Search

Friday, June 13, 2014

একালের যোদ্ধা (!)

ওকালের মুক্তিযোদ্ধারা এখন বড়ো পানসে! যেমন এখন আমাদের আর মশিহুর রহমান [১] নামের মানুষটা অকল্পনীয় ত্যাগ মনে রাখার আদৌ প্রয়োজন নেই! কারণ গুটিকয়েক মানুষের অবদান বলে বলে আমাদের আর বলার সময় কোথায়! মুখে ফেনা তুলে মুখ ফেনায় ফেনায় একাকার...

এখন আবার চলে এসেছেন অনলাইন যোদ্ধারাওকালের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন সামান্য অস্ত্র হাতে আর একালের যোদ্ধাদের প্রধান অস্ত্র অসামান্য কীবোর্ডআরেকটা অস্ত্র আছে, এই অন্য অস্ত্রটার কথা পরে বলছিতো, কী যুদ্ধ বেইবি, চোখে দেখা যায় না এমন- চোখ ঝলসে যায় বলে

এমন্ই এক নারী যোদ্ধার(!) কথা বলিলেখার হাত অতি কুৎসিততার এই ঘাটতি মিটে যেত তার চকচকে চামড়া দিয়ে। 

পাকিস্তানের মসজিদে বোমা ফাটলঅসংখ্য মৃত্যু। মসজিদ রক্তের স্রোতে ভেসে গেলআমার জানা মতে ওখানে শিশুও ছিলএই মহিলা মুক্তিযোদ্ধা(!) তখন এই অতি নিষ্ঠুর মৃত্যু নিয়ে বেজায় উল্লাস করলেনএই অসম্ভব হৃদয়হীন কাজটা তিনি কেন করলেনকারণ তিনি যে একালের মুক্তিযোদ্ধা! এরপর...আমি যখনই তার মুখপানে তাকাব তখন দেখব অসংখ্য শুঁয়োপোকা। কিলবিল করছে। গা হিম করা- শরীর কেবল শিউরে শিউরে উঠবেইচ্ছা করবে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করলে যেন খানিকটা আরাম পাওয়া যাবে

হালে অন্য একজনের একটা লেখা পড়লামকরাচি এয়ারপোর্টে অস্ত্রধারী জঙ্গিদের হামলায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন মানুষটা লিখে বেদম উল্লাস প্রকাশ করলেনতিনি কেন এমন নৃশংসতা দেখালেন? কারণ তিনিও যে একালের দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা!
অন্য অস্ত্রটার কথা এবার বলিএই সমস্ত যোদ্ধারা অধিকাংশই জেনারেল পদ মর্যাদার, হাজার-লাখ-কোটি এদের সিপাহিজেনারেল বললেন, যে তার বিরূদ্ধাচারণ করবে তার সম্মানে মুত্র বিসর্জন করলাম। চালু বাংলায় মুতে দিলাম। ব্যস, আর যায় কোথায়! সিপাহি সব মুত্র বিসর্জন করে বিরুদ্ধাচারণ করা শক্রদের ভাসিয়ে দিল। ভাগ্যিস, মুত্র লিটার ধরে বিক্রি হয় না।

আমাদের বাতিওয়ালা, লেখক জাফর ইকবালজাফর ইকবালের সম্মতিক্রমে তার নামে একটা পেজ খুলে আমদেরকে জানানো হলো, যে প্লেন পাকিস্তান হয়ে যায় সেই প্লেনে তিনি নাকি চড়েন নাকেন চড়েন না? কারণ তিনি ওকালের মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেননি তাই তিনি একালের মুক্তিযোদ্ধা! তাই তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণে তীব্র ঘৃণা কেবল পোষণই করেন না ছড়িয়েও দেনযতটুকু জানি পাকিস্তানি বল দিয়ে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছেএখন এই কারণে এই খেলা বর্জন করার আহ্বান আসবে কিনা বুঝতে পারছি না

কিন্তু যে আমেরিকা তখন পাকিস্তানকে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পরোক্ষ মদদ দিয়েছিল, ক্ষুধার্ত আমাদের খাবার ফিরিয়ে নিয়েস্বাধীন দেশটাকে সীমাহীন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে তিলমাত্র কার্পণ্য করেনি। অথচ সেই দেশে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে, বসবাস করতে, আয়েশ করে ছুটি কাটাতে, সেই দেশের সঙ্গে ঘসাঘসি করতে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের কোনও সমস্যা নাই। এতে তারা বিমল আনন্দ বোধ করেন। বাপের বিরুদ্ধে এই সব কথা বলতেও এদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে।
তারা অবশ্য যুক্তি দেখাতে পারেন ১৯৭১ সালে আমেরিকা তো আর সরাসরি আমাদের স্বজনদেরকে খুন করেনি, নারীদের চরম অপমান করেনি ওহে বুদ্ধিজীবীগণ, আমি কি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেব গোল্ডা মায়ারের সেই বিখ্যাত উক্তি? “কাউকে নিজ হাতে হত্যা করা বা কাউকে হত্যার সিদ্ধান্ত দেওয়ার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নাই
গোল্ডা মায়ারকে গুল্লি মারেন। আমি যদি আপনাকে খুন করার জন্য খুনি ঠিক করি তাহলে আমাকে কী আইন ছেড়ে দেবে? নাকি এই প্রজন্ম ছেড়ে কথা বলবে। 

আমি পূর্বের অনেক লেখায় বারবার বলেছি, পাকিস্তানি সৈন্যরা যোদ্ধা ছিল না, ছিল সাইকোপ্যাথএরা যোদ্ধা নামের কলংক! ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় এরা যে-সমস্ত অন্যায় করেছে এদেরকে কাপুরুষ খুনি বললেও একবিন্দু অতিশয়োক্তি হবে নাএরা প্রার্থনারত মানুষের উপর হাসতে হাসতে গুলি চালিয়েছেদোলনার শিশুকে অকম্পিত হাতে গুলি-বেয়নেটের আগায় শিশুকে মগজ আটকে উল্লাস করেছেএদেশের মহিলাদেরকে কেবল চরম নির্যাতনই করেনি অনেক ক্ষেত্রে এদের আচরণ একটা পশুকেও ছাড়িয়ে গেছেএই সব নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নাএই সত্যটা যিনি অস্বীকার করবেন তাকে সবিনয়ে বলি আপনার জন্য কাঁঠালপাতা না, আস্ত কাঁঠাল গাছ

পাকিস্তানি আর্মি এই চরম অন্যায়গুলো করর পেছনে কতিপয় জেনারেল এবং রাজনীতিবিদদের ইন্ধন ছিলতারপরও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম পাকিস্তানের সবাই, এমন কি মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটিও তখন সম্মতি জানিয়েছিল আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে, চরম অন্যায় করতে
কিন্তু পাকিস্তানের এই প্রজন্মের অসংখ্য শিশু আছে যারা ১৯৭১ সালের অনেক পরে জন্মেছে। বাংলাদেশের নামটিও শুনেনি বা তাদের পূর্বপুরুষরা কেমনতরো অন্যায় করেছিল এই সম্বন্ধে এদের বিন্দুমাত্র ধারণাও নেইআমাদের কদর্য উল্লাসের বলি তাহলে এরাও! বাহ!
পাকিস্তানি কারও মৃত্যুতে যখন তার স্বজন-মা আকাশ ফাটিয়ে কাঁদেন তখন পেট চেপে গা দুলিয়ে হাসি আসে, না? দানবের প্রতি দ্রোহ-ঘৃণা থাকাটা দোষের কিছু না কিন্তু দানবকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা কোনও কাজের কাজ না

এবার খানিকটা অন্য প্রসঙ্গপাহাড়ে আমাদের সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকান্ড তীব্র বিতর্কের, নিন্দনীয়, চরম অন্যায়এই সমস্ত কর্মকান্ড সেনাবাহিনী কী আমাদের মত নিয়ে করেছিল? এই কারণে এখন পাহাড়ের লোকজনরা যদি আমাদের সবাইকে কুৎসিত ঘৃণার চোখে দেখে বিষয়টা কেমন দাঁড়াবে, হে একালের মুক্তিযোদ্ধা...।

সহায়ক সূত্র:
১. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html

...
* ফেসবুকে এই লেখাটা শেয়ার করার পর নূর এলাহী শিবলী মন্তব্য করেন:
“...পাকিস্তানের উপর আমার প্রবল ঘৃণা প্রায় ছেলেমানুষির পর্যায়ে পৌঁছে গেছেআমি ১৯৭১ এর পর জেনে শুনে পাকিস্তানি জিনিষ ব্যাবহার করিনিবিদেশে যাবার যাবার সময় যে প্লেন পাকিস্তানের মাটি স্পর্শ করে কখনো সেই প্লেনে উঠি নিপাকিস্তানের ক্রিকেট খেয়ায় আমি কোন আনন্দ পাই না__ তবে এসব পুরোপুরি আমার নিজের ব্যাপারআমি তোমাদের এই কথাগুলি বলেছি কিন্তু কখনোই তোমাদের এগুলো করতে বলছি নাবুকের মাঝে ঘৃণা নিয়ে বড় হওয়া খুব কষ্টআমাদের প্রজন্ম বুকের মাঝে এই ঘৃণার কষ্ট নিয়ে বড় হচ্ছে__ আমাদের পরের প্রজন্মও ঠিক একই রকম কষ্ট নিয়ে বড় হোক সেটা আমি চাই না। 
আমি চাই তারা হোক উদার, তারা পুরো বিষয়টুকু বিবেচনা করুক সম্মান এবং ভালোবাসা দিয়েপাকিস্তান তাদের কাছে হোক পৃথিবীর অন্য দশটি দেশের মতো একটি দেশ পাকিস্তানের মানুষ হোক পৃথিবীর অন্য যে কোন মানুষের মতো একজন মানুষ।...
- মুহম্মদ জাফর ইকবাল (তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর) 

ইউটিউবে মুক্তিযুদ্ধের উপর করা ডকুমেন্টারি গুলাতে পাকিস্তানিদের করা মন্তব্য দয়া করে দেখবেনবাংলাদেশের নারীদের সম্পর্কে তাদের মন্তব্য গুলাতে এবার চোখ বুললে আর উদার প্রজন্ম হওয়া যায় নাআপনার লেখা বলেই মন্তব্যটা করলাম আশা করি কিছু মনে করবেন না

আমার উত্তর:
...আপনার লেখা বলেই‌ মন্তব্যটা করলাম। আশা করি কিছু মনে করবেন না।

ভাগ্যিস, মন্তব্যটা করেছিলেন। নইলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ধরণার কথাটা জানাই হতো না। অতীতেও বলেছি, কেউ আমার ভুল ধরিয়ে দিলে আমি কৃতজ্ঞ হই। যেমনটা হচ্ছি আপনার বেলায়।

জাফর ইকবালের অন্য কিছু লেখা পড়ে তাঁর এই সংক্রান্ত পুরো ভাবনাটা আমার জানার সুযোগ হয়নি কারণ ওখানে এমন বিস্তারিত ছিল না। আর এই বইটা পড়া হয়নি সম্ভবত বাচ্চাদের বই বলে।



আমি যেখানে থাকি ওখানে একটা বই যাগাড় করাও বিস্তর ঝামেলার। অনেক যন্ত্রণা করে তাঁর লেখা বইটা যোগাড় করলাম। পড়লাম। মুগ্ধ হলাম! এই চমৎকার বইটা কেবল বাচ্চাদের জন্যই না, বড়দেরও পড়া উচিত।

কেবল যদি তাঁর এই লেখাটার কথাই বলি অসাধারণ করে লিখেছেন। তাঁর মত মানুষের কাছ থেকে তো আমরা এমনটাই আশা করব। কারণ তিনি কোন মত বিশ্বাস করেন এটার চেয়ে জরুরি হচ্ছে কোন মত দ্বারা তিনি অন্যকে প্রভাবিত করছেন। কারণ তাঁর প্রভাবিত করার ক্ষমতা (বিশেষ করে শিশুদেরকে) অভাবনীয়! এমন শক্তি সবার থাকে না, তাঁর আছে।

দেখুন, দানব মনুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে কী জানেন? সে তার দানবীয় শক্তির প্রয়োগ করে আশেপাশের মানুষকে দানব বানাবার চেষ্টা করে। এটা দানবের জয়, মানুষের পরাজয়! মানুষ হিসাবে আমার নিজেকে পরাজিত দেখতে ভাল লাগে না।
পাকিস্তানের কিছু বুদ্ধিজীবী ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তান তার যুদ্ধকালীন নৃশংসতার জন্য কোনও প্রকার দুঃখ প্রকাশ দূরের কথা স্বীকারও করেনি। এটা এক চরম অসভ্যতা, বর্বরতা এতে কোনও দ্বিমত নেই। তাই বলে মসজিদে বোমা ফাটবে, মানুষ মরবে আর আমরা উল্লাস করে এদের পর্যায়ে নেমে আসব এটা তো হয় না। এটা এই দানবদের জয়, আমাদের পরাজয়।

আমার এই লেখায়...তিনি (জাফর ইকবাল) যুক্তিসঙ্গত কারণে তীব্র ঘৃণা কেবল পোষণই করেন না ছড়িয়েও দেন। এই বাক্যটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করি। অন্তত এটা লিখলে জাফর ইকবালের প্রতি অন্যায় করা হয়। এতে করে তাঁর কি আসে যায় জানি না, তবে আমার আসে যায়...।

Sharifus Salekin Shahan লিখেছেন:
"Ali Bhai, untill and unless this Fuckistan is seeking justice for it's misdeeds, seeking apology to Bangladesh - I don't want to think whether my blind hatred is wrong or bringing me down !"
আমার উত্তর:
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্ণেল তাহের হাজার-হাজার কৃষক, মজুর, তাতী, জেলেদেরকে যুদ্ধের যে ট্রনিং দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই কী করেছিলেন জানেন তো? এঁরা যে-কোনও চৌকশ সেনাবাহিনীর চেয়েও দুর্ধর্ষ যুদ্ধ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন! কেমন করে এটা সম্ভব হলো? চোখের সামনে এঁদের স্বজনদের নির্যাতন, মৃত্যু সর্বদা এঁদেরকে তাড়া করত। কর্ণেল তাহের এঁদের দ্রোহ-অদম্য ক্ষোভকে কেবল কাজে লাগিয়েছিলেন।

দেখুন, ১৯৭১ সালে যাদের স্বজন খুন হয়েছেন, শারীরিক চরম নির্যাতিত হয়েছেন তাঁরা কেমন করে তাঁদের বেদনার কথা বিস্মৃত হবেন? তাঁদের দগদগে ক্ষত ভুলে যেতে বলার স্পর্ধাই-বা আমার কোথায়!

কিন্তু...একটা কিন্তু রয়ে যায়। তাই বলে এখন একজন পাকিস্তানিকে পেলেই তো আর কুপিয়ে ফালা ফালা করে ফেলা যায় না। পাকিস্তানি মসজিদে বোমা ফাটলে উল্লাস করা যায় না। আচ্ছা আপনি একটা কথা বলেন, সব নাহয় বাদই দিলাম। প্রার্থনাস্থল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা সেই জায়গায় কেউ কারও রক্তের স্রোত বইয়ে দিল (যাদের অধিকাংশই আমাদের ১৯৭১ সালের যুদ্ধের জন্য দায়ী নন ) আর আমরা হলুদ দাঁত বের করে হাসলাম, উল্লাস করলাম। তা কী হয়!

এই বিষয়টা কি আপনি লক্ষ করেছেন, বিচার নিয়ে দেশ যখন উত্তাল, শাহবাগে লক্ষ-লক্ষ মুষ্টিবদ্ধ প্রতিবাদী হাত। অথচ মাত্র কয়েক হাত দূরেই কিন্তু নাটের গুরু অপরাধি গোলাম আযম। এই মানুষগুলো চাইলেই কিন্তু গোলাম আযমকে পিঁপড়ার মত পিষে ফেলতে পারত।
কিন্তু পারা যায় না এমনটা, বুঝলেন। এই কয়েক হাতের মধ্যেই যে অসংখ্য অদৃশ্য শেকল ছড়ানো। এখন পর্যন্ত আমাদের অর্জিত জ্ঞানের শেকল, সভ্যতার শেকল, মানবতার শেকল...।
অনেক কষ্টে মানুষ হয়েছি আমরা- ইচ্ছা করলেই দানব হয়ে যেতে পারি না, বুঝলেন...।  

আমার সাফ কথা, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যুদ্ধ বহির্ভূত এমন অনেক কর্মকান্ড করেছিল যাকে কোনও প্রকারেই যুদ্ধের অংশ বলা চলে না। সরল করে বললে এ স্রেফ খুন, হিংস্রতা, বর্বরতা।
খুন তো খুনই সেটা কে করল কখন করল সেটা তো মূখ্য বিষয় না। যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্ষমা না-চাইবে আমাদের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা না-করবে তত দিন পর্যন্ত আমাদের নায্য দাবী আমরা করেই যাব। এতে করে ৪৩ বছর গেল নাকি ৪৩০ বছর তাতে কিছুই যায় আসে  না। এই নিয়ে তো কোনও দ্বিমত নাই, অন্তত আমার...


শৈশব ফিরে আসে, বারবার



আমার শৈশবের অজস্র স্মৃতি আছে এর সঙ্গেকৃষ্ণচুড়া গাছটা কেমন করে মারা পড়েছিল জানি নাবিস্তর ঝামেলা করে বিশাল ওই গাছটার এই অংশটাকে এখানে নিয়ে এসেছিলাম

এর একটা নামও আছে কিন্তু সঙ্গত কারণেই জনসমক্ষে এটা বলার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না কারণ পাগলাগারদে যাওয়ার গোপন কোনও ইচ্ছা আমার নাই! তবে আমার এখানে নতুন কেউ এলে আমি ঘটা করে এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই, মাই ফ্রেন্ড, ফিলোসফার, গাইড...

Tuesday, June 10, 2014

খুনি!



সাবেক এক মন্ত্রী আমার অমায়িক ক্ষতি করে দিয়েছেন। পূর্বে এ-ও আমার এখানে বেড়াতে আসতেন। এখন আসতে চান না, ভয়ে। একজনকে আসার জন্য পটাতে চেষ্টা করছিলাম। ওদিন ফোনে বললেন, তুমি যেখানে থাকো তা নাকি ১০০ বছরের পুরনো ইমারত
আমার লেখা পড়ার কুফল। পূর্বে কোথাও এটা শেয়ার করেছিলাম।

এ ইমারত শব্দটা সম্ভবত ওই মন্ত্রীর কাছ থেকে শিখেছে।
আমি চিঁ চিঁ করে বললাম, তা অব্শ্য ঘটনা সত্য কিন্তু
কোনও কিন্তু-টিন্তু নাই। আমাকে বেকুব ভাববা না! তোমার কি, তিন টাকা দামের কলমবাজের ছ-টাকা দামের প্রাণ...!
মন্ত্রীর মুন্ডুপাত করা ব্যতীত কী-বা করার ছিল আমার। কিন্তু এরপর থেকে খানিকটা সাবধানে থাকার চেষ্টা করি। আগে মন খারাপ হলে সংগ্রহে থাকা রণ-পাটা ঝেড়েঝুড়ে পায়চারি না-করে রণচারি করতাম। এখন এটাও বাদ দিয়েছি! কী জানি বাবা, রণ-পার রণাঘাতে ইমারতটা যদি হুড়মুড় করে ধসে পড়ে! মন্ত্রীর বাণী বলে কথা-আমাদের মন্ত্রীরা সব জানে।

যাই হোক, এই অতিথির কথা বলি। গতকাল যে শিশুটির কাছে ছিল সেই শিশুটি আমি যে স্কুলটার সঙ্গে জড়িত আমাদের ইশকুলে ওটায় পড়ত। এই শিশুটিকে আমার বেশ মনে আছে। অসম্ভব ডানপিটে। চোখের নিমিষে এ তরতর করে নারকেলগাছে উঠে পড়ে! দস্যি একটা!
বড়দের সঙ্গে কথায় পারি না বলে একটা শিশুর সঙ্গেও কথায় পারব না, তাই কী হয়! কথার মারপ্যাচে ভুলিয়ে-ভালিয়ে বাসায় এনে ছেড়ে দিতে গিয়ে দেখি কী সর্বনাশ, এ তো দোয়েল ছানা। এ তো এখনও খেতেও শেখেনি। ধরা পড়ার আগ পযন্ত মা পরম মমতায় তার হাঁ করা মুখে খাবার ঢুকিয়ে দিত। আমি এখন মা পাব কোথায়? কী যন্ত্রণা- নিজেকে এখন কেমন বেকুব বেকুব লাগছে। তার উপর এ আহত, ক্ষতবিক্ষত। এমনিতেই এ বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়বে।
ওকে ফোন দিলাম। ওর আবার পাখি-টাখি পোষার খুব শখ- হৃদয়ের স্থলে কেবল নৃশংসতা! বইপত্র ঘেঁটে-ঘেঁটে দিগগজ হয়েছে। আমি বললাম, তুমি তো এলে না কিন্তু পাখি চলে এসেছে। এটা তো একেবারেই বাচ্চা। একে খাওযাব কি?
সে বলল, মাটির নীচের পোকা-মাকড়, কেঁচো ধরে খাওয়াও
আমি হতভম্ব, ক্ক-ক্কী বললে! কেঁচো খাওয়াও মানে! রসিকতা করছ?
ওরে ফালতু, রসিকতা করব কেন। এ তো খুব সহজ। কেঁচো ছোট-ছোট টুকরা করে খাওয়াবে। হি হিহি। নইলে কিন্তু তোমার পাখি দাঁড়াতেই পারবে না।
তুমি পাগল নাকি! আমি একটা পিঁপড়াও মারতে পারি না এখন আমাকে খুন-খারাপি করতে বলছ। খুনি, সিরিয়াল কিলার বানাতে চাচ্ছ?
ভাঁড়গিরি বন্ধ করো। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। বেঁচে থাকার জন্য এক প্রজাতি অন্য প্রজাতিকে হত্যা করবে। এ তো নতুন কিছু না

কপাল! শেষ পর্যন্ত কী আমি খুনি হয়ে যাব...। 

Monday, June 9, 2014

কেবল দোহাই লাগে, ধর্মের দোহাই দিয়েন না...।

অতি ধার্মিক মহতরমাগণ কাপড়ে মুখ বেঁধে রাখেন। একবার আমার বাসায় মেহমান আসলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ডাক্তার। এরা আবার আমার আত্মীয়ও। ভদ্রমহিলা মুখ বেঁধে কথা বলছিলেন। কেউ বলে দেয়নি কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল আমি এই গ্রহের সবচেয়ে দুষ্ট মানুষ! আমি চিন্তা করছিলাম এই মহতরমা খাওয়ার সময়ও কী তার মুখের কাপড় খুলবেন না?

পর্দা প্রথার কথা যদি বলা হয় তাহলে আমাদের পোশাকগুলো কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত কোনও প্রকারেই অশালীন বলা চলে না। তারপরও যদি কেউ মনে করেন আলাদা চাদর ব্যবহার করবেন বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখবেন সেটা তার অভিরুচি। নানরা মাথা ঢেকে রাখেন এই নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হয় বলে তো শুনিনি।
এমনিতে ঢিলেঢালা বোরকার বিষয়ে অনেকে অন্য রকম যুক্তিও দেখান পোশাক বিবর্ণ-মলিন-ময়লা থাকলে আলাদা করে পোশাক বদলাবার হুজ্জত নেই। বা কাউকে দামি- কমদামি পাশাক নিয়ে লজ্জিত হতে হয় না।  

আমাদের দেশে এতোটা কাল মহিলারা শাড়ি-কামিজ পরে কাটিয়ে দিয়েছেন। সমস্যা হয়নি। অল্প ক-বছর হলো দাবানলের মত বোরকা, মুখ ঢেকে রাখা ছড়িয়ে গেল। অনেক ক্ষেত্রে বোরকা নামের সিল্ক টাইপের কাপড়ের যে জিনিসগুলো পরা হয় এতোটাই আঁটসাঁট যেন এটা গায়ে রেখে সেলাই করা হয়! আবার পেছন দিকে দড়ির মত একটা জিনিস দিয়ে কষে বেঁধেও রাখা হয়। এতে করে আবেদন বাড়ে না কমে এই বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না? 
আহা, গল্প-উপন্যাস লেখার একটা সুবিধা আছে একটা চরিত্র সৃষ্টি করে তার মুখ দিয়ে অনেক কিছু বলিয়ে নেওয়া যায়। এখানে এই সুবিধাটুকু নেই বলে বিশদে গেলাম না। ...কে লিয়ে ইশারাই কাফি।

আমাদের পায়ের অদৃশ্য শেকলগুলোর মধ্যে সামাজিকতার শেকলও একটাওয়াল্লা,অমুকের ছাওয়াল কাজটা করছে বা তমুকের বেটি...মুখ বেঁধে রাখার যে অপব্যবহার হচ্ছে কে কোথায় কেন যাচ্ছে তা আঁচ করার কোনও যো নেই। মুখে কাপড় বেঁধে বাপ-মার সামনে দিয়ে মেয়ে বখামি করবে টেরটি পাওয়ার কোনও উপায় নেই। কে ড্রাগ নিয়ে যাচ্ছে কে তার খোঁজ রাখছে? এখন কেবল বাকী আছে মুখ ঢেকে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া। সিসিটিভি ক্যমেরায় ছবি আসলেই কি- ওটা জরিনা নাকি ক্যাটরিনা বার করে কার সাধ্য।   

কোরান শরীফে পর্দা প্রথার কথা যেটা আছে:
হে নবী! তুমি তোমাদের স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও বিশ্বাসী নারীদের বলো তারা যেন চাদরের কিছু অংশ নিজেদের মুখের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে কেউ উত্যক্ত করবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সুরা আহজাব: ৫৯)

এই আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট যেটা বলা হচ্ছে:
নবীপত্মী হযরত আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) নবী করীম (ছ) এর নিকট বলতেন, আপনার স্ত্রীদেরকে পর্দায় রাখুন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (ছ) তা করেননি। নবী করিম (ছ.) এর স্ত্রীরা প্রাকৃতিক প্রয়োজন রাতেই বাইরে গিয়ে সেরে আসতেন। তারপর একদা সাওদা বিনতে যামআ (রা.) বাইরে গেলেন। তিনি দীর্ঘাঙ্গিনী স্ত্রীলোক ছিলেন। তাঁকে দেখেই ওমর (রা.) বললেন, হে স্ওদা! আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি।
পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়ই ওমর (রা.) ঐরূপ উক্তি করেছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা পর্দার আয়াত নাযিল করলেন।
(বোখারী শরীফ, কিতাবুল ইস্তিযান, ৩৬৪২)

প্রেক্ষাপট তো জানা গেল। তারপরও কেউ যদি মনে করেন আক্ষরিক অর্থে এর পালন করবেন তাহলে চাদর ব্যবহার করেন, আটকাচ্ছে কে! শরীরের সঙ্গে সিল্ক টাইপের কাপড় সেলাই করে ফেলার প্রযোজন কী বা পেছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলার? বেশ তো, শরীর আপনার সেটা দড়ি দিয়ে বাঁধবেন নাকি চাবুক দিয়ে সে আপনার অভিরুচি। ফ্যাশন-স্টাইল করলে কার কী বলার আছে! প্রয়োজনে 'বাড্ডি-চাড্ডি পরে ঘুরেন। কেবল দোহাই লাগে, ধর্মের দোহাই দিয়েন না...। 

Sunday, June 8, 2014

সাপের বিবাহ


বাসার ঠিক সামনেই ফাঁকা যে জায়গাটা যেখানে, হাবিজাবি গাছ লাগানো এখানে ফি রোজ নিয়ম করে হাঁটাহাঁটিঁ করা, গাছের সঙ্গে সময় কাটানোটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে নইলে কেমন ফাঁকা-ফাঁকা লাগে!
শেষ বিকেলটায় পারতপক্ষে আমি কারও সঙ্গে দেখা করা বা কোনো কাজ রাখি না

আজও যথারীতি গাছের সঙ্গেসাপটা যখন আমার চোখে পড়ল তখন আমি নিঃশব্দে পিছিয়ে এলামশতবর্ষ পুরনো বাড়ি এখানে সাপ থাকাটা তো বিচিত্র কিছু নাপরী নেই এটাও জোর দিয়ে বলা চলে না
পশু-পাখি, সাপ-খোপ এরা আমাকে ঘাঁটায় না আমিও এদের লেজ মাড়াই নাকোনও সমস্যা হয় না আমাদের, চলে যায়আমি সাপটার সঙ্গীটাকে খুঁজছিলামআশেপাশে কোথাও দেখলাম না

পরে যখন আমি একজনকে ঘটনাটা বলছিলাম তিনি চোখ লাল করে বললেন, ‘ফাজলামীর একটা সীমা থাকা দরকারএ-হ, এর আবার সঙ্গীকেও খোঁজা হচ্ছে, কারণ কী’?
আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘সঙ্গীটাকে পেলে এদের বিবাহ দিয়ে দিতামআরে, কী মুশকিল এতে অবাক হওয়ার কী আছে! কেন পত্রিকায় তো আমরা হরদম পড়ি ব্যাঙের বিয়ে’, পড়ি না? পত্রিকাওয়ালা তো ঘটা করে প্রথম পাতায় ব্যাঙের বিবাহের খবরটা ছাপায়অবশ্য পত্রিকায় কাজের তথ্য জানা যায় নাএই যেমন ধরো, মোহরানা কত ছিল? ব্যাঙ ভাইয়া কী পরে বিবাহ করেছিলেন, শেরোয়ানি নাকি লুঙ্গি? বাসর রাতে কোন কোম্পানির জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রি ব্যবহার করেছিলেন? বা ব্যাঙ ভাইয়া ব্যাঙানি ভাবিকে বাসররাতে কি বলে সম্বোধন করেছিলেন? এরপর (সেন্সর)... ইত্যাদি ইত্যাদি...

আচ্ছা, ধরো এটা করলে কেমন হয়? বর্ষাকালে যেন বৃষ্টি না-হয় এ জন্য আমি সাপের বিবাহ দিলাম ভাল কথা, এই নিউজটা কি মতিউর রহমান ছাপাবেন? শিরোনামটাও হবেপাঠকখাওয়ানিয়াটাইপের, 'সাপের বিবাহ, যৌতুকবিহীন'...আহা-আহা, কেউ মতিউর রহমানকে রাজি করাতে পারত, চাইলে মতিউর রহমানকে বিবাহের উকিলও বানিয়ে দেওয়া যেতে পারেঅবশ্য টাকা দিলে এটা বিজ্ঞাপন আকারে হাসতে হাসতে ছাপিয়ে দেবেন
আগেভাগে এটা জানতে পারলে সাপ ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলতে হবেএরপর আবার কথা বলতে হবে মহিলা সাপের সঙ্গেযন্ত্রণার কী শেষ আছে,...’!

ভোরের কাগজ। সম্পাদক, মতিউর রহমান
প্রথম আলো। সম্পাদক, মতিউর রহমান

Thursday, June 5, 2014

কল্পনাকেও ছাড়িয়ে...!



কাছাসুল আম্বিয়া নামে খুব চালু একটা ইসলামি বই আছে। মূল লেখক হিসাবে নাম দেওয়া আছে, হযরত মাওলানা তাহের সুরাটী। সম্পাদনা করেছেন, অধ্যাপক মাওলানা সিরাজউদ্দীন। যিনি বি, এ (অনার্স) এবং এম, এ করেছেন মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং পি, এইচ, ডি করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামীক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া থেকে।

এই বইটা যত পড়ছি ততই বুকের গভীর থেকে অজানা বেদনা পাক খেয়ে ওঠছে, কত অজানা রে! অসংখ্য ঘটনার বর্ণনা এখানে। এর মধ্যে থেকে আমি কেবল দুইটা ঘটনা উল্লেখ করব। হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ:
১. হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদিসে আছে...সেই ভীষণ কালো রং বিশিষ্ট অগ্নিপূর্ণ দোজখের মুখে আল্লাহ একখানা পাথর চাপা দিয়ে রেখেছেন। আর একখানা বিশাল পাথর বানিয়ে তা দোজখের নীচে স্থাপন করেছেন। উক্ত পাথরখানা এক ফেরেশতা তার মাথার উপর ধারণ করে রয়েছে। ঐ ফেরেশতা দাঁড়িয়ে আছে একটি মশার পিঠের উপর। মশাটি দয়ান্ডমান আছে সিক্ত মাটির উপর। উক্ত সিক্ত মাটি রয়েছে একটি বড় গাভীর শিংয়ের উপর। গাভীটির মাথায় আছে সত্তর হাজার শিং। গাভীটি রয়েছে একটি বিশাল মাছের পিঠে দয়ান্ডমান। মাছটি এতই বড় যে, এটার সুদীর্ঘ লেজ গিয়ে আরশের পায়া স্পর্শ করেছে। গাভীটিকে যথাস্থানে সুস্থির রাখার উদ্দেশ্যে আল্লাহ একটি অতি বৃহৎ মশা সৃষ্টি করতঃ এটার কাছে রেখেছেন। গাভীটি সেই মাথার (সম্ভবত বানান ভুল, মশা হবে) ভয়ে সামান্য মাত্র নড়াচড়া না করে একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যদি সে গাভীটি সামান্য মাত্র নড়াচড়া করতো তাহলে কখন না জানি এই বিশ্ব সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যেত।
(কাছাসুল আম্বিয়া, পৃষ্টা নং: ২৬)

২. কথিত আছে যে, উজ বিন ওনোকের দেহের দৈর্ঘ্য ছিল ত্রিশ হাজার তেত্রিশ গজ। যা সাড়ে এগারো মাইলের মত। আর এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, সাড়ে তিন হাজার বছর সে জীবিত ছিল। তার ভূমিষ্ঠকালে হযরত আদম (আঃ) জীবিত ছিলেন। ঐ সময় হযরত মুসা (আঃ)-এর সময় পর্যন্ত উজ দুনিয়র আবহাওয়া ভোগ করছিল। উজের মাতার নাম ছিল ওনোক।...তার পিতার নাম ছিল সোবহান। উজের মাতা ওনোক আদম (আঃ)-এর অন্যতমা কন্যা ছিল।
বিশাল আকারের ওনোক হযরত নূহ (আঃ)-এর যমানায় মহাপ্লাবনের সময় তাঁর জাহাজে না উঠেও জীবিত ছিল। ঐ প্লাবনের সময় দুনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতও ডুবে গিয়েছিল, কিন্তু প্লাবনের পানি ওজের কেবল বুক পর্যন্ত উঠেছিল। আর স্বাভাবিক অবস্থায় সে সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়ালে পানি হত তার হাঁটু পর্যন্ত। সে সমুদ্রে নেমে বিরাট বিরাট মাছগুলো ধরে সূর্যের উত্তাপে সিদ্ধ করে তা ভক্ষণ করত।
(কাছাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা নং: ৩১৯)

Tuesday, June 3, 2014

সিক পিপল!

আবেপ্রবণ জাতি হিসাবে আমাদের যেমন অন্য রকম সুনাম আছে তেমনই হুজুগে জাতি হিসাবেও। একজনের বেল্ট ছিঁড়ে প্যান্ট নেমে গেছে ব্যস আর যায় কোথায় সবাই ঝাপিয়ে পড়ল। খুলে-খুলে যায় এমন প্যান্ট না-পরলে চলছে না যে! সামান্য উবু হলেই যে পশ্চাদদেশ দেখা যাচ্ছে তাতে কী আসে যায়। আহা, সমস্যা কেথায়- পশ্চাদেশে তো আর হলুদ ফুল লেগে নেই।

খেলা নিয়ে মাতামাতি হওয়া নিয়ে আমরা উল্লসিত হই। ভাল করে গোঁফ উঠেনি এমন পোলাপানরা বাপের নাম বলতে তোতলায় কিন্তু তোতাপাখির মত মুখস্ত যখন বলে যায় উথাপ্পা, পিযুস চাওলাদার, চিন্নাস্বামীর নাম তখন আমরা তিন উল্লাসে বলি, পোলা তো না যেন আগুনের গোলা। মিনিটে-মিনিটে রানের আপডেট এদের ঠোঁটে-ঠোঁটে!
কিন্তু এদের অনেকেই যে ক্রিকেট-জুয়ায় আসক্ত এই খবর কে রাখে। আমি এমন প্রচুর লোকজনকে চিনি যাদের বাবা বেলা শেষে বাজারে যান শস্তায় সদাইপাতি কেনার জন্য অথচ ছেলে ২০/২৫ লাখ টাকা ক্রিকেট-জুয়ায় হেরে বসে আছে। ফলাফল জমি বিক্রি।
ভারত আমাদেরকে ফেনসিডিল খাওয়া শিখিয়েছে, আইপিএলের নাম করে শিখিয়েছে জুয়া। একরাতে আতশবাজি উড়ে হাজার-হাজার টাকার, এটাও ভারত থেকেই আসে!

এখন এদেরকে ফুটবল নিয়ে জুয়া খেলতে আটকাবে কে। গত বিশ্বকাপ থেকে আমাদের দেশে এটা চালু হয়েছিল কে কত বড়ো পতাকা লাগাতে পারে। আমদের মিডিয়া ঘটা করে এই সব ছাপিয়ে ছিল। গত বিশ্বকাপের সময় লিখেছিলাম:
...প্রথম আলোতে খবরটা আসল মৌলভীবাজারে ৬০০ ফুট পতাকা উড়ানো হয়েছেপ্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় এই খবরটা আসার পর অন্যরা বসে থাকবে বুঝিদুদিনই পরই জানা গেল ৯০০ ফুট পতাকা উড়েছে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে...
...আবার অনেক নির্বোধ অতি চালাকি করতে গিয়ে অন্য দেশের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে দিলরোদ-বৃষ্টি-বিবর্ণতা, সকাল-সন্ধ্যা-রাত উপেক্ষা করে আমাদের পতাকা উড়তে থাকল... [১] 

এবারও নিশ্চিত আমাদের মিডিয়া তাদের ক্যামেরায় শান দিচ্ছে এই অসুস্থ প্রতিযোগীতার ঝকঝকে খবর ছাপার জন্য। মাত্র কাল পড়লাম পতাকা লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু। মিছিলের মত এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়বে। পত্রিকার দামী স্পেসে কয়টার আর খবর আসবে!
ভিন দেশের পতাকা লাগবার এই অসভ্য প্রতিযোগীতা নিয়ে আমাদের কোনও বিকার নেই। একজন বিশ হাত লম্বা পতাকা লাগিয়েছে অন্য জন বাদ যাবে বুঝি? এখন ত্রিশ হাত লম্বা পতাকা না-লাগালে যে রাতে ওর ঘুমের সমস্যা হয়!
বিশেষ দিনে যখন আমাদের জাতীয় পতাকা লাগাবার প্রয়োজন হয় তখন এই ঢাউস বাড়িগুলোতে পতাকা লাগাবার কোনও গোপন ইচ্ছা থাকে না। আহা, নীচের ভাড়াটিয়া দোকানদার পতাকা তো লাগিয়েছে। তাও কী, লম্বা ঝাড়ুর হাতল উল্টো করে! লোকজন এখন অনেক চালাক হয়েছে এরা ইয়া লম্বা ভিনদেশি পতাকা লাগিয়ে উপরে আমাদের ছোট্ট একটা পতাকা লাগিয়ে দেয়। ভাবখানা এমন,
আমিও দেশপ্রেমিক বটে
বুদ্ধির অভাব নাই ঘটে।

Monday, June 2, 2014

সাদা তোয়ালে এবং হলুদ ফুল!

জায়গাটার খুব চালু নাম বাথরুম। কিন্তু এখানে লোকজনরা যে কেবল গোসলইকরেন এমনটা বুকে হাত দিয়ে বলা চলে না। আরও কিছু কর্মকান্ড করেন। পাঠককে আমি আমার চেয়ে বুদ্ধিমান মনে করি বিধায় ওই কর্মকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনায় যাচ্ছি না।
এবং বাথরুমে যেসমস্ত জিনিস নিয়ম করে রেখে আসা হয় এর বিশদ বর্ণনাও দিচ্ছি না কারণ অতি সূক্ষরুচির পাঠকের গা গুলাতে পারে। এর একটা নাম দিলাম আদর করে, খাবলা খাবলাহলুদ ফুল।

যাই হোক, হিন্দুস্তান টাইমসে চমৎপ্রদ একটা খবর ছাপা হয়েছে:
“Why, have you ever wondered, do almost all seats of government power in India come draped in milky white Turkish towels? Be it the plush U-bend chairs in their offices or the bucket seats of their official cars, the white towel perhaps conjures up for ordinary citizens the most powerful symbol of the ruling elite in this country…” [১]
ছবি ঋণ: www.hindustantimes.com
 ভারতের বাঘা-বাঘা রাজনীতিবিদদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে থাকে, থাকবেই। গুরুত্বপূর্ণ আমলা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কেউ বাদ নেই! টাট্টিখানার জিনিস অফিসে কেন? এর কোনও সদুত্তর এই প্রতিবেদনে পাওয়া গেল না। কিছু অনুমান করার চেষ্টা যে হয়নি এমন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার হত বা শাসক শোষিতদের মধ্যে এক অদৃশ্য সাদা দড়ির খেলা ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি অনেকখানি আতংকিত! বাপু, টাট্টিখানার জিনিস অফিসে! এর রেশ ধরে না অন্য জিনিসগুলোও চলে আসা শুরু করে। কে বলতে পারে দুম করে বদনা চলে আসল। বদনা ভরা রজনিগন্ধা। হতে পারে না এমন, বেশ পারে। এর রেশ ধরে চলে আসল হলুদ ফুল। শোনো কথা, চলে আসলে আটকাচ্ছে কে!
হলুদ ফুলের মৌতাত- সবাই হয়ে গেছে কাত।   

১. http://www.hindustantimes.com/india-news/the-white-towel-unveiling-the-symbol-of-indian-power-politics/article1-1224205.aspx


Sunday, June 1, 2014

মঞ্জুর খুন!!

তৎকালীন সরকারি শ্বেতপত্রে বলা হয়:
“…As soon as the jeep reached near tri-junction in front…about 20 to 30 armed troops stopped the vehicle and asked the officer to allow them to search it. Before he could say anything, they opened the back door and found the general (Manzoor)
When Captain Emdad returned…they found Major General Manzoor lying face-down in the drain with a gaping hole in the back of his head…”

“…in the end, Manzoor, Mehboob and Moti were buried without fuss in unmarked graves in the Chittagong cantonment graveyard much against the wishes of the troops…”
Bangladesh: A Legacy of Blood/ ANTHONY MASCARENHAS

জেনারেল মঞ্জুরের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম (অব.), যিনি জেনারেল মঞ্জুরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। চট্টগ্রাম সেনাবিদ্রোহ মামলায় ১০ বছর সাজা হয় তার। ধরা পড়ার পর তদেরকে আলাদা করে ফেলা হয়। মেজর রেজাউল সাক্ষাৎকারে বলেন:
জেনারেল মঞ্জুর বলেন, শাহজাহান সাহেব (তৎকালীন ডিআইজি) আমি এই হাবিলদারের কাছে সারেন্ডার করছি...। শাহজাহান সাহেব তাড়াতাড়ি আমাদেরকে চিটাগাং জেলে পাঠান।
...কিছুক্ষণ পর দেখি আর্মির গাড়ি এসে ঢুকল, হাটহাজারির থানায়...শাহজাহান সাহেব আর আসেননি। আসলেন ক্যাপ্টেন এমদাদ। দাঁড়িয়ে (এমদাদ) বললেন, ভাবী আমরা আপনাদেরকে নিতে এসেছি। আপনি আসেন
তখন মিসেস মঞ্জুর বলেছেন, নো, আমি কেন আপনাদের সাথে যাব। আমরা পুলিশের কাছে সারেন্ডার করেছি

জেনারেল মঞ্জুর কিন্তু একটি কথা কয়েকবার রিপিট করেছেন, আর্মির কাছে হ্যান্ডওভার করলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। আমাকে তাড়াতাড়ি সেফ কাস্টডিতে পাঠান...I should get an opportunity to face the trail. দেশবাসীকে জানতে হবে। আমার অনেক কথা বলার আছে এবং সেটি বলব আমি...
...তখনই একজন সুবেদার খপ করে তার (মঞ্জুর) ডান হাতটি ধরল...এরপর জেনারেল মঞ্জুর আর কথা বলেননি। ...তারা উঠে মিসেস মঞ্জুরকে টেনে হিঁচড়ে নামাল। বাচ্চাদেরকেও নামাল।
...তখন সম্ভবত একজন পুলিশ অফিসার বলল ভেতরে মেজর সাহেব রয়ে গেছেন। তখন এমদাদ আসল। এমদাদ আমাকে দেখে চমকে গেল। ...এমদাদ এবং আমি একই ব্যাচের।...হাত বেঁধে চোখ বেঁধে আমাকেও গাড়িতে উঠাল।
...পরের দিন সকাল বেলা মুজিব আসলেন।...আমি আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করলাম, ‘What about General Manzoor’?
উনি (মেজর মুজিব) ডানে বামে তাকিয়ে আস্তে করে আমাকে বললেন, গত রাতে আর্মি চিফের নির্দেশে জেনারেল মঞ্জুরকে মেরে ফেলা হয়েছে
ওই সময় আর্মি চিফ ছিলেন জেনারেল এরশাদ।...
-সশস্ত্র বাহিনতে গণহত্যা ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১/ আনোয়ার কবীর

আজ ১ জুন মঞ্জুর হত্যার ৩৩ বছর  হয়ে গেল, ১৯৮১ সালের ১ জুন জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। সম্ভাব্য খুনি এরশাদের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় ১৯ বছরে ২৩ বার বিচারক বদল হয়েছেন। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারক খন্দকার হাসান ফিরোজ সিআইডিকে মামলাটির বিষয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি লরেন্স লিফশুৎজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল মঞ্জুরের বড় মেয়ে রুবানা মঞ্জুর বলেন:
...আমরা জানতে চাই, আমদের বাবাকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের বাবার সমাধিস্থলে যেতে চাই...
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা যাকে এই দেশ বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেছিল। অথচ দেশ জানে না তার এই বীর সন্তানকে কোথায় সমাহিত করা হয়েছে! লজ্জা-লজ্জা! দিগম্বর হওয়ার লজ্জা!
Homar sometimed nods- দেবতাদেরও ভুল হয়। জেনারেল মঞ্জুর দেবতা ছিলেন না- তাঁর করা ভুল নিয়ে আলোচনা... তা অন্যত্র আলোচনার ক্ষেত্র। কিন্তু...।

লেখায় এতক্ষণ একজন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা, ঈর্ষনীয় খেতাবধারী এক জেনারেলের কথা বলছিলাম। এখন চলে এসেছে একজন বাবার কথা।
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখো আমার হাড়। স্বজনের পুরনো হাড়ে কী থাকে এই নিয়ে বিশদ আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না। অল্প কথায় বলি, স্মৃতিই বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে নইলে একেকজন মানুষ, নিজের লাশ নিজেই নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াত। সন্তান তার পিতার লাশ ছুঁয়ে দেখতে পারবে না। শেষ শয্যার জায়গাটির এক চিমটি ধুলো কপালে মাখতে পারবে না, হাউমাউ করে কেঁদে বুকটা হালকা করতে পারবে না এমন অন্যায় পিতাসম রাষ্ট্র করে কেমন করে!