Search

Tuesday, May 19, 2026

One Reason Why Bangladesh Is Becoming More Violent?

The Invisible Poison: 

লেখক: Sadman Fakid: https://www.facebook.com/share/1ayx6hX1nS/

(লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে প্রকাশিত)

"ইউএস-এ আসার পর আমি আর আনিকা একটা জিনিস খেয়াল করলাম।

আমাদের বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েট কমিউনিটিতে অনেক নিউ প্যারেন্টস আছেন। প্রত্যেকটা কমিউনিটি ইভেন্টেই তাদের কিউট-কিউট বাচ্চাগুলো আসে। আমাদের সবার সাথে মিশে, এঞ্জয় করে, খেলে একে অপরের সাথে। এই বাচ্চাগুলা অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশের ছোট বাচ্চাগুলার তুলনায় অনেক বেশি হাসিখুশি, কন্টেন্ট।

আমার ছোট বোন আর কাজিনদেরসহ অনেক বাচ্চাকে আমি বাংলাদেশে বড় হতে দেখছি; আমার মনে হয় ওরা এই বাচ্চাগুলার তুলনায় আরও অনেক বেশি ইরিটেবল ছিলো, অনেক বেশি কান্নাকাটি করতো– অপরিচিত ক্রাউডের এনভায়রনমেন্ট হলে তো কথাই নেই। সেখানে এই বাচ্চাগুলো আরও অনেক ইজিলি মিশুক এবং কেঁদে উঠলেও বেশ তাড়াতাড়ি থেমে যায়। অবশ্যই এখানে তাদের প্যারেন্টসেরই মোস্ট ক্রেডিট, তারপরও প্যাটার্নটা নোটিসেবল। এই ডিসকাশন আমি অনেকের সাথেই করছি, সবাই মোর অর লেস এগ্রি করছে।

এই যে হুটহাটের কান্নাকাটিটা, এটা কিন্তু একটা বায়োলজিক্যাল বিষয়। আমরা কাঁদায় ব্রেনের এক জায়গা কিন্তু সেই কান্নাটাকে থামায় ব্রেনের অন্য জায়গা। কান্না থামানোর ইনহিবিটরি মেশিনারি আমাদের ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে থাকে, যেটা কান্নাকাটির কেমিক্যাল লোডের সামনে আমাদের ব্রেনটাকে শান্ত করে। অর্থাৎ এইটা একটা ইম্পালস কন্ট্রোলের বিষয়।

এই ইম্পালস কন্ট্রোলজনিত সমস্যা তো আসলে জাস্ট দেশের বাচ্চাদের না, সম্পূর্ণ জাতিরই সমস্যা। বিশেষ করে ২০২৪ এর বসন্তের পর থেকে আমরা এমন এক জাতিকে দেখছি যার ইম্পালস কন্ট্রোল বলেই কিছু নাই। 

এইসব নিয়ে ভাবতে গেলে আমার মনে পড়ে ঢাবির 'তোফাজ্জলের' কথা।

মানসিকভাবে অসুস্থ লোকটাকে আমাদের তথাকথিত সুস্থ ছাত্ররা একেবার মারতে-মারতে আধমরা করে ফেলল। তারপর একটু থেমে, তারা আবার মারল! এইবার মারতে-মারতে মেরেই ফেললো একদম!

এরপর আমার মনে পড়ে দীপু চন্দ্র দাসের কথা।

মেরে লোকজন তাকে গাছে ঝুলায়ে পুড়িয়ে দিলো একদম। আশেরপাশের শত-শত মানুষ 'চিয়ার' করে উঠলো! অথচ কারও মনে হলো না একটু থামা উচিত।

আবরার ফাহাদ থেকে লালচাঁদ সোহাগ–সবাই কী একই ভাবেই মরে গেলো না? এমন কিছু নব্য যুবকের হাতে, যারা কোনোভাবেই থামতে জানে না। নিজেদেরকে থামাতে জানে না। মৃতদেহকে তারা আরও মারতে থাকে। কবর থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে আসে, শত-হাজার মানুষের সামনে প্রকাশ্যে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যা অভূতপূর্ব!

ভিডিও ঋণ: BBC
২৪ এর আগস্ট থেকে ২৬ এর মার্চের এই অল্প সময়ে অন্তত সাড়ে তিনশ লোক মবের হাতে এইভাবে মারা গেছে, রিপোর্টেড। স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্লানেশনগুলা তো অবশ্যই খাটে। হাসিনার রেজিম পড়ে গেছে, মানুষের দীর্ঘ সময়ের জমে-থাকা ক্ষোভ, ইন্টেরিম দুর্বল ছিলো, নতুন ইলেক্টেড ওয়ানও এখনও সবকিছু হাতে নিয়ে আসতে পারে নাই।

কিন্তু এই ব্যাখ্যা মানুষের মানুষ মারার আগ্রহকে ব্যাখ্যা করতে পারে না, অকল্পনীয় হিংস্রতার গতিকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। একটা মানুঢ, একটা প্রাণকে মারার জন্য চোখের নিমিষে ভীড় হয়ে যায় এখানে দ্রুত! এস্কেলেট করে আফ্রিকার জঙ্গলে দলছুট কোনো হরিনের দেখা পাওয়া জাগুয়ারের দৌড়ের সঙ্গে। সাথে-সাথে মানুষ ক্যামেরা নিয়া হাসিমুখে রেডি হয়ে যায় রেকর্ড করার জন্য। এই যে ভায়োলেন্সের প্রখরতা, দ্রুততা, আর হঠাৎ করে হিংস্রতা এত গুণ বেড়ে যাওয়া, এইগুলো কী কেবল পলিটিক্যাল ব্যাখ্যা দিয়ে উড়ায়ে দেয়া যায়?

আমার কাছে মনে হয়, যায় না। তাই আমি নানান জায়গায় উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। খুঁজতে খুঁজতেই আমেরিকার একটা রিসার্চে আমার চোখ আটকায়ে যায়।

৬০-৭০ এর দশক ছিলো আমেরিকার ভায়োলেন্ট ক্রাইমের স্বর্ণযুগ। এরপর নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ করে এই 'ভায়োলেন্ট ক্রাইম' ক্রমশ নেমে আসে। নানা বিশেষজ্ঞ সেটাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু কেউই পুরাপুরি বুঝে উঠতে পারেননি! কারণ এই কমাটা ছিলো পুরো দেশজুড়ে! অথচ আমেরিকার স্টেটওয়াইজ পলিসি কিন্তু আলাদা, সব মেজর সিটিগুলাতেই পলিসিমেকিং ছিলো ডিফারেন্ট। পুলিসিং, ম্যাস ইনকারসারেশন, লিগ্যাল এবরশন, এরকম নানা বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সময়ের ফ্রেমে বা জায়গার ফ্রেমে কোথাও-না-কোথাও ব্যাখ্যাটা ব্যর্থ হয়!

এরপর একুশ শতকের শুরুতে রিক নেভিন নামের এক ইকোনোমিস্ট এক চমকপ্রদ রিসার্চ সামনে নিয়ে এলেন। তিনি দেখালেন আমেরিকার 'রাইজ অ্যান্ড ফল অব ভায়োলেন্ট ক্রাইম', গ্যাসোলিনে লেড বা সীসা এড করার টাইম ফ্রেমের সাথে জড়িত! ২২ বছরের টাইম ল্যাগে পুরাপুরি কো-রিলেটেড।

গাড়ির তেলে লেড আসার ২২ বছর পর ভায়োলেট ক্রাইম বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপর তেলে লেড বন্ধ করার ২২ বছর পর সেই ক্রাইম কমে এসেছে। ২২ বছর! একটা মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক হতে যে সময় লাগে। তিনি এই গবেষণা আরও ৮টা দেশের ডেটাতেও এক্সটেন্ড করছেন–সবখানেই একই কনক্লুশন। কোররিলেশন ছিলো ০.৯ এরও উপরে–সোশ্যাল সাইন্সে যা অত্যন্ত দুর্লভ। 

ব্যাপারটা নিউরোলজি ব্যাখ্যা করতে পারে। লেড আমাদের বডির কাছে একটা ছদ্মবেশী ক্যালসিয়াম। এর ক্যাটায়নিক চার্জ ২ আর আয়নিক রেডিয়াসও কাছাকাছি। ডেভেলপিং ব্রেনে এটা ক্যালসিয়ামের স্লটগুলায় ঢুকে যায়, এরপর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে ড্যামেজ করে!
যেটা আমাদের ইম্পালস কন্ট্রোল, ফিউচার অরিয়েন্টেশন আর ইমোশনাল রেগুলেশনের জায়গা। 'লেড-এক্সপোজড' বাচ্চারা অনেক অ্যাকিউট কোনো সিমটম দেখাবে এমন না। সে জাস্ট একটু বেশি ইম্পালসিভ হবে, ইন্স্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশনের প্রতি বেশি দুর্বল হবে।

ইন্ডিভিজ্যুয়াল লেভেলে এই ড্যামেজ টের পাওয়া খুব টাফ। অথচ পপুলেশন লেভেলে এই ড্যামেজ ঠিকই দেখা যায়। ২২ বছরের টাইম গ্যাপে, ইকোনমিস্টদের রিসার্চে। এই আলাপ পড়ে আমার আমেরিকায় বড় হওয়া বাংলাদেশী বাচ্চাগুলার কথা মনে পড়ে যায়, তারা কি বাংলাদেশে বড় হলেও এত হাসিখুশি হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজতে গেলাম ডেটার মধ্যে। ঘেঁটে পেলাম ভয়ানক সব পরিসংখ্যান। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী লেড পয়জনিং এ আক্রান্ত দেশগুলার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ফোর্থ। ২০২৫ এর MICS সার্ভে দেখাচ্ছে আমাদের দেশের ৩৮ শতাংশ বাচ্চার রক্তে WHO-র ইন্টারভেনশন থ্রাশহোল্ডের চেয়ে বেশি লেড আছে।

সংখ্যায় দুই কোটির বেশি বাচ্চা! আর ২০২২-২৪-এ 'আইসিডিডিআরবি' এবং স্ট্যানফোর্ডের এক স্টাডিতে ঢাকার ৫০০ জন ২-৪ বছর বয়সী বাচ্চাকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে! প্রত্যেকটা বাচ্চার রক্তে লেড আছে, এবং তারা বলছে,

ঢাকার ৯৮ শতাংশ ছোট বাচ্চার রক্তে লেডের পরিমাণ আমেরিকার 'ইমিডিয়েট অ্যাটেনশন নিডেড' বলা মাত্রার চাইতে বেশি।

এই লেড আসছে কোথা থেকে? এক নাম্বার সোর্স 'আনরেগুলেটেড ব্যাটারি রিসাইক্লিং'। দেশে ৩০ লাখের উপর ব্যাটারি রিকশা চলে, প্রত্যেকটায় পাঁচটা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি, প্রতিটার আয়ু ৬-১১ মাস। এই ব্যাটারিগুলা সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজারের উপর অনিয়ন্ত্রিত 'ভাট্টি'-র খোলা চুল্লিতে গলানো হয়, (UNEP, পিওর আর্থের ডেটা) যার বেশিরভাগই আবাসিক এলাকার ভিতরে। প্রতিটা ভাট্টির আশেপাশের মাটি, পানি, বাতাসে লেডের ধুলা ছড়ায়।

স্ট্যানফোর্ডের স্টাডিতে তারা দেখেছে যে,

এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইটের ১ কিলোমিটার ভিতরে যে বাচ্চাগুলা থাকে, তাদের রক্তে লেডের লেভেল বাকিদের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি।

দুই নাম্বার সোর্স পেইন্ট-রঙ।

বাংলাদেশে লেড পেইন্ট আইনত নিষিদ্ধ, কিন্তু বাজারের ৩০ শতাংশ পেইন্ট এখনও লিগ্যাল লিমিটের অনেক বেশি লেড সহ বিক্রি হয়! প্রায়শই ১০,০০০ পিপিএম এর কাছাকাছি ঘনত্বে (Daily Star, পিওর আর্থ)।

তিন নাম্বার সোর্স আমাদের রান্নাঘর। দশকের-পর-দশক ব্যবসায়ীরা হলুদকে আরও উজ্জ্বল হলুদ দেখানোর জন্য তাতে লেড ক্রোমেট পিগমেন্ট মিক্স করেছে! কারণ আমরা উজ্জ্বল হলুদকে 'ভালো হলুদ' বলে চিনি। অর্থাৎ লেড আমাদের ডাল-ভাতে ঢুকে মার্কেট সিগন্যালের পথ ধরে।

লেডকে কারণ হিসেবে দেখানোটা সবচেয়ে ইজি কারণ লেডকে নিয়ে এই পার্সপেক্টিভে অলরেডি লার্জ স্কেল রিসার্চ আছে। কিন্তু লেডই তো একমাত্র বিষ না। হাজারিবাগের ট্যানারি প্রজন্মের-পর-প্রজন্মকে ক্রোমিয়ামে ডুবিয়ে রেখেছে। ঢাকার বাতাস WHO-র গাইডলাইনের বহুগুণ ছড়িয়া যায় প্রতি বছর– গাড়ির ধোঁয়া, ইটভাটার কয়লা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল নিঃসরণের একটা কেমিক্যাল ককটেল! এই বিষ এখানে চার কোটি মানুষ প্রতিদিন শ্বাসের সাথে টানে। গ্রামের কয়েক কোটি মানুষ টিউবওয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি খেয়ে গেছে দশকের-পর-দশক। ডেভেলপিং ব্রেন এর একটার বিরুদ্ধেও খুব একটা প্রতিরোধ করতে পারে না। একই শৈশবে কয়েকটা একসাথে আসলে প্রায় কিছুই করার থাকে না।

লেড হলো বাংলাদেশের পলিউশন অপেরার একটামাত্র ইন্স্ট্রুমেন্ট। কিন্তু এর পিছনে একটা পুরা অর্কেস্ট্রা বাজতেছে।

এখন আমরা আমেরিকার ২২ বছর ল্যাগের হিসাবটা আমাদের কনটেক্সটে চিন্তা করি। ২০২৪-২৬ এর মব ভায়োলেন্সে যারা মানুষ মারছিল তারা জন্ম নিয়েছিল ২০০০-এর দশকের শুরুতে। ঠিক সেই সময়টায় বাংলাদেশের গাড়ির ফ্লিট তিনগুণ হয়েছিল, ব্যাটারি রিসাইক্লিং ছড়াচ্ছিল! ঢাকার বাতাস-মাটি-পানি সেই সব রাসায়নিক শোষণ করছিল যেগুলো আজকের দুই বছর বয়সী বাচ্চাদের রক্তে 'আইসিডিডিআরবি' এতদিনে মাপছে।

নেভিনের ২২ বছরের ক্যালকুলেশন এই কোহোর্টের উপরই হুবহু পড়ে– কেবল গ্যাসোলিনের লেড না, আরও অনেক কিছু সহ।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশের এই মব জেনারেশনের ব্রেনটা এতসব নিউরোটক্সিনে পুরো বারুদ হয়ে আছে। একটু ঘষা দিলেই জ্বলে উঠে। আশেপাশের সব ছাড়খাড় করে দেয়। দাবানলকে যেমন থামানো যায় না তেমনই থামানো যায় না মবদের। সবার মাথায় ভায়োলেন্সের অফুরন্ত জ্বালানি। বাংলাদেশের বাতাসে শ্বাস নিয়ে, বাংলাদেশের হলুদ খেয়েই তো সবাই বড় হয়েছে। তাই দল-মত-বাম-ডান নির্বিশেষে সবাই এখানে 'টিকিং বম্ব'। 

নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের কালচারের কতটুকু আসলে আমাদের কেমিস্ট্রি? পলিটিক্স, এডুকেশন, ভ্যালুজ, যেগুলোয় আমরা সব ব্যাখ্যা খুঁজি, এর কতটুকু আসলে ছোটবেলায় চুপিচুপি জমে যাওয়া বিষের ছায়া? ভাট্টির পাশের মাটি, ট্যানারির উপরের বাতাস, টিউবওয়েলের পানি, দেয়ালের পেইন্টের ধুলো, এইগুলার ফলাফল আমাদের নৈতিকতার ভাষায় ব্যাখ্যা হতে থাকে।

আমজনতা লেড ক্রোমিয়াম খেতে-খেতে মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হতে থাকে। আইকিউ কমতে থাকে, ইম্পালস কন্ট্রোল বলে কিছু আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বাসায় পেটায় স্ত্রীকে, রাস্তায় মব হয়ে পেটায় উদ্বাস্তুদের।

ইন্সট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশনের পাগল এই বিকলাঙ্গরা পর্ণ দেখে মাথার নিউরোট্রান্সমিটার সিস্টেমকে আরও ধ্বংস করে। এরপর ধর্ষণের সুযোগ পেলে না-করে আর থাকতে পারে না কারণ ইম্পালস কন্ট্রোল বলে ব্রেনের যে ফাংশন সেটা আর কাজ করছে না। এগুলোকে আমরা বলি 'অশিক্ষা', 'অসভ্যতা', 'মৌলবাদ'। আসল কারণটা নিয়ে আমাদের আর কাজ করা হয় না। 

আমেরিকার গল্পে একটা পজিটিভ আর্ক আছে। লেড গ্যাসোলিন থেকে সরে গেল, ক্রাইম কমে গেল। 

বাংলাদেশের সেরকম কোনো আর্ক চোখে পড়ে না। ভাট্টি কমছে না, বাড়ছে, ই-রিকশার সাথে সাথে। হলুদের লেড নিয়ে দেখলাম বেশ কাজ হয়েছে ২০১৯-২১-এ কিন্তু পেইন্টের এনফোর্সমেন্ট নাই। বাতাস বছর-বছর খারাপ হচ্ছে। এই ড্যামেজটা একবার হয়ে গেলে 'আনডু' করা যায় না। শুধু ঘটার আগে থামানো যায়। আর সেটা, হলুদের এক্সেপশনটা বাদ দিলে, হচ্ছে না।

বাংলাদেশ যেটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা পরে সমাধান করার মত কোনো রহস্য হিসেবে আর বাকি নেই। সেটা হয়ে গেছে বর্তমান। জেনেটিক প্রিডিস্পোজিশন আর কালচার একে অপরকে ফিড করতে-করতে ভবিষ্যত হয়তো আরও ভয়ানক হবে। সেটা ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গেছে! এমন সব বাচ্চার রক্তে, যারা এতই ছোট যে নিজেরাও জানে না কতটা অস্থির নিয়ন্ত্রণহীন কালচারের অংশ তারা হতে যাচ্ছে।

ঢাকার বাতাস একরাতে বদলাবে না। ভাট্টিগুলা একদিনে বন্ধ হবে না। কিন্তু ছোট-ছোট কিছু কাজ এখন থেকেই শুরু করা যায়। লেড পেইন্টের আইন আছে, সেইটা মানতে বাধ্য করা যায়। আবাসিক এলাকার ভাট্টি চিহ্নিত করে সরানো যায়। হলুদের মার্কেটকে কন্টিউনিয়াস মনিটরিংয়ে রাখা যায়। বাচ্চাদের রক্তের লেড নিয়মিত মাপা যায়, যেমন আমরা ওজন আর উচ্চতা মাপি।

আর শুধু পরিবেশ না, বাচ্চাদের সাথে আমাদের আচরণটাও বদলানো দরকার। আমাদের জেনারেশনে আমরা যেভাবে বড় হয়েছি, সব ছোটখাটো জিনিসে চিৎকার-চেঁচামেচি, মারধর, ভয় দেখানো– এইগুলোও 'প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের ডেভেলপমেন্টে' বাধা দেয়। এবং বাচ্চারা দেখে তার বাবা-মারাই ইম্পালস কন্ট্রোল করে না, তারা কী করবে? বাচ্চাকে ইম্পালস কন্ট্রোল শেখানো এখনকার বাংলাদেশী প্যারেন্টিং কালচারে ঢোকানোটা মাস্ট।

মব কালচারকে নর্মালাইজ করা বন্ধ করতে হবে। লিঞ্চিং-এর ভিডিও শেয়ার করা বন্ধ করতে হবে। প্রতিটা মব হত্যায় যে লোকটা ক্যামেরা নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়ায়ে আছে, সেও যে অপরাধী, এটা সামাজিকভাবে বলা শুরু করতে হবে। কারণ যতদিন মব ভায়োলেন্স সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য থাকবে, ততদিন বিষ-আক্রান্ত ব্রেইনগুলা সেই গ্রহণযোগ্যতার দরজা দিয়েই বের হতে থাকবে।

আমেরিকা তার লেড সমস্যাকে চিনতে পেরেছিলো ত্রিশ বছর পর। আমাদের কাছে এত সময় নেই। যে কোহোর্ট আজকে রাস্তায় মানুষ মারছে তাদের ব্রেইনের ফিজিক্যালি আর কালচারালি দুইভাবেই ড্যামেজড, সেটা আর ঠিক করার উপায় নেই। কিন্তু যে বাচ্চাটা আজকে ভাট্টির পাশে হামাগুড়ি দিচ্ছে, যে বাচ্চাটা হলুদ-মেশানো ডাল খাচ্ছে, যে বাচ্চাটা ঢাকার বাতাস টানছে; তাদের এখনও বাঁচানো যায়, ড্যামেজটা থামিয়ে এবং হেলদি একটা কালচার দিয়ে। 

কিন্তু সেটার জন্য আগে স্বীকার করতে হবে যে তারা বিষাক্ত হচ্ছে। সেইটাই হয়তো সবচেয়ে কঠিন। কারণ স্বীকার করা মানে কাজ শুরু করা।" -লেখক: Sadman Fakid

No comments:

WhatsApp