"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Tuesday, August 12, 2014
বুমেরাং
"সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদেশী পর্যবেক্ষকরা বলছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার অনড় বক্তব্য ১০০ আসনে কারচুপি হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছিলেন।
বেগম জিয়ার দোভাষী ইংরাজিতে বললেন, 'আপনারা আসায় ম্যাডাম অত্যন্ত খুশি হয়েছেন তিনি আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছেন'।
বিভাগ
কষ্ট
Monday, August 11, 2014
অমানুষ এবং সভ্যতা!
ইরাকে #Islamic State (Is) -কে নিয়ে ইসলামপন্থী অনেকে উল্লসিত কারণ এরা নাকি ইসলামের ঝান্ডাধারী। আবার অনেকে খুবই আমোদিত এটা প্রমাণ করতে পেরে যে দেখো-দেখো, ইসলামপন্থী লোকজনেরা কী নৃশংস!
#IslamicState(Is) , এরা চরম নৃশংসতা দেখাচ্ছে তাতে করে অনেকে এদেরকে কসাই বলছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত নই কারণ কসাইগিরি একটা পেশা, বৈধ পেশা। কসাইদের মধ্যেও আমি প্রচুর লোকজন দেখেছি যারা অতি মানবিক, অন্য লোকজনের মতই। তাই আইএসদেরকে কসাই বলতে আমি নারাজ।
এদেরকে অমানুষ বলা যেতে পারে কারণ এদের মধ্যে মানবিক কোনও আচার-আচরণ বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই। অমানুষ তো অমানুষই এদের আবার কীসের জাত-পাত, ধর্ম!
এরা যে যুদ্ধ করছে এটাকে কোনও প্রকারেই যুদ্ধ বলা চলে না। এরা বেসামরিক লোকজনকে খুন করছে, স্রেফ খুন- ঠান্ডা মাথায় খুন। যাদেরকে খুন করা হচ্ছে এদের অধিকাংশই কোনও প্রকারেই যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত না।
এবং এরা খুন করে যেভাবে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছে এতে এটাই স্পষ্ট হয় এটা করা হচ্ছে বিশেষ একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। এবং এতে যে লোভি বিশ্বমোড়লদের স্নেহের হাত নাই এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।
আসল উদ্দেশ্য সহসাই জানার কোনও যো আমাদের নাই কারণ পশ্চিমা মিডিয়া আমাদেরকে কি গেলাতে চাচ্ছে সেটাই মূখ্য। আমরা গিলে বমি-টমি করার পর যদি কখনও সুস্থির হই তখন আসল বিষয়টা হয়তো আঁচ করা যাবে।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখাচ্ছিল সিএনএন-এ। একটি ফুটেজ দেখে বিশ্ববাসী হতভম্ব, ব্যথিত কারণ ওই ফুটেজটায় দেখা গেল ফিলিস্তানিরা আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করছে। অর্থাৎ টুইন টাওয়ার ধসে যাওয়ায় ফিলিস্তানিরা বেজায় আনন্দিত। কিছুদিন পর সিএনএন খুই হেলাফেলা করে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে। ব্যস, মামলা ডিসমিস।
তাই সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়- ইসারাইলি তিন কিশোরকে কি ফিলিস্তিনিরাই অপহরণ করেছিল নাকি ইসরাইল নিজেই এই কাজটা করে ফিলিস্তিনে ঝাঁপিয়ে পড়ার একটা সুযোগ করে নিয়েছে? নাকি ফিলিস্তিনি কিশোরকে ইসরাইলিরাই পুড়িয়ে মেরেছে না হামাস এটা করে বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়েছে? এই শঙ্কা একেবারেই অমূলক বলে অন্তত আমি উড়িয়ে দেই না। কারণ এদের কাছে মানবতা-ধর্ম এই সমস্ত জরুরি না। জরুরি হচ্ছে ক্ষমতা। ক্ষমতার জন্য হাজার-লাখ মারা গেল এতে এদের বয়েই গেছে।
যেমনটা আমরা আমাদের বিশ্ববাবা আমেরিকার কথা অনেক পরে জেনেছি। ইরাকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে কারণ ইরাকে গোপন অস্ত্রের পাহাড় লুকিয়ে আছে। শেষপর্যন্ত তন্নতন্ন করে খুঁজে পাওয়া গেল বুশের বিচি! তো, এরপর? আমেরিকার কী ঘন্টাটা হলো? ফাঁকে তো লক্ষ প্রাণ শেষ!
এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তেল-অস্ত্র অসম্ভব লাভজনক। বিশেষ করে অস্ত্র। হাইটেক যেসমস্ত অস্ত্র বানানো হচ্ছে এগুলো বুকে লাগিয়ে রাখলে তো হবে না। বিক্রি করতে হবে। আগে ক্লাস্টার বোমায় ১০০জন মারা যেত এখন ৫০০জন মারা যায়। রিয়েলি? ফাঁকা মরুভূমিতে এই মহড়া দিলে তো হবে না। এর জন্য জীবিত মানুষ প্রয়োজন। কোথায় পাওয়া যাবে?
আহা, জাত-পাত, ধর্মের নামে একটা যুদ্ধ লাগাও। শয়ে শয়ে ক্লাস্টার বোমা পড়ছে শত-হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। শ্যাম্পেনের গ্লাস ঠুকে পরস্পরের স্বাস্হ্য পান করে চুমুক দাও। ওই যুদ্ধের ভিজ্যুয়াল দেখো। দরদস্তুর করে অস্ত্রের অর্ডার দাও। ডিল।
২০০৬, জুন। ১৯ বছরের একজন ইসরাইলি কর্পোরাল জিলাদ শলিতকে মুক্ত করার নাম করে ইসরাইল ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে ফিলিস্তিনের ৯জন মন্ত্রী এবং ২০জন এমপিকে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়! এটাই হচ্ছে আমাদের সভ্যতার নমুনা! আসলে গুহামানবরা পূর্বে যেভাবে জীবন-যাপন করত- শক্তি প্রয়োগ করে অন্যের খাবার-নারী-বসত ছিনিয়ে নিত এখনও এ অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সভ্যতা ওখানেই থেমে আছে, ভঙ্গি বদলেছে মাত্র...।
দুর্বলচিত্তের কারও এই ভিডিওটা না-দেখাই ভাল:
বিভাগ
সভ্যতা
Sunday, August 10, 2014
খবিস
সমাজকল্যাণমন্ত্রী খবিস বললেন। মন্ত্রীমহোদয় তো বলেই খালাস কিন্তু বিপদে পড়লাম আমি। ভারী বিপদ!
একজন আমার কাছে জানতে চাইলেন, খবিস জিনিসটা কি?
আমি অতি আস্থার সঙ্গে বললাম, ওহো, এটা তো সোজা! খবিস মানে খবিস।
তিনি চিড়বিড় করে উঠলেন, আমার সঙ্গে চালবাজি করবা না। জানলে বলো; না-জানলে না বলো।
আমার আস্থায় এবার চিড় ধরল, খবিস মানে ইয়ে আর কী! আরে বুঝলা না। আচ্ছা, তোমাকে আমি পরে বলছি।
এবার তিনি রক্তচক্ষু মেলে বললেন, হাহ, পরে! খবরদার-খবরদার বলছি অভিধানে হাত দিবা না। এ্যাহ, এ আবার লেখালেখি করে, ‘ছইদালি’ কোথাকার। আমি এটা বেশ জানি এক পাতা লিখতে তুমি দশটা বানান ভুল করো। হাতের নাগালে অভিধান না-থাকলে তুমি এক লাইনও লিখতে পারো না। আমি তোমার হৃদয়বান পাঠক না যে তোমার ছাইপাশকে লেখা বলব।
আস্থা মিলিয়ে গেছে কবে এবার আমার গলা থেকে চিঁ চিঁ স্বর বের হয়, দেখো, এই সব বাইরের লোকজন জানার দরকার কী! যে দু-চারজন পাঠক আমার লেখা পড়ে এরাও মুখ, না-না ভুল বললাম চোখ ফিরিয়ে নিলে আমার উপায় কী, বলো! শেষঅবধি আমার লেখা আমাকেই পড়তে হবে। সে যে কী কষ্ট-কষ্ট! আহা, আমি তো সেইসব লেখক না যে গালে হাতদেওয়া পোজ দিয়ে রাশভারী গলায় বলব, আমি তো কেবল আমার নিজের আনন্দের জন্যই লিখি।
এই পর্যায়ে এসে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন, আর একটা কথা না। খবিশ কি জানলে বলো নইলে চুপ, একদম চুপ।
আমি এবার অনেক ভেবেচিন্তে বললাম, ইয়ে মানে খবিস হচ্ছে ইয়ে আর কী...।
*ছবি ঋণ: www.newsmirror24.com
বিভাগ
অশ্লীলতা
Friday, August 8, 2014
বাবার চশমা এবং ‘লাইকালাইকি’।
এ দৃশ্যটা কোন দেশের এটা আমার কাছে জরুরি না। হতে পারে এটা ফিলিস্তিন, সিরিয়া, বার্মা
বা ইরাকের- কী আসে যায় তাতে। আমার কাছে যেটা জরুরি, এটা মানবসন্তানের বুক
ভেঙ্গেআসা হাহাকারকরা এক দৃশ্য!
এই দৃশ্যটা অসংখ্য রক্তে ভেসে যাওয়া দৃশ্যের চেয়ে আমার কাছে আলাদা কেন? এর ভাল কোনও সদুত্তর আমার কাছ নাই। সব উত্তর কী আমি জেনে বসে আছি ছাই!
কেবল এটাই মনে হয় কী হাহাকারকরা একটা দৃশ্য! শ্বাস আটকে আসে বুকটা কেমন ধক করে উঠে! বাবাটা মরে পড়ে আছে সঙ্গে হয়তো ভাইটাও। শিশুটি প্রাণপনে আঁকড়ে আছে বাবার চশমাটা, তুচ্ছ একটা বস্তু। শিশুটির কাছে এই হিংস্র পৃথিবীতে আঁকড়ে ধরার মত আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, কিচ্ছু না। কেবল বাবার চশমা ব্যতীত। এটাই ওর কাছে শেষ আশ্রয়স্থল-ভরসাস্থল।
আসলে এই সব কেবল অনুমানমাত্র। শিশুটির ভাবনা বোঝার ক্ষমতা আমাদের কই! তাহলে বোঝার ক্ষমতা কি আকাশলোকের বাসিন্দার? উহু, আকাশলোকের বাসিন্দা... এটাও জোর দিয়ে বলা চলে না- ঘুমকাতুরে বেচারা যে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!
জুকারবার্গ একদা ফেসবুক নামের টিকটিকির ডিম প্রসব করেছিল যেটা বিচিত্র কারণে কালে-কালে হয়ে গেছে পৃথুল ডায়নোসরের ডিম! চ্যাংড়া ছেলেটা আমাদের মস্ত এক উপকার করেছে বটে। অনায়াসে বাংলাদেশে ১৭ কোটি লেখক পয়দা করে দিয়েছে- আহা, ডায়নোসরের ডিম বল কথা! হবে না কেন, বাপু? এখানে যার যত লাইক সে তত বড় লেখক। নিপট নির্বোধ এখানে ত্রিকালদর্শী!
এক #চুতিয়ার কথা বলি। শাহাদুজ্জামানকে নিয়ে এর ক্ষুব্ধ একটা লেখা পড়েছিলাম (সম্ভবত শাহাদুজ্জামান ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেননি)) লেখার একটা লাইন হচ্ছে এমন: ‘...শাহাদুজ্জামানের লেখায় কয়টা লাইক পড়ে? লুকটা তুষার ভাইয়ের জুতা সাফ করারও যোগ্যও না...’।
তুষার ভাই মানে আমাদের আবদুন নুর তুষার। অনুমান করি এই তুষারের বিশাল এক লাইকবাহিনী আছে যে কারণে এই #চুতিয়াটা শাহাদুজ্জামানের মত লেখকের সঙ্গে তুষারকে এক পাল্লায় মাপামাপি করতে বসেছে।
এ সত্য শাহাদুজ্জান তো আর উপস্থাপনায় তুষারকে ছাড়াতে পারবেন না। যেমনটা তুষারকে আমি চিনি চৌকশ একজন উপস্থাপক হিসাবে। ভুলি কেমন করে! আমার স্মৃতিতে যে এখনও অম্লান তার উপস্থাপনার কেরামতি। তুষারের ‘শুভেচ্ছা’ অনুষ্ঠানে তুষার কাঁদছে পথশিশুদের কষ্টে। আমি এমন হতবাক জীবনে কমই হয়েছিলাম কারণ অনুষ্ঠানটা লাইভ ছিল না। তাহলে ঘটনাটা কী দাঁড়াল? রেডি ওয়ান টু থ্রি ক্যামেরা এ্যাকশন, ভেউ-ভেউ-ভেউ। কাট। রেডি ওয়ান টু থ্রি...টেন, ভেউ-ভেউ-ভেউ-ভেউ। কাট...। রেডি...কাট...। ভ্যাঁ...। তুষার ভাইয়া কাঁদছে অঝোরে!
ওই #চুতিয়ার মত লোকদের এখন আর খুব একটা দোষ দেই না কারণ প্রথম আলোর মত পত্রিকাকেও যখন লাইক নিয়ে লাফিয়ে ছাদে মাথা ঠুকে ফেলতে হয় [১] তখন অজান্তেই মুখ ফসকে বের হয়েই যায়, প্রথম আলো শেষ পর্যন্ত তুমিও, #চুতিয়া!
প্রসঙ্গটা আসল এই কারণে অনেকের ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা দেওয়ার পর এমনসব মন্তব্য করা হযেছে যা অতি হৃদয়বিদারক। এই যুক্তিতে এরা কেন ইরাক বা সিরিয়া নিয়ে বলছেন না। শোনো কথা, একেকজনের কাজ করার ভঙ্গি, একেকজনের ভাবনা-অনুভূতি-স্পর্শ একেক রকম। তাই বলে তো কাউকে শূলে চড়ানো চলে না।
এই যেমন অসংখ্য রক্তাক্ত দৃশ্য থেকে শিশুটির চশমা আঁকড়ে ধরার দৃশ্যটা আমাকে তীব্র বেদনায় আচ্ছন্ন করেছে তাই বলে কী পাঠককেও এটা স্পর্শ করবেই? এমনটা আশা করাটা নির্বুদ্ধিতা। এখন আমাকে এটা স্পর্শ করেছে তো কী করা যাবে ইলেকট্রিক পোলে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে!
আর ফিলিস্তিন নিয়ে লিখলেই কী, না-লিখলেই কী! ইসরাইল তার বাপ আমেরিকারা যা চাইবে তাই হবে। নইলে সমস্ত গাজা ফিলিস্তিনিদের রক্তে ভেসে যায় আর কেবলমাত্র একজন ইসরাইলি সেনা অপহৃত হলে তার জন্য উদ্বেগে #চুতিয়া ওবামার ...পাত হয়ে যায়। এটাই বাস্তবতা!
তবুও এই কাতরতা, কেন? ২০১২ সালে বাংলাদেশ গাজার জন্য এক কনটেইনার ওষুধ পাঠায়। কিন্তু ওই ওষুধ গাজায় ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। মিসরের বন্দরে পড়ে পড়ে ওষুধগুলো নষ্ট হয়ে যায়। হোক নষ্ট তবুও বাংলাদেশ অন্তত ভাল লাগায় মাখামাখি হয়ে থাকতে পারবে যে সে অন্তত সামান্য চেষ্টাটুকু তো করেছিল। বাংলাদেশের তো আর সেই শক্তি নাই যে হাঁক দিলেই ইসরাইলের প্যান্ট ‘গিলা’ হয়ে যাবে।
কেউ যদি ‘সেভ গাজা’ হ্যাশট্যাগ লিখে সামান্য চেষ্টাটুকু করে সমস্যা কোথায়! কারও ভাল লাগলে সেও অন্যদের জন্য কিছু করুক না, আটকাচ্ছে কে।
তবে, একটা কিন্তু, একটা কিন্তু থেকেই যায়। কেউ যদি কেবল স্বগোত্র হওয়ার কারণে বিশেষ কোনও গোত্রের জন্য কেবল কাতরতা দেখায় তাহলে আমি বলব, এই-ই সেই মানুষটা যে অন্যের উপাসনালয় রক্তে ভেসে গেলে উল্লাস করে।
এদের কারও কষ্টে কাতরতা দেখাবার চেয়ে মানুষ হওয়াটা জরুরি, খুব জরুরি...।
* www.ali-mahmed.com/2014/07/blog-post_22.html
বিভাগ
চুতিয়া
Wednesday, August 6, 2014
নেই, নেই কোনও স্মৃতি...।
স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে নইলে সেই কবেই মানুষ মরে ভুত হয়ে যেত। আর শেষ স্মৃতি- একে জাপটে ধরে বেঁচে থাকে মানুষ বছেরর-পর-বছর, যুগের-পর-যুগ ধরে। বিকৃত-গলিত তবুও লাশ চাই, প্রিয়মানুষের লাশ। বুকের অটল পাথরটা যদি খানিকটা নড়ে...।
আহ লাশ! তরতাজা একটা মানুষ নিমিষেই আমূল বদলে যায়। মুছে যায় নামের পূর্বে আ আ ম স ঞ বা নামের পর এ বি সি ডি! তখন কেবল এই লাশ উঠাও, লাশ নামাও। কী আশ্চর্য, এখনও বড়ি পাতা জ্বাল দেওয়া হয়নি। মা গড়াগড়ি করে কাঁদেন। বোকা মাটার অতশত খেয়াল করার সুযোগ কোথায়- চারপাশে যে অত্যাধুনিক ক্যামেরা তাক করা। সবই পণ্য, চোখের জলও। মাটার চোখের জলও বিক্রি হবে তার অজান্তেই। উপোষী ক্যামেরা শ্বাস আটকে থাকে- আহা, এমন দৃশ্য তো হররোজ মেলে না।
বাবাটা কেমন শান্ত হয়ে যান। কেবল তার সন্তানের লাশ কবরে নামাবার সময় অজান্তেই বিড়বিড় করেন, আরে আস্তে নামাও না, মাইয়াডা দুক্কু পায় না বুঝি।
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে পিনাক-৬। ২ দিন পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনও এর হদিশ মেলেনি। এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে ১৭০ জন নিখোঁজ! ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে যখন পিনাক-৬ পাওয়া যায়নি ধারণা করা হচ্ছে স্রোতের টানে এটা দ্রুত সরে গেছে। এটাকে পাওয়ার সম্ভাবনা দুরূহ কারণ ক্রমশ পলির পরতে ঢেকে যাবে এটা। তবুও আমরা আশায় বুক বাঁধি কোনও-না-কোনও প্রকারে এটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
অনেকে চোয়াল উঁচু করে বলেন, সব দোষ লোকজনের এরা ঠাসাঠাসি করে যায় কেন? উপায় থাকে নারে, পাপিষ্ঠ। আমরা যে সবাই আধুনিক দাস ফিরতে হবে কাজে, চাকুরিতে। ট্রেন-বাস-লঞ্চ সব জায়গায় একই অবস্থা।
আজ আমি স্টেশনে ট্রেনে যে দৃশ্য দেখেছি এটা এখনও শিহরিত করে। স্টেশনে মাহনগর প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনটা কেবল এসে দাঁড়াল। মাত্র দুমিনিট এর যাত্রা বিরতি । একজনকে দেখলাম ট্রেনের চাকার মধ্যেখান দিয়ে উবু হয়ে পার হচ্ছে, অসম্ভব ভিড়ের কারণে উল্টো দিক থেকে উঠবে বলে। আমার কেবল মনে হচ্ছিল মৃত্যু যেন এর চুল ছুঁয়ে গেল। এসব ভাবাভাবির সময় কোথায় এই মানুষটার! যেতে হবে, যেতে হবে ফিরে।।
এ সত্য আমাদের দেশটা বড়ো গরীব- ছোট্ট এই জায়গায় উপচেপড়া মানুষ আমরা। তবুও আমরা সামলে নিতাম কিন্তু আমাদের অনেকের লোভের লকলকে জিব এবং নষ্ট রাজনীতিবিদদের যন্ত্রণায় সে ভরসাটুকুও থাকে না।
আমরা ঈদের পূর্বে পত্রিকায় পড়েই গেলাম ভাঙ্গাচোরা লঞ্চ-জাহাজের জোড়াতালির কাজ চলছে। যাদের হাতে নাটাইয়ের সুতো এদের এই সব পড়া-দেখাদেখির সময় কোথয়? ছোট্ট একটা আইন করলেই ল্যাঠা চুকে যায়। লঞ্চ ডুবে গেলে ক্ষতিপূরণ সরকার দেবে কেন? মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দেবে লঞ্চ মালিক। এবং যথারীতি সরকারের মেহমান হিসাবে বিনেপয়সায় খাওয়া-দাওয়া। সেটা যে জেলের ভাত এটাও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি!
হায় প্রকৃতি, প্রকৃতির মত বদমাশ আর নাই- এ ঠিকই তার শোধ তুলে নেয়।
যাই হোক, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার সবচেয়ে ভাল লাগছে এটা দেখে প্রশাসন সব দিক থেকেই অতি তৎপর। এমনটাই তো হওয়া উচিত। সমস্ত ধরনের শক্তি নিয়োজিত করতে হবে প্রয়োজনে সমস্ত হেলিকপ্টার যা যা প্রয়োজন সব কিছু।
এখন জানা গেল, নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর ৩ ভাগনিও আছেন এদের মধ্যে। এর মধ্যে একজনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে।
আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি যে পূর্বের মত সহসাই উদ্ধারকাজ বাতিল হবে না...।
*ভিডিও ক্লিপটি সংগৃহিত। মানুষটার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
**একটা জরুরি সহায়তা চাচ্ছিলাম। পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার পূর্বে আমজনতার কেউ একজন সেলফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। কেউ কি তাঁর নাম জানেন?
***
১৫ মে ২০১৪। গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে যে লঞ্চটি ডুবে যায় এতে মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
সেই টাকা আজও পাওয়া যায়নি!
বিভাগ
কষ্ট
Monday, August 4, 2014
সবাই বড় ভাল লোক।
পত্রিকাওয়ালাদের সঙ্গে আমার
বিশেষ সখ্যতা নেই বরং ‘অমায়িক লাগালাগি’ আছে। তো, একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা আমার একটা লেখা ছাপাবার সুবাদে এক কপি সৌজন্য কপিও পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভাগ্যিস, লেখাটা লিখেছিলাম নইলে দেখার সুযোগ হতো না।
ওই পত্রিকা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে নিয়ে প্রচ্ছদ করেছিল, ‘বড় ভাল লোক ছিলেন’। তিনি কেবল ভাল লোকই ছিলেন না অসম্ভব দয়ালুও ছিলেন।
তিনি তাহেরপুত্র বিপ্লবকে বড় দয়া করেছিলেন। বিপ্লবের বাবা তাহেরও লোক ভাল। তাহেরের সন্তান বিপ্লবও ভাল। বিপ্লব একটু ‘দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করত। দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করতে গিয়ে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষীপুর জজকোর্টের সাবেক পিপি এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে খেলার সাথীদের নিয়ে অপহরণ করে কেটে কুচি কুচি করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
শোনো কথা-কী অন্যায্য কথা! এই কারণে আদালত তাহেরপুত্র বিপ্লবকে ফাঁসির আদেশ দেন। ভাগ্যিস, আমাদের দয়াবান রাষ্ট্রপতি ছিলেন নইলে বিপ্লবের ফাঁসি হলে সে বাঁচত বুঝি? ২০১১ সালে রাষ্ট্রপতি ফাঁসির আদেশ রদ করে ক্ষমা করে দেন। পরের বছর রাষ্ট্রপতি আরও দুইটি হত্যাকান্ডের সাজা যাবজ্জীন থেকে ১০ বছর করে দেন।
পরে আরও আটটি অপরাধমূলক মামলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার বাহাদুর বিপ্লবকে বেকসুর খালাস করে দেন। বেচারা বিপ্লব, কেবল অন্য একটি মামলার কারণে যাবজ্জীবনের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে বলে এখনও কারাগারে আটকে আছে।
আহারে, ছেলেটার প্রতি কী অন্যায়-অবিচারই না করা হচ্ছে। আরশের একটা পায়া না-কেঁপে উপায় কী! এখন ছেলেটার একটা বিবাহ করিয়ে দেওয়াটা বড় জরুরি হয়ে পড়েছে!
* ওয়াল্লা, এটা যে সত্যি হবে এটা কল্পনাও করিনি!
ওই পত্রিকা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে নিয়ে প্রচ্ছদ করেছিল, ‘বড় ভাল লোক ছিলেন’। তিনি কেবল ভাল লোকই ছিলেন না অসম্ভব দয়ালুও ছিলেন।
তিনি তাহেরপুত্র বিপ্লবকে বড় দয়া করেছিলেন। বিপ্লবের বাবা তাহেরও লোক ভাল। তাহেরের সন্তান বিপ্লবও ভাল। বিপ্লব একটু ‘দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করত। দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করতে গিয়ে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষীপুর জজকোর্টের সাবেক পিপি এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে খেলার সাথীদের নিয়ে অপহরণ করে কেটে কুচি কুচি করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
শোনো কথা-কী অন্যায্য কথা! এই কারণে আদালত তাহেরপুত্র বিপ্লবকে ফাঁসির আদেশ দেন। ভাগ্যিস, আমাদের দয়াবান রাষ্ট্রপতি ছিলেন নইলে বিপ্লবের ফাঁসি হলে সে বাঁচত বুঝি? ২০১১ সালে রাষ্ট্রপতি ফাঁসির আদেশ রদ করে ক্ষমা করে দেন। পরের বছর রাষ্ট্রপতি আরও দুইটি হত্যাকান্ডের সাজা যাবজ্জীন থেকে ১০ বছর করে দেন।
পরে আরও আটটি অপরাধমূলক মামলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার বাহাদুর বিপ্লবকে বেকসুর খালাস করে দেন। বেচারা বিপ্লব, কেবল অন্য একটি মামলার কারণে যাবজ্জীবনের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে বলে এখনও কারাগারে আটকে আছে।
আহারে, ছেলেটার প্রতি কী অন্যায়-অবিচারই না করা হচ্ছে। আরশের একটা পায়া না-কেঁপে উপায় কী! এখন ছেলেটার একটা বিবাহ করিয়ে দেওয়াটা বড় জরুরি হয়ে পড়েছে!
* ওয়াল্লা, এটা যে সত্যি হবে এটা কল্পনাও করিনি!
অবিবাহিত বিপ্লবের বিয়ে করার জন্য বেঁচে থাকাটা যে অতি জরুরি এটা জাজ সাহেবরা বুঝলেন না- আফসোস, বড়ই আফসোস! ‘ন্যাকাপড়া’জানা সানজিদা আক্তার পিউ, তিনিও ভাল লোক। কারণ তিনি বিপ্লবকে বিয়ে করেছেন। সানজিদা আক্তার পিউয়ের মাও বড় ভাল লোক কারণ তিনি বিপ্লবের সঙ্গে তার মেয়ের কেবল বিয়েই দেননি দুজনকে বিস্তর দেখাদেখি করার সুযোগও করে দিয়েছেন। সশরীরে উপস্থিত থেকে।
ওখানকার জেলা প্রশাসক এ কে এম টিপু সুলতানও ভাল লোক। তিনি এই বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। কারাগারের জেল সুপার মাহবুবুল আলমও লোক ভাল কারণ তিনি মহা ধুমধাম করে বিবাহ হওয়ার কেবল সুযোগই করে দেননি পত্রিকামতে বর-বধুকে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবার সুযোগও করে দিয়েছেন।
সবাই এতো ভাল দেখে মনটা অন্য রকম হয়। কে বলে দেশে ভাল লোক নেই! যারা এটা বলে- ওরা নিন্দুক, ওদের বলতে দাও...।
** প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যে কেবল তাহেরপুত্র বিপ্লবকেই ক্ষমা করেছিলেন এমন না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ক্ষমা করেছিলেন তৎকালীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পুত্র সাদাব আকবরকে।
২০০৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আকবরের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করে। আদালত আকবরকে ১৮ বছরের জেল ও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এখানে উল্লেখ্য মামলা চলাকালীন পুরোটা সময় আকবর পলাতক ছিলেন। কোনও দিনই তিনি আদালতের ছায়াটিও মাড়াননি।
এরপরই রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এই দন্ডিত পলাতক আসামীকে ক্ষমা করেছিলেন।
বিভাগ
অন্যায়
Monday, July 28, 2014
খোশ আমদেদ, আপনাদের অপেক্ষায়...।
হাবিজাবি ব্যস্ততার কারণে ক-দিন ধরে স্কুলে যাওয়া হচ্ছিল না। কাল যখন স্কুলের পথে হাঁটা ধরলাম রাস্তায় পুঁচকে একটা শিশু সালাম দিলে বুঝতে পারলাম এ ‘আমাদের ইশকুলের’ ছাত্র। আমার অতি দুর্বল স্মৃতিশক্তির কারণে এই স্কুলে পড়ছে বা এই স্কুল থেকে বের হয়েছে এমন শিশুদের মুখ আমি মনে রাখতে পারি না। সালাম দিলে আমি চট করে বুঝে যাই এ ‘আমাদের স্কুল’ নামের কারখানার ছাত্র।
শিশুটির সঙ্গে আমার কথোপকথন:
শিশু: তুমরা বলে ইছকুলে সেমাই দিবা?
আমি: কে বলছে তুমারে?
শিশু: কও কী, তুমি জান না!
আমি: নাতো, জানি না তো। আগে কও কে বলছে তুমারে?
শিশু: হগ্গলে কইতাছে।
আমি: হগ্গলে কেডা?
শিশু: ইছকুলের হগল পুলাপাইন।
আমি খানিকটা শঙ্কিত হলাম। শঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে। এ সত্য গত বছর আমাদের ইশকুলের সবাইকে সেমাই-টেমাই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার তো এটা সম্ভব না কারণ এই খাতে আমার কাছে বাড়তি কোনও টাকা নাই। আমি মনখারাপ ভাব নিয়ে উল্টো পথে হাঁটা ধরলাম। স্কুলে গেলে বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখিন হব। কী দরকার অহেতুক মনখারাপের পারদ উঁচুতে তুলে।
ফিরে আসতে আসতে চিন্তা করছিলাম কাকে বলা যায়? আমার পরিচিত যারা আছেন তারা বিভিন্ন সময়ে আমার এই সমস্ত ‘অকাজের’ আবদারে ত্যক্ত হয়ে ভবিষ্যতে আমার মুখদর্শন না-করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কাকে ফাঁদে ফেলা যায় এটা ভেবে-ভেবে সারা। কিন্তু কোনও কূল-কিনারা হয় না! নাকি লটারি করব? রস-কস-শিংগা-বুলবুল-মালেক-মুশতাক... যার নামে শিংগা উঠবে সেই সই? জানি না কেন শেষপর্যন্ত কিছুই করা হয়ে উঠে না। আমার ভেতরের অন্ধকার ঝলমলে দাঁতে বলে উঠে: ওরে, থাকুক না, ঈদের আগে আর স্কুলে না গেলেই তো হবে। ঈদের ক-দিন পর গেলে বাচ্চারা এমনিতেই ভুলে যাবে।
আমিও দেখলাম তাই তো, এ তো মন্দ না।
কিন্তু...। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন ফোন করলেন। তার সঙ্গে আমার কথোপকথন নিম্নরূপ:
সাজ্জাদ হোসেন: ইয়ে, আপনার স্কুলের বাচ্চাদেরকে কাপড় দিতে চাচ্ছিলাম।
আমি: (আনন্দের আতিশয্যে পারলে ফোনেই কিল মেরে বসি। শত-উল্লাস গোপন করে) আরে, তাহলে তো খুব ভাল হয়!
সাজ্জাদ হোসেন: আমি এই অংকের টাকা পাঠাব, কাপড়ের জন্য হবে তো?
(এসএসসিতে, আমরা তখন বলতাম মেট্রিক। অংকে আমার ১৩ গ্রেস লেগেছিল অথচ সেই আমিই অতি দ্রুত আঁক কষে ফেলি।)
আমি: এই টাকায় সবার কাপড় তো বেশ হয়ে যাবে। আচ্ছা, সঙ্গে সেমাই দিলে কেমন হয়?
সাজ্জাদ হোসেন: বাহ!
আমি: (হাসি গোপন করে) সেমাইয়ের সঙ্গে চিনিও দিয়ে দেই?
সাজ্জাদ হোসেন: কী বলেন, হবে?
আমি: বেশ হবে। আচ্ছা, অল্প কিশমিস না-দিলে কেমন হয় বলুন তো। কিশমিস ছাড়া সেমাই, ধুর! আর শোনেন, দুধ ছাড়া সেমাই রান্না হয় বুঝি! এক প্যাকেট গুঁড়ো দুধও দিয়ে দেই, কি বলেন?
সাজ্জাদ হোসেন: ওয়াল্লা, বলেন কী!
যাই হোক, আজ স্কুলের বাচ্চাদেরকে এইসব দেওয়ার পর্ব শেষ হলো।
![]() |
| স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের মাস্টার-মশাই |
সাজ্জাদ হোসেন নামের মানুষটা আমাকে চমকে দিয়েছেন। কারণটা বলি। এমন না এটাই আমার জীবনের প্রথম ঘটনা। আমার ছোট-ছোট স্বপ্নগুলোর প্রতি বিভিন্ন সময়ে অনেকেই মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাহলে?
সাজ্জাদ হোসেন মানুষটা হুজুর টাইপের। এই অল্প বয়সেই ইয়া লম্বা দাড়ি। এমনিতে হুজুর টাইপের লোকজনরা অকাতরে মসজিদ-মাদ্রাসায় হস্ত উপুড় করে দেন কিন্তু স্কুলের বেলায় আকাশপানে তাকিয়ে হস্ত গুটিয়ে নেন।
জানি না এরা কেন এমনটা করেন! যারা আক্ষরিক অর্থে অনুসরণ করেন তারা হয়তো বিস্তর ‘ল্যাকাপড়া’ করে নিশ্চিত হন তৎকালীন সময়ে আরবদেশে স্কুল নামের জিনিস ছিল না। আর তখন ওখানে স্কুলের মত-মত কোনও জিনিস থেকে থাকলেও সেখানে বাংলা পড়ানো হত না।
(তখন কেন বাংলা পড়ানো হতো না এটা আবার দুম করে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসবেন না যেন)
এই বিষয়ে অতীতে আমার অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। অসংখ্য ঘটনা থেকে কেবল একটা উল্লেখ করি। হুজুর টাইপের অতি পরিচিত একজন। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য তিনি অতি সামান্য সহায়তা দিতে রাজি হননি অথচ তিনি আমাকে বলেছিলেন মসজিদ-মাদ্রাসা করেন পাঁচ-দশ লাখ যা টাকা লাগে দেব। আমি জানি এটা মুখের কথা ছিল না। তিনি সত্যি সত্যিই দিতেন।
যেটা বলছিলাম, সাজ্জাদ হোসেনের বিষয়টা তাই আমাকে অনেকখানি বিস্মিত করেছে। কায়মনে আমি চাই এই মানুষগুলোর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাক...অন্তত আমি এঁদের অপেক্ষায় আছি...।
বিভাগ
আমাদের ইশকুল
Sunday, July 27, 2014
পিটার-পেপে-পাপিতা।
পিটারকে আমি বললাম এটা আমার গাছের। তখনই পিটার আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল, 'তোমার আপত্তি না-থাকলে আমি ওই গাছটার একটা ছবি তুলতে চাই'। ওই গাছ মানে পেপে-গাছ। ওর নাকি "পাপিতা" খেতে খুবই মজা লেগেছে। আমি রগড় করি, 'গাছটা তুলে সঙ্গে দিয়ে দেই তোমাকে'!
পরে অবশ্য আমি ভুলে গিয়েছিলাম। এটা যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এটা আমার মোটেও মনে হয়নি! কিন্তু পিটার ঠিকই মনে রেখেছিল! পিটার কিন্তু ঠিকই হাবিজাবি ঠেলে পেপে গাছটার সঙ্গে ছবি ওঠায় যেটার চালু নাম সেলফি। আমাকেও ডেকেছিল। আমি মাথা নেড়েছিলাম এদিক-ওদিক কিন্তু মুখে-মুখে বলেছিলাম, মাফও চাই, দোয়াও চাই। দুনিয়ার এত কিছু থাকতে পেপে-গাছের সঙ্গে আমার মত এক বঙ্গাল ছবি উঠালে মুখ দেখাব কেমন করে, লোকেই বা বলবে কী! "ইজ্জতের ফালুদা" নামের একটা শব্দ বাজারে চালু আছে আমার বেলায় হত, "ইজ্জতের পাপাইয়া"।
পরে অবশ্য আমি ভুলে গিয়েছিলাম। এটা যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এটা আমার মোটেও মনে হয়নি! কিন্তু পিটার ঠিকই মনে রেখেছিল! পিটার কিন্তু ঠিকই হাবিজাবি ঠেলে পেপে গাছটার সঙ্গে ছবি ওঠায় যেটার চালু নাম সেলফি। আমাকেও ডেকেছিল। আমি মাথা নেড়েছিলাম এদিক-ওদিক কিন্তু মুখে-মুখে বলেছিলাম, মাফও চাই, দোয়াও চাই। দুনিয়ার এত কিছু থাকতে পেপে-গাছের সঙ্গে আমার মত এক বঙ্গাল ছবি উঠালে মুখ দেখাব কেমন করে, লোকেই বা বলবে কী! "ইজ্জতের ফালুদা" নামের একটা শব্দ বাজারে চালু আছে আমার বেলায় হত, "ইজ্জতের পাপাইয়া"।
কী-এক প্রসঙ্গে পিটার বলল, 'বলো তো আমার বয়স কত হবে'?
আমি পিটারের মুখের ভাঁজ-টাজ গুণে বললাম, 'ষাটের কাছাকাছি হবে'।
পিটার হাসি লুকিয়ে বলে, 'বাড়াবা না কমাবা'?
আমি বলি, 'তাহলে ২ বছর কম'।
পিটার হা-হা করে হাসে, 'আমার এখন বাহাত্তুর চলছে'।
পিটারের নিবাস সুইজারল্যান্ডে। আমি বলি, 'তোমাদের সুইজারল্যান্ডের বাতাসেও কী বাটার-টাটার ভেসে বেড়ায় নাকি। এখনও দেখছি তোমার চামড়া বাটার-চকচকে'।
পিটার এটা-সেটা কথার ফাঁকে আমাকে বলে, 'তা আমাকে একজন সুখি মানুষ বলতে পার। এক ছেলে এক মেয়ে। ওরা যার-যার জীবন নিয়ে সুখি। হাত-পা ঝাড়া...'।
আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে পড়ে, 'তোমার বউ'?
পিটার বলে, 'ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে'।
আমি দুঃখিত হয়ে বলি, 'সরি, তাহলে তো তোমাকে "লাকি ডগ" বলা যাচ্ছে না'।
পিটারের অমায়িক হাসি, 'আরে না-না, আমার গার্ল ফ্রেন্ড আছে তো'।
শোনো কথা! আর আমাদের দেশে বাহাত্তুর বছর বয়সে কেউ বেঁচে থাকলে তাকে আশেপাশের লোকজনেরা পারলে জীবিতই কবরস্থ করার চেষ্টা করবে।
কোণায় রাখা ছিল ওটা। কেমন করে এর চোখে পড়ে। আমার কাছে জানতে চাইল, 'এটা কি, এটা দিয়ে কী করো? এটা কি সিলভারের'?
আসলে এর ভাল নাম আমি জানি না। মুচিরা এটাকে বলে, তিন ঠেইংগা। আমি বললাম, 'এটা দিয়ে জুতা সেলাই-টেলাইয়ের কাজ হয়। আর এটা আমার বালকবেলার এক বন্ধুর যে জুতা সেলাইয়ের কাজ করত। ও বেঁচে নেই আমি স্মৃতি হিসাবে এটা রেখে দিয়েছি। আর শোনো এটা সিলভার না, আসলে কিন্তু গোল্ড। আমি সিলভার কালারের রং করে রেখেছি এই কারণে যেন কেউ বুঝতে না-পারে। দেখো, তুমি কিন্তু আবার কাউকে বলবে না যেন যে এটা গোল্ড তাহলে কিন্তু আমার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যাবে'।
পিটার রসিকতায় হা-হা করে হাসে, 'বেশ-বেশ, তা খানিকটা গোল্ড আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্য দিয়ে দাও'। পরক্ষণেই অবাক হয়ে বলে, 'বলো কী! তুমি এত বছর ধরে এটা আগলে বসে আছ'!
আমি গভীর শ্বাস ফেলে বলি, 'পিটার বিষয়টা তুমি বুঝবে না কারণ তোমরা হচ্ছো টবের গাছ। আজ এখানে তো কাল ওখানে। আর আমরা হচ্ছি নারকেলগাছ আমাদের শেকড়-স্মৃতি অনেক, অনেক দূরে ছড়িয়ে থাকে। ওই যে তুমি বললে না তোমার সন্তানেরা যার-যার জীবন নিয়ে আছে তুমিও হাত-পা ঝাড়া। আমরা কিন্তু নতুন-পুরাতন হাড় বুকে জাপটে ধরে রাখি, আমৃত্যু। এই যে ব্যাগটা দেখছো এটা আমার মার। সে মারা গেছে ক-বছর হলো কিন্তু আমি এখনও আমার মার পুরনো কয়েকটা হাড়ের জন্য হিংস্র কুকুরের মত লড়ব'।
পিটার বেশ কিছুক্ষণ ঝিম মেরে রইল তারপর বলল, 'সুইজারল্যান্ড আসো, তোমার একটা ভাল চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন'।
চিকিৎসাটা যে আমার মাথার পিটার এটা সম্ভবত ভদ্রতা করে বলেনি...!
কোণায় রাখা ছিল ওটা। কেমন করে এর চোখে পড়ে। আমার কাছে জানতে চাইল, 'এটা কি, এটা দিয়ে কী করো? এটা কি সিলভারের'?
আসলে এর ভাল নাম আমি জানি না। মুচিরা এটাকে বলে, তিন ঠেইংগা। আমি বললাম, 'এটা দিয়ে জুতা সেলাই-টেলাইয়ের কাজ হয়। আর এটা আমার বালকবেলার এক বন্ধুর যে জুতা সেলাইয়ের কাজ করত। ও বেঁচে নেই আমি স্মৃতি হিসাবে এটা রেখে দিয়েছি। আর শোনো এটা সিলভার না, আসলে কিন্তু গোল্ড। আমি সিলভার কালারের রং করে রেখেছি এই কারণে যেন কেউ বুঝতে না-পারে। দেখো, তুমি কিন্তু আবার কাউকে বলবে না যেন যে এটা গোল্ড তাহলে কিন্তু আমার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যাবে'।
পিটার রসিকতায় হা-হা করে হাসে, 'বেশ-বেশ, তা খানিকটা গোল্ড আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্য দিয়ে দাও'। পরক্ষণেই অবাক হয়ে বলে, 'বলো কী! তুমি এত বছর ধরে এটা আগলে বসে আছ'!
আমি গভীর শ্বাস ফেলে বলি, 'পিটার বিষয়টা তুমি বুঝবে না কারণ তোমরা হচ্ছো টবের গাছ। আজ এখানে তো কাল ওখানে। আর আমরা হচ্ছি নারকেলগাছ আমাদের শেকড়-স্মৃতি অনেক, অনেক দূরে ছড়িয়ে থাকে। ওই যে তুমি বললে না তোমার সন্তানেরা যার-যার জীবন নিয়ে আছে তুমিও হাত-পা ঝাড়া। আমরা কিন্তু নতুন-পুরাতন হাড় বুকে জাপটে ধরে রাখি, আমৃত্যু। এই যে ব্যাগটা দেখছো এটা আমার মার। সে মারা গেছে ক-বছর হলো কিন্তু আমি এখনও আমার মার পুরনো কয়েকটা হাড়ের জন্য হিংস্র কুকুরের মত লড়ব'।
পিটার বেশ কিছুক্ষণ ঝিম মেরে রইল তারপর বলল, 'সুইজারল্যান্ড আসো, তোমার একটা ভাল চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন'।
চিকিৎসাটা যে আমার মাথার পিটার এটা সম্ভবত ভদ্রতা করে বলেনি...!
... ... ...
পিটার পরে আমাকে মেইলে জানিয়েছিল সুন্দরবন দেখে তার নাকি মুগ্ধতার শেষ নেই। তার নাকি ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না।
পিটার আমার কাছে জানতে চেয়েছিল: তুমি নিশ্চয়ই অনেকবার সুন্দরবন গেছো? তবুও বলব, চলে এসো। হোয়াডা লাইফ, ম্যান!
আমি হে-হে করে এমন একটা উত্তর দিয়েছিলাম যে, তা-বটে, তা-বটে জীবনে এতবার সুন্দরবন গেছি যে আমার সুুন্দরবন দেখলে বুকে হাঁপ উঠে। কিন্তু আমি মারাত্মক ব্যস্ত এই গ্রহ নিয়ে ভাবাভাবি শেষ হচ্ছে না বিধায় যেতে পারছি না।
পাগল, আমি কী পিটার যে জীবনের গাল টিপে বলব, জীবন তোকে চাবকে দিলাম। ভাগ্যিস, পিটার বঙ্গালদেশের ভাষা জানে না নইলে এটা বিলক্ষণ জেনে যেত যে আমি জীবনেও সুন্দরবন যাইনি! আমার মত বাতিল একজন মানুষের কোথাও যাওয়া হয় না আসলে...
বিভাগ
অতিথি
Tuesday, July 22, 2014
জাতীয় ফকির: আল্লার ওয়াস্তে একটা পইসা...
আমার বালকবেলায় প্রায়ই
চোখে পড়ত এক ভিক্ষুক, অন্ধ মহিলা সুর করে ভিক্ষা করতেন। ‘আল্লারওয়াস্তে একটা পইসা দিবেননি, বাজি’। সেই দিন কোথায়- এখন আর কোনও পাগল ভিক্ষুকও ১ পয়সা চেয়ে
ভিক্ষা করেন না।
দিন বদলেছে! ভিক্ষায়ও
এসেছে বৈচিত্র। আজকাল লোকজনেরা ‘লাইক’-ও ভিক্ষা করেন। এই
দেশে এখন জাতীয় এই-জাতীয় সেই, জাতীয় ভিক্ষুকও আছে। নমুনা। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর
পক্ষ থেকে ‘লাইক’ ভিক্ষা চেয়েছেন সাইদুজ্জামান। পূর্বে সম্ভবত ভদ্রলোক লিখতেন
দন্তস্য রওশন। এখন লেখেন কেবল দন্তস্য-এর সাইদুজ্জামান। রওশন নিজেই ছেঁটে দিয়েছেন
নাকি মতি ভাইয়া এটা বলা
মুশকিল। মতি ভাইয়ার
আবার নাম ‘ছাঁটাছাটির’ কুঅভ্যাস-কুপ্রবৃত্তি আছে। নামের আকিকা দেওয়ার বিপুল উৎসাহ
আছে আমাদের মতি ভাইয়ার। আকিকার জন্য এতো ছাগল কোথায় পান এ এক রহস্য!
যাই হোক,
সাইদুজ্জামানের ‘লাইকভিক্ষাআহ্বান’ থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দেই (প্রথম আলো, ২০ জুলাই, ২০১৪):
লেখাটার শিরোনাম, ‘লাইক দিয়েছ?’ সঙ্গে লাইক লেখা কিছু ডান্ডার ছবি।
“এসো, আজ থেকে আমরা বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে লাইক দেওয়া শুরু করি।
আগামী ছয় মাসে আমরা ৫০ হাজার বন্ধু পেজে লাইক দেব।
প্রতিটি বন্ধুসভার
যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক রয়েছে। তাদের দায়িত্ব হলো লাইকের সংখ্যা বাড়ানো। প্রতিটি বন্ধুসভার
বন্ধুদের তারা সচেতন করবে, উদ্বুদ্ধ করবে এ ব্যাপারে। আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে এ কর্মসূচি। যে বন্ধুসভার লাইক-সংখ্যা
বেশি হবে, সেই বন্ধুসভার কথা ছাপা হবে।...
প্রতিটি বন্ধুসভার
রয়েছে ২৫ জনের একটি কার্যকরী কমিটি। ফেসবুকে লাইক দেওয়া এই কমিটির প্রত্যেক বন্ধুদের জন্য বাধ্যতামূলক।...”
আমি অসংখ্য ভিক্ষুক
দেখেছি কিন্তু ভিক্ষা নিয়ে এমন ঘ্যানর ঘ্যানর করতে দেখিনি। আহ লাইক! সাইদুজ্জামানের
এই লেখাটা পড়ে তো মনে হচ্ছে, বাতাসে দাও কৌপিন উড়াইয়া তবুও একেকটা লাইক নেব কুড়াইয়া।
আচ্ছা, এত্তো এত্তো
লাইক নিয়ে এরা কী করবে! লাইক কচকচ করে চিবিয়ে খাওয়া যায় এমনটা তো শুনিনি! নাকি
জুকারবার্গ লাইকের জন্য ‘ট্যাকাটুকা’ দেয়?
প্রথম আলো
পত্রিকাটিকে কেউ পছন্দ করুক বা না-করুক এটা অস্বীকার করার উপায় নেই মিডিয়া-টাইকুন এই
প্রতিষ্ঠানটি এই দেশে অসম্ভব প্রভাবশালী। দোষ-গুণ একপাশে সরিয়ে রাখলে এরা নিজেরাই নিজেদের আলোয় উদ্ভাসিত। যেখানে এদের
নিজস্ব উপায়ে যোগাযোগের অভাব নেই সেখানে ফেসবুকের লাইকের জন্য এদের যে তীব্র
হাহাকার এটা যে অমর্যাদার তা এদের কে বোঝাবে। যেমনটা অমর্যাদার আনিসুল হকের মত
লেককদের নিজেই নিজের
বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া [১]।
ফেসবুকে লাইকের জন্য
অনেককে যে ছাবাল, খেলো, নীচ আচরণ করতে দেখি এতে করে মনে হয় লাইকেন জন্য পারলে এরা
অবলীলায় নগ্ন হয়ে যাবে। এই অসভ্যতার কাতারে প্রথম আলো যোগ দিয়ে এটাই প্রমাণ করল
এরা লোকজনকে শেখাবে কী, এদের নিজেদেরই তো শেখার অনেক বাকী...।
১. বিজ্ঞাপনতরঙ্গ-লেখকরঙ্গ!: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html
বিভাগ
প্রথম আলো
Friday, July 18, 2014
মানুষটার ছায়া...।
এই মানুষটার নাম মো. নুরুন্নবি। মাটি কাটার কাজ করেন। মাটি কোপাকোপি করে আমার একটা কাজ করে দিচ্ছেন। প্রথম দেখাতেই যেটা
আমাকে টেনেছিল মানুষটার মধ্যে বাউল-বাউল একটা ভাব আছে। কাজ করতে করতে এই মানুষটার
সঙ্গে আমার টুকটাক কথা হয়। মানুষটার কিছু কথা মজার। একবার আমি বললাম, ‘বাহ, আপনার হাসিটা তো সুন্দর’। মানুষটার লাজুক উত্তর, 'ইহ, বেছুলা’। একবার ক্লান্ত হয়ে বলছিলেন, ‘মাতাডা হেড হয়া আছে’। আরেকবার পাশের লোকটাকে নুরন্নবি বলছেন, ‘হুনো মিয়া, ঔরন্ডি কইরো না। ফাজলামি করারও একটা সিস্টেম আছে’।
যাই হোক, আমি খুব
অবাক হয়েছিলাম এটা জেনে এই মানুষটা ফি-বছর নিয়ম করে অন্তত দুই বার ভারতে অবস্থিত
এক মাজারে যান। খুব অবাক হয়েছিলাম কারণ এমন আয়ের একজন মানুষের জন্য এই খরচটা
বিপুল, হুজ্জতও কম না! যদিও পাসোপর্ট ব্যতীত, তবুও!
আমার সোজাসাপটা
প্রশ্ন ছিল, ‘কেন যান? কি আছে ওখানে। একজন মৃত মানুষের পক্ষে আপনার জন্য কি
করার ক্ষমতা আছে’?
তিনি পক্ষে যুক্তি
দেন, আমি বিপক্ষে। এভাবে কথা
চালাচালি হতে থাকে। আমি
ধর্মের উদাহরণ দিয়ে একের-পর-এক ‘কথাসস্ত্র’ ছুড়ে দেই। মনুষটার মধ্যে কি কোনও ক্ষীণ পরিবর্তন আশা করছিলাম? হবে হয়তো...।
আজ দেখলাম সঙ্গে একটা
ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে এসেছেন। আমি অনেকখানি বিরক্ত হয়ে বলি, ‘এই বাচ্চাটাকে আনলেন কেন, এ কি মাটি কাটার কাজ করতে পারবে’!
নুরুন্নবি ঝাকড়া চুল
দুলিয়ে বলেন, ‘আরে নাহ, হে তো বিপদের মানু’।
আমি কিছুই বুঝলাম না।
জানতে চাইলাম, ‘মানে কি’?
তিনি বলেন, হের
বাপ-মা হেরে ফালাই গেছে’।
এবার আমার কৌতুহল হয়।
বিষয়টা ভিন্ন। যেটা জানা গেল গতকাল ট্রেনে এই ছেলেটা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল বাবা-মার সঙ্গে। নেমেছিল পানি কেনার জন্য। বাবা-মা তখন গভীর ঘুমে। ট্রেন ছেড়ে গেছে।
এ উঠতে পারেনি। এখানে রয়ে গেছে। রাতে নুরন্নবি স্টেশনে একে পান। এরপর ভাত খাইয়েছেন। সকাল
পর্যন্ত বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। দিশামিশা না-পেয়ে একে সঙ্গে করে কাজের জায়গায় নিয়ে
এসেছেন।
এবার আমি নুরন্নবি নামের মানুষটাকে আবারও নতুন করে দেখার চেষ্টা করি। বিভ্রম হয়তো, মনে হচ্ছিল
এমন, তাঁর দীর্ঘ ছায়া ছাড়িয়ে যায় আশেপাশের সবকিছু, অবলীলায় আমাকেও।
এরপর করার মত আমার
বিশেষ কোনও কাজ নেই। চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছলে আমার পরিচিত একজন ছেলেটার দায়িত্ব নেবেন।
আজ যখন ছেলেটাকে (এর নাম সোহেল) ট্রেনে তুলে দিয়ে ফিরছি তখন আবারও নুরন্নবিকে পেলাম স্টেশনের ওভারব্রিজে। আমি অবাক হয়ে বলি,’ এতো রাতে এখানে কী’!
নুরন্নবি হাসেন, ‘ওয়াল্লা, আমি তো এইখানেই ঘুমাই’।
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে
এপাশ-ওপাশ মানুষটার ছায়া খুঁজি- রাতের আধারে ছায়া দেখার ক্ষমতা আমার কোথায়...!
বিভাগ
ভাললাগা
Subscribe to:
Posts (Atom)












