Search

Saturday, March 30, 2013

গাফফার চৌধুরী, আপনার জন্য কেবল করুণা...

আজকাল অনেকে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে গোণায় ধরতে চান না। অবশ্য এর জন্য তাঁর অনেক ভূমিকা কিছুটা দায়ী! মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার প্রসঙ্গ এখানে আর আনলাম না।
কিন্তু "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি!...।"

যে গানটা গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর বিদ্রোহ করে। মস্তিষ্ক কোনো যুক্তি মানে না। নিজের জীবনটা তখন কী তুচ্ছই না মনে হয়...

গাফফার চৌধুরীর মত মানুষদের তো আমরা মাথায় করে রাখতাম...।

Friday, March 29, 2013

Tuesday, March 26, 2013

টর্নেডো, আমাদের মিডিয়া এবং মানবতার খেলা!

কখনও-কখনও আমরা যেমন মরে গিয়ে অভিজাত পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় জায়গা করে নেই তেমনি এই দেশের সমস্ত পত্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধিরাও টর্নেডোর কল্যাণে প্রথম পাতায়, সংবাদের সঙ্গে তাঁদের নামও চলে আসে। এ যে কী এক পাওয়া! কারণ সমস্ত মিডিয়া-হাউজগুলোর আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের প্রতি থাকে সীমাহীন তাচ্ছিল্য। আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের পাঠানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছাপা হয় না, হলেও হবে মফস্বল পাতায়। ব্রাক্ষণ, শূদ্রের খেলা আর কী!
এবং অধিকাংশ পত্রিকাই আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের প্রাপ্য টাকা দেয় না। ফল যা হওয়ার তাই হয়। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

Saturday, March 23, 2013

টর্ণেডো, জীবন-মৃত্যু, মমতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প!

গতকাল যে টর্নেডো বয়ে গেল, আমি যেখানে থাকি এটা এর এতো কাছ থেকে গেছে যেটা টর্নেডোর জন্য কেবল চোখের পলক। যেন মাথার চুল ছুঁয়ে যাওয়া। আমাদের এতো কাছে অথচ আমরা এখান থেকে টেরটিও পাইনি। একজন এক সুহৃদ যখন ফোন করে কাঁদছিল তখনও আমি বুঝিনি এর ভয়াবহতা। আমরা আবেগপ্রবণ জাতি, অল্পতেই কান্না চলে আসে তখনও আমি তার কান্নাকে ততোটা ­গুরুত্ব দেইনি।

কিন্তু আমাদের স্বাস্হ্য-কমপ্লেক্সে যখন স্রোতের মত ঠেলাভ্যান-স্কুটার-ট্রাকটর-ট্রাকে করে শত-শত আহত লোকজন আসা শুরু করলেন সেই দৃশ্যের বর্ণনা দেয়া অসম্ভব। মানুষের এমন আহাজারি নিজের চোখে না-দেখলে বোঝানো মুশকিল।

Friday, March 22, 2013

আমাদের পা ভূতের ন্যায় উল্টা!

খবরের কাগজে পড়লাম, "...জামায়াত শিবির ২০ হাজার গাছ বিনষ্ট করেছে!"

আমি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যাব না কারণ এই বিনষ্টকারীরা বলবে বিজ্ঞান মুরতাদের জিনিস। আমি প্রকৃতির ভারসাম্যের কথাও বলব না কারণ এরা বলবে প্রকৃতি আবার কী!
দেলোয়ার হোসেন সাইদী এক ওয়াজে বলেছিলেন, আল্লাহর দুনিয়ায় জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নাই। বাঘ-ঘোড়া এরা কী জন্মনিয়ন্ত্রণ করে?
যুক্তির কথা, সত্যি তো, আমরা শুনিনি বাঘ-টাঘ জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। বাঘ দায়িত্ববান পুরুষের ভূমিকায় অখবা আসল পুরুষ হয়ে ড্রয়ারে মেডেল জমায়, কেউ কী শুনেছে কোথাও!

Monday, March 18, 2013

ওহে দাদা, আমাদের শোবারঘরে উঁকি দেবেন না

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক সংবাদে' (অন্য আরও কিছু পত্রিকায়ও) প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়, গত শনিবার বিকেলে প্রদেশ বিজেপি ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের কৃষ্ণনগরের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বিজেপির সভাপতি সুধীন্দ্র দাসগুপ্তের সভাপতিত্বে ওখান থেকে এরা এক কর্মসুচী দেন।

আনিসুজ্জামান: অতি সহজলভ্য!

আজ খালেদা জিয়াকে নিয়ে যারা এটা-সেটা বলছেন তাদের হয়তো জানা নেই, তিনি কেবল এই দেশেরই না, ভারতেরও গর্ব! এমন একজন মানুষ যখন বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের সবাই নাস্তিক তখন এটা না-মেনে উপায় কী!

"খালেদা জিয়া শ্রেষ্ঠ বাঙালি", এই ঘোষণাটা দিয়েছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৩.০৬.০৫)
প্রথম আলো: ২৩.০৬.০৫

Friday, March 15, 2013

ব্লগিং-বোলোগিং, আস্তিক-নাস্তিক!


এই মুহূর্তে ব্লগারদের চেয়ে স্পর্শকাতর আর কোনো জীব জীবিত আছে বলে আমার জানা নাই! 'ব্লগার' শব্দটা এখন একটা গালি। আগে যে মানুষটার ব্লগ বিষয়ক কোনো প্রসঙ্গ শুনলে মুখের রেখা নরোম হয়ে আসত সেইসব মানুষেরাই এখন কঠিন আগুনদৃষ্টিতে তাকান। ব্লগারদের বিষফোঁড়ার মত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।
অনলাইনে লেখালেখি করে এখন আমাদের যে যে অর্জন তাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

Wednesday, March 6, 2013

আমাদের মিডিয়া!

আজকের অতিথি লেখক, আবদুল্লাহ-আল-ইমরান (http://www.facebook.com/netpoke)। মানুষটার দেখি কিছুই চোখ এড়ায় না- 'ঈগলচক্ষু! তিনি লিখছেন:
ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ০১.০২.২০১৩

Saturday, March 2, 2013

মদিনা সনদ এবং...

৬২৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রণীত মদিনার সনদে ৪৭টি শর্ত সম্বলিত একটি সনদ প্রণয়ন করা হয় যেটা মদিনার সনদ (Charter of Medina) নামে পরিচিত। এই সনদের প্রধান প্রধান শর্তাবলী হচ্ছে:
১. মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমান সম্প্রদায় সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং তারা একটি সাধারণ জাতি (কমনওয়েলথ) গঠন করবে।
২. হযরত মোহাম্মদ (সা:) নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের সভাপতি হবেন এবং পদাধিকারবলে তিনি মদিনার সর্বোচ্চ বিচারালয়ের (Court of Apple) সর্বময় কর্তা হবেন।
৩. পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে; মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায় বিনা দ্বিধায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে; কেউ কারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

Friday, February 8, 2013

ইনজাস্টিস এবং একজন কাদের মোল্লা!

কাদের মোল্লাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এই গ্রহের অনেক দেশেই এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। ওদের একটা খুন করলেও যা, এক লাখেও তা। কিন্তু আমাদের দেশে তো এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি না! আমাদের দেশে মৃত্যুদন্ড রদ করা হয়েছে বলে তো আমরা কেউ শুনেনি!
তাই এই শাস্তি নিয়ে দেশ উত্তাল। খানিকটা ভুল বললাম। তরুণেরা উত্তাল! তাঁদের একটাই কথা, ফাঁসির দাবী। কিন্তু শীতল মস্তিষ্কে বিষয়টা নিয়ে ভাবলে বোঝা যাবে, প্রচলিত আইনে এই রায়কে এখন আর ফাঁসিতে রূপান্তর করা সম্ভব না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালের আইনটিতে আপিলে শাস্তি বাড়ার সুযোগ নেই! কেবল কাদের মোল্লা আপিল করলে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের আওতায় আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদন্ড দিতে পারেন কিন্তু এ আশাই শেষ কথা না।

কেবল তুরুপের একটাই তাস,

Sunday, December 30, 2012

বীরপুরুষ, তোমার অপেক্ষায়...

ফেসবুকের কল্যাণে অনেকেই ভিডিওটি দেখেছেন। বিস্তারিত জানারও কারো বাকী নাই। একটি ছেলে ভালবাসার ভঙ্গির ছল করে একটি মেয়েকে চড় মারে। এ সত্য, মেয়েদের উপর এরচেয়ে অনেক রগরগে আচরণেরও অজস্র উদাহরণ আছে কিন্তু...।

কিন্তু এটা এই গ্রহের অতি কুৎসিত এক দৃশ্য! বোমা মেরে মানুষ মেরে ফেলা হয় কিন্তু, মসজিদ-মন্দিরে প্রার্থনারত মানুষকে যখন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হয় ওই ভঙ্গির সঙ্গে এর কোথায় যেন একটা মিল আছে। আসলে ভিডিওটা না-দেখলে কাউকে বোঝানো মুশকিল...

Friday, December 21, 2012

বিশ্বজিৎ এবং বিবেক নামের রাস্কেলটা

বিশ্বজিৎকে নিয়ে লিখব না ঠিক করেছিলাম কারণ কী লিখব! সবাই তো সবই লিখেছেন আমি আবার নতুন করে বেদনার জায়গাটায় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত নাই বা করলাম। কিন্তু...
প্রতিভাবান অনেকে, যারা এখানে লেখালেখি করেন, অনেক 'নেকাপড়া' তাদের। অনেকে আবার একেকজন চলমান দেশপ্রেমিক। কিন্তু আমি সবিস্ময়ে লক্ষ করলাম, এঁরা অধিকাংশই ব্যস্ত ছিলেন যারা বিশ্বজিৎকে খুন করেছে তারা কোন দলের এটা প্রমাণে। কেন এরা এমনটি করতে অতি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন? 'দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি', এই কারণে [১]?

Sunday, December 9, 2012

বদনা ভরে খাও, হরলিকস-কমপ্ল্যান! বাপ-মা ৩ ফুট পোলা ৬ ফুট!

তবলার ঠুকঠাক- এই লেখার পেছনের গল্পটা বলি:
আমার নিজের সম্বন্ধে ধারণা কি এটা কেউ আমার কাছে জানতে চাইলে আমার সাফ উত্তর, আমি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ কারণ আমি স্মোক করি-করতাম। (দুনিয়ার সিগারেটখোরদের ক্ষেপে যাওয়ার আবশ্যকতা নাই, এটা কেবল আমার জন্য প্রযোজ্য :)

একটা সময় ছিল বেদম সিগারেট খেতাম- ছাপার অক্ষরের লোকজনেরা আবার এটাকে পান করা বলেন। এখন ছেড়ে দিয়েছি তবুও কখনও-কখনও স্মোক করা হয়েই যায়। তবে এখন সিগারেট কেনার সময় আমি খুব সতর্ক থাকি, চোরের মত, কারণ...।

Friday, December 7, 2012

ডিয়ার বেত, মিস ইউ...

লেখার বিষয়বস্তু যে কতটা বিচিত্র হতে পারে এর প্রকৃষ্ট এক উদাহরণ। আজকের অতিথি লেখক। লেখাটি লিখেছেন, Farjanul Islam Nirjhor (http://www.facebook.com/Farjanul)

"আজ প্রথম আলোয় একটা 'সংবাদ' দেখে এই লেখাটা লেখার ভূত মাথায় চাপল। সংবাদটা হল, 'পিটুনির পর দুঃখ প্রকাশ'। মূল কাহিনী হল শিক্ষকের বেতের প্রহারের পর ওই শিক্ষকেরই ছাত্রের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা। এমনকি প্রধান শিক্ষকও ক্ষমা চেয়ে বলেছেন যে 'এই ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে'!

পিটুনি দিয়ে আবার ছাত্রের সাথে সমঝোতা! কেন জানি নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। যে শৈশবটা ছিল বর্ণময়, শিক্ষকময়, প্রহারময় আর বেতের বাড়িময়। স্বীকার করি, শৈশব থেকেই আমার মাথায় নানা জাতের দুষ্টুমির পোকা কিলবিল করে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু বিপদ হল যে সেগুলো খুব বেশি পরিমাণে মুক্ত বাতাসে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারেনি! কেন?

Tuesday, December 4, 2012

কোর্ট-মার্শাল!

সবাই বলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নাকি মারা গেছেন! আরে-আরে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যারে মত মানুষদের আবার কেমন করে মৃত্যু হয়! যার হাত দিয়ে এমন একটা জিনিস বের হয়! 'ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি' নামে তাঁর একটা কবিতা আছে:
"প্রিয় ইন্দিরা, তুমি বিমানের জানলায় বসে,
গুজরাটের বন্যা দেখতে যেও না
এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা...
তোমার শুকনো ঠোঁট কতদিন সেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনি,...
ইন্দিরা, তখন সেই বন্যার দৃশ্য দেখেও একদিন তোমার মুখ ফস্কে
বেরিয়ে যেতে পারে, বাঃ কী সুন্দর...!" 
এই কবিতাটি এখানে দেয়ার কারণ হচ্ছে, তখন ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায়। বিপুল ক্ষমতা ইন্দিরার। কিন্তু এই কবিতার কারণে ইন্দিরা সুনীলের প্রতি একটা শব্দ উচ্চারণ করারও স্পর্ধা দেখিয়েছেন বলে আমার জানা নাই।
...
২০১২, এ বছরের শুরু। জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখের পত্র-পত্রিকায় ছেয়ে গেল। কাঁপছিল পত্রিকা ছাপাবার যন্ত্র, কাঁপছিল দেশ। কী?! সরকার উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ। কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! গণতান্ত্রিক একটা সরকার উৎখাত করার অপচেষ্টা।

Wednesday, November 28, 2012

গুণবান গুণ এবং হারপিক প্রসংঙ্গ!

জীবনানন্দ দাশের 'কবি' নামের কবিতায় আমরা জবুথবু এক কবিকে দেখি। শতকষ্টেও যিনি আমাদেরকে ভরসা দেন: 
"কবিকে দেখে এলাম
দেখে এলাম কবিকে
...
মরুশ্বেত দুটো চুনোমাছ চোখের বদলে কাজ করছে যেন
মরণোম্মুখ ট্যাংরা
পৃথিবীর থেকে আনন্দ সংগ্রহ করছে
সবাইকে ভরসার কথা শোনাচ্ছে।"
আজকালের কবিকূল আমাদেরকে ভরসা দেয়ার জন্য অনেকখানি এগিয়ে আসেন, পাঠকের কাছাকাছি থাকার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করেন। না-না, কেউ উল্টাপুরাণ বুঝবেন না। এও এক আনন্দ সংবাদ, কবিকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়ার, নাগালে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আমাদের দেশের প্রধান কবিদের একজন নির্মলেন্দু গুণ। সেই কবে তিনি লিখেছিলেন,

Tuesday, November 27, 2012

তন্তুপাড়ার জন্তুগুলোর জন্যে মাতমের একটি মুসাবিদা

লুৎফর রহমান রিটন, এই মানুষটাকে আমার মত সাধারণ মানুষেরা খুব করে চিনি ছড়াকার হিসাবে। আর চিনি তাঁর পেল্লায় গোঁফের কারণে :)
এই মানুষটা হাত-পা ছড়িয়ে, শব্দ নিয়ে চমৎকার এক খেলা খেলেন, গদ্য-গদ্য খেলা! কেমন করে থরথর করা উঠে আসা অদম্য রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে লেখায় দ্রোহ-ব্যঙ্গ উঠে আসে, পাঠককে এর সঙ্গে একাত্ম করে ফেলে তার এক দুর্দান্ত নমুনা! আজকের অতিথি লুৎফর রহমান রিটন (http://www.facebook.com/riton100)। তিনি লিখেছেন:
"নিশ্চিন্তপুরে নিশ্চিন্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো শতাধিক দু’পেয়ে জন্তু। এই জন্তুগুলোকে ‘মানুষ’ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। এদের দুটি হাত দুটি পা দুটি চোখ দুটি কান একটি নাক ও একটি মুখ আছে। আর আছে সভ্যতার সমান মাপের বিপুল বিশাল একটি উদর।
ক্ষুধার্ত এই জন্তুগুলো খালি ভাত খেতে চাইতো। জুঁই ফুলের মতো শাদা শাদা স্বপ্নখাদ্য ভাতের সঙ্গে সামান্য ডাল কিংবা আলু ভর্তাই প্রিয় আর আরাধ্য ছিলো ওই দু’পেয়েগুলোর।

Sunday, November 25, 2012

আমার হাত বাঁধতে পারো, আত্মা না!

এই গ্রহে দু-ধরনের লোক আছে। কেউ মারা যায় বিছানায়, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে। আমি প্রথমদের দলে। নিরাপদ দূরুত্বে থেকে লম্বা-লম্বা বাতচিত করি। কলমবাজি, হালের কী-বোর্ডে ঝাপিয়ে পড়ে দেশউদ্ধার করি, হাতি-ঘোড়া নিধন করি। কিন্তু কারো-কারো পা ভূতের ন্যায়, এঁরা হাঁটেন উল্টো পথে। দ্বিতীয় দলের কেউ-কেউ বিস্তর পাগলামি করেন আমরা এঁদেরকে আদর করে বলি 'পাগলা'। আফসোস, আমাদের দেশে এমন পাগলদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমার মত রোবটের সংখ্যা। যারা টিভিতে, পেট ভাসিয়ে আগুন দেখি, সঙ্গে শো ফ্রি। [১]

পূর্বেই উল্লেখ করেছি, কেউ-কেউ খানিক অন্য রকম। ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসে লিখেছেন: Farjanul Islam Nirjhor (http://www.facebook.com/Farjanul):
" হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করাটা একটা বাজে অভ্যেস হয়ে গেছে আমার। গতকাল রাত ৩টার সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, চট্টগ্রাম যাব। সকাল ৭টায় বগুড়া থেকে বাসেও উঠেছিলাম ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম যাবার উদ্দেশ্যে। নিজের চোখে দেখতে ফ্লাইওভারের নিচে চাপা পড়া মানুষগুলোকে, নিজে একজন চিকিৎসক হিসেবে একটু সাহায্যও যদি কোন ভাবে করতে পারি সেই আশায়।

Tuesday, November 20, 2012

১৯৭১ সালে খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটা বিভ্রান্তি প্রায়শ দেখা যায় সেটা হচ্ছে, ১৯৭১ সালে তিনি নাকি স্বইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

Tuesday, November 13, 2012

বাবা কেন চোর?

'বাবা কেন চাকর' নামে বাংলা একটা চলচিত্র আছে। কেউ পোস্টের শিরোনাম দেখে ওখান থেকে ধার করেছি এটা বললে আমি কারো সঙ্গে কাজিয়া করতে যাব না।

রাষ্ট্র নিয়ে বলতে যাওয়া মুশকিল। কারণ উঁচুমার্গের পন্ডিতদের একগাদা বাতচিত নিয়ে লোকজনেরা ঝাপিয়ে পড়বেন। অধ্যাপক গেটেল বলেছেন..., তো, প্রফেসর বার্কার বলেন..., John h. Hallowell-এর ভাষায়...ইত্যাদি। এই সব আমার নাগালের বাইরে বিধায় সযতনে এড়িয়ে গেলুম। আমি আমার অল্প জ্ঞানে বুঝি, দেশ হচ্ছে মা, রাষ্ট্র হচ্ছে পিতা। এখন রাষ্ট্র এবং দেশের মধ্যে পার্থক্য কি এই নিয়ে আমাকে যুযুৎসুর প্যাচে ফেলে দেবেন না আবার।

Tuesday, November 6, 2012

স্যান্ডি এবং স্যান্ডেলের গল্প।

ঈশ্বর-গড-ভগবান এঁদের যন্ত্রণার শেষ নেই! বেচারাদের ঘুমাবার যো নেই। ঘুমাবার যো নেই এটা ভুল বললাম, আসলে হবে চোখে ঘুম নেই। সবারই গোপন ইচ্ছা, কেমন করে তাঁর সন্তান দুধেভাতে থাকবে আর অন্যরা চুনগোলা খাবে [১]। 'সবারই গোপন ইচ্ছা' এটাও ঠিক বলা হলো না- আসলে হবে 'খুল্লামখুল্লা' ইচ্ছা!
এই বিষয়ে সবার রা একই। মোটা দাগে বললে, নিজের সন্তানদের স্বর্গবাস অন্যের সন্তানদের নরকবাস। নিজের সন্তানেরা রসগোল্লা খাক, অন্যরা স্রেফ গোল্লায় যাক।

কার কথা এটা, রবিদাদার? "I love God because he has given me the freedom to deny him."

Friday, November 2, 2012

দিস ইজ আ সামুরাই সোর্ড

আজকের অতিথি প্রলয় হাসান। তিনি লিখেছেন:
"২০১০ সালের কোরবানী ঈদের ঘটনা। প্রতিবছরের মতো সেবারও আমরা সবাই (স্থানীয় কিছু বাঙ্গালী মুসলমান) মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসের কান্ট্রি সাইডে গিয়েছিলাম 'ভেড়া কোরবানী' দিতে।
সিডনির বাঙ্গালী পাড়া কোগরাহ নিবাসী 'সাইফুল হাসান' ভাইকে সবাই চেনেন এবং অত্যন্ত ভালবাসেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষ হিসাবে।
দেখতে ছোটখাটো অথচ সুদর্শন এই মানুষটি একাধারে একজন মাওলানা, বিট্রিশ কাউন্সিল ঢাকার পার্টটাইম টিচার (তিনি জীবনে তিনবার আইএলটিএস দিয়েছিলেন, তিন বারই ৯-এ ৯ পেয়েছিলেন!), একজন

Wednesday, October 24, 2012

­পশু উৎসর্গ-কোরবানি, কালে কালে

"...এ তো ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি [তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে] জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু...।"
-সুরা সাফফাত: ১০৬-১০৮ 

"আমি তোমাকে কাউসার [ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ] দান করেছি। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড় ও কোরবানি দাও।"
-১০৮ সুরা কাউসার: ১-২

Sunday, October 21, 2012

পরিসংখ্যান-জিনসংখ্যান-প্রেতসংখ্যান

পরি-জিন-প্রেত। এরা বসে বসে হাওয়া খেয়েই কেবল দিন পার করে। কাজকামের তো আর বালাই নাই। এদেরকে তো আর আপিস নামের কারাগারে আটকে থাকতে হয় না। বাজারের ব্যাগ নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরঘুরও করতে হয় না। সামান্য কিছু টাকা নামের ময়লা কাগজের জন্য আত্মা বন্ধকও রাখতে হয় না।

পরিদের নিয়ে যতটুকু শোনা যায় তা এমন, এমনিতে এরা খুবই ভাল। মাইডিয়ার টাইপের। কেবল দোষের মধ্যে যেটা সেটা হচ্ছে কাউকে পছন্দ হলে তাকে নাকি উঠিয়ে নিয়ে যায়। সবাইকে না। কারণ আমি আমার বাসার ছাদে অনেক রাতে হাঁটাহাটিঁ করে দেখেছি পরি আমাকে উঠিয়ে নেয়া দূরে থাকুক ভুলে কখনও বলেনি, এই যাইবা?

Tuesday, October 16, 2012

গুণ, করসো এবং আনিসের চালবাজি!

­নির্মলেন্দু গুণকে নিয়ে পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম, (গীনসবার্গে সঙ্গে, নির্মলেন্দু গুণ):
"'...গ্রেগরী করসো যখন আমাদের বাংলাদেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষের ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কাছে জনসমক্ষে, প্রকাশ্যে আদি রসাত্মক অতি কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে, অতি হৃদয়হীন মন্তব্য করেন, 'তোমাদের দেশ তো খুব ফারটাইল, প্রতিদিন হাজার হাজার মানবসন্তানের জন্ম দিচ্ছ তোমরা। ...ছাউ ফুটানোর কাজটা তোমরা ভালই পার'
তখন গুণ দাদার গলা দিয়ে স্বর বের হয় না। চিঁ চিঁ করেন।" [১]

Monday, October 15, 2012

দাস: সেকাল-একাল

সেকালের দাস। অনুভব করলেই চোখে-মুখে অন্ধকার দেখি। কিন্তু তখন দাস-ব্যবসাটাও ছিল অসম্ভব লাভজনক। সেকালে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন অনেক নামকরা ব্যক্তিত্বও। তখন দাস-দাসব্যবসাটাকে খুব একটা খারাপ চোখে দেখা হত না। দাস মানেই কেনা সম্পত্তি! যা খুশি তা করা যায় তার সঙ্গে।
ধর্মগ্রন্থেও এর ছাপ সুষ্পষ্ট! তৌরাত বলছে,
"...প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, হাতের বদলে হাত, পায়ের বদলে পা, দাহের বদলে দাহ, ক্ষতের বদলে ক্ষত, কালশিরার বদলে কালশিরা।" (তৌরাত শরীফ: ২য় খন্ড: হিজরত, ২১, ২৪-২৫)

Saturday, October 13, 2012

দাঁড়াবার কোনো জায়গা নাই!

­"ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রানীখার 'আল-আমীন গাউছিয়া এতিমখানায়' এতিম না থাকলেও নিয়মিত সরকারি টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে। এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ একেএম এমদাদুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে নিয়মিত এই টাকা তোলা হচ্ছে ব্যাংক থেকে।...।" [১]

Friday, October 12, 2012

শেখ হাসিনা: বিশ্বদলিল

­বইখাদক। অনেকের বই পড়ার নমুনা দেখে মনে মনে বেদনার সঙ্গে গভীর শ্বাস ফেলি। অং-বঙ-চং কত ঢঙের বইই না এঁরা পড়েন! কে একজন, একবার ছাপার অক্ষরে এই হাহাকারটা করেছিলেন। বিষয়টা এমন, কোনো-এক গ্রন্থাগারের হাজার-লাখ বইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হচ্ছিল, আহা, কত-কত বই, এখনও তো পড়াই হল না।

আমার নিজের পড়াশোনা কম। লাখ কেন, কোটি-কোটি বইই পড়া হয়নি। আসলে ছাতার তেমন কোনো বইই পড়া হয়নি! আরে, আমি তো আর কচ্ছপ না যে শত-শত বছর আয়ু নিয়ে পানিতে গা ভাসিয়ে বই পড়তে থাকব, পড়তেই থাকব। 'কচ্ছমানু' আমার পিঠে দাঁড়িয়ে থাকে দাঁড়কাক!

Wednesday, October 10, 2012

ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন

­'ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন'। বালকবেলায় কারও কারও মুখে এটা শুনতাম। কবে, কেন, কেমন করে এটা চালু হল বা কারা-কারা চালু করে এটাকে গড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ছিল; জানি না। হয়তো তখন ময়মনসিং থেকে ঢাকা যাওয়াটা সময়সাপেক্ষ একটা ব্যাপার ছিল। আগে ট্রেনেরও কিছু নিয়মকানুন ছিল দেখতাম কোথায়-কোথায় কি কি ট্রেন যেন অদলবদল করার প্রয়োজন দেখা দিত। এটা আবার সব জায়গায় সম্ভব ছিল না, কেবল জংশন নামধারী স্টেশনেই। তাই জংশনের আলাদা একটা মর্যাদা ছিল। এই মর্যাদা ছিল আখাউড়া জংশন নামের স্টেশনটারও- কালে কালে আখাউড়া জং হয়ে গেল।
যাগ গে, ছুক্কুর-ছুক্কুর মৈমনসিং, ঢাকা যাইতে কত দিন? হয়তো কেউ তিতিবিরক্ত হয়েই এটা চালু করেছিল।

Wednesday, October 3, 2012

আপনার জন্য খুব মায়া হয়!

মহাবিশ্বের [০] তুলনায় কী ক্ষুদ্রই না আমাদের এই ছোট্ট গ্রহ। এখানেই গাদাগাদি করে থাকে ৭০০ কোটি মানুষ। শোনো কথা, মানুষের চেয়ে নাকি পিপড়া বেশি!
আমাদের এই একটাই জীবন অথচ এই জীবনটাকে আমরা কত প্রকারেই না অহেতুক জটিল করি। যে শরীরটা নিয়ে আমাদের ভাবনার শেষে নেই সেই শরীরটা আসলে কী? শরীরের ৯৬ ভাগ জুড়েই আছে চারটা মৌলিক উপাদান অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন। বাকি চার ভাগের রসায়নটাতেই কী অদেখা ম্যাজিক লুকিয়ে থাকা?

Tuesday, August 28, 2012

একালের দেবী: তসলিমা নাসরিন

­"...চারটে ছেলে এসেছে তোমার সঙ্গে দেখা করতে। একবার তোমাকে প্রণাম করতে এসেছে। করেই চলে যাবে।
আমি প্রণামের লোভে নয়, কেন এসেছেন...। ...আমার দিকে এগিয়ে হাত বাড়ালো আমার পায়ের দিকে...শংকর নামের ছেলেটি করজোড়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 'দিদি, আপনি আমাদের দেবী। আপনাকে দেখতে পেয়ে জীবন আমাদের সার্থক হল। ...একবার প্রণাম করতে দেন...। আবারও মাথা আমার পায়ের দিকে নাবাতেই বলি, না না প্রণাম করতে হবে না।

Thursday, July 26, 2012

একজন ড্রাগ ডিলারের প্রস্থান এবং চুতিয়া মিডিয়ার উত্থান!

(চুতিয়া শব্দটায় যাদের এলার্জির সমস্যা হয় তারা চুতিয়ার জায়গায় 'কুতিয়া' পড়বেন। অবশ্য কুতিয়া শব্দের অর্থ কি এটা আমি জানি না।)

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে এক লেখায় লিখেছিলাম,
"এই দেশে যারা সাহিত্য চিবিয়ে খান তাঁরা হুমায়ূন আহমেদের লেখায় গভীরতা খুঁজে পান না। ...হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে অনেক কঠিন সময় পার করেছি, এর কী কোন মূল্য নাই? তাঁর কোনো বই হাতে নিয়েছি কিন্তু পড়ে শেষ করিনি এমনটা হয়নি, এখনো! এই যে এখনো আমাকে ধরে রাখার ক্ষমতা- কী বিপুল এক ক্ষমতা! কী এক অদ্ভুত ব্যাপার! পারলে মানুষটার হাত সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিতাম। হুমায়ূন আহমেদকে কোনো ইশকুলে পড়তে হয় না, তিনি নিজেই একটা ইশকুল..."।

Friday, June 22, 2012

পাঠকের কাঠগড়ায়

­হাসান সোহেল আমার একটা পোস্টে [১] কঠিন এক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মন্তব্য এখানে তুলে দিচ্ছি:
"মাহমেদ ভাই, কেন ম্যানিপুলেশন করেন? মিনার মাহমুদ মারা যাওয়ার পরে তাকে নিয়ে লেখা আপনার পোস্টটা ডিলিট করে ফেলেছেন। মারা গেলে কি তার সব কর্ম মাফ হয়ে যায়? লেখাচুরি হালাল হয়ে যায়? মিনার মাহমুদের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে আপনার লেখাটা থাকলে কি ক্ষতি হতো খুব?

Wednesday, June 20, 2012

ব্লগগুরু, মহোদয়গণ।

আমার কেবলই মনে হচ্ছে আমাদের ব্লগস্ফিয়ার নিয়ে অনবরত কুৎসিত শলা হচ্ছে, কেমন করে একে দাবিয়ে রাখা যায়। সরকারী লোকজনেরা আদা খেয়ে এর পেছনে লেগেছেন আর বেসরকারী চামুচ টাইপের লোকজনেরাও পিছিয়ে নেই! তাদের তো আর আদা খেয়ে পেছনে লাগার সুযোগ নেই তারা আদার বদলে মুড়ি খেয়ে লেগেছেন। আমরা ব্লগের ভাষায় বলি, 'মুড়ি খাও'।
এই রে, জাত গেল-জাত গেল। আমি যে ব্লগের ভাষা বলে ফেললুম, এখন উপায়? আমাকে কী গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে 'হপে'? সেরেছে গোবর পাই কই- সব কাজকাম (আসলে হবে 'অকাজকাম') ফেলে এখন কী গরুর (মতান্তরে ব্লগগুরু) পেছনে পেছনে আমাকে পট নিয়ে ঘুরতে হবে?

Sunday, April 29, 2012

গণতন্ত্রের হত্যাকারী


ছবি ঋণ: প্রথম আলো
এটা পুরনো লেখা। হরতাল নিয়ে নতুন লেখার কিছু নাই। দুয়েকটা শব্দ এদিক-ওদিক করে দিলেই হয়।

তিনি [১] যেমনটা বলেছিলেন হও, আর হয়ে গেল! তেমনি বিরোধীদল বলল, হরতালের নামে কারাগার হও- ব্যস, হয়ে গেল!
তখন কারও জীবনের দাম যাই থাকুক, এ দিন কারও জীবন রক্ষার দায়িত্ব ঈশ্বর ব্যতীত আর কারও না।
কী এক কারণে যেন এদিন ঈশ্বরের ভারী ঘুম পায়!

Wednesday, April 4, 2012

তেলের খনি!

­বাংলাদেশের সমুদ্রজয়ে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে ২৮ এপ্রিল। কী প্রকারে এটা দেওয়া হবে এটার জন্য শেরাটন হালের রূপসি বাংলা হোটেলে বাংলাদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী এক সভার আয়োজন করেন। অবশ্য চর্বচোষ্য সহযোগে কিনা এটা জানা যায়নি। যেমনটা জানা যায়নি এই পঞ্চতারকা হোটেলের বলরুমের ভাড়া কার গাঁটের পয়সায় পরিশোধ করা হয়েছে।

Friday, March 30, 2012

মিনার মাহমুদ, এটা আপনি কী করলেন!


"শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;...।"
মিনার মাহমুদ, লাশকাটা ঘরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়াটা, কাজটা কী ঠিক হলো, আপনার? এটা তো কোনো কাজের কাজ হলো না! আচ্ছা, ওই মানুষটা আপনার কানে কানে কি বলে গেল!
...আরো এক বিপন্ন বিস্ময় রক্তের ভিতরে খেলা করে..."?
ব্যস, আপনি বিশ্বাস করে বসলেন? ধুর বোকা! আচ্ছা, বিপন্ন বিস্ময় কি কেবল আপনাদের রক্তের ভেতরেই খেলা করে? আহা, আমাদের করে না বুঝি! আমাদেরও যে চলন্ত ট্রেন, ছাদে ঝোলানো পাখা বড়ো টানে! অদেখা ঘুমে যে চোখ জড়িয়ে আসে! আমাদের ইচ্ছা করে না বুঝি লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ি? কে বলল আপনাকে করে না, ইচ্ছা করে তো, কী আর করা- কপালের ফের! কেন করে, আমি জানি না!

Tuesday, March 13, 2012

মাতব্বর!

­বিষয়টা পুরনো কিন্তু আবারও নতুন করে সামনে চলে এসেছে, ফেসবুকের একটি নোটের সূত্র ধরে। অনুবাদের একটা বিষয় নিয়ে সালাহ উদ্দিন শুভ্র, ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে কঠিন এক অভিযোগ এনেছেন [১]। ফারুক ওয়াসিফও পাল্টা এক নোট লিখে এর উত্তর দিয়েছেন [২]। কে ঠিক কে বেঠিক এটা আমার আলোচনার বিষয় না। এটা প্রমাণের দায় এঁদের উপরই বর্তায়। তাঁরা নোট চালাচালি করতে থাকুন...

Friday, March 9, 2012

জীবিতদের মধ্যে...

­

Saturday, February 25, 2012

কাবাব মে হাড্ডি

গোটা শিরোনাম দূরের কথা পারতপক্ষে হিন্দি শব্দ নিয়ে একটি শব্দও এখন আর লিখতে চাই না কারণ এখন দাদাদের উপর গোটা দেশ ক্ষেপে আছে। লেখার কারণে আমার উপর কেউ চটে গেলে তো মুশকিল। অবশ্য চটে-মটে কেউ একটা দুম করে ঘুষি বসিয়ে দেবেন এই নিয়ে আমি খুব একটা উদ্বিগ্ন না কারণ পাঠক আমার নাগাল পাবেন কোথায়? আমার নাকের বদলে পাঠক রাগে নিজেই নিজের মনিটর নিজেই গুড়িয়ে দিলে আমি বলার কে?
অবশ্য আমি নিজেও এটা মনে করি,

Tuesday, February 21, 2012

আ মরি বাংলা ভাষা!

­আগে এক লেখায় লিখেছিলাম, "ফেব্রুয়ারি মাসটা আমাদের জন্য বড়ো জরুরি কারণ এই মাস এলেই আমরা ভাষার জন্য ঝাপিয়ে পড়ি, চোখের জল ফেলার সুযোগ পাই। বিস্তর কান্নাকাটি করি। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা তো কাঁদতে কাঁদতে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলেন! ফেব্রুয়ারি যাওয়ামাত্র যথারীতি আমরা সমস্ত কিছুই বিস্মৃত হই"! ...[১]

হে যুবক, হে নীরোগ, এভাবে চলে যেতে হয় না

­বাচ্চাদের জন্য 'মশা' নিয়ে কিছু লেখা লিখেছিলাম, কিটি মাস্ট ডাই: এক[১], কিটি মাস্ট ডাই: দুই[২]। বাচ্চাদের বইয়ে নাকি ছবি-টবি আঁকার কিছু বিষয় থাকে। নেশাখোর আর্টিস্ট ভেগে যাওয়ায় প্রকাশক ভাইয়ার সেই পরিকল্পনা ডোবায় তলিয়ে যায়। পরে আমিও বুদ্ধি করে এই লেখাগুলোই বড়দের বইয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম।

Wednesday, February 15, 2012

একজন সাগর এবং নড়বড়ে সাঁকোটা

ছবি ঋণ: আরাফাতুল্ ইসলাম
সাগর সরওয়ারের সঙ্গে তেমন স্মৃতি নাই আমার। আমার সঙ্গে একবারই দেখা হয়েছিল। ডয়চে ভেলের অফিসে। জার্মানিতে আমার সময়টা ছিল স্বল্প আর আমি ছিলাম দৌড়ের উপর। উল্লেখ করার মত স্মৃতি থাকার কথা না কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার স্মৃতি এখনও দগদগে কারণ...।

Sunday, February 12, 2012

কৈশোর!

­আহ কৈশোর! হারিয়ে যাওয়া কৈশোর? কি জানি! আমি তো বলি, কৈশোর ফিরে আসে বারবার। সম্ভবত কৈশোরের স্মৃতিই আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে...।

আজকের অতিথি বিশ্বজিত পাল বাবু। তিনি লিখেছেন অন্য রকম এক কলম দিয়ে- 'ক্যামেরাকলম'। এ কলমে কালি বের হয় না এ সত্য, অবশ্য আজকাল আর কলমে কালি কোথায়! কীবোর্ড চেপে আর যাই হোক কালি বেরুবার যো নেই।
যাই হোক, কখনও-কখনও একটি ছবি যে হাজার-হাজার শব্দের চেয়ে শক্তিশালি তা আবারও জানলাম। ছবিগুলোয় বিশ্বজিত পাল বাবু খানিকটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন:

Friday, February 10, 2012

বাংলা ভাষার লড়াইয়ে উর্দুভাষী একজন তাজুল!

আজকের অতিথি লেখক, সমীর চক্রবর্তী। তিনি লিখেছেন অসাধারণ একজন মানুষকে নিয়ে। যে মানুষটা বাংলা ভাষার জন্য লড়াই করেছিলেন, তিনি উর্দুভাষী একজন মানুষ তাজুল ইসলাম!

সমীর চক্রবর্তী জানাচ্ছেন:
"ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আসার পর থেকেই খুব করে চাচ্ছিলাম এ নিয়ে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন করতে। কিন্তু গতানুগতিকের বাইরে কোনো বিষয় পাচ্ছিলাম না।

Friday, February 3, 2012

হাসপাতাল পর্ব, তেরো: মানবিকতা

আমি আগের এক লেখায় লিখেছিলাম, পেপার বিছানার কথা [১]। রাতে পেপার বিছিয়ে আরামে ঘুমিয়ে পড়তাম। প্রথম দিনই একটা ভজকট হয়ে গেল। সেলফোনে সকাল সাতটায় এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। সম্ভবত সাড়ে ছটা পৌনে সাতটা হবে, ঘুমের মধ্যে শুনছিলাম কে যেন বাঁজখাই গলায় চেঁচাচ্ছে, এই-এই, এইডা কেডারে, কেডা? ওই, ওই-ই ওইত...।
আমি চোখের সিকিভাগ খুলে ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। এরইমধ্যে একজন আমার কপালে ধাক্কা মেরে বলছে, উঠেন-উঠেন।

আমি উঠে বসে

Wednesday, February 1, 2012

নাচপুতুল-পুতুলনাচ

­

বন্ধুর জন্য এলিজি

­আমার এই বন্ধুর সঙ্গে পরিচয়পর্ব খানিকটা নাটকীয়! সালটা সম্ভবত ১৯৯৮। আমি কোনো এক কাজে বাসার বাইরে। একজন হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বললেন, 'আপনার বাসার দিকে আর্মির গাড়ি গেছে'।
তখন আমি সম্ভবত কারও সঙ্গে কথা বলছিলাম, বিশেষ গা করলাম না। একটু পর আবারও একজন, 'তাড়াতাড়ি বাসায় যান, আর্মি আপনাকে খুঁজতাছে'। আমি বাসার দিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম: খোদা, এ আবার কোন মুসিবত!