Saturday, February 20, 2010

রাতারাতি বিবাহযোগ্য বাচ্চা পয়দা হয় না


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা অনেকগুলো পলাশ গাছ ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে।
কেন?
নিরাপত্তার জন্য নাকি এই অসভ্য কান্ডটা করার প্রয়োজন ছিল।

এই পলাশ ফুলের সঙ্গে ফাল্গুন-ফেব্রুয়ারি মাখামাখি হয়ে থাকে।
পেছনে নীল আকাশ, রক্তলাল পলাশ দেখে আমাদের কত ভাবনাই না খেলা করে। আজিব একটা দেশ, ততোধিক আজিব এই দেশের মানুষ, আমাদের এই ভাবনাটাগুলোও এদের কারাগারে আটক!

ঢাকা শহর রোবট বানাবার কারখানা হয়ে যাচ্ছে, গেছে। যেসব প্রাচীন অল্প গাছ এখনো টিকে আছে এগুলো কেটে সাফ করে ফেললে পুরোপুরি রোবট হতে সুবিধে হয়। তখন আর সভ্য-সভ্য ভাব ধরে থাকার প্রয়োজন নাই, পুরোপুরি দিগম্বর হয়ে গেলেই হয়।

নিরাপত্তার অজুহাত? আগেকার জমানা হলে বলতাম, নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দিলে পলাশ গাছে কিছু হনুমান উঠিয়ে রাখলেই হয়। আহা, সেই রামের আমলও নাই সেই অযোধ্যাও নাই‍! এখন কলিকাল। এখন কি আর হনুমানজীকে অনুরোধ করা চলে?
আচ্ছা, কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বৈদেশ থেকে ট্রেনিং দিয়ে যে Sniper (A skilled military shooter detailed to spot and pick off enemy soldiers from a concealed place.) আনা হয়েছে এরা কি বিল-হাওরে পাখি শিকার করে বেড়াচ্ছেন? নাকি রাইফেলে মঘা কোম্পানির হালুয়া মাখাচ্ছেন?
এমন নিরাপত্তার সমস্যা মনে করলে এদের পলাশ গাছে উঠিয়ে বসিয়ে রাখলেই হতো, আটকাচ্ছে কে? বাংলা-লাদেন টাইপের কাউকে দেখলেই সাইলেন্সার লাগানো রাইফেল দিয়ে মাথাটা তরমুজের মত ফাটিয়ে দিলেই হতো, দাবড়াচ্ছে কে?

আমাদের দেশে যারা এইসব সিদ্ধান্ত নেন, তাদের কে বোঝাবে লক্ষ-লক্ষ শিমুল গাছের চারা লাগানো যায় কিন্তু চট করে এগুলোতে ফুল ফোটানো যায় না। যেমন যায় না বিবাহযোগ্য বাচ্চা (মতান্তরে অবাচ্চা) পয়দা করা!

*ছবি ঋণ: রাশেদ সুমন, কালের কন্ঠ
**এটার চেয়ে প্রথম আলোর ছবিটা পছন্দ হয়েছিল কিন্তু ওটায় সমস্যা,
ওই ছবিটার উঠিয়েছে প্রথম আলো। আমি বুঝে উঠতে পারছি না প্রথম আলো ছবি উঠায় কেমন করে? এও ধরতে পাছি না এটা কি এই অফিসের কোন চাপরাসি উঠিয়েছেন নাকি মতিউর রহমান স্বয়ং? অবশ্য মতিউর রহমানের ছবি উঠাবার কায়দা-কানুনই অন্য রকম, নমুনা এখানে