Thursday, December 30, 2010

এই দেশের স্টিয়ারিং যাদের হাতে

পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম [১], "এটা একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভিজিটিং কার্ড। কার্ডটার হুবহু স্ক্যান করে দিলাম। কেবল নীতিগত কারণে ফোন নাম্বার এবং ইমেইল বাদ দিয়ে। ভাঁজ করা যায় এমন দু-পাতার এই কার্ডে দেখা যাচ্ছে তিনি M.Phil এবং Ph.D এই দুইটা ডিগ্রিই ব্যবহার করেছেন। তবে আমরা এটাও জানতে পারছি Self-withdrawn after one year. 

ভাল-ভাল। তাহলে কার্ডে আমার নামের সঙ্গে আইন উপদেষ্টা এলএলবি অমুক এটা লিখতে সমস্যা কোথায়! আমিও যে কি অবশ্য ব্রাকেটে Self-withdrawn after one year. বা নিয়ার এবাউট... এটা অবশ্যই উল্লেখ থাকবে।  :)
পত্রিকায় জানা যাচ্ছে, এই ইউএনও সাহেবের দেশের বাড়ি আখাউড়ায়। তার একজন ভাই এখানকার মেয়র প্রার্থী।  ভাইয়ের পক্ষে এক জনসভায় তিনি বলেছেন, "...আমি সাভারের ইউএনও। আমার কাছে গিয়ে কেউ কোন দিন খালি হাতে ফিরে আসেনি। সমাজসেবার জন্যই ভাইকে ঢাকায় না নিয়ে আপনাদের পাশে রেখেছি..."।
বুকটা জুড়িয়ে যায় কিন্তু এই মানুষটার কাছে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরে আসেনি এটা বুঝতে খানিকটা সমস্যা হয়। এর মানে কী! লোকজন ওখানে কি চাইতে যায়, আর কি-ই বা আঁজলা ভরে নিয়ে আসে? যাক, সেটা এই ইউএনও সাহেব এবং লোকজনের সমস্যা।

সম্প্রতি ইনি যেটা করেছেন তাও পত্রিকায় এসেছে [২], "আখাউড়া নির্বাচনী প্রচারণায় খোদ ইউএনও। সাংবাদিক অবরুদ্ধ, ক্যামেরা ছিনতাই"। এ নিয়ে বিস্মিত হওয়ার কিছু নাই। যার এমন একটা ভিজিটিং কার্ড তাকে নিয়ে নতুন করে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকে না।
কেবল আফসোস, এই দেশের চালিকাশক্তি এদের হাতে...!      

সহায়ক সূত্র:
১. বৈদেশ পর্ব...: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_20.html
২. দৈনিক যুগান্তর: http://ejugantor.com/2010/12/30/index.php

একজন হাফ তস্কর এবং ফুল গবেট

'রামায়ন' নিয়ে একটা সিরিজ লেখা শুরু করেছিলাম। আদিকান্ড [১] এবং অযোধ্যাকান্ড [২] লেখার পর উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম। দাদাদের যন্ত্রণায় আগ্রহ উবে গেল। কিন্তু আজ আমি বুকে হাত দিয়ে বলি, কোন বিশেষ ধর্মকে খাটো করার কোন গোপন ইচ্ছা আমার ছিল না।

বিষয়টা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। চাপা পড়ে থাকা শবটা সামনে চলে এলো! কাজটি করেছেন অর্নব আর্ক নামের একজন। তিনি নিজের পরিচয় দেন এভাবে: "...স্নাতক সম্মান অধ্যয়নকারী ও অবিনির্মানবাদী লেখক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।"
লেখক কারা এই নিয়ে এখনও আমার ধন্ধ কাটেনি এরিমধ্যে আবার অবিনির্মানবাদী লেখক! চিন্তার কথা, অবিনির্মানবাদী লেখক কাদের বলে কে জানে! এরা টাইপ করার জন্য কি ব্যবহার করেন এটা নিয়েও কেউ ভাবনায় তলিয়ে গেলে কাউকে দোষ দেয়া যাবে না। এরা আট লাইন টাইপ করলেই দেড়শো লাইন হয়ে যায়, হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে।
এই অবিনির্মানবাদী লেখক অর্নব একটি ওয়েব সাইটে লিখেছেন, "রামায়নের পাতা থেকে কিছু মজার কাহিনী(পর্ব এক)

:):):):)

" [৩]এই লেখায় তিনি বলছেন: "প্রত্নতত্ত্বের অধ্যয়নকারী হিসেবে আমাদের সিলেবাসের অংশ হিসেবে অনেক কিছুই শিখতে হয়। আমরা যাই পড়ি অন্তত একটি কথা বলতে পারি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার দড়ি ছিড়তে গেলে যা করা দরকার তা একরকম জানতে হয়।...।ইত্যাদি ইত্যাদি।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি এভাবে,
"কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক (আমার কোর্স শিক্ষক)
আলী মাহমেদ ( একজন ব্লগার যিনি পূর্বে এই বিষয়ে লিখেছেন)।"
 


আমার নামটা এখানে এসেছে, আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু মনটা বিষাদে ছেয়ে গিয়েছিল কারণ এই সুবিশাল লেখার দাঁড়ি-কমা-মন্তব্য সমস্ত কিছুই আমার পোস্ট থেকে নেয়া, অবিকল [১] [২]। এই সুবিশাল লেখায় কেবল আট লাইন আমার না। বাধ্য হয়ে আমাকে ওখানে মন্তব্য আকারে লিখতে হয়: "ডিয়ার অর্ণব আর্ক, এই দীর্ঘ লেখায় উপরের আট লাইন এবং ইমোটিকন ব্যতীত একটা বাক্যও আপনার না। এই আট লাইনের মধ্যে কোনটা প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক (আমার কোর্স শিক্ষক)-এর এবং কোনটা মোঃ আদনান আরিফ সালিম অর্ণব, স্নাতক সম্মান, অধ্যয়নকারী ও অবিনির্মানবাদী লেখক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর? দয়া করে যদি একটু জানাতেন তাহলে কৃতজ্ঞতা।" 

এর উত্তর পাওয়া যায়নি কিন্তু এটাও আমার জানা হয়ে উঠেনি, আমার বিনা অনুমতিতে আমার লেখা থেকে প্রায় দেড়শো লাইনের এই লেখায় উপরে কেবল আট লাইন জুড়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার কিনা উনার কোর্স শিক্ষক প্রফেসর ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক এবং উনি নিজে! আর প্রতিটা লাইন, প্রতিটা শব্দ আমার লেখা থেকে নিয়ে কেবল এটুকু লিখে দিলেই দায় শেষ হয়ে যায়? আমার সাইটে গোটা গোটা অক্ষরে লিখে  রেখেছি, "আমার বিনা অনুমতিতে কোন লেখা কোথাও প্রকাশ করা যাবে না"। তারপরও মানুষটা আমার নাম উল্লেখ করেছেন বলে অর্ণব আর্ক নামের মানুষটাকে তস্কর-চোর বলি কেমন করে? যে কোন প্রকারে আমার নামটা তো উল্লেখ করেছেন। আহা, কী একটা ধরন, "আলী মাহমেদ (একজন ব্লগার যিনি পূর্বে এই বিষয়ে লিখেছেন)"। উই মা, আমি ধন্য। জেনে ভাল লাগছে আমি এটা নিয়ে পূর্বে লিখেছি এবং আমি যে একজন ব্লগার, এই স্বীকৃতি পেয়ে।

কেবল এই লেখাটি হুবহু অন্য সাইটে পাবলিশ করা হয়েছে বলেই না, আমি ক্রুদ্ধ অন্য কারণেও। এই সুবিশাল লেখায় উপরের আট লাইন ব্যতীত অর্ণব নামের মানুষটার 'রসিকলাল' টাইপের হাসির ইমোটিকনের অযথা ব্যবহার। যে ধর্ম কোটি-কোটি মানুষের বিশ্বাস সেই ধর্ম নিয়ে এমন স্থূল রসিকতা আমার বিন্দুমাত্র পছন্দ হয়নি, তাও আমার অনিচ্ছায় আমার লেখা জড়িয়ে। আমার মনে হয় অধিকাংশ ধর্মের উপাদানই হাসির উদ্রেক করে সেখানে কেবল একটি ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বলেই আমি মনে করি।

বিষণ্নচিত্তে আপনাকে বলতেই হয়, ডিয়ার অর্ণব আর্ক, আপনার গবেটসুলভ আচরণ মেনে নিতে পারলাম না বলে দুঃখ প্রকাশ করি।

সহায়ক সূত্র:
১. আদিকান্ড: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_07.html 
২. অযোধ্যাকান্ড: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_31.html 
৩. অর্নবের লেখা: http://www.somewhereinblog.net/blog/Archaeologistaurnab/29291344