My Blog List

  • আলোর সঙ্গে... - ডা. রুমি আলম যে হুইলচেয়ারটা দিয়েছিলেন [১] এটা যে এমন কাজে লাগবে তা আমাদের আগাম জানা ছিল না। কোর্টের সামনে এমরান নামের এই মানুষটাকে উকালতির সূত্রে ফি রোজ নি...

Saturday, December 11, 2010

'বাত্তামিজ' শাহরুখ, শালা না, বলো চুতিয়া

ছবি ঋণ: ফিরোজ চৌধুরী/ কালের কন্ঠ
আজ শাহরুখ খান অনুষ্ঠান করে গেলেন। বৈশাখী টিভির সাংবাদিক মহোদয়গণ যখন ধারা বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন তাদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছিল, এদের অজান্তেই খানিকটা 'পিসাব' বেরিয়ে গেছে।

কিছু সুশীল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার চেষ্টা করছিলেন সংস্কৃতি, সংস্কৃতি বিনিময় ইত্যাদি। চু-ভাইরা এটা কবে বুঝবে দাদারা কেবল নেবে, দেবে না।

অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী স্টেজে নিয়ে এসেছিলেন স্ত্রীকে, কোন এক ফাঁকে শালীকে স্টেজে নিয়ে এসেছিলেন কিনা এটা বলতে পারি না।
স্বপন সাহেবের কাছ থেকিই আমরা জানলাম, অন্তর শোবিজের অন্তর নামটা তার ছেলের নাম। ছেলে এবং এই প্রতিষ্ঠান তারা একই সঙ্গে প্রসব (!) করেছিলেন।

দেবাশীষ বিশ্বাস যেটা উপহার দিলেন, কারও পক্ষে ইয়াবা সেবন করেও এমন জিনিস প্রসব করা সুকঠিন। তিনি আমাদেরকে জানালেন, পৃথিবীতে সাতটা ধর্ম। আজ আরেকটা ধর্ম যোগ হলো। সেটা হলো, শাহরুখইজম!
দেবাশীষকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখা গেছে পা তুলে অসভ্যের মত বসার ভঙ্গি করতে। কিছু দর্শক অনুষ্ঠান প্রযোজককে আপত্তি জানিয়ে দেবাশীষের এই প্রিয় ভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করতেন। এমন উম্মাদ, বেয়াদবকে আদব শেখাবার গোপন ইচ্ছা ওই সব সহৃদয় দর্শকের মত অন্তত আমার নাই।

শাহরুখ বেচারাকে দোষ দেই না, এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শাহরুখ খানকে বলে দেয়ার তকলীফ করেননি যে আমরা এখনও ভারতের কালচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। হিন্দির আগ্রাসন কাকে বলে তা আজ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে সচক্ষে দেখলাম।
শাহরুখ খান বাংলায় গালি শিখতে চেয়েছেন। ভাগ্যিস, চু...পোলা শিখেননি, শাহরুখ 'শালা' শিখেছেন, বলাটাও রপ্ত করেছেন। আমি আরেকটা গালি শিখিয়ে দিতে চাই। আর্মি স্টেডিয়ামে যে হাজার-হাজার মানুষ চল্লিশ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকেট কেটে এসেছিলেন তাদের জন্য কেবল একটা কথাই বলা চলে, চু-তি-য়া...।

*শাহরুখ খানকে নিয়ে দেখলাম কিছু মানুষের অন্য রকম আগ্রহ হচ্ছে। তাঁদের আশা, তিনি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় কিছু দিয়ে যাবেন। বটে! জনসমক্ষে সিগারেট হাতে নিয়ে শাহরুখ ভালই শেখালেন। শেখো বঙ্গাল, শেখো। সযতনে বাঁশ দিয়ে গেলেন এখন আমাদের কাজ হচ্ছে বাঁশটা যত্ন করে রাখা এবং প্রয়োজনে এতে ভিউ মিরর লাগানো [১]

**বৈশাখী টিভিতে সংস্কৃতি বিনিময় নিয়ে লম্বা লম্বা কথা শুনছিলাম এদের মধ্যে একজনকে দেখলাম এর কেডসের তলা দেখা যাচ্ছে। এ তো এখনও ভদ্র সমাজে বসার ভঙ্গিটাই রপ্ত করতে পারেনি! এর হাতে যদি থাকে আমাদের সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব... ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি।
এখানে এক প্রসঙ্গে আমি লিখেছিলাম, দাদারা কেবল নিতেই জানেন, দিতে জানেন না। ছোট্ট কিছু উদাহরণ: ভারত ১০০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে। ঋণ দিবি, সুদ নিবি, সমস্যা কোথায়? না, দাদাদের আবদার, ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৮৫ ভাগ টাকার পণ্য কিনতে হবে দাদাদের কাছ থেকে এবং বাকী ১৫ ভাগে টাকার পণ্য তাদের পরামর্শ অনুযায়ী।
এমনিতে বাংলাদেশের বাজারে ভারত দুই হাজার ৮৬টি পণ্য রপ্তানি করতে পারে, পাশাপাশি বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পারে কেবল মাত্র ১৬৮টি পণ্য!
এই হচ্ছে বাস্তবতা!

***শাহরুখ কেমন করে আমাদেরকে কৃষ্টি-সংস্কৃতি শিখিয়ে গেলেন তার নমুনা হচ্ছে দেশ-মা-মা, ম্যা-ম্যা করে গলার গামছা ভিজিয়ে ফেলা প্রথম আলো শিরোনামে লিখেছে, "...মউজ মাস্তিতে মাতিয়ে দিলেন শাহরুখ"। 'মইজ-মাস্তি'? হা হা হা, কেমন করে একটি জাতীয় দৈনিকের ভাষা পরিবর্তন হয়ে যায়! আমি অপেক্ষায় আছি কালে কালে এই পত্রিকাটির নাম হবে 'পাহেলি রোশনি'। পাকিরা নাই [২], তাতে কী, দাদারা আছে না...। আগামিতে মতি ভাইয়া কলাম লিখবেন, মেরি মায় বাপ...।

ওয়েল-ওয়েল-ওয়েল, এখন জায়গার সমস্যা হয় না কিন্তু আমাদের সেক্টর কমান্ডার মীর শওকত আলীর মৃত্যুর খবর প্রথম পাতায় ছাপতে ইয়ে ফেটে যায়, না?
এমনিতেও আমাদের দেশে হিন্দির আগ্রাসন দেখে আমি আশা করছি, আগামীতে হিন্দি হবে আমাদের দ্বিতীয় ভাষা...।

সহায়ক সূত্র:
১: বাঁশ...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_09.html
২. মতি ভাইয়ার দরখাস্ত: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_18.html  

12 comments:

Anonymous said...

এর চেয়ে অনেক নরম ভাবে বলছিলাম কথাগুলো, তাতে শুনলাম রাজাকারগিরি করা হয়ে যায়, তাই এখন খুব ভাল হয়ে গিয়েছি, শাহরুখকে ৪০০০০ কেন দরকার হলে ৪০ কোটি প্রতিজন দিক, চুরির পয়সা আছে, দিতেই পারে, খামোখা রাজাকার হয়ে লাভ কি? কিছু বলবনা আর কোনোদিনই।

Anonymous said...

দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময় হা হা হা। এরা এসে এদের সংস্কৃতি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে। আর আমরা নির্লজ্জের মত হা করে তাই গিলেছি। নিজেদের সংস্কৃতিকে কিভাবে শ্রদ্ধা করতে হয়। নিজেদের সংস্কৃতিকে কিভাবে বিশ্বের লোকদের কাছে বুক ফুলিয়ে তুলে ধরতে হয় এটা আমাদের শিখতে হবে অলিম্পিকের আয়োজক চীনের কাছ থেকে।

মুকুল said...

হ। চুতিয়া গালিটা দিয়া শান্তি পাইতাছি।

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

"...রাজাকারগিরি করা হয়ে যায়...।"
রাজাকার...! নাহ, রাজাকার হওয়া নিয়ে আমার বিশেষ মাথা ব্যথা নাই। আর যাই হোক নব্য মুক্তিযোদ্ধা কারও কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেয়ারও কোন গোপন ইচ্ছা নাই। :)@Anonymous


"...এরা এসে এদের সংস্কৃতি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে...।"
তা আর বলতে! শাহরুখ কেমন করে আমাদেরকে আমাদের (!) সংস্কৃতি শিখিয়ে গেলেন তার নমুনা হচ্ছে দেশ-মা-মা-ম্যা-ম্যা করে গলার গামছা ভিজিয়ে ফেলা প্রথম আলো শিরোনামে লিখেছে, "...মউজ মাস্তিতে মাতিয়ে দিলেন শাহরুখ"। আমাদের দেশে হিন্দির আগ্রাসন দেখে আমি আশা করছি, আগামীতে হিন্দি হবে আমাদের দ্বিতীয় ভাষা...। @Anonymous


:) @মুকুল

Swakkhar Shatabda said...

চালিয়ে যান ভাইয়া;

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

:) @Swakkhar Shatabda

Unknown said...

শাহরূখ এর লাইভ দেখে কিছু প্রশ্ন জাগলো মনে-
# আমরা কি সত্যিই এতো মগা?
# যেই বলদগুলারে স্টেজ এ উঠানো হল তারা কি কেউ পয়সা খরচ করে সেখানে গিয়েছিল?
# আমাদের দেশের মানুষকে যে অপমান এবং উপহাস করা হল এটা কি কেউ বুঝতে পারলো?
# এমন বিজয়ের মাসে হিন্দি নাচ গানে দেশ মাতানোর উল্লাসে কারো কি কিছু হচ্ছে?
# শাহরুখ খানকে কি টিভিতে দেখলে মন ভরে না, ছুয়ে দেখতেই হবে?
#শীতে মানুষ কম্বল পায় না আর ২০০০০টাকা দিয়ে টিকেট কেটে কারা যায় শুধূ শাহরূখ খানকে দেখতে?
# আমরা কি আমাদের সোনার বাংলা কে সত্যিই ভালবাসি?

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

আফসোস, আপনার প্রশ্নের উত্তর যদি আমার জানা থাকত :( @Homaed

Monirul Islam said...

আগামীতে হিন্দি হবে আমাদের দ্বিতীয় ভাষা...।
আর রাজধানি হবে নয়াদিল্লি

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

নয়াদিল্লি রাজধানী হবে কি না জানি না কিন্তু হিন্দি যে আমাদের দ্বিতীয় ভাষা হবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই। @Monirul Islam

ASHIQUE said...

আমারো তাই মনে হয়, একদিন ঢাকার ৬০% মানুষ হিন্দী বলবে.

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

নাহ, ঢাকায় এতো হবে না কারণ ইংলিশ বলা লোকজনরা আবার হিন্দি বলতে চাইবে না। তবে দেশের অন্যত্র এই হার হলেও হতে পারে। @ASHIQUE