Search

Tuesday, July 22, 2014

জাতীয় ফকির: আল্লার ওয়াস্তে একটা পইসা...



আমার বালকবেলায় প্রায়ই চোখে পড়ত এক ভিক্ষুক, অন্ধ মহিলা সুর করে ভিক্ষা করতেন। আল্লারওয়াস্তে একটা পইসা দিবেননি, বাজি। সেই দিন কোথায়- এখন আর কোনও পাগল ভিক্ষুকও ১ পয়সা চেয়ে ভিক্ষা করেন না।

দিন বদলেছে! ভিক্ষায়ও এসেছে বৈচিত্র। আজকাল লোকজনেরা লাইক- ভিক্ষা করেন। এই দেশে এখন জাতীয় এই-জাতীয় সেই, জাতীয় ভিক্ষুকও আছে। নমুনা। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর পক্ষ থেকে লাইক ভিক্ষা চেয়েছেন সাইদুজ্জামান। পূর্বে সম্ভবত ভদ্রলোক লিখতেন দন্তস্য রওশন। এখন লেখেন কেবল দন্তস্য-এর সাইদুজ্জামান। রওশন নিজেই ছেঁটে দিয়েছেন নাকি মতি ভাইয়া এটা বলা মুশকিল। মতি ভাইয়ার আবার নাম ছাঁটাছাটির কুঅভ্যাস-কুপ্রবৃত্তি আছে। নামের আকিকা দেওয়ার বিপুল উৎসাহ আছে আমাদের মতি ভাইয়ার। আকিকার জন্য এতো ছাগল কোথায় পান এ এক রহস্য!

যাই হোক, সাইদুজ্জামানের লাইকভিক্ষাআহ্বান থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দেই (প্রথম আলো, ২০ জুলাই, ২০১৪):
লেখাটার শিরোনাম, লাইক দিয়েছ? সঙ্গে লাইক লেখা কিছু ডান্ডার ছবি।
এসো, আজ থেকে আমরা বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে লাইক দেওয়া শুরু করি। আগামী ছয় মাসে আমরা ৫০ হাজার বন্ধু পেজে লাইক দেব।
প্রতিটি বন্ধুসভার যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক রয়েছে। তাদের দায়িত্ব হলো লাইকের সংখ্যা বাড়ানো। প্রতিটি বন্ধুসভার বন্ধুদের তারা সচেতন করবে, উদ্বুদ্ধ করবে এ ব্যাপারে। আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে এ কর্মসূচি। যে বন্ধুসভার লাইক-সংখ্যা বেশি হবে, সেই বন্ধুসভার কথা ছাপা হবে।...
প্রতিটি বন্ধুসভার রয়েছে ২৫ জনের একটি কার্যকরী কমিটি। ফেসবুকে লাইক দেওয়া এই কমিটির প্রত্যেক বন্ধুদের জন্য বাধ্যতামূলক।...

আমি অসংখ্য ভিক্ষুক দেখেছি কিন্তু ভিক্ষা নিয়ে এমন ঘ্যানর ঘ্যানর করতে দেখিনি। আহ লাইক! সাইদুজ্জামানের এই লেখাটা পড়ে তো মনে হচ্ছে, বাতাসে দাও কৌপিন উড়াইয়া তবুও একেকটা লাইক নেব কুড়াইয়া।
আচ্ছা, এত্তো এত্তো লাইক নিয়ে এরা কী করবে! লাইক কচকচ করে চিবিয়ে খাওয়া যায় এমনটা তো শুনিনি! নাকি জুকারবার্গ লাইকের জন্য ট্যাকাটুকা দেয়?

প্রথম আলো পত্রিকাটিকে কেউ পছন্দ করুক বা না-করুক এটা অস্বীকার করার উপায় নেই মিডিয়া-টাইকুন এই প্রতিষ্ঠানটি এই দেশে অসম্ভব প্রভাবশালী। দোষ-গুণ একপাশে সরিয়ে রাখলে এরা নিজেরাই নিজেদের আলোয় উদ্ভাসিত। যেখানে এদের নিজস্ব উপায়ে যোগাযোগের অভাব নেই সেখানে ফেসবুকের লাইকের জন্য এদের যে তীব্র হাহাকার এটা যে অমর্যাদার তা এদের কে বোঝাবে। যেমনটা অমর্যাদার আনিসুল হকের মত লেককদের নিজেই নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া [১]

ফেসবুকে লাইকের জন্য অনেককে যে ছাবাল, খেলো, নীচ আচরণ করতে দেখি এতে করে মনে হয় লাইকেন জন্য পারলে এরা অবলীলায় নগ্ন হয়ে যাবে। এই অসভ্যতার কাতারে প্রথম আলো যোগ দিয়ে এটাই প্রমাণ করল এরা লোকজনকে শেখাবে কী, এদের নিজেদেরই তো শেখার অনেক বাকী...।

১. বিজ্ঞাপনতরঙ্গ-লেখকরঙ্গ!: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html         

No comments: