Search

Friday, January 30, 2015

ঢিলেঢালা হরতাল+নিরাতপ অবরোধ=বোমার উত্তাপ

মিডিয়ায় প্রায়শ লেখা হয়, ‘ঢিলেঢালা হরতাল বা নিরাতপ -তাপহীন অবরোধ’। তাপহীন অবরোধ? বটে! ওরে, নিরাতপ হরতাল-অবরোধ যার অপর নাম গণতন্ত্র তার তাহলে উপায় কী!
উপায়? ঠিক তখনই আমাদের গণতন্ত্র তার নিজস্ব ভঙ্গিতে বোমা ফাটিয়ে উত্তাপ-তাপ ছড়ায়। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে এর প্রয়োজন আছে নইলে গণতন্ত্র মারা পড়বে যে।
আগুনে যখন চড়চড় করে আমাদের চামড়া পোড়ে তখন গণতন্ত্রের কোঁচকানো, শিথিল চামড়া টানটান হয়। আধ-জবাই পশুর মত আমরা যখন জান্তব চিৎকার করি সেই চিৎকারে ঝিম মেরে থাকা গণতন্ত্র নবউদ্যমে গাঝাড়া দিয়ে জেগে উঠে।

কেউ-কেউ ইনবক্সে আলাদা করে লিখে আমার উপর ক্ষোভ মেটান হরতাল-অবরোধ নিয়ে কেন আমি লিখছি না। কেউ-কেউ বিশেষ কোনও দলের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ফেলার অপ্রয়াসও করেন। বাহে, এই বিষয় নিয়ে লিখে-লিখে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। এই বিষয়ে অজস্র লেখা লিখেছি। হরতাল নিয়ে গোটা একটা বই-ই আছে আমার। কী লাভ, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখে!

যাই হোক, তবুও যেটা আমি লিখেছিলাম এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগারের রেকর্ড আমাদের [১]!
"ভাবা যায়! এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগার- কয়েদী সংখ্যা ১৪ কোটির উপরে! অবশ্য কারাগারটা ৩৬৫ দিন চালু থাকে না, এটা আমাদের জন্যে ভারী বেদনার!...

আজ যে দল ক্ষমতায় এরাও ঠিক একই কাজ করেছেন, গণতন্ত্রের নামে। ২০০৬-৭ সালের লেখাগুলো কপি-পেস্ট করে দিলে নতুন করে লেখার প্রয়োজনই হয় না আমার। পার্থক্য এটুকুই যে আজ যারা ক্ষমতাশীন দলের তারা তখন বিরোধী দলে ছিলেন- আর আজ যারা বিরোধী দলে এরা ক্ষমতায় ছিলেন।
২০০৭ সালের একটা লেখা থেকে [২] খানিকটা তুলে দেই:
...এই যে এতগুলো হরতাল দেয়া হয়েছিল; এতো প্রাণ, সম্পদের অপচয় হলো, লাভ কী হলো? বিএপি তো তার পাঁচ বছরের টার্ম প্রায় শেষ করে ফেলল! নেতাদের কোন সমস্যা নাই, এদের সন্তানরা থাকে দেশের বাইরে, হরতাল ডাক দিয়ে বিদেশ চলে গেলেই হয়!...
সত্যটা আমরা জানি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের বিরুদ্ধে যে শত-শত দিন হরতাল-অবরোধ দিয়েছিল আওয়ামিলীগ; বিএনপি কিন্তু এক সেকেন্ড পূর্বেও ক্ষমতা ছাড়েনি। এখন আওয়ামিলীগও দু-সেকেন্ড পূর্বে ক্ষমতা ছাড়বে এমনটা দুরাশা মাত্র।

২০০৭ সালের এক লেখায় আমার বেদনার কথা লিখেছিলাম [৩]:
...হরতাল প্রসঙ্গে এ দেশের সেরা সন্তান বা শক্তিশালী মানুষদের প্রতি আমার সীমাহীন রাগ আছে। এঁরা কী তুচ্ছ বিষয় নিয়েই না হইচই করেন অথচ হরতাল নিয়ে এঁরা টুঁ-শব্দও করেননি!
... ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। যিনি নির্ভীক, স্পষ্টবাদী হিসাবে সুপরিচিত। তিনি একটা কলামে লিখলেন, 'শিক্ষা বিভাগকে হরতালের আওতার বাইরে রাখা হউক'। উত্তম-উত্তম, তা ছাত্ররা কি গাধার পিঠে চড়ে চলাফেরা করবে? শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে ঢাকা থেকে একজন ছাত্রী যখন সিলেট যাবে, সে কি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাবে, নাকি পালকিতে চড়ে? 
...প্রকারান্তরে জাফর ইকবাল স্বীকার করে নিলেন, হরতাল হউক অসুবিধা নাই কিন্ত শিক্ষা বিভাগকে ছাড় দেয়া হউক। তিনি শিক্ষক বলেই সম্ভবত এমনটা চিন্তা করেছেন...।

তখন আমি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে কাতর-চিঠি লিখে বিস্তর অনুরোধ করেছিলাম, হরতাল নিয়ে কিছু একটা করার জন্য। সেটা ২০০৫ সালের কথা! আজ ২০১৫ সালে এসে দেখছি আমাদের জাফর ইকবাল সাহেব জেগেছেন। তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখে ভাল লাগছে।
আজ একটি দৈনিকে হরতাল-অবরোধ নিয়ে কঠিন একটা কলাম লিখেছেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ‘একটু খানি চাওয়া’ শিরোনামে। ওখান থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দিচ্ছি:
...একেকজন মানুষকে খুন করার জন্য (আগুনে পুড়িয়ে) ২০ হাজার টাকার চুক্তি। ...রাজনীতির এই হিসাব আমাদের দেশে ছিল না।
... এখন বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্রটি ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে।
... সামনে এসএসসি পরীক্ষা। খোদার কাছে দোয়া করি আমাদের দেশের এই ছেলেমেয়েরা যেন ঠিকভাবে পরীক্ষা দিয়ে সুস্থ দেহে তাদের বাবা-মার কাছে ফিরে যেতে পারে।
...তারপরও আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি...মানুষ হত্যার এই নৃশংসতা নিশ্চয়ই এক সময় বন্ধ হবে। মা তার সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর একটুখানি শান্তিতে থাকতে পারবেন। ট্রাক ড্রাইভারের স্ত্রী, হেলপারের আপনজনকে ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। একজন ট্রেনের যাত্রীকে নিজের জীবন নিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে না।...

এরপর যথারীতি লেখাটা শেষ হয়েছে জাফর ইকবাল সাহেবের স্টাইলে, “এই দেশের মানুষ তো খুব বেশি কিছু চাইছে না, শুধু একটুখানি নিরাপদ জীবন চাইছে, সেটা কী খুব বেশি চাওয়া হলো?

আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের বুদ্ধির খেলা দেখাতে থাকুন। যারা-যারা তাদের বুদ্ধির খেলা দেখার জন্য হাঁ করে থাকেন তারা তাদের মুখ আরও হাঁ করুক তাতে আমার কী! আমার মত বুদ্ধিহীন মানুষের সাফ কথা, শত-শত দিন দূরের কথা একদিনের জন্যও হলেও আমি হরতাল-অবরোধ চাই না, গণতন্ত্রের বাপের মৃত্যুতেও না। আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক এই দানবকে। নইলে দানব যেমন তার মাকে খেয়ে ফেলে তেমনি হরতাল-অবরোধ নামের এই দানবও খেয়ে ফেলবে এই দেশমাকে।
(বাস্তবতা হচ্ছে, ক্ষমতাশীন কোন দলই এই দানবকে মেরে ফেলতে চাইবে না কারণ বিরোধীদলে গেলে এই দানবের যে বড়ো প্রয়োজন)


সহায়ক সূত্র:
১. এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগার: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_26.html
২. আর কতটা রক্ত দিলে শেষ হবে হরতাল?: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_9163.html
৩. হরতাল নাকি গণতন্ত্রে ঢাল!: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3914.html

Thursday, January 29, 2015

পা এবং পা’র পেছনের মানুষটা।

কিছু দৃশ্য আছে যে দৃশ্য না-দেখে মরে যাওয়াটা কোনও কাজের কাজ না। আমার স্পষ্ট মনে আছে, মানুষটা এসেছিলেন হামাগুড়ি দিয়ে কিন্তু যাওয়ার সময় ঠক-ঠক করে হেঁটে গিয়েছিলেন দুর্বার গতিতে। সেটা তখনকার কথা যখন সাদিক মোহাম্মদ আলম বেশ অনেকগুলো ক্রাচ এনে দিয়েছিলেন আমাকে। সেখান থেকেই এই মানুষটাকে ক্রাচ দেওয়া হয়েছিল।
শপথ আমার লেখালেখির, ওই মানুষটার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলতে পারব না। চোখের নিমিষে যেন তার পা গজালো- শ্লা, এই পাগুলোর নামই তাহলে ক্রাচ!

সাদিকের দেওয়া সেই ক্রাচগুলো শেষ হওয়ার পর ক্রাচ যোগাড় করাটা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। টাকার না-হয় একটা ব্যবস্থা হলো কিন্তু কিনে দেবে কে? কারণ ঢাকা ব্যতীত এই জিনিস পাওয়া যায় না। আর আমার ঢাকা যাওয়া হয় কালেভদ্রে। বিপদ!
এরপর ঢাকাবাসী একে-ওকে ধরাধরি করে লাভ হলো না। কারণ এরা সবাই ব্যস্ত মানুষ, কাজের মানুষ। এই তুচ্ছ কাজের সময় কোথায় এদের। আমিও বা জোর করি কোন মুখে।

কেমন-কেমন করে যেন এখানে ক্রাচ প্রাপ্তির বিষয়টা ছড়িয়ে গেল। সম্ভবত পূর্বে যারা ক্রাচ পেয়েছিলেন তারাই মুখ বড়ো করে বলেছিলেন। এরপর এরা দূর-দূরান্ত থেকে বড়ো আশা নিয়ে চলে আসেন। আমি বড়ো বিব্রত হই, ব্যথিত হই। কি করি, কাকে বলি?

হাত বাড়িয়ে দিলেন একজন, এ যে একেবারেই অপ্রত্যাশিত! এখানকার হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালান যে মানুষটি তিনি হঠাৎ করে একদিন বললেন, ‘আরে, আপনি আমারে কন না ক্যান'!
সেই শুরু। এরপর আর আমাকে কোনও প্রকারের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কয়টা লাগবে এই মানুষটাকে বলে দিলেই হয়, ‘তাজু ভাই, এতোডা লাগব’।
মানুষটার নাম তাজুল ইসলাম- আমি বলি তাজু ভাই। ঠিক-ঠিক তিনি ঢাকা থেকে নিয়ে ক্রাচ আসেন। মাসে বেশ কয়েকবারই অ্যাম্বুলেন্সে রোগি আনা-নেওয়ার কাজে তাঁর ঢাকা যাওয়া পড়েই। গুরুতর এক সমস্যার এমন সহজ সমাধানে আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। কখনও-কখনও দিব্যি লাশের পাশে চুপচাপ শুয়ে চলে আসে ক্রাচ।
ভাল লাগার পাশাপাশি বিষয়টা আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। কাল হাজির হলো কাউসার, আজ বাবু। হঠাৎ করে এদের সংখ্যা বেড়ে গেল কেন এটা আমাকে ভাবাচ্ছে। এবং এদের বয়স খুই অল্প। বাবুকে দেখে আমি বুঝে উঠতে পারি না এই ছেলেটি কেমন করে একা-একা এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে! অথচ সব থাকার পরও কতো সহজেই না আমরা হাল ছেড়ে দেই।

ক্রাচ নামের এই পাগুলো পেয়ে এদের উচ্ছ্বাস দেখে নিজের জাগতিক বেদনা বড়ো তুচ্ছ মনে হয়। কেবল একটাই, একটাই আফসোস পাক খেয়ে উঠে। কালো-কালো, দুবলা-পাতলা, রুক্ষ চেহারার তাজু ভাই এদের কাছে অচেনা, অজানাই থেকে যান। তবে হাসলে মানুষটাকে মন্দ দেখায় না...।
 

Tuesday, January 27, 2015

কুতুয়া রে!

হালে এক ‘অসুস্থ রোগি’ পাড়া থেকে দেশ মাতাচ্ছে। এ অবশ্য এতোটা কাল নিজেকে 'কবি' (!) বলে দাবী করে এসেছে। এতে আমাদের মত সাধারণ মানুষের গা করার কিছু ছিল না। কিন্তু..., কিন্তুটা পরে বলছি...।

অন্য একটা ঘটনার কথা বলি। আজও আমি অসুস্থ এক রোগিকে দেখেছি যার ‘আপার চেম্বারে’ বিকট সমস্য। এ রেললাইনে শুয়ে ছিল। ধরাধরি করে একে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে আসা হলো। বিস্তর টানাটানি করেও এই ‘মস্তিষ্কজট’ রোগিকে ভাত খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না। নিরুপায় হয়ে পাউরুটি কিনে দেওয়ার পর এ পাউরুটি শুঁকে ছুড়ে ফেলে দিল।
এর সম্ভবত মস্তিষ্কের তথ্য যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। কে জানে, মস্তিষ্ক হয়তো একে এই তথ্যটাই দিচ্ছে, ব্যাটা এটা পাউরুটি না, এক খাবলা গু! মস্তিষ্ক বলে কথা- মস্তিষ্কের কথা শুনে এ তখন ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে, পাউরুটি ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এটাও বলা মুশকিল এর মস্তিষ্ক টাটকা গু-কে পরম ধন বলে রায় দিলে এ সেই আবর্জনা বুকে তুলে নেবে নাকি মুখে, সেটা আগাম বলা মুশকিল।

পূর্বের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সাইয়েদ জামিল নামের ‘আপার চেম্বার’ অসুস্থ যে রোগিটা নিজেকে ‘কবি’(!) বলে দাবী করছিল প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’ দিয়ে রোগিটাকে তুমুল আলোচনায় নিয়ে এলো।
রয়েসয়ে এই কাজটা প্রথম আলো করে থাকে, সবিরাম- থেমে থেমে। বাচ্চু ভাইয়ের এতে কী সুখ এটা আঁচ করা মুশকিল। যেমনটা আমি সেই মানুষটার সুখটাও আঁচ করতে পারিনি। সেই মানুষটা এমনিতে ভালই থাকতেন। দুম করে নাঙ্গাপাঙ্গা হয়ে যেতেন। একবার তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আচ্ছা, আপনি নগ্ন হয়ে যান কেন’?
তার সাফ উত্তর ছিল, ‘তুই কী বুঝবি, কাপুড়ে শইল ভার-ভার লাগে’।
ওই মানুষটার আচরণের মর্ম যেমন বুঝিনি তেমনি মতিউর রহমান ওরফে বাচ্চু ভাইয়েরটাও।

যাই হোক, জামিল স্যারের প্রসঙ্গে আসি। তার লেখা নিয়ে অনেকে শ্লীল-অশ্লীল ব্যবচ্ছেদ করছেন। আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কোনও পাবে (যেখানে মদ বিক্রি হয়) গিয়ে দুধ চাওয়াটাও নাকি অশ্লীলতার কাতারে পড়ে তাই অশ্লীলতার ব্যাখ্যার শেষ নেই।
এমনিতে গান গাওয়া নিষেধ না কিন্তু জরুরি একটা অনুষ্ঠানে কেউ যদি টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গান গাইতে শুরু করে দেয় লোকজনের এতে যদি কোনও আপত্তি না থাকে আমি আপত্তি করব কোন দুঃখে!
কিন্তু এই আবর্জনাগুলো পড়ে একে আমি বদ্ধউম্মাদ বলতে পারলে খানিকটা আরাম পেতাম কিন্তু এ তো বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়া প্রাণী বা জন্তু না। কোনও কারণ ব্যতিরেকে এ যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে অতি কুৎসিত কথা লিখেছে একে আমি ‘অসুস্থ রোগি’ হিসাবেও মেনে নিতে পারছি না যে এ চিকিৎসার বাইরে। কারণ এ যে সম্পূর্ণ সচেতন- যে জেগে জেগে ঘুমাবার ভান করছে। এর আশু চিকিৎসার প্রয়োজন এটা বলতে পারলেও ভাল লাগত।
কিন্তু, হায়...! বাধ্য হয়ে অপ্রচলিত শব্দভান্ডার থেকে ধার করে বলি, কুতুয়া রে...।

সদয় অবগতি:
*আমি অতি বিষাদের সঙ্গে জানাচ্ছি, এর আবর্জনাগুলো টাইপ করতে আমার কী-বোর্ডকে কোনও প্রকারেই রাজি করানো গেল না বিধায় নিরুপায় হয়ে ইমেজ আকারে দিতে হলো। 
 **এই নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করি অতি অপ্রচলিত বিধায় ‘কুতুয়া’ শব্দের অর্থ আমি জানি না।

Monday, January 26, 2015

ফরমালিনে চুবানো এক শব!

মুক্তিযোদ্ধা সায়েরা বেগমকে নিয়ে নতুন করে আর চর্বিতর্চবণ করি না। এই অসমসাহসী মানুষটা যে কেবল পাক-বাহিনীকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন এমনই না নিচিহ্ন করে দিতে অসাধারণ সহায়তাও করেছিলেন। তাঁর কারণে মুক্ত হয়েছিল মুকন্দপুর এবং আশেপাশের বিশাল এক এলাকা [১]

বেশ কিছুদিন পূর্বে তাঁর টিউমার অপারেশনের প্রয়োজন হলে কেবল এই প্রজন্মই না নামকরাসব ডাক্তার বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতার হাত। আমি লেখায় সেইসব ডাক্তারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছিলাম [২]
আজ মুক্তিযোদ্ধা সায়েরা বেগম সকাল-সকাল ফোন দিয়ে আমাকে জানালেন তিনি গুরুতর অসুস্থ- চিকিৎসার জন্য মুকুন্দপুর থেকে এখানে আসছেন। তাঁর এলাকার একজন ডাক্তার (যিনি এই হাসপাতালেই কর্মরত) সায়েরা বেগমকে এখানে এসে চিকিৎসা করাবার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে এটাও একটা কারণ।
আমি খানিকটা আরামের শ্বাস ফেলেছিলাম, যাক, তাঁর এলাকার ডাক্তার যখন তখন আমার কাজ অনেকটা কমে গেল।

'রাজু মাস্তান' এবং তার মা-বোনকে নিয়ে এক উৎকট ঝামেলায় আটকে ছিলাম, পরে কোনও দিন নাহয় এই অভিজ্ঞতার কথা বলা যাবে। তদুপরি সায়েরা বেগমের সঙ্গে এই ডাক্তারের কাছে যখন উপস্থিত হলাম তখন আমি মনখারাপকরা শ্বাস ফেললাম। কারণ রায়হান উদ্দিন ভূঁইয়া নামের এমবিবিএস এই ডাক্তারের লেবাসে, প্রথমদর্শনে দেখে সাধারণ মানুষের কাছে এটাই মনে হবে মানুষটা ধার্মিক, বড়ো সৎ। কিন্তু এই মানুষটার এমনসব কথা আমি জানি যা তার 'চেহারা-ছবির' সঙ্গে যায় না- যার বেশ কিছু অকাট্য প্রমাণও আমার কাছেই আছে।

তবুও আমার প্রবল আশা ছিল যেহেতু তিনি সায়েরা বেগমের এলাকার মানুষ অন্তত এই ভদ্রমহিলার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করবেন। একই এলাকার যেহেতু, মুক্তিযুদ্ধের সময় সায়েরা বেগমের অসামান্য কাজ সম্বন্ধে তার অজানা থাকার প্রশ্নই আসে না- আউট অভ কোশ্চেন। যে এলাকায় ডাক্তারমানুষটা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়ে উঠেছে সেই এলাকা মুক্ত হয়েছিল এই সায়েরা বেগমের কারণে এটা তার অজানা থাকার কথা না।

ডা. রায়হান, সায়েরা বেগমকে কিছু টেস্ট করতে দিলেন। কিডনির একটা পরীক্ষা, ইসিজি এবং বুকের একটা এক্স-রে। খুব জরুরি একটা কাজে মাত্র দশ মিনিটের জন্য আমি অন্যত্র গিয়েছিলাম- এরই মধ্যে যা হওয়া তা হয়ে গেল। সায়েরা বেগমের মুখে যেটা আমি পরে শুনেছি। ডা. রায়হান এই টেস্টগুলো করার কথা বলে ব্যবস্থাপত্র সায়েরা বেগমের হাতে দেননি, দিয়েছেন এক ক্লিনিকের দালালের কাছে। সেই দালাল এদেরকে নিয়ে গেছে ডাক্তারের বলে দেওয়া সেই নির্দিষ্ট ক্লিনিকে।

একগাদা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষাগুলো সেখানেই করা হলো কিন্তু ডা. রায়হান কেন এমনটা করলেন? উত্তরটা খুব সোজা। কিন্তু সেই উত্তরটা আমি পাঠকের কাছেই ছেড়ে দিলাম।
আমি বিস্ময়ের সঙ্গে এটাও লক্ষ করেছি এই ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে সায়েরা বেগমের নামটা লিখেছে বড়ই হেলাফেলা করে। হিজিবিজি করে লেখা, ‘সায়েরা’, কেবল সায়েরা আর কিচ্ছু না! একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন আগুনমানুষ, একজন সেরাসন্তানের কথা নাহয় বাদই দিলাম বয়স্ক একজন মানুষকে কেউ এমন তাচ্ছিল্য করে লিখতে পারে এটা আমার কল্পনাতেও আসে না।
কোনও চুতিয়া এই কাজটা করলে আমার বিশেষ গাত্রদাহের কারণ ছিল না কিন্তু তাই বলে এমন শিক্ষিত একজন মানুষ কেন এমনটা করবে!

সহায়ক সূত্র:
১. এক অসামান্য মুক্তিযোদ্ধা: http://www.ali-mahmed.com/2013/12/blog-post_16.html
২. ব্যাটন হাতবদল হয় মাত্র: http://www.ali-mahmed.com/2014/02/blog-post_4053.html 

আপডেট, ৩১ জানুয়ারি ২০১৫:
আজ আবারও এই ডাক্তার মহোদয়ের সঙ্গে কথা হলো। আমি তার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলাম, 'আপনি এই ভদ্রমহিলার নাম এমন হেলাফেলা করে লিখলেন কেন'?
তিনি উত্তর দিলেন, 'ব্যস্ত থাকি তো'।
বটে রে, এই গ্রহে এই-ই দেখছি বড়ো কাজের লোক অন্যরা সব অকাজের। আরেকটা তথ্য ইনি আমাকে দিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সায়েরা বেগম নাকি তার ফুফু হন। এখন তাহলে আমাকে অতি বিষাদের সঙ্গে বলতেই হয়, আসলে শবটা পচে গেছে বহু পূর্বেই। ভাগ্যিস, শবটা ফরমালিনে চুবানো নইলে অসহনীয় দুর্গন্ধে হড়হড় করে বমি করে দিতাম...।  

Thursday, January 22, 2015

ছোট্ট, পুরনো সেই গল্প...।

সাদামাটা গল্প। কাহিনী প্রায় একই- মাত্র হপ্তাখানেক পূর্বেই লিখেছিলাম, 'ফ্লাই এওয়ে পিটার...' [১]। এদেরকে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে দিয়েছে। রাতের ট্রেন থেকে নামানোর পর আখাউড়া স্টেশনে গভীর রাতে এদেরকে পাওয়া যায়।

এই মানুষটার মুখেই শুনছিলাম বিশদ বর্ণনা। এই মানুষটা এবং তাঁর লোকজন মিলে ধরাধরি করে এদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করান।
সকাল-সকাল এমন একটা ঘটনা শীতের সকালের চার মত মনটা ভাল করে দেয়। আমাদের দেশের পুলিশের প্রতি সাধারণ লোকজনের এন্তার ক্ষোভ আছে এ সত্য। অবশ্য ক্ষেভের যথেষ্ঠ কারণও আছে। কিন্তু পুলিশের লোকজনেরা তো আর অন্য গ্রহ থেকে আসেন না। এরাও এই দেশেরই সন্তান, কারও না কারও ভাই, স্বজন। আমাদের দেশে আমরা পুলিশের কাছ থেকে সহস্র হাত দূরে থাকতে পছন্দ করি।
কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয় আমাদের সবারই ভাল হওয়ার সদিচ্ছা আছে। কেবল সুযোগের অপেক্ষা। সবার ভেতরের লুকানো শিশুটা কখন বের হয়ে আসবে এটা কী আর আমরা আগাম জানি, ছাই! তখন সেই শিশুটির সঙ্গে শিশু না-হয়ে তো উপায় নেই।

যাই হোক, গতকাল সকালে এই মানুষটার কাছ থেকে জেনে হাসপাতালে গিয়ে এদেরকে আমি পাই এই অবস্থায়। ওয়াল্লা, এ যে ফুটফুটে ছোট্ট একটা মেয়ে! এদের মধ্যে ‘ছোটলাল’ এর বাবা। এদের মধ্যে এই মেয়েটাই অনেকটা সুস্থ কিন্তু এ ভীত, সন্ত্রস্ত, আতংকিত। আমার আশ্বাস কতটুকু বিশ্বাস করবে এটা সম্ভবত বুঝে উঠতে পারছিল না। অন্য একজন যার নাম সুমন সে ওদিনই চলে যায়।

আমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল এই ছোটলালের প্রতি। কারণ এই মানুষটাকে পুরোপুরি সুস্থ না-হওয়া পর্যন্ত ছাড়া যাবে না। সামান্য ছোট্ট ভুলের কারণে কেবল এই মানুষটা যে কোথাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকবে এমনই না, হারিয়ে যাবে ছোট্ট এই মেয়েটিও। এ হতে দেওয়া যায় না, কক্ষণও না।
সকাল ১১টায় স্টেশনে এরা যখন অপেক্ষা করছে তখন রাতের ট্রেন ‘উদয়ন’ দিনে চলে এসেছে। মানুষটার বাড়ি নোয়াপাড়া। উদয়ন ট্রেনটা শায়েস্তাগঞ্জের পূর্বে থামে না। শায়েস্তাগঞ্জে নেমে এরা আবার নোয়াপাড়া ফিরে আসবে।
ট্রেন ছেড়ে দেয়। 'শিখা' নামের ছোট্ট মেয়েটির টলটলে চোখ থেকে আমি চোখ ফিরিয়ে নেই...। সেই তীব্র চোখের দৃষ্টি ধরে রাখার ক্ষমতা ক্যামেরা নামের যন্ত্রের কোথায়!

যাক, চেপে রাখা শ্বাস ফেললাম যখন এরা বাড়িতে পৌঁছে আমাকে ফোনে নিশ্চিত করল। হাসপাতালের লোকজনসহ সবার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই কারণ এটা একটা টিম-ওয়র্ক।
হাসপাতালের লোকজনেরা কখনও মুখ ফুটে কিছু চান না। কিন্তু আজ একজন নার্স বলছিলেন একটা নেবুলাইজার মেশিনের বড়ো প্রয়োজন। শ্বাসকষ্টের রোগি বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটা কতটা জরুরি এই অভিজ্ঞতা আমার খানিকটা আছে। এক ফোঁটা বাতাসের জন্য একটা শিশু অমানুষিক কষ্টে নীল হয়ে যায়- এই গ্রহে এতো বাতাস অথচ এক ফোঁটা বাতাসের জন্য ফুসফুসের কী হাহাকার...।
এমনিতে একটা নেবুলাইজার মেশিন হাজার তিনেক টাকার মধ্যে পাওয়া সম্ভব। এমন একটা মেশিন কোনও দেবদূতের জন্য পাখায় করে নিয়ে আসাটা কী খুব কঠিন কোনও কাজ?

সহায়ক সূত্র:
১. ফ্লাই এওয়ে পিটার...: http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post_14.html 

আপডেট, ৩১ জানুয়ারি ২০১৫:
কোত্থেকে কেমন করে সেটা আলোচনা হওয়াটা খুব একটা জরুরি কিছু না। জরুরি কাজটা ছিল এই হাসপাতালে একটা 'নেবুলাইজার' মেশিনের ব্যবস্থা করা, সুখের বিষয়, সেটা হয়েছে। 

Monday, January 19, 2015

হাসি-কান্না, কান্না-হাসি!

ছোট্ট এই ভিডিওটি দেখে অনেকেরই হাসি পাবে। সলাজে বলি, আমিও এদের মধ্যে একজন! কিন্তু কেন? মস্তিষ্কের সমস্যা কী! সে কেন প্রাপ্ত তথ্যগুলো ফালা ফালা করে দেখে এই নির্দেশ দিচ্ছে এটা দেখে হাসতে হবে?

মস্তিষ্ক কেন বুঝতে পারছে না এটা অতি কষ্টের এক গল্প। আদিতে যেমন শরীরের শেকড় ছেঁড়ার গল্প থেকে এর শুরু যার চালু নাম আমরা দিয়েছি, ‘নাড়ি ছেড়া ধন’। সেই একতাল মাংসপিন্ডটির তিলে তিলে ক্রমশ বেড়ে ওঠা। কতশত আনন্দ-বেদনার গল্প। বিয়ে নামের অত্যাবশ্যকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবারও সেই শেকড় ছেঁড়ার গল্প, এবার খানিকটা অন্য রকম। হর্ষ-বিষাদে জড়াজড়ি হয়ে।

এই শেকড় ছেঁড়াছেড়ির গল্প বলা-লেখা বড়ো সহজ কিন্তু যাদের উপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যায় এরাই কেবল জানে এটা কতটা কষ্টের, বেদনার...।

Sunday, January 18, 2015

চোখ খুললেই...।

চালু এই দৈনিকটির দাবী, ‘চোখ খুললেই প্রথম আলো’। এটা উচুমার্গের লোকজনের জন্য হতে পারে কিন্তু আমার মত সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই বাণীটির বিশেষ যোগ নাই কারণ চোখ খুলেই আমার মত অতি সাধারণ মানুষ দৌড়াঝাঁপ শুরু করি লাগোয়া টাট্টিখানা হালের ওয়শরুমে। অতঃপর কি হয় সেটা নিয়ে বিশদ আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না।

২০১৩ সালে একটা লেখা লিখেছিলাম ‘খবরের পেছনের খবর’ [১] শিরোনামে। অনেকটা
ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫
ওরকমই একটা ছবি ছেপেছে প্রথম আলো ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ সালে। এমন একটা ছবি যখন প্রথম আলোর মত পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয় তখন এটাকে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ থাকে না। গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়। গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পূর্বে আমার কিছু ‘কুশ্চেন’ ছিল। মতিউর রহমান ওরফে মতি ভাইয়ার কাছে কিছু সওয়াল এমন:

১. যে পুলিশ স্যার বন্দুক উঁচিয়ে রেখেছেন তারা কি এভাবে বন্দুক উঁচিয়েই রওয়ানা হন? গন্তব্যস্থলে না-পৌঁছা পর্যন্ত কি বন্দুক নামাবেন না?
২. পুরো যাত্রাপথে ভঙ্গি কি অদল-বদল হয় নাকি একই, এমনই থাকে?
৩. সর্বক্ষণ কি বন্দুক সেফটি-ক্যাচ অফ করা অবস্থাতেই থাকবে?
৪. গুলি করার পূর্বে সতর্ক করার জন্য কেমনতরো হুমকি দেওয়া হয়, ‘নড়োছো কি মরেছো’? বা 'হবরদার, মাথায় আলু বানিয়ে দেব কিন্তু...'।
৫. ছবিতে বোঝা যাচ্ছে না বিধায় জানার প্রবল আগ্রহ, এটা কি ব্রিটিশ আমলের অত্যাধুনিক (!) থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল, যেটা দিয়ে আদৌ গুলি বের হয় কিনা এটা একটা জটিল গবেষণার বিষয় (সরকার নিলামে তুললে যেটা এন্টিক হিসাবে সংগ্রহ করার গোপন ইচ্ছা আছে আমার)।
৬. পুলিশ স্যারের খাওয়া-দাওয়ার উপায় কি? নাকি অন্য কেউ খাইয়ে দেন?
৭. বাথরুম সমস্যার সমাধান কি? নাকি অন্য কেউ করিয়ে দেন?
মতি ভাইয়া সওয়াল-জবাব পর্ব সমাপ্ত করলে আমার আরও কিছু প্রশ্ন আছে তখন সেটা করা যাবেখন।

এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে লোকোমটিভের পাইলট ওরফে ড্রাইভার সাহেবকে। তেমন উল্লেযেযোগ্য বিশেষত্ব নেই। ছবিতে আলোর কারসাজির কারণে ভেতরটায় তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এমনতরো ছবিকে সাবানপানিতে ধোয়ার নিয়ম নেই বিধায় খানিকটা ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দেয়া যাক।
এখন দেখা যাচ্ছে লোকোমোটিভের ভেতরে লোকজনের অভাব নেই। আরও লোকজন উঠার জন্য অপেক্ষায়মান। ঘটনা কী? বিশেষ কিছু না! এরা ড্রাইভার ওরফে পাইলট সাহেবকে মাথাপিছু টাকা দিয়েছে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করার উদ্দেশ্যে।
রেলওয়েতে কঠিন নিরাপত্তা চলছে বটে! এদের কেউ যদি ‘ডেরাইভার’ সাহেবের চাঁদিতে দু-চার ঘা বসিয়ে অজ্ঞান করে ট্রেন থেকে ফেলে দেয় তাহলে আটকাচ্ছে কে! বা লোকেমেটিভের আগুন ধরিয়ে দেয়, ট্রেনটার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয় অথবা ট্রেনটা দুর্ঘটনায় ফেলতে চায় তবে তাদের জন্য সেটা হবে জলবৎতরলং- পানির মত সোজা।

সহায়ক সূত্র
১. খবরের পেছনের খবর: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_14.html

Wednesday, January 14, 2015

ফ্লাই এওয়ে পিটার, ফ্লাই এওয়ে...।


এই মানুষটাকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পেয়েছিলাম ঠিক এই অবস্থায়। রক্তাক্ত মুখ, মুখে না-কামানো কাচা-পাকা দাড়ি। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে আমার বোঝার বাকী রইল না খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু একটা খাইয়ে এই মানুষটাকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে আমি খুব একটা আরাম বোধ করি না কারণ এটা বিস্তর ঝামেলার কাজ। ইচ্ছা করলেই এই মানুষটাকে হাসপাতালে ভর্তি করা যাবে না। স্টেশন মাস্টার ‘মেমো’ দিলে রেল-পুলিশকে দিয়ে ভর্তি করতে হবে। সোজা কথা, এটা পুলিশ কেস।

বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে লম্বা-লম্বা পা ফেলে এখান থেকে হেঁটে চলে যাওয়া, শত-শত হাত দূরে। আমি বুদ্ধিমান এমন দাবী আমি অন্যের কাছে দূরের কথা নিজের কাছেও করি না। কিন্তু আমি খানিকটা আতংকিত কারণ... আমি আমার গায়ের পশুটার গন্ধটা ঠিক টের পাই যেমনটা পাচ্ছিলাম তখন। আমার ভেতরের পশুটা অনবরত বকে মরছে, সরে পড়-সরে পড়, আলগোছে সরে পড়।
পশুটা বকে মরে কিন্তু আমার চোখে ভেসে উঠে এই মানুষটা তো কেবল একটা সংখ্যা না। হয়তো এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোঁচকানো চামড়ার খকখক করে বেদম কাশতে থাকা বুড়ো-বুড়ি। নাকের নথনাড়া ঢলঢলে মুখের বধূটি। গাল ফুলিয়ে থাকা কিশোরী যার চোখের কাজল লেপ্টে যাচ্ছে এটা ভেবে ভেবে যে, বাপজানটা কেমুন অখনো আমার কাঁচের চুড়ি লয়া আইলো না।

এরপর পশুটির কথা ভাবাভাবির সময় কোথায় আমার! কত কাজ, স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে মেমো নেওয়া, একে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভ্যান যোগাড় করা, রেলের একজন আনসারকে খুঁজে বের করা- যে মানুষটা আনুষ্ঠানিক ভাবে একে হাসপাতালে ভর্তি করাবেন। অবশ্য একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গেলে আর চিন্তার কিছু নেই এটা বলতে পারলে ভাল লাগত কিন্তু হাসপাতালে কখনই ওষুধ নামের জিনিসগুলো থাকে না। সেটা অবশ্য খুব বড় একটা সমস্যা না।
রোগির সঙ্গে যে আনসার নামের মানুষটা গেছেন, পলাশ- একে দেখে মনে হচ্ছে বাংলা সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলে কেউ আপত্তি করবেন এমনটা তো আমার মনে হয় না।
যাই হোক, মানুষটা চলে গেলেন তার শেকড়ের কাছে। গুড বাই হানিফ। ফ্লাই এওয়ে পিটার, ফ্লাই এওয়ে হানিফ...।

Tuesday, January 13, 2015

পা-কাটা শিশু এবং মিডিয়ার ভোগান্তি-ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: ২!

দিনাজপুরের ট্রেনে বেজায় ভিড় বললে কম বলা হয়! ট্রেনটা কমলাপুর স্টেশন পৌঁছার পর হুড়মুড় করে যাত্রীরা নামা শুরু করল। প্রথমে এটা ভাল করে লক্ষ করিনি- ছাদ থেকে একজনকে দেখলাম বিশাল-বিশাল বোঁচকা ফেলছেন। সেই বোঁচকা আবার দু-জন ভদ্রমহিলা নামাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দেখে আমিও হাত বাড়ালাম। বাহে, চোখে দেখে সটকে পড়ি কেমন করে। কিন্তু ওই ভদ্রলোক যখন নামার চেষ্টা করলেন তখন দেখা দিল আসল বিপদ। অনভ্যস্ততার কারণে তিনি নামতে পারছিলেন না। তাকে নামাবারও একটা গতি হলো।

এই মানুষটাকে আমি বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি ছাদে কেন রে ভাই’? মানুষটার বিমর্ষ-ক্লান্ত উত্তর, ‘কী করব, ভিড়ের জন্য ভেতরে তো ঢুকতেই পারি নাই’। আমি আবারও বললাম, ‘আপনি কি দিনাজপুর থেকে ছাদে করে আসলেন’? তিনি একটা স্টেশনের নাম বললেন। নামটা আমি ভুলে গেছি। তাও ৬ ঘন্টার রাস্তা। আমি কেবল চোখ বন্ধ করে ভাবার চেষ্টা করছিলাম এই ৬ ঘন্টা এই ভদ্রলোক এই তীব্র শীতে ছাদে টিকে ছিলেন কেমন করে! এটা কী সম্ভব! শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে কমবেশ ৬০/৭০ মাইল বেগের হিম বাতাস।
ভদ্রলোককে একটু ধাতস্ত হওয়ার সুযোগ দিয়ে আমি আবারও জানতে চাইলাম, ‘আপনার সাথের মহিলারা ঢুকতে পারলেন আর আপনি পারলেন না’! তিনি বললেন, ‘এরাও তো ছাদে ছিল’। আমি জীবনে এমন হতভম্ব কমই হয়েছি। এই দুজন মহিলাও ৬ ঘন্টা ধরে এই তীব্র শীতে ছাদে ভ্রমণ করেছেন! এও কী সম্ভব। যেখানে ৮/১০ মাইল বাতাসে আমি জবুথবু হয়ে আছি।

হায় গণতন্ত্র! গণতন্ত্রের জন্য এই সবের নিশ্চয়ই প্রয়োজন আছে। ট্রেনে চড়ার সময় এদের হয়তো কল্পনাতেও ছিল না যে ট্রেনটা পৌঁছার কথা দুপুর ২টায় সেটা এসে পৌঁচেছে রাত দুটোয়! এই অবর্ণনীয় কষ্ট এরা সহ্য করে গেছেন ঘন্টার-পর-ঘন্টা ধরে। আমাদের মিডিয়ার ভাষায়, যাত্রীদের ভোগান্তি বা ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়।
আমি আমার মস্তিষ্ককে পটাবার চেষ্টা করছি, দেখ বাপ, তোর নিয়ন্ত্রণে থাকা আমার শরীরের সমস্ত কলকব্জাকে এই নির্দেশ পাঠা যে এদের তীব্র শীত সহ্য করার তুলনায় আমার শীতটা কিছুই না। সম্ভবত আমার মস্তিষ্কও ঠান্ডায় জমে গেছে কারণ আমার শরীরের মধ্যে কোনও পরিবর্তন আমি লক্ষ করলাম না। যথারীতি শীতে কাবু। মাথায় ঠান্ডা লেগে প্রচন্ড মাথাব্যথাও করছে। অসহনীয়!

রাত তখন দুইটার উপর। এক বিদেশীকে দেখলাম বিমর্ষ মুখে দাঁড়িয়ে। আমি তাকে বললাম, ‘আমি কি কোনও প্রকারে তোমার কাজে আসতে পারি?
সে আমাকে বলল, ‘আমি প্যাসিফিক হোটেলে যেতে চাই’।
আমি জানতে চাইলাম, ‘প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও’?
সে আমাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে একটা কাগজ ধরিয়ে দিল। সেটায় দেখলাম হোটেলের ঠিকানা ১২০ মতিঝিল। এখন আমি বুঝলাম এটা ‘প্যাসিফিক’ নামের অন্য একটা হোটেল। তার সমস্যাটা খানিক আঁচ করা গেল। সঙ্গে কোনও সেল-ফোন নাই বিধায় যোগাযোগ করতে পারছে না। প্যাসিফিক হোটেলে ফোন করে তার জন্য একটা কামরার ব্যবস্থা হলো, ১৫০০ টাকা ভাড়ায়। এটাই এই হোটেলের সর্বনিম্ন রুম-ট্যারিফ, তাও নন-এসি!

ধপধপে সাদাচুলের এই মানুষটার দেশ হচ্ছে অষ্ট্রিয়া। দিনাজপুর থেকে এইমাত্র এসে নামল। কারণ এর ভাষায় দেশে এখন কিছুই ঠিক-ঠাক চলছে না। তাই তড়িঘড়ি করে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় চলে এসেছে। অবরোধ চলাকালীন এ ঢাকাতেই থাকবে। এর এও প্রবল আশা যেটা আমাকে বলছিল, ‘আশা করছি, তোমাদের দেশের নেতারা বসে সমস্যার একটা সমাধান করবেন’।
আমি হাসি গোপন করলাম, আমাদের দেশের নেতারা বসে কথা বলেন না, বলেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। ফল যা হওয়ার তাই হয়।

যাই হোক, সমস্যা দাঁড়ালো যেটা আমি আর এঁকে খুলে বলিনি যে এই গভীর রাতে এর যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। আমি প্যাসিফিক হোটেলে আবারও ফোন করে জানতে চাইলাম, তোমাদের কি গাড়ির ব্যবস্থা আছে? এই মানুষটাকে স্টেশন থেকে নিয়ে যেতে পারবে? উত্তরটা নেতিবাচক হলে আমি পড়লাম বিপদে। জেনেশুনে একে এখন কেমন করে ছেড়ে দেই। এ ভালই খোঁজখবর রাখে। আমাকে বারবার বলছিল, কোনও সমস্যা নেই আমি সিএনজি নিয়ে চলে যেতে পারব। যে দেশের যে চল- আমাদের মত এও স্কুটারকে ‘সিএনজি’ বলা শিখে ফেলেছে।
ভাগ্য ভাল, একটা ক্যাব পাওয়া গেল। কমলাপুর স্টেশন থেকে মতিঝিলের দুরত্ব উল্লেখযোগ্য না কিন্তু এই ট্রেনের সময় ক্যাব নামের দুর্লভ বস্তু কত টাকা চাইবে এটা আগাম বলা মুশকিল। আমি ক্যাবচালককে পটাবার চেষ্টা করছি, ‘দেখো মিয়া, এরা হইল এই দেশের মেহমান। কলঙ্ক তো তুমার-আমার হইব না, হইব দেশের’।
আমি নিজেও কম অবাক হইনি যখন মাত্র একশ টাকায় ক্যাবচালককে রাজি করিয়ে ফেললাম। কম টাকায় রাজি হওয়ার কারণে আমার চোরের মন- আমি ক্যাবের নাম্বারটা টুকে রাখলাম। কিছুক্ষণ পর যখন হোটেলে ফোন করে নিশ্চিত হলাম তাদের গেষ্ট পৌঁচেছে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।

এয়ারপোর্ট স্টেশনেও দেখেছি এখন কমলাপুরেও দেখলাম ট্রেনের সময়সূচীর দেখার জন্য স্টেশনের বিভিন্ন জায়গায় মনিটার লাগিয়েছে। আমার রাতের বারোটার ট্রেনের সময় দুম করে তিনটা থেকে ছয়টা হয়ে গেল! বারোটা থেকে তিনটা, তিনটা থেকে ছয়টা, ভাল। কী করি, স্টেশনে ঘুরেফিরে দেখা ব্যতীত আর তো কোনও কাজ নাই। স্টেশনের কোনও কোনায় গিয়েও বাতাসের হাত থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। অথচ এখানে ছিন্নমূল অনেকেই কেবল পত্রিকার কাগজ বিছিয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে দিব্যি ঘুমাচ্ছে।
একটা শিশুকে দেখলাম, পৃশ্নি-দুর্বল দেহ নীচে-উপরে কিছুই নাই। তবে রক্ষা, এ জ্যাকেট টাইপের ভারী কিছু পরে আছে।

এক জায়গায় দেখা গেল বাড়তি ভিড়। ভিড়ের উৎসের কারণটা খানিক অন্য রকম। এক মেয়ে বিস্তর সাজগোজ করে আছে যেন স্বর্বেশ্যা-অপ্সরা সাজার অপচেষ্টা। তাতেও সমস্যা ছিল না কিন্তু ইনি আবার একপাশে ওড়না ফেলে রেখেছেন। এটা সম্ভবত হালের ফ্যাশন। অন্য পাশের ওড়না কবে সরাবেন লোকজন এই অপেক্ষায় কিনা কে জানে। জিজ্ঞেস করার উপায় নেই!

ভোর পাঁচটায় গোটা স্টেশনে একটা চাঞ্চল্য দেখা দিল। রেল-পুলিশ এসে মেঝেতে ঘুমন্ত সবাইকে উঠিয়ে দিচ্ছে। সবাই গাট্টি-বোঁচকা গুটিয়ে ফেলছে। এক জায়গায় আমার চোখ আটকে গেল। আট-দশ বছরের একটা বাচ্চা। পুলিশের দাবড়ানি খেয়ে চোখ কচলাচ্ছে। ওর দুচোখে রাজ্যের ঘুম। পুলিশও নাছোড়বান্দা- শেষপর্যন্ত উঠিয়েই ছাড়ল।শিশুটির পাশেই রাখা ক্রাচ দেখে আমি ভাল করে লক্ষ করে দেখলাম এর এক পা নেই। হাফ-হাতা শার্ট গায়ে। হি হি করে কেমন কাঁপছে। অযথাই হাফ-হাতা শার্টের ভেতর হাত ঢুকিয়ে শীত থেকে বাঁচার অর্থহীন চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এর জন্য একটা গরম কাপড়ের বড়ো প্রয়োজন। কিন্তু এই স্টেশনে পাওয়ার তো কোনও উপায় দেখি না। এক পেপারওয়ালাকে, এরও বয়স অল্প যেটা বললাম সেটাও এক ধরনের অন্যায়। তার গায়ের জ্যাকেটটা বিক্রি করতে রাজি হলো না। পা-কাটা শিশুটির জন্য কিছু করা গেল না।
নিজের গায়ের জ্যাকেটটা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ আমি মহাপুরুষ নই- কেবল মহাপুরুষরাই শীতে কাবু হন না। মনিটরের তারতম্যে শিশুটিকে হারিয়ে ফেললাম।

মনিটরে ক্রমশ সংখ্যা বদল হয়, ছ-টার জায়গার এখন দেখাচ্ছে নয়টা। এই নয়টা এক সময় হয়ে গেল বারোটা। কাঁটায়-কাঁটায় বারোটায় ট্রেন রওয়ানা হলো। পার্থক্য কেবল রাতের বারোটার স্থলে দিনের বারোটা, মাত্র বারো ঘন্টা লেট। আমাদের মিডিয়ার ভাষায়, শিডিউল বিপর্যয়।
ট্রেন যখন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছিল তখন আবারও সেই পা-কাটা শিশুটিকে দেখলাম। ঠক-ঠক করে ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সেই সময় আমার সত্যি এমনটাই মনে হয়েছিল এই শিশুটির জন্য কোথায় যেন আমার চেষ্টার অভাব ছিল। ট্রেনের জান্তব শব্দ ছাড়িয়ে কানে বাজে ঠক-ঠক-ঠক। ঠক-ঠক শব্দ তুলে শিশুটি এগিয়ে যাচ্ছে পোকায় খাওয়া আমার গলিত শব ক্রাচে লেপ্টে...।

সহায়ক সূত্র:
পা-কাটা শিশু এবং মিডিয়ার ভোগান্তি-ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: ১ : http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post_12.html

Monday, January 12, 2015

পা-কাটা শিশু এবং মিডিয়ার ভোগান্তি-ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: ১!

ঢাকা যাওয়া হলো সম্ভব বছর দুয়েক পর। না-গিয়ে উপায় ছিল না কারণ আমার এক সুহৃদের ঝুঁকিপূর্ণ এক অপারেশন। এই মানুষটা সেই অল্প মানুষদের একজন, এই গ্রহে যে অতি অল্প মানুষ বিচিত্র কারণে আমাকে পছন্দ করেন ইনি তাদের একজন। এই মানুষটার কাছে আমি বিভিন্ন প্রকারে ঋণী। আজ তাঁর এই দুঃসময়ে আমার খানিকটা আয়ু দিতে পারার ব্যবস্থা থাকলে মন্দ হতো না।
কপালের ফের, এমন এক মুহূর্তে ঢাকা গেলাম যখন ‘অবরোধ’ এবং ‘বিশ্ব ইজতেমা’ চলছে। অবরোধ বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই- গণতন্ত্রের জন্য এটার প্রয়োজন ছিল, আছে, থাকবে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত।

এমন অস্বাভাবিক অবস্থা দূরের কথা স্বাভাবিক অবস্থাতেই আমি ঢাকামুখো হতে চাই না যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ আমাকে স্টেশন থেকে নিয়ে যাবে। কারণটা আগেও বলেছি, শত-শত বার ঢাকা গেলেও আমি লোকেশন মনে রাখতে পারি না। পাঠকের মনিটর কাঁপানো হাসির ঝুঁকি নিয়েও বলি, আমি স্রেফ হারিয়ে যাই। অনেকের কাছে এটায় বিস্তর হাসির উপাদান থাকলেও আমার জন্য যে কী পরিমাণ যন্ত্রণা এটা কেবল আমি জানি।
পূর্বে বিভিন্ন প্রকারে চেষ্টা করতাম মনে রাখার জন্য, লাভ হয়নি। এখন সে চেষ্টা বাদ দিয়েছি নিজেকে এই সান্ত্বনা দিয়ে, সবার কী আর ব্রেন থাকে রে, পাগলা।

এর সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে আরেক দুর্দশা, আমার চশমা সংক্রান্ত জটিলতা। যে চক্ষু বিশেষজ্ঞ বহু বছর ধরে আমার চোখ দেখছেন সম্প্রতি দু-দুবার তার কাছে যাওয়ার পরও তার একই রা, আপনার চশমায় কোনও চেঞ্জ আনার প্রয়োজন নাই। এর সঙ্গে এটাও যোগ করেছিলেন, আপনার চোখে কোনও অসুখ নাই।
আমার চোখ যে তথ্য পাঠাচ্ছে মস্তিষ্ক খানিকটা বিভ্রান্ত হচ্ছে। যার ফল হাতে হাতে পেয়েছি ধানমন্ডি থেকে বেরুবার সময় গাড়ির নীচে পড়তে পড়তে বেঁচে গেছি। এই গ্রহের কোথা থেকে আমার জন্য ব্লেসিং ছিল কে জানে!
রোসো, চোখের ডাক্তার, এইবার তোমাকে চোখ দেখাতে গেলে গদাম করে এক ঘুসি মেরে তোমার এক চোখ গেলে দেব।

তো, ওখানে সবাই রোগি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত এমতাবস্থায় তো আর কাউকে এমন অন্যায্য কথা বলা চলে না। অবশ্য দয়াবান এরা, আমার ব্রেন নাই এই সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল বলেই গন্তব্য স্থান খুঁজে পাওয়ার জন্য শব্দের একটা ম্যাপ এঁকে দিয়েছেন। শব্দের এই ম্যাপ থেকে বিখ্যাত স্টার কাবাব হাউজ থেকে শুরু করে ঢাউস বিলবোর্ড কিছুই বাদ রইল না। আমি কঠিন মুখ করে স্কুটারওয়ালাকে তোতাপাখির মত শব্দের ম্যাপটা গড়গড় করে বলে গেলাম। আলাদা গাম্ভীর্য এনে রাশভারী গলায় এটাও জানাতে ভুল করলাম না, ‘চিনছ তো, তুমি ঠিক ওই জায়গায় আমাকে নামায়া দিবা’।

এর প্রয়োজন আছে নইলে এই ব্যাটা আমাকে ‘মগা’ পেয়ে কোনও একটা কূট-কৌশল করে সব সাফ করে দেবে। যাই হোক, স্কুটারওয়ালা ঠিক-ঠিক পৌঁছে দিল। একবার কেবল জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এই রাস্তা দিয়ে যামু না ওই রাস্তা দিয়া’? আমার কঠিন উত্তর, ‘যেদিক দিয়া জ্যাম কম সেই দিক দিয়া যাও’।
ব্যাটা ফাজিল, গাবতলির আগে মহাখালি নাকি মহাখালির আগে গাবতলি এই ছাতাফাতাই কী আর আমার মনে থাকে যে আমি এই রাস্তা-সেই রাস্তার বিবরণ বলে দেব!

এখানকার পর্ব শেষ হলে আমার হাতে বিস্তর সময়। ফেরার ট্রেন রাত বারোটায়। আরেকজন সুহৃদের সঙ্গে দেখা করার কথা। কাজের ওই মানুষটা ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যাবেন এমনটাই আশা করে বসে ছিলাম। কিন্তু ‘কাজের মানুষ’ এই মানুষটার সেই সুযোগ আর হয় না। তিনি আমাকে মহাখালি ডিওএইচএস-এর একটা ঠিকানায় তাঁর অফিসে চলে আসতে বললে আমি পড়লাম বিপাকে।
হাসপাতাল থেকেই একজন ফিরবেন উত্তরায়। তাকে পটিয়ে-পাটিয়ে রাজি করালাম আমাকে মহাখালির গন্তব্যে নামিয়ে দিতে। এখানে নেমে আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম কারণ এখন আর চিন্তার কিছু নেই। আমার দায়-দায়িত্ব এখন এই ভদ্রলোকটার উপর বর্তাবে। তাঁর ওখানে রাতের খাওয়ার পর তিনি আমাকে অন্যান্য বারের মতই স্টেশনে পৌঁছে দেবেন। বারোটার পূর্বে ঠিক-ঠিক আমাকে এয়ারপোর্ট স্টেশনে রেখে যাওয়ার সময় পইপই করে এটাও বলে গেলেন, ‘ট্রেন লেট হলে আমাকে একটা একটা ফোন দিয়েন আমি এসে নিয়ে যাবো। পরদিন যাবেন’।

অলক্ষ্যে আমি হাসি গোপন করলাম। ট্রেন আর কতক্ষণ লেট হবে? পাগল, আমার বুড়ো বাড়িটা, আমার পরিচিত বিছানাটা, আমার লাগানো গাছগুলো যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। স্টেশনে এসে পড়েছি এখন আর আমাকে পায় কে! কপাল, ট্রেন তিন-চার ঘন্টা লেট। স্টেশনে কেবল মাথা আর মাথা- লোকে গিজগিজ করছে। হঠাৎ করে শীতও পড়েছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র বাতাস। শীত তেমন ছিল না বলে আমি যথেষ্ঠ গরম কাপড় আনিনি। পাতলা একটা জ্যাকেট যেটা থাকা না-থাকা সমান। শীতে আমি হি হি করে কাঁপছি। এয়ারপোর্ট স্টেশনে বসার জায়গা দূরের কথা দাঁড়াবার জায়গাও নেই। দাঁড়াতে হচ্ছে গিয়ে প্রায় খোলা একটা জায়গায়। তীব্র শীত আমাকে কাবু করে ফেলছে। এই তিন-চার ঘন্টা সময়ে কি করব?
সঙ্গে করে আনা মার্সেল মোরিং-এর ‘দ্য ড্রিম রুম’ বইটা পড়ার চেষ্টা করছি। পড়ব কী, ছাই- শীতে কাঁপছি আমি, সঙ্গে বইয়ের অক্ষরগুলোও!

আমার ব্রেন নাই এটা সত্য কিন্তু খুলির ভেতর দুয়েক ফোঁটা সমান যে মগজ আটকে আছে তারই ফল হবে সম্ভবত। মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। আরে, কমলাপুর স্টেশনে চলে গেলেই তো হয়। ওখানে ভিড় কম থাকবে খানিকটা উষ্ণতাও হয়তো পাওয়া যাবে। যাওয়াটা কঠিন কিছু না ঢাকামুখো যে কোনও ট্রেনে উঠে পড়লেই হয়। দিনাজপুর থেকে আসা ঢাকাগামী একটা ট্রেনে উঠে পড়লাম, বাছাধনের কমলাপুর স্টেশনে না-গিয়ে উপায় নেই...।

সহায়ক সূত্র:
পরের পর্ব, 'পা-কাটা শিশু এবং মিডিয়ার ভোগান্তি-ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়: ২! ': http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post_13.html

Thursday, January 1, 2015

ওয়েটিং ফর গডো- ‘ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’!

Samuel Beckett-এর Waiting for Godot, বাংলায় অনুবাদ করেছেন, আসাদুল ইসলাম। অনুবাদ করা এই বইটির প্রকাশক হচ্ছে ঐতিহ্য। প্রকাশক জানাচ্ছেন ‘ওয়েটিং ফর গডো, এই বইটি অনুবাদ করা হয়েছে, ‘WEATING FOR GODO by Samuyel barkle beket’ থেকে। ‘WEATING FOR GODO’ নামের কোন বই এই গ্রহে আছে বলে অন্তত আমার জানা নাই!
যেটা পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে, ‘Waiting for Godot’। বা Samuyel barkle beket নামের কেউ ‘WEATING FOR GODO’ লিখেছেন এমনটাও হদিস মেলে না। যে লেখককে পাওয়া যায় তিনি হচ্ছেন, Samuel Barclay Beckett কিন্তু Samuyel barkle beket না।
কেউ-কেউ বলবেন এটা ছাপাখানার ভূত। বেশ-বেশ, মেনে নিলুম...।

এই বইটির অনুবাদক আসাদুল ইসলাম সম্বন্ধে ফ্ল্যাপে লেখা হয়েছে, “...এই ধারার নাট্যকারদের শেষ উত্তরাধিকারের তালিকায় আছেন হ্যারল্ড পিন্টার, ডেভিড ম্যামেট, টম স্টপ্পার্ড আর বাংলাদেশের আসাদুল ইসলাম...।“
অতি উত্তম! 'ঐতিহ্য' নামের প্রকাশনী থেকে 'পরকাশিত'! কোনও প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলেই সেই ছাপার অক্ষর জরিনা থেকে ক্যাটরিনা হয়ে যায় আর এ তো 'ঐতিহ্য'- যারা ২৫০০০ হাজার টাকায় বই বিক্রি করেছে এই দেশে। ইমাজিন, ২৫০০০ টাকা, তাও বাংলাদেশে! তো, এই নিয়ে আমার মত সাধারণ মানুষদের অমত থাকা সমীচীন না আসলে। দ্বিমত করাটা তো অসমীচীন। কারণ আমাদের দেশের প্রকাশকরাই ঠিক করে দেন কে লেখক, কে লেখক নন। এই দুরূহ কাজটা এরা কোন যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্ধারণ করেন এটা আজও আমার কাছে বিস্ময়!

যাই হোক, এই বইটির লেখক-অনুবাদক আসাদুল ইসলামের কিছু বাণীর সঙ্গে আমরা পরিচিত হই। তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন:
...তখন আমার সাধ জাগে সংলাপের সাথে একটু রসের মিশ্রণ ঘটালে জিনিসটা রসালো হয়ে উঠতেও পারে। সেই সাধ থেকেই রসের আমদানি।
...কিছু জায়গায় বাংলাদেশ ঢুকিয়ে দিয়েছি...। মহান কীর্তিকে ছেলের হাতের মোয়া বানাবার দায় আমি অস্বীকার করছি না।
...কলম হাতে মনে হয় আমিই বাংলার স্যামুয়েল বেকেট। ...”

...আমিই বাংলার স্যামুয়েল বেকেট”। জ্বী, স্যার, 'বাংলার বেকেটের' জন্য আমরাও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি, ‘ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’। আসাদুল ইসলাম কেমন করে বাংলার বেকেটের স্থলে ‘বাকেট’ ওরফে ‘শূন্য বাকেট’ ওরফে খালি বালতি হয়ে উঠেন সেটা পরে আলোচনা করছি।
ইশ-শ, আসাদুল ইসলাম মহোদয়, আপনি কেমন করে বাংলাদেশকে এনে এখানে ঢুকিয়েছেন, রসের আমদানী করে কেমন রসে মাখামাখি করেছেন যে আমার কী-বোর্ডও রসে চটচট করছে। কী যন্ত্রণা, এখন কী করি বলেন তো- টাইপ করাটাই অমায়িক যন্ত্রণা হয়ে দাড়িয়েছে দেখি!

যাই হোক, আসাদুল ইসলাম যে অনুবাদ করেছেন তা মূল ইংরাজির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাক। এ সত্য, অনুবাদক অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করেন। কিন্তু এরও সীমা আছে। কেউ যদি অনুবাদ করতে গিয়ে ‘শেষের কবিতা’র ‘অমিত-লাবণ্যের’ মুখে বসিয়ে দেন, ‘ধুম মাচা দে-ধুম মাচা দে-ধুম, ধুম, ধুম...’ তাহলে তো সর্বনাশ!
ভাগ্যিস, Samuel Barclay Beckett মরে বেঁচে গেছেন নইলে এই অনুবাদ দেখে নির্ঘাত তিনি নিজেই নিজেকে খুন করে ফেলতেন। পরে আত্মহত্যা করার জন্য তাঁর নামে মামলা রুজু হত! পুরো বইটি থেকে অসংখ্য অসঙ্গতি তুলে ধরাটা আমার কাছে কেবল ক্লান্তিকরই না শব্দের অপচয়ও মনে হচ্ছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠা থেকে আমি কেবল কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি:
‘Waiting for Godot’ থেকে:
VLADIMIR: " Hand in hand from the top of the Eiffel Tower, among the first. We were respectable in those days. Now it's too late. They wouldn't even let us up. (Estragon tears at his boot.) What are you doing?"
এটার আসাদুল ইসলামের অনুবাদ করেছেন:
ভ্লাডিমির: "একটা সময় ছিল যখন আমাদের পায়ে কোনো যন্ত্রণা ছিল না। সংসদ ভবনের লেকের পাড়ে আমরা হাত ধরাধরি করে হাঁটতাম। ঝুলন্ত ব্রিজের উপর পা ঝুলিয়ে, জলের আয়নায় আমরা মুখ দেখতাম। এখন কোনো কোনো মহল পায়ের যন্ত্রণায় অস্থির। আর সংসদ ভবনের দিকে গেলে তো কথাই নেই, পরিকল্পিত নাশকতাসৃষ্টিকারী হিসাবে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে, কোর্টে চালান করে দেবে। (এস্ট্রাগন জুতো নিয়ে টানাটানি করতে থাকে) তুমি এখনও পা নিয়ে আছ?"

ESTRAGON: "(pointing). You might button it all the same.
 VLADIMIR: (stooping). True. (He buttons his fly.) Never neglect the little things of life."
আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "(আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে) তোমার প্যান্টের জানালা দিয়ে হাওয়া ঢুকছে। ছোট্টসোনার ঠান্ডা লাগবে যে!"
ভ্লাডিমির: "(হকচকিত হয়ে) না, না, ঠিক আছে। (প্যান্টের বোতাম লাগায়) কিন্তু জিনিস ছোট্ট হলেই তার শক্তিকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সময় অসময়ে সেও ভীষণ শক্তিশালী হয়ে উঠে।"

ESTRAGON: "Repented what?
VLADIMIR: "Oh . . . (He reflects.) We wouldn't have to go into the details."
আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "কিসের পাপ?"
ভ্লাডিমির: "আরে বাপ, এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিনাটি নাড়িভুঁড়ি তো বলা যাবে না।"

ESTRAGON: "(timidly, to Pozzo). You're not Mr. Godot, Sir?" 
 POZZO: "(terrifying voice). I am Pozzo! (Silence.) Pozzo! (Silence.) Does that name mean nothing to you? (Silence.) I say does that name mean nothing to you? "
অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "(ভয়ে ভয়ে) স্যার, আপনি কি গডো নন?"
পজো: "(ভারী গলায়) আমি পজো। পজো। নাম শুনে কিছু বুঝতে পারছ না তোমরা? আজব, বলছি যে নাম শুনে কিছুই কি বোঝা যাচ্ছে না?"
এস্ট্রগন: "ধ্বজো, ধ্বজো-ভঙ্গ"।

POZZO: "(peremptory). Who is Godot?"
ESTRAGON: "Godot?"
আসাদুল ইসলাম স্যারের অনুবাদ:
পজো: "গডো মালাউনটা কে?"
এস্ট্রাগন: "গডো?"

ESTRAGON: "Excuse me, Mister, the bones, you won't be wanting the bones? "  
মহোদয় আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার সমীপে একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপন করা হচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্য, এই হাড়গুলোর প্রতি আপনার কোনো বিশেষ দাবী আছে কি না, এর পক্ষে থাকলে- হ্যাঁ বলুন, বিপক্ষে থাকলে- না বলুন।"

অন্যত্র আসাদুল ইসলাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন, “...মাল তো এবার হাঁপাচ্ছে...”। “...খানিকটা হাফলেডিস টাইপের...”। “...মামা তো মনে হয় শ্যাষ, সোনার বাংলা দ্যাশ...”। “...চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ, গাও বাংলাদেশ গাও...”।
আমার কাছে অনুবাদকের এইসব সংলাপ পড়ে মনে হচ্ছিল বটতলার উপন্যাস টাইপের কোনও একটা লেখা পড়ছি! তর্কের খাতিরে এইসবও না হয় মেনে নিলুম, অনুবাদক বলে কথা। কিন্তু এস্ট্রগননের সংলাপে ‘ধ্বজো-ভঙ্গ’ ব্যবহার করা বা বিশেষ করে পজোর সংলাপে অহেতুক ‘গডো মালাউনটা কে?’ ব্যবহার করাটা আমার কাছে স্রেফ একটা ফাজিলের একটা কর্মকান্ড মনে হয়েছে। স্রেফ অপদার্থগিরি!

মহামতি আসাদুল ইসলাম, আপনি যে জিনিস প্রসব করেছেন, আপনার প্রসব যন্ত্রণার প্রতি আমি ব্যথিত! ওয়েটিং ফর গডোর একটা চরিত্র ‘লাকি’ যাকে দাস হিসাবে দেখানো হয়েছে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আরেকটি চরিত্র ‘পজো’ চাবুক ব্যবহার করে। কথায় কথায় সাঁই সাঁই করে চাবুক চালায়। সেই চাবুকের কয়েক ঘা অনুবাদক আসাদুল ইসলামের পিঠে পড়লে অন্তত আমি পজোকে আটকাবার চেষ্টা করে পাপের ভাগিদার হব না।

কেউ আমাকে এ কথা বলতে বিশ্বাস করবেন না দয়া করে, যারা এই দেশে রবীন্দ্র রচনাবলীর নামে ২৫০০০ টাকার একটা লেখকেরই বই বিক্রি করে তাদের এডিটর প্যানেল নাই তারা আসাদুল ইসলামের এই আবর্জনা পড়ে দেখেনি! আর ওয়েটিং ফর গডোর ‘পজো’ সে আসাদুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে চাবকা-চাবকি পর্ব শেষ করে ডিয়ার ঐতিহ্য'র খোঁজ করলে আমি আনন্দের সঙ্গে ঐতিহ্য'র ঠিকানাটা বাতলে দেব। 

Monday, December 22, 2014

Howdy radish



Friday, December 19, 2014

একজন ‘নুলা মুসা’ এবং আমাদের মিডিয়া।

মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে প্রথম লিখেছিলাম, সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। তখন অমি রহমান পিয়াল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখির সহযোদ্ধা। পিয়াল আমাকে সতর্ক করেছিলেন, ‘শুভ, এই পাবলিক কিন্তু খতরনাক। তাকে নিয়ে যারা লেখালেখি করেছেন তারাই ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন’
প্রমাণিত না কিন্তু ফরিদপুরের যুদ্ধাপরাধিদের নিয়ে লেখালেখি করার কারণে প্রবীর শিকদার [১] বিপদে পড়েছিলেন। আমাদের মুসাও ফরিদপুরের! প্রবীর শিকদার এখনও বেঁচে আছেন কিন্তু বোমায় তার এক পা, চাপাতির আঘাতে এক হাত উড়ে গেছে।

তো, মুসা আবারও সামনে চলে এসেছেন দুদকে হাজিরা দিতে গিয়ে। দুদক অফিসে তিনি হাজিরা দিয়েছেন রাজা-বাদশার মত। একপাল দেহরক্ষী এবং চেলা-চামুন্ডা নিয়ে। এরমধ্যে অধিকাংশ মিডিয়া আবার খুব মজা পেয়েছে নারী দেহরক্ষী নিয়ে। কোথাও ছাপা হয়েছে, “মহিলা বডিগার্ড নিয়ে দুদকে সেই মুসা বিন শমসের”। বা কোথাও “সুন্দরী দেহরক্ষী নিয়ে...।”
বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে মুসা কোন রঙের ব্লেজার পরেছেন, কোন ঘড়ি, কোন ব্রান্ডের গাড়ি ইত্যাদি। ভাগ্যিস, গাড়ির কয়টা চাকা বা মুসার কোন ব্রান্ডের আন্ডারওয়্যার পরেছেন ওই দিকে আর মিডিয়া দৃষ্টিপাত করেনি।

এখনকার মিডিয়া পারে না এইসবও দিয়ে দিতে। যেমন আজকের ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ ছাপা হয়েছে, শোবিজের হ্যাপী এবং ক্রিকেট খোলোয়াড় রুবেলের ফোনালাপ। আমারা ছোট্ট একটা অনুসন্ধান ছিল। ফোনের এই কথোপকথনের উৎস কি? এই দুইজনের কেউ একজন কি কথোপকথন রেকর্ড করে রেখেছিল নাকি ফোন কোম্পানি এই অডিও ট্র্যাক সরবরাহ করেছে। নাকি কোনও গোয়েন্দা সংস্থা? একজন পাঠক এটা জানার অধিকার ফলাতেই পারে। আর সরবরাহ করলেই মিডিয়া ছেপে দেবে? “একদম ঠোঁট কামড়াইয়া ধরব কিন্তু...” এটা ছাপিয়ে পাঠকের কাছে চুতিয়া মিডিয়ার এটাই কী দায়? আবার ঢং করে লিখেছে, “[প্রকাশ অযোগ্য শব্দ।]”
এদের “[প্রকাশ অযোগ্য শব্দ।]”, এটা পড়ে দুষ্ট ছেলেদের কথাটাই মনে হলো, ‘মুহাহা, যেন সানি লিওন বলছে, আমি ভার্জিন’।

আচ্ছা, মিডিয়া কি এখন টাট্টিখানা হালের ওয়শরুমেও ক্যামেরা তাক করে ‘বুম’ ধরে রাখবে? ভাল, তাহলে এই পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজামকে দিয়েই শুরু হোক। পরে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবিটা ছেপে দিয়ে মোহনীয় একটা ক্যাপশন দেওয়া যেতে পারে, একদলা হলুদ ফুল বা এক টাল হলুদ ফুলের মাঝখানে নঈম ভাইয়া।

যাই হোক, মুসাকে নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখার মধ্যে একটা ছিল যাত্রার প্রিন্স [২]। ওখান থেকে কিছু অংশ শেয়ার করা যাক:
"ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মেয়ে কমলা ঘোষ। সবে বিয়ে হয়েছে তার। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে আটকা পড়ে যান কমলা! একদিন পাকিস্তানি মেজর কোরায়শী ও তিন জন সৈন্যসহ কমলাদের বাড়িতে আসে নুলা মুসা। এরপর যা হওয়ার তাই হয়, পাকিস্তানি সৈন্যরা চরম শারিরীক নির্যাতন করে কমলাকে। ...পরে কমলার স্বামী কমলাকে আর কখনই ঘরে ফিরিয়ে নেয়নি।

...ফরিদপুর শহরের মহিম স্কুলের সঙ্গে এক ধর্মশালা দেখাশোনা করতেন কেষ্টমন্ডল। কেষ্টমন্ডলের চার মেয়ে: ননী, বেলী, সোহাগী ও লতা। নুলা মুসার তত্ত্বাবধানে এই বেলী ও ননী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের মনোরঞ্জনে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে এই চার বোন এবং তাদের মা-র ঠাঁই হয়েছিল ফরিদপুরের পতিতাপল্লীতে।
...কেবল ননী, বেলীই নয় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে অর্ধশতাধিক বাঙালি মা-বোনের সন্ভ্রম লুটের প্রধান নায়ক এই নুলা মুসা।

এখন তার নাম ড. মুসা বিন শমশের হলেও সার্টিফিকেটের নাম এডিএম মুসা। কিন্তু একটা হাত খানিকটা বিকলাঙ্গ থাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল, 'নুলা মুসা' হিসাবেই। নিজেকে ডক্টর বলে দাবী করলেও, ১৯৬৮ সালে ঈশান স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হয়েছিল মুসা। ১৯৮৬ সালে মুসার নামের আগে ডক্টর যুক্ত হলেও উচ্চ-মাধ্যমিক পাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি কোথাও!

অভিযোগ আছে, একাত্তরের ২১ এপ্রিল পাকিস্তানি সৈন্যদের ফরিদপুরে ঢোকার ব্যাপারে মানচিত্র এবং পথনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করেছে এই মুসা। মেজর আকরাম কোরায়শীর সঙ্গে মুসার গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল! ফরিদপুরে পাকিস্তানি সৈন্য ঢোকার পরদিনই (একাত্তরের ২২ এপ্রিল) ফরিদপুর সার্কিট হাউজে মুসা এবং মেজর কোরায়শীকে খুবই অন্তরঙ্গ পরিবেশে দেখেন, মুক্তিযোদ্ধা একেএম আবু ইউসুফ সিদ্দিক পাখী।
একাত্তরে মুসা ছিল ফরিদপুরের এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা, নারী নির্যাতন একং লুটতরাজ করেছে। ফরিদপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ শহরের সমস্ত শহীদ মিনার মুসা পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় ভেঙ্গে ফেলে! মেজর কোরায়শীসহ অনেক পাকিস্তানি সেনা-সদস্যের অবাধ যাতায়াত ছিল মুসার বাড়িতে।
মুসার পিতা তথাকথিত পীর শমসের মোল্লা পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল বাড়াতে তাদের গায়ে ফুঁ দিত আর বলত, 'ইন্ডিয়া পাকিস্তান বন যায়েগা'

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিসেম্বরেই মুসা মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে ফরিদপুর থেকে পালিয়ে চলে যায় পাবনায়। সেখানে বড় ভাইয়ের শ্যালিকাকে বিয়ে করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছুটাছুটি করে। ঢাকার এক অবাঙ্গালিকে পাকিস্তানে পাঠাবার নাম করে তাঁর সহায়সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে একপর্যায়ে ঢাকায় 'শাহবাজ ইন্টারন্যাশনাল' নামে আদম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে। এরপর বিদেশে লোক পাঠাবার নাম করে উত্তরবঙ্গের কয়েকশ' লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে উধাও হয়ে যায়। বছর তিনেক পর ঢাকায় ফিরে 'ড্যাটকো' নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে আবারও শুরু করে আদম ব্যবসা! এরশাদ আমলে শুরু হয় তার উত্থান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মুসাকে...।" 

সেই মুসা আজ দম্ভের সঙ্গে বলেন, “...আমার বিষয়ে যা বলা হয়, আমি সাত বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। কেউ কোনো দিন এতো টাকা দেশে আয় করতে পারেনি, পারবেও না। আমি এই টাকা বিদেশে উপার্জন করেছি...। ...সুইস ব্যাংকে আটকে থাকা ওই টাকা উদ্ধার করা গেলে পদ্মা সেতু, দুস্থ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষকসহ সামাজিক গঠনমূলক কর্মকান্ডে অবদান রাখব।...

ডিয়ার স্যার, বলেন কী! 'ভূতের মুখে রাম নাম'- পূর্বে কখনও এই দেশের জন্য একটি আধুলিও খরচ করেছেন এমনটা তো জানি না! নুলা মুসা মহোদয়ের কাছে আরও জিজ্ঞাসা বিদেশে উপার্জন করেছেন, বেশ; তা কোন ব্যবসায় এই টাকা উপার্জন করেছেন? আর আপনি এই দেশে অবদান রাখবেন জেনে ভাল লাগছে। সবই তো বললেন কিন্তু আপনি ১৯৭১ সালে যে পাপগুলো করেছেন সেই পাপের বিষয়ে মুখ খোলেননি কিন্তু!
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার পাপের শাস্তি না-হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশের ঝুলেপড়া কাঁধের পাপমোচন হবে না।

সহায়ক সূত্র:
১. প্রবীর শিকদার: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_4.html  
২. যাত্রার প্রিন্স: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_2395.html

Thursday, December 18, 2014

মহাপুরুষ-‘মহাউলুস’!

মহাপুরুষরা আজকাল ‘মহাউলুস’ হয়ে গেছেন। ‘উলুস’ অভিধানে কেবল পাওয়া যেতে পারে জীবিত হলে। আঞ্চলিক ভাষায় ‘উলুস’ হরদম বলা হলেও এর ভাল নাম ছারপোকা।
বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকায় ঢাউস যে ছবিটা আমরা দেখতে পাচ্ছি এটায় বসুন্ধরার মালিকপক্ষ। এরা দুস্হদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। সাধু-সাধু! ওই আসে মহাপুরুষ...।
ছবি সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪
চমৎকার একটা একটা ছবি বটে! বাংলা সিনেমায় যেমন পুলিশের লম্বা চুল দেখে আমরা হাসি চাপি তেমনি এই ছবিটা দেখেও হাসি চাপা মুশকিল হয়ে পড়ে। হোয়াট আ পোজ! কই হাত কই মাথা! ভাব দেখে মনে হচ্ছে, ক্যামেরাবন্দি না-হওয়া পর্যন্ত কম্বল ছাড়াছাড়ি নাই। মহতরমা কম্বল ছেড়ে দিলে কী হবে কম্বল তো ছাড়ে না! আহা, ছবির সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়েও পাঠক যদি বুঝতে না পারেন ঠিক কে কম্বল দিল তখন কী উপায় হবে গো। পাঠক বেচারাকে তো আর এই তকলিফ দেওয়া চলে না।

যাই হোক, কম্বল বিতরণ করছেন আহমেদ সোকহানের সহধর্মিণী আফরোজা বেগম তার সঙ্গে আছেন ওগো বিদেশীনি পুত্রবধু বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফায়েত সোবহান সানভিরের ইস্তারি সাহেবা এভলিনা সোবহান। সাফায়েত সোবহান সানভির সাহেবও আছেন।
ওহো, আমার স্মৃতিবিভ্রম না-হয়ে থাকলে ইনিই তো সেই সানবির যিনি সাব্বির খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন?
...২০০৬ সালের ৪ জুলাই রাতে গুলশানের একটি বাড়িতে সাব্বির খুন হন। সানবীর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত প্রধান আসামি ছিল। একপর্যায়ে সানবীর বিদেশে পালিয়ে যান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তাঁকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছিলেন । সানবীরকে মামলা থেকে রক্ষা করতে বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে বাবরকে ২১ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি গ্রেপ্তারের পর স্বীকার করেছিলেন।...

ভাল কথা, তা এই সানবীর মহোদয় কি খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন? উত্তর যদি না হয় তাহলে এই দেশের তো উফর-ফাঁফর, দমবন্ধ অবস্থা। বেচারা দেশ, শ্বাস নেয় কেমন করে?

Wednesday, December 17, 2014

আমাদের ইশকুল- আমাদের মুক্তিযুদ্ধ- আমাদের মুক্তিযোদ্ধা।

পথশিশু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত একজনের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। কথাপ্রসঙ্গে তিনি জানতে চাইলেন স্কুলে (আমাদের ইশকুল) আমি পড়াবার জন্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করি। তিনি এটাও জানালেন তারা ‘ইব্রাহিম মেথড’ (দুর্বল স্মৃতি থেকে লিখছি ইব্রাহিম নামটা ভুল হওয়ারা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না) অনুসরণ করেন।
আমি সলাজে বললাম, আমি তো কোন পদ্ধতি অনুসরণ করি না। ধারণা করি, তিনি তাচ্ছিল্যের হাসি গোপন করেছিলেন।

যে শিক্ষক এই স্কুলে পড়ান তাকে আমি আগেভাগেই বলে দিয়েছিলাম, এই বাচ্চাদেরকে প্রচলিত পদ্ধতিতে আমি পড়াতে চাই না। স্কুলে আধ-ঘন্টা এরা বিভিন্ন খেলা খেলবে এরপর আধ-ঘন্টা পড়া। পড়ার সময়টা আমি খুব বেশি সময় রাখতে চাইনি। কারণ তাহলে এরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে না।
স্টেশনের অধিকাংশ বাচ্চাকে আমি হাতের তালুর মত চিনি- আমি জানি কে আজ দুপুরে খেয়ে আসেনি, কে ড্যান্ডিতে আসক্ত! অভুক্ত, স্বপ্নহীন বাচ্চাদের মনোযোগ ধরে রাখা কতোটা কঠিন এটা আমি বিলক্ষণ বুঝতে পারি।

একদিন এদেরকে বাংলা পড়ানো হয় তো অন্যদিন ইংরাজি। একদিন কেবল গল্প। শিক্ষামূলক কিছু গল্পের সঙ্গে ছোট্ট একটা গল্প আমি এদেরকে শিখিয়েছি। বড়ো সহজ-সরল একটা গল্প:
এক দেশে এক রাজা ছিল। রাজার ছেলে রাজকুমার। রাজকুমার খুব দুষ্ট ছিল। সে চুরি করত, মিথ্যা কথা বলত। মা-বাবার কথা শুনত না। স্কুলের যেত না। আল্লাহ একদিন তাকে শাস্তি দিলেন। তার গায়ের রঙ কালো হতে থাকত। কালো হতে হতে সে একদিন কাক হয়ে গেল। সে আর মানুষ হতে পারল না। 
গল্পের যে জায়গাটায় কাকের কথা আসে তখন বাচ্চারা কা-কা করে চিৎকার জুড়ে দেয়। এ বলার অপেক্ষা রাখে না এই গল্পটা এদের শেখাবার পেছনে আমার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। 

ওহ, একদিন ধর্ম পড়ানো হয়। একজন স্কুল দেখতে এসে আমাকে নাহক কথা শুনিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি শ্লেষভরা কন্ঠে বলছিলেন, 'মিয়া, তুমি তো বিশেষ ধর্মকর্ম পালন করো না তাহলে আরবি পড়াবার ব্যবস্থা রেখেছো কেন'?
আমি বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, 'আরবি না, একদিন ধর্ম পড়াবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে মুসলমান ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের শিশু নাই থাকলে সে ধর্ম পড়াবারও ব্যবস্থা থাকত'।
ওরে শ্লা...শোনো কথা, এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ আমি [১]- আমি স্মোক করি বলে কী এদেরকেও স্মোক করা শেখাব!

তো, একদিন থাকে আঁকাআঁকি। আমি দেখেছি বাচ্চাদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ আঁকাআঁকিতে। ওদিন স্কুলে উপস্থিতির হারও থাকে বেশি। আঁকাআঁকির কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নেই। যার যেটা খুশি আঁকে। স্কুলে আমি উপস্থিত থাকলে বলি, ভূতের ছবি আঁকো। বাচ্চারা ভূতের ছবি আঁকে। বাচ্চারা অবলীলায় হাস্যকর ভূতের ছবি আঁকে। কারণ একদিন এদেরকে বলে দিয়েছিলাম, ভূত বলে কিছু নেই।

এখানকার শিশুরা হাবিজাবি অনেক কিছুর সঙ্গে এটাও জানে পৃথিবী গোল, তিন ভাগ পানি এক ভাগ মাটি। পৃথিবী স্থির না, কেমন করে দিন-রাত হয়। এরা এটাও জানে কলার খোসার ভেতরের পিচ্ছিল অংশ দিয়ে জুতা চমৎকার পরিষ্কার হয়, চকচক করে। কলার খোসার ভেতরের পিচ্ছিল অংশ দিয়ে নিমিষেই দাঁতও পরিষ্কার, ঝকঝক হয়।

স্কুলে মাস্টার মশাইয়ের জন্য আমার তৈরি করা একটা তালিকা আছে। এই তালিকা ধরে-ধরে এদেরকে শেখানো হয়। পড়ান মাস্টার সাহেব- কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই হুটহাট করে আমি হাজির হয়ে যাই। অল্প সময়ে হাবিজাবি বলে আমি উধাও।
দু-দিন পূর্বে মাস্টার মশাই পড়াচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস নিয়ে। আমাদের কাছে শুনতে যত সহজ মনে হোক বিষয়টা এদের কাছে অতি কঠিন। যে বাচ্চাগুলো তীব্র শীতে ঘুমায় স্টেশনে অধিকাংশ সময় অভুক্ত থাকে এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা খুব একটা বোধগম্য বিষয় এটা আমি বিশ্বাস করি না। তো, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা বোঝাতে গিয়ে মাস্টার মশাইকে দেখলাম শীতেও গলদঘর্ম হতে। শিক্ষক-ছাত্র কাউকে দোষ দেওয়া চলে না।

আমি অন্য পথ ধরলাম। এদেরকে বললাম, দেখো, স্বাধীনতা মানে হচ্ছে, অনেকটা নিজের বাড়ি আর পরের বাড়ির মত। তুমি তোমার নিজের বাড়িতে যা খুশি করতে পারবে কিন্তু পরের বাড়িতে পারবে না। যেমন ধরো, তোমাদের অনেকেই স্টেশনে থাকো। সরকারি লোকজন যখন খুশি তোমাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দিতে পারবে কিন্তু নিজের বাড়িতে কেউ তোমাকে কিচ্ছু বলতে পারবে না। আলাপচারিতায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গ আসল কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সম্বন্ধে কোন প্রকারেই এদেরকে ভাল করে বোঝানো গেল না।

পরের দিন। স্কুলের বাচ্চারা খেলছে। একজন খর্বাকৃতি মানুষ আসলেন বগলে একটা ছোট্ট ব্যাগ নিয়ে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কান পরিষ্কার করব কি না। আমি বিরক্ত। তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে গিয়ে জমে গেলাম। মানুষটার বুকে ছোট্ট একটা ব্যাজ- আমার বোঝার বাকী রইল না মানুষটা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি সটান দাঁড়িয়ে গেলাম। বাচ্চাদেরকে বললাম, 'সবাই দাঁড়াও। আমাদের মাঝে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে থাকলে আমরা বসে থাকতে পারি না। যিনি অস্ত্র হাতে প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন বলেই আমরা একটা পতাকা পেয়েছি, একটা দেশ পেয়েছি। আমাদের মা যে ভাষায় কথা বলেন আমরা সেই ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারি'। তোমরা মুক্তিযোদ্ধা সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিলে। ইনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
স্কুল থেকে বেরিয়ে আলি আহমেদ নামের এই মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে যখন তিনি যুদ্ধে ছিলেন তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯! যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার পূর্বে মোজাহিদ ছিলেন। তাঁর এলাকা ছিল সালদানদী, কসবা। ছোটখাটো এই মানুষটাই অবলীলায় গুলি ছুড়েছেন ২০ রাউন্ডের এসএলআর দিয়ে। যুদ্ধে তিনি ভয়ংকর রকমের আহত হন। আর্টিলারি শেল দিয়ে সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। এখনও তিনি বহন করে চলেছেন শরীরে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত। মানুষটাকে নিয়ে অন্য একদিন বিশদ লেখা ইচ্ছা রইল। তাঁর তাড়া, আমারও।

কিন্তু আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বাচ্চাদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বারবার সংকোচের সঙ্গে এড়িয়ে যেতে চাইলেন। না-কামানো দাঁড়িভরা মুখটা নেড়ে নেড়ে বলছিলেন, 'আরে না, কী বলেন, আমি কেন'!
আমার অনুরোধ ফেলতে না-পেরে বড়ো সংকোচ নিয়ে দাঁড়ালেন।

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিনতাই হয়ে গেছে সেই কবেই, দলবাজির বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে। তাই কী, এঁর মতো মুক্তিযোদ্ধা তুচ্ছ সম্মান পেয়ে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর চোখ ভরে আসে...!

সহায়ক সূত্র:
১. নিবোর্ধ মানুষ: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_7.html 

ম্টেশনে বাচ্চা আর কয়জন পড়বে এটা ভেবে ছোট্ট একটা কামরা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই অনুমান ভুল ছিল। এমনিতে সবাই একই দিনে উপস্থিত থাকে না কিন্তু তারপরও জায়গার সংকুলান হয় না। এর উপর যেদিন আঁকাআঁকি থাকে সেদিন আমরা বিপদে পড়ে যাই কারণ তখন অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হয়। তখন আমাদের দাঁড়াবার জায়গা থাকে না। তবুও সুখ রে সুখ...!
  

Saturday, December 13, 2014

‘যৌবনযাত্রা’ নামের কারখানা!

একদা ‘যৌবনযাত্রা’ নামের অতি চালু একটা সাইট, হুড়মুড়, হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হইচই করা শুরু করল।
এমনিতে এই ধরনের একটা সাইট ‘এডাল্ট সাইট’ হিসাবে চালু থাকবে কি থাকবে না সেটা ভিন্ন তর্কের বিষয়! কিন্তু হিডেন ক্যামেরায় ধারণকৃত বা অনুমতি ব্যতীত কারও ভিডিও কোনও সাইটে আপলোড করে দেয়াটা যে চরম অনৈতিক কাজ এটা এই সমস্ত ইতরদের কে বোঝাবে। এতে করে একজন মানুষের জীবনে কেমন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এটা বোঝার ক্ষমতা ডায়াপারপরা এই ইতরদের নাই। তাদের অনৈতিক আচরণের কারণে কেউ যদি তার প্রাণ নষ্ট করে ফেলে তাহলে আমি এদের বিরুদ্ধে পরোক্ষ খুনের অভিযোগ আনতে চাই।

মজার ছলে কত প্রকারের যে চরম অন্যায় হয় তার ছোট্ট একটা নমুনা দেই: একজন ডাক্তার, একজন ভদ্রমহিলা আমাকে বেদনার সঙ্গে বলছিলেন, ‘দেখেন, বিভিন্ন নাম্বার থেকে আমার কাছে এন্তার কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, আমার রেট কত’?
পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটা সাইট পওয়া গেল যেখানে একটা মেয়ের নামে এই নাম্বারটা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমি কলগার্ল, আমাকে কল করুন’। এখন একজন ডাক্তারের ফোন নাম্বার পাওয়া তো জটিল কিছু না। প্রেসক্রিপশনে, চেম্বারে, সাইনবোর্ডে থাকে। যে এই নাম্বারটা এমন করে ছড়িয়ে দিল সেই কাপুরুষটা নিজেকে বড়ো বীরপুরুষ ভাবল!

যাই হোক, ‘যৌবনযাত্রায় ‘বাণী’ লিখে-টিখে কেউ-কেউ আবার মুক্তিযুদ্ধের দুর্ধর্ষ গবেষকও বনে গেলেন! মুক্তিযুদ্ধের গবেষক হওযার মত যোগ্যতা আমার ছিল না কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখির কারণেই কিনা জানি না অন্য উপায়ে ‘যৌবনযাত্রা’ আমাকেও তাদের সাইটে লেখার সুযোগ করে দিল। সুযোগ করে দিল মানে আমার লেখা ছাপিয়ে দিল। আমার লেখা ছাপিয়ে দিল, আমার অনুমতি না-নিয়ে! এই বিরল সৌভাগ্যে আমার আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু নিরানন্দ আমি আমার সাইটে একটা লেখা লিখলাম, ‘অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল।‘ [১]
বিনা অনুমতিতে আমার লেখাটা যৌবনযাত্রায় ছাপা হওয়ার করণে ‘বাঘমামা’ নামের একজন এসে আমার ওই পোস্টে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। বাঘমামা সম্ভবত যৌবনযাত্রার কর্তাগোছের কেউ হবেন। কারণ যৌবন যাত্রায় যে আমার লেখাটা পোস্ট করেছিল তাকে আচ্ছা করে বকা দিয়েছিলেন এবং এর একটা সদুত্তর চেয়েছিলেন। পোস্টদাতা বেচারা একটা টুঁশব্দও করেনি। করার কথা না। এই দেশে দুঃখপ্রকাশের চল নাই বিধায় আমি মুগ্ধ হয়ে ছিলাম।

বিনা অনুতিতে লেখাটা প্রকাশ করা ব্যতীত এখানে অন্য একটি বিষয় আমাকে প্রচন্ড ক্রদ্ধ করেছিল। সেটা হচ্ছে, ‘খোদাজার অংশবিশেষ‘, লেখাটি আমার একটা উপন্যাস ‘খোদেজা’ থেকে নেওয়া। মূল ঘটনা সত্য। খোদেজা নামের একটা শিশুর প্রতি চরম শারীরিক অন্যায় করা হয়েছিল। যে দু-জন যুবক এর জন্য দায়ী তারা যে কেবল খোদেজাকে চরম শারীরিক অত্যাচার করেছিল এই না; খোদেজা যখন চিৎকার করছিল তখন তার মুখে মুঠো মুঠো বালি গুঁজে দিয়েছিল। খোদেজার মৃত্যুর পর এই দু-জন আবার খোদেজার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করেছিল। জানাজায় অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছিল কারণ এমনটা আমি পূর্বে কখনও শুনিনি! ‘খোদেজা’ উপন্যাসটা লেখার পেছনের কথা এটাই।

ওই ইতরামির পর সেটা নিয়ে আরেকটি লেখা লিখেছিলাম, ‘হাজামের হাতে সার্জনের ছুঁরি [২]। ওই লেখায় যেটা লিখেছিলাম:
...যৌবনযাত্রায় ওই লেখাটা পড়তে গিয়ে মজার এই বিষয়টা লক্ষ করলাম। আমার লেখাটার সবটুকুই হুবহু কপি-পেস্ট করা হয়েছে কিন্তু এই প্যারায় এসে গালিগুলো সেন্সর করা হয়েছে।...
‘খোদেজা’ উপন্যাসে কেন গালির প্রসঙ্গ এসেছিল সেটা আমি পূর্বের লেখায় ব্যাখ্যা করেছি আবারও চর্বিতচর্বণ করি না।

তো, ‘যৌবনযাত্রা’ লেখাটা পাবলিশ হয়ে যে অন্যায়টা হয়েছে সেটা হচ্ছে খোদেজা উপন্যাসের অতি কষ্টের দিকটাকে রগরগে করে পাঠকের কাছে তুলে দেওয়া। এরা এবং এখানে পাঠকও যুক্ত, একটা শিশুর জান্তব চিৎকারকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছে! খোদেজার উপর ঝাঁপিয়েপড়া ওই দুজন যুবকের সঙ্গে এদের খুব একটা তফাত নেই। কেবল সুযোগের অপেক্ষা।

এই সমস্ত ঘটনা ২০০৯ সালের। সব চুকেবুকে যাওয়ার পর এই প্রসঙ্গ নিয়ে আবারও কেন লিখছি? হালে একজন পাঠক আমাকে মেইল করলেন। ইনি আমার খুব পছন্দের মানুষ কিন্তু ভারী দুষ্ট। মেইলে লিখলেন, “...আপনাকে যৌবনযাত্রায় দেখা গেছে...”। সঙ্গে আবার ফিচেল হাসির ইমো। আমি আতংকিত হলাম, কী সর্বনাশ! এরা কী আমার কোনও ভিডিও আপলোড করে দিল না তো আবার!
যাই হোক, যৌবনযাত্রার কোনও অদলবদল হয়েছে কিনা আমি জানি না কিন্তু আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম আমার ওই লেখাটা আবারও পোস্ট করা হয়েছে, হুবহু [৩]। কেবল পোস্টদাতা অন্য একজন। আবার ঘটা করে লিখেছে, “অরিজিনালি পোস্টেট বাই অমুক”। এবারের কাজটা আরও গর্হিত কারণ এই পোস্টদাতা যৌবনযাত্রার যেখান থেকে এটা কপি পোস্ট করেছে সেখানে আমার আপত্তির প্রেক্ষিতে বাঘমামার বিরক্তিভরা উক্তি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছে। তারপরও লেখাটা রি-পোস্ট করেছে।
এই মানুষটা যে একটা অমায়িক চুতিয়া এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নাই।

সহায়ক সূত্র:
১. অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_9376.html
২. হাজামের হাতে সার্জনের ছুরি: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_9089.html
৩. যৌবনযাত্রার লেখাটা:
WhatsApp