Search

Monday, July 25, 2016

বর্গি গেল, জামাত-শিবির এলো!

মারাঠা সৈন্যবাহিনীর দস্যুদেরকে বর্গি বলা হতো। এই বর্গিরা ছিল মহাপাজি! এরা অন্য রাজ্যের রাজস্বেও ‘চৌথ’ নাম দিয়ে ভাগ বসাত। করাত টাইপের লোকজন অনেকটা, যেতেও কাটে আসতেও। রাজস্ব দিলেও রাজস্বের নামে লুটতরাজ না-দিলেও লুটতরাজ। বঙ্গের মানুষকে তিতিবিরক্ত করে ফেলেছিল। অবস্থা এমন দাঁড়াল কাউকে জিজ্ঞেস করা হলো,‘ভাত খাইছেন’? তার উত্তর অনেকটা এই টাইপের, ‘কী ভাত খামু বর্গির জ্বালায় ভাত খাওয়ার উপায় আছে’!
'ইয়ে করছেন'? 'আরে, কেমনে ইয়ে করমু', ইত্যাদি।

দেশে এখন আর বর্গি নাই। তাতে কী! জামাত-শিবির তো আছে। ভাগ্যিস আছে নইলে আমাদের দেশের যে কী উপায়টা হতো! আহা, কাউকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলা হয়েছে, তো?। ‘কুছ পারোয়া নেহি’, জামাত-শিবির বলে দিলে ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য বঙ্গাল ফ্রন্ট’! পুলিশ কাউকে ‘দিন-দাহাড়ে’ শত-শত লোকজনের সামনে পেটাচ্ছে। কোনও সহৃদয় মানুষ অসহায় মানুষটাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো বুঝি? ব্যস, বলে দাও ওরা জামাত শিবির দেখো, তার পায়ে অদৃশ্য পেরেক আটকে নড়াচড়ার যো থাকবে বুঝি- তখন তার একেকটা জুতার ওজন হবে কম-কম ১ টন।!
                              ভিডিও সূত্র: banglatribune.com
এই ভিডিওতে আমরা যে বীরপুঙ্গব সার্জেন্ট মহোদয়কে দেখতে পাচ্ছি তিনি একজন চালককে পেটাচ্ছেন, বুট দিয়ে পদদলিত করছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, "... পুরো ঘটনার ভিডিও দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে খন্ডিতাংশ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করেন তারা"...
বাপুরে, তোমাদের ভাবমূর্তির ভাব দেখে বাঁচি নে।
পরে সার্জেন্ট স্যার তার মোবাইল, ঘড়ি, চশমা এবং ইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও আদায় করেন। এই প্রসঙ্গে সার্জেন্ট মেহেদীর কাছে ওই চালককে মাটিতে ফেলে পায়ের বুট দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি তাকে অ্যারেস্ট করতে চাইছিলাম। এটা আমাদের অ্যারেস্ট করার কৌশল’।
কারও গোপন কৌশল নিয়ে আমরা ট্যাক্সপেয়ি লোকজনেরা বেশি বাতচিত নাই-বা করলাম।
সার্জেন্ট মেহেদী বাংলা ট্রিবিউন ডট কমকে আরও বলেন, “…এ সময় কয়েকজন লোক এগিয়ে আসেন। যাদের পরনে কোর্ট-টাই পরা ছিলো। মুখে দাড়ি ছিলো। তাদের জামায়াত-শিবিরের লোক বলে মনে হয়েছে। …

কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! আফসোস, গুলিস্তানের কামানটা সার্জেন্ট সাহেবের হাতের নাগালে ছিল না নইলে তোপ দাগিয়ে এগিয়ে আসা ওই জামাত-শিবির দুষ্টদেরকে উড়িয়ে দিতেন।

Saturday, July 16, 2016

রিপ, সুন্দরবন!

মানুষ খুন হয়, বন খুন হয় না? বেশ, মেনে নিলাম হয় না! আচ্ছা, সুন্দর অসুন্দর হয় না? কোনও সুদর্শনের মুখে এসিড ঢেলে দিলেও? কুৎসিত অবয়বটা নিয়ে বেঁচে থাকে বটে কিন্তু অজান্তে স্বজনেরও মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, আহ, মরে গেলেই ভাল ছিল। সত্যের মত বদমাশ আর নাই।
কাফকার মেটামরফোসিসের সেই চরিত্রটির কথা মনে আছে, গ্রেগর? "...One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin..."
অসুন্দর-পোকায় রূপান্তরিত হওয়া, যার মৃত্যুতে তার মার সেই নির্দয় উক্তি, 'মরে গেছে'? গ্রেগরের বাবার হাঁপ ছাড়া সেই সংলাপ, 'যাক, ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ’।

কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তির বিরোধীতা করেছিল ৫৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। ফলাফল আ বিগ জিরো! যাহা ৫৩ তাহাই ৫৩০! এই সংগঠনের সংখ্যা ৫৩০ হলেও কী আসে যায় কারণ ফল তো একই। হুদাহুদি! কারণ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, নসরুল হামিদ মিডিয়ায় বলেছেন,’রামপাল চুক্তি নিয়ে যারা বিরোধীতা করছেন তারা বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি’।
আহা, পারবেন কেমন করে? আফসোস, বিরোধী দলে (এই চুক্তির) একজন বিজ্ঞানীও নাই! বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা না-করার ফল!

ইতিপূর্বে জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান তো বলেই দিয়েছিলেন, 'এই প্লান্টটি আমাদের জন্য জরুরি, তাই পরিবেশের বিষয়গুলো আপোষযোগ্য' [১]। এরপর আর কথা চলে না। আপোষ না-করার তো প্রশ্নই আসে না কারণ আমাদের এতো-এত্তোগুলা সুন্দরবন, কোনটা রেখে কোনটা ফেলি! এই উন্নয়নের (!) হাত ধরে ওখানে যে অজস্র কংক্রিটের বস্তি গড়ে উঠবে এর রেশ ধরে বনের পশু-পাখি মায় গাছপালাও যে গলা ফাটিয়ে ‘ধুম মাচা দে’ বা ‘শিলাকি জাওয়ানি’ গান গাইবে এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই। সভ্যতার ছাল গায়ে চড়িয়ে ছাগল বাঘের গাল চাটবে-‘কাল কাল মাহাকাল ছাগল চাটে বাঘের গাল’।

গোটা গ্রহ হাঁ হয়ে যাবে, বাপস, কী সভ্য এরা- অসভ্য বনের পশুকেও সভ্য করে ফেলেছে! ‘গ্রহ বাঁচাও’ টাইপের কোনও একটা পুরষ্কার না-দিয়ে এরা আমাদেরকে ছাড়বে বুঝি! এতো সোজা…।
কিছু ছোটখাটো সমস্যা আছে বটে এই যেমন এই কেন্দ্র চালাবার জন্য প্রতিদিন লাগবে মাত্র ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা! ব্যাপার না। আশা করছি এই সামান্য কাজটি করার জন্য আমাদের পশুর নদী ব্যবহৃত হবে না কারণ ভারতের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার-মিগের সাহায্যই এই কর্মকান্ডের সমাধা হবে।

যাই হোক, আমাদের অর্জনও কিন্তু কম না রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ভার বহিব কেমনে- ‘প্রাণে দাও মোর শকতি’।

১. সুন্দরবন রামপাল…: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_23.html

Thursday, July 14, 2016

শিবরামের শার্সি!

কী ভয়াবহ, কী ভয়ংকর! “তিন জঙ্গিনেতার বিচারের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না” (প্রথম আলো, ১২ জুলাই, ২০১৬)। আমি আমার সমস্ত জীবনে যেসব হতবাক হওয়ার মত কথা শুনেছি এটা এর মধ্যে শীর্ষে থাকবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই। এই জঙ্গিনেতাদের মধ্যে আছে জেএমবি শীর্ষ নেতা মহতরম জনাবে-আলা মাওলানা সাইদুর রহমান, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী আরও আছেন হিযবুল তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু বছরের-পর-বছর চলে যাচ্ছে কিন্তু মামলা শুরু করার জন্য অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে একজনের মামলার অনুমোদন ঝুলে আছে তা প্রায় ৬ বছর হলো।

এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন’।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই বিষয়ে বলেন, ‘তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন’।
এই হচ্ছে আমাদের দেশের খোঁজখবর রাখার নমুনা! আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কেমন অকাজে জড়িয়ে থাকেন এর একটা নমুনা দেই। এক মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার লোকজনেরা এলাকায় আনন্দ-মিছিল বের করলেন রং ছিটিয়ে ছিটাছিটি খেলা খেললেন। সামনে-পেছনে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘটনা হচ্ছে এলাকার কলেজ নাকি মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপে সরকারীকরণ করা হয়েছে। বিষয়টা সত্য হলেও ভাবখানা এমন মন্ত্রী সাহেব তালুক বিক্রি করে এই কর্মটা করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে কেবল এই কলেজই না প্রায় প্রত্যেক উপজেলায়ই একটা করে কলেজ এই আওতায় পড়েছে। পাবলিকও জানে মন্ত্রী মহোদয় কি পছন্দ করেন।

এদিকে ফ্যানাটিক খুনি নিবরাসকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ছিল না। যথাসময়ে তাকে ধরা হলে হয়তো গুলশানের ওই নারকীয় খুনগুলো এড়ানো যেত। যাই হোক, একজনকে ধরা হবে, অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হবে এখানে চিঠি চালাচালির কী আছে সেটা আমাদের মত নির্বোধ ট্যাক্সপেয়ি লোকজনের বোঝা মুশকিল। অবশ্য বিবিসিকে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী, ”এটা আইনের একটি রক্ষাকবচ ছিল। সিরিয়াস ক্রাইমে দুটো জিনিস কাজ করে- একটা হচ্ছে অযথা কাউকে হয়রানি করলে…অপরদিকে এটার সিরিয়াসনেস বোঝার জন্য…সে কারণেই অনুমোদন প্রয়োজন”।
অতি উত্তম, না-জানলে আমরা বুঝব কেমন করে অধম!
কিন্তু এমতাবস্থায় এর অপব্যবহার কি হচ্ছে, এটা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আরও জানান, “এখন পর্যন্ত সরকার এর অপব্যবহার করেছে এ রকম নজির দেখানো যাবে না”।
এই অমৃতবাণী শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না!

এমনিতে ক্রসফায়ার করে কাউকে মেরে জঙ্গি বলে দিলে হত্যাকারীর জবাবদিহি করা লাগে না। প্রতিপক্ষকে কাবু করারও এ এক অনন্য উপায়। কেবল আইএস আছে এটা স্বীকার করা চলবে না। আরে, আইএস আবার কবে এটা বলল, আমরা আদি-অকৃত্রিম আমাদের কোথায় কোনও শাখা নেই।
ঘুমকাতুরে লোকজনেরা চোখ কচলে সকালে যখন জানতে পারলেন অপারেশন ‘থান্ডার বোল্ডের’ ইতি টানার পর যে জিম্মিদের প্রায় সবাইকে খুন করা হয়েছে [১] অথচ আইএসের বরাতে ‘নিশাচর ড্রাকুলা’ টাইপের লোকজনেরা মধ্য-রাতেই জেনে গেছেন যে জিম্মিদেরকে খুন করা হয়েছে।
আফসোস, কে এদেরকে বোঝাবে আইএস কেবল একটা সংগঠনই না আইএস একটা মতাদর্শ-ভাবাদর্শ। এবং এটা এরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। অঝোর বৃষ্টিতে ছাতার খোঁজ না-করে বৃষ্টি যা যা, বলে গান গাইলে অন্তর্বাসও যে বৃষ্টিতে চুপচুপে হবে এতে সন্দেহ কী!

তো,‘জঙ্গি আইয়ে রে’,এটা শুনে-শুনে কানের পোকা তো পরের কথা কানের ময়লা পর্যন্ত সাফ। জঙ্গি দমনে সরকার নাকি জিরো টলারেন্স। যেখানে জঙ্গি শীর্ষ নেতাদের বিচারের অনুমোদন ৬ বছর লাগিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে মন্ত্রী মহোদয় বলছেন এর অপব্যবহার হচ্ছে না। তা জিরো টলারেন্সের পর কী ‘মাইনাস টলারেন্স’ যোগ হবে?
আমাদের এই বিচিত্র দেশের ড্রাইভার সাহেবরাও বড়ো বিচিত্র। অর্থমন্ত্রীর কাছে কোনও সমস্যাই সমস্যা না তাই তিনি যথারীতি মন্তব্য করেছেন, জঙ্গি হামলা এটা কোনও বিষয় না।
আর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, "জঙ্গি হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়নি"। মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু পাল্লা দিয়ে মেপে এটা বের করেছেন তাই এতে সন্দেহ পোষণ করা সমীচীন হবে না। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি এতে করে দেশের মুখ ফকফকা হয়েছে। এই গ্রহে আমাদের মাথা এমন উঁচু হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করে কে!  

এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানি। ভারী-ভারী বিষয় নাহয় থাকুক। শিবরাম চক্রবর্তীর ওই লেখাটা সবাই জানেন তবুও বলি। দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!

আসলে কাঁচবিহীন একটা জানালার আমাদের খুব প্রয়োজন তাহলে ‘গুছলেংটি’ দিয়ে 'হুদাহুদি' ঝগড়া করতে খুব সুবিধে হয়…।

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Monday, July 11, 2016

বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র!

গুলশানে যে নারকীয় তান্ডব চালায় দানবেরা এদের পরিবারের লোকজনরা তাঁদের সন্তানদের হাতে খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটা যে অসাধারণ একটা উদ্যোগ এতে কোনও সন্দেহ নেই। স্যালুট। আলাভোলা ছেলেগুলো যেভাবে হুট করে দানব হয়ে যাচ্ছে একটা দেশ,পরিবারের জন্য এটা যে কী পরিমাণ কষ্টের এটা বোধের বাইরে কারণ আমাদের পরিবারও এই শঙ্কা থেকে মুক্ত না। কারও আদরের সন্তান বদলে যাবে না এটা কেউ জাঁক করে বলতে পারে না। যে বলে সে একটা নির্বোধ! যে সকাল-বিকাল হাওয়াইমিঠাই খায়,আকাশে নৌকা বায়।

এদের মধ্যে রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এবং পুলিশ প্রথমে মৃতদের যে ছবি আমাদেরকে দিয়েছিল সেখানে রোহানের ছবি ছিল না অথচ 'আইএস' কিন্তু ঠিকই রোহানের ছবি প্রকাশ করেছিল [১]। যাই হোক, সেটা এখন আলোচ্য বিষয় না।

তবে রোহানের বাবার ক্ষমা চাওয়া- দুঃখ প্রকাশের ভঙ্গি বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র। তিনি গুলশান হত্যাকান্ডে নিহত ভারতীয় তরুণী তারুশি জৈনের মা-বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মিডিয়াকে বলেন,"এই আক্রমেণ একজন ভারতীয় নারীর মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনায় আমি ভারত এবং ওই নারীর বাবা-মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি…।"
অথচ অন্যদের বেলায় তাঁর কোনও প্রকারের বক্তব্য আমরা পাই না! প্রত্যেকটা মৃত্যুই কষ্টের বিশেষ করে তাঁর স্বজন-পরিবারের কাছে। তিনি ভারতীয় ওই পরিবারের প্রতি সহমর্মীতা দেখিয়ে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন এটা সত্য। কিন্তু…।
সিমোনা মন্তি
ছবি উঃস : www.banglatribune.com
এই হামলায় সবচেয়ে বেশি নাগরিক খুন হয়েছেন ইতালির এরপর জাপান। পাশাপাশি আছেন আমাদের দেশের নাগরিকও। অথচ অন্যদের কথা রোহানের বাবা কেন বিস্মৃত হলেন এটা আমার কাছে বিস্ময়কর!
সব বাদ দিলেও এদের মধ্যে ছিলেন ইতালির এক নাগরিক সিমোনা মন্তি। সিমোনা মস্তিকে খুন করা হয়। ভুল! কেবল সিমোনা মন্তিকেই খুন করা হয়নি খুন করা হয়েছে তার গর্ভের সন্তানকেও। যার নাম ঠিক করা হয়েছিল মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর নামে। এই অ্যাঞ্জেলকেও মরতে হয়েছে দানবদের হাতে। অতি নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষও একটা গর্ভবতী সাপকে ঢিল মারতে গিয়েও হাত ফিরিয়ে নেয়।
আমি অন্যত্র এক লেখায় লিখেছিলাম,‘দানব তার মাকেও খেয়ে ফেলে’ অ্যাঞ্জেল কোন ছার! 

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Friday, July 8, 2016

শিরোনামহীন।

[আজকের লেখার শিরোনাম খুঁজে পাচ্ছি না তাই শিরোনাম শিরোনামহীন! ]
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে যে নারকীয় হামলা হয়ে গেল এর ভয়াবহতা গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নাই। নারকীয় কর্মকান্ড করে যে পাঁচ জন সন্ত্রাসী মারা গেল এদের স্থান নরক ব্যতীত অন্যত্র কোথায় আর। এরা জঙ্গী না ঢঙ্গি এই বাহাসে যাওয়া অর্থহীন কারণ সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই তার আবার জাত-পাত কী, ভিন্ন নামই বা কী! এরা স্রেফ একটা চলমান দানব যে দানব যে তার মাকে খেয়ে ফেলে- ধর্ম, দেশ কোন ছার।
আই্এস থেকে হামলার পরই ‘আমাক নিউজের’ বরাতে যে পাঁচজন সন্ত্রাসীর ছবি ছাপা হয়েছিল এদের মধ্যে একজন নিয়ে ঘাপলা হলো সে হচ্ছে এখানকার শেফের সহকারী। এদিকে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, আইএসপিআর ছয় জন হামলাকারীর মৃত্যুর কথা বললেও পুলিশ ৫ জন সন্ত্রাসীর ছবি প্রকাশ করে। এই পাঁচজন সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘রোহান’ নামের সন্ত্রাসীর ছবি ছিল না, ছিল শেফের সহকারীর ছবি। অথচ আইএস যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করেছিল ওখানে রোহানের ছবি ছিল। পরে আমরা জানলাম রোহানের বাবা হচ্ছেন ক্ষমতাশীন দলের লোক!

পুলিশ মৃত ওই পাঁচজন দানবের যে নাম আমাদেরকে জানায় তারা হচ্ছে আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। তবে তখন তাদের বিশদ পরিচয় আর জানানো হয়নি। কিন্তু চৌকশ লোকজন ঠিকই এটা বের করে ফেলল এই পাঁচজনের নাম আকাশ-বাতাস, ফুল-ফল না এদের নাম হচ্ছে নিবরাস, রোহান, মোবাশ্বের, খায়রুল এবং উজ্জল। এবং এদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত পরিবারের এবং ভালই শিক্ষিত। এর মধ্যে খায়রুলের পরিবার হচ্ছে গরীব, দুবলাপাতলা। আর যায় কোথায়! তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চলছে ডাকাডাকির নামে গ্রেফতার অথচ রোহান, নিবরাসের পরিবারের লোকজনকে ‘অমায়িক ডাকাডাকি’ করার কথা তো শুনিনি! এই সব করে-করে সরকারের সদিচ্ছার প্রতি আমাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা এবং পাশাপাশি ক্ষোভমিশ্রিত ভয়ও কাজ করে।
যেমনটা তীব্র ক্ষোভে আমরা কাবু হয়ে হই যখন দেখি এই হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর ঘটা করে চার লেইনের সড়ক উদ্বোধনের নামে ঢাকঢোল পেটানো হয়। এই কাজটা ৪৮-৭২ ঘন্টা পিছিয়ে দিলে সূর্য ক-হাত নীচে নেমে আসত এমনটা মনে হয় না এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করাতেই হবে এটা জরুরি কিছু না।

একটা খুব ইন্টরেস্টিং বিষয় লক্ষ করলাম, গুলশান ঘটনায় আমাদের দুইজন পুলিশ অফিসার মারা গেছেন অনেক পুলিশম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন- পুলিশের লোকজনের প্রতি স্যালুট। অথচ জামাতে ইসলামী বিবৃতি দিল, “দুর্বৃত্তদের নিরস্ত্র করে জীবিতবস্থায় আটক করা উচিত ছিল…ব্লা-ব্লা-ব্লা”।
চুতিয়াগিরির একটা সীমা থাকা দরকার।

এই হামলার পর-পরই তিন দানবের এক ভিডিও বার্তায় ছড়িয়ে পড়ে (সঙ্গত কারণেই ভিডিও ক্লিপটা এখানে দিচ্ছি না।)। ওয়াল্লা, এই দানবগুলো দেখি আবার বাংলায় কথাও বলে! তিন দানবের মধ্যে এক দানব গুলশান হামলা প্রসঙ্গে বলছে,‘রামাদানের এই বরকতময় সময়ে খেলাফতের ভাইদের এতো চমৎকার একটি অপারেশনের খবর পড়ে আমি সত্যিই অভিভূত...’।

আমাদের দেশের চৌকশ লোকজন ঠিকই বের করে ফেলল এই তিন দানবের পরিচয়। আমাদের জন্য বিস্ময়ের-পর-বিস্ময় অপেক্ষা করে; এরাও প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে এবং ভাল একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে।
ভিডিও ঋণ: রুহুল কুদ্দুস রুহেল
ঈদের দিন শোলাকিয়ার অতি নিকটে যে হামলা হলো ওখানে পুলিশ যথাসময়ে এদেরকে আটকে না-দিলে কী ম্যাসাকার হতো তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। একজন পুলিশ অফিসার মুর্শেদ জামান শেলাকিয়ায় নামায পড়তে গিয়েছিলেন। পরঞ্জাবি-পায়জামা পরা, কোথায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কোথায় হেলমেট- লড়ে গেছেন বীরের মত। পুলিশের লোকজনের প্রতি আবারও স্যালুট। ওখানে হাতেনাতে যে জঙ্গিকে ধরা হয়েছে সে নাকি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির। এই নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি তো দেখি দানব বানাবার কারখানা! একে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে না-গেলেই হয় কারণ ইতিপূর্বে ফাহিমকে [১] নিয়ে পুলিশ অস্ত্রউদ্ধারে গেছে। এসপি বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতু খুনের সন্দেহভাজন যে খুনি সেও ক্রসফায়ারে মারা গেছে।

আচ্ছা, পুলিশ এতো অস্ত্র উদ্ধারে যায় কেন! অন্যের অস্ত্রের প্রতি পুলিশের এহেন লালচ কেন! পুলিশের কী অস্ত্রের অভাব? আহা, এমনটা হয়ে থাকলে আমরা দেশবাসীরা নাহয় চাঁদা করে কিনে দেব নে...।
ঋণ: www.bdnews24.com

১. আ হিউম্যান বম্ব! : http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post.html

Saturday, July 2, 2016

আ হিউম্যান বম্ব!

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “…পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে (ফাহিম)ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। …ফাহিমের জন্য খালেদার এত মায়াকান্না কেন?...” (প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৬)

ক্রসফায়ার বা যেকোনো কারণে…”। ‘যেকোনো কারণ’ নিয়ে খানিকটা সংশয় তাঁর মধ্যে কাজ করলেও আমার ক্ষীণ ধারণা ছিল ক্রসফায়ারের বিষয়টা হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা নেই কিন্তু ধারণাটা ভুল। তিনি বিলক্ষণ জানেন।
হায় রাজনীতি- খালেদা জিয়াকে পরাস্ত করার জন্য তিনি এই কথাটা বলতে গিয়ে এর ভয়াবহতা উপেক্ষা করলেন! এমনিতে ফাহিমের জন্য খালেদা জিয়ার দয়ার্দ্র মনোভাব নিয়ে আমার বিশেষ কাতরতা নেই। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে জরুরি না।


খালেদা জিয়া কতটা ঘায়েল হলেন জানি না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যে পথ বেছে নিলেন তা আমাদেরকে ভীত আতঙ্কিত করে। সরকারী পোশাক গায়ে থাকলেই কাউকে হত্যা করা যায় না। এই এখতিয়ার কেবল আইনের তাও যথাযথ নিয়ম পালন করে। ফাহিম জঘন্য অপরাধ করেছে এটা নিয়ে কারও দ্বিমত নাই যেমনটা অমত নাই তার প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া নিয়েও। কিন্তু কোনও প্রকারেই এটা বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নাই যে ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হেফাজতে। সেটা ক্রসফায়ার নাকি এঙ্গেলফায়ার সেটা মূখ্য না। তাকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেমনটা কোনও সরকারের হেফাজতে জেলখানায় থাকা কাউকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াও।
ছবি ঋণ: নিউজসময়
এমনিতেও ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখাটা অসম্ভব জরুরি ছিল কারণ ফাহিমকে নিয়ে বিস্তর কাজ করার সুযোগ ছিল। এমন একটা ছেলের মনোজগৎ এলোমেলো হয়ে যায় কেমন করে? এই কাজের ক্ষেত্র গবেষক, মনোবিদ, লেখকের। ফাহিমের মত অল্পবয়সের মেধাবী ঘোরপ্যাঁচ নেই এমন একটা ছেলে কেমন করে ক্রমশ দানব হয়ে উঠে!পরিণত হয় একটা চলমান হিউম্যান বম্ব! জানাটা অতীব জরুরি, তার মনোজগত বদলে যাওয়ার কী সে রহস্য। তার মগজের খাঁজে খাঁজে উঁকি দিয়ে এটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
শত-হাজার ফাহিমের আগমণের পথ খোলা রেখে একজন ফাহিমকে নিচিহ্ন করে দিলেই কী না দিলেই কী…!

Thursday, June 30, 2016

‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডারার’ এবং কতিপয় গা ঘিনঘিনে কৃমি’!

খুন করার ভঙ্গিও আইনের কাছে বিবেচ্য বিষয়। রাগের মাথায় একজন একটা খুন করে করে ফেলল- আইন খানিকটা হলেও নরোম ভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু যে মানুষটা রসিয়ে-রসিয়ে খুন করে তার বেলায় কোনও প্রকারের ছাড় থাকার অবকাশ নাই।
বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুন করার পর এক লেখায় লিখেছিলাম [১], "সন্তানের সামনে তার মাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যে খুনি হচ্ছে চরম কাপুরুষ এবং এই গ্রহের অতি নিকৃষ্ট সৃষ্টি- গা ঘিনঘিনে কৃমির চেয়েও। যে রাজনীতির কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছে একজন নারীকে, একজন মাকে! একটা শিশুর সামনে তার মাকে কোপানো হচ্ছে সেই মাটা পড়ে থাকেন থই থই রক্তের মাঝে…"।

পূর্বে খুব জোর গলায় বলা হচ্ছিল এটা জঙ্গিদের কাজ। আমাদের দেশে এখন এই কাজটা খুবই সোজা একটা মানুষকে মেরে ফেলো তারপর বলে দাও এ জঙ্গি ছিল। ব্যস, মামলা ডিসমিস। এমনিতে খুন হতে দেরি হয় না তদন্ত থাকুক কাজির গোয়ালে; যে-কোনও বিভাগের (তিনি পানি বন্টনের দায়িত্বে নাকি আকাশ তাতে কী আসে যায়) একজন ফস করে বলে বসেন, এটা জঙ্গির কাজ। এরপর আর কথা চলে না কারণ এই বাহাদুরগণ সব জানেন। ইহার পর আর কী- আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলাম, থাকিলাম!

কিন্তু এখানে খানিকটা ব্যতিক্রম ঘটল। দানবের মাঝেও খানিকটা মানবের দেখা মিলল। এই হত্যাকাণ্ডের দায় জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ সাফ অস্বীকার করে যে এই কাপুরুষিত খুন আমাদের না।
যাই হোক, এরপর খুনি সন্দেহে আনোয়ার এবং ওয়াসিম দুজনকে ধরা হয়। এরপরই শুরু হলো ‘হাশ-হাশ’। লুকোচুরি! বাদীর সঙ্গে কথা বলার নিয়ম আছে এই অমায়িক বক্তব্য জেনে আমরা বিমল আনন্দ বোধ করি বটে কিন্তু বাস্তবে যেটা জানা গেল রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে মামলার বাদী এসপি বাবুল আকতারকে পুলিশ নিয়ে গেল। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ। ‘রাতভর’ মিডিয়ার খুব পছন্দের একটা শব্দ। 'চুতিয়া' মিডিয়া নারীদের প্রতি চরম শারীরিক নির্যাতনের বেলায়ও এটা হামেশা ব্যবহার করে, রাতভর…।

তো, এই কর্মকান্ড চলে ঝাড়া ১৫ ঘন্টা! অবশ্য পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার মিডিয়ার কাছে বলেন, "বাবুল আকতার মামলার বাদী। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে তাঁকে আনা হয়েছে…।"
ওহো, এটা তাহলে আলোচনা ছিল! বেশ-বেশ, আলোচনার জন্য গভীর রাত উপযোগীই বটে। তবে এটাকে কেবল আলোচনা বলাটা খানিকটা অমর্যাদার হয়ে উঠে, ‘ম্যারাথন আলোচনা’ বলাটাই সমীচীন- ১৫ মাইলের স্থলে হবে ১৫ ঘন্টা।
ছবি ঋণ: ব্লগার ও এনটিভির সাংবাদিক সন্দীপন বসু
এরিমধ্যে কিছু 'অমায়িক চুতিয়া' টাইপের মিডিয়া বিভিন্ন গল্পগুজব ফেঁদে বসল। এই সমস্ত কৃমি টাইপ নিউজ পোর্টালগুলোর বাইরেও আছে ‘বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর’, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মত মিডিয়াও। ভাল কথা, মালিকের খুনিপুত্রের সর্বশেষ আপডেট কি?
সেসব অদায়িত্বশীল ছাতাফাতা মিডিয়ার কথা থাকুক। দায়িত্বশীল দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো (২৭ জুন ২০১৬) লিখেছে, "বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তারা এমন সব তথ্য পেয়েছেন, যা শুনে নিজেরাই বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির কারণে তাঁরা সেসব তথ্য প্রকাশ করতে পারছেন না।"

এটা পড়ে আমার মত বেকুব পাঠকও আঁতকে উঠে, কী সর্বনাশ, পুলিশ বাহিনীর লোক এর সঙ্গে জড়িত? ক-কে-ক্কে? মনের অজান্তেই যে অস্পষ্ট মুখটা ভেসে উঠে সেই মুখটা বাবুল আকতারের! না, তা কী করে হয়? এই মানুষটা নিজের স্ত্রীকে? আহা,প্রথম আলো যেহেতু বলছে তাতে সন্দেহের অবকাশ কোথায়। কিন্তু, একটা কিন্তু থেকেই যায়। এতোশত উপায় থাকতে বাবুল আকতার সন্তানের সামনে লোক লাগিয়ে কোপাকোপি করতে গেলেন কেন! স্ত্রীকে অপছন্দের কারণ সে নাহয় বুঝলুম কিন্তু নিজ সন্তানের সামনে? আর বাবুল আকতারের মত চৌকশ লোক সোর্সকে ব্যবহার করবে এই খুনে! আর এমনটা হলে নিয়ম হচ্ছে খুন করার পর সোর্সকেও খুন করে ফেলা। আরে নাহ, তা কী করে হয়?

কিন্তু প্রথম আলো (২৮ জুন ২০১৬) যে জানাচ্ছে, "…তিনি আর চাকরিতে ফিরছেন না বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। …একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন…। …নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, …ওই সময় তাঁকে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য-প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাকে জেলে যেতে হবে অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে বাবুল সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।"

প্রথম আলো এই সমস্ত লেখা পড়ে এখন আর খুনির চেহারা অস্পষ্ট না, দিনের আলোর মত ঝকঝকে। বাবুল আকতার খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত। এই খুনাখুনি আপাতত থাকুক। আমার প্রশ্ন অন্যত্র। অসমর্থিত সূত্রের উল্লেখ করে তাহলে যা-কিছু বলা যায়? আচ্ছা, ধরা যাক, আমি লিখলাম, একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যায় আমাদের মতিউর রহমান ওরফে মতি ভাইয়া আপন মাকে মাসের-পর-মাস হাসপাতালে ফেলে রেখেছিলেন। দেখতে বিশেষ যাননি! এটা আমি এক আর্মি অফিসারের মুখে শুনেছিলাম। কিন্তু এটা লিখলে মতি ভাইয়া আহত হবেন না নিশ্চয়ই।

আমাদের দেশে সত্য-মিথ্যা, মিথ্যা-সত্য, মিথ্যামিথ্যা-সত্যসত্য; এইসবের ঘোরপ্যাঁচে আমার বোধশক্তি লোপ পেয়েছে সেই কবে তাই কে খুনি,কে খুনি না এই কুতর্কে আর যাই না। এই দেশে সবই সম্ভব। পূর্বের লেখার রেশ ধরে বলি, যে-ই এই খুনটা করেছে সে যদি বাবুল আকতারও হন এটা একটা ঠান্ডা মাথার খুন কোনও প্রকারেই এর দায় থেকে অব্যহতির সুযোগ নেই। তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু…।
কিন্তু বাবুল আকতার যদি খুনি না-হয়ে থাকেন তাহলে প্রথম আলো গংদেরকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অপরাধে বিচারের সম্মুখিন করা হোক। এ-ও একপ্রকার খুন, ঠান্ডা মাথার খুন। আর যে-ই খুনি হোক সে একটা গুয়েভাসা গা ঘিনঘিনে কৃমি। কৃমি থেকে মুক্তি চাই…।

সহায়ক সূত্র
১. আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম: http://www.ali-mahmed.com/2016/06/blog-post_13.html

Tuesday, June 21, 2016

‘বিপ্লব’, বিপ্লব করিয়া ফেলিল!

বিপ্লব, একটি নাম! বিপ্লব, একটি বিস্ময়! বিপ্লব, একটি গাঁজাখুরি সিনেমার নাম! লক্ষীপুরের মেয়র এবং আওয়ামীলীগের নেতা তাহের নামের একজন মানুষ এই মহাবিস্ময় বিপ্লবের জন্ম দিয়েছিলেন। কালে কালে এই বিপ্লব খুন করে। সবগুলো খুনের কথা তো আমরা জানি না কেবল যেটুকু জানি- খুনি বিপ্লব লক্ষীপুরের বহুল আলোচিত আইনজীবী নুরুল ইসলাম, কামাল এবং মহসিনকে খুন করে। আদালত খুনি বিপ্লবকে ফাঁসি কার্যকর করে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। কিন্তু না, বিপ্লব বলে কথা!

আমাদের দয়াবান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালে নুরুল ইসলামকে খুন করার অপরাধে খুনি বিপ্লবের মৃত্যুদন্ডের আদেশ মাফ করে দেন। পরের বছরই তিনিই ২০১২ সালে কামাল ও মহসিনকে খুন করার অপরাধে যাবজ্জীবনের আদেশ কমিয়ে ১০ বছর করেন।
এখন শুনতে পাচ্ছি সেই সাজাও বিভিন্ন প্রকারে কমানো হচ্ছে।

এক লেখায় আমি ক্ষোভ-কৌতুকে লিখেছিলাম, এবার ছেলেটাকে বিবাহ করিয়ে দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে [১]। ২০১৪ সালে জেলে বিপ্লবের বিবাহও সম্পন্ন হলো। এখন কেবল বাকী আছে বিপ্লবের সন্তান হওয়া। আমরা গোটা দেশবাসী বিপ্লবের সন্তানের আশায় প্রহর গুনছি। আহা, সত্যিকারের বিপ্লব যে আসবে সেদিনই…।

১. বড় ভাল লোক ছিলেন: http://www.ali-mahmed.com/2014/08/blog-post.html

Monday, June 13, 2016

“আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম…”।

'মা-মা, অ মা, দেখো তোমায় কেমন ছুঁয়ে দিচ্ছি'।
হাসিখুশি মা-টার মনটা কি কারণে যেন আজ ভারী বিষণ্ন। অন্য সময় খোকার এই চক্রাকারে ঘুরপাক খাওয়া এবং ছুঁয়ে দেয়ার খেলাটা কী উপভোগ্যই না মনে হয়। কিন্তু আজ মোটেও ভাল লাগছে না, বিরক্ত লাগছে। মা’র বুকটা কেমন ভার হয়ে আছে। আহ, খোকাটা এমন অবুঝ হয়েছে কেন! খোকারই বা কি দোষ, কীই বা বয়স ওর, ক-দিনইবা হলো এই পৃথিবীর মুখ দেখেছে! মা কঠিন কিছু কথা বলতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলেন। প্রাণপণ চেষ্টায় গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বললেন, 'বাবু, যাও, অন্যদের সাথে গিয়ে খেলা করো'।

খোকা চক্রাকারে ঘুরপাক থামিয়ে ঝলমলে মুখে বলল, 'উহুঁ, আমার যে তোমার সাথে খেলতেই ভাল লাগে, তুমি যে আমার লক্ষী মামইন্যা'।
খোকা এবার তার স্বরচিত ছড়া ক্রমাগত সুর করে বলতে থাকল, 'মামইন্না-মামইন্না, পিঁড়ি থেকে নামেইন্না'। 
খোকা আজকাল বড়ো ছড়াকার হয়েছে। তার এই সব স্বরচিত ছড়ার কোন আগামাথা নাই। অন্য সময় হলে মা হাঁ করে খোকার এই সব ছড়া শোনেন। আজ মোটেও এসব টানছে না।
মা রাগ-রাগ গলায় বললেন, 'বাবু, তোমাকে একবার একটা কথা বললে কানে যায় না, বললাম না অন্যদের সঙ্গে গিয়ে খেলা করো। আর শোনো, ঘসাঘসি করবে না, বিরক্ত লাগছে'।
খোকার এতক্ষণে হুঁশ হলো। মার বিবর্ণ মুখটা ভাল করে লক্ষ করল। আহা-আহা, মার কীসের কষ্ট! ইশ, কি করলে মার কষ্ট কমে এটা জানলে বেশ হতো কিন্তু খোকা তো এটা জানেই না ছাই! কথা ঘুরাবার জন্য বলল, 'মা, দৈত্যরা তো আমাদের ধরতে পারলে মেরে খেয়ে ফেলে, না'?

মা অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বললেন, 'হুঁ'।
খোকা শিউরে উঠে বলল, 'ইশ, দৈত্যরা কী নিষ্ঠুর, না'?
মা বললেন, 'হুঁ'।
'মা, আমাকে ধরলেও খেয়ে ফেলবে'?
মা হাহাকার করে উঠলেন, 'বালাই ষাট, তোকে খাওয়ার আগে যেন আমাকে খায়। খোকা, আর কক্ষণও এমন কথা মুখেও আনবি না। এইটুকুন ছেলে, কীসব কথা! খোকা, বুকে থুতু দে'।
'আচ্ছা মা, আমাদের তো দৈত্যরা ধরবে না, না? আমাদের এই জায়গাটা তো পবিত্র, তাই না? দৈত্যরা নাকি আমাদেরকে খেতেই পারবে না'?
মা খোকার চোখে চোখ রেখে বললেন, 'হুঁ'।
খোকা এবার মুখ ঝলমল করে বলল, 'আমাদেরকে খেলে নাকি দৈত্যরা নিজেরাই মরে যাবে? সত্যি নাকি, মা'?
'হুঁ, সত্যি'।
খোকা এবার লাফিয়ে উঠল, 'কী মজা-কী মজা। দৈত্যরা আমাদের খেতে পারবে না-পারবে না'। খোকা এবার কথা ঘুরাবার জন্য বলল, 'মা, তোমার কি মন খারাপ'?
মা বললেন, 'হুঁ'।
'বেশি খারাপ'?
'হুঁ'।
'তোমায় একটা ছড়া বলি'?
'আহ, না। যাও গিয়ে খেলা করো গিয়ে'।

খোকা চলে যাচ্ছে। দেখো দেখি ছেলেটার কান্ড, পাগলুটা কেমন বারবার ফিরে তাকাচ্ছে, এই বুঝি মা পিছু ডাকল। খোকাটা একদম একটা পাগলু হয়েছে! খোকা একসময় চোখের আড়াল হয়ে গেল। মা খোকাকে এটা বলতে পারেননি, তাদের মাথার উপর বিপদ, ভয়াবহ বিপদ। ইশ, খোকা যদি বুঝত বড়দের কত সমস্যা, সমস্যার কূলকিনারা নাই! দৈত্য নামের মানুষরা তাদের খেতে পারবে না এটা সত্য কিন্তু খেতে পারবে না বলেই তাদের সবাইকে মেরে ফেলার জন্য বুদ্ধি করা হচ্ছে। কালই শুনছিলেন, দৈত্যরা বিচিত্র ভাষায় কথা বলছিল, শলা করছিল: সবাইকে মেরে ফেল, সব্বাইকে। ওষুধ ছড়িয়ে দাও। সবাইকে মেরে ফেল, একজনও যেন না বাঁচতে পারে।

এক্ষণ মার বুকে কেমন চাপ চাপ ব্যথা। দৃষ্টি কেমন অস্বচ্ছ হয়ে আসছে। এটা কী চোখের ভুল, পানির রঙ কী বদলে গেছে খানিকটা? এমন হচ্ছে কেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কেন? মা নিমিষেই বুঝে ফেললেন, বোঝার আর বাকি রইল না। তাদেরকে মেরে ফেলা হচ্ছে। চারদিক থেকে অন্যরা ভুসভুস করে ভেসে উঠছে, পেট উল্টে যাচ্ছে। কেউ কেউ মুখ হাঁ করে আটকে রাখা দম ফেলার চেষ্টা করছে, আপ্রাণ চেষ্টায় নীচে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে, লাভ হচ্ছে না। মা-টা তেমন কোন চেষ্টাই করছেন না। কেবল পাগলের মতো তার সন্তানকে খোঁজার চেষ্টা করছেন। কোথায় পাবেন তার সন্তানকে? চারদিকে আর্তনাদ, হাহাকার।
মা বুঝতে পারছেন ক্রমশ তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তার মাথা খারাপের মতো হয়ে গেল, একই শব্দ বারবার আউড়ে যাচ্ছেন। অ খোকা, অ পাগলু, ফিরে আয়-ফিরে আয়, তোর মাথার দিব্যি আর কক্ষণও তোকে যেতে বলব না, কক্ষণও না...।"

* এটা অনেক পুরনো লেখা (সম্ভবত ২০০৫-এর)। এই ফিকশন-লেখার উৎস পত্রিকার যে খবরটা সেটা হচ্ছে:
"ঢাকা ওয়াসার পয়োপরিশোধন কেন্দ্রের লেগুনের সব মাছ বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়। ভেসে ওঠে কয়েক টন মৃত মাছ।“
এই সামান্য খবরটা যখন আমি পড়ি তখন আমার বড়ো অস্থির লাগছিল। গলায় কী যেন দলা পাকাচ্ছিল। কেন? আমি কী মাছ খাই না? খাই। তাহলে? এর উত্তর আমার কাছে নাই। সব প্রশ্নের উত্তর কী আমি জানি, ছাই!

** সে এক বড়ো সুখের সময়! তখন অবলীলায় লিখে ফেলা যেত আনন্দ-বেদনার কথা। তখন মাথায় এটা খেলা করত না যে লেখার কোনও অংশ নিয়ে সরকার বাহাদুরের গাত্রদাহ হবে আর সরকার বাহাদুরের কোনও মন্ত্রী বলে বসবেন, লাশের লেখালেখি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাগ্যিস, বলে বসেননি, লাশটা তোতলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেন লাশটা তোতলা হলে তার মরে যাওয়া নিয়ে বিকার হওয়ার কিছু নেই।
ধর্মের দোহাই দিয়ে যে খুনগুলো হয়েছে সবই 'দিন দাহাড়ে'-প্রকাশ্যে কিন্তু কোনও খুনিরই পুলিশ টিকিটি দূরের কথা টিকির আগাও স্পর্শ করতে পারেনি! আমাদের চৌকশ পুলিশ বাহিনী!
কেবল একটি ঘটনায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ (হিজড়া)। এরপর? এরপর আর কী- বাংলাদেশে যা হয় আর কী! সেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ 'লাবণ্য হিজড়াকে' কি প্রকারে মূল্যায়ন করা হলো বা ওই খুনিদের বিচারের কী হলো সেটা অন্তত আমি জানি না! 

আর তখন লেখক(!) নামের ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চাদেরও এমন উৎপাতও ছিল না। যারা ফেসবুকের কল্যাণে একেকটা স্টার হয়ে বসে আছে। স্ট্যাটাসের নামে লেখার নমুনা এমন, দুইটা ধর্মগ্রন্থের নাম দিয়ে ‘দেখি কে জিতে?’ শিরোনাম দিয়ে লিখেছে, 'শরিরে এক ফুটা রক্ত থাকলে উত্তর দিবা কেউ এড়িয়ে যাবেনা'।
বানান এবং ভাষার কী ছিরি! ওই লেখায় মাত্র একদিনেই মন্তব্য ২৫৩২, লাইক ২১২৭। ছাগল উৎপাদনে এই দেশ যে পৃথিবীর মধ্যে এক নাম্বার এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।
না, ভুল বললাম। আই, এস ইসলামিক স্টেট আছে না! আমাদের দেশে এই কাপুরুষেরা পেছন থেকে গলা কাটে আর ইসলামী স্টেট এর দায় স্বীকার করে। ইসলামী স্টেট নামের পশুরা গুয়ে ভাসতে থাকা কৃমিকেও ছাড়িয়ে যায় যখন আপন সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করে নিজের মাকে গুলি করে মেরে ফেলতে।

এই সেই ২০ বছর বয়সী বীরপুঙ্গব যে জনসমক্ষে আপন মাকে গুলি করে হত্যা করে। মার অপরাধ তিনি ছেলেতে আই, এস-ইসলামিক স্টেট ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।

যাই হোক, পুরনো লেখাটার প্রসঙ্গ এলো এই কারণে আমার জাগতিক জটিলতা এবং ব্যস্ততার কারণে অনেক দিন ধরে লেখালেখি হচ্ছে না। তো, একজন অতি পরিচিত মানুষ ইনবক্সে জানতে চাইলে আমি এই কারণটাই বললাম। এবং এটাও বললাম এই দেখেন না পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে নিয়ে জরুরি লেখাটাও লেখা হয়ে উঠছে না। তিনি ফট করে লিখে বসলেন, এই মহিলা তো হিজাব পরতেন, ইত্যাদি…।

আমি হতভম্ব হলাম কারণ এই মানুষটিকে প্রজ্ঞাবান মানুষ হিসাবেই জানি। অথচ এই মানুষটা এই সব কী বলে! আমি মা-মাছকে নিয়ে লিখতে পারব কিন্তু মানুষ-মাকে নিয়ে লিখতে পারব না, আজব! কে জানে, আগামীতে হয়ত মা-মাছকে নিয়ে লেখারও ব্যবচ্ছেদ হবে!

এরিমধ্যে এই খুনের প্রসঙ্গ ধরে কিছু লেখা আমার চোখে পড়েছে এরমধ্যে একজন আছেন যিনি আবার সেলিব্রেটি(!) টাইপের মানুষ যিনি মুক্তচিন্তার নামে গালাগালিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। সন্তানের সামনে তার মাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যে খুনি হচ্ছে চরম কাপুরুষ এবং এই গ্রহের অতি নিকৃষ্ট সৃষ্টি- গা ঘিনঘিনে কৃমির চেয়েও। যে রাজনীতির কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছে একজন নারীকে, একজন মাকে! একটা শিশুর সামনে তার মাকে কোপানো হচ্ছে সেই মাটা পড়ে থাকেন থই থই রক্তের মাঝে অার সব ছাপিয়ে আমাদের চোখে ভেসে উঠে মার পরিধানের হিজাব! শ্লা, একদিন অন্য কেউ রক্তের মাঝে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে আর আমরা গোল হয়ে তামাশা দেখতে দেখতে বলব, দেখ-দেখ, ব্যাটা বেল্লিক, মোজা ছাড়া জুতো পরেছে...।

আমার মনে পড়ছে কিশোরবেলায় পড়া সেই লেখাটা। এক সাধু সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পয়দলে যাচ্ছেন। খরস্রোতা এক নদী যখন পার হবেন তখন লক্ষ করলেন এক মেয়ে আটকে আছে পার হতে পারছে না। তিনি অবলীলায় মেয়েটিকে তুলে পার করে দিলেন। কয়েকদিন পর সাধুর এক চ্যালা বলছে: গুরুদেব, আমাদের তো নারীস্পর্শ নিষেধ আর আপনি কিনা...! সাধু ভারী অবাক হয়ে বললেন, কী আশ্চর্য, আমি যে মেয়েটিকে সেই কবেই নদীর পাড়ে নামিয়ে দিয়ে এসেছি আর তুমি কিনা এখনও তাকে বয়ে বেড়াচ্ছ!

এই সব ইতর মানুষদের(!) জন্য সংক্ষিপ্ত বাক্য, মাই ফুট!

*** 'আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম', শিরোনামের বাক্যটি  নেওয়া হয়েছে শাহ আবদুল করিমের গানের কথা থেকে। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। 
 **** ভিডিও সূত্র: www.bdnews24.com

Wednesday, June 1, 2016

আইন সবার জন্য সমান…!

ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬
ছবিটা, ভয়াবহ একটা ছবি! ছবিটা যে শারীরিক ভাবে অক্ষম একজন মানুষের ছবি এটা বোঝার জন্য এক পলকই যথেষ্ঠ। এই মানুষটাকে চুরির অভিযোগে ধরা হয়েছিল। আটক করা হয়েছে সত্য কিন্তু বমাল না, সন্দেহজনক মনে করায়। পুলিশ বাসা ধরে ধরে এনেছিল।
অবশ্য ৫২ বছর বয়স্ক খোকন গাজির স্বজনের অভিযোগ মিরপুরের দারোগা আরিফ হোসেন ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেছিলেন। পুলিশকে ২ হাজার টাকাও নাকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এই মানুষটাকে ছাড় দেয়নি। ওই দারোগা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় আসামি…’, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই মানুষটিকে আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া পরানো ছিল তাই পত্রিকাটি ফলাও করে খবরটা ছাপিয়েছে। এটা একটা সুপ্রতিবেদন এতে কোনও সন্দেহ নেই। আচরণটা খুবই ন্যাক্কারজনক কিন্তু কনস্টেবল পদমর্যাদার একজন মানুষের কাছ থেকে [*] আমাদের খুব একটা আশা করারও কিছু নেই। অল্পশিক্ষিত এই পুলিশকে বলা হয়েছে আসামিদেরকে এমন করে নেবে সে এমন করেই নেয়। পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারা পড়ার সুযোগ কোথায় তার? আইনের কেতাবগুলো মুখস্ত করবে তার সে যোগ্যতাই বা কোথায়?

যাই হোক, এখানে পুলিশ খুব খারাপ কিন্তু সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এই মানুষটিকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন খোকন গাজির আইনজীবী আদালতকে বলেন, “…মাননীয় আদালত, দেখুন, লোকটি পঙ্গু। একা চলাফেরা করতে পারেন না। সন্দেহজনক আসামি হিসাবে তাঁকে ধরা হয়েছে। তাকে জামিন দেওয়া হোক। জামিন না পেলে তিনি কারাগারে চরম সমস্যার সম্মুখীন হবেন…।" (প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬)
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা এই মানুষটা জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। সোজা কথা, তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেন যা কারাগারে নিক্ষেপ করারই সামিল।

আমাদের প্রচলিত আইনে আসামীকে ডকে-কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সে যেই হোক না কেন। আইন বলে কথা- আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু…ধরা যাক, একজনের কোমর থেকে দু-পা নেই সে দাঁড়াবে কেমন করে? এখানে বিচারকের ‘inherent power’ থাকা লাগে না- এখানে তাঁর প্রজ্ঞা, বিবেচনা বোধই যথেষ্ঠ।
জামিন প্রসঙ্গে ফৌজদারী কার্যবিধিতে কি বলা আছে? "ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৬: যে সকল ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে: জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তি কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে, বা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন। তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা হইবে না।"

"তবে আরও শর্ত থাকে যে, …" সেই শর্তের গভীরতা বাদ থাকুক বা বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছে এই প্রসঙ্গেও গেলাম না। ধরে নিলাম এটা জামিন অযোগ্য অপরাধ। সে ক্ষেত্রেও ধারা ৪৯৭-এ বলা হচ্ছে, “ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৭: যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে : (১) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে অথবা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইেত পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে উক্তরূপে দেওয়া যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

এখানে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে খোকন গাজি নামের এই মানুষটা অক্ষম, শারীরিক ভাবে অক্ষম।

* Enamul Haque rabbi নামের কনস্টেবল পদমর্যাদারই একজন মানুষের আইন সম্বন্ধে জ্ঞান দেখে হাঁ হয়ে যাই মানুষটার জন্য টুপি খুলে অভিবাদন। এবং এমন করে লেখার জন্য লজ্জিতও হই, দুঃখপ্রকাশ করি! 
সূত্র: http://tinyurl.com/zyxrop4 

Friday, May 27, 2016

সুফি সাধক(!) এরশাদ কহিলেন ...!

সুফি সাধকের শিষ্যের কথা পরে বলছি আগে সুফি সাধকের কথা বলে নেই। জনাব, হো মো এরশাদ নামের এই মানুষটা এমন যে সুফি(!) তা আমরা ভাল করে জানতে পারি ক্ষমতা হারানোর পর। লাল-নীলের ছড়াছড়ি! লাল-নীল, লাল পানি-নীল ছবি।

ওনার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ৬০ বোতল স্কচ হুইস্কি (দৈনিক আজকের কাগজ ০২.০৭.১৯৯১)। এক বোতল এক লিটার করে হলে চালু ভাষায় ১ মন মদ। এই মদ দিয়ে তিনি গোসল করতেন নাকি কুলি করতেন সেই তর্কে আর গেলাম না।

হাবিজাবি আরও অনেক কিছুর সঙ্গে আরও উদ্ধার হয়েছিল ২০০টি ব্লু-ফিল্ম (কাগজ ১৮.০৭.১৯৯১) যার অধিকাংশ আবার খুবই রেয়ার। এগুলোকে এডাল্ট মুভি বলতে পারলে আরাম পেতাম কিন্তু রেয়ার? আমার পাঠকের তালিকায় শিশু নেই বিধায় ‘রেয়ার ব্লু-ফিল্মের’ ব্যাখ্যায় আর গেলাম না।
এমন কোনও নোংরা দিক নেই যাতে এই মানুষটার হাতের ছোঁয়া নেই। অর্থ, নারী, পিতা হওয়ার কেলেঙ্কারী, এমনকি কবিতার নামে সাহিত্যও। [১] 

তৎকালে গঠিত কমিটি এরশাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চিহ্নিত করে ৫৩৪টি মামলা করার সুপারিশ করেছিল। এরশাদ আদালতের রায়ে জেলও খেটেছেন। তো, এরশাদ নামের এই সুফি মানুষটার শিষ্য সেলিম ওসমান স্কুলের শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস [২] করাবার পর শিষ্যকে এরশাদ বলছেন, ’…সেলিম তো আল্লার ওলি হয়ে গেছো...’। [৩] 

কেবল এরশাদই না ইসলামের হেফাজতকারী হেফাজতে ইসলামের বাবুনগরীও সেলিম ওসমানের প্রশংসায় ষষ্ঠমুখ! সেলিম ওসমানকে নিয়ে গাওয়া হয়েছে ইসলামী সঙ্গিতও।
 
যেখানে বলা হচ্ছে, সেলিম ওসমান হযরত ওমরের উত্তরসূরি...!

তো, সব দেখে আমাদের আর দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই যে সেলিম ওসমান আকাশ থেকে নেমে এসেছেন আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য। এমন একজন মানুষের মুখের ভাষা আমাদের চেয়ে অনেকখানি আলাদা হবে এতে অবাক হওয়া কিছু নেই।
এই ভিডিওটির সূত্র: www.bdnews24.com

১. মুবারকবাদ-নিন্দাবাদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
২. তোমার শবযাত্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_18.html 
৩. হেফাজতের পর এবার...: http://tinyurl.com/zsd7epq

Saturday, May 21, 2016

আবদুন নুর তুষার, 'গোলমালেষু'...

আবদুন নুর তুষার নামের মানুষটার মধ্যে কোথায় যেন একটা অমায়িক গোলমাল আছে। বিজয় এবং অভ্রের সমস্যার সময় আমরা যখন জব্বার ভাইয়ার লোভের লকলকে জিব দেখে আঁতকে উঠে তীব্র প্রতিবাদ করি তখন তুষার সাহেব কোনও এক বিচিত্র কারণে আজব এক যুক্তি দেন, ‘"…যদি সফটওয়্যার দিয়ে বাংলা লিখতে গেলে সেই সফটওয়্যারটি ফ্রি হতেই হবে, এটি আমরা বলি, তাহলে কলম দিয়ে বাংলা লিখতে গেলে, সকল কলম ফ্রি করে দেয়া উচিত৷..."[১]
এরপর এই মানুষটাকে আমার স্রেফ একটা ভাঙ্গাচোরা রোবট মনে হয়। যার কাছে ভাষা, দেশ এই সব আবেগের স্থান নেই।

মানুষটার মধ্যে ভারী গোলমাল মনে হয়েছিল বহু বছর পূর্বে তখনই যখন ‘শুভেচ্ছা’ নামের নিজের অনুষ্ঠানে পথশিশুর কথা বলে ভেউভেউ করে কান্না করছিলেন। দৃশ্যটা রগরগে নাটককেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আহা, কেউ কী আবেগপ্রবণ হবে না? হবে, হবে না কেন! কিন্তু অনুষ্ঠানটা লাইভ ছিল না যে কেউ ফোনে বলল, আপনাকে … করতে চাই আর নিরুপায় দর্শক হাঁ করে শুনল।

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে যখন খুন করা হলো তখন বুদ্ধিজীবী তুষার ফেনিয়ে-ফাপিয়ে বলা শুরু করলেন দীপন কেমন-কেমন করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতেন। বাহ, যেন ধর্মীয় অনুশাসন পালন না-করলে একজন মানুষকে খুন করলে বিশেষ সমস্যা নেই!

যাই হোক, উনি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন শিক্ষককে কুৎসিত অপমান করার পর যারা নিজের কানধরা ছবি দিচ্ছেন তাদের তীব্র সমালোচনা করে। কেন রে বাপু, সমস্যা কী! প্রতিবাদের ভাষা একেকজনের কাছে একেক রকম। নির্মেলেন্দু গুণের মত কেউ তাকে পুরস্কার না-দিলে লাজহীন মানুষের মত হইচই করেন [২] আবার কেউ বা প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে না-খেয়ে অনশন করেন। অবশ্য তুষার স্যার না-খেয়ে অনশনের ধার ধারবেন না কারণ এটা তার গা-গতরে সইবে না।
জনাব তুষার তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "…একজনকে নগ্ন করা হলো,তার প্রতিবাদে সবাই যদি নগ্ন হয়,তাহলে নগ্নতার যে লজ্জা বা মানসিক যন্ত্রনা সেটা কমে যায়।…"
ওহো, আপনি তো দেখি ‘বাত কা বাতাঙ্গার’ বানিয়ে ফেলছেন। কথা হচ্ছিল উপরের অংশ নিয়ে আপনি সরাসরি নীচের অংশে চলে গেলেন- একেবারে ডাইরেক্ট অ্যাকশন। আর আপনি যে এই অংশটুকু লিখেছেন, "…শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা বিষয়ে গোটা দেশ বিশেষ করে নেট ব্যবহারকারী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যেকের কানধরা ছবি পোষ্ট করা হচ্ছে…।"
শোনো কথা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যেকে- কেউ কি বাদ নেই? অন্তত আমি যে নেই এটা বলতে পারি। তো,আক্ষরিক অর্থে এই কথাটা গ্রহণ করলে মশিয়ে তুষারকে বুরবাক বলাটাই সমীচীন।

তুষার মহোদয় লিখেছেন, "…ছিনতাই নিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে কৌতুক করা হয়। (আমি কখনো শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে এটা করি নাই। শুধু তাই না, বুয়া , দারোয়ান, রিকশাওয়ালাদের নিয়েও কোন কৌতুক করি নাই)…।"
এই নিয়ে আপনার পোঁ ধরা কেন, বাপু? ছিনতাই নিয়ে কৌতুক থাকলে কৌতুক করতে ‘অসুবিদা’ কোথায়, স্যার! আমার এক পরিচিত মানুষ রিকশা করে যাচ্ছিলেন। বাচ্চা কোলে। বাচ্চা কাপড় নষ্ট করে দিয়েছে। নতুন কাপড় ফেলতে বড়ো মায়া তাই একটা পোঁটলায় ঢুকিয়ে ফেললেন। ছিনতাইকারী পোঁটলা নিয়ে উধাও। এই নিয়ে রসিকতা করলে কারও রস শুকিয়ে যাওয়ার তো কথা না।
আর আপনি যে বললেন, আমি কখনও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে বুয়া, দারোয়ান, রিকশাওয়ালাদের নিয়েও কৌতুক করি নাই- জ্বী, আপনি বড়ো ‘ভালু লুক’! আপনার দয়ার শরীর- ইয়ে, কৌতুকের কথা বলছেন, আহা, শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে আপনার ভেউভেউ করে কান্নার চেয়ে বড়ো কৌতুক আর কী হতে পারে!

তুষার মহাশয় আরও লিখেছেন, "…বোন ধর্ষিত হলে কি আমরা সবাই ধর্ষিত হয়ে ছবি পোস্ট করব?..." আপনি আসলে হরেদরে সব সমান দেখেন বলেই বোধহয় ন্যায়-অন্যায় গুলিয়ে ফেলেন। তাই কী অতি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকেও ‘চেহারাবেচার’ টাকা অবলীলায় নেন?
ওহো, এতো মুশকিল হলো দেখি! কেউ লিখল, ‘পিতা, তোমার শবযাত্রায়…[৩]। ব্যস, ডাগদর সাহেব, শিক্ষক শ্যামল কান্তির গা টিপেটুপে ডেভিডসনের বই ঘাঁটাঘাঁটি করে বিমল আনন্দে মাথা দুলিয়ে বলবেন, ‘ইউরিয়া’, মানুষটা এখনও জীবিত। বটে, কত বুদ্ধি ঘটে!
বা হেলাল হাফিজ যখন লেখেন, "…এক জীবনে কতটা আর নষ্ট হবে/ এক মানবী কতটা আর কষ্ট দেবে…।" তখন পন্ডিতবর তুষার ক্ষেপে যাবেন। ক-ক্ক-ক্কী, এক জীবন মানে? আমাদের আবার কয়টা জীবন, হে? আমরা কী হিন্দু যে আমাদের অনেক জীবন? হাফিজ ব্যাটা…। ব্যস, এরপর হয়তো তুষার স্যারের চেলা-চামুন্ডা বাহিনী এই নিয়ে গ্রহ মাতাবেন। হেলাল হাফিজকে ধর্মীয় ট্যাগ লাগিয়ে দিলে আটকাচ্ছে কে।

অন্যত্র মহাত্মন তুষার লিখেছেন, "…জর্জ বুশকে যদি জুতা মারা যায়,তাহলে অপমানকারীকে জুতা দেখানো যাবে না কেন? তার কানধরা কুশপুত্তলিকা বানানো যাবে না কেন? তার কুশপুত্তলিকায় চড় মারা যাবে না কেন?...নিজের নাক কেটে অপমানে সমান নয় বরং অপমানকারীর নাক বরাবর মুষ্টি প্রয়োগ করেন।"
এই মানুষগুলো যে কোন ভুবনে বাস করেন! যেন অন্য গ্রহ থেকে ভূর্জপত্র গাত্রে ভূর্লোকে তসরিফ গ্রহন করেন। এই দেশের বুদ্ধিজীবী টাইপের মানুষগুলোর বিকট এই এক সমস্য। এরা চোখে কালোর চশমা লাগিয়ে অন্ধ সেজে থাকেন। তখন অমায়িক ভঙ্গিতে সাদাকে কালো-কালোকে সাদা বলতে পারেন। ‘নাক বরাবর মুষ্টিঘাত’, এই সব শব্দশেল পড়তে ভালই লাগে। যে সংসদ সদস্য এই কর্মকান্ড করেছেন তার সম্বন্ধে আগুনমানুষ তুষারের কী কোনও প্রকারের ধারণা আছে?

এই সংসদ সদস্য সম্বন্ধে খানিকটা ধারণা পাওয়া যাবে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপের অডিও ট্র্যাকটা শুনলে, আহ, মধু-মধু! আর এই সংসদ সদস্য কোন পরিবারের এটা কি তার জানা আছে? ইতিপূর্বে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এই পরিবার সম্বন্ধে কি বলেছেন এটা কি বিস্মৃত হয়েছেন, হের তুষার? "...রাজনৈতিকভাবে ‘হেয়’ করতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে দাবি করে সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।..."
এরপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না। 'সজাগ' থাকতে থাকতে আমাদের মধ্যে তীব্র হতাশা কাজ করে বুকের গহীন থেকে অক্ষমতার হাহাকার বেরিয়ে আসে। তখন আমরা নিজের কান ধরব, নাকি ...!


কোন দেশে যে তুষারের মত লোকজনরা বসবাস করেন! যে দেশের ঘটনা রগরগে মুভিকেও হার মানায়। ফরিদপুরের যুবলীগ নেতা আসলামের ফাঁসির আয়োজনের সমস্ত কাজ সমাপ্ত। মাত্র একদিন পূর্বে সাজা মওকুফ করা হয় রাষ্ট্রপতির দয়ায়। প্রথমবার নাকচ হলেও দ্বিতীয়বার তা মঞ্জুর করা হয়! আমরা হতভম্ব বাকহীন হতেও ভুলে যাই। মিয়া, গ্যলারিতে পপকর্ন নিয়ে খেলা দেখে চ্যাটাং চ্যাটাং বাতচিত করা খুবই সোজা। যান না, নারায়নগঞ্জে গিয়ে দুম করে একটা ঘুষি মেরে আসুন না। আমরাও হাত খুলে লিখব, ওই আসে অগ্নিপুরুষ।
ওহে অগ্নিপুরুষ, তোমারই অপেক্ষায়…। 

সূত্র:
৩. পিতা, তোমার শবযাত্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_18.html

Wednesday, May 18, 2016

পিতা, তোমার শবযাত্রায়…!

বলা হয়ে থাকে পিতার কাঁধে সন্তানের শবের চেয়ে ভারী আর কিছু নাই। কিন্তু সন্তানের কাঁধে পিতার শব পলকা বুঝি! যে বাপটা নিজের পায়ে সন্তানের পা রেখে হাঁটা শিখিয়েছিলেন অথচ সেই সন্তানটাই বাপের শব কাঁধে নিয়ে হাঁটা ভুলে যায়। পা যে চলে না! বুক ভেঙ্গে আসা কান্না চেপে পা টেনে-টেনে বাপের শব টেনে নিয়ে যাওয়া। শেষমেষ কী আর কান্না থামে, শ্লা। বাথরুমের ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদা। নোংরা জলের সঙ্গে মিশে যায় সন্তানের চোখের জল।

এমনিতে আমরা বাবার খুব একটা নাগাল পাই কোথায়? তাঁর অঢেল সময়ই বা কই? বাবারা যখন চলে যান কাজে তখন আমরা ইশকুলে। আহা, তাই বলে বাবাদের কাজ থেমে থাকবে নাকি? হাতে ধরে-ধরে শেখান শিক্ষক নামের যে মানুষটা কখন যে এই মানুষটা বাবার জায়গা দখল করে ফেলেন; দূর-দূর, আগেভাগে তা টের পাওয়ার যো আছে বুঝি!
যে শিক্ষককে বালকবেলায় দৈত্যাকার মনে হত ‘সাবালকবেলায়’ তিনিই আমার কাঁধ ছাড়াতে পারেন না। তাতে কী, এখনও তাঁর পাশে দাঁড়ালে অহেতুক ভয়ে বুক কাঁপে! মরণ, বুক কাঁপার কিছু নেই- মানুষটার মায়াভরা গলা, 'তুমার কিতা হ্ইছে, মুখ এমন শুকনা ক্যান'? চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়, হুদাহুদি- অহেতুক।

আমাকে খুনি বানাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আমার সামনে পিতাসম এই মানুষটাকে চরম অপমান করা, নগ্ন করে ফেলা। আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। পরম করুণাময়, আমাকে যেন চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখতে না-হয় যে আমার পিতাসম শিক্ষককে কেউ চরম অপদস্ত করছে- তারচেয়ে মৃত্যু যে ঢের শ্রেয়।

আজ এই ভিডিওটা দেখে আমার কেবল মনে হচ্ছে এই যে শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে- এরপর ওই মানুষটা একটা মৃতমানুষ! কাগজে-কলমে হয়তো তিনি বেঁচে থাকবেন কিন্তু বাস্তবে একটা গলিত শব! তাঁর শত-হাজার ছাত্র,তাঁর পরিবারের প্রিয়মানুষগুলো গলিত শবটার দিকে তাকাবে কেমন করে, গলা বেয়ে খাবার নামে বুঝি? শবের দিকে তাকিয়ে গপগপ করে ভাত খাওয়া তো কোনও কাজের কাজ না…।

*ভিডিও ঋণ: shorif uddin shobuj

Monday, May 16, 2016

‘আমাগো কোবি’- কবিবর, শ্রীনির্মলেন্দু গুণ।

তিনি কেবল কবিবরই না শিকারিবরও বটে। তিনি সমকামী সেটা তাঁর সমস্যা কিন্তু যখন সদর্পে বলেন, ‘আগে আমি শিকার ছিলাম পরে শিকারি হয়েছি’, 
তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি, কারণ…? ভাগ্যিস, গুণদাদা কেবল এটা জানিয়েই ক্ষান্ত দিয়েছেন অন্য শিকারিদের মত (আহা, এমন পোজ তো আমরা বিস্তর দেখেছি বাঘ শিকার করে বাঘের উপর একটা ঠ্যাং তুলে দিয়ে শিকারি সাহেব ক্যামেরার সামনে  গোঁফ উচিয়ে দাঁড়ান) ওমন ভঙ্গিতে একটা ফটো তুলে জাতির উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেননি!

এমনিতে বড় অভিমানী এই কবি! একবার গণভবনে দাওয়াত না-পেয়ে কবি সাহেব শিশুর ন্যায় গাল ফুলিয়ে রাখলেন। আহা, কী মায়াই না হয়েছিল শ্রীপদপঙ্কজ শ্রীনির্মলেন্দু গুণকে দেখে। আহারে-আহারে…! তখন বাবুর চোখে চোখ রাখাই দায়।
আহা, কবির চোখে চোখ রাখি কেমন করে? ছি-ছি-ছি, কবিসম্রাটকে এহেন অপমান! কবিসম্রাট হওয়ার জন্য কত ত্যাগই না-স্বীকার করতে হয়েছে এই মানুষটাকে। আহা-আহা, এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে আসে যে আমার। আমেরিকান কবি গ্রেগরী করসো যখন আমাদের দেশ নিয়ে আমাদের মৃত মানুষদের নিয়ে অতি কুৎসিত কথা বলেন, জঘন্য আচরণ করেন তখন কবিসম্রাট গায়ের সঙ্গে মাথাও দোলান [১]

এই তো সেদিন, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পূর্বে কবিবর হইচই শুরু করলেন। আমি আরো ভাবলুম কবিবরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আর তিনি কেন এই পুরষ্কারটাই শর্ষীনার পিরকে বা র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছিল, এই নিয়ে ফেসবুক মাতাচ্ছেন। ওয়াল্লা, ঘটনা তো এটা না। এমনিতে আমাদের কবিবর কেবল ফেসবুক দাপিয়ে বেড়ান এমনই না ওখানে অবলীলায় তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেন আদর করে তাকে বলা চলে 'নোংরা শব্দশেল’! সামাজিক মাধ্যমে ‘খা…পোলা’ টাইপের [২] এই সমস্ত অতি কুৎসিত শব্দ প্রয়োগের পূর্বে অপদার্থ বখা ছেলেও দ্বিতীয়বার ভাববে।

তো, ফেসবুকের বরপুত্র একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ওখানে তিনি লিখেছিলেন:
আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসাবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভেতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনো রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে একসময় আমাকে এই পদকটি দেওয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন’
এরপরই পদকদাতাদের চোখ খুলে গেল। তাঁরা তাঁদের ভুলটা বুঝতে পারলেন। তারা কবির গলায় 'ইয়ে' পরিয়ে দিলেন- ঠিক যেমন ইয়ের গলায় ইয়ে পরিয়ে দেওয়া হয়!  এবং কবিবর ‘পদকবর’ মানে পদকপ্রাপ্ত হলেন, এমনটা বলা হচ্ছে বটে কিন্তু সত্যটা হচ্ছে কবিবর স্বাধীনতা পদকটা ছিনিয়ে আনলেন।
 
কোবি, 'আমাগো কোবি' বলে কথা…!
সহায়ক সূত্র:
১. চালবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2012/10/blog-post_16.html 
২. গুণবান গুণ!: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_28.html