Search

Sunday, May 10, 2026

ইউনূসনামা!

প্রফেসর ইউনূস! একটা নাম, একটা ব্রান্ড! 'দারিদ্র বিমোচন জাদুঘর'-এর কিউরেটর! একটা তেলের ড্রাম, একটা লোভের  খনি!

হের, ইউনূস একজন নোবেল লরিয়েট! এই নোবেল লরিয়েট নোবেল পেয়েছিলেন শান্তিতে! কী প্রকারে শান্তি এনেছেন সেটা পরের আলোচনা!

১৯৪৩ দুর্ভিক্ষে ২১-৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। চার্চিলের যুদ্ধকালীন নীতিকে অনেকে দায়ী করে। সেই চার্চিলও কিন্তু নোবেল পেয়েছিলেন অন্য কারণে, সাহিত্যে।


যাই হোক, আমাদের শ্রী ইউনূস নোবেল পেয়েছেন যৌথভাবে কিন্তু কোথাও এর জোর আলোচনা নেই'!
ইউনূসের সঙ্গে যে ভদ্রমহিলা,  তসলিমা বেগম নোবেল গ্রহণ করেছিলেন, তাঁকে আমরা চিনিও না!

গ্রামীণ ব্যাংক তার সহযোদ্ধাদের কেমন রেখেছে সেটা  তসলিমা বেগমের মুখ থেকে শুনলে পাপ হবে না!

মহাশয় ইউনূসকে যে আমি লোভের খনি বলেছি বলে অনেকের বুক ভেঙ্গে আসবে। খনি থেকে আমি কেবল একটা পাথর তুলব। জনাব বদরুল আলম তখন এনবিআরের চেয়ারম্যান। তার কাছে ঝুলাঝুলি করা হচ্ছিল, ইউনূসের নোবেল প্রাইজ-মানির উপর যেন ট্যাক্স ধরা না হয়:


আমার ব্যক্তিগত মত, আপাদমস্তক, এই মানুষটার লোভ চুঁইয়ে-চুঁইয়ে পড়ে। আই বেট, তেলতেলে চামড়ায় সামান্য চাপ দিলেই 'লোভের তেল' গড়িয়ে পড়বে।

আফসোস, ৮৫ বছরের একটা মানুষকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না। একটা মানুষ কেমন করে এতটা নির্লজ্জ হয়? ক্যামেল টু ক্যাডিলাক—লোহার খাঁচা থেকে গোটা একটা দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা!

লোহার খাঁচা নিয়ে ইউনূস নিজেই বলেছিলেন'

"..., I had to stand in an iron cage and the witness box of the court for the first time. It is just a part of a cursed life" 


(ছবি: ঢাকা সিএমএম কোর্ট, ১৪ আগস্ট ২০২৪। দৈনিক প্রথম আলো/ডেইলি স্টার।)
সময়-ইতিহাসের চেয়ে বড় রসিক আর কেউ নাই! সচরাচর পশু-টশু, হিংস্র মানুষকে আটকাবার জন্য খাঁচার ব্যবস্থা থাকে!
হাইকোর্ট রায় (রিট পিটিশন ৫১৯৪/২০১৪, রায় ১৯ মে ২০১৬, 'Dock is unconstitutional'.) থাকার পরও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আদালতে লোহার খাঁচা সরাবার কোন উদ্যোগই নেননি, সেই আনিসুল হকই খাঁচার ভেতরে!
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কী জানতেন না সভ্যতার এই সময়ে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড করা যায় না, তাও আইনের চোখে সামনে! 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কী জানতেন না:

"Every person is presumed innocent until proven guilty."

-Universal Declaration of Human Rights, Article 11(1)

আনিসুল হক নামের 'ঠেলাগাড়ি বোঝাই আইনের বইয়ের উপর উবু হয়ে বসে থাকা', মানুষটা কী জানতেন না:

"Every person is presumed innocent until proven guilty." 

যাই হোক, ইউনূস নামের মানুষটার যে পেটভরা ঝামেলা এটা আগেও জানতাম কিন্তু এখন স্রেফ 'মাননীয় স্পিকার' হয়ে গেছি—সাপও খোলস পাল্টায় কেবল পাল্টান না আমাদের, সেনর ইউনূস!

জনাব, 'নির্লজ্জ ইউনূস' প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট যে সুবিধাগুলো নিয়েছেন তার ছোট্ট একটা তালিকা:

১. গ্রামীণ ব্যাংকের ট্যাক্স মওকুফ: ০৯ অক্টোবর ২০২৪ NBR গেজেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সব আয় করমুক্ত। ২০২১-২০২৩ এই ৩ বছর ট্যাক্স দিতে হয়েছিল, সেটা বন্ধ। আনুমানিক ১৮০-২০০ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ সুবিধা।

২. গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার কমানো: ১৭ এপ্রিল ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদ "Grameen Bank Amendment Ordinance" অনুমোদন। সরকারের মালিকানা ২৫% থেকে ১০% এ নামানো হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের শেয়ার ৭৫% থেকে ৯০% করা হয়েছে।

৩. গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার মামলার রায় প্রত্যাহার:  ৪ আগস্ট ২০২৪ হাইকোর্ট বলে ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে হবে। ৮ আগস্ট ইউনূস শপথ নেন। ৩ অক্টোবর ২০২৪ হাইকোর্ট রায় প্রত্যাহার করে বিচারকের Conflict of Interest-এর কারণে। মামলা নতুন বেঞ্চে যাবে। [আপডেট: ১৫ জানু ২০২৫ নতুন রায়ে ৪০০ কোটি দিতে বলা হয়েছে]

 

৪. নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন: 'গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি' নামে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৫. ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট লাইসেন্স: গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের নামে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

৬. ডিজিটাল ওয়ালেট সেবার অনুমোদন: গ্রামীণ টেলিকমকে ডিজিটাল ওয়ালেট/মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

৭. সরকারি মেডিকেল কন্ট্রাক্ট: গ্রামীণ হেলথ-টেক সোশ্যাল বিজনেস 'সুখী' চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেডিকেল সার্ভিস কন্ট্রাক্ট পেয়েছে।

৮. নতুন মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অধ্যাদেশ: 'সোশ্যাল বিজনেস' মডেল বিস্তারের জন্য মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ। খসড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েই তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

৯. ব্যক্তিগত VVIP সুবিধা: মেয়াদ শেষের আগে নিজেকে ১ বছরের জন্য VVIP ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন।

সবগুলো সিদ্ধান্ত ৮ আগস্ট ২০২৪ শপথ নেওয়ার পরের ২-৮ মাসের মধ্যে হয়েছে।

(অবশ্য এর মধ্যে ৩ নম্বরটা সরাসরি 'মওকুফ' না, রায় প্রত্যাহার। ২ নম্বর গ্রামীণ টেলিকমের ২৫০ কোটি টাকা এখনো মওকুফ হয়নি। বাকিগুলো কার্যকর হয়েছে।)

কে বলেছে, গায়ে কাপড় জড়ালেই নগ্নতা ঢাকা যায়! আমাদের 'গলাকাটা ফতুয়া স্যার' প্রমাণ করে দিয়েছেন, এই  তত্বীয় জ্ঞান ভুল!  অনেকে কঠিন যুক্তি দেন, গ্রামীণে তো ইউনূসের কখনও মালিকানা ছিল না...আহা, তাই বলে কী তিনি একের-পর-এক অনাচার করবেন আর তাকে কিছু বলা যাবে না, এ তো হাস্যকর যুক্তি!

আহা, আমার সন্তান তো আলাদা থাকে এই যুক্তিতে দেশটাকে 'আমার বাপের তালুক' মনে করে রাষ্ট্রের অকল্পনীয় সুবিধা আমার সন্তানকে দিয়ে অন্তর্বাস মাথায় বেঁধে আমি দাবী করলাম, কে বলে আমি নগ্ন!

আচ্ছা, ইউনূস নামের এই মানুষটার মাথায় কী এটা খেলা করেনি, বাংলাদেশের সমস্ত বাড়িঘরের ময়লা ফেলার বন্দোবস্তোটাও যদি কোন প্রকারে বাগিয়ে নেওয়া যেত? আহা, বেচারা মিস করলেন! 

ইউনূসের প্রতি আমার জোর আবেদন, আপনি ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশের নাম পাল্টে  'গ্রামীণ বাংলাদেশ' করে ফেললেই পারতেন। আমরা হতাম গিয়ে, 'গ্রামীণ জনগণ'!

ইস-স, ভাবলেই চোখ ভিজে 'কপোল' ভিজে যায়!

বিবিসির সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলছেন, তিনি নাকি সংস্কার শুরু করেছেন। আরে, করেছেন মানে, অবশ্যই করেছেন! এতে সন্দেহ কার? আপনি লোহার খাঁচা থেকে ক্ষমতায় এসে  আপনার পৈত্রিক তালুক 'গ্রামীণ বাংলাদেশ'-র আওতায় আপনার গ্রামীণের যে সংস্কার করেছেন তার জন্য আমরা 'গ্রামীণ জনগণ' কৃতজ্ঞ, ডমিনাস ইউনূস!

আবার এই সাক্ষাৎকারে বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক মেহদি সেনর ইউনূসের কাছে জানতে চেয়েছেন, নেপালের অন্তবর্তীকালীন সরকার ৬ মাসে নির্বাচন দিয়েছেন কিন্তু বাংলাদেশে এত সময় লাগছে কেন?

ইউনূস তার বিখ্যাত হাত-শরীর নাড়িয়ে-নাড়িয়ে উত্তর দিয়েছেন:

এ দেশের জনগণ চাচ্ছে, আমরা ৫-১০-১৫ বছর থাকি।

চাচ্ছে মানে, স্যার! ওরা চাচ্ছে, ওদের বাপ চাচ্ছে, ওদের দাদা চাচ্ছে, ওদের দাদার দাদাও...! আপনার কথামতো, ২০ বছর না; ওরা চাচ্ছে, আপনি আগামী ৫০ বছর ক্ষমতায় থেকে 'গ্রামীণ বাংলাদেশে' গ্রামীণ সংস্কার করবেন! 

কিন্তু স্যার, একটু ঝামেলা হয়ে গেছে! আপনার যে কঠিন ধারণা, এই গ্রহে আপনি অমর হয়ে এসেছেন কিন্তু আপনার গলা-কাটা ফতুয়ার গলাছিলা মুরগির মত ঝুলে-পড়া চামড়া দেখে 'গ্রামীণ বাংলাদেশের'  'গ্রামীণ জনগণ ঠিক ভরসা করতে পারেনি! তাই...! সরি স্যার, নেভার মাইন্ড!

গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকান্ড নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের মত বেকুবদের বলে, মাইক্রো-ক্রেডিটের নামে ২০% সুদ নিয়ে দারিদ্র বিমোচন করে। আমি একবার এক্সেলে হিসাব করেছিলাম, এদের সুদের হার ৩৮%-এর নীচে না!

"২০% ফ্ল্যাট রেটের নামে ৪০% সুদ নেওয়া হয়..." 

—অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত

বাংলাদেশে দারিদ্র্য-বৈষম্য-অসমতা: একীভূত রাজনৈতিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের সন্ধানে।  পৃষ্ঠা ২৮৯-২৯১।

(খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়, ড. আবুল বারাকাতের বইটা বাজারে নেই। এই সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবং আবুল বারাকাত জেলে!) 


From the beginning of modern microcredit,1

its most controversial dimension has been the interest rates charged by microlenders—often referred to as microfinance institutions (MFIs).2

(Microcredit Interest Rates and Their Determinants, 2004-2011/ Richard Rosenberg, Scott Gaul, William Ford, Olga Tomilova

—World Bank / CGAP, Access to Finance Forum No. 7, July 2013 )

ক্ষুদ্রঋণে বৈশ্বিক গড় সুদহার ৩৫%। সূত্র: বিশ্বব্যাংক, ২০০৮। 

ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতিতে স্টেটেড রেটের চেয়ে কার্যকরী সুদহার প্রায় দ্বিগুণ হয়। ২০% ফ্ল্যাট মানে কার্যকরী হার ৩৮% ছাড়িয়ে যায়।

—সূত্র: Rosenberg, R. _Microcredit Interest Rates_, CGAP Occasional Paper No. 1, 2002।

প্রসটিটিউশন-ড্রাগস-আর্মস ব্যতীত কোন ব্যবসা আছে যেখানে ২৪ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে এবং ক্রমশ পুঁজি শূন্য করেও বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, আমি সেই ব্যবসার নাম জানতে চাই। এই প্রশ্নটা ছিল ব্র্যাক ব্যাংক নিয়ে। আর গ্রামীন ব্যাংক তো কয়েক পা এগিয়ে।
"...প্রকৃতপক্ষে গ্রামীন ব্যাংকের সুদ হচ্ছে ৩৮ শতাংশ..."।
(সূত্র: খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক)

এখন আমি জানতে চাই ৩৮ শতাংশ সুদ দিয়েও কোন ব্যবসায় লাভ করা যায়? এটা যদি মেথরগিরিও হয় আমি সানন্দে মেথর হব, আমার লেখালেখির কসম।
ইউনূস সাহেবের যে কেবল সুদের হার ৩৮ শতাংশ এমনই না, এখানে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।

আপনাকে ছাগল কেনার জন্য ঋণ দিল। পরের সপ্তাহ থেকেই কিন্তু আপনাকে কিস্তি দিতে হবে। ছাগল কেনার পরদিনই কিন্তু ছাগল ডিম পেড়েছে। সেই ডিম বিক্রি করে আপনি কিস্তি দেবেন। বাই-এনি-চান্স, ছাগল ডিম না-দিলে কিন্তু কিস্তি মাফ নেই। তখন আপনার বিচি বিক্রি করে হলেও কিস্তি দিতে হবে। নইলে গ্রামীন ব্যাংকের লোকজনেরা গরু-ছাগল জোর করে নিয়ে আসবে। এরা কৃষকের বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে নুপুর পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে! 
(লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস/ শুভ'র ব্লগিং পৃ নং: ২০)

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কিস্তি দেয় কেমন করে? অন্য-একটা এনজিও বা ব্যাংক থেকে, সেটা চালায় আবার আরেকটা ঋণ নিয়ে। মানে একটা চক্রে আটকে যায়—একটাই জীবন, চক্রময় জীবন!

মঁসিয়ে ইউনূসের শরীরের সঙ্গে দাঁত-নাড়া আবেগী এই বক্তব্য দেখে আমার এক চোখে জল, এক চোখে পানি চলে আসল! গ্রামীন ব্যাংক নাকি ঋণগ্রহীতাকে পানিশমেন্ট দেয় না...!

এই প্রজন্ম দেখেনি, গ্রামীণ ব্যাংক কী অত্যাচারটাই না করেছে! গ্রামের সহজ-সরল মানুষদেরকে মামলার ভয় দেখিয়ে আধমরা করে ফেলা তো পানি ভাত! অফিসে এনে আটকে রাখা, জোর করে গরু-ছাগল উঠিয়ে নিয়ে এসেছে, কিশোরীর পা থেকে নুপুর খুলে নিয়ে এসেছে। তীব্র বেদনায় সেই কিশোরী আত্মহত্যাও করেছিল []!

গ্রামীণ ব্যাংকের অসঙ্গতি নিয়ে 'আল-জাজিরা' একটা প্রতিবেদন করে। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নুরজাহান বেগম যে ভঙ্গিতে আল-জাজিরার ক্যামেরায় থাবা মারলেন, যেভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের লোকজনেরা গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন, এ অভূতপূর্ব!

দেশে যে পরিবর্তন হয়েছিল এর পেছনে ছাত্র-জনতা সবাই ছিলেন—চানখারপুলের বস্তীর যে ছেলেটা বীরের মত লড়েছে এটা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না! 
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর আমাদের শ্রীযুক্ত ইউনূস [২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২] প্রথমেই যেটা করেন, ছাত্রদেরকে তোমরাই আমার বাপ, তোমরাই আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছো! ব্যস, বানরের হাতে ক্ষুর চলে আসল। এরা যা খুশী তাই শুরু করল!
কী ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা:
এ কী চমৎকার করেই না সারজিস আলম বলছে, এদের যা মনে এসেছে, যা খুশী তাই করেছে!

এই যে আরেকটা, হাসনাত আবদুল্লাহ! কী কনফিডেন্টের সাথেই না বলছে, এখন প্রাডো চড়ে, আগামী সপ্তাহে ওডি, এরপর মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ...!

শিয়েনশেং ইউনূস, আরেকটা ভয়াবহ বক্তব্য দিলেন, এটা 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'! ওহ-হো, এবার মনে পড়েছে! তাই তো! দ্বিতীয় স্বাধীনতাই তো—প্রথম স্বাধীনতায় পরবর্তিত নাম হয়েছিল, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। এরপর হলো, 'গ্রামীণ বাংলাদেশ'!

উপদেষ্টা নামে তিনি তার আশেপাশে বেছে-বেছে তার কাছের লোকজনকে নিলেন, যাদের অধিকাংশই অথর্ব! যেমন, এই দেশের অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটা সেক্টরে স্বাস্থ্য-উপদেষ্টা হিসাবে নিলেন গ্রামীণের সাবেক এমডি নুরজাহান বেগমকে! অযোগ্য এই মানুষটার কথাবার্তাই তো পাগলের প্রলাপ!
এই ভিডিও ক্লিপটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে!
মিনিমাম অথচ অসম্ভব জরুরি যে কাজটা করার কথা, শিশুদের টিকার ব্যবস্থা করা, তিনি কিচ্ছু করেননি! ২০২৫ সালে একটা ভ্যাক্সিনও কেনা হয়নি!


একে আইনের আওতায় না-আনার কোন কার‍ণ নাই!

পূর্বের এই সাক্ষাৎকারে গসপোদিন ইউনূস, তাকে তার ব্যর্থ উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গা দুলিয়ে বলেছিলেন:
ওদের আমি কী বলব, আমার নিজেরই তো দেশ চালাবার অভিজ্ঞতা নেই।
এটা স্রেফ একটা অপদার্থের মত কথা। আপনি স্কুলের বাস ভর্তি বাচ্চাদের নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন। বাস চলছে ঝড়ের গতিতে! আর আপনি নেচে-নেচে বলছেন, আমি তো ড্রাইভিং জানি না!

হেররা ইউনূস, ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন, জানমাল রক্ষা করবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি হয়েছিলেন, মব-স্টার—মবের রাজা!

'মহা-মুখ' ইউনূস যখন মাথায় টুপি লাগিয়ে বলেন, তখন অবিশ্বাস করি কেমন করে! 'বাংলাদেশে অবস্থান রত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আগামী ঈদ মায়ানমারে করবেন', দেশ, বাবা-মা'র কবর ফেলে-আসা, ওঁরা আশায় বুক বাঁধেন! আল্লাহ, এক দেবদূতকে পাঠিয়েছেন!
দেশের মধ্যে ধন্য-ধন্য পড়ে যায়—অনেকে কাঁদতে-কাঁদতে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলেছিলেন।

আহা-আহা, মহাত্মন ইউনূস আমাদেরকে বলেছিলেন, পৃথিবীর আনাচে-কানাচে থেকে দরখাস্তের-পর-দরখাস্ত এসেছে আমাদের এখান থেকে লোক নেওয়ার জন্য। এগুলো তিনি এখনও ঢলঢলে প্যান্টের পকেটে নিয়ে ঘুরছেন!
যাওয়ার পূর্বে আমাদেরকে ওই দরখাস্তের বস্তা হস্তান্তর না-করার কারণে আমাদের লক্ষ-লক্ষ বেকার তরুণেরা আজও ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরছে!

পৃথিবীব্যাপি এটাই লিখিত-অলিখিত নিয়ম, জনগণের গুচ্ছের ট্যাক্সের টাকায় সরকার সরকারী রাস্তা-ঘাট-হাসপাতাল জনহিতকর সমস্ত কাজ করবেন। একমাত্র ইউনূসকে দেখলাম সিনা টান করে বলছেন:
"... সরকারি হাসপাতাল মানে বিপদের বোঝা..."!
বিষাদের সঙ্গে বলি, অন্যদের বেলায় যেটা করি কিন্তু এখানে প্রফেসর ইউনূসের সম্মানে চুতিয়া শব্দটা বলতে পারছি না! 

মনস্টা...সরি, মঁসিয়ে ইউনূস নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘন্টা পূর্বে আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন তা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না—স্রেফ, কেউ যেন নিজের মাকে অন্যের বিছানায় তুলে দিল, এমন!
এবং এই চুক্তি নিয়ে যে লুকোচুরি-লুকোচুরি খেলা হয়েছে তা অভূতপূর্ব! যে জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক সেই জনগণ তার বেতনভুক্ত গোলামের কর্মকান্ড জানতে পারবে না!
অবশেষে ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তির একটা কপি পাওয়া গেল আমেরিকার নিজস্ব ওয়েবসাইটে। নীচে এই লিংক দেওয়া থাকছে। কারও আগ্রহ থাকলে পড়ে নেবেন।
চুক্তির মূল কিছু পয়েন্টে আলোকপাত করা যাক। এক কথায় ভয়াবহ!

চুক্তির ৬টা ভয়ংকর অসঙ্গতি— যেটা 'দেশ বেচার দলিল' বললে কম বলা হবে। স্রেফ দাসত্বের চুক্তি!
১. BSTI/ড্রাগ/কৃষি পরীক্ষা বাতিল, করা যাবে না—সার্বভৌমত্বের কবর! 
ধারা ৭.৩: 'চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত বীজ, ওষুধ, টিকা, খাদ্য BSTI, ওষুধ প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি পাবে। উৎপাদক কোম্পানির ল্যাব সার্টিফিকেটই চূড়ান্ত'।
অর্থ: মডার্না বলবে 'আমার টিকা সেফ, বাংলাদেশ টেস্ট করতে পারবে না!
বায়ার বলবে 'GMO ধান ভালো'— ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরীক্ষা করতে পারবে না!

২. দায়মুক্তি Clause, মরলে তুমি মরছো, কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না, বিচার তো চিন্তার বাইরে!
ধারা ১২.১: 'পণ্য ব্যবহারে মৃত্যু, পঙ্গুত্ব, ফসলহানি, জন্মগত ত্রুটি হইলে কোম্পানি, ফাউন্ডেশন, মধ্যস্থতাকারী কেউ দায়ী থাকবে না'।
অর্থ: Tuskegee-এর ৪০টা শিশু বিকলাঙ্গ হয়েছিল। তখন তাও মামলা হয়েছিল ১৯৭২-এ। কিন্তু এই চুক্তিতে মামলাও করা যাবে না। 

৩. ডেটা কলোনি, আমার রক্ত-তথ্য ওদের! 
ধারা ৯.২: 'জাতীয় স্বাস্থ্য ডেটা, জিনোম ডেটা, কৃষি জমির GIS ম্যাপ ক্লিনটন হেলথ ইনিশিয়েটিভের ক্লাউডে থাকবে। বাংলাদেশ অনুরোধ করে অ্যাক্সেস নেবে'।
অর্থ: আমার মার ব্লাড প্রেশার থেকে আমার DNA, সব আমেরিকার সার্ভারে। ওরা আমাকে টেস্ট করতে দিবে না, কিন্তু আমার শরীর টেস্ট করবে।

৪. ৯৯ বছর+অটো নবায়ন, নতুন-এক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি!
ধারা ৪.১: 'মেয়াদ ৯৯ বছর। কোনো পক্ষ বাতিল না করলে অটো নবায়ন'।
অর্থ: আমার নাতিও এই চুক্তির গোলাম। Indian Removal Act-এ জমি কেড়েছিল বন্দুক দিয়ে। এখন ওরা কাড়বে কলম দিয়ে।

৫. বিচার হবে সিঙ্গাপুরে, বাংলাদেশের আদালতের দু-পয়সার দাম নাই! 
ধারা ১৫.৪: 'বিরোধ SIAC, সিঙ্গাপুরে। বাংলাদেশের আইন খাটবে না'।" 
অর্থ: বায়ারের ধানে মাটি নষ্ট হলে কৃষক সে তো দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তেই যেতে পারবে না! সিঙ্গাপুর যাবে কেমন করে? 
My Lai-এর খুনি Calley ৩.৫ বছরের 'হাউস অ্যারেস্ট' নামে শাস্তি পেয়েছিল এরা তো কোনও শাস্তিই পাবে না।

৬. সামাজিক ব্যবসা-র নামে ট্যাক্স ফাঁকি+একচেটিয়া বাজার! 
ধারা ৬.১: 'চুক্তির আওতায় গঠিত কোম্পানি ২০ বছর কর অবকাশ, আমদানি শুল্ক মওকুফ পাবে'।" 
অর্থ: গ্রামীণ 'ডানোন দই' বেচে ট্যাক্স দেয় না। কিন্তু গরীব জসীমের মা ভাত বেচলে ভ্যাট দেয়। 
'দরিদ্রের জন্য', বলে বাজার দখল, লাভ বিদেশে পাচার।
তাও চুক্তিটা আমেরিকার সঙ্গে! যে আমেরিকা 'নরক বানাবার কারখানা' [১৩]!
এই গ্রহে এমন কোন অনাচার নাই যার পেছনে আমেরিকার 'সদয় আঙুল'  নাই!
আমরা কী ভুলে গেছি, Fort Pitt-এ কম্বল বিতরণের নাম করে গুটি বসন্তের জীবানু ছড়িয়ে আদিবাসী  লেনাপে গোত্র শেষ করে দিয়েছিল। Missouri স্টিমবোটে গুটি বসন্ত ছড়িয়ে ম্যান্ডান গোত্রের ৯৯% শেষ।  

আর আমাদের ইউনূস  মহোদয় যখন নোবেল মঞ্চে বলেন:
"Poverty is an artificial creation".
তখন চোখের পানি কী আর বাঁধ মানে!


* এই লেখা অসমাপ্ত। সময়ে-সময়ে এখানে লেখা-তথ্য যোগ হবে। কারণ মহাশয় ইউনূসকে নিয়ে লেখা মানে মহাকাব্য লেখার চেষ্টা করা...।

সূত্র:

১. লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস: https://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html?m=1

১. লাশ-বানিজ্য-পদক: https://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html?m=1

২. ইউনূসের ছেলেরা...: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1

৩. ইউনূস এবং লেজারগান:

https://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post_29.html?m=1

৪. ইউনূস-গ্রামীনই কেন...:

https://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post_26.html?m=1

৫. ইউনূস, আপনার এত 'লালচ' কেন!

https://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_03.html?m=1

৬. রক্তচোষা কেবল ইউনূস, সরকার না?

https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_31.html?m=1

৭. ইউনূস, আমলনামা: https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_26.html?m=1

৮. ডিয়ার ইউনূস...: https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_8173.html?m=1

৯. ইউনূস—ডেইলি স্টার...https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_04.html?m=1

১০. রতনে রতন চেনে: https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_28.html?m=1

১১. জাতীয় মামা: https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html?m=1

১২. ওই আসে মহাপুরুষ, ইউনুস! https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html?m=1

১৩. অসভ্য ইতর, দানব এক রাষ্ট্র, আমেরিকা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_9966.html?m=1



No comments: