠক নেই, যে ব্লগে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক নেই, যে ব্লগে এমনকি ভিজিটরও নেই- সেটা কিভাবে সেরা ব্লগ হয়? সাহিত্যমান? তাহলে তো বাংলাদেশের সেরা দুটি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া আহমাদ মোস্তফা কামালের নিজস্ব সাইটটি কিংবা তার নিজস্ব ব্লগটি সেরা ব্লগের পুরস্কার পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার। এমনকি সেই বিবেচনায় সুমন রহমানের 'বিদ্যাকূট' কেন নয়?
    সবচেয়ে বড়ো সত্য, যা হয়তো তিক্তই, সেরা বাংলা ব্লগের পুরস্কার পেল এমন একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, যা কিনা আদতে ব্লগ নয়। রেজওয়ানের সঙ্গে কথোপকথনে শুভ নিজেই দ্বিধান্বিত, "অবশ্য আমার লেখাগুলো আদৌ প্রচলিত ব্লগিং-এর পর্যায়ে পড়ে কিনা আমি জানি না।"
আরিলকে আমরা শুভ'র পক্ষে এক ধরনের অবৈধ প্রচারণা চালাতে দেখেছি। ব্লগার রেজওয়ানের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি থেকে আমরা জেনেছি, ডয়েচে ভেলের অন্তত দুজন বিচারকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে তার। এই দুজন বিচারক হলেন আমিরা আল হোসাইনি (বাহরাইনের ব্লগার আর সাংবাদিক) এবং ক্লেয়ার উলরিচ (ফরাসী ব্লগার আর সাংবাদিক)। এই ঘনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন গ্লোবাল বাংলা ভয়েসেসের দীনহীন বাংলা সংস্করণে রেজওয়ান আগবাড়িয়ে শুভর সাক্ষাৎকার নিয়ে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেন। প্রসঙ্গত, রেজওয়ানকে আমরা সামহোয়্যারইনবিরোধী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত বলেই জানি।

শুভ নয়, জিতেছে অশুভ রাজনীতি:
তবে আমরা যারা ব্লগের বাইরেও বিশদ খবর রাখি, তারা জানি, আলী মাহমেদ শুভ চমৎকার একজন লোক। লিখেনও খুবই ভালো। প্রকাশিত বই আছে গোটাকয়েক। রাজধানীর বাইরে তুলনামূলক অনগ্রসর ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে একজন লোক প্রায় নিয়মিত অনলাইনে নিজের অনুভূতিমালা লিখছেন- সে তো ভাবলেই অবাক লাগে। সেই শুভকে গত ১৫ এপ্রিল ডয়েচে ভেলে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সেরা বাংলা ব্লগের পুরস্কারটি পেতে দেখে আনন্দিত হয়েছি অবশ্যই। অন্তর থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। আমি জানি, শুভ নিজ গুণেই জেতার যোগ্যতা রাখেন, কিন্তু পরশু যে শুভকে আমরা জিততে দেখলাম, তাকে জিতিয়েছে আন্তব্লগীয় কুটিল রাজনীতি, যে রাজনীতি সামহোয়্যারইনের ব্লগারদের সহ্য করে না। সুতরাং এই জয় কুটিল রাজনীতির জয়। বাংলাব্লগ একজন অ্যাম্বাসেডর পেয়েছে ঠিকই, তবে গরিব অ্যাম্বাসেডর।

শেষপর্যন্ত এটা ঈর্ষা নয়, ঘরের আলোচনা:
এটা ঘরের আলোচনা এবং এই লেখা কোনো ধরনের ঈর্ষাকাতরতা থেকে নয়। বরং জার্মান মঞ্চে গর্বিত আলী মাহমেদকে দেখার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছি। বলে রাখা ভালো, ওই প্রতিযোগিতায় যাওয়ার মতো যোগ্যই আমি নই। যদিও ভালোবেসে অনেকেই আমাকে ভোট দিয়েছেন ওই প্রতিযোগিতায়। কয়েকজন সুহৃদ সেখানে মন্তব্যও করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি নিতান্তই এক নগণ্য ব্লগার। মানুষের সঙ্গে চলি, মানুষের কথা বলি। বার্লিনের বলরুম নয়, সাধারণ ব্লগারদের সঙ্গে থাকতেই বেশি ভালোবাসি।
সাবমেরিন ক্যাবল কাটা যাওয়ায় গত কয়েকদিন ইন্টারনেট থেকে দূরে ছিলাম। প্রতিক্রিয়া জানাতে তাই দেরি হল।
 

7 comments:

T. A said...

Boss, ki saban dia dhoilen?

Mohsin Reza said...

আপনার কাজ আপনি করেন। ধুমায়া লিখে যান। কে কি বললো বা কি করল তাতে আপনার থোড়াই আসে যায়।

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

:) @T.A

:) @Mohsin Reza

মনোজ said...

আপনার সব লেখা পড়ে ফেলার মিশনে আছি। অনেকটুকু পড়লাম । মাথার ভেতর ঝড় তুলেছেন। এই ঝড়ের আবার "আই" ও নেই। আগা-গোড়া পুরোটাই ঝড়ো। দুর্দান্ত লেখেন আপনি। সাদাকে সাদা, ধূসরকে ধূসর। আশা করি অন্তরে সত্য আর বাংলাদেশকে রেখে, আরো, আরো অনেক লিখে যাবেন। শুভকামনা রইল।

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

সব লেখা? কী সর্বনাশ, বলেন কী!

আপনি কি ভাই আমার মতই ভারী অকাজের লোক? ক্যারিয়ার, আ মীন কাজকামের কী গতি হবে! @মনোজ

Anonymous said...

হাঃহাঃ হাঃ সিমু নাসের ২০১০ ২০১১ ২০১২ সালের কোরবানি থেকে এখনও বেচে আছে?
/১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:৫১
লুকার বলেছেন: শুভ কে?
১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৫৬
চিরসুখী বলেছেন: লুকার আপনি ব্লগিং এ এখনো নাবালক।আপনার আব্বাজানকে জিজ্ঞেস করুন ''শুভ কে?"" উনি হয়তো বলতে পারবেন।
'সেরা বাংলা ব্লগার' আলী মাহমেদ শুভ'র পরিচয় জানতে স্পষ্টতই 'আব্বাজান' কিংবা পাড়ার মুরব্বীদের দ্বারস্থ হতে হওয়া ছাড়া আপামর ব্লগারদের বোধহয় উপায় নেই! এতো হৈচৈ করে বাংলাভাষার যে সেরা ব্লগারকে নির্বাচন করা হল, বাংলা ব্লগের 'রাজধানী' সামহোয়্যারইনে তাকে তেমন কেউ চেনেন না। অন্য ব্লগগুলোতেও দেখছি একই অবস্থা। নোটিশবোর্ডের স্টিকি পোস্টে সেই চিরপরিচিত কোলাহলের ছিঁটেফোটা নেই। এ এমন এক 'সেরা বাংলা ব্লগ', বাংলা ব্লগমণ্ডলের সক্রিয় তিন-চতুর্থাংশ ব্লগারই যা সম্ভবত গতকালই প্রথম দেখেছে, তাও নোটিশবোর্ড এবং অন্যান্য প্রচারযন্ত্রের সৌজন্যে।
সেরা ব্লগের গরিবি হাল
কাউন্টার বিশ্লেষণ করে দেখলাম, প্রতি মাসে আলী মাহমেদের ব্লগের পেইজভিউ ১০০০ এর মতো। তার মধ্যে দিনে কমপক্ষে দুবার করে আসা গুগল বট তো আছেই। প্রতি মাসে ভিজিটর বড়জোর ৫০ কিংবা ১০০। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এই ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ব্লগটিতে পেইজভিউ হয়েছে দশ হাজারের মতো। যার মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ হাজার পেইজভিউ হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে বিবিধ প্রচারণার সুবাদে। পেইজভিউর তুলনায় ভিজিটর নিশ্চিতভাবেই আরো কম। বই বেচাকেনার বাজারে শহীদুল জহির অচেনা হলেও, বেশিরভাগ পাঠক তার নাম না জানলেও প্রথম আলো সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ কোয়ালিটিই সেখানে শেষ কথা। কিন্তু ব্লগিংয়ে ব্যাপারটা ভিন্ন। সেখানে মিথস্ক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ সবচেয়ে। পাঠকের অংশগ্রহণ, আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক ছাড়া যে কোনো ব্লগই গুরুত্বহীন। কৌতূহল জাগা খুব স্বাভাবিক, এ কেমন সেরা ব্লগ, যেখানে পাঠকের কোলাহল নেই, সমালোচনা নেই, আলোচনা তো নেই-ই, বিতর্ক তো দূরের? শুভ'র পুরো ব্লগ মিলিয়ে প্রায় ৫০০ লেখায় পাঠকের মন্তব্য ৫০টির বেশি হবে বলে আমার মনে হয় না। ভাবা যায়! শুভ অবশ্য নিজেই সেটা অস্বীকার করেননি, 'তারচেয়ে আমার নিজের সাইটে যখন লিখি, লিখে বড়ো আরাম পাই। বাড়তি চাপ নাই। যে অল্প পাঠক সাইটটা ভিজিট করেন তারা মূলত পড়ার জন্যই আসেন।'
কী ছিল মানদণ্ড?
ডয়েচে ভেলে ব্লগ প্রতিযোগিতায় সেরা ব্লগার নির্বাচনে বিচারকদের মানদণ্ড কী ছিল আমি এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। যে ব্লগে পাঠক নেই, যে ব্লগে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক নেই, যে ব্লগে এমনকি ভিজিটরও নেই- সেটা কিভাবে সেরা ব্লগ হয়? সাহিত্যমান? তাহলে তো বাংলাদেশের সেরা দুটি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া আহমাদ মোস্তফা কামালের নিজস্ব সাইটটি কিংবা তার নিজস্ব ব্লগটি সেরা ব্লগের পুরস্কার পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার। এমনকি সেই বিবেচনায় সুমন রহমানের বিদ্যাকূট কেন নয়?
সবচেয়ে বড়ো সত্য, যা হয়তো তিক্তই, সেরা বাংলা ব্লগের পুরস্কার পেল এমন একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, যা কিনা আদতে ব্লগ নয়। রেজওয়ানের সঙ্গে কথোপকথনে শুভ নিজেই দ্বিধান্বিত, "অবশ্য আমার লেখাগুলো আদৌ প্রচলিত ব্লগিং-এর পর্যায়ে পড়ে কিনা আমি জানি না।"

Anonymous said...

অনৈতিক প্রভাব, অবৈধ প্রচারণা?
আরিলকে আমরা শুভ'র পক্ষে এক ধরনের অবৈধ প্রচারণা চালাতে দেখেছি। ব্লগার রেজওয়ানের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি থেকে আমরা জেনেছি, ডয়েচে ভেলের অন্তত দুজন বিচারকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে তার। এই দুজন বিচারক হলেন আমিরা আল হোসাইনি (বাহরাইনের ব্লগার আর সাংবাদিক) এবং ক্লেয়ার উলরিচ (ফরাসী ব্লগার আর সাংবাদিক)। এই ঘনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন গ্লোবাল বাংলা ভয়েসেসের দীনহীন বাংলা সংস্করণে রেজওয়ান আগবাড়িয়ে শুভর সাক্ষাৎকার নিয়ে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেন। প্রসঙ্গত, রেজওয়ানকে আমরা সামহোয়্যারইনবিরোধী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত বলেই জানি।

শুভ নয়, জিতেছে অশুভ রাজনীতি
তবে আমরা যারা ব্লগের বাইরেও বিশদ খবর রাখি, তারা জানি, আলী মাহমেদ শুভ চমৎকার একজন লোক। লিখেনও খুবই ভালো। প্রকাশিত বই আছে গোটাকয়েক। রাজধানীর বাইরে তুলনামূলক অনগ্রসর ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে একজন লোক প্রায় নিয়মিত অনলাইনে নিজের অনুভূতিমালা লিখছেন- সে তো ভাবলেই অবাক লাগে। সেই শুভকে গত ১৫ এপ্রিল ডয়েচে ভেলে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সেরা বাংলা ব্লগের পুরস্কারটি পেতে দেখে আনন্দিত হয়েছি অবশ্যই। অন্তর থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। আমি জানি, শুভ নিজ গুণেই জেতার যোগ্যতা রাখেন, কিন্তু পরশু যে শুভকে আমরা জিততে দেখলাম, তাকে জিতিয়েছে আন্তব্লগীয় কুটিল রাজনীতি, যে রাজনীতি সামহোয়্যারইনের ব্লগারদের সহ্য করে না। সুতরাং এই জয় কুটিল রাজনীতির জয়। বাংলাব্লগ একজন অ্যাম্বাসেডর পেয়েছে ঠিকই, তবে গরিব অ্যাম্বাসেডর।

শেষপর্যন্ত এটা ঈর্ষা নয়, ঘরের আলোচনা
এটা ঘরের আলোচনা এবং এই লেখা কোনো ধরনের ঈর্ষাকাতরতা থেকে নয়। বরং জার্মান মঞ্চে গর্বিত আলী মাহমেদকে দেখার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছি। বলে রাখা ভালো, ওই প্রতিযোগিতায় যাওয়ার মতো যোগ্যই আমি নই। যদিও ভালোবেসে অনেকেই আমাকে ভোট দিয়েছেন ওই প্রতিযোগিতায়। কয়েকজন সুহৃদ সেখানে মন্তব্যও করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি নিতান্তই এক নগণ্য ব্লগার। মানুষের সঙ্গে চলি, মানুষের কথা বলি। বার্লিনের বলরুম নয়, সাধারণ ব্লগারদের সঙ্গে থাকতেই বেশি ভালোবাসি।
সাবমেরিন ক্যাবল কাটা যাওয়ায় গত কয়েকদিন ইন্টারনেট থেকে দূরে ছিলাম। প্রতিক্রিয়া জানাতে তাই দেরি হল।/