Search

Thursday, May 21, 2026

মাহবুব কবির মিলন: তরমুজ-মুরগি-ফ্ল্যাট!


মাহবুব কবির মিলন প্রায় ফেরেশতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন! প্রায় বললাম এই কারণে পুরো ফেরেশতা হলে তো আর মানুষের পর্যায়ে থাকবেন না! এর জন্য যে রূপান্তর প্রয়োজন তা আদৌ কাম্য নয় কারণ তাহলে যে আবার তাকে এই ধরাধাম ছাড়তে হবে!


মিলন স্যার, এখানে যে তরমুজের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই তরমুজের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা! কোনও ব্লাডি মার্ডারার, ব্যাংক লুটেরা, ভুমি দস্যু ১০ হাজার কেন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এমন কিনলেও তার গায়ে লাগবে না!

কিন্তু নীতিবাক্য বলে-বলে ঢলে-পড়া এই সুফি মানুষটা যখন এটা প্রমোট করেন তখন মানুষটার গায়ের কাপড় খসে পড়ে একেক করে।
আহা-আহা, তিনি প্রমোট করবেন না কেন, নোকরি বলে কথা! নোকর-চাকরের আবার পছন্দ-অপছন্দ কী!


প্রতিবেশীর বাসায় মোরগ ডাকে এই অভিযোগে তিনি কেবল হুমকি-ধমকিই দেন না, থানা-পুলিশও করেন! কেন করবেন না?
অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী তো নিজেদেরকে জমিদার ভাবেন। একজন ডিসি, একজন এসপি কেন নিজেকে লাট সাহেব ভাববেন না? তিনি যে লাট সাহেবের বাংলোতে বসবাস করেন!
বেচারা মুরগি এবং ততোধিক বেচারা মোরগ-মুরগির মালিক মিলন স্যারের প্রতিবেশীগণ, আপনাদের উদ্দেশ্যে অল্প কথা। আপনারা এই নিয়ে মনে কোন কষ্ট রাখবেন না, প্লিজ। এটা আপনাদের অতীতের কোন-এক পাপের ফল যে আপনারা মিলন স্যারের প্রতিবেশী হয়েছেন। বেশী-বেশী করে ইস্তেগফার করেন।

আর মিলন স্যার, আপনার জন্যও স্বল্প কথা, আপনি বিরাট নামাজি এটা আমরা জানলাম এবং মোরগের ডাক নামাজের পর আপনার ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়, এটাও জানলাম। আসলে কী জানেন, মোরগের ডে-সেভিং সেন্সর উপর থেকে আপডেট দেওয়া হয়নি! আপনাকে উপরের কানেকশন বাড়াতে হবে।
বাই দ্য ওয়ে, স্যার, হাঁটার দুরত্বে মসজিদ, যেখানে একটা মাইক লাগালে চলে সেখানে এই যে গুচ্ছের মাইক লাগানো হয়েছে এই নিয়ে আপনার প্রতিবাদ কী! 

একজন পারর্ফমার চামচাগিরি করে একটা ফ্ল্যাট বাগিয়ে নেওয়ার পর আমাদের আলোকবর্তিকা প্রতিবাদি যুবক মিলন স্যার এর কঠিন সমালোচনা করলেন। কেন করবেন না, তিনি সাদা মনের মানুষ—এই অন্যায় সইবেন কেমন করে!

আহারে, 'হারিকেনের আলো হাতে চলিয়াছেন তিনি অন্ধকারের পথে', কে আবার, আমাদের মিলন স্যার!

ঘটনা খুব সামান্য! অভিনেতার প্লট পাওয়ায় মিলন স্যারের এই তীব্র সমালোচনার পর আমাদের মিলন স্যারের কাছে একজন জানতে চাইলেন, তিনিও তো একটা ১০ কাঠার প্লট পেয়েছেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পাওয়ার কথা না। সেবার ডেপুটি সেক্রেটারিরও প্লট পাননি অথচ তখন তিনি এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি!
এরপর মিলন স্যার যে কৌতুক বললেন এটা টেলি সামাদ বা দিলদার বললে কোন সমস্যা ছিল না কিন্ত...! 
তিনি বলছে,
...কাজ করতাম পূর্তের আন্ডারে উপসচিব হিসাবে।... একদিন ডাকযোগে বাসায় বরাদ্দপত্র এসে হাজির।
ওয়াল্লা, কী সোন্দর-কী সোন্দর! এত সহজে সরকারের বরাদ্দকৃত ১০ কাঠার ফ্ল্যাট পাওয়া যায়, তাও আবার ঢাকায়? সিরিয়াসলি! তাও আবার আপনি এটা পাওয়ার যোগ্য না!
কী কান্ড, যার নামে বরাদ্দ হবে তার কোন কাগজ লাগে না, সই লাগে না। তিনি জানেনও না—এমনকি তার ইচ্ছারও দাম নেই! ধাম করে অনাহুত ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র এসে 'স্লামাইকুম' বলে!
এ তো অভূতপূর্ব এক কৌতুক! পূর্বে কেউ এমন কৌতুক বলেছে বলে তো শুনিনি!

যাগ গে, স্যার, কৌতুক বাদ দিয়ে কাজের কথায় আসি। ঘটনাটা যখন আপনার অজান্তে ঘটেছে এতে করে আপনাকে দোষ দেওয়া চলে না। কী করবেন, কপালের ফের। সরকার হয়তো আপনার সাদা মনে কালো দাগ লাগাবার চেষ্টা করেছে। 
আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি, রাজুতে সবাইকে ডাক দিচ্ছি, সরকারের কালো হাত গুড়িয়ে দাও।
তারচেয়ে আমাদের মিটিং-মিছিলের দরকার নেই—আপনি স্যার, এটা সরকারকে ফিরিয়ে দিন। ব্যাস, ল্যাঠা চুকে গেল...।


No comments:

WhatsApp