Search

Monday, April 6, 2009

তাঁদের সন্তানেরা যেন থাকে দুধে ভাতে।

(...[অধিকাংশ] ধর্মেরই জোর দাবি তাঁর ধর্মই সেরা! তাঁর ধর্মেই মুক্তি, অন্য ধর্মে নরকবাস! আহারে-আহারে, বেচারা মানব, বেচারা মানবের হয়েছে নাভিশ্বাস...।)

১. "...তুমি কথা না শুনে ভ্রষ্ট হয়ে অন্য দেবতাদের কাছে সেজদা কর ও তাদের খেদমত কর; তবে আজ আমি জ্ঞাত করছি, তোমরা একেবারে বিনষ্ট হবে...।"
(তৌরাত শরীফ: পঞ্চম খন্ড: দ্বিতীয় বিবরণ, ১৭/ ১৮)

২. "...তোমাদের আল্লাহ মাবুদের সেসব হুকুমে যদি কর্ণপাত কর, তবে দোয়া পাবে। আর যদি তোমাদের আল্লাহ মাবুদের হুকুমে কর্ণপাত না কর তাহলে ....অন্য দেবতাদের পশ্চাতে গমণ কর, তবে বদদোয়াপ্রাপ্ত হবে।"
(তৌরাত শরীফ: পঞ্চম খন্ড: দ্বিতীয় বিবরণ, ২৭/ ২৮)
 
---
পাক-কিতাবে লেখা আছে-
১. "শরীয়তের প্রত্যেকটা হুকুম
যে পালন করিয়া না চলে
তাহার উপর অভিশাপ থাকে।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ৯ম খন্ড: গালাতীয়)

২. "...যেন আমার উপর ঈমান আনিবার ফলে তাহারা পাপের ক্ষমা পায়...।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ৫ম খন্ড: প্রেরিত, ২৬:১৬-১৭-১৮)
 
---
১. "অন্য জাতিরা নিজেদের খোঁড়া গর্তে
তলিয়ে যাচ্ছে;
তাদের লুকানো জালে তাদেরই পা
জড়িয়ে গেছে।"
(জবুর শরীফ, ৯/ ১৫)

২. "...হ্যাঁ, তাঁর অভিষেক করা বান্দার প্রতি,
দাউদ ও তার বংশধরদের প্রতি
তিনি চিরকাল তাঁর অটল মহব্বত
দেখান।"
(জবুর শরীফ, ১৮/ ৫০)
 
---
১. "আর কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনও গ্রহণ করা হবে না ও সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের দলে।"  
(কোরান শরীফ, ৩ সুরা আল-ই-ইমরান ৮৫)

২. "...তোমাদের মধ্যে যে-কেউ নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং অবিশ্বাসী হয়ে মারা যাবে, তাদের ইহকাল ও পরকালের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে...।"
(কোরান শরীফ, ২ সুরা বাকারা: ২১৭)

---
হিন্দু ধর্মে, শ্রীমদ্ভগবদগীতা:
১. শ্রীভগবানুবাচ:
"শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণ: পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়: পরধর্মো ভয়াবহ:।"
(নিজ ধর্ম দোষযুক্ত হইলেও পর ধর্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। নিজ ধর্মে মৃত্যুও উত্তম)
[শ্রীমদ্ভগবদগীতা, তৃতীয় অধ্যায়, ৩৫]

২. শ্রীভগবানুবাচ:
"শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণ: পরধম্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ
স্বভাবনিয়তং কর্ম কুর্বন নাপ্নোতি কিল্বিষম।"
(স্বধর্ম দোষযুক্ত হইলেও পরধর্ম হইতে বড়। যে স্বধর্ম পালন করে তাহার কোন পাপ হয় না)
[শ্রীমদ্ভগবদগীতা, অষ্টাদশ অধ্যায়, ৪৭]

---  
 বৌদ্ধ ধর্ম:
১. "...এসো হে মগগো নত্থঞঞো দসসনসস বিসুদ্ধিয়া
এতং হি তুমহে পটিপজ্জথ মারসসেতং পমোহনং।"
(দর্শনবিশুদ্ধির নিমিত্ত এই অষ্টাঙ্গিক মার্গই একমাত্র পথ। তোমরা এই মার্গই অবলম্বন কর...।)
[ধম্মপদ, মগগবগগো ২]

২. "এতং খো সরণং খেমং এতং সরণমুত্তমং
এতং সরণমাগগমম সব্বদুকখা পমুচ্চতি।"
(এসবই শ্রেষ্ট আশ্রয়। কারণ এই জ্ঞান ও শরণ অবলম্বন করে যাবতীয় দুঃখ হতে মুক্তি সম্ভব।)
[ধম্মপদ, বুদ্ধবগগো, ১৪]

---
শিখ ধর্ম:
(গুরু গ্রন্থ সাহিবের প্রথম চরণে উল্লিখিত মূল মন্তর এবং তার নির্দিষ্ট রাগ:
গুরুমুখী: ੴ ਸਤਿ ਨਾਮੁ ਕਰਤਾ ਪੁਰਖੁ ਨਿਰਭਉ ਨਿਰਵੈਰੁ ਅਕਾਲ ਮੂਰਤਿ ਅਜੂਨੀ ਸੈਭੰ ਗੁਰ ਪ੍ਰਸਾਦਿ॥
রূপান্তর: ইক ওঙ্কার সৎ(ই)-নাম(উ) করতা পুরখ(উ) নিরভউ নিরভৈর(উ) অকাল(অ) মূরত(ই) অজূনী সইভন গুর(অ) প্রসাদ(ই).
বাংলা: কেবলমাত্র এক সর্বব্যাপী সত্ত্বা আছে। সত্য হল এঁর নাম! সকল সৃষ্টিতে তিনি বিরাজমান; তাঁর ভয় নেই; তাঁর ঘৃণা নেই; তিনি নামহীন ও সর্বজনীন ও স্বকীয়, জ্ঞান ও শিক্ষার সন্ধান করলে তুমি এঁর সন্ধান পাবে।)

গুরু সাহিব থেকে:
১. গুরুই জ্ঞানের উৎস ও মুক্তি পথের সহায়ক।
২. সত্যের নিঃস্বার্থ সন্ধানে ব্যক্তিকে গুরুর সঙ্গে যুক্ত হতে হয়।
-গুরু নানক
(১.Parrinder, Geoffrey (১৯৭১)। World Religions: From Ancient History to the Present। United States: Hamlyn Publishing Group Limited। পৃষ্ঠা 254। আইএসবিএন 978-0-87196-129-7। 
২.Dhillon, Bikram Singh (জানুয়ারি–জুন ১৯৯৯)। "Who is a Sikh? Definitions of Sikhism" (PDF)। Understanding Sikhism – The Research Journal। 1 (1): 33–36, 27। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৩।)
... ... ... 

আমি এই লেখাটা লিখেছিলাম, ২০০৯ সালে! ২০২৬ সালে, এই লেখায় এআই (গ্রুক)-এর খানিকটা বক্তব্য আছে:
(...[অধিকাংশ] ধর্মেরই জোর দাবি — তাঁর ধর্মই সেরা! তাঁর ধর্মেই মুক্তি, অন্য ধর্মে নরকবাস! আহারে-আহারে, বেচারা মানব, বেচারা মানবের হয়েছে নাভিশ্বাস...।)
১. "...তুমি কথা না শুনে ভ্রষ্ট হয়ে অন্য দেবতাদের কাছে সেজদা কর ও তাদের খেদমত কর; তবে আজ আমি জ্ঞাত করছি, তোমরা একেবারে বিনষ্ট হবে...।"
(তৌরাত শরীফ: দ্বিতীয় বিবরণ, ১৩ অধ্যায়)
২. "...তোমাদের আল্লাহ মাবুদের সেসব হুকুমে যদি কর্ণপাত কর, তবে দোয়া পাবে। আর যদি তোমাদের আল্লাহ মাবুদের হুকুমে কর্ণপাত না কর তাহলে... অন্য দেবতাদের পশ্চাতে গমন কর, তবে বদদোয়াপ্রাপ্ত হবে।"
(তৌরাত শরীফ: দ্বিতীয় বিবরণ, ২৮ অধ্যায়)

পাক-কিতাবে লেখা আছে—
১. "শরীয়তের প্রত্যেকটা হুকুম যে পালন করিয়া না চলে, তাহার উপর অভিশাপ থাকে।"
(গালাতীয় ৩:১০)
২. "...যেন আমার উপর ঈমান আনিবার ফলে তাহারা পাপের ক্ষমা পায়...।"
(প্রেরিত ২৬:১৬-১৮)

১. "অন্য জাতিরা নিজেদের খোঁড়া গর্তে তলিয়ে যাচ্ছে; তাদের লুকানো জালে তাদেরই পা জড়িয়ে গেছে।"(জবুর শরীফ, ৯:১৫)২. "...হ্যাঁ, তাঁর অভিষেক করা বান্দার প্রতি, দাউদ ও তার বংশধরদের প্রতি তিনি চিরকাল তাঁর অটল মহব্বত দেখান।"(জবুর শরীফ, ১৮:৫০)
১. "আর কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনও গ্রহণ করা হবে না এবং সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের দলে।"(কোরআন শরীফ, সুরা আল-ইমরান ৩:৮৫)
২. "...তোমাদের মধ্যে যে-কেউ নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং অবিশ্বাসী হয়ে মারা যাবে, তাদের ইহকাল ও পরকালের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে...।"
(কোরআন শরীফ, সুরা বাকারা ২:২১৭)

হিন্দু ধর্মে, শ্রীমদ্ভগবদগীতা:
১. শ্রীভগবানুবাচ:
"শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।"
(নিজ ধর্ম দোষযুক্ত হলেও পরধর্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। নিজ ধর্মে মৃত্যুও উত্তম।)
[শ্রীমদ্ভগবদগীতা, তৃতীয় অধ্যায়, ৩৫]
২. শ্রীভগবানুবাচ:
"শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ
স্বভাবনিয়তং কর্ম কুর্বন নাপ্নোতি কিল্বিষম।"
(স্বধর্ম দোষযুক্ত হলেও পরধর্ম হতে বড়। যে স্বধর্ম পালন করে তার কোনো পাপ হয় না।)
[শ্রীমদ্ভগবদগীতা, অষ্টাদশ অধ্যায়, ৪৭]

বৌদ্ধ ধর্ম:
১. "...এসো হে মগ্গো নত্থঞ্ঞো দস্সনস্স বিসুদ্ধিয়া
এতং হি তুমহে পটিপজ্জথ মারস্সেতং পমোহনং।"
(দর্শনবিশুদ্ধির নিমিত্ত এই অষ্টাঙ্গিক মার্গই একমাত্র পথ। তোমরা এই মার্গই অবলম্বন কর...)
[ধম্মপদ, মগ্গবগ্গো ২]
২. "এতং খো সরণং খেমং এতং সরণমুত্তমং
এতং সরণমাগম্ম সব্বদুক্খা পমুচ্চতি।"
(এসবই শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। কারণ এই জ্ঞান ও শরণ অবলম্বন করে যাবতীয় দুঃখ থেকে মুক্তি সম্ভব।)
[ধম্মপদ, বুদ্ধবগ্গো, ১৪]

শিখ ধর্ম:(গুরু গ্রন্থ সাহিবের প্রথম চরণে উল্লিখিত মূল মন্ত্র এবং তার নির্দিষ্ট রাগ:)গুরুমুখী: ੴ ਸਤਿ ਨਾਮੁ ਕਰਤਾ ਪੁਰਖੁ ਨਿਰਭਉ ਨਿਰਵੈਰੁ ਅਕਾਲ ਮੂਰਤਿ ਅਜੂਨੀ ਸੈਭੰ ਗੁਰ ਪ੍ਰਸਾਦਿ॥বাংলা অনুবাদ: এক ওঙ্কার। সত্য নাম। সৃষ্টিকর্তা পুরুষ। নির্ভয়। নিরবৈর। অকাল মূরতি। অজূনী। স্বয়ম্ভূ। গুরুর কৃপায় লভ্য।
গুরু সাহিব থেকে:
১. গুরুই জ্ঞানের উৎস ও মুক্তির পথের সহায়ক।
২. সত্যের নিঃস্বার্থ সন্ধানে ব্যক্তিকে গুরুর সঙ্গে যুক্ত হতে হয়।
—গুরু নানক

পরিবর্তনগুলো সংক্ষেপে:
  • তৌরাতের রেফারেন্স সংশোধন করা হয়েছে (সঠিক অধ্যায় অনুসারে)।
  • ইঞ্জিলের খণ্ড সংখ্যা সরিয়ে স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্স (গালাতীয় ৩:১০) দেওয়া হয়েছে।
  • গীতার অনুবাদে সামান্য পরিষ্কার করা হয়েছে।
  • শিখ মন্ত্রের বাংলা অনুবাদ আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
  • সামগ্রিক বানান, বিরামচিহ্ন ও ধারাবাহিকতা উন্নত করা হয়েছে।






Sunday, April 5, 2009

যে-জন পাপ না করেছে...।

ইসলাম ধর্মানুসারিদের দাবি তাঁদের ধর্মই সহিষ্ণুতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে থাকে। এটা মুখে বলার পাশাপাশি কাজে না দেখালে চলবে কেন? যে কিশোরীকে দোররা মারা হলো এটা কী সহিষ্ণুতার চরম পরাকাষ্ঠা?
পর্দা বিষয়ে কোরানের এই আয়াত কী চোখে পড়ে না কাঠ-মুল্লাদের?
"কেউ ছোটখাটো দোষ করলে, তোমার প্রতিপালকের তো ক্ষমার শেষ নেই।...সুতরাং তোমরা নিজেদের বড় পবিত্র ভেবো না; কে সংযমী তা তিনিই ভাল জানেন..."।
(৫৩ সুরা নাজম: ৩২)

আগের পোস্টে বিস্তারিত দিয়েছি, আবার দিলাম এই কারণে: "নিজেদের বড় পবিত্র ভেবো না" এটার কাছাকাছি রূপকার্থে একটা আয়াত আছে ইঞ্জিল শরীফে।
"...এমন সময় আলেম ও ফরাসীরা একজন স্ত্রীলোককে ঈসার নিকট লইয়া আসিলেন। স্ত্রীলোকটি ব্যাভিচারে ধরা পড়িয়াছিল।
...।
আলেম ও ফরাসীরা সেই স্ত্রীলোককে মাঝখানে দাঁড় করাইয়া ঈসাকে বলিলেন, 'হুজুর, এই স্ত্রীলোকটি ব্যাভিচারে ধরা পড়িয়াছে। শরীয়তে মুসা এইরকম স্ত্রীলোকদের পাথর ছুঁড়িয়া মারিয়া ফেলিতে আমাদের হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু আপনি কি বলেন'?


তখন ঈসা নীচু হইয়া আংগুল দিয়া মাটিতে লিখিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁহারা যখন কথাটা বারবার তাঁহাকে জিজ্ঞেস করিতে লাগিলেন, তথন তিনি উঠিয়া তাঁহাদের বলিলেন, 'আপনাদের মধ্যে যিনি কোন পাপ করেন নাই তিনিই প্রথমে উহাকে পাথর মারুন'।

ইহার পরে তিনি নীচু হইয়া আবার মাটিতে লিখিতে লাগিলেন।
এই কথা শুনিয়া সেই ধর্ম-নেতাদের মধ্যে বৃদ্ধ লোক হইতে আরম্ভ করিয়া একে এক সকলেই চলিয়া গেলেন। ঈসা কেবল একা রহিলেন আর সেই স্ত্রীলোকটা মাঝখানে দাঁড়াইয়া রহিল।

ঈসা উঠিয়া সেই স্ত্রীলোকটাকে বলিলেন, 'বোন, তাহারা কোথায়? কেহ কি তোমাকে শাস্তির উপযুক্ত মনে করেন নাই?
স্ত্রীলোকটি উত্তর দিল, না হুজুর, কেহই করেন নাই'।
তখন ঈসা বললেন, 'আমিও করি না। আচ্ছা যাও। পাপের জীবন আর কাটাইও না'।"
(ইঞ্জিল শরীফ, ৪র্থ খন্ড: ইউহোন্না ৮:২-১১)

Saturday, April 4, 2009

পরম করুণাময় ভাজা ভাজা হন গরম তেলে



(ইউটিউব থেকে এটা মুছে ফেলা হয়েছে যে যুক্তিতে, কেবল এইজন্য ইউটিউবকে চাবকানো প্রয়োজন। কত বীভৎস ছবি দেখেছি ইউটিউবে! এখন ব্যাটাদের সূক্ষরূচি আহত হয়!)
ভাগ্যিস bbc-তে ছিল।
http://news.bbc.co.uk/1/hi/world/7980877.stm

তালেবান মোল্লারা ৩৪ বার চাবুক মেরেছে এই কিশোরিকে, পর্দা না করে পরপুরূষের সঙ্গে বের হওয়ার অপরাধে। তালেবান মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, "ইসলামি আইন অনুযায়ি নারিরা পর্দা করা ব্যতীত বাইরে বেরুতে পারবে না"।


তাই তো! ইসলামি আইন!
কিন্তু কোরানে কী এটা নাই?
"কেউ ছোটখাটো দোষ করলে (পর্দা), তোমার প্রতিপালকের তো ক্ষমার শেষ নেই। ...সুতরাং তোমরা নিজেদের বড় পবিত্র ভেবো না; কে সংযমী তা তিনিই ভাল জানেন..."।

(৫৩ সুরা নাজম: ৩২)

হে নবী, তুমি তোমাদের স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও বিশ্বাসী নারীদের বলো তারা যেন চাদরের কিছু অংশ নিজেদের মুখের উপর
টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরতে কেউ উত্যক্ত করবে না..."।
(৩৩ সুরা আহজাব: ৫৯) 


(এই ছবিসূত্র জানা নাই। কিন্তু এই ছবির, এই পর্দা-পোশাক কোত্থেকে আমদানি হলো এটা গবেষণার বিষয়! কোরানে তো পেলাম না এখন হাদিস ঘেঁটে দেখতে হবে। সহীহ হাদিস ঘাঁটব, না জয়ীফ হাদিস? বড় ধন্ধে আছি!)
...

কোরানকে অবোধ্য করার প্রয়াস তো ছিল না। সেজন্যই আজমি (অ-আরবি) ভাষার বদলে কোরান সহজে বোঝার জন্যই আরবীতে নাযিল হয়েছিল কারণ তৎকালিনদের ভাষা ছিল আরবি:
"আমি তোমার ভাষায় এ (কোরান) সহজ করে দিয়েছি..."।
(১৯ সুরা মরিয়ম: ৯৭)
"কোরান আমি তো আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার"।
(১২ সুরা ইউসুফ: ২)
কোরান অতিসহজে বোধগম্য হওয়ার জন্যই সম্ভবত এমন উদাহরণগুলো দেয়া হয়েছিল:
"তবে কি ওরা লক্ষ করে না, উট কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?"
(৮৮, সুরা গা'শিয়া: ১৭)
"তোমাদের আরোহনের জন্য ও শোভার জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন
(আনআম) অশ্ব, অশ্বেতর ও গর্দভ..."। 

(১৬ সুরা নাহল: ৫-৮)

উদাহরণটায় যদি উট, অশ্ব, গর্দভের বদলে পান্ডা, নীলতিমি বা শ্বেতভল্লুক দিয়ে দেয়া হত তাহলে আমাদের আরববাসি ভাইদের জন্য তকলিফকর বিষয় হত বৈকি!

ইসলাম ধর্মের পতাকা বহিবার অধিকার কী কেবল সৌদি ভাইজানদের, হালের তালেবানদের? সাম্প্রতিক উদাহরণটা হচ্ছে, এই তালেবান মোল্লাদের কান্ড। এরা রূপকতার ধার ধারেন না। সমস্ত কিছুই আক্ষরিকার্থে গ্রহন করেন।
এদের মাথায় কেবল ঘুরপাক খায় উট। উটের লেজ ধরে চলে আসে দোররা। মারো দোররা...। পরপুরুষ! যে দোররা মারছে, ধরে রেখেছে, যারা দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে, এরা কী? এরা কী
পরপুরুষ না?

"...তারা জান্নাতেও ঢুকতে পারবে না যে-পর্যন্ত না সুচের ফুটোয় উট ঢুকতে পারে"।
(৭ সুরা আরাফ: ৪০) 

কে জানে, আক্ষরিকার্থে এটাও হয়তো এদের মাথায় ঘুরপাক খাবে, কেমন করে সুচের ভেতর দিয়ে উটকে চালান করা যায়? এজন্যই সম্ভবত এদের জন্যে বোমাতন্ত্রের চর্চার ধারাবাহিকতায় সুচের ছিদ্রে বোমা মারাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। নইলে ধর্ম যায় যে যায়- হায়, সুচের ভেতর দিয়ে উট ঢুকবে কেমন করে?

এই আয়াতগুলো কী আমাদের এই মোল্লাসাহেবদের দৃষ্টিগোচর হয় না?
"তিনি তো সীমাঅতিক্রমকারিকে ভালবাসেন না..."।
(৭ সুরা আরাফ: ৫৫)
"আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারিদেরকে ভালবাসেন না..."।
(২৮ সুরা কাসাস: ৭৭; ৫ সুরা মায়িদা: ৬৪)

হায়রে ধর্ম! কেবল নারিদের বেলায় কত ধরনের যে পর্দা থাকা জরুরি! ফ্রান্সের মত অতিসভ্য দেশে এমনটা ঘটলে তালেবান নামের বদ্ধউম্মাদদের খুব একটা দোষ দেই কেমন করে!

জ্ঞান হচ্ছে, একটা সরলরেখা- ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া। অজ্ঞানতা হচ্ছে, বৃত্ত- অনবরত ঘুরপাক খাওয়া। 

পুরনো বিষয়ের চর্বিতচর্বণ করতে চাচ্ছি না। নাস্তিক তার মত থাকুক, আস্তিক আস্তিকের মত । ধর্মে জোর করার তো কিছু নাই!
নইলে আমরা পানি থেকে জল আলাদা করার যন্ত্রপাতি আমদানি করব আর মসজিতে জুতাজুতি করব। অতঃপর এটাকে পাদুকা বলা হবে নাকি জুতা, এ নিয়ে আরেক দফা Beating one another with...।

WhatsApp